Wednesday, March 18, 2015
রাজনীতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্পর্ক নিয়ে বোঝাবুঝি by সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক
রাজনীতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্পর্ক নিয়ে বোঝাবুঝি by সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক
Wednesday, March 18, 2015
Anonymous
আলোচনা,
উপ-সম্পাদকীয়,
নয়া দিগন্ত,
পার্বত্য চট্টগ্রাম,
মতামত,
রাজনীতি
গত বুধবার ১১ মার্চ ২০১৫ তারিখে এই নয়া
দিগন্ত পত্রিকায় ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে বোঝাবুঝির অভাব’ শিরোনামে
প্রকাশিত কলামের ধারাবাহিকতাতেই আজকের এই কলাম। তবে আজকে পার্বত্য
চট্টগ্রাম নিয়ে লেখার আগে অল্প পরিসরে কিছু ভিন্ন কথা উপস্থাপন করছি। অতঃপর
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে আলোচনা। গত সপ্তাহের কলামটি পড়ে প্রচুর লোক
ইন্টারনেটে, ফেসবুকে এবং এসএমএস-এর মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বহু লোক
ফোন করেছেন। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে বিশেষ ধন্যবাদ কারণ আজ প্রায় দেড়
মাসের বেশি সময় তিনি মতিঝিলের রাজপথে, গণমানুষের মহব্বতে এবং তাদের
স্বার্থে অবস্থান করছেন। ওই ভৌগোলিক অবস্থান থেকেই তিনি কলাম পড়ে ফোন করে
আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ১২ মার্চ ২০১৫ তারিখে। তার ওখানে (মতিঝিলের
ফুটপাথ) রাজনৈতিক অতিথি হওয়ার জন্য দাওয়াতও দিয়েছেন। নয়া দিগন্ত পত্রিকার
অফিস থেকেও বঙ্গবীরসহ আরো বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির অভিনন্দনের কথা আমাকে
জানানো হয়েছে। বিনয়ের সাথে অভিনন্দন গ্রহণ করছি। রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা
এবং সংগঠক কাদের সিদ্দিকীকে আমার পক্ষ থেকে অভিনন্দন, তার সাহসী
কষ্টসহিষ্ণু অবস্থানের জন্য। তিনি সর্বদাই মুক্তিযুদ্ধ ও জনগণের পক্ষে নয়া
দিগন্ত, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও অন্যান্য পত্রিকায় তার লেখা কলামগুলো
বস্তুনিষ্ঠ ও পাঠকপ্রিয়।
প্রসঙ্গ সাংবাদিক মুন্নি সাহা
মাসাধিক কাল আগে ১৩ ফেব্র“য়ারি ২০১৫ তারিখে বিখ্যাত টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজে রাত সাড়ে ৯টায় একটি টকশোতে উপস্থিত ছিলাম। উপস্থাপক ছিলেন সম্মানিত এবং সুপরিচিত সাংবাদিক মুন্নি সাহা। আলোচনার শেষ চতুর্থাংশে হঠাৎ করে নিতান্তই অপ্রাসঙ্গিকভাবে তিনি বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ওয়ান ম্যান ওয়ান পার্টি। তিনি আমাকে ও আমাদের পার্টিকে অযাচিতভাবে অপ্রাসঙ্গিকভাবে অপমান করেছিলেন। আমি প্রতিবাদ করেছি সাথে সাথে, একপর্যায়ে দাবি করেছি তিনি যেন ক্ষমা চান। সম্মানিত সাংবাদিক মুন্নি সাহা তার ভুলের জন্য জাতির সামনে তাৎক্ষণিক ক্ষমা চান। অনেক অনলাইন পত্রিকা এবং অনেক ব্যক্তি, এটিএন নিউজের ওই লাইভ টকশো থেকে ওইটুকু দৃশ্য (৫১ সেকেন্ড) উদ্ধৃত করে ফেসবুকে শেয়ার করেন। ওই ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওটি আমার টাইমলাইনে আমিও শেয়ার করেছি এবং আরো অগণিত ব্যক্তি ও অনলাইন পত্রিকা নিজেরাই শেয়ার করেছে। শুধু আমার ফেসবুক পোস্ট থেকেই প্রায় দুই লাখ বার ভিউ করা হয়েছে, মানে মানুষ দেখেছেন। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও তার লেখা কলামে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আলোচ্য ঘটনার।
ছোট রাজনৈতিক দল এবং মিডিয়া
ওপরের অনুচ্ছেদ দ্রষ্টব্য। এই কথাটা বললাম এ জন্য যে, আমাদের সামাজিক ব্যবস্থা, আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, আমাদের রাজনীতি ও মিডিয়ার মধ্যে সম্পর্ক এমন যে, ুদ্র রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড, পরিচিতি ইত্যাদি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা খুব মুশকিল। কল্যাণ পার্টি একটি নিবন্ধিত দল; নিবন্ধনের সব শর্ত মেনেই চলছে। ঢাকা মহানগরের নয়াপল্টন এলাকায় মসজিদ গলিতে একটি দালানের ষষ্ঠ তলায় চারশত বর্গফুটের অফিস আছে কল্যাণ পার্টির; একই ফোরে বাংলাদেশ ন্যাপেরও অফিস আছে। ঢাকা মহানগরের মহাখালী এলাকায় কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যানের আলাদা কার্যালয় আছে এক হাজার ৫০০ বর্গফুটের। কল্যাণ পার্টিতে যুব সংগঠন আছে, ছাত্র সংগঠন আছে, মহিলা সংগঠন আছে। নিয়মিত মিটিং ও কাউন্সিল হয়। কল্যাণ পার্টিতে জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক কর্মীর সমাহার কম নয়। অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, আলেম-ওলামা, ইঞ্জিনিয়ার তথা পেশাজীবীরা বিভিন্ন নিয়মে সম্পৃক্ত আছেন। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মেকানিক্যাল-ইঞ্জিনিয়ার অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মুশতাক হোসেন ১৩ মার্চ ২০১৫ দিনের শেষে রাত্রি ১১:৪০ মিনিটে ইন্তেকাল করলেন ৬৮ বছর বয়সে। আমরা তার রূহের মাগফিরাত কামনা করি। সাড়ে ছয় বছর আগে আমাদের বয়স যখন মাত্র বারো মাস তখন ডিসেম্বর ২০০৮-এর নির্বাচনে আমাদের ৩৬ জন প্রার্থী ছিল। সাহসের সাথে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি এবং বিনয়ের সাথে পরাজয় স্বীকার করেছি। মরহুম কর্নেল মুশতাক লাকসাম থেকে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু ওইসব প্রার্থী বা অন্যান্য নেতাকর্মী বা জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা, দেশবাসীর সামনে পরিচিত হবেন কোন নিয়মে? তাদের নিজ নিজ এলাকার মানুষ চেনে, কিন্তু তারা জাতীয় ভিত্তিতে পরিচিত নন। তারা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে যায়, শান্তিপূর্ণ মিছিলে যায়, গঠনমূলক আলোচনা সভায় যায়, নিজ নিজ এলাকায় সময় দেয়। কিন্তু দেশবাসীর কাছে কথাগুলো বা ঘটনাগুলো উপস্থাপন করার সুযোগ ও মাধ্যম স্বাভাবিকভাবেই দু®প্রাপ্য ও খুবই কঠিন। কিছু দিন আগে সরকারের অনুমতি নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সভা করেছিল। আজ থেকে কয়েক দিন আগে টেলিভিশনের টকশোতে ওই পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে কথা প্রসঙ্গে বলতে শুনলাম, ‘সোহরাওয়ার্দীতে আমরা যতবড় মিটিং করেছি, বিএনপি বা আওয়ামী লীগ করলে টিভিগুলো কম্পিটিশন দিয়ে দেখাত; অথচ আমরা ছোট বলে কেউ পাঁচ সেকেন্ড দেখাল, কেউ দেখালই না, কোনো টিভি বলল আবার কোনো টিভি বললও না।’ প্রায় চার মাস আগে, ৪ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে কল্যাণ পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল। প্রেস ক্লাবের বড় হলে ৬০০ থেকে ৭০০ লোকের মিটিং ছিল। স্টেজ ভরা বিভিন্ন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা ছিলেন বিএনপি মহাসচিবসহ। ২০টা টিভি সংবাদে দেখিয়েছে। মুন্নি সাহার টিভিও দেখিয়েছে। কিন্তু শুধু এক দিন বা পাঁচ-সাত দিন দেখলেই, জাতির সামনে সব নেতাকর্মীর পরিচিত হওয়া বা রিকগনিশন পাওয়া মুশকিল, এটাও সত্য। আমরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন চাই। আমাদের যত সদস্য, ততধিক শুভাকাঙ্ক্ষী আছে। আমাদের বড় কষ্ট আর্থিক কষ্ট। মেধার অভাব বা পরিশ্রমের অভাব আমাদের কষ্ট নয়। আমরা সবার সহযোগিতা চাই।
পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন ও জনসংখ্যা
ওপরের অনুচ্ছেদের আলোচনার ধারাবাহিকতায় বলতে চাই যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়টিও বাংলাদেশের রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে অতি সচেতন এবং সোচ্চার। সর্বস্তরের বিশেষত জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদেরা এই সমস্যা অনুধাবন করলে ভালো। এই প্রসঙ্গে অল্পকিছু লিখব আজকের কলামে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংখ্যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০০ ভাগের ১ ভাগের অর্ধেকের কিছু বেশি তথা শূন্য দশমিক পাঁচ পাঁচ। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক আয়তন বাংলাদেশের আয়তনের দশ ভাগের এক ভাগ হলেও বিরাজমান সমস্যাটি আমাদের দেশের অন্য দশটি সমস্যার মতো নয়; অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আয়তন দেখলে হবে না, পার্বত্য চট্টগ্রামের সব ভূমি চাষের যোগ্য নয় বা আবাসযোগ্য নয়, এটাও মনে রাখতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংখ্যা এক শতাংশের কম হলেও, তাদের গুরুত্ব অনেক বেশি। কেন এই আলোচনাটাই অতি সংপ্তিভাবে গত কলামে এবং এই কলামে করছি। সম্ভবত আরো দুই-একটি কলাম লিখতে হবে।
সাংবাদিক ম. হামিদ এবং আগুন
আমরা আজ থেকে ২৬ বছর ১১ মাস পেছনে ফিরে যাই। রমজান মাস চলছিল। তারিখটি হলো ২৪ এপ্রিল ১৯৮৮; সময় হলো তারাবিহর নামাজের পর রাত ৯টা। তৎকালীন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সুপরিচিত সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ আমার অফিসে বসা ছিলেন। আমি খাগড়াছড়ির ব্রিগেড কমান্ডার। তিনি গিয়েছিলেন, ক্ষুদ্র একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম বা প্রামাণ্য চিত্র বানাতে। ম. হামিদ গল্পচ্ছলে যা বলেছিলেন সেটা হুবহু উদ্ধৃত করতে পারছি না, কিন্তু অনেকটা এ রকম ছিল : ‘আপনারা আর্মির লোক সব দিকে ভয়ের কথা ছড়াইতে থাকেন। কয়েক দিন ধরে পড়ে আছি, আপনাদের সাথেই তো চলাফেরা করছি, কই কোনো মারধর, গোলাগুলি বা আগুন তো নেই।’ আমার উত্তর : ‘হামিদ ভাই, এইরূপ প্রার্থনা করবেন না, আল্লাহ যেন আপনার এ রকম কোনো প্রার্থনা কবুল না করেন। গোলাগুলি ও আগুন দেখার শখ ভালো না।’ সম্মানিত পাঠক, বিশ্বাস করতেও পারেন, না-ও করতে পারেন। বাংলা ভাষার দুইটি শব্দ যথা : কাকতালীয় বা ঘটনাক্রমের সাথে আপনারা পরিচিত। এ রকমই কাকতালীয় ঘটনা। আমার কথা শেষ হওয়ার দুই-চার মিনিটের মধ্যেই প্রচণ্ড গোলাগুলির আওয়াজ কানে এসে গেল। জনাব ম. হামিদকে বললাম, আপনি জিতে গেছেন, আপনার প্রার্থনা কবুল হয়েছে, এখন আপনাকে নিয়ে গোলাগুলি এবং আগুনের স্থলে যাবো। ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সঙ্গী-সাথী নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলাম। আমার অফিস থেকে দুই কিলোমিটার উত্তরে কুমিল্লা টিলা নামক বাঙালি গ্রামে আক্রমণ এবং আগুন দিয়েছে শান্তিবাহিনী। গ্রাম পুড়ে গেল, এক ডজন মানুষ আগুনে এবং গুলিতে মরে গেল, অনেক ডজন জখম হলো। পরের দিন এবং তার পরের দিন এবং অব্যাহতভাবে আমাদের চেষ্টা ছিল, যেন অন্যত্র বাঙালিরা পাহাড়িদের গ্রামে প্রতিশোধমূলকভাবে কোনো আক্রমণ না করে। ২৪ এপ্রিলের ঘটনার পর থেকে পরবর্তী ১০-১২ দিন, প্রায় প্রতিদিন শান্তিবাহিনী খাগড়াছড়ি জেলার কোনো-না-কোনো বাঙালি গ্রামে আক্রমণ করছিল এবং আগুন দিচ্ছিল। সাংবাদিক ম. হামিদ ভাইয়ের ক্যামেরার দ্বারা দারুণ উপকার পাওয়া গেল। তিনি অনেক সচিত্র প্রতিবেদন তৈরি করতে পারলেন এসব সহিংসতা প্রসঙ্গে। ২৫ এপ্রিল তারিখে তিনি ছবি এবং কিছু বক্তব্য খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম থেকে আকাশ পথে ঢাকা পাঠালেন। বাংলাদেশের মানুষ ২৫ তারিখ দিনের শেষে রাতের সংবাদে এই নৃশংসতা দেখল। পরবর্তী তিন চার দিন সন্ধ্যাতেই, এইরূপভাবে খাগড়াছড়ি থেকে সচিত্র সংবাদ, বিটিভিতে দেখানো হয়েছে। বাঙালি এবং উপজাতি অনেক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির মৌখিক সাক্ষাৎকারসহ সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করতে পারল যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম নামক একটা জায়গা আছে এবং সেখানে একটা সমস্যা আছে। এই সুবিধাটা পাওয়া গিয়েছে, ঘটনাক্রমে খাগড়াছড়িতে টেলিভিশন ক্যামেরা থাকায়, যখন লোমহর্ষক ঘটনাগুলো ঘটছিল। সে জন্য বলতে বাধ্য যে, উপলব্ধি হয়েছে ভালো কিন্তু বড় মূল্য দিয়ে উপলব্ধি অর্জন করতে হয়েছে।
সমস্যার ব্যাপ্তি অনুধাবন
তখনকার আমলে কেউ বলতেন, এটা মিলিটারি প্রবলেম বা আর্মির সমস্যা। কেউ বলতেন, এটা ভারত সৃষ্টি করেছে। কেউ বলতেন, রাজনীতিবিদেরা এটাতে কোনোমতেই জড়িত না। সেই ২৪ এপ্রিল বা তৎপরবর্তী ঘটনাগুলো মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্ঘাত নিরসনের প্রক্রিয়ার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, ইতিবাচকভাবে। বাংলাদেশের জনমানুষের মানসপটে শান্তিবাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দাঁড়ায়। বাংলাদেশ সরকার সংলাপের মাধ্যমে বিরাজমান পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান চায়, অপরপে শান্তিবাহিনী আক্রমণের মাধ্যমে সমাধান চায়- এরূপ ধারণা মানুষ মিডিয়া থেকে পায়। ৫ মে ১৯৮৮ তারিখে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ খাগড়াছড়ি জেলায় ও জেলা সদরে গিয়েছিলেন। হেলিকপ্টার থেকে এবং মাটিতে সব দেখে ও শুনে আমাদের ওপর অনেক বিরক্ত ছিলেন। অনেক বকাঝকা করলেন। বললেন, এত মানুষ কেন মরছে আমাকে বুঝাও। বোঝার জন্য তিনি ২০ মিনিট সময় দিয়েছিলেন। আমি বিনয়ের সাথে বলেছিলাম, ২০ মিনিটে বলা যাবে না! আমি দুই ঘণ্টা সময় চেয়েছিলাম, আমার আবেগঘন আবেদনে রাজি হয়ে তিনি এবং অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা দুই ঘণ্টা ধরে আমার কথা শুনেছিলেন। শুনে তিনি বলেছিলেন, আমি এর অর্ধেক কথাও জানতাম না। না জানার কারণ, প্রেসিডেন্টের কাছে এত কথা কে বলবে? অথবা এত কথা শোনার সময় প্রেসিডেন্টের কি আছে? শুনলেন তো এমনভাবেই শুনলেন যে, প্রেসিডেন্ট আমাদের আদেশ দিলেন বঙ্গভবনে এসে এই কথাগুলো শুনাতে। ৮ মে ১৯৮৮ বিকেলে ইফতারের আগে দুই-তিন ঘণ্টা সময়। দুই মিনিট বললেন প্রেসিডেন্ট; পাঁচ মিনিট বললেন তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আতিক; পাঁচ মিনিট বললেন তৎকালীন চট্টগ্রামের জিওসি জেনারেল সালাম। এক ঘণ্টা চল্লিশ মিনিট বললাম আমি কর্নেল ইবরাহিম বীর প্রতীক। আধা ঘণ্টার মতো সময় প্রশ্ন এবং উত্তরের জন্য নির্ধারিত ছিল। কাদের সামনে বললাম? সরকারের ক্যাবিনেটে যতজন মন্ত্রী ছিলেন তারা, যতজন সচিব ছিলেন তারা, ঢাকায় যতজন জেনারেল ছিলেন তারা, ঢাকায় জ্যেষ্ঠ ব্রিগেডিয়ার, পুলিশের আইজি এবং আরো চার-পাঁচজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ অফিসার প্রমুখ। প্রেসিডেন্ট এবং সেনাপ্রধান অভয় দিয়েছিলেন যে, তুমি স্পষ্টভাবে সব কথা বলবে, ভয় পাবে না। কারণ আমরা চাই সরকারের নীতিনির্ধারক মহল সমস্যাটি সম্পর্কে অবহিত হোক।
সমস্যার দায়িত্ব হস্তান্তর
সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ছোটকালে ক্যাডেট কলেজে পড়ার আমল থেকেই উপস্থিত বক্তৃতা এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিত। আশির দশকের মাঝখানে তিন বছর বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর মেধাবী মাঝারি চাকরিপর্যায়ের অফিসারদের অপরিহার্য প্রশিণ প্রতিষ্ঠান স্টাফ কলেজের প্রশিক ছিল। অর্থাৎ ইবরাহিমের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে এরূপভাবে কথা গুছিয়ে উপস্থাপনের উদাহরণ যথেষ্ট ছিল। ওই ৮ মে ১৯৮৮ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাটিকে মিলিটারিদের প্লেট (বাসন বা থালা) থেকে বেসামরিকদের প্লেটে হস্তান্তর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদপে ছিল। এটা যে শুধু বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সমস্যা নয়, এটা যে বাংলাদেশের অন্যতম জাতীয় সমস্যা (তথা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, নৃতাত্ত্বিক, জাতিগঠন, অর্থনৈতিক ইত্যাদি) এই কথাটা উপস্থাপন এবং এই কথাটার গ্রহণযোগ্যতা শক্তভাবে শুরু হয় ৮ মে ১৯৮৮ তারিখ থেকে। ৮ মে ১৯৮৮ তারিখের পরবর্তী এক মাসের মধ্যে, সরকারের পাঁচটি ভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পাঁচজন সচিব খাগড়াছড়ি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন এবং একটি করে রাত কাটিয়েছিলেন। ইংরেজিতে কথা আছে- সিইং ইজ বিলিভিং অর্থাৎ দেখলেই বিশ্বাস হয়। খাগড়াছড়িতে সফর করে, ছোট বড় মানুষের সাথে কথা বলে, সচিব মহোদয়রা পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজেদের ধারণা পোক্ত করতে পেরেছিলেন।
নতুন অভিজ্ঞতা
আমি ওপরের দুই-তিনটি অনুচ্ছেদে বোঝাতে চেয়েছি যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান সমস্যাটির স্বরূপ নির্ধারণের প্রক্রিয়ার শুরু কী প্রকারে হয়েছিল। তাহলে পাঠকদের মধ্যে যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো-না-কোনো প্রকারে কোনো-না-কোনো সময়ে চাকরি করেছেন, তাদের মনে প্রশ্ন থাকবে, এত দিন এটা কী প্রকারের সমস্যা ছিল। বস্তুত ১৯৭৫-এর ডিসেম্বরে শান্তিবাহিনী কর্তৃক আক্রমণের মাধ্যমে যেই বিদ্রোহ বা যুদ্ধের সূচনা করা হয়েছিল তার স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছিল বা তার প্রকৃতি উন্মোচিত হতে দু’চার বছর লেগে গিয়েছিল। পাঠক অনুগ্রহপূর্বক ১৯৭৬-৭৭-৭৮-এর বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীগুলোর আকার-আকৃতি ও সাংগঠনিক অবস্থানের কথা খেয়াল করুন। নতুন দেশ নতুন বাহিনী। তার মধ্যে ১৯৭৫-এর ঘটনাবলি। ওই আমলের সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে এইরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করার অভিজ্ঞতার অভাব ছিল। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এইরূপ পরিস্থিতি সামাল দেয়ার অভিজ্ঞতার অভাব ছিল। অর্থাৎ এক দিকে শান্তিবাহিনী তাদের বিদ্রোহী কর্মকাণ্ড বা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, অপর দিকে বাংলাদেশ সরকার সেটা মোকাবেলা করার কলাকৌশল বা প্রক্রিয়ামাত্র রপ্ত করা শুরু করেছে। ঘটনাক্রমে ১৯৭৬-৭৭-৭৮ সালে যিনি বাংলাদেশ সরকারের কর্ণধার ছিলেন, সেনাবাহিনীরও কর্ণধার ছিলেন তিনি। অতএব তিনি তার কনিষ্ঠ সহকর্মীদের মূল দায়িত্বটি দিয়েছিলেন কলাকৌশল ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করার। মেহেরবানি করে খেয়াল করুন যে, ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসের ২৫ তারিখ থেকে মাত্র একটি রাজনৈতিক দল ছিল দেশে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগসহ অন্য সব রাজনৈতিক দলকে বিলুপ্ত করা হয়েছিল। একমাত্র দলটির নাম ছিল বাকশাল। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর, ওই দিনের রাজনৈতিক সামরিক বিদ্রোহের নেতা খন্দকার মোশতাক আহমদ দেশব্যাপী সামরিক শাসন জারি করেছিলেন। আড়াই মাস পর ৩ নভেম্বরের সামরিক বিদ্রোহের মাধ্যমে সংবিধান স্থগিত করে দেয়া হয়েছিল। অতঃপর দেশে কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না। সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, ক্রমান্বয়ে যখন রাজনীতির অঙ্গনে জড়িয়ে পড়ছিলেন তখন তিনি নতুন রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করেন। জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন রাজনীতিবিহীন একটি দেশ চলতে পারে না। তাই জিয়াউর রহমান যখন সংবিধান পুনরায় চালু করেন, তখন তিনি নতুন করে অথবা পুনরায় ১৯৭৫-এর জানুয়ারির আগের মতো বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। জিয়াউর রহমানের হাতেই আওয়ামী লীগও নতুন করে নিজেদের হারানো জীবন ফিরে পায়। আমি ১৯৭৮ সালের কথা বলছি। ওই আমলের রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের নাজুক অবস্থাতেই এত বেশি কাহিল ছিল যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের কথা চিন্তা করার অবকাশ ছিল না। এখন ২০১৫ সালে আরাম-আয়েশে বসে ৩৫ বছর আগের কর্তাব্যক্তিদের দোষ দেয়া সহজ।
জেনারেল জিয়া ও জেনারেল মঞ্জুর
জিয়াউর রহমান দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরেই ১৯৭৮ সালের একসময়, তার দৃষ্টিতে দ সেনা অফিসার ওই আমলের মেজর জেনারেল মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর বীর উত্তমকে চট্টগ্রামের জিওসি নিযুক্ত করেছিলেন। মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর বীর উত্তম অত্যন্ত মেধাবী অফিসার ছিলেন, যথাসময়ে স্টাফ কলেজ থেকে লেখাপড়া শেষ করেন। ১৯৭০-৭১-এ তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নামী-দামি বা অভিজাত প্যারাসুট ব্রিগেডের (সংক্ষেপে প্যারা ব্রিগেড) ব্রিগেড মেজর বা বিএম ছিলেন। ১৯৭১-এর মাঝামাঝিতে তিনি সপরিবার পাকিস্তান থেকে পলায়ন করে, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। তিনি একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের জিওসি ছিলেন প্রায় তিন বছর এবং সেই সময় অনেক কৌশলগত (বা স্ট্র্যাটেজিক) সিদ্ধান্ত তিনি পেয়েছেন, বা নিজে নিয়েছেন এবং সবই বাস্তবায়ন করেছেন। অন্ততপে সামরিক বাহিনীর কাউন্টার ইন্সার্জেন্সি রেওয়াজ বা ধারা তিনি গড়ে তোলেন। আমি ১৯৭৮ সালের প্রথমার্ধে যখন সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক হিসেবে, তখনকার আমলের ফারুয়া ও রাজস্থলী থানার ভৌগোলিক এলাকায় দায়িত্ব পালনরত ছিলাম। তখন একদিন রাজস্থলী বাজার ক্যাম্পে, জিওসি মেজর জেনারেল মঞ্জুর এসেছিলেন। আধাঘণ্টা সময় অবস্থান করেছিলেন। ৮-৯ বছর চাকরির ইবরাহিম, জেনারেল মঞ্জুরের জ্ঞানগর্ভ ধারণাগত আলোচনা এবং দিকনির্দেশনাগুলো আংশিকভাবে বুঝেছিলাম মাত্র। সেই সময় শান্তিবাহিনীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহমূলক যুদ্ধ তুমুলভাবে চলছে। শান্তিবাহিনীর প্রাধান্য বিস্তার করা এলাকা ছিল দণি ও মধ্যম পার্বত্য চট্টগ্রাম অর্থাৎ বর্তমান আমলের বান্দরবান জেলা এবং রাঙ্গামাটি জেলার দক্ষিণাংশ। সামরিক বাহিনীর সামরিক কর্মকাণ্ড এই এলাকাগুলোতেই জোরদার করা হচ্ছিল। শান্তিবাহিনী সর্বপ্রকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান করেই যাচ্ছিল। চাঁদাবাজি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা ছিল। গুম, অপহরণ ও হত্যা প্রায়ই হতো। শ্রমিকদের মেরে ফেলা হতো। পাহাড়িরা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে অভ্যস্ত ছিলেন না, অভ্যাস করতে দেয়াও হচ্ছিল না। এইরূপ পরিস্থিতিতে কী নিয়মে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালু করা ও অব্যাহত রাখা যায় এবং সাথে সাথে সামরিক অপারেশনও পরিচালনা করা যায়, এটা একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রশ্ন ছিল। আগামী সপ্তাহে এ নিয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
লেখক: মেজর জেনারেল (অব:) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
www.generalibrahim.com
প্রসঙ্গ সাংবাদিক মুন্নি সাহা
মাসাধিক কাল আগে ১৩ ফেব্র“য়ারি ২০১৫ তারিখে বিখ্যাত টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজে রাত সাড়ে ৯টায় একটি টকশোতে উপস্থিত ছিলাম। উপস্থাপক ছিলেন সম্মানিত এবং সুপরিচিত সাংবাদিক মুন্নি সাহা। আলোচনার শেষ চতুর্থাংশে হঠাৎ করে নিতান্তই অপ্রাসঙ্গিকভাবে তিনি বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ওয়ান ম্যান ওয়ান পার্টি। তিনি আমাকে ও আমাদের পার্টিকে অযাচিতভাবে অপ্রাসঙ্গিকভাবে অপমান করেছিলেন। আমি প্রতিবাদ করেছি সাথে সাথে, একপর্যায়ে দাবি করেছি তিনি যেন ক্ষমা চান। সম্মানিত সাংবাদিক মুন্নি সাহা তার ভুলের জন্য জাতির সামনে তাৎক্ষণিক ক্ষমা চান। অনেক অনলাইন পত্রিকা এবং অনেক ব্যক্তি, এটিএন নিউজের ওই লাইভ টকশো থেকে ওইটুকু দৃশ্য (৫১ সেকেন্ড) উদ্ধৃত করে ফেসবুকে শেয়ার করেন। ওই ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওটি আমার টাইমলাইনে আমিও শেয়ার করেছি এবং আরো অগণিত ব্যক্তি ও অনলাইন পত্রিকা নিজেরাই শেয়ার করেছে। শুধু আমার ফেসবুক পোস্ট থেকেই প্রায় দুই লাখ বার ভিউ করা হয়েছে, মানে মানুষ দেখেছেন। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও তার লেখা কলামে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আলোচ্য ঘটনার।
ছোট রাজনৈতিক দল এবং মিডিয়া
ওপরের অনুচ্ছেদ দ্রষ্টব্য। এই কথাটা বললাম এ জন্য যে, আমাদের সামাজিক ব্যবস্থা, আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, আমাদের রাজনীতি ও মিডিয়ার মধ্যে সম্পর্ক এমন যে, ুদ্র রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড, পরিচিতি ইত্যাদি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা খুব মুশকিল। কল্যাণ পার্টি একটি নিবন্ধিত দল; নিবন্ধনের সব শর্ত মেনেই চলছে। ঢাকা মহানগরের নয়াপল্টন এলাকায় মসজিদ গলিতে একটি দালানের ষষ্ঠ তলায় চারশত বর্গফুটের অফিস আছে কল্যাণ পার্টির; একই ফোরে বাংলাদেশ ন্যাপেরও অফিস আছে। ঢাকা মহানগরের মহাখালী এলাকায় কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যানের আলাদা কার্যালয় আছে এক হাজার ৫০০ বর্গফুটের। কল্যাণ পার্টিতে যুব সংগঠন আছে, ছাত্র সংগঠন আছে, মহিলা সংগঠন আছে। নিয়মিত মিটিং ও কাউন্সিল হয়। কল্যাণ পার্টিতে জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক কর্মীর সমাহার কম নয়। অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, আলেম-ওলামা, ইঞ্জিনিয়ার তথা পেশাজীবীরা বিভিন্ন নিয়মে সম্পৃক্ত আছেন। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মেকানিক্যাল-ইঞ্জিনিয়ার অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মুশতাক হোসেন ১৩ মার্চ ২০১৫ দিনের শেষে রাত্রি ১১:৪০ মিনিটে ইন্তেকাল করলেন ৬৮ বছর বয়সে। আমরা তার রূহের মাগফিরাত কামনা করি। সাড়ে ছয় বছর আগে আমাদের বয়স যখন মাত্র বারো মাস তখন ডিসেম্বর ২০০৮-এর নির্বাচনে আমাদের ৩৬ জন প্রার্থী ছিল। সাহসের সাথে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি এবং বিনয়ের সাথে পরাজয় স্বীকার করেছি। মরহুম কর্নেল মুশতাক লাকসাম থেকে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু ওইসব প্রার্থী বা অন্যান্য নেতাকর্মী বা জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা, দেশবাসীর সামনে পরিচিত হবেন কোন নিয়মে? তাদের নিজ নিজ এলাকার মানুষ চেনে, কিন্তু তারা জাতীয় ভিত্তিতে পরিচিত নন। তারা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে যায়, শান্তিপূর্ণ মিছিলে যায়, গঠনমূলক আলোচনা সভায় যায়, নিজ নিজ এলাকায় সময় দেয়। কিন্তু দেশবাসীর কাছে কথাগুলো বা ঘটনাগুলো উপস্থাপন করার সুযোগ ও মাধ্যম স্বাভাবিকভাবেই দু®প্রাপ্য ও খুবই কঠিন। কিছু দিন আগে সরকারের অনুমতি নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সভা করেছিল। আজ থেকে কয়েক দিন আগে টেলিভিশনের টকশোতে ওই পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে কথা প্রসঙ্গে বলতে শুনলাম, ‘সোহরাওয়ার্দীতে আমরা যতবড় মিটিং করেছি, বিএনপি বা আওয়ামী লীগ করলে টিভিগুলো কম্পিটিশন দিয়ে দেখাত; অথচ আমরা ছোট বলে কেউ পাঁচ সেকেন্ড দেখাল, কেউ দেখালই না, কোনো টিভি বলল আবার কোনো টিভি বললও না।’ প্রায় চার মাস আগে, ৪ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে কল্যাণ পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল। প্রেস ক্লাবের বড় হলে ৬০০ থেকে ৭০০ লোকের মিটিং ছিল। স্টেজ ভরা বিভিন্ন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা ছিলেন বিএনপি মহাসচিবসহ। ২০টা টিভি সংবাদে দেখিয়েছে। মুন্নি সাহার টিভিও দেখিয়েছে। কিন্তু শুধু এক দিন বা পাঁচ-সাত দিন দেখলেই, জাতির সামনে সব নেতাকর্মীর পরিচিত হওয়া বা রিকগনিশন পাওয়া মুশকিল, এটাও সত্য। আমরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন চাই। আমাদের যত সদস্য, ততধিক শুভাকাঙ্ক্ষী আছে। আমাদের বড় কষ্ট আর্থিক কষ্ট। মেধার অভাব বা পরিশ্রমের অভাব আমাদের কষ্ট নয়। আমরা সবার সহযোগিতা চাই।
পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন ও জনসংখ্যা
ওপরের অনুচ্ছেদের আলোচনার ধারাবাহিকতায় বলতে চাই যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়টিও বাংলাদেশের রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে অতি সচেতন এবং সোচ্চার। সর্বস্তরের বিশেষত জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদেরা এই সমস্যা অনুধাবন করলে ভালো। এই প্রসঙ্গে অল্পকিছু লিখব আজকের কলামে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংখ্যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০০ ভাগের ১ ভাগের অর্ধেকের কিছু বেশি তথা শূন্য দশমিক পাঁচ পাঁচ। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক আয়তন বাংলাদেশের আয়তনের দশ ভাগের এক ভাগ হলেও বিরাজমান সমস্যাটি আমাদের দেশের অন্য দশটি সমস্যার মতো নয়; অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আয়তন দেখলে হবে না, পার্বত্য চট্টগ্রামের সব ভূমি চাষের যোগ্য নয় বা আবাসযোগ্য নয়, এটাও মনে রাখতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংখ্যা এক শতাংশের কম হলেও, তাদের গুরুত্ব অনেক বেশি। কেন এই আলোচনাটাই অতি সংপ্তিভাবে গত কলামে এবং এই কলামে করছি। সম্ভবত আরো দুই-একটি কলাম লিখতে হবে।
সাংবাদিক ম. হামিদ এবং আগুন
আমরা আজ থেকে ২৬ বছর ১১ মাস পেছনে ফিরে যাই। রমজান মাস চলছিল। তারিখটি হলো ২৪ এপ্রিল ১৯৮৮; সময় হলো তারাবিহর নামাজের পর রাত ৯টা। তৎকালীন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সুপরিচিত সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ আমার অফিসে বসা ছিলেন। আমি খাগড়াছড়ির ব্রিগেড কমান্ডার। তিনি গিয়েছিলেন, ক্ষুদ্র একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম বা প্রামাণ্য চিত্র বানাতে। ম. হামিদ গল্পচ্ছলে যা বলেছিলেন সেটা হুবহু উদ্ধৃত করতে পারছি না, কিন্তু অনেকটা এ রকম ছিল : ‘আপনারা আর্মির লোক সব দিকে ভয়ের কথা ছড়াইতে থাকেন। কয়েক দিন ধরে পড়ে আছি, আপনাদের সাথেই তো চলাফেরা করছি, কই কোনো মারধর, গোলাগুলি বা আগুন তো নেই।’ আমার উত্তর : ‘হামিদ ভাই, এইরূপ প্রার্থনা করবেন না, আল্লাহ যেন আপনার এ রকম কোনো প্রার্থনা কবুল না করেন। গোলাগুলি ও আগুন দেখার শখ ভালো না।’ সম্মানিত পাঠক, বিশ্বাস করতেও পারেন, না-ও করতে পারেন। বাংলা ভাষার দুইটি শব্দ যথা : কাকতালীয় বা ঘটনাক্রমের সাথে আপনারা পরিচিত। এ রকমই কাকতালীয় ঘটনা। আমার কথা শেষ হওয়ার দুই-চার মিনিটের মধ্যেই প্রচণ্ড গোলাগুলির আওয়াজ কানে এসে গেল। জনাব ম. হামিদকে বললাম, আপনি জিতে গেছেন, আপনার প্রার্থনা কবুল হয়েছে, এখন আপনাকে নিয়ে গোলাগুলি এবং আগুনের স্থলে যাবো। ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সঙ্গী-সাথী নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলাম। আমার অফিস থেকে দুই কিলোমিটার উত্তরে কুমিল্লা টিলা নামক বাঙালি গ্রামে আক্রমণ এবং আগুন দিয়েছে শান্তিবাহিনী। গ্রাম পুড়ে গেল, এক ডজন মানুষ আগুনে এবং গুলিতে মরে গেল, অনেক ডজন জখম হলো। পরের দিন এবং তার পরের দিন এবং অব্যাহতভাবে আমাদের চেষ্টা ছিল, যেন অন্যত্র বাঙালিরা পাহাড়িদের গ্রামে প্রতিশোধমূলকভাবে কোনো আক্রমণ না করে। ২৪ এপ্রিলের ঘটনার পর থেকে পরবর্তী ১০-১২ দিন, প্রায় প্রতিদিন শান্তিবাহিনী খাগড়াছড়ি জেলার কোনো-না-কোনো বাঙালি গ্রামে আক্রমণ করছিল এবং আগুন দিচ্ছিল। সাংবাদিক ম. হামিদ ভাইয়ের ক্যামেরার দ্বারা দারুণ উপকার পাওয়া গেল। তিনি অনেক সচিত্র প্রতিবেদন তৈরি করতে পারলেন এসব সহিংসতা প্রসঙ্গে। ২৫ এপ্রিল তারিখে তিনি ছবি এবং কিছু বক্তব্য খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম থেকে আকাশ পথে ঢাকা পাঠালেন। বাংলাদেশের মানুষ ২৫ তারিখ দিনের শেষে রাতের সংবাদে এই নৃশংসতা দেখল। পরবর্তী তিন চার দিন সন্ধ্যাতেই, এইরূপভাবে খাগড়াছড়ি থেকে সচিত্র সংবাদ, বিটিভিতে দেখানো হয়েছে। বাঙালি এবং উপজাতি অনেক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির মৌখিক সাক্ষাৎকারসহ সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করতে পারল যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম নামক একটা জায়গা আছে এবং সেখানে একটা সমস্যা আছে। এই সুবিধাটা পাওয়া গিয়েছে, ঘটনাক্রমে খাগড়াছড়িতে টেলিভিশন ক্যামেরা থাকায়, যখন লোমহর্ষক ঘটনাগুলো ঘটছিল। সে জন্য বলতে বাধ্য যে, উপলব্ধি হয়েছে ভালো কিন্তু বড় মূল্য দিয়ে উপলব্ধি অর্জন করতে হয়েছে।
সমস্যার ব্যাপ্তি অনুধাবন
তখনকার আমলে কেউ বলতেন, এটা মিলিটারি প্রবলেম বা আর্মির সমস্যা। কেউ বলতেন, এটা ভারত সৃষ্টি করেছে। কেউ বলতেন, রাজনীতিবিদেরা এটাতে কোনোমতেই জড়িত না। সেই ২৪ এপ্রিল বা তৎপরবর্তী ঘটনাগুলো মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্ঘাত নিরসনের প্রক্রিয়ার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, ইতিবাচকভাবে। বাংলাদেশের জনমানুষের মানসপটে শান্তিবাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দাঁড়ায়। বাংলাদেশ সরকার সংলাপের মাধ্যমে বিরাজমান পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান চায়, অপরপে শান্তিবাহিনী আক্রমণের মাধ্যমে সমাধান চায়- এরূপ ধারণা মানুষ মিডিয়া থেকে পায়। ৫ মে ১৯৮৮ তারিখে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ খাগড়াছড়ি জেলায় ও জেলা সদরে গিয়েছিলেন। হেলিকপ্টার থেকে এবং মাটিতে সব দেখে ও শুনে আমাদের ওপর অনেক বিরক্ত ছিলেন। অনেক বকাঝকা করলেন। বললেন, এত মানুষ কেন মরছে আমাকে বুঝাও। বোঝার জন্য তিনি ২০ মিনিট সময় দিয়েছিলেন। আমি বিনয়ের সাথে বলেছিলাম, ২০ মিনিটে বলা যাবে না! আমি দুই ঘণ্টা সময় চেয়েছিলাম, আমার আবেগঘন আবেদনে রাজি হয়ে তিনি এবং অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা দুই ঘণ্টা ধরে আমার কথা শুনেছিলেন। শুনে তিনি বলেছিলেন, আমি এর অর্ধেক কথাও জানতাম না। না জানার কারণ, প্রেসিডেন্টের কাছে এত কথা কে বলবে? অথবা এত কথা শোনার সময় প্রেসিডেন্টের কি আছে? শুনলেন তো এমনভাবেই শুনলেন যে, প্রেসিডেন্ট আমাদের আদেশ দিলেন বঙ্গভবনে এসে এই কথাগুলো শুনাতে। ৮ মে ১৯৮৮ বিকেলে ইফতারের আগে দুই-তিন ঘণ্টা সময়। দুই মিনিট বললেন প্রেসিডেন্ট; পাঁচ মিনিট বললেন তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আতিক; পাঁচ মিনিট বললেন তৎকালীন চট্টগ্রামের জিওসি জেনারেল সালাম। এক ঘণ্টা চল্লিশ মিনিট বললাম আমি কর্নেল ইবরাহিম বীর প্রতীক। আধা ঘণ্টার মতো সময় প্রশ্ন এবং উত্তরের জন্য নির্ধারিত ছিল। কাদের সামনে বললাম? সরকারের ক্যাবিনেটে যতজন মন্ত্রী ছিলেন তারা, যতজন সচিব ছিলেন তারা, ঢাকায় যতজন জেনারেল ছিলেন তারা, ঢাকায় জ্যেষ্ঠ ব্রিগেডিয়ার, পুলিশের আইজি এবং আরো চার-পাঁচজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ অফিসার প্রমুখ। প্রেসিডেন্ট এবং সেনাপ্রধান অভয় দিয়েছিলেন যে, তুমি স্পষ্টভাবে সব কথা বলবে, ভয় পাবে না। কারণ আমরা চাই সরকারের নীতিনির্ধারক মহল সমস্যাটি সম্পর্কে অবহিত হোক।
সমস্যার দায়িত্ব হস্তান্তর
সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ছোটকালে ক্যাডেট কলেজে পড়ার আমল থেকেই উপস্থিত বক্তৃতা এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিত। আশির দশকের মাঝখানে তিন বছর বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর মেধাবী মাঝারি চাকরিপর্যায়ের অফিসারদের অপরিহার্য প্রশিণ প্রতিষ্ঠান স্টাফ কলেজের প্রশিক ছিল। অর্থাৎ ইবরাহিমের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে এরূপভাবে কথা গুছিয়ে উপস্থাপনের উদাহরণ যথেষ্ট ছিল। ওই ৮ মে ১৯৮৮ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাটিকে মিলিটারিদের প্লেট (বাসন বা থালা) থেকে বেসামরিকদের প্লেটে হস্তান্তর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদপে ছিল। এটা যে শুধু বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সমস্যা নয়, এটা যে বাংলাদেশের অন্যতম জাতীয় সমস্যা (তথা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, নৃতাত্ত্বিক, জাতিগঠন, অর্থনৈতিক ইত্যাদি) এই কথাটা উপস্থাপন এবং এই কথাটার গ্রহণযোগ্যতা শক্তভাবে শুরু হয় ৮ মে ১৯৮৮ তারিখ থেকে। ৮ মে ১৯৮৮ তারিখের পরবর্তী এক মাসের মধ্যে, সরকারের পাঁচটি ভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পাঁচজন সচিব খাগড়াছড়ি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন এবং একটি করে রাত কাটিয়েছিলেন। ইংরেজিতে কথা আছে- সিইং ইজ বিলিভিং অর্থাৎ দেখলেই বিশ্বাস হয়। খাগড়াছড়িতে সফর করে, ছোট বড় মানুষের সাথে কথা বলে, সচিব মহোদয়রা পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজেদের ধারণা পোক্ত করতে পেরেছিলেন।
নতুন অভিজ্ঞতা
আমি ওপরের দুই-তিনটি অনুচ্ছেদে বোঝাতে চেয়েছি যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান সমস্যাটির স্বরূপ নির্ধারণের প্রক্রিয়ার শুরু কী প্রকারে হয়েছিল। তাহলে পাঠকদের মধ্যে যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো-না-কোনো প্রকারে কোনো-না-কোনো সময়ে চাকরি করেছেন, তাদের মনে প্রশ্ন থাকবে, এত দিন এটা কী প্রকারের সমস্যা ছিল। বস্তুত ১৯৭৫-এর ডিসেম্বরে শান্তিবাহিনী কর্তৃক আক্রমণের মাধ্যমে যেই বিদ্রোহ বা যুদ্ধের সূচনা করা হয়েছিল তার স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছিল বা তার প্রকৃতি উন্মোচিত হতে দু’চার বছর লেগে গিয়েছিল। পাঠক অনুগ্রহপূর্বক ১৯৭৬-৭৭-৭৮-এর বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীগুলোর আকার-আকৃতি ও সাংগঠনিক অবস্থানের কথা খেয়াল করুন। নতুন দেশ নতুন বাহিনী। তার মধ্যে ১৯৭৫-এর ঘটনাবলি। ওই আমলের সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে এইরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করার অভিজ্ঞতার অভাব ছিল। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এইরূপ পরিস্থিতি সামাল দেয়ার অভিজ্ঞতার অভাব ছিল। অর্থাৎ এক দিকে শান্তিবাহিনী তাদের বিদ্রোহী কর্মকাণ্ড বা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, অপর দিকে বাংলাদেশ সরকার সেটা মোকাবেলা করার কলাকৌশল বা প্রক্রিয়ামাত্র রপ্ত করা শুরু করেছে। ঘটনাক্রমে ১৯৭৬-৭৭-৭৮ সালে যিনি বাংলাদেশ সরকারের কর্ণধার ছিলেন, সেনাবাহিনীরও কর্ণধার ছিলেন তিনি। অতএব তিনি তার কনিষ্ঠ সহকর্মীদের মূল দায়িত্বটি দিয়েছিলেন কলাকৌশল ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করার। মেহেরবানি করে খেয়াল করুন যে, ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসের ২৫ তারিখ থেকে মাত্র একটি রাজনৈতিক দল ছিল দেশে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগসহ অন্য সব রাজনৈতিক দলকে বিলুপ্ত করা হয়েছিল। একমাত্র দলটির নাম ছিল বাকশাল। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর, ওই দিনের রাজনৈতিক সামরিক বিদ্রোহের নেতা খন্দকার মোশতাক আহমদ দেশব্যাপী সামরিক শাসন জারি করেছিলেন। আড়াই মাস পর ৩ নভেম্বরের সামরিক বিদ্রোহের মাধ্যমে সংবিধান স্থগিত করে দেয়া হয়েছিল। অতঃপর দেশে কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না। সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, ক্রমান্বয়ে যখন রাজনীতির অঙ্গনে জড়িয়ে পড়ছিলেন তখন তিনি নতুন রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করেন। জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন রাজনীতিবিহীন একটি দেশ চলতে পারে না। তাই জিয়াউর রহমান যখন সংবিধান পুনরায় চালু করেন, তখন তিনি নতুন করে অথবা পুনরায় ১৯৭৫-এর জানুয়ারির আগের মতো বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। জিয়াউর রহমানের হাতেই আওয়ামী লীগও নতুন করে নিজেদের হারানো জীবন ফিরে পায়। আমি ১৯৭৮ সালের কথা বলছি। ওই আমলের রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের নাজুক অবস্থাতেই এত বেশি কাহিল ছিল যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের কথা চিন্তা করার অবকাশ ছিল না। এখন ২০১৫ সালে আরাম-আয়েশে বসে ৩৫ বছর আগের কর্তাব্যক্তিদের দোষ দেয়া সহজ।
জেনারেল জিয়া ও জেনারেল মঞ্জুর
জিয়াউর রহমান দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরেই ১৯৭৮ সালের একসময়, তার দৃষ্টিতে দ সেনা অফিসার ওই আমলের মেজর জেনারেল মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর বীর উত্তমকে চট্টগ্রামের জিওসি নিযুক্ত করেছিলেন। মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর বীর উত্তম অত্যন্ত মেধাবী অফিসার ছিলেন, যথাসময়ে স্টাফ কলেজ থেকে লেখাপড়া শেষ করেন। ১৯৭০-৭১-এ তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নামী-দামি বা অভিজাত প্যারাসুট ব্রিগেডের (সংক্ষেপে প্যারা ব্রিগেড) ব্রিগেড মেজর বা বিএম ছিলেন। ১৯৭১-এর মাঝামাঝিতে তিনি সপরিবার পাকিস্তান থেকে পলায়ন করে, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। তিনি একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের জিওসি ছিলেন প্রায় তিন বছর এবং সেই সময় অনেক কৌশলগত (বা স্ট্র্যাটেজিক) সিদ্ধান্ত তিনি পেয়েছেন, বা নিজে নিয়েছেন এবং সবই বাস্তবায়ন করেছেন। অন্ততপে সামরিক বাহিনীর কাউন্টার ইন্সার্জেন্সি রেওয়াজ বা ধারা তিনি গড়ে তোলেন। আমি ১৯৭৮ সালের প্রথমার্ধে যখন সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক হিসেবে, তখনকার আমলের ফারুয়া ও রাজস্থলী থানার ভৌগোলিক এলাকায় দায়িত্ব পালনরত ছিলাম। তখন একদিন রাজস্থলী বাজার ক্যাম্পে, জিওসি মেজর জেনারেল মঞ্জুর এসেছিলেন। আধাঘণ্টা সময় অবস্থান করেছিলেন। ৮-৯ বছর চাকরির ইবরাহিম, জেনারেল মঞ্জুরের জ্ঞানগর্ভ ধারণাগত আলোচনা এবং দিকনির্দেশনাগুলো আংশিকভাবে বুঝেছিলাম মাত্র। সেই সময় শান্তিবাহিনীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহমূলক যুদ্ধ তুমুলভাবে চলছে। শান্তিবাহিনীর প্রাধান্য বিস্তার করা এলাকা ছিল দণি ও মধ্যম পার্বত্য চট্টগ্রাম অর্থাৎ বর্তমান আমলের বান্দরবান জেলা এবং রাঙ্গামাটি জেলার দক্ষিণাংশ। সামরিক বাহিনীর সামরিক কর্মকাণ্ড এই এলাকাগুলোতেই জোরদার করা হচ্ছিল। শান্তিবাহিনী সর্বপ্রকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান করেই যাচ্ছিল। চাঁদাবাজি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা ছিল। গুম, অপহরণ ও হত্যা প্রায়ই হতো। শ্রমিকদের মেরে ফেলা হতো। পাহাড়িরা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে অভ্যস্ত ছিলেন না, অভ্যাস করতে দেয়াও হচ্ছিল না। এইরূপ পরিস্থিতিতে কী নিয়মে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালু করা ও অব্যাহত রাখা যায় এবং সাথে সাথে সামরিক অপারেশনও পরিচালনা করা যায়, এটা একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রশ্ন ছিল। আগামী সপ্তাহে এ নিয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
লেখক: মেজর জেনারেল (অব:) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
www.generalibrahim.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
BNM Special
BNM Archive
- ► 2026 (1580)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
March
(1092)
-
▼
Mar 18
(50)
- দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ...
- প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন সালাহ উদ্দিনের স্ত...
- নিরাপরাধ ছাত্রদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাজাতেই অস্ত্র উ...
- আমরা সৃষ্টি করছি আর খালেদা জিয়া ধ্বংস করছেন -প্রধা...
- সবাই আপনার শত্রু এই বোধ নিয়ে রাষ্ট্র চালানো যায় না...
- ‘চলমান আন্দোলন আরও বেগবান করুন’ -বরকতউল্লাহ বুলু
- গণতন্ত্র না থাকলে জঙ্গিপনার উত্থান -ড. নাসিম আখতার...
- যেভাবে তুলে নেয়া হয় সালাহউদ্দিনকে -স্বাধীন তদন্ত দ...
- রাজনীতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্পর্ক নিয়ে বোঝা...
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকেই ইঙ্গিত
- নহরকে নিয়ে মনীষার ইচ্ছা by সিরাজুস সালেকিন
- নির্বাচনই শান্তির নতুন বাতাবরণ by সৈয়দ আবদাল আহমদ
- ‘রক্তের শেষ বিন্দু দিয়ে চেষ্টা করব’ -মাশরাফি বিন ম...
- নদীতীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু
- ২৩ বছর পর ছেলেকে ফিরে পেলেন মা
- বৃটেনে শীর্ষ দশ অপরাধীর তালিকায় বাংলাদেশী জাহাঙ্গীর
- আন্দোলনে বিএনপিকে বিরতি টানতেই হবে by এ কে এম জাক...
- যে প্রশ্নের উত্তর সহজ নয় by সলিল ত্রিপাঠি
- ‘বাংলাদেশ পরিস্থিতি অত্যন্ত পীড়াদায়ক’
- সুইয়ে গাঁথা জীবন
- স্কুলছাত্র সাঈদ হত্যার কিলিং মিশনে অংশ নেয় ৬ জন, স...
- মেধা, যোগ্যতা ও কোটা by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- পশ্চিমবঙ্গে কাজী নজরুল বিমানবন্দর
- ভিন্ন কিছুর চিন্তা করেও হরতালই দিল বিএনপি
- জীবনের চেয়ে খেলা কি বড়? by বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ...
- তৃতীয় শক্তি হচ্ছে আরব জোট?
- নেতানিয়াহুর দিন শেষ?
- ভারতের সঙ্গে খেলাটা শুধুই খেলা নয় by উৎপল শুভ্র
- ভারতের রেলওয়েকে সঠিক পথে আনতে হবে by শশী থারুর
- জয়দেবপুর থেকে অপহরণের পর শিশু ইমনকে হত্যা
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা -জবাবদিহির আ...
- শিশু হত্যায় পুলিশ! সরকারের টনক নড়বে কবে?
- কর কর্মকর্তা তাহেরের খুনির স্বীকারোক্তি: ‘খাটে উঠে...
- অচল বাংলাদেশ
- আত্মহত্যাকারীদের পছন্দের জঙ্গল! by ইমরান আলী
- ব্যাটের গ্রাম নরেন্দ্রপুর by নূর ইসলাম
- মৌখিক পরীক্ষায় কারসাজি চাকরি পাচ্ছেন না মেধাবীরা
- সম্রাট বাবরের উইলপত্র ও আমরা by ড. মুহম্মদ মোয়াজ্জ...
- বিএনপিকে আরও চেপে ধরছে সরকার by আবদুল্লাহ আল মামুন
- খালেদার বিরুদ্ধে ১/১১-এর সব মামলা সচল হচ্ছে by হাব...
- বঙ্গবন্ধু স্বমহিমায় ভাস্বর by ইকতেদার আহমেদ
- টাকার অভাবে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে না...
- রাত পোহাবার কত দেরি? by ড. এম এ সবুর
- যেকোনো রাজনৈতিক সমস্যা কথা বলেই সমাধান করা যায় : ব...
- ভয়ানক অপরাধের বিস্তৃতি : মানুষ আতঙ্কিত by আবু সালে...
- ক্যাপটিভ নিয়ে ষড়যন্ত্র by মুজিব মাসুদ
- সালাহ উদ্দিনের স্বজনরা গভীর উৎকণ্ঠায় by কবির হোসেন
- শিশু আবু সাঈদ হত্যা- মামাতো দুই ভাইকেও অপহরণের হুম...
- আরেকটি নির্বাচনের কথা বললেও সরকার এখন বেমালুম ভুলে...
- সরকারি জুজু : জনস্বার্থে নাকি গোষ্ঠিস্বার্থে? by স...
-
▼
Mar 18
(50)
-
▼
March
(1092)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
আমার দেশ
ফুটবল খেলা
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
ইরান
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
মুসলিম
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সাক্ষাৎকার
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
বিজ্ঞান ও গবেষণা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
মাদক
সন্ত্রাস
আফ্রিকা
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
ছুটির দিনে
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
সংখ্যালঘু
সৈয়দ আবুল মকসুদ
নকশা
তুরস্ক
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
দুর্ঘটনা
অপহরণ
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
স্বাস্থ্য
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
জ্যোতির্বিজ্ঞান
সড়ক দুর্ঘটনা
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
জাপান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
লেবানন
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
জীবনযাপন
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
যশোর
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
রসালোচনা
কলকাতা
কামরুজ্জামান মিলু
বরগুনা
আনু মুহাম্মদ
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
তথ্য প্রযুক্তি
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
Exclusive
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
ইয়েমেন
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
তুহিন ওয়াদুদ
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
কুষ্টিয়া
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
জনস্বাস্থ্য
প্রযুক্তি
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
শিশির মোড়ল
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
লাতিন আমেরিকা
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
আরব আমিরাত বা দুবাই
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
Fantastic
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
জোহরান মামদানি
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
ইসলামী ছাত্রশিবির
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইহুদি
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
স্পেন
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কলম্বিয়া
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
চিঠিপত্র
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
তিউনিসিয়া
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কুয়েত
চুক্তি
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শেরপুর
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
রাজবাড়ী
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অমানবিকতা
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট

No comments:
Post a Comment