Saturday, September 5, 2026
তিন বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিতে যেভাবে শেষ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত
তিন বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিতে যেভাবে শেষ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত
কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতের নতুন ধাপে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এর আওতায় তারা ইরান এবং দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর সর্বাত্মক অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে। এই ঘোষণার পরপরই নতুন করে হামলা শুরু হলো।
ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ছিল ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা বন্ধ করাও ছিল উদ্দেশ্য।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই সংঘাত শুরু করে। এর পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক নৌপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে।
গত জুনে দুই পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও চুক্তিতে পৌঁছানো। তবে সেই সময়সীমা ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
সংঘাতটি এখন সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নিতে পারে, তা নিয়ে বিবিসি তিনজন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়েছে।
ইরানকে দুর্বল করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
জেসন ক্যাম্পবেল, সিনিয়র ফেলো, মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট, ওয়াশিংটন ডিসি
আসল সমস্যা হলো ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য ঠিক কী, তা আমরা এখনো স্পষ্টভাবে জানি না। রাজনৈতিক দিক থেকে কতটুকু ছাড় দেওয়া সম্ভব, হোয়াইট হাউস তা বারবার পর্যালোচনা করছে। শুরুতে ভাবা হয়েছিল, সামরিক শক্তি দিয়েই দ্রুত জয় পাওয়া যাবে; কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশিত ফল আসেনি।
এখন আমরা যা দেখছি, ওয়াশিংটন সামরিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন প্রভাব কাজে লাগিয়ে চাপ তৈরির চেষ্টা করছে।
এই মুহূর্তে মার্কিন প্রশাসন পরিস্থিতি একরকম স্থবির রাখতেই আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। তারা অর্থনৈতিক অবরোধ বহাল রাখছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টির মতো ইরানি সক্ষমতাগুলোতে মাঝেমধ্যে আক্রমণ চালিয়েই সন্তুষ্ট থাকছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের আশা, নতুন এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান দুর্বল হয়ে পড়বে। একপর্যায়ে নতি স্বীকার করে তারা দুর্বল অবস্থানে থেকে আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করতে পেরেছে। উদ্দেশ্য, বিশ্ববাজারে তেলের দামে যাতে বড় ধাক্কা না লাগে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়ানো। তবে যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কেবল এটুকুই ছিল না।
আমার ধারণা, সংকট সমাধানের বিনিময়ে ইরান বড় ধরনের সুবিধা দাবি করবে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রাজনৈতিকভাবে সেই দাবি মেনে নেওয়া হয়তো সম্ভব হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়ের অপেক্ষায় থাকবে ইরান
আনিসেহ বাসিরি তাবরিজি, অ্যাসোসিয়েট ফেলো, চ্যাথাম হাউস, লন্ডন
সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার ফলে যুদ্ধের ব্যাপারে ইরানের মূল কৌশলে কোনো পরিবর্তন আসবে বলে আমি মনে করি না। তেহরান তাদের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি গত কয়েক মাসের মতো বিচ্ছিন্ন হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতিও তাদের আছে। বড় ধরনের যুদ্ধ এড়াতে প্রতিটি হামলার আনুপাতিক জবাব দেওয়াটা হবে তাদের কৌশল।
অর্থনৈতিক দিক থেকে বিবেচনা করলে, এসব নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টত দেশটির অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। যুদ্ধের কারণে তাদের অর্থনীতি আগে থেকেই বিপর্যস্ত। এ ছাড়া দেশটিতে কাঠামোগত দুর্বলতাও রয়েছে, যা আমরা গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির বিক্ষোভের সময়ে দেখেছি।
অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে ইরান শিগগিরই তাদের অবস্থান বদলাবে কিংবা আলোচনার টেবিলে নতি স্বীকার করবে—এমন কোনো ইঙ্গিত আমি ইরানের দিক থেকে দেখছি না।
এর অর্থ এই নয় যে ইরান সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে না। আমার মতে, আমরা যেটা দেখছি, ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্র আগের সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) ফিরে যাক অথবা কোনো ধরনের ছাড় দিক। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে রাজি নয়। নতুন নিষেধাজ্ঞা বা আরও বেশি হামলার মুখেও তারা নিজেদের নীতি বদলাবে না।
যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ফিরতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
নিকোলাস হপটন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও ইরানে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত
সাম্প্রতিক ইরানে হামলা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এভাবে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না। এটি আসলে চলমান সংকটের আরেকটি নতুন অধ্যায়মাত্র। অর্থনৈতিক চাপ কাজ করবে বলে মনে হয় না। কারণ, চীন, রাশিয়াসহ যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করবে না।
ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করা অব্যাহত রাখতে পারে। কারণ, তারা বিশ্ব অর্থনীতির মূল নাড়ি চেপে ধরে বসে আছে।
এই সংঘাত থেকে বের হতে হোয়াইট হাউসের কৌশল কী হতে পারে?
আসলে যুক্তরাষ্ট্র পথটি ইতিমধ্যে খুঁজে পেয়েছে। ট্রাম্প যদি গত জুনের সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে আলোচনার জন্য আন্তরিক উদ্যোগ নিতেন, তবে সেটাই হতো সংঘাত থেকে বের হওয়ার মোক্ষম উপায়।
এই চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্রের একরকম বিজয় অর্জিত হতো। একই সঙ্গে ইরানের ভেতরে কট্টরপন্থীরা দুর্বল হতো। পাশাপাশি ইরান যে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না, সেই নিশ্চয়তাও মিলত।
ওই সমঝোতা স্মারকে একটি বড় ধরনের জাদুকরি সমাধান ছিল। সেটি হলো ইরানের ওপর থেকে সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।
নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে ধীরে ধীরে ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ক্ষমতা কমে যেত। বহির্বিশ্বের সঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়লে দেশটিতে ধীরে ধীরে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন আসত। ফলে ইরানে ইসলামি শাসনব্যবস্থা টিকে থাকলেও তার চরিত্র হতো সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ইরানের অর্থনীতিতে আইআরজিসির আধিপত্য অনেক বেশি। তাই বিষয়টি সহজে অর্জন করা যেত না। তবে পর্যাপ্ত সময় দিলে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কৌশলগত ধৈর্য দেখালে এই কৌশল কাজ করত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এই মুহূর্তে সেই ধৈর্যের বড়ই অভাব।
আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, আমরা একটি বিশৃঙ্খল ও অমীমাংসিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই চলব। আর এই পরিস্থিতি সবার জন্যই ক্ষতিকর।
![]() |
| একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের কাছে হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ধ্বংসস্তূপ। কুহেস্তাক, সিরিক, ইরান। ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ছবি: রয়টার্স |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1843)
-
▼
September
(50)
-
▼
Sep 05
(14)
- মুসলিমদের কি ধর্মীয় স্বাধীনতা নেই—ভারতে মসজিদ ধ্বং...
- ইসরাইলের নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভিরকে থামাবে কে
- গাজা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে তাড়ানোর ছক ইসরাইলের
- ‘অকল্পনীয় শোকে’ কাঁদছে ইরানের পুরো শহর
- ইয়েমেনের তায়েজে ফের লড়াই, দু’দিনে প্রায় ১৮০০ পরিবা...
- লিবিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন পরিকল্পনা
- মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে ...
- লংমার্চে বাধা এলে ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে :-নাহি...
- সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে :-নারায়ণগঞ্জে লংম...
- পর্তুগিজ এক জলদস্যু যেভাবে হয়েছিলেন সন্দ্বীপের রাজ...
- রাশিয়ার হামলায় জ্বলছে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার স...
- তিন বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিতে যেভাবে শেষ হতে পারে যুক্তর...
- ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে শিগগির হামলার হুমকি দিল...
- অনলাইনে জেন্ডার সহিংসতার সংস্কৃতি, প্রতিকার ছাড়া প...
-
▼
Sep 05
(14)
-
▼
September
(50)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

No comments:
Post a Comment