Monday, January 1, 2018
আমাদের সামনে অনেক ঝুঁকি: আকবর আলি খান
আমাদের সামনে অনেক ঝুঁকি: আকবর আলি খান

মশিউল
আলম: আমরা ২০১৭ সালের একদম শেষ প্রান্তে এসে পড়েছি; আমাদের এই কথোপকথন
যেদিন প্রথম আলোয় ছাপা হবে, সেদিন নতুন বছরের প্রথম দিন। এখন যদি আমরা একটু
ফিরে তাকাই, এই বিদায়ী বছরটা আমাদের কেমন কাটল?
আকবর আলি খান: শুভ নববর্ষ! শুভ নববর্ষ মানে হচ্ছে আমরা আশা করছি যে এই বছর আমাদের গত বছরের চেয়ে ভালো হবে। সুতরাং আমাদের নিশ্চয়ই অনেক অপূর্ণতা রয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা হলো, বাংলাদেশে মানবাধিকার সম্পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এখানে আমাদের ঘাটতি রয়েছে, সুশাসনের অনেক ঘাটতি রয়েছে; কিন্তু সব ঘাটতি সত্ত্বেও আমাদের অর্থনীতি পৃথিবীর অন্য অনেক দেশের তুলনায় মোটামুটি সাফল্য অর্জন করেছে। সুতরাং বলা যায়, আমাদের অর্থনৈতিক কার্যকলাপ এ বছর সন্তোষজনক ছিল।
মশিউল আলম: তাহলে এখানে এমন একটা প্রশ্ন কেউ কেউ তুলতে পারেন যে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যদি সন্তোষজনক হয়, তাহলে মানবাধিকারের অপূর্ণতাটাকে কি একটু ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা যায় না?
আকবর আলি খান: না, সেভাবে দেখা যায় না। কারণ, মানবাধিকার আগে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন তার পরের বিষয়। মানবাধিকারের প্রশ্নে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। দেখা গেছে, যেসব রাষ্ট্রে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল, সেখানে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। গরিব মানুষের জন্য গণতন্ত্রের অপরিহার্যতা নিয়ে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের বিখ্যাত উক্তির কথা স্মরণ করা যেতে পারে। যেখানে গণতন্ত্র নেই, সেখানে দুর্ভিক্ষ পর্যন্ত হতে পারে। সে রকম উদাহরণ দেখিয়ে তিনি বলেছেন যে গণতন্ত্র মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অর্থনীতিবিদেরা অমর্ত্য সেনের এই মতই মোটামুটিভাবে গ্রহণ করে থাকেন। এর কিছু ব্যতিক্রম দেখা গিয়েছিল সিঙ্গাপুরে কিংবা মালয়েশিয়ার মতো রাষ্ট্রে। কিন্তু সেখানকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মশিউল আলম: বাংলাদেশে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার যে কথা আপনি বলছেন, তার কিছু দৃষ্টান্ত কি দিতে পারেন? কারণ সরকার তো বলছে, আমাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি ঠিক আছে।
আকবর আলি খান: প্রথমত মানুষ গুম হয়ে যাচ্ছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংস্থার লোকজন এসবের সঙ্গে জড়িত। এটা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। এ ছাড়া শাসকগোষ্ঠীর বিভিন্ন মহল বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব তৎপরতা চালাচ্ছে, তাতে শুধু যে সাধারণ মানুষের জীবনই বিঘ্নিত হচ্ছে তা নয়, তাদের নিজেদের মধ্যেও খুনখারাবি হচ্ছে। সরকারের পক্ষে এগুলো বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। সুতরাং এদিক থেকে মানবাধিকার পরিস্থিতি মোটেও সন্তোষজনক নয় এবং এই পরিস্থিতির অবশ্যই উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।
মশিউল আলম: গেল বছর ব্যাংকিং খাতের লুটপাট নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে লুটপাট অবিশ্বাস্য রকমের উচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছে, এটা কীভাবে সম্ভব হচ্ছে?
আকবর আলি খান: এটা সম্ভব হয় তখনই, যখন সরকার এই ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করে। সরকার যখন দৃঢ় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তখন ব্যাংকে এ ধরনের লুটপাট সম্ভব হয় না। সরকার এই ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করেছে মূলত তিনভাবে। একটা হলো, বেসরকারি ব্যাংক খোলার লাইসেন্স যাদের দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকের ব্যাংক পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। লাইসেন্সগুলো দেওয়া হয়েছে মূলত রাজনৈতিক স্বার্থে রাজনীতিকদের। এই রাজনীতিবিদেরা ব্যাংকগুলো রাজনৈতিক স্বার্থে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেন। এটা হলো প্রথম সমস্যা। দ্বিতীয় সমস্যা হলো, যে সরকারি ব্যাংকগুলো আছে, সেগুলোর পরিচালনা পর্ষদেও রাজনীতিবিদদের মনোনয়ন দেওয়া হয়। রাজনীতিবিদেরা অনেক ভালো কাজ করতে পারেন, কিন্তু ব্যাংক চালানোর অভিজ্ঞতা তাঁদের নেই। এবং অনেক রাজনীতিবিদ এটাকে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উপায় হিসেবে গণ্য করেন। সুতরাং এই অবস্থার জন্য সরকার অনেকাংশে দায়ী। তৃতীয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। কারণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেখানে আরও ব্যাংকের লাইসেন্স দিতে চাইছে না, সেখানে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জোর করে অতিরিক্ত লাইসেন্স দিতে বাধ্য করছে। আমার মনে হয় না দেশে এতগুলো ব্যাংকের প্রয়োজন আছে। এই ব্যাংক ব্যবস্থা সম্পর্কে সরকার যদি অবিলম্বে সজাগ না হয়, তাহলে তার দুটি খারাপ পরিণতি দেখা দেবে। একটি হলো আমানতকারীদের স্বার্থ বিঘ্নিত হবে এবং তারা নিরুৎসাহিত হবে। আরেকটি হলো, দেশে সত্যিকারের বিনিয়োগ হবে না; যারা পয়সা নিয়ে পয়সা ফেরত দেবে না, তারাই ব্যাংক থেকে ঋণ পাচ্ছে এবং পাবে। দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি বাধাগ্রস্ত হবে। সুতরাং অর্থনীতির স্বার্থে এই ব্যবস্থা অবিলম্বে পরিবর্তনের জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
মশিউল আলম: মানবাধিকার প্রসঙ্গে আরেকটি প্রশ্ন যুক্ত করা যায়, সেটা হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। এ বছর দেখা গেল, অনেকগুলো ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারপর বিরুদ্ধ মত বা সরকারের সমালোচনা করে যাঁরা ফেসবুকে বা অন্যত্র লেখালেখি করেন, তাঁরা কেউ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা হচ্ছে। এসব কারণে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যমে একধরনের সেল্ফসেন্সরশিপ দেখা দিয়েছে। এটা কিসের লক্ষণ এবং এটা কোন দিকে যাচ্ছে?
আকবর আলি খান: এটা খুবই খারাপ লক্ষণ। এর একটি উপাদান হলো, আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে অভিযোগ আসছে যে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতেই লোকজন গুম হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ আমরা সংবাদপত্রে দেখতে পাচ্ছি। এটাও আরেকটা উদ্বেগের কারণ। তিন নম্বর হলো, বিভিন্ন দলের মধ্যে যে অন্তর্ঘাতমূলক সংঘাত হচ্ছে, এতেও লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সমস্ত মিলে আমাদের দেশে আসলে একটা গুমোট পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এবং এখানে কথা বলার স্বাধীনতা অনেকাংশে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ অবস্থা পরিবর্তনের জন্য সম্ভবত সিভিল সমাজকেও উদ্যোগ নিতে হবে, দেশের সব নাগরিককে উদ্যোগ নিতে হবে। যদি না নেওয়া হয় এবং এ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন বিরাজ করে, তাহলে এখানে স্বেচ্ছাচারী শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম হতে পারে।
মশিউল আলম: সিভিল সোসাইটিও তো নিরপেক্ষ ভূমিকায় নেই...
আকবর আলি খান: সিভিল সোসাইটি বাংলাদেশে অনেক দুর্বল, ক্রমশ আরও দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। কারণ সিভিল সোসাইটির মধ্যেই অনেক দ্বন্দ্ব রয়েছে, সিভিল সোসাইটির অনেক অংশ রাজনৈতিক প্রভাবে পড়েছে। তবুও যা আছে, সেটাও যদি সংগঠিত করা যায়, তাহলে অন্তত ক্ষীণ প্রতিবাদ হতে পারে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে দেশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। যদি গণতন্ত্র সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে এ ধরনের পরিবেশ বিরাজ করতে পারে না।
মশিউল আলম: এ বছর আমরা বড় ধরনের বন্যার মুখোমুখি হয়েছিলাম, ব্যাপক ফসলহানি ঘটেছে। এর পরিণতিতে হোক, বা খাদ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, অদক্ষতা বা পরিকল্পনাহীনতার কারণে হোক, চালের দাম অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়েছে। গত প্রায় এক দশকের মধ্যে চালের দাম সর্বোচ্চ হয়েছে।
আকবর আলি খান: এটা ঠিক যে দেশে চালের দাম বেড়েছে, আবার এটাও ঠিক যে দেশে খাদ্য উৎপাদনও অনেক বেড়েছে। ১৯৭০ সালে আমরা যেখানে প্রায় ১ কোটি টন খাদ্য উৎপাদন করতাম, সেখানে এখন ৩ কোটি ৮০ লাখ টন বা তার চেয়েও বেশি খাদ্য উৎপাদন করছি। কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বাড়লেও একটা বড় সমস্যা আমাদের রয়ে গেছে। কারিগরি পরিবর্তনের ফলে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে, কিন্তু উৎপাদন খরচ চাষিরা পাচ্ছেন না। এঁদের জন্য খাদ্যের যে দাম নিশ্চিত করা দরকার, সেটা সরকার করতে পারছে না। এর ফলে বিরাট সমস্যা দেখা দিচ্ছে এবং সরকারের খাদ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যেও দুর্বলতা রয়েছে। সরকার বলে যে তারা ইনসেনটিভ প্রাইসে কৃষকদের কাছ থেকে খাদ্য কিনছে, কিন্তু কৃষকেরা এই ইনসেনটিভ প্রাইসের সুফল পায় না। এটা ভোগ করছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। কাজেই এই মধ্যস্বত্বভোগীদের ক্ষমতা হ্রাস না করলে এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা করা না হলে কৃষিব্যবস্থাতেও খারাপ প্রভাব পড়বে এবং খাদ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনা যাবে না। এই ক্ষেত্রে সরকারের অনেক কাজ করা দরকার। সবার সঙ্গে পরামর্শ করে এ সম্বন্ধে নীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
মশিউল আলম: এই বছর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের নিয়ে আমরা বিরাট সমস্যায় পড়েছি এবং এই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। এ বিষয়ে আপনি কী ভাবেন?
আকবর আলি খান: রোহিঙ্গাদের যে ট্র্যাজেডি, এটা একবিংশ শতাব্দীর একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এই ঘটনা বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি, কিন্তু তা বাংলাদেশের ওপর চেপে বসেছে। এই ঘটনা মোকাবিলার কোনো সহজ সমাধান নেই। সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা পেয়েছে, আবার অনেক বড় রাষ্ট্রের সহযোগিতা পায়নি। এর কারণ যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর তৎপরতা, সেই বাহিনীর কাছে যাদের স্বার্থ রয়েছে, তারা তাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। যেমন চীন ও রাশিয়া, এমনকি ভারতও। যদিও পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের সমর্থন আমরা পেয়েছি, কিন্তু যাদের সমর্থন প্রয়োজন তাদের সমর্থন পেতে পারিনি। সে জন্য আমাদের সামরিক দিক থেকে আরও তৎপর হতে হবে। তাদের সামরিক বাহিনী যে ধরনের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে কাজ করছে, সেটাকে দমন করার মতো শক্তি যদি আমরা অর্জন করতে পারি, তাহলে তাদের কিছুটা বোধোদয় হতে পারে।
মশিউল আলম: জনপ্রশাসনের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে, জনগণ সঠিকভাবে সেবা পাচ্ছে না, দুর্নীতি বেড়ে গেছে। কিন্তু আবার আমলারা নিজেদের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে নিচ্ছেন। এ রকম কেন হচ্ছে? এটা থেকে বেরোনোর পথ কী?
আকবর আলি খান: অল্প কথায় এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বেশ শক্ত ব্যাপার। এ বিষয়ে আমি একটা বই লিখেছি, সে বইয়ের নাম গ্রেশামস ল সিনড্রোম। এ বইয়ের মধ্যে বিস্তৃত বর্ণনা আছে আমাদের প্রশাসনের কী অবক্ষয় ঘটছে এবং কেন অবক্ষয় ঘটছে। আসলে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলই এ দেশের প্রশাসনিক সমস্যা বুঝতে পারেনি। ব্রিটিশরা বাংলাদেশে যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল সেটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অনুপযুক্ত। আমাদের উচিত ছিল সেটাকে নতুন করে ঢেলে সাজানো, কিন্তু তা না করে ব্রিটিশদের ফেলে যাওয়া ব্যবস্থায় অল্পস্বল্প পরিবর্তন করে, সেটা অভিযোজন করে আমরা চালাতে গিয়েছি। এটা এভাবে চালানো সম্ভব নয়। শুধু তা-ই না, ব্রিটিশরা যে ধ্যানধারণার ওপরে কাজ করেছিল, সেসব ধ্যানধারণা থেকে এক শ বছর আগে যেসব কাজ করা হতো আমরা সেসব কাজ এখন করছি। পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের প্রশাসন আছে বলে আমাদের জানা নেই। যেমন নিয়োগের কথা যদি ধরেন, বাংলাদেশে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কৃষিবিদ, কূটনীতিক, প্রশাসক এঁদের সবাইকে একই পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের কাণ্ড হয় না। এবং আমাদের দেশে ২৫৭টি কোটা চালু করা হয়েছে, পৃথিবীর কোনো দেশে ২৫৭টি কোটা নেই এবং ২৫৭টি কোটা থাকলে বানরের পিঠা ভাগের মতো চাকরিবাকরি ভাগাভাগি করা হয়। এখন ভালো ছেলেরা আদৌ প্রশাসনে আসছে না এবং প্রশাসন সম্বন্ধে অনভিজ্ঞভাবে দেশ চালানোর ফলে আরও দুটি মারাত্মক কাজ হচ্ছে। একটি কাজ হলো, প্রশাসনিক কাজের ধাপগুলো ক্রমশ বাড়ানো হচ্ছে। পাকিস্তান আমলে চারটি ধাপ ছিল—সেকশন অফিসার, ডেপুটি সেক্রেটারি, জয়েন্ট সেক্রেটারি ও সেক্রেটারি। অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি ছিল অল্প কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে, যেখানে সেক্রেটারির কাজ খুব বেশি ছিল। সেই চারটি ধাপ এখন আটটি হয়েছে। আগে সেকশন অফিসার প্রথম নোট লিখতেন। এখন সেকশন অ্যাসিস্টেন্ট প্রথম নোট লেখেন। অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি বাংলাদেশ হওয়ার পরও অল্প কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে ছিল, আর বড় বড় করপোরেশনের চেয়ারম্যানরা ছিলেন। এখন প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে তিন-চারজন করে অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি করা হয়েছে এবং নিয়ম করা হয়েছে যে অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি হয়ে ফাইল যেতে হবে। সুতরাং আরেকটা স্তর হলো, সেটা হলো পঞ্চম স্তর এবং ষষ্ঠ স্তরে হলো সেক্রেটারি। সেক্রেটারির পরে, আগে ডেপুটি মিনিস্টারের কাছে কোনো ফাইলই যেত না। তাঁরা পার্লামেন্টে সেক্রেটারির কাজ করতেন, তাঁদের দায়িত্ব ছিল পার্লামেন্টে প্রশ্নের জবাব দেওয়া। এখন ডেপুটি মিনিস্টারদের কাছে ফাইল যায়, স্টেট মিনিস্টারদের কাছে ফাইল যায়, তারপরে মন্ত্রীর কাছে ফাইল যায়। এই আট দফায় ফাইল যদি উপরের দিকে যায় এবং নিচের দিকে নামে, তাহলে যদি সবাই অনেস্ট হয়, তবুও কমপক্ষে ১৬ দিন লেগে যাবে শুধু ফাইল ওঠানামা করতে। এ ছাড়া সমস্ত ক্ষমতা মন্ত্রীদের হাতে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। সব ফাইল প্রকৃতপক্ষে মন্ত্রীদের কাছে চলে যায়। এর ফলে কোনো সিদ্ধান্ত তাড়াতাড়ি পাওয়া সম্ভব হয় না। সিঙ্গাপুরের সরকারের কাছে যদি আপনি চিঠি লেখেন, হয়তো আপনি তিন দিন কিংবা চার দিনের মধ্যে জবাব পাবেন, বাংলাদেশে তিন মাসের মধ্যেও জবাব পাবেন কি না সন্দেহ আছে এবং কয় দিনে জবাব পাবেন এটা কেউ বলতে পারবে না। আমরা হাজার হাজার লোককে প্রমোশন দিয়েছি; হাজার হাজার লোককে প্রমোশন দিলে নিচের দিকের পদগুলো শূন্য হয়ে যায়। সচিবালয়ে এখন অতিরিক্ত সচিবেরা গড়াগড়ি খাচ্ছেন, যুগ্ম সচিবেরও কোনো অভাব নেই, কিন্তু নিচের দিকের পদে দেখা যাবে লোক নেই। অনেক জায়গায় দেখা যাবে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ল্যান্ড রেভিনিউ নেই। অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ল্যান্ড রেভিনিউ কাজ করলে তো ফাইল ওপরের দিকে আসবে। নিচের দিকে কাজ করার লোক নেই, ওপরের দিকে সব লোকজন ফাইলের প্রত্যাশায় বসে আছে। এই এক অদ্ভুত ধরনের প্রশাসন; যাঁরা প্রশাসন সম্বন্ধে জানেন, তাঁরা এ ধরনের প্রশাসন মোটেও সমর্থন করবেন না। আমাদের এখানে যে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, সেটাও চাকরি দেওয়ার জন্য করা হচ্ছে। এত পদেরও কোনো দরকার নেই। বিশেষ করে বিসিএস অ্যাডমিনে যে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, এত নিয়োগের কোনো প্রয়োজন বাংলাদেশে নেই। কাজ নেই, কিন্তু পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কাজ ছাড়া পদ সৃষ্টি করলে শুধু টাকার অপচয়ই হয় না, প্রশাসনিক দক্ষতাও কমে যায়।
মশিউল আলম: তাহলে কি আমরা বলতে পারি যে প্রশাসন একটা সেলফ-সার্ভিং করপোরেট গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে?
আকবর আলি খান: হ্যাঁ, এবং এদের বেতন অনেক বাড়ানো হয়েছে, এবং আমি ডেপুটি সেক্রেটারিদের গাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে হিসাব করে দেখেছিলাম, সরকারের বছরে দেড় শ-দুই শ কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে। এখন যদি তাঁদের সবাইকে গাড়ি দেওয়া হয় এবং গাড়ির জন্য অ্যাডভান্স দেওয়া হয়, তাহলে সরকারের হাজার কোটি টাকার ওপরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে, যেটার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এভাবে একদিকে সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের প্রশাসনিক অবক্ষয় ঘটছে। এগুলো হচ্ছে এ জন্য যে মূল সমস্যা যেগুলো সেগুলো কেউ দেখছে না। এবং জুডিশিয়ারির ক্ষেত্রেও একই রকম অবস্থা হয়েছে। জুডিশিয়ারিতে ৭৫০ খণ্ডকালীন ম্যাজিস্ট্রেটের বদলে ৭০০ ফুলটাইম জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু দেখা গেল জুডিশিয়ারিতে মামলার জট বাড়তেই আছে, আজও কমছে না। এসব সমস্যা নিয়ে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমার মনে হয় এগুলো নিয়ে সব দলের চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু কোনো দলই এই সমস্যাগুলো নিয়ে চিন্তা করছে না। এ জন্য বাংলাদেশের প্রশাসনে অদূর ভবিষ্যতে কোনো উন্নতি হবে বলে আমি আশা করি না। যাঁরা আমলাতন্ত্রে আছেন, তাঁরা এই ব্যবস্থার সুবিধা ভোগ করছেন, তাঁরা এই ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন চাইবেন না। আর সরকারের দিক থেকে যদি দূরদর্শী নেতা না থাকে তাহলে এই ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। দল পরিবর্তন হতে পারে, সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু প্রশাসন পরিবর্তনের কোনো চিহ্নই এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।
মশিউল আলম: প্রশাসনকে দিয়ে দেশ চালিয়ে সরকার টিকে থাকে। এদের খুশি রাখার জন্য এরা যা চায় সরকার তাই করে...
আকবর আলি খান: না, শুধু যা চায় তাই যে করে তা নয়, তাদের দিয়ে যেসব কাজ করানো হচ্ছে, এগুলো তাদের কাজ নয়। আবার তাদের সমস্ত ক্ষমতা এবং তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। বর্তমান ব্যবস্থায় সমস্ত ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কেন্দ্রীভূত এবং তারপরে মন্ত্রীদের অফিসে কেন্দ্রীভূত। আমলাতন্ত্র অনেক দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের তবু পয়সা দিয়ে খুশি রাখা হচ্ছে এ জন্য যে তাঁদের অনেকে নির্বাচনের সময় রিটার্নিং অফিসার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারের কাজ করেন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কিন্তু প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমানে যে ধরনের প্রশাসন চালু আছে, এটার কোনোই যৌক্তিকতা নেই।
মশিউল আলম: এখন আমরা একটু রাজনীতির প্রসঙ্গে আসি। বাংলাদেশে তো কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি যেটাকে বলে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেটা কাজ করে, সরকারের ভুলত্রুটির সমালোচনা, প্রতিবাদ, একটা বিরুদ্ধ মত, সেটা রাজনৈতিক অঙ্গনে নেই বললেই চলে। প্রধান প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপি অভিযোগ করে তাদের রাস্তায় নামতে দেওয়া হয় না, জনসভা করতে দেওয়া হয় না, তারা কোণঠাসা। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের বছর চলে এল। তো সামনে কী হতে যাচ্ছে?
আকবর আলি খান: বাংলাদেশে সংঘাতের রাজনীতি বিরাজ করছে এবং বাংলাদেশে যে বর্তমান পরিস্থিতি, এটার জন্য দুটি দলই দায়ী। বর্তমানের সরকার বিএনপিকে কাজ করতে দিচ্ছে না, আবার বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তারাও আওয়ামী লীগকে একইভাবে অত্যাচার করেছে, কাজ করতে দেয়নি। সুতরাং এই ব্যাপারে আমাদের কারও ওপরেই আশা করার কারণ নেই। তবে আশার কারণ দেখা যাচ্ছে দুটি। একটি হলো, গত নির্বাচন যখন সরকার করে, তখন শতকরা ৫০ ভাগের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের কোনো লক্ষণ নয়। যদিও আদালত বলেছেন যে এই সরকার বৈধ এবং আদালতের আদেশ আমাদের সকলের জন্য বাধ্যতামূলক, কিন্তু নৈতিকভাবে এটা সরকারের একটা বড় পরাজয়। আমার মনে হয় সরকার এটা বুঝতে পেরেছে এবং সে জন্য সরকার চাচ্ছে যে বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। আর বিরোধী দল নির্বাচন বয়কট করে বর্তমানে খুব খারাপ আছে। প্রকৃতপক্ষে মোট ভোটারের সংখ্যার ভিত্তিতে যদি আমরা দেখি, তাহলে বাংলাদেশে বিরোধী দল হওয়ার কথা বিএনপির, জাতীয় পার্টির নয়। কিন্তু সেই আসনে জাতীয় পার্টি বর্তমানে বসে আছে। বিএনপি অনেক সুযোগ-সুবিধা হারাচ্ছে এবং তাদের অসুবিধা হচ্ছে। সুতরাং বিএনপি সম্ভবত কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও কমপক্ষে বিরোধী দলের আসন পাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত হবে। এই দুটিই হলো আশার লক্ষণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হবে, এটা শেষ মুহূর্ত ছাড়া বলা যাবে না। যদি নির্বাচনের একটা মোটামুটি আবহাওয়া সৃষ্টি করা হয় এবং সেই আবহাওয়ায় যদি দুই দল অংশ নেয় এবং সরকার যদি বিরোধী দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেয়, তাহলে হয়তো নির্বাচন হবে। এবং এটা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু হবেই, এটা নিশ্চিতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়।
মশিউল আলম: তাহলে দেখা যাচ্ছে, এ বছর বড় বন্যায় ব্যাপক ফসলহানি, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর আশ্রয়, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকোচন, নির্বাচনের বছর কিন্তু রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই বলে নির্বাচন হবে কি না বা হলে কেমন নির্বাচন হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা—এই সমস্ত কিছুর পটভূমিতে আমরা একটা নতুন বছরে পদার্পণ করছি। এই পরিস্থিতিতে আমাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হতে পারে? কারণ এগুলোর সবই আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।
আকবর আলি খান: আপনি যেগুলো বললেন, এগুলো অবশ্যই উপাদান। বাংলাদেশে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে তা বেশ সন্তোষজনক। ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে এ নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও যদি ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয় তাহলে এটা নিশ্চয়ই একটা সাফল্যের স্বাক্ষর, কারণ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে এত দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে না। কিন্তু এই পরিবর্তনের পেছনে অবদান রয়েছে বাংলাদেশের কৃষকদের, পোশাকশ্রমিকদের এবং যাঁরা বিদেশে কাজ করে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন তাঁদের। মূলত এই তিনটি গোষ্ঠীই বাংলাদেশের অর্থনীতির নিয়ন্তা। যদিও অর্থমন্ত্রীরা দাবি করেন যে তাঁদের নীতির জন্যই এই সাফল্য অর্জিত হচ্ছে, আমার মনে হয় যে কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়। ৭৫ ভাগ অবদান এই তিনটি গোষ্ঠীর আর ২৫ ভাগ অবদান সরকারের। এই তিনটি গোষ্ঠীরই ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এই তিনটি গোষ্ঠীর সমস্যা সম্পর্কে আমরা যদি সজাগ না হই, তাহলে অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিদেশে যাঁরা কাজ করছেন, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে, সেখানে যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে, তার ফলে সেখান থেকে প্রেরিত অর্থের পরিমাণ কমে যাবে। যদি কমে যায়, তাহলে এটা আমাদের অর্থনীতির অগ্রগতিকে শ্লথ করবে। বিশেষ করে গৃহায়ণ খাতে ধস নামার এবং দেশি শিল্পপণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এগুলো সম্বন্ধে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। দুই নম্বর হলো, কৃষি খাতে কৃষকেরা উৎপাদন করছেন কিন্তু পণ্যের দাম পাচ্ছেন না। সুতরাং এই সমস্যার যদি সমাধান না করা হয়, তাহলে বছরের পর বছর কৃষকেরা লোকসানের বোঝা টানতে পারবেন না। সুতরাং সেখানেও ঝুঁকি রয়েছে। আর পোশাকশিল্প মূলত বৈদেশিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল; কিন্তু পোশাকশিল্পের একটা বড় সংকট অদূর ভবিষ্যতে আসবে। সেটা হলো পোশাকশিল্পে কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক সস্তায় নিজেদের মাপ অনুসারে পোশাক তৈরি করা সম্ভব। ইংরেজিতে এটাকে বলে ‘কাস্টোমাইজড ড্রেস’। এখন যে ধরনের পোশাক আমরা বিদেশে পাঠাচ্ছি, সেগুলো কতকগুলো বড় মাপের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়, যেগুলো সবার গায়ে লাগে না। সবার গায়ে লাগে এমন পোশাক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে উন্নত দেশে তৈরি করা সম্ভব। এর ফলে পোশাক খাতে যাঁরা বিদেশে কারিগরি পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করতে পারবেন না, তাঁরা বিপদের সামনে পড়বেন। এ ছাড়া বিদেশি প্রতিযোগিতা বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক উন্নতির ফলে আমাদের দেশে মজুরি বাড়ছে। এই ঝামেলাগুলো ছাড়া আর তিনটি বড় ঝামেলা আমাদের হয়েছে। প্রথমটি হলো আমরা অবকাঠামো খাতে অনেকগুলো বড় প্রকল্প নিয়েছি। আমাদের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা সীমিত এবং আমাদের দেশে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্নীতি ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ আসে। আমরা যেসব প্রকল্প পিপিপিতে এবং অন্যান্য খাতে গ্রহণ করেছি, এগুলোর অর্থনৈতিক দায় বিদেশি মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। সুতরাং আমরা যদি ঠিকমতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারি, তাহলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার ওপরে প্রচণ্ড চাপ পড়বে। এসব ঝুঁকি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সমস্যাগুলো সম্পর্কে যদি সরকার সতর্ক থাকে এবং ব্যবস্থা নেয়, তাহলে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ থেকে বাড়ানো সম্ভব। দ্বিতীয়ত ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা না হলে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। তৃতীয়ত, প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য অবশ্যই সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে এখানে বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে না। আমরা এখন যে বৈদেশিক বিনিয়োগ পাই, সেগুলো তাদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার ফলে পাই। কিন্তু যেসব দেশে সুশাসন নেই সেসব দেশে এসব বিদেশি বিনিয়োগ আসে না। সুতরাং আমাদের সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
মশিউল আলম: না হলে আমাদের অর্থনীতির ঝুঁকি...
আকবর আলি খান: আগামী বছরেই হয়তো নয়, কিন্তু আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই এই ঝুঁকিগুলোর প্রভাব আমাদের অর্থনীতিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক ঝুঁকিই আমাদের নাড়িয়ে দিতে পারে, সে ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি অনেক শ্লথ হয়ে যেতে পারে।
মশিউল আলম: আপনাকে ধন্যবাদ।
আকবর আলি খান: ধন্যবাদ।
আকবর আলি খান: শুভ নববর্ষ! শুভ নববর্ষ মানে হচ্ছে আমরা আশা করছি যে এই বছর আমাদের গত বছরের চেয়ে ভালো হবে। সুতরাং আমাদের নিশ্চয়ই অনেক অপূর্ণতা রয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা হলো, বাংলাদেশে মানবাধিকার সম্পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এখানে আমাদের ঘাটতি রয়েছে, সুশাসনের অনেক ঘাটতি রয়েছে; কিন্তু সব ঘাটতি সত্ত্বেও আমাদের অর্থনীতি পৃথিবীর অন্য অনেক দেশের তুলনায় মোটামুটি সাফল্য অর্জন করেছে। সুতরাং বলা যায়, আমাদের অর্থনৈতিক কার্যকলাপ এ বছর সন্তোষজনক ছিল।
মশিউল আলম: তাহলে এখানে এমন একটা প্রশ্ন কেউ কেউ তুলতে পারেন যে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যদি সন্তোষজনক হয়, তাহলে মানবাধিকারের অপূর্ণতাটাকে কি একটু ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা যায় না?
আকবর আলি খান: না, সেভাবে দেখা যায় না। কারণ, মানবাধিকার আগে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন তার পরের বিষয়। মানবাধিকারের প্রশ্নে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। দেখা গেছে, যেসব রাষ্ট্রে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল, সেখানে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। গরিব মানুষের জন্য গণতন্ত্রের অপরিহার্যতা নিয়ে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের বিখ্যাত উক্তির কথা স্মরণ করা যেতে পারে। যেখানে গণতন্ত্র নেই, সেখানে দুর্ভিক্ষ পর্যন্ত হতে পারে। সে রকম উদাহরণ দেখিয়ে তিনি বলেছেন যে গণতন্ত্র মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অর্থনীতিবিদেরা অমর্ত্য সেনের এই মতই মোটামুটিভাবে গ্রহণ করে থাকেন। এর কিছু ব্যতিক্রম দেখা গিয়েছিল সিঙ্গাপুরে কিংবা মালয়েশিয়ার মতো রাষ্ট্রে। কিন্তু সেখানকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মশিউল আলম: বাংলাদেশে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার যে কথা আপনি বলছেন, তার কিছু দৃষ্টান্ত কি দিতে পারেন? কারণ সরকার তো বলছে, আমাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি ঠিক আছে।
আকবর আলি খান: প্রথমত মানুষ গুম হয়ে যাচ্ছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংস্থার লোকজন এসবের সঙ্গে জড়িত। এটা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। এ ছাড়া শাসকগোষ্ঠীর বিভিন্ন মহল বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব তৎপরতা চালাচ্ছে, তাতে শুধু যে সাধারণ মানুষের জীবনই বিঘ্নিত হচ্ছে তা নয়, তাদের নিজেদের মধ্যেও খুনখারাবি হচ্ছে। সরকারের পক্ষে এগুলো বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। সুতরাং এদিক থেকে মানবাধিকার পরিস্থিতি মোটেও সন্তোষজনক নয় এবং এই পরিস্থিতির অবশ্যই উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।
মশিউল আলম: গেল বছর ব্যাংকিং খাতের লুটপাট নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে লুটপাট অবিশ্বাস্য রকমের উচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছে, এটা কীভাবে সম্ভব হচ্ছে?
আকবর আলি খান: এটা সম্ভব হয় তখনই, যখন সরকার এই ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করে। সরকার যখন দৃঢ় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তখন ব্যাংকে এ ধরনের লুটপাট সম্ভব হয় না। সরকার এই ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করেছে মূলত তিনভাবে। একটা হলো, বেসরকারি ব্যাংক খোলার লাইসেন্স যাদের দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকের ব্যাংক পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। লাইসেন্সগুলো দেওয়া হয়েছে মূলত রাজনৈতিক স্বার্থে রাজনীতিকদের। এই রাজনীতিবিদেরা ব্যাংকগুলো রাজনৈতিক স্বার্থে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেন। এটা হলো প্রথম সমস্যা। দ্বিতীয় সমস্যা হলো, যে সরকারি ব্যাংকগুলো আছে, সেগুলোর পরিচালনা পর্ষদেও রাজনীতিবিদদের মনোনয়ন দেওয়া হয়। রাজনীতিবিদেরা অনেক ভালো কাজ করতে পারেন, কিন্তু ব্যাংক চালানোর অভিজ্ঞতা তাঁদের নেই। এবং অনেক রাজনীতিবিদ এটাকে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উপায় হিসেবে গণ্য করেন। সুতরাং এই অবস্থার জন্য সরকার অনেকাংশে দায়ী। তৃতীয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। কারণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেখানে আরও ব্যাংকের লাইসেন্স দিতে চাইছে না, সেখানে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জোর করে অতিরিক্ত লাইসেন্স দিতে বাধ্য করছে। আমার মনে হয় না দেশে এতগুলো ব্যাংকের প্রয়োজন আছে। এই ব্যাংক ব্যবস্থা সম্পর্কে সরকার যদি অবিলম্বে সজাগ না হয়, তাহলে তার দুটি খারাপ পরিণতি দেখা দেবে। একটি হলো আমানতকারীদের স্বার্থ বিঘ্নিত হবে এবং তারা নিরুৎসাহিত হবে। আরেকটি হলো, দেশে সত্যিকারের বিনিয়োগ হবে না; যারা পয়সা নিয়ে পয়সা ফেরত দেবে না, তারাই ব্যাংক থেকে ঋণ পাচ্ছে এবং পাবে। দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি বাধাগ্রস্ত হবে। সুতরাং অর্থনীতির স্বার্থে এই ব্যবস্থা অবিলম্বে পরিবর্তনের জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
মশিউল আলম: মানবাধিকার প্রসঙ্গে আরেকটি প্রশ্ন যুক্ত করা যায়, সেটা হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। এ বছর দেখা গেল, অনেকগুলো ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারপর বিরুদ্ধ মত বা সরকারের সমালোচনা করে যাঁরা ফেসবুকে বা অন্যত্র লেখালেখি করেন, তাঁরা কেউ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা হচ্ছে। এসব কারণে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যমে একধরনের সেল্ফসেন্সরশিপ দেখা দিয়েছে। এটা কিসের লক্ষণ এবং এটা কোন দিকে যাচ্ছে?
আকবর আলি খান: এটা খুবই খারাপ লক্ষণ। এর একটি উপাদান হলো, আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে অভিযোগ আসছে যে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতেই লোকজন গুম হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ আমরা সংবাদপত্রে দেখতে পাচ্ছি। এটাও আরেকটা উদ্বেগের কারণ। তিন নম্বর হলো, বিভিন্ন দলের মধ্যে যে অন্তর্ঘাতমূলক সংঘাত হচ্ছে, এতেও লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সমস্ত মিলে আমাদের দেশে আসলে একটা গুমোট পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এবং এখানে কথা বলার স্বাধীনতা অনেকাংশে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ অবস্থা পরিবর্তনের জন্য সম্ভবত সিভিল সমাজকেও উদ্যোগ নিতে হবে, দেশের সব নাগরিককে উদ্যোগ নিতে হবে। যদি না নেওয়া হয় এবং এ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন বিরাজ করে, তাহলে এখানে স্বেচ্ছাচারী শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম হতে পারে।
মশিউল আলম: সিভিল সোসাইটিও তো নিরপেক্ষ ভূমিকায় নেই...
আকবর আলি খান: সিভিল সোসাইটি বাংলাদেশে অনেক দুর্বল, ক্রমশ আরও দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। কারণ সিভিল সোসাইটির মধ্যেই অনেক দ্বন্দ্ব রয়েছে, সিভিল সোসাইটির অনেক অংশ রাজনৈতিক প্রভাবে পড়েছে। তবুও যা আছে, সেটাও যদি সংগঠিত করা যায়, তাহলে অন্তত ক্ষীণ প্রতিবাদ হতে পারে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে দেশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। যদি গণতন্ত্র সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে এ ধরনের পরিবেশ বিরাজ করতে পারে না।
মশিউল আলম: এ বছর আমরা বড় ধরনের বন্যার মুখোমুখি হয়েছিলাম, ব্যাপক ফসলহানি ঘটেছে। এর পরিণতিতে হোক, বা খাদ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, অদক্ষতা বা পরিকল্পনাহীনতার কারণে হোক, চালের দাম অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়েছে। গত প্রায় এক দশকের মধ্যে চালের দাম সর্বোচ্চ হয়েছে।
আকবর আলি খান: এটা ঠিক যে দেশে চালের দাম বেড়েছে, আবার এটাও ঠিক যে দেশে খাদ্য উৎপাদনও অনেক বেড়েছে। ১৯৭০ সালে আমরা যেখানে প্রায় ১ কোটি টন খাদ্য উৎপাদন করতাম, সেখানে এখন ৩ কোটি ৮০ লাখ টন বা তার চেয়েও বেশি খাদ্য উৎপাদন করছি। কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বাড়লেও একটা বড় সমস্যা আমাদের রয়ে গেছে। কারিগরি পরিবর্তনের ফলে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে, কিন্তু উৎপাদন খরচ চাষিরা পাচ্ছেন না। এঁদের জন্য খাদ্যের যে দাম নিশ্চিত করা দরকার, সেটা সরকার করতে পারছে না। এর ফলে বিরাট সমস্যা দেখা দিচ্ছে এবং সরকারের খাদ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যেও দুর্বলতা রয়েছে। সরকার বলে যে তারা ইনসেনটিভ প্রাইসে কৃষকদের কাছ থেকে খাদ্য কিনছে, কিন্তু কৃষকেরা এই ইনসেনটিভ প্রাইসের সুফল পায় না। এটা ভোগ করছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। কাজেই এই মধ্যস্বত্বভোগীদের ক্ষমতা হ্রাস না করলে এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা করা না হলে কৃষিব্যবস্থাতেও খারাপ প্রভাব পড়বে এবং খাদ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনা যাবে না। এই ক্ষেত্রে সরকারের অনেক কাজ করা দরকার। সবার সঙ্গে পরামর্শ করে এ সম্বন্ধে নীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
মশিউল আলম: এই বছর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের নিয়ে আমরা বিরাট সমস্যায় পড়েছি এবং এই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। এ বিষয়ে আপনি কী ভাবেন?
আকবর আলি খান: রোহিঙ্গাদের যে ট্র্যাজেডি, এটা একবিংশ শতাব্দীর একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এই ঘটনা বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি, কিন্তু তা বাংলাদেশের ওপর চেপে বসেছে। এই ঘটনা মোকাবিলার কোনো সহজ সমাধান নেই। সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা পেয়েছে, আবার অনেক বড় রাষ্ট্রের সহযোগিতা পায়নি। এর কারণ যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর তৎপরতা, সেই বাহিনীর কাছে যাদের স্বার্থ রয়েছে, তারা তাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। যেমন চীন ও রাশিয়া, এমনকি ভারতও। যদিও পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের সমর্থন আমরা পেয়েছি, কিন্তু যাদের সমর্থন প্রয়োজন তাদের সমর্থন পেতে পারিনি। সে জন্য আমাদের সামরিক দিক থেকে আরও তৎপর হতে হবে। তাদের সামরিক বাহিনী যে ধরনের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে কাজ করছে, সেটাকে দমন করার মতো শক্তি যদি আমরা অর্জন করতে পারি, তাহলে তাদের কিছুটা বোধোদয় হতে পারে।
মশিউল আলম: জনপ্রশাসনের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে, জনগণ সঠিকভাবে সেবা পাচ্ছে না, দুর্নীতি বেড়ে গেছে। কিন্তু আবার আমলারা নিজেদের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে নিচ্ছেন। এ রকম কেন হচ্ছে? এটা থেকে বেরোনোর পথ কী?
আকবর আলি খান: অল্প কথায় এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বেশ শক্ত ব্যাপার। এ বিষয়ে আমি একটা বই লিখেছি, সে বইয়ের নাম গ্রেশামস ল সিনড্রোম। এ বইয়ের মধ্যে বিস্তৃত বর্ণনা আছে আমাদের প্রশাসনের কী অবক্ষয় ঘটছে এবং কেন অবক্ষয় ঘটছে। আসলে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলই এ দেশের প্রশাসনিক সমস্যা বুঝতে পারেনি। ব্রিটিশরা বাংলাদেশে যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল সেটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অনুপযুক্ত। আমাদের উচিত ছিল সেটাকে নতুন করে ঢেলে সাজানো, কিন্তু তা না করে ব্রিটিশদের ফেলে যাওয়া ব্যবস্থায় অল্পস্বল্প পরিবর্তন করে, সেটা অভিযোজন করে আমরা চালাতে গিয়েছি। এটা এভাবে চালানো সম্ভব নয়। শুধু তা-ই না, ব্রিটিশরা যে ধ্যানধারণার ওপরে কাজ করেছিল, সেসব ধ্যানধারণা থেকে এক শ বছর আগে যেসব কাজ করা হতো আমরা সেসব কাজ এখন করছি। পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের প্রশাসন আছে বলে আমাদের জানা নেই। যেমন নিয়োগের কথা যদি ধরেন, বাংলাদেশে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কৃষিবিদ, কূটনীতিক, প্রশাসক এঁদের সবাইকে একই পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের কাণ্ড হয় না। এবং আমাদের দেশে ২৫৭টি কোটা চালু করা হয়েছে, পৃথিবীর কোনো দেশে ২৫৭টি কোটা নেই এবং ২৫৭টি কোটা থাকলে বানরের পিঠা ভাগের মতো চাকরিবাকরি ভাগাভাগি করা হয়। এখন ভালো ছেলেরা আদৌ প্রশাসনে আসছে না এবং প্রশাসন সম্বন্ধে অনভিজ্ঞভাবে দেশ চালানোর ফলে আরও দুটি মারাত্মক কাজ হচ্ছে। একটি কাজ হলো, প্রশাসনিক কাজের ধাপগুলো ক্রমশ বাড়ানো হচ্ছে। পাকিস্তান আমলে চারটি ধাপ ছিল—সেকশন অফিসার, ডেপুটি সেক্রেটারি, জয়েন্ট সেক্রেটারি ও সেক্রেটারি। অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি ছিল অল্প কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে, যেখানে সেক্রেটারির কাজ খুব বেশি ছিল। সেই চারটি ধাপ এখন আটটি হয়েছে। আগে সেকশন অফিসার প্রথম নোট লিখতেন। এখন সেকশন অ্যাসিস্টেন্ট প্রথম নোট লেখেন। অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি বাংলাদেশ হওয়ার পরও অল্প কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে ছিল, আর বড় বড় করপোরেশনের চেয়ারম্যানরা ছিলেন। এখন প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে তিন-চারজন করে অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি করা হয়েছে এবং নিয়ম করা হয়েছে যে অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি হয়ে ফাইল যেতে হবে। সুতরাং আরেকটা স্তর হলো, সেটা হলো পঞ্চম স্তর এবং ষষ্ঠ স্তরে হলো সেক্রেটারি। সেক্রেটারির পরে, আগে ডেপুটি মিনিস্টারের কাছে কোনো ফাইলই যেত না। তাঁরা পার্লামেন্টে সেক্রেটারির কাজ করতেন, তাঁদের দায়িত্ব ছিল পার্লামেন্টে প্রশ্নের জবাব দেওয়া। এখন ডেপুটি মিনিস্টারদের কাছে ফাইল যায়, স্টেট মিনিস্টারদের কাছে ফাইল যায়, তারপরে মন্ত্রীর কাছে ফাইল যায়। এই আট দফায় ফাইল যদি উপরের দিকে যায় এবং নিচের দিকে নামে, তাহলে যদি সবাই অনেস্ট হয়, তবুও কমপক্ষে ১৬ দিন লেগে যাবে শুধু ফাইল ওঠানামা করতে। এ ছাড়া সমস্ত ক্ষমতা মন্ত্রীদের হাতে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। সব ফাইল প্রকৃতপক্ষে মন্ত্রীদের কাছে চলে যায়। এর ফলে কোনো সিদ্ধান্ত তাড়াতাড়ি পাওয়া সম্ভব হয় না। সিঙ্গাপুরের সরকারের কাছে যদি আপনি চিঠি লেখেন, হয়তো আপনি তিন দিন কিংবা চার দিনের মধ্যে জবাব পাবেন, বাংলাদেশে তিন মাসের মধ্যেও জবাব পাবেন কি না সন্দেহ আছে এবং কয় দিনে জবাব পাবেন এটা কেউ বলতে পারবে না। আমরা হাজার হাজার লোককে প্রমোশন দিয়েছি; হাজার হাজার লোককে প্রমোশন দিলে নিচের দিকের পদগুলো শূন্য হয়ে যায়। সচিবালয়ে এখন অতিরিক্ত সচিবেরা গড়াগড়ি খাচ্ছেন, যুগ্ম সচিবেরও কোনো অভাব নেই, কিন্তু নিচের দিকের পদে দেখা যাবে লোক নেই। অনেক জায়গায় দেখা যাবে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ল্যান্ড রেভিনিউ নেই। অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ল্যান্ড রেভিনিউ কাজ করলে তো ফাইল ওপরের দিকে আসবে। নিচের দিকে কাজ করার লোক নেই, ওপরের দিকে সব লোকজন ফাইলের প্রত্যাশায় বসে আছে। এই এক অদ্ভুত ধরনের প্রশাসন; যাঁরা প্রশাসন সম্বন্ধে জানেন, তাঁরা এ ধরনের প্রশাসন মোটেও সমর্থন করবেন না। আমাদের এখানে যে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, সেটাও চাকরি দেওয়ার জন্য করা হচ্ছে। এত পদেরও কোনো দরকার নেই। বিশেষ করে বিসিএস অ্যাডমিনে যে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, এত নিয়োগের কোনো প্রয়োজন বাংলাদেশে নেই। কাজ নেই, কিন্তু পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কাজ ছাড়া পদ সৃষ্টি করলে শুধু টাকার অপচয়ই হয় না, প্রশাসনিক দক্ষতাও কমে যায়।
মশিউল আলম: তাহলে কি আমরা বলতে পারি যে প্রশাসন একটা সেলফ-সার্ভিং করপোরেট গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে?
আকবর আলি খান: হ্যাঁ, এবং এদের বেতন অনেক বাড়ানো হয়েছে, এবং আমি ডেপুটি সেক্রেটারিদের গাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে হিসাব করে দেখেছিলাম, সরকারের বছরে দেড় শ-দুই শ কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে। এখন যদি তাঁদের সবাইকে গাড়ি দেওয়া হয় এবং গাড়ির জন্য অ্যাডভান্স দেওয়া হয়, তাহলে সরকারের হাজার কোটি টাকার ওপরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে, যেটার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এভাবে একদিকে সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের প্রশাসনিক অবক্ষয় ঘটছে। এগুলো হচ্ছে এ জন্য যে মূল সমস্যা যেগুলো সেগুলো কেউ দেখছে না। এবং জুডিশিয়ারির ক্ষেত্রেও একই রকম অবস্থা হয়েছে। জুডিশিয়ারিতে ৭৫০ খণ্ডকালীন ম্যাজিস্ট্রেটের বদলে ৭০০ ফুলটাইম জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু দেখা গেল জুডিশিয়ারিতে মামলার জট বাড়তেই আছে, আজও কমছে না। এসব সমস্যা নিয়ে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমার মনে হয় এগুলো নিয়ে সব দলের চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু কোনো দলই এই সমস্যাগুলো নিয়ে চিন্তা করছে না। এ জন্য বাংলাদেশের প্রশাসনে অদূর ভবিষ্যতে কোনো উন্নতি হবে বলে আমি আশা করি না। যাঁরা আমলাতন্ত্রে আছেন, তাঁরা এই ব্যবস্থার সুবিধা ভোগ করছেন, তাঁরা এই ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন চাইবেন না। আর সরকারের দিক থেকে যদি দূরদর্শী নেতা না থাকে তাহলে এই ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। দল পরিবর্তন হতে পারে, সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু প্রশাসন পরিবর্তনের কোনো চিহ্নই এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।
মশিউল আলম: প্রশাসনকে দিয়ে দেশ চালিয়ে সরকার টিকে থাকে। এদের খুশি রাখার জন্য এরা যা চায় সরকার তাই করে...
আকবর আলি খান: না, শুধু যা চায় তাই যে করে তা নয়, তাদের দিয়ে যেসব কাজ করানো হচ্ছে, এগুলো তাদের কাজ নয়। আবার তাদের সমস্ত ক্ষমতা এবং তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। বর্তমান ব্যবস্থায় সমস্ত ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কেন্দ্রীভূত এবং তারপরে মন্ত্রীদের অফিসে কেন্দ্রীভূত। আমলাতন্ত্র অনেক দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের তবু পয়সা দিয়ে খুশি রাখা হচ্ছে এ জন্য যে তাঁদের অনেকে নির্বাচনের সময় রিটার্নিং অফিসার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারের কাজ করেন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কিন্তু প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমানে যে ধরনের প্রশাসন চালু আছে, এটার কোনোই যৌক্তিকতা নেই।
মশিউল আলম: এখন আমরা একটু রাজনীতির প্রসঙ্গে আসি। বাংলাদেশে তো কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি যেটাকে বলে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেটা কাজ করে, সরকারের ভুলত্রুটির সমালোচনা, প্রতিবাদ, একটা বিরুদ্ধ মত, সেটা রাজনৈতিক অঙ্গনে নেই বললেই চলে। প্রধান প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপি অভিযোগ করে তাদের রাস্তায় নামতে দেওয়া হয় না, জনসভা করতে দেওয়া হয় না, তারা কোণঠাসা। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের বছর চলে এল। তো সামনে কী হতে যাচ্ছে?
আকবর আলি খান: বাংলাদেশে সংঘাতের রাজনীতি বিরাজ করছে এবং বাংলাদেশে যে বর্তমান পরিস্থিতি, এটার জন্য দুটি দলই দায়ী। বর্তমানের সরকার বিএনপিকে কাজ করতে দিচ্ছে না, আবার বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তারাও আওয়ামী লীগকে একইভাবে অত্যাচার করেছে, কাজ করতে দেয়নি। সুতরাং এই ব্যাপারে আমাদের কারও ওপরেই আশা করার কারণ নেই। তবে আশার কারণ দেখা যাচ্ছে দুটি। একটি হলো, গত নির্বাচন যখন সরকার করে, তখন শতকরা ৫০ ভাগের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের কোনো লক্ষণ নয়। যদিও আদালত বলেছেন যে এই সরকার বৈধ এবং আদালতের আদেশ আমাদের সকলের জন্য বাধ্যতামূলক, কিন্তু নৈতিকভাবে এটা সরকারের একটা বড় পরাজয়। আমার মনে হয় সরকার এটা বুঝতে পেরেছে এবং সে জন্য সরকার চাচ্ছে যে বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। আর বিরোধী দল নির্বাচন বয়কট করে বর্তমানে খুব খারাপ আছে। প্রকৃতপক্ষে মোট ভোটারের সংখ্যার ভিত্তিতে যদি আমরা দেখি, তাহলে বাংলাদেশে বিরোধী দল হওয়ার কথা বিএনপির, জাতীয় পার্টির নয়। কিন্তু সেই আসনে জাতীয় পার্টি বর্তমানে বসে আছে। বিএনপি অনেক সুযোগ-সুবিধা হারাচ্ছে এবং তাদের অসুবিধা হচ্ছে। সুতরাং বিএনপি সম্ভবত কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও কমপক্ষে বিরোধী দলের আসন পাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত হবে। এই দুটিই হলো আশার লক্ষণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হবে, এটা শেষ মুহূর্ত ছাড়া বলা যাবে না। যদি নির্বাচনের একটা মোটামুটি আবহাওয়া সৃষ্টি করা হয় এবং সেই আবহাওয়ায় যদি দুই দল অংশ নেয় এবং সরকার যদি বিরোধী দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেয়, তাহলে হয়তো নির্বাচন হবে। এবং এটা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু হবেই, এটা নিশ্চিতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়।
মশিউল আলম: তাহলে দেখা যাচ্ছে, এ বছর বড় বন্যায় ব্যাপক ফসলহানি, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর আশ্রয়, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকোচন, নির্বাচনের বছর কিন্তু রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই বলে নির্বাচন হবে কি না বা হলে কেমন নির্বাচন হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা—এই সমস্ত কিছুর পটভূমিতে আমরা একটা নতুন বছরে পদার্পণ করছি। এই পরিস্থিতিতে আমাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হতে পারে? কারণ এগুলোর সবই আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।
আকবর আলি খান: আপনি যেগুলো বললেন, এগুলো অবশ্যই উপাদান। বাংলাদেশে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে তা বেশ সন্তোষজনক। ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে এ নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও যদি ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয় তাহলে এটা নিশ্চয়ই একটা সাফল্যের স্বাক্ষর, কারণ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে এত দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে না। কিন্তু এই পরিবর্তনের পেছনে অবদান রয়েছে বাংলাদেশের কৃষকদের, পোশাকশ্রমিকদের এবং যাঁরা বিদেশে কাজ করে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন তাঁদের। মূলত এই তিনটি গোষ্ঠীই বাংলাদেশের অর্থনীতির নিয়ন্তা। যদিও অর্থমন্ত্রীরা দাবি করেন যে তাঁদের নীতির জন্যই এই সাফল্য অর্জিত হচ্ছে, আমার মনে হয় যে কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়। ৭৫ ভাগ অবদান এই তিনটি গোষ্ঠীর আর ২৫ ভাগ অবদান সরকারের। এই তিনটি গোষ্ঠীরই ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এই তিনটি গোষ্ঠীর সমস্যা সম্পর্কে আমরা যদি সজাগ না হই, তাহলে অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিদেশে যাঁরা কাজ করছেন, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে, সেখানে যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে, তার ফলে সেখান থেকে প্রেরিত অর্থের পরিমাণ কমে যাবে। যদি কমে যায়, তাহলে এটা আমাদের অর্থনীতির অগ্রগতিকে শ্লথ করবে। বিশেষ করে গৃহায়ণ খাতে ধস নামার এবং দেশি শিল্পপণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এগুলো সম্বন্ধে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। দুই নম্বর হলো, কৃষি খাতে কৃষকেরা উৎপাদন করছেন কিন্তু পণ্যের দাম পাচ্ছেন না। সুতরাং এই সমস্যার যদি সমাধান না করা হয়, তাহলে বছরের পর বছর কৃষকেরা লোকসানের বোঝা টানতে পারবেন না। সুতরাং সেখানেও ঝুঁকি রয়েছে। আর পোশাকশিল্প মূলত বৈদেশিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল; কিন্তু পোশাকশিল্পের একটা বড় সংকট অদূর ভবিষ্যতে আসবে। সেটা হলো পোশাকশিল্পে কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক সস্তায় নিজেদের মাপ অনুসারে পোশাক তৈরি করা সম্ভব। ইংরেজিতে এটাকে বলে ‘কাস্টোমাইজড ড্রেস’। এখন যে ধরনের পোশাক আমরা বিদেশে পাঠাচ্ছি, সেগুলো কতকগুলো বড় মাপের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়, যেগুলো সবার গায়ে লাগে না। সবার গায়ে লাগে এমন পোশাক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে উন্নত দেশে তৈরি করা সম্ভব। এর ফলে পোশাক খাতে যাঁরা বিদেশে কারিগরি পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করতে পারবেন না, তাঁরা বিপদের সামনে পড়বেন। এ ছাড়া বিদেশি প্রতিযোগিতা বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক উন্নতির ফলে আমাদের দেশে মজুরি বাড়ছে। এই ঝামেলাগুলো ছাড়া আর তিনটি বড় ঝামেলা আমাদের হয়েছে। প্রথমটি হলো আমরা অবকাঠামো খাতে অনেকগুলো বড় প্রকল্প নিয়েছি। আমাদের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা সীমিত এবং আমাদের দেশে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্নীতি ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ আসে। আমরা যেসব প্রকল্প পিপিপিতে এবং অন্যান্য খাতে গ্রহণ করেছি, এগুলোর অর্থনৈতিক দায় বিদেশি মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। সুতরাং আমরা যদি ঠিকমতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারি, তাহলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার ওপরে প্রচণ্ড চাপ পড়বে। এসব ঝুঁকি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সমস্যাগুলো সম্পর্কে যদি সরকার সতর্ক থাকে এবং ব্যবস্থা নেয়, তাহলে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ থেকে বাড়ানো সম্ভব। দ্বিতীয়ত ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা না হলে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। তৃতীয়ত, প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য অবশ্যই সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে এখানে বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে না। আমরা এখন যে বৈদেশিক বিনিয়োগ পাই, সেগুলো তাদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার ফলে পাই। কিন্তু যেসব দেশে সুশাসন নেই সেসব দেশে এসব বিদেশি বিনিয়োগ আসে না। সুতরাং আমাদের সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
মশিউল আলম: না হলে আমাদের অর্থনীতির ঝুঁকি...
আকবর আলি খান: আগামী বছরেই হয়তো নয়, কিন্তু আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই এই ঝুঁকিগুলোর প্রভাব আমাদের অর্থনীতিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক ঝুঁকিই আমাদের নাড়িয়ে দিতে পারে, সে ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি অনেক শ্লথ হয়ে যেতে পারে।
মশিউল আলম: আপনাকে ধন্যবাদ।
আকবর আলি খান: ধন্যবাদ।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
-
▼
2018
(7025)
-
▼
January
(1086)
-
▼
Jan 01
(70)
- জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে পুরো রাখাইন- উপগ্রহ তথ্য থেকে ...
- একটি ঐতিহাসিক দুর্লভ ছবি
- তেলের দাম বাড়ালো সৌদি সরকার
- কেনিয়ার আকাশে ফেঁসে গেল গুগল বেলুন!
- প্রশ্নফাঁস ও নকলকে ‘না’ শিক্ষার্থীদের
- ব্রিটেনের রানির সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের পপি
- নববর্ষ নিয়ে কী বললেন টালিউড তারকারা
- আজ দেশে জন্ম নেবে ৮ হাজার ৩৭০ শিশু : ইউনিসেফ
- জাহিদ হাসানের ‘দাড়ি’ রহস্য উন্মোচন
- দুই মাস বন্ধ থাকবে কাঁকড়া আহরণ
- চট্টগ্রামে গাড়িচাপায় বড়তাকিয়ার চালক নিহত
- সাতকানিয়ায় দুইশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন বই বিতরণ
- মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ট্রাম্...
- ভয়ঙ্কর কিছু ঘটবে ২০১৮ সালে?
- সহিংসতা নয়, সমালোচনার সুযোগ দেয়ার অঙ্গীকার ইরানি প...
- সুন্নি-শিয়া নামে ধর্ম নেই, ধর্ম একটাই, সেটা হলো ইস...
- নতুন বছরে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম
- একটি সবজি অনেক রোগ থেকে বাঁচায়
- মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণসভা বুধবার
- নতুন করে একই ভুল করতে যাচ্ছি by ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ
- নতুন বছরের সংকল্প রক্ষা করা কঠিন by শিশির মোড়ল
- শীতের দুর্লভ ফুল
- হোটেল ওলিওতে বিস্ফোরণ: বোমা প্রস্তুতকারী গ্রেপ্তার
- নির্যাতনের ৭৭ শতাংশই পারিবারিক পরিসরে
- গুম ভবিষ্যতের ইতিহাস by শাহদীন মালিক
- মার্কিনদের একচেটিয়া শাসনের অবসান by কামাল গাবালা
- ‘পারমাণবিক বোমার বোতাম আমার টেবিলেই’
- আমাদের সামনে অনেক ঝুঁকি: আকবর আলি খান
- তারেক, বাবরসহ ৪৯ জনের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ
- চলছে বই উৎসব
- বাণিজ্য মেলার মূল ফটক পদ্মা সেতুর আদলে
- উন্নয়নশীল দেশের পথে যাত্রা
- সূচকের উত্থানে লেনদেন পুঁজিবাজারে
- দাম নিয়ন্ত্রণে যেসব পদক্ষেপ প্রয়োজন
- ‘শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন মানে তঁাকেই ক্ষমতায় রাখা’
- আধুনিক আমেরিকার সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
- কেনিয়ায় বাস-লরি সংঘর্ষে নিহত ৩৬
- প্রবাসীদের সমস্যা শুনতে দূতাবাসে উন্মুক্ত আলোচনা
- অবরোধেও পণ্য আমদানি বেড়েছে কাতারে
- শয্যাশায়ী থেকেই স্কুল পরিচালনা প্রধান শিক্ষিকার
- আফগানিস্তানে আজ ‘সবার’ জন্মদিন
- খেল দেখালেন সৌদি প্রিন্স সালমান
- আইএসের পতন
- সৌদি আরবে সংস্কারের ঘোষণা
- ট্রাম্প বললেন, জেরুজালেম ইসরায়েলের রাজধানী!
- পদত্যাগে বাধ্য নওয়াজ শরিফ
- মার্কিন প্রেসিডেন্টের শপথগ্রহণ
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণতন্ত্রের নিরাপত্তা by সা...
- উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে এশিয়ার শহরগুলো
- লেখাপড়া করেও কেন চাকরি পাই না? by সোহরাব হাসান
- চিকিৎসকেরা কেন গ্রামে থাকেন না
- শুভ নববর্ষ
- সফর আলীরা আবার কেন আসছেন? by ফারুক ওয়াসিফ
- আমি পেঁয়াজ বলছি... by সারফুদ্দিন আহমেদ
- ২০১৭ সালের আলোচিত কিছু শব্দ by কামাল আহমেদ
- যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে ফিলিস...
- ইরানের এই রিভোলিউশনারি গার্ডস আসলে কারা?
- কোস্টারিকায় বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত
- আসামের দুই কোটি মুসলমান রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা
- ভারতে ভণ্ডগুরুদের দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ
- বয়সের খোজে
- কেটে যাক এই ঘোর
- নতুন বছর এলে by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
- আজ আট হাজারের বেশি শিশু জন্ম নেবে বাংলাদেশে
- রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাখাইনে ক্যাম্প নির্মাণ
- চৌগাছায় নির্মাণাধীন খাদ্য গুদামের ছাদ ধসে ৫০ শ্রমি...
- খামেনির ছবিও পোড়াচ্ছে ইরানের বিক্ষোভকারীরা
- আজ বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক উৎসব
- যন্ত্রবিজ্ঞানী আমির হোসেনের নতুন উদ্ভাবন স্লো মোশন...
- প্রধান দুই দল দুই মেরুতে
-
▼
Jan 01
(70)
-
▼
January
(1086)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment