বিজেপি গুজরাটের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেবে, এই ভয়েই কি ইউসুফ পাঠান তৃণমূল ছাড়লেন
একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরেও তীব্র রাজনৈতিক কোন্দল ও কাদা-ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি গুজরাটের ভদোদরা শহরের তানদালজা এলাকার। ২০১২ সালে সাবেক এই অলরাউন্ডার ক্রিকেটার ওই এলাকার ৯৭৮ বর্গমিটারের একটি সরকারি প্লট ৯৯ বছরের জন্য ইজারা (লিজ) নেওয়ার আবেদন করেন। ভদোদরা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (ভিএমসি) সে সময় কোনো প্রকাশ্য নিলাম ছাড়াই প্রতি বর্গমিটার ৫৭ হাজার ২৭০ রুপি দরে জমিটি পাঠানের নামে বরাদ্দ করার প্রস্তাব অনুমোদন করে।
প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য গুজরাট রাজ্যের নগর উন্নয়ন দপ্তরের কাছে পাঠানো হলে বাধে বিপত্তি। ২০১৪ সালের জুনে দপ্তরটি এই বরাদ্দ বাতিল করে দেয়। তাদের যুক্তি ছিল, প্রকাশ্য নিলাম বা দরপত্র ছাড়া সরকারি জমি এভাবে দেওয়া যাবে না। জমি বরাদ্দ বাতিল হলেও ইউসুফ পাঠান জায়গাটি কাঁটাতারের বেষ্টনী দিয়ে নিজের দখলেই রেখে দেন।
দীর্ঘ ১০ বছর পর ২০২৪ সালে ইউসুফ পাঠান পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। এর পরপরই বিজেপি-নিয়ন্ত্রিত ভদোদরার পৌরসভা তাঁকে সরকারি জমি অবৈধ দখলের নোটিশ পাঠায়। পাঠান এই নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান।
তবে গত বছরের আগস্টে গুজরাট হাইকোর্ট সরকারের আগের বাতিল আদেশই বহাল রাখেন। এরপর চলতি বছরের ১৫ জুন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ পাঠানকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ কোটায় জমি পাওয়ার আবেদনের জন্য চার সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে আদালত কড়া প্রশ্ন তুলেছেন, ২০১৪ সালে বরাদ্দ বাতিল হওয়ার পরও কোনো অর্থ পরিশোধ না করে তিনি কীভাবে ১২ বছর ধরে এই মূল্যবান সরকারি জমি দখলে রাখলেন।
আদালত ইঙ্গিত দিয়েছেন, অবৈধ দখলের জন্য পাঠানকে বর্তমান বাজারদরে ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ওই জমির মূল্য প্রায় ৩ গুণ বেড়ে ২০ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। পৌরসভা এখন জমিটি নিলামে তোলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জমি বিতর্ক থেকে তৃণমূলে কোন্দল
এই জমি নিয়ে বিতর্ক ভারতের লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরের একটি বড় রাজনৈতিক সংকটকে সামনে এনেছে। ইউসুফ পাঠান সম্প্রতি তৃণমূলের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন, যারা সংসদে মূল দল থেকে আলাদা হয়ে নতুন ব্লক বা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চাচ্ছে। দলবিরোধী এই অবস্থানের কারণে তৃণমূল নেতৃত্বের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি।
এই রাজনৈতিক নাটকীয়তা প্রকাশ্যে আসে ১৫ জুন। ওই সময় জম্মু-কাশ্মীরের সংসদ সদস্য আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে এক মুসলিম সংসদ সদস্য তৃণমূলের সংসদ সদস্য ইউসুফ পাঠানকে ভয় দেখিয়েছিলেন, সংসদে বিরোধী দলের আন্দোলনে যোগ দিলে গুজরাটে পাঠানের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে পারে বিজেপি সরকার। ওই সময় তৃণমূলের শীর্ষ নেত্রী মহুয়া মৈত্র পাঠানকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে বিরোধী দল তাঁর পাশে থাকবে।
এই দাবির জবাবে মহুয়া মৈত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, পাঠানকে ভয় দেখানো ওই মুসলিম এমপি ছিলেন সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। এরপরই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া ইউসুফ পাঠানের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে মহুয়া মৈত্র লেখেন, ‘খুব আফসোস হচ্ছে, আমি এমন একজন বিশ্বঘাতকের জন্য লড়াই করেছিলাম, যাঁর কোনো সাহস বা মেরুদণ্ড নেই। এর চেয়ে মাঠে ক্রিকেট ধারাভাষ্য দেওয়া তাঁর জন্য অনেক ভালো ছিল।’
এই সমালোচনার জবাবে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি পাল্টা আক্রমণ করে লিখেছেন, তৃণমূলের অন্য ১৯ জন এমপি কেন দল ছাড়লেন বা বিদ্রোহী হলেন, সেই ব্যর্থতার দায় দলটির শীর্ষ নেতারা এড়াতে পারেন না।
![]() |
| ইউসুফ পাঠান। ফাইল ছবি: এএনআই |

No comments