Thursday, September 29, 2011
যুগ-যুগান্তরে চ্যানেল আই by শাইখ সিরাজ
যুগ-যুগান্তরে চ্যানেল আই by শাইখ সিরাজ
কুটির শিল্প থেকে মহাসমুদ্রবন্দর!! একেবারে শুরু থেকেই যদি বলতে হয়, তাহলে ১৯৯৬ সাল হচ্ছে একটা অধ্যায়। ১৯৯৬ সাল প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা নেওয়ার জন্য একটি গুরুত্ববহ বছর। তবে পরোক্ষভাবে এর প্রক্রিয়া শুরু কিন্তু এরও অনেক আগে থেকে। কী রকম সেটি? সেটি হলো_ইমপ্রেস টেলিফিল্ম নামের একটি প্রাইভেট সেক্টরে প্রোডাকশন হাউসের জন্মের কাহিনী। পরবর্তী সময়ে তারই সুস্পষ্ট রূপান্তর, ১৯৯৯ সালে চ্যানেল আই।
১৯৯৬ সালে প্রাইভেট সেক্টরে প্রোডাকশন হাউস নির্মিত নাটক কিনে প্যাকেজের আওতায় দেখাতে শুরু করল বাংলাদেশ টেলিভিশন। কারণ, টেলিভিশনের প্রোগ্রামের মান তখন ক্রমেই দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল। তাই টিভি কর্তৃপক্ষ প্রথম ধাপে প্রাইভেট সেক্টর থেকে প্যাকেজ প্রোগ্রাম কিনে প্রচার শুরু করল। এরপর চাংক বিক্রয়ের মাধ্যমে। সে সময় প্রথম, আমার মনে আছে, অভিনেতা আফজাল হোসেন, চিত্রগ্রাহক আহসান নেওয়াজ বাবু, আনোয়ার হোসেন বুলুদের ইনফ্রেম একটা বড়সড় টেকনিক্যাল হাউস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আর ছিল ম. হামিদ ও ফাল্গুনী হামিদের টেলিরিয়েল। হাতেগোনা কিছু হাউস বাংলাদেশ টেলিভিশনকে প্যাকেজে নানা ধরনের অনুষ্ঠান দিত। এর পরপর তৈরি হলো ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। আমরা ইমপ্রেস আনলাম আরো বড় পরিসরে, আরো সফলভাবে। এটা হলো একটা চ্যানেল শুরু হওয়ার জন্য ফুলগাছের বীজ। এরপর ধীরে ধীরে প্রাইভেট সেক্টরে স্টুডিও করতে হয়েছে, টেলিভিশনের মতো ক্যামেরা আনতে হয়েছে, নিজেদের লোকবল তৈরি করতে হয়েছে, প্রফেশনাল প্রোডাকশন তৈরি করতে হয়েছে এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনটিকে সেই মানের প্রোগ্রাম দিতে হয়েছে।
অতঃপর ১৯৯৯ সাল
১৯৯৬ সালে যখন রূপরেখাটা তৈরি হলো তখন চ্যানেল আই করার স্বপ্নটা আমাদের মাথায় প্রথম থেকেই একেবারে শতভাগ ছিল, এটা বলা যাবে না। স্বপ্নটা অলক্ষে বিন্দু থেকে সিন্ধুর চেহারা নিয়েছে। এই যে ১৯৯৬-এর ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এবং ১৯৯৯-এর চ্যানেল আই, এর আগের প্রেক্ষাপটটা ছিল অপ্রাতিষ্ঠানিক। কিন্তু ওটাও অবচেতনে একটা চ্যানেল তৈরির জোগানদার। একটা প্রোডাকশন হাউসের স্বপ্নপূরণের বাই প্রোডাক্ট।
আশির দশকের মাঝামাঝি বাংলাদেশে প্রথম ভিডিও ক্যামেরা আসে। বিয়ের ভিডিও, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভিডিও, যেগুলো করা হতো ওই ভিএইচএস ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে। এর আগে এ দেশের সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে স্টিল ছবি তোলা হতো। সেই স্টিল ফটোগ্রাফি শুরুতে ছিল ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট। এই যে প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা, এটা লক্ষযোগ্য। প্রথমে সাদাকালো ছবি, এরপর কালার হয়ে গেল, সেই কালার ছবির জায়গায় এল চলমান ছবি ধরে রাখার ভিডিও ক্যামেরা। যত দূর মনে পড়ে, তখন বাংলাদেশে ওল্ড টাউনে, কোনো একজন ব্যক্তির কাছে, একটি ভিডিও ক্যামেরা ছিল। সেই ক্যামেরাটা প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী ভবন পর্যন্ত ট্রাভেল করত। খুব প্রয়োজনীয় ছিল তখন সেই ক্যামেরাটা। কারণ, বিটিভির বাইরে তখন ব্যক্তি মালিকানায় আর কোনো ভিডিও ক্যামেরা নেই। হ্যাঁ, তবে আরো একটি ছিল। বিটিভিরই একজন সিনিয়র ক্যামেরাম্যান গোলাম মোস্তফা। তাঁর কাছে একটা ছিল। তিনি এখন নেই। প্রয়াত হয়েছেন বেশ আগে। আমাদেরই এই কম্পানির একজন বিশিষ্ট পার্টনার মুকিত মজুমদার বাবু, তখন আমেরিকায় থাকেন, সফল মানুষ সেখানে। আমেরিকায় তিনি তখন পড়াশোনা করেন, ব্যবসাবাণিজ্য করেন। তিনি যখন দেশে ফিরে আসবেন বলে সব ঠিকঠাক, তখন সাগর আর আমি ওনাকে রিকোয়েস্ট করলাম, পারলে তিনি যেন সঙ্গে করে একটি ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে আসেন। ওই সময়টায় সাগর আর আমি মিলে 'খাবারদাবার' নামে একটা হোটেল চালাই।
মুকিত মজুমদার বাবু আমাদের অনুরোধ রাখলেন। ফেরার সময় একটি ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে এলেন। শুরু হলো আমাদের নতুন জগতের নতুন যাত্রা। এটা নব্বইয়ের কাছাকাছি সময়ে। এরও আগে দেখেছিলাম একটি ভিসিআর। ১০ কেজির কাছাকাছি তার ওজন। সেটি দেখেছি আমাদের পার্টনার জহিরউদ্দিন মাহমুদ মামুনের বাড়িতে।
ছিয়ানব্বইয়ের আগে...
ছিয়ানব্বইয়ের অনেক আগে, আশির দশকের শেষের দিকে সেই নতুন পৃথিবীর গল্পের পটভূমি। ওই ক্যামেরাটা নিয়েই তৈরি হলো ইমপ্রেস ভিডিও। ইমপ্রেস ভিডিও মানে হলো বিয়েশাদির অনুষ্ঠানের ভিডিও করা। দ্রুত এই ক্যামেরার চাহিদা বেড়ে হয়ে গেল। ডিমান্ডটা ক্রমেই এমন পর্যায়ে গেল যে আমাদের ক্যামেরার শিডিউলের ওপর বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক হতো।
যখন বিটিভি থেকে আমাকে বের করে দেওয়া হলো, তখন বন্ধুমহলে চরম তাগিদ অনুভূত হলো, আমাকে কাজ দিয়ে চালু রাখার। তখনই সাগরসহ সবার তাগিদে ও আগ্রহে প্রতিষ্ঠিত হলো ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড।
১৯৯৯ সালে চ্যানেল আই তৈরি হওয়ার আগে এটিএন বাংলা শুরু হয়ে গেছে। আজ প্রায় ২৫টি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল। প্রতিটি চ্যানেলে লক্ষ করলে দেখা যাবে, ক্যামেরার পেছনে যে লোকগুলো কাজ করছেন, লাইটের পেছনে যে লোকগুলো কাজ করছেন, যাঁরা নেপথ্যের টেকনিক্যাল অন্যান্য কাজ করছেন, তাঁদের বেশির ভাগই ইমপ্রেস ভিডিও বা সানমুন ভিডিও বা ইমপ্রেস টেলিফিল্ম বা চ্যানেল আইয়ের লোকজন। তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছেন। কাজ করছেন। গোড়ায় প্রায় সবাই কিন্তু এখান থেকেই তৈরি হয়েছিলেন।
এ দেশে চ্যানেলগুলো গড়ে উঠেছে যেভাবে, যেভাবে ইন্ডাস্ট্রির অবয়ব ধারণ করেছে, সেটা বিদেশিদের জন্য নিঃসন্দেহে গবেষণা করার মতো বিষয়। এ এক আশ্চর্য বিপ্লব। বিপ্লবটা ঘটেছে ধীরে ধীরে, নীরবে।
সত্যিকার অর্থে কিছু একনিষ্ঠ, মেধাবী, পরিশ্রমী ছেলে নিজের চেষ্টায় গড়ে উঠেছেন, কাজ করছেন বিভিন্ন চ্যানেলে। তাঁরা এইট্টি পার্সেন্ট। পাশাপাশি আজকাল দেশে-বিদেশে একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড নেওয়া কিছু ছেলেও তৈরি হয়েছেন, যাঁরা এডিট করছেন, অ্যানিমেশন করছেন, সিনেমাটোগ্রাফি করছেন। এই নতুন প্রজন্মটাই আমাদের মিডিয়ার ফিউচার। যাঁরা সত্যিকার অর্থে তত্ত্বীয়ভাবে কাজটা বোঝেন।
দ্রুত প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এটিএন বাংলা। আমরা অনেকে বলি, এটিএন বাংলা বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট চ্যানেল। তথ্যটা ভুল নয়। তবে এর আগে তিন মাসের জন্য আরেকটা বাংলা চ্যানেল এ দেশেই অন এয়ারে ছিল। সেটা ছিল আজিজ মোহাম্মদ ভাইের 'এটিভি' টেলিভিশন। যেটি সিঙ্গাপুর থেকে সম্প্রচার হতো।
এরপর এটিএন বাংলা শুরু হলো। এটিএন বাংলার কর্ণধার ডক্টর মাহফুজুর রহমান অসম্ভব সাহসী একজন মানুষ। তিনি ছিলেন মূলত একজন পোশাকশিল্পের ব্যবসায়ী। তাঁর প্রধান বিজনেসটা ছিল গার্মেন্টের। তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি তখনো মিডিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট করে তেমন কিছু জানেন না। মুম্বাইয়ে গিয়ে এটিএন বাংলার সম্প্রচারের অনুমতি নিয়ে এলেন। ভারতে তখন এটিএন নামে একটা চ্যানেল চলত। জিটিভির পাশাপাশি আমরা দেখতাম। এন্টারটেইনমেন্ট টেলিভিশন চ্যানেল। ওটারই একটা পার্ট, বাংলাদেশ পার্ট আনা হলো। নাম দেওয়া হলো এটিএন বাংলা। ওই সময়টায় আমাদের ইমপ্রেস টেলিফিল্মের অনুষ্ঠান নির্মাণ শুরু হয়ে গেছে জোরেশোরে। তখনকার বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার প্রয়াস জিয়া আনসারীর মাধ্যমে মাহফুজুর রহমান সাহেব একদিন ঘটা করে আমাদের অফিসে এলেন। সাগর আর আমার সঙ্গে মিটিংয়ে বসলেন। বললেন, 'আমি তো এ রকম একটা জিনিসের লাইসেন্স নিয়ে এসেছি, কিন্তু আমার অনুষ্ঠান নির্মাণ সম্পর্কে বিশেষ কোনো ধারণা নেই। আপনারা বিটিভি থেকে সারা জীবন এগুলো করে এসেছেন। কাজেই চলেন, আমরা যৌথভাবে কাজটা শুরু করি।' সেই মিটিংয়ের পাশেই ছিলেন হুমায়ূন আমহেদ। নাটকের এডিটিংয়ের ফাঁকে তিনি কথাগুলো শুনছিলেন। নতুন একটি টেলিভিশন চ্যানেল আসছে, কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে, বিটিভির একঘেয়ে আধিপত্য থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে বুঝে তিনি খুবই আশাবাদী হলেন।
আমরা বিনয়ের সঙ্গে মাহফুজ সাহেবকে জানালাম, আমরা এখনই প্রোগ্রাম অন এয়ার বিজনেসের সঙ্গে সরাসরি জড়াব না, আপনিই করেন। আমরা পেছনে থাকব। আমাদের দিক থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে। তিনি ওকে করে চলে গেলেন। আমরা বিটিভির পাশাপাশি তাঁর চ্যানেলের জন্যও অনুষ্ঠান বানাতে লাগলাম।
কিন্তু যে মানুষটি এই চ্যানেল চালানো সম্পর্কে তখনো সেভাবে কিছুই জানেন না, আজ সেই তিনি দুটো চ্যানেল সাফল্যের সঙ্গে চালাচ্ছেন। তাঁর আরো একটি চ্যানেল আসছে। 'বিজয়' চ্যানেলটাকে তিনি বিশেষ অনুষ্ঠানের চ্যানেল হিসেবে চালাবেন। এই যে একজন অন্য বিজনেসের লোক, সাহস করে এগিয়ে এসেছিলেন, একটা টেলিভিশন চ্যানেল তৈরি করেছিলেন, এত লোকের কর্মসংস্থান করেছেন, এটা নিঃসন্দেহে একটা বিশাল ঘটনা।
শুরুতে এই মাহফুজ সাহেবের এটিএন বাংলার পুরো কাজই কিন্তু হতো ইমপ্রেস টেলিফিল্মে, আমাদের প্রোডাকশন হাউস থেকে। তখন এটিএন বাংলা রান করত ব্যাংককের থাইকম স্যাটেলাইট থেকে। এক ঘণ্টা বিশ মিনিট ডিউরেশনের চারটা টেপ কম্পাইল হয়ে ব্যাংকক চলে যেত। টেপের কম্পাইলেশন, প্রোগ্রাম প্ল্যানিং, প্রোগ্রাম মেকিং_সব হতো ইমপ্রেস টেলিফিল্মে। এটিএন বাংলার পক্ষ থেকে সে সময় সার্বক্ষণিক আমাদের সঙ্গে থাকতেন সরকার ফিরোজ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক প্রেজেন্টেশন কন্ট্রোলার। একই সঙ্গে বিটিভির প্যাকেজের আওতায় কেনা ৮০ শতাংশ অনুষ্ঠান আমরা বানাই। অনেকের হয়তো মনে থাকতে পারে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট।
বিটিভির নিজস্ব প্রোডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন, ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অনেক দেন দরবার করল। কেউ কেউ অনেক গণ্ডগোল করল। প্যাকেজ অনুষ্ঠান নিয়ে বড়সড় বিদ্রোহ হলো। তাদের কথা_ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রতি সপ্তাহেই নাটক থাকবে কেন? কোন বিশেষ 'ক্যারিশমা' রয়েছে তাদের?
পরে তাদের বোঝানো হলো, প্রতিদিনই বা প্রতি সপ্তাহেই ইমপ্রেস টেলিফিল্মের অনুষ্ঠান বা নাটক থাকার কারণ হলো_আপনি একজন প্রোডিউসার বা ডিরেক্টর যেখানে একটি অনুষ্ঠান জমা দিচ্ছেন, সেখানে ইমপ্রেস জমা দিচ্ছে দশটা। কারণ আপনি যখন একটা অনুষ্ঠান বানাচ্ছেন, ইমপ্রেস তখন বানাচ্ছে দশজনকে দিয়ে দশটা। ইমপ্রেস তো একটা প্রোডাকশন হাউস, একজন নির্মাতা নয়। তাই অটোমেটিক্যালি সিরিয়ালি তারটাই থাকবে বেশি। সেই কঠিন বাস্তবতা মেনে নিতে তখন কষ্ট হচ্ছিল অনেকেরই।
আমাদের ঘর তখন প্রতিদিন নানা কিসিমের প্রোডাকশনে ভরে যাচ্ছে। দেশের প্রায় সব সেরা নির্মাতা আমাদের প্রোডাকশন বানাচ্ছেন। এ রকম করতে করতে দেখা গেল, আমাদের প্রোগ্রাম ব্যাংক দিনের পর দিন বিশাল আকার নিল। যদি প্রোডাকশন হাউস চালু রাখতে হয় তবে আমাদের প্রতিদিনই প্রোগ্রাম অন এয়ার দিতে হবে, নয়তো এগুলো গোডাউনের আলু কিংবা মরিচা ধরা মেশিনে পরিণত হবে। তখন মনে হলো, এবার আমাদের একটি প্রাইভেট টেলিভিশন চ্যানেল শুরুর সময় এসেছে। এবার আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। আমাদের হাতে তত দিনে কয়েক শ ঘণ্টার প্রোগ্রাম মজুদ।
চিন্তাটা ১৯৯৭-৯৮ সালের...
এটিএনের ভেতরেই এক ঘণ্টার একটা চাংক আমরা মাহফুজ ভাইয়ের কাছ থেকে আলাদা করে কিনে নিলাম। ওই চাংকটার আমরা নাম দিলাম ইমপ্রেস টিভি টাইম। এর মানে, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার সময় একটা কার্ড আসবে টিভি চ্যানেলে_ইমপ্রেস টিভি টাইম। মানে একটা টেলিভিশন চ্যানেলের ভেতরে অন্য একটা টেলিভিশন। এই এক ঘণ্টার চাংককে আমরা আমাদের মতো সাজিয়ে নিলাম। প্রথমে একটা গ্রাফিঙ্ আসবে। এরপর একজন এনাউন্সার আসবেন। তিনি ইমপ্রেস টিভি টাইমে সবাইকে স্বাগত জানাবেন। এরপর অনুষ্ঠানগুলোর সামারি আসবে। এরপর ১০ মিনিট ২০ মিনিট করে একেকটা প্রোগ্রাম প্রচারিত হবে। সব শেষে আবার একটা গ্রাফিঙ্ দিয়ে ইমপ্রেস টিভি টাইমের সমাপ্তি।
প্রোগ্রামের জন্য স্টুডিও তৈরি
এটার জন্য তখন আমরা একটা স্টুডিও তৈরি করেছিলাম। আমাদের পার্টনার পারভেজের বাসাবোর বাসা খালি হয়ে গেল। ওরা সপরিবারে মিন্টো রোডে এল। ওই খালি বাসার ড্রইংরুমটিকে আমরা সাজিয়ে নিলাম স্টুডিও হিসেবে। সেখানেও ঘটল আরেক বিপত্তি। পাশ দিয়ে জোরালো শব্দে বেবিটেঙ্ িযায়। টেম্পো যায়। সারা দিন টেম্পোর শব্দের ফাঁকে আমরা শুটিং করতাম। দিস ইজ দ্য হিস্ট্রি অফ ইমপ্রেস টিভি। যার নতুন নাম_চ্যানেল আই।
১৯৯৯ সালের ১ অক্টোবর। এ যাবৎকালে বাংলাদেশে যত চ্যানেল হয়েছে, তার মধ্যে একমাত্র চ্যানেল যে সম্প্রচারের দিন-তারিখ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ঠিক রেখেছিল। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিকেল ৫টায় ট্রান্সমিশন স্টার্ট করল। বাংলাদেশের, বাংলা ভাষার প্রথম ডিজিটাল বাংলা চ্যানেল। সেই সময়টির কথা মনে এলে এখনো ভেতরটা শিউরে ওঠে। অদ্ভুত এক অনুভূতি। প্রথম সিজিটি পর্দায় ভেসে উঠতেই সে সময়ের চ্যানেল আই পরিবারের সবার আনন্দে চোখে পানি এসে যায়। খুব মনে আছে, সেদিন প্রথম শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন অভিনয়শিল্পী নিমা রহমান।
কিন্তু শুরু করলেই তো হবে না। হাতে শুধু প্রচুর নতুন প্রোডাকশন থাকলেও চলবে না। একটা চ্যানেল নন স্টপ চালিয়ে নিয়ে যেতে হলে চাই নূ্যনতম অবকাঠামো।
সেই কুটির শিল্পের অবকাঠামোর মধ্যে আমাদের পুঁজি কেবল নিরলস পরিশ্রম, সাহস আর সৃজনশীলতার শক্তি। একটা ১৭০০ স্কয়ার ফিটের বাড়ি থেকে, একটা রেসিডেনশিয়াল অ্যাপার্টমেন্টের ভেতর থেকে একটা টেলিভিশন চ্যানেলের আত্মপ্রকাশ। আমাদের হাত ধরেই সেই ইতিহাসের রচনা হলো। ৬২/এ সিদ্ধেশ্বরীর ঠিকানায়। প্রথম দিন থেকেই ২৪ ঘণ্টা প্রচার।
ট্রান্সমিশন প্ল্যানিং
আমাদের প্রথম পরিকল্পনায় ছিল, আমাদের প্রথম চাংক হবে আট ঘণ্টার টাটকা অনুষ্ঠান। মানে আমাদের এটিএনের জন্য তৈরি ইমপ্রেস টিভি টাইমের এক ঘণ্টার বদলে আট ঘণ্টার একটা ক্যাপসুল বানাতে হবে। এর ভেতরে গান, নাচ, নাটক_সব থাকবে। আট ঘণ্টার একটা কিউশিট। এই কিউশিট অনুযায়ী আমাদের অনুষ্ঠান চলবে। অনুষ্ঠান চলবে আট ঘণ্টার। এই আট ঘণ্টার ট্রান্সমিশনটা আমরা সিঙ্গাপুরে পাঠাব। পাঠাব আট ঘণ্টার টেপ। একদম সিরিয়ালি টেপ। রাত ১টায় আমাদের শেষ ট্রান্সমিশন। এরপর ৫টায় যে ট্রান্সমিশনটা শুরু হয়েছিল, সেটা আবার রিপিট হবে। আট ঘণ্টা। সকাল ৯টায় সেকেন্ড রিপিট টেলিকাস্ট শেষ। ঠিক বিকেল ৫টায় শেষ। আবার নতুন দিনের নতুন ট্রান্সমিশনের যাত্রা। অর্থাৎ এই আট ঘণ্টাকে দুবার রিপিট করে সেই ২৪ ঘণ্টা।
বিদেশে পাঠাতে হতো, কেন?
বাংলাদেশে তখনো কোনো আপ লিংকের ব্যবস্থা নেই। ফরেন স্যাটেলাইটগুলো হায়ার করে আমরা ব্যবহার করতাম। তখন আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট বুকিং দেওয়ার সিস্টেম ছিল না। একটা বিদেশি স্যাটেলাইট হায়ার করে ওই পোর্টটাতে আপ করে দিতে থাকলাম। এরপর ওটা ডাউনলিংক হয়ে ডিস্ট্রিবিউট হতে থাকল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড। ফুটপ্রিন্ট অনুযায়ী।
তখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট এখান থেকে এসএনজি পারমিশন দেয়নি। মানে এ দেশের মাটি থেকে অনুষ্ঠান আপলিংক এবং ডাউনলিংকের সুবিধার ব্যাপারটার কথা বলছি।
পরিকল্পনার শুরুতে আমাদের আরো যাঁরা পার্টনার আছেন আবদুর রশীদ মজুমদার, জহিরউদ্দিন মাহমুদ মামুন, মুকিত মজুমদার বাবু, রিয়াজ আহমেদ খান, এনায়েত হোসেন সিরাজ, রবিউল ইসলাম, ফরিদুর রেজা সাগর ও অমি, সবাই মিলে একাধিক মিটিং হলো। রুদ্ধদ্বার বৈঠক হলো। নানা দিক ভেবে দেখা হলো। ভাবা হলো, আদৌ আমরা পারব কি না, পারলেও এখনই যাওয়া ঠিক হবে কি না, গেলেও কিভাবে আমরা যাব, স্যাটেলাইট ভাড়া কত আসবে? শেষমেশ আমরা তা সামাল দিতে পারব কি না। এসব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর ঠিক হলো_আমরা করব।
এই বাংলাদেশ জন্ম লাভ করার পেছনে তরুণদের একটা বিশাল অবদান। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বর থেকে শুরু করে রাজনীতির মাঠে। মুক্তিযুদ্ধে। দেশগড়ার নবচিন্তায়। সবখানে। বাংলাদেশের ব্যবসায়িক অঙ্গনেও আমরা যদি বলি, তারুণ্যের প্রচণ্ড একটা শক্তি কাজ করেছে। তারুণ্যের সেই সৃজনশীল স্পর্শ বাকি ছিল কেবল ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়।
কিন্তু ইলেকট্রনিক মিডিয়া এমনই একটা প্রযুক্তিগত দিক, যার জন্য একটা নূ্যনতম একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজন পূর্ব অভিজ্ঞতার। কারো সেসব নেই। আমাদের ক্যাপিটাল যা ছিল সেটা হলো, ছোটবেলা থেকে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ টেলিভিশনে কাজ করার ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা। ব্যাপারটা তো এমন নয় যে ১০টা গার্মেন্ট দেখে এসে আরেকটা গার্মেন্ট তৈরি করছি আমরা। এমনও নয়, এ দেশে একটা-দুটো প্রাইভেট টেলিভিশন আগে তৈরি হয়েছিল, সেই ফর্মেট অনুসরণ করে শুরু করে দিলাম।
কিভাবে হবে তাহলে?
সাগর আর আমি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচুর অনুষ্ঠান তৈরি করেছি। কিন্তু ওখানে তো বিশাল স্টুডিও। এত বড় স্টুডিও আমরা কিভাবে বানাব? খরচ করার অর্থ কই? বানানোর জায়গা কই? ওদিকে থেমে যাওয়ারও উপায় নেই।
গালে হাত দিয়ে বসে থাকলেও চলবে না। ডিসিশন লকড হয়ে গেছে, উই আর গোয়িং ফর আ নিউ টেলিভিশন চ্যানেল...। অতএব, শুরু তো করে ফেলতে হবে। অ্যাপার্টমেন্টের বেডরুমকে স্টুডিও বানিয়ে, বাথরুমকে এডিটিং প্যানেল বানিয়ে, স্টোররুমকে আর্কাইভ বানিয়ে এবং কিচেনকে মেকআপরুম বানিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হলো।
এরও আগে আরেকটা চিন্তায় আমরা ব্যতিব্যস্ত হলাম। আমাদের স্বপ্নভরা চ্যানেলের নাম কী হবে? চ্যানেলের তো একটা জুতসই নাম লাগবে। অথচ নামের বিষয় নিয়ে আমরা শুরুতে কেউই মাথা ঘামাইনি, আমাদের পার্টনাররা কেউই ভাবেননি। কিন্তু আমি শিওর, বিষয়টা সাগরের মগজের ভেতর প্রথম থেকে একটা সুপ্ত বীজ হিসেবে ছিল। আগে থেকেই সে নিজে কনসিভ করে রেখেছিল আইডিয়াটা। তারপর প্রথমেই এসে আমার সঙ্গে আলোচনা করল যে এটা হতে পারে কি না।
হঠাৎ করে সে বলল কী..., 'সিরাজ_চ্যানেল আই।' একবারেই বলল নামটা।
বলেই আবার কিছক্ষণের জন্য চিন্তায় পড়ে গেল।
কেননা, আমরা তো বাংলার পূজারি। বাংলা আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা। মাতৃভাষার সূত্র ধরে স্বাধীনতা। দুজন আবারও আলোচনা শুরু করলাম। ভাবছিলাম, ইংরেজিটা মানুষ কিভাবে নেবে?
আমি ওকে প্রশ্ন করলাম। ও আমাকে প্রশ্ন করল। সমাধানে আর আসতে পারি না।
আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে, আমিই ওকে হুট করে বলে ফেললাম 'নেবে...। এই নামটা দর্শক নেবে। যদিও ইংরেজি, কিন্তু নামটার ভেতর একটা প্রচলিত স্মার্টনেস আছে।'
সুন্দর হবে। পার্টনাররা সবাই জানিয়েছেন, আমাদের সবকিছুর মধ্যে যেন বাংলাদেশ বিষয়টা আসে। পারভেজ বলছিল, লাল-সবুজ বিষয়টাকে মাথায় রাখার কথা।
'আই' শব্দটার অনেক রকম ব্যাখ্যা দাঁড় করলাম আমরা। সাগর বলল, 'আই' মানে হচ্ছে তোমার করপোরেট আই। 'আই' মানে হচ্ছে ইমপ্রেস গ্রুপের প্রথম অক্ষর 'আই'। আবার 'আই' মানে 'আমি'। 'আই' মানে 'চোখ'। 'আই' মানে 'ভিশন'। তো এরকম অনেক ব্যাখ্যা দাঁড়িয়ে গেল। আমরা এটা ম্যানেজিং বোর্ডে উপস্থাপন করলাম। অন্য অনেক মতামত, মতভেদ থাকার পরও আমাদের যুক্তি শুনল সবাই মন দিয়ে। সবশেষে সবাই বলল 'হ্যাঁ, এটা ভালো, স্মার্টনেস আছে।'
দায়িত্ব পড়ল আমার ওপর, জিনিসটার লোগো কেমন হবে? লোগো করিয়ে নেওয়া, সেটা ম্যাচিওর করে বোর্ডে উপস্থাপন_সব আমাকে করতে হবে ফাইনাল হলো।
আলোচনাক্রমে এই লোগো তৈরির দায়িত্বটা গেল রম্য রহিম নামে একজন আর্কিটেক্টের কাছে। কম্পিউটার গ্রাফিঙ্ েঅসম্ভব মেধাবী ও গুণী এক তরুণ। তিনি এখন লন্ডনে, সনির সঙ্গে কাজ করেন। রম্য রহিমের সঙ্গে দিনের পর দিন বসলাম। আমাদের থিমটা তাঁকে বোঝালাম। এই রকম একটা লোগো। খুব সহজ কাজ নয়।
তখন রহিম অনেক সময় নিয়ে_প্রায় দুই মাস সময় নিয়ে কিছু ডিজাইন তৈরি করলেন। এরপর নিয়ে এলেন আমাদের কাছে। ইমেজগুলোর কালার ফটোকপি করে নিয়ে এলেন। তখন আমাদের ইমপ্রেস টেলিফিল্মের কর্মব্যস্ততা কিন্তু চলছে। পাশাপাশি চ্যানেল আই অন এয়ারের প্রস্তুতি। অনুষ্ঠান তৈরি শুরু হয়ে গেছে, শুরু হয়ে গেছে নাটক তৈরি।
তো ডিজাইনগুলো যখন আমার কাছে রহিম নিয়ে এলেন, তখন সেগুলো আমি আবারও একাধিক কালার ফটোকপি করালাম। তখন আমাদের হাউসে যেসব গুণীজন অনুষ্ঠান বানাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদও আছেন, ওই সব প্রডিউসার, ডিরেক্টরের হাতে হাতে ফটোকপিগুলো ধরিয়ে দিলাম। বললাম, 'ধরেন, এই শিটে ৫টা লোগো আছে, লোগোগুলোর উল্টোদিকে আপনি পছন্দের টিক চিহ্ন দেবেন।
সেটি ১৯৯৮ সালের কথা
এভাবে দেখলাম কোনটার দিকে বেশি ভোট পড়েছে। এরপর সেগুলো কম্পাইলেশন করে বাকিগুলো ছাঁটাই করে আমি আর সাগর ফাইনাল বোর্ড মিটিংয়ে সাবমিট করলাম। বললাম, এই লোগোগুলো আছে আমাদের কাছে, এর মধ্যে কোনটা আমরা গ্রহণ করব?
লোগোটিতে প্রথম আমরা কী কনসিভ করেছিলাম? যে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে একটা দেশ স্বাধীন করেছি। এখানে আমার ভাষা, আমার দেশাত্মবোধ_অনেক বিষয় আছে। ভাষার জন্য যুদ্ধ করে একটা জাতি স্বাধীন হয়েছে। আমার গ্রাম, আমার অর্থনীতি, আমার শক্তি_আমার রং। আমার সূর্যের রং, আমার পতাকার রং_বাংলাদেশের পতাকা, লাল-সবুজের পতাকা। বাংলাদেশের পতাকার ভেতর একটা সূর্য আছে, লাল সূর্য_আমার রক্তের মতো, আমার রক্তঝরা স্বাধীন বাংলাদেশ। আর সবুজ প্রান্তর, আমার বাংলাদেশ। আমার শস্যের প্রতীক, আমার ফসলের গান, আমার বাংলাদেশ। বোর্ডে ওই লোগো প্রেজেন্ট করলাম এবং সবাই একসেপ্ট করলেন। একসেপ্ট করার পর আমরা ঠিক করলাম, সামনে আমাদের আরো একটা বড় কাজ বাকি। সেটা কী? মানে আমাদের কেব্ল্ অপারেটর ভাইদের কাছে পেঁৗছাতে হবে, হতে হবে তাঁদের আপন মানুষ। তাঁদের মাধ্যমেই তো এখনো আমি-আপনি স্যাটেলাইট টেলিভিশন দেখতে পাই। তাঁদের সঙ্গে আমাদের কখনোই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক মিটিং হয়নি। আমাদের একটা সেতুবন্ধন হওয়া দরকার। তাঁরা আমাদেরই একটি বড় পার্ট। তাঁদের সঙ্গে তো সেই মিটিংয়ের জন্য আমরা সারা দেশের মোট ৫০০ কেব্ল্ অপারেটরকে একসঙ্গে ডাকলাম। ১ অক্টোবর চ্যানেল আই লঞ্চ করবে। ১৯৯৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর শেরাটন হোটেলের উইন্টার গার্ডেনে আমরা তাঁদের আমন্ত্রণ জানালাম। ৫০০ নয়, কেব্ল্ অপারেটরদের সঙ্গে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন আরো ৩০০ জন। শেষ পর্যন্ত মোট ৮০০ জনের ব্যবস্থাই করা হলো। রাতে আমাদের সঙ্গে মিটিং হবে, ডিনার হবে। পাশাপাশি 'হোয়াট ইজ চ্যানেল আই'_বিষয়ে একটা ভিডিও প্রেজেন্টেশন হলো। উইন্টার গার্ডেনের ওই মেগা স্ক্রিন প্রেজেন্টেশনে কেব্ল্ অপারেটরদের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের অ্যাপস্টার টু আর স্যাটেলাইট স্টেশন থেকে ভিডিওতে সরাসরি কথা বলেন আব্দুন নূর তুষার। মনে আছে, সেখানে কেব্ল্ অপারেটরদের জন্য দেওয়া হয় একটি কুইজ। একটি রোমিং নম্বরে ফোন করে যে সবচেয়ে আগে আব্দুন নূর তুষারের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন, তাঁকেই দেওয়া হবে ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ঢাকা এয়ার টিকিট। সেটি কেব্ল্ অপারেটরদের জন্য ছিল বিস্ময়কর এক ব্যাপার এবং সেই ধারাবাহিকতাতেই তৃণমূল পর্যায় থেকে এই চ্যানেলকে এ পর্যন্ত কেব্ল্ অপারেটররা সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন।
১ অক্টোবর শুরু হলো অন এয়ার। আমাদের প্রাণ যায় যায় অবস্থা। ২৪ ঘণ্টা একটা চ্যানেলকে চলমান রাখা, তাকে অনুষ্ঠান দিয়ে ভরপুর রাখা চাট্টিখানি কথা নয়। সারা দিন সারা রাত কাজ করতাম। আমরা হয়তো এক সকালে বাসা থেকে অফিসে আসতাম, তিন দিন পর বাড়ি ফিরতাম। মনে হতো কাজে যত আনন্দ, শরীরে ততটাই কষ্ট। এর ভেতরেই সাগর দৌড়াদৌড়ি করছে সিঙ্গাপুর। কারণ আমাদের স্যাটেলাইট তখন ছিল সিঙ্গাপুর। ব্যাংককে স্যাটেলাইটের সঙ্গে কথা চূড়ান্ত ছিল। হঠাৎ তারা চুক্তিভঙ্গ করায় চলে গেলাম সিঙ্গাপুর স্যাটেলাইটে। অ্যাপস্টার টু আর স্যাটেলাইট।
আমাদের ভিশন ছিল, সেই বিটিভির সঙ্গে আমাদের তফাত অনেকটা থাকতে হবে। পর্দাটাকে অলওয়েজ চকচকে-ঝকঝকে রাখতে হবে। রাখতে হবে গতিময়। মানে দর্শককে সঙ্গে রাখতে চোখের পলকে খেলতে হবে সবকিছু। দর্শককে আটকে রাখতে হবে রিমোট কন্ট্রোলে। এসব ইকোয়েশন মাথায় রাখতাম সবসময়।
চোখ যাতে না সরে
একটা বিশেষ দৃশ্যের জন্য, তিন মিনিট ধরে ধারণ করা হয়েছে একটা দৃশ্য। সে দৃশ্যের সঙ্গে মানুষ মোহিত হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা এক জিনিস। সেটা একটা ফিল্মে থাকতেই পারে। কিন্তু টেলিভিশনে প্রতি তিন সেকেন্ডে শট না কাটলে ঝুলে যাবে। আর সেই শটের সঙ্গে সারফেস, মিউজিক সবকিছু যদি এভাবে কোয়ালিটি থাকে, তাহলেই মানুষ দেখবে। নয়তো না। আর গ্ল্যামারাস হতে হবে। পর্দা হতে হবে চকচকে । হতে হবে ঝকঝকে।
তখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ টেলিভিশনে অ্যানিমেশন জিনিসটা আসেনি। সেই অ্যানিমেশন আছে কোথায়? আছে ফরেন চ্যানেলগুলোতে। ফরেন চ্যানেলগুলো তখন বাংলার ঘরে ঘরে। মানুষ জিটিভি দেখে। তো ওই যে রম্য_যে রম্য চ্যানেল আইয়ের লোগো বানিয়ে দিল, সেই রম্য খুব ভালো অ্যানিমেশন বানাতে পারত। অসম্ভব ভালো অ্যানিমেটর। রম্যর করা বেশ কিছু অ্যানিমেশন প্রচার শুরু হলো। ওইসব স্মার্ট সিজিগুলো এখনো চ্যানেল আইতে প্রচারিত হয়। মিউজিক পিস হলো একটা। ১৮ সেকেন্ডের মিউজিক পিস। চ্যানেল আইয়ের আইডেনটিটি পিস। যেটা হচ্ছে ইনসিগনিয়া। ৫টার সময় চ্যানেল আই যে শুরু হবে, শুরু হবে এই ইনসিগনিয়া বাজিয়ে।
কিভাবে এই ইনসিগনিয়া?
ইনসিগনিয়ার মিউজিক তৈরি করালাম শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে দিয়ে। যেটা আজও চলে। ও দীর্ঘদিন, প্রায় এক-দেড় মাস কাজ করে মিউজিক পিসটা তৈরি করল। যথেষ্ট শ্রম দিয়েছে। মানে তখন যে মানুষগুলো কাজ করেছে চ্যানেল আইয়ের সঙ্গে, যে আমাদের সঙ্গে কাজ করেছে, কনট্রিবিউট করেছে, তার ভেতরও এটা ছিল যে আমাদের দেশে নতুন একটা চ্যানেল আসছে। একটা ভালো চ্যানেল আসছে। ওই ফোর্সটা কাজ করছিল সবার ভেতর।
তো সেই ইনসিগনিয়া তৈরি হলো, অ্যানিমেশন তৈরি হলো। প্রোগ্রাম তো থাকবেই। গানের প্রোগ্রাম, নাচের প্রোগ্রাম, নাটক, টকশো এবং নিরীক্ষাধর্মী প্রোগ্রাম হবে। টেলিভিশনে যা কিছু নতুন এ যাবৎকালে বাংলাদেশে হয়েছে, চ্যানেল আই-ই প্রথম করেছে। বিশেষ দিন মানেই চ্যানেল আই। সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠান, অমুক আয়োজনে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান_সবকিছু চ্যানেল আইয়ের 'ব্রেইন চাইল্ড'।
তো এরকম একটা পরিস্থিতিতে, ইনসিগনিয়া তৈরি হলো। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে, সেই ১৯৯৯ সালে রম্য রহিম সিজি বানালেন, ইনসিগনিয়াটা তৈরি করল বাচ্চু। আজকে ২০১১ সাল, এই সময়ের ভেতর আমি এত স্মার্ট, এত অর্থবহ, এত কালারফুল ইনসিগনিয়া দেখতে পাই না।
একটা নতুন চ্যানেল দ্রুততার সঙ্গে সাফল্য নিয়ে এগোতে থাকল। কিন্তু এর পরও আমাদের চিন্তা থামল না। থেমে গেল না। আমরা ভাবলাম, একটা চ্যানেলে গান যাবে, নাটক যাবে, অনুষ্ঠান যাবে, সংবাদ যাবে_ভালো কথা।... এগুলোতে মানুষ বিনোদন পাবে। কিন্তু একটা টেলিভিশন চ্যানেলের কি শুধু বিনোদন দেওয়াটাই দায়িত্ব? আর কোনো দায়িত্ব নেই? আছে, আরো অনেক দায়িত্ব আছে। তখন একটি নতুন চ্যানেল, বিজ্ঞাপনদাতারা আছে, তখন বিজ্ঞাপনদাতার সংখ্যা হাতেগোনা। লিভার ব্রাদার্স, কেয়া কসমেটিঙ্, স্কয়ার, হেনোলাঙ্, কিউট_এরা তখন বিজ্ঞাপনদাতা। চ্যানেল আইয়ের পর্দায় প্রথম বিজ্ঞাপন ছিল 'কনফিডেন্স সিমেন্ট'-এর। কনফিডেন্স সিমেন্টের মালিক কোন কনফিডেন্সে আমাদের প্রথম বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন, ভাবলে এখনো অবাক হই। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জাগে। তখন বিজ্ঞাপনের সংখ্যা কম। অনুষ্ঠানের ফাঁকে হাতে থাকত সময়। তাই আমরা চিন্তা করলাম, কিছু ফিলার বানাতে হবে। যে ফিলারগুলো আমাকে দেশাত্মবোধ শেখাবে। যে ফিলারগুলো আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি পরিষ্কার রাখবে। যে ফিলারগুলো আমাদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করবে। মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ শেখাবে।
এরকম প্রচুর ইস্যু মাথায় নিয়ে ফিলার বানালাম। এগুলো মাঝেমধ্যে অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে যেতে থাকল। ফিলার শেষে ভেসে আসত 'জনস্বার্থে চ্যানেল আই'। যেগুলো বাংলা টেলিভিশন চ্যানেলে কেউ কোনো দিন দেখেনি।
এই অতিক্রমের পথ যেমন অমসৃণ, বন্ধুর, কষ্টের, ততটাই আনন্দের।
আমরা চ্যানেল আই পরিবারের প্রতিটি অহংকারী সদস্য নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে, আনন্দময় ইতিহাস তৈরি করে ১২ বছর অতিক্রম করেছি। অতিক্রম করতে চাই আরো অসংখ্য বছর। এই যে চ্যানেল আইয়ের জন্মের ইতিহাস, যত ইনোভেটিভ আইডিয়া_অধিকাংশই এসেছে সাগরের মাথা থেকে। বাস্তবায়ন করেছি সবাই মিলে।
প্রকৃতির নিয়মে একদিন আমরা থাকব না। থাকবে চ্যানেল আই। থাকবে চ্যানেল আইয়ের গর্বভরা সাফল্যের ইতিহাস।
অতঃপর ১৯৯৯ সাল
১৯৯৬ সালে যখন রূপরেখাটা তৈরি হলো তখন চ্যানেল আই করার স্বপ্নটা আমাদের মাথায় প্রথম থেকেই একেবারে শতভাগ ছিল, এটা বলা যাবে না। স্বপ্নটা অলক্ষে বিন্দু থেকে সিন্ধুর চেহারা নিয়েছে। এই যে ১৯৯৬-এর ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এবং ১৯৯৯-এর চ্যানেল আই, এর আগের প্রেক্ষাপটটা ছিল অপ্রাতিষ্ঠানিক। কিন্তু ওটাও অবচেতনে একটা চ্যানেল তৈরির জোগানদার। একটা প্রোডাকশন হাউসের স্বপ্নপূরণের বাই প্রোডাক্ট।
আশির দশকের মাঝামাঝি বাংলাদেশে প্রথম ভিডিও ক্যামেরা আসে। বিয়ের ভিডিও, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভিডিও, যেগুলো করা হতো ওই ভিএইচএস ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে। এর আগে এ দেশের সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে স্টিল ছবি তোলা হতো। সেই স্টিল ফটোগ্রাফি শুরুতে ছিল ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট। এই যে প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা, এটা লক্ষযোগ্য। প্রথমে সাদাকালো ছবি, এরপর কালার হয়ে গেল, সেই কালার ছবির জায়গায় এল চলমান ছবি ধরে রাখার ভিডিও ক্যামেরা। যত দূর মনে পড়ে, তখন বাংলাদেশে ওল্ড টাউনে, কোনো একজন ব্যক্তির কাছে, একটি ভিডিও ক্যামেরা ছিল। সেই ক্যামেরাটা প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী ভবন পর্যন্ত ট্রাভেল করত। খুব প্রয়োজনীয় ছিল তখন সেই ক্যামেরাটা। কারণ, বিটিভির বাইরে তখন ব্যক্তি মালিকানায় আর কোনো ভিডিও ক্যামেরা নেই। হ্যাঁ, তবে আরো একটি ছিল। বিটিভিরই একজন সিনিয়র ক্যামেরাম্যান গোলাম মোস্তফা। তাঁর কাছে একটা ছিল। তিনি এখন নেই। প্রয়াত হয়েছেন বেশ আগে। আমাদেরই এই কম্পানির একজন বিশিষ্ট পার্টনার মুকিত মজুমদার বাবু, তখন আমেরিকায় থাকেন, সফল মানুষ সেখানে। আমেরিকায় তিনি তখন পড়াশোনা করেন, ব্যবসাবাণিজ্য করেন। তিনি যখন দেশে ফিরে আসবেন বলে সব ঠিকঠাক, তখন সাগর আর আমি ওনাকে রিকোয়েস্ট করলাম, পারলে তিনি যেন সঙ্গে করে একটি ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে আসেন। ওই সময়টায় সাগর আর আমি মিলে 'খাবারদাবার' নামে একটা হোটেল চালাই।
মুকিত মজুমদার বাবু আমাদের অনুরোধ রাখলেন। ফেরার সময় একটি ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে এলেন। শুরু হলো আমাদের নতুন জগতের নতুন যাত্রা। এটা নব্বইয়ের কাছাকাছি সময়ে। এরও আগে দেখেছিলাম একটি ভিসিআর। ১০ কেজির কাছাকাছি তার ওজন। সেটি দেখেছি আমাদের পার্টনার জহিরউদ্দিন মাহমুদ মামুনের বাড়িতে।
ছিয়ানব্বইয়ের আগে...
ছিয়ানব্বইয়ের অনেক আগে, আশির দশকের শেষের দিকে সেই নতুন পৃথিবীর গল্পের পটভূমি। ওই ক্যামেরাটা নিয়েই তৈরি হলো ইমপ্রেস ভিডিও। ইমপ্রেস ভিডিও মানে হলো বিয়েশাদির অনুষ্ঠানের ভিডিও করা। দ্রুত এই ক্যামেরার চাহিদা বেড়ে হয়ে গেল। ডিমান্ডটা ক্রমেই এমন পর্যায়ে গেল যে আমাদের ক্যামেরার শিডিউলের ওপর বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক হতো।
যখন বিটিভি থেকে আমাকে বের করে দেওয়া হলো, তখন বন্ধুমহলে চরম তাগিদ অনুভূত হলো, আমাকে কাজ দিয়ে চালু রাখার। তখনই সাগরসহ সবার তাগিদে ও আগ্রহে প্রতিষ্ঠিত হলো ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড।
১৯৯৯ সালে চ্যানেল আই তৈরি হওয়ার আগে এটিএন বাংলা শুরু হয়ে গেছে। আজ প্রায় ২৫টি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল। প্রতিটি চ্যানেলে লক্ষ করলে দেখা যাবে, ক্যামেরার পেছনে যে লোকগুলো কাজ করছেন, লাইটের পেছনে যে লোকগুলো কাজ করছেন, যাঁরা নেপথ্যের টেকনিক্যাল অন্যান্য কাজ করছেন, তাঁদের বেশির ভাগই ইমপ্রেস ভিডিও বা সানমুন ভিডিও বা ইমপ্রেস টেলিফিল্ম বা চ্যানেল আইয়ের লোকজন। তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছেন। কাজ করছেন। গোড়ায় প্রায় সবাই কিন্তু এখান থেকেই তৈরি হয়েছিলেন।
এ দেশে চ্যানেলগুলো গড়ে উঠেছে যেভাবে, যেভাবে ইন্ডাস্ট্রির অবয়ব ধারণ করেছে, সেটা বিদেশিদের জন্য নিঃসন্দেহে গবেষণা করার মতো বিষয়। এ এক আশ্চর্য বিপ্লব। বিপ্লবটা ঘটেছে ধীরে ধীরে, নীরবে।
সত্যিকার অর্থে কিছু একনিষ্ঠ, মেধাবী, পরিশ্রমী ছেলে নিজের চেষ্টায় গড়ে উঠেছেন, কাজ করছেন বিভিন্ন চ্যানেলে। তাঁরা এইট্টি পার্সেন্ট। পাশাপাশি আজকাল দেশে-বিদেশে একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড নেওয়া কিছু ছেলেও তৈরি হয়েছেন, যাঁরা এডিট করছেন, অ্যানিমেশন করছেন, সিনেমাটোগ্রাফি করছেন। এই নতুন প্রজন্মটাই আমাদের মিডিয়ার ফিউচার। যাঁরা সত্যিকার অর্থে তত্ত্বীয়ভাবে কাজটা বোঝেন।
দ্রুত প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এটিএন বাংলা। আমরা অনেকে বলি, এটিএন বাংলা বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট চ্যানেল। তথ্যটা ভুল নয়। তবে এর আগে তিন মাসের জন্য আরেকটা বাংলা চ্যানেল এ দেশেই অন এয়ারে ছিল। সেটা ছিল আজিজ মোহাম্মদ ভাইের 'এটিভি' টেলিভিশন। যেটি সিঙ্গাপুর থেকে সম্প্রচার হতো।
এরপর এটিএন বাংলা শুরু হলো। এটিএন বাংলার কর্ণধার ডক্টর মাহফুজুর রহমান অসম্ভব সাহসী একজন মানুষ। তিনি ছিলেন মূলত একজন পোশাকশিল্পের ব্যবসায়ী। তাঁর প্রধান বিজনেসটা ছিল গার্মেন্টের। তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি তখনো মিডিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট করে তেমন কিছু জানেন না। মুম্বাইয়ে গিয়ে এটিএন বাংলার সম্প্রচারের অনুমতি নিয়ে এলেন। ভারতে তখন এটিএন নামে একটা চ্যানেল চলত। জিটিভির পাশাপাশি আমরা দেখতাম। এন্টারটেইনমেন্ট টেলিভিশন চ্যানেল। ওটারই একটা পার্ট, বাংলাদেশ পার্ট আনা হলো। নাম দেওয়া হলো এটিএন বাংলা। ওই সময়টায় আমাদের ইমপ্রেস টেলিফিল্মের অনুষ্ঠান নির্মাণ শুরু হয়ে গেছে জোরেশোরে। তখনকার বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার প্রয়াস জিয়া আনসারীর মাধ্যমে মাহফুজুর রহমান সাহেব একদিন ঘটা করে আমাদের অফিসে এলেন। সাগর আর আমার সঙ্গে মিটিংয়ে বসলেন। বললেন, 'আমি তো এ রকম একটা জিনিসের লাইসেন্স নিয়ে এসেছি, কিন্তু আমার অনুষ্ঠান নির্মাণ সম্পর্কে বিশেষ কোনো ধারণা নেই। আপনারা বিটিভি থেকে সারা জীবন এগুলো করে এসেছেন। কাজেই চলেন, আমরা যৌথভাবে কাজটা শুরু করি।' সেই মিটিংয়ের পাশেই ছিলেন হুমায়ূন আমহেদ। নাটকের এডিটিংয়ের ফাঁকে তিনি কথাগুলো শুনছিলেন। নতুন একটি টেলিভিশন চ্যানেল আসছে, কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে, বিটিভির একঘেয়ে আধিপত্য থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে বুঝে তিনি খুবই আশাবাদী হলেন।
আমরা বিনয়ের সঙ্গে মাহফুজ সাহেবকে জানালাম, আমরা এখনই প্রোগ্রাম অন এয়ার বিজনেসের সঙ্গে সরাসরি জড়াব না, আপনিই করেন। আমরা পেছনে থাকব। আমাদের দিক থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে। তিনি ওকে করে চলে গেলেন। আমরা বিটিভির পাশাপাশি তাঁর চ্যানেলের জন্যও অনুষ্ঠান বানাতে লাগলাম।
কিন্তু যে মানুষটি এই চ্যানেল চালানো সম্পর্কে তখনো সেভাবে কিছুই জানেন না, আজ সেই তিনি দুটো চ্যানেল সাফল্যের সঙ্গে চালাচ্ছেন। তাঁর আরো একটি চ্যানেল আসছে। 'বিজয়' চ্যানেলটাকে তিনি বিশেষ অনুষ্ঠানের চ্যানেল হিসেবে চালাবেন। এই যে একজন অন্য বিজনেসের লোক, সাহস করে এগিয়ে এসেছিলেন, একটা টেলিভিশন চ্যানেল তৈরি করেছিলেন, এত লোকের কর্মসংস্থান করেছেন, এটা নিঃসন্দেহে একটা বিশাল ঘটনা।
শুরুতে এই মাহফুজ সাহেবের এটিএন বাংলার পুরো কাজই কিন্তু হতো ইমপ্রেস টেলিফিল্মে, আমাদের প্রোডাকশন হাউস থেকে। তখন এটিএন বাংলা রান করত ব্যাংককের থাইকম স্যাটেলাইট থেকে। এক ঘণ্টা বিশ মিনিট ডিউরেশনের চারটা টেপ কম্পাইল হয়ে ব্যাংকক চলে যেত। টেপের কম্পাইলেশন, প্রোগ্রাম প্ল্যানিং, প্রোগ্রাম মেকিং_সব হতো ইমপ্রেস টেলিফিল্মে। এটিএন বাংলার পক্ষ থেকে সে সময় সার্বক্ষণিক আমাদের সঙ্গে থাকতেন সরকার ফিরোজ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক প্রেজেন্টেশন কন্ট্রোলার। একই সঙ্গে বিটিভির প্যাকেজের আওতায় কেনা ৮০ শতাংশ অনুষ্ঠান আমরা বানাই। অনেকের হয়তো মনে থাকতে পারে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট।
বিটিভির নিজস্ব প্রোডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন, ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অনেক দেন দরবার করল। কেউ কেউ অনেক গণ্ডগোল করল। প্যাকেজ অনুষ্ঠান নিয়ে বড়সড় বিদ্রোহ হলো। তাদের কথা_ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রতি সপ্তাহেই নাটক থাকবে কেন? কোন বিশেষ 'ক্যারিশমা' রয়েছে তাদের?
পরে তাদের বোঝানো হলো, প্রতিদিনই বা প্রতি সপ্তাহেই ইমপ্রেস টেলিফিল্মের অনুষ্ঠান বা নাটক থাকার কারণ হলো_আপনি একজন প্রোডিউসার বা ডিরেক্টর যেখানে একটি অনুষ্ঠান জমা দিচ্ছেন, সেখানে ইমপ্রেস জমা দিচ্ছে দশটা। কারণ আপনি যখন একটা অনুষ্ঠান বানাচ্ছেন, ইমপ্রেস তখন বানাচ্ছে দশজনকে দিয়ে দশটা। ইমপ্রেস তো একটা প্রোডাকশন হাউস, একজন নির্মাতা নয়। তাই অটোমেটিক্যালি সিরিয়ালি তারটাই থাকবে বেশি। সেই কঠিন বাস্তবতা মেনে নিতে তখন কষ্ট হচ্ছিল অনেকেরই।
আমাদের ঘর তখন প্রতিদিন নানা কিসিমের প্রোডাকশনে ভরে যাচ্ছে। দেশের প্রায় সব সেরা নির্মাতা আমাদের প্রোডাকশন বানাচ্ছেন। এ রকম করতে করতে দেখা গেল, আমাদের প্রোগ্রাম ব্যাংক দিনের পর দিন বিশাল আকার নিল। যদি প্রোডাকশন হাউস চালু রাখতে হয় তবে আমাদের প্রতিদিনই প্রোগ্রাম অন এয়ার দিতে হবে, নয়তো এগুলো গোডাউনের আলু কিংবা মরিচা ধরা মেশিনে পরিণত হবে। তখন মনে হলো, এবার আমাদের একটি প্রাইভেট টেলিভিশন চ্যানেল শুরুর সময় এসেছে। এবার আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। আমাদের হাতে তত দিনে কয়েক শ ঘণ্টার প্রোগ্রাম মজুদ।
চিন্তাটা ১৯৯৭-৯৮ সালের...
এটিএনের ভেতরেই এক ঘণ্টার একটা চাংক আমরা মাহফুজ ভাইয়ের কাছ থেকে আলাদা করে কিনে নিলাম। ওই চাংকটার আমরা নাম দিলাম ইমপ্রেস টিভি টাইম। এর মানে, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার সময় একটা কার্ড আসবে টিভি চ্যানেলে_ইমপ্রেস টিভি টাইম। মানে একটা টেলিভিশন চ্যানেলের ভেতরে অন্য একটা টেলিভিশন। এই এক ঘণ্টার চাংককে আমরা আমাদের মতো সাজিয়ে নিলাম। প্রথমে একটা গ্রাফিঙ্ আসবে। এরপর একজন এনাউন্সার আসবেন। তিনি ইমপ্রেস টিভি টাইমে সবাইকে স্বাগত জানাবেন। এরপর অনুষ্ঠানগুলোর সামারি আসবে। এরপর ১০ মিনিট ২০ মিনিট করে একেকটা প্রোগ্রাম প্রচারিত হবে। সব শেষে আবার একটা গ্রাফিঙ্ দিয়ে ইমপ্রেস টিভি টাইমের সমাপ্তি।
প্রোগ্রামের জন্য স্টুডিও তৈরি
এটার জন্য তখন আমরা একটা স্টুডিও তৈরি করেছিলাম। আমাদের পার্টনার পারভেজের বাসাবোর বাসা খালি হয়ে গেল। ওরা সপরিবারে মিন্টো রোডে এল। ওই খালি বাসার ড্রইংরুমটিকে আমরা সাজিয়ে নিলাম স্টুডিও হিসেবে। সেখানেও ঘটল আরেক বিপত্তি। পাশ দিয়ে জোরালো শব্দে বেবিটেঙ্ িযায়। টেম্পো যায়। সারা দিন টেম্পোর শব্দের ফাঁকে আমরা শুটিং করতাম। দিস ইজ দ্য হিস্ট্রি অফ ইমপ্রেস টিভি। যার নতুন নাম_চ্যানেল আই।
১৯৯৯ সালের ১ অক্টোবর। এ যাবৎকালে বাংলাদেশে যত চ্যানেল হয়েছে, তার মধ্যে একমাত্র চ্যানেল যে সম্প্রচারের দিন-তারিখ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ঠিক রেখেছিল। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিকেল ৫টায় ট্রান্সমিশন স্টার্ট করল। বাংলাদেশের, বাংলা ভাষার প্রথম ডিজিটাল বাংলা চ্যানেল। সেই সময়টির কথা মনে এলে এখনো ভেতরটা শিউরে ওঠে। অদ্ভুত এক অনুভূতি। প্রথম সিজিটি পর্দায় ভেসে উঠতেই সে সময়ের চ্যানেল আই পরিবারের সবার আনন্দে চোখে পানি এসে যায়। খুব মনে আছে, সেদিন প্রথম শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন অভিনয়শিল্পী নিমা রহমান।
কিন্তু শুরু করলেই তো হবে না। হাতে শুধু প্রচুর নতুন প্রোডাকশন থাকলেও চলবে না। একটা চ্যানেল নন স্টপ চালিয়ে নিয়ে যেতে হলে চাই নূ্যনতম অবকাঠামো।
সেই কুটির শিল্পের অবকাঠামোর মধ্যে আমাদের পুঁজি কেবল নিরলস পরিশ্রম, সাহস আর সৃজনশীলতার শক্তি। একটা ১৭০০ স্কয়ার ফিটের বাড়ি থেকে, একটা রেসিডেনশিয়াল অ্যাপার্টমেন্টের ভেতর থেকে একটা টেলিভিশন চ্যানেলের আত্মপ্রকাশ। আমাদের হাত ধরেই সেই ইতিহাসের রচনা হলো। ৬২/এ সিদ্ধেশ্বরীর ঠিকানায়। প্রথম দিন থেকেই ২৪ ঘণ্টা প্রচার।
ট্রান্সমিশন প্ল্যানিং
আমাদের প্রথম পরিকল্পনায় ছিল, আমাদের প্রথম চাংক হবে আট ঘণ্টার টাটকা অনুষ্ঠান। মানে আমাদের এটিএনের জন্য তৈরি ইমপ্রেস টিভি টাইমের এক ঘণ্টার বদলে আট ঘণ্টার একটা ক্যাপসুল বানাতে হবে। এর ভেতরে গান, নাচ, নাটক_সব থাকবে। আট ঘণ্টার একটা কিউশিট। এই কিউশিট অনুযায়ী আমাদের অনুষ্ঠান চলবে। অনুষ্ঠান চলবে আট ঘণ্টার। এই আট ঘণ্টার ট্রান্সমিশনটা আমরা সিঙ্গাপুরে পাঠাব। পাঠাব আট ঘণ্টার টেপ। একদম সিরিয়ালি টেপ। রাত ১টায় আমাদের শেষ ট্রান্সমিশন। এরপর ৫টায় যে ট্রান্সমিশনটা শুরু হয়েছিল, সেটা আবার রিপিট হবে। আট ঘণ্টা। সকাল ৯টায় সেকেন্ড রিপিট টেলিকাস্ট শেষ। ঠিক বিকেল ৫টায় শেষ। আবার নতুন দিনের নতুন ট্রান্সমিশনের যাত্রা। অর্থাৎ এই আট ঘণ্টাকে দুবার রিপিট করে সেই ২৪ ঘণ্টা।
বিদেশে পাঠাতে হতো, কেন?
বাংলাদেশে তখনো কোনো আপ লিংকের ব্যবস্থা নেই। ফরেন স্যাটেলাইটগুলো হায়ার করে আমরা ব্যবহার করতাম। তখন আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট বুকিং দেওয়ার সিস্টেম ছিল না। একটা বিদেশি স্যাটেলাইট হায়ার করে ওই পোর্টটাতে আপ করে দিতে থাকলাম। এরপর ওটা ডাউনলিংক হয়ে ডিস্ট্রিবিউট হতে থাকল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড। ফুটপ্রিন্ট অনুযায়ী।
তখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট এখান থেকে এসএনজি পারমিশন দেয়নি। মানে এ দেশের মাটি থেকে অনুষ্ঠান আপলিংক এবং ডাউনলিংকের সুবিধার ব্যাপারটার কথা বলছি।
পরিকল্পনার শুরুতে আমাদের আরো যাঁরা পার্টনার আছেন আবদুর রশীদ মজুমদার, জহিরউদ্দিন মাহমুদ মামুন, মুকিত মজুমদার বাবু, রিয়াজ আহমেদ খান, এনায়েত হোসেন সিরাজ, রবিউল ইসলাম, ফরিদুর রেজা সাগর ও অমি, সবাই মিলে একাধিক মিটিং হলো। রুদ্ধদ্বার বৈঠক হলো। নানা দিক ভেবে দেখা হলো। ভাবা হলো, আদৌ আমরা পারব কি না, পারলেও এখনই যাওয়া ঠিক হবে কি না, গেলেও কিভাবে আমরা যাব, স্যাটেলাইট ভাড়া কত আসবে? শেষমেশ আমরা তা সামাল দিতে পারব কি না। এসব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর ঠিক হলো_আমরা করব।
এই বাংলাদেশ জন্ম লাভ করার পেছনে তরুণদের একটা বিশাল অবদান। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বর থেকে শুরু করে রাজনীতির মাঠে। মুক্তিযুদ্ধে। দেশগড়ার নবচিন্তায়। সবখানে। বাংলাদেশের ব্যবসায়িক অঙ্গনেও আমরা যদি বলি, তারুণ্যের প্রচণ্ড একটা শক্তি কাজ করেছে। তারুণ্যের সেই সৃজনশীল স্পর্শ বাকি ছিল কেবল ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়।
কিন্তু ইলেকট্রনিক মিডিয়া এমনই একটা প্রযুক্তিগত দিক, যার জন্য একটা নূ্যনতম একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজন পূর্ব অভিজ্ঞতার। কারো সেসব নেই। আমাদের ক্যাপিটাল যা ছিল সেটা হলো, ছোটবেলা থেকে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ টেলিভিশনে কাজ করার ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা। ব্যাপারটা তো এমন নয় যে ১০টা গার্মেন্ট দেখে এসে আরেকটা গার্মেন্ট তৈরি করছি আমরা। এমনও নয়, এ দেশে একটা-দুটো প্রাইভেট টেলিভিশন আগে তৈরি হয়েছিল, সেই ফর্মেট অনুসরণ করে শুরু করে দিলাম।
কিভাবে হবে তাহলে?
সাগর আর আমি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচুর অনুষ্ঠান তৈরি করেছি। কিন্তু ওখানে তো বিশাল স্টুডিও। এত বড় স্টুডিও আমরা কিভাবে বানাব? খরচ করার অর্থ কই? বানানোর জায়গা কই? ওদিকে থেমে যাওয়ারও উপায় নেই।
গালে হাত দিয়ে বসে থাকলেও চলবে না। ডিসিশন লকড হয়ে গেছে, উই আর গোয়িং ফর আ নিউ টেলিভিশন চ্যানেল...। অতএব, শুরু তো করে ফেলতে হবে। অ্যাপার্টমেন্টের বেডরুমকে স্টুডিও বানিয়ে, বাথরুমকে এডিটিং প্যানেল বানিয়ে, স্টোররুমকে আর্কাইভ বানিয়ে এবং কিচেনকে মেকআপরুম বানিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হলো।
এরও আগে আরেকটা চিন্তায় আমরা ব্যতিব্যস্ত হলাম। আমাদের স্বপ্নভরা চ্যানেলের নাম কী হবে? চ্যানেলের তো একটা জুতসই নাম লাগবে। অথচ নামের বিষয় নিয়ে আমরা শুরুতে কেউই মাথা ঘামাইনি, আমাদের পার্টনাররা কেউই ভাবেননি। কিন্তু আমি শিওর, বিষয়টা সাগরের মগজের ভেতর প্রথম থেকে একটা সুপ্ত বীজ হিসেবে ছিল। আগে থেকেই সে নিজে কনসিভ করে রেখেছিল আইডিয়াটা। তারপর প্রথমেই এসে আমার সঙ্গে আলোচনা করল যে এটা হতে পারে কি না।
হঠাৎ করে সে বলল কী..., 'সিরাজ_চ্যানেল আই।' একবারেই বলল নামটা।
বলেই আবার কিছক্ষণের জন্য চিন্তায় পড়ে গেল।
কেননা, আমরা তো বাংলার পূজারি। বাংলা আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা। মাতৃভাষার সূত্র ধরে স্বাধীনতা। দুজন আবারও আলোচনা শুরু করলাম। ভাবছিলাম, ইংরেজিটা মানুষ কিভাবে নেবে?
আমি ওকে প্রশ্ন করলাম। ও আমাকে প্রশ্ন করল। সমাধানে আর আসতে পারি না।
আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে, আমিই ওকে হুট করে বলে ফেললাম 'নেবে...। এই নামটা দর্শক নেবে। যদিও ইংরেজি, কিন্তু নামটার ভেতর একটা প্রচলিত স্মার্টনেস আছে।'
সুন্দর হবে। পার্টনাররা সবাই জানিয়েছেন, আমাদের সবকিছুর মধ্যে যেন বাংলাদেশ বিষয়টা আসে। পারভেজ বলছিল, লাল-সবুজ বিষয়টাকে মাথায় রাখার কথা।
'আই' শব্দটার অনেক রকম ব্যাখ্যা দাঁড় করলাম আমরা। সাগর বলল, 'আই' মানে হচ্ছে তোমার করপোরেট আই। 'আই' মানে হচ্ছে ইমপ্রেস গ্রুপের প্রথম অক্ষর 'আই'। আবার 'আই' মানে 'আমি'। 'আই' মানে 'চোখ'। 'আই' মানে 'ভিশন'। তো এরকম অনেক ব্যাখ্যা দাঁড়িয়ে গেল। আমরা এটা ম্যানেজিং বোর্ডে উপস্থাপন করলাম। অন্য অনেক মতামত, মতভেদ থাকার পরও আমাদের যুক্তি শুনল সবাই মন দিয়ে। সবশেষে সবাই বলল 'হ্যাঁ, এটা ভালো, স্মার্টনেস আছে।'
দায়িত্ব পড়ল আমার ওপর, জিনিসটার লোগো কেমন হবে? লোগো করিয়ে নেওয়া, সেটা ম্যাচিওর করে বোর্ডে উপস্থাপন_সব আমাকে করতে হবে ফাইনাল হলো।
আলোচনাক্রমে এই লোগো তৈরির দায়িত্বটা গেল রম্য রহিম নামে একজন আর্কিটেক্টের কাছে। কম্পিউটার গ্রাফিঙ্ েঅসম্ভব মেধাবী ও গুণী এক তরুণ। তিনি এখন লন্ডনে, সনির সঙ্গে কাজ করেন। রম্য রহিমের সঙ্গে দিনের পর দিন বসলাম। আমাদের থিমটা তাঁকে বোঝালাম। এই রকম একটা লোগো। খুব সহজ কাজ নয়।
তখন রহিম অনেক সময় নিয়ে_প্রায় দুই মাস সময় নিয়ে কিছু ডিজাইন তৈরি করলেন। এরপর নিয়ে এলেন আমাদের কাছে। ইমেজগুলোর কালার ফটোকপি করে নিয়ে এলেন। তখন আমাদের ইমপ্রেস টেলিফিল্মের কর্মব্যস্ততা কিন্তু চলছে। পাশাপাশি চ্যানেল আই অন এয়ারের প্রস্তুতি। অনুষ্ঠান তৈরি শুরু হয়ে গেছে, শুরু হয়ে গেছে নাটক তৈরি।
তো ডিজাইনগুলো যখন আমার কাছে রহিম নিয়ে এলেন, তখন সেগুলো আমি আবারও একাধিক কালার ফটোকপি করালাম। তখন আমাদের হাউসে যেসব গুণীজন অনুষ্ঠান বানাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদও আছেন, ওই সব প্রডিউসার, ডিরেক্টরের হাতে হাতে ফটোকপিগুলো ধরিয়ে দিলাম। বললাম, 'ধরেন, এই শিটে ৫টা লোগো আছে, লোগোগুলোর উল্টোদিকে আপনি পছন্দের টিক চিহ্ন দেবেন।
সেটি ১৯৯৮ সালের কথা
এভাবে দেখলাম কোনটার দিকে বেশি ভোট পড়েছে। এরপর সেগুলো কম্পাইলেশন করে বাকিগুলো ছাঁটাই করে আমি আর সাগর ফাইনাল বোর্ড মিটিংয়ে সাবমিট করলাম। বললাম, এই লোগোগুলো আছে আমাদের কাছে, এর মধ্যে কোনটা আমরা গ্রহণ করব?
লোগোটিতে প্রথম আমরা কী কনসিভ করেছিলাম? যে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে একটা দেশ স্বাধীন করেছি। এখানে আমার ভাষা, আমার দেশাত্মবোধ_অনেক বিষয় আছে। ভাষার জন্য যুদ্ধ করে একটা জাতি স্বাধীন হয়েছে। আমার গ্রাম, আমার অর্থনীতি, আমার শক্তি_আমার রং। আমার সূর্যের রং, আমার পতাকার রং_বাংলাদেশের পতাকা, লাল-সবুজের পতাকা। বাংলাদেশের পতাকার ভেতর একটা সূর্য আছে, লাল সূর্য_আমার রক্তের মতো, আমার রক্তঝরা স্বাধীন বাংলাদেশ। আর সবুজ প্রান্তর, আমার বাংলাদেশ। আমার শস্যের প্রতীক, আমার ফসলের গান, আমার বাংলাদেশ। বোর্ডে ওই লোগো প্রেজেন্ট করলাম এবং সবাই একসেপ্ট করলেন। একসেপ্ট করার পর আমরা ঠিক করলাম, সামনে আমাদের আরো একটা বড় কাজ বাকি। সেটা কী? মানে আমাদের কেব্ল্ অপারেটর ভাইদের কাছে পেঁৗছাতে হবে, হতে হবে তাঁদের আপন মানুষ। তাঁদের মাধ্যমেই তো এখনো আমি-আপনি স্যাটেলাইট টেলিভিশন দেখতে পাই। তাঁদের সঙ্গে আমাদের কখনোই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক মিটিং হয়নি। আমাদের একটা সেতুবন্ধন হওয়া দরকার। তাঁরা আমাদেরই একটি বড় পার্ট। তাঁদের সঙ্গে তো সেই মিটিংয়ের জন্য আমরা সারা দেশের মোট ৫০০ কেব্ল্ অপারেটরকে একসঙ্গে ডাকলাম। ১ অক্টোবর চ্যানেল আই লঞ্চ করবে। ১৯৯৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর শেরাটন হোটেলের উইন্টার গার্ডেনে আমরা তাঁদের আমন্ত্রণ জানালাম। ৫০০ নয়, কেব্ল্ অপারেটরদের সঙ্গে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন আরো ৩০০ জন। শেষ পর্যন্ত মোট ৮০০ জনের ব্যবস্থাই করা হলো। রাতে আমাদের সঙ্গে মিটিং হবে, ডিনার হবে। পাশাপাশি 'হোয়াট ইজ চ্যানেল আই'_বিষয়ে একটা ভিডিও প্রেজেন্টেশন হলো। উইন্টার গার্ডেনের ওই মেগা স্ক্রিন প্রেজেন্টেশনে কেব্ল্ অপারেটরদের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের অ্যাপস্টার টু আর স্যাটেলাইট স্টেশন থেকে ভিডিওতে সরাসরি কথা বলেন আব্দুন নূর তুষার। মনে আছে, সেখানে কেব্ল্ অপারেটরদের জন্য দেওয়া হয় একটি কুইজ। একটি রোমিং নম্বরে ফোন করে যে সবচেয়ে আগে আব্দুন নূর তুষারের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন, তাঁকেই দেওয়া হবে ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ঢাকা এয়ার টিকিট। সেটি কেব্ল্ অপারেটরদের জন্য ছিল বিস্ময়কর এক ব্যাপার এবং সেই ধারাবাহিকতাতেই তৃণমূল পর্যায় থেকে এই চ্যানেলকে এ পর্যন্ত কেব্ল্ অপারেটররা সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন।
১ অক্টোবর শুরু হলো অন এয়ার। আমাদের প্রাণ যায় যায় অবস্থা। ২৪ ঘণ্টা একটা চ্যানেলকে চলমান রাখা, তাকে অনুষ্ঠান দিয়ে ভরপুর রাখা চাট্টিখানি কথা নয়। সারা দিন সারা রাত কাজ করতাম। আমরা হয়তো এক সকালে বাসা থেকে অফিসে আসতাম, তিন দিন পর বাড়ি ফিরতাম। মনে হতো কাজে যত আনন্দ, শরীরে ততটাই কষ্ট। এর ভেতরেই সাগর দৌড়াদৌড়ি করছে সিঙ্গাপুর। কারণ আমাদের স্যাটেলাইট তখন ছিল সিঙ্গাপুর। ব্যাংককে স্যাটেলাইটের সঙ্গে কথা চূড়ান্ত ছিল। হঠাৎ তারা চুক্তিভঙ্গ করায় চলে গেলাম সিঙ্গাপুর স্যাটেলাইটে। অ্যাপস্টার টু আর স্যাটেলাইট।
আমাদের ভিশন ছিল, সেই বিটিভির সঙ্গে আমাদের তফাত অনেকটা থাকতে হবে। পর্দাটাকে অলওয়েজ চকচকে-ঝকঝকে রাখতে হবে। রাখতে হবে গতিময়। মানে দর্শককে সঙ্গে রাখতে চোখের পলকে খেলতে হবে সবকিছু। দর্শককে আটকে রাখতে হবে রিমোট কন্ট্রোলে। এসব ইকোয়েশন মাথায় রাখতাম সবসময়।
চোখ যাতে না সরে
একটা বিশেষ দৃশ্যের জন্য, তিন মিনিট ধরে ধারণ করা হয়েছে একটা দৃশ্য। সে দৃশ্যের সঙ্গে মানুষ মোহিত হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা এক জিনিস। সেটা একটা ফিল্মে থাকতেই পারে। কিন্তু টেলিভিশনে প্রতি তিন সেকেন্ডে শট না কাটলে ঝুলে যাবে। আর সেই শটের সঙ্গে সারফেস, মিউজিক সবকিছু যদি এভাবে কোয়ালিটি থাকে, তাহলেই মানুষ দেখবে। নয়তো না। আর গ্ল্যামারাস হতে হবে। পর্দা হতে হবে চকচকে । হতে হবে ঝকঝকে।
তখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ টেলিভিশনে অ্যানিমেশন জিনিসটা আসেনি। সেই অ্যানিমেশন আছে কোথায়? আছে ফরেন চ্যানেলগুলোতে। ফরেন চ্যানেলগুলো তখন বাংলার ঘরে ঘরে। মানুষ জিটিভি দেখে। তো ওই যে রম্য_যে রম্য চ্যানেল আইয়ের লোগো বানিয়ে দিল, সেই রম্য খুব ভালো অ্যানিমেশন বানাতে পারত। অসম্ভব ভালো অ্যানিমেটর। রম্যর করা বেশ কিছু অ্যানিমেশন প্রচার শুরু হলো। ওইসব স্মার্ট সিজিগুলো এখনো চ্যানেল আইতে প্রচারিত হয়। মিউজিক পিস হলো একটা। ১৮ সেকেন্ডের মিউজিক পিস। চ্যানেল আইয়ের আইডেনটিটি পিস। যেটা হচ্ছে ইনসিগনিয়া। ৫টার সময় চ্যানেল আই যে শুরু হবে, শুরু হবে এই ইনসিগনিয়া বাজিয়ে।
কিভাবে এই ইনসিগনিয়া?
ইনসিগনিয়ার মিউজিক তৈরি করালাম শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে দিয়ে। যেটা আজও চলে। ও দীর্ঘদিন, প্রায় এক-দেড় মাস কাজ করে মিউজিক পিসটা তৈরি করল। যথেষ্ট শ্রম দিয়েছে। মানে তখন যে মানুষগুলো কাজ করেছে চ্যানেল আইয়ের সঙ্গে, যে আমাদের সঙ্গে কাজ করেছে, কনট্রিবিউট করেছে, তার ভেতরও এটা ছিল যে আমাদের দেশে নতুন একটা চ্যানেল আসছে। একটা ভালো চ্যানেল আসছে। ওই ফোর্সটা কাজ করছিল সবার ভেতর।
তো সেই ইনসিগনিয়া তৈরি হলো, অ্যানিমেশন তৈরি হলো। প্রোগ্রাম তো থাকবেই। গানের প্রোগ্রাম, নাচের প্রোগ্রাম, নাটক, টকশো এবং নিরীক্ষাধর্মী প্রোগ্রাম হবে। টেলিভিশনে যা কিছু নতুন এ যাবৎকালে বাংলাদেশে হয়েছে, চ্যানেল আই-ই প্রথম করেছে। বিশেষ দিন মানেই চ্যানেল আই। সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠান, অমুক আয়োজনে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান_সবকিছু চ্যানেল আইয়ের 'ব্রেইন চাইল্ড'।
তো এরকম একটা পরিস্থিতিতে, ইনসিগনিয়া তৈরি হলো। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে, সেই ১৯৯৯ সালে রম্য রহিম সিজি বানালেন, ইনসিগনিয়াটা তৈরি করল বাচ্চু। আজকে ২০১১ সাল, এই সময়ের ভেতর আমি এত স্মার্ট, এত অর্থবহ, এত কালারফুল ইনসিগনিয়া দেখতে পাই না।
একটা নতুন চ্যানেল দ্রুততার সঙ্গে সাফল্য নিয়ে এগোতে থাকল। কিন্তু এর পরও আমাদের চিন্তা থামল না। থেমে গেল না। আমরা ভাবলাম, একটা চ্যানেলে গান যাবে, নাটক যাবে, অনুষ্ঠান যাবে, সংবাদ যাবে_ভালো কথা।... এগুলোতে মানুষ বিনোদন পাবে। কিন্তু একটা টেলিভিশন চ্যানেলের কি শুধু বিনোদন দেওয়াটাই দায়িত্ব? আর কোনো দায়িত্ব নেই? আছে, আরো অনেক দায়িত্ব আছে। তখন একটি নতুন চ্যানেল, বিজ্ঞাপনদাতারা আছে, তখন বিজ্ঞাপনদাতার সংখ্যা হাতেগোনা। লিভার ব্রাদার্স, কেয়া কসমেটিঙ্, স্কয়ার, হেনোলাঙ্, কিউট_এরা তখন বিজ্ঞাপনদাতা। চ্যানেল আইয়ের পর্দায় প্রথম বিজ্ঞাপন ছিল 'কনফিডেন্স সিমেন্ট'-এর। কনফিডেন্স সিমেন্টের মালিক কোন কনফিডেন্সে আমাদের প্রথম বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন, ভাবলে এখনো অবাক হই। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জাগে। তখন বিজ্ঞাপনের সংখ্যা কম। অনুষ্ঠানের ফাঁকে হাতে থাকত সময়। তাই আমরা চিন্তা করলাম, কিছু ফিলার বানাতে হবে। যে ফিলারগুলো আমাকে দেশাত্মবোধ শেখাবে। যে ফিলারগুলো আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি পরিষ্কার রাখবে। যে ফিলারগুলো আমাদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করবে। মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ শেখাবে।
এরকম প্রচুর ইস্যু মাথায় নিয়ে ফিলার বানালাম। এগুলো মাঝেমধ্যে অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে যেতে থাকল। ফিলার শেষে ভেসে আসত 'জনস্বার্থে চ্যানেল আই'। যেগুলো বাংলা টেলিভিশন চ্যানেলে কেউ কোনো দিন দেখেনি।
এই অতিক্রমের পথ যেমন অমসৃণ, বন্ধুর, কষ্টের, ততটাই আনন্দের।
আমরা চ্যানেল আই পরিবারের প্রতিটি অহংকারী সদস্য নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে, আনন্দময় ইতিহাস তৈরি করে ১২ বছর অতিক্রম করেছি। অতিক্রম করতে চাই আরো অসংখ্য বছর। এই যে চ্যানেল আইয়ের জন্মের ইতিহাস, যত ইনোভেটিভ আইডিয়া_অধিকাংশই এসেছে সাগরের মাথা থেকে। বাস্তবায়ন করেছি সবাই মিলে।
প্রকৃতির নিয়মে একদিন আমরা থাকব না। থাকবে চ্যানেল আই। থাকবে চ্যানেল আইয়ের গর্বভরা সাফল্যের ইতিহাস।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
-
▼
2011
(13932)
-
▼
September
(685)
-
▼
Sep 29
(59)
- জয়ে ফিরেছে ইন্টার
- আবার একসঙ্গে জিদান-রোনালদো
- আমাজন দিয়ে মহাসড়ক নির্মাণ আপাতত বন্ধ
- ফিলিপাইনে টাইফুনে সাতজন নিহত
- ধনীদেরও সামর্থ্যের বাইরে ক্যানসার চিকিৎসার খরচ!
- যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করছেন গাদ্দাফি!
- টাটা না এলে রেলের কারখানা: মমতা
- প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা নিয়ে কথা বলবেন প্রণব
- সন্ত্রাসী শিবির গুঁড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নেবে পাকিস্তান
- পাকিস্তানে বাস উল্টে খাদে, ৩১ ছাত্রসহ ৩৭ জন নিহত
- পাকিস্তানকে সব সহায়তা বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষ...
- গল্পগুলো বান্দরবানের by বুদ্ধজ্যোতি চাকমা
- তুলে ধরার আয়োজন অপ্রতুল by ওমর কায়সার
- পাকিস্তানের ভরসা এখন চীন-সৌদি আরব?
- ইসরায়েলে হঠাৎ জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে ওবামার
- গুপ্তচরের কাজ করেছেন শীর্ষ নাৎসি কর্মকর্তা!
- একটি পরিবারের গল্প by রুম্মান রশীদ খান
- গান আর অভিনয়ের যুগলবন্দী by মেহেদী মাসুদ
- নেই অবসর by কামরুজ্জামান
- অ্যাশলে জডের ফ্লোরিডা by মাহফুজ রহমান
- ছত্রাকের অপেক্ষায় পাওলি by সাগর মৈত্রী
- একটি কবিতার শুদ্ধ পাঠ by মোহাম্মদ হাননান
- নির্বাচন কমিশনঃ কিছু অসমাপ্ত দায়িত্ব by তোফায়েল আহমেদ
- ফিলিস্তিনঃ আবু মাজেনের শেষ জুয়ার দান by ইউরি আভনেরি
- কিডনি কেনাবেচা ও অপপ্রচার by এ বি এম আবদুল্লাহ
- প্রধানমন্ত্রী, দেশের জন্যও একটি শান্তির মডেল চাই b...
- পুলিশের উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিন্দনীয়ঃ সাংবাদিকদের ব...
- অনড় অবস্থানের অশনিসংকেতঃ চার দলের জনসভা ও তারপর
- উপনির্বাচনে মমতার জয়
- লেখা হবে সাঁওতালি ভাষার সফটওয়্যার 'হড় কাথা'য় by বি...
- বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের স্বেচ্ছাচ...
- বাংলাদেশ-ভারত রূপরেখা চুক্তিঃ দিল্লির মনোভাব বদলের...
- হারিয়ে যাওয়া সত্যের সন্ধানে by হামিদুর রহমান খান
- স্টিভেন সোডারবার্গের সেরা পাঁচ by ইভা খান
- যুগ-যুগান্তরে চ্যানেল আই by শাইখ সিরাজ
- চার জননীর মুখ by মামুন মিজানুর রহমান
- দেশীয় চোরাবালিতে ভিনদেশি ইন্দ্রনীল by দাউদ হোসাইন রনি
- নকুলের গানের জীবন by কামরুজ্জামান মিলু
- টেলিভিশনের পর্দাজুড়ে
- সফল বন্ধুত্ব ও অর্থবহ সুসম্পর্ক দরকার by ডা. এম এ ...
- দুজন বিহনে ফাঁকা রাজনীতির মাঠ by এ কে এম শাহনাওয়াজ
- বৃক্ষের শক্তি by আফতাব চৌধুরী
- ট্রাফিকের ব্যবহার এবং একজন সম্পাদকের ভীতি by জাহিদ...
- বিশ্ব গণতন্ত্রে যুগান্তকারী নতুন অধ্যায় by শুভ রহমান
- ওয়াশিংটন ও তার বেয়াড়া সহযাত্রী by আহমদ রফিক
- সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা কেন
- টিআর দুর্নীতিঃ পুকুরচুরি বন্ধ করতে চাই রাজনৈতিক সদ...
- দ্রুত বিচার আইনে মামলা, চার্জশিট প্রস্তুত
- জকিগঞ্জের 'ফিশ গার্ডেন' থেকে বছরে আসছে ৬০০ টন মাছ ...
- শ্রীমঙ্গলে চায়ের নিলামকেন্দ্র স্থাপনের প্রতিবেদন চ...
- বঙ্গোপসাগরে ৩৭০০ কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে এলএনজি ট...
- চট্টগ্রামে দুই মাসে সাড়ে ১২ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়...
- ২৫০০ টাকা কমে সোনার ভরি এখন ৫৭ হাজার ৩৮৭ টাকা by র...
- বাণিজ্যিকীকরণের থাবায় ইস্ট বেঙ্গল ইনস্টিটিউশন বিপর...
- স্বাস্থ্য খাতের নতুন পঞ্চবার্ষিক কর্মসূচি শুরুতেই ...
- এমপি বাহারের বাহারি রাজত্ব by হায়দার আলী
- তত্ত্বাবধায়ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মাঠে নামছে বিএনপি by ম...
- তত্ত্বাবধায়ক নয়, ইসির অধীনে ভোটের প্রস্তুতি নিনঃ আ...
- হাঁপিয়ে উঠেছে ডিসিসি by অমিতোষ পাল
-
▼
Sep 29
(59)
-
▼
September
(685)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment