Monday, February 23, 2015
যে ১০টি কারণে সংখ্যা ৫০ বিশ্ব বিখ্যাত যে ১টি কারণে সংখ্যা ৫০ বাংলাদেশে কুখ্যাত by শফিক রেহমান
যে ১০টি কারণে সংখ্যা ৫০ বিশ্ব বিখ্যাত যে ১টি কারণে সংখ্যা ৫০ বাংলাদেশে কুখ্যাত by শফিক রেহমান
প্রাচীনকালে
নাম্বার বা সংখ্যা এবং নাম্বার সিস্টেম বা সংখ্যা গণনার প্রয়োজন মানুষের
হয়েছিল, দিন এবং তাদের পোষা জীব জানোয়ার, যেমন ভেড়া প্রভৃতির হিসাব রাখার
জন্য। তখন হাড়, কাঠ বা শক্ত জাতীয় কোনো কিছুর ওপর দাগ কেটে মানুষ গণনা
করতো। এটাকে বলা হয় ট্যালি (Tally) সিস্টেম এবং এটা এখনো ব্যবহৃত হয়।
সংখ্যা দিয়ে গণনার সিস্টেম প্রথম ব্যবহৃত হয় মধ্যপ্রাচ্যে মেসোপটেমিয়াতে
খৃস্টপূর্ব ৩৪০০-এ। সেই সিস্টেম ছিল ৬০ (ষাট) সংখ্যা ভিত্তিক। আধুনিক ১০
(দশ) সংখ্যা ভিত্তিক সিস্টেম প্রচলিত হয় ইজিপ্টে খৃস্টপূর্ব ৩১০০-এ।
তারপর প্রায় (৩১০০+২০১৫ = ৫১১৫) পাচ হাজার বছর জুড়ে মানুষ ১০ সংখ্যা ভিত্তিক নাম্বারিং সিস্টেমে জ্ঞান চর্চা করেছে ও বিজ্ঞানের অগ্রগতি ঘটিয়েছে। এই ভিত্তিতে মানুষ ইতিহাস লিখেছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে খেলাধুলার রেকর্ড রেখেছে। এসবই রেকর্ড করা হয়েছে জিরো বা শূন্য থেকে মিলিয়ন, বিলিয়ন, টৃলিয়ন সংখ্যার হিসাবে। তবে আজকের এই লেখাটি শুধু ৫০ সংখ্যাটিকে নিয়ে।
প্রথমে জেনে নিন, যে ১০টি কারণে ৫০ সংখ্যাটি বিশ্ব বিখ্যাত হয়েছে।
১
সারা এপৃল মাস জুড়ে ইজিপ্টে খামসিন ঝড় বয়ে যেতে পারে। এই গরম ঝড়ের নামটি এসেছে আরবি ভাষার ৫০ শব্দটি থেকে।
২
পূর্ব লন্ডনে বাণিজ্যিক কেন্দ্রের একটি ভবন, ক্যানারি হোয়ার্ফ (Canary Wharf) ইওরোপের উচ্চতম বিলডিং যেখানে মানুষ থাকে। এই ভবনের ওপরাংশ দেখতে পিরামিডের মতো।
৩
লেজেন্ডারি ইটালিয়ান রোমান্টিক জিয়াকোমো ক্যাসানোভা (১৭২৫ - ১৭৯৮) নারী জয় করতে প্রয়োজনীয় যৌনক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে পুরুষদের উপদেশ দিয়েছিলেন ব্রেকফাস্টে পঞ্চাশটি ঝিনুক (অয়েস্টার) খেতে। তবে ক্যাসানোভা জাতীয় প্রেমিকদের কামদৃষ্টি এড়াতে আমেরিকার প্রায় ৫০% নারীদের শালীনভাবে পায়ের ওপর পা রেখে অর্থাৎ ক্রস লেগেড (Cross legged) ভংগিতে বসেন।
৪
১৯৫৯-এ হাওয়াই যোগ দেওয়ার পরে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মোট অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা হয় পঞ্চাশ।
৫
জনপ্রিয় আমেরিকান পপ মিউজিক গায়ক পল সাইমন-এর একটি বিশ্বখ্যাত গানের নাম ‘আপনার প্রেমিককে ছেড়ে দেওয়ার পঞ্চাশটি উপায়’ (Fifty Ways to Leave Your Lover)।
আরেক জনপ্রিয় আমেরিকান গায়ক ফিফটি সেন্ট (50 Cent)-কে মনে করা হয় বর্তমানে তিনি সবচেয়ে ধনী র্যাপ সিংগার।
৬
স্পোর্টসের ক্ষেত্রে, কৃকেটে ৫০ রান করাকে বড় কৃতিত্ব রূপে গণ্য করা হয়। চলমান বিশ্ব কৃকেট কাপ ২০১৫-তে অস্ট্রেলিয়ায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে মুশফিক এবং সাকিব, দুজনই ৫০-এর বেশি অর্থাৎ হাফ-সেঞ্চুরি করে প্রশংসিত হয়েছেন (কংগ্রাচুলেশন্স মুশফিক-সাকিব। কিপ অন ব্যাটিং)।
৭
কানাডার একটি জনপ্রিয় বিয়ারের ব্র্যান্ড নাম ল্যাবাট ফিফটি (Labatt 50)। প্রতিবেশী দেশ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নোবেল বিজয়ী ঔপন্যাসিক উইলিয়াম ফকনার বলেছিলেন, ‘পঞ্চাশ বছর বয়সের আগে কোনো পুরুষের উচিত নয় মদ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা তারপর তার বয়স পঞ্চাশ পেরিয়ে গেলে সে যদি বাড়াবাড়ি না করে তাহলে সে একটা চরম বোকা।’ (A man shouldn't fool with booze until he's fifty; then he is a damn fool if he doesn't.)
৮
দুটি বিকল্পের মধ্যে পারফেক্ট ব্যালান্স বোঝাতে ফিফটি-ফিফটি শব্দ দু’টি ব্যবহার করা হয়।
ফিফটি/ফিফটি (Fifty/Fifty) নামে ১৯৯১-এ মুক্তিপ্রাপ্ত আমেরিকান মুভি জনপ্রিয় হয়েছিল।
৯
পঞ্চাশ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে অন্তত আরো তিনটি হলিউড মুভির নামে। ফিফটি ডেড মেন ওয়াকিং (Fifty Dead Men Walking, ২০০৮), ফিফটি ফার্স্ট ডেটস (50 First Dates, ২০০৪) এবং ফেব্রুয়ারি ২০১৫-তে মুক্তিপ্রাপ্ত বক্স অফিস সুপারহিট মুভির নাম ফিফটি শেইডস অফ গ্রে (Fifty Shades of Grey)। এর আগে নারী লেখক ই.এল জেমস-এর এই নামের হট সেক্সি উপন্যাস বিশ্ব জুড়ে ১০ কোটির বেশি কপি বিক্রি হয়। এই মুভির ডিভিডি এখন ঢাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
১০
বিয়ের পঞ্চাশ বছর পূর্তিকে বলা হয় গোলডেন এনিভার্সারি। কেউ কেউ তখন এই বিয়েটাকে গোলডেন ওয়েডিং-ও বলেন। সাধারণত এই দিনে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে সোনার তৈরি কোনো গিফট দেন।
যে ১টি কারণে সংখ্যা ৫০ বাংলাদেশে হয়েছে কুখ্যাত
প্রায় পাচ হাজার বছর জুড়ে অসাধারণ সুন্দর ও শোভন সব কর্মকাণ্ডে, যেমন, বিভিন্ন অর্জন, গৌরব ও সাফল্যে, কালচার, মুভি, বই ও স্পোর্টসে, পানীয়, প্রেম ও বিয়েতে পঞ্চাশ সংখ্যাটি বিশ্ব বিখ্যাত হলেও ২০১৫-তে বাংলাদেশে এই সংখ্যাটি হয়েছে কুখ্যাত।
এর কারণ?
ম্যাডাম খালেদা জিয়া অন্তত ৫০ রাজনৈতিক নারী-পুরুষ সহকর্মীসহ ৫০ দিন অবরুদ্ধ হয়ে আছেন গুলশানে প্রায় ৫০০০ বর্গফুট বিশিষ্ট একটি দোতলা বাড়িতে। ভবিষ্যতে বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি অসাধারণ চরম মানবতাবিরোধী দুষ্কর্ম রূপে চিহ্নিত হবে। যেমনটি এখন হয়েছে অতীতে সাউথ আফৃকাতে শাদাদের শাসন আমলে রোডেন আইল্যান্ডে কালোদের নেতা নেলসন ম্যানডেলার ২৭ বছর বন্দি থাকার ঘটনাটি।
কিন্তু বর্তমানে অবরুদ্ধ ওই ৫০-ঊর্ধ্ব সংখ্যক ব্যক্তি কিভাবে তাদের দুঃসহ ৫০ দিন পার করেছেন সে বিষয়ে বাংলাদেশের পাঠকরা খুব কমই জানতে পেরেছেন।
এর কারণ?
আওয়ামী সরকারের অলিখিত এবং অঘোষিত সেন্সরশিপের ভয় মিডিয়াকে পূর্ণ গ্রাস করেছে।
বাংলাদেশে একদলীয় শাসন দূরীকরণ এবং বহুদলীয় শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ সর্বদলীয় সাধারণ নির্বাচনের দাবিতে ম্যাডাম খালেদা জিয়া যে আন্দোলন শুরু করেছেন তারই ধারাবাহিকতায় ৩ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে তিনি ও তার সহকর্মী সহযোদ্ধারা গুলশানের ৮৬ নাম্বার রোডের ৬ নাম্বার বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকার হাফ সেঞ্চুরি বা ৫০ দিন পূর্ণ করেছেন রাত ৮.২৫, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫-তে। আর তার ফলে ২০১৫-র ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মাঝ রাতে খালেদা জিয়া যেতে পারেননি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে।
দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠা সবার কর্তব্য
এই বাড়িতে খালেদা জিয়া তার অফিস কখন থেকে শুরু করেন সেটা জানার আগে ফিরে যেতে হবে ১১ জানুয়ারি ২০০৭-এ মেজর জেনারেল মইন ইউ আহমেদের তথাকথিত ওয়ান-ইলেভেন ক্যুর ঘটনাকালে। ওই সময়ে ৭ মার্চ ২০০৭-এ খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টে তার বাড়িতে জীবনে প্রথমবার অন্তরীণ হয়েছিলেন। এর প্রায় ছয় মাস পরে ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ জেনারেল মইন অনুগত সেনারা তাকে গ্রেফতার করে সংসদ ভবন সংলগ্ন দ্বিতীয় সাবজেলে নিয়ে যায়। প্রথম সাবজেলে কিছুকাল ছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। তখন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এডভোকেট শিমুল বিশ্বাস, সাংবাদিক-লেখক মারুফ কামাল খান এবং এই রচনাটির লেখক, গোপন তৎপরতা চালিয়ে যান। এদের সহযোগিতা করেন গোয়েন্দা বিভাগীয় জনৈক দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা যিনি মইন-ফখরুদ্দীন সরকারের বিদায়ের পর নিজেও বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান নিরাপত্তার কারণে। তবে এই প্রচেষ্টায় এই লেখক শেখ হাসিনার মুক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং তার প্রচেষ্টার আপডেট শেখ হাসিনাকে পৌছে দেয়ার জন্য তিনি আওয়ামী পন্থী একটি দৈনিকের সম্পাদককে অনুরোধ করেছিলেন। সম্পাদক সেই অনুরোধ রক্ষা করেছিলেন। এই লেখক তখন উভয়কেই সাহায্য করতে চেয়েছিলেন, তার কারণ ছিল, তিনি মনে করতেন এবং এখনো মনে করেন, একটা ভালো সেনাতন্ত্রের চাইতে একটা খোড়া গণতন্ত্র ভালো এবং একটা ভালো গণতন্ত্র বাংলাদেশে আনার জন্য দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠা সবার কর্তব্য।
এক বছরের বেশি সময় সাবজেলে থাকার পরে ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৮-এ খালেদা জিয়া মুক্ত হন।
সেদিনই বিকেল থেকে তিনি এই লেখকের বাড়ি, ১৫ ইস্কাটন গার্ডেনসে, তার অফিশিয়াল কাজকর্ম শুরু করেন। খালেদা জিয়া নিয়মিত ইস্কাটন অফিসে আসতেন তার ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে। কিন্তু এই যাত্রাপথটি ছিল ঝুকিপূর্ণ। কারণ এয়ারপোর্ট রোডের দুই পাশে বহুতলবিশিষ্ট ভবনগুলো এবং এই পথে ফার্মগেইট ও বাংলা মোটরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ফুটওভার বৃজগুলো ছিল সিকিউরিটি রিস্ক। এসব ভবনের ছাদ বা উচু তলা অথবা ফুটওভার বৃজ থেকে কোনো স্নাইপার বা শার্প শুটার অঘটন ঘটাতে পারতো যেমন ১৯৬৩-তে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি নিহত হয়েছিলেন ডালাস-এ একটি বহুতল বিশিষ্ট ভবন, টেক্সাস স্কুল বুক ডিপজিটরি (ডাল-টেক্স বিলডিং) থেকে আততায়ীর গুলিতে। এই বিলডিংয়ে এই লেখক গিয়েছিলেন এবং জেনেছিলেন সেই রকম রিস্ক সম্পর্কে।
তাই ম্যাডাম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাকর্মীরা স্থির করেন তার অফিস ১৫ ইস্কাটন গার্ডেনস থেকে তুলনামূলক নিরাপদ স্থানে ট্রান্সফার করতে হবে। মারুফ কামাল খান, শিমুল বিশ্বাস, সেই লেখক এবং আরো কয়েকজন (যারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বাড়ি খোজা শুরু করেন।
একটি বিষয়ে এরা সবাই একমত ছিলেন যে ম্যাডাম জিয়ার নতুন অফিস ভবনের কোনো নাম থাকবে না। এর আগে বনানীতে তার অফিসের নাম ‘হাওয়া ভবন’ যে নাম সেখানে তার অফিস করার আগেই ছিল বেশ বিব্রতকর হয়েছিল। তাই বাড়ি খোজাখুজির এক পর্বে বনানীর এগারো নাম্বার রোডে কুইন্স ইউনিভার্সিটির ছেড়ে দেওয়া ভবনটি উপযুক্ত হলেও সেটা ভাড়া নেওয়া হয়নি কুইন্স শব্দটির জন্য।
পরিশেষে গুলশানের ৮৬ নাম্বার রোডের ৬ নাম্বার বাড়িটি নির্বাচিত হয়। এই বাড়ির কোনো নাম ছিল না এখনো নেই। এটির টেনান্ট ছিলেন ইজিপ্টের তদানীন্তন রাষ্ট্রদূত। তিনি চলে যাবার পর এটি ডেভেলপারকে দিতে চেয়েছিলেন বাড়ির মালিক দুই ভাই, যাদের প্রয়াত পিতা ছিলেন বিএনপির এমপি। এই দুই ভাইয়ের সুবিবেচনা এবং আনুকূল্যে দোতলা ভবনটি হয় ম্যাডাম জিয়ার নতুন অফিস ভবন। ইজিপশিয়ান রাষ্ট্রদূত চলে যাবার পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বাড়িটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। ডেভেলপাররা বাড়ির সামনের দিকে পাইলিংয়ের জন্য কিছু খোড়াখুড়ি শুরু করেছিলেন। এই বাড়িটিকে বাসযোগ্য এবং অফিসযোগ্য করার দায়িত্ব নেন ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুর রহমান (খাই ত্রাণ দেই রুল নামে জনৈক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির ভাষায় ‘বাইচান্স সম্পাদক’ মাহমুদুর রহমান এবং যে বিচারপতি চলমান বহু সংকটের জন্য অন্যতম দায়ী ব্যক্তি)।
ধীরে ধীরে বাড়িটি পরিচ্ছন্ন ও সজ্জিত হয়। সব রুমে নয় কয়েকটি রুমে এয়ারকন্ডিশনার বসানো হয়। হাওয়া ভবনে ফেলে আসা ও নষ্ট হয়ে যাওয়া ডিজেল জেনারেটরটি এনে মেরামত করা হয় এবং লোডশেডিংকে কিছু সময়ের জন্য সামাল দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পুরনো ফার্নিচার ও ম্যাডাম জিয়ার অফিস রুমের জন্য পুরনো কার্পেট আনা হয়। সব রুমে লেমন ও ডিপ ইয়েলো রংয়ের কম্বিনেশনে সাধারণ পর্দা টানানো হয়। চারটি ছোট টিভি সেট আনা হয় দোতলার জন্য দুটি এবং নিচতলার জন্য দুটি। সারা বাড়িতে একটি ছোট কিচেন করা হয়। নিচতলায় এই কিচেনে শুধু চা-কফি তৈরি এবং পিরিচ-পেয়ালা-চামচ ধোবার ব্যবস্থা করা হয়। এই কিচেনে দৈনন্দিন রান্নার ব্যবস্থা হয়নি ডেইলি ৫০ ঊর্ধ সংখ্যক মানুষের রান্না সেখানে অসম্ভব।
নভেম্বর ২০০৮-এর শেষ সপ্তাহ থেকে, অর্থাৎ ডিসেম্বর ২০০৮-এর নির্বাচনের সপ্তাহ পাচেক আগে থেকে গুলশানের এই বাড়ি ম্যাডাম জিয়ার অফিস রুমে কার্যকর হয়। ওদিকে পল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সেক্রেটারি জেনারেল ও অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মীদের কাজ শুরু হয়।
উচ্ছেদ বাহিনীর হাস্যকর অজ্ঞতা
ম্যাডাম জিয়া তার একটি নিজস্ব অফিস পেয়ে খুশি হন এবং তখন থেকে শুধু সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিনই সন্ধ্যাবেলায় তিনি এই অফিসে আসা শুরু করেন। প্রথমে তিনি আসতেন ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে বনানী কাকলি রেল ক্রসিং পেরিয়ে সোজা কামাল আতাতুর্ক রোড ধরে গুলশান দুই নাম্বার গোল চত্বর পেরিয়ে।
২৯ ডিসেম্বর ২০০৮-এর নির্বাচনে বিএনপির পরাজয়ের পরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ম্যাডাম জিয়াকে তার চার দশকের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য বদ্ধপরিকর হয়। এই অন্যায় প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে মামলা চলার এক পর্যায়ে অনুগত আওয়ামী (সংক্ষেপে অ আ) বাহিনীর একাংশ ১৩ নভেম্বর ২০১০-এর বিকেলে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করে। সেদিন খালেদার নিজের থাকার কোনো বাড়ি ছিল না।
উচ্ছেদকারী অ আ বাহিনীর সদস্যরা জানতো না কোন রুটে এবং কোথায় খালেদা যাবেন। আমেরিকান মুভির চেইজ Chase স্টাইলে খালেদার নির্দেশে তার অভিজ্ঞ ড্রাইভার সেদিন বহু ট্রেইনিং ও বহু সুবিধাপ্রাপ্ত উচ্ছেদকারী অ আ বাহিনীর ধাওয়াকারী একাধিক গাড়ির কনভয়কে দ্রুত পরাজিত করে বিকেলে গাড়ি নিয়ে হাজির হন গুলশানের এই অফিস বাড়িতে। সেই সময়ে মাত্র দুটি ক্যারিয়ার ব্যাগসহ (একটিতে ওষুধ এবং আরেকটিতে অতি প্রয়োজনীয় টয়লেটৃজ) ম্যাডাম জিয়াকে রিসিভ করেন মারুফ কামাল খান এবং এই লেখক।
খালেদা জিয়াকে অবৈধ, অমানবিক, অশালীন এবং অসভ্যভাবে তার চার দশকের বাড়ি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তারপরে তার চরিত্র হনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আওয়ামী সরকার কয়েক দিন ব্যাপী মিডিয়া ক্যামপেইন চালিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় যে তিনি সেখানে বিলাসী জীবন যাপন করতেন। বাস্তবটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। খালেদা জিয়া শৈশবকাল থেকে উচ্চ মধ্যবিত্ত ঘরে মানুষ হয়েছিলেন (যেটা তার প্রতিপক্ষ হননি) এবং তার ফলে বড় বাড়ি ও বিলাসসামগ্রী বিষয়ে তার আগ্রহ কখনোই ছিল না। ওই চরিত্র হনন প্রপাগান্ডায় দেখানো হয়েছিল খালেদার বাড়ির ফৃজ থেকে রেড এবং হোয়াইট ওয়াইনের দুটি বটল পাওয়া গিয়েছে। যারা ওয়াইন খান তারা জানেন, সাধারণত হোয়াইট ওয়াইন ঠাণ্ডা খাওয়া হয় এবং তাই সেটা খোলার আগে কিছুক্ষণ ফৃজে রেখে অল্প ঠাণ্ডা অর্থাৎ চিলড (Chilled) করে সার্ভ করা হয়। আর রেড ওয়াইন খাবার আগে কর্ক খুলে রুম টেমপারেচারে রাখা হয় এবং কখনোই ঠাণ্ডা খাওয়া হয় না। বরং কেউ কেউ মাইক্রোওয়েভে একটু গরম করে রেড ওয়াইন খেতে ভালোবাসেন। ওয়াইন প্রসঙ্গে একটু তথ্য দিলাম এই জন্য যে ভবিষ্যতে যদি খালেদাকে তার অফিস এবং বর্তমান আবাসস্থল থেকে আবারও উচ্ছেদ করা হয় তাহলে পাঠকরা অবশ্যই যেন সেকেন্ড রাউন্ড চরিত্র হনন সম্পর্কে প্রস্তুত থাকেন। এখানে পাঠকদের মনে পড়বে, পল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে গোপালিশ বাহিনীর হামলার পরে সেখানে কম্পিউটার ধ্বংস করা হয়েছিল এবং তাজা বোমা পাওয়ার দাবি করা হয়েছিল। সুতরাং অ আ বাহিনী আবারও যদি উচ্ছেদ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় তাহলে গুলশান অফিসের কম্পিউটার ধ্বংস করা হতে পারে এবং বোমাও পাওয়া যেতে পারে। আওয়ামী প্রচারণা প্রতিভা হয়তো আবিষ্কার করবে জঙ্গি বিএনপির গুলশান অফিসের ছাদে নিউক্লিয়ার রকেট এবং ড্রোন এয়ারক্রাফট রেডি ছিল। আমি অ আ উচ্ছেদ বাহিনীকে উপদেশ দেব তারা যেন ওভারকিল না করেন। ওয়াইন বটলের মতো ভুলের পুনরাবৃত্তি না করেন ককটেল বোমা অথবা পেট্রলবোমার পরিবর্তে অতি উৎসাহী উচ্ছেদ বাহিনী যেন গুলশান অফিসে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভার ড্রোন বা রকেটলঞ্চার স্টক না দেখিয়ে দেয়। আর হ্যা, ওয়াইন বটল রাখলে, এবার শস্তা অস্ট্রেলিয়ান ওয়াইন না রেখে দামি ফ্রেঞ্চ ওয়াইন, মার্লো (রেড) এবং শাবলি (হোয়াইট) রাখবেন। তাতে অ আ বাহিনীর পরিচালকদের শিক্ষা ও রুচিবোধ জানা যাবে।
বাই দি ওয়ে, ১৩ নভেম্বর ২০১০-এ খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করার পরে সেখানে পাওয়া আমার হাতে লেখা একটি চিঠির কপি উচ্ছেদ বাহিনী প্রকাশ করেছিল। এই চিঠি ছিল অক্টোবর ২০০১-এর নির্বাচনের আগে ম্যাডামকে তার ভাষণ সম্পর্কিত আট-দশ লাইনের সাজেশন। এখন আমি সম্ভাব্য উচ্ছেদ বাহিনীকে অনুরোধ করবো আমার কোনো লেখা বের করার জন্য সময় নষ্ট না করতে। কারণ, আমার বিবেচনায় অক্টোবর ২০০১-এর পর বাংলাদেশে যেসব সাধারণ নির্বাচন হয়েছে তার ফলাফল পূর্বনির্ধারিত ছিল এবং সেসব নির্বাচন বিষয়ে আগাম সাজেশন দেওয়া পণ্ডশ্রম হতো। তাই কোনো চিঠি আমি আর লিখিনি। সরি, ফোকস।
মনের মতো বাড়ি
গুলশান অফিসে কাজ শুরু করার পরে ধীরে ধীরে ম্যাডাম জিয়া তার নিজের রুচি অনুযায়ী ওপরতলায় কার্টেইন, কার্পেট, ফার্নিচার ও লাইটসও বদলানো শুরু করেন। প্রথমে তিনি থাকতেন গুলশানে লেইক শোর হোটেলের কাছে তার ভাইয়ের ফ্ল্যাটে। অর্থাৎ, গুলশানের অফিসটাই ছিল তার ব্যক্তিগত স্থান। সুতরাং ব্যক্তিগত আবাসস্থল না পাওয়া পর্যন্ত গুলশান অফিসই হয় তার বাড়ি যেখানে তিনি দীর্ঘ রাত পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিটিং করতেন এবং মাঝে মাঝে রেস্ট রুমে একটি ছোট ডিভানে রেস্ট নিতেন। নতুন নীল রংয়ের কার্টেইন, শাদা কার্পেট এবং একাধিক টেবিল ল্যাম্পে তিনি গুলশান অফিস সাজান। ফার্নিচার হয় কিছুটা হেভি। দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মিটিং রুমে টিক ও গ্লাসের চার কোনা সেন্টার টেবিলটা হয় বেশ বড়। এখানে প্রতিদিন ফ্রেশ ফ্লাওয়ারের আগমন হতে থাকে। ম্যাডামের খাস অফিস রুম, যেটা ছোট, সেখানেও সেন্টার টেবিলে নিয়মিত ফ্রেশ ফ্লাওয়ারের ব্যবস্থা হয়। তার এই দুটি রুমের কার্পেট হয় শাদা রংয়ের, যে রংটি তার সবচেয়ে প্রিয়। শ্যান্ডলিয়ের বা ঝাড়বাতি এবং উগ্র বাতি ম্যাডামের অপ্রিয়। তার হবি হচ্ছে টেবিল ল্যাম্প কালেকশন যেখানে শেডের নিচ থেকে নম্র আলো ছড়িয়ে পড়ে রুমে। ক্যান্টনমেন্ট থেকে উচ্ছেদ হবার সময়ে ম্যাডামের দুশ্চিন্তা ছিল তার কালেকশনের টেবিল ল্যাম্পগুলোর কি হবে এবং শাদা কার্পেটের কি দুরবস্থা হবে, গুলশান অফিসে ম্যাডামের মিটিং এবং অফিস রুমে কার্পেটের শাদা রং রক্ষার জন্য কিছু অংশে ট্রান্সপারেন্ট প্লাস্টিক কভার দেওয়া হয় এবং অতিথিদের অনুরোধ করা হয় জুতা খুলে ঢুকতে।
ওপরতলায় ম্যাডাম জিয়া যে রুমে স্ট্যানডিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে মিটিং করেন, সেখানে কনফারেন্স টেবিলের মাঝখানে মিনি পাম টৃর চারা আছে। মিটিংয়ের সুবিধার্থে সেখানে কোনো ফ্লাওয়ার ভাস (Vase) রাখা হয় না।
দোতলার দুটি দেওয়ালে ম্যাডাম তার প্রয়াত স্বামীর ফটো স্থাপন করেন এবং তার পাশেই তার নিজের দুটি ফটোও স্থাপিত হয়। এ ছাড়া অন্য স্থানে তার দুই ছেলে, তারেক ও আরাফাতের ছবিও স্থাপিত হয়। ২০০৯ এবং ২০১০-এ মিডিয়াতে অতি সমালোচিত তারেক ও আরাফাতের ছবি তখন অফিসে স্থাপন করাটা ছিল ম্যাডামের দৃঢ় ইচ্ছার প্রতিফলন। বিএনপির কিছু শীর্ষ নেতা এবং কর্মী, তাদের মতে সঙ্গত কারণেই, চাননি তার দুই ছেলের ছবি অফিসে টাঙ্গানো হোক। গুলশান অফিসে গুঞ্জরিত হতে থাকে কেন ম্যাডাম তার দুই ছেলের ছবি অফিসে টাঙ্গালেন? বিদেশি অতিথিরা, বিশেষত যারা ডেইলি স্টার পড়ে আসেন তারা অফিসে এসে দুই ‘ভিলেইনে’র ছবি দেখবেন? কিন্তু তারা কেউই সাহস করে তাদের আপত্তি ম্যাডামকে জানাতে পারেননি।
প্রসঙ্গটি একদিন সবিনয়ে উত্থাপন করায় ম্যাডাম জিয়া উত্তর দিয়েছিলেন, ‘ওনার (জিয়ার) মৃত্যুর পর থেকে আমি আমার এই দুই ছেলে, তাদের বৌ আর নাতনিদের নিয়েই বাড়িতে ছিলাম। বাড়িতে তাদের ঘিরেই ছিল আমার জীবন। তারা কেউই আজ আমার পাশে নেই। তাদের সবাইকে বিদেশে থাকতে হচ্ছে। এখন গুলশানের এই ঠিকানাই আমার অফিস এবং বাড়ি দুটিই। তাই এই ভবনটি আমি সাজিয়েছি। এখানেই তো আমি বেশির ভাগ সময় কাটাচ্ছি। কিন্তু ওরা কোথায়? ওরা আছে। দেওয়ালে ছবির মধ্যে আছে। ওদের দেখলে কিছুটা শান্তি পাই।’
খালেদা জিয়ার প্রতিপক্ষ নেত্রী সিমপ্যাথি পলিটিক্স বা সহানুভূতি আদায়ের রাজনীতিতে পারদর্শী, অশ্রু বিসর্জনে পটিয়সী এবং সহমর্মিতা অর্জনে পরিশ্রমী। খালেদা জিয়ার চারিত্রিক অবস্থান এর সম্পূর্ণ বিপরীতে। তিনি ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক কথা খুব কম বলেন। আর তাই গুলশানের অফিসে দুই ছেলের ছবি টাঙিয়ে তাদের প্রতি এক মায়ের শাশ্বত টানের আর কোনো ব্যাখ্যা খালেদা তার দলীয় নেতাকর্মীদের দেননি।
এই প্রসঙ্গটি এখানে উল্লেখের কারণ হলো, সম্প্রতি শেখ হাসিনা একাধিকবার প্রকাশ্যে প্রশ্ন করেছেন, উনি (খালেদা জিয়া) কেন অফিসে থাকেন? উনি কেন গুলশান অফিস ছেড়ে নিজের বাড়িতে যাচ্ছেন না?
আশা করি শেখ হাসিনা এখন বুঝবেন, গুলশানের অফিস, খালেদার শুধু অফিসই নয় বাড়িও বটে। তা ছাড়া খালেদা কোন গৃহে কখন থাকবেন সেটা নির্দেশ দানের ক্ষমতা তার নেই। বরং শেখ হাসিনা এটা ভেবে খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ জানাতে পারেন যে কেন তিনি (খালেদা) দাবি তোলেন নি যে, অনির্বাচিত ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও হাসিনা কেন গণভবন ছেড়ে সুধা সদনে যাচ্ছেন না। কারণ গণভবন তার অফিসও নয় বাড়িও নয়।
লেইক শোরের ফ্ল্যাট থেকে পরে খালেদা জিয়া গুলশানের ৭৯ নাম্বার রোডের ১ নাম্বার বাড়ি থেকে স্বল্প দূরে ৮৬ নাম্বার রোডের ৬ নাম্বার বাড়িতে এই অফিসে যাতায়াত শুরু করেন।
এভারেস্টের চাইতেও বড় মিথ্যাবাদী
অবরোধের ৫০ দিনের প্রথম পর্যায়ে গুলশানে রোড ৮৬-র বিভিন্ন স্থানে ইট ও বালির একাধিক ট্রাক এবং অ আ বাহিনীর জলকামান এনে খালেদা জিয়ার অফিসের চারদিকে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। আওয়ামী নেতারা তখন টিভিতে বারংবার বলতে থাকেন, খালেদা প্রায়ই তার অফিসে ও বাড়িতে মেরামতের কাজ করান। এ জন্যই এই ট্রাকগুলো সেখানে এসেছে এবং এ সব ট্রাক সেখানে উপস্থিত হওয়ার দায়-দায়িত্ব তাদের নয়।
কিন্তু টিভিতে ওইসব ইট ও বালির ট্রাক ড্রাইভাররা তাদের ইন্টারভিউতে বলেন, বনানীর কাছাকাছি থেকে অ আ বাহিনীর নির্দেশে তাদের গুলশানে নিয়ে আসা হয় এবং এ জন্য তারা কোনো ভাড়া অথবা পারিশ্রমিক পাননি। তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন তারা খাবার ও পানি পাবেন কিনা সে বিষয়ে।
এভারেস্টেরও উচ্চতার পরিমাপ সম্ভব। কিন্তু আওয়ামী নেতাদের মিথ্যা কথনের কোনো পরিমাপ সম্ভব নয়।
কিভাবে ৫০ দিন কেটেছে
৩ জানুয়ারি ২০১৫-তে খালেদা জিয়া জানতেন না যে গুলশানের এই বাড়িতেই তাকে অবরুদ্ধ হতে হবে এবং পঞ্চাশ দিন কাটাতে হবে।
কিভাবে তার এই দিনগুলো কেটেছে এবং কাটছে?
এখানে প্রকাশিত গুলশান অফিস ভবনটির দুই তলার ফ্লোর চার্ট প্রকাশিত হলো। বলা বাহুল্য, সেখানে এই সময়ে কোনো আর্কিটেকটকে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই আমার স্মৃতি থেকে যতোটা সম্ভব ওই ভবনের ফ্লোর প্ল্যান আমি বুঝিয়ে দেই জনৈক তরুণ আর্কিটেকটকে (বর্তমানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)। আমার বর্ণনার ভিত্তিতে এই তরুণ আর্কিটেকট (মেনি থ্যাংকস) ফ্লোর প্ল্যানটি একেছেন। ফলে কিছু ভুলভ্রান্তি এখানে থেকে যেতে পারে।
তা সত্ত্বেও এই ফ্লোর প্ল্যান থেকে পাঠকরা বুঝবেন একটানা ৫০ দিন মাত্র প্রায় ৫০০০ স্কোয়ার ফিটের একটি বাড়িতে ৫০ ঊর্ধ্ব সংখ্যক ব্যক্তির অবরুদ্ধ হয়ে থাকাটা কতো কঠিন।
নিচ তলা : গ্রাউন্ড ফ্লোর প্ল্যান
টিভি দর্শকরা সাধারণত বন্ধ মেইন গেইটের ছবি দেখতে পান। এটি অ আ বাহিনী বা অনুগত আওয়ামী বাহিনী (গোটা পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনীকে দায়ী করা অনুচিত হবে) বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রেখেছে। সাধারণত ভিজিটররা ছোট গেইট দিয়ে ভবনের প্রাঙ্গনে ঢোকেন। এই ছোট গেইটের বাইরে অনুগত আওয়ামী বাহিনী খাতাপত্র নিয়ে বসে আছে। কে ভেতরে গেল এবং বাইরে এল এসব তারা খাতায় লেখে। কেউ পানি অথবা খাবার নিয়ে গেলে এরা বাধা দেয় এবং ‘ওপরের নির্দেশ আছে’ বাক্যটি উচ্চারণ করে সাধারণত ভদ্রভাবে আগন্তুকদের ফিরিয়ে দেয়। তবে বেবি নাজনীনের মতো সেলিবৃটি হলে তাকে গুলশান থানাতেও নিয়ে যেতে পারে। এত কাছে থেকে বেবি নাজনীনের মতো নিরপেক্ষ নন এমন সেলিবৃটিকে দেখার সুযোগ অ আ বাহিনী হাতছাড়া যে করতে চায় না তাতে অবাক হবার কিছু নেই।
৩ জানুয়ারি ২০১৫তে অবরুদ্ধ হবার আগে খালেদা জিয়ার শাদা নিসান গাড়ি মেইন গেইট দিয়ে ঢুকতো এবং বেরুতো। এই গাড়ি গারাজে নয় কার পার্কে থাকে। মেইন গেইট দিয়ে ঢোকার পরে ডান দিকে পরিত্যক্ত গারাজে বসানো হয়েছে ডিজেল জেনারেটর যার কথা আগেই বলেছি। এটি পাওয়ারফুল জেনারেটর এবং এটা দিয়ে পুরো ভবনের সব এসি, লাইট ও কম্পিউটার চালু রাখা সম্ভব।
গাড়ি পার্কিং প্লেস থেকে তিন সিড়ি ওপরে রিসেপশন বারান্দা। এখান থেকে ম্যাডাম জিয়া ঘোরানো সিড়ি দিয়ে ওপরে যান। ম্যাডামের হাটুর সমস্যা থাকায় সিড়িতে উঠতে তার কিছুটা অসুবিধা হয়। তাই অন্য নেতা-কর্মী, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকদের সঙ্গে মিটিং নির্ধারিত থাকলে তিনি ওপর তলায় না উঠে, সরাসরি নিচতলার বৈঠকরুমে বসেন। এই রুমে একটা ছোট কাঠের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। তবে সেখানে সাধারণত ম্যাডাম বসেন না।
এই রুমে একটি সার্কুলার টেবিল আছে যার চারপাশে বিশিষ্ট অতিথিরা বসেন। এই রুম ও তার পাশের রুমের দেওয়াল ভেঙ্গে কাঠের ফ্লেক্সিবল পার্টিশন করা হয়েছে। ফলে পাশের রুমে সব টিভি ক্যামেরা ও টিভি কর্মীদের সংকুলান হয়। টিভি ক্যামেরা রুমের পেছন দিকে একটা ছোট দরজা আছে। এই দরজার অবস্থানটি জেনে নিলে অ আ বাহিনীর সম্ভাব্য আকস্মিক আক্রমণের সময়ে সাংবাদিক ও ক্যামেরা ক্রুরা দ্রুত প্রস্থান করতে পারবেন।
নিচ তলায় আছে আরো দুটি রুম। একটিতে বসেন অফিসের প্রশাসনিক কাজের দায়িত্বে নিয়োজিত সাবেক ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (আইজিপি) আবদুল কাইয়ুম। যিনি ছাত্রকালে ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন এবং প্রগতিশীল রাজনীতি করতেন। তার বিশেষ গর্ব, তার আইজিপি থাকাকালে তিনি ক্রসফায়ার জাতীয় অবৈধভাবে কাউকেই মৃত্যুমুখে ঠেলে দেননি। আর্থিকভাবে সৎ বলে তার সুখ্যাতি আছে। খুব দুঃখজনক বিষয় যে তার সভ্য, মানবিক আচরণ, নৈতিকতা এবং আর্থিক সততা পরবর্তীকালে তার উত্তরাধিকারদের মধ্যে খুব কম দেখা গেছে।
২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত আপাত স্বাভাবিক সময়ে কাইয়ুম আসতেন উত্তরায় তার বাড়ি থেকে। এখন ৩ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে তিনি গুলশানে অবরুদ্ধ আছেন এবং সেই ভবনটির সার্বিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি খুব লো প্রোফাইলে থাকতে পছন্দ করেন। তাই টিভি দর্শকরা খুব কমই তাকে দেখেছেন। তাহলে একজন আইজিপি কাইয়ুমের কোনো দোষই কি নেই?
হ্যা, আছে। তিনি ধূমপান করেন তবে কম এবং লাইট নিকোটিনের সিগারেট।
এই রুমে তার পাশে বসতেন সাবেক আমলা ও রাষ্ট্রদূত সাবিহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বিএনপির ফরেইন এফেয়ার্স কমিটির সক্রিয় সদস্য।
১০ জানুয়ারিতে তার শাদা ড্যাটসান মোটরকার দুর্বৃত্তরা গুলশান অফিসের কাছেই পুড়িয়ে দেয়।
বৃটিশ হাইকমিশনার মি. রবার্ট গিবসন যখন অবরুদ্ধ ম্যাডাম জিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন, তখন, সাবিহউদ্দিন তার সঙ্গে গুলশান অফিসে যান। কিন্তু তিনি ফিরে আসতে পারেন নি। দুই দিন অফিসে তিনি অবরুদ্ধ ছিলেন। এখন তিনি মিডিয়া-ফোকাস থেকে দূরে আছেন।
একইভাবে স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য মি. নজরুল ইসলাম খান যখন সফরকারী ইওরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যদের নিয়ে যান ম্যাডাম জিয়ার সঙ্গে দেখা করাতে, তখন তিনিও আটকে যান এবং এই লেখার সময় পর্যন্ত তিনিও সেখানে অবরুদ্ধ আছেন।
এই রুমে আরো বসেন (ডেস্ক শেয়ার করে) ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন। উদ্যমী এবং উদ্যোগী এই তরুণ ইঞ্জিনিয়ারকে এখানে নিয়োগ দিয়েছিলেন মাহমুদুর রহমান। দুই যমজ শিশু কন্যা সন্তানের পিতা জসিমও অবরুদ্ধ আছেন এই ভবনে যাদের কথা তিনি আমাকে প্রায়ই বলতেন। তিনি তার দুই নয়নমনি ও স্ত্রীকে ছেড়ে গুলশান অফিসের ইঞ্জিনিয়ারিং দিক (কম্পিউটিং, জেনারেটর, এসি, ওয়াটার সাপ্লাই) প্রভৃতি দিক সচল রাখছেন। এ ছাড়া এই রুমে আছেন কমপিউটার অপারেটর হুমায়ুন কবির। নিচতলার এই রুমে দুজন অতিথি বসতে পারেন। বলা বাহুল্য অনেক অতিথি এখানে আসেন যার ফলে অনেক অফিশিয়াল কাজ বিঘিœত হয়। অ আ বাহিনী যদি গুলশান অফিস এটাক করে তাহলে হুমায়ুনের কম্পিউটার থেকে আওয়ামী মস্তিষ্কপ্রসূত বিভিন্ন “সাংঘাতিক ইসলামী জেহাদি এবং দেশদ্রোহিতামূলক” ই-মেইল ইত্যাদি আবিষ্কৃত হবে এবং সেসব নিরপেক্ষ টিভিতে ভবিষ্যতে প্রচারিত হতে পারে। ভিউয়ার্স, ইউ হ্যাভ বিন ওয়ার্নড!
গুলশান অফিসের প্রেস বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মারুফ কামাল খানের খুব ছোট অফিসটি নিচ তলায় অবস্থিত। এখানে ঠাসাঠাসি করে সর্বোচ্চ পাচ অতিথি বসতে পারেন। একটা সচল ছোট টিভি এবং একটা অচল ফটো কপিয়ার আছে এই রুমে। আর আছে মারুফ কামাল খানের বেনসন অ্যান্ড হেজেস নিঃসৃত ধোয়া, যেটা তার জন্য খারাপ, তার গেস্টদের জন্যও খারাপ। পঞ্চাশ দিন একটানা অবরুদ্ধ থাকার ফলে খালেদা জিয়ার পরেই সবচেয়ে বেশি হেলথ রিস্কে আছেন মারুফ কামাল খান। গত তিন বছরে বিভিন্ন চিকিৎসার জন্য ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে বহুবার এবং সিংগাপুরে দুইবার তাকে থাকতে হয়েছিল।
এ ছাড়া নিচের তলায় কাজ করেন প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার এবং অন্যান্য স্টাফ। এদের সবার জন্য এই ফ্লোরে আছে দুটি টয়লেট। এই ফ্লোরে হাটাহাটির জায়গা বলতে আছে চার অথবা পাচ ফিট চওড়া একটা ছোট করিডোর।
দোতলা : ফার্স্ট ফ্লোর প্ল্যান
এবার আমার সঙ্গে চলুন ঘোরানো সিড়ি বেয়ে দোতলায়।
দোতলায় উঠলে ডান দিকে দেখবেন চেয়ারপার্সনস সিকিউরিটি ফোর্স, সংক্ষেপে সিএসএফ (CSF) -এর রুম। ম্যাডাম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা সমন্বয়কারী সাবেক সেনা কর্মকর্তা সুদর্শন আবদুল মজিদ ও তার সহকর্মীরা এই রুমে থেকে সিকিউরিটি মনিটরিং স্কৃনে নজর রাখেন বাড়ির ভেতরে এবং বাইরে কি হচ্ছে। সিএসএফ-এর এই রুমটি গাড়ি পার্কের ঠিক ওপরে আগে এটি ছিল এই বাড়ির একমাত্র বারান্দা বা ব্যালকনি। পরে থাই গ্লাস দিয়ে ব্যালকনিকে পরিবর্তিত করা হয় রুমে। ফলে গ্রীষ্মকালে রুমটি খুব গরম হয়ে যায়।
এই রুমের বিপরীতে আছে স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং রুম। এখানে একটি সার্কুলার টেবিলের চারপাশে বসেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা। সাধারণত এই রুমটি ব্যবহার করেন বিশিষ্ট অতিথিরা এবং বিএনপির নেতারা ওয়েটিং রুম রূপে। এখান থেকে তাদের ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় ম্যাডাম জিয়ার অফিস রুমে।
এই রুমের পরে আছে একটি অফিস রুম যেটা প্রথমে নির্ধারিত হয়েছিল এই লেখক, মাহমুদুর রহমান এবং সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরীর জন্য। শেষোক্ত দুজন এখন জেলবন্দি। এখন এই লেখকের ডেস্কটি ব্যবহার করছেন চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এ ছাড়া এই রুমে আট জন অতিথি বসার স্টিল ফার্নিচার আছে।
এই রুমের বিপরীতে একটি ছোট রুমে আছে কিছু কম্পিউটার ও ইন্টারনেট কানেকশন। এই রুমটি কদাচিৎ ব্যবহৃত হয়। এসব রুমের শেষ প্রান্তে আছে একটি টয়লেট।
স্ট্যান্ডিং কমিটি রুমের পরে আছে আরেকটি অফিস রুম যেখানে বসেন ম্যাডামের সহকারী (জিয়াউর রহমানের ভ্রাতুষ্পুত্র) ডিউ। এই রুমে আছে কয়েকটি ফাইলিং ক্যাবিনেট। আর আছে একটি এটাচড টয়লেট।
এর পরেই আছে বিশিষ্ট অতিথিদের মিটিং রুম যেখানে ঢুকতে হয় লবি থেকে সরাসরি। ঢোকার আগে সিএসএফ সদস্যদের কাছে রেখে দিতে হয় ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন। এই ডিগনিটারি রিসেপশন রুমের ছবি সাধারণত দর্শক পাঠকরা দেখেন। ম্যাডাম খালেদা জিয়া এই রুমে রিসিভ করেন দেশ বিদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের, যেমন রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি ডেলিগেটদের। এই রুমের দেওয়ালে প্রেসিডেন্ট জিয়ার ও ম্যাডাম খালেদার ছবি ছাড়াও আছে বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকার কিছু অয়েল পেইনটিং। আর আছে বাংলাদেশ ও বিএনপির ফ্ল্যাগ।
এই ফ্লোরে কোনো কিচেন বা কুকিং স্পেইস নেই। ফলে অতিথিদের চা-কফি-স্ন্যাকস সার্ভ করতে হয় নিচতলা থেকে সযতেœ ওপর তলায় এনে। এই কাজটি করেন স্বপন এবং এনাম। ম্যাডামের অভিরুচি অনুযায়ী এরা খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও ফিটফাট খাবেন। এদের হাতে প্লাস্টিক গ্লাভস থাকে পরিবেশনের সময়ে।
ডিগনিটারি রিসেপশন রুমের পরেই আছে ম্যাডাম জিয়ার অফিস। এখানে ছোট একটা ডেস্ক ব্যবহার করেন খালেদা যার ওপরে একটি ফুলদানিতে আছে ধানের শীষ। তার বসার চেয়ারের পেছনে আছে প্রয়াত স্বামী ও নিজের ছবি এবং বাংলাদেশ ও বিএনপির ফ্ল্যাগ। এ ছাড়া দেওয়ালে আছে কয়েকটি অয়েল পেইনটিংয়ে গ্রামীণ বাংলার দৃশ্য। সেন্টার টেবিলে আছে ফ্রেশ ফ্লাওয়ার ভাস। এই রুমে চার পাচজন অতিথি বসার জন্য দুটি সোফা আছে। একটি সোফা আছে ম্যাডামের জন্য। তবে তিনি কদাচিৎ সোফায় বসেন। সাধারণত তিনি চেয়ারে বসেন এবং অতিথিরা স্টিল চেয়ারে (দুটি কাঠের) বসেন। এই রুমে আছে একটি ছোট ফ্ল্যাট স্কৃনের টিভি।
এই অফিস রুমের সঙ্গেই এটাচড লম্বাটে রেস্ট রুম যেখানে কোনো জানালা নেই, শুধু একটা সরু ডিভান পাতা সম্ভব সেখানে। ধারণা করছি এই ডিভানেই খালেদা জিয়া তার পঞ্চাশটি রাত কাটিয়েছেন। এই রুমের সংলগ্ন আছে একটি টয়লেট।
দোতলায় খালেদা জিয়ার সাহচর্যে আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান যিনি এক পর্যায়ে নিচে গেইটে এসে অ আ বাহিনীকে দৃপ্তভাবে জানিয়ে দেন, জেলখানাতেও বন্দিদের পানি ও খাবার ব্যবস্থা হয় - কিন্তু অবরুদ্ধ রোড ৮৬-র ৬ নাম্বার বাড়িতে সেটা হচ্ছে না। তিনি জানতে চান এর কারণ কি?
অ অ বাহিনী নিরুত্তর থেকেছে।
অ আ বাহিনীর নেত্রীও নীরব থেকেছেন।
অ আ বাহিনীর গুলশান কর্মকর্তারা বলেছেন তারা খাবার ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি জানেন না।
তাহলে সেলিমা রহমানের প্রশ্নের উত্তরটি কে জানে?
সাগরেরও সীমানা আছে, কিন্তু এদের নির্লজ্জার সীমানা নেই।
দোতলায় আরো আছেন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা।
এ ছাড়া খালেদা জিয়াকে সার্বক্ষণিক পরিচর্যা ও সাহায্যের জন্য আছেন তার বুয়া ফাতেমা যাকে নিয়ে তিনি বিদেশেও যান।
বর্তমান অবস্থা
এবার ভেবে দেখুন কিভাবে মাত্র ৫০০০ স্কোয়ার ফিটে ৫০ দিন কাটিয়েছেন ৫০ অথবা তার উর্ধ্ব সংখ্যক ব্যক্তিরা? যেখানে কিচেন মাত্র একটি (তা-ও সব রান্নার জন্য অনুপযুক্ত), টয়লেট মাত্র পাচটি, যেখানে নেই কোনো বারান্দা-ব্যালকনি, যেখানে নেই হাটাচলার কোনো স্পেইস, যেখানে নেই কোনো লন্ডৃ রুম এবং যেখানে নেই কোনো বেডরুম।
কিন্তু যেখানে আছে ইলেকটৃসিটি লাইন কেটে দেওয়ার সম্ভাবনা (৩১ জানুয়ারি ভোর রাত দুটো থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০১৫ রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত ইলেকটৃসিটি লাইন কেটে দেওয়া হয়েছিল)। যেখানে আছে ওয়াটার সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা (ইলেকটৃসিটি না থাকলে ওয়াটার পাম্প চলবে না)। যেখানে আছে অনাহার ও অভুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা।
বিভিন্ন পত্রিকার সূত্রে জানা যাচ্ছে ম্যাডাম জিয়ার সহ-অবরুদ্ধরা ড্রাই খাবার যেমন, চিড়া, মুড়ি, গুড়, খেজুর খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু এই খাবারের স্টক কতো দিনের? সম্প্রতি জি-নাইন নামে একটি রিসার্চ গোষ্ঠির প্রেসিডেন্ট এডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এবং জেনারেল সেক্রেটারি ড. সায়ন্থ সাখাওয়াৎ কেএফসির ফ্যামিলি বাকেট খাবার ম্যাডাম জিয়া ও তার সহযোদ্ধাদের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন। অ আ বাহিনী তাদের বলেছিল, খাবার নিয়ে ভেতরে যেতে পারেন, তবে বাইরে ফিরে আসার কোনো নিশ্চয়তা তারা দিতে পারবে না। (ওপরের নির্দেশে?)। এরপর জি-নাইন টিম সেই খাবার ভেতরে পৌছে দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে ফিরে আসেন।
আজ এই লেখাটি লেখার সময়ে জি-নাইনের অপর এক সদস্য এভিয়েটর রেজাউর রহমান, যিনি এক সময়ে এয়ার ফোর্সে ছিলেন, তিনি জানান, তিনি এবং সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কিছু অফিসার ও তাদের স্ত্রীরা অবরুদ্ধদের জন্য খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু অ আ বাহিনী তাদের ফিরিয়ে দেয় এবং কোনো খাবারই গুলশান অফিসে পৌছাতে দেয় না।
‘তোমাদের ভাতে মারবো, পানিতে মারবো’ ৭ মার্চ ১৯৭১-এর শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের এই অংশটি ৪৪ বছর পরে বাস্তবায়িত করতে প্রতিজ্ঞ হয়েছে তার অনুসারীরা - তবে পাকবাহিনীকে মারতে নয় - বাঙালিদের মারতে।
জি-নাইন, বেবি নাজনীনসহ আরো অনেকে যারা পানি ও খাবার নিয়ে গুলশান অফিসে গিয়েছেন, তাদের দৃষ্টান্ত অনুকরণীয়। প্রতিদিনই সহমর্মিদের উচিত হবে সেখানে পানি ও খাবার নিয়ে যাওয়া। এক পর্যায়ে প্রতিরোধকারী অ আ বাহিনী বাধ্য হতে পারে পানি ও খাবার ভেতরে পৌছে দিতে।
প্রসঙ্গত মনে পড়ছে বিশ্ব শ্রদ্ধেয় কংগ্রেস নেতা মোহন দাস করমচাদ গান্ধির একটি কাহিনী।
তিনি লন্ডনে ব্যারিস্টার হবার পরে সাউথ আফৃকাতে আইন পেশা শুরু করেছিলেন। একবার তিনি সেখানে ট্রেনে ফার্স্ট ক্লাসে ভ্রমণ করছিলেন। তখন শ্বেতাঙ্গ শাসিত সাউথ আফৃকার কোনো ট্রেনের ফার্স্ট ক্লাসে কোনো কালো বা ব্রাউন যাত্রীর উপস্থিতি ছিল অকল্পনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য। ফার্স্ট ক্লাসে সেই সময় আরেকটি মাত্র যাত্রী ছিলেন। তিনি ছিলেন শ্বেতাঙ্গ। ট্রেন চলা শুরু হবার কিছু পরে গান্ধির দিকে তাকিয়ে ওই শাদা লোকটি কম্পার্টমেন্টের মেঝেতে ঘৃণাভরে থুথু ফেললেন। গান্ধি কিছু না বলে সেই থুথু একটা রুমালে মুছে তুলে নিলেন। শাদা লোকটি কিছুক্ষণ পর আবারও একই কাজ করলেন। গান্ধি আবারও তার রুমালে থুথু মুছে তুলে নিলেন। এভাবে তিনবার যখন ওই শাদা লোকটি মেঝেতে থুথু ফেললেন তখন তিনবারই গান্ধি তার থুথু তুলে নিলেন।
শাদা লোকটি নৈতিক পরাজয় মেনে চতুর্থবারে চলমান ট্রেনের জানালার বাইরে থুথু ফেললেন। গান্ধিও মৃদু হেসে তার রুমালটি বাইরে ফেলে দিলেন।
হয়তো অ আ বাহিনী এমন সংশোধনী আচরণ করবে না। তবুও তাদের পরীক্ষা করে দেখতে পারেন খালেদা ভক্তরা।
শিগগিরই গরম পড়বে।
তখন এই অবরোধবাসিনী ও অবরোধবাসীদের দুর্দশা চরমে উঠতে থাকবে।
আমাদের তথা বিশ্ববাসীর চোখের সামনেই এটা ঘটছে এবং ঘটবে।
আমরা দেখছি ২০১৫-তে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দুর্দমনীয় লক্ষ্যে ৫০ ব্যক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত থেকে লড়াই করছেন। যেটা আমরা লক্ষ্য করিনি ১৯৭১-এ। তখন আওয়ামী নেতারা আত্মসমর্পন করেছিলেন অথবা পলায়ন করেছিলেন কোনো যুদ্ধক্ষেত্রেই আওয়ামী নেতারা দৃশ্যমান ছিলেন না।
দেশবাসীর একমাত্র কর্তব্য
২০১৫-র গণতন্ত্র লড়াইয়ে গুলশানে বিএনপির নেত্রী ও তার সহযোদ্ধারা দৃশ্যমান। বাংলাদেশের বহু বীরত্ব গাথার মধ্যে চিরকালের মতো সংযুক্ত হয়ে গিয়েছে তাদের নাম।
আশা করা যায় এই অবরুদ্ধ বীর যোদ্ধারা ৫০ সংখ্যার কলংক মোচনে সফল হবেন।
ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এদের নাম?
না।
বাংলাদেশে বিকৃত ইতিহাস রচিত হয়।
যে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন আওয়ামী লীগ প্রণীত ইতিহাসে তাকে পাকিস্তানি গুপ্তচর বলা হয়।
এই বিকৃত ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে এদের নাম লেখানোর জন্য এরা লড়াই করছেন না।
এরা লড়াই করছেন প্রকৃত বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সত্য ইতিহাস দেশবাসীকে দেওয়ার জন্য।
তাই এই মুহূর্তে দেশবাসীর একমাত্র করণীয় হলো ম্যাডাম খালেদা জিয়ার আন্দোলনের ডাকে সদা সচেতন থাকা, সদা সক্রিয় হওয়া এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে সফল হওয়া।
২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
তারপর প্রায় (৩১০০+২০১৫ = ৫১১৫) পাচ হাজার বছর জুড়ে মানুষ ১০ সংখ্যা ভিত্তিক নাম্বারিং সিস্টেমে জ্ঞান চর্চা করেছে ও বিজ্ঞানের অগ্রগতি ঘটিয়েছে। এই ভিত্তিতে মানুষ ইতিহাস লিখেছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে খেলাধুলার রেকর্ড রেখেছে। এসবই রেকর্ড করা হয়েছে জিরো বা শূন্য থেকে মিলিয়ন, বিলিয়ন, টৃলিয়ন সংখ্যার হিসাবে। তবে আজকের এই লেখাটি শুধু ৫০ সংখ্যাটিকে নিয়ে।
প্রথমে জেনে নিন, যে ১০টি কারণে ৫০ সংখ্যাটি বিশ্ব বিখ্যাত হয়েছে।
১
সারা এপৃল মাস জুড়ে ইজিপ্টে খামসিন ঝড় বয়ে যেতে পারে। এই গরম ঝড়ের নামটি এসেছে আরবি ভাষার ৫০ শব্দটি থেকে।
২
পূর্ব লন্ডনে বাণিজ্যিক কেন্দ্রের একটি ভবন, ক্যানারি হোয়ার্ফ (Canary Wharf) ইওরোপের উচ্চতম বিলডিং যেখানে মানুষ থাকে। এই ভবনের ওপরাংশ দেখতে পিরামিডের মতো।
৩
লেজেন্ডারি ইটালিয়ান রোমান্টিক জিয়াকোমো ক্যাসানোভা (১৭২৫ - ১৭৯৮) নারী জয় করতে প্রয়োজনীয় যৌনক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে পুরুষদের উপদেশ দিয়েছিলেন ব্রেকফাস্টে পঞ্চাশটি ঝিনুক (অয়েস্টার) খেতে। তবে ক্যাসানোভা জাতীয় প্রেমিকদের কামদৃষ্টি এড়াতে আমেরিকার প্রায় ৫০% নারীদের শালীনভাবে পায়ের ওপর পা রেখে অর্থাৎ ক্রস লেগেড (Cross legged) ভংগিতে বসেন।
৪
১৯৫৯-এ হাওয়াই যোগ দেওয়ার পরে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মোট অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা হয় পঞ্চাশ।
৫
জনপ্রিয় আমেরিকান পপ মিউজিক গায়ক পল সাইমন-এর একটি বিশ্বখ্যাত গানের নাম ‘আপনার প্রেমিককে ছেড়ে দেওয়ার পঞ্চাশটি উপায়’ (Fifty Ways to Leave Your Lover)।
আরেক জনপ্রিয় আমেরিকান গায়ক ফিফটি সেন্ট (50 Cent)-কে মনে করা হয় বর্তমানে তিনি সবচেয়ে ধনী র্যাপ সিংগার।
৬
স্পোর্টসের ক্ষেত্রে, কৃকেটে ৫০ রান করাকে বড় কৃতিত্ব রূপে গণ্য করা হয়। চলমান বিশ্ব কৃকেট কাপ ২০১৫-তে অস্ট্রেলিয়ায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে মুশফিক এবং সাকিব, দুজনই ৫০-এর বেশি অর্থাৎ হাফ-সেঞ্চুরি করে প্রশংসিত হয়েছেন (কংগ্রাচুলেশন্স মুশফিক-সাকিব। কিপ অন ব্যাটিং)।
৭
কানাডার একটি জনপ্রিয় বিয়ারের ব্র্যান্ড নাম ল্যাবাট ফিফটি (Labatt 50)। প্রতিবেশী দেশ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নোবেল বিজয়ী ঔপন্যাসিক উইলিয়াম ফকনার বলেছিলেন, ‘পঞ্চাশ বছর বয়সের আগে কোনো পুরুষের উচিত নয় মদ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা তারপর তার বয়স পঞ্চাশ পেরিয়ে গেলে সে যদি বাড়াবাড়ি না করে তাহলে সে একটা চরম বোকা।’ (A man shouldn't fool with booze until he's fifty; then he is a damn fool if he doesn't.)
৮
দুটি বিকল্পের মধ্যে পারফেক্ট ব্যালান্স বোঝাতে ফিফটি-ফিফটি শব্দ দু’টি ব্যবহার করা হয়।
ফিফটি/ফিফটি (Fifty/Fifty) নামে ১৯৯১-এ মুক্তিপ্রাপ্ত আমেরিকান মুভি জনপ্রিয় হয়েছিল।
৯
পঞ্চাশ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে অন্তত আরো তিনটি হলিউড মুভির নামে। ফিফটি ডেড মেন ওয়াকিং (Fifty Dead Men Walking, ২০০৮), ফিফটি ফার্স্ট ডেটস (50 First Dates, ২০০৪) এবং ফেব্রুয়ারি ২০১৫-তে মুক্তিপ্রাপ্ত বক্স অফিস সুপারহিট মুভির নাম ফিফটি শেইডস অফ গ্রে (Fifty Shades of Grey)। এর আগে নারী লেখক ই.এল জেমস-এর এই নামের হট সেক্সি উপন্যাস বিশ্ব জুড়ে ১০ কোটির বেশি কপি বিক্রি হয়। এই মুভির ডিভিডি এখন ঢাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
১০
বিয়ের পঞ্চাশ বছর পূর্তিকে বলা হয় গোলডেন এনিভার্সারি। কেউ কেউ তখন এই বিয়েটাকে গোলডেন ওয়েডিং-ও বলেন। সাধারণত এই দিনে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে সোনার তৈরি কোনো গিফট দেন।
যে ১টি কারণে সংখ্যা ৫০ বাংলাদেশে হয়েছে কুখ্যাত
প্রায় পাচ হাজার বছর জুড়ে অসাধারণ সুন্দর ও শোভন সব কর্মকাণ্ডে, যেমন, বিভিন্ন অর্জন, গৌরব ও সাফল্যে, কালচার, মুভি, বই ও স্পোর্টসে, পানীয়, প্রেম ও বিয়েতে পঞ্চাশ সংখ্যাটি বিশ্ব বিখ্যাত হলেও ২০১৫-তে বাংলাদেশে এই সংখ্যাটি হয়েছে কুখ্যাত।
এর কারণ?
ম্যাডাম খালেদা জিয়া অন্তত ৫০ রাজনৈতিক নারী-পুরুষ সহকর্মীসহ ৫০ দিন অবরুদ্ধ হয়ে আছেন গুলশানে প্রায় ৫০০০ বর্গফুট বিশিষ্ট একটি দোতলা বাড়িতে। ভবিষ্যতে বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি অসাধারণ চরম মানবতাবিরোধী দুষ্কর্ম রূপে চিহ্নিত হবে। যেমনটি এখন হয়েছে অতীতে সাউথ আফৃকাতে শাদাদের শাসন আমলে রোডেন আইল্যান্ডে কালোদের নেতা নেলসন ম্যানডেলার ২৭ বছর বন্দি থাকার ঘটনাটি।
কিন্তু বর্তমানে অবরুদ্ধ ওই ৫০-ঊর্ধ্ব সংখ্যক ব্যক্তি কিভাবে তাদের দুঃসহ ৫০ দিন পার করেছেন সে বিষয়ে বাংলাদেশের পাঠকরা খুব কমই জানতে পেরেছেন।
এর কারণ?
আওয়ামী সরকারের অলিখিত এবং অঘোষিত সেন্সরশিপের ভয় মিডিয়াকে পূর্ণ গ্রাস করেছে।
বাংলাদেশে একদলীয় শাসন দূরীকরণ এবং বহুদলীয় শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ সর্বদলীয় সাধারণ নির্বাচনের দাবিতে ম্যাডাম খালেদা জিয়া যে আন্দোলন শুরু করেছেন তারই ধারাবাহিকতায় ৩ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে তিনি ও তার সহকর্মী সহযোদ্ধারা গুলশানের ৮৬ নাম্বার রোডের ৬ নাম্বার বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকার হাফ সেঞ্চুরি বা ৫০ দিন পূর্ণ করেছেন রাত ৮.২৫, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫-তে। আর তার ফলে ২০১৫-র ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মাঝ রাতে খালেদা জিয়া যেতে পারেননি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে।
দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠা সবার কর্তব্য
এই বাড়িতে খালেদা জিয়া তার অফিস কখন থেকে শুরু করেন সেটা জানার আগে ফিরে যেতে হবে ১১ জানুয়ারি ২০০৭-এ মেজর জেনারেল মইন ইউ আহমেদের তথাকথিত ওয়ান-ইলেভেন ক্যুর ঘটনাকালে। ওই সময়ে ৭ মার্চ ২০০৭-এ খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টে তার বাড়িতে জীবনে প্রথমবার অন্তরীণ হয়েছিলেন। এর প্রায় ছয় মাস পরে ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ জেনারেল মইন অনুগত সেনারা তাকে গ্রেফতার করে সংসদ ভবন সংলগ্ন দ্বিতীয় সাবজেলে নিয়ে যায়। প্রথম সাবজেলে কিছুকাল ছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। তখন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এডভোকেট শিমুল বিশ্বাস, সাংবাদিক-লেখক মারুফ কামাল খান এবং এই রচনাটির লেখক, গোপন তৎপরতা চালিয়ে যান। এদের সহযোগিতা করেন গোয়েন্দা বিভাগীয় জনৈক দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা যিনি মইন-ফখরুদ্দীন সরকারের বিদায়ের পর নিজেও বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান নিরাপত্তার কারণে। তবে এই প্রচেষ্টায় এই লেখক শেখ হাসিনার মুক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং তার প্রচেষ্টার আপডেট শেখ হাসিনাকে পৌছে দেয়ার জন্য তিনি আওয়ামী পন্থী একটি দৈনিকের সম্পাদককে অনুরোধ করেছিলেন। সম্পাদক সেই অনুরোধ রক্ষা করেছিলেন। এই লেখক তখন উভয়কেই সাহায্য করতে চেয়েছিলেন, তার কারণ ছিল, তিনি মনে করতেন এবং এখনো মনে করেন, একটা ভালো সেনাতন্ত্রের চাইতে একটা খোড়া গণতন্ত্র ভালো এবং একটা ভালো গণতন্ত্র বাংলাদেশে আনার জন্য দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠা সবার কর্তব্য।
এক বছরের বেশি সময় সাবজেলে থাকার পরে ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৮-এ খালেদা জিয়া মুক্ত হন।
সেদিনই বিকেল থেকে তিনি এই লেখকের বাড়ি, ১৫ ইস্কাটন গার্ডেনসে, তার অফিশিয়াল কাজকর্ম শুরু করেন। খালেদা জিয়া নিয়মিত ইস্কাটন অফিসে আসতেন তার ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে। কিন্তু এই যাত্রাপথটি ছিল ঝুকিপূর্ণ। কারণ এয়ারপোর্ট রোডের দুই পাশে বহুতলবিশিষ্ট ভবনগুলো এবং এই পথে ফার্মগেইট ও বাংলা মোটরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ফুটওভার বৃজগুলো ছিল সিকিউরিটি রিস্ক। এসব ভবনের ছাদ বা উচু তলা অথবা ফুটওভার বৃজ থেকে কোনো স্নাইপার বা শার্প শুটার অঘটন ঘটাতে পারতো যেমন ১৯৬৩-তে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি নিহত হয়েছিলেন ডালাস-এ একটি বহুতল বিশিষ্ট ভবন, টেক্সাস স্কুল বুক ডিপজিটরি (ডাল-টেক্স বিলডিং) থেকে আততায়ীর গুলিতে। এই বিলডিংয়ে এই লেখক গিয়েছিলেন এবং জেনেছিলেন সেই রকম রিস্ক সম্পর্কে।
তাই ম্যাডাম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাকর্মীরা স্থির করেন তার অফিস ১৫ ইস্কাটন গার্ডেনস থেকে তুলনামূলক নিরাপদ স্থানে ট্রান্সফার করতে হবে। মারুফ কামাল খান, শিমুল বিশ্বাস, সেই লেখক এবং আরো কয়েকজন (যারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বাড়ি খোজা শুরু করেন।
একটি বিষয়ে এরা সবাই একমত ছিলেন যে ম্যাডাম জিয়ার নতুন অফিস ভবনের কোনো নাম থাকবে না। এর আগে বনানীতে তার অফিসের নাম ‘হাওয়া ভবন’ যে নাম সেখানে তার অফিস করার আগেই ছিল বেশ বিব্রতকর হয়েছিল। তাই বাড়ি খোজাখুজির এক পর্বে বনানীর এগারো নাম্বার রোডে কুইন্স ইউনিভার্সিটির ছেড়ে দেওয়া ভবনটি উপযুক্ত হলেও সেটা ভাড়া নেওয়া হয়নি কুইন্স শব্দটির জন্য।
পরিশেষে গুলশানের ৮৬ নাম্বার রোডের ৬ নাম্বার বাড়িটি নির্বাচিত হয়। এই বাড়ির কোনো নাম ছিল না এখনো নেই। এটির টেনান্ট ছিলেন ইজিপ্টের তদানীন্তন রাষ্ট্রদূত। তিনি চলে যাবার পর এটি ডেভেলপারকে দিতে চেয়েছিলেন বাড়ির মালিক দুই ভাই, যাদের প্রয়াত পিতা ছিলেন বিএনপির এমপি। এই দুই ভাইয়ের সুবিবেচনা এবং আনুকূল্যে দোতলা ভবনটি হয় ম্যাডাম জিয়ার নতুন অফিস ভবন। ইজিপশিয়ান রাষ্ট্রদূত চলে যাবার পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বাড়িটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। ডেভেলপাররা বাড়ির সামনের দিকে পাইলিংয়ের জন্য কিছু খোড়াখুড়ি শুরু করেছিলেন। এই বাড়িটিকে বাসযোগ্য এবং অফিসযোগ্য করার দায়িত্ব নেন ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুর রহমান (খাই ত্রাণ দেই রুল নামে জনৈক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির ভাষায় ‘বাইচান্স সম্পাদক’ মাহমুদুর রহমান এবং যে বিচারপতি চলমান বহু সংকটের জন্য অন্যতম দায়ী ব্যক্তি)।
ধীরে ধীরে বাড়িটি পরিচ্ছন্ন ও সজ্জিত হয়। সব রুমে নয় কয়েকটি রুমে এয়ারকন্ডিশনার বসানো হয়। হাওয়া ভবনে ফেলে আসা ও নষ্ট হয়ে যাওয়া ডিজেল জেনারেটরটি এনে মেরামত করা হয় এবং লোডশেডিংকে কিছু সময়ের জন্য সামাল দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পুরনো ফার্নিচার ও ম্যাডাম জিয়ার অফিস রুমের জন্য পুরনো কার্পেট আনা হয়। সব রুমে লেমন ও ডিপ ইয়েলো রংয়ের কম্বিনেশনে সাধারণ পর্দা টানানো হয়। চারটি ছোট টিভি সেট আনা হয় দোতলার জন্য দুটি এবং নিচতলার জন্য দুটি। সারা বাড়িতে একটি ছোট কিচেন করা হয়। নিচতলায় এই কিচেনে শুধু চা-কফি তৈরি এবং পিরিচ-পেয়ালা-চামচ ধোবার ব্যবস্থা করা হয়। এই কিচেনে দৈনন্দিন রান্নার ব্যবস্থা হয়নি ডেইলি ৫০ ঊর্ধ সংখ্যক মানুষের রান্না সেখানে অসম্ভব।
নভেম্বর ২০০৮-এর শেষ সপ্তাহ থেকে, অর্থাৎ ডিসেম্বর ২০০৮-এর নির্বাচনের সপ্তাহ পাচেক আগে থেকে গুলশানের এই বাড়ি ম্যাডাম জিয়ার অফিস রুমে কার্যকর হয়। ওদিকে পল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সেক্রেটারি জেনারেল ও অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মীদের কাজ শুরু হয়।
উচ্ছেদ বাহিনীর হাস্যকর অজ্ঞতা
ম্যাডাম জিয়া তার একটি নিজস্ব অফিস পেয়ে খুশি হন এবং তখন থেকে শুধু সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিনই সন্ধ্যাবেলায় তিনি এই অফিসে আসা শুরু করেন। প্রথমে তিনি আসতেন ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে বনানী কাকলি রেল ক্রসিং পেরিয়ে সোজা কামাল আতাতুর্ক রোড ধরে গুলশান দুই নাম্বার গোল চত্বর পেরিয়ে।
২৯ ডিসেম্বর ২০০৮-এর নির্বাচনে বিএনপির পরাজয়ের পরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ম্যাডাম জিয়াকে তার চার দশকের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য বদ্ধপরিকর হয়। এই অন্যায় প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে মামলা চলার এক পর্যায়ে অনুগত আওয়ামী (সংক্ষেপে অ আ) বাহিনীর একাংশ ১৩ নভেম্বর ২০১০-এর বিকেলে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করে। সেদিন খালেদার নিজের থাকার কোনো বাড়ি ছিল না।
উচ্ছেদকারী অ আ বাহিনীর সদস্যরা জানতো না কোন রুটে এবং কোথায় খালেদা যাবেন। আমেরিকান মুভির চেইজ Chase স্টাইলে খালেদার নির্দেশে তার অভিজ্ঞ ড্রাইভার সেদিন বহু ট্রেইনিং ও বহু সুবিধাপ্রাপ্ত উচ্ছেদকারী অ আ বাহিনীর ধাওয়াকারী একাধিক গাড়ির কনভয়কে দ্রুত পরাজিত করে বিকেলে গাড়ি নিয়ে হাজির হন গুলশানের এই অফিস বাড়িতে। সেই সময়ে মাত্র দুটি ক্যারিয়ার ব্যাগসহ (একটিতে ওষুধ এবং আরেকটিতে অতি প্রয়োজনীয় টয়লেটৃজ) ম্যাডাম জিয়াকে রিসিভ করেন মারুফ কামাল খান এবং এই লেখক।
খালেদা জিয়াকে অবৈধ, অমানবিক, অশালীন এবং অসভ্যভাবে তার চার দশকের বাড়ি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তারপরে তার চরিত্র হনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আওয়ামী সরকার কয়েক দিন ব্যাপী মিডিয়া ক্যামপেইন চালিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় যে তিনি সেখানে বিলাসী জীবন যাপন করতেন। বাস্তবটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। খালেদা জিয়া শৈশবকাল থেকে উচ্চ মধ্যবিত্ত ঘরে মানুষ হয়েছিলেন (যেটা তার প্রতিপক্ষ হননি) এবং তার ফলে বড় বাড়ি ও বিলাসসামগ্রী বিষয়ে তার আগ্রহ কখনোই ছিল না। ওই চরিত্র হনন প্রপাগান্ডায় দেখানো হয়েছিল খালেদার বাড়ির ফৃজ থেকে রেড এবং হোয়াইট ওয়াইনের দুটি বটল পাওয়া গিয়েছে। যারা ওয়াইন খান তারা জানেন, সাধারণত হোয়াইট ওয়াইন ঠাণ্ডা খাওয়া হয় এবং তাই সেটা খোলার আগে কিছুক্ষণ ফৃজে রেখে অল্প ঠাণ্ডা অর্থাৎ চিলড (Chilled) করে সার্ভ করা হয়। আর রেড ওয়াইন খাবার আগে কর্ক খুলে রুম টেমপারেচারে রাখা হয় এবং কখনোই ঠাণ্ডা খাওয়া হয় না। বরং কেউ কেউ মাইক্রোওয়েভে একটু গরম করে রেড ওয়াইন খেতে ভালোবাসেন। ওয়াইন প্রসঙ্গে একটু তথ্য দিলাম এই জন্য যে ভবিষ্যতে যদি খালেদাকে তার অফিস এবং বর্তমান আবাসস্থল থেকে আবারও উচ্ছেদ করা হয় তাহলে পাঠকরা অবশ্যই যেন সেকেন্ড রাউন্ড চরিত্র হনন সম্পর্কে প্রস্তুত থাকেন। এখানে পাঠকদের মনে পড়বে, পল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে গোপালিশ বাহিনীর হামলার পরে সেখানে কম্পিউটার ধ্বংস করা হয়েছিল এবং তাজা বোমা পাওয়ার দাবি করা হয়েছিল। সুতরাং অ আ বাহিনী আবারও যদি উচ্ছেদ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় তাহলে গুলশান অফিসের কম্পিউটার ধ্বংস করা হতে পারে এবং বোমাও পাওয়া যেতে পারে। আওয়ামী প্রচারণা প্রতিভা হয়তো আবিষ্কার করবে জঙ্গি বিএনপির গুলশান অফিসের ছাদে নিউক্লিয়ার রকেট এবং ড্রোন এয়ারক্রাফট রেডি ছিল। আমি অ আ উচ্ছেদ বাহিনীকে উপদেশ দেব তারা যেন ওভারকিল না করেন। ওয়াইন বটলের মতো ভুলের পুনরাবৃত্তি না করেন ককটেল বোমা অথবা পেট্রলবোমার পরিবর্তে অতি উৎসাহী উচ্ছেদ বাহিনী যেন গুলশান অফিসে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভার ড্রোন বা রকেটলঞ্চার স্টক না দেখিয়ে দেয়। আর হ্যা, ওয়াইন বটল রাখলে, এবার শস্তা অস্ট্রেলিয়ান ওয়াইন না রেখে দামি ফ্রেঞ্চ ওয়াইন, মার্লো (রেড) এবং শাবলি (হোয়াইট) রাখবেন। তাতে অ আ বাহিনীর পরিচালকদের শিক্ষা ও রুচিবোধ জানা যাবে।
বাই দি ওয়ে, ১৩ নভেম্বর ২০১০-এ খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করার পরে সেখানে পাওয়া আমার হাতে লেখা একটি চিঠির কপি উচ্ছেদ বাহিনী প্রকাশ করেছিল। এই চিঠি ছিল অক্টোবর ২০০১-এর নির্বাচনের আগে ম্যাডামকে তার ভাষণ সম্পর্কিত আট-দশ লাইনের সাজেশন। এখন আমি সম্ভাব্য উচ্ছেদ বাহিনীকে অনুরোধ করবো আমার কোনো লেখা বের করার জন্য সময় নষ্ট না করতে। কারণ, আমার বিবেচনায় অক্টোবর ২০০১-এর পর বাংলাদেশে যেসব সাধারণ নির্বাচন হয়েছে তার ফলাফল পূর্বনির্ধারিত ছিল এবং সেসব নির্বাচন বিষয়ে আগাম সাজেশন দেওয়া পণ্ডশ্রম হতো। তাই কোনো চিঠি আমি আর লিখিনি। সরি, ফোকস।
মনের মতো বাড়ি
গুলশান অফিসে কাজ শুরু করার পরে ধীরে ধীরে ম্যাডাম জিয়া তার নিজের রুচি অনুযায়ী ওপরতলায় কার্টেইন, কার্পেট, ফার্নিচার ও লাইটসও বদলানো শুরু করেন। প্রথমে তিনি থাকতেন গুলশানে লেইক শোর হোটেলের কাছে তার ভাইয়ের ফ্ল্যাটে। অর্থাৎ, গুলশানের অফিসটাই ছিল তার ব্যক্তিগত স্থান। সুতরাং ব্যক্তিগত আবাসস্থল না পাওয়া পর্যন্ত গুলশান অফিসই হয় তার বাড়ি যেখানে তিনি দীর্ঘ রাত পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিটিং করতেন এবং মাঝে মাঝে রেস্ট রুমে একটি ছোট ডিভানে রেস্ট নিতেন। নতুন নীল রংয়ের কার্টেইন, শাদা কার্পেট এবং একাধিক টেবিল ল্যাম্পে তিনি গুলশান অফিস সাজান। ফার্নিচার হয় কিছুটা হেভি। দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মিটিং রুমে টিক ও গ্লাসের চার কোনা সেন্টার টেবিলটা হয় বেশ বড়। এখানে প্রতিদিন ফ্রেশ ফ্লাওয়ারের আগমন হতে থাকে। ম্যাডামের খাস অফিস রুম, যেটা ছোট, সেখানেও সেন্টার টেবিলে নিয়মিত ফ্রেশ ফ্লাওয়ারের ব্যবস্থা হয়। তার এই দুটি রুমের কার্পেট হয় শাদা রংয়ের, যে রংটি তার সবচেয়ে প্রিয়। শ্যান্ডলিয়ের বা ঝাড়বাতি এবং উগ্র বাতি ম্যাডামের অপ্রিয়। তার হবি হচ্ছে টেবিল ল্যাম্প কালেকশন যেখানে শেডের নিচ থেকে নম্র আলো ছড়িয়ে পড়ে রুমে। ক্যান্টনমেন্ট থেকে উচ্ছেদ হবার সময়ে ম্যাডামের দুশ্চিন্তা ছিল তার কালেকশনের টেবিল ল্যাম্পগুলোর কি হবে এবং শাদা কার্পেটের কি দুরবস্থা হবে, গুলশান অফিসে ম্যাডামের মিটিং এবং অফিস রুমে কার্পেটের শাদা রং রক্ষার জন্য কিছু অংশে ট্রান্সপারেন্ট প্লাস্টিক কভার দেওয়া হয় এবং অতিথিদের অনুরোধ করা হয় জুতা খুলে ঢুকতে।
ওপরতলায় ম্যাডাম জিয়া যে রুমে স্ট্যানডিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে মিটিং করেন, সেখানে কনফারেন্স টেবিলের মাঝখানে মিনি পাম টৃর চারা আছে। মিটিংয়ের সুবিধার্থে সেখানে কোনো ফ্লাওয়ার ভাস (Vase) রাখা হয় না।
দোতলার দুটি দেওয়ালে ম্যাডাম তার প্রয়াত স্বামীর ফটো স্থাপন করেন এবং তার পাশেই তার নিজের দুটি ফটোও স্থাপিত হয়। এ ছাড়া অন্য স্থানে তার দুই ছেলে, তারেক ও আরাফাতের ছবিও স্থাপিত হয়। ২০০৯ এবং ২০১০-এ মিডিয়াতে অতি সমালোচিত তারেক ও আরাফাতের ছবি তখন অফিসে স্থাপন করাটা ছিল ম্যাডামের দৃঢ় ইচ্ছার প্রতিফলন। বিএনপির কিছু শীর্ষ নেতা এবং কর্মী, তাদের মতে সঙ্গত কারণেই, চাননি তার দুই ছেলের ছবি অফিসে টাঙ্গানো হোক। গুলশান অফিসে গুঞ্জরিত হতে থাকে কেন ম্যাডাম তার দুই ছেলের ছবি অফিসে টাঙ্গালেন? বিদেশি অতিথিরা, বিশেষত যারা ডেইলি স্টার পড়ে আসেন তারা অফিসে এসে দুই ‘ভিলেইনে’র ছবি দেখবেন? কিন্তু তারা কেউই সাহস করে তাদের আপত্তি ম্যাডামকে জানাতে পারেননি।
প্রসঙ্গটি একদিন সবিনয়ে উত্থাপন করায় ম্যাডাম জিয়া উত্তর দিয়েছিলেন, ‘ওনার (জিয়ার) মৃত্যুর পর থেকে আমি আমার এই দুই ছেলে, তাদের বৌ আর নাতনিদের নিয়েই বাড়িতে ছিলাম। বাড়িতে তাদের ঘিরেই ছিল আমার জীবন। তারা কেউই আজ আমার পাশে নেই। তাদের সবাইকে বিদেশে থাকতে হচ্ছে। এখন গুলশানের এই ঠিকানাই আমার অফিস এবং বাড়ি দুটিই। তাই এই ভবনটি আমি সাজিয়েছি। এখানেই তো আমি বেশির ভাগ সময় কাটাচ্ছি। কিন্তু ওরা কোথায়? ওরা আছে। দেওয়ালে ছবির মধ্যে আছে। ওদের দেখলে কিছুটা শান্তি পাই।’
খালেদা জিয়ার প্রতিপক্ষ নেত্রী সিমপ্যাথি পলিটিক্স বা সহানুভূতি আদায়ের রাজনীতিতে পারদর্শী, অশ্রু বিসর্জনে পটিয়সী এবং সহমর্মিতা অর্জনে পরিশ্রমী। খালেদা জিয়ার চারিত্রিক অবস্থান এর সম্পূর্ণ বিপরীতে। তিনি ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক কথা খুব কম বলেন। আর তাই গুলশানের অফিসে দুই ছেলের ছবি টাঙিয়ে তাদের প্রতি এক মায়ের শাশ্বত টানের আর কোনো ব্যাখ্যা খালেদা তার দলীয় নেতাকর্মীদের দেননি।
এই প্রসঙ্গটি এখানে উল্লেখের কারণ হলো, সম্প্রতি শেখ হাসিনা একাধিকবার প্রকাশ্যে প্রশ্ন করেছেন, উনি (খালেদা জিয়া) কেন অফিসে থাকেন? উনি কেন গুলশান অফিস ছেড়ে নিজের বাড়িতে যাচ্ছেন না?
আশা করি শেখ হাসিনা এখন বুঝবেন, গুলশানের অফিস, খালেদার শুধু অফিসই নয় বাড়িও বটে। তা ছাড়া খালেদা কোন গৃহে কখন থাকবেন সেটা নির্দেশ দানের ক্ষমতা তার নেই। বরং শেখ হাসিনা এটা ভেবে খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ জানাতে পারেন যে কেন তিনি (খালেদা) দাবি তোলেন নি যে, অনির্বাচিত ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও হাসিনা কেন গণভবন ছেড়ে সুধা সদনে যাচ্ছেন না। কারণ গণভবন তার অফিসও নয় বাড়িও নয়।
লেইক শোরের ফ্ল্যাট থেকে পরে খালেদা জিয়া গুলশানের ৭৯ নাম্বার রোডের ১ নাম্বার বাড়ি থেকে স্বল্প দূরে ৮৬ নাম্বার রোডের ৬ নাম্বার বাড়িতে এই অফিসে যাতায়াত শুরু করেন।
এভারেস্টের চাইতেও বড় মিথ্যাবাদী
অবরোধের ৫০ দিনের প্রথম পর্যায়ে গুলশানে রোড ৮৬-র বিভিন্ন স্থানে ইট ও বালির একাধিক ট্রাক এবং অ আ বাহিনীর জলকামান এনে খালেদা জিয়ার অফিসের চারদিকে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। আওয়ামী নেতারা তখন টিভিতে বারংবার বলতে থাকেন, খালেদা প্রায়ই তার অফিসে ও বাড়িতে মেরামতের কাজ করান। এ জন্যই এই ট্রাকগুলো সেখানে এসেছে এবং এ সব ট্রাক সেখানে উপস্থিত হওয়ার দায়-দায়িত্ব তাদের নয়।
কিন্তু টিভিতে ওইসব ইট ও বালির ট্রাক ড্রাইভাররা তাদের ইন্টারভিউতে বলেন, বনানীর কাছাকাছি থেকে অ আ বাহিনীর নির্দেশে তাদের গুলশানে নিয়ে আসা হয় এবং এ জন্য তারা কোনো ভাড়া অথবা পারিশ্রমিক পাননি। তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন তারা খাবার ও পানি পাবেন কিনা সে বিষয়ে।
এভারেস্টেরও উচ্চতার পরিমাপ সম্ভব। কিন্তু আওয়ামী নেতাদের মিথ্যা কথনের কোনো পরিমাপ সম্ভব নয়।
কিভাবে ৫০ দিন কেটেছে
৩ জানুয়ারি ২০১৫-তে খালেদা জিয়া জানতেন না যে গুলশানের এই বাড়িতেই তাকে অবরুদ্ধ হতে হবে এবং পঞ্চাশ দিন কাটাতে হবে।
কিভাবে তার এই দিনগুলো কেটেছে এবং কাটছে?
এখানে প্রকাশিত গুলশান অফিস ভবনটির দুই তলার ফ্লোর চার্ট প্রকাশিত হলো। বলা বাহুল্য, সেখানে এই সময়ে কোনো আর্কিটেকটকে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই আমার স্মৃতি থেকে যতোটা সম্ভব ওই ভবনের ফ্লোর প্ল্যান আমি বুঝিয়ে দেই জনৈক তরুণ আর্কিটেকটকে (বর্তমানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)। আমার বর্ণনার ভিত্তিতে এই তরুণ আর্কিটেকট (মেনি থ্যাংকস) ফ্লোর প্ল্যানটি একেছেন। ফলে কিছু ভুলভ্রান্তি এখানে থেকে যেতে পারে।
তা সত্ত্বেও এই ফ্লোর প্ল্যান থেকে পাঠকরা বুঝবেন একটানা ৫০ দিন মাত্র প্রায় ৫০০০ স্কোয়ার ফিটের একটি বাড়িতে ৫০ ঊর্ধ্ব সংখ্যক ব্যক্তির অবরুদ্ধ হয়ে থাকাটা কতো কঠিন।
নিচ তলা : গ্রাউন্ড ফ্লোর প্ল্যান
টিভি দর্শকরা সাধারণত বন্ধ মেইন গেইটের ছবি দেখতে পান। এটি অ আ বাহিনী বা অনুগত আওয়ামী বাহিনী (গোটা পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনীকে দায়ী করা অনুচিত হবে) বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রেখেছে। সাধারণত ভিজিটররা ছোট গেইট দিয়ে ভবনের প্রাঙ্গনে ঢোকেন। এই ছোট গেইটের বাইরে অনুগত আওয়ামী বাহিনী খাতাপত্র নিয়ে বসে আছে। কে ভেতরে গেল এবং বাইরে এল এসব তারা খাতায় লেখে। কেউ পানি অথবা খাবার নিয়ে গেলে এরা বাধা দেয় এবং ‘ওপরের নির্দেশ আছে’ বাক্যটি উচ্চারণ করে সাধারণত ভদ্রভাবে আগন্তুকদের ফিরিয়ে দেয়। তবে বেবি নাজনীনের মতো সেলিবৃটি হলে তাকে গুলশান থানাতেও নিয়ে যেতে পারে। এত কাছে থেকে বেবি নাজনীনের মতো নিরপেক্ষ নন এমন সেলিবৃটিকে দেখার সুযোগ অ আ বাহিনী হাতছাড়া যে করতে চায় না তাতে অবাক হবার কিছু নেই।
৩ জানুয়ারি ২০১৫তে অবরুদ্ধ হবার আগে খালেদা জিয়ার শাদা নিসান গাড়ি মেইন গেইট দিয়ে ঢুকতো এবং বেরুতো। এই গাড়ি গারাজে নয় কার পার্কে থাকে। মেইন গেইট দিয়ে ঢোকার পরে ডান দিকে পরিত্যক্ত গারাজে বসানো হয়েছে ডিজেল জেনারেটর যার কথা আগেই বলেছি। এটি পাওয়ারফুল জেনারেটর এবং এটা দিয়ে পুরো ভবনের সব এসি, লাইট ও কম্পিউটার চালু রাখা সম্ভব।
গাড়ি পার্কিং প্লেস থেকে তিন সিড়ি ওপরে রিসেপশন বারান্দা। এখান থেকে ম্যাডাম জিয়া ঘোরানো সিড়ি দিয়ে ওপরে যান। ম্যাডামের হাটুর সমস্যা থাকায় সিড়িতে উঠতে তার কিছুটা অসুবিধা হয়। তাই অন্য নেতা-কর্মী, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকদের সঙ্গে মিটিং নির্ধারিত থাকলে তিনি ওপর তলায় না উঠে, সরাসরি নিচতলার বৈঠকরুমে বসেন। এই রুমে একটা ছোট কাঠের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। তবে সেখানে সাধারণত ম্যাডাম বসেন না।
এই রুমে একটি সার্কুলার টেবিল আছে যার চারপাশে বিশিষ্ট অতিথিরা বসেন। এই রুম ও তার পাশের রুমের দেওয়াল ভেঙ্গে কাঠের ফ্লেক্সিবল পার্টিশন করা হয়েছে। ফলে পাশের রুমে সব টিভি ক্যামেরা ও টিভি কর্মীদের সংকুলান হয়। টিভি ক্যামেরা রুমের পেছন দিকে একটা ছোট দরজা আছে। এই দরজার অবস্থানটি জেনে নিলে অ আ বাহিনীর সম্ভাব্য আকস্মিক আক্রমণের সময়ে সাংবাদিক ও ক্যামেরা ক্রুরা দ্রুত প্রস্থান করতে পারবেন।
নিচ তলায় আছে আরো দুটি রুম। একটিতে বসেন অফিসের প্রশাসনিক কাজের দায়িত্বে নিয়োজিত সাবেক ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (আইজিপি) আবদুল কাইয়ুম। যিনি ছাত্রকালে ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন এবং প্রগতিশীল রাজনীতি করতেন। তার বিশেষ গর্ব, তার আইজিপি থাকাকালে তিনি ক্রসফায়ার জাতীয় অবৈধভাবে কাউকেই মৃত্যুমুখে ঠেলে দেননি। আর্থিকভাবে সৎ বলে তার সুখ্যাতি আছে। খুব দুঃখজনক বিষয় যে তার সভ্য, মানবিক আচরণ, নৈতিকতা এবং আর্থিক সততা পরবর্তীকালে তার উত্তরাধিকারদের মধ্যে খুব কম দেখা গেছে।
২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত আপাত স্বাভাবিক সময়ে কাইয়ুম আসতেন উত্তরায় তার বাড়ি থেকে। এখন ৩ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে তিনি গুলশানে অবরুদ্ধ আছেন এবং সেই ভবনটির সার্বিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি খুব লো প্রোফাইলে থাকতে পছন্দ করেন। তাই টিভি দর্শকরা খুব কমই তাকে দেখেছেন। তাহলে একজন আইজিপি কাইয়ুমের কোনো দোষই কি নেই?
হ্যা, আছে। তিনি ধূমপান করেন তবে কম এবং লাইট নিকোটিনের সিগারেট।
এই রুমে তার পাশে বসতেন সাবেক আমলা ও রাষ্ট্রদূত সাবিহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বিএনপির ফরেইন এফেয়ার্স কমিটির সক্রিয় সদস্য।
১০ জানুয়ারিতে তার শাদা ড্যাটসান মোটরকার দুর্বৃত্তরা গুলশান অফিসের কাছেই পুড়িয়ে দেয়।
বৃটিশ হাইকমিশনার মি. রবার্ট গিবসন যখন অবরুদ্ধ ম্যাডাম জিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন, তখন, সাবিহউদ্দিন তার সঙ্গে গুলশান অফিসে যান। কিন্তু তিনি ফিরে আসতে পারেন নি। দুই দিন অফিসে তিনি অবরুদ্ধ ছিলেন। এখন তিনি মিডিয়া-ফোকাস থেকে দূরে আছেন।
একইভাবে স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য মি. নজরুল ইসলাম খান যখন সফরকারী ইওরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যদের নিয়ে যান ম্যাডাম জিয়ার সঙ্গে দেখা করাতে, তখন তিনিও আটকে যান এবং এই লেখার সময় পর্যন্ত তিনিও সেখানে অবরুদ্ধ আছেন।
এই রুমে আরো বসেন (ডেস্ক শেয়ার করে) ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন। উদ্যমী এবং উদ্যোগী এই তরুণ ইঞ্জিনিয়ারকে এখানে নিয়োগ দিয়েছিলেন মাহমুদুর রহমান। দুই যমজ শিশু কন্যা সন্তানের পিতা জসিমও অবরুদ্ধ আছেন এই ভবনে যাদের কথা তিনি আমাকে প্রায়ই বলতেন। তিনি তার দুই নয়নমনি ও স্ত্রীকে ছেড়ে গুলশান অফিসের ইঞ্জিনিয়ারিং দিক (কম্পিউটিং, জেনারেটর, এসি, ওয়াটার সাপ্লাই) প্রভৃতি দিক সচল রাখছেন। এ ছাড়া এই রুমে আছেন কমপিউটার অপারেটর হুমায়ুন কবির। নিচতলার এই রুমে দুজন অতিথি বসতে পারেন। বলা বাহুল্য অনেক অতিথি এখানে আসেন যার ফলে অনেক অফিশিয়াল কাজ বিঘিœত হয়। অ আ বাহিনী যদি গুলশান অফিস এটাক করে তাহলে হুমায়ুনের কম্পিউটার থেকে আওয়ামী মস্তিষ্কপ্রসূত বিভিন্ন “সাংঘাতিক ইসলামী জেহাদি এবং দেশদ্রোহিতামূলক” ই-মেইল ইত্যাদি আবিষ্কৃত হবে এবং সেসব নিরপেক্ষ টিভিতে ভবিষ্যতে প্রচারিত হতে পারে। ভিউয়ার্স, ইউ হ্যাভ বিন ওয়ার্নড!
গুলশান অফিসের প্রেস বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মারুফ কামাল খানের খুব ছোট অফিসটি নিচ তলায় অবস্থিত। এখানে ঠাসাঠাসি করে সর্বোচ্চ পাচ অতিথি বসতে পারেন। একটা সচল ছোট টিভি এবং একটা অচল ফটো কপিয়ার আছে এই রুমে। আর আছে মারুফ কামাল খানের বেনসন অ্যান্ড হেজেস নিঃসৃত ধোয়া, যেটা তার জন্য খারাপ, তার গেস্টদের জন্যও খারাপ। পঞ্চাশ দিন একটানা অবরুদ্ধ থাকার ফলে খালেদা জিয়ার পরেই সবচেয়ে বেশি হেলথ রিস্কে আছেন মারুফ কামাল খান। গত তিন বছরে বিভিন্ন চিকিৎসার জন্য ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে বহুবার এবং সিংগাপুরে দুইবার তাকে থাকতে হয়েছিল।
এ ছাড়া নিচের তলায় কাজ করেন প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার এবং অন্যান্য স্টাফ। এদের সবার জন্য এই ফ্লোরে আছে দুটি টয়লেট। এই ফ্লোরে হাটাহাটির জায়গা বলতে আছে চার অথবা পাচ ফিট চওড়া একটা ছোট করিডোর।
দোতলা : ফার্স্ট ফ্লোর প্ল্যান
এবার আমার সঙ্গে চলুন ঘোরানো সিড়ি বেয়ে দোতলায়।
দোতলায় উঠলে ডান দিকে দেখবেন চেয়ারপার্সনস সিকিউরিটি ফোর্স, সংক্ষেপে সিএসএফ (CSF) -এর রুম। ম্যাডাম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা সমন্বয়কারী সাবেক সেনা কর্মকর্তা সুদর্শন আবদুল মজিদ ও তার সহকর্মীরা এই রুমে থেকে সিকিউরিটি মনিটরিং স্কৃনে নজর রাখেন বাড়ির ভেতরে এবং বাইরে কি হচ্ছে। সিএসএফ-এর এই রুমটি গাড়ি পার্কের ঠিক ওপরে আগে এটি ছিল এই বাড়ির একমাত্র বারান্দা বা ব্যালকনি। পরে থাই গ্লাস দিয়ে ব্যালকনিকে পরিবর্তিত করা হয় রুমে। ফলে গ্রীষ্মকালে রুমটি খুব গরম হয়ে যায়।
এই রুমের বিপরীতে আছে স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং রুম। এখানে একটি সার্কুলার টেবিলের চারপাশে বসেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা। সাধারণত এই রুমটি ব্যবহার করেন বিশিষ্ট অতিথিরা এবং বিএনপির নেতারা ওয়েটিং রুম রূপে। এখান থেকে তাদের ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় ম্যাডাম জিয়ার অফিস রুমে।
এই রুমের পরে আছে একটি অফিস রুম যেটা প্রথমে নির্ধারিত হয়েছিল এই লেখক, মাহমুদুর রহমান এবং সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরীর জন্য। শেষোক্ত দুজন এখন জেলবন্দি। এখন এই লেখকের ডেস্কটি ব্যবহার করছেন চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এ ছাড়া এই রুমে আট জন অতিথি বসার স্টিল ফার্নিচার আছে।
এই রুমের বিপরীতে একটি ছোট রুমে আছে কিছু কম্পিউটার ও ইন্টারনেট কানেকশন। এই রুমটি কদাচিৎ ব্যবহৃত হয়। এসব রুমের শেষ প্রান্তে আছে একটি টয়লেট।
স্ট্যান্ডিং কমিটি রুমের পরে আছে আরেকটি অফিস রুম যেখানে বসেন ম্যাডামের সহকারী (জিয়াউর রহমানের ভ্রাতুষ্পুত্র) ডিউ। এই রুমে আছে কয়েকটি ফাইলিং ক্যাবিনেট। আর আছে একটি এটাচড টয়লেট।
এর পরেই আছে বিশিষ্ট অতিথিদের মিটিং রুম যেখানে ঢুকতে হয় লবি থেকে সরাসরি। ঢোকার আগে সিএসএফ সদস্যদের কাছে রেখে দিতে হয় ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন। এই ডিগনিটারি রিসেপশন রুমের ছবি সাধারণত দর্শক পাঠকরা দেখেন। ম্যাডাম খালেদা জিয়া এই রুমে রিসিভ করেন দেশ বিদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের, যেমন রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি ডেলিগেটদের। এই রুমের দেওয়ালে প্রেসিডেন্ট জিয়ার ও ম্যাডাম খালেদার ছবি ছাড়াও আছে বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকার কিছু অয়েল পেইনটিং। আর আছে বাংলাদেশ ও বিএনপির ফ্ল্যাগ।
এই ফ্লোরে কোনো কিচেন বা কুকিং স্পেইস নেই। ফলে অতিথিদের চা-কফি-স্ন্যাকস সার্ভ করতে হয় নিচতলা থেকে সযতেœ ওপর তলায় এনে। এই কাজটি করেন স্বপন এবং এনাম। ম্যাডামের অভিরুচি অনুযায়ী এরা খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও ফিটফাট খাবেন। এদের হাতে প্লাস্টিক গ্লাভস থাকে পরিবেশনের সময়ে।
ডিগনিটারি রিসেপশন রুমের পরেই আছে ম্যাডাম জিয়ার অফিস। এখানে ছোট একটা ডেস্ক ব্যবহার করেন খালেদা যার ওপরে একটি ফুলদানিতে আছে ধানের শীষ। তার বসার চেয়ারের পেছনে আছে প্রয়াত স্বামী ও নিজের ছবি এবং বাংলাদেশ ও বিএনপির ফ্ল্যাগ। এ ছাড়া দেওয়ালে আছে কয়েকটি অয়েল পেইনটিংয়ে গ্রামীণ বাংলার দৃশ্য। সেন্টার টেবিলে আছে ফ্রেশ ফ্লাওয়ার ভাস। এই রুমে চার পাচজন অতিথি বসার জন্য দুটি সোফা আছে। একটি সোফা আছে ম্যাডামের জন্য। তবে তিনি কদাচিৎ সোফায় বসেন। সাধারণত তিনি চেয়ারে বসেন এবং অতিথিরা স্টিল চেয়ারে (দুটি কাঠের) বসেন। এই রুমে আছে একটি ছোট ফ্ল্যাট স্কৃনের টিভি।
এই অফিস রুমের সঙ্গেই এটাচড লম্বাটে রেস্ট রুম যেখানে কোনো জানালা নেই, শুধু একটা সরু ডিভান পাতা সম্ভব সেখানে। ধারণা করছি এই ডিভানেই খালেদা জিয়া তার পঞ্চাশটি রাত কাটিয়েছেন। এই রুমের সংলগ্ন আছে একটি টয়লেট।
দোতলায় খালেদা জিয়ার সাহচর্যে আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান যিনি এক পর্যায়ে নিচে গেইটে এসে অ আ বাহিনীকে দৃপ্তভাবে জানিয়ে দেন, জেলখানাতেও বন্দিদের পানি ও খাবার ব্যবস্থা হয় - কিন্তু অবরুদ্ধ রোড ৮৬-র ৬ নাম্বার বাড়িতে সেটা হচ্ছে না। তিনি জানতে চান এর কারণ কি?
অ অ বাহিনী নিরুত্তর থেকেছে।
অ আ বাহিনীর নেত্রীও নীরব থেকেছেন।
অ আ বাহিনীর গুলশান কর্মকর্তারা বলেছেন তারা খাবার ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি জানেন না।
তাহলে সেলিমা রহমানের প্রশ্নের উত্তরটি কে জানে?
সাগরেরও সীমানা আছে, কিন্তু এদের নির্লজ্জার সীমানা নেই।
দোতলায় আরো আছেন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা।
এ ছাড়া খালেদা জিয়াকে সার্বক্ষণিক পরিচর্যা ও সাহায্যের জন্য আছেন তার বুয়া ফাতেমা যাকে নিয়ে তিনি বিদেশেও যান।
বর্তমান অবস্থা
এবার ভেবে দেখুন কিভাবে মাত্র ৫০০০ স্কোয়ার ফিটে ৫০ দিন কাটিয়েছেন ৫০ অথবা তার উর্ধ্ব সংখ্যক ব্যক্তিরা? যেখানে কিচেন মাত্র একটি (তা-ও সব রান্নার জন্য অনুপযুক্ত), টয়লেট মাত্র পাচটি, যেখানে নেই কোনো বারান্দা-ব্যালকনি, যেখানে নেই হাটাচলার কোনো স্পেইস, যেখানে নেই কোনো লন্ডৃ রুম এবং যেখানে নেই কোনো বেডরুম।
কিন্তু যেখানে আছে ইলেকটৃসিটি লাইন কেটে দেওয়ার সম্ভাবনা (৩১ জানুয়ারি ভোর রাত দুটো থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০১৫ রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত ইলেকটৃসিটি লাইন কেটে দেওয়া হয়েছিল)। যেখানে আছে ওয়াটার সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা (ইলেকটৃসিটি না থাকলে ওয়াটার পাম্প চলবে না)। যেখানে আছে অনাহার ও অভুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা।
বিভিন্ন পত্রিকার সূত্রে জানা যাচ্ছে ম্যাডাম জিয়ার সহ-অবরুদ্ধরা ড্রাই খাবার যেমন, চিড়া, মুড়ি, গুড়, খেজুর খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু এই খাবারের স্টক কতো দিনের? সম্প্রতি জি-নাইন নামে একটি রিসার্চ গোষ্ঠির প্রেসিডেন্ট এডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এবং জেনারেল সেক্রেটারি ড. সায়ন্থ সাখাওয়াৎ কেএফসির ফ্যামিলি বাকেট খাবার ম্যাডাম জিয়া ও তার সহযোদ্ধাদের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন। অ আ বাহিনী তাদের বলেছিল, খাবার নিয়ে ভেতরে যেতে পারেন, তবে বাইরে ফিরে আসার কোনো নিশ্চয়তা তারা দিতে পারবে না। (ওপরের নির্দেশে?)। এরপর জি-নাইন টিম সেই খাবার ভেতরে পৌছে দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে ফিরে আসেন।
আজ এই লেখাটি লেখার সময়ে জি-নাইনের অপর এক সদস্য এভিয়েটর রেজাউর রহমান, যিনি এক সময়ে এয়ার ফোর্সে ছিলেন, তিনি জানান, তিনি এবং সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কিছু অফিসার ও তাদের স্ত্রীরা অবরুদ্ধদের জন্য খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু অ আ বাহিনী তাদের ফিরিয়ে দেয় এবং কোনো খাবারই গুলশান অফিসে পৌছাতে দেয় না।
‘তোমাদের ভাতে মারবো, পানিতে মারবো’ ৭ মার্চ ১৯৭১-এর শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের এই অংশটি ৪৪ বছর পরে বাস্তবায়িত করতে প্রতিজ্ঞ হয়েছে তার অনুসারীরা - তবে পাকবাহিনীকে মারতে নয় - বাঙালিদের মারতে।
জি-নাইন, বেবি নাজনীনসহ আরো অনেকে যারা পানি ও খাবার নিয়ে গুলশান অফিসে গিয়েছেন, তাদের দৃষ্টান্ত অনুকরণীয়। প্রতিদিনই সহমর্মিদের উচিত হবে সেখানে পানি ও খাবার নিয়ে যাওয়া। এক পর্যায়ে প্রতিরোধকারী অ আ বাহিনী বাধ্য হতে পারে পানি ও খাবার ভেতরে পৌছে দিতে।
প্রসঙ্গত মনে পড়ছে বিশ্ব শ্রদ্ধেয় কংগ্রেস নেতা মোহন দাস করমচাদ গান্ধির একটি কাহিনী।
তিনি লন্ডনে ব্যারিস্টার হবার পরে সাউথ আফৃকাতে আইন পেশা শুরু করেছিলেন। একবার তিনি সেখানে ট্রেনে ফার্স্ট ক্লাসে ভ্রমণ করছিলেন। তখন শ্বেতাঙ্গ শাসিত সাউথ আফৃকার কোনো ট্রেনের ফার্স্ট ক্লাসে কোনো কালো বা ব্রাউন যাত্রীর উপস্থিতি ছিল অকল্পনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য। ফার্স্ট ক্লাসে সেই সময় আরেকটি মাত্র যাত্রী ছিলেন। তিনি ছিলেন শ্বেতাঙ্গ। ট্রেন চলা শুরু হবার কিছু পরে গান্ধির দিকে তাকিয়ে ওই শাদা লোকটি কম্পার্টমেন্টের মেঝেতে ঘৃণাভরে থুথু ফেললেন। গান্ধি কিছু না বলে সেই থুথু একটা রুমালে মুছে তুলে নিলেন। শাদা লোকটি কিছুক্ষণ পর আবারও একই কাজ করলেন। গান্ধি আবারও তার রুমালে থুথু মুছে তুলে নিলেন। এভাবে তিনবার যখন ওই শাদা লোকটি মেঝেতে থুথু ফেললেন তখন তিনবারই গান্ধি তার থুথু তুলে নিলেন।
শাদা লোকটি নৈতিক পরাজয় মেনে চতুর্থবারে চলমান ট্রেনের জানালার বাইরে থুথু ফেললেন। গান্ধিও মৃদু হেসে তার রুমালটি বাইরে ফেলে দিলেন।
হয়তো অ আ বাহিনী এমন সংশোধনী আচরণ করবে না। তবুও তাদের পরীক্ষা করে দেখতে পারেন খালেদা ভক্তরা।
শিগগিরই গরম পড়বে।
তখন এই অবরোধবাসিনী ও অবরোধবাসীদের দুর্দশা চরমে উঠতে থাকবে।
আমাদের তথা বিশ্ববাসীর চোখের সামনেই এটা ঘটছে এবং ঘটবে।
আমরা দেখছি ২০১৫-তে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দুর্দমনীয় লক্ষ্যে ৫০ ব্যক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত থেকে লড়াই করছেন। যেটা আমরা লক্ষ্য করিনি ১৯৭১-এ। তখন আওয়ামী নেতারা আত্মসমর্পন করেছিলেন অথবা পলায়ন করেছিলেন কোনো যুদ্ধক্ষেত্রেই আওয়ামী নেতারা দৃশ্যমান ছিলেন না।
দেশবাসীর একমাত্র কর্তব্য
২০১৫-র গণতন্ত্র লড়াইয়ে গুলশানে বিএনপির নেত্রী ও তার সহযোদ্ধারা দৃশ্যমান। বাংলাদেশের বহু বীরত্ব গাথার মধ্যে চিরকালের মতো সংযুক্ত হয়ে গিয়েছে তাদের নাম।
আশা করা যায় এই অবরুদ্ধ বীর যোদ্ধারা ৫০ সংখ্যার কলংক মোচনে সফল হবেন।
ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এদের নাম?
না।
বাংলাদেশে বিকৃত ইতিহাস রচিত হয়।
যে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন আওয়ামী লীগ প্রণীত ইতিহাসে তাকে পাকিস্তানি গুপ্তচর বলা হয়।
এই বিকৃত ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে এদের নাম লেখানোর জন্য এরা লড়াই করছেন না।
এরা লড়াই করছেন প্রকৃত বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সত্য ইতিহাস দেশবাসীকে দেওয়ার জন্য।
তাই এই মুহূর্তে দেশবাসীর একমাত্র করণীয় হলো ম্যাডাম খালেদা জিয়ার আন্দোলনের ডাকে সদা সচেতন থাকা, সদা সক্রিয় হওয়া এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে সফল হওয়া।
২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
February
(1363)
-
▼
Feb 23
(48)
- শেখ হাসিনার লেখা চিঠি প্রদর্শন করছেন কাদের সিদ্দিকী
- সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেয়ার সাহস পাবে না : কূটনীতিক রী...
- পদ্মাপাড়ে আহাজারি- কার্গোর ধাক্কায় লঞ্চডুবি, ৪১ ল...
- সেনাবাহিনীকে বিতর্কে জড়াতে চাই না : বিএনপি
- আমার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে : মান্না
- কাঁদছে পদ্মাপাড়, ৪১ লাশ উদ্ধার by আতাউর রহমান ও বি...
- কত দূর যাবেন তারানকো? by সাজেদুল হক
- যে ১০টি কারণে সংখ্যা ৫০ বিশ্ব বিখ্যাত যে ১টি কারণে...
- ২৯ ধর্ষণে ১৫৩৫ বছর জেল
- আফগানিস্তানে টেকসই সাফল্য চায় যুক্তরাষ্ট্র
- আমরা ভুলিনি, ক্ষমা করিনি
- একজন কেজরিওয়াল ও আমরা by এম সাখাওয়াত হোসেন
- সমান্তরাল ভালোবাসা by মোজাম্মেল বাবু
- ভ্রান্তিবিলাসে আর কতকাল? by একেএম শাহনাওয়াজ
- একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন ও মাতৃভাষা চর্চা by বদরুদ্...
- বাংলাদেশ, আমার সম্প্রসারিত মাতৃভূমি by প্রসেনজিৎ চ...
- শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চা শুরু হোক by আলী যাকের
- ঢাকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার সফর
- বেসরকারি মেডিকেল- বিডিএস কোর্সে ভর্তির পাস নম্বর ক...
- সভ্যতা-সংস্কৃতি, পানের বরজের নিচে...
- উনি ভাবেন উত্তরপাড়া থেকে কেউ এসে ক্ষমতায় বসিয়ে দেব...
- প্রবাসে প্রজন্ম ও বাংলা ভাষা by উম্মে মুসলিমা
- রুখে দাঁড়াও সহিংসতা- ভাষাশহীদদের প্রতি জাতির বিনম্...
- গরু প্রধান অতিথি ছাগল বিশেষ অতিথি!
- মঙ্গোলিয়ার আকাশে একসঙ্গে তিন সূর্য
- বিদ্যালয়, নাকি বিধ্বস্ত ভবন! by পলাশ বড়ুয়া
- সাতক্ষীরা শান্ত, সমগ্র দেশ হবে কবে? by আলমগীর স্বপন
- সাহসে প্রত্যয়ে সমানে সমান, কিন্তু by সাহাদাত হোসেন...
- বিশ্বের মাতৃভাষা সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্...
- সাইকেলের ডানায় ভর করে...
- ভূমিকম্প মোকাবেলায় অর্থ সহায়তা দেয়া হবে by মামুন আ...
- তিস্তায় এখন ধু-ধু বালুচর
- ‘হিসাবি’ জামায়াত, কৌশলে কাজ হচ্ছে না by সেলিম জাহিদ
- পদ্মায় লঞ্চডুবি ৪০ লাশ উদ্ধার
- 'চাকরি করব না, চাকরি দেব' by প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ
- রাজধানীতে আকাশছোঁয়া অট্টালিকা অলিগলিতে by অমিতোষ পাল
- উত্তরাঞ্চলে ২০ লাখ শ্রমিক পরিবারে হাহাকার by সরকার...
- সাগর সন্ধানে by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
- আবুধাবিতে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু- ছুটি থেকে শেষ ছুটিতে ত...
- কৃষকের কান্না ক্রেতাদের হাহাকার- হরতাল-অবরোধের প্র...
- মোবাইল ব্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ by শুভ দেব...
- ছয় হাজার গাছের মৃত্যু পরোয়ানা! by মো. জাফর খান
- মমতা ব্যানার্জির সফর
- সরকারি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং বাতিল হচ্ছে মাঠ প্রশাসনে...
- অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু
- হরতাল ও অবরোধের সমীকরণ by আইরিন সুলতানা
- সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য -১৫৬ by ড. একেএম শাহনাওয়াজ
- মানুষ পুড়িয়ে কি আন্দোলন হবে? by নুরুল ইসলাম বিএসসি
-
▼
Feb 23
(48)
-
▼
February
(1363)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট

No comments:
Post a Comment