Tuesday, May 6, 2025
চীনে কেন নতুন সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়েছে? by ফ্রান্সেসকো সিসি
চীনে কেন নতুন সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়েছে? by ফ্রান্সেসকো সিসি
চীন এখন দেশের ভেতরে পশ্চিমা প্রভাবের বিরুদ্ধে নিজস্ব সংস্কৃতিকে জোরদার করছে। অনেকের মতে, এটি এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। চীন হয়তো দীর্ঘ সময়ের জন্য নিজের মতো করে টিকে থাকার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘চীন একটি নতুন একাডেমিক শাখা চালু করেছে। এর উদ্দেশ্য জাতিগত গবেষণায় পশ্চিমা পক্ষপাত দূর করা এবং একক জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিজেদের বয়ানকে মজবুত করা।’ এই উদ্যোগ সম্ভবত সোভিয়েত যুগ থেকে পাওয়া জাতিগত দ্বন্দ্বের বোধকে অতিক্রম করার চেষ্টা।
চীনের জাতীয় জাতিগত–বিষয়ক কমিশনের পরিচালক পান ইউয়ে বলেছেন, ‘চীনের জাদুঘরগুলোর উচিত সব ধরনের ভুল ইতিহাসভিত্তিক ধারণার বিরোধিতা করা। বিশেষ করে হান ও অ-হান জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ তৈরির যেকোনো চেষ্টা রুখে দেওয়া।’
পান ইউয়ে পশ্চিমা প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযানেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাই এই উদ্যোগকে একটি সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। এর লক্ষ্য হচ্ছে—জাতীয় ঐক্য মজবুত করা, জাতিগত বিভাজন কমিয়ে আনা এবং ধীরে ধীরে বিদেশি সাংস্কৃতিক প্রভাব দূর করা।
তবে এই উদ্যোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, একে একটি সাংস্কৃতিক প্রশ্ন হিসেবেও দেখা যায়। চীনা চিন্তাবিদ গো ঝাওগুয়াং তাঁর ২০০১ সালে প্রকাশিত ‘চীনা চিন্তার ইতিহাস’ বইয়ের তৃতীয় খণ্ডে লিখেছেন, বিশ শতকের শুরুর দিকে চীন তার সব চিন্তা-পদ্ধতি পশ্চিমা ক্যাটাগরিতে পুনর্গঠিত করেছিল। যেমন ‘দর্শন’, ‘ধর্ম’ বা ‘অর্থনীতি’—এগুলো চীনা চিন্তায় আগে ছিল না। জাপানি অনুবাদের মাধ্যমে এই শব্দগুলো এসেছে।
এই পুনর্বিন্যাসের ফলে চীনের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গিকেও নতুনভাবে সাজানো হবে। কিন্তু সমাজের অনেকেই হয়তো এই পরিবর্তনকে পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারেনি এখনো। ফলে তারা দুই জগতের মধ্যে আটকে গেছে। একদিকে পশ্চিমা ধারণা, অন্যদিকে চিরাচরিত চীনা চিন্তা।
মাও সে–তুংয়ের সাংস্কৃতিক বিপ্লবও এই দ্বন্দ্ব মোকাবিলার চেষ্টা করেছিল। তবে তা ছিল ধ্বংসাত্মক। এবারকার প্রচেষ্টা তুলনামূলকভাবে বেশি স্থির, অনেক বেশি বাস্তবভিত্তিক। তবে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতের নানা বিকাশকেও বাধা দিতে পারে।
আমেরিকার সঙ্গে কথোপকথন
বেইজিং এখন আমেরিকাকে দেখছে নেশায় আসক্ত এক দেশ হিসেবে। ঠিক যেমন একসময় চীন আফিম আসক্তিতে ধ্বংসের মুখে পড়েছিল, আমেরিকা তেমনভাবেই এখন একটি ভয়াবহ মাদকসংকটে ভুগছে। চীনের সরকারি দৈনিক পিপলস ডেইলি জানিয়েছে—আমেরিকার জনসংখ্যা বিশ্বের মাত্র ৫ শতাংশ, কিন্তু তারা পুরো বিশ্বের ৮০ শতাংশ আফিমজাত মাদক ব্যবহার করে।
দুই শ বছর আগে, চীনের রাজসভার আদেশে আফিম আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু তখন ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন, আফিমই একমাত্র পণ্য, যা চীনারা বিদেশ থেকে কিনতে আগ্রহী।
এরপর ১৮৪০ সালে ব্রিটিশরা এবং ১৮৫৬ সালে আরও কিছু পশ্চিমা শক্তি চীনের সঙ্গে আফিম বাণিজ্য চালু রাখতে যুদ্ধ করে। ইতিহাসে তা ‘আফিম যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। চীন আফিমকে জাতীয় পতনের অন্যতম কারণ মনে করলেও পশ্চিমারা বলেছিল, চীনারা যদি বেশি আফিম খায়, সেটা তাদেরই সমস্যা।
এখন দৃশ্যপট উল্টো। যুক্তরাষ্ট্র ফেন্টানিল নামের ভয়াবহ এক সিনথেটিক ড্রাগে আক্রান্ত। এই ড্রাগের মূল উপাদান চীন থেকে রপ্তানি হয়। এই উপাদান অনেক সময় বৈধ ওষুধ তৈরিতেও লাগে। তবে এর অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে চীন যথেষ্ট উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করছে। অন্যদিকে চীন বলছে, আমেরিকান সমাজের আসক্তিই আসল সমস্যা—শুধু চীনকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।
১৮-৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ফেন্টানিল এখন মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে অনেকেই মনে করেন। দুই শ বছর আগে আফিম নিয়ে টানাপোড়েন যুদ্ধ ডেকে এনেছিল। আজকের এই মাদকসংকট কি নতুন কোনো সংঘর্ষ ডেকে আনবে?
যোগাযোগ ও সংস্কৃতির প্রশ্ন
বিশ্ব এখনো যোগাযোগে পশ্চিমা সংস্কৃতির ওপর নির্ভরশীল। শুধু ভাষা নয়, পুরো চিন্তাপদ্ধতিই এখানে পশ্চিমাদের আদলে তৈরি।
তাই চীন যদি তার নিজস্ব সংস্কৃতি বিশ্বে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে বর্তমান যোগাযোগব্যবস্থার ভাষা হারাতে পারে। অথচ বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এখনো চীনকে পশ্চিমা ঘরানার ভাষা ও চিন্তা ব্যবহার করতে হয়। কারণ, বিশ্ব তো এখনো ‘চীনকেন্দ্রিক’ ভাবনায় অভ্যস্ত নয়।
পাঁচ শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা পশ্চিমা সাংস্কৃতিক কাঠামোকে সরিয়ে দিতে চাইলে সময় লাগবে। আর যদি আমেরিকা পিছিয়ে পড়ে এবং চীন সেই শূন্যতা পূরণ করতে চায়, তাহলে তাকে অবশ্যই পশ্চিমা ভাবভাষায় কথা বলতে জানতে হবে। তা না হলে তাদের কেউ বুঝবে না। চীনও অন্যদের বুঝতে পারবে না।
তা ছাড়া, যদি আমেরিকার এই সংকট কখনো চূড়ান্ত পতনের দিকে যায়, তাহলেও চীনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ চালু রাখতেই হবে। বিশ্ব হয়তো এক শতক পর ‘চীনা সংস্কৃতি’কে ভালোভাবে চিনবে। কিন্তু এই সময়টাতে পশ্চিমা ধারণাকে উপেক্ষা করা আত্মঘাতী হতে পারে।
বাস্তবে সমস্যাটা আরও গভীর। অনেক পশ্চিমা ধারণাই এখন আর বাস্তবতা অনুযায়ী কাজ করছে না। ট্রাম্পের আমলে আমেরিকায় যে ধাক্কা লেগেছে, তা একটি নিরাপত্তাহীন ও দিশাহারা জাতির চিত্র তুলে ধরেছে।
চীন এখন সংস্কৃতিকে পুনর্বিন্যাস করছে, নতুন ক্যাটাগরিতে সাজাচ্ছে। তারা তা করতে চাইছে সংঘাতের বদলে সামগ্রিক সমাধানমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে। তারা মনে করে, গোটা বিশ্বব্যবস্থারই পুনর্গঠন দরকার। এর মানে এই নয় যে সমাধানটা নিখুঁত হবে। কিন্তু সমস্যার অস্তিত্ব যে প্রকট, তা অস্বীকার করা যাবে না।
প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রও কি তার মাদক সমস্যা বা বাণিজ্য দ্বন্দ্বের মতো অভ্যন্তরীণ সংকটগুলো মোকাবিলায় এমন কোনো সামগ্রিক ভাবনা ভাবছে? নাকি কেবল বাইরের দিকেই শত্রু খুঁজে বেড়াচ্ছে? এই সংকটগুলো চীনকে ঘিরে হলেও সেগুলোর সমাধান কেবল চীন দিয়ে হবে না।
* ফ্রান্সেসকো সিসি ইতালীয় লেখক
- এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া ইংরেজির অনুবাদ
| চীন হয়তো দীর্ঘ সময়ের জন্য নিজের মতো করে টিকে থাকার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ছবি : রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
May
(344)
-
▼
May 06
(23)
- তুরস্কের ভয়ংকর পদক্ষেপ, উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধজাহাজ...
- কাশ্মীরে হামলার খেসারত দেবে রাজনৈতিক বন্দিরা? by ম...
- ভারতের মোকাবিলায় ‘ছায়া থেকে প্রকাশ্যে’ বেরিয়ে আসছ...
- গাজা ‘দখলসহ’ নতুন যেসব পরিকল্পনা অনুমোদন দিল ইসরায়েল
- তিউনিসিয়াকে বাঁচাতে পারবে কি বিরোধীরা by ইউসরা ঘন্...
- ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ নয়, সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করা...
- ফারাক্কার ৫০ বছর: বাংলাদেশের নদনদীতে কী প্রভাব? টি...
- চীনে কেন নতুন সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়েছে? by ফ্র...
- আমাজনে কুমিরে ভরা জলাভূমিতে ৩৬ ঘণ্টা কাটিয়েছিলেন ত...
- ঢাকায় এয়ার পিউরিফায়ারের মতো স্বপ্নবিলাসী প্রকল্প ক...
- গাজায় হামলা জোরালো, নিহত আরও ১৯: গাজা দখলের পরিকল্...
- হামাসের হাত থেকে মুক্ত জিম্মি ইসরাইলে ধর্ষিত!
- দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ পাকিস্তান...
- সংস্কারে সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দেয়ার পক্ষে ইইউ
- কী ঘটেছিল কলাবাগানের সেই বাসায়
- বিবিসি’র বিশ্লেষণ: ইউক্রেনে দখলকৃত ভূখণ্ডে কিলোমিট...
- নাগরিকত্ব পেতে নাবালক সন্তানদের মার্কিন সীমান্তে ফ...
- আবেগঘন ফেরা
- রাজনীতিকীকরণই সাংবাদিকদের অধিকারহীনতার উৎস
- প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধ...
- জুবাইদাকে ঘিরে সিলেটে উচ্ছ্বাস by ওয়েছ খছরু
- এবার দিনের ভোট রাতে হওয়ার সুযোগ নেই
- ট্রাম্প-কেনেডি স্টাইলের গণহত্যা; আমেরিকা কি জেনেটি...
-
▼
May 06
(23)
-
▼
May
(344)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment