Thursday, December 24, 2009
নির্বাচনী ইশতেহার-বহির্ভূত এজেন্ডা by সৈয়দ আবুল মকসুদ
নির্বাচনী ইশতেহার-বহির্ভূত এজেন্ডা by সৈয়দ আবুল মকসুদ
কোনো কোনো অতি ছোট ঘটনা বা অতি অনুল্লেখযোগ্য দৃশ্য কোনো দিন ভোলা যায় না। তেমন একটি ঘটনার কথা আমার আজীবন মনে থাকবে। আষাঢ়-শ্রাবণ মাস হবে। অর্থাত্ বঙ্গীয় বর্ষাকাল। ট্যাক্সির আশায় কলকাতার আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোড দিয়ে হাঁটছিলাম। আকাশ ভেঙে ঝমঝম করে বৃষ্টি এল। দৌড়ে গিয়ে উঠলাম, এক বহুকালের পরিত্যক্ত বাড়ির বারান্দায়। সে দালানের কয়েকটি কামরার ছাদ ধসে পড়েছে। কোনো কক্ষেই দরোজা-জানালার নাম-নিশানা নেই। নানা রকম গাছপালা-গুল্ম গজিয়েছে দেয়ালে-মেঝেতে। এক শ-দেড় শ বছর আগে এ বাড়িতে নিশ্চয়ই কত মানুষ বাস করত। বহুকাল যাবত্ মানুষ নয়, সাপ-ব্যাঙ-বেজিদের বাসস্থানে পরিণত হয়েছে বাড়িটি।
কোনো রকমে বারান্দার এক কোণে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির ছাট থেকে বাঁচার চেষ্টা করছি। হঠাত্ গলা কাশার আওয়াজ পেলাম। একটি ঘরের ভেতরে দৃষ্টি গেল। দেখি, পোড়োবাড়ির ভেতরের এক ঘরে বসে এক ক্ষৌরকার এক লোকের মাথা কামাচ্ছে।
প্রবল জোরে বর্ষণ শুরু হলো। অপরাহ্নেই যেন সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়ে এল। একপর্যায়ে দেখলাম, মাথা কামানো শেষে নাপিত পুরো শরীর কামানো শুরু করেছে। নাপিতের ক্ষুর চলতে থাকল অতি নিপুণ হাতে। আমার চোখ ততক্ষণে কপালে উঠে গেছে।
নরসুন্দরের এই বিশেষ কাস্টমারটির হয়তো পরিশুদ্ধ হয়ে পাপমুক্তির প্রাথমিক প্রক্রিয়া ছিল ওটি। মনের মধ্যে যত আবর্জনাই থাক, শরীরের সবকিছু সাফ করে অতীতের পাপ ধুয়েমুছে নদীতে গিয়ে ডুব দিয়ে পরিশুদ্ধ হওয়ার আকুলতা কারও থাকলে দোষ কি?
অনেক দিন পরে ওই ঘটনাটি আমার মনে নতুন তাত্পর্য নিয়ে দেখা দেয়; বিশেষ করে ২৮ পৌষ যেদিন আমাদের দেশে এক গায়েবি সরকারের আবির্ভাব ঘটে। তাঁদের কর্মকাণ্ড দেখে আমার ওই পোড়োবাড়ির সেদিনের দৃশ্য বারবার মনে পড়তে থাকে। তাঁরা জাতির জীবনের যাবতীয় দোষ ও আবর্জনা এক সিটিংয়ে পরিষ্কার করতে চাইলেন। দুর্নীতির লেশমাত্র থাকবে না দেশে, তা নির্মূল ও দমন করতে কমিশন গঠিত হলো। যাঁরা অতীতে দুর্নীতি করেছেন—রাজনৈতিক নেতা, আমলা, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি—তাঁদের পিঠ মোড়া করে বেঁধে জালি দেওয়া প্রিজনভ্যানে নিয়ে তুললেন। দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত রেহাই পেলেন না। ফুটপাতকে ফিটফাট করতে হকারদের লাঠিপেটা করে তাড়ালেন। আইনবহির্ভূত বাড়িঘর স্থাপনাগুলোয় বুলডোজার দিয়ে মারলেন ঠেলা। ধমাধম বাড়িঘর দালানকোঠা ধসে পড়তে লাগল। আকাশচুম্বী র্যাংগ্স ভবনকেও ছাড় দিলেন না। নির্মল আনন্দে সেখানে পড়ল হাতুড়ির বাড়ি। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের আড়াই শ গজের মধ্যে আধা ডজন শ্রমিকের লাশ ঝুলে রইল এক সপ্তাহ। হাজার হাজার বীর বাঙালি সেই দৃশ্য উপভোগ করল রাস্তায় দাঁড়িয়ে। বাঙালি নারীর রাঁধুনি হিসেবে সুনাম আছে, এক কাঁচকলা দিয়ে দশ ব্যঞ্জন তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেনা নেতৃত্বাধীন সেই গায়েবি সরকার দেখিয়ে দিল, এক গোলআলু দিয়ে কত পদ রান্না করা সম্ভব। খাওয়ার টেবিলে আলুর আইটেমগুলো দেখে আমাদের মিডিয়া ও সমাজপতিরা বললেন, সোবহান আল্লাহ। একাত্তরের ডিসেম্বরে যে চালের দাম ছিল ৩৮ টাকা মণ, সরকার সেই চাল খাওয়াল ৪২ টাকা কেজি। দক্ষ কুমার যেভাবে মাটি ছেনে পুতুল বানায়, সেইভাবে ওই সরকার পুরোনো নেতৃত্ব বাতিল করে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে চাইল। রাশি রাশি টাকা ঢেলে গড়ল নতুন নতুন দল। একপর্যায়ে তাদের হাতেই ক্ষমতা হস্তান্তরের ইচ্ছা ছিল, অথবা তাদের সঙ্গে ক্ষমতা শেয়ার করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাদ সাধল জনগণ। আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষকেরা পিছু হটলেন। হঠাত্ তাঁদের মধ্যে গণতন্ত্রের চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটল। বললেন, নির্বাচন দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ জোটের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে কোনো রকমে কেঁদে বাঁচো।
গণতান্ত্রিক সরকার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে এ দেশের মানুষের কখনো কখনো, তবে গায়েবি সরকার আমরা দেখেছি বহুবার: ১৯৫৮-তে, ’৭৫-এ, ’৮২-তে এবং ২০০৭-এ। গায়েবি সরকার রাতারাতি অনেক কিছু সাফসুতরো করতে পারে, গণতান্ত্রিক সরকার তা পারে না। কিন্তু বারবার লক্ষ করেছি, আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক সরকারের গুরু যেন গায়েবি সরকারগুলো। গায়েবি সরকারের স্বৈরাচারী ফিলোসফিকেই আদর্শ ও দর্শন হিসেবে গ্রহণ করে নির্বাচিত সরকারগুলো। আর একটি জিনিস লক্ষ করেছি যে গণতান্ত্রিক সরকারের নাভিশ্বাস না ওঠা পর্যন্ত তাদের হুঁশ হয় না। বাহাত্তর-পঁচাত্তরের সরকারের হুঁশ ছিল না, গায়ের জোরে তারা কাজ করা পছন্দ করত এবং তার মূল্য দিতে হয়েছে। ওই সরকারের কুমন্ত্রণাদাতা ও মোসাহেবদের গায়ে আঁচড়টিও পড়েনি।
১৯৯১-৯৬ সরকারের হুঁশ না থাকায় খেসারত দিতে হয়েছিল। ১৯৯৬-২০০১-এর সরকার প্রথম বছর দুই-তিন ভালোই ছিল, তারপর বেহুঁশ হয়ে পড়ে। মূল্য তাকেও দিতে হয়। ২০০১-২০০৬-এর সরকার অতিরিক্ত আসন পেয়ে ক্ষমতাসীন হওয়ায় খুশিতে বেহুঁশের ঘোরে প্রথম দিন থেকেই গাইতে থাকে: প্রথম বাংলাদেশ আমাদের—শেষ করা পর্যন্তও বাংলাদেশ আমাদেরই। তাদের জুনিয়ার পার্টনারের কাছে গান-বাজনা হারাম, বাংলা গান আরও হারাম। তবু তাঁরা সুর না করে শুধু আওড়ান: বাংলাস্থান, পাকিস্তান, আরব জাঁহা হামারা, সারে জাঁহা আচ্ছা, বাংলাস্থান আচ্ছা। স্বাধীনতা আমরা এনেছি—ক্ষমতায় চিরকাল আমাদের থাকতে হবে। বিএনপি-জামায়াতের বাড়াবাড়িতে বিশ্বায়নের যুগে বিদেশি বন্ধুরাই যে মুখ ভার করল তা-ই নয়, দেশের মানুষও বেঁকে বসল। পরিণাম ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনী ম্যান্ডেট।
মানবজাতির রাজনৈতিক শব্দভান্ডারে কিছুকাল যাবত্ মার্কিনদের উদ্ভাবিত একটি নতুন শব্দ ‘রোডম্যাপ’ যোগ হয়েছে। দুনিয়াটা কোন দশকে কীভাবে চলবে, তার একটা মহা রোডম্যাপ করাই আছে। কোন দেশ কোন সরকারের নেতৃত্বে, কীভাবে চলবে, তার জন্য আছে আলাদা রোডম্যাপ। এবং সেই রোডম্যাপ মোতাবেক না চললে বা সরকার না চালাতে পারলে, কোথাকার কোন সরকারকে কীভাবে টোকা দিয়ে সরিয়ে দিতে হবে, তারও রোডম্যাপ আছে। তারপর কোন গোত্রকে কী প্রক্রিয়ায় রোডম্যাপ বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচনের মাধ্যমে হোক বা গায়েবি প্রক্রিয়ায় হোক, ক্ষমতায় বসাতে হবে, তারও রোডম্যাপ করা আছে। সুতরাং খাতির জমায় বসে থাকার কোনো কারণ নেই। সবই ওপরওয়ালাদের ইচ্ছা। অপেক্ষাকৃত প্রগতিশীল বেনজিরকে সরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানে এক রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশে নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে অন্য রকম রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হচ্ছে। নেপালে সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল আন্তর্জাতিক রোডম্যাপ মোতাবেক হয়নি, জনগণ মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টিকে বেশি ভোট দিয়ে ফেলে। বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ড প্রধানমন্ত্রী হন। গণতন্ত্রকে যাঁরা ধর্মশাস্ত্রের মতো পূজা করেন, তাঁরা এক বছরও প্রচণ্ডকে ক্ষমতায় থাকতে দিলেন না, তাঁকে ফেলে দিলেন। তাঁরাই আবার মিয়ানমারের সু চির জন্য সারা রাত জেগে চোখের পানিতে বুক ভাসান। সামরিক স্বৈরতান্ত্রিক মিয়ানমারের পাশে চীন না থাকলে এত দিনে কতবার যে সেখানে সরকার বদল হতো, তার ঠিক নেই। এগুলোকে বলে রোডম্যাপ। বাংলাদেশ রোডম্যাপের বাইরে নয়।
প্রায় এক বছর হতে যাচ্ছে মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক রোডম্যাপের সঙ্গে সংগতি রেখে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের একটি নির্বাচনী অঙ্গীকার ও নিজস্ব রোডম্যাপ ছিল। অঘোষিত কিছু এজেন্ডাও নিশ্চয়ই থাকবে। কিন্তু এক বছরে সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের চেয়ে ইশতেহার-বহির্ভূত ব্যাপারেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে। বিরোধী দল হাত-পা-মেরুদণ্ড ভেঙে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকায় সরকার নানা রকম এজেন্ডা বাস্তবায়নে বেশি উত্সাহ বোধ করছে। জনগণ জাতিগঠনমূলক কাজই পছন্দ করে, এজেন্ডা বাস্তবায়ন নয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০২১ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা তো দূরের কথা, চার বছর পরের নির্বাচনে যে জয়লাভ করা যাবে, সে ব্যাপারে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। শনিবার এক আলোচনা সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেকে মনে করছেন, আওয়ামী লীগকে কেউ ক্ষমতা থেকে হটাতে পারবে না। এ ধরনের চিন্তা হঠকারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা যদি কাজ না করি, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ না করি, তবে আবার ক্ষমতায় আসব—এমন চিন্তা আমি করি না। আমার মনে হয়, সাধারণ মানুষও করে না।’ [ইত্তেফাক]
কাকে উদ্দেশ করে তিনি এই সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছেন বলা মুশকিল, তবে সঠিক কথাই বলেছেন। ওই একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সংস্থাপন ও প্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম প্রশাসনে বিভিন্ন পদে থাকা রাজাকার এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কর্মকর্তাদের তালিকা দেওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তথ্য-প্রমাণসহ নাম বলতে পারলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।
জনাব ইমাম শান্ত, নম্র ও অমায়িক ব্যক্তিত্ব; প্রশাসনিক ব্যাপারে তাঁর অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের, প্রবাসী সরকারের তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তা। বাংলাদেশের প্রশাসনের নাড়ি-নক্ষত্র তিনি জানেন, তাঁর সমসাময়িক ও সামান্য পরবর্তী কর্মকর্তাদের চরিত্রও তাঁর ভালো জানা। একাত্তরের রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী কারও পক্ষে কি এখন চাকরিতে থাকা সম্ভব? তাঁরা তো ইতিমধ্যে অবসরে গেছেন। এখন যাঁরা চাকরিতে আছেন, তাঁদের চাকরি জীবনের শুরু আশির দশকে। এখন প্রশাসনে যদি রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী বলে কর্মকর্তাদের খোঁজা হয়, তাহলে তা হবে হিংসা-প্রতিহিংসার খেলা। এ ঘোষণায় প্রশাসন বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।
সমস্যাজর্জরিত দেশে মন্ত্রিপরিষদের অসংখ্য কাজ। কেবিনেট সভায় বড় বড় ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। ১৪ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করেন, যদিও তা এজেন্ডাভুক্ত ছিল না। নতুন নাম কী হবে—এ নিয়ে উপস্থিত সদস্যরা একাধিক নাম প্রস্তাব করলেও হজরত শাহজালাল (রহ.) নামকরণের ব্যাপারে সব সদস্যই একমত পোষণ করেন। একই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে যেসব স্থাপনার নামকরণ হয়েছিল, তা আগের নামে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
নাম পরিবর্তনের নোংরা কাজটি খালেদা জিয়াও করেছিলেন। তাঁর নিজের নামে ও জিয়ার নামে বহু প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করেছিলেন। আওয়ামী লীগের আমলে সাভারে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম করা হয়েছিল শেখ হাসিনার নামে। বিএনপি-জামায়াত সরকার যখন ওই নাম তুলে দেয়, তখন ঘৃণায় আমার রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছিল এবং আমি আমার কলামে প্রতিবাদ করেছিলাম। বরিশালে শহীদ জিয়াউর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে বলার কিছু নেই, কিন্তু ‘জিয়া’র নাম পরিবর্তন কোনো রকম যুক্তির মধ্যে পড়ছে না।
১৯৮১-তে জিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর নামে তত্কালীন সরকার বিমানবন্দরের নামকরণ করে। তখন বেগম জিয়া ক্ষমতায় ছিলেন না। জিয়া শুধু সেক্টর কমান্ডার নন। পাঁচ বছর রাষ্ট্রের শাসক ছিলেন। দেশের মধ্যে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাঁর সুনাম ছিল। তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ দেশের শাসক ও তাঁদের ছেলেমেয়েরা দুর্নীতিগ্রস্ত। ব্যক্তিগত জীবনে জিয়া দুর্নীতির ঊর্ধ্বে ছিলেন। জিয়ার জানাজায় যত মানুষ হয়েছিল, পৃথিবীর কম মুসলমানের জানাজায় তত লোক হয়েছে। প্রতিটি দেশের একটি ধারাবাহিক ইতিহাস থাকে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১-র ইতিহাস জিয়াকে বাদ দিয়ে হবে না। প্রশাসক হিসেবে তিনি বাংলাদেশের কোনো শাসকের চেয়ে খারাপ ছিলেন, তা এখন পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। জিয়া পাঁচ বছর বাংলার শাসক ছিলেন, শেরশাহ চার বছর ভারতের শাসনকর্তা ছিলেন—১৫৪০ থেকে ১৫৪৪। তাঁর নামে নয়াদিল্লিতে বিরাট শেরশাহ রোড আছে।
বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জিয়া পাঁচ বছরে একটি অসৌজন্যমূলক উক্তিও করেননি। নিহত হওয়ার সপ্তাহখানেক আগে তিনি দক্ষিণ বাংলা থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় আসার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে স্বাধীনতাসংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকার আন্তরিক প্রশংসা করছিলেন। তবে নিশ্চয়ই তাঁর রাজনীতি ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির বিপরীত আদর্শের রাজনীতি। জিয়ার রাজনীতির যখন আমরা মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ করব, সেখানে তিনি সমালোচিত হবেন।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিমান প্রতিমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশে অবস্থানকালে বিমানবন্দর থেকে জিয়ার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। পত্রিকায় খবর হওয়া মাত্র রাজপথে নেমে পড়েছিল মানুষ। জিয়ার কবরসংলগ্ন ক্রিসেন্ট লেক থেকে ভাসমান সাঁকোটি রাতের বেলা সিলেটে সরিয়ে নেওয়া হলেও অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। এসব খুবই নিম্নমানের প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি। এসব করে কোনো অবস্থাতেই কেউ লাভবান হতে পারে না। জিয়ার পেছনে এই সরকার যত লাগবে, তত জিয়ার অনুরাগীরা বঙ্গবন্ধুর দোষত্রুটি খুঁজে বের করে প্রচার করবে। শেষ পর্যন্ত বেশি ক্ষতি কার, সেটা ভেবে দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিসেবীরা ছিটেফোঁটা পেয়ে ঘাপটি মেরে আছেন। কোনো বড় বিপর্যয় ঘটলেও তাঁরা নীরবতাই অবলম্বন করবেন, যেমন করেছিলেন ২৮ পৌষের পরে পৌনে দুই বছর। অথবা উদীয়মান শক্তিকে বলবেন: আমরা তো মহাজোট সরকারের কাজকারবার সমর্থন করিনি। তখন তা বললে পাওয়া যাবে নতুনদের থেকে নতুন সুবিধা। এ-ই তো হচ্ছে ৪০ বছর যাবত্। দুঃখের বিষয় হলো, সরকারকে সত্ পরামর্শ বা সাবধান করার কেউ নেই।
তড়িঘড়ি করে যাবতীয় কাজ করতে গিয়ে গায়েবি সরকার নিজেদের জন্য যে বিপদ ডেকে এনেছিল, মহাজোট সরকারও সেই পথই ধরেছে। এই সরকারের হিতার্থীরা শনিবার এক আলোচনা সভায় বলেছেন, আওয়ামী লীগ আজও বিপদমুক্ত হয়নি। আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটতে পারে। আশার কথাও বলা হয়েছে: দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস দমন ও দলীয় টেন্ডারবাজি বন্ধ করতে পারলে আগামী ৫০ বছরেও বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারবে না। পাটমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, ‘সরকারের ভেতরে যে অস্থিরতা চলছে, তা আমরা মোকাবিলা করতে পারছি না।’ এই সরকারের বিপর্যয় ঘটলে বিএনপিই যে ক্ষমতায় আসবে, তার নিশ্চয়তা কি? আরও তো ‘দেশপ্রেমিক’ শক্তি থাকতে পারে? পঁচাত্তরের আগস্টে জাসদ বা ভাসানী ন্যাপ ক্ষমতায় যায়নি, অজ্ঞাতনামারাই গিয়েছিল।
যেকোনো দূরদর্শী ক্ষমতাসীন দলের উচিত, শত্রুর সংখ্যা কমিয়ে আনা, বাড়ানো নয়। গণতন্ত্রকামী প্রত্যেক মানুষ চায় একটি স্থিতিশীল সরকার এবং যথাসময়ে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন। কিন্তু সরকার নিজেই যদি অস্থিতিশীলতা ডেকে আনে, তখন জনগণের কিছুই করার থাকে না। আশা করি, সরকার প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের পরিচয় দেবে এবং খুব ভেবেচিন্তে কাজ করবে।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।
কোনো রকমে বারান্দার এক কোণে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির ছাট থেকে বাঁচার চেষ্টা করছি। হঠাত্ গলা কাশার আওয়াজ পেলাম। একটি ঘরের ভেতরে দৃষ্টি গেল। দেখি, পোড়োবাড়ির ভেতরের এক ঘরে বসে এক ক্ষৌরকার এক লোকের মাথা কামাচ্ছে।
প্রবল জোরে বর্ষণ শুরু হলো। অপরাহ্নেই যেন সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়ে এল। একপর্যায়ে দেখলাম, মাথা কামানো শেষে নাপিত পুরো শরীর কামানো শুরু করেছে। নাপিতের ক্ষুর চলতে থাকল অতি নিপুণ হাতে। আমার চোখ ততক্ষণে কপালে উঠে গেছে।
নরসুন্দরের এই বিশেষ কাস্টমারটির হয়তো পরিশুদ্ধ হয়ে পাপমুক্তির প্রাথমিক প্রক্রিয়া ছিল ওটি। মনের মধ্যে যত আবর্জনাই থাক, শরীরের সবকিছু সাফ করে অতীতের পাপ ধুয়েমুছে নদীতে গিয়ে ডুব দিয়ে পরিশুদ্ধ হওয়ার আকুলতা কারও থাকলে দোষ কি?
অনেক দিন পরে ওই ঘটনাটি আমার মনে নতুন তাত্পর্য নিয়ে দেখা দেয়; বিশেষ করে ২৮ পৌষ যেদিন আমাদের দেশে এক গায়েবি সরকারের আবির্ভাব ঘটে। তাঁদের কর্মকাণ্ড দেখে আমার ওই পোড়োবাড়ির সেদিনের দৃশ্য বারবার মনে পড়তে থাকে। তাঁরা জাতির জীবনের যাবতীয় দোষ ও আবর্জনা এক সিটিংয়ে পরিষ্কার করতে চাইলেন। দুর্নীতির লেশমাত্র থাকবে না দেশে, তা নির্মূল ও দমন করতে কমিশন গঠিত হলো। যাঁরা অতীতে দুর্নীতি করেছেন—রাজনৈতিক নেতা, আমলা, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি—তাঁদের পিঠ মোড়া করে বেঁধে জালি দেওয়া প্রিজনভ্যানে নিয়ে তুললেন। দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত রেহাই পেলেন না। ফুটপাতকে ফিটফাট করতে হকারদের লাঠিপেটা করে তাড়ালেন। আইনবহির্ভূত বাড়িঘর স্থাপনাগুলোয় বুলডোজার দিয়ে মারলেন ঠেলা। ধমাধম বাড়িঘর দালানকোঠা ধসে পড়তে লাগল। আকাশচুম্বী র্যাংগ্স ভবনকেও ছাড় দিলেন না। নির্মল আনন্দে সেখানে পড়ল হাতুড়ির বাড়ি। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের আড়াই শ গজের মধ্যে আধা ডজন শ্রমিকের লাশ ঝুলে রইল এক সপ্তাহ। হাজার হাজার বীর বাঙালি সেই দৃশ্য উপভোগ করল রাস্তায় দাঁড়িয়ে। বাঙালি নারীর রাঁধুনি হিসেবে সুনাম আছে, এক কাঁচকলা দিয়ে দশ ব্যঞ্জন তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেনা নেতৃত্বাধীন সেই গায়েবি সরকার দেখিয়ে দিল, এক গোলআলু দিয়ে কত পদ রান্না করা সম্ভব। খাওয়ার টেবিলে আলুর আইটেমগুলো দেখে আমাদের মিডিয়া ও সমাজপতিরা বললেন, সোবহান আল্লাহ। একাত্তরের ডিসেম্বরে যে চালের দাম ছিল ৩৮ টাকা মণ, সরকার সেই চাল খাওয়াল ৪২ টাকা কেজি। দক্ষ কুমার যেভাবে মাটি ছেনে পুতুল বানায়, সেইভাবে ওই সরকার পুরোনো নেতৃত্ব বাতিল করে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে চাইল। রাশি রাশি টাকা ঢেলে গড়ল নতুন নতুন দল। একপর্যায়ে তাদের হাতেই ক্ষমতা হস্তান্তরের ইচ্ছা ছিল, অথবা তাদের সঙ্গে ক্ষমতা শেয়ার করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাদ সাধল জনগণ। আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষকেরা পিছু হটলেন। হঠাত্ তাঁদের মধ্যে গণতন্ত্রের চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটল। বললেন, নির্বাচন দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ জোটের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে কোনো রকমে কেঁদে বাঁচো।
গণতান্ত্রিক সরকার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে এ দেশের মানুষের কখনো কখনো, তবে গায়েবি সরকার আমরা দেখেছি বহুবার: ১৯৫৮-তে, ’৭৫-এ, ’৮২-তে এবং ২০০৭-এ। গায়েবি সরকার রাতারাতি অনেক কিছু সাফসুতরো করতে পারে, গণতান্ত্রিক সরকার তা পারে না। কিন্তু বারবার লক্ষ করেছি, আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক সরকারের গুরু যেন গায়েবি সরকারগুলো। গায়েবি সরকারের স্বৈরাচারী ফিলোসফিকেই আদর্শ ও দর্শন হিসেবে গ্রহণ করে নির্বাচিত সরকারগুলো। আর একটি জিনিস লক্ষ করেছি যে গণতান্ত্রিক সরকারের নাভিশ্বাস না ওঠা পর্যন্ত তাদের হুঁশ হয় না। বাহাত্তর-পঁচাত্তরের সরকারের হুঁশ ছিল না, গায়ের জোরে তারা কাজ করা পছন্দ করত এবং তার মূল্য দিতে হয়েছে। ওই সরকারের কুমন্ত্রণাদাতা ও মোসাহেবদের গায়ে আঁচড়টিও পড়েনি।
১৯৯১-৯৬ সরকারের হুঁশ না থাকায় খেসারত দিতে হয়েছিল। ১৯৯৬-২০০১-এর সরকার প্রথম বছর দুই-তিন ভালোই ছিল, তারপর বেহুঁশ হয়ে পড়ে। মূল্য তাকেও দিতে হয়। ২০০১-২০০৬-এর সরকার অতিরিক্ত আসন পেয়ে ক্ষমতাসীন হওয়ায় খুশিতে বেহুঁশের ঘোরে প্রথম দিন থেকেই গাইতে থাকে: প্রথম বাংলাদেশ আমাদের—শেষ করা পর্যন্তও বাংলাদেশ আমাদেরই। তাদের জুনিয়ার পার্টনারের কাছে গান-বাজনা হারাম, বাংলা গান আরও হারাম। তবু তাঁরা সুর না করে শুধু আওড়ান: বাংলাস্থান, পাকিস্তান, আরব জাঁহা হামারা, সারে জাঁহা আচ্ছা, বাংলাস্থান আচ্ছা। স্বাধীনতা আমরা এনেছি—ক্ষমতায় চিরকাল আমাদের থাকতে হবে। বিএনপি-জামায়াতের বাড়াবাড়িতে বিশ্বায়নের যুগে বিদেশি বন্ধুরাই যে মুখ ভার করল তা-ই নয়, দেশের মানুষও বেঁকে বসল। পরিণাম ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনী ম্যান্ডেট।
মানবজাতির রাজনৈতিক শব্দভান্ডারে কিছুকাল যাবত্ মার্কিনদের উদ্ভাবিত একটি নতুন শব্দ ‘রোডম্যাপ’ যোগ হয়েছে। দুনিয়াটা কোন দশকে কীভাবে চলবে, তার একটা মহা রোডম্যাপ করাই আছে। কোন দেশ কোন সরকারের নেতৃত্বে, কীভাবে চলবে, তার জন্য আছে আলাদা রোডম্যাপ। এবং সেই রোডম্যাপ মোতাবেক না চললে বা সরকার না চালাতে পারলে, কোথাকার কোন সরকারকে কীভাবে টোকা দিয়ে সরিয়ে দিতে হবে, তারও রোডম্যাপ আছে। তারপর কোন গোত্রকে কী প্রক্রিয়ায় রোডম্যাপ বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচনের মাধ্যমে হোক বা গায়েবি প্রক্রিয়ায় হোক, ক্ষমতায় বসাতে হবে, তারও রোডম্যাপ করা আছে। সুতরাং খাতির জমায় বসে থাকার কোনো কারণ নেই। সবই ওপরওয়ালাদের ইচ্ছা। অপেক্ষাকৃত প্রগতিশীল বেনজিরকে সরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানে এক রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশে নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে অন্য রকম রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হচ্ছে। নেপালে সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল আন্তর্জাতিক রোডম্যাপ মোতাবেক হয়নি, জনগণ মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টিকে বেশি ভোট দিয়ে ফেলে। বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ড প্রধানমন্ত্রী হন। গণতন্ত্রকে যাঁরা ধর্মশাস্ত্রের মতো পূজা করেন, তাঁরা এক বছরও প্রচণ্ডকে ক্ষমতায় থাকতে দিলেন না, তাঁকে ফেলে দিলেন। তাঁরাই আবার মিয়ানমারের সু চির জন্য সারা রাত জেগে চোখের পানিতে বুক ভাসান। সামরিক স্বৈরতান্ত্রিক মিয়ানমারের পাশে চীন না থাকলে এত দিনে কতবার যে সেখানে সরকার বদল হতো, তার ঠিক নেই। এগুলোকে বলে রোডম্যাপ। বাংলাদেশ রোডম্যাপের বাইরে নয়।
প্রায় এক বছর হতে যাচ্ছে মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক রোডম্যাপের সঙ্গে সংগতি রেখে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের একটি নির্বাচনী অঙ্গীকার ও নিজস্ব রোডম্যাপ ছিল। অঘোষিত কিছু এজেন্ডাও নিশ্চয়ই থাকবে। কিন্তু এক বছরে সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের চেয়ে ইশতেহার-বহির্ভূত ব্যাপারেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে। বিরোধী দল হাত-পা-মেরুদণ্ড ভেঙে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকায় সরকার নানা রকম এজেন্ডা বাস্তবায়নে বেশি উত্সাহ বোধ করছে। জনগণ জাতিগঠনমূলক কাজই পছন্দ করে, এজেন্ডা বাস্তবায়ন নয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০২১ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা তো দূরের কথা, চার বছর পরের নির্বাচনে যে জয়লাভ করা যাবে, সে ব্যাপারে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। শনিবার এক আলোচনা সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেকে মনে করছেন, আওয়ামী লীগকে কেউ ক্ষমতা থেকে হটাতে পারবে না। এ ধরনের চিন্তা হঠকারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা যদি কাজ না করি, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ না করি, তবে আবার ক্ষমতায় আসব—এমন চিন্তা আমি করি না। আমার মনে হয়, সাধারণ মানুষও করে না।’ [ইত্তেফাক]
কাকে উদ্দেশ করে তিনি এই সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছেন বলা মুশকিল, তবে সঠিক কথাই বলেছেন। ওই একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সংস্থাপন ও প্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম প্রশাসনে বিভিন্ন পদে থাকা রাজাকার এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কর্মকর্তাদের তালিকা দেওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তথ্য-প্রমাণসহ নাম বলতে পারলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।
জনাব ইমাম শান্ত, নম্র ও অমায়িক ব্যক্তিত্ব; প্রশাসনিক ব্যাপারে তাঁর অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের, প্রবাসী সরকারের তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তা। বাংলাদেশের প্রশাসনের নাড়ি-নক্ষত্র তিনি জানেন, তাঁর সমসাময়িক ও সামান্য পরবর্তী কর্মকর্তাদের চরিত্রও তাঁর ভালো জানা। একাত্তরের রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী কারও পক্ষে কি এখন চাকরিতে থাকা সম্ভব? তাঁরা তো ইতিমধ্যে অবসরে গেছেন। এখন যাঁরা চাকরিতে আছেন, তাঁদের চাকরি জীবনের শুরু আশির দশকে। এখন প্রশাসনে যদি রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী বলে কর্মকর্তাদের খোঁজা হয়, তাহলে তা হবে হিংসা-প্রতিহিংসার খেলা। এ ঘোষণায় প্রশাসন বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।
সমস্যাজর্জরিত দেশে মন্ত্রিপরিষদের অসংখ্য কাজ। কেবিনেট সভায় বড় বড় ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। ১৪ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করেন, যদিও তা এজেন্ডাভুক্ত ছিল না। নতুন নাম কী হবে—এ নিয়ে উপস্থিত সদস্যরা একাধিক নাম প্রস্তাব করলেও হজরত শাহজালাল (রহ.) নামকরণের ব্যাপারে সব সদস্যই একমত পোষণ করেন। একই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে যেসব স্থাপনার নামকরণ হয়েছিল, তা আগের নামে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
নাম পরিবর্তনের নোংরা কাজটি খালেদা জিয়াও করেছিলেন। তাঁর নিজের নামে ও জিয়ার নামে বহু প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করেছিলেন। আওয়ামী লীগের আমলে সাভারে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম করা হয়েছিল শেখ হাসিনার নামে। বিএনপি-জামায়াত সরকার যখন ওই নাম তুলে দেয়, তখন ঘৃণায় আমার রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছিল এবং আমি আমার কলামে প্রতিবাদ করেছিলাম। বরিশালে শহীদ জিয়াউর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে বলার কিছু নেই, কিন্তু ‘জিয়া’র নাম পরিবর্তন কোনো রকম যুক্তির মধ্যে পড়ছে না।
১৯৮১-তে জিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর নামে তত্কালীন সরকার বিমানবন্দরের নামকরণ করে। তখন বেগম জিয়া ক্ষমতায় ছিলেন না। জিয়া শুধু সেক্টর কমান্ডার নন। পাঁচ বছর রাষ্ট্রের শাসক ছিলেন। দেশের মধ্যে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাঁর সুনাম ছিল। তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ দেশের শাসক ও তাঁদের ছেলেমেয়েরা দুর্নীতিগ্রস্ত। ব্যক্তিগত জীবনে জিয়া দুর্নীতির ঊর্ধ্বে ছিলেন। জিয়ার জানাজায় যত মানুষ হয়েছিল, পৃথিবীর কম মুসলমানের জানাজায় তত লোক হয়েছে। প্রতিটি দেশের একটি ধারাবাহিক ইতিহাস থাকে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১-র ইতিহাস জিয়াকে বাদ দিয়ে হবে না। প্রশাসক হিসেবে তিনি বাংলাদেশের কোনো শাসকের চেয়ে খারাপ ছিলেন, তা এখন পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। জিয়া পাঁচ বছর বাংলার শাসক ছিলেন, শেরশাহ চার বছর ভারতের শাসনকর্তা ছিলেন—১৫৪০ থেকে ১৫৪৪। তাঁর নামে নয়াদিল্লিতে বিরাট শেরশাহ রোড আছে।
বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জিয়া পাঁচ বছরে একটি অসৌজন্যমূলক উক্তিও করেননি। নিহত হওয়ার সপ্তাহখানেক আগে তিনি দক্ষিণ বাংলা থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় আসার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে স্বাধীনতাসংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকার আন্তরিক প্রশংসা করছিলেন। তবে নিশ্চয়ই তাঁর রাজনীতি ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির বিপরীত আদর্শের রাজনীতি। জিয়ার রাজনীতির যখন আমরা মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ করব, সেখানে তিনি সমালোচিত হবেন।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিমান প্রতিমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশে অবস্থানকালে বিমানবন্দর থেকে জিয়ার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। পত্রিকায় খবর হওয়া মাত্র রাজপথে নেমে পড়েছিল মানুষ। জিয়ার কবরসংলগ্ন ক্রিসেন্ট লেক থেকে ভাসমান সাঁকোটি রাতের বেলা সিলেটে সরিয়ে নেওয়া হলেও অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। এসব খুবই নিম্নমানের প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি। এসব করে কোনো অবস্থাতেই কেউ লাভবান হতে পারে না। জিয়ার পেছনে এই সরকার যত লাগবে, তত জিয়ার অনুরাগীরা বঙ্গবন্ধুর দোষত্রুটি খুঁজে বের করে প্রচার করবে। শেষ পর্যন্ত বেশি ক্ষতি কার, সেটা ভেবে দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিসেবীরা ছিটেফোঁটা পেয়ে ঘাপটি মেরে আছেন। কোনো বড় বিপর্যয় ঘটলেও তাঁরা নীরবতাই অবলম্বন করবেন, যেমন করেছিলেন ২৮ পৌষের পরে পৌনে দুই বছর। অথবা উদীয়মান শক্তিকে বলবেন: আমরা তো মহাজোট সরকারের কাজকারবার সমর্থন করিনি। তখন তা বললে পাওয়া যাবে নতুনদের থেকে নতুন সুবিধা। এ-ই তো হচ্ছে ৪০ বছর যাবত্। দুঃখের বিষয় হলো, সরকারকে সত্ পরামর্শ বা সাবধান করার কেউ নেই।
তড়িঘড়ি করে যাবতীয় কাজ করতে গিয়ে গায়েবি সরকার নিজেদের জন্য যে বিপদ ডেকে এনেছিল, মহাজোট সরকারও সেই পথই ধরেছে। এই সরকারের হিতার্থীরা শনিবার এক আলোচনা সভায় বলেছেন, আওয়ামী লীগ আজও বিপদমুক্ত হয়নি। আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটতে পারে। আশার কথাও বলা হয়েছে: দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস দমন ও দলীয় টেন্ডারবাজি বন্ধ করতে পারলে আগামী ৫০ বছরেও বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারবে না। পাটমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, ‘সরকারের ভেতরে যে অস্থিরতা চলছে, তা আমরা মোকাবিলা করতে পারছি না।’ এই সরকারের বিপর্যয় ঘটলে বিএনপিই যে ক্ষমতায় আসবে, তার নিশ্চয়তা কি? আরও তো ‘দেশপ্রেমিক’ শক্তি থাকতে পারে? পঁচাত্তরের আগস্টে জাসদ বা ভাসানী ন্যাপ ক্ষমতায় যায়নি, অজ্ঞাতনামারাই গিয়েছিল।
যেকোনো দূরদর্শী ক্ষমতাসীন দলের উচিত, শত্রুর সংখ্যা কমিয়ে আনা, বাড়ানো নয়। গণতন্ত্রকামী প্রত্যেক মানুষ চায় একটি স্থিতিশীল সরকার এবং যথাসময়ে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন। কিন্তু সরকার নিজেই যদি অস্থিতিশীলতা ডেকে আনে, তখন জনগণের কিছুই করার থাকে না। আশা করি, সরকার প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের পরিচয় দেবে এবং খুব ভেবেচিন্তে কাজ করবে।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
-
▼
2009
(2847)
-
▼
December
(699)
-
▼
Dec 24
(11)
- রাজর্ষি হাসন রাজা ও তাঁর জীবন by সৌমিত্র দেব
- আইনি প্রতিকার ও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন by এ এম...
- ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়া’র নতুন কাহিনী -তৃতীয় কর্...
- নির্বাচনী ইশতেহার-বহির্ভূত এজেন্ডা by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- করিডরে স্লোগান বন্ধ করুন -হাসপাতালে নির্বাচনী ডামাডোল
- তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন -শ্রদ্ধাঞ্জলি by মুহ...
- কেমন হওয়া উচিত আমাদের জলবায়ু কূটনীতি -জলবায়ু সম্মে...
- সবার জন্য শিক্ষা কীভাবে হবে -প্রান্তকথা by শান্ত ন...
- অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা -চিকিত্সকদের আরও সজাগ ...
- প্রতিটি কৃষক-পরিবারের জন্য কার্ড -প্রান্তিক কৃষকদে...
- ওয়াটারবোর্ডিং পদ্ধতিতে নির্যাতন চালিয়েছিল ব্রিটিশ ...
-
▼
Dec 24
(11)
-
▼
December
(699)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment