Thursday, July 18, 2013
গোলটেবিল বৈঠক ধর্মীয় সম্প্রীতি ও বর্তমান বাস্তবতা
গোলটেবিল বৈঠক ধর্মীয় সম্প্রীতি ও বর্তমান বাস্তবতা
গত ২৯ জুন ২০১৩, প্রথম আলোর আয়োজনে
‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও বর্তমান বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে এই ক্রোড়পত্রে ছাপা
হলো।
যাঁরা অংশ নিলেন
আনিসুজ্জামান : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সালমা খান : নারীনেত্রী ও সাবেক চেয়ারপারসন জাতিসংঘ সিডও কমিটি
পঙ্কজ ভট্টাচার্য : সহসভাপতি, সামাজিক আন্দোলন
কাজী নূরুল ইসলাম : অধ্যাপক, বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শাহরিয়ার কবির : নির্বাহী সভাপতি, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি
পি কে বড়ুয়া : মহাসচিব, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ
বেঞ্জামিন ডি কস্তা : প্রিন্সিপাল, নটর ডেম কলেজ
এ কে এম ইয়াকুব হুসাইন : প্রিন্সিপাল, মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা
আয়শা খানম : সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
নিরঞ্জন অধিকারী : অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট
কাবেরী গায়েন : সহযোগী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু : সহকারী পরিচালক, সীমা বিহার, রামু
বিমলকান্তি আচার্য : স্কুলশিক্ষক, রাজগঞ্জ, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী
আলোচনা
আব্দুল কাইয়ুম: সব ধর্মের স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। গত কয়েক মাসে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১২ সালের ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর রামুতে মন্দিরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর নোয়াখালী, বগুড়া ও জয়পুরহাটে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আবার গত ৫ মে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধের পর সমাবেশ হয়। এ সময় বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবন ও দোকানপাটে আগুন, গাড়ি ভাঙচুর প্রভৃতি ঘটনায় ঢাকায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ধর্মের নামে এভাবে হানাহানি চলতে দেওয়া যায় না। এখন সূচনা বক্তব্য দেবেন আনিসুজ্জামান।
আনিসুজ্জামান: বাংলাদেশ একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রয়াস চলছে। সংখ্যালঘু ধর্মসম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন চলছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ম, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। সাম্প্রদায়িকতা রাজনীতিতে কীভাবে প্রবেশ করেছে এবং কীভাবে তা দূর করা যায়, এ প্রসঙ্গে আলোচনা করতে হবে। এখন কেবল মুখে কথা বললে হবে না, সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ করতে হবে। যে ভেদবুদ্ধি মানুষকে সম্প্রদায় দিয়ে চিহ্নিত করছে, এর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজটি করতে হবে। কেবল ধর্মীয় সম্প্রীতি নয়, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের জন্যও নাগরিক সমাজসহ সবাইকে কাজ করতে হবে।
বিমলকান্তি আচার্য: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এ রায়ের পর আমাদের ওপর হামলা, নির্যাতন, নিপীড়ন শুরু হয়। জীবনে এমন নারকীয় ঘটনা দেখিনি। পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা। কেউ আশ্রয় পর্যন্ত দেয়নি। আশ্রয়ের জন্য বিভিন্নজনের কাছে গিয়েছি। সবাই ফিরিয়ে দিয়েছে। বলেছে, ‘তোমাদের আশ্রয় দিলে আমাদের মেরে ফেলবে।’ প্রথমে চলে মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। তারপর গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট। প্রথম হামলায় গ্রামের কয়েকটি বাড়ি রক্ষা পেয়েছিল। দ্বিতীয়বার গানপাউডার দিয়ে সেসব বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। গ্রামের শিশু, নারী, পুরুষ সবাই আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে।
ধর্ম ও ধার্মিক পৃথিবীকে শান্তি দিতে পারে। এর প্রমাণ সিলেটের শাহজালাল, শাহপরান, খুলনার খানজাহান আলী, চট্টগ্রামের বারো আউলিয়া, রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব, স্বামী বিবেকানন্দ, গৌতম বুদ্ধ, লোকনাথ ব্রহ্মচারী—তাঁরা সবাই ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করেছেন। মানুষকে শান্তি দিয়েছেন। অথচ এই ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। জ্বালাও-পোড়াও, লুটপাট করা হচ্ছে। সমাজে অশান্তি আনা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমারে রক্তপাত, আহমদিয়াদের নির্যাতন, শিয়া-সুন্নিতে সংঘর্ষ মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করছে। ধর্মের অপব্যবহার করে ধর্মীয় সম্প্রীতি ধ্বংস করছে। তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে।
প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু: গত ২৯ সেপ্টেম্বর রামুতে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছিল। তার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোথাও না কোথাও সহিংসতা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন ইস্যু সামনে আসছে। তখন এক একটা ঘটনা ঘটছে। এসব থেকে বোঝা যায়, সাম্প্রদায়িকতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আমি রামুর সন্তান। স্বাধীনতার এই চার দশকে নিজেকে সংখ্যালঘু মনে হয়নি। সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার মধ্যে আছি—সেটাও মনে হয়নি। আমাদের মন্দির থেকে ১০০ গজ দূরে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। মসজিদের ১০০ গজ দূরে কেন্দ্রীয় কালীমন্দির। এগুলোর আশপাশে আরও অনেক মসজিদ, মন্দির ও বিহার আছে। সকালবেলা মসজিদের আজানের ধ্বনিতে ঘুম ভাঙে। সন্ধ্যায় বিহার থেকে প্রার্থনা ও মন্দির থেকে উপাসনার সুর ভেসে আসে। সবার একই খেলার মাঠ, একই স্কুল। আনন্দ-বিনোদনের একই মিলনস্থল। প্রার্থনার সময় যে যার মতো প্রার্থনা করছে।
যেকোনো সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িতে অনুষ্ঠান হলে সবাই সেখানে যাই। সম্প্রীতি না থাকলে এগুলো কীভাবে করতে পেরেছি, জানি না। আমার জানতে ইচ্ছে করে, আমাদের কি সম্প্রীতি ছিল না? নাকি সম্প্রীতিতে খাদ ছিল? নাকি এখন সম্প্রীতি হ্রাস পেয়েছে? এ বিষয়গুলো আমাদের বিবেচনায় আনতে হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশের সম্প্রীতি একেবারে হালকা করে দেখার মতো কোনো বিষয় নয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সহিংসতা হলো। ৩০ তারিখে বাংলাদেশের সব মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়াল। সেদিন মনে হয়েছে, আমরা একা নই। এত সহজে সম্প্রীতি শেষ হবে না। সম্প্রীতির জয় হোক।
বেঞ্জামিন ডি কস্তা: দেশে সহিংসতা হয়ে থাকে। সেটা কখনো ধর্মের নামে হয়। কখনো অন্যভাবে হয়। কিছু মানুষ হিন্দু-বৌদ্ধ বা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করে। ধর্ম এসব কাজকে পাপ ও অন্যায় বলেছে। যারা এসব করছে, তারা ধার্মিক নয়। ১৯৯৮ সালের ২৮ এপ্রিল। লক্ষ্মীবাজারে আমাদের ওপর একটি নির্মম আক্রমণ হয়েছিল। আবার বানিয়ারচরে বোমার আঘাতে গির্জাসহ অনেক কিছু ধ্বংস হয়েছিল। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ২৬ জন নিহত হয়েছিল। সমাজে বিচিত্র প্রকৃতির অধর্ম হচ্ছে। ঘুষ-দুর্নীতির অধর্ম। গরিব মানুষ প্রায়ই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত—এটা একটা অধর্ম। টাকা দিয়ে রায় কেনা যায়, এগুলো অধর্ম। বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল আচরণ অধর্ম। সহিংসতার বর্তমান ক্ষতি তো আছেই। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হলো, যারা আক্রমণ করেছে তাদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। আক্রমণকারীদের পরিবারসহ আপনজনেরা কেউ এগুলো সমর্থন করেনি। হয়তো সারা জীবন তাদের অপরাধবোধ কাজ করবে। শিশুরা এগুলো দেখেছে। তাদের মনে প্রচণ্ড ক্ষত সৃষ্টি হবে। এটা ৫০ বছরে মুছে যাবে না। আমাদের নেতা-নেত্রীরা তর্কে জেতার জন্য বাজে কথা বলেন। এসব অন্যদের প্রভাবিত করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষার্থীরা ধর্ম শিখছে। কিন্তু ধর্মীয় মূল্যবোধটা শিখছে না। ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
কাজী নূরুল ইসলাম: ভয়াবহ সহিংসতা দেখেছি ১৯৭১ ও ১৯৬৪ সালে। এসব দেখে আমার একটি বিশ্বাস জন্মেছে। তা হলো, অজ্ঞতার জন্য মানুষ ধর্মান্ধ হচ্ছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিঘ্নিত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের ধর্মকে জানা ও উপলব্ধির চেষ্টা করেছি। আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে, এক বিরাটসংখ্যক মানুষ নিজ ধর্ম সম্পর্কে জানে না এবং ৯৯ শতাংশ মানুষ অন্য ধর্ম সম্পর্কে জানে না। সত্যিকার অর্থে মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও হিন্দু হতে পারলে বাংলাদেশে কেন, বিশ্বে কোনো সহিংসতা থাকত না। ইহুদি ধর্মের ১০টি নির্দেশের মধ্যে ষষ্ঠ নির্দেশ হচ্ছে, ‘কাউকে হত্যা কোরো না’। ইহুদিরা যদি তাদের ধর্মের এ বাণী মানত, তাহলে ফিলিস্তিনে মানুষ হত্যা করতে পারত না। হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে ‘নমস্কার’ শব্দের অর্থ জানতে চাইলাম। তাদের ৯৯ শতাংশই অর্থ বলতে পারল না। এমনকি শিক্ষকেরাও বলতে পারল না। এ শব্দটা এত অর্থবহ যে হিন্দুধর্মের মূল বাণীই এর মধ্যে আছে। শব্দটার অর্থ হচ্ছে, ‘তোমার ভেতরে যে ভগবান আছে, তার প্রতি আমি মাথা অবনত করছি।’ এ সম্বোধন যে ধর্মে আছে, তারা তো অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি আঘাত হানতে পারে না।
ইসলাম ধর্মেও বলা হয়েছে, নিরপরাধ একজন মানুষকে হত্যা করার অর্থ হলো দুনিয়ার সব মানুষকে হত্যা করা। এবং একজন অসহায় মানুষকে রক্ষা করার অর্থ হলো, দুনিয়ার গোটা মানবজাতিকে রক্ষা করা। আমরা কি সেই অর্থ অনুভব করছি? যিশুখ্রিষ্টের আদর্শ যদি খ্রিষ্টানরা পালন করত, তাহলে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আণবিক বোমা ফেলতে পারত না। বার্ট্রান্ড রাসেল কোনো ধর্মের অনুসারী ছিলেন না। তিনি একবার বলেছিলেন, যদি কোনো ধর্ম সম্পর্কে ইতিবাচক কিছু বলতে বলা হয়, আমি বলব বৌদ্ধধর্মের কথা। কারণ, এ ধর্ম স্বর্গ বা নরকের ভয়ে সৎ থাকতে বলে না, বিবেকের তাড়নায় সৎ থাকতে বলে। আজকে তাঁদের আদর্শ কোথায়? রাজনীতির সঙ্গে যখনই ধর্ম এসেছে, তখন রাজনীতি ও ধর্ম দুটোরই বারোটা বেজেছে। ধর্মকে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখতে হবে।
এ কে এম ইয়াকুব হুসাইন: সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু-বৌদ্ধদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তার নিন্দা করার ভাষা নেই। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভিত নড়ে গেছে। আমাদের ঐতিহ্যের ওপর আঘাত এসেছে। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কমবেশি অন্য ধর্মের মানুষ জানে। কিন্তু অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে মনে হয় মানুষ কম জানে। ইসলাম ধর্মে অন্য ধর্মের প্রতি সামান্যতম আঘাতের কথা নেই। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার জন্য রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ। তার পরও কেন সহিংসতা হচ্ছে? এটা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা ছোটবেলায় হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে সবকিছু করেছি। কোনো বিষয়ে কোনো পার্থক্য করতে পারিনি। ইসলামকে একটা পূর্ণ জীবনব্যবস্থা বলা হয়েছে। ইসলামে বৈষম্য করার কোনো সুযোগ নেই। ইসলামে ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা বলা হয়েছে। স্বাভাবিক সময় তো নয়ই, এমনকি যুদ্ধের সময়ও বলা হয়েছে, কোনো উপাসনালয়ে আঘাত করা যাবে না। শিশুদের আঘাত করা যাবে না। বৃদ্ধ ও ধর্মীয় নেতাদের আঘাত করা যাবে না। এখন প্রতিটি এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য কমিটি গঠন করতে হবে। ধর্মীয় বাণী প্রচার করতে হবে।
আয়শা খানম: ১৯৭১ সালে ধর্মের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। মুুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা। স্বাধীনতার এত বছর পরও একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকদের পুলিশি পাহারায় থাকতে হচ্ছে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এ কারণে সহিংসতা হচ্ছে। মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষার পেছনে আমরা কত ব্যয় করেছি? সেখানে কী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে? আজকে তার ফলাফল কী পাচ্ছি? এর একটা মূল্যায়ন হওয়া দরকার। ধর্মীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে কেবল কথা বললে হবে না। ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে বহুমাত্রিকভাবে তাদের পাশে থাকতে হবে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশে নারী আন্দোলন ও রাষ্ট্র কখনো কখনো বিরোধী অবস্থানে থাকছে। আজকে হেফাজতের নাটকীয় উত্থান কীভাবে হলো? তাদের কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে? এখন তাদের ব্যবহারের জন্য প্রতিযোগিতা হচ্ছে। ১৯৭৬-এর পর থেকে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিকভাবে যে চর্চা হয়েছে, তা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চেতনা। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর করের অর্থে জাতীয় সংসদ চলে। আর সেখানে আলোচনা হয়, কার জন্ম কোথায়। কার মা-বাবা কে। কে কোন দেশ থেকে এসেছে ইত্যাদি। বাংলাদেশে যতগুলো নীতি হয়েছে, সব কটিতে আমরা পেছনের দিকে যাচ্ছি। রাজনীতিতে নিজের কাজের ওপর আস্থা নেই। হুজুরের আশীর্বাদ নিয়ে নির্বাচনে জিততে চাই। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সবাইকে একটা স্লোগান দিতে হবে, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’।
পি কে বড়ুয়া: মাঝেমধ্যে কিছু ঘটনা আমাদের সামনে হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ঐক্যবদ্ধভাবে এখানে কাজ করতে হবে। প্রত্যেকে একটি শক্তি নিয়ে জন্মগ্রহণ করি। পারিবারিক পরিবেশ ও শিক্ষার মধ্য দিয়ে এ শক্তির বিকাশ হয়। প্রত্যেক মানুষ শাস্তি ও মৃত্যুকে ভয় করে। দণ্ডের ভয় ও মৃত্যুর ভয় নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে। তাহলে কখনো অন্যকে নির্যাতন ও হত্যা করা সম্ভব হবে না। মনে করতে হবে, মেয়েটি আমার মা, বোন। তাহলে তার ওপর অত্যাচার করা সম্ভব হবে না। আমরা যে হাত দিয়ে প্রার্থনা করি, মানুষের সেবা করি, আবার সেই হাত দিয়ে কীভাবে ছুরি মারি? তাহলে কী হাতকে কলঙ্কিত করা হয় না। এই মূল্যবোধ আনতে হবে। অঙ্গুলি মালা নামের এক কুখ্যাত ডাকাত ছিল। সে গৌতম বুদ্ধের কাছে এল। তার জীবন বদলে গেল। ব্রিটিশরা এ দেশে বিরোধ, দলাদলি, হিংসা-বিদ্বেষ ও হত্যা-নির্যাতন এনেছে। ব্রিটিশের আগে এ অঞ্চলে শান্তি ছিল। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় সমাজটাকে আবার সুন্দর করতে হবে।
সালমা খান: আমরা ধর্মপ্রাণ জাতি। উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। সবাই একটা ধর্মকে ধারণ করি। আমার পাশে কোন ধর্মের কে আছে, এসব নিয়ে কখনো সমস্যা হয়নি। দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম। তা সত্ত্বেও আমাদের একসঙ্গে বসবাসের ঐতিহ্য রয়েছে। এসব জেনে-বুঝেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। সৎ জীবনযাপনের নাম ধর্ম। পরিবার, স্কুল, কলেজ—সব জায়গায় নৈতিকতা, মানবতা, শিষ্টাচারসহ বিভিন্ন বিষয়ের চর্চা করতে হবে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ও সব ক্ষেত্রে অগণতন্ত্র প্রাধান্য পাচ্ছে। মূলত এ করণেই সহিংসতা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান প্রচণ্ড রকমের পক্ষপাতদুষ্ট হয়েছে। মানুষ প্রতিটি ক্ষেত্রে অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ কারণে একটি মহল ধর্মীয় উন্মাদনার মাধ্যমে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো, এসব কাজ বৈধতা পাচ্ছে। হেফাজতকে নিয়ে এত কিছু হলো। এখন দুই দলই বলছে, হেফাজত তাদের সঙ্গে আছে। এর অর্থ কী? নতুন দল সহিংসতা করছে। নারীর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করছে। আবার রাজনীতি তাদের ব্যবহার করছে। এখন মুক্তিযুদ্ধেরও মালিকানা নেওয়া হয়েছে। রাজাকার, আলবদর ছাড়া আর কে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি হতে পারে? ৪০ শতাংশ মানুষ কী বিপক্ষের শক্তি? ক্রমাগত এটা শুনে আসছি। কিন্তু সুশীল সমাজ থেকে এর কোনো প্রতিবাদ নেই। দেশে যখন গণতন্ত্র থাকে না, তখনই ধর্মীয় সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। রাজনৈতিক দলগুলো এ সম্প্রীতি নষ্ট করছে। যেকোনো মূল্যে এটা ফিরিয়ে আনতে হবে।
শাহরিয়ার কবির: সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই আল্লামা আহমদ শফীকে হুজুর বলছে। সবাই জানেন, একাত্তরে তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী ছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এক শর অধিক জঙ্গি সংগঠনের সৃষ্টি হয়েছে। হেফাজতের বেশির ভাগ নেতা জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কিত। জঙ্গি মৌলবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর দুই হাজারেরও বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতার ক্ষেত্র কে তৈরি করেছে? ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি আল্লামা আহমদ শফী চারটি দৈনিক পত্রিকায় খোলা চিঠি লিখেছেন। এসব চিঠিতে সাম্প্রদায়িকতার চরম উসকানি দিয়েছেন। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের আগে থেকেই সহিংসতার ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছিল। রায়ের তিন দিন আগে থেকেই বিমল বাবুর এলাকায় ওয়াজ হয়েছে এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য হিন্দুদের রাখা হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। তার পরই সহিংসতা। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর নমনীয় মনোভাব লক্ষ করা গেছে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের অর্থ হচ্ছে বিশেষ সম্প্রদায়কে গুরুত্ব দেওয়া। অন্যদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করা। ২০০১ সালের নির্যাতনে তিন লাখ লোক দেশ ছাড়ে। পরবর্তী সময়ে দুই লাখ ফেরত আসে। আইনি জটিলতার কারণে এক লাখ মানুষ ফিরতে পারছে না। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আমরা তিন হাজার নির্যাতনের ঘটনার কথা জানি। জামায়াতের কোনো নেতার লেখায় মানবতার কথা নেই। তারা ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে জিহাদ, হত্যাসহ নানা ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমি মিসর থেকে ফিরেছি, তারা বলেছে, ‘ব্রাদারহুড নামক মৌলবাদীদের ছাড় দিয়ে আমরা যে ভুল করেছি, তোমরা এ ভুল কোরো না।’
কাবেরী গায়েন: জাতীয় সংসদে কে কাকে বিয়ে করেছে, কার বংশপরিচয় কী—এসব অপ্রয়োজনীয় কথা বলা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য, কোনোভাবে কারও সঙ্গে অমুসলিমের সম্পর্ক খুঁজে বের করা এবং এ অজুহাতে সামাজিকভাবে তার রাজনৈতিক পরিচয় ধ্বংস করা। ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উত্থান ঘটে। প্রতিদিনের সামাজিক কাজকর্মে সংখ্যালঘুদের অপমান করা হয়। ধর্মে রাজনীতির ব্যবহার চরমে উঠেছে। ১৯৪৭ সালে এ দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অংশ ছিল ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ। বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থার কারণে ২০১১ সালে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। চিলিরবন্দর, সাতক্ষীরা, হাটহাজারী, পাথরঘাটা, রাঙামাটি ও রামুর পর আমরা ভেবেছিলাম, এবার বোধ হয় থামবে। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায়ের পর চার শর ওপর মন্দির ভাঙা হলো। তাহলে শেষ কোথায়? রামুতে মন্দির পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। একটি মন্দির ভাঙা মানে কেবল একটি স্থাপনা ভাঙা নয়, একটি বিশ্বাস ভাঙা। একটি বোধকে শেষ করে দেওয়া। পুনর্নির্মাণ করলে এটি ফিরে আসবে কি না, জানি না। চার সিটি নির্বাচনের পর লালমোহনে আবার মন্দির ভাঙা হয়েছে। পাকিস্তানের আদালত বলেছেন, রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার করা যাবে না। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সবাই জানি, কীভাবে ধর্মের ব্যবহার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ধর্মীয় খেলার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যেকোনো মূল্যে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ৪০০ মন্দির ভাঙা হলো। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কোথাও প্রতিরোধ করেননি।
নিরঞ্জন অধিকারী: ১৯৭৫ সালের পর সংবিধানের চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। ৩০ বছর যাবৎ টেক্সট বুক বোর্ডের গ্রন্থ রচনার সঙ্গে জড়িত। একটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সব ধর্মকে যুক্ত করে একটি ধর্মীয় বই হবে। পরে এ সিদ্ধান্ত বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে অন্য ধর্ম সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জানছে না। ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের হেফাজতে ইসলাম তাদের কাজে ব্যবহার করতে পেরেছে। তাহলে কী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে? শিক্ষার্থীরা তাদের ভালো-মন্দ বুঝতে পারছে না। কেবল গতানুগতিক শিক্ষায়ও হবে না। প্রত্যেককে মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। সাম্প্রদায়িকতার মূলে রয়েছে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়। এটা ১৯৪৭ সালের মতো সাম্প্রদায়িকতা নয়; হিন্দু দেখলেই আক্রমণ। এখন সম্পত্তি দখলের চিন্তা থেকে আক্রমণের ষড়যন্ত্র হয়। কোনো কিছু করে তাড়িয়ে দিতে পারলেই সম্পত্তি দখল করতে পারব, অথবা কম দামে কিনতে পারব। এসব অর্থনৈতিক সাম্প্রদায়িকতা। কিছু মানুষ ধর্মীয় নিরপেক্ষতার কথা বলেন। কিন্তু তাঁরা ধর্মীয়বলয় থেকে বেরোতে পারছেন না। এ ক্ষেত্রে জনগণকে বোঝাতে হবে। ধর্ম এক বিষয়। রাজনীতি অন্য বিষয়। ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা যাবে না। এখন জামায়াত ও হেফাজত ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি করছে।
পঙ্কজ ভট্টাচার্য: মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ছিল সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ অর্জন। ১৯৯০ সালে একটি পক্ষ বাবরি মসজিদ ভাঙার মিথ্যা প্রচার করে দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়। সরকারের প্রশ্রয়ে এটা হয়। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতা গ্রহণ। তখন সরকারি প্রশ্রয়ে গণধর্ষণ, লুণ্ঠন, সম্পত্তি দখল, সংখ্যালঘুদের পঙ্গু করাসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটে। ২০১২-১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের জেগে ওঠা। একশ্রেণীর গণমাধ্যমে আস্তিক-নাস্তিক নিয়ে মিথ্যা প্রচার। মানবতাবিরোধী অপরাধে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড। এসব ঘটনায় আরও একবার সহিংসতার ভয়াল তাণ্ডব আমরা লক্ষ করলাম। গত ৫ মে হেফাজতের শেষ মহড়ায় বিএনপির সমর্থন। এখান থেকে যুদ্ধ ঘোষণা। বৈদ্যুতিক করাতের ব্যবহার, গানপাউডার, আর্জেস গ্রেনেড, স্বয়ংক্রিয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, দোকানপাটসহ বিভিন্ন ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া—সবকিছু মিলিয়ে মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিল। এসব ছিল তৃণমূল পর্যায়ে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টির এক গভীর ষড়যন্ত্র। হাটহাজারীতে শত শত খুদে বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়, হিন্দুরা মসজিদ ভেঙেছে, অথচ পরে জানা গেল, জসিম নামের একজনকে ৫০ টাকা দিয়ে মসজিদের একাংশ ভাঙানো হয়। এসব থেকে উত্তরণের পথ হতে পারে—এক. রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা। দুই. সর্বস্তরে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা। তিন. রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ওপর সীমাহীন অনাস্থা-অবিশ্বাস দূর করা। চার. প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান। পাঁচ. সংখ্যালঘুদের ওপর অবিচার, বৈষম্য ও অধিকারহীনতা দূর করতে মাইনরিটি কমিশন গঠন করতে হবে। ছয়. সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন এবং একজন পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন। সাত. শিক্ষাব্যবস্থাকে অভিন্ন অসাম্প্রদায়িক ধারায় নিয়ে আসা।
আনিসুজ্জামান: আলোচনায় এসেছে, সব ধর্মে উদারতার বাণী আছে। যারা অন্য ধর্মের মানুষকে আঘাত করে, তার ধার্মিক নয়। সংঘাতের কারণ ধর্ম নয়, কিছু মানুষের দুর্বৃত্তপনা। এসব কারণে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভিত নড়ে গেছে। কয়েক দশক ধরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। কেউ কেউ বলেছেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে এসব হয়েছে। তদন্ত ব্যর্থ হয়েছে। নাগরিক প্রতিরোধও খুব দুর্বল। আমি চট্টগ্রাম গিয়েছিলাম। আমার অভিজ্ঞতা হলো, প্রশাসনিক শক্তি কম। ৩০০ লোক মিছিল নিয়ে মন্দির ভাঙছে। সেখানে থানায় পুলিশ হয়তো মাত্র আটজন। ৩০০ মানুষকে আটজন প্রতিরোধ করতে পারে না। আবার এটাও সত্য, অনেক জায়গায় প্রশাসনের উদাসীনতা আছে। কোথাও কোথাও উসকানি আছে। কেউ বলছেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ শেখাতে হবে।
কেউ বলছেন, মানবিকতা শেখাতে হবে। শেষে বলা হয়েছে, বহুধর্ম শেখাতে হবে। স্কুলে ধর্মীয় রীতিনীতির শিক্ষা দেওয়া হয়। নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া হয় না। আমাদের নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। সেখানে আমরা নানা ধর্মের নৈতিক শিক্ষার কথা বলতে পারি। প্রধানত, ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ ঘটানো ও ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে নাগরিক উদ্যোগ জোরদার করা দরকার। ২০০১ সালে অনেক মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল। এবার বিগ্রহকে আঘাত করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ভয় পাইয়ে দেওয়া, যাতে তারা দেশ ছেড়ে চলে যায়। ভোট পাওয়ার প্রলোভনে সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপস বন্ধ না করলে এ সহিংসতা চলতে থাকবে।
আব্দুল কাইয়ুম: গত কয়েক মাসে হঠাৎ করেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়টি নিয়ে দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন ছিল। আজকের আলোচনা ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। প্রশাসন, নাগরিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে এগিয়ে নেওয়া। অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও আপনারা সময় দিয়েছেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন। এ জন্য প্রথম আলোর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।
আনিসুজ্জামান : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সালমা খান : নারীনেত্রী ও সাবেক চেয়ারপারসন জাতিসংঘ সিডও কমিটি
পঙ্কজ ভট্টাচার্য : সহসভাপতি, সামাজিক আন্দোলন
কাজী নূরুল ইসলাম : অধ্যাপক, বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শাহরিয়ার কবির : নির্বাহী সভাপতি, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি
পি কে বড়ুয়া : মহাসচিব, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ
বেঞ্জামিন ডি কস্তা : প্রিন্সিপাল, নটর ডেম কলেজ
এ কে এম ইয়াকুব হুসাইন : প্রিন্সিপাল, মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা
আয়শা খানম : সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
নিরঞ্জন অধিকারী : অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট
কাবেরী গায়েন : সহযোগী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু : সহকারী পরিচালক, সীমা বিহার, রামু
বিমলকান্তি আচার্য : স্কুলশিক্ষক, রাজগঞ্জ, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী
আলোচনা
আব্দুল কাইয়ুম: সব ধর্মের স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। গত কয়েক মাসে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১২ সালের ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর রামুতে মন্দিরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর নোয়াখালী, বগুড়া ও জয়পুরহাটে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আবার গত ৫ মে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধের পর সমাবেশ হয়। এ সময় বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবন ও দোকানপাটে আগুন, গাড়ি ভাঙচুর প্রভৃতি ঘটনায় ঢাকায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ধর্মের নামে এভাবে হানাহানি চলতে দেওয়া যায় না। এখন সূচনা বক্তব্য দেবেন আনিসুজ্জামান।
আনিসুজ্জামান: বাংলাদেশ একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রয়াস চলছে। সংখ্যালঘু ধর্মসম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন চলছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ম, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। সাম্প্রদায়িকতা রাজনীতিতে কীভাবে প্রবেশ করেছে এবং কীভাবে তা দূর করা যায়, এ প্রসঙ্গে আলোচনা করতে হবে। এখন কেবল মুখে কথা বললে হবে না, সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ করতে হবে। যে ভেদবুদ্ধি মানুষকে সম্প্রদায় দিয়ে চিহ্নিত করছে, এর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজটি করতে হবে। কেবল ধর্মীয় সম্প্রীতি নয়, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের জন্যও নাগরিক সমাজসহ সবাইকে কাজ করতে হবে।
বিমলকান্তি আচার্য: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এ রায়ের পর আমাদের ওপর হামলা, নির্যাতন, নিপীড়ন শুরু হয়। জীবনে এমন নারকীয় ঘটনা দেখিনি। পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা। কেউ আশ্রয় পর্যন্ত দেয়নি। আশ্রয়ের জন্য বিভিন্নজনের কাছে গিয়েছি। সবাই ফিরিয়ে দিয়েছে। বলেছে, ‘তোমাদের আশ্রয় দিলে আমাদের মেরে ফেলবে।’ প্রথমে চলে মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। তারপর গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট। প্রথম হামলায় গ্রামের কয়েকটি বাড়ি রক্ষা পেয়েছিল। দ্বিতীয়বার গানপাউডার দিয়ে সেসব বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। গ্রামের শিশু, নারী, পুরুষ সবাই আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে।
ধর্ম ও ধার্মিক পৃথিবীকে শান্তি দিতে পারে। এর প্রমাণ সিলেটের শাহজালাল, শাহপরান, খুলনার খানজাহান আলী, চট্টগ্রামের বারো আউলিয়া, রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব, স্বামী বিবেকানন্দ, গৌতম বুদ্ধ, লোকনাথ ব্রহ্মচারী—তাঁরা সবাই ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করেছেন। মানুষকে শান্তি দিয়েছেন। অথচ এই ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। জ্বালাও-পোড়াও, লুটপাট করা হচ্ছে। সমাজে অশান্তি আনা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমারে রক্তপাত, আহমদিয়াদের নির্যাতন, শিয়া-সুন্নিতে সংঘর্ষ মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করছে। ধর্মের অপব্যবহার করে ধর্মীয় সম্প্রীতি ধ্বংস করছে। তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে।
প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু: গত ২৯ সেপ্টেম্বর রামুতে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছিল। তার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোথাও না কোথাও সহিংসতা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন ইস্যু সামনে আসছে। তখন এক একটা ঘটনা ঘটছে। এসব থেকে বোঝা যায়, সাম্প্রদায়িকতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আমি রামুর সন্তান। স্বাধীনতার এই চার দশকে নিজেকে সংখ্যালঘু মনে হয়নি। সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার মধ্যে আছি—সেটাও মনে হয়নি। আমাদের মন্দির থেকে ১০০ গজ দূরে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। মসজিদের ১০০ গজ দূরে কেন্দ্রীয় কালীমন্দির। এগুলোর আশপাশে আরও অনেক মসজিদ, মন্দির ও বিহার আছে। সকালবেলা মসজিদের আজানের ধ্বনিতে ঘুম ভাঙে। সন্ধ্যায় বিহার থেকে প্রার্থনা ও মন্দির থেকে উপাসনার সুর ভেসে আসে। সবার একই খেলার মাঠ, একই স্কুল। আনন্দ-বিনোদনের একই মিলনস্থল। প্রার্থনার সময় যে যার মতো প্রার্থনা করছে।
যেকোনো সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িতে অনুষ্ঠান হলে সবাই সেখানে যাই। সম্প্রীতি না থাকলে এগুলো কীভাবে করতে পেরেছি, জানি না। আমার জানতে ইচ্ছে করে, আমাদের কি সম্প্রীতি ছিল না? নাকি সম্প্রীতিতে খাদ ছিল? নাকি এখন সম্প্রীতি হ্রাস পেয়েছে? এ বিষয়গুলো আমাদের বিবেচনায় আনতে হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশের সম্প্রীতি একেবারে হালকা করে দেখার মতো কোনো বিষয় নয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সহিংসতা হলো। ৩০ তারিখে বাংলাদেশের সব মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়াল। সেদিন মনে হয়েছে, আমরা একা নই। এত সহজে সম্প্রীতি শেষ হবে না। সম্প্রীতির জয় হোক।
বেঞ্জামিন ডি কস্তা: দেশে সহিংসতা হয়ে থাকে। সেটা কখনো ধর্মের নামে হয়। কখনো অন্যভাবে হয়। কিছু মানুষ হিন্দু-বৌদ্ধ বা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করে। ধর্ম এসব কাজকে পাপ ও অন্যায় বলেছে। যারা এসব করছে, তারা ধার্মিক নয়। ১৯৯৮ সালের ২৮ এপ্রিল। লক্ষ্মীবাজারে আমাদের ওপর একটি নির্মম আক্রমণ হয়েছিল। আবার বানিয়ারচরে বোমার আঘাতে গির্জাসহ অনেক কিছু ধ্বংস হয়েছিল। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ২৬ জন নিহত হয়েছিল। সমাজে বিচিত্র প্রকৃতির অধর্ম হচ্ছে। ঘুষ-দুর্নীতির অধর্ম। গরিব মানুষ প্রায়ই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত—এটা একটা অধর্ম। টাকা দিয়ে রায় কেনা যায়, এগুলো অধর্ম। বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল আচরণ অধর্ম। সহিংসতার বর্তমান ক্ষতি তো আছেই। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হলো, যারা আক্রমণ করেছে তাদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। আক্রমণকারীদের পরিবারসহ আপনজনেরা কেউ এগুলো সমর্থন করেনি। হয়তো সারা জীবন তাদের অপরাধবোধ কাজ করবে। শিশুরা এগুলো দেখেছে। তাদের মনে প্রচণ্ড ক্ষত সৃষ্টি হবে। এটা ৫০ বছরে মুছে যাবে না। আমাদের নেতা-নেত্রীরা তর্কে জেতার জন্য বাজে কথা বলেন। এসব অন্যদের প্রভাবিত করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষার্থীরা ধর্ম শিখছে। কিন্তু ধর্মীয় মূল্যবোধটা শিখছে না। ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
কাজী নূরুল ইসলাম: ভয়াবহ সহিংসতা দেখেছি ১৯৭১ ও ১৯৬৪ সালে। এসব দেখে আমার একটি বিশ্বাস জন্মেছে। তা হলো, অজ্ঞতার জন্য মানুষ ধর্মান্ধ হচ্ছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিঘ্নিত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের ধর্মকে জানা ও উপলব্ধির চেষ্টা করেছি। আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে, এক বিরাটসংখ্যক মানুষ নিজ ধর্ম সম্পর্কে জানে না এবং ৯৯ শতাংশ মানুষ অন্য ধর্ম সম্পর্কে জানে না। সত্যিকার অর্থে মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও হিন্দু হতে পারলে বাংলাদেশে কেন, বিশ্বে কোনো সহিংসতা থাকত না। ইহুদি ধর্মের ১০টি নির্দেশের মধ্যে ষষ্ঠ নির্দেশ হচ্ছে, ‘কাউকে হত্যা কোরো না’। ইহুদিরা যদি তাদের ধর্মের এ বাণী মানত, তাহলে ফিলিস্তিনে মানুষ হত্যা করতে পারত না। হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে ‘নমস্কার’ শব্দের অর্থ জানতে চাইলাম। তাদের ৯৯ শতাংশই অর্থ বলতে পারল না। এমনকি শিক্ষকেরাও বলতে পারল না। এ শব্দটা এত অর্থবহ যে হিন্দুধর্মের মূল বাণীই এর মধ্যে আছে। শব্দটার অর্থ হচ্ছে, ‘তোমার ভেতরে যে ভগবান আছে, তার প্রতি আমি মাথা অবনত করছি।’ এ সম্বোধন যে ধর্মে আছে, তারা তো অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি আঘাত হানতে পারে না।
ইসলাম ধর্মেও বলা হয়েছে, নিরপরাধ একজন মানুষকে হত্যা করার অর্থ হলো দুনিয়ার সব মানুষকে হত্যা করা। এবং একজন অসহায় মানুষকে রক্ষা করার অর্থ হলো, দুনিয়ার গোটা মানবজাতিকে রক্ষা করা। আমরা কি সেই অর্থ অনুভব করছি? যিশুখ্রিষ্টের আদর্শ যদি খ্রিষ্টানরা পালন করত, তাহলে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আণবিক বোমা ফেলতে পারত না। বার্ট্রান্ড রাসেল কোনো ধর্মের অনুসারী ছিলেন না। তিনি একবার বলেছিলেন, যদি কোনো ধর্ম সম্পর্কে ইতিবাচক কিছু বলতে বলা হয়, আমি বলব বৌদ্ধধর্মের কথা। কারণ, এ ধর্ম স্বর্গ বা নরকের ভয়ে সৎ থাকতে বলে না, বিবেকের তাড়নায় সৎ থাকতে বলে। আজকে তাঁদের আদর্শ কোথায়? রাজনীতির সঙ্গে যখনই ধর্ম এসেছে, তখন রাজনীতি ও ধর্ম দুটোরই বারোটা বেজেছে। ধর্মকে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখতে হবে।
এ কে এম ইয়াকুব হুসাইন: সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু-বৌদ্ধদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তার নিন্দা করার ভাষা নেই। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভিত নড়ে গেছে। আমাদের ঐতিহ্যের ওপর আঘাত এসেছে। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কমবেশি অন্য ধর্মের মানুষ জানে। কিন্তু অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে মনে হয় মানুষ কম জানে। ইসলাম ধর্মে অন্য ধর্মের প্রতি সামান্যতম আঘাতের কথা নেই। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার জন্য রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ। তার পরও কেন সহিংসতা হচ্ছে? এটা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা ছোটবেলায় হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে সবকিছু করেছি। কোনো বিষয়ে কোনো পার্থক্য করতে পারিনি। ইসলামকে একটা পূর্ণ জীবনব্যবস্থা বলা হয়েছে। ইসলামে বৈষম্য করার কোনো সুযোগ নেই। ইসলামে ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা বলা হয়েছে। স্বাভাবিক সময় তো নয়ই, এমনকি যুদ্ধের সময়ও বলা হয়েছে, কোনো উপাসনালয়ে আঘাত করা যাবে না। শিশুদের আঘাত করা যাবে না। বৃদ্ধ ও ধর্মীয় নেতাদের আঘাত করা যাবে না। এখন প্রতিটি এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য কমিটি গঠন করতে হবে। ধর্মীয় বাণী প্রচার করতে হবে।
আয়শা খানম: ১৯৭১ সালে ধর্মের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। মুুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা। স্বাধীনতার এত বছর পরও একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকদের পুলিশি পাহারায় থাকতে হচ্ছে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এ কারণে সহিংসতা হচ্ছে। মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষার পেছনে আমরা কত ব্যয় করেছি? সেখানে কী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে? আজকে তার ফলাফল কী পাচ্ছি? এর একটা মূল্যায়ন হওয়া দরকার। ধর্মীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে কেবল কথা বললে হবে না। ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে বহুমাত্রিকভাবে তাদের পাশে থাকতে হবে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশে নারী আন্দোলন ও রাষ্ট্র কখনো কখনো বিরোধী অবস্থানে থাকছে। আজকে হেফাজতের নাটকীয় উত্থান কীভাবে হলো? তাদের কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে? এখন তাদের ব্যবহারের জন্য প্রতিযোগিতা হচ্ছে। ১৯৭৬-এর পর থেকে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিকভাবে যে চর্চা হয়েছে, তা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চেতনা। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর করের অর্থে জাতীয় সংসদ চলে। আর সেখানে আলোচনা হয়, কার জন্ম কোথায়। কার মা-বাবা কে। কে কোন দেশ থেকে এসেছে ইত্যাদি। বাংলাদেশে যতগুলো নীতি হয়েছে, সব কটিতে আমরা পেছনের দিকে যাচ্ছি। রাজনীতিতে নিজের কাজের ওপর আস্থা নেই। হুজুরের আশীর্বাদ নিয়ে নির্বাচনে জিততে চাই। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সবাইকে একটা স্লোগান দিতে হবে, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’।
পি কে বড়ুয়া: মাঝেমধ্যে কিছু ঘটনা আমাদের সামনে হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ঐক্যবদ্ধভাবে এখানে কাজ করতে হবে। প্রত্যেকে একটি শক্তি নিয়ে জন্মগ্রহণ করি। পারিবারিক পরিবেশ ও শিক্ষার মধ্য দিয়ে এ শক্তির বিকাশ হয়। প্রত্যেক মানুষ শাস্তি ও মৃত্যুকে ভয় করে। দণ্ডের ভয় ও মৃত্যুর ভয় নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে। তাহলে কখনো অন্যকে নির্যাতন ও হত্যা করা সম্ভব হবে না। মনে করতে হবে, মেয়েটি আমার মা, বোন। তাহলে তার ওপর অত্যাচার করা সম্ভব হবে না। আমরা যে হাত দিয়ে প্রার্থনা করি, মানুষের সেবা করি, আবার সেই হাত দিয়ে কীভাবে ছুরি মারি? তাহলে কী হাতকে কলঙ্কিত করা হয় না। এই মূল্যবোধ আনতে হবে। অঙ্গুলি মালা নামের এক কুখ্যাত ডাকাত ছিল। সে গৌতম বুদ্ধের কাছে এল। তার জীবন বদলে গেল। ব্রিটিশরা এ দেশে বিরোধ, দলাদলি, হিংসা-বিদ্বেষ ও হত্যা-নির্যাতন এনেছে। ব্রিটিশের আগে এ অঞ্চলে শান্তি ছিল। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় সমাজটাকে আবার সুন্দর করতে হবে।
সালমা খান: আমরা ধর্মপ্রাণ জাতি। উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। সবাই একটা ধর্মকে ধারণ করি। আমার পাশে কোন ধর্মের কে আছে, এসব নিয়ে কখনো সমস্যা হয়নি। দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম। তা সত্ত্বেও আমাদের একসঙ্গে বসবাসের ঐতিহ্য রয়েছে। এসব জেনে-বুঝেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। সৎ জীবনযাপনের নাম ধর্ম। পরিবার, স্কুল, কলেজ—সব জায়গায় নৈতিকতা, মানবতা, শিষ্টাচারসহ বিভিন্ন বিষয়ের চর্চা করতে হবে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ও সব ক্ষেত্রে অগণতন্ত্র প্রাধান্য পাচ্ছে। মূলত এ করণেই সহিংসতা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান প্রচণ্ড রকমের পক্ষপাতদুষ্ট হয়েছে। মানুষ প্রতিটি ক্ষেত্রে অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ কারণে একটি মহল ধর্মীয় উন্মাদনার মাধ্যমে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো, এসব কাজ বৈধতা পাচ্ছে। হেফাজতকে নিয়ে এত কিছু হলো। এখন দুই দলই বলছে, হেফাজত তাদের সঙ্গে আছে। এর অর্থ কী? নতুন দল সহিংসতা করছে। নারীর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করছে। আবার রাজনীতি তাদের ব্যবহার করছে। এখন মুক্তিযুদ্ধেরও মালিকানা নেওয়া হয়েছে। রাজাকার, আলবদর ছাড়া আর কে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি হতে পারে? ৪০ শতাংশ মানুষ কী বিপক্ষের শক্তি? ক্রমাগত এটা শুনে আসছি। কিন্তু সুশীল সমাজ থেকে এর কোনো প্রতিবাদ নেই। দেশে যখন গণতন্ত্র থাকে না, তখনই ধর্মীয় সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। রাজনৈতিক দলগুলো এ সম্প্রীতি নষ্ট করছে। যেকোনো মূল্যে এটা ফিরিয়ে আনতে হবে।
শাহরিয়ার কবির: সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই আল্লামা আহমদ শফীকে হুজুর বলছে। সবাই জানেন, একাত্তরে তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী ছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এক শর অধিক জঙ্গি সংগঠনের সৃষ্টি হয়েছে। হেফাজতের বেশির ভাগ নেতা জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কিত। জঙ্গি মৌলবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর দুই হাজারেরও বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতার ক্ষেত্র কে তৈরি করেছে? ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি আল্লামা আহমদ শফী চারটি দৈনিক পত্রিকায় খোলা চিঠি লিখেছেন। এসব চিঠিতে সাম্প্রদায়িকতার চরম উসকানি দিয়েছেন। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের আগে থেকেই সহিংসতার ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছিল। রায়ের তিন দিন আগে থেকেই বিমল বাবুর এলাকায় ওয়াজ হয়েছে এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য হিন্দুদের রাখা হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। তার পরই সহিংসতা। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর নমনীয় মনোভাব লক্ষ করা গেছে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের অর্থ হচ্ছে বিশেষ সম্প্রদায়কে গুরুত্ব দেওয়া। অন্যদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করা। ২০০১ সালের নির্যাতনে তিন লাখ লোক দেশ ছাড়ে। পরবর্তী সময়ে দুই লাখ ফেরত আসে। আইনি জটিলতার কারণে এক লাখ মানুষ ফিরতে পারছে না। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আমরা তিন হাজার নির্যাতনের ঘটনার কথা জানি। জামায়াতের কোনো নেতার লেখায় মানবতার কথা নেই। তারা ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে জিহাদ, হত্যাসহ নানা ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমি মিসর থেকে ফিরেছি, তারা বলেছে, ‘ব্রাদারহুড নামক মৌলবাদীদের ছাড় দিয়ে আমরা যে ভুল করেছি, তোমরা এ ভুল কোরো না।’
কাবেরী গায়েন: জাতীয় সংসদে কে কাকে বিয়ে করেছে, কার বংশপরিচয় কী—এসব অপ্রয়োজনীয় কথা বলা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য, কোনোভাবে কারও সঙ্গে অমুসলিমের সম্পর্ক খুঁজে বের করা এবং এ অজুহাতে সামাজিকভাবে তার রাজনৈতিক পরিচয় ধ্বংস করা। ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উত্থান ঘটে। প্রতিদিনের সামাজিক কাজকর্মে সংখ্যালঘুদের অপমান করা হয়। ধর্মে রাজনীতির ব্যবহার চরমে উঠেছে। ১৯৪৭ সালে এ দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অংশ ছিল ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ। বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থার কারণে ২০১১ সালে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। চিলিরবন্দর, সাতক্ষীরা, হাটহাজারী, পাথরঘাটা, রাঙামাটি ও রামুর পর আমরা ভেবেছিলাম, এবার বোধ হয় থামবে। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায়ের পর চার শর ওপর মন্দির ভাঙা হলো। তাহলে শেষ কোথায়? রামুতে মন্দির পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। একটি মন্দির ভাঙা মানে কেবল একটি স্থাপনা ভাঙা নয়, একটি বিশ্বাস ভাঙা। একটি বোধকে শেষ করে দেওয়া। পুনর্নির্মাণ করলে এটি ফিরে আসবে কি না, জানি না। চার সিটি নির্বাচনের পর লালমোহনে আবার মন্দির ভাঙা হয়েছে। পাকিস্তানের আদালত বলেছেন, রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার করা যাবে না। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সবাই জানি, কীভাবে ধর্মের ব্যবহার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ধর্মীয় খেলার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যেকোনো মূল্যে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ৪০০ মন্দির ভাঙা হলো। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কোথাও প্রতিরোধ করেননি।
নিরঞ্জন অধিকারী: ১৯৭৫ সালের পর সংবিধানের চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। ৩০ বছর যাবৎ টেক্সট বুক বোর্ডের গ্রন্থ রচনার সঙ্গে জড়িত। একটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সব ধর্মকে যুক্ত করে একটি ধর্মীয় বই হবে। পরে এ সিদ্ধান্ত বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে অন্য ধর্ম সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জানছে না। ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের হেফাজতে ইসলাম তাদের কাজে ব্যবহার করতে পেরেছে। তাহলে কী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে? শিক্ষার্থীরা তাদের ভালো-মন্দ বুঝতে পারছে না। কেবল গতানুগতিক শিক্ষায়ও হবে না। প্রত্যেককে মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। সাম্প্রদায়িকতার মূলে রয়েছে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়। এটা ১৯৪৭ সালের মতো সাম্প্রদায়িকতা নয়; হিন্দু দেখলেই আক্রমণ। এখন সম্পত্তি দখলের চিন্তা থেকে আক্রমণের ষড়যন্ত্র হয়। কোনো কিছু করে তাড়িয়ে দিতে পারলেই সম্পত্তি দখল করতে পারব, অথবা কম দামে কিনতে পারব। এসব অর্থনৈতিক সাম্প্রদায়িকতা। কিছু মানুষ ধর্মীয় নিরপেক্ষতার কথা বলেন। কিন্তু তাঁরা ধর্মীয়বলয় থেকে বেরোতে পারছেন না। এ ক্ষেত্রে জনগণকে বোঝাতে হবে। ধর্ম এক বিষয়। রাজনীতি অন্য বিষয়। ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা যাবে না। এখন জামায়াত ও হেফাজত ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি করছে।
পঙ্কজ ভট্টাচার্য: মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ছিল সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ অর্জন। ১৯৯০ সালে একটি পক্ষ বাবরি মসজিদ ভাঙার মিথ্যা প্রচার করে দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়। সরকারের প্রশ্রয়ে এটা হয়। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতা গ্রহণ। তখন সরকারি প্রশ্রয়ে গণধর্ষণ, লুণ্ঠন, সম্পত্তি দখল, সংখ্যালঘুদের পঙ্গু করাসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটে। ২০১২-১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের জেগে ওঠা। একশ্রেণীর গণমাধ্যমে আস্তিক-নাস্তিক নিয়ে মিথ্যা প্রচার। মানবতাবিরোধী অপরাধে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড। এসব ঘটনায় আরও একবার সহিংসতার ভয়াল তাণ্ডব আমরা লক্ষ করলাম। গত ৫ মে হেফাজতের শেষ মহড়ায় বিএনপির সমর্থন। এখান থেকে যুদ্ধ ঘোষণা। বৈদ্যুতিক করাতের ব্যবহার, গানপাউডার, আর্জেস গ্রেনেড, স্বয়ংক্রিয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, দোকানপাটসহ বিভিন্ন ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া—সবকিছু মিলিয়ে মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিল। এসব ছিল তৃণমূল পর্যায়ে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টির এক গভীর ষড়যন্ত্র। হাটহাজারীতে শত শত খুদে বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়, হিন্দুরা মসজিদ ভেঙেছে, অথচ পরে জানা গেল, জসিম নামের একজনকে ৫০ টাকা দিয়ে মসজিদের একাংশ ভাঙানো হয়। এসব থেকে উত্তরণের পথ হতে পারে—এক. রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা। দুই. সর্বস্তরে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা। তিন. রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ওপর সীমাহীন অনাস্থা-অবিশ্বাস দূর করা। চার. প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান। পাঁচ. সংখ্যালঘুদের ওপর অবিচার, বৈষম্য ও অধিকারহীনতা দূর করতে মাইনরিটি কমিশন গঠন করতে হবে। ছয়. সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন এবং একজন পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন। সাত. শিক্ষাব্যবস্থাকে অভিন্ন অসাম্প্রদায়িক ধারায় নিয়ে আসা।
আনিসুজ্জামান: আলোচনায় এসেছে, সব ধর্মে উদারতার বাণী আছে। যারা অন্য ধর্মের মানুষকে আঘাত করে, তার ধার্মিক নয়। সংঘাতের কারণ ধর্ম নয়, কিছু মানুষের দুর্বৃত্তপনা। এসব কারণে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভিত নড়ে গেছে। কয়েক দশক ধরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। কেউ কেউ বলেছেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে এসব হয়েছে। তদন্ত ব্যর্থ হয়েছে। নাগরিক প্রতিরোধও খুব দুর্বল। আমি চট্টগ্রাম গিয়েছিলাম। আমার অভিজ্ঞতা হলো, প্রশাসনিক শক্তি কম। ৩০০ লোক মিছিল নিয়ে মন্দির ভাঙছে। সেখানে থানায় পুলিশ হয়তো মাত্র আটজন। ৩০০ মানুষকে আটজন প্রতিরোধ করতে পারে না। আবার এটাও সত্য, অনেক জায়গায় প্রশাসনের উদাসীনতা আছে। কোথাও কোথাও উসকানি আছে। কেউ বলছেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ শেখাতে হবে।
কেউ বলছেন, মানবিকতা শেখাতে হবে। শেষে বলা হয়েছে, বহুধর্ম শেখাতে হবে। স্কুলে ধর্মীয় রীতিনীতির শিক্ষা দেওয়া হয়। নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া হয় না। আমাদের নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। সেখানে আমরা নানা ধর্মের নৈতিক শিক্ষার কথা বলতে পারি। প্রধানত, ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ ঘটানো ও ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে নাগরিক উদ্যোগ জোরদার করা দরকার। ২০০১ সালে অনেক মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল। এবার বিগ্রহকে আঘাত করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ভয় পাইয়ে দেওয়া, যাতে তারা দেশ ছেড়ে চলে যায়। ভোট পাওয়ার প্রলোভনে সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপস বন্ধ না করলে এ সহিংসতা চলতে থাকবে।
আব্দুল কাইয়ুম: গত কয়েক মাসে হঠাৎ করেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়টি নিয়ে দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন ছিল। আজকের আলোচনা ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। প্রশাসন, নাগরিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে এগিয়ে নেওয়া। অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও আপনারা সময় দিয়েছেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন। এ জন্য প্রথম আলোর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
July
(1526)
-
▼
Jul 18
(64)
- আটক উ.কোরীয় জাহাজে থাকা অস্ত্রগুলো কিউবার
- মস্কো-ওয়াশিংটন সম্পর্কই বেশি গুরুত্বপূর্ণ: পুতিন
- অধিকৃত ভূখণ্ডের সংগঠনকে সহায়তা দেবে না ইইউ
- রুয়ান্ডার পর সিরিয়ার শরণার্থী সমস্যাই সবচেয়ে ভয...
- মন্ত্রিসভা প্রত্যাখ্যান, বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন মু...
- কিংবদন্তির জন্মদিন আজ
- মালালার ওপর হামলার জন্য তালেবান নেতার দুঃখ প্রকাশ
- গোলটেবিল বৈঠক ধর্মীয় সম্প্রীতি ও বর্তমান বাস্তবতা
- শাহরি রমজান-কোরআন শরিফে রোজা ও রমজানুল মোবারক by ম...
- ভুল রায়, আপিল হবে : রাজ্জাক
- এবারও নীরব বিএনপি
- সন্তুষ্ট মহাজোট-জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের দাবি
- প্রতিক্রিয়া শহীদ পরিবারের কথা'আদিপাপ থেকে মুক্তি প...
- হরতালে হরতালে অতিষ্ঠ রোজাদার ও ব্যবসায়ীরা by রাজীব...
- তৃতীয় দিনেও বোমা, আগুন ভাঙচুর-আজও জামায়াতের হরতাল
- সাবেক কোনো মন্ত্রীর ফাঁসির রায় দেশে এই প্রথম
- বেঁচে থাকলে খুশি হতেন তাঁরা by আজাদুর রহমান চন্দন
- 'রায় প্রত্যাখ্যান আদালত অবমাননার শামিল'
- বুদ্ধিজীবী হত্যার দায় মুজাহিদের-জামায়াতের মুক্তিযু...
- সেই ঘাতক পতাকাধারীর প্রাণদণ্ড
- নবজাগ্রত প্রাণ
- সরকারি প্রশাসন মেধাশূন্য করবেন না by ড. সৈয়দ রাশিদ...
- যারা প্রতারিত হচ্ছেন তারাও কি দায়ী নন? by অরবিন্দ রয়
- বিএনপির মৌনতার কারণ by নুরুল ইসলাম বিএসসি
- আল্লামা শফীর উদ্দেশে কিছু কথা by ড. ফেরদৌস আহমদ কো...
- ফেরত গেছে দুই প্রকল্পের অর্ধেক খাদ্যশস্য
- ছয় মাসে চিকিৎসা নিলেন এক লাখ ১১ হাজার রোগী দ্বীপের...
- ঈদ ফ্যাশন এবারও লম্বা কামিজ by এমিলিয়া খানম
- ‘ইফতারের সময় আম্মার জন্য মন কেমন করে’ by আহমেদ ম...
- ভাসমান দোকানের দখলে ফুটপাত
- হলিউড টপচার্ট
- বলিউড টপচার্ট
- হলিউড আসুন ভিলেন হই
- বলিউড ভাগ মিলখা ভাগ
- গানের ন্যান্সি অন্য ন্যান্সি by মেহেদী মাসুদ
- হুবহু চেহারার উইলিয়াম ও কেট
- গাদ্দাফির 'দুর্গকে' পার্ক বানানো হবে
- ড্রোন হামলায় আল-কায়েদার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা নিহত
- নাইজেরিয়া থেকে পালালেন বশির
- পেট্রায়াসের বেতন এক ডলার!
- ভারতে সুপ্রিম কোর্টের রায়-আঠারোর আগে প্রাপ্তবয়স্ক নয়
- পিয়ংইয়ংয়ের আটক জাহাজের সামরিক সরঞ্জাম কিউবার
- নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত স্নোডেন!
- ট্রেভন হত্যা মামলার রায়-আত্মরক্ষা আইন নিয়ে চিন্তা-...
- মিসরের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ-উপপ্রধানমন্ত্রী হলেন সিসি
- খাবার খেয়ে ভারতে ২২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু-প্রশ্নবিদ্ধ...
- পারিবারিক বিরোধে মর্মাহত ম্যান্ডেলার নাতনি এনদিলেকা
- রেলের নিয়োগ-বাণিজ্য-এখনো দূর করা গেল না
- মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড-হরতাল-নৃশংসতা বন্ধ করুন
- দৈনন্দিন বিজ্ঞান-অ্যারোসল ও এয়ার ফ্রেশনার
- ভালো থাকুন-শিশুর হাঁপানিতে সতর্কতা
- সরল গরল ন্যায়বিচারের পথে প্রধানমন্ত্রীরাই যখন বাধা...
- কালের পুরাণ বিএনপির নীরবতা by সোহরাব হাসান
- রায়ের পর্যবেক্ষণ গুপ্তঘাতক আলবদর ছিল জামায়াতের ‘সশ...
- রায় প্রত্যাখ্যান করা আদালত অবমাননার শামিল: ট্রাইব্...
- আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের সাত অভিযোগ, ট্রাইব্য...
- ব্যক্তিত্ব-জেন অস্টেন
- পবিত্র কোরআনের আলো-সাহাবায়ে কেরাম উম্মতের মধ্যে পব...
- 'আবেগকে পলিটিক্যালি দেখলে চলবে না'
- গাজীপুরের নির্বাচন ও প্রবাসীদের ভাবনা by তারেক শাম...
- রমজান আসিয়াছে বাজার নাচিতেছে by মমতাজ উদদীন আহমদ
- অনলাইন থেকে-শুভ জন্মদিন ম্যান্ডেলা
- ভোটার জনগণ অপেক্ষা করছে by ড. মাহবুব হাসান
- আওয়ামী লীগকে 'মৃত্যুদণ্ড' দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচ...
-
▼
Jul 18
(64)
-
▼
July
(1526)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment