‘সেক্স আইকন’ জেমস রদ্রিগেজের বর্ণিল প্রেম, পর্নো তারকার সঙ্গে সম্পর্ক এবং...
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ তাকে ৬ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ডের চুক্তিতে দলে ভেড়ায়। এই দলবদলই তার জীবনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। এরপর শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও নজর কাড়তে শুরু করেন জেমস রড্রিগেজ। নতুন খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার ফ্যাশন ব্র্যান্ড এক্সিতোর সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করেন তিনি। একই বছরে স্প্যানিশ সংস্করণের পিপল ম্যাগাজিন তাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময় পুরুষ’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর এক বছর পর নিজের জে১০ জেমস অন্তর্বাস ব্র্যান্ড বাজারে আনার সময় একটি ফটোশুটেও অংশ নেন তিনি। এরপর একের পর এক বাণিজ্যিক চুক্তি আসতে থাকে তার ঝুলিতে।
সে সময় জেমসের স্ত্রী ছিলেন দানিয়েলা ওসপিনা। ২০১৬ সালে তিনি অন্তর্বাস ব্র্যান্ড কেলভিন ক্লেইনের বৈশ্বিক শুভেচ্ছাদূত হন। বিভিন্ন বিলবোর্ডে তাকে শুধু ওই ব্র্যান্ডের অন্তর্বাস পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। কৈশোরেই দানিয়েলার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দানিয়েলা ছিলেন আর্সেনালের সাবেক তারকা এবং জেমসের কলম্বিয়ান সতীর্থ দাভিদ ওসপিনার বোন। পেশাদার ভলিবল খেলোয়াড় দানিয়েলাকে ২০১০ সালে বিয়ে করেন জেমস। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। তাদের সংসারে জন্ম নেয় এক কন্যাসন্তান। তার নাম রাখেন সালোমে। একসময় কলম্বিয়ার ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় দম্পতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন তারা।
কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেয়ার পর জেমসের ক্রমবর্ধমান খ্যাতি তাদের সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। জীবনের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার বদলে যেতে থাকায় দু’জনের দূরত্ব বাড়ে। অবশেষে ২০১৭ সালে ছয় বছরের বেশি সময়ের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তারা। এর আগেই মডেল হেলগা লাভেকাতির সঙ্গে জেমসের সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা যায়। পরে বায়ার্ন মিউনিখে ধারে খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তও সম্পর্কে ভাঙনের একটি কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দানিয়েলা জার্মানিতে যেতে আগ্রহী ছিলেন না।
একাকী জীবনে ফেরার পর জেমসের নাম বিভিন্ন নারীর সঙ্গে জড়িয়ে আলোচনায় আসে। ইনস্টাগ্রামে পরস্পরকে অনুসরণ করায় মার্কিন পর্নো তারকা কেন্দ্রা লাস্টের সঙ্গেও তার সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৮ সালে মায়ামি সফরে মডেল শ্যানন দে লিমার সঙ্গে পরিচয় হয় তার। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা মিউনিখে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। এক বছর পর গর্ভ ভাড়ার মাধ্যমে তাদের ছেলে স্যামুয়েলের জন্ম হয়। কিন্তু পরে জেমসের এভারটনে ধারে খেলা এবং পরবর্তীতে কাতারের আল-রাইয়ানে যোগ দেয়ার ফলে দূরত্ব তৈরি হয় তাদের সম্পর্কে। দীর্ঘ দূরত্বে সম্পর্কের চাপের কারণে ২০২১ সালে বিচ্ছেদ ঘটে তাদের।
পরবর্তীতে কলম্বিয়ান গায়িকা কারোল জি-এর সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশের পর তাদের সম্পর্ক নিয়েও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া ব্রাজিলিয়ান মডেল এরিকা শ্নাইডারের সঙ্গেও তার সম্পর্কের খবর প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানানো এবং প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত হওয়ার কারণে এই জল্পনা তৈরি হয়। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে কলম্বিয়ার একটি ম্যাচেও গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন শ্নাইডার। তবে গত বছরের শুরুতে কলম্বিয়ান মডেল লুইসা দুকের সঙ্গে জেমসের নতুন সম্পর্কের খবর প্রকাশিত হয়। মেজর লিগ সকারে যোগ দেয়ার পর মিনেসোটা টিম্বারউলভসের একটি এনবিএ ম্যাচে তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। কলম্বিয়ার গণমাধ্যমে এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে যে, জেমস তার পরিবারের সঙ্গে লুইসার পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। এমনকি সাম্প্রতিক কলম্বিয়া ম্যাচগুলোর ভিআইপি গ্যালারিতে জেমসের মেয়ে সালোমের সঙ্গেও লুইসাকে সময় কাটাতে দেখা গেছে।
এই গ্রীষ্মে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে নামার আগে জেমস হয়তো ফিরে তাকাবেন এক বর্ণিল কিন্তু অপূর্ণতার ছাপ থাকা ক্যারিয়ারের দিকে। তিনি কখনো ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম হৃদয়জয়ী তারকা হিসেবে নিজের আলাদা পরিচয় ঠিকই গড়ে তুলেছেন।
(সূত্র দ্য সান)

No comments