Wednesday, October 19, 2011
মাহমুদুর রহমানের মন্তব্য প্রতিবেদনঃ চুরি করলে ইজ্জত যায় না!
মাহমুদুর রহমানের মন্তব্য প্রতিবেদনঃ চুরি করলে ইজ্জত যায় না!
দিন তিনেক আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর গলায় বলেছেন, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করলেও তাতে দেশের ভাবমূর্তি নাকি মোটেও ক্ষুণ্ন হয়নি। দেশবাসীর কাছে প্রায় অচেনা দীপু মনির বর্তমান সরকারে পর-রাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রাপ্তিতে দেশের অধিকাংশ মানুষ চমকিত হলেও সুশীল (?) সমাজভুক্তরা অত্যন্ত প্রীত হয়েছিলেন। মন্ত্রী হওয়ার আগে মিজ দীপু মনির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রধানত সুশীল (?) সমাজ ও বাংলাদেশের বিদেশি দূতাবাসসমূহ ঘিরেই যে আবর্তিত হতো, এই তথ্য এ দেশের মিডিয়া জগতের মোটামুটি জানা। এহেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দুর্নীতি প্রীতিতে সুশীল (?)
গোষ্ঠী এবং তার বিদেশি সমর্থককুল কতখানি প্রীত হচ্ছেন, সেটা জানার অপেক্ষায় রইলাম। মহাজোট সরকারের দুর্নীতি প্রসঙ্গে পাঠককে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, ২০০৯ সালের ডিসেম্বরের ১৭ তারিখে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে বিনা টেন্ডারে কাজ বণ্টন সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের একটি সংবাদ আমার দেশ পত্রিকায় ছাপিয়ে ক্ষমতাসীনদের ভয়ানক ক্ষুব্ধ করে তুলেছিলাম। তখনও প্রথম বছরের সরকারের সঙ্গে জনগণের মধুচন্দ্রিমার উষ্ণতা একেবারে উবে যায়নি। ফল যা হওয়ার, তাই হয়েছিল। শীর্ষ থেকে নির্দেশ এলো, ব্যাটার বড় বাড় বেড়েছে, জন্মের মতো শায়েস্তা করতে হবে। আমি রিমান্ড ও জেলে গেলাম, আমার দেশ বন্ধ হলো, আইনি লড়াই এবং দেশ-বিদেশে সমালোচনা ও আন্দোলনের মুখে পত্রিকা আবার চালু হলো, আমিও এক সময় মুক্তি পেলাম, এসব কাহিনী পাঠক জানেন। শায়েস্তা করার অর্থ যদি কাউকে রিমান্ডে নিয়ে কিঞ্চিত্ পুলিশি থেরাপি প্রয়োগ এবং বছরখানেক জেলের ঘানি টানানো হয়ে থাকে, তাহলে সরকার তার মিশনে সফল হয়েছে। তবে নীতিনির্ধারকদের টার্গেট আমার কলম অথবা মুখ বন্ধ করা হয়ে থাকলে জনগণ দেখতেই পাচ্ছেন যে, তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। যে আদর্শ ধারণ করার অপরাধে আমি গ্রেফতার হয়েছিলাম, জেল জীবনের নিগ্রহ ও আমার মুক্তির জন্য দেশপ্রেমিক নাগরিকদের দীর্ঘ, স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন সেই আদর্শকে অধিকতর শাণিত করেছে। সন্তোষের বিষয় হলো, রাষ্ট্র পরিচালনায় দুর্নীতি উন্মোচনে ২০০৯ সালে আমার দেশ একাকী থাকলেও এখন কিন্তু অনেক পত্রিকাতেই দুর্নীতির সংবাদ ছাপা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের তিন বছরের মাথায় ক্ষমতাসীন মহলের দুর্নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের ক্রমেই সোচ্চার হয়ে ওঠা এবং দীপু মনির দুর্নীতিবিষয়ক নতুন থিওরির প্রেক্ষিতেই এই ক্ষুদ্র ভূমিকাটি লিখতে হলো।
আমাদের সদা হাস্যময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরে যে কতটা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেটি সরকারে পাঁচ বছর কাটানোর অভিজ্ঞতায় বেশ আন্দাজ করতে পারছি। বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা যখন তার মুখের ওপর দুর্নীতির দলিলপত্র তুলে ধরেছিলেন, ধারণা করছি তখন জনাব মুহিতের পক্ষেও তার সুবিখ্যাত হাসি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বিপর্যয় এবং অপমানের মুখে হাসতে পারা এক বিরাট গুণ। ঘটনাচক্রে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মুহিত এবং যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন, উভয়েই এই বিশেষ গুণটি চমত্কার রপ্ত করেছেন। যাই হোক, অর্থমন্ত্রীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রওয়ানা হওয়ার ঠিক প্রাক্কালে রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়েও জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বিরাট মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছিল উন্নয়ন সহযোগীদের মন পাওয়ার মরিয়া চেষ্টায়।
আমি সাকুল্যে ষোল মাস জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম। সাইফুর রহমানের মতো বিশাল ব্যক্তিত্বের মানুষ তখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। সেই সময়ও অর্থমন্ত্রীর বিদেশে যাওয়ার সময় হলেই আমি দুরু দুরু বক্ষে অপেক্ষা করতাম। এই বুঝি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে তেলের দাম বাড়ানোর চাপ আসে। বাধ্য হয়ে দাম বাড়ালে ভোক্তাদের গালাগাল আমাকেই সহ্য করতে হবে। আমার সেই বিপদের সময় একাধিকবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মধ্যস্থতা করতে হয়েছে। তবে বিদেশিদের কাছ থেকে কোনো রকম দুর্নীতির অভিযোগ সরাসরি শোনার অভিজ্ঞতা কখনও হয়নি। অবশ্য আমার একটা সুবিধাও ছিল। আমি কেবল জ্বালানি মন্ত্রণালয়েরই দায়িত্বে ছিলাম। কাজেই বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয় নিয়ে দুর্নীতিবিষয়ক যেসব গল্প-গাঁথা সেই সময় বাজারে চাউর ছিল, তার দায়দায়িত্ব সঙ্গত কারণেই আমাকে নিতে হয়নি।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে আমার সহকর্মীদেরও প্রশাসনে সততার যথেষ্ট সুনাম ছিল। মন্ত্রণালয়ে লোক বাছাইয়ের ব্যাপারে আমি অবশ্য ভীষণ রকম খুঁতখুঁতে ছিলাম। দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হয় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে ঠাঁই দেইনি, নয়তো তাদের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে রেখেছিলাম, যাতে দুর্নীতির সুযোগ না পায়। বর্তমান সরকারের কাছে সততার যে কোনো মূল্য নেই এবং তারা যে কেবল দলীয়করণেই বিশ্বাসী তার প্রমাণস্বরূপ আমার জ্বালানি উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালীন তিন সিনিয়র কর্মকর্তার এই আমলে পরিণতি দেখলেই চলবে। আমি তিনজন অতিশয় সত্ কর্মকর্তার নাম এখানে উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করব। তখন জ্বালানি সচিব ছিলেন মো. নাসির উদ্দিন। অত্যন্ত সত্ ও ধার্মিক এই সচিবের মধ্যে মুখ্য সচিব অথবা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব হওয়ার মতো সততা ও যোগ্যতা থাকলেও তাকে শেষ পর্যন্ত ওএসডি অবস্থায় এলপিআরে (LPR) যেতে হয়েছে। তার অপরাধ বোধহয় তিনি একেবারেই অরাজনৈতিক মানুষ। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হয়তো শেখ পরিবারের গুণকীর্তনে অন্যান্য সচিবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেননি। সেই সময় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিবদের অন্যতম ছিলেন ড. শেখ আব্দুর রশীদ। আমার পাঁচ বছরের সরকারি চাকরি জীবনে আব্দুর রশীদের চেয়ে মেধাবী, দক্ষ, সত্ এবং সম্পূর্ণভাবে অরাজনৈতিক অফিসারের দেখা আমি অন্তত পাইনি। যতদূর জানি তার ব্যাচে (বিসিএস ১৯৮১) তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। জরুরি সরকারের সময় আবদুর রশীদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন একজন দক্ষ অফিসারকে এই দুর্নীতিপরায়ণ সরকার তার প্রাপ্য পদোন্নতি না দিয়ে প্রায় তিন বছর ওএসডি করে রেখে এখন নাকি চাকরিচ্যুত করার অপকর্মেও লিপ্ত হয়েছে।
তৃতীয় যে সত্ কর্মকর্তাটিকে আমি বিশেষ পছন্দ করতাম, তার নাম মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে আমিই তাকে ওই পদে রীতিমত তদবির করে নিয়ে এনেছিলাম। সেই সময় আমাকে কানে কানে বলা হয়েছিল মোশাররফ হোসেন ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী শামস কিবরিয়ার একান্ত সচিব ছিলেন। এ কথার মর্মার্থ, সেই ‘অপরাধে’ বিএনপি আমলে তাকে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া যায় না। বলাই বাহুল্য, শুভানুধ্যায়ীদের এই পরামর্শ আমার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। সেই মো. মোশাররফ হোসেন সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় আমি যুগপত্ বিস্মিত ও আনন্দিত হয়েছি। মোশাররফ হোসেন ভূইয়ার গায়ে আওয়ামী লীগের খানিক গন্ধ থাকাতেই বোধহয় তার ভাগ্য খুলেছে। তবে আমার প্রশংসার পর বেচারা বিপদে পড়লে আমি আশ্চর্য হব না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভরসা দিয়ে জানিয়ে রাখছি, মোশাররফ হোসেন ভূইয়াকে আগেও চিনতাম না এবং সরকারি দায়িত্ব ত্যাগের পর তার সঙ্গে আমার আর কখনও সাক্ষাতও হয়নি। সাবেক জ্বালানি সচিব মো. নাসিরউদ্দিন এবং শেখ আবদুর রশিদের প্রতি সরকারের অন্যায় জিঘাংসা আমাকে ভয়ানক পীড়া দেয়। এদের সততা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন না করা আমাদের সিস্টেমেরই ব্যর্থতা।
এসব কর্মকর্তার সমন্বয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে যথাসম্ভব দুর্নীতিমুক্ত একটি প্রশাসন আমরা ষোল মাসের জন্য অন্তত গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলাম। বর্তমান সরকারের আমলে সেই একই জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির দুর্গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। দীপু মনির ভাষ্য অনুযায়ী তাতে অবশ্য সরকারের কিংবা দেশের ইজ্জতের কোনো রকম হানি হচ্ছে না। কতটা অপকর্ম করলে ইজ্জত যাবে, তা তিনিই ভালো জানেন। মানির মান তো আবার সহজে যায় না!
যোগাযোগ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির গল্পের চর্চা আন্তর্জাতিক অঙ্গন পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় সে বিষয়ে আমার লেখার প্রয়োজন ফুরিয়েছে।
আমি আজ প্রধানত বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয় নিয়েই লিখতে চাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুযোগ পেলেই যথেষ্ট গর্ব সহকারে দাবি করে থাকেন যে, গত তিন বছরে তার সরকার নাকি প্রায় ২২০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুত্ উত্পাদনে সক্ষম হয়েছে। প্রথমত, তার এই বক্তব্য অর্ধসত্য। কারণ, ২২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ নতুন রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো থেকে উত্পন্ন হলেও সরকারি খাতের পুরনো কেন্দ্র থেকে কত উত্পাদন কমে গেছে, তার কোনো পরিসংখ্যান তিনি কিন্তু দেশবাসীকে দিচ্ছেন না। আমার হিসেবে সেই কমার পরিমাণ ১০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাত্ বিদ্যুতের জন্য আমরা ক্রমেই বিপজ্জনকভাবে বেসরকারি খাত নির্ভর হয়ে পড়ছি। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত বিদ্যুত্ উত্পাদনের অছিলায় সরকারে এখন দুর্নীতির মহোত্সব চলছে। পাঠক জ্ঞাত আছেন যে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বত্সরাধিককাল বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে তারা কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি।
বিদ্যুত্ সঙ্কটে জনগণের যখন নাভিশ্বাস উঠে গেছে, সেই সুযোগে বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয় কোনো রকম দরপত্র আহ্বান না করেই বেসরকারি খাতের দলীয় লোকজনের সঙ্গে কুইক রেন্টালের নামে একের পর এক বিদ্যুত্ ক্রয় চুক্তি সম্পাদন শুরু করে। সীমাহীন বিদ্যুত্ সঙ্কটকে পুঁজি করে তারা ৬ টাকার বিদ্যুত্ ১৪ টাকা প্রতি ইউনিট দরে কুইক রেন্টাল সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কেনার চুক্তি করে। উপরন্তু, চুক্তিপত্রে বিদ্যুতের মূল্য প্রতি ইউনিট ১৪ টাকা উল্লেখ থাকলেও জ্বালানির ভর্তুকি যোগ করলে এই বিদ্যুতের মূল্য ১৮ টাকার নিচে হবে না। অর্থাত্ প্রতি ইউনিটে গড়ে প্রায় ১২ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে লুটে নেয়া হচ্ছে। ফলে জাতীয় অর্থনীতি আজ ভয়াবহ সঙ্কটে পতিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বিদ্যুতের অতিরিক্ত মূল্য প্রদান বাবদ জাতীয় বাজেট থেকে দশ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই এই অংক প্রতি বছর অন্তত বিশ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা ভাগাভাগি হবে বিদেশের বিভিন্ন শহরে। ফলে এই দেশ থেকে মুদ্রা পাচারের পরিমাণও যে আগের সব রেকর্ড ভঙ্গ করবে, তা আগাম বলে দেয়া যায়। মুদ্রা বাজারে ডলারের চাহিদা ও মূল্যবৃদ্ধি থেকেও লুটপাটের মাত্রা জনগণ হয়তো খানিকটা টের পাচ্ছেন। নীতিনির্ধারকরা ভালোভাবেই অবগত আছেন যে, কুইক রেন্টালের নামে তারা প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতির বাজার খুলে বসেছেন। এই বিশেষ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে মন্ত্রী, এমপি এবং তাদের পরিবার ও কাছের লোকজন। ভবিষ্যতে যাতে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে এই গোষ্ঠীকে কারাগারে যেতে না হয়, সেই লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে যে কুইক রেন্টাল নিয়ে আদালতে কোনো মামলা করা যাবে না। যুগে যুগে দুর্নীতিবাজরা এভাবেই পিঠ বাঁচাতে চেয়েছে। কিন্তু, দুর্নীতি করলে শেষ পর্যন্ত যে পার পাওয়া যায় না, এটাই ইতিহাসের শিক্ষা।
শেখ হাসিনা এবং জেনারেল মইন ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে তাদের দাবি অনুযায়ী বিদ্যুত্ খাত থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের জন্য বিএনপি সরকারকে বহুবার অভিযুক্ত করেছেন। আমার একাধিক লেখায় উল্লেখ করেছি যে, ওই পাঁচ বছরে বিদ্যুত্ খাতে মোট বাজেটই ছিল সাড়ে তের হাজার কোটি টাকা। ১৩ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার বাজেট থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা লুট করা যে সম্ভব নয়, এই সামান্য বিষয়টি ক্লাস ওয়ানে পাঠরত একজন শিশু বুঝলেও আওয়ামী মিডিয়ায় এসব প্রচারণা থেমে থাকেনি। চারদলীয় জোট সরকারের বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বাধ্য হয়ে জেনারেল মইনের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন, যেটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে। শেখ হাসিনা বিএনপি’র পাঁচ বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ করলেও এ দেশের ষোল কোটি নাগরিকের দুর্ভাগ্য, এখন তারই আমলে সেই বিদ্যুত্ খাত থেকেই প্রতি বছর ২০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশের সম্পদ লুটে নেয়ার বিনিময়ে বিদ্যুত্ সমস্যা সমাধানের সরকারি বাগাড়ম্বরে জনগণ আদৌ কোনো রকম আস্থা স্থাপন করছেন কিনা, সেই প্রশ্নের জবাব আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় নির্বাচনেই পেয়ে যাবে। অবশ্য, সেই নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়েও তো আবার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতদিন দাবি করতেন যে, তার মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে নাকি এখন পর্যন্ত দুর্নীতির কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক ও এডিবি পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দাবিকে অসাড় প্রমাণিত করেছে। সারা দুনিয়া এখন জেনে গেছে, বাংলাদেশের প্রশাসন এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত যে, এই দেশে উন্নয়ন খাতেও আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী সংস্থাসমূহ আর বিনিয়োগে আগ্রহী নয়। এই সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী ও তার পারিষদবর্গ আদৌ বিব্রত হয়েছেন কিনা জানি না, তবে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের নাক কাটা গেছে। তিনি অবশ্য এখনও বলে চলেছেন অভিযোগ যথেষ্ট নয়, জনগণকেই দুর্নীতির প্রমাণ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে, যোগাযোগমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে সরকারের সঙ্গে একচেটিয়া ব্যবসা নিয়ে এ বছরের ১৫ মে তারিখে আমার দেশ পত্রিকায় তথ্যপ্রমাণসহকারে লিড নিউজ ছাপা হয়েছিল, ‘বিদ্যুত্ এক মন্ত্রীর রাস্তা সেতু অন্যজনের’।
