ইসরায়েলের ই১ বসতি প্রকল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক ও আরব বিশ্বের বিরোধিতা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ই১ বসতি প্রকল্পের জন্য ইসরায়েলের দেওয়া নির্মাণ দরপত্র বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও নরওয়ে। বৃহস্পতিবার রাতে ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলেছে, ই১ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এতে ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সাত দেশ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনে অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ।

একই সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই প্রকল্পের দরপত্রে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রকল্পে অংশ নিলে আইনি ও সুনামগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

মিসর ও জর্ডানও ই১ প্রকল্পের নিন্দা জানিয়েছে। মিসর বলেছে, এই প্রকল্প পূর্ব জেরুজালেমের ওপর প্রভাব ফেলবে। জর্ডানের অভিযোগ, ইসরায়েল এই প্রকল্পের মাধ্যমে দখলদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।

আরব লীগের মহাসচিব নাবিল ফাহমি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। ওই প্রস্তাবে ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি বসতিকে ‘আইনি বৈধতাহীন’ বলা হয়েছে।

ফিলিস্তিনের জাতীয় পরিষদের সভাপতি রুহি ফাত্তুহ বলেন, ই১ প্রকল্পের দরপত্র প্রকাশের ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আরও কাছে চলে গেছে। এতে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভিত্তি হুমকির মুখে পড়বে।

মঙ্গলবার ই১ এলাকায় ১ হাজার ২৩৪টি বাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে ইসরায়েল। ২০২৫ সালের আগস্টে ওই এলাকায় মোট ৩ হাজার ৪০১টি আবাসন ইউনিট নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ই১ এলাকা পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমের মাঝামাঝি অবস্থিত। সেখানে নির্মাণকাজ হলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে। বর্তমানে এসব এলাকায় প্রায় ৭ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই এসব ইসরায়েলি বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে।

ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের বিরোধী সংগঠন পিস নাও বলেছে, সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বসতি সম্প্রসারণ ও পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে।

সংগঠনটি আরও সতর্ক করেছে, ই১ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে খান আল-আহমারসহ কয়েকটি বেদুইন সম্প্রদায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে এবং অনেক বাসিন্দাকে তাদের জমি থেকে উচ্ছেদের ঝুঁকি তৈরি হবে।

সূত্র: শাফাক নিউজ

ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া।
ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া।