ইউরোপের প্রতি ১০ জনের ৯ জনই বিদেশে থাকতে চায়, কেন?

ইউরোপের প্রতি ১০ জনের প্রায় ৯ জনই ভবিষ্যতে বিদেশে গিয়ে বসবাসের কথা ভাবছেন। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, জীবনযাত্রার বাড়তি খরচই বিদেশে পাড়ি জমানোর অন্যতম প্রধান কারণ। আর নতুন দেশে বসতি গড়ার পছন্দের তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে স্পেন। সম্প্রতি ইউরোনিউজ এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করেছে।

ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের ২ হাজার মানুষের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। প্রতিটি দেশ থেকে ৫০০ জন করে এতে অংশ নেন।

জরিপে দেখা গেছে, প্রতিটি দেশের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা কোনোভাবেই বিদেশে গিয়ে বসবাস করতে চান না।

বিদেশে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন ব্রিটেনের ৫৩ শতাংশ, ফ্রান্সের ৪৮ শতাংশ, জার্মানির ৪৩ শতাংশ এবং ইতালির ৩২ শতাংশ মানুষ।

সব দেশের উত্তরদাতাদের পছন্দ এক না হলেও স্পেন সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের ২৪ শতাংশ এবং ইতালির ২০ শতাংশ মানুষ স্পেনকে ভবিষ্যতের পছন্দের দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফ্রান্সের ক্ষেত্রেও স্পেন দ্বিতীয় পছন্দের দেশ।

ফরাসিদের কাছে অবশ্য সবচেয়ে পছন্দের গন্তব্য কানাডা। ১৭ শতাংশ ফরাসি উত্তরদাতা কানাডায় বসবাসের আগ্রহ জানিয়েছেন। এরপর ১৪ শতাংশের পছন্দ ইতালি।

জার্মানদের পছন্দ তুলনামূলকভাবে কাছের দেশ। ১৭ শতাংশ জার্মান অস্ট্রিয়াকে পছন্দের গন্তব্য বলেছেন। স্পেন ও সুইজারল্যান্ডকে বেছে নিয়েছেন ১২ শতাংশ করে।

অন্যদিকে ব্রিটিশদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে দূরের দেশও। ১৯ শতাংশ অস্ট্রেলিয়া, ১৫ শতাংশ কানাডা এবং ১০ শতাংশ নিউজিল্যান্ডে বসবাসের আগ্রহ জানিয়েছেন।

বিদেশে বসবাসের ক্ষেত্রে নতুন একটি প্রবণতার কথাও উঠে এসেছে জরিপে। এক দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের বদলে কয়েকটি দেশে ভাগ করে সময় কাটানোর প্রবণতা বাড়ছে।

ভ্রমণ বিশেষজ্ঞ হলি রুবেনস্টাইনের মতে, নতুন ধরনের প্রবাসী জীবন হবে আরও নমনীয়। কেউ হয়তো ছয় মাস এক দেশে থেকে দূরবর্তীভাবে কাজ করবেন, এরপর অন্য দেশে গিয়ে নতুন জীবনযাপন পরীক্ষা করে দেখবেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কাজ, বন্ধুত্ব ও ব্যক্তিগত পরিচয় আর একটি নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে আবদ্ধ থাকবে না।

সূত্র: ইউরোনিউজ

ফ্রান্সের প্যারিস। ছবি: ইউরোনিউজ থেকে নেওয়া
ফ্রান্সের প্যারিস। ছবি: ইউরোনিউজ থেকে নেওয়া