Wednesday, March 18, 2015
নির্বাচনই শান্তির নতুন বাতাবরণ by সৈয়দ আবদাল আহমদ
নির্বাচনই শান্তির নতুন বাতাবরণ by সৈয়দ আবদাল আহমদ
বাংলাদেশে
এ মুহূর্তে একটি নির্বাচনই বসন্ত এনে দিতে পারে। বন্ধ করতে পারে
অবরোধ-হরতাল, পেট্রলবোমা, গুম আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সব বিভীষিকা।
একটি নির্বাচনই সঙ্কট সুরাহা করে বইয়ে দিতে পারে শান্তির নতুন বাতাবরণ।
এমন একটি নির্বাচন কতদূর? না, এমন নির্বাচনের গন্তব্য সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না। সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তেও এক চিলতে আলো দেখা যাচ্ছে না। তবে এক নিমিষে আলো ছড়িয়ে দিতে পারেন রাজনীতির দুই নেত্রী। শুধু প্রয়োজন দু’জনের আন্তরিকতা। এই একটি বিষয়ে প্রয়োজন দু’জনের এককণ্ঠ, ঐকমত্য। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি বলতে পারেনÑ আসুন নির্বাচন হবে, সংলাপে বসি। আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যদি বলতে পারেনÑ ঠিক আছে, অবরোধ হরতাল আর হবে না। তাহলেই আর কোনো সমস্যা থাকে না।
শেখ হাসিনা তার অবস্থানে এখনো অনড়। তিনি কিছুতেই সংলাপ চান না। খালেদা জিয়া অবশ্য তার অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন। সঙ্কটের গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান হোক, তা তিনি চাচ্ছেন। ১৩ মার্চ গুলশান কার্যালয়ে তিনি যে সংবাদ সম্মেলন করেন তাতে সে ইঙ্গিত রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন তার সংবাদ সম্মেলনে নতুন কিছু নেই। সেটা ঠিক নয়। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের কঠোর অবস্থান কিছুটা হলেও পরিবর্তন করেছেন। ‘সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য সরকারের’ অধীনে নির্বাচনে তার আপত্তি নেই। তেমনি বর্তমান দশম সংসদকে তথাকথিত বললেও সেই সংসদে একতরফা পঞ্চদশ সংশোধনী সরকার বাতিলও করে দিতে পারে এবং ১৯৯৬ সালের মতো নতুন সংবিধান সংশোধন বিলও আনতে পারে বলে তিনি মত দিয়েছেন। চলমান অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহারের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছু না বললেও ২৬ মার্চ বাংলাদেশের ৪৫তম স্বাধীনতা দিবস ঐক্যবদ্ধভাবে উদযাপনের আশাও তিনি করেছেন।
খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে বলেছেন, আজকের সঙ্কট সমাধানের চাবিকাঠি ক্ষমতাসীনদের হাতে। সঙ্কট নিরসনের মাধ্যমে তারা সেই কাক্সিত জাতীয় ঐক্যের পথ খুলে দিতে পারে। উপায় হিসেবে তিনি বেশ কয়েকটি পথ দেখিয়েছেন। বলেছেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সবার অংশগ্রহণে দ্রুত একটি নির্বাচনের আয়োজন করলেই সঙ্কটের সুরাহা হবে। এ নিয়ে ক্ষমতাসীনেরা যদি কোনো আলোচনা করতে না চায়, তাহলে তারা এককভাবেও সমস্যা সমাধান করে ফেলতে পারে। আর তা হচ্ছে তথাকথিত হলেও একটি সংসদের অধিবেশন এখন চলছে। একতরফাভাবে যে বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনী তারা পাস করেছে তা একতরফাভাবে ওই সংসদে বাতিলও করে দিতে পারে। তাতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের পথ খুলবে। এই সংশোধনীর পর বর্তমান ক্ষমতাসীনেরা পদত্যাগ করে নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা করলে আর সঙ্কট থাকবে না। শেখ হাসিনা সরকারের জন্য উদার হওয়ার অনেকটা সুযোগ এসেছে। সরকার জেদ পরিহার করে উদারতা দেখাতে পারলে সত্যিই বিপদ কেটে যায়।
বিষয়টি এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আলোচনা কি আকাশে হবে? খুনির সাথে কোনো আলোচনা হতে পারে না। একই দিন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও অনুরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, শান্তির পরিবেশ এলে আলোচনা হলেও হতে পারে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি মনে করেন সঙ্কট আর থাকা উচিত নয়, তাহলে সহজেই বিষয়টির সুরাহা হবে। কারণ শুধু খালেদা জিয়াই নন, গোটা জাতিই মনে করে সঙ্কট সমাধানের চাবিকাঠি শেখ হাসিনার হাতে। তার ইচ্ছার ওপরই সমাধান নির্ভর করছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিষয়টা সমাধান করলেই হয়।
শেখ হাসিনা তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন অলঙ্কৃত করেছেন। তার বয়স এখন সত্তরের কাছাকাছি। ইচ্ছা করলেই তিনি সঙ্কটের সমাধানে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারেন। এমন একটি জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি করতে পারেন, যাতে দেশে আর কখনো রাজনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি না হয়। এমন একটি জাতীয় সনদ তিনি তৈরির উদ্যোগ নিতে পারেন, যার মধ্যে সব রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করবে। পাঁচ বছর পর পর ‘আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো’Ñ সেøাগানের সত্যিকার প্রতিফলন ঘটবে। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এগিয়ে যাবে।
বর্তমান সঙ্কট যে কারণে
দেশের বর্তমান সঙ্কটের মূলে রয়েছে গত বছরের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন। জনগণের ভোটের অধিকারকে এ নির্বাচনে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা হয়। নির্লজ্জ প্রহসনের অংশ হিসেবে এ নির্বাচনে ভোট ছাড়াই সংসদের ১৫৩টি অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বর্তমান ক্ষমতাসীনেরা নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করে। বাকি ১৪৭টি আসনে গড়ে ৫ শতাংশ ভোটও পড়েনি। সেদিন নির্বাচন কেন্দ্রগুলোয় কুকুর-বিড়াল ঘুমিয়ে থাকার দৃশ্য দৈনিক পত্রিকায় প্রধান ছবি হিসেবে ছাপা হয়েছে। প্রচণ্ড সহিংসতাপূর্ণ এ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটগ্রহণের আগের দিন পর্যন্ত ৪১ দিনে নিহত হয়েছেন ১২৩ জন। আর ভোটের দিন সংহিসতায় মারা গেছেন ১৯ জন। ভোটের দিন এতসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি এর আগে দেখা যায়নি। ৫৯টি কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। দেশের জনগণ কোনোভাবেই সেই ভোটহীন, ভোটারহীন ও প্রার্থীহীন নির্বাচন মেনে নেয়নি। নির্বাচনে শাসক দলের আজ্ঞাবহ কয়েকটি দল ছাড়া দেশের আর কোনো রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি। বৃহত্তম বিরোধী দল বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে এবং অর্ধেকের বেশি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বলে ঘোষণা দিয়ে এক বিচিত্র সংসদ গঠিত হয়। এ সংসদের বিরোধী দলের সদস্যরা একসাথে বিরোধী দলেও আছে, আবার সরকারের মন্ত্রিসভায়ও আছে।
বিতর্কিত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বলেছিলেন, ‘সংবিধানের বাধ্যবাধতার কারণে এটা একটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। সবার সাথে আলোচনা করে আবার পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন করা হবে।’ অর্থাৎ ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রধানমন্ত্রীর মতেই ছিল অপূর্ণাঙ্গ, অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান ‘ফলাফল শূন্য খেলায় নেমেছেন রাজনীতিকরা’ শীর্ষক তার এক লেখায় উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কটের সূচনা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। সেই রাজনৈতিক সমস্যার উৎস থেকে শাসকগোষ্ঠী দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছে বলেই মনে হয়। এক বছর ধরে শাসকেরা নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেছে। ওই নির্বাচনের আগে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, জানুয়ারির ওই নির্বাচন ছিল সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সীমাবদ্ধতাকে কাটিয়ে ওঠার জন্য তারা গ্রহণযোগ্যমূলক মধ্যবর্তী একটি নির্বাচন দেবে। ওই নির্বাচনটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ, এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সবাই পূর্ণাঙ্গভাবে ওয়াকিবহাল। ... ... আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে নেতৃত্বদানকারী একটি দল। তাদের ঐতিহাসিক রীতির সাথে এ ঘটনা মিলানো যায় না। পরিষ্কার নির্বাচনী ম্যান্ডেট ছাড়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার যে প্রবণতা তা তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে নেই। আওয়ামী লীগ যদি তার নিজেকে পিছলে পড়ে যেতে পারে এমন একটি পাহাড়ের ঢালে নিয়ে যায়, তখন গণতন্ত্র নিজে বিপন্ন হবে। বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে তাই সুষ্ঠুভাবে গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট অর্জনের মাধ্যমে সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধান করতে এগিয়ে যেতে হবে।’
সঙ্কটে বিপর্যস্ত দেশ
ভুয়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সঙ্কট বর্তমানে দেশকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশ এক প্রকার অচল হয়ে আছে। এক দিকে চলছে প্রতিরোধ আন্দোলন, অবরোধ-হরতাল, অন্য দিকে সরকারি বাহিনীর বন্দুকের গুলিতে সহিংসতায় দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে মৃত আর দগ্ধ মানুষের সারি, সরকারি সব বাহিনীর অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা প্রয়োগ। চলমান আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তাদের দমনের নামে সরকারি বাহিনী সরাসরি বুকে গুলি করে মানুষ হত্যা করছে। হত্যার পর সেই পুরনো পন্থায় বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে নিহতের হয়েছে বলে মিথ্যা কল্পকাহিনীর প্রচার করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধে’র নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা চলছে বেপরোয়াভাবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবেই রাজনৈতিক কর্মীদের গাড়ির নিচে চাপা দিয়ে কিংবা সারা শরীরে অসংখ্য গুলিবিদ্ধ মৃত ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে মৃত বলে দেখানো হচ্ছে। ১৪ মার্চ অবরোধের ৬৮তম দিনে সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে ১২১ জন। এর মধ্যে ক্রসফায়ার ‘গণপিটুনি’ তথা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ৩৭ জন (প্রথম আলো)। দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া হিসাবেই চলমান সঙ্কটে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থা বিপর্যস্ত। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, এই ভয়াবহ সঙ্কট সমাধানের কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।
সংলাপ কেন প্রয়োজন
সরকার সমস্যার মূলে না গিয়ে বলপ্রয়োগ করে সমাধান চাচ্ছে। কিন্তু বলপ্রয়োগ কখনই সমস্যার সমাধান নয়। জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব এবং দেশের সর্বমহল থেকে তাই সঙ্কট সমাধানে দুই রাজনৈতিক পক্ষকে দ্রুত সংলাপে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো কর্ণপাতই করা হচ্ছে না। সরকার একটি ন্যায্য রাজনৈতিক আন্দোলনকে ধ্বংসাত্মক বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করার ব্যর্থ প্রয়াসই চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। অস্ত্রের ভাষা যে রাজনীতির ভাষা হতে পারে না, সে কথা কিছুতেই তারা বুঝতে চাচ্ছে না। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গোটা জাতি তাই চিন্তিত। মানুষের মুক্তি মিলছে না আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার অন্ধকার থেকে। চার দিকের দমবন্ধ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায় মানুষ।
বাংলাদেশের মানুষের এই শঙ্কা ও দমবন্ধ অবস্থা এবং বিরাজমান ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসঙ্ঘ, যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতর, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থা। তারা চরম বৈরী অবস্থান থেকে সরে এসে প্রকৃত গণতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে উভয়পক্ষকে সঙ্কট নিরসনে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসঙ্ঘে বড় বড় বিশ্ব সমস্যার সাথে প্রথম যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। বাংলাদেশের ঘটনায় জাতিসঙ্ঘের পক্ষ থেকে প্রথমে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশন উদ্বেগ জানায়। এরপর জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বান কি মুন বিবৃতির মাধ্যমে উদ্বেগ জানিয়ে দুই পক্ষকে সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করে সংলাপে বসার আহ্বান জানান। উদ্বিগ্ন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব সরকারের সাথে সমন্বয়ের জন্য সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব পেয়েই তারানকো দক্ষিণ ও মধ্যএশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেসাই বিসওয়ালের সাথে বৈঠক করেন। একই সাথে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব দুই নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সঙ্কট সমাধানে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেন। সন্ত্রাসবিরোধী সম্মেলনে যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী সম্প্রতি ওয়াশিংটনে গেলে তার সাথেও বৈঠক করে আবারো সংলাপের আহ্বান জানান জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিকের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ পরিস্থিতি প্রায় প্রতিদিনই উঠছে।
ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ব্রিফিংয়েও উঠে আসছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশের ঘটনায় উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সাথে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও বৈঠক করেন। তিনি বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে সহযোগিতারও প্রস্তাব করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্ট বাংলাদেশের অচলাবস্থায় উদ্বেগ জানিয়ে শুধু বিবৃতিই দেয়নি, ইইউর মানবাধিকারবিষয়ক একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেও গেছে। ক্রিশ্চিয়ান ড্যান প্রেডার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই প্রতিনিধিদল বিএনপি, আওয়ামী লীগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নোবেল বিজয়ী ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস, মানবাধিকার কমিশন, আইনমন্ত্রী, স্পিকারসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে ২৬টি বৈঠকে মিলিত হয়। সফর শেষে এক বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানায় ইইউ। বিবৃতিতে তারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে বাংলাদেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইইউ রাজনৈতিক সঙ্কটের সুরাহা ও ক্রমবর্ধমান সহিংসতার অবসানের আহ্বান জানিয়েছে। সুস্পষ্টভাবে বলেছে, শান্তি ও স্থিতিশীলতা রাজনৈতিক অধিকারের বিনিময়ে হতে পারে না। বিবৃতিতে বলপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণগ্রেফতার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ব্যাপারেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের তাগিদ
আওয়ামী লীগ বলয়ের বাইরের সব রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ সংলাপের মাধ্যমে সঙ্কট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে নাগরিক সমাজের উদ্যোগটি সবার দৃষ্টি কেড়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় সঙ্কট নিরসনে জাতীয় সংলাপ’ শিরোনামে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশনে একটি গোলটেবিল হয়। এই গোলটেবিলে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশ নেন। দেশের অবস্থা বর্ণনা করে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ সৃষ্টি হয়েছে। একপক্ষ আরেক পক্ষকে শেষ করে দিতে চাইছে। এ গোলটেবিল সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনকে সংলাপের শুভ উদ্যোগ নিতে আকুতি জানিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়া হয়। রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টির জন্য তাদের কাছে একটি প্রস্তাবও পাঠানো হয়। তারা সংলাপের আহ্বানের পাশাপাশি একটি জাতীয় সনদ তৈরির জন্য ১২ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেন। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আরেকটি গোলটেবিল আলোচনা থেকে পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের জন্য ঐকমত্যের সরকার প্রতিষ্ঠায় সংলাপের আহ্বান জানান। তিনি জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বরাবরে চিঠি পাঠিয়েও বাংলাদেশের সঙ্কট নিরসনে সহযোগিতা কামনা করেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা: এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী চলমান সঙ্কট নিরসনে দুই নেত্রী এবং দুই পক্ষকে সংলাপে বসাতে প্রতীকী গণ-অনশন করেন দলের কার্যালয়ে। তিনি বলেন, সঙ্কট নিরসনে সংলাপ করতেই হবে। দেশে আজ যা কিছু হচ্ছে তার জন্য দায়ী ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য একটি নিয়মরক্ষার নির্বাচন করতে হবে। সে কথা তিনি ভুলে গেছেন। ফলে যে রাজনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে, সংলাপ ছাড়া উত্তরণের উপায় নেই।
গণফোরাম সভাপতি ডক্টর কামাল হোসেন একাধিকবার বলেছেন, সঙ্ঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে প্রয়োজন জাতীয় সংলাপ। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম ২৮ জানুয়ারি থেকে মতিঝিলে দলের অফিসের সামনে ফুটপাথে রাত দিন অবস্থান করছেন দুই নেত্রীর সংলাপের দাবিতে। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না গ্রেফতার হওয়ার আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থান করে বলেছেন, সঙ্কট উত্তরণের জন্যই সংলাপ। সংলাপের প্রস্তাবে সাড়া না দিলে প্রধানমন্ত্রী এক সময় কথা বলারও সুযোগ পাবেন না। টেলিভিশনের টকশোগুলোতেও বিশিষ্টজনেরা প্রতিদিনই সংলাপের তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন। অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের একটি বক্তব্য এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করার মতো। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘সংলাপ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু যদি ৭ মার্চের পরও পাকিস্তানিদের সাথে সংলাপে বসতে পারেন, তাহলে আপনি কেন পারবেন না।’
তোপের মুখে সংলাপ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের নেতারা এখন পর্যন্ত সংলাপের ব্যাপারে বিরূপ প্রতিক্রিয়াই দেখিয়ে আসছেন। যারাই সংলাপের আহ্বান বা পরামর্শ দিচ্ছেন, তারা তোপের মুখে পড়ছেন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস-এর সাথে তুলনা করে তাদের সাথে কোনো সংলাপ বা আলোচনা না করার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ। অবরোধের ৩১ দিন পর অনুষ্ঠিত সরকারি দলের ওই বৈঠক শেষে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ সিদ্ধান্ত জানান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আইএস ও খালেদা জিয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তিনি ‘খুনি’ ও ‘দানব’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, সংলাপের প্রস্তাব অবাস্তব, অগ্রহণযোগ্য। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি এম ইমাম বলেন, নাগরিক সমাজের একমাত্র শামসুল হুদা ছাড়া অন্য সবার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। তাদের নিশ্চয়ই এজেন্ডা আছে। আততায়ীর সাথে কিসের সংলাপ? ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যারা আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের সাথে সংলাপ হতে পারে না।
দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে হাত মেলান
একগুঁয়েমি দেখালে চলবে না। দেশের কথা ভাবতে হবে। মানুষের কথা ভাবতে হবে। জনগণকে আস্থায় নিতে হবে। জনগণের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণকে পাশ কাটিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দলবাজ কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করে হয়তো সাময়িক ক্ষমতায় থাকা যাবে। কিন্তু এক সময় তা বুমেরাং হতে বাধ্য। আওয়ামী লীগ ৬৫ বছরের একটি পুরনো রাজনৈতিক দল। রাজনীতিতে বিএনপিরও হয়েছে ৩৭ বছর। রাজনীতির মাঠে একে অপরকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করা উচিত। শত্রুতার বশবর্তী হয়ে নয়। একে অপরকে নির্মূল করে দেয়ার বর্তমান মানসিকতা এখনই পরিহার করতে হবে। উভয়েরই উচিত জনগণের সন্তুষ্টি অর্জনে কাজ করা। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আর বিরোধ না বাড়িয়ে একে অপরের প্রতি হাত বাড়িয়ে দিন।
লেখক : জাতীয় প্রেস কাবের সাধারণ সম্পাদক
এমন একটি নির্বাচন কতদূর? না, এমন নির্বাচনের গন্তব্য সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না। সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তেও এক চিলতে আলো দেখা যাচ্ছে না। তবে এক নিমিষে আলো ছড়িয়ে দিতে পারেন রাজনীতির দুই নেত্রী। শুধু প্রয়োজন দু’জনের আন্তরিকতা। এই একটি বিষয়ে প্রয়োজন দু’জনের এককণ্ঠ, ঐকমত্য। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি বলতে পারেনÑ আসুন নির্বাচন হবে, সংলাপে বসি। আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যদি বলতে পারেনÑ ঠিক আছে, অবরোধ হরতাল আর হবে না। তাহলেই আর কোনো সমস্যা থাকে না।
শেখ হাসিনা তার অবস্থানে এখনো অনড়। তিনি কিছুতেই সংলাপ চান না। খালেদা জিয়া অবশ্য তার অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন। সঙ্কটের গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান হোক, তা তিনি চাচ্ছেন। ১৩ মার্চ গুলশান কার্যালয়ে তিনি যে সংবাদ সম্মেলন করেন তাতে সে ইঙ্গিত রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন তার সংবাদ সম্মেলনে নতুন কিছু নেই। সেটা ঠিক নয়। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের কঠোর অবস্থান কিছুটা হলেও পরিবর্তন করেছেন। ‘সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য সরকারের’ অধীনে নির্বাচনে তার আপত্তি নেই। তেমনি বর্তমান দশম সংসদকে তথাকথিত বললেও সেই সংসদে একতরফা পঞ্চদশ সংশোধনী সরকার বাতিলও করে দিতে পারে এবং ১৯৯৬ সালের মতো নতুন সংবিধান সংশোধন বিলও আনতে পারে বলে তিনি মত দিয়েছেন। চলমান অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহারের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছু না বললেও ২৬ মার্চ বাংলাদেশের ৪৫তম স্বাধীনতা দিবস ঐক্যবদ্ধভাবে উদযাপনের আশাও তিনি করেছেন।
খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে বলেছেন, আজকের সঙ্কট সমাধানের চাবিকাঠি ক্ষমতাসীনদের হাতে। সঙ্কট নিরসনের মাধ্যমে তারা সেই কাক্সিত জাতীয় ঐক্যের পথ খুলে দিতে পারে। উপায় হিসেবে তিনি বেশ কয়েকটি পথ দেখিয়েছেন। বলেছেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সবার অংশগ্রহণে দ্রুত একটি নির্বাচনের আয়োজন করলেই সঙ্কটের সুরাহা হবে। এ নিয়ে ক্ষমতাসীনেরা যদি কোনো আলোচনা করতে না চায়, তাহলে তারা এককভাবেও সমস্যা সমাধান করে ফেলতে পারে। আর তা হচ্ছে তথাকথিত হলেও একটি সংসদের অধিবেশন এখন চলছে। একতরফাভাবে যে বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনী তারা পাস করেছে তা একতরফাভাবে ওই সংসদে বাতিলও করে দিতে পারে। তাতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের পথ খুলবে। এই সংশোধনীর পর বর্তমান ক্ষমতাসীনেরা পদত্যাগ করে নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা করলে আর সঙ্কট থাকবে না। শেখ হাসিনা সরকারের জন্য উদার হওয়ার অনেকটা সুযোগ এসেছে। সরকার জেদ পরিহার করে উদারতা দেখাতে পারলে সত্যিই বিপদ কেটে যায়।
বিষয়টি এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আলোচনা কি আকাশে হবে? খুনির সাথে কোনো আলোচনা হতে পারে না। একই দিন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও অনুরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, শান্তির পরিবেশ এলে আলোচনা হলেও হতে পারে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি মনে করেন সঙ্কট আর থাকা উচিত নয়, তাহলে সহজেই বিষয়টির সুরাহা হবে। কারণ শুধু খালেদা জিয়াই নন, গোটা জাতিই মনে করে সঙ্কট সমাধানের চাবিকাঠি শেখ হাসিনার হাতে। তার ইচ্ছার ওপরই সমাধান নির্ভর করছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিষয়টা সমাধান করলেই হয়।
শেখ হাসিনা তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন অলঙ্কৃত করেছেন। তার বয়স এখন সত্তরের কাছাকাছি। ইচ্ছা করলেই তিনি সঙ্কটের সমাধানে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারেন। এমন একটি জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি করতে পারেন, যাতে দেশে আর কখনো রাজনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি না হয়। এমন একটি জাতীয় সনদ তিনি তৈরির উদ্যোগ নিতে পারেন, যার মধ্যে সব রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করবে। পাঁচ বছর পর পর ‘আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো’Ñ সেøাগানের সত্যিকার প্রতিফলন ঘটবে। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এগিয়ে যাবে।
বর্তমান সঙ্কট যে কারণে
দেশের বর্তমান সঙ্কটের মূলে রয়েছে গত বছরের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন। জনগণের ভোটের অধিকারকে এ নির্বাচনে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা হয়। নির্লজ্জ প্রহসনের অংশ হিসেবে এ নির্বাচনে ভোট ছাড়াই সংসদের ১৫৩টি অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বর্তমান ক্ষমতাসীনেরা নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করে। বাকি ১৪৭টি আসনে গড়ে ৫ শতাংশ ভোটও পড়েনি। সেদিন নির্বাচন কেন্দ্রগুলোয় কুকুর-বিড়াল ঘুমিয়ে থাকার দৃশ্য দৈনিক পত্রিকায় প্রধান ছবি হিসেবে ছাপা হয়েছে। প্রচণ্ড সহিংসতাপূর্ণ এ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটগ্রহণের আগের দিন পর্যন্ত ৪১ দিনে নিহত হয়েছেন ১২৩ জন। আর ভোটের দিন সংহিসতায় মারা গেছেন ১৯ জন। ভোটের দিন এতসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি এর আগে দেখা যায়নি। ৫৯টি কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। দেশের জনগণ কোনোভাবেই সেই ভোটহীন, ভোটারহীন ও প্রার্থীহীন নির্বাচন মেনে নেয়নি। নির্বাচনে শাসক দলের আজ্ঞাবহ কয়েকটি দল ছাড়া দেশের আর কোনো রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি। বৃহত্তম বিরোধী দল বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে এবং অর্ধেকের বেশি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বলে ঘোষণা দিয়ে এক বিচিত্র সংসদ গঠিত হয়। এ সংসদের বিরোধী দলের সদস্যরা একসাথে বিরোধী দলেও আছে, আবার সরকারের মন্ত্রিসভায়ও আছে।
বিতর্কিত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বলেছিলেন, ‘সংবিধানের বাধ্যবাধতার কারণে এটা একটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। সবার সাথে আলোচনা করে আবার পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন করা হবে।’ অর্থাৎ ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রধানমন্ত্রীর মতেই ছিল অপূর্ণাঙ্গ, অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান ‘ফলাফল শূন্য খেলায় নেমেছেন রাজনীতিকরা’ শীর্ষক তার এক লেখায় উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কটের সূচনা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। সেই রাজনৈতিক সমস্যার উৎস থেকে শাসকগোষ্ঠী দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছে বলেই মনে হয়। এক বছর ধরে শাসকেরা নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেছে। ওই নির্বাচনের আগে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, জানুয়ারির ওই নির্বাচন ছিল সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সীমাবদ্ধতাকে কাটিয়ে ওঠার জন্য তারা গ্রহণযোগ্যমূলক মধ্যবর্তী একটি নির্বাচন দেবে। ওই নির্বাচনটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ, এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সবাই পূর্ণাঙ্গভাবে ওয়াকিবহাল। ... ... আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে নেতৃত্বদানকারী একটি দল। তাদের ঐতিহাসিক রীতির সাথে এ ঘটনা মিলানো যায় না। পরিষ্কার নির্বাচনী ম্যান্ডেট ছাড়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার যে প্রবণতা তা তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে নেই। আওয়ামী লীগ যদি তার নিজেকে পিছলে পড়ে যেতে পারে এমন একটি পাহাড়ের ঢালে নিয়ে যায়, তখন গণতন্ত্র নিজে বিপন্ন হবে। বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে তাই সুষ্ঠুভাবে গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট অর্জনের মাধ্যমে সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধান করতে এগিয়ে যেতে হবে।’
সঙ্কটে বিপর্যস্ত দেশ
ভুয়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সঙ্কট বর্তমানে দেশকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশ এক প্রকার অচল হয়ে আছে। এক দিকে চলছে প্রতিরোধ আন্দোলন, অবরোধ-হরতাল, অন্য দিকে সরকারি বাহিনীর বন্দুকের গুলিতে সহিংসতায় দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে মৃত আর দগ্ধ মানুষের সারি, সরকারি সব বাহিনীর অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা প্রয়োগ। চলমান আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তাদের দমনের নামে সরকারি বাহিনী সরাসরি বুকে গুলি করে মানুষ হত্যা করছে। হত্যার পর সেই পুরনো পন্থায় বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে নিহতের হয়েছে বলে মিথ্যা কল্পকাহিনীর প্রচার করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধে’র নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা চলছে বেপরোয়াভাবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবেই রাজনৈতিক কর্মীদের গাড়ির নিচে চাপা দিয়ে কিংবা সারা শরীরে অসংখ্য গুলিবিদ্ধ মৃত ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে মৃত বলে দেখানো হচ্ছে। ১৪ মার্চ অবরোধের ৬৮তম দিনে সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে ১২১ জন। এর মধ্যে ক্রসফায়ার ‘গণপিটুনি’ তথা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ৩৭ জন (প্রথম আলো)। দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া হিসাবেই চলমান সঙ্কটে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থা বিপর্যস্ত। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, এই ভয়াবহ সঙ্কট সমাধানের কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।
সংলাপ কেন প্রয়োজন
সরকার সমস্যার মূলে না গিয়ে বলপ্রয়োগ করে সমাধান চাচ্ছে। কিন্তু বলপ্রয়োগ কখনই সমস্যার সমাধান নয়। জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব এবং দেশের সর্বমহল থেকে তাই সঙ্কট সমাধানে দুই রাজনৈতিক পক্ষকে দ্রুত সংলাপে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো কর্ণপাতই করা হচ্ছে না। সরকার একটি ন্যায্য রাজনৈতিক আন্দোলনকে ধ্বংসাত্মক বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করার ব্যর্থ প্রয়াসই চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। অস্ত্রের ভাষা যে রাজনীতির ভাষা হতে পারে না, সে কথা কিছুতেই তারা বুঝতে চাচ্ছে না। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গোটা জাতি তাই চিন্তিত। মানুষের মুক্তি মিলছে না আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার অন্ধকার থেকে। চার দিকের দমবন্ধ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায় মানুষ।
বাংলাদেশের মানুষের এই শঙ্কা ও দমবন্ধ অবস্থা এবং বিরাজমান ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসঙ্ঘ, যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতর, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থা। তারা চরম বৈরী অবস্থান থেকে সরে এসে প্রকৃত গণতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে উভয়পক্ষকে সঙ্কট নিরসনে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসঙ্ঘে বড় বড় বিশ্ব সমস্যার সাথে প্রথম যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। বাংলাদেশের ঘটনায় জাতিসঙ্ঘের পক্ষ থেকে প্রথমে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশন উদ্বেগ জানায়। এরপর জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বান কি মুন বিবৃতির মাধ্যমে উদ্বেগ জানিয়ে দুই পক্ষকে সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করে সংলাপে বসার আহ্বান জানান। উদ্বিগ্ন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব সরকারের সাথে সমন্বয়ের জন্য সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব পেয়েই তারানকো দক্ষিণ ও মধ্যএশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেসাই বিসওয়ালের সাথে বৈঠক করেন। একই সাথে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব দুই নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সঙ্কট সমাধানে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেন। সন্ত্রাসবিরোধী সম্মেলনে যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী সম্প্রতি ওয়াশিংটনে গেলে তার সাথেও বৈঠক করে আবারো সংলাপের আহ্বান জানান জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিকের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ পরিস্থিতি প্রায় প্রতিদিনই উঠছে।
ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ব্রিফিংয়েও উঠে আসছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশের ঘটনায় উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সাথে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও বৈঠক করেন। তিনি বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে সহযোগিতারও প্রস্তাব করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্ট বাংলাদেশের অচলাবস্থায় উদ্বেগ জানিয়ে শুধু বিবৃতিই দেয়নি, ইইউর মানবাধিকারবিষয়ক একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেও গেছে। ক্রিশ্চিয়ান ড্যান প্রেডার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই প্রতিনিধিদল বিএনপি, আওয়ামী লীগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নোবেল বিজয়ী ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস, মানবাধিকার কমিশন, আইনমন্ত্রী, স্পিকারসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে ২৬টি বৈঠকে মিলিত হয়। সফর শেষে এক বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানায় ইইউ। বিবৃতিতে তারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে বাংলাদেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইইউ রাজনৈতিক সঙ্কটের সুরাহা ও ক্রমবর্ধমান সহিংসতার অবসানের আহ্বান জানিয়েছে। সুস্পষ্টভাবে বলেছে, শান্তি ও স্থিতিশীলতা রাজনৈতিক অধিকারের বিনিময়ে হতে পারে না। বিবৃতিতে বলপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণগ্রেফতার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ব্যাপারেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের তাগিদ
আওয়ামী লীগ বলয়ের বাইরের সব রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ সংলাপের মাধ্যমে সঙ্কট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে নাগরিক সমাজের উদ্যোগটি সবার দৃষ্টি কেড়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় সঙ্কট নিরসনে জাতীয় সংলাপ’ শিরোনামে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশনে একটি গোলটেবিল হয়। এই গোলটেবিলে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশ নেন। দেশের অবস্থা বর্ণনা করে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ সৃষ্টি হয়েছে। একপক্ষ আরেক পক্ষকে শেষ করে দিতে চাইছে। এ গোলটেবিল সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনকে সংলাপের শুভ উদ্যোগ নিতে আকুতি জানিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়া হয়। রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টির জন্য তাদের কাছে একটি প্রস্তাবও পাঠানো হয়। তারা সংলাপের আহ্বানের পাশাপাশি একটি জাতীয় সনদ তৈরির জন্য ১২ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেন। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আরেকটি গোলটেবিল আলোচনা থেকে পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের জন্য ঐকমত্যের সরকার প্রতিষ্ঠায় সংলাপের আহ্বান জানান। তিনি জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বরাবরে চিঠি পাঠিয়েও বাংলাদেশের সঙ্কট নিরসনে সহযোগিতা কামনা করেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা: এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী চলমান সঙ্কট নিরসনে দুই নেত্রী এবং দুই পক্ষকে সংলাপে বসাতে প্রতীকী গণ-অনশন করেন দলের কার্যালয়ে। তিনি বলেন, সঙ্কট নিরসনে সংলাপ করতেই হবে। দেশে আজ যা কিছু হচ্ছে তার জন্য দায়ী ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য একটি নিয়মরক্ষার নির্বাচন করতে হবে। সে কথা তিনি ভুলে গেছেন। ফলে যে রাজনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে, সংলাপ ছাড়া উত্তরণের উপায় নেই।
গণফোরাম সভাপতি ডক্টর কামাল হোসেন একাধিকবার বলেছেন, সঙ্ঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে প্রয়োজন জাতীয় সংলাপ। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম ২৮ জানুয়ারি থেকে মতিঝিলে দলের অফিসের সামনে ফুটপাথে রাত দিন অবস্থান করছেন দুই নেত্রীর সংলাপের দাবিতে। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না গ্রেফতার হওয়ার আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থান করে বলেছেন, সঙ্কট উত্তরণের জন্যই সংলাপ। সংলাপের প্রস্তাবে সাড়া না দিলে প্রধানমন্ত্রী এক সময় কথা বলারও সুযোগ পাবেন না। টেলিভিশনের টকশোগুলোতেও বিশিষ্টজনেরা প্রতিদিনই সংলাপের তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন। অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের একটি বক্তব্য এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করার মতো। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘সংলাপ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু যদি ৭ মার্চের পরও পাকিস্তানিদের সাথে সংলাপে বসতে পারেন, তাহলে আপনি কেন পারবেন না।’
তোপের মুখে সংলাপ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের নেতারা এখন পর্যন্ত সংলাপের ব্যাপারে বিরূপ প্রতিক্রিয়াই দেখিয়ে আসছেন। যারাই সংলাপের আহ্বান বা পরামর্শ দিচ্ছেন, তারা তোপের মুখে পড়ছেন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস-এর সাথে তুলনা করে তাদের সাথে কোনো সংলাপ বা আলোচনা না করার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ। অবরোধের ৩১ দিন পর অনুষ্ঠিত সরকারি দলের ওই বৈঠক শেষে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ সিদ্ধান্ত জানান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আইএস ও খালেদা জিয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তিনি ‘খুনি’ ও ‘দানব’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, সংলাপের প্রস্তাব অবাস্তব, অগ্রহণযোগ্য। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি এম ইমাম বলেন, নাগরিক সমাজের একমাত্র শামসুল হুদা ছাড়া অন্য সবার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। তাদের নিশ্চয়ই এজেন্ডা আছে। আততায়ীর সাথে কিসের সংলাপ? ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যারা আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের সাথে সংলাপ হতে পারে না।
দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে হাত মেলান
একগুঁয়েমি দেখালে চলবে না। দেশের কথা ভাবতে হবে। মানুষের কথা ভাবতে হবে। জনগণকে আস্থায় নিতে হবে। জনগণের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণকে পাশ কাটিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দলবাজ কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করে হয়তো সাময়িক ক্ষমতায় থাকা যাবে। কিন্তু এক সময় তা বুমেরাং হতে বাধ্য। আওয়ামী লীগ ৬৫ বছরের একটি পুরনো রাজনৈতিক দল। রাজনীতিতে বিএনপিরও হয়েছে ৩৭ বছর। রাজনীতির মাঠে একে অপরকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করা উচিত। শত্রুতার বশবর্তী হয়ে নয়। একে অপরকে নির্মূল করে দেয়ার বর্তমান মানসিকতা এখনই পরিহার করতে হবে। উভয়েরই উচিত জনগণের সন্তুষ্টি অর্জনে কাজ করা। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আর বিরোধ না বাড়িয়ে একে অপরের প্রতি হাত বাড়িয়ে দিন।
লেখক : জাতীয় প্রেস কাবের সাধারণ সম্পাদক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1338)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
March
(1092)
-
▼
Mar 18
(50)
- দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ...
- প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন সালাহ উদ্দিনের স্ত...
- নিরাপরাধ ছাত্রদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাজাতেই অস্ত্র উ...
- আমরা সৃষ্টি করছি আর খালেদা জিয়া ধ্বংস করছেন -প্রধা...
- সবাই আপনার শত্রু এই বোধ নিয়ে রাষ্ট্র চালানো যায় না...
- ‘চলমান আন্দোলন আরও বেগবান করুন’ -বরকতউল্লাহ বুলু
- গণতন্ত্র না থাকলে জঙ্গিপনার উত্থান -ড. নাসিম আখতার...
- যেভাবে তুলে নেয়া হয় সালাহউদ্দিনকে -স্বাধীন তদন্ত দ...
- রাজনীতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্পর্ক নিয়ে বোঝা...
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকেই ইঙ্গিত
- নহরকে নিয়ে মনীষার ইচ্ছা by সিরাজুস সালেকিন
- নির্বাচনই শান্তির নতুন বাতাবরণ by সৈয়দ আবদাল আহমদ
- ‘রক্তের শেষ বিন্দু দিয়ে চেষ্টা করব’ -মাশরাফি বিন ম...
- নদীতীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু
- ২৩ বছর পর ছেলেকে ফিরে পেলেন মা
- বৃটেনে শীর্ষ দশ অপরাধীর তালিকায় বাংলাদেশী জাহাঙ্গীর
- আন্দোলনে বিএনপিকে বিরতি টানতেই হবে by এ কে এম জাক...
- যে প্রশ্নের উত্তর সহজ নয় by সলিল ত্রিপাঠি
- ‘বাংলাদেশ পরিস্থিতি অত্যন্ত পীড়াদায়ক’
- সুইয়ে গাঁথা জীবন
- স্কুলছাত্র সাঈদ হত্যার কিলিং মিশনে অংশ নেয় ৬ জন, স...
- মেধা, যোগ্যতা ও কোটা by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- পশ্চিমবঙ্গে কাজী নজরুল বিমানবন্দর
- ভিন্ন কিছুর চিন্তা করেও হরতালই দিল বিএনপি
- জীবনের চেয়ে খেলা কি বড়? by বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ...
- তৃতীয় শক্তি হচ্ছে আরব জোট?
- নেতানিয়াহুর দিন শেষ?
- ভারতের সঙ্গে খেলাটা শুধুই খেলা নয় by উৎপল শুভ্র
- ভারতের রেলওয়েকে সঠিক পথে আনতে হবে by শশী থারুর
- জয়দেবপুর থেকে অপহরণের পর শিশু ইমনকে হত্যা
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা -জবাবদিহির আ...
- শিশু হত্যায় পুলিশ! সরকারের টনক নড়বে কবে?
- কর কর্মকর্তা তাহেরের খুনির স্বীকারোক্তি: ‘খাটে উঠে...
- অচল বাংলাদেশ
- আত্মহত্যাকারীদের পছন্দের জঙ্গল! by ইমরান আলী
- ব্যাটের গ্রাম নরেন্দ্রপুর by নূর ইসলাম
- মৌখিক পরীক্ষায় কারসাজি চাকরি পাচ্ছেন না মেধাবীরা
- সম্রাট বাবরের উইলপত্র ও আমরা by ড. মুহম্মদ মোয়াজ্জ...
- বিএনপিকে আরও চেপে ধরছে সরকার by আবদুল্লাহ আল মামুন
- খালেদার বিরুদ্ধে ১/১১-এর সব মামলা সচল হচ্ছে by হাব...
- বঙ্গবন্ধু স্বমহিমায় ভাস্বর by ইকতেদার আহমেদ
- টাকার অভাবে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে না...
- রাত পোহাবার কত দেরি? by ড. এম এ সবুর
- যেকোনো রাজনৈতিক সমস্যা কথা বলেই সমাধান করা যায় : ব...
- ভয়ানক অপরাধের বিস্তৃতি : মানুষ আতঙ্কিত by আবু সালে...
- ক্যাপটিভ নিয়ে ষড়যন্ত্র by মুজিব মাসুদ
- সালাহ উদ্দিনের স্বজনরা গভীর উৎকণ্ঠায় by কবির হোসেন
- শিশু আবু সাঈদ হত্যা- মামাতো দুই ভাইকেও অপহরণের হুম...
- আরেকটি নির্বাচনের কথা বললেও সরকার এখন বেমালুম ভুলে...
- সরকারি জুজু : জনস্বার্থে নাকি গোষ্ঠিস্বার্থে? by স...
-
▼
Mar 18
(50)
-
▼
March
(1092)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট

No comments:
Post a Comment