Tuesday, November 25, 2014
সার্কের অগ্রগতি ও জনপ্রত্যাশা by সালমা ইসলাম
সার্কের অগ্রগতি ও জনপ্রত্যাশা by সালমা ইসলাম
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) সংক্রান্ত বিভিন্ন আলোচনায় এ সংস্থার সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে অনেকেই যে হতাশা প্রকাশ করেন, এটি নতুন কিছু নয়। এর অন্যতম কারণ সার্কের প্রতি এ অঞ্চলের মানুষের যে বিপুল প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণ হয়নি। এ অঞ্চলের মানুষের এমন কিছু প্রত্যাশা রয়েছে, যা সার্কের বিভিন্ন সম্মেলনে আলোচনা হলেও বিষয়গুলো আলোচনার পর্যায়েই রয়ে গেছে। এতে এ সংস্থার প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন কমছে। এ অবস্থায় সার্কের কর্মপদ্ধতি এমনভাবে ঢেলে সাজানো উচিত যাতে এ সংস্থার প্রতি বিশ্ববাসীর আগ্রহ আরও বাড়ে। ঐতিহাসিকভাবে এ অঞ্চলের মানুষ পরস্পরকে সহযোগিতা করতেই পছন্দ করে। কিন্তু ব্যাপক দারিদ্র্যের কারণে এ সহযোগিতার ক্ষেত্রে যে ছন্দপতন ঘটছে এটাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সার্কভুক্ত দেশগুলোতে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় খনিজসম্পদ কম থাকলেও এ অঞ্চলের দেশগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হল মানবসম্পদ। এ সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হলে সার্ক সদস্যভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। বিশ্বে খনিজসম্পদ একসময় ফুরিয়ে যাবে। এতে খনিজ সম্পদনির্ভর যে কোনো দেশের অর্থনীতিতে যে কোনো সময় অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। কিন্তু মানবসম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে উল্লিখিত সমস্যার মতো কোনো সমস্যার কারণে অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ার আশংকা থাকে না।
বর্তমানে যে কোনো দেশের দ্রুত উন্নতির ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়, সেসব এককভাবে মোকাবেলা করার চেয়ে যৌথভাবে মোকাবেলা করা অনেক সহজ। কোনো কোনো চ্যালেঞ্জ এককভাবে মোকাবেলা করতে গেলে অর্থনীতিতে কী অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে, ইবোলা ভাইরাসের দ্রুত বিস্তৃতিতে তা নতুন করে স্পষ্ট হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যেখানে বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, সেখানে আঞ্চলিক জোটকে প্রকৃতপক্ষে কার্যকর করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোই সবচেয়ে লাভজনক। সার্কের বিভিন্ন সম্মেলনে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। এ সংস্থার যে কোনো পর্যায়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে নেতৃবৃন্দ দূরদর্শিতার পরিচয় দেবেন, এটাই সবার প্রত্যাশা। এতে সার্ক সদস্যভুক্ত দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
সার্কের কর্মকাণ্ডকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সবার মনে রাখা দরকার, সার্ক ও ইইউর গঠনতন্ত্র আলাদা। কাজেই এ দুই সংস্থার কর্মপদ্ধতিও আলাদা হবে এটাই স্বাভাবিক। ইইউর সঙ্গে সার্কের তুলনা করার ক্ষেত্রে এটাও মনে রাখা দরকার, অনেক পথ পাড়ি দিয়ে ইইউকে আজকের অবস্থানে আসতে হয়েছে। ইইউভুক্ত দেশগুলোয় একসময় যুদ্ধ লেগেই থাকত। সেসব যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির কথা ইউরোপবাসী আজও ভুলতে পারেনি। অনেক রক্ত ঝরার পর তারা বুঝতে পেরেছে, সহযোগিতার মূল্যই সবচেয়ে বেশি। এ নতুন উপলব্ধিই ইউরোপবাসীর চলার গতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আলাদা সচিবালয় ও সংসদ রয়েছে। ইইউর অধীনে বর্তমানে যে ব্যাপক কর্মকাণ্ড চলছে তার মাধ্যমে ইইউভুক্ত সব দেশই উপকৃত হচ্ছে। ইইউ এখন ইউরোপের বাইরেও বিভিন্ন দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জনগণের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা রাখার বিষয়েও সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। এটা এখন সবার কাছেই স্পষ্ট, সার্ককে গতিশীল করতে এ সংস্থার শীর্ষ বৈঠকগুলো যাতে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় তা নিশ্চিত করা দরকার। নিয়মিত শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি অল্প সময়ের নোটিশেও যাতে সার্কের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, এ ধারা চালু হলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গতি আসবে।
মিডিয়ায় প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিভিন্ন নিবন্ধ থেকে বোঝা যায়, কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন সামনে রেখে এ সংস্থার প্রতি এ অঞ্চলের মানুষের আগ্রহে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। সার্ক শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন তৎপরতা থেকে এটাই স্পষ্ট হয়, এ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি চুক্তি সই হবে, যা এ অঞ্চলের বিনিয়োগ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে যোগাযোগ ও জ্বালানি খাতের চুক্তিগুলো সার্কভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়নে দীর্র্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২.
সমগ্র বিশ্বে যেভাবে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চলছে, এতে আগামীতে জ্বালানি সংকট কতটা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে বহুবার সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তাই আগামীতে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করলেও সার্কভুক্ত দেশগুলো যাতে ওই সংকট সফলভাবে মোকাবেলা করতে পারে, এ বিষয়েও এ অঞ্চলের দেশগুলোর সব ধরনের প্রস্তুতি থাকা দরকার। সম্প্রতি বাংলাদেশে যে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল- জ্বালানি নিরাপত্তাবিষয়ক চুক্তি এ ধরনের যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আঞ্চলিক গ্রিডলাইন স্থাপনের বিষয়টি অনেক দিন ধরে আলোচিত হলেও এ ইস্যুতে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। জ্বালানি নিরাপত্তাবিষয়ক এ চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের দেশগুলোতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়বে। জ্বালানি নিরাপত্তাবিষয়ক আঞ্চলিক সহযোগিতা অক্ষুণ্ন থাকলে পাইপলাইনের মাধ্যমে হাজার মাইল দূরের দেশ থেকেও যৌক্তিক দামে গ্যাস আমদানি করা যায়, যা শিল্প খাতে ব্যবহার করাও লাভজনক হবে। এককভাবে কোনো দেশ এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা চিন্তাও করবে না। কারণ এতে বিপুল অর্থের অপচয় হবে। ফলে পণ্যের উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাবে।
সম্প্রতি মিডিয়ায় প্রকাশিত নেপালের বাণিজ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার থেকেও স্পষ্ট হচ্ছে, এবারের সার্ক সম্মেলনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হবে। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি আনুষঙ্গিক আরও অনেক বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি সার্ক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও বিভিন্ন আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। সার্ক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মতো এ ধরনের অন্য প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে তা সার্কভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
যোগাযোগ খাতের চুক্তি নিয়ে বর্তমানে যেসব আলোচনা চলছে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সার্কভুক্ত দেশগুলোতে পর্যটনের সম্ভাবনা আরও বাড়বে। কেবল অবকাঠামোগত বাধার কারণে হিমালয় থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত পর্যটনের বিশেষ সম্ভাবনাটি আলোর মুখ দেখছে না। ১৯৮৫ সালের শেনজেন চুক্তির (Schengen Agreement) মাধ্যমে ইইউর কয়েকটি রাষ্ট্রে পাসপোর্টবিহীন সীমান্তের নতুন ধারণা সৃষ্টি হয়। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে যেমন নতুন গতি এসেছে, তেমনি পর্যটন খাতে বিভিন্ন দেশের উপকৃত হওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ১৯৯২ সালে নেদারল্যান্ডসে ম্যাসট্রিখটে স্বাক্ষরিত এক চুক্তির মাধ্যমে ইইউর সদস্য দেশগুলো একক মুদ্রার আওতায় বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছে। বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আসিয়ানের (The Association of Southeast Asian Nation) নামও গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। ১৯৮৫ সালে সার্ক গঠনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সদস্য দেশগুলোর জনগণের জীবন মানের উন্নয়নের পাশাপাশি এ অঞ্চলের জনগণের পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ককে দৃঢ় করা। সার্কের প্রতিটি সম্মেলনে বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা সুদৃঢ় করার ঘোষণা এলেও প্রকৃতপক্ষে সার্কের ধীরগতির বিষয়টি দুঃখজনক।
৩.
সার্কের অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে যত হতাশাই ব্যক্ত করা হোক না কেন- এ অঞ্চলের দেশগুলোর মানুষের সার্বিক জীবনমানের দ্রুত উন্নয়নে এ সংস্থা যে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে এতে কোনো সন্দেহ নেই। ইইউর সঙ্গে তুলনা করে সার্ক সনদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে যেসব সমালোচনা রয়েছে- সেসব বিবেচনায় নিয়ে সার্ক সনদ পরিবর্তনের বিষয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতৃবৃন্দকে নতুন করে ভাবতে হবে। এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের প্রধান বাধা দারিদ্র্য। এ সমস্যা দূর করার জন্য প্রতিটি দেশেই চলছে বহুমুখী তৎপরতা। এর পাশাপাশি সার্কের আওতায় এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে বাকি বিশ্বের তুলনায় এ অঞ্চলের কোনো দেশের মানুষ পিছিয়ে না থাকে। মাত্র কয়েক দশক আগেও সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল আমাদের মতোই। সিঙ্গাপুরের দ্রুত অগ্রগতির পেছনে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতা।
বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক কার্যক্রমের পরিধি বেড়েই চলেছে। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার তুলনায় বহুপক্ষীয় সহযোগিতার সুফলের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক সংস্থার কার্যক্রমের পরিধিও দ্রুত বাড়ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন নতুন প্রযুক্তি যেমন মানুষের সামনে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করছে, একই সঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহারের আশংকাও বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে অপরাধীরা যাতে এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে সক্রিয় হতে না পারে এ ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যকার বহুমুখী সম্পর্ক যত জোরদার হবে, অপরাধীদের অপতৎপরতার সুযোগ তত কমবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার সব সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য যথাযথ উদ্যোগ নেবে, এটাই সবার প্রত্যাশা।
৪.
কোনো একটি অঞ্চলের কিছু দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কাক্সিক্ষত গতির অভাব স্পষ্ট হলে এ নিয়ে সমগ্র বিশ্ববাসীর উদ্বেগ বাড়ে। ইবোলা ভাইরাসের মতো যে কোনো নতুন চ্যালেঞ্জ বিশ্ববাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বের প্রত্যেক সচেতন মানুষেরই প্রত্যাশা- বিশ্বের সব অঞ্চলের মানুষ সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের আওতায় আসুক। পিছিয়ে পড়া যে কোনো মানুষের দ্রুত উন্নয়নের জন্য মানসম্মত শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। কাজেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সার্কভুক্ত দেশগুলো বিশেষ উদ্যোগ নেবে- এটাও সবার প্রত্যাশা। মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হলে বয়স্ক ব্যক্তিদের মাঝেও ব্যাপক উৎসাহের সঞ্চার হবে, যা প্রতিটি দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
১৭ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বে সব ধরনের ক্যান্সারে যত মানুষ মারা যায় তার ২৭ শতাংশ চীনের। অথচ চীনে বসবাস করে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনে ২০১৩ সালে মাথাপিছু আয় ছিল নয় হাজার মার্কিন ডলারের বেশি- যা সার্কভুক্ত সব দেশের মাথাপিছু আয় থেকে বেশি। চীনে ক্যান্সারে মৃত্যুর সংখ্যাটি বিবেচনায় নিলেই স্পষ্ট হয়- স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন জটিল সমস্যা সফলভাবে মোকাবেলার জন্য এ অঞ্চলের দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা কত জরুরি। ক্যান্সারসহ অন্যান্য জটিল রোগের বিরুদ্ধে সার্কভুক্ত দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলের কোনো রোগীকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যেতে হবে না।
৫.
যে কোনো ফসলের উচ্চফলনশীল জাতের প্রতি সমগ্র বিশ্বে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে শস্যের পুরনো অনেক জাত ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে। আগামীতে যে কোনো সময় কোনো অনিবার্য কারণে নতুন জাতের পাশাপাশি পুরনো জাতের আবাদও জরুরি হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু
ততদিনে দু-একটি জাত ছাড়া পুরনো জাতগুলো যে হারিয়ে যাবে এটা জোর দিয়েই বলা যায়। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায়ও সার্ককে উদ্যোগ নিতে হতে পারে। অপ্রচলিত জাতের শস্যের বীজ সংরক্ষণের মতো আপাতদৃষ্টিতে কম গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডকেও সার্কের আওতাভুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ সার্কের কর্মকাণ্ডকে এমনভাবে বিস্তৃত করতে হবে যাতে আগামীতে সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতি এ অঞ্চলের দেশগুলো সফলভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়। বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষণের মতো কাজগুলোকেও সার্কের আওতাভুক্ত করা দরকার।
বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ সামুদ্রিক ঝড়-পরবর্তী পরিস্থিতি কী করে মোকাবেলা করবে, তা নিয়ে এখনও আতংকে থাকে। সিডর, আইলায় যারা সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছে- সেই মানুষগুলোর ক্ষতিপূরণের উপায় কী? বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ প্রত্যাশিত হারে কমছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে আগামী দিনগুলোতে জলবায়ু উদ্বাস্তুসহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে বিশ্ব সম্প্রদায় অনেক প্রতিশ্র“তি দিলেও সেসব প্রতিশ্রুতির বেশির ভাগই আলোর মুখ দেখেনি। এ প্রেক্ষাপটে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনে সার্কের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। এ অঞ্চলের কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সার্কের উদ্যোগে কৃষি খাতের গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। প্রাণিসম্পদ সুরক্ষার জন্যও বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়নে এমন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে যাতে তাদের সরাসরি উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়।
৬.
১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে সড়ক ও রেলপথে বহুমাত্রিক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে- এ চুক্তির মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর বহুমাত্রিকভাবে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হবে। ইতিমধ্যে মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, উল্লিখিত চুক্তির আওতায় এক দেশের পণ্য ও যাত্রীবাহী বাহন অন্য দেশে যাবে এবং অন্য দেশের মধ্য দিয়ে তৃতীয় দেশের পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে পণ্য আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে যে সুবিধা সৃষ্টি হবে, তাতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে।
আমরা জেনেছি, নেপাল ও ভুটান বাংলাদেশের মংলা বন্দর ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে আমদানিকৃত কয়লার ওপর ভিত্তি করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে- তার বাস্তবায়ন শুরু হলে নেপাল ও ভুটান মংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পাবে কিনা তা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে এবং সেই সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে কোন কোন দেশের আগ্রহ রয়েছে তা যাচাই করে দেখতে হবে। সড়ক ও রেলপথে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য আনা-নেয়া শুরু করার আগে অবকাঠামো খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করতে হবে।
৭.
পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য সারা বিশ্বে নানারকম পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের দেশগুলো অনেক
পিছিয়ে আছে। কেবল ভারতেই প্রতি বছর বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ পর্যটক আসে। সমন্বিত উদ্যোগ নিলে সার্কভুক্ত অন্য দেশগুলোতেও পর্যটন খাতে আয়ের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর জনগণ সার্কের সদস্য রাষ্ট্রগুলোয় যে কোনো উপলক্ষে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা না পেলে নিু আয়ের মানুষ দেশ ভ্রমণের কথা ভাবতেও পারবে না। তাই সীমিত আয়ের মানুষের সামর্থ্যরে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সার্কের আওতায় এমন পদক্ষেপ নেয়া দরকার যাতে তারা কম খরচে সার্কভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণ করতে পারে।
এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য সার্কের আওতায় ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সেসব পদক্ষেপ সার্কভুক্ত দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে কী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে তা যাচাই করে বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিভিন্ন লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও প্রকৃতপক্ষে সেসব কয়েকদিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমিত থাকে এবং সেসব সম্মেলনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা থাকে নগণ্য। এসব সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনায় রেখে সার্কের আওতায় যে কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের কর্মসূচি এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে যাতে এসব কর্মসূচির প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ অব্যাহত থাকে। বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে কী ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে- এ বিষয়ে গবেষণাও অব্যাহত রাখতে হবে।
৮.
সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিপুলসংখ্যক শিশু অপুষ্টির শিকার, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এখনও মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত; একেকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর বিদ্যমান উদ্বাস্তুদের সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন অনেক উদ্বাস্তু। এসব মৌলিক সমস্যা দ্রুত সমাধানের ক্ষেত্রে সার্কের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বাজেট স্বল্পতার কারণে বড় ধরনের উদ্যোগ নেয়া সম্ভব না হলে প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে সার্কের আওতায় প্রতীকী উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হবে। তবে সেসব উদ্যোগ যেন দীর্ঘসময় প্রতীকী উদ্যোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে তার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর টেকসই উন্নয়নের বাধা দূর করতে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় তা বাস্তবায়নে ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়। এ অঞ্চলের দেশগুলোর সক্ষমতা দ্রুত না বাড়লে সার্কভুক্ত দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে এসব খাতে দ্রুত উন্নতি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তা এ অঞ্চলের দেশগুলোর সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কাজেই শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন খাতে এ অঞ্চলের দেশগুলো যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেদিকে সবাইকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। মহাকাশ গবেষণায় ভারত যে সাফল্যের পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছে- এ অঞ্চলের সব দেশ যাতে সে রকম ব্যতিক্রম সাফল্যের পরিচয় দিতে সক্ষম হয়, সেই লক্ষ সামনে রেখে বহুমুখী তৎপরতাও অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রতি বছর এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ থেকে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার জন্য প্রচুর মানুষ সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে যায়। এখন মালয়েশিয়ায়ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আধুনিক হাসপাতাল চালু হয়েছে। এসব হাসপাতালে রোগীরা কী কী আধুনিক সুবিধা পাবে সেসব তথ্য দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক স্বাস্থ্য প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়। এসব তথ্য থেকে এটাই স্পষ্ট হয়- মালয়েশিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করা মধ্যবিত্তের পক্ষে সম্ভব হবে না। কাজেই মধ্য ও নিু আয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হলে কম ব্যয়ে সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা জরুরি। সার্কভুক্ত দেশগুলোর যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে কম খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভবপর হয়ে উঠবে। এ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সার্কের আওতায় অত্যাধুনিক হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপিত হবে- এটাই সবার প্রত্যাশা।
সার্কভুক্ত দেশগুলো বিনিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশেষভাবে উপকৃত হওয়ার পথ খুঁজছে। তাদের মধ্যকার আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে কোনো কোনো পর্যবেক্ষক যত হতাশাই ব্যক্ত করুন- আশা করা যায়, আগামী দিনগুলোতে এ ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। বিভিন্ন সম্মেলনে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতৃবৃন্দ যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তা বাস্তবায়নে কেন দেরি হয়- তা চিহ্নিত করে সমস্যাগুলোর সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আগামী দিনগুলোয় সার্কভুক্ত দেশগুলোতে বহুমাত্রিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয় রোধে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
৯.
শিল্প বিপ্লবের পর থেকে সমগ্র বিশ্বের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়েছে। বর্তমানে দূষণ পরিস্থিতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। পরিবেশ দূষণ রোধে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত না রাখলে বিশ্ববাসীকে আগামীতে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে, বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে বারবার সতর্ক করে দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সার্কভুক্ত দেশগুলো এ অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনাসহ পানিসম্পদের সর্বোচ্চ ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সার্কভুক্ত দেশগুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো নদীর উজানে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যদি নদীর স্বাভাবিক স্রোত হারিয়ে যায়- এতে উজানের দেশটি সাময়িকভাবে উপকৃত হলেও একটি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে প্রকৃতপক্ষে উজানের দেশও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সম্প্রতি কয়েকটি দেশের একদল বিজ্ঞানী পৃথিবীজুড়ে সমুদ্রের বিভিন্ন এলাকায় বহুমাত্রিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এবং এক হাজার বছরের ইতিহাসের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এ আশংকা প্রকাশ করেছেন, দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সমুদ্র মাছের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থার অতিরিক্ত হারে মাছ ধরার বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৪৮ সালের মধ্যে পৃথিবীর সব সমুদ্র মৎস্যশূন্য হতে পারে। অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারে মিঠা পানির বিস্তীর্ণ অঞ্চল ইতিমধ্যে মৎস্যশূন্য হয়ে পড়েছে। আবাদি জমি বাড়ানোর ফলে স্বাভাবিকভাবেই মাছের বিচরণ ক্ষেত্র সংকুচিত হয়েছে। মাছের বিকল্প হিসেবে অন্য উৎস থেকে আমিষের চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা করা হলেও বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অনুপস্থিতিতে পরিবেশের যে বিপর্যয় হবে তা ঠেকানোর উপায় কী?
১০.
বিনিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় খোঁজার পাশাপাশি পৃথিবীতে বিভিন্ন উপকারী প্রাণীর সংখ্যা কত কমেছে এবং বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষণে কী করণীয়- এসব ব্যতিক্রমী বিষয়েও সার্কের গবেষণা অব্যাহত রাখতে হবে। জীববৈচিত্র্য নষ্ট হলে আগামীতে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে এবং তা মানবসভ্যতার জন্য কী হুমকি হয়ে দেখা দেবে- এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বহুবার সতর্ক করেছেন। বিজ্ঞানের এত অগ্রগতির পরও ইবোলা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের কেন এত দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করতে হচ্ছে, সার্কের আওতায় এসব বিষয়েও মৌলিক গবেষণার পরিধি বাড়াতে হবে। উন্নত কোনো দেশও যখন এসব বিষয়ে এককভাবে গবেষণা করে কাক্সিক্ষত সুফল পায় না, তখন স্পষ্ট হয় এ অঞ্চলের দেশগুলোর যৌথভাবে কাজ করা কত জরুরি। উন্নয়নশীল কোনো দেশে ইবোলা ভাইরাসের মতো সমস্যা সৃষ্টি হলে তা দেশটির অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং তা থেকে যে বহুমুখী সংকট সৃষ্টি হবে তাও সহজেই অনুমান করা যায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর বিভিন্ন সম্পদ কাজে লাগানোর পরিবেশবান্ধব উপায় খুঁজে বের করতে হবে। সার্ক সম্মেলনে এসব জরুরি বিষয়সহ বহুমুখী আলোচনা হলে এবং এ অঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সার্ক কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হলে এ সংস্থার প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে।
অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি : প্রকাশক, যুগান্তর
বর্তমানে যে কোনো দেশের দ্রুত উন্নতির ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়, সেসব এককভাবে মোকাবেলা করার চেয়ে যৌথভাবে মোকাবেলা করা অনেক সহজ। কোনো কোনো চ্যালেঞ্জ এককভাবে মোকাবেলা করতে গেলে অর্থনীতিতে কী অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে, ইবোলা ভাইরাসের দ্রুত বিস্তৃতিতে তা নতুন করে স্পষ্ট হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যেখানে বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, সেখানে আঞ্চলিক জোটকে প্রকৃতপক্ষে কার্যকর করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোই সবচেয়ে লাভজনক। সার্কের বিভিন্ন সম্মেলনে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। এ সংস্থার যে কোনো পর্যায়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে নেতৃবৃন্দ দূরদর্শিতার পরিচয় দেবেন, এটাই সবার প্রত্যাশা। এতে সার্ক সদস্যভুক্ত দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
সার্কের কর্মকাণ্ডকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সবার মনে রাখা দরকার, সার্ক ও ইইউর গঠনতন্ত্র আলাদা। কাজেই এ দুই সংস্থার কর্মপদ্ধতিও আলাদা হবে এটাই স্বাভাবিক। ইইউর সঙ্গে সার্কের তুলনা করার ক্ষেত্রে এটাও মনে রাখা দরকার, অনেক পথ পাড়ি দিয়ে ইইউকে আজকের অবস্থানে আসতে হয়েছে। ইইউভুক্ত দেশগুলোয় একসময় যুদ্ধ লেগেই থাকত। সেসব যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির কথা ইউরোপবাসী আজও ভুলতে পারেনি। অনেক রক্ত ঝরার পর তারা বুঝতে পেরেছে, সহযোগিতার মূল্যই সবচেয়ে বেশি। এ নতুন উপলব্ধিই ইউরোপবাসীর চলার গতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আলাদা সচিবালয় ও সংসদ রয়েছে। ইইউর অধীনে বর্তমানে যে ব্যাপক কর্মকাণ্ড চলছে তার মাধ্যমে ইইউভুক্ত সব দেশই উপকৃত হচ্ছে। ইইউ এখন ইউরোপের বাইরেও বিভিন্ন দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জনগণের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা রাখার বিষয়েও সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। এটা এখন সবার কাছেই স্পষ্ট, সার্ককে গতিশীল করতে এ সংস্থার শীর্ষ বৈঠকগুলো যাতে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় তা নিশ্চিত করা দরকার। নিয়মিত শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি অল্প সময়ের নোটিশেও যাতে সার্কের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, এ ধারা চালু হলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গতি আসবে।
মিডিয়ায় প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিভিন্ন নিবন্ধ থেকে বোঝা যায়, কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন সামনে রেখে এ সংস্থার প্রতি এ অঞ্চলের মানুষের আগ্রহে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। সার্ক শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন তৎপরতা থেকে এটাই স্পষ্ট হয়, এ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি চুক্তি সই হবে, যা এ অঞ্চলের বিনিয়োগ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে যোগাযোগ ও জ্বালানি খাতের চুক্তিগুলো সার্কভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়নে দীর্র্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২.
সমগ্র বিশ্বে যেভাবে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চলছে, এতে আগামীতে জ্বালানি সংকট কতটা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে বহুবার সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তাই আগামীতে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করলেও সার্কভুক্ত দেশগুলো যাতে ওই সংকট সফলভাবে মোকাবেলা করতে পারে, এ বিষয়েও এ অঞ্চলের দেশগুলোর সব ধরনের প্রস্তুতি থাকা দরকার। সম্প্রতি বাংলাদেশে যে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল- জ্বালানি নিরাপত্তাবিষয়ক চুক্তি এ ধরনের যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আঞ্চলিক গ্রিডলাইন স্থাপনের বিষয়টি অনেক দিন ধরে আলোচিত হলেও এ ইস্যুতে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। জ্বালানি নিরাপত্তাবিষয়ক এ চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের দেশগুলোতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়বে। জ্বালানি নিরাপত্তাবিষয়ক আঞ্চলিক সহযোগিতা অক্ষুণ্ন থাকলে পাইপলাইনের মাধ্যমে হাজার মাইল দূরের দেশ থেকেও যৌক্তিক দামে গ্যাস আমদানি করা যায়, যা শিল্প খাতে ব্যবহার করাও লাভজনক হবে। এককভাবে কোনো দেশ এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা চিন্তাও করবে না। কারণ এতে বিপুল অর্থের অপচয় হবে। ফলে পণ্যের উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাবে।
সম্প্রতি মিডিয়ায় প্রকাশিত নেপালের বাণিজ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার থেকেও স্পষ্ট হচ্ছে, এবারের সার্ক সম্মেলনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হবে। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি আনুষঙ্গিক আরও অনেক বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি সার্ক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও বিভিন্ন আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। সার্ক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মতো এ ধরনের অন্য প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে তা সার্কভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
যোগাযোগ খাতের চুক্তি নিয়ে বর্তমানে যেসব আলোচনা চলছে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সার্কভুক্ত দেশগুলোতে পর্যটনের সম্ভাবনা আরও বাড়বে। কেবল অবকাঠামোগত বাধার কারণে হিমালয় থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত পর্যটনের বিশেষ সম্ভাবনাটি আলোর মুখ দেখছে না। ১৯৮৫ সালের শেনজেন চুক্তির (Schengen Agreement) মাধ্যমে ইইউর কয়েকটি রাষ্ট্রে পাসপোর্টবিহীন সীমান্তের নতুন ধারণা সৃষ্টি হয়। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে যেমন নতুন গতি এসেছে, তেমনি পর্যটন খাতে বিভিন্ন দেশের উপকৃত হওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ১৯৯২ সালে নেদারল্যান্ডসে ম্যাসট্রিখটে স্বাক্ষরিত এক চুক্তির মাধ্যমে ইইউর সদস্য দেশগুলো একক মুদ্রার আওতায় বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছে। বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আসিয়ানের (The Association of Southeast Asian Nation) নামও গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। ১৯৮৫ সালে সার্ক গঠনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সদস্য দেশগুলোর জনগণের জীবন মানের উন্নয়নের পাশাপাশি এ অঞ্চলের জনগণের পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ককে দৃঢ় করা। সার্কের প্রতিটি সম্মেলনে বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা সুদৃঢ় করার ঘোষণা এলেও প্রকৃতপক্ষে সার্কের ধীরগতির বিষয়টি দুঃখজনক।
৩.
সার্কের অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে যত হতাশাই ব্যক্ত করা হোক না কেন- এ অঞ্চলের দেশগুলোর মানুষের সার্বিক জীবনমানের দ্রুত উন্নয়নে এ সংস্থা যে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে এতে কোনো সন্দেহ নেই। ইইউর সঙ্গে তুলনা করে সার্ক সনদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে যেসব সমালোচনা রয়েছে- সেসব বিবেচনায় নিয়ে সার্ক সনদ পরিবর্তনের বিষয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতৃবৃন্দকে নতুন করে ভাবতে হবে। এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের প্রধান বাধা দারিদ্র্য। এ সমস্যা দূর করার জন্য প্রতিটি দেশেই চলছে বহুমুখী তৎপরতা। এর পাশাপাশি সার্কের আওতায় এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে বাকি বিশ্বের তুলনায় এ অঞ্চলের কোনো দেশের মানুষ পিছিয়ে না থাকে। মাত্র কয়েক দশক আগেও সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল আমাদের মতোই। সিঙ্গাপুরের দ্রুত অগ্রগতির পেছনে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতা।
বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক কার্যক্রমের পরিধি বেড়েই চলেছে। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার তুলনায় বহুপক্ষীয় সহযোগিতার সুফলের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক সংস্থার কার্যক্রমের পরিধিও দ্রুত বাড়ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন নতুন প্রযুক্তি যেমন মানুষের সামনে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করছে, একই সঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহারের আশংকাও বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে অপরাধীরা যাতে এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে সক্রিয় হতে না পারে এ ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যকার বহুমুখী সম্পর্ক যত জোরদার হবে, অপরাধীদের অপতৎপরতার সুযোগ তত কমবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার সব সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য যথাযথ উদ্যোগ নেবে, এটাই সবার প্রত্যাশা।
৪.
কোনো একটি অঞ্চলের কিছু দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কাক্সিক্ষত গতির অভাব স্পষ্ট হলে এ নিয়ে সমগ্র বিশ্ববাসীর উদ্বেগ বাড়ে। ইবোলা ভাইরাসের মতো যে কোনো নতুন চ্যালেঞ্জ বিশ্ববাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বের প্রত্যেক সচেতন মানুষেরই প্রত্যাশা- বিশ্বের সব অঞ্চলের মানুষ সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের আওতায় আসুক। পিছিয়ে পড়া যে কোনো মানুষের দ্রুত উন্নয়নের জন্য মানসম্মত শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। কাজেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সার্কভুক্ত দেশগুলো বিশেষ উদ্যোগ নেবে- এটাও সবার প্রত্যাশা। মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হলে বয়স্ক ব্যক্তিদের মাঝেও ব্যাপক উৎসাহের সঞ্চার হবে, যা প্রতিটি দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
১৭ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বে সব ধরনের ক্যান্সারে যত মানুষ মারা যায় তার ২৭ শতাংশ চীনের। অথচ চীনে বসবাস করে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনে ২০১৩ সালে মাথাপিছু আয় ছিল নয় হাজার মার্কিন ডলারের বেশি- যা সার্কভুক্ত সব দেশের মাথাপিছু আয় থেকে বেশি। চীনে ক্যান্সারে মৃত্যুর সংখ্যাটি বিবেচনায় নিলেই স্পষ্ট হয়- স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন জটিল সমস্যা সফলভাবে মোকাবেলার জন্য এ অঞ্চলের দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা কত জরুরি। ক্যান্সারসহ অন্যান্য জটিল রোগের বিরুদ্ধে সার্কভুক্ত দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলের কোনো রোগীকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যেতে হবে না।
৫.
যে কোনো ফসলের উচ্চফলনশীল জাতের প্রতি সমগ্র বিশ্বে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে শস্যের পুরনো অনেক জাত ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে। আগামীতে যে কোনো সময় কোনো অনিবার্য কারণে নতুন জাতের পাশাপাশি পুরনো জাতের আবাদও জরুরি হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু
ততদিনে দু-একটি জাত ছাড়া পুরনো জাতগুলো যে হারিয়ে যাবে এটা জোর দিয়েই বলা যায়। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায়ও সার্ককে উদ্যোগ নিতে হতে পারে। অপ্রচলিত জাতের শস্যের বীজ সংরক্ষণের মতো আপাতদৃষ্টিতে কম গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডকেও সার্কের আওতাভুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ সার্কের কর্মকাণ্ডকে এমনভাবে বিস্তৃত করতে হবে যাতে আগামীতে সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতি এ অঞ্চলের দেশগুলো সফলভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়। বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষণের মতো কাজগুলোকেও সার্কের আওতাভুক্ত করা দরকার।
বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ সামুদ্রিক ঝড়-পরবর্তী পরিস্থিতি কী করে মোকাবেলা করবে, তা নিয়ে এখনও আতংকে থাকে। সিডর, আইলায় যারা সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছে- সেই মানুষগুলোর ক্ষতিপূরণের উপায় কী? বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ প্রত্যাশিত হারে কমছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে আগামী দিনগুলোতে জলবায়ু উদ্বাস্তুসহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে বিশ্ব সম্প্রদায় অনেক প্রতিশ্র“তি দিলেও সেসব প্রতিশ্রুতির বেশির ভাগই আলোর মুখ দেখেনি। এ প্রেক্ষাপটে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনে সার্কের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। এ অঞ্চলের কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সার্কের উদ্যোগে কৃষি খাতের গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। প্রাণিসম্পদ সুরক্ষার জন্যও বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়নে এমন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে যাতে তাদের সরাসরি উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়।
৬.
১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে সড়ক ও রেলপথে বহুমাত্রিক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে- এ চুক্তির মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর বহুমাত্রিকভাবে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হবে। ইতিমধ্যে মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, উল্লিখিত চুক্তির আওতায় এক দেশের পণ্য ও যাত্রীবাহী বাহন অন্য দেশে যাবে এবং অন্য দেশের মধ্য দিয়ে তৃতীয় দেশের পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে পণ্য আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে যে সুবিধা সৃষ্টি হবে, তাতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে।
আমরা জেনেছি, নেপাল ও ভুটান বাংলাদেশের মংলা বন্দর ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে আমদানিকৃত কয়লার ওপর ভিত্তি করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে- তার বাস্তবায়ন শুরু হলে নেপাল ও ভুটান মংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পাবে কিনা তা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে এবং সেই সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে কোন কোন দেশের আগ্রহ রয়েছে তা যাচাই করে দেখতে হবে। সড়ক ও রেলপথে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য আনা-নেয়া শুরু করার আগে অবকাঠামো খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করতে হবে।
৭.
পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য সারা বিশ্বে নানারকম পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের দেশগুলো অনেক
পিছিয়ে আছে। কেবল ভারতেই প্রতি বছর বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ পর্যটক আসে। সমন্বিত উদ্যোগ নিলে সার্কভুক্ত অন্য দেশগুলোতেও পর্যটন খাতে আয়ের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর জনগণ সার্কের সদস্য রাষ্ট্রগুলোয় যে কোনো উপলক্ষে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা না পেলে নিু আয়ের মানুষ দেশ ভ্রমণের কথা ভাবতেও পারবে না। তাই সীমিত আয়ের মানুষের সামর্থ্যরে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সার্কের আওতায় এমন পদক্ষেপ নেয়া দরকার যাতে তারা কম খরচে সার্কভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণ করতে পারে।
এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য সার্কের আওতায় ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সেসব পদক্ষেপ সার্কভুক্ত দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে কী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে তা যাচাই করে বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিভিন্ন লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও প্রকৃতপক্ষে সেসব কয়েকদিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমিত থাকে এবং সেসব সম্মেলনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা থাকে নগণ্য। এসব সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনায় রেখে সার্কের আওতায় যে কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের কর্মসূচি এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে যাতে এসব কর্মসূচির প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ অব্যাহত থাকে। বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে কী ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে- এ বিষয়ে গবেষণাও অব্যাহত রাখতে হবে।
৮.
সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিপুলসংখ্যক শিশু অপুষ্টির শিকার, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এখনও মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত; একেকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর বিদ্যমান উদ্বাস্তুদের সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন অনেক উদ্বাস্তু। এসব মৌলিক সমস্যা দ্রুত সমাধানের ক্ষেত্রে সার্কের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বাজেট স্বল্পতার কারণে বড় ধরনের উদ্যোগ নেয়া সম্ভব না হলে প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে সার্কের আওতায় প্রতীকী উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হবে। তবে সেসব উদ্যোগ যেন দীর্ঘসময় প্রতীকী উদ্যোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে তার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর টেকসই উন্নয়নের বাধা দূর করতে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় তা বাস্তবায়নে ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়। এ অঞ্চলের দেশগুলোর সক্ষমতা দ্রুত না বাড়লে সার্কভুক্ত দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে এসব খাতে দ্রুত উন্নতি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তা এ অঞ্চলের দেশগুলোর সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কাজেই শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন খাতে এ অঞ্চলের দেশগুলো যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেদিকে সবাইকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। মহাকাশ গবেষণায় ভারত যে সাফল্যের পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছে- এ অঞ্চলের সব দেশ যাতে সে রকম ব্যতিক্রম সাফল্যের পরিচয় দিতে সক্ষম হয়, সেই লক্ষ সামনে রেখে বহুমুখী তৎপরতাও অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রতি বছর এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ থেকে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার জন্য প্রচুর মানুষ সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে যায়। এখন মালয়েশিয়ায়ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আধুনিক হাসপাতাল চালু হয়েছে। এসব হাসপাতালে রোগীরা কী কী আধুনিক সুবিধা পাবে সেসব তথ্য দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক স্বাস্থ্য প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়। এসব তথ্য থেকে এটাই স্পষ্ট হয়- মালয়েশিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করা মধ্যবিত্তের পক্ষে সম্ভব হবে না। কাজেই মধ্য ও নিু আয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হলে কম ব্যয়ে সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা জরুরি। সার্কভুক্ত দেশগুলোর যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে কম খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভবপর হয়ে উঠবে। এ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সার্কের আওতায় অত্যাধুনিক হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপিত হবে- এটাই সবার প্রত্যাশা।
সার্কভুক্ত দেশগুলো বিনিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশেষভাবে উপকৃত হওয়ার পথ খুঁজছে। তাদের মধ্যকার আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে কোনো কোনো পর্যবেক্ষক যত হতাশাই ব্যক্ত করুন- আশা করা যায়, আগামী দিনগুলোতে এ ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। বিভিন্ন সম্মেলনে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতৃবৃন্দ যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তা বাস্তবায়নে কেন দেরি হয়- তা চিহ্নিত করে সমস্যাগুলোর সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আগামী দিনগুলোয় সার্কভুক্ত দেশগুলোতে বহুমাত্রিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয় রোধে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
৯.
শিল্প বিপ্লবের পর থেকে সমগ্র বিশ্বের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়েছে। বর্তমানে দূষণ পরিস্থিতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। পরিবেশ দূষণ রোধে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত না রাখলে বিশ্ববাসীকে আগামীতে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে, বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে বারবার সতর্ক করে দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সার্কভুক্ত দেশগুলো এ অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনাসহ পানিসম্পদের সর্বোচ্চ ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সার্কভুক্ত দেশগুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো নদীর উজানে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যদি নদীর স্বাভাবিক স্রোত হারিয়ে যায়- এতে উজানের দেশটি সাময়িকভাবে উপকৃত হলেও একটি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে প্রকৃতপক্ষে উজানের দেশও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সম্প্রতি কয়েকটি দেশের একদল বিজ্ঞানী পৃথিবীজুড়ে সমুদ্রের বিভিন্ন এলাকায় বহুমাত্রিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এবং এক হাজার বছরের ইতিহাসের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এ আশংকা প্রকাশ করেছেন, দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সমুদ্র মাছের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থার অতিরিক্ত হারে মাছ ধরার বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৪৮ সালের মধ্যে পৃথিবীর সব সমুদ্র মৎস্যশূন্য হতে পারে। অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারে মিঠা পানির বিস্তীর্ণ অঞ্চল ইতিমধ্যে মৎস্যশূন্য হয়ে পড়েছে। আবাদি জমি বাড়ানোর ফলে স্বাভাবিকভাবেই মাছের বিচরণ ক্ষেত্র সংকুচিত হয়েছে। মাছের বিকল্প হিসেবে অন্য উৎস থেকে আমিষের চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা করা হলেও বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অনুপস্থিতিতে পরিবেশের যে বিপর্যয় হবে তা ঠেকানোর উপায় কী?
১০.
বিনিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় খোঁজার পাশাপাশি পৃথিবীতে বিভিন্ন উপকারী প্রাণীর সংখ্যা কত কমেছে এবং বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষণে কী করণীয়- এসব ব্যতিক্রমী বিষয়েও সার্কের গবেষণা অব্যাহত রাখতে হবে। জীববৈচিত্র্য নষ্ট হলে আগামীতে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে এবং তা মানবসভ্যতার জন্য কী হুমকি হয়ে দেখা দেবে- এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বহুবার সতর্ক করেছেন। বিজ্ঞানের এত অগ্রগতির পরও ইবোলা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের কেন এত দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করতে হচ্ছে, সার্কের আওতায় এসব বিষয়েও মৌলিক গবেষণার পরিধি বাড়াতে হবে। উন্নত কোনো দেশও যখন এসব বিষয়ে এককভাবে গবেষণা করে কাক্সিক্ষত সুফল পায় না, তখন স্পষ্ট হয় এ অঞ্চলের দেশগুলোর যৌথভাবে কাজ করা কত জরুরি। উন্নয়নশীল কোনো দেশে ইবোলা ভাইরাসের মতো সমস্যা সৃষ্টি হলে তা দেশটির অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং তা থেকে যে বহুমুখী সংকট সৃষ্টি হবে তাও সহজেই অনুমান করা যায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর বিভিন্ন সম্পদ কাজে লাগানোর পরিবেশবান্ধব উপায় খুঁজে বের করতে হবে। সার্ক সম্মেলনে এসব জরুরি বিষয়সহ বহুমুখী আলোচনা হলে এবং এ অঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সার্ক কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হলে এ সংস্থার প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে।
অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি : প্রকাশক, যুগান্তর
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1338)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
November
(2026)
-
▼
Nov 25
(56)
- ‘শেখ মুজিব কথা রাখেননি বলেই জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক’
- ঢাকায় আর কোনো যুদ্ধাপরাধীর জানাজা নয়: মুক্তিযুদ্...
- সর্বক্ষেত্রে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে হবে : শিবির স...
- কেউ লতিফের জানাযা পড়বে না, ইমামতি করবে না : সংসদে ...
- ‘২০১৯ সালের আগে নির্বাচনের ট্রেন আসবে না’ -নাসিম
- লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে
- ১৮র আগে বিয়ে নয়, ২০ হলে ভালো হয় by রঞ্জন কর্মকার
- ধর্ম, সেক্যুলারিজম ও রাজনীতি by ড. মাহবুব উল্লাহ্
- সার্কের অগ্রগতি ও জনপ্রত্যাশা by সালমা ইসলাম
- শ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হবেন হিলারি : ওবামা
- ভারতে বিচারের মুখোমুখি ৩০০ বিচারক
- ১৩ বছরে গড়াল ইরান ছয় জাতি আলোচনা
- পুরুষ কমছে বাড়ছে নারী
- মহাকাশে ইতিহাস গড়লেন প্রথম ইতালীয় নারী
- ২০ সালে পাকিস্তানে ২০০ পরমাণু অস্ত্র
- সরকারের সমর্থনেই লতিফ সিদ্দিকী দেশে
- শেখ হাসিনাকে পশ্চিমবঙ্গে আমন্ত্রণ জানালেন মমতা
- কারও দিকে না তাকিয়ে ব্যবস্থা নিন : প্রধানমন্ত্রী
- প্রতিভা পরীক্ষায় রোবট
- নতুন চার্জশিটেও নাম নেই সব ষড়যন্ত্রকারীর
- যুবকের সম্পত্তি রাষ্ট্রের দখলে নেয়ার সুপারিশ
- এমপি গ্রেফতারে স্পিকারের অনুমতি লাগে না
- বিদ্যুৎ সহযোগিতা চুক্তির সম্ভাবনা
- লতিফের সব ফাইল যাচ্ছে দুদকে
- রাজাকার কমান্ডার মোবারকের ফাঁসি
- লতিফ কেন অধরা
- ব্রহ্মপুত্র নদে চীনের বাঁধ, ক্ষতির আশঙ্কা তিন দেশে
- সন্তান স্কুলে ভর্তি করাতে শিক্ষামন্ত্রীও সাক্ষাৎকারে
- গলতে পারে ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কের বরফ!
- বেশি ফলে বিষণ্ণতা বাড়ে!
- রিভিউ আবেদনের সুযোগ পাবেন মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ড...
- লতিফের ফেরার ব্যাপারে অবগত ছিল সরকার
- কফির উপকারিতা
- আরব বসন্তের ফুল ফুটল তিউনিসিয়ায়
- কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমার জীবনটাই নষ্ট করে দি...
- ছাত্রলীগের দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ৫ দিন- ভি...
- সবই পারে ঢাবি ছাত্রলীগ
- তাজরীন অগ্নিকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্তদের পুরো ক্ষতিপূরণ দে...
- কাঠমান্ডুতে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন কাল
- চট্টগ্রামে চলছে নিয়োগ বাণিজ্য by মহিউদ্দীন জুয়েল
- নিজের যেসব দোষে স্মৃতিশক্তি হারাচ্ছেন
- বেগম খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ
- সুরঞ্জিতকে ছাত্রলীগের চ্যালেঞ্জ
- রাবি শিক্ষক খুন- কে এই পিন্টু ও মানিক
- লতিফকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছার ব্যবস্থা করে আইনশৃঙ্খ...
- সরকারের ১৭ বিভাগে ৬২০০ কোটি টাকার অনিয়ম -৫ বছরের অ...
- লতিফ সিদ্দিকী ফিরেছেন- বিমানবন্দর থেকে অজ্ঞাত স্থানে
- কি অপরাধ দিনমজুর মইদুরের?
- চট্টগ্রামে ৫ ‘জঙ্গি’ গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতাকে ন...
- গুলিবিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার আকুতি ‘আর বেঁচে থাকতে ইচ্...
- লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেপ্তার দাবিতে উত্তপ্ত সংসদ
- মোবারক হোসেনের মৃত্যুদণ্ড
- কারও দিকে না তাকিয়ে ব্যবস্থা নিন -প্রধানমন্ত্রী
- বৃটিশ পার্লামেন্টে ড. মুহাম্মদ ইউনূস
- আবদুল লতিফ সিদ্দিকী হঠাৎ ফেরায় নানা প্রশ্ন- গ্রেপ্...
- লতিফ সিদ্দিকী ইস্যুতে আলটিমেটাম
-
▼
Nov 25
(56)
-
▼
November
(2026)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment