Saturday, June 15, 2024
গল্প- অন্তরঙ্গ দূরত্ব by ওয়াসি আহমেদ
গল্প- অন্তরঙ্গ দূরত্ব by ওয়াসি আহমেদ

অনেকক্ষণ
বসে আছি। বাইরে বৃষ্টি, সঙ্গে বাতাস। উঠে যে পড়ব, উপায় নেই। অসময়ে
নভেম্বরের মাঝামাঝি হঠাৎ বৃষ্টি কেন এ নিয়ে হাবিজাবি ভেবে সময় যখন আর কাটে
না, ঘড়িতে দেখি বেলা দুটো। অচেনা মানুষের বাড়িতে ভরদুপুরে এভাবে বসে থাকা
নিজের কাছে যেমন অস্বস্তির, বাড়ির লোকজনের জন্যও বিরক্তিকর। এদের সম্ভবত
এখনো খাওয়া হয়নি, হতে পারে আমার কারণেই। এদিকে একটু পরপর জানালার ওপারে চোখ
ফেলে আকাশ দেখা না গেলেও বৃষ্টি-বাতাসের দিকে তাকিয়ে আমি যেন একটা অজুহাত
দাঁড় করাচ্ছি। আসলে তো অজুহাত নয়। বৃষ্টি না হলে কি এতক্ষণ বসে থাকি? বাড়ির
লোকজনও হয়তো তা-ই ভাবছে, ভাববারই কথা। তারপরও আমি যে বারবার জানালার দিকে
চোখ ফিরিয়ে অজুহাতটাকে পাকাপোক্ত করতে চাচ্ছি, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
তমালের জন্য এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকবো আজ সকালেও কি ভেবেছি? আর এখন যখন তা-ই করছি, ভিতরে ভিতরে একধরনের হতাশা জমছে। তমালের অপেক্ষায় বসে আছি বলে, না বাড়ির লোকজন আমার কারণে খেতে পারছে না এ দুশ্চিন্তায়, ঠিক ধরতে পারছি না। হতে পারে দুটোর কোনোটাই নয়, কারণ পাগলাটে বৃষ্টি।
দেবেন্দ্রনাথ দাশ লেনের এই বাড়ির হোল্ডিং নম্বর ৫-৪-এ পেরেক দিয়ে মাথায় গাঁথা থাকলেও সহজে খুঁজে পাব আশা করিনি। ভয় ছিল, বাড়িটা চিনতে পারব না। এত বছরে সিটি করপোরেশন হয়তো বাড়ির নম্বর বদলে ফেলেছে, বা বাড়িটাই নেই, ডেভেলপার ভেঙে মাল্টিস্টোরিড করেছে। তবে ভরসা একটা ছিল। যে ঘিঞ্জি এলাকায় বাড়ি – তাও কুড়ি-একুশ বছর আগে যেমন দেখেছি – ডেভেলপার ঢুকবে কী করে! এছাড়া বাড়িটা বড়ও ছিল না, গা ঘেঁষাঘেঁষি অনেক বাড়িঘরের মধ্যে ছোটখাটো দোতলা। গাঢ় সবুজ রঙের পুরু কাঠের দুই পাল্লা দরজা রাস্তার কিনারে, এ দিয়ে ভেতরে ঢোকার পথ, কয়েক পা এগোলে ডানপাশে সিঁড়ি, সিঁড়ির মুখে আবার দরজা, দুই পাল্লারই, রং হয়তো সবুজই ছিল। এতদূর পর্যন্ত ভালোই মনে ছিল। পরেরটুকু কিছুটা ঝাপসা। ঢোকার পর ছোট বাড়ির তুলনায় মোটামুটি বড়সড়ো বসার ঘর, হ্যাঁ, শুধু বসার-ই, খাট বা পড়ার টেবিল এরকম কিছুর স্মৃতি মাথায় ছিল না। পাশে সম্ভবত পরপর দুটো ঘর। কখনো ওদিকে যাওয়া পড়েনি। এর পরেরটুকু আবার মাথায় গোছগাছ করে সাজানো। রং-মরা রেড অক্সাইডের সরু খাড়া সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেই সিঁড়ির মুখে তমালের ঘর। আশপাশে আর কটা ঘর, এসব কি আর এত বছরে মাথায় থাকে!
সকালে একটা কাজে এসেছিলাম সূত্রাপুর। অকাজ বলাই ভালো। এক আত্মীয় টরন্টো থেকে একজনের হাতে একটা প্যাকেট পাঠিয়েছে। বাঙালিদের যা স্বভাব, কেউ দেশে যাচ্ছে শুনলেই কিছু না কিছু গছানো চাই। খুব প্রয়োজনের কিছু হলে বা যে আসছে সে চেনাজানা কেউ হলে আপত্তির কারণ থাকে না, কিন্তু যাকে-তাকে দিয়ে এটা-ওটা পাঠানো, আবার সেই জিনিস আনতে নিজে যাও বা লোক পাঠাও – গোটা ব্যাপারটাই ঝঞ্ঝাটের। এতে একধরনের গ্রাম্যতা থাকলেও থাকতে পারে। আমি জানি, রুবির কাজিন যে প্যাকেটটা তসলিম নামের টরন্টো ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্সপড়া ছেলেটার হাতে পাঠিয়েছে ওতে হয়তো একটা মেয়েদের মিনি পার্টি ব্যাগ বা অ্যান্টি রিনকেল ক্রিম বা ওভার দ্য কাউন্টার কেনা যায় এমন কোনো গাঁজাখুরি ওষুধ-টষুদ রয়েছে। রুবি হয়তো নেড়েচেড়ে সেটা কাউকে দিয়ে দেবে, আবার এই তসলিম ছেলেটা ফিরে যাওয়ার সময় বদলা কিছু আড়ং বা পিংক সিটি থেকে কিনে গছাবে। যা-ই হোক, তসলিমের সঙ্গে কথা বলে ভালো লেগেছে। মায়ের অসুখের খবর পেয়ে এসেছে, আসার পর তার ধারণা তাকে দেখেই মায়ের অসুখ ভালো হয়ে গেছে। বাসায় যেতে বলায় মাথা নেড়ে জানাল যাবে।
প্যাকেটটা নিয়ে বেরিয়েছি, রাস্তায় ভিড়-ভাট্টা, গাড়ি আনিনি ইচ্ছা করেই। হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলাম কতকাল পর এলাম! পুরান ঢাকা খুব একটা বদলায়নি, আর রাস্তায় আগে যেমন একটা পাঁচমিশেলি গন্ধ পেতাম, সে-গন্ধটা পাচ্ছিলাম। এই গন্ধটা সম্ভবত আর কোথাও পাওয়া যাবে না। হরেকরকম দোকানপাটে হরেকরকম জিনিসের মাদকতাময় গন্ধ। আশ্চর্য লাগছিল গন্ধটা সেরকমই আছে। আবার এও ভাবছিলাম, সত্যি কি গন্ধটা একই রয়ে গেছে, না কল্পনা করে নিচ্ছি।
সত্যি হোক বা কল্পনা, মাদকতা যে একটা আছে পরিষ্কার টের পাচ্ছিলাম, আর তখনই মনে পড়েছিল তমালের কথা। হেঁটে রাস্তা খুঁজে পাওয়া অসম্ভব, একটা রিকশা ডেকে উঠে পড়েছিলাম। আশ্চর্য হচ্ছিলাম ভেবে দেবেন্দ্রনাথ দাশ লেনে যাচ্ছি এত বছর পর। খুব যে খোঁজাখুঁজি করতে হয়েছে তা নয়। ভেবে রেখেছিলাম খুঁজে যদি না পাই, মহল্লার লোকজনকে জিজ্ঞেস করলে তমালের খবর অন্তত পাওয়া যাবে, এমনকি তমাল বা তার পরিবার যদি দেশে ছেড়ে চলে গিয়েও থাকে।
তেমন কিছুর দরকার পড়ল না। বাড়িটা শুধু পেলামই না, অবাক হলাম এত বছরেও সিটি করপোরেশন আগের নম্বরটা বদলায়নি। তবে সবুজ রঙের দুই পাল্লা কাঠের দরজা-টরজা কিছু নেই, সে-জায়গায় ইটের উঁচু দেয়াল। বাড়িতে ঢোকার পথ বলতে এখন সরাসরি রাস্তা থেকে দুটো খাড়া সিঁড়ি। অনেকক্ষণ ধাক্কাধাক্কির পর দরজা খুলতে তমাল কি আছে জিজ্ঞেস না করে যা করা উচিত তা-ই করলাম। দরজা খুলেছিলেন এক বৃদ্ধ, জানতে চাইলাম তমালদের বাড়ি কি না। বৃদ্ধ মাথা নাড়তে আমি তমালের বন্ধু বলে ভেতরে ঢোকার ভঙ্গি করতে তিনি পথ করে দিয়ে বললেন, নাই।
ঢুকতে গিয়েও দাঁড়িয়ে থেকে নাই-এর প্রতিক্রিয়ায় কী বলব ভেবে পেলাম না। আবার এ নিয়ে সোজাসাপটা কিছু জিজ্ঞেস করব কি না ভাবছি, তিনি বললেন, ‘আপনের নাম?’ জবাবে আমার মুখ ছিটকে তার আগের কথাটাই অন্যভাবে, হয়তো কোলাহল তুলে বেরোল, ‘নাই?’
বয়স হলেও ভদ্রলোকের রিফ্লেক্স ভালো, নাই-এর মানে চট করে পরিষ্কার করে বললেন, ‘আমি তো কইতে পারি না কই গ্যাছে, ভিত্রে গিয়া জিগাই, আপনে বহেন। নামটা কন নাই।’
নাম সাজ্জাদ শুনে তিনি একঝলক চোখ তুলে ডানপাশের দরজা ঠেলে সরে গেলেন। ফিরলেন পরপরই। অনেকটা নিজের মনে গজগজ করে বললেন, ‘মোবাইল ফালাইয়া যে ক্যান যায়, অহন হেরে কই বিছরাই!’
ভাবলাম এসেছি যখন, পাঁচ মিনিট বসি বা একটা চিরকুট রেখে যাই, কার্ডও রেখে যেতে পারি। তখনই এই বৃষ্টিটা।
এ তবে সেই বসার ঘর – ছোট বাড়ির তুলনায় বড়সড়ো! কী করে বলি, এ-ঘরে আগে কোনোদিন এসেছি। গাদাগাদি জিনিসপত্র চারদিকে। দুপাশে দুটো খাট, একটা তো একাই ঘরের প্রায় অর্ধেকটা জুড়ে আছে। খাটের ওপরে রাজ্যের বালিশ, গোটানো তোশক, ভাঁজ করা কাঁথা-চাদর, রংজ্বলা ওয়াড়ের পাশবালিশ। মনে হলো রাতে মেঝেতেও বিছানা পাতা হয়। এছাড়া এক পাশের দেয়ালে পেরেকে ঝোলানো অন্তত ডজনখানেক হ্যাংগার। তাতে শার্ট, পাজামা-পাঞ্জাবি বাদেও কীসব জামাকাপড়। মাঝখানে একটা সেন্টার টেবিলের ওপর এ-ঘরের জন্য বেমানান কারুকাজময় মুরাদাবাদি ফুলদানিতে একতোড়া কাগজের ফ্যাকাশে গোলাপ। আর ধুলো। দুটোমাত্র বেতের চেয়ারের একটায় আমি, অন্যটায় বৃদ্ধ। এদিকে ঘরে একটু পরপর লোকজন ঢুকছে, কোনো দিকে না তাকিয়ে হ্যাংগার থেকে জামা টেনে পরছে, লুঙ্গির তলায় পাজামা টেনে ওঠাচ্ছে, খালি গায়ে শার্ট বা পাঞ্জাবি চড়াচ্ছে। এসবের ফাঁকে চোখে পড়ল বাঁপাশের দেয়ালে মরা গাঁদা ফুলের মালা ঝোলানো ছবিটা। তমালের বড়দা। একনজর তাকিয়ে ধরতে অসুবিধা হলো না। কী যেন নাম, বয়সে তমালের অন্তত দশ বছরের বড়, তমালের অনুপস্থিতিতে আমি এলে সমাদর করে এ-ঘরেই বসাতেন। ঢাকাইয়া না বলে শুদ্ধ বাংলায় জানতে চাইতেন, ‘কী খাবে বলো।’ মনে পড়ছে, নাম ছিল হিজল, তমাল সমাদ্দারের বড়দা হিজল সমাদ্দার। কাঠের ওই দুই পাট দরজার গায়ে নামটা কত দেখেছি।
বসে আছি তো আছিই। কথা নেই। বলতে ইচ্ছা করছে না। কেন জানি মনে হচ্ছে বৃদ্ধ আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে চান। আমি মুখে খিল এঁটে রয়েছি দেখে নিজে থেকে উদ্যোগী হতে পারছেন না। শুধু এক ফাঁকে জানিয়েছেন তিনি তমালের জ্যাঠা, পরিবার নিয়ে এখন এখানে থাকেন। জবাবে কিছু না বলে আমি ঘাড় ফিরিয়ে বৃষ্টি দেখেছি, থামছে না বলে মনে মনে গালাগাল দিয়েছি।
দুটো পঁচিশ। আর বসা যায় না। বৃষ্টি ধরার লক্ষণ নেই। ঠিক করলাম রাস্তা পার হয়ে ওপারে গিয়ে কোনো দোকানের ছাউনিতে দাঁড়াব। সিএনজি অটোরিকশা যদি পাই ভালো, না হলে রিকশা করে যতটা যাওয়া যায়। ‘আসি তাহলে’ বলে উঠে দাঁড়াতে তমালের জ্যাঠাও ওঠার ভঙ্গি করলেন, উঠলেন না, বসে বসেই বললেন, ‘তমালরে কিছু কওয়া লাগব?’ আগে ভেবেছিলাম একটা চিরকুট বা কার্ড রেখে যাব, কিন্তু হঠাৎ উঠে পড়তে গিয়ে ইচ্ছাটা বাতিল করে বললাম, ‘নাহ্।’
বাইরের দরজাটা নিজে নিজেই খুললাম, তখনই ডানপাশের দরজা ঠেলে, ‘আপনি যাবেন না’ বলে বছর তিরিশ-পঁয়ত্রিশের যে মেয়ে বা মহিলা হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকল তাকে আগে দেখেছি বলে মনে পড়ল না।
এতক্ষণ ঠায় বসে থাকার বিপরীত চিত্র। এত সময়ে এক কাপ চা পর্যন্ত এলো না, আর এখন এ কোথা থেকে উড়ে এসে যেতে মানা করছে? তাকিয়ে আছি, মেয়ে বা মহিলাটা আমাকে অবাক করে বলল, ‘সাজুদা না? বদলাননি একটুও। আশ্চর্য, এত বছরে একটুও বদলাননি। আমি বাইরে ছিলাম, এসে শুনি কে একজন মেজদার জন্য বসে আছে, নাম বলল সাজ্জাদ, আপনার এ-নাম তা তো জানতাম না। আমি খুকি, খুকি। আপনি বসেন, আমি কাপড় চেঞ্জ করে আসছি, একদম ভিজে গেছি।’
তমালের বোনের নাম ছিল খুকি। তাই তো। বছর দশ-বারোর খুকিকে এ-বাড়িতে এলে প্রায়ই দেখতাম সাড়া নেই শব্দ নেই, মাথা ঝুঁকিয়ে বসে কারো না কারো সঙ্গে দাবা খেলছে। সে-সময় এক ইন্টার স্কুল টুর্নামেন্টে নাকি ফার্স্ট হয়েছিল। সেই খুকি এত বড় হবে এ-ই স্বাভাবিক – বিশ-একুশ বছর কম করে হলেও। চিনতে পারব না, এও খুব স্বাভাবিক, তবে ও যে এখন কথাবার্তায় চটপটে তা হয়তো বয়স বাড়ার কারণে।
খুকির কথায় খোলা দরজা বন্ধ করব কি না ভাবছি, এদিকে বৃষ্টির ছাঁটও লাগছে গায়ে, এমন সময় রিকশা থেকে যে নামল তাকে তমাল বলে চেনা বেশ কঠিন। ওর বাড়িতে ওর জন্য অপেক্ষা করছি বলেই হয়তো পারলাম। রিকশাওয়ালাকে ভাড়া মিটিয়ে ও অযথাই কয়েক সেকেন্ড আমার দিকে তাকিয়ে বৃষ্টিতে ভিজল, জামাকাপড়ের যেটুকু শুকনো ছিল তাও ভিজিয়ে একশেষ করে বলল, ‘সাজু!’
আবার সেই চেয়ারে। তমালের জ্যাঠা উঠে গেছেন। একটু পর তমাল জামাকাপড় বদলে মাথায় তোয়ালে ঘষতে ঘষতে ফিরে এলো, পেছন পেছন খুকি। খুকির হাতে রেকাবিতে ম্যালা খাবারদাবার। ঘরের খাবারের বদলে খুকিই নিশ্চয় এসব আনিয়েছে – নানরুটি, খাসির চাপ, কাবাব, দই। খুকি রেকাবিটা কাগজের গোলাপওয়ালা সেন্টার টেবিলে রাখল।
প্রচ- খিদা পেয়েছিল। ‘নে শুরু কর’ বলে তমাল পেস্নট এগিয়ে দিতে গোগ্রাসে শুরু করলাম। খেতে খেতে কতক্ষণ এসেছি, বাড়ি চিনলাম কী করে, এত বছরেও একই রকম কী করে আছি এসব নানা ফালতু প্রশ্ন করল তমাল, যেসবের জবাব দেওয়ার দরকার পড়ে না। রিকশা থেকে নামার সময়ই খেয়াল করেছিলাম তমালের বেশ একটা উপচানো ভুঁড়ি হয়েছে। খেতে খেতে দেখলাম, গায়ের রং আগে যেমন ফর্সার দিকে ছিল, তেমনি আছে, মাথাভরতি কোঁকড়ানো চুল ছিল, খুব একটা কমেনি; পাক ধরেছে কান ঘিরে। তবে আগে যা ছিল না, তা দুই চোয়াল ঘিরে ঘোর কালো মেচেতার দাগ, চোখের নিচটাও কালচে।
খেয়ে উঠে আবার সেই প্রশ্নগুলোই। বিশেষ করে বাড়ি খুঁজে পেলাম কী করে? এ যেন প্রশ্ন না, একটা ধাঁধা। বুঝলাম ও কথা খুঁজে পাচ্ছে না। তবে মনে হলো যে-কথাটা সরাসরি বলতে পারছে না তা এই – কেন এসেছি? বা নরম করে বললে, এতো বছর পর কী মনে করে? যেভাবেই করুক, ও হয়তো ভাবছে প্রশ্নটা অভব্য। আর তাই অপেক্ষা করছে আমিই যেন মুখ খুলি। নিজে থেকে বলে কি ওর দুশ্চিন্তা দূর করব, না অপেক্ষা করব ও কীভাবে শুরু করে?
এত বড় ভুঁড়ি বানালি কী করে? – আমি বলি।
আর বলিস না, একশ একটা অসুখবিসুখ।
অসুখবিসুখে শরীর রোগা হয়, তোর তো উলটো, ভালো হয়েছে।
এর নাম ভালো? থাইরয়েডের গোলমালে শরীর ফুলে গেছে।
অসুখবিসুখ বাদ দে, অন্য খবর বল। বিয়ে তো করেছিস, ছেলেমেয়ে কী? তোর বউকে ডাক।
তমাল হাসল। বলল, এত বছর বাদে তোর সঙ্গে দেখা, আর আমরা কার কী নাম এও যেন ভুলে গেছি। কেউ কারো কোনো খোঁজ রাখিনি। তুই দেশে থাকলে বিয়ের সময় অন্তত খবর দিতাম। ছেলেমেয়ে দুইজন, মেয়ে ছোট, ক্লাস সিক্সে; ছেলে সামনে মাধ্যমিক মানে এখানকার এসএসসি দেবে।
এখানকার মানে?
ওরা তো ইন্ডিয়ায়।
বউ?
ওখানেই।
কলকাতায়?
শিলিগুড়ি। বউয়ের মামা-কাকারা ওখানে।
বউ-ছেলেমেয়ে কাছে নেই, তোর তো স্বাধীন জীবন।
মজা করার জন্য বললাম, তমাল মজায় যোগ দিলো না। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘তোর খবর কিছু কিছু জানি। জার্মানি থেকে ফিরে বড় ফ্যাক্টরি দিয়েছিস, মহাবড়লোক। একসময় ভেবেছি দেখা করতে যাই, হয়ে ওঠেনি রে। কিসের ফ্যাক্টরি?’
স্পিনিং।
তুই না লেদার টেকনোলজি পড়তে জার্মানি গেলি!
তোর মনে আছে?
ফ্যাক্টরি কোথায়, আশুলিয়ায়?
সাভার ইপিজেডে। খবরাখবর কিছু যখন জানতি খোঁজ করলে পারতি। আমি অবশ্য তোর কোনো খবর না জেনেই এলাম। বন্ধুবান্ধবও তোর ব্যাপারে কিছু জানে না। কার কাছে যেন শুনেছিলাম তোরা ইন্ডিয়ায় চলে গেছিস। আজ এখানে এসে তোর দেখা পাবো ভাবিনি, আর বাড়িটা পেলেও এটা যে এখনো তোদেরই এ নিয়ে সন্দেহ ছিল।
কথা শেষ না করতেই তমাল বলল, ‘সন্দেহ কেন বলছিস, বল অনুমান, তোর অনুমান ঠিক। এটা শরিকি বাড়ি, আমার জ্যাঠা থাকেন পরিবার নিয়ে, এক কাকা ছিলেন, মারা গেছেন, তার ছেলেরা থাকে। আর আমি আর খুকি।’
খুকি কি এখনো দাবা খেলে? ওর তো এতদিনে গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার কথা।
ওকে দেখে তোর কী মনে হলো? ও নিজেই মনে করতে পারবে না একসময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাবা নিয়ে পড়ে থাকত। বিয়েটা ভালোই হয়েছিল, ওর নিজের পছন্দে, টিকল না। একটা আট বছরের মেয়ে আছে, খুব সুন্দর, ওর বর মেয়েকে নিয়ে চলে গেছে, শুনেছি ব্যাঙ্গালোরে থাকে। খুকি এখানে একটা চাকরি করে, মন্দ না, ব্যাংকে, আজ মনে হয় ছুটি নিয়েছে।
কতক্ষণ চুপচাপ কাটে। বাইরে বৃষ্টি ধরে এসেছে। তমাল হঠাৎ বলে, ‘সিগারেট খাচ্ছিস না এতক্ষণ হয়ে গেল?’
খাই না। খাওয়ার পরিবেশ নাই।
কলেজে থাকতেই তো চেইন স্মোকার ছিলি।
তোকে কি ঘনঘন শিলিগুড়ি যেতে হয়? ওরা আসে না?
আমিই যাই। কী করব, প্রথমদিকে ভাবতাম এক পা এখানে, আরেক পা ওখানে, আর এখন ভাবি পা এখানে, মু-ুটা ওখানে।
এ নিয়ে আর কথা তুলি না। নতুন করে কিছু জানতেও ইচ্ছা করে না।
তবে তমাল হয়তো ভাবে কিছু তথ্য দেওয়া দরকার। বলে, ‘বড়দাকে তো মনে আছে? ইন্ডেন্টিংয়ের ব্যবসা করত, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের সোল ডিস্ট্রিবিউটার ছিল, এছাড়া নবাবগঞ্জে মেশিন-টুলসের দোকান। পনেরো বছর আগে বড়দা মারা গেল, আর আমরাও ডুবলাম। ইন্ডেন্টিংয়ের ব্যবসাটা পার্টনার দখল করল। মেশিন-টুলসের দোকান আমিই অল্প দামে ছেড়ে দিলাম। এরপর এটা-ওটা অনেক কিছু করলাম। বড়দার ছিল বিজনেস ব্রেন, আমি এ-জায়গায় ফাঁকা, তাও বড়দার দেখাদেখি কিছু যা শিখেছিলাম কোনো কাজে লাগল না। বড়দা মারা গেল একচলিস্নশ বছর বয়সে। এটা একটা বয়স মরার! বড়দা যদি থাকত এ-অবস্থা হতো না। ঘরের হাল তো দেখছিস, ওই যে সিঙ্গেল খাট, কোণের দিকে একটা পায়ার বদলে ইট, ওতে আমি রাতে ঘুমাই, খুকি ওপরতলায় বারান্দা ঘের দেওয়া হাতচারেক জায়গায় জেঠির মেয়ের সঙ্গে শোয়। এইটুকু বাড়ি, মানুষ কতজন ভাবতে পারবি না। বড়দা থাকলে …’
এতক্ষণে একটা জরুরি কথা জানতে ইচ্ছা জাগে। বলি, ‘বউদি এখন এখানে থাকে না, আর ছেলেমেয়েরা?’
‘নাই রে। সবাই একটা পথই চেনে। বউদি ছেলেমেয়ে নিয়ে ভাইদের কাছে কলকাতায়। একটা মানুষ মরে যাওয়ায় কী অবস্থা চিন্তা কর। বড়দা যদি থাকত, এসব কিছু হতো না, হতে দিত না। বড়দার ব্রেনটা যদি আমার থাকত, আমিও হতে দিতাম না। কত কিছু করলাম, দাঁড়াতেই পারলাম না। কিছু করতে গেলে শক্তি তো দরকার, আমার শক্তি দ্যাখ’, বলে নাটুকে ভঙ্গিতে ঘাড়-মাথা পিছিয়ে কাঁধ ঝাঁকাল।
খুকি চা নিয়ে ঢুকল। ভাবলাম পরিস্থিতি হালকা করতে ওর দাবা খেলার কথা তুলি। কিন্তু চায়ের কাপ নিতে গিয়ে ওর মুখের দিকে তাকাতে পারলাম না। খুকি পারল। ‘কেন আসেননি এতদিন?’ বলে যেন জেদ ধরল, কারণ জানা চাই। নিজের কাপ নিয়ে সে বড় খাটের এক কোণে সাবধানে বসল। পরিষ্কার বুঝতে পারছি ও আমাকে দেখছে, খুঁটিয়েই যেন। ওর নিজের ব্যাপারে যে কিছু জানতে চাচ্ছি না, এও হয়তো খুঁটিয়ে দেখার কারণ। হঠাৎ খুকি বলে উঠল, ‘মেজদাকে আজ আপনি নিয়ে যান। আপনার সঙ্গে থাকবে, অনেক রাত পর্যন্ত দুজন গল্প করবেন। নেবেন না?’
‘যাবি, চল।’ খুকির কথায় তমালের দিকে তাকিয়ে কথাটা না বলে পারি না। তবে বলার পরপরই টের পাই গা শিরশির করছে, ভালো লাগছে। সেই দুপুর বারোটা থেকে এখানে – এই বদ্ধ, দম-আটকানো চারকোনা গুদামের মতো ঘরের বাসি গন্ধে এই প্রথম একটা টাটকা ঘ্রাণ আমাকে চমকে দিলো।
চল, আজ আমরা একসঙ্গে থাকব।
তমাল সেদিকে গেল না। মেচেতা-ছিটানো চোয়াল আর কালি লেপ্টানো মরা, সাদা চোখে আমার দিকে তাকাল। কয়েক সেকেন্ড তাকিয়েই থাকল। তারপর মেঝেতে বারকয়েক স্যান্ডেল ঘষে অনেকটা যেন নিজেকে চাঙ্গা করে বলল, ‘বলছিলাম না বড়দা বেঁচে থাকলে আমাদের এ দশা হতো না। বড়দা ছিল সিংহ রাশির, বল তো এ আমার দেশ, যুদ্ধ করেছি দেশের জন্য, কোন শালা আমাকে কী বলে দেখি। জান দিয়ে দেবো, তবু আমার দাবি আমি ছাড়ব না। কোন সুখে বিদেশে থাকতে যাব, জাতভাইদের সঙ্গে উঠবস করলেই জনম ধন্য! কে কার জাতভাই?’
চল আমার সঙ্গে। খুকি ঠিক বলেছে আজ অনেক রাত পর্যন্ত তোর সঙ্গে আড্ডা দেবো।
বড়দার এক ফোঁটা জোর যদি আমার থাকত! একবার এরশাদ আমলে একটা রায়ট সাজানো হয়েছিল না? সরকারের স্পন্সার্ড রায়ট, ওই যে কালাচান্দ আর মরণচান্দের মিষ্টির দোকান লুট হলো, বড়দা একা একা গিয়ে চিৎকার করে বলল, তোরা মিষ্টিই খাবি তো খালি হিন্দুর দোকান লুট করে খাবি কেন, আলাউদ্দিনের দোকানও লুট কর, মুসলমান ময়রাও আজকাল মিষ্টি ভালো বানায়। কার বুকের পাটায় এমন শক্তি যে সামনে দাঁড়ায়।
খালি চায়ের কাপ ট্রেতে নিতে নিতে খুকি চোখেমুখে বিরক্তি ঝরিয়ে বলল, ‘বেশি বড়দা বড়দা করো না। সাহসে সব হয় না।’
কিসে হয়?
তুমি জানো না, আমাকে জিজ্ঞেস করো? কিসে হয়! আদিখ্যেতা। সাজুদা, আরেক কাপ চা?
মাথা নেড়ে মানা করে ওর দিকে তাকিয়ে বোকার মতো, গাধার মতো বলি, ‘তুমি কেমন আছ খুকি?’
একবার বলে ফেলে কথাটাকে ঠেকা দিতে অন্য কথাও বলতে হয়, ‘ব্যাংকের কাজ কেমন লাগে? এখান থেকে কত দূরে?’
এতটুকুতে থেমে গেলেও হতো। কিন্তু কী এক পাগলামিতে বলি, ‘তোমার মেয়ে নাকি খুব সুন্দর?’
মেজদা বলেছে? ভাগ্যিস, মেয়ে আমার মতো হয়নি, চোখমুখ অবিকল আমাদের মায়ের, গায়ের রংও। আপনি তো মাকে দেখেননি, না দেখেছেন?
মাথা নেড়ে জানাই দেখেছি। মুখে বলি, ‘চেহারা ঠিক মনে নাই।’ ‘দেখাই’, বলে সে চট করে তার মোবাইল ফোন খুলে আমার দিকে বাড়িয়ে ধরতে ভাবি ওর মায়ের ছবি, না দেখি পাঁচ-ছয় বছরের হাসিখুশি মেয়ের ছবি। সুন্দরই না, অপরূপা বললে মানায়। ছবিটার দিকে তাকিয়ে থেকে ভাবি, ভুলচুক যা করে ফেলেছি, আর নয়।
আমার মেয়ের নাম রূপকথা। কার রাখা জানেন? মেজদার। মেজদা যে এমন একটা নাম দিতে পারে ভাবা যায়?
খা না আরেক কাপ চা? তমাল জোরের ওপর বলে।
হ্যাঁ-না কিছু না বলে ভাইবোন দুজনকে দেখি। দুজন দুই জায়গায় বসা, একসঙ্গে এক ফ্রেমে দুজনকে ধরা যায় না। একবার একে, একবার ওকে দেখি। আবার শিরশির টের পাই, আবার একটা টাটকা সুবাস।
খুকি উঠে যায়। বুঝতে পারি চা আনতে।
বাইরে বৃষ্টি শুকিয়ে জানালায় কাঠের পাল্লায় আঠার মতো শেষ বিকেলের পাতলা আলো।
নরেন্দ্র মোদি কি এবারো জিতবে?
তমালের আচমকা প্রশ্নে ধাক্কা খাই। সে বলে চলে, ‘ইউপিতে কংগ্রেসই যাবে, মধ্যপ্রদেশেও মনে হয়, তাহলে কিন্তু বিজেপির কেস খারাপ। পশ্চিম বাংলায় তৃণমূল যত নষ্টামিই করুক, এক মমতার জোরেই বিজেপি-কংগ্রেস টিকতে পারবে না। ত্রিপুরার গতবারের ঘটনাটা আশ্চর্যের না? মানিক সরকার তো জানতাম ভালোই পপুলার, অনেস্টও।’
মনে হয় কথাগুলো সে হয়ত আনমনে বলছে। এমনও হতে পারে … কী হতে পারে ভাবতে গিয়ে মনে হয় তমাল হয়তো সবসময় ঠিক বুঝতে পারে না সে কোথায়?
দ্বিতীয় কাপ চা খেয়ে উঠি। খুকির দিকে তাকিয়ে ‘আসি’ বলে দরজামুখো হই। দরজা খোলে তমাল। সিঁড়িদুটো ভেঙে রাস্তায় নামতে দেখি সে আমার পাশাপাশি হাঁটছে। ওকে কি আবার বলব আমার সঙ্গে যেতে? মনে হয় না রাজি হবে। তারপরও কি বলব, যদি রাজি হয়?
একটা মোড় পেরোতে তমাল তড়বড় করে বলে ওঠে, ‘এই যে-গলিটা, সামনে ডানদিকে চলে গেছে এটা না আমাকে বিপদে ফেলে, শিলিগুড়িতে মালারা যেখানে থাকে সেখানে ঠিক এরকম একটা গলি, না দেখলে বিশ্বাস করবি না।’
বউয়ের নাম মালা? কোন মালা?
তমাল পা চালিয়ে পাশের ঘুপচি দোকান থেকে একটা সিগারেট ধরিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে এসে বলে, ‘খাই না, আজ ইচ্ছা হলো, মনে কর তোর কারণে। কী সিগারেট না খেতি রে! মালাকে তোর মনে আছে? সেই মালা-ই, মালা আবার কয়টা, অভয় দাশ লেনের মালা, ওর দাদা বিমল পড়ত আমাদের এক ক্লাস নিচে।’
মালার কথা এতক্ষণে বললি!
আরে এ-মালা কি আর সে-মালা আছে! ওকে তোর মনে আছে ভাবিনি।
তমাল হঠাৎ থেমে পড়ে। সিগারেট-ধরা হাত মুখের কাছে এনেও নামিয়ে ফেলে। বলে, ‘একটা কথা বলি, মনে কিছু করবি না তো?’
মনে করব মানে?
তুই কি এমনি এমনি, মানে আমার খোঁজ করতেই …
মিথ্যা বলতে ইচ্ছা করে না। বলি, ‘এসেছিলাম সূত্রাপুরে, এই প্যাকেটটা আমার বউয়ের কাজিন কানাডা থেকে একজনের হাতে পাঠিয়েছে, এটা কালেক্ট করতেই এদিকে আসা। তো ভাবলাম, দেখি দেবেন্দ্রনাথ দাশ লেনের ৫/৪/এ বাড়িটা খুঁজে পাই কি না।’
স্যান্ডেলের তলায় জোরে জোরে আধখাওয়া সিগারেট ঘষে তমাল মুখ তুলে অপ্রস্ত্তত হাসে। দিনশেষের বিলীয়মান আলোয় তার মুখ বীভৎস দেখায়। কয়েক পা এগিয়ে বলে, ‘কত হাঁটবি, এখান থেকেই একটা কিছু ধর, আমি এই ডানপাশের গলিতে একটু ঘুরব। বলেছিলাম না গলিটা আমাকে বিপদে ফেলে? প্রায় দিনই এক পাক ঘুরি।’
এর নাম কি ফর্কিং পাথ্স? তমাল ডানদিকে এগোয়, আমি এদিকে-ওদিকে চোখ ফেলে রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা খুঁজি। যাব সোজা, কিছুদূর গিয়ে গলিটা বাঁয়ে ঘুরে গেছে।
মিথ্যা যদি বলতাম, যদি বলতাম ওর খোঁজ করতেই, ওকে দেখতেই এত বছর বাদে …
তমালের জন্য এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকবো আজ সকালেও কি ভেবেছি? আর এখন যখন তা-ই করছি, ভিতরে ভিতরে একধরনের হতাশা জমছে। তমালের অপেক্ষায় বসে আছি বলে, না বাড়ির লোকজন আমার কারণে খেতে পারছে না এ দুশ্চিন্তায়, ঠিক ধরতে পারছি না। হতে পারে দুটোর কোনোটাই নয়, কারণ পাগলাটে বৃষ্টি।
দেবেন্দ্রনাথ দাশ লেনের এই বাড়ির হোল্ডিং নম্বর ৫-৪-এ পেরেক দিয়ে মাথায় গাঁথা থাকলেও সহজে খুঁজে পাব আশা করিনি। ভয় ছিল, বাড়িটা চিনতে পারব না। এত বছরে সিটি করপোরেশন হয়তো বাড়ির নম্বর বদলে ফেলেছে, বা বাড়িটাই নেই, ডেভেলপার ভেঙে মাল্টিস্টোরিড করেছে। তবে ভরসা একটা ছিল। যে ঘিঞ্জি এলাকায় বাড়ি – তাও কুড়ি-একুশ বছর আগে যেমন দেখেছি – ডেভেলপার ঢুকবে কী করে! এছাড়া বাড়িটা বড়ও ছিল না, গা ঘেঁষাঘেঁষি অনেক বাড়িঘরের মধ্যে ছোটখাটো দোতলা। গাঢ় সবুজ রঙের পুরু কাঠের দুই পাল্লা দরজা রাস্তার কিনারে, এ দিয়ে ভেতরে ঢোকার পথ, কয়েক পা এগোলে ডানপাশে সিঁড়ি, সিঁড়ির মুখে আবার দরজা, দুই পাল্লারই, রং হয়তো সবুজই ছিল। এতদূর পর্যন্ত ভালোই মনে ছিল। পরেরটুকু কিছুটা ঝাপসা। ঢোকার পর ছোট বাড়ির তুলনায় মোটামুটি বড়সড়ো বসার ঘর, হ্যাঁ, শুধু বসার-ই, খাট বা পড়ার টেবিল এরকম কিছুর স্মৃতি মাথায় ছিল না। পাশে সম্ভবত পরপর দুটো ঘর। কখনো ওদিকে যাওয়া পড়েনি। এর পরেরটুকু আবার মাথায় গোছগাছ করে সাজানো। রং-মরা রেড অক্সাইডের সরু খাড়া সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেই সিঁড়ির মুখে তমালের ঘর। আশপাশে আর কটা ঘর, এসব কি আর এত বছরে মাথায় থাকে!
সকালে একটা কাজে এসেছিলাম সূত্রাপুর। অকাজ বলাই ভালো। এক আত্মীয় টরন্টো থেকে একজনের হাতে একটা প্যাকেট পাঠিয়েছে। বাঙালিদের যা স্বভাব, কেউ দেশে যাচ্ছে শুনলেই কিছু না কিছু গছানো চাই। খুব প্রয়োজনের কিছু হলে বা যে আসছে সে চেনাজানা কেউ হলে আপত্তির কারণ থাকে না, কিন্তু যাকে-তাকে দিয়ে এটা-ওটা পাঠানো, আবার সেই জিনিস আনতে নিজে যাও বা লোক পাঠাও – গোটা ব্যাপারটাই ঝঞ্ঝাটের। এতে একধরনের গ্রাম্যতা থাকলেও থাকতে পারে। আমি জানি, রুবির কাজিন যে প্যাকেটটা তসলিম নামের টরন্টো ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্সপড়া ছেলেটার হাতে পাঠিয়েছে ওতে হয়তো একটা মেয়েদের মিনি পার্টি ব্যাগ বা অ্যান্টি রিনকেল ক্রিম বা ওভার দ্য কাউন্টার কেনা যায় এমন কোনো গাঁজাখুরি ওষুধ-টষুদ রয়েছে। রুবি হয়তো নেড়েচেড়ে সেটা কাউকে দিয়ে দেবে, আবার এই তসলিম ছেলেটা ফিরে যাওয়ার সময় বদলা কিছু আড়ং বা পিংক সিটি থেকে কিনে গছাবে। যা-ই হোক, তসলিমের সঙ্গে কথা বলে ভালো লেগেছে। মায়ের অসুখের খবর পেয়ে এসেছে, আসার পর তার ধারণা তাকে দেখেই মায়ের অসুখ ভালো হয়ে গেছে। বাসায় যেতে বলায় মাথা নেড়ে জানাল যাবে।
প্যাকেটটা নিয়ে বেরিয়েছি, রাস্তায় ভিড়-ভাট্টা, গাড়ি আনিনি ইচ্ছা করেই। হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলাম কতকাল পর এলাম! পুরান ঢাকা খুব একটা বদলায়নি, আর রাস্তায় আগে যেমন একটা পাঁচমিশেলি গন্ধ পেতাম, সে-গন্ধটা পাচ্ছিলাম। এই গন্ধটা সম্ভবত আর কোথাও পাওয়া যাবে না। হরেকরকম দোকানপাটে হরেকরকম জিনিসের মাদকতাময় গন্ধ। আশ্চর্য লাগছিল গন্ধটা সেরকমই আছে। আবার এও ভাবছিলাম, সত্যি কি গন্ধটা একই রয়ে গেছে, না কল্পনা করে নিচ্ছি।
সত্যি হোক বা কল্পনা, মাদকতা যে একটা আছে পরিষ্কার টের পাচ্ছিলাম, আর তখনই মনে পড়েছিল তমালের কথা। হেঁটে রাস্তা খুঁজে পাওয়া অসম্ভব, একটা রিকশা ডেকে উঠে পড়েছিলাম। আশ্চর্য হচ্ছিলাম ভেবে দেবেন্দ্রনাথ দাশ লেনে যাচ্ছি এত বছর পর। খুব যে খোঁজাখুঁজি করতে হয়েছে তা নয়। ভেবে রেখেছিলাম খুঁজে যদি না পাই, মহল্লার লোকজনকে জিজ্ঞেস করলে তমালের খবর অন্তত পাওয়া যাবে, এমনকি তমাল বা তার পরিবার যদি দেশে ছেড়ে চলে গিয়েও থাকে।
তেমন কিছুর দরকার পড়ল না। বাড়িটা শুধু পেলামই না, অবাক হলাম এত বছরেও সিটি করপোরেশন আগের নম্বরটা বদলায়নি। তবে সবুজ রঙের দুই পাল্লা কাঠের দরজা-টরজা কিছু নেই, সে-জায়গায় ইটের উঁচু দেয়াল। বাড়িতে ঢোকার পথ বলতে এখন সরাসরি রাস্তা থেকে দুটো খাড়া সিঁড়ি। অনেকক্ষণ ধাক্কাধাক্কির পর দরজা খুলতে তমাল কি আছে জিজ্ঞেস না করে যা করা উচিত তা-ই করলাম। দরজা খুলেছিলেন এক বৃদ্ধ, জানতে চাইলাম তমালদের বাড়ি কি না। বৃদ্ধ মাথা নাড়তে আমি তমালের বন্ধু বলে ভেতরে ঢোকার ভঙ্গি করতে তিনি পথ করে দিয়ে বললেন, নাই।
ঢুকতে গিয়েও দাঁড়িয়ে থেকে নাই-এর প্রতিক্রিয়ায় কী বলব ভেবে পেলাম না। আবার এ নিয়ে সোজাসাপটা কিছু জিজ্ঞেস করব কি না ভাবছি, তিনি বললেন, ‘আপনের নাম?’ জবাবে আমার মুখ ছিটকে তার আগের কথাটাই অন্যভাবে, হয়তো কোলাহল তুলে বেরোল, ‘নাই?’
বয়স হলেও ভদ্রলোকের রিফ্লেক্স ভালো, নাই-এর মানে চট করে পরিষ্কার করে বললেন, ‘আমি তো কইতে পারি না কই গ্যাছে, ভিত্রে গিয়া জিগাই, আপনে বহেন। নামটা কন নাই।’
নাম সাজ্জাদ শুনে তিনি একঝলক চোখ তুলে ডানপাশের দরজা ঠেলে সরে গেলেন। ফিরলেন পরপরই। অনেকটা নিজের মনে গজগজ করে বললেন, ‘মোবাইল ফালাইয়া যে ক্যান যায়, অহন হেরে কই বিছরাই!’
ভাবলাম এসেছি যখন, পাঁচ মিনিট বসি বা একটা চিরকুট রেখে যাই, কার্ডও রেখে যেতে পারি। তখনই এই বৃষ্টিটা।
এ তবে সেই বসার ঘর – ছোট বাড়ির তুলনায় বড়সড়ো! কী করে বলি, এ-ঘরে আগে কোনোদিন এসেছি। গাদাগাদি জিনিসপত্র চারদিকে। দুপাশে দুটো খাট, একটা তো একাই ঘরের প্রায় অর্ধেকটা জুড়ে আছে। খাটের ওপরে রাজ্যের বালিশ, গোটানো তোশক, ভাঁজ করা কাঁথা-চাদর, রংজ্বলা ওয়াড়ের পাশবালিশ। মনে হলো রাতে মেঝেতেও বিছানা পাতা হয়। এছাড়া এক পাশের দেয়ালে পেরেকে ঝোলানো অন্তত ডজনখানেক হ্যাংগার। তাতে শার্ট, পাজামা-পাঞ্জাবি বাদেও কীসব জামাকাপড়। মাঝখানে একটা সেন্টার টেবিলের ওপর এ-ঘরের জন্য বেমানান কারুকাজময় মুরাদাবাদি ফুলদানিতে একতোড়া কাগজের ফ্যাকাশে গোলাপ। আর ধুলো। দুটোমাত্র বেতের চেয়ারের একটায় আমি, অন্যটায় বৃদ্ধ। এদিকে ঘরে একটু পরপর লোকজন ঢুকছে, কোনো দিকে না তাকিয়ে হ্যাংগার থেকে জামা টেনে পরছে, লুঙ্গির তলায় পাজামা টেনে ওঠাচ্ছে, খালি গায়ে শার্ট বা পাঞ্জাবি চড়াচ্ছে। এসবের ফাঁকে চোখে পড়ল বাঁপাশের দেয়ালে মরা গাঁদা ফুলের মালা ঝোলানো ছবিটা। তমালের বড়দা। একনজর তাকিয়ে ধরতে অসুবিধা হলো না। কী যেন নাম, বয়সে তমালের অন্তত দশ বছরের বড়, তমালের অনুপস্থিতিতে আমি এলে সমাদর করে এ-ঘরেই বসাতেন। ঢাকাইয়া না বলে শুদ্ধ বাংলায় জানতে চাইতেন, ‘কী খাবে বলো।’ মনে পড়ছে, নাম ছিল হিজল, তমাল সমাদ্দারের বড়দা হিজল সমাদ্দার। কাঠের ওই দুই পাট দরজার গায়ে নামটা কত দেখেছি।
বসে আছি তো আছিই। কথা নেই। বলতে ইচ্ছা করছে না। কেন জানি মনে হচ্ছে বৃদ্ধ আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে চান। আমি মুখে খিল এঁটে রয়েছি দেখে নিজে থেকে উদ্যোগী হতে পারছেন না। শুধু এক ফাঁকে জানিয়েছেন তিনি তমালের জ্যাঠা, পরিবার নিয়ে এখন এখানে থাকেন। জবাবে কিছু না বলে আমি ঘাড় ফিরিয়ে বৃষ্টি দেখেছি, থামছে না বলে মনে মনে গালাগাল দিয়েছি।
দুটো পঁচিশ। আর বসা যায় না। বৃষ্টি ধরার লক্ষণ নেই। ঠিক করলাম রাস্তা পার হয়ে ওপারে গিয়ে কোনো দোকানের ছাউনিতে দাঁড়াব। সিএনজি অটোরিকশা যদি পাই ভালো, না হলে রিকশা করে যতটা যাওয়া যায়। ‘আসি তাহলে’ বলে উঠে দাঁড়াতে তমালের জ্যাঠাও ওঠার ভঙ্গি করলেন, উঠলেন না, বসে বসেই বললেন, ‘তমালরে কিছু কওয়া লাগব?’ আগে ভেবেছিলাম একটা চিরকুট বা কার্ড রেখে যাব, কিন্তু হঠাৎ উঠে পড়তে গিয়ে ইচ্ছাটা বাতিল করে বললাম, ‘নাহ্।’
বাইরের দরজাটা নিজে নিজেই খুললাম, তখনই ডানপাশের দরজা ঠেলে, ‘আপনি যাবেন না’ বলে বছর তিরিশ-পঁয়ত্রিশের যে মেয়ে বা মহিলা হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকল তাকে আগে দেখেছি বলে মনে পড়ল না।
এতক্ষণ ঠায় বসে থাকার বিপরীত চিত্র। এত সময়ে এক কাপ চা পর্যন্ত এলো না, আর এখন এ কোথা থেকে উড়ে এসে যেতে মানা করছে? তাকিয়ে আছি, মেয়ে বা মহিলাটা আমাকে অবাক করে বলল, ‘সাজুদা না? বদলাননি একটুও। আশ্চর্য, এত বছরে একটুও বদলাননি। আমি বাইরে ছিলাম, এসে শুনি কে একজন মেজদার জন্য বসে আছে, নাম বলল সাজ্জাদ, আপনার এ-নাম তা তো জানতাম না। আমি খুকি, খুকি। আপনি বসেন, আমি কাপড় চেঞ্জ করে আসছি, একদম ভিজে গেছি।’
তমালের বোনের নাম ছিল খুকি। তাই তো। বছর দশ-বারোর খুকিকে এ-বাড়িতে এলে প্রায়ই দেখতাম সাড়া নেই শব্দ নেই, মাথা ঝুঁকিয়ে বসে কারো না কারো সঙ্গে দাবা খেলছে। সে-সময় এক ইন্টার স্কুল টুর্নামেন্টে নাকি ফার্স্ট হয়েছিল। সেই খুকি এত বড় হবে এ-ই স্বাভাবিক – বিশ-একুশ বছর কম করে হলেও। চিনতে পারব না, এও খুব স্বাভাবিক, তবে ও যে এখন কথাবার্তায় চটপটে তা হয়তো বয়স বাড়ার কারণে।
খুকির কথায় খোলা দরজা বন্ধ করব কি না ভাবছি, এদিকে বৃষ্টির ছাঁটও লাগছে গায়ে, এমন সময় রিকশা থেকে যে নামল তাকে তমাল বলে চেনা বেশ কঠিন। ওর বাড়িতে ওর জন্য অপেক্ষা করছি বলেই হয়তো পারলাম। রিকশাওয়ালাকে ভাড়া মিটিয়ে ও অযথাই কয়েক সেকেন্ড আমার দিকে তাকিয়ে বৃষ্টিতে ভিজল, জামাকাপড়ের যেটুকু শুকনো ছিল তাও ভিজিয়ে একশেষ করে বলল, ‘সাজু!’
আবার সেই চেয়ারে। তমালের জ্যাঠা উঠে গেছেন। একটু পর তমাল জামাকাপড় বদলে মাথায় তোয়ালে ঘষতে ঘষতে ফিরে এলো, পেছন পেছন খুকি। খুকির হাতে রেকাবিতে ম্যালা খাবারদাবার। ঘরের খাবারের বদলে খুকিই নিশ্চয় এসব আনিয়েছে – নানরুটি, খাসির চাপ, কাবাব, দই। খুকি রেকাবিটা কাগজের গোলাপওয়ালা সেন্টার টেবিলে রাখল।
প্রচ- খিদা পেয়েছিল। ‘নে শুরু কর’ বলে তমাল পেস্নট এগিয়ে দিতে গোগ্রাসে শুরু করলাম। খেতে খেতে কতক্ষণ এসেছি, বাড়ি চিনলাম কী করে, এত বছরেও একই রকম কী করে আছি এসব নানা ফালতু প্রশ্ন করল তমাল, যেসবের জবাব দেওয়ার দরকার পড়ে না। রিকশা থেকে নামার সময়ই খেয়াল করেছিলাম তমালের বেশ একটা উপচানো ভুঁড়ি হয়েছে। খেতে খেতে দেখলাম, গায়ের রং আগে যেমন ফর্সার দিকে ছিল, তেমনি আছে, মাথাভরতি কোঁকড়ানো চুল ছিল, খুব একটা কমেনি; পাক ধরেছে কান ঘিরে। তবে আগে যা ছিল না, তা দুই চোয়াল ঘিরে ঘোর কালো মেচেতার দাগ, চোখের নিচটাও কালচে।
খেয়ে উঠে আবার সেই প্রশ্নগুলোই। বিশেষ করে বাড়ি খুঁজে পেলাম কী করে? এ যেন প্রশ্ন না, একটা ধাঁধা। বুঝলাম ও কথা খুঁজে পাচ্ছে না। তবে মনে হলো যে-কথাটা সরাসরি বলতে পারছে না তা এই – কেন এসেছি? বা নরম করে বললে, এতো বছর পর কী মনে করে? যেভাবেই করুক, ও হয়তো ভাবছে প্রশ্নটা অভব্য। আর তাই অপেক্ষা করছে আমিই যেন মুখ খুলি। নিজে থেকে বলে কি ওর দুশ্চিন্তা দূর করব, না অপেক্ষা করব ও কীভাবে শুরু করে?
এত বড় ভুঁড়ি বানালি কী করে? – আমি বলি।
আর বলিস না, একশ একটা অসুখবিসুখ।
অসুখবিসুখে শরীর রোগা হয়, তোর তো উলটো, ভালো হয়েছে।
এর নাম ভালো? থাইরয়েডের গোলমালে শরীর ফুলে গেছে।
অসুখবিসুখ বাদ দে, অন্য খবর বল। বিয়ে তো করেছিস, ছেলেমেয়ে কী? তোর বউকে ডাক।
তমাল হাসল। বলল, এত বছর বাদে তোর সঙ্গে দেখা, আর আমরা কার কী নাম এও যেন ভুলে গেছি। কেউ কারো কোনো খোঁজ রাখিনি। তুই দেশে থাকলে বিয়ের সময় অন্তত খবর দিতাম। ছেলেমেয়ে দুইজন, মেয়ে ছোট, ক্লাস সিক্সে; ছেলে সামনে মাধ্যমিক মানে এখানকার এসএসসি দেবে।
এখানকার মানে?
ওরা তো ইন্ডিয়ায়।
বউ?
ওখানেই।
কলকাতায়?
শিলিগুড়ি। বউয়ের মামা-কাকারা ওখানে।
বউ-ছেলেমেয়ে কাছে নেই, তোর তো স্বাধীন জীবন।
মজা করার জন্য বললাম, তমাল মজায় যোগ দিলো না। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘তোর খবর কিছু কিছু জানি। জার্মানি থেকে ফিরে বড় ফ্যাক্টরি দিয়েছিস, মহাবড়লোক। একসময় ভেবেছি দেখা করতে যাই, হয়ে ওঠেনি রে। কিসের ফ্যাক্টরি?’
স্পিনিং।
তুই না লেদার টেকনোলজি পড়তে জার্মানি গেলি!
তোর মনে আছে?
ফ্যাক্টরি কোথায়, আশুলিয়ায়?
সাভার ইপিজেডে। খবরাখবর কিছু যখন জানতি খোঁজ করলে পারতি। আমি অবশ্য তোর কোনো খবর না জেনেই এলাম। বন্ধুবান্ধবও তোর ব্যাপারে কিছু জানে না। কার কাছে যেন শুনেছিলাম তোরা ইন্ডিয়ায় চলে গেছিস। আজ এখানে এসে তোর দেখা পাবো ভাবিনি, আর বাড়িটা পেলেও এটা যে এখনো তোদেরই এ নিয়ে সন্দেহ ছিল।
কথা শেষ না করতেই তমাল বলল, ‘সন্দেহ কেন বলছিস, বল অনুমান, তোর অনুমান ঠিক। এটা শরিকি বাড়ি, আমার জ্যাঠা থাকেন পরিবার নিয়ে, এক কাকা ছিলেন, মারা গেছেন, তার ছেলেরা থাকে। আর আমি আর খুকি।’
খুকি কি এখনো দাবা খেলে? ওর তো এতদিনে গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার কথা।
ওকে দেখে তোর কী মনে হলো? ও নিজেই মনে করতে পারবে না একসময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাবা নিয়ে পড়ে থাকত। বিয়েটা ভালোই হয়েছিল, ওর নিজের পছন্দে, টিকল না। একটা আট বছরের মেয়ে আছে, খুব সুন্দর, ওর বর মেয়েকে নিয়ে চলে গেছে, শুনেছি ব্যাঙ্গালোরে থাকে। খুকি এখানে একটা চাকরি করে, মন্দ না, ব্যাংকে, আজ মনে হয় ছুটি নিয়েছে।
কতক্ষণ চুপচাপ কাটে। বাইরে বৃষ্টি ধরে এসেছে। তমাল হঠাৎ বলে, ‘সিগারেট খাচ্ছিস না এতক্ষণ হয়ে গেল?’
খাই না। খাওয়ার পরিবেশ নাই।
কলেজে থাকতেই তো চেইন স্মোকার ছিলি।
তোকে কি ঘনঘন শিলিগুড়ি যেতে হয়? ওরা আসে না?
আমিই যাই। কী করব, প্রথমদিকে ভাবতাম এক পা এখানে, আরেক পা ওখানে, আর এখন ভাবি পা এখানে, মু-ুটা ওখানে।
এ নিয়ে আর কথা তুলি না। নতুন করে কিছু জানতেও ইচ্ছা করে না।
তবে তমাল হয়তো ভাবে কিছু তথ্য দেওয়া দরকার। বলে, ‘বড়দাকে তো মনে আছে? ইন্ডেন্টিংয়ের ব্যবসা করত, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের সোল ডিস্ট্রিবিউটার ছিল, এছাড়া নবাবগঞ্জে মেশিন-টুলসের দোকান। পনেরো বছর আগে বড়দা মারা গেল, আর আমরাও ডুবলাম। ইন্ডেন্টিংয়ের ব্যবসাটা পার্টনার দখল করল। মেশিন-টুলসের দোকান আমিই অল্প দামে ছেড়ে দিলাম। এরপর এটা-ওটা অনেক কিছু করলাম। বড়দার ছিল বিজনেস ব্রেন, আমি এ-জায়গায় ফাঁকা, তাও বড়দার দেখাদেখি কিছু যা শিখেছিলাম কোনো কাজে লাগল না। বড়দা মারা গেল একচলিস্নশ বছর বয়সে। এটা একটা বয়স মরার! বড়দা যদি থাকত এ-অবস্থা হতো না। ঘরের হাল তো দেখছিস, ওই যে সিঙ্গেল খাট, কোণের দিকে একটা পায়ার বদলে ইট, ওতে আমি রাতে ঘুমাই, খুকি ওপরতলায় বারান্দা ঘের দেওয়া হাতচারেক জায়গায় জেঠির মেয়ের সঙ্গে শোয়। এইটুকু বাড়ি, মানুষ কতজন ভাবতে পারবি না। বড়দা থাকলে …’
এতক্ষণে একটা জরুরি কথা জানতে ইচ্ছা জাগে। বলি, ‘বউদি এখন এখানে থাকে না, আর ছেলেমেয়েরা?’
‘নাই রে। সবাই একটা পথই চেনে। বউদি ছেলেমেয়ে নিয়ে ভাইদের কাছে কলকাতায়। একটা মানুষ মরে যাওয়ায় কী অবস্থা চিন্তা কর। বড়দা যদি থাকত, এসব কিছু হতো না, হতে দিত না। বড়দার ব্রেনটা যদি আমার থাকত, আমিও হতে দিতাম না। কত কিছু করলাম, দাঁড়াতেই পারলাম না। কিছু করতে গেলে শক্তি তো দরকার, আমার শক্তি দ্যাখ’, বলে নাটুকে ভঙ্গিতে ঘাড়-মাথা পিছিয়ে কাঁধ ঝাঁকাল।
খুকি চা নিয়ে ঢুকল। ভাবলাম পরিস্থিতি হালকা করতে ওর দাবা খেলার কথা তুলি। কিন্তু চায়ের কাপ নিতে গিয়ে ওর মুখের দিকে তাকাতে পারলাম না। খুকি পারল। ‘কেন আসেননি এতদিন?’ বলে যেন জেদ ধরল, কারণ জানা চাই। নিজের কাপ নিয়ে সে বড় খাটের এক কোণে সাবধানে বসল। পরিষ্কার বুঝতে পারছি ও আমাকে দেখছে, খুঁটিয়েই যেন। ওর নিজের ব্যাপারে যে কিছু জানতে চাচ্ছি না, এও হয়তো খুঁটিয়ে দেখার কারণ। হঠাৎ খুকি বলে উঠল, ‘মেজদাকে আজ আপনি নিয়ে যান। আপনার সঙ্গে থাকবে, অনেক রাত পর্যন্ত দুজন গল্প করবেন। নেবেন না?’
‘যাবি, চল।’ খুকির কথায় তমালের দিকে তাকিয়ে কথাটা না বলে পারি না। তবে বলার পরপরই টের পাই গা শিরশির করছে, ভালো লাগছে। সেই দুপুর বারোটা থেকে এখানে – এই বদ্ধ, দম-আটকানো চারকোনা গুদামের মতো ঘরের বাসি গন্ধে এই প্রথম একটা টাটকা ঘ্রাণ আমাকে চমকে দিলো।
চল, আজ আমরা একসঙ্গে থাকব।
তমাল সেদিকে গেল না। মেচেতা-ছিটানো চোয়াল আর কালি লেপ্টানো মরা, সাদা চোখে আমার দিকে তাকাল। কয়েক সেকেন্ড তাকিয়েই থাকল। তারপর মেঝেতে বারকয়েক স্যান্ডেল ঘষে অনেকটা যেন নিজেকে চাঙ্গা করে বলল, ‘বলছিলাম না বড়দা বেঁচে থাকলে আমাদের এ দশা হতো না। বড়দা ছিল সিংহ রাশির, বল তো এ আমার দেশ, যুদ্ধ করেছি দেশের জন্য, কোন শালা আমাকে কী বলে দেখি। জান দিয়ে দেবো, তবু আমার দাবি আমি ছাড়ব না। কোন সুখে বিদেশে থাকতে যাব, জাতভাইদের সঙ্গে উঠবস করলেই জনম ধন্য! কে কার জাতভাই?’
চল আমার সঙ্গে। খুকি ঠিক বলেছে আজ অনেক রাত পর্যন্ত তোর সঙ্গে আড্ডা দেবো।
বড়দার এক ফোঁটা জোর যদি আমার থাকত! একবার এরশাদ আমলে একটা রায়ট সাজানো হয়েছিল না? সরকারের স্পন্সার্ড রায়ট, ওই যে কালাচান্দ আর মরণচান্দের মিষ্টির দোকান লুট হলো, বড়দা একা একা গিয়ে চিৎকার করে বলল, তোরা মিষ্টিই খাবি তো খালি হিন্দুর দোকান লুট করে খাবি কেন, আলাউদ্দিনের দোকানও লুট কর, মুসলমান ময়রাও আজকাল মিষ্টি ভালো বানায়। কার বুকের পাটায় এমন শক্তি যে সামনে দাঁড়ায়।
খালি চায়ের কাপ ট্রেতে নিতে নিতে খুকি চোখেমুখে বিরক্তি ঝরিয়ে বলল, ‘বেশি বড়দা বড়দা করো না। সাহসে সব হয় না।’
কিসে হয়?
তুমি জানো না, আমাকে জিজ্ঞেস করো? কিসে হয়! আদিখ্যেতা। সাজুদা, আরেক কাপ চা?
মাথা নেড়ে মানা করে ওর দিকে তাকিয়ে বোকার মতো, গাধার মতো বলি, ‘তুমি কেমন আছ খুকি?’
একবার বলে ফেলে কথাটাকে ঠেকা দিতে অন্য কথাও বলতে হয়, ‘ব্যাংকের কাজ কেমন লাগে? এখান থেকে কত দূরে?’
এতটুকুতে থেমে গেলেও হতো। কিন্তু কী এক পাগলামিতে বলি, ‘তোমার মেয়ে নাকি খুব সুন্দর?’
মেজদা বলেছে? ভাগ্যিস, মেয়ে আমার মতো হয়নি, চোখমুখ অবিকল আমাদের মায়ের, গায়ের রংও। আপনি তো মাকে দেখেননি, না দেখেছেন?
মাথা নেড়ে জানাই দেখেছি। মুখে বলি, ‘চেহারা ঠিক মনে নাই।’ ‘দেখাই’, বলে সে চট করে তার মোবাইল ফোন খুলে আমার দিকে বাড়িয়ে ধরতে ভাবি ওর মায়ের ছবি, না দেখি পাঁচ-ছয় বছরের হাসিখুশি মেয়ের ছবি। সুন্দরই না, অপরূপা বললে মানায়। ছবিটার দিকে তাকিয়ে থেকে ভাবি, ভুলচুক যা করে ফেলেছি, আর নয়।
আমার মেয়ের নাম রূপকথা। কার রাখা জানেন? মেজদার। মেজদা যে এমন একটা নাম দিতে পারে ভাবা যায়?
খা না আরেক কাপ চা? তমাল জোরের ওপর বলে।
হ্যাঁ-না কিছু না বলে ভাইবোন দুজনকে দেখি। দুজন দুই জায়গায় বসা, একসঙ্গে এক ফ্রেমে দুজনকে ধরা যায় না। একবার একে, একবার ওকে দেখি। আবার শিরশির টের পাই, আবার একটা টাটকা সুবাস।
খুকি উঠে যায়। বুঝতে পারি চা আনতে।
বাইরে বৃষ্টি শুকিয়ে জানালায় কাঠের পাল্লায় আঠার মতো শেষ বিকেলের পাতলা আলো।
নরেন্দ্র মোদি কি এবারো জিতবে?
তমালের আচমকা প্রশ্নে ধাক্কা খাই। সে বলে চলে, ‘ইউপিতে কংগ্রেসই যাবে, মধ্যপ্রদেশেও মনে হয়, তাহলে কিন্তু বিজেপির কেস খারাপ। পশ্চিম বাংলায় তৃণমূল যত নষ্টামিই করুক, এক মমতার জোরেই বিজেপি-কংগ্রেস টিকতে পারবে না। ত্রিপুরার গতবারের ঘটনাটা আশ্চর্যের না? মানিক সরকার তো জানতাম ভালোই পপুলার, অনেস্টও।’
মনে হয় কথাগুলো সে হয়ত আনমনে বলছে। এমনও হতে পারে … কী হতে পারে ভাবতে গিয়ে মনে হয় তমাল হয়তো সবসময় ঠিক বুঝতে পারে না সে কোথায়?
দ্বিতীয় কাপ চা খেয়ে উঠি। খুকির দিকে তাকিয়ে ‘আসি’ বলে দরজামুখো হই। দরজা খোলে তমাল। সিঁড়িদুটো ভেঙে রাস্তায় নামতে দেখি সে আমার পাশাপাশি হাঁটছে। ওকে কি আবার বলব আমার সঙ্গে যেতে? মনে হয় না রাজি হবে। তারপরও কি বলব, যদি রাজি হয়?
একটা মোড় পেরোতে তমাল তড়বড় করে বলে ওঠে, ‘এই যে-গলিটা, সামনে ডানদিকে চলে গেছে এটা না আমাকে বিপদে ফেলে, শিলিগুড়িতে মালারা যেখানে থাকে সেখানে ঠিক এরকম একটা গলি, না দেখলে বিশ্বাস করবি না।’
বউয়ের নাম মালা? কোন মালা?
তমাল পা চালিয়ে পাশের ঘুপচি দোকান থেকে একটা সিগারেট ধরিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে এসে বলে, ‘খাই না, আজ ইচ্ছা হলো, মনে কর তোর কারণে। কী সিগারেট না খেতি রে! মালাকে তোর মনে আছে? সেই মালা-ই, মালা আবার কয়টা, অভয় দাশ লেনের মালা, ওর দাদা বিমল পড়ত আমাদের এক ক্লাস নিচে।’
মালার কথা এতক্ষণে বললি!
আরে এ-মালা কি আর সে-মালা আছে! ওকে তোর মনে আছে ভাবিনি।
তমাল হঠাৎ থেমে পড়ে। সিগারেট-ধরা হাত মুখের কাছে এনেও নামিয়ে ফেলে। বলে, ‘একটা কথা বলি, মনে কিছু করবি না তো?’
মনে করব মানে?
তুই কি এমনি এমনি, মানে আমার খোঁজ করতেই …
মিথ্যা বলতে ইচ্ছা করে না। বলি, ‘এসেছিলাম সূত্রাপুরে, এই প্যাকেটটা আমার বউয়ের কাজিন কানাডা থেকে একজনের হাতে পাঠিয়েছে, এটা কালেক্ট করতেই এদিকে আসা। তো ভাবলাম, দেখি দেবেন্দ্রনাথ দাশ লেনের ৫/৪/এ বাড়িটা খুঁজে পাই কি না।’
স্যান্ডেলের তলায় জোরে জোরে আধখাওয়া সিগারেট ঘষে তমাল মুখ তুলে অপ্রস্ত্তত হাসে। দিনশেষের বিলীয়মান আলোয় তার মুখ বীভৎস দেখায়। কয়েক পা এগিয়ে বলে, ‘কত হাঁটবি, এখান থেকেই একটা কিছু ধর, আমি এই ডানপাশের গলিতে একটু ঘুরব। বলেছিলাম না গলিটা আমাকে বিপদে ফেলে? প্রায় দিনই এক পাক ঘুরি।’
এর নাম কি ফর্কিং পাথ্স? তমাল ডানদিকে এগোয়, আমি এদিকে-ওদিকে চোখ ফেলে রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা খুঁজি। যাব সোজা, কিছুদূর গিয়ে গলিটা বাঁয়ে ঘুরে গেছে।
মিথ্যা যদি বলতাম, যদি বলতাম ওর খোঁজ করতেই, ওকে দেখতেই এত বছর বাদে …
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1355)
- ► 2025 (3281)
- ▼ 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
Exclusive
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
জোহরান মামদানি
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
ইহুদি
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment