পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত ও আটককেন্দ্রে দুর্দশাগ্রস্ত কথিত ৪৭১ বাংলাদেশি

ভারতে এখন চরম বিপদের মুখে পড়েছেন কথিত বহু বাংলাদেশি নাগরিক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের ধরে নিয়ে বিভিন্ন ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটককেন্দ্রে রাখছে। আবার কাউকে আটকে থাকতে হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের মধ্যবর্তী অঞ্চল, অর্থাৎ ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট সীমান্তবর্তী এলাকায় কথিত অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় বাড়ছে। প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন, বসিরহাটের বিথারী-হাকিমপুর পঞ্চায়েত এলাকার হাকিমপুর চেকপোস্টে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৮২ জন কথিত বাংলাদেশি নাগরিক সে দেশে ঠেলে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বাদুড়িয়া ও স্বরূপনগর এলাকার তিনটি ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ সব মিলিয়ে ৪৭১ জন কথিত বাংলাদেশি নাগরিককে আটকে রাখা হয়েছে।

আটক এই মানুষদের সিংহভাগই অত্যন্ত সাধারণ শ্রমজীবী শ্রেণির। ভারতের সংবাদমাধ্যমের দাবি, অভাবের তাড়নায় বা ভালো কাজের লোভে তাঁরা বিভিন্ন সময়ে পশ্চিমবঙ্গের নানা সীমান্ত এলাকা দিয়ে দালালদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। অনুপ্রবেশের পর তাঁরা কেবল পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, কাজের খোঁজে ছড়িয়ে পড়েছিলেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও।

বর্তমানে বাদুড়িয়া ও স্বরূপনগরের ওই তিনটি আটককেন্দ্রে থাকা ৪৭১ জনের সঠিক নাম, পরিচয় ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার কাজ চলছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আধিকারিকেরা আটক ব্যক্তিদের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) থেকে শুরু করে যাবতীয় বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন।

বিএসএফ সূত্রকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ সঠিক ও নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কাউকেই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে না।

পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়, আটককেন্দ্রের বন্দিদশা স্বস্তির না হলেও সেখানে থাকা শিশু, নারী ও পুরুষদের মানবিক দিকটি বিবেচনা করছে প্রশাসন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তাঁদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা, নিয়মিত খাওয়াদাওয়া ও নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করা হচ্ছে, যাতে নিজ দেশে ফেরার আগে তাঁদের বড় ধরনের কোনো শারীরিক বা মানসিক অসুবিধা না হয়। পাশাপাশি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আটককেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্তরে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপি সরকার দেশের সীমান্তগুলোতে কথিত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাড়তি নজর দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কথিত অনুপ্রবেশ নিয়ে আরও বেশি শোরগোল শুরু করেছে এবং কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা বলে অনেক মানুষকে ধরপাকড় করছে, যাঁদের বেশির ভাগই মুসলিম। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের ২ হাজার ২০০ কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে।

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে বিএসএফের হাতে জমি তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজ্যের প্রশাসনিক বৈঠকেও কথিত অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে নিজের কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের কথা বারবার বলছেন উগ্রপন্থী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কলকাতার কাছে যাচাই–বাছাইয়ের জন্য নথিপত্রহীন এক কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটকে রাখা হয়। ২৮ মে ২০২৬, হাকিমপুর
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কলকাতার কাছে যাচাই–বাছাইয়ের জন্য নথিপত্রহীন এক কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটকে রাখা হয়। ২৮ মে ২০২৬, হাকিমপুর। ছবি: এএফপি

No comments

Powered by Blogger.