Monday, December 16, 2019
বঙ্গবন্ধু, সিরাজুল আলম খান ও নিউক্লিয়াস প্রসঙ্গ by আ স ম আবদুর রব
বঙ্গবন্ধু, সিরাজুল আলম খান ও নিউক্লিয়াস প্রসঙ্গ by আ স ম আবদুর রব

বঙ্গবন্ধু
হচ্ছে স্বাধীনতার সমার্থক। স্বাধীনতার প্রশ্নে সদা-সর্বদা-সর্বাগ্রে
বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারিত হয়। বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ হাজার বছরের
শৃংখল ভেঙ্গে দৈন্য গ্লানি অতিক্রম করে স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনতে সব
বিরোধ ছাপিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অথচ
বঙ্গবন্ধুর নামে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে-এটা ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য কর্মকান্ডের সম্মিলিত ফসল হচ্ছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ। অপ্রকাশ্য কর্মকান্ডের নায়ক হচ্ছে সিরাজুল আলম খান। কেউ কেউ এ সত্যকে বলি দিয়ে ইতিহাস রচনা করতে চাচ্ছে। সিরাজুল আলম খান ৬০-৭০ দশকে লক্ষ লক্ষ তরুন ছাত্রসমাজের কাছে ছিলেন স্বাধীনতার বাতিঘর-স্বপ্নের সারথী।
তিনি ছিলেন তরুন ছাত্র ও যুব সমাজকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করার-মূল প্রেরণাদাতা ও পথপ্রদর্শক। বঙ্গবন্ধু উপাধির পরিকল্পনা, পতাকা উত্তোলন, ইশতেহার পাঠ, জয়বাংলা বাহিনী ও বিএলএফ গঠন সহ ছাত্র ও যুবসমাজের মননে স্বাধীনতার স্বপ্ন বপন করার অসাধ্য কর্মকান্ডের অদৃশ্য নায়ক সিরাজুল আলম খান। স্বাধীনতার অন্তঃপ্রান সিরাজুল আলম খান ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একান্ত ও খুবই আস্থাভাজন। যারা অপ্রকাশ্য কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন না বা আংশিক জড়িত থাকলেও পুর্ণাঙ্গ বিষয় জানেন না। তারা কিউক্লিয়াস, জয়বাংলা বাহিনী, বিএলএফ এর কর্মযজ্ঞ নিয়ে কীভাবে অভিমত প্রদান করেন? সিরাজুল আলম খানের একটি রাজনৈতিক জীবনালেখ্য বীর সংগ্রামী শামসুদ্দিন পেয়ারা দীর্ঘ ৩৬ বছর তাগিদ দিয়ে ক্ষুদ্র আকারে প্রকাশ করতে পেরেছেন। এটা সিরাজুল আলম খান এর জীবনীগ্রন্থ নয়, স্মৃতিকথাও নয়-স্বাধীন বাংলার জন্য যা করেছেন তার অংশ বিশেষ।
এই বই নিয়ে বিষোদগার বা ক্রোধের যে মাত্রা দেখলাম, কৃতজ্ঞতার যে প্রকাশ দেখলাম, শ্রদ্ধাবোধের যে নমুনা দেখলাম, দ্বিমতের যে বর্ননা দেখলাম এতে আমার এক নবতর উপলব্ধির জন্ম হয়েছে। সে উপলব্ধি হচ্ছে, জাতি হিসেবে আমরা চিরকাল অকৃতজ্ঞ। যে দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুকে স্ব পরিবারে হত্যা করতে পারে, তাজউদ্দিন আহমেদ সহ জাতীয় চার নেতা এবং শেখ ফজলুল হক মনিকে হত্যা করতে পারে, ১৫ আগষ্টকে নাজাত দিবস পালন করতে পারে, যে দেশের মানুষ ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুর গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে, ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শেষে জয় পাকিস্তান বলেছিলো বলে যারা স্বাক্ষী দিতে পারে, সেখানে পদ-পদবীবিহীন সিরাজুল আলম খানকে অস্বীকার বা তুচ্ছ করা কোন বিষয়ই নয়। বাঙালীর বৈশিষ্ট নিয়ে ঐতিহাসিক টমাস বেবিংটন মেকলে বলেছেন (বাংলা একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত ভারতে হিষ্টিং ইংলেন্ডে তার বিচার প্রবন্ধের আরশাদ আজিজ এর বঙ্গানুবাদ) ‘মহিষের কাছে সিং-এর যা মূল্য, বাঘের কাছে থাবার যে গুরুত্ব, মৌমাছির কাছে যেমন হুল, পুরানা গ্রিক কবিতা অনুশারে নারীর জন্য সৌন্দর্য যা বাঙালীর কাছে প্রতারনা তূলনীয় মূল্যবান। এরা লম্বা লম্বা প্রতিজ্ঞা করে, প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করার সুন্দর অজুহাত দেখায়, প্রতারণা-মিথ্যা হলফ, জালিয়াতি, এসব তারা আত্মরক্ষার্থে কিংবা অন্যের ক্ষতি করার জন্যে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দ্বিধা করে না’। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত, বঙ্গবন্ধুর আত্মদান আমাদের হীনমন্যতা ধূয়ে-মুছে দিতে পারেনি। আমরা আত্ম রক্ষার্থে বা কারো ক্ষতি করতে মিথ্যা অস্ত্র ব্যবহারে অতুলনীয়।
বিষোদগার করার জন্যেই কেউ যদি মানসিক প্রস্তুতি বা পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তাহলে যে কোন বিষয়কে টেনে হিচড়ে বিষোদগারের উপযোগী করা যায়। তার একটি উদাহরণ, বঙ্গবন্ধু ৭ই জুন ১৯৬৬ মঙ্গলবার ‘কারাগারের রোজনামচা’য় লেখেছেন ‘দৈনিক আজাদ’ পত্রিকা সংবাদ পরিবেশন ভালই করেছে, আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আজ প্রদেশে হরতাল এবং পাকিস্তান অবজারভার হেড লাইন করেছে ‘হরতাল’ বলে। এখনে বঙ্গবন্ধু কেন ইত্তেফাকের কথা উল্লেখ করেন নাই-কোন মতলবে ইত্তেফাক ও মানিক মিয়ার অবদান অস্বীকার করেছেন, বিষোদগারকাররীরা বিবেকের তাড়নায় এ প্রশ্ন উত্থাপন করে শেষে বলতে পারেন কেন বঙ্গবন্ধু ইত্তেফাক ও মানিক মিয়ার অবদান অস্বীকার করে ইতিহাস বিকৃত করেছেন জানি না। সিরাজুল আলম খানকেও তেমনি টেনে হিচড়ে বিষোদগারের উপকরণে পরিণত করছেন, উনার সব অবদানকে অস্বীকারের ক্রোধে আত্মিক সন্তুষ্টি লাভ করেছেন-এসব বিষয়ে সিরাজুল আলম খান প্রতিবাদ করার বিন্দুমাত্র তাগিদ অনুভব করেন না। এককালে যারা মনে করতো বঙ্গবন্ধুকে হত্যা না করলে রাষ্ট্র থাকে না বা দেশপ্রেম থাকে না-তেমনি আজ কেউ কেউ মনে করছে নিউক্লিয়াস, বিএলএফ, সিরাজুল আলম খানকে অস্বীকার না করলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস হয় না। তারা উভয়ই ক্রোধ, প্রতিহিংসা আর ঘৃণার আওতাধীন। রাষ্ট্র নির্মানে ভূমিকা বা অবদানের স্বীকৃতি কারো প্রত্যায়ন পত্র দিয়ে নির্ধারিত হয় না। স্বাধীনতা বা রাষ্ট্রীয় রাজনীতির প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধু ও সিরাজুল আলম খান এর কথা হয়েছে কতবার তা কেবল তারাই জানেন। আর সিরাজুল আলম খান নিজেই বলেছেন বঙ্গবন্ধুর সাথে কথা হয়েছে সেটাও বিষোদগারকারীগন অস্বীকার করেছেন। তারা বলতে চেয়েছেন তাদের জানার বাইরে বঙ্গবন্ধু কারো সাথে কথা বলতে পারেন না, তাদের জানার বাইরে বঙ্গবন্ধুর বাসায় কেউ যেতে পারেন না-এসব বক্তব্য বঙ্গবন্ধুর জন্য খুবই অপমানজনক।
আমাদের রাষ্ট্র ক্ষমতার সংস্কৃতি ভয়াবহ। পক্ষে থাকলে গৌরব ও সম্মান আর বিপক্ষে থাকলে অপমান-অসম্মান। আমাদের সত্য পরিবর্তন হয়ে যায় ক্ষমতার আলোকে। ক্ষমতার দম্ভে সত্যকে হত্যা করা যায়-এটাও অনেকে বিশ্বাস করতে শুরু করেন। তারা মনে করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস কেবল তাদের জন্য বরাদ্দ। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ এক বিরাট কর্মযজ্ঞ। এতে রয়েছে অসখ্য মানুষের অবদান। মুক্তিযুদ্ধের পিছনে সামগ্রিক ধারণা-কর্মকান্ড এবং মৌলিক চিন্তাধারার সাথে অনেকের অজ্ঞতা রয়েছে-যা থাকাই স্বাভাবিক। যে যতটুকু জড়িত-যতটুকু শুনেছেন সে ততটুকুই বলতে পারবেন-এসবের বাইরে রয়েছে বিরাট ইতিহাস। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য দুটি ধারার কর্মকান্ডের ফসল। জাতি হিসেবে আমরা অকৃতজ্ঞ ও হীনমন্য। অন্যের কৃতিত্ব-অবদান-আত্মত্যাগকে অস্বীকার করে নিজের ভাবমুর্তি এবং খ্যাতি বাড়ানো যে ভয়ংকর অন্যায় সেটা আমরা অনেকেই জানি না। আমরা অনেকেই কাজ করেছি ইতিহাসে স্থান নেয়ার জন্য আর অনেকেই কাজ করেছেন ইতিহাস নির্মানের জন্য। বঙ্গবন্ধু ও সিরাজুল আলম খান এর সম্পর্ক, সম্পর্কের গভীরতা-নৈকট্য-উচ্চতা নিয়ে অনেকেরই ধারণা নেই-জানাও নেই।
আমরা বর্তমানের স্বার্থ-সংঘাতের ভিত্তিতে অতীতের মূল্যায়ন করতে গিয়ে ৭১ এর অনেক বীর সিপাহ সালার, সেক্টর কমান্ডার এবং বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্তদের পাকিস্তানী চর বা রাজাকার বলতেও দ্বিধাবোধ করিনি। এসব বলার মাধ্যমে যে মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করা হয়-এইটুকু উপলব্ধি আমাদের হয় না। দলীয় রাজনীতি ও সংস্কৃতি যে কী ভয়ংকর তার প্রমাণ হচ্ছে ১৫ই আগষ্ট। বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে খুন করার পর-সিঁড়িতে লাশ রেখেই দলীয় নেতারা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সেই মন্ত্রী পরিষদের প্রথম বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর নামে শোক প্রস্তাব উত্থাপনের কেউ প্রয়োজন মনে করেননি। বরং হাসি ঠাট্টাছলে টুপি আর ড্রেস কোড নিয়ে কথা হয়েছে। সেই সরকারই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি আইন প্রণয়ন করে। এই দেশেই ১৫ই আগষ্টকে নাজাত দিবস পালন করার মানুষ ছিলো। যারা বঙ্গবন্ধুকে স্ব পরিবারে হত্যায় জড়িত ছিলো তাদেরকে “সূর্য সন্তান” বলে আখ্যায়িত করা হতো। সেখানে বাঙালির ‘জাতিরাষ্ট্র’ বাংলাদেশ গঠনে যিনি ৬২ সাল থেকে গোপন সংগঠন, ৬ দফা-১১ দফা আন্দোলনের কৌশল প্রণয়ন, সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হওয়ার আগেই রাজনৈতিক উইং বিএলএফ এবং সামরিক উইং জয়বাংলা বাহিনী গঠন করেন, পতাকা নির্মান ও উত্তোলন, ইশতেহার প্রণয়ন ও ঘোষণা, বঙ্গবন্ধু উপাধি প্রদানের পরিকল্পনা করেন এবং বঙ্গবন্ধু কাল্ট সৃষ্টিতে যার অবদান সবচেয়ে বেশী সেই সিরাজুল আলম খানকে ক্ষমা চাইতে হবে-অর্বাচীন বালক, ষড়যন্ত্রকারী বলে সম্মান দেওয়া হচ্ছে এটাই কম কিসে? স্বাধীন রাষ্ট্র নির্মানে যুক্ত থাকার অপরাধে বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শেখ ফজলুল হক মনি সহ তাদেরকে খুন করে আমরা জাতি হিসেবে অকৃতজ্ঞ তার প্রমাণ দিয়েছি। সিরাজুল আলম খানকে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় বিচারের সম্মুখীন করা বা অপঘাতে মৃত্যু যে এখনো হয়নি, তাতেই তাকে ভাগ্যবান মনে করছি। সিরাজুল আলম খান কৃতিত্ব নিতে চাইলে নিজেই বঙ্গবন্ধু উপাধি প্রদান করতে পারতেন-পতাকা উত্তোলন করতে পারতেন-ইশতেহার পাঠ করতে পারতেন কিন্তু তা না করে যার দ্বারা যে কাজ তার দ্বার সেই কাজ সম্পন্ন করাকেই কর্তব্য মনে করেছেন-নিজের কৃতিত্বকে তুচ্ছ করে দেখেছেন। তিনি স্বাধীনতার জন্য নিবেদিত প্রাণ।
আমরা কতিপয় যারা স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে একটু অবদানের সৌভাগ্য অর্জন করেছিলাম তারা গত ৪৮ বছর ধরে প্রতিদিন রেডিও, টিভি সংবাদপত্রে জনসভায় ও স্মৃতিচারণে আমাদের ভূমিকা-অবদান নিয়ে কথা বলে যাচ্ছি কিন্তু সেই অবদানের কথা আর শেষ হচ্ছে না। আর সিরাজুল আলম খান গত ৪৮ বছরে একদিনও কোন রেডিও-টিভি বা পত্র-পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দেননি। পত্রিকায় কোন লেখা পাঠান নি, জনসভা বা কোন আলোচনা সভায় স্মৃতিচারণ করেননি। গত ৪৮ বছরে কখনও দলীয় পদ বা সরকারী পদ-পদবী গ্রহণ করেননি। আমরা অনেকেই মন্ত্রী-এমপি হয়েছি, গাড়ি-বাড়ীর মালিক হয়েছি, সংসার পরিবারের অধিকারী হয়েছি। শুধু একজন সিরাজুল আলম খান রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে নিজেকে উৎসর্গ করে সংসার জীবন ত্যাগ করেছেন, ব্যক্তিগত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বলতে কিছুই নেই-এসবের প্রতি তাঁর কোন মোহও নেই। এই প্রজন্মে এমন অসাধারণ মানুষ খুব দুর্লভ।
গত ৪৮ বছরে আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে বাগাড়ম্বর করে যাচ্ছি। সেখানে সিরাজুল আলম খান জাতির উত্থান পতনের কারণ, সভ্যতার ক্রমবিকাশের পিছনে মূল চালিকা শক্তি কি, সমাজের অভ্যন্তরে নতুন সমাজ শক্তির উদ্ভব এসব সমাজ শক্তির রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের আন্তঃসম্পর্ক, সমাজ শক্তি সমূহের রাজনৈতিক ভূমিকা ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছেন। একুশ শতকের বাঙালী অর্থাৎ বাঙালী এখন তৃতীয় জাগরনের পর্যায়ে রয়েছে। এই জাগরণ বাঙালী জীবনে নবতর সামাজিক উপাদানে সমৃদ্ধ-জাতিসত্বার উচ্চতর বিকাশ নিয়ে নতুন তত্ত্ব নির্মান করেছেন। স্বাধীন দেশের রাজনীতিতে তত্ত্বগত দিক নির্দেশনার প্রয়োজনে শাসনতন্ত্র ও শাসনতান্ত্রিক রূপরেখা প্রণয়ন করেন ড. জিল্লুর রহমান খান সহ যৌথভাবে। সিরাজুল আলম খান বাংলাদেশের সমাজ অভ্যন্তরে শ্রেনী শক্তি-রাজনৈতিক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বাঙালী জাতীয়তাবাদের বিকশিত রূপ-রাজনৈতিক প্রযুক্তি নিয়ে অবিরাম গবেষণা করে যাচ্ছেন।
বঙ্গবন্ধু তাঁর স্বজাতির স্বভাব সম্মন্ধে অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেছেন যদিও জাতি হিসেবে বাঙালী পরশ্রীকাতরতার জাতি। ‘পরশ্রীকাতরতা’ দুনিয়ার কোন ভাষা খুঁজিয়া পাওয়া যাবে না, একমাত্র বাংলা ভাষা ছাড়া। বঙ্গবন্ধুর এই গভীর উপলব্ধির নির্মম শিকার হয়েছেন নিজেই, নিজের দল আওয়ামী লীগ দ্বারা। বাংলাদেশের মত রাজনৈতিক বিপ্লবের ফসল যে সকল রাষ্ট্র নির্মান হয়েছে-সে সকল দেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় জাতির জনক বা স্থপতিদের অবদানের কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে। ভিয়েতনাম, চীন, কোরিয়া, তুরষ্কের সংবিধানের প্রস্তাবনায় তাদের মহান নেতাদের অবদান উল্লেখ করে (হো চি মিন-সান ইয়াৎ সেন-মাও সেতুং-কিম ইল সুং-কামাল আতাতুর্ক) সর্বোচ্চ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রদান করেছে কেবলমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া। বাংলাদেশের ৭২ এর সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর নাম একবারও উচ্চারিত হয়নি-কোন অবদানের কথাই বলা হয়নি। এমন কি ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণার কথা ৭২ এর সংবিধানে উল্লেখ নেই। সে পরশ্রীকাতরতায় সিরাজুল আলম খান জাতির নিকট অপমানিত-লাঞ্চিত হবেন না তা কী করে সম্ভব? দলীয় রাজনীতি ও সংস্কৃতির সীমাবদ্ধতা-রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে সরকারী ইতিহাস নির্মানের প্রবনতার বাইরে যখন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নির্মিত হবে তখন সিরাজুল আলম খান সহ যার যা অবদান তা লিপিবদ্ধ হবে।
দলীয় স্তাবকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তার চেয়ে সরকারী পদ পদবী নিয়ে ব্যস্ত ছিলো-এসব নিয়ে আমাদের কোন আত্ম উপলব্ধি নেই। ৬০-৭০ দশক ছিলো অভ্যূত্থান-পাল্টা অভ্যূত্থানের বিশ্ব। সরকার উৎখাত এবং রক্তপাতের বিশ্ব। বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম বিরোধীতাকারী পরাশক্তি ছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সিআইএ বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এটা সকলেরই জানা। এরমধ্যেই চিলির জাতীয়তাবাদী নেতা সালভেদর আলেন্দেকে হত্যা করা হয়েছে। এতকিছুর পরও বঙ্গবন্ধুকে নিরাপত্তা দেয়ার বিশেষ কোন উদ্যোগ কেন নেয়া হয়নি? কেন রক্ষী বাহিনী বা সেনাবাহিনীর প্রবল নিরাপত্তার চাদরে ৩২ নং ধানমন্ডি ঢেকে দেয়া হয়নি? এগুলোর মূল্যয়ন করা অতীব জরুরী। বঙ্গবন্ধুর সরকারের বিরুদ্ধে কিছু ঘটছে এটা বাতাসে বাতাসে গুঞ্জন চলছিলো। কিন্তু দলীয় স্তাবকগণ এসবকে গুরুত্ব না দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অবহেলাকেই নিশ্চিত করেছে। অভ্যূত্থান-পাল্টা অভ্যূত্থানের বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এটা বুঝার জন্যে মহামতি লেলিন হওয়ার দরকার ছিলো না। উপমহাদেশের অহিংসের নেতা মহাত্মা গন্ধী সহিংসতার শিকার এটার জানার পরও বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা যারা নিশ্চিত করলো না-তারা জাতির কতবড় সর্বনাশের ভাগিদার-তা নির্ধারণ করা উচিত। সিরাজুল আলম খান প্রথম ব্যক্তি যিনি বুঝতে পেরেছিলেন উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে যেমন রক্ষা করা সম্ভব হবে না তেমনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তাই তিনি ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসেই বঙ্গবন্ধুর নিকট লিখিত ১৫ দফা উপস্থাপন করেছিলেন। তাঁর ১ম দফাই ছিলো অসম্পূর্ণ সশস্ত্র যুদ্ধ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনায় বাংলাদেশেকে পুনর্গঠনের বিশেষ পর্যায় পর্যন্ত একটি ‘বিপ্লবী জাতীয় সরকার’ দ্বারা পরিচালিত হবে। সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেয়া সকল দল ও গ্রুপ এর সমন্বয়ে গঠিত এই সরকারের প্রধান থাকবেন বঙ্গবন্ধু। ৩নং দফায় ছিলো বঙ্গবন্ধুর মর্যাদায় বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বঙ্গবন্ধু থাকবেন সকল দলের উর্ধ্বে। প্রয়োজনে তিনি রাজধানীর বাইরে অবস্থান করবেন। তাঁকে কেন্দ্র করে বাঙালী জাতির চেতনা বিকাশের ধারা প্রবাহিত হবে। ৫নং দফায় ছিলো চিরাচরিত প্রথার সেনাবাহিনী গঠন না করে স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনায় জাতীয় পর্যায়ে ‘রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী’ গঠন করা হবে। সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সৈনিক, ‘এফএফ’ এবং ‘বিএলএফ’ সহ সশস্ত্র যোদ্ধাদের নিয়ে এই বাহিনী তৈরী হবে। এর সমান্তরাল অন্য কোন বাহিনী থাকবে না। উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে যদি ‘বিপ্লবী জাতীয় সরকার’ গঠন হতো এবং চিরাচারিত সেনাবাহিনীর বিপরীতে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর যোদ্ধাদের নিয়ে সেনাবাহিনী গঠিত হতো তাহলে বঙ্গবন্ধু হত্যা কোন ক্রমেই সম্ভব হতো না-এইসব মৌলিক সত্য আমাদেরকে অনুধাবন করতে হবে।
বাঙালীর বৈশিষ্ট অনুধাবনে সমকালীন সবচেয়ে বড় ঘটনা বঙ্গবন্ধু হত্যা। বঙ্গবন্ধু হত্যা কী পরিমাণ অকৃতজ্ঞ জাতিতে আমাদেরকে পরিণত করেছে তা আমাদের যেমন উপলব্ধিতে নেই-তেমনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডকে দোষারোপের বৃত্তেই আবদ্ধ করে রেখেছি কোন আত্ম সমালোচনা নেই।
মহাত্মা গান্ধীকে হত্যার আশংকা প্রকাশিত হওয়ার পরও তৎকালীন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সর্দার প্যাটেল যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেননি-যা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তার ভারত স্বাধীন হলো বইয়ে উল্লেখ করেছেন। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন এ আমাদের চিরকালের লজ্জা আর দুঃখ যে আমাকে আজ কবুল করতে হচ্ছে একেবারে প্রাথমিকতম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও আমরা অপরাগ হয়েছি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যার বাইরেও বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা নিয়ে এমন একটা আত্ম সমালোচনা আমাদের কারো আছে ? মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এর ‘ভারত স্বাধীন হল’ বই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মৃত্যুর ত্রিশ বছর পর। কারণ তাঁর মতামত এবং মূল্যায়নের সাথে অনেকেই একমত হতে পারবেন না। এ কারণে তিনি মৃত্যুর ত্রিশ বছর পর বই প্রকাশ করতে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। সিরাজুল আলম খানও যদি ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হল’ বা ‘বঙ্গবন্ধুর সাথে স্মৃতিকথা’ লিখে যান হয়তো অনেক অজানা কথা আমরা জানতে পারবো।
যাদের আত্মবিশ্বাসহীনতা প্রবল তারা মনে করছেন সিরাজুল আলম খানকে হেয় না করতে পারলে ইতিহাসে জায়গা পাওয়া যাবে না। কিন্তু এসব প্রশ্নে সিরাজুল আলম খান কোন উত্তর দেয়ার প্রয়োজনই মনে করেন নি। যারা সমালোচনা করছেন তাদের বিরাট সুবিধা হলো এই ভেবে যে সিরাজুল আলম খান কারো কথার কোন জবাব দেবেন না। আমরা যারা বাগাড়ম্বরের অভিযাত্রী তারা কারো বিরোধীতা করতে গিয়ে তাকে প্রতিপক্ষ করে ফেলি এবং মাটির তলায় ঢেকে দিয়ে শান্তি অনুভব করি। সেখানে সিরাজুল আলম খান টুশব্ধটি করেননি এমনকি ব্যক্তিতভাবে কোন অভিযোগ করেননি। সিরাজুল আলম খান এর প্রজ্ঞা, মানসিক গঠন, জীবনবোধ, রাজনৈতিক দর্শন বুঝতে আমাদেরকে অনেককাল অপেক্ষা করতে হবে।
বিবেকের তাড়নায় সিরাজুল আলম খানকে তুচ্ছ করতে যতো উৎসাহী তার চেয়ে ভালো হতো জনগণের নেতাকে ‘বঙ্গবন্ধু উপধি’ প্রদান করা হলো কার পরিকল্পনা ও নিদের্শে-এ সত্য প্রকাশ করলে, আরো ভালো হতো বঙ্গবন্ধু শব্দের উদ্ভাবক সংগ্রামী রেজাউল হক চৌধুরী মোস্তাক এর নাম উচ্চারণ করলে। গত ৫০ বছরে এ গভীর সত্য একবারও উচ্চরিত হয়নি-এতেই বুঝা যায় নৈতিক উচ্চতা থেকে সত্যকে প্রকাশ করা হচ্ছে না। বরং সত্যকে মাটি চাপা দেয়া হচ্ছে। এই একটা বিষয় দিয়েই বুঝা যায় সিরাজুল আলম খান এর বিরুদ্ধে বিষোদগারকারীগণ ইতিহাসের সত্য অনুসন্ধানের জন্য নয়-ইতিহাস থেকে অন্যদের অবদান মুছে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।
মহান নেতা ফিদেল কাস্ট্রো বলেছেন ‘এই যে নক্ষত্রের আলো সেও একদিন নিভে যাবে, সূর্য একদিন আর আলো দিবে না, পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে, সুতরাং কোন কিছুতেই আমি জাহির করার কিছু দেখি না, ব্যক্তি হিসেবে আমাদের ভূমিকা খুবই সীমিত এবং আমাদের উচিৎ এই সীমাবদ্ধ ভূমিকাটুকু সঠিকভাবে পালন করা’-সিরাজুল আলম খান এই চেতনারই স্বার্থক উত্তরাধিকার।
প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য কর্মকান্ডের সম্মিলিত ফসল হচ্ছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ। অপ্রকাশ্য কর্মকান্ডের নায়ক হচ্ছে সিরাজুল আলম খান। কেউ কেউ এ সত্যকে বলি দিয়ে ইতিহাস রচনা করতে চাচ্ছে। সিরাজুল আলম খান ৬০-৭০ দশকে লক্ষ লক্ষ তরুন ছাত্রসমাজের কাছে ছিলেন স্বাধীনতার বাতিঘর-স্বপ্নের সারথী।
তিনি ছিলেন তরুন ছাত্র ও যুব সমাজকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করার-মূল প্রেরণাদাতা ও পথপ্রদর্শক। বঙ্গবন্ধু উপাধির পরিকল্পনা, পতাকা উত্তোলন, ইশতেহার পাঠ, জয়বাংলা বাহিনী ও বিএলএফ গঠন সহ ছাত্র ও যুবসমাজের মননে স্বাধীনতার স্বপ্ন বপন করার অসাধ্য কর্মকান্ডের অদৃশ্য নায়ক সিরাজুল আলম খান। স্বাধীনতার অন্তঃপ্রান সিরাজুল আলম খান ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একান্ত ও খুবই আস্থাভাজন। যারা অপ্রকাশ্য কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন না বা আংশিক জড়িত থাকলেও পুর্ণাঙ্গ বিষয় জানেন না। তারা কিউক্লিয়াস, জয়বাংলা বাহিনী, বিএলএফ এর কর্মযজ্ঞ নিয়ে কীভাবে অভিমত প্রদান করেন? সিরাজুল আলম খানের একটি রাজনৈতিক জীবনালেখ্য বীর সংগ্রামী শামসুদ্দিন পেয়ারা দীর্ঘ ৩৬ বছর তাগিদ দিয়ে ক্ষুদ্র আকারে প্রকাশ করতে পেরেছেন। এটা সিরাজুল আলম খান এর জীবনীগ্রন্থ নয়, স্মৃতিকথাও নয়-স্বাধীন বাংলার জন্য যা করেছেন তার অংশ বিশেষ।
এই বই নিয়ে বিষোদগার বা ক্রোধের যে মাত্রা দেখলাম, কৃতজ্ঞতার যে প্রকাশ দেখলাম, শ্রদ্ধাবোধের যে নমুনা দেখলাম, দ্বিমতের যে বর্ননা দেখলাম এতে আমার এক নবতর উপলব্ধির জন্ম হয়েছে। সে উপলব্ধি হচ্ছে, জাতি হিসেবে আমরা চিরকাল অকৃতজ্ঞ। যে দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুকে স্ব পরিবারে হত্যা করতে পারে, তাজউদ্দিন আহমেদ সহ জাতীয় চার নেতা এবং শেখ ফজলুল হক মনিকে হত্যা করতে পারে, ১৫ আগষ্টকে নাজাত দিবস পালন করতে পারে, যে দেশের মানুষ ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুর গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে, ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শেষে জয় পাকিস্তান বলেছিলো বলে যারা স্বাক্ষী দিতে পারে, সেখানে পদ-পদবীবিহীন সিরাজুল আলম খানকে অস্বীকার বা তুচ্ছ করা কোন বিষয়ই নয়। বাঙালীর বৈশিষ্ট নিয়ে ঐতিহাসিক টমাস বেবিংটন মেকলে বলেছেন (বাংলা একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত ভারতে হিষ্টিং ইংলেন্ডে তার বিচার প্রবন্ধের আরশাদ আজিজ এর বঙ্গানুবাদ) ‘মহিষের কাছে সিং-এর যা মূল্য, বাঘের কাছে থাবার যে গুরুত্ব, মৌমাছির কাছে যেমন হুল, পুরানা গ্রিক কবিতা অনুশারে নারীর জন্য সৌন্দর্য যা বাঙালীর কাছে প্রতারনা তূলনীয় মূল্যবান। এরা লম্বা লম্বা প্রতিজ্ঞা করে, প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করার সুন্দর অজুহাত দেখায়, প্রতারণা-মিথ্যা হলফ, জালিয়াতি, এসব তারা আত্মরক্ষার্থে কিংবা অন্যের ক্ষতি করার জন্যে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দ্বিধা করে না’। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত, বঙ্গবন্ধুর আত্মদান আমাদের হীনমন্যতা ধূয়ে-মুছে দিতে পারেনি। আমরা আত্ম রক্ষার্থে বা কারো ক্ষতি করতে মিথ্যা অস্ত্র ব্যবহারে অতুলনীয়।
বিষোদগার করার জন্যেই কেউ যদি মানসিক প্রস্তুতি বা পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তাহলে যে কোন বিষয়কে টেনে হিচড়ে বিষোদগারের উপযোগী করা যায়। তার একটি উদাহরণ, বঙ্গবন্ধু ৭ই জুন ১৯৬৬ মঙ্গলবার ‘কারাগারের রোজনামচা’য় লেখেছেন ‘দৈনিক আজাদ’ পত্রিকা সংবাদ পরিবেশন ভালই করেছে, আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আজ প্রদেশে হরতাল এবং পাকিস্তান অবজারভার হেড লাইন করেছে ‘হরতাল’ বলে। এখনে বঙ্গবন্ধু কেন ইত্তেফাকের কথা উল্লেখ করেন নাই-কোন মতলবে ইত্তেফাক ও মানিক মিয়ার অবদান অস্বীকার করেছেন, বিষোদগারকাররীরা বিবেকের তাড়নায় এ প্রশ্ন উত্থাপন করে শেষে বলতে পারেন কেন বঙ্গবন্ধু ইত্তেফাক ও মানিক মিয়ার অবদান অস্বীকার করে ইতিহাস বিকৃত করেছেন জানি না। সিরাজুল আলম খানকেও তেমনি টেনে হিচড়ে বিষোদগারের উপকরণে পরিণত করছেন, উনার সব অবদানকে অস্বীকারের ক্রোধে আত্মিক সন্তুষ্টি লাভ করেছেন-এসব বিষয়ে সিরাজুল আলম খান প্রতিবাদ করার বিন্দুমাত্র তাগিদ অনুভব করেন না। এককালে যারা মনে করতো বঙ্গবন্ধুকে হত্যা না করলে রাষ্ট্র থাকে না বা দেশপ্রেম থাকে না-তেমনি আজ কেউ কেউ মনে করছে নিউক্লিয়াস, বিএলএফ, সিরাজুল আলম খানকে অস্বীকার না করলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস হয় না। তারা উভয়ই ক্রোধ, প্রতিহিংসা আর ঘৃণার আওতাধীন। রাষ্ট্র নির্মানে ভূমিকা বা অবদানের স্বীকৃতি কারো প্রত্যায়ন পত্র দিয়ে নির্ধারিত হয় না। স্বাধীনতা বা রাষ্ট্রীয় রাজনীতির প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধু ও সিরাজুল আলম খান এর কথা হয়েছে কতবার তা কেবল তারাই জানেন। আর সিরাজুল আলম খান নিজেই বলেছেন বঙ্গবন্ধুর সাথে কথা হয়েছে সেটাও বিষোদগারকারীগন অস্বীকার করেছেন। তারা বলতে চেয়েছেন তাদের জানার বাইরে বঙ্গবন্ধু কারো সাথে কথা বলতে পারেন না, তাদের জানার বাইরে বঙ্গবন্ধুর বাসায় কেউ যেতে পারেন না-এসব বক্তব্য বঙ্গবন্ধুর জন্য খুবই অপমানজনক।
আমাদের রাষ্ট্র ক্ষমতার সংস্কৃতি ভয়াবহ। পক্ষে থাকলে গৌরব ও সম্মান আর বিপক্ষে থাকলে অপমান-অসম্মান। আমাদের সত্য পরিবর্তন হয়ে যায় ক্ষমতার আলোকে। ক্ষমতার দম্ভে সত্যকে হত্যা করা যায়-এটাও অনেকে বিশ্বাস করতে শুরু করেন। তারা মনে করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস কেবল তাদের জন্য বরাদ্দ। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ এক বিরাট কর্মযজ্ঞ। এতে রয়েছে অসখ্য মানুষের অবদান। মুক্তিযুদ্ধের পিছনে সামগ্রিক ধারণা-কর্মকান্ড এবং মৌলিক চিন্তাধারার সাথে অনেকের অজ্ঞতা রয়েছে-যা থাকাই স্বাভাবিক। যে যতটুকু জড়িত-যতটুকু শুনেছেন সে ততটুকুই বলতে পারবেন-এসবের বাইরে রয়েছে বিরাট ইতিহাস। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য দুটি ধারার কর্মকান্ডের ফসল। জাতি হিসেবে আমরা অকৃতজ্ঞ ও হীনমন্য। অন্যের কৃতিত্ব-অবদান-আত্মত্যাগকে অস্বীকার করে নিজের ভাবমুর্তি এবং খ্যাতি বাড়ানো যে ভয়ংকর অন্যায় সেটা আমরা অনেকেই জানি না। আমরা অনেকেই কাজ করেছি ইতিহাসে স্থান নেয়ার জন্য আর অনেকেই কাজ করেছেন ইতিহাস নির্মানের জন্য। বঙ্গবন্ধু ও সিরাজুল আলম খান এর সম্পর্ক, সম্পর্কের গভীরতা-নৈকট্য-উচ্চতা নিয়ে অনেকেরই ধারণা নেই-জানাও নেই।
আমরা বর্তমানের স্বার্থ-সংঘাতের ভিত্তিতে অতীতের মূল্যায়ন করতে গিয়ে ৭১ এর অনেক বীর সিপাহ সালার, সেক্টর কমান্ডার এবং বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্তদের পাকিস্তানী চর বা রাজাকার বলতেও দ্বিধাবোধ করিনি। এসব বলার মাধ্যমে যে মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করা হয়-এইটুকু উপলব্ধি আমাদের হয় না। দলীয় রাজনীতি ও সংস্কৃতি যে কী ভয়ংকর তার প্রমাণ হচ্ছে ১৫ই আগষ্ট। বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে খুন করার পর-সিঁড়িতে লাশ রেখেই দলীয় নেতারা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সেই মন্ত্রী পরিষদের প্রথম বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর নামে শোক প্রস্তাব উত্থাপনের কেউ প্রয়োজন মনে করেননি। বরং হাসি ঠাট্টাছলে টুপি আর ড্রেস কোড নিয়ে কথা হয়েছে। সেই সরকারই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি আইন প্রণয়ন করে। এই দেশেই ১৫ই আগষ্টকে নাজাত দিবস পালন করার মানুষ ছিলো। যারা বঙ্গবন্ধুকে স্ব পরিবারে হত্যায় জড়িত ছিলো তাদেরকে “সূর্য সন্তান” বলে আখ্যায়িত করা হতো। সেখানে বাঙালির ‘জাতিরাষ্ট্র’ বাংলাদেশ গঠনে যিনি ৬২ সাল থেকে গোপন সংগঠন, ৬ দফা-১১ দফা আন্দোলনের কৌশল প্রণয়ন, সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হওয়ার আগেই রাজনৈতিক উইং বিএলএফ এবং সামরিক উইং জয়বাংলা বাহিনী গঠন করেন, পতাকা নির্মান ও উত্তোলন, ইশতেহার প্রণয়ন ও ঘোষণা, বঙ্গবন্ধু উপাধি প্রদানের পরিকল্পনা করেন এবং বঙ্গবন্ধু কাল্ট সৃষ্টিতে যার অবদান সবচেয়ে বেশী সেই সিরাজুল আলম খানকে ক্ষমা চাইতে হবে-অর্বাচীন বালক, ষড়যন্ত্রকারী বলে সম্মান দেওয়া হচ্ছে এটাই কম কিসে? স্বাধীন রাষ্ট্র নির্মানে যুক্ত থাকার অপরাধে বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শেখ ফজলুল হক মনি সহ তাদেরকে খুন করে আমরা জাতি হিসেবে অকৃতজ্ঞ তার প্রমাণ দিয়েছি। সিরাজুল আলম খানকে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় বিচারের সম্মুখীন করা বা অপঘাতে মৃত্যু যে এখনো হয়নি, তাতেই তাকে ভাগ্যবান মনে করছি। সিরাজুল আলম খান কৃতিত্ব নিতে চাইলে নিজেই বঙ্গবন্ধু উপাধি প্রদান করতে পারতেন-পতাকা উত্তোলন করতে পারতেন-ইশতেহার পাঠ করতে পারতেন কিন্তু তা না করে যার দ্বারা যে কাজ তার দ্বার সেই কাজ সম্পন্ন করাকেই কর্তব্য মনে করেছেন-নিজের কৃতিত্বকে তুচ্ছ করে দেখেছেন। তিনি স্বাধীনতার জন্য নিবেদিত প্রাণ।
আমরা কতিপয় যারা স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে একটু অবদানের সৌভাগ্য অর্জন করেছিলাম তারা গত ৪৮ বছর ধরে প্রতিদিন রেডিও, টিভি সংবাদপত্রে জনসভায় ও স্মৃতিচারণে আমাদের ভূমিকা-অবদান নিয়ে কথা বলে যাচ্ছি কিন্তু সেই অবদানের কথা আর শেষ হচ্ছে না। আর সিরাজুল আলম খান গত ৪৮ বছরে একদিনও কোন রেডিও-টিভি বা পত্র-পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দেননি। পত্রিকায় কোন লেখা পাঠান নি, জনসভা বা কোন আলোচনা সভায় স্মৃতিচারণ করেননি। গত ৪৮ বছরে কখনও দলীয় পদ বা সরকারী পদ-পদবী গ্রহণ করেননি। আমরা অনেকেই মন্ত্রী-এমপি হয়েছি, গাড়ি-বাড়ীর মালিক হয়েছি, সংসার পরিবারের অধিকারী হয়েছি। শুধু একজন সিরাজুল আলম খান রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে নিজেকে উৎসর্গ করে সংসার জীবন ত্যাগ করেছেন, ব্যক্তিগত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বলতে কিছুই নেই-এসবের প্রতি তাঁর কোন মোহও নেই। এই প্রজন্মে এমন অসাধারণ মানুষ খুব দুর্লভ।
গত ৪৮ বছরে আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে বাগাড়ম্বর করে যাচ্ছি। সেখানে সিরাজুল আলম খান জাতির উত্থান পতনের কারণ, সভ্যতার ক্রমবিকাশের পিছনে মূল চালিকা শক্তি কি, সমাজের অভ্যন্তরে নতুন সমাজ শক্তির উদ্ভব এসব সমাজ শক্তির রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের আন্তঃসম্পর্ক, সমাজ শক্তি সমূহের রাজনৈতিক ভূমিকা ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছেন। একুশ শতকের বাঙালী অর্থাৎ বাঙালী এখন তৃতীয় জাগরনের পর্যায়ে রয়েছে। এই জাগরণ বাঙালী জীবনে নবতর সামাজিক উপাদানে সমৃদ্ধ-জাতিসত্বার উচ্চতর বিকাশ নিয়ে নতুন তত্ত্ব নির্মান করেছেন। স্বাধীন দেশের রাজনীতিতে তত্ত্বগত দিক নির্দেশনার প্রয়োজনে শাসনতন্ত্র ও শাসনতান্ত্রিক রূপরেখা প্রণয়ন করেন ড. জিল্লুর রহমান খান সহ যৌথভাবে। সিরাজুল আলম খান বাংলাদেশের সমাজ অভ্যন্তরে শ্রেনী শক্তি-রাজনৈতিক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বাঙালী জাতীয়তাবাদের বিকশিত রূপ-রাজনৈতিক প্রযুক্তি নিয়ে অবিরাম গবেষণা করে যাচ্ছেন।
বঙ্গবন্ধু তাঁর স্বজাতির স্বভাব সম্মন্ধে অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেছেন যদিও জাতি হিসেবে বাঙালী পরশ্রীকাতরতার জাতি। ‘পরশ্রীকাতরতা’ দুনিয়ার কোন ভাষা খুঁজিয়া পাওয়া যাবে না, একমাত্র বাংলা ভাষা ছাড়া। বঙ্গবন্ধুর এই গভীর উপলব্ধির নির্মম শিকার হয়েছেন নিজেই, নিজের দল আওয়ামী লীগ দ্বারা। বাংলাদেশের মত রাজনৈতিক বিপ্লবের ফসল যে সকল রাষ্ট্র নির্মান হয়েছে-সে সকল দেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় জাতির জনক বা স্থপতিদের অবদানের কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে। ভিয়েতনাম, চীন, কোরিয়া, তুরষ্কের সংবিধানের প্রস্তাবনায় তাদের মহান নেতাদের অবদান উল্লেখ করে (হো চি মিন-সান ইয়াৎ সেন-মাও সেতুং-কিম ইল সুং-কামাল আতাতুর্ক) সর্বোচ্চ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রদান করেছে কেবলমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া। বাংলাদেশের ৭২ এর সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর নাম একবারও উচ্চারিত হয়নি-কোন অবদানের কথাই বলা হয়নি। এমন কি ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণার কথা ৭২ এর সংবিধানে উল্লেখ নেই। সে পরশ্রীকাতরতায় সিরাজুল আলম খান জাতির নিকট অপমানিত-লাঞ্চিত হবেন না তা কী করে সম্ভব? দলীয় রাজনীতি ও সংস্কৃতির সীমাবদ্ধতা-রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে সরকারী ইতিহাস নির্মানের প্রবনতার বাইরে যখন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নির্মিত হবে তখন সিরাজুল আলম খান সহ যার যা অবদান তা লিপিবদ্ধ হবে।
দলীয় স্তাবকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তার চেয়ে সরকারী পদ পদবী নিয়ে ব্যস্ত ছিলো-এসব নিয়ে আমাদের কোন আত্ম উপলব্ধি নেই। ৬০-৭০ দশক ছিলো অভ্যূত্থান-পাল্টা অভ্যূত্থানের বিশ্ব। সরকার উৎখাত এবং রক্তপাতের বিশ্ব। বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম বিরোধীতাকারী পরাশক্তি ছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সিআইএ বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এটা সকলেরই জানা। এরমধ্যেই চিলির জাতীয়তাবাদী নেতা সালভেদর আলেন্দেকে হত্যা করা হয়েছে। এতকিছুর পরও বঙ্গবন্ধুকে নিরাপত্তা দেয়ার বিশেষ কোন উদ্যোগ কেন নেয়া হয়নি? কেন রক্ষী বাহিনী বা সেনাবাহিনীর প্রবল নিরাপত্তার চাদরে ৩২ নং ধানমন্ডি ঢেকে দেয়া হয়নি? এগুলোর মূল্যয়ন করা অতীব জরুরী। বঙ্গবন্ধুর সরকারের বিরুদ্ধে কিছু ঘটছে এটা বাতাসে বাতাসে গুঞ্জন চলছিলো। কিন্তু দলীয় স্তাবকগণ এসবকে গুরুত্ব না দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অবহেলাকেই নিশ্চিত করেছে। অভ্যূত্থান-পাল্টা অভ্যূত্থানের বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এটা বুঝার জন্যে মহামতি লেলিন হওয়ার দরকার ছিলো না। উপমহাদেশের অহিংসের নেতা মহাত্মা গন্ধী সহিংসতার শিকার এটার জানার পরও বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা যারা নিশ্চিত করলো না-তারা জাতির কতবড় সর্বনাশের ভাগিদার-তা নির্ধারণ করা উচিত। সিরাজুল আলম খান প্রথম ব্যক্তি যিনি বুঝতে পেরেছিলেন উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে যেমন রক্ষা করা সম্ভব হবে না তেমনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তাই তিনি ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসেই বঙ্গবন্ধুর নিকট লিখিত ১৫ দফা উপস্থাপন করেছিলেন। তাঁর ১ম দফাই ছিলো অসম্পূর্ণ সশস্ত্র যুদ্ধ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনায় বাংলাদেশেকে পুনর্গঠনের বিশেষ পর্যায় পর্যন্ত একটি ‘বিপ্লবী জাতীয় সরকার’ দ্বারা পরিচালিত হবে। সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেয়া সকল দল ও গ্রুপ এর সমন্বয়ে গঠিত এই সরকারের প্রধান থাকবেন বঙ্গবন্ধু। ৩নং দফায় ছিলো বঙ্গবন্ধুর মর্যাদায় বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বঙ্গবন্ধু থাকবেন সকল দলের উর্ধ্বে। প্রয়োজনে তিনি রাজধানীর বাইরে অবস্থান করবেন। তাঁকে কেন্দ্র করে বাঙালী জাতির চেতনা বিকাশের ধারা প্রবাহিত হবে। ৫নং দফায় ছিলো চিরাচরিত প্রথার সেনাবাহিনী গঠন না করে স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনায় জাতীয় পর্যায়ে ‘রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী’ গঠন করা হবে। সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সৈনিক, ‘এফএফ’ এবং ‘বিএলএফ’ সহ সশস্ত্র যোদ্ধাদের নিয়ে এই বাহিনী তৈরী হবে। এর সমান্তরাল অন্য কোন বাহিনী থাকবে না। উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে যদি ‘বিপ্লবী জাতীয় সরকার’ গঠন হতো এবং চিরাচারিত সেনাবাহিনীর বিপরীতে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর যোদ্ধাদের নিয়ে সেনাবাহিনী গঠিত হতো তাহলে বঙ্গবন্ধু হত্যা কোন ক্রমেই সম্ভব হতো না-এইসব মৌলিক সত্য আমাদেরকে অনুধাবন করতে হবে।
বাঙালীর বৈশিষ্ট অনুধাবনে সমকালীন সবচেয়ে বড় ঘটনা বঙ্গবন্ধু হত্যা। বঙ্গবন্ধু হত্যা কী পরিমাণ অকৃতজ্ঞ জাতিতে আমাদেরকে পরিণত করেছে তা আমাদের যেমন উপলব্ধিতে নেই-তেমনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডকে দোষারোপের বৃত্তেই আবদ্ধ করে রেখেছি কোন আত্ম সমালোচনা নেই।
মহাত্মা গান্ধীকে হত্যার আশংকা প্রকাশিত হওয়ার পরও তৎকালীন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সর্দার প্যাটেল যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেননি-যা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তার ভারত স্বাধীন হলো বইয়ে উল্লেখ করেছেন। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন এ আমাদের চিরকালের লজ্জা আর দুঃখ যে আমাকে আজ কবুল করতে হচ্ছে একেবারে প্রাথমিকতম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও আমরা অপরাগ হয়েছি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যার বাইরেও বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা নিয়ে এমন একটা আত্ম সমালোচনা আমাদের কারো আছে ? মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এর ‘ভারত স্বাধীন হল’ বই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মৃত্যুর ত্রিশ বছর পর। কারণ তাঁর মতামত এবং মূল্যায়নের সাথে অনেকেই একমত হতে পারবেন না। এ কারণে তিনি মৃত্যুর ত্রিশ বছর পর বই প্রকাশ করতে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। সিরাজুল আলম খানও যদি ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হল’ বা ‘বঙ্গবন্ধুর সাথে স্মৃতিকথা’ লিখে যান হয়তো অনেক অজানা কথা আমরা জানতে পারবো।
যাদের আত্মবিশ্বাসহীনতা প্রবল তারা মনে করছেন সিরাজুল আলম খানকে হেয় না করতে পারলে ইতিহাসে জায়গা পাওয়া যাবে না। কিন্তু এসব প্রশ্নে সিরাজুল আলম খান কোন উত্তর দেয়ার প্রয়োজনই মনে করেন নি। যারা সমালোচনা করছেন তাদের বিরাট সুবিধা হলো এই ভেবে যে সিরাজুল আলম খান কারো কথার কোন জবাব দেবেন না। আমরা যারা বাগাড়ম্বরের অভিযাত্রী তারা কারো বিরোধীতা করতে গিয়ে তাকে প্রতিপক্ষ করে ফেলি এবং মাটির তলায় ঢেকে দিয়ে শান্তি অনুভব করি। সেখানে সিরাজুল আলম খান টুশব্ধটি করেননি এমনকি ব্যক্তিতভাবে কোন অভিযোগ করেননি। সিরাজুল আলম খান এর প্রজ্ঞা, মানসিক গঠন, জীবনবোধ, রাজনৈতিক দর্শন বুঝতে আমাদেরকে অনেককাল অপেক্ষা করতে হবে।
বিবেকের তাড়নায় সিরাজুল আলম খানকে তুচ্ছ করতে যতো উৎসাহী তার চেয়ে ভালো হতো জনগণের নেতাকে ‘বঙ্গবন্ধু উপধি’ প্রদান করা হলো কার পরিকল্পনা ও নিদের্শে-এ সত্য প্রকাশ করলে, আরো ভালো হতো বঙ্গবন্ধু শব্দের উদ্ভাবক সংগ্রামী রেজাউল হক চৌধুরী মোস্তাক এর নাম উচ্চারণ করলে। গত ৫০ বছরে এ গভীর সত্য একবারও উচ্চরিত হয়নি-এতেই বুঝা যায় নৈতিক উচ্চতা থেকে সত্যকে প্রকাশ করা হচ্ছে না। বরং সত্যকে মাটি চাপা দেয়া হচ্ছে। এই একটা বিষয় দিয়েই বুঝা যায় সিরাজুল আলম খান এর বিরুদ্ধে বিষোদগারকারীগণ ইতিহাসের সত্য অনুসন্ধানের জন্য নয়-ইতিহাস থেকে অন্যদের অবদান মুছে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।
মহান নেতা ফিদেল কাস্ট্রো বলেছেন ‘এই যে নক্ষত্রের আলো সেও একদিন নিভে যাবে, সূর্য একদিন আর আলো দিবে না, পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে, সুতরাং কোন কিছুতেই আমি জাহির করার কিছু দেখি না, ব্যক্তি হিসেবে আমাদের ভূমিকা খুবই সীমিত এবং আমাদের উচিৎ এই সীমাবদ্ধ ভূমিকাটুকু সঠিকভাবে পালন করা’-সিরাজুল আলম খান এই চেতনারই স্বার্থক উত্তরাধিকার।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ▼ 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment