Thursday, September 25, 2025
যুক্তরাষ্ট্রে এখনই যে রাজনীতি দরকার by অ্যান-মেরি স্লটার
যুক্তরাষ্ট্রে এখনই যে রাজনীতি দরকার by অ্যান-মেরি স্লটার
এদিকে রিপাবলিকান পার্টি এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা আন্দোলনের মাধ্যমে আমূল বদলে গেছে। অন্যদিকে গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা, নতুন করে গড়ে তোলা এবং প্রসারিত করার জন্য বড় পরিসরে কাজ চলছে।
‘ডেমোক্রেসি ফান্ডারস নেটওয়ার্ক’ নামের একটি সংগঠন ৪ হাজার ১০০টি অলাভজনক সংস্থা ও ২৭ হাজার অনুদানদাতার তথ্য বিশ্লেষণ করে ‘৭০টি সংগঠিত ক্ষেত্র’ চিহ্নিত করেছে। এ ক্ষেত্রগুলো ভোটাধিকার, সংলাপ গঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মতো গণতান্ত্রিক কাজ করছে। স্থানীয় পর্যায়ে ‘ন্যাশনাল সিভিক লিগ’ দেশজুড়ে ১১ হাজারের বেশি সংগঠন চিহ্নিত করেছে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক কথাবার্তা ও সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে।
এ ছাড়া বিভাজন কমাতে এবং ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয়েই একসঙ্গে কাজ করতে পারে, এমন একটি কেন্দ্র গড়ে তুলতে অনেক সংগঠন গড়ে উঠেছে। আরও কিছু সংগঠন আছে, যারা চায় নির্বাচনী সংস্কার ঘটিয়ে যেন ভোটাররা আরও বেশি প্রার্থী ও দলের মধ্যে বেছে নিতে পারেন। কিছু সংগঠন রাজনৈতিক অবস্থান নয়; বরং নীতিমূল্য ও আদর্শের ভিত্তিতে নিজেদের পরিচয় দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রপন্থী সংগঠনগুলোও যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক নতুন শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ কল্পনা উপস্থাপন করতে পারে, তাহলে তারা এমন ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারবে, যারা নৈতিক আদর্শকে গুরুত্ব দেয় এবং ধর্মনিরপেক্ষ নাগরিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে চায়।
এ ভাবনা নিয়েই প্রকাশিত হয়েছে একটি প্রবন্ধ সংকলন, আউট অব মেনি, ওয়ান: রাইটিংস অন আমেরিকান ইউনিভার্সালিজম। ‘ক্যাটালিস্ট ফর আমেরিকান ফিউচার’ নামের একটি সংগঠন সংকলনটি প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি উদার গণতন্ত্রের পক্ষে একটি দেশপ্রেমভিত্তিক, বহুত্ববাদী রাজনৈতিক আন্দোলন তৈরি করতে চায়। বইয়ের সম্পাদকেরা ‘আমেরিকান ইউনিভার্সালিজম’ বা সর্বজনীনতাবাদের ভাবনাকে পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছেন। এ ভাবনার শিকড় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের সময়কাল থেকে। তাঁরা এই ধারাকে ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, ‘এটি সেই আন্দোলন, যা সর্বজনীন স্বাধীনতা, অধিকার ও সুযোগকে ধারণ করে।’
আজকের দিনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির দুটি প্রান্তেই এ ধারণার খুব একটা সমর্থন নেই। ডানপন্থী মাগা রিপাবলিকানরা একে ‘গ্লোবালিজম’-এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। এটি তাঁদের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ চিন্তার বিরুদ্ধে যায়। আবার বামপন্থীরা মনে করেন, দেশটির প্রতিষ্ঠাতাদের নথি থেকে নেওয়া এসব ধারণা ব্যবহার করলে সংখ্যালঘুদের বাস্তব অভিজ্ঞতাগুলোকে মুছে ফেলা হয়।
কিন্তু আউট অব মেনি বইয়ের লেখকেরা মনে করেন, এ সর্বজনীনতা যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক আদর্শের কেন্দ্রবিন্দু।’ তাঁদের ভাবনাকে সহজ করে বুঝিয়ে বলা যায় এভাবে, ‘এই নতুন ধরনের দেশপ্রেম মানে এমন এক অনুভূতি, যেখানে কেউ নিজের দেশের জন্য গর্ববোধ করতে পারেন, আবার একই সঙ্গে দেশের ভুল ও অবিচারের কারণে লজ্জাও বোধ করেন। এর অর্থ, দেশ ভালো কাজ করলে গর্ব আবার অন্যায় করলে সেটাও স্বীকার করার সাহস।’
থিওডর রুজভেল্ট জনসন নামের একজন সাবেক মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্য লিখেছেন, তিনি এমন একটি দেশের জন্য শপথ নিয়েছিলেন, যে দেশ একদিকে বলে সবার জন্য সমান অধিকার (ইউনিভার্সালিজম), কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় তা মানে না। তিনি উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেছেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নিউইয়র্কের হারলেম এলাকার কৃষ্ণাঙ্গ সেনাদের যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে যুদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাঁদের ফরাসি সেনাবাহিনীর অধীন পাঠানো হয়েছিল, অর্থাৎ নিজের দেশের পতাকার নিচে যুদ্ধ করার সম্মান তাঁরা পাননি।
জনসনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি দেশের আদর্শ টিকিয়ে রাখতে হলে মানুষকে শেখাতে হবে, কীভাবে দেশ নিয়ে গর্ব করা আর দেশের ভুল দেখে সেটাও স্বীকার করা—এই দুটি অনুভূতি একসঙ্গে রাখতে হয়। তবেই দেশ সত্যিকারের অর্থে উন্নত হতে পারে।
এই বইয়ের অনেক লেখাই তরুণ প্রজন্মের (মিলেনিয়াল ও জেনারেশন জি) কাছ থেকে এসেছে। যেমন হান্না কোইজুমি ও হিউ জোন্সের কথা বলা যেতে পারে। তাঁরা ‘সিভিক অ্যাটেনশন’ নামের একটি অলাভজনক সংস্থার সহপরিচালক। তাঁরা তাঁদের প্রজন্মের (যাঁরা ইন্টারনেটের যুগে বড় হয়েছেন, যেখানে রাগ, হতাশা আর গোষ্ঠীগত বিদ্বেষ বাড়ছে) উদ্দেশে বলেছেন, তরুণদের উচিত হবে কেবল অভিযোগে না ভেসে গিয়ে নতুন করে গড়ার দায়িত্ব নেওয়া।
পুরো বইয়ে একটা বিষয় বারবার বলা হয়েছে। সেটি হলো যুক্তরাষ্ট্রে বিভক্তির চেয়ে ঐক্য অনেক বেশি জরুরি। তবে এই ঐক্য মানে সবাইকে এক রকম করে ফেলা নয়; বরং এটি এমন একটা একতা, যেখানে মানুষ আলাদা হলেও তারা একসঙ্গে মিলে দেশের জন্য কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি দেশ হতে চায়, যেখানে একটি সত্যিকারের সাংবিধানিক গণতন্ত্র হিসেবে সবাই সমান অধিকার, স্বাধীনতা আর ন্যায়ের সুযোগ পায়।
যাঁরা এখনো এই সর্বজনীন মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন, তাঁদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে। সেটি হারিয়ে যায়নি। সেটি লড়াইয়ের উপায় খুঁজছে।
* অ্যান-মেরি স্লটার, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক নীতিনির্ধারণ বিভাগের পরিচালক
- স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মূলধারার রাজনীতির বিরোধিতা বাড়ছে। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ▼ 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

No comments:
Post a Comment