Showing posts with label প্রথম পাতা. Show all posts
Showing posts with label প্রথম পাতা. Show all posts

Thursday, December 28, 2017

বক্তব্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

‘সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খাওয়া’ এবং ‘দুর্নীতি’ ইস্যুতে দেয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনার মুখে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বলেছেন, অতীতের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি ওই কথা বলেছিলেন, এখনকার পরিস্থিতি তত খারাপ নয়। অভিযোগ পাওয়ামাত্র ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বেশ ক’টি দফতর, পরিদফতরে ইতিমধ্যেই স্বচ্ছতা এসেছে, দুর্নীতিমুক্ত হয়েছে। তবে ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন কোন কোন দফতর দুর্নীতিমুক্ত হয়েছে’- সে কথা তিনি বলেননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বলেন, ‘আমি লিখিতভাবে দিয়েছি। এর বাইরে যাব না।’ পরে তিনি সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন। এর আগে দু’পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে কোনো প্রশ্নের জবাব না দেয়ার ঘোষণা দেন। এরপরও সাংবাদিকরা বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান। টিআইবির পক্ষ থেকে তার পদত্যাগের দাবির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে যেতে যেতে মন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবি টিআইবির কাজ করেছে। আমি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে এখানে আসিনি।’ এর আগে দেয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘আমার কোনো কিছুতেই ভয় নেই, হারানোর ভয় নেই। যার জন্য কখনও কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে আমি পিছপা হই না।’ দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাকির হোসেন ভূঁইয়া ও মহীউদ্দিন খান এবং উপসচিব সুবোধ চন্দ্র ঢালী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামান অনুষ্ঠানে আসন নিলেও ‘স্যার (মন্ত্রী) আপনাকে সালাম দিয়েছেন’- বলে একজন উপসচিব তাকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাকে আর সংবাদ সম্মেলনে দেখা যায়নি। শিক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ওই উপসচিব যুগান্তরকে বলেছেন, তাকে ডেকে নেয়া হলেও মূলত তাকে সভাকক্ষের আশপাশে থাকতে বলা হয়েছিল। ২৪ ডিসেম্বর পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরে অনুষ্ঠানে যোগ দেন শিক্ষামন্ত্রী। ওইদিন তিনি ঘুষ প্রসঙ্গে বলেন, ‘দায়িত্ব নেয়ার পর সব সংস্থার সঙ্গে আমি বসেছি। বলেছি, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। সব জায়গায় এ কথা বললেও ইইডির (শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর) সভায় বলেছি, আপনারা ভালো কাজ করবেন। আপনারা ঘুষ খাবেন, কিন্তু সহনশীল হইয়্যা খাবেন। অসহনীয় হয়ে বলা যায়, আপনারা ঘুষ খাইয়েন না। তবে এটা অবাস্তবিক কথা হবে। কেননা আমার সাহসই নাই বলার যে, আপনারা ঘুষ খায়েন না।’ বক্তৃতাকালে শিক্ষামন্ত্রী ডিআইএ’র একজন কর্মকর্তাকে ৩-৪ মাস আগে ঘুষসহ হাতেনাতে ধরা এবং আরেকজনের ঢাকায় ১৩টি বাড়ি থাকার কথা উল্লেখ করেন। একই সভায় শিক্ষামন্ত্রী কর্মকর্তাদের চোর হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেছেন, ‘খালি অফিসাররাই যে চোর তা নয়, মন্ত্রীরাও চোর। আমিও চোর। জগতে এমনই চলে আসছে। তবে সবাইকে এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।’ মন্ত্রীর এই বক্তব্য একটি স্যাটেলাইট টিভি ও অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। এমনকি অনুষ্ঠানের পুরো ভিডিও ডিআইএ’র ওয়েবসাইটে দু’দিন ছিল। মঙ্গলবার থেকে অবশ্য তা পাওয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে সংস্থার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ভিডিওটি ফেসবুকেই আছে। তবে তা শুধু দাফতরিক হিসেবে থাকায় সবাই দেখতে পাচ্ছে না। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এসে মন্ত্রী দাবি করেন, তার বক্তব্য ‘খণ্ডিত আকারে’ প্রচার করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তার ওপর ভিত্তি করেই কতিপয় বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মতামতও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, অধিকাংশ জায়গায় (পত্রিকা) তার বক্তব্য ঠিকমতো এসেছে। কিন্তু দু’একটি জায়গায় খণ্ডিত আকারে আসায় বিভ্রান্তিটা হয়েছে। লিখিত বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে তিনি নতুন কিছু যোগ করেন। বলেন, আপনারা আমার বক্তব্য বুঝছেন। তারপরও বাড়তি কিছু বলেছি। আমি লিখিত বক্তব্যের বাইরে কিছু বলব না। আপনারা কষ্ট করে এসেছেন। আপনাদের জন্য লাঞ্চের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; লাঞ্চ খান, গল্পটল্প করে যান। লিখিত বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিশিষ্টজনদের কেউ কেউ কতিপয় মিডিয়ার খণ্ডিত ও ভিত্তিহীন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে আমার বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন তুলছেন। তাদের উদ্দেশে সবিনয়ে বলতে চাই- সুদীর্ঘকাল ধরে আপনারা আমার সততার সংগ্রাম, নীতি-আদর্শ, কর্তব্যনিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ বিষয়ে অবগত। মিডিয়ার খণ্ডিত-ভিত্তিহীন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে কোনো মন্তব্য করার আগে সরাসরি আমাকে প্রশ্ন করলে অনেক বেশি খুশি হতাম।’ তিনি বলেন, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেয়ার সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দফতর, অধিদফতর ও সংস্থার মধ্যে ভাবমূর্তির দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে ছিল ডিআইএ। চরম দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের দুর্বলতা ছিল দৃশ্যমান। কর্মকর্তারা ঘুষ-দুর্নীতিতে ছিলেন ‘আকণ্ঠ নিমজ্জিত’। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এসবই ছিল পূর্ববর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকারের অপশাসনের ফসল। অথচ যাদের কারণে এটা হয়েছে এখন তারাই মাঠে নেমে পড়েছে।
এটা তো তাদেরই কুশাসনের ফল। লিখিত বক্তব্যে নাহিদ বলেন, বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে ডিআইএ কর্মকর্তারা স্কুল-কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে অসহায় শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকার ঘুষের খাম গ্রহণ করার সময় বলত, এর ভাগ উপরেও দিতে হয়। তাতে শিক্ষক-কর্মচারীরা মনে করতে বাধ্য হতো- তাদের ঘুষ শুধু পরিদর্শনকারী অফিসাররাই খায় না, জ্যেষ্ঠ আমলারাও পায়, এমনকি মন্ত্রী হিসেবে আমিও পাই। স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষক-কর্মচারীরা মনে করত- ‘অফিসাররা চোর, মন্ত্রীও চোর।’ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সে সময় তাদের ঘুষ-দুর্নীতি থেকে বিরত রাখার পরিবেশ তো ছিলই না, অনেক শিক্ষক এসে আমার কাছে কান্নাকাটি করে বলতেন, আমরা নিন্ম বেতনের চাকরি করি, এত টাকা আমরা কোথা থেকে দেব? এক মাসের সম্পূর্ণ বেতনের টাকা ঘুষ দিলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা খাব কী? ঘুষের মাত্রা আরেকটু সহনীয় হলেও বাঁচতাম। ২৪ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠানে অতীতের ওইসব ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরতে গিয়েই আমি উদ্ধৃতি দিয়েছিলাম- ‘ঘুষের সহনীয় মাত্রা’ এবং ‘অফিসাররা চোর’, ‘মন্ত্রী চোর’। এ সময় তিনি বলেন, ‘তবে ওই বক্তৃতায় বা কোনোখানেই আমি বিএনপি-জামায়াতের এ প্রসঙ্গটা বলিনি। কিন্তু যাদের (বিএনপি-জামায়াত) এ কথাটা প্রচার হয়েছে তারাও এখন মাঠে নেমে পড়েছেন। আসলে তাদের সময়ই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। বরং তাদের উচিত তাদের সময়ের ব্যাখ্যা দেয়া, তাদের কুশাসনের ফল হল এটা। তিনি এ সময় ডিআইএকে আগের চেয়ে অনেক জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করে বলেন, শিক্ষকদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাপূর্ণ ব্যবহার করেন। প্রাথমিকের শিক্ষকদেরও স্যার বলে সম্বোধন করেন। মানুষের সঙ্গে ব্যবহারে নমনীয় হলেও নীতি, আদর্শ, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি দৃঢ় এবং কঠোর। তিনি কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতির সঙ্গে আপস করেন না। এটিই তার ভদ্র আচরণ ও রাজনৈতিক শিক্ষা।

মহেশখালীতে দুটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত

কক্সবাজারের মহেশখালীর পুটিবিলায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুটো প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য জানা যায়নি। প্রশিক্ষণ বিমানে থাকা ৪ পাইলট নিরাপদে আছেন। আন্তঃবাহিনী গণসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদুল হাসান দুর্ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমানগুলো রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তারপরই বিধ্বস্ত হয়। বিমান দুটি উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। জানা যায়, ইয়াক-১৩০ মডেলের এ দুটো বিমান একই সময়ে চট্টগ্রাম বিমানবাহিনীর ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ দুটো বিমানে দু’জন করে চারজন বৈমানিক ছিলেন। তারা হলেন- বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন শরীফ, উইং কমান্ডার রাজীব, উইং কমান্ডার আজিম ও স্কোয়াড্রন লিডার মনির। তারা বিমান দুটোতে আগুন ধরার সঙ্গে সঙ্গে প্যারাসুটের মাধ্যমে প্রাণ রক্ষা করতে সক্ষম হন। তারা ফরমেশান ফ্লাইংয়ের (পাশাপাশি দুটো উড্ডয়ন) সময় এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
পাইলট চারজনই এখন সুস্থ ও নিরাপদে আছেন বলে জানা যায়। কক্সবাজার বিমানবন্দরের ম্যানেজার সাধন কুমার মোহন্ত এ দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করে জানান, আমরা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের স্টেশন অফিসার সাফায়েত হোসেনও জানান, ঘটনাস্থলে এখনও আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। কক্সবাজার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ চলছে। এ দুর্ঘটনার সময় বিকট শব্দে এলাকাবাসী আঁতকে ওঠে। এ দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর সম্পর্কে তাৎক্ষণিক নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী যুবক হাসান জানান, বিকট শব্দের পরপরই দেখা যায় ঘটনাস্থলে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধুয়ার কুণ্ডলি। পরে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট রওনা হয়। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে ১৫টি স্পিড বোট প্রস্তুত রাখা ছিল। এগুলো নিয়ে উদ্ধার কার্য চলার প্রস্তুতি চলছিল। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুটুল জানান, একটি প্রশিক্ষণ বিমানে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। এতে বিমানটি তিন টুকরো হয়ে মহেশখালীর বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে।

রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন চান পৌর কর্মচারীরা

রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা, পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়ার দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ করেছে পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার দুপুর ১২টায় এ মহাসমাবেশ শুরু হয়। এতে দেশের ৩২৭টি পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। মহাসমাবেশ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশনের ঘোষণা দেয়া হয়। সংগঠনের সভাপতি মো. আবদুল আলীম মোল্যার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলামের পরিচালনায় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান সিরাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, পৌরসভা কাউন্সিলর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদ হোসেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেয় সরকার, শাস্তি দেয় সরকার, বদলি করে সরকার। তা হলে ৫৮ মাস ধরে যে তারা বেতন পায় না এ বিষয়টি দেখার দায়িত্ব কার? তারা বলেন, বেতন-ভাতা সহায়তা বাবদ ৩২৭টি পৌরসভাকে যা বরাদ্দ দেয়া হয় তা শতকরা হিসেবে চাহিদার ০.৪৫ ভাগ। অথচ এ খাতে টাকা বৃদ্ধি করে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দেয়া হচ্ছে।
আমরা আশা করছি ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পৌর কর্মচারীদের বেতন-ভাতা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দেয়া হবে। সভাপতি মো. আবদুল আলীম মোল্যা বলেন, দাবি আদায়ে ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি দেশের ৩২৭টি পৌরসভায় একযোগে দু’দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি, ২৯ জানুয়ারি কাফনের কাপড় পরে দেশের ৬৪ জেলার পৌর কর্মীরা নিজ নিজ জেলায় গিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে দাবি মানা না হলে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেশের ৩২৭টি পৌরসভার পৌর কর্মীরা লাগাতার আমরণ অনশনে যাবে। দাবি পূরণের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত চলবে এ অনশন। সভাপতি আরও বলেন, বিভিন্ন সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে অসচ্ছল জনপদকে পৌরসভা ঘোষণা করার কারণে পৌরসভার নিজস্ব পর্যাপ্ত আয় না থাকায় দেশের ৭৬ ভাগ পৌরসভায় ২ থেকে ৫৮ মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে। তাছাড়া শতভাগ পৌরসভায় অবসরকালীন ভাতা শতভাগ বকেয়া রয়েছে। কোনো কোনো পৌরসভা প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ এখনও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এমন অবস্থায় প্রায় সাড়ে ১২ হাজার স্থায়ী ও প্রায় ২০ হাজার অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছে। সমাবেশ শেষে সভাপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে যান।

Wednesday, December 27, 2017

সরকার গঠনই শেষ কথা by মাহবুব হাসান ও হাবিবুর রহমান খান

বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং সরকারের উন্নয়ন পদক্ষেপে ভর করে আগামী নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও সহিংস আন্দোলনের দুঃসহ স্মৃতি সামনে এনে জনগণের মন জয় করতে চায় দলটি। আর বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে দেশ ও জাতি গঠনে দলটির ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এ বার্তাই দিতে চাইবে যে, এসব বিবেচনায় উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পুনরায় সরকার গঠনে আওয়ামী লীগ দাবি রাখে। এ উদ্দেশ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নামছে দলটি। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আগামী নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে বিএনপির দুর্নীতির আমলনামা ও সরকারের উন্নয়ন প্রচারণাকে প্রধান এজেন্ডা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক যুগান্তরকে বলেন, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণার এ পলিসি গ্রহণের সিদ্ধান্ত সঠিক। যে কোনো দল এটিই করবে। তারা জনগণের কাছে নিজেদের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর খারাপ দিকগুলো তুলে ধরতে চাইবে। তবে এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, রাজপথের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপিও একই পথে হাঁটবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের দুই মেয়াদের শাসনকালের ইমেজ যদি ক্লিন হয়ে থাকে তাহলে বিএনপি বেশিদূর এগোতে পারবে না। কিন্তু ভোটের আগে জনগণের সামনে যদি তথ্য-প্রমাণ দিয়ে বিশ্বাসযোগ্য কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের নজির হাজির করতে পারে, তাহলে সরকারি দলকে কিছুটা বেগ পেতে হবে। এ ছাড়া সবচেয়ে যে বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হল- সরকার যেভাবে সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় নির্বাচন করতে চায়, শেষমেশ যদি সেভাবে না পারে সে ক্ষেত্রে আরও কিছু চ্যালেঞ্জ সামনে চলে আসবে। বিশেষ করে তফসিল ঘোষণার পর মাঠে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে বা করতে হবে। তাই সে সময়গুলোয় ভোটের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা কেবল সময়ই বলে দিতে পারবে। তিনি মনে করেন, পরিস্থিতি সে রকম হলে দুই প্রধান দল একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মুখোমুখি হয়ে কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে পারে। সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ড থেকে ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের জনগণের ঘরে ঘরে গিয়ে এ সরকারের আমলে কি কি কাজ হয়েছে তা তুলে ধরতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমানের বিদেশে সম্পদ থাকার তথ্য, খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলা, কালো টাকা সাদা করা, তারেক রহমানের মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় সাজা পাওয়াসহ এ ধরনের অন্য বিষয়গুলো জনগণের কাছে উপস্থাপন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ক্ষমতাসীনরা মনে করছে, জনগণকে এ দুটি বিষয় সঠিকভাবে বোঝাতে পারলে তারা আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করবে। তাছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারে এসে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। দেশকে নিন্মমধ্যম আয়ের দেশে তুলে আনতে সক্ষম হয়েছে। দেশব্যাপী ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, মানুষের আয় বেড়েছে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। তাই তাদের বিশ্বাস মানুষ আওয়ামী লীগকেই বেছে নেবে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য সবার কিছু কৌশল এবং প্রস্তুতি থাকে। আওয়ামী লীগ যেসব ওয়াদা দিয়ে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছিল তার অধিকাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে, বাকিগুলোও পূরণের পথে। এই কয়েক বছরে দেশ উন্নয়নের পথে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মানুষের বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান এ সরকারই করেছে। নিজের টাকায় পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের পথে।’ তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে বিএনপির আমলে হাওয়া ভবন তৈরি করে কমিশন খাওয়া হতো, লুটপাট চলত। নিজেরা দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা বানিয়ে বিদেশে পাচার করেছে। আমরা মানুষের সামনে এই বিষয়গুলো তুলে ধরব। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ এই অপশক্তিকে আর ভোট দেবে না, বরং আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে আবারও সরকার গঠনের সুযোগ দেবে।’ আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে প্রচারণার কৌশল নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দলের গত শনিবারের প্রেসিডিয়ামের বৈঠকেও এ বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। দলের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বিভাগওয়ারি দায়িত্ব নিয়ে দলকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নের প্রচার ঘরে ঘরে পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাছাড়া জিয়া পরিবারের সব অপকর্ম জনগণের সামনে তুলে ধরতে বলেছেন। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১৫টি টিম গঠন করা হয়েছে। জানুয়ারিতে একেকজন প্রেসিডিয়াম সদস্যের নেতৃত্বে এ টিমগুলো দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফর করবে। এসব সফরে সমাবেশ, বর্ধিত সভা, উঠান বৈঠক, পথসভায় দেশের জন্য আওয়ামী লীগের অবদান বিপরীতে বিএনপির ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরা হবে। আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাংগঠনিক সফর দিয়ে শুরু করে নির্বাচনের এ বছরে পুরোটা সময় মাঠে থাকবেন তারা। বছরের প্রথম তিন মাস থাকবে মূলত দিবসভিত্তিক কর্মসূচি। ৫ জানুয়ারি সরকারের চার বছর পূর্তি, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, ফেব্রুয়ারিতে শহীদ দিবস, মার্চে বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ভাষণ দিবস, তার জন্মদিন, স্বাধীনতা দিবসসহ নানা কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকার রাজপথসহ সারা দেশের রাস্তাঘাট, পাড়া-মহল্লা, অলি-গলিতে উপস্থিত থাকবে দলটি। চলতে থাকবে জনসংযোগ। উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি বিএনপির লুটপাট, দুর্নীতি, জিয়া পরিবারের সম্পদের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। এভাবে চলবে আগামী আগস্ট পর্যন্ত। আর এরপর তো আনুষ্ঠানিকভাবেই শুরু হবে নির্বাচনী প্রচারণা। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় নির্বাচন একটি রাজনৈতিক দলের পরীক্ষা। এর জন্য নানা গ্রাউন্ডওয়ার্ক করতে হয়। আমরা সেগুলো শুরু করেছি। জানুয়ারি থেকেই সাংগঠনিক সফর শুরু হচ্ছে। সাংগঠনিক কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা প্রচারণা জোরদার করব, যা চলবে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত। মানুষকে মনে করিয়ে দিতে হবে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়ন করে, মর্যাদা বাড়ায়; বিপরীতে বিএনপি নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নে ব্যস্ত থাকে, দেশকে ভিক্ষুদের জাতি হিসেবে উপস্থাপন করে। আমরা জনগণের সামনে তুলনামূলক সেই চিত্রগুলোই তুলে ধরব। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে এ দেশের অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এ সরকারের আমলে জনগণের আয় এবং জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। বিপরীতে বিএনপির সময় ছিল হাহাকার। বিদ্যুৎ আর সার চাইতে গিয়ে সাধারণ মানুষ এবং কৃষকদের গুলি খেয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে। জঙ্গিবাদ আর সন্ত্রাসে জনজীবন ছিল অস্থির, আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল দেশ। তাছাড়া খালেদা জিয়া নিজে দুর্নীতি করেছেন। তার বড় ছেলে মানি লন্ডারিংয়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোও একই দোষে দুষ্ট ছিলেন। আর এ সরকারের আমলে তারা আন্দোলনের নামে পেট্রলবোমা ও আগুন নিয়ে নাগরিকদের পুড়িয়ে মেরেছেন। সহিংসতা, অরাজকতা ও নাশকতা করে জনগণের জীবন করে তুলেছিলেন অস্থির। তাই আমি মনে করি, এ দেশের মানুষ আর কখনও বিএনপিকে ভোট দেবে না। আওয়ামী লীগেরও ভুলত্রুটি থাকতে পারে কিন্তু দেশের উন্নয়নে আমরা কাজ করি সেটা প্রমাণিত। আর এ কারণেই আগামী নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।

রাতভর ঘুষের দেনদরবার শেষে মামলা

রাজধানীর বনানীতে র‌্যাবের কথিত এক সোর্সকে গ্রেফতার নিয়ে রীতিমতো হুলুস্থুল কাণ্ড ঘটেছে। র‌্যাব-১ এর সোর্স হিসেবে পরিচিত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী বিল্লাল ওরফে মদ বিল্লালকে রোববার মধ্যরাতে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গোয়েন্দা টিম। কিন্তু উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে এ খবর গোপন রেখে রাতভর ঘুষের দেনদরবার চলে। তবে ঘটনা বেশিক্ষণ গোপন থাকেনি। শেষরাতের দিকে বিল্লালকে গ্রেফতারের ঘটনা জানাজানি হলে বনানী থানায় মামলা করা হয়। এদিকে ঘটনার আদ্যোপান্ত অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, র‌্যাবের সোর্স বলে পরিচিত বিল্লাল নিজেও একজন প্রথম সারির চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তবে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষ আরেক মাদক ব্যবসায়ী তাকে স্থায়ীভাবে জেলে আটকে রাখতে ফন্দি আঁটে। আর ৫ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে সে ফাঁদে পা দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গোয়েন্দা টিমের পরিদর্শক মনিরুজ্জামান। যেই কথা সেই কাজ। সাজানো অভিযানের দিনক্ষণ ছিল রোববার মধ্যরাত।
স্থান গুলশান ১০৮নং রোড। কথা ছিল বিল্লালকে একটি প্রাইভেট কারসহ আটক করার সময় তার কাছ থেকে জব্দ দেখানো হবে, ৭৬ বোতল বিদেশি মদ, ১০৫ ক্যান বিয়ার, ২ হাজার ৩০ পিস ইয়াবা ও ৩৬০ পুরিয়া হেরোইন। কিন্তু বাস্তবে সে সময় তার কাছে এসবের কিছুই ছিল না। গুলশান থেকে আটকের পর বিল্লালকে বনানীতে নিয়ে যাওয়া হয়। এখান থেকেই প্রাইভেট কারটিতে তোলা হয় উল্লেখিত মদ, বিয়ার, হেরোইন ও ইয়াবা। সেখান থেকে তাকে নেয়া হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গোয়েন্দা কার্যালয়ে। নানা নাটকীয়তা শুরু : রোববার সন্ধ্যার দিকে বিল্লালকে গ্রেফতার করা হলেও বিষয়টি গোপন রাখা হয়। কিন্তু রাত ৮টার দিকে খবর পেয়ে যান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সুপার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা। তিনি জানতে পারেন বিল্লালের বিরুদ্ধে হেরোইন ও ইয়াবার মামলা দেয়া হচ্ছে। এ কারণে তিনি ফোন করেন পরিদর্শক মনিরুজ্জামানের কাছে। কৈফিয়ত তলব করে তিনি বিল্লালকে আটকের কারণ জানতে চান। এরপর বলেন, ‘ও আমার এলাকার ছেলে জানো না? তাছাড়া আমারেও তো কয়টা পয়সা দেয়। ওরে ধরা তোমার ঠিক হয়নি। এরপর বলেন, ‘ঠিক আছে, ধরছো যখন হেরোইন, ইয়াবার মামলা দিও না।’ ফরেন লিকারের (বিদেশি মদ) মামলা দিয়া ছাইড়া দিও।’ মুঠোফোনে কথা শেষ না হতেই মাদকের আর এক কর্মকর্তার ফোন আসে। কিন্তু এবার ওই কর্মকর্তার নির্দেশ ছিল পুরো উল্টো। তিনি বলেন, ‘যা যা পাইছ সব দিয়া শক্ত মামলা দিবা। যেন ... ছাড়া না পায়। কমপক্ষে ১০ বছর ওরে ভিতরে রাখতে হবে।’ কিন্তু এখানেই শেষ নয়। এবার বড় ঘুষের অফারও আসে। বিল্লালের লোকজন ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামানের কাছে একের পর এক ফোন করতে শুরু করেন। তারা বলতে থাকেন- ‘স্যার কত লাগবে কন, দিমু। ছাইড়া দেন। খামোখা মামলা দিয়েন না। সবাই মাসোয়ারা নেয়। আমনে কেন বিল্লালরে ধরতে গেলেন বুঝতাছি না।’ এসব ফোন পেয়ে বিল্লালকে ছেড়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। খবর পেয়ে বিল্লালের প্রতিপক্ষেরও ফোন আসা শুরু হয়। তারা বলেন, ‘স্যার বিল্লালকে ছাইড়েন না। ৫ লাখ দিসি, লাগে আরও ১০ দিমু। বিল্লাল ছাড়া পাইলে র‌্যাব দিয়া আমগো ক্রসফায়ার দিব।’ এই যখন পরিস্থিতি তখন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক মনিরুজ্জমানের শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা। কার কথা রাখবেন। এর মধ্যে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতোই মধ্যরাতে ফোন আসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গোয়েন্দা ইউনিটের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম সিকদারের। তিনি অভিযানের পুরো ঘটনা জানতে চান। জবাবে সবকিছু বেমালুম চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেন মনিরুজ্জামান। কিন্তু নজরুল ইসলাম আদ্যোপান্ত অবহিত হয়েই দ্বিতীয় দফা ফোন দিলে জেরার মুখে কিছুটা মুখ খোলেন অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এজাহারে তথ্য গোপন : বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা দেনদরবার শেষে রোববার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে বনানী থানায় মামলা করা হয়। মামলা নং-২৮। কিন্তু এজাহারে ইয়াবা, হেরোইনের কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রাইভেট কার থেকে উদ্ধার দেখানো হয়েছে মাত্র ৫০ বোতল মদ ও ৭২ ক্যান বিয়ার। তবে বিতর্কিত এ অভিযানের অনেকটাই উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জেনে যাওয়ায় মামলা করার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে মর্মে জিডি এন্ট্রি করা হয়। বনানী থানায় মামলা হলেও ইয়াবা উদ্ধারের জিডি হয় গুলশান থানায়। আলোচিত এ মামলার বিষয়টি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদকে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘এই অভিযানের বিষয়ে আমি অবহিত নই। তবে যদি কেউ সাজানো মামলা দায়ের করে বা অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার আগেই নিজেই অপরাধ সংঘটিত করে তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবশ্যই তদন্তের আওতায় আসবেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিব। এরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ সূত্র জানায়, রাজধানীর বনানীতে দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি মদ-বিয়ারের রমরমা ব্যবসা চলছে।
অবৈধ এ ব্যবসা করে ফুটপাতের কয়েকজন হকার এখন রীতিমতো কোটিপতি। বনানীকেন্দ্রিক অবৈধ মদ-বিয়ারের ব্যবসা বন্ধ করতে গত দু’বছর ধরে তৎপরতা চালাচ্ছে র‌্যাব। বিশেষ করে র‌্যাব-১ ও র‌্যাব-২ এর কয়েকটি দল অবৈধ এ মদের ব্যবসার মূলোৎপাটনে তৎপর। ফলে র‌্যাব আতঙ্কে রয়েছেন বনানীর মাদক ব্যবসায়ীরা। অনেকটা শর্ষের মধ্যে ভূত থাকার মতোই এ সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে র‌্যাবের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা। অভিযান হলে ‘র‌্যাবের হাত থেকে বাঁচানোর’ প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে মোটা অঙ্কের মাসোয়ারা আদায় করতে শুরু করেন তারা। এক্ষেত্রে বিল্লালের সঙ্গে র‌্যাব-১ এর এসআই রেজার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গুলশান এলাকার একজন ব্যবসায়ী যুগান্তরকে বলেন, এসআই রেজার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে বিল্লাল সম্প্রতি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তিনি নিজেই বনানী এলাকার বিভিন্ন লোকজনকে ফোন করে র‌্যাবের নামে চাঁদা তোলেন। সূত্র বলছে, এতদিন র‌্যাবের কথিত পেমেন্ট বিল্লালের মাধ্যমেই রেজার হাতে পৌঁছে যেত। কিন্তু সম্প্রতি একটি ঘটনার পর বিল্লালের ‘বাড়-বাড়ন্ত’ শুরু হয়। গত মাসে বনানীর মদ ব্যবসায়ী কবির গাজীকে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা আদায় করেন এসআই রেজা। উত্তরা আজমপুর এলাকার একটি মার্কেটে এ টাকা লেনদেন হয়। এরপর সম্প্রতি আরেক মদ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার না করে তার কাছেও ১ কোটি টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। ওই টাকা লেনদেনের প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিল্লাল নারকোটিক্সের হাতে গ্রেফতার হন। কথিত সোর্সের মাধ্যমে অসাধু র‌্যাব কর্মকর্তার টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান সোমবার যুগান্তরকে বলেন, র‌্যাবের পেশাদারিত্বের সুনাম রয়েছে। এই সুনামের ওপর যদি কেউ কলঙ্ক লেপনের চেষ্টা করে তবে তিনি সোর্স বা অন্য কোনো বাহিনীর কর্মকর্তা হলেও তাকে ছাড়া হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তবে অনেক সময় সোর্স পরিচয়ে পেশাদার অপরাধীরাও নানাভাবে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা-পয়সা আদায় করে। এ ধরনের অনেক অপরাধীকে এর আগে গ্রেফতারও করেছে র‌্যাব।’

Sunday, December 24, 2017

নিখোঁজের ৪ মাস পর কল্যাণ পার্টির মহাসচিব গ্রেফতার

চার মাস ধরে নিখোঁজ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এএমএম আমিনুর রহমানকে গুলশান থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার শাহজাদপুর প্রগতি সরণিতে মোবাইল ফোন ট্র্যাকের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর)। তবে তার নিখোঁজের কারণ এখনও জানা যায়নি। ডিবি বলছে, আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। পলাতক অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে। তবে তাকে নিখোঁজ অবস্থায় উদ্ধারের পর মামলায় গ্রেফতার করার ঘটনাকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক নাটক বলে মনে করছেন তার দলের নেতাকর্মীরা।
আমিনুর রহমান ২৭ আগস্ট রাতে ঢাকায় নয়াপল্টন থেকে সাভারে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। পরে এ ঘটনায় নিখোঁজের বড়ভাই এমএম মিজানুর রহমান পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তার নিখোঁজে সরকারের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করে আসছিলেন দলটির নেতারা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, আমিনুরকে উদ্ধার করার পর গুলশান থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের হেফাজতে চেয়ে বিকালে তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে নিয়ে যায় পুলিশ। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. জিহাদের আবেদনের শুনানি শেষে চার দিন হেফাজতের নির্দেশ দেন মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস। আমিনুরের পক্ষে তার আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করেন বলে জানান আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই শেখ রাকিবুল ইসলাম। নিখোঁজের বড়ভাই এমএম মিজানুর রহমান শনিবার বিকালে ফোনে যুগান্তরকে বলেন, তার সঙ্গে এখনও কথা বলার সুযোগ হয়নি। তাকে কে বা কারা, কী কারণে অপহরণ করেছিল- এসব বিষয় সে-ই ভালো বলতে পারবে। তবে আমাদের কাছে পুরো বিষয়টিই রহস্য মনে হচ্ছে।
সূত্র জানায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতা আমিনুরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারিতে শাজাহান খানের নেতৃত্বে গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে বোমা হামলার মামলায়। সেদিন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাড়ি ঘেরাও কর্মসূচির সময় কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটেছিল। তখন পরিবহন শ্রমিক নেতা ইসমাইল হোসেন বাচ্চু বাদী হয়ে গুলশান থানায় খালেদা জিয়া, সেলিমা রহমানসহ বিএনপি ও ২০ দলের ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলেও আমিনুরের নিখোঁজ হওয়ার কারণ এখনও জানা যায়নি। ইতিপূর্বে ফিরে আসা নিখোঁজ ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তাদের টাকার জন্য অপহরণ করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সচেষ্ট বলেই নিখোঁজদের উদ্ধার করা যাচ্ছে।
কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম যুগান্তরকে বলেন, ৯ বছর ধরে বর্তমান সরকারের কৃতকর্মের অভিজ্ঞতার আলোকে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই যে, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব অপহরণের ঘটনাটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক নাটক। প্রায় তিন বছর আগের নাশকতামূলক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো ছেলেখেলার মতো। কারণ অপহরণ হওয়ার আগে তিনি (আমিনুর) প্রকাশ্যেই বৈধ একটি রাজনৈতিক দলের মহাসচিব হিসেবে সব ধরনের দায়িত্ব পালন করেছেন। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, তিনি যদি মামলায় উল্লেখ করা অভিযুক্ত হতেন, তাহলে তাকে গ্রেফতার করার অনেক সুযোগ অতীতে ছিল। যাই হোক, আমরা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করে আনব।

Monday, December 11, 2017

‘নাটক’ প্রমাণ করতে পুলিশই নাটক করছে

কবি-প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার বলেছেন, পুলিশ তাদের (ফরহাদ মজহার দম্পতি) নিয়ে তামাশা করছে। স্বামী ফরহাদ মজহারের অপহরণের ঘটনাটি নাটক এবং সাজানো প্রমাণ করতে গিয়ে উল্টো পুলিশই ‘নাটক’ করছে বলে দাবি করেন তিনি। রোববার যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে ফরিদা আখতার এ দাবি করেন। তিনি বলেন, আদালতে দেয়া পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) প্রত্যাখ্যান করে তিনি আদালতে আবেদন দিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়ায় এখন তিনি উচ্চ আদালতে অন্য কোনো সংস্থাকে দিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি জানাবেন। উচ্চ আদালতে তিনি সুবিচার পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ সদর দফতর।
রোববার পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সহেলী ফেরদৌস বলেন, সংবাদ সম্মেলন করে ফরহাদ মজহার দম্পতি ঢাহা মিথ্যা বলেছেন। জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের কোনো সুযোগ নেই দাবি করে তিনি বলেন, আদালতে হাজিরের পর সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ডের সময় সেখানে পুলিশ থাকে না। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে লিখে দেয়া কোনো কাগজ জবানবন্দি হিসেবে আদালত গ্রহণ করার প্রশ্নই ওঠে না। সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সহেলী ফেরদৌস আরও বলেন, সরকারকে বিব্রত করার জন্য ফরহাদ মজহার স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছিলেন এবং অপহরণের গল্প রটিয়েছিলেন। শনিবার নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কবি-প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আমি নাটক করিনি, আমাকে যা বলা হয়েছে, তাই করেছি। আদালতে দেয়া জবানবন্দি তার নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তারা নিজেরাই সেটি আমার জবানবন্দি বলে চালিয়ে দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার জন্য তাকে লিখিত কপিসহ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়। ‘গুম’ করার উদ্দেশ্যেই তাকে অপহরণ করা হয়েছিল দাবি করে ফরহাদ মজহার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো ভূমিকার কারণে তিনি জীবন রক্ষা পেয়েছেন। চলতি বছরের ৩ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শ্যামলীর রিং রোডের ১নং হক গার্ডেনের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ফরহাদ মজহার। ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগরে হানিফ পরিবহনের বাস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। প্রায় ৩ মাস তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করে। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত ও হয়রানির অভিযোগ এনে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের কছে দণ্ডবিধির ২১১ ও ১০৯ ধারায় ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী ফরিদা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি চান। বৃহস্পতিবার পুলিশের দেয়া প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের আবেদন জানান ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার। দু’পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ওই আবেদন নাকচ করে দেয়ার পর শনিবার ওই ঘটনায় মুখ খোলেন ফরহাদ মজহার। নিজ বাসায় সাংবাদিকদের ডেকে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি।

শিল্প-সংস্কৃতিতে গতি সঞ্চার করেছে আমাদের বিজয়

দেশ সম্পর্কিত একটি প্রশ্ন প্রায়ই শোনা যায়। স্বাধীনতার পর উন্নতি, উন্নয়ন ইত্যাদির মূল্যায়নে প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তি নিয়ে। দৈনিক যুগান্তরের পক্ষ থেকে তেমনটির সম্মুখীন আমাদেরও হতে হল। উত্তরটি মৌখিক না হয়ে লিখিত দেয়ার অনুরোধও করা হয়েছে। তো, এসব নিয়ে বলার মতো জ্ঞান-গরিমা আমার প্রায় শূন্যের কোঠায়। বলা যায়, খালি চোখে দেখার বাইরে গভীর হিসাব-নিকাশ তেমন করিনি কখনও। তবে অবস্থাদৃষ্টে বলতেই হয়, শিল্পকলা বা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেশকিছু প্রাপ্তি ঘটেছে। যেমন- ভালো হোক বা মন্দ, গ্রহণযোগ্য হোক বা সমালোচিত, দেশে প্রচুর ভাস্কর্য নির্মিত হয়েছে। এ নিয়ে ভাস্করদের ব্যস্ততা বেড়েছে যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এটি শিল্পকলা চর্চার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বিশ্বের সঙ্গে তালমিলিয়ে চলার একটি ভালো লক্ষণ। আধুনিক চিত্রকলা দিকটিতে তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের চর্চা বেগবান হয়েছে গত কয়েক বছরে। তাদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিস্তৃত হয়েছে এবং প্রশংসা প্রাপ্তি ঘটেছে। বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। সৃজনশীল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। এসবের প্রধান কারণটি হল শিল্পকলা চর্চার ক্ষেত্রে বৈরী দিনকালের সম্মুখীন হতে হয়নি গত কয়েক বছর। দেশে শিল্পকলার সংগ্রাহক এখন অনেকাংশে বেড়ে গেছে। গ্যালারি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অনেক। সেগুলোতে প্রচুর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দর্শক সমাগমও সন্তোষজনক। লোকশিল্পের বেলায়ও একই কথা খাটে। জামদানিসহ বেশকিছু দিকে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বেড়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে আমাদের নকশি শীতল পাটি। ইউনেস্কো বিশেষ ঐতিহ্যিক বিষয় হিসেবে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিটি দিয়েছে। যেমন একইভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে ইনট্রানজিবল হেরিটেজ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ঐতিহ্যবাহী পহেলা বৈশাখী বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি। এসব গুরুত্ববাহী অর্জনের এবং প্রাপ্তির দরজাগুলো খুলতে পারা গেছে বর্তমান সরকারের আমলে, পৃষ্ঠপোষকতায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নাট্যকলা, নৃত্য, সৃজনশীল চলচ্চিত্র ইত্যাদির চর্চা বেড়েছে। মোটকথা সুরুচির দিকগুলো নিয়ে চমৎকার একটি আবহ বিরাজমান সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে কয়েক বছর ধরে বিশাল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে ধ্রুপদী, উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের আসর বসছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এসব আয়োজন আমাদের অর্জন। সুরুচি বিস্তরণের এসব দিক আমাদের প্রাপ্তির অংশ।
এখানে একটি কথা না বললেই নয় যে, স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কাজ করার যে স্পৃহা এবং চর্চার বেগবান গতি পাওয়ার কারণ আমাদের বিজয়, আমাদের স্বাধীনতা এবং একটি নিজস্ব ভূখণ্ড। বঙ্গবন্ধুর একটি ভাষণ জনগণের স্বাধীনতার আকাক্সক্ষাকে প্রোজ্জ্বলিত করেছিল। সেই ভাষণকে শিরোধার্য করে বাঙালির নিজস্ব বাসভূমি হিসেবে এ স্বাধীন দেশটি অর্জিত হয়েছিল। একাত্তরের ৭ মার্চের সেই অসাধারণ উদ্বুদ্ধকারী ভাষণ বিশ্বের সেরা ঘটনার স্বীকৃতি পেয়েছে ইউনেস্কোর আয়োজনে। এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের সব প্রজন্মের জনগণকে দেশাত্মবোধে চিরকাল উজ্জীবিত রাখবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে অভিভূত। গর্বিত বোধ করছি ভেবে যে, সেই ভাষণ শোনার কোটি মানুষের ঢলে আমিও উপস্থিত ছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা পাথেয় হয়ে আছে আজও। শিল্পকলার ক্ষেত্রে এসব প্রাপ্তি চোখে পড়ার মতো। তবে অতৃপ্তিও আছে চারুশিল্পীদের। তা হল রং-তুলি, কাগজ-ক্যানভাসের অগ্নিমূল্য। বিদেশ থেকে ব্যবসায়ীরা এসব মেটেরিয়াল বা সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি আমদানি করে থাকেন। দেশে কোনো কারখানা নেই। অতএব, পরমুখাপেক্ষী থাকাই নিয়ম। নির্ভরতাও তাদের ওপর। কিন্তু বেঁধে দেয়া অগ্নিমূল্যের কারণে শিল্পীদের চর্চা অনেকটাই ব্যাহত হয়। তার পরও থমকে যায়নি শিল্পীদের কর্মকাণ্ড। বিশ্বমানের শিল্প সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তারা আমাদের গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত করছেন। এটা অনেক বড় পাওয়া।

১০০ জোট হতে পারে তাতে আমার কী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ঢাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে জাতীয় পার্টি। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রোববার সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারে বিশ্বাস করি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে সারা বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ অধিবেশন বসেছে। আমরাও গোটা বিশ্বের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে অবিলম্বে জেরুজালেমকে ইসরাইলের দখলমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ এসব কথা বলেন। রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, ‘আমি ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারি না। তারপরও রংপুরে আমাদের দলের, প্রার্থীর যে অবস্থান, তাতে আমরা জিতব।’ এ সময় জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে কথা বলার সময় এখনও আসেনি। রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর এ ব্যাপারে কথা বলব।’ বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবং নাগরিক ঐক্য- এ চারটি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামের নতুন জোট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ বলেন, ‘১০০ জোট হতে পারে, তাতে আমার কী?’ রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় নিজের ভাতিজা এইচএম আসিফ শাহরিয়ারকে জাতীয় পার্টি থকে বহিষ্কার করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। এরশাদ বলেন, ‘সে আমারই আপন ভাতিজা। তাকে বহিষ্কার করার একটাই কারণ। সে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করেছে। ভাই হোক ভাতিজা হোক, যেই হোক না কেন, আমার কাছে দল বড়।’ আসিফ এরশাদের ছোটভাই মোজাম্মেল হোসেন লালুর ছেলে।
উল্লেখ্য, রসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই জাতীয় পার্টির রংপুর শাখার সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে দলের মনোনয়ন দেন এরশাদ। তার সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এইচএম আসিফ শাহরিয়ার। এ কারণে জাতীয় পার্টির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদবি থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘৃণ্য ঘোষণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এ ঘোষণা জাতিসংঘের সিদ্ধান্তেরও পরিপন্থী। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের বিতারিত করে ইসরাইল নামের এ ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইহুদিরা আরবীয় ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর নির্মম নির্যাতন-অত্যাচার ও দখলদারিত্ব শুরু করেছে এবং এখনও তা চলমান আছে। দিন দিন তাদের অত্যাচারের মাত্রা বেড়েই চলছে।’ জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, এসএম ফয়সল চিশতী, সুনীল শুভ রায়, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, মীর আবদুস সবুর আসুদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শফিকুল ইসলাম সেন্টু, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, জোটের নেতাদের মধ্যে ইসলামিক ফ্রন্টের নেতা আবদুল মতিন, বিএনএফের সেকান্দার আলী প্রমুখ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

‘মৃত্যুর আগে ছেলের মুখটা একবার দেখতে চাই’

‘আমার ঘুম হয় না। ছেলের জন্য শুধু কাঁদি আর কাঁদি। আমি আমার ছেলেটাকে ফেরত চাই। আমার ছেলেকে আপনারা এনে দেন। মৃত্যুর আগে ছেলের মুখটা একবার দেখে যেতে চাই।’ এ কথাগুলো এক সন্তানহারা মায়ের। তার এ আর্তনাদ ও আকুতি শুনে কেঁদেছেন সবাই। ওই মায়ের নাম হাজেরা খাতুন। চার বছর আগে তার ছেলে সাজেদুল ইসলাম সুমন গুম হন। হাজেরা খাতুন যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন সুমনের চার বছরের মেয়ে আরোয়াও ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল। এ সময় মেয়েকে সান্ত্বনা দিয়ে নাছিমা আক্তার বলেন, মা তুমি কেঁদো না, তোমার বাবা আসবেন। কিন্তু মায়ের এমন সান্ত্বনায় ছোট্ট আরোয়ার কান্না থামছিল না। রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘মায়ের ডাক, সন্তানদের মায়ের কোলে ফিরিয়ে দাও’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য দেন হাজেরা খাতুন। এ অনুষ্ঠানে শুধু হাজেরা নয়, গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কেউ কথা বলতে গিয়ে কেঁদেছেন, আবার কেউ কথা বলতে পারেননি, ছিলেন নির্বাক। এ অনুষ্ঠানে গুমের শিকার হওয়া ২৭ জনের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুমনের বোন মারুফা ইসলাম। অনুষ্ঠানে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) পরিচালক সিআর আবরার, মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন, মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের পরিচালক নাসিরউদ্দিন এলান বক্তব্য দেন। গুমের জন্য সরকারকে দায়ী করে ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে গুম, খুন বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড থামছে না। সরকারের অঙ্গুলিতে এসব ঘটনা ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল ফরহাদ মজহারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তার সঙ্গে আলোচনায় বুঝতে পেরেছি পুলিশ ও র‌্যাব সক্রিয় ছিল বলে তিনি ফিরে আসতে পেরেছেন। এতে বোঝা যায়, তার নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অন্য কোনো শক্তি কাজ করেছিল। তাই পুলিশ ও র‌্যাববকে সক্রিয় করার জন্য জোর অনুরোধ জানাচ্ছি।’ এ অনুষ্ঠান এবং স্বজনদের কান্না ও বক্তব্য রেকর্ড করে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তাহলে মানুষ কথা বলবে, মানবতা জাগবে। তিনি বলেন, ‘একসময় আওয়ামী লীগ করতাম। গুমের পরিস্থিতির শিকার এই কঠিন সময়টি সম্পর্কে জানি।’ তিনি বলেন, প্রতিবছর পরিবারগুলোর সদস্যরা তাদের সন্তান বা ভাইয়ের ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানায়। কিন্তু এ আহ্বান কারও কানে পৌঁছায় না। রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে গুম করা হচ্ছে অভিযোগ করে মান্না আরও বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় সরাসরি সরকারের দিকে আঙুল তুলছেন। তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাদা পোশাকের সদস্যরা স্বজনদের ধরে নিয়ে গেছে। এসব ঘটনায় তাদের মামলা নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, সরকারের লোকজন সব মগের মুলুক মনে করে, তারা মনে করে দেশে যা ইচ্ছা তাই করা যাবে। সিআর আবরার বলেন, দেশে গুম-হত্যা চলছে। যারা গুমের পেছনে রয়েছে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হোক। গুম নিয়ে যে অভিযোগ সে ব্যাপারে জবাব দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে তারা এখন নীরব। এমন অবস্থা চলতে পারে না। নূর খান লিটন বলেন, বিভিন্ন দেশের গুমের সংখ্যা দিয়ে গুমকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু বিচারের নায্যতায় নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে গুমের ঘটনায় আগামী মার্চের মধ্যে গণশুনানির দাবি জানাচ্ছি। সুমনের বোন আফরোজা ইসলাম বলেন, পরিবারের সদস্যদের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে আমাদের ভাইদের, সন্তানদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ প্রশাসনের লোকজন বলছেন তারা কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, বিচার চাইতে গিয়ে মারা গেছেন গুম হওয়া মুন্নার বাবা ও পারভেজের বাবা। পিন্টুর মা ও আমার মা অসুস্থ। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকারের আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করি।