বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই–অক্সাইডের মাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, কারণ কী
ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের নানা ধরনের কার্যকলাপের কারণে কার্বন ডাই–অক্সাইডের ক্রমাগত নির্গমন ঘটছে। দাবানলের মতো ঘটনা এই রেকর্ড বৃদ্ধির জন্য দায়ী। পৃথিবীর মহাসাগর ও ভূখণ্ডও এখন কম কার্বন–ডাই অক্সাইড শোষণ করেছে। কার্বন ডাই–অক্সাইডের বৃদ্ধি খারাপ জলবায়ুচক্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার সঙ্গে সঙ্গে মহাসাগর ও ভূখণ্ডে গ্রিনহাউস গ্যাস শোষণ ও সঞ্চয় করার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। অন্য দুটি প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডও ২০২৪ সালে নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে কার্বন ডাই–অক্সাইডের মাত্রা ৪২৩ পিপিএমে পৌঁছেছে। এই মাত্রা প্রাক্-শিল্প স্তরের ২৭৮ পিপিএমের চেয়ে ৫২ শতাংশ বেশি। বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই–অক্সাইডের পরিমাণ দ্রুত হারে বাড়ছে। এই মাত্রা ১৯৬০ দশকের বার্ষিক গড় শূন্য দশমিক ৮ পিপিএম থেকে বেড়েছে। ২০১১-২০ দশকে বছরে ২ দশমিক ৪ পিপিএম মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের তথ্যমতে, প্রতিবছর নির্গত কার্বন ডাই–অক্সাইডের প্রায় অর্ধেক বন ও অন্যান্য স্থলজ বাস্তুতন্ত্র ও মহাসাগর শোষণ করে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মহাসাগর কার্বন ডাই–অক্সাইড কম শোষণ করছে। শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়ার ধরন ও রেকর্ড উষ্ণতম বছর হওয়ার কারণে ২০২৪ সালে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই–অক্সাইডের রেকর্ড বৃদ্ধি হয়েছে বেশি। স্থলভাগ ও সমুদ্র সে বছর কার্বন ডাই–অক্সাইড কম শোষণ করেছে। এল নিনোর বছরে শুষ্ক গাছপালা ও বন্যায় কার্বন সঞ্চয় হ্রাস পেয়েছে। ২০২৪ সালে অ্যামাজন ও দক্ষিণ আফ্রিকায় খরা ও আগুনের প্রভাব ছিল বেশ।
ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের ডেপুটি সেক্রেটারি-জেনারেল কো ব্যারেট জানান, কার্বন ডাই–অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস আবদ্ধ তাপ আমাদের জলবায়ুকে টার্বো চার্জ করছে। আরও চরম আবহাওয়ার দিকে চলে যাচ্ছে পৃথিবী। নির্গমন হার হ্রাস করতে না পারলে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও মানুষের ঝুঁকি বাড়বে।
সূত্র: ডেইলি মেইল
![]() |
| বিশ্বে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ বেড়েছে। ফাইল ছবি: রয়টার্স |

No comments