Monday, May 5, 2025
ট্রাম্পকে চোখ নামাতে বাধ্য করার সহজ পথ by পল দো গ্রাউয়ে
ট্রাম্পকে চোখ নামাতে বাধ্য করার সহজ পথ by পল দো গ্রাউয়ে
প্রথম যে বিষয়টা বোঝা গেছে, তা হলো, আমেরিকার অর্থনীতি যতটা শক্তিশালী বলে মনে হয়, বাস্তবে তা ততটা নয়। কারণ, বাস্তব খাত (যেমন উৎপাদন ও বাণিজ্য) আর আর্থিক খাত (যেমন শেয়ারবাজার, বন্ডবাজার) একে অপরের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। বাণিজ্য ও উৎপাদনের ভবিষ্যৎ সংকট নিয়ে যখন ভয় ছড়ায়, তখন তা শেয়ারবাজার, বন্ডবাজার ও মুদ্রাবাজারে চোখের নিমেষে ছড়িয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার প্রধান দুর্বলতা হলো যখন শেয়ারবাজারে বড় ধস নামে, তখন উচ্চ পরিমাণে ঋণ নেওয়া ও প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন হেজ ফান্ডগুলো টিকতে না পেরে হঠাৎ করে নগদ অর্থ জোগাড়ের জন্য সরকারি বন্ডসহ নানা সম্পদ বিক্রি করে দেয়। এ কারণে বাজারে ব্যাপক আতঙ্ক ও অস্থিরতা দেখা দেয়। এই হঠাৎ অস্থিরতার সম্ভাবনাই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি দুর্বল করে তোলে। দ্বিতীয় যে শিক্ষা আমরা পেয়েছি, তা হলো ট্রাম্প যতই দাম্ভিক ও হুমকির ভঙ্গিতে কথা বলুন না কেন, বাস্তবে তিনি ভেতরে-ভেতরে দুর্বল। যখন তাঁর আরোপিত শুল্ক তাঁর ধনী বন্ধুদের ব্যবসায়িক স্বার্থে আঘাত হানে, তখন তিনি পিছু হটেন।
এখন প্রশ্ন হলো, অন্যান্য দেশ কীভাবে এই দুই দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে পারে?
এ প্রশ্নের জবাব নিশ্চয়ই ওয়াশিংটনে গিয়ে ট্রাম্পের সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়ানোর মধ্যে (যেমনটা ইতিমধ্যে প্রায় ৭৫টি দেশের প্রতিনিধিরা করেছেন বলে জানা গেছে) নেই। এটি শুধু যে মর্যাদাহানিকর তা-ই নয়; বরং তা একেবারেই কোনো কাজে আসবে না। কারণ, এতে ট্রাম্প নিজের ক্ষমতা আরও বেশি করে অনুভব করেন এবং এক দেশের বিরুদ্ধে আরেক দেশকে লাগিয়ে খেলা দেখানোর সুযোগ পান।
আরও খারাপ বিষয় হলো, ট্রাম্প যদি কোনো দেশের দুর্বলতা টের পান, তাহলে তিনি সেই দেশের ওপর আরও কঠিন শর্ত চাপিয়ে দেন। তাঁর সঙ্গে করা চুক্তিগুলো যে কার্যকর হবে, তা নিয়েও সন্দেহ থাকে। কারণ, তিনি নিজে প্রায়ই এসব চুক্তিকে পাত্তা দেন না। সেই অর্থে এসব চুক্তি আসলে কাগজের ওপর সইস্বাক্ষর ছাড়া আর কিছু নয়। আরও সহজ করে বললে ট্রাম্পকে মোকাবিলা করতে হলে মাথা নিচু করে যাওয়ার কোনো মানে হয় না; বরং তাঁর দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে আঘাত করলেই ফল পাওয়া যাবে।
ট্রাম্পকে মোকাবিলার অনেক ভালো কৌশল হলো, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করা। এতে আমেরিকার প্রকৃত দুর্বলতা প্রকাশ পাবে, ট্রাম্পের ধনী বন্ধুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে এবং শেষমেশ ট্রাম্পকে তা আবারও পিছু হটতে বাধ্য করবে।
যদি অন্যান্য দেশ কোনো ধরনের আলোচনায় না যায় এবং ট্রাম্পের শুল্কনীতির জবাবে সমান মাত্রায় পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, তাহলে ট্রাম্পের ওপর এই চাপ প্রয়োগ করা সম্ভব। যদি অনেক দেশ একসঙ্গে এই কৌশল নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র একা হয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে, বিশ্ববাণিজ্যের মাত্র ১৫ শতাংশের অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। বাকি ৮৫ শতাংশ যেসব দেশ, তারা যদি একজোট হয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়, তাহলে তাদেরই লাভ হবে।
তবে কিছু অর্থনীতিবিদ পাল্টা শুল্ক আরোপের যুক্তির বিরোধিতা করেন। মুক্তবাণিজ্যের প্রচলিত মত হলো, যে দেশ শুল্ক আরোপ করে, সে দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অন্য দেশগুলোর একই পথে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত হবে না। কিন্তু এই যুক্তি রাজনৈতিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেয় না। বাস্তবতা হলো, যখন অন্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বসায়, তখন তারা আমেরিকার রপ্তানি খাতে চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে আমেরিকার ভেতরে এমন এক চাপগোষ্ঠী তৈরি হবে, যারা ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ বন্ধের দাবি তুলবে।
যদি দেশগুলো একসঙ্গে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব রপ্তানিনির্ভর খাত (বিশেষত হাইটেক ও ডিজিটাল পরিষেবা খাত) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোর ওপর সর্বোচ্চ চাপ তৈরি করা সম্ভব। এতে ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে আমেরিকার অভ্যন্তরে সফল বিরোধিতার সম্ভাবনা বাড়বে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন ও বাণিজ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি হবে, যা আবারও আর্থিক বাজারকে নাড়া দেবে। এটিই আগেরবার ট্রাম্পকে পিছু হটতে বাধ্য করেছিল।
তবে যুক্তিপূর্ণ নীতি নির্ধারণ করা যত সহজ, সেটি বাস্তবে সংগঠিত করা তত সহজ নয়। এখানে একটি ক্ল্যাসিক ‘সমষ্টিগত কর্মের সমস্যা’ দেখা দেয়। খুব কম দেশই এগিয়ে এসে ঝুঁকি নিতে চায়; কারণ, এতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের রোষানলে পড়তে পারে। কিন্তু যদি অনেক দেশ একত্র হয়, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে প্রত্যেককে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা আর থাকবে না। কারণ, পুরো বিশ্বকে একসঙ্গে শাস্তি দিতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রেরই বিপুল ক্ষতি হবে।
উল্টোটা যদি হয়, অর্থাৎ অন্য দেশগুলো যদি সহযোগিতা না করে, তাহলে ধরে নিতে হবে তারা কার্যত নিজেদের পিঠে মারার জন্য ট্রাম্পের হাতে লাঠি তুলে দিচ্ছে। প্রশ্ন হলো, বিশ্ববাণিজ্যের মাত্র ১৫ শতাংশ যাঁর দখলে, তিনি কীভাবে বাকি ৮৫ শতাংশকে জিম্মি করে ফেলেন?
এই সমষ্টিগত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন রাজনৈতিক নেতৃত্ব। চীন ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বসিয়ে পথ দেখিয়েছে। যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এতে যোগ দেয়, তাহলে দুটি বড় শক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকটভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে এবং অন্য দেশগুলোও এই জোটে যোগ দেওয়ার উৎসাহ পাবে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসন আরও একঘরে হবে, আমেরিকার অর্থনীতিতে বড় আঘাত আসবে, অথচ বিশ্বের অন্য দেশগুলো কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তখন আবার ট্রাম্প চোখ নামিয়ে ফেলতে বাধ্য হবেন।
● পল দো গ্রাউয়ে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের ইউরোপিয়ান পলিটিক্যাল ইকোনমির চেয়ারপ্রফেসর
স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| জেলেনস্কিকে চাপ দিয়ে ট্রাম্প খনিজ চুক্তি করতে বাধ্য করেছেন। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
May
(344)
-
▼
May 05
(21)
- নিখোঁজ জীবনের গল্প: ৬৩ বছর পর সন্ধান মিলল এক নারীর
- ইরান কেন আমেরিকাকে বিশ্বাস করে না: ইতিহাস, অভিজ্ঞত...
- হাজারো সংরক্ষিত সেনা তলব ইসরায়েলের, গাজায় অভিযান স...
- ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মৃত্যু ভয়ে মাটির নিচে...
- ভারতের যুদ্ধে যাওয়া ও না-যাওয়ার বিপদ by শুভজিৎ ব...
- চীনকে সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো হারাতে পারবে না আমেরি...
- কাশ্মীরে হামলার সন্দেহভাজনেরা কি ভারত থেকে পালিয়েছেন
- গাজায় জোর করে মানুষকে অভুক্ত রাখছে ইসরাইল
- কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলি অব্যাহত: বিমান বাহিনীর প...
- ওয়ারেন বাফেট এক বিস্ময়
- অনলাইন জুয়ার নেশায় সর্বস্বান্ত by ফাহিমা আক্তার সুমি
- মুক্তগণমাধ্যম দিবসে বক্তারা: স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া...
- ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আর নেই
- রাশিয়ার পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন পুতিন
- ওয়াসিম আকরামের কোকেন আসক্তি ও প্রথম স্ত্রী’র হারিয়...
- অতীতের মতো এবার কি যুদ্ধপরিস্থিতি থেকে পেছাতে পারব...
- ট্রাম্পকে চোখ নামাতে বাধ্য করার সহজ পথ by পল দো গ্...
- ‘আমরা পরোয়া করি না’: নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে পাকিস্তান...
- রোমান হলিডের সেই রাজকন্যা, নিজের জীবনটা ছিল এক বিষ...
- ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যে কাশ্মীরে বিয়ের অনুষ...
- চিকিৎসা ব্যয় বহনে বছরে গরিব হচ্ছে ৫০ লাখ মানুষ -বি...
-
▼
May 05
(21)
-
▼
May
(344)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

No comments:
Post a Comment