Wednesday, July 16, 2025
ট্রাম্পকে বাদ দিয়ে যে বিশ্ব গড়তে চান নেতানিয়াহু by আলাঁ গাবোঁ
ট্রাম্পকে বাদ দিয়ে যে বিশ্ব গড়তে চান নেতানিয়াহু by আলাঁ গাবোঁ
এখন পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে তার অনেক কিছু নির্ভর করবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ইরানের প্রতিক্রিয়ার ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাটি সেখানে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভূমিকার দিক থেকে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর পেছনের আসনে চলে গেছেন।
ট্রাম্প মূলত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অনেক সময় নেতানিয়াহুর কৌশলগত চাল ও ঠান্ডা মাথার ষড়যন্ত্র দেখে অবাক ও অপ্রস্তুত হয়ে পড়ছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করে চলেছেন, নেতানিয়াহুও সেটা করছেন।
সম্প্রতি নেতানিয়াহু ইরানে যে বোমা হামলা চালিয়েছেন, সেটা শুধু পশ্চিমা বিশ্বের ‘ইসরায়েল সমস্যা’-কে আরও জটিল করে তুলেছে। ওয়াশিংটন নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও ঘোষিত মূল্যবোধ বিসর্জন দিয়ে বিশ্বাসহীন ও কেবলমাত্র স্বার্থান্ধ ইসরায়েলি ‘মিত্রের’ কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
ট্রাম্প নিজেকে একজন ‘যুদ্ধবিরোধী প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে জাহির করেন। ২০১৯ সালে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, মহান জাতিগুলো কখনোই অনন্তকাল ধরে চলা যুদ্ধ শুরু করতে পারে না। তিনি বিদেশে উদারবাদ ও গণতন্ত্র রপ্তানিতেও আগ্রহী নন।
কিন্তু নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে পরাজিত করেছেন। এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, যেখানে ট্রাম্প রাজনৈতিক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মুখ রক্ষার জন্য হলেও হস্তক্ষেপ করার পথ বেছে নিয়েছেন।
নেতানিয়াহুর লাগাতার চাপের মুখে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সীমিত ‘সার্জিক্যাল’ হামলার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনি খুব সতর্কভাবে জানিয়ে দেন যে, এই বোমাবর্ষণই এই অধ্যায়ের সমাপ্তি। ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনো সামরিক অভিযানে যাওয়ার তাঁর ইচ্ছা বা পরিকল্পনা নেই।
কিন্তু ট্রাম্পকে বেশি দিনের জন্য সরে থাকতে দেবেন কি নেতানিয়াহু? এটা সত্যি যে মধ্যপ্রাচ্যে এখনো একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু চলমান রক্তক্ষয়ী পরিবর্তনগুলোর ক্ষেত্রে প্রধান নিয়ন্ত্রক আর যুক্তরাষ্ট্র নয়, সেই ভূমিকা এখন পালন করছে ইসরায়েল।
গত মাসে যে সংঘাতের ঘটনা ঘটল তাতে দেখা যাচ্ছে, ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর করার ঘোষিত লক্ষ্যের প্রায় কোনোটিই অর্জিত হয়নি। ঘটনাপ্রবাহ থেকে যেটা খোলাসা হয়েছে তা হলো, দীর্ঘ মেয়াদে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের জন্যও তা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। এর কয়েকটি কারণ আছে।
প্রথমত, এই আক্রমণ অপ্রত্যক্ষভাবে ইরানের বর্তমান শাসকদের শক্তিকে সংহত করেছে। এর কারণ হলো, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আক্রমণ মোকাবিলায় জাতীয় প্রতিরক্ষা ইস্যুতে ইরানের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইরান এখন হয়তো পারমাণবিক কর্মসূচি আরও জোরদার করবে এবং আত্মরক্ষার উপায় হিসেবে পরমাণু বোমা তৈরির দিকে এগিয়ে যেতে পারে। তৃতীয়ত, এই ঘটনার ফলে ইরান এমনকি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ–বিষয়ক চুক্তি থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই চুক্তিতে ইসরায়েল স্বাক্ষর করেনি, কিন্তু ইরান করেছিল। বর্তমানে ইরান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থাকে সহযোগিতার বিষয়টি স্থগিত করেছে এবং সংস্থাটির পরিদর্শকদের পরিদর্শনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
সবকিছুর পরও এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মাধ্যমে নেতানিয়াহু অত্যন্ত কৌশলে এক ঢিলে কয়েকটি পাখি মেরেছেন।
নেতানিয়াহু অন্তত অল্প সময়ের জন্য হলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিলম্বিত করতে পেরেছেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক আলোচনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পেরেছেন। সম্ভাব্য ফ্রান্স-সৌদি সম্মেলন বানচাল করতে পেরেছেন। কেননা ওই সম্মেলন থেকে ইউরোপের দেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে পারত।
নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক মনোযোগকে গাজা থেকে অন্যখানে সরিয়ে নিতে পেরেছেন। এর ফলে ইসরায়েলের পক্ষে গাজা ও দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধন ও গণহত্যা অব্যাহত রাখা আরও সহজ হয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, স্পেনসহ ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ যখন গাজা ইস্যুতে তীব্র সমালোচনা করছিল এবং ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি বা বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছিল, তখন নেতানিয়াহু ওই সমালোচনাগুলো স্তব্ধ করে দেন। রাতারাতি ইসরায়েলকে ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর ঐকমত্য সৃষ্টি করতে সক্ষম হন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। ফলে ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছিল, সেটা কিছুটা মজবুত হয়েছে।
সর্বোপরি, নেতানিয়াহু অবশেষে সেই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছেন, যার জন্য তিনি কয়েক দশক ধরে চেষ্টা করে আসছিলেন। সেটা হলো যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে ইরানে বোমাবর্ষণ করানো। এটি নেতানিয়াহুর জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে ধরা যায়।
একটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে বিবেচনা করলে ইরানের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর যুদ্ধ ছিল তেহরানের মিত্রদের ওপর তার বহুমাত্রিক আক্রমণের সর্বশেষ পর্ব। গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনে হুতি—অক্টোপাসের শুঁড়গুলোকে নিশানা করার পর সরাসরি ‘প্রতিরোধের অক্ষের’ প্রধান ইরানকে আক্রমণ করে ইসরায়েল।
যদিও এসব সামরিক অভিযানকে নেতানিয়াহু ধারাবাহিকভাবে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করে চলেছেন। কিন্তু তাঁর মূল লক্ষ্য হলো গোটা অঞ্চলকে একটি স্থায়ী অস্থিতিশীলতার মধ্যে ফেলে দেওয়া। আসাদ-পরবর্তী সিরিয়ার ওপর নেতানিয়াহুর আক্রমণ আরও একবার প্রমাণ করেছে যে ইসরায়েলের এই হিংস্র আগ্রাসনের প্রধান চালিকা শক্তি তথাকথিত ‘আত্মরক্ষা’ নয়।
শেষ পর্যন্ত, নেতানিয়াহুর লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যার কেন্দ্রবিন্দু হবে প্রশ্নাতীত ইসরায়েলি আধিপত্য ও প্রাধান্য।
যদি কেউ জানতে চায়, ইসরায়েলের আধিপত্যে পরিচালিত একটি নতুন বিশ্ব কেমন দেখতে হবে, উত্তরটা খুব সহজ। শুধু গাজার দিকে তাকালেই হবে।
* আলাঁ গাবোঁ, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ওয়েসলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরাসি ভাষা অধ্যয়নের সহযোগী অধ্যাপক
- মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত
![]() |
| মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1402)
- ▼ 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

No comments:
Post a Comment