শেয়ারবাজার থেকে মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারি দলের চাঁইদের লুটপাটের কাহিনীও আমাদের পত্রিকায় বহুবার তুলে ধরেছি। কিন্তু, কেউ জেগে ঘুমালে তাকে ঘুম থেকে ওঠানোর সাধ্য কার? টিআইবি’র জরিপে এক সময় বিশ্বে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের কুখ্যাতি ছিল। পর পর চারবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০০৪ সাল থেকে অবস্থার যত্সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতির সর্বব্যাপী বিস্তার ও মন্ত্রীদের ঔদ্ধত্যে আশঙ্কা হচ্ছে, আবারও না আমাদের দুর্নীতির শীর্ষ স্থানে ফিরে যেতে হয়। শেয়ারবাজার থেকে লক্ষ কোটি টাকা লুণ্ঠিত হয়েছে। অতিরিক্ত মূল্যে বিদ্যুত্ কেনার বোঝা সাধারণ ভোক্তার কাঁধে চাপানো হয়েছে। একদিকে তাদের করের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে, এখন আবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বাড়িয়ে দ্বিতীয়বার জনগণের পকেট কাটার ব্যবস্থা হচ্ছে। বাংলাদেশে সব আমলেই দুর্নীতি করে শাসকশ্রেণী স্ফীত হচ্ছে, আর দেশের অসহায় জনগণ সেই বোঝার ভার বহন করছে।
২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ যেসব আকাশ-কুসুম প্রতিশ্রুতির পসরা নিয়ে ভোটারের সামনে হাজির হয়েছিল, তার মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুদককে প্রকৃত স্বাধীনতা দিয়ে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও স্থান পেয়েছিল। সরকারের প্রায় তিন বছর অন্তে দেখা যাচ্ছে, এমন একটি মন্ত্রণালয়ও আজ খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে দুর্নীতি ও লুটপাট হচ্ছে না। এখন আর শুধু আমার দেশ পত্রিকা নয়, আওয়ামী ও ভারতপন্থী হিসেবে চিহ্নিত পত্রিকা সমূহেও প্রায় প্রতিদিন মন্ত্রী, এমপিদের দুর্নীতির অভিযোগ সংবলিত সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। সরকার প্রধানের সদিচ্ছা থাকলে তিনি এসব সংবাদ দ্বারা উপকৃত হতে পারতেন। কিন্তু, শেখ হাসিনা উল্টো সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিচ্ছেন। তথ্যপ্রমাণসহ দুর্নীতির সুস্পষ্ট অভিযোগ করার পর বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে এই সরকার কবে মামলা দায়ের করবে, সেটি দেখার অপেক্ষাতেই এখন আছি। লন্ডনের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দি ইকনোমিস্ট’য়ের বিরুদ্ধেও কিছুদিন আগে সরকারি মহল থেকে মামলা করার হুঙ্কার শুনতে পেয়েছিলাম। দুর্নীতি প্রতিরোধের পরিবর্তে মহাজোট সরকারের মিডিয়া বিদ্বেষের কাহিনী এখন দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গত সপ্তাহেই দীপু মনিকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
আর দুদকের কথা যত কম বলা যায়, ততই ভালো। বিএনপি আমলে দুদকের নিষ্ক্রিয়তায় বিরক্ত হয়ে তত্কালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি ‘রসিকতা’ (Joke) বলে উল্লেখ করেছিলাম। আমার সেই মন্তব্যটি সম্প্রতি উইকিলিক্স-এ ফাঁসও হয়েছে। বর্তমানে দুদকের কর্তা ব্যক্তিদের লাজলজ্জাহীনভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লেজুড়বৃত্তি করতে দেখে তাদের মনুষ্যপদবাচ্য বিবেচনা করতেও আমার ঘৃণাবোধ হয়। দেশব্যাপী দুর্নীতির মহোত্সব চলছে, অথচ দুদক ব্যস্ত সরকারের হুকুম অনুযায়ী ভিন্ন মতাবলম্বীদের মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় ফাঁসানোর আয়োজনে। সরকারি কেনা-বেচায় বৃহত্ মাপের দুর্নীতি তো অকাতরে চলছেই।
পথে-ঘাটে চাঁদাবাজি কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তার একটি উদাহরণ দেই। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত ক’দিন আগে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে চট্টগ্রাম বন্দরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চাঁদাবাজি বন্ধে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একটি মালয়েশীয় কোম্পানি চট্টগ্রাম বন্দরের নাব্য রক্ষায় ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজে নিয়োজিত ছিল। সরকারি চাঁদাবাজদের দাপটে তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে বাধ্য হয়ে রাষ্ট্রদূত জামালউদ্দিন বিন সাবে নৌমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। একজন সরকারি এমপি কর্তৃক মালয়েশিয়াতেই আদম পাচারের কাহিনী আমার দেশ পত্রিকায় প্রমাণ সহকারে ছাপা হওয়ার পরও অভিযুক্ত এমপি’র বিরুদ্ধে সরকার কিংবা দুদক কোনো ব্যবস্থা আমার জানা মতে নেয়নি। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগে স্থাপিত বাংলাদেশে একটি প্রতিষ্ঠানের সরকারের কাছের লোকজনের দখল করে নেয়ার গুজবও বেশ কিছুদিন ধরে বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করে থাকেন যে, তার আমলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নাকি বৃদ্ধি পেয়েছে। দীপু মনি বলছেন, চুরি করলেও সম্মান ক্ষুণ্ন হয় না। বিশ্বে মাথা হেট করা দুর্নীতির বেশুমার গল্প পত্র-পল্লবে বিকশিত হওয়া সত্ত্বেও তারা যদি এ জাতীয় আত্মশ্লাঘায় ভোগেন, তাহলে জনগণের কপালে করাঘাত ছাড়া আর কী করার আছে?
এই শতকের গোড়ার দিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বলা হচ্ছিল, বাংলাদেশের ঋণনির্ভরতা থেকে ক্রমেই বাণিজ্য নির্ভরতায় উত্তরণ ঘটছে। গোল্ডম্যান স্যাকস বাংলাদেশকে বিশ্বে এগারটি দ্রুত অর্থনৈতিকভাবে বিকাশমান রাষ্ট্রের একটি বিবেচনা করেছিল। সেসব আশাবাদ এখন কর্পূরের মতো উবে গেছে। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি আমাদের ললাট লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে দাবি করতে পারি, কোনো মন্ত্রী নিজে যদি দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকেন এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি সরকার প্রধানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে মন্ত্রণালয় থেকে দুর্নীতি দূর করা অবশ্যই সম্ভব। তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ, সহিংসতা এবং দুর্নীতিকে উপলক্ষ্য করেই এক এগারোর কুশীলবরা ২০০৬ সালে বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদী পড়শি ভারতের আশ্রিত রাজ্যে পরিণত করার নীলনকশা প্রণয়ন করতে পেরেছে, যেটি বর্তমান সরকার ভারতের সহায়তায় ক্ষমতায় আসার প্রতিদানে ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করছে। এক এগারোর এত বড় সর্বনাশের মধ্যেও আশা করেছিলাম, রাজনীতিবিদরা অন্তত দুর্নীতির বিষয়ে কিছুটা শিক্ষা গ্রহণ করবেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের তিন বছরে প্রমাণিত হয়েছে, তারা কোনো রকম শিক্ষা গ্রহণ না করে বরঞ্চ, দুর্নীতির মাত্রাই বৃদ্ধি করেছেন। কোটি টাকা দুর্নীতির পরিবর্তে কোটি ডলারের দুর্নীতি জনগণকে সহ্য করতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার আমাদের চরমভাবে আশাহত করেছে। এবার আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বিরোধীদল বাংলাদেশে একটি সত্ ও দক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করবে কিনা, সেটা দেখার জন্য জনগণকে তাদের ক্ষমতায় আসা অবধি অপেক্ষা করতে হবে।
আমাদের সদা হাস্যময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরে যে কতটা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেটি সরকারে পাঁচ বছর কাটানোর অভিজ্ঞতায় বেশ আন্দাজ করতে পারছি। বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা যখন তার মুখের ওপর দুর্নীতির দলিলপত্র তুলে ধরেছিলেন, ধারণা করছি তখন জনাব মুহিতের পক্ষেও তার সুবিখ্যাত হাসি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বিপর্যয় এবং অপমানের মুখে হাসতে পারা এক বিরাট গুণ। ঘটনাচক্রে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মুহিত এবং যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন, উভয়েই এই বিশেষ গুণটি চমত্কার রপ্ত করেছেন। যাই হোক, অর্থমন্ত্রীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রওয়ানা হওয়ার ঠিক প্রাক্কালে রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়েও জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বিরাট মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছিল উন্নয়ন সহযোগীদের মন পাওয়ার মরিয়া চেষ্টায়।
আমি সাকুল্যে ষোল মাস জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম। সাইফুর রহমানের মতো বিশাল ব্যক্তিত্বের মানুষ তখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। সেই সময়ও অর্থমন্ত্রীর বিদেশে যাওয়ার সময় হলেই আমি দুরু দুরু বক্ষে অপেক্ষা করতাম। এই বুঝি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে তেলের দাম বাড়ানোর চাপ আসে। বাধ্য হয়ে দাম বাড়ালে ভোক্তাদের গালাগাল আমাকেই সহ্য করতে হবে। আমার সেই বিপদের সময় একাধিকবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মধ্যস্থতা করতে হয়েছে। তবে বিদেশিদের কাছ থেকে কোনো রকম দুর্নীতির অভিযোগ সরাসরি শোনার অভিজ্ঞতা কখনও হয়নি। অবশ্য আমার একটা সুবিধাও ছিল। আমি কেবল জ্বালানি মন্ত্রণালয়েরই দায়িত্বে ছিলাম। কাজেই বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয় নিয়ে দুর্নীতিবিষয়ক যেসব গল্প-গাঁথা সেই সময় বাজারে চাউর ছিল, তার দায়দায়িত্ব সঙ্গত কারণেই আমাকে নিতে হয়নি।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে আমার সহকর্মীদেরও প্রশাসনে সততার যথেষ্ট সুনাম ছিল। মন্ত্রণালয়ে লোক বাছাইয়ের ব্যাপারে আমি অবশ্য ভীষণ রকম খুঁতখুঁতে ছিলাম। দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হয় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে ঠাঁই দেইনি, নয়তো তাদের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে রেখেছিলাম, যাতে দুর্নীতির সুযোগ না পায়। বর্তমান সরকারের কাছে সততার যে কোনো মূল্য নেই এবং তারা যে কেবল দলীয়করণেই বিশ্বাসী তার প্রমাণস্বরূপ আমার জ্বালানি উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালীন তিন সিনিয়র কর্মকর্তার এই আমলে পরিণতি দেখলেই চলবে। আমি তিনজন অতিশয় সত্ কর্মকর্তার নাম এখানে উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করব। তখন জ্বালানি সচিব ছিলেন মো. নাসির উদ্দিন। অত্যন্ত সত্ ও ধার্মিক এই সচিবের মধ্যে মুখ্য সচিব অথবা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব হওয়ার মতো সততা ও যোগ্যতা থাকলেও তাকে শেষ পর্যন্ত ওএসডি অবস্থায় এলপিআরে (LPR) যেতে হয়েছে। তার অপরাধ বোধহয় তিনি একেবারেই অরাজনৈতিক মানুষ। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হয়তো শেখ পরিবারের গুণকীর্তনে অন্যান্য সচিবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেননি। সেই সময় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিবদের অন্যতম ছিলেন ড. শেখ আব্দুর রশীদ। আমার পাঁচ বছরের সরকারি চাকরি জীবনে আব্দুর রশীদের চেয়ে মেধাবী, দক্ষ, সত্ এবং সম্পূর্ণভাবে অরাজনৈতিক অফিসারের দেখা আমি অন্তত পাইনি। যতদূর জানি তার ব্যাচে (বিসিএস ১৯৮১) তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। জরুরি সরকারের সময় আবদুর রশীদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন একজন দক্ষ অফিসারকে এই দুর্নীতিপরায়ণ সরকার তার প্রাপ্য পদোন্নতি না দিয়ে প্রায় তিন বছর ওএসডি করে রেখে এখন নাকি চাকরিচ্যুত করার অপকর্মেও লিপ্ত হয়েছে।
তৃতীয় যে সত্ কর্মকর্তাটিকে আমি বিশেষ পছন্দ করতাম, তার নাম মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে আমিই তাকে ওই পদে রীতিমত তদবির করে নিয়ে এনেছিলাম। সেই সময় আমাকে কানে কানে বলা হয়েছিল মোশাররফ হোসেন ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী শামস কিবরিয়ার একান্ত সচিব ছিলেন। এ কথার মর্মার্থ, সেই ‘অপরাধে’ বিএনপি আমলে তাকে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া যায় না। বলাই বাহুল্য, শুভানুধ্যায়ীদের এই পরামর্শ আমার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। সেই মো. মোশাররফ হোসেন সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় আমি যুগপত্ বিস্মিত ও আনন্দিত হয়েছি। মোশাররফ হোসেন ভূইয়ার গায়ে আওয়ামী লীগের খানিক গন্ধ থাকাতেই বোধহয় তার ভাগ্য খুলেছে। তবে আমার প্রশংসার পর বেচারা বিপদে পড়লে আমি আশ্চর্য হব না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভরসা দিয়ে জানিয়ে রাখছি, মোশাররফ হোসেন ভূইয়াকে আগেও চিনতাম না এবং সরকারি দায়িত্ব ত্যাগের পর তার সঙ্গে আমার আর কখনও সাক্ষাতও হয়নি। সাবেক জ্বালানি সচিব মো. নাসিরউদ্দিন এবং শেখ আবদুর রশিদের প্রতি সরকারের অন্যায় জিঘাংসা আমাকে ভয়ানক পীড়া দেয়। এদের সততা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন না করা আমাদের সিস্টেমেরই ব্যর্থতা।
এসব কর্মকর্তার সমন্বয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে যথাসম্ভব দুর্নীতিমুক্ত একটি প্রশাসন আমরা ষোল মাসের জন্য অন্তত গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলাম। বর্তমান সরকারের আমলে সেই একই জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির দুর্গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। দীপু মনির ভাষ্য অনুযায়ী তাতে অবশ্য সরকারের কিংবা দেশের ইজ্জতের কোনো রকম হানি হচ্ছে না। কতটা অপকর্ম করলে ইজ্জত যাবে, তা তিনিই ভালো জানেন। মানির মান তো আবার সহজে যায় না!
যোগাযোগ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির গল্পের চর্চা আন্তর্জাতিক অঙ্গন পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় সে বিষয়ে আমার লেখার প্রয়োজন ফুরিয়েছে।
আমি আজ প্রধানত বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয় নিয়েই লিখতে চাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুযোগ পেলেই যথেষ্ট গর্ব সহকারে দাবি করে থাকেন যে, গত তিন বছরে তার সরকার নাকি প্রায় ২২০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুত্ উত্পাদনে সক্ষম হয়েছে। প্রথমত, তার এই বক্তব্য অর্ধসত্য। কারণ, ২২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ নতুন রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো থেকে উত্পন্ন হলেও সরকারি খাতের পুরনো কেন্দ্র থেকে কত উত্পাদন কমে গেছে, তার কোনো পরিসংখ্যান তিনি কিন্তু দেশবাসীকে দিচ্ছেন না। আমার হিসেবে সেই কমার পরিমাণ ১০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাত্ বিদ্যুতের জন্য আমরা ক্রমেই বিপজ্জনকভাবে বেসরকারি খাত নির্ভর হয়ে পড়ছি। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত বিদ্যুত্ উত্পাদনের অছিলায় সরকারে এখন দুর্নীতির মহোত্সব চলছে। পাঠক জ্ঞাত আছেন যে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বত্সরাধিককাল বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে তারা কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি।
বিদ্যুত্ সঙ্কটে জনগণের যখন নাভিশ্বাস উঠে গেছে, সেই সুযোগে বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয় কোনো রকম দরপত্র আহ্বান না করেই বেসরকারি খাতের দলীয় লোকজনের সঙ্গে কুইক রেন্টালের নামে একের পর এক বিদ্যুত্ ক্রয় চুক্তি সম্পাদন শুরু করে। সীমাহীন বিদ্যুত্ সঙ্কটকে পুঁজি করে তারা ৬ টাকার বিদ্যুত্ ১৪ টাকা প্রতি ইউনিট দরে কুইক রেন্টাল সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কেনার চুক্তি করে। উপরন্তু, চুক্তিপত্রে বিদ্যুতের মূল্য প্রতি ইউনিট ১৪ টাকা উল্লেখ থাকলেও জ্বালানির ভর্তুকি যোগ করলে এই বিদ্যুতের মূল্য ১৮ টাকার নিচে হবে না। অর্থাত্ প্রতি ইউনিটে গড়ে প্রায় ১২ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে লুটে নেয়া হচ্ছে। ফলে জাতীয় অর্থনীতি আজ ভয়াবহ সঙ্কটে পতিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বিদ্যুতের অতিরিক্ত মূল্য প্রদান বাবদ জাতীয় বাজেট থেকে দশ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই এই অংক প্রতি বছর অন্তত বিশ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা ভাগাভাগি হবে বিদেশের বিভিন্ন শহরে। ফলে এই দেশ থেকে মুদ্রা পাচারের পরিমাণও যে আগের সব রেকর্ড ভঙ্গ করবে, তা আগাম বলে দেয়া যায়। মুদ্রা বাজারে ডলারের চাহিদা ও মূল্যবৃদ্ধি থেকেও লুটপাটের মাত্রা জনগণ হয়তো খানিকটা টের পাচ্ছেন। নীতিনির্ধারকরা ভালোভাবেই অবগত আছেন যে, কুইক রেন্টালের নামে তারা প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতির বাজার খুলে বসেছেন। এই বিশেষ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে মন্ত্রী, এমপি এবং তাদের পরিবার ও কাছের লোকজন। ভবিষ্যতে যাতে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে এই গোষ্ঠীকে কারাগারে যেতে না হয়, সেই লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে যে কুইক রেন্টাল নিয়ে আদালতে কোনো মামলা করা যাবে না। যুগে যুগে দুর্নীতিবাজরা এভাবেই পিঠ বাঁচাতে চেয়েছে। কিন্তু, দুর্নীতি করলে শেষ পর্যন্ত যে পার পাওয়া যায় না, এটাই ইতিহাসের শিক্ষা।
শেখ হাসিনা এবং জেনারেল মইন ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে তাদের দাবি অনুযায়ী বিদ্যুত্ খাত থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের জন্য বিএনপি সরকারকে বহুবার অভিযুক্ত করেছেন। আমার একাধিক লেখায় উল্লেখ করেছি যে, ওই পাঁচ বছরে বিদ্যুত্ খাতে মোট বাজেটই ছিল সাড়ে তের হাজার কোটি টাকা। ১৩ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার বাজেট থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা লুট করা যে সম্ভব নয়, এই সামান্য বিষয়টি ক্লাস ওয়ানে পাঠরত একজন শিশু বুঝলেও আওয়ামী মিডিয়ায় এসব প্রচারণা থেমে থাকেনি। চারদলীয় জোট সরকারের বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বাধ্য হয়ে জেনারেল মইনের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন, যেটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে। শেখ হাসিনা বিএনপি’র পাঁচ বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ করলেও এ দেশের ষোল কোটি নাগরিকের দুর্ভাগ্য, এখন তারই আমলে সেই বিদ্যুত্ খাত থেকেই প্রতি বছর ২০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশের সম্পদ লুটে নেয়ার বিনিময়ে বিদ্যুত্ সমস্যা সমাধানের সরকারি বাগাড়ম্বরে জনগণ আদৌ কোনো রকম আস্থা স্থাপন করছেন কিনা, সেই প্রশ্নের জবাব আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় নির্বাচনেই পেয়ে যাবে। অবশ্য, সেই নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়েও তো আবার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতদিন দাবি করতেন যে, তার মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে নাকি এখন পর্যন্ত দুর্নীতির কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক ও এডিবি পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দাবিকে অসাড় প্রমাণিত করেছে। সারা দুনিয়া এখন জেনে গেছে, বাংলাদেশের প্রশাসন এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত যে, এই দেশে উন্নয়ন খাতেও আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী সংস্থাসমূহ আর বিনিয়োগে আগ্রহী নয়। এই সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী ও তার পারিষদবর্গ আদৌ বিব্রত হয়েছেন কিনা জানি না, তবে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের নাক কাটা গেছে। তিনি অবশ্য এখনও বলে চলেছেন অভিযোগ যথেষ্ট নয়, জনগণকেই দুর্নীতির প্রমাণ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে, যোগাযোগমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে সরকারের সঙ্গে একচেটিয়া ব্যবসা নিয়ে এ বছরের ১৫ মে তারিখে আমার দেশ পত্রিকায় তথ্যপ্রমাণসহকারে লিড নিউজ ছাপা হয়েছিল, ‘বিদ্যুত্ এক মন্ত্রীর রাস্তা সেতু অন্যজনের’।
শেয়ারবাজার থেকে মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারি দলের চাঁইদের লুটপাটের কাহিনীও আমাদের পত্রিকায় বহুবার তুলে ধরেছি। কিন্তু, কেউ জেগে ঘুমালে তাকে ঘুম থেকে ওঠানোর সাধ্য কার? টিআইবি’র জরিপে এক সময় বিশ্বে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের কুখ্যাতি ছিল। পর পর চারবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০০৪ সাল থেকে অবস্থার যত্সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতির সর্বব্যাপী বিস্তার ও মন্ত্রীদের ঔদ্ধত্যে আশঙ্কা হচ্ছে, আবারও না আমাদের দুর্নীতির শীর্ষ স্থানে ফিরে যেতে হয়। শেয়ারবাজার থেকে লক্ষ কোটি টাকা লুণ্ঠিত হয়েছে। অতিরিক্ত মূল্যে বিদ্যুত্ কেনার বোঝা সাধারণ ভোক্তার কাঁধে চাপানো হয়েছে। একদিকে তাদের করের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে, এখন আবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বাড়িয়ে দ্বিতীয়বার জনগণের পকেট কাটার ব্যবস্থা হচ্ছে। বাংলাদেশে সব আমলেই দুর্নীতি করে শাসকশ্রেণী স্ফীত হচ্ছে, আর দেশের অসহায় জনগণ সেই বোঝার ভার বহন করছে।
২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ যেসব আকাশ-কুসুম প্রতিশ্রুতির পসরা নিয়ে ভোটারের সামনে হাজির হয়েছিল, তার মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুদককে প্রকৃত স্বাধীনতা দিয়ে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও স্থান পেয়েছিল। সরকারের প্রায় তিন বছর অন্তে দেখা যাচ্ছে, এমন একটি মন্ত্রণালয়ও আজ খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে দুর্নীতি ও লুটপাট হচ্ছে না। এখন আর শুধু আমার দেশ পত্রিকা নয়, আওয়ামী ও ভারতপন্থী হিসেবে চিহ্নিত পত্রিকা সমূহেও প্রায় প্রতিদিন মন্ত্রী, এমপিদের দুর্নীতির অভিযোগ সংবলিত সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। সরকার প্রধানের সদিচ্ছা থাকলে তিনি এসব সংবাদ দ্বারা উপকৃত হতে পারতেন। কিন্তু, শেখ হাসিনা উল্টো সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিচ্ছেন। তথ্যপ্রমাণসহ দুর্নীতির সুস্পষ্ট অভিযোগ করার পর বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে এই সরকার কবে মামলা দায়ের করবে, সেটি দেখার অপেক্ষাতেই এখন আছি। লন্ডনের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দি ইকনোমিস্ট’য়ের বিরুদ্ধেও কিছুদিন আগে সরকারি মহল থেকে মামলা করার হুঙ্কার শুনতে পেয়েছিলাম। দুর্নীতি প্রতিরোধের পরিবর্তে মহাজোট সরকারের মিডিয়া বিদ্বেষের কাহিনী এখন দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গত সপ্তাহেই দীপু মনিকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
আর দুদকের কথা যত কম বলা যায়, ততই ভালো। বিএনপি আমলে দুদকের নিষ্ক্রিয়তায় বিরক্ত হয়ে তত্কালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি ‘রসিকতা’ (Joke) বলে উল্লেখ করেছিলাম। আমার সেই মন্তব্যটি সম্প্রতি উইকিলিক্স-এ ফাঁসও হয়েছে। বর্তমানে দুদকের কর্তা ব্যক্তিদের লাজলজ্জাহীনভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লেজুড়বৃত্তি করতে দেখে তাদের মনুষ্যপদবাচ্য বিবেচনা করতেও আমার ঘৃণাবোধ হয়। দেশব্যাপী দুর্নীতির মহোত্সব চলছে, অথচ দুদক ব্যস্ত সরকারের হুকুম অনুযায়ী ভিন্ন মতাবলম্বীদের মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় ফাঁসানোর আয়োজনে। সরকারি কেনা-বেচায় বৃহত্ মাপের দুর্নীতি তো অকাতরে চলছেই।
পথে-ঘাটে চাঁদাবাজি কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তার একটি উদাহরণ দেই। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত ক’দিন আগে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে চট্টগ্রাম বন্দরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চাঁদাবাজি বন্ধে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একটি মালয়েশীয় কোম্পানি চট্টগ্রাম বন্দরের নাব্য রক্ষায় ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজে নিয়োজিত ছিল। সরকারি চাঁদাবাজদের দাপটে তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে বাধ্য হয়ে রাষ্ট্রদূত জামালউদ্দিন বিন সাবে নৌমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। একজন সরকারি এমপি কর্তৃক মালয়েশিয়াতেই আদম পাচারের কাহিনী আমার দেশ পত্রিকায় প্রমাণ সহকারে ছাপা হওয়ার পরও অভিযুক্ত এমপি’র বিরুদ্ধে সরকার কিংবা দুদক কোনো ব্যবস্থা আমার জানা মতে নেয়নি। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগে স্থাপিত বাংলাদেশে একটি প্রতিষ্ঠানের সরকারের কাছের লোকজনের দখল করে নেয়ার গুজবও বেশ কিছুদিন ধরে বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করে থাকেন যে, তার আমলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নাকি বৃদ্ধি পেয়েছে। দীপু মনি বলছেন, চুরি করলেও সম্মান ক্ষুণ্ন হয় না। বিশ্বে মাথা হেট করা দুর্নীতির বেশুমার গল্প পত্র-পল্লবে বিকশিত হওয়া সত্ত্বেও তারা যদি এ জাতীয় আত্মশ্লাঘায় ভোগেন, তাহলে জনগণের কপালে করাঘাত ছাড়া আর কী করার আছে?
এই শতকের গোড়ার দিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বলা হচ্ছিল, বাংলাদেশের ঋণনির্ভরতা থেকে ক্রমেই বাণিজ্য নির্ভরতায় উত্তরণ ঘটছে। গোল্ডম্যান স্যাকস বাংলাদেশকে বিশ্বে এগারটি দ্রুত অর্থনৈতিকভাবে বিকাশমান রাষ্ট্রের একটি বিবেচনা করেছিল। সেসব আশাবাদ এখন কর্পূরের মতো উবে গেছে। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি আমাদের ললাট লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে দাবি করতে পারি, কোনো মন্ত্রী নিজে যদি দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকেন এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি সরকার প্রধানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে মন্ত্রণালয় থেকে দুর্নীতি দূর করা অবশ্যই সম্ভব। তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ, সহিংসতা এবং দুর্নীতিকে উপলক্ষ্য করেই এক এগারোর কুশীলবরা ২০০৬ সালে বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদী পড়শি ভারতের আশ্রিত রাজ্যে পরিণত করার নীলনকশা প্রণয়ন করতে পেরেছে, যেটি বর্তমান সরকার ভারতের সহায়তায় ক্ষমতায় আসার প্রতিদানে ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করছে। এক এগারোর এত বড় সর্বনাশের মধ্যেও আশা করেছিলাম, রাজনীতিবিদরা অন্তত দুর্নীতির বিষয়ে কিছুটা শিক্ষা গ্রহণ করবেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের তিন বছরে প্রমাণিত হয়েছে, তারা কোনো রকম শিক্ষা গ্রহণ না করে বরঞ্চ, দুর্নীতির মাত্রাই বৃদ্ধি করেছেন। কোটি টাকা দুর্নীতির পরিবর্তে কোটি ডলারের দুর্নীতি জনগণকে সহ্য করতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার আমাদের চরমভাবে আশাহত করেছে। এবার আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বিরোধীদল বাংলাদেশে একটি সত্ ও দক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করবে কিনা, সেটা দেখার জন্য জনগণকে তাদের ক্ষমতায় আসা অবধি অপেক্ষা করতে হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1428)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
-
▼
2011
(13932)
-
▼
October
(2362)
-
▼
Oct 19
(20)
- বিলাওয়াল জারদারিকে অপহরণের ষড়যন্ত্র হয়েছিল
- নভেম্বর থেকে দেশি চিনিকলে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হচ...
- পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের মাথাব্যথা রয়েছে: সালমান
- এক দিন পর আবার ব্যাপক দরপতন
- পুঁজিবাজারে চাই সমন্বিত পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের অনশন
- আত্মহত্যা করেননি ভ্যান গঘ
- ফুকুশিমায় তেজস্ক্রিয়া নির্গমনের পরিমাণ কমেছে: টেপকো
- হেঁটে বিশ্বভ্রমণ শেষ করলেন জ্যঁ বেলিভিউ
- সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রার্থী নির্বাচিত হলেন ফ্রাঁস...
- সবচেয়ে বয়স্ক ম্যারাথন দৌড়বিদ ফৌজা সিং
- প্রতিকূলতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরণ ঘটবেই
- মধ্য আমেরিকায় প্রবল বর্ষণ ও ভূমিধসে নিহত ৮০
- যন্ত্রণাকাতর শিশুটির দিকে কেউ তাকায়নি
- এনটিসি বাহিনীর দখলে বনি ওয়ালিদ
- নিউজিল্যান্ডের জয়
- মধুর সমস্যায় রিয়াল
- প্রথম দিনটি পাকিস্তানের
- মাহমুদুর রহমানের মন্তব্য প্রতিবেদনঃ চুরি করলে ইজ্জ...
- গল্প- শত সহস্র ছুরি by আবু হেনা মোস্তাফা এনাম
- রবীন্দ্রনাথের ছবির নিলাম by মাহবুব আলম
-
▼
Oct 19
(20)
-
▼
October
(2362)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment