Showing posts with label সম্পাদকীয়. Show all posts
Showing posts with label সম্পাদকীয়. Show all posts

Saturday, May 10, 2025

ভারত-পাকিস্তান সংঘাত: নিয়ন্ত্রণ রেখার দু’পাড়ে শঙ্কিত মানুষ, পারমাণবিক যুদ্ধ হলে ক্ষতি কল্পনাতীত

বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তান ও ভারতের পাল্টাপাল্টি হামলায় শঙ্কিত দুইদিকের মানুষ। কোনো দিক থেকেই ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সীমান্তের উভয় দিকের স্কুল-কলেজ। ভারতের পাঞ্জাবে আগামী তিন দিন বন্ধ স্কুল, কলেজ। জম্মু ও কাশ্মীরে শুক্রবার স্কুল, কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ভারতের মিডিয়ার খবর, ভারত বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের তিনটি যুদ্ধবিমানকে? ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে ২টি জেএফ-১৭ এবং একটি রাফায়েল বিমান। একজন পাইলটকে জীবিত অবস্থায় আটক করা হয়েছে। এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেছেন, ভারতকর্তৃক পাকিস্তানের এফ-১৬ ও জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি অযৌক্তিক ও মিথ্যা। শুক্রবার  দেয়া ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে এ ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৮ ও ৯ই মে  মধ্যরাতে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী সমগ্র পশ্চিম সীমান্তে ড্রোন এবং অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করে একাধিক আক্রমণ চালায়।

জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্যবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ড্রোন হামলা কার্যকরভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ রেখায় উপযুক্ত জবাব দেয়া হয়েছে। পাকিস্তান আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে ভারতের প্রত্যাঘাতের জবাবে বুধবার রাতের পর বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের বিভিন্ন শহরের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ভারত। এরপরেই ভারত পাল্টা হামলা চালিয়েছে। একযোগে ইসলামাবাদ, লাহোর, করাচি, শিয়ালকোট, পেশোয়ার সহ পাকিস্তানের ১২টি শহরে হামলা চালায় তারা। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা ইসরাইলি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে বলা হয়েছে, ভারতের ১৫টি শহরকে লক্ষ্যবস্তু করার ব্যর্থ প্রচেষ্টার কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাত ৯টা নাগাদ পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীরের কিছু অংশে তীব্র আক্রমণ শুরু করে। নিয়ন্ত্রণ রেখা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর সীমান্তবর্তী এলাকা- আরএস পুরা, আরনিয়া, সাম্বা, হীরানগরে তীব্র গোলাবর্ষণ করা হয়। জম্মু ও কাশ্মীরের শীতকালীন রাজধানী জম্মুতে বিমান হামলার চেষ্টা হয়েছে। আরএস পুরা, আরনিয়া, সাম্বা, হীরানগরে  ভারী সামরিক স্থাপনা রয়েছে।

সংবাদ সংস্থা সূত্রে বলা হয়েছে, আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে; তবে ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট সেগুলোকে সফলভাবে প্রতিহত করে বলে ভারত দাবি করেছে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে পাঞ্জাবের পাঠানকোটও পাকিস্তানের তীব্র গোলাবর্ষণের শিকার হয়েছে। শহরটি একটি  কৌশলগত এলাকা এবং জম্মুর প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করে। জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো সম্পূর্ণ উচ্চ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। পাঞ্জাবের চণ্ডীগড়, ফিরোজপুর, মোহালি এবং গুরুদাসপুর এবং পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী আরেকটি রাজ্য রাজস্থানের কিছু অংশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, জম্মু, পঠানকোট, উধমপুরে পাকিস্তানের হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। কেউ হতাহত হননি বলেও জানানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে, প্রতিটি হামলার চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে। পাকিস্তানের হামলার আবহে ভারতের ২৪টি বিমানবন্দর বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে অমৃতসর, চণ্ডীগড়, শ্রীনগর, লুধিয়ানা, ভুন্টার, কিষেণগড়, পাতিয়ালা, সিমলা, কাংড়া-গগ্গল, ভাতিণ্ডা, জয়সলমের, যোধপুর, বিকানের, হলওয়ারা, পঠানকোট, জম্মু, লেহ্‌?, মুন্দ্রা, জামনগর, হিরাসর, পোরবন্দর, কেশোড়, কান্দলা, ভূজ। এদিকে, দ্রুত উত্তেজনা প্রশমিত করতে মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও রাতেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এজে জয়শঙ্করকে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন। আমেরিকার বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলেছেন। হিংসা থামানোর ডাক দিয়েছেন। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার জন্য সব রকম চেষ্টার আশ্বাস দিয়েছেন রুবিও।

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ আমাদের বিষয় নয়: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এই মন্তব্য করেন। ফক্স নিউজের ‘দ্য স্টোরি উইথ মার্থা ম্যাককালাম’ অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী এ দুই দেশের মধ্যে কোনো সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন নয় এবং সেখানকার কোনো যুদ্ধ ‘আমাদের বিষয় নয়’। ভান্স বলেন, আমরা চাই বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব শান্ত হোক। তবে দেশগুলোর ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু তাদের উত্তেজনা কমাতে উৎসাহ দিতে পারি, কিন্তু এমন একটি যুদ্ধে জড়াতে পারি না, যা মূলত আমাদের বিষয় নয় এবং যেটি নিয়ন্ত্রণ করার মতো অবস্থানে আমরা নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বৈশ্বিক কূটনৈতিক অঙ্গনে রাশিয়া-ইউক্রেন এবং হামাস-ইসরাইল যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার এ অঞ্চলে উত্তেজনা শুরু হলেও, বিশ্লেষক ও সাবেক কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ভারত ও পাকিস্তানকে নিজেদের মতো করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে দিতে পারে ওয়াশিংটন। এতে মার্কিন পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো চাপ আসার সম্ভাবনা কম। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা সামপ্রতিক বছরগুলোতে আরও বেড়েছে, বিশেষ করে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় নয়াদিল্লিকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। অপরদিকে, ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর পাকিস্তানের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব কিছুটা কমলেও দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রতা এখনো বহাল রয়েছে।

ভারতের ‘আগ্রাসনে’ পাকিস্তানের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও জবাবের হুঁশিয়ারি: ভারতের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পাকিস্তানের সামরিক, রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির ঘোষণা এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোস্তফা কামাল এবং আইএসপিআরের মহাপরিচালক  লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ  চৌধুরী একযোগে ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। দেশের নিরাপত্তা ও সেবামূলক কাঠামোকে সম্পূর্ণ সচল রাখার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেন, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে। তিনি ভারতের হামলায় ৩১ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকের শাহাদাত এবং ৫৭ জনের আহত হওয়ার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-কে জানান, পাকিস্তান নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ মূল্য দিতে প্রস্তুত।

পাকিস্তানের প্রতি এরদোগানের সহমর্মিতা: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। তিনি পাকিস্তানের জনগণ ও সরকারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। বলেছেন, উত্তেজনা বন্ধে সব প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তুরস্ক। তবে সতর্ক করেছেন।  বলেছেন, ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা-পাল্টা হামলার পর এই সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমাদের যেসব ভাই জীবন হারিয়েছেন আল্লাহর কাছে তাদের জন্য প্রার্থনা করি। পাকিস্তানের বন্ধুপ্রতিম জনগণ ও সরকারের প্রতি সহমর্মিতা জানাই।

ডনের সম্পাদকীয়: পারমাণবিক যুদ্ধ হলে ক্ষতি কল্পনাতীত, সংযত হওয়ার এখনই সময়
ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের সঙ্গে শত্রুতায় জড়িয়ে পড়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিমানবন্দরগুলো বন্ধ রয়েছে। পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বাজার ব্যবস্থা প্রান্তসীমায়। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইসরাইলে তৈরি ভারতের ২৫টি ড্রোন গুলি করে তারা ভূপাতিত করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারতের ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। ৭ই মে শুরুতেই আজাদ জম্মু কাশ্মীর ও পাঞ্জাবে আগ্রাসী হামলা চালিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে সিন্ধু সহ বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার ড্রোন হামলা জোরালো করেছে। ভারতীয় মিডিয়ায় দাবি করা হয়েছে যে, ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে বিভিন্ন টার্গেটে হামলা করেছে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তান সরকার তা অস্বীকার করেছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো পেহেলগাম হামলার অপ্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে ভারত। তারা কথিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করছে। জবাবে পাকিস্তান শুরুতে তাদের ৫টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, তার দেশ সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চায়। অন্যদিকে তার সেনাবাহিনী উত্তেজনা বৃদ্ধি না করার পক্ষে কথা বলেছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, এখনো উস্কানিমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। পাকিস্তানে এখনো তারা বেসামরিক লোকজনের জীবনকে বিপন্ন করছে। ফলে তাদের সংলাপ এবং উত্তেজনা না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি উচ্চ মাত্রায় প্রশ্নবিদ্ধ।  

বৃহস্পতিবার একটি ইতিবাচক ঘটনা ঘটেছে উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের বিবৃতিতে। তিনি বলেছেন, দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং ডিজিএমও’দের মধ্যে যোগাযোগ হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলো বিদেশি বন্ধুরা যখন সংযত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন, তখন সংকট নিরসনে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট উদাসীনতা দেখা গেছে। এই উদাসীনতা পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীদের জন্য শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়। একই সঙ্গে এই উত্তেজনা শুধু এই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। একই সঙ্গে তা পুরো দক্ষিণ এশিয়া এমনকি মধ্যপ্রাচ্যকে আক্রান্ত করতে পারে।

তাই ইসলামাবাদ এবং নয়াদিল্লির সঙ্গে জাতিসংঘ এবং যেসব দেশের ভালো সম্পর্ক আছে তাদের উচিত এই উত্তাপকে  ঠাণ্ডা করার জন্য ভূমিকা পালন করা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের প্রতিই সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। উপসাগরীয় দেশগুলো, ইরান এবং অন্যরা সহ বিদেশি শক্তিগুলোর উচিত একটি কূটনৈতিক সমাধানের  জন্য তাদের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করা।

উভয় দেশেই উগ্রপন্থা স্পষ্ট। কিন্তু  ভারতীয় মিডিয়া, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডল তাদের দেশের সংঘর্ষ নিয়ে মেতে আছে। সম্ভবত তারা যুদ্ধকে বলিউডের অ্যাকশন ফিল্মের মতো ভাবছে। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক বেশি অন্ধকারময়। এমনকি যদি একটি সাধারণ পর্যায়ের যুদ্ধ হয় তাহলে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি এবং অপরিসীম ক্ষতি হবে উভয়পক্ষে। উপরন্তু পারমাণবিক যুদ্ধ হলে কী ঘটে তা কল্পনার অতীত। তাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যুদ্ধের দিকে এই যাত্রা বন্ধ হোক। বিদেশি প্রচেষ্টার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে এবং ডিজিএমও’দের মধ্যে যোগাযোগ অবশ্যই অব্যাহত থাকা উচিত। এর লক্ষ্য হওয়া উচিত উত্তেজনা হ্রাস করা এবং আরও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া।
mzamin

Saturday, February 8, 2025

নিউ এজ’র সম্পাদকীয়: ইতিহাস মুছে ফেলে নতুন ইতিহাস লেখা যায় না

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ধানমন্ডির বাসভবনে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ভাঙচুরের ঘটনার পেছনে  সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরোক্ষ উসকানি রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আন্দোলনকারী ছাত্রদের একটি অংশের প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক আচরণ যারা  গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিল, ছয় মাস আগে হাসিনার কর্তৃত্ববাদী  শাসনের পতন ঘটায়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অপ্রতিরোধ্য গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা তার দলের ছাত্র সংঘটন  'ছাত্রলীগ' কর্তৃক গোপনীয়ভাবে পরিচালিত একটি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দিল্লি থেকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিনটি বেছে নেন। হাসিনার ১৫ বছরের  শাসনামলে  'ছাত্রলীগ'ও বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হয়ে কুখ্যাতি অর্জন করেছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী দিল্লি থেকে দেশে এবং বিদেশে তার দলের কর্মীদের কাছে ফোন করছিলেন যা ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ফাঁস করা হয়েছিল এবং এইভাবে, তিনি  জনগণের সহানুভূতি এবং সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। আশ্চর্যজনকভাবে প্রশ্নে, টেলিফোনিক কথোপকথনে, জুলাই আগস্টের আন্দোলনে  প্রায় এক হাজার মানুষকে হত্যা করার জন্য (যাদের বেশিরভাগই যুবক) এবং প্রায় ২০ হাজার  মানুষকে নৃশংসভাবে আহত করার জন্য কোনো   অনুশোচনা প্রকাশ করেননি।

আজকাল বিদেশ থেকে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা নিজেদের কোনো ভুল স্বীকার না করেই  বক্তৃতা দিচ্ছেন। নিজেদের অপরাধের কথা না বলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর সমালোচনা করছেন। এই পরিস্থিতিতে,  গোপনে থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্য ছাত্রদের একটি বড় অংশকে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ করে তোলে । বিশেষ করে যারা আগস্টের  গণঅভ্যুত্থানের প্রথম সারিতে ছিল।  তারাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রধান প্রতীক মুজিবের বাড়ি ভেঙে দেয়ার কর্মসূচি নিয়েছিল।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি  হিসেবে শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখেন এবং যথারীতি তিনি তার কোনো দোষ খুঁজে পাননি। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া, হাজার হাজার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কারাগারে পাঠানো , অনেক নাগরিককে অবৈধভাবে আটক করা এবং জোরপূর্বক গুম করা, ব্যাংক খালি করার পাশাপাশি লুণ্ঠন ও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত ও দলীয় লাভের জন্য ব্যবহার করা - বক্তব্যে কোনো কিছুই তুলে ধরেননি হাসিনা। তরুণ আন্দোলনকারীরা, তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, মুজিবের ধানমন্ডির বাসায় গিয়ে হামলা করে। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দৃশ্যত নীরব ছিল, যা ব্যাপকভাবে জনগণের কাছে  ব্যাখ্যার  দাবি রাখে।

মুজিবের বাসা ভেঙে দেয়া হয়তো আওয়ামী  লীগ কর্মীদের কিছু সময়ের জন্য দমিয়ে রাখতে পারবে । কিন্তু  বিদেশে বসবাসকারী দলের কর্মীরা  এই ঘটনাটিকে  সহানুভূতি অর্জনের জন্য কাজে লাগাবে । তবে যে যুবকরা রাজনৈতিকভাবে বাসাটিকে ভাঙার নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের বুঝতে হবে যে, ঐতিহাসিক এই বাড়িটি একটি ‘জাতীয় সম্পত্তি’  ।  স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃত্ববাদী শাসনের সূচনা করেছিলেন তা সত্য, তবে এটাও সত্য যে, পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনকে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপান্তরিত করার জন্য তার মৌলিক অবদান ছিল।  বিশেষ করে  মুক্তিযুদ্ধের সময় বেশিরভাগ মানুষ তার আহ্বানে যুদ্ধের ময়দানে নেমেছিল।  শেষে বলতে হয় , 'ইতিহাস' মুছে ফেলার প্রচেষ্টা ইতিহাসকে এগিয়ে  নিয়ে যেতে  সহায়তা করে না।  বরং এটি  জনগণকে তার ঐতিহাসিকভাবে বৈধ লক্ষ্য অর্জনে বিভ্রান্ত করতে পারে।

mzamin

Sunday, August 25, 2024

বাংলাদেশে ছাত্রনেতাদের সামনে পরীক্ষা -টেলিগ্রাফের সম্পাদকীয়

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ এবং নির্বাসনে পাঠানোর মাধ্যমে অপ্রত্যাশিত জয় পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিবাদী ছাত্ররা। এখন তারা তাদের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যত কী হবে তা নিয়ে আলোচনা করছেন। বাংলাদেশে আধিপত্য বিস্তারকারী দুটি দল শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিএনপি। এই দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের কথা বিবেচনা করছেন ছাত্ররা। মৌলিকভাবে গণতন্ত্র হলো রাজনৈতিক পছন্দ বেছে নেয়ার সুযোগ। সুতরাং বাংলাদেশি জনগণের যেকোনো সুযোগকে, যেমন ছাত্রদের পরিচালিত পার্টিকে স্বাগত জানানো উচিত।

কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, যদি ছাত্ররা দেশে একটি অর্থপূর্ণ পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে টেকসই, দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক প্রচারণায় বিকশিত হতে চান, তাহলে উদ্দেশ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে তাদেরকে পরিবর্তনে সফলতা আনতে হবে। সুতরাং শিক্ষার্থীদের এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন যা, তাদের তাৎক্ষণিক  দাবির পাশাপাশি তাদের পলিসিগত লক্ষ্য পরিস্কারভাবে ফুটিয়ে তোলে, যেন তারা ভোটারদের সমর্থন চাইতে পারেন। এখন পর্যন্ত ভবিষ্যতের এসব রূপরেখা, যা তারা জাতির জন্য পরিকল্পনা করে- তা তুলে ধরেননি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এক্ষেত্রে অতীত যদি পথপ্রদর্শক হয়, তাহলে এই কাজ বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।

ছাত্র আন্দোলনে রাজনৈতিক পরিবর্তনের এ অঞ্চল এবং বিশ্বজুড়ে দীর্ঘ ইতিহাস আছে। ভারতে বিরোধীদের সঙ্গে ছাত্রদের আন্দোলনে ১৯৭৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পতন হয়েছিল।

লালু প্রসাদ যাদব, নীতিশ কুমারসহ ওই আন্দোলনের অনেক ছাত্রনেতা তারপর থেকে দীর্ঘ ও সফল রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়েছেন। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কথিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন। এর ফলে ১৯৮৫ সালে আসাম চুক্তি হয়। তারাই অসম গণপরিষদের ভিত্তি রচনা করে। এই দলটি ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যটি শাসন করেছে। এরপর ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসে।

অতি সম্প্রতি চিলিতে ছাত্র আন্দোলন থেকে নতুন রাজনৈতিক নেতাদের একটি প্রজন্ম সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে আছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট গাব্রিয়েল বোরিক। চিলিতে রোবিকের সরকার সমর্থিত একটি প্রগতিশীল নতুন সংবিধানের প্রচারণা পরাজিত হয় অথবা আসামে অসম গণপরিষদ তাদের মূল সংশ্লিষ্টতা থেকে হারিয়ে যায়। বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিবিদদেরকে নির্বাচনী গণতন্ত্রের পরীক্ষায় পাস করতে হবে। ভোটাররা যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা মেনে নিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। এটাও তাদের জন্য একটি পরীক্ষা। 

Tuesday, October 15, 2019

কিশোরী জায়রার উদাহরণ

মানুষ মানুষের পরিচয় মুছে দিতে চাইছে! এ কেমন সমাজ ও সভ্যতা? মানুষ তো পশু নয় যে, শুধু চারটা খেতে পারলেই সর্বসুখ। মানুষের আপন পরিচয় আছে, স্বকীয়তা আছে। এমন স্বাজাত্যের কারণেই মানব সমাজে বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। এই বৈচিত্র্য শুধু সৌন্দর্যের প্রতীকই নয়, মানবিক বিকাশের উপাদানও বটে। ভাবতে অবাক লাগে, কিছু দাম্ভিক মানুষও অপরিনামদর্শী উগ্রসমাজ কোনো কোনো জাতি-গোষ্ঠীর অস্তিত্ব মুছে দিতে চাইছে, চাইছে তাদের মুখে ভিন্ন ধর্ম-সংস্কৃতির স্লোগান তুলে দিতে। দমন-অবদমন এবং জোর-জবরদস্তির চিত্রটা এখানে খুবই উৎকট। তাই প্রশ্ন জাগে, মানব সভ্যতা এগুচ্ছে না পিছিয়ে যাচ্ছে? চীনে উইঘুর মুসলিম শিশুদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করাতে কোনো ধর্ম, সংস্কৃতি কিংবা মতবাদের বিজয় হতে পারে না। স্বাধীন মানবসত্ত্বার এমন অবদমন ও অবমাননাকে কোনো ধার্মিক কিংবা মুক্তবুদ্ধির মানুষ মেনে নিতে পারে না। কিন্তু আমরা মেনে নিচ্ছি কেমন করে? আসলেই আমরা মেনে নিচ্ছি কী?
অবদমনের মাধ্যমে আসলে মানুষকে জয় করা যায় না। মানুষকে জয় করতে প্রয়োজন মুক্ত পরিবেশ, উন্নত জীবন দর্শন ও আচরণ। মানব সমাজে প্রলোভন এবং বিভ্রান্তির পরিবেশও আছে। তবে যে মানুষ আপন বিবেককে, বিশ্বাসকে সম্মান করে; সে আখেরে মানুষই থেকে যায়। কোনো কিছুই তাকে জয় করতে পারে না। ঝলমলে এই জাহেলী সভ্যতায়ও তেমন উদাহরণ লক্ষ্য করা যায়। এ প্রসঙ্গে কিশোরী বলিউড অভিনেত্রী জায়রা ওয়াসিমের কথা উল্লেখ করা যায়। ঈমান অটুট রাখতে গত ৩০ জুন হঠাৎ করেই বলিউডের সিনেমায় অভিনয় ছেড়ে দেয়ার কথা ঘোষণা করলেন জায়রা। বিবিসি পরিবেশিত প্রতিবেদনটি ০১ জুলাই ঢাকার বিভিন্ন দৈনিকে গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছে।
আমির খান অভিনীত ‘দঙ্গল’ ও ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ ছবিতে অভিনয় করে আলোচিত হয়ে ওঠেন কাশ্মীরে জন্ম নেয়া ভারতীয় অভিনেত্রী জায়রা। খুব অল্প সময়েই তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। তবে ঘোষণায় তিনি বলেন, নিজস্ব এই পেশার ফলে ধর্ম ও বিশ্বাসের সাথে তার যে সম্পর্ক সেটা নষ্ট হচ্ছিল এবং এ কারণে তিনি মোটেও পরিতৃপ্ত ছিলেন না। জায়রা ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে অভিনয় ছেড়ে দেয়ার কথা জানালে সেটি সাথে সাথেই সোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে। জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী এই অভিনেত্রী তাতে লিখেছেন, ‘আমি হয়তো এখানে (বলিউড) পুরোপুরি ঠিক আছি। কিন্তু আমি এখানকার মানুষ নই।’ জায়রা ওয়াসিম আরো লিখেছেন, বলিউড আমাকে দুই হাত ভরে দিয়েছে। ভালোবাসা, সমর্থন, জীবন-যাপনের পদ্ধতি-সবকিছু। কিন্তু আমি যেভাবে কাজ করেছি, তাতে আমার ধর্মীয় বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ইসলামের সাথে আমার সম্পর্ক হুমকির মুখে পড়েছে। আল্লাহর সাথে আমার দূরত্ব বেড়েছে। আমার মানসিক শান্তি নষ্ট হয়েছে। আমি আমার জীবন থেকে বরকত হারিয়েছি।
জায়রা শেষে যে কথাগুলো লিখেছেন, তাতে উপলব্ধি করা যায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এবং সামাজিক চাপের মুখেও মানুষের ঈমান নিজেকে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করতে পারে। তিনি লিখেছেন, আমি ভুলতে বসেছিলাম, পৃথিবীতে আমাদের পাঠানোর উদ্দেশ্য। আর শেষ বাক্যে জায়রা জানিয়েছেন, মনের শান্তি ও ঈমানের বিনিময়ে এসব সফলতা, তারকাখ্যাতি, কর্তৃত্ব, সম্পদ কিছুই চান না তিনি। ১৮ বছর বয়সে জায়রা যে উপলব্ধির কথা প্রকাশ করলেন, বর্তমান সময়ে পরিণত বয়সের জ্ঞানী ও ক্ষমতাবান মুসলমানদের মধ্যে তেমন উপলব্ধি কতটা আছে? এমন প্রশ্নে আত্মসমালোচনা করলে মন্দ হয় না।

Wednesday, September 11, 2019

বিপজ্জনক ভবিষ্যৎ

১১ জুলাই যখন বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হচ্ছে, তখন পাকিস্তানের যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে পাকিস্তানের বিপজ্জনক ভবিষ্যতের চিত্র উঠে এসেছে। বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চম জনবহুল দেশ পাকিস্তানের জনসংখ্যা এমনভাবে বাড়ছে, যেটা চতুর্থ স্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ২০৩০ সাল নাগাদ সেখানে চলে যাবে পাকিস্তান। সেখানে যেতে ১০ বছরের সামান্য কিছু বেশি সময় বাকি রয়েছে। ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা ৭.৭ বিলিয়ন থেকে ৯.৭ বিলিয়ন হতে চলেছে এবং জাতিসংঘ যে হিসেব দেখিয়েছে, সে চিত্র অনুযায়ী যে নয়টি দেশের অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা বাড়ছে, তার মধ্যে পাকিস্তান একটি। পাকিস্তানের জনসংখ্যা এ মুহূর্তে ২১৭ মিলিয়ন। ২০১৭ সালে সবশেষ যে হিসেব ছিল, তার তুলনায় এটা ১২ মিলিয়ন (৫.৯%) বেশি।
জনসংখ্যার সাথে উন্নয়ন ও ব্যক্তির উন্নতির যে বিপরীত সম্পর্ক রয়েছে, সেখানে এই তথ্যগুলো পাকিস্তানের জন্য বিস্ফোরণোন্মুখ টাইম বোমার মতো অবস্থায় রয়েছে। যে দেশের অর্থনীতি দুর্বল, কর্মসংস্থানের অভাব প্রকট, খাদ্য ও পানির মতো সম্পদ সীমিত, এবং স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো মৌলিক সেবা যেখানে সীমিত হয়ে পড়েছে, সেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মাত্রা শুধু কমতেই দেখা যাবে। আমাদের মতো একটা উন্নয়নশীল দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২.১ শতাংশ, যেটা এই অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম বেশি, এটা নিশ্চিতভাবে টেকসই উন্নয়নের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যেখানে নারীদের সন্তান জন্মদানের হার ২.৬২ – যেটা দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তানের পরে দ্বিতীয় – সেখানে এটা স্পষ্ট যে, জরুরি পদক্ষেপ নেয়া না হলে দেশের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়তেই থাকবে, যেখানে জনগণকে সরবরাহ করার মতো সক্ষমতা রাষ্ট্রের থাকবে না।
সরকারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দেয়াটা জরুরি এবং সক্রিয়ভাবে পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ছড়িয়ে দেয়া উচিত। এটা দুঃখজনক যে বিগত সরকারগুলোর মধ্যে যে অনীহা ও ইচ্ছার অভাব চলে আসছে, সেটার কারণে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক প্রচারণা পিছিয়ে পড়েছে। এ ধরনের স্থবিরতা দেশের ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। সচেতনতামূলক অভিযান এবং বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণকে অবশ্যই হাসপাতাল ও কমিউনিটিগুলোতে পুণরায় চালু করতে হবে। নারী ও পুরুষদের জন্মনিরোধ, জন্ম বিরতি সম্পর্কে শিক্ষিত করতে হবে এবং অল্প বয়সে বিয়ের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করতে হবে। সরকারকে অবশ্যই কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দিতে হবে যাতে তারা আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে, যেটা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। বাংলাদেশের মতো দেশের কাছ থেকে এ ব্যাপারে অনেক কিছু শেখার আছে, যারা দ্বারে-দ্বারে গিয়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রচারণা চালানোর ক্ষেত্রে সাফল্য পেয়েছে। ইরানও এ ব্যাপারে সাফল্য পেয়েছে, যারা তাদের ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে এই বার্তা ছড়িয়েছে। অগ্রগতি যদি লক্ষ্য হয়, তাহলে সরকারের জনসংখ্যার সম্পর্কিত ভয়াবহ পরিস্থিতির বিষয়টি খোলামেলা স্বীকার করা ছাড়া এবং সময় থাকতেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। এখনই পদক্ষেপ নিতে ব্যার্থ হলে সেটা বহু মিলিয়ন নাগরিকের ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে ফেলবে।

পারিবারিক রাজনীতির সমাপ্তি ঘটছে ভারতীয় উপমহাদেশে

বৃটিশ শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বেশিরভাগ দক্ষিণ এশীয় দেশই পারিবারিক নেতৃত্বের সাধ পেয়েছে।  ভারতে স্বাধীনতার পর থেকে নেহরু-গান্ধী পরিবারের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস পার্টিই ক্ষমতায় ছিল বেশিরভাগ সময় ধরে, পাকিস্তানে ভুট্টো/জারদারি ও শরিফ পরিবার পালাক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছে বহু বছর, শ্রীলংকায় প্রথমে বন্দেরনায়েক ও পরে রাজাপাকসারাই ছিল নেতৃত্বের শীর্ষে। বাংলাদেশেও বেশিরভাগ সময় শেখ মুজিবুর রহরমান ও জিয়া উর-রহমানের পরিবারের দখলেই থেকেছে রাজনৈতিক পটভুমি।
পারিবারিক রাজনীতি দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাধান্য পেলেও সবসময় তার পরিণতি গৌরবান্বিত হয় না। পাকিস্তানের জুলফিকার আলি ভুট্টো ও তার কন্যা বেনজির ভুট্টোর মৃত্যুর দিকে তাকালেই তা বোঝা যায়। অন্যদিকে, ভারতে ইন্দিরা গান্ধী ও তার ছেলে রাজীব গান্ধীর খুনও সেদিকটাই ফুটিয়ে তোলে।
কখনো কখনো এক পরিবারের পতন থেকে শুরু হয় অন্যকোনো পরিবারের উত্থান। শ্রীলংকার পরিস্থিতির দিকে তাকালে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একসময় বন্দরনায়েকদের দখলে থাকা রাজনীতি এখন শাসন করছে রাজাপাকসারা।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসা তার ভাইদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
ইমরান ও মোদির উত্থান
দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর রাজনীতিতে পারিবারিক নেতৃত্বের অবসানের সবচেয়ে বড় নজির স্থাপন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের ইমরান খান। একজন হচ্ছেন সমাজসেবক ও অন্যজন সাবেক ক্রিকেটার। এছাড়া, কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে রাহুল গান্ধীর পদত্যাগও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। গত লোকসভা নির্বাচনে মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপির কাছে বিপুল ব্যবধানে হারে কংগ্রেস। এরপরই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০০৪ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করা রাহুলকে নিয়ে অনেকের ধারণাই ছিল, ভারতের যুব সম্প্রদায়ের ওপর তার বেশ প্রভাব থাকবে। কিন্তু ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনে টানা হারান তিনি। এতে প্রমাণ হয় যে, নিজের দলে তরুণদের টানতে ব্যর্থ হয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি। এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, অন্যান্যদের মতো রাজনীতিতে দোষ চাপানোর খেলায় নামেননি রাহুল। সরাসরি নিজের কাঁধে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে পদত্যাগ করেছেন।
আশা জাগিয়েছেন তিনি
নির্বাচনে সাফল্য না পেলেও, পদত্যাগ করে নিজের দলের ভবিষ্যৎ নেতাদের জন্য আশা জাগিয়েছেন রাহুল। পারিবারিক নেতৃত্ব থেকে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে গেছে কংগ্রেস। এখন, দলের ভার নেয়ার সুযোগ হয়েছে শিক্ষিত, নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পন্ন কোনো নেতার। আর সে নেতা গান্ধী পরিবারের বাইরে থেকেও আসতে পারে।
নিজের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে রাহুল নিজেকে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তার পদত্যাগপত্রে লেখা কথার মধ্য দিয়ে। লিখেছেন, ‘তারা যেখানে ভিন্নতা দেখে, আমি সেখানে সাদৃশ্য দেখি। তারা যেখানে ঘৃণা দেখে, আমি সেখানে ভালোবাসা দেখি। তারা যা ভয় পায়, আমি সেটাকে আলিঙ্গন করি।’ কথাগুলোর মধ্য দিয়ে রাহুল সত্যিকারেই অসাধারণ ব্যক্তিত্বের ছাপ রেখে গেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকা একটি অভ্যাস হয়ে গেছে। কেউ ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। কিন্তু আমরা ক্ষমতার লোভ ত্যাগ না করে ও আরো নিগূড় কোনো মতাদর্শের যুদ্ধে না লড়ে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করতে পারবো না।
অন্যান্য দেশের দিকে তাকালে দেখা যায়, নেপালে কে পি শর্মা আলি, ভুটানে চিকিৎসক থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া লোটে শেরিং ও মালদ্বীপে ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহর মতো নেতাদের উত্থান হচ্ছে। কিন্তু কেবল পারিবারিকভাবে রাজনীতিতে আসার কারণে কোনো নেতাকে অগ্রাহ্য করা উচিৎ হবে না ভোটারদের। এরকম নেতাদের মধ্যেও যোগ্যরা রয়েছেন। কেউ কেউ নিজের দক্ষতার কারণেই রাজনীতির সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠে এসেছেন। এখানে মূল প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, সকলের জন্যই নেতৃত্ব দখলের সমান সুযোগ থাকা। সাধারন পরিবারে জন্মগ্রহণকারীরাও যাতে তাদের যোগ্য আসন পায় তা নিশ্চিত করা। বিশ্বের অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত একটি মেধা-ভিত্তিক গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। রাহুল গান্ধী সে দৃষ্টান্তই স্থাপন করে গেছেন।
(ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত সম্পাদকীয়র অনুবাদ। মূল সম্পাদকীয়টি লিখেছেন ইন্সটিটিউট ফর পলিসি, অ্যাদভোকেসি অ্যান্ড গভার্নেন্স এর প্রধান সাইদ মুনির খসরু।)

Sunday, August 18, 2019

অবজ্ঞার বিশ্ব

পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসটি এবার বিশেষভাবে ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরের জনগণের সাথে একাত্মতা জানানোর জন্য ছিল সবচেয়ে উপযুক্ত উপলক্ষ্য। তাদের অধিকারকে এমন বর্বরভাবে অবজ্ঞা করা হচ্ছে, যেটা সেখানকার বহু দশকের পুলিশি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যকে পর্যন্ত ছাপিয়ে গেছে।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ভারতের সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের মধ্যে এখনও ক্ষোভের বিস্ফোরণ অব্যাহত রয়েছে। আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের আইনসভায় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যে বক্তৃতা করেছেন, তার মধ্যেও এই ক্ষোভের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তিনি ভারতকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোন ধরনের সামরিক অভিযানের চেষ্টা করা হলে সেটার কঠোর জবাব দেয়া হবে।

“তোমাদের প্রতি আমার বার্তা হলো: তোমরা যদি কোন পদক্ষেপ নাও, তাহলে প্রতিটি ইটের জবাব পাথর দিয়ে দেয়া হবে” –এর অর্থ হলো প্রতিটি পদক্ষেপ জবাব আরও তীব্রভাবে দেয়া হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একতরফা পদক্ষেপকে ‘কৌশলগত কেলেঙ্কারি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং শেষ পর্যন্ত কাশ্মীর ইস্যুকে তিনি আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে মন্তব্য করেন। এবং একদিন আগে তিনি যে মন্তব্য করেছিলেন, তিনি ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে নাৎসী জার্মানির সাথে তুলনা করেন, যাদের আদর্শ হিন্দুত্ববাদী আদর্শের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, হিন্দু চরমপন্থার মধ্যে যে বিপদ রয়েছে, সেটার ব্যাপারে বিশ্বকে অবগত করতে হবে।

প্রশ্ন হলো: বিশ্ব কি সেটা শোনার জন্য প্রস্তুত? কোন সন্দেহ নেই যে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থান ন্যায়সঙ্গত, নৈতিক এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

তবে দুঃখজনক বিষয় হলো বাস্তব রাজনীতি ভিন্ন ভাষায় কথা বলে, যেখানে বাজারের মূল্য অন্যান্য বিবেচনাকে ছাপিয়ে গেছে, ঐতিহাসিক এবং ভ্রাতৃত্বের সম্পর্কের সেখানে মূল্য নেই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি মুজাফফরাবাদে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমনকি এটা উল্লেখ করেছেন যে: “আমরা যদিও উম্মাহ ও ইসলামের কথা বলে এসেছি, কিন্তু ইসলামের অভিভাবকরা ভারতে বিনিয়োগ করেছে এবং সেখানে তাদের স্বার্থ রয়েছে কারণ সেটা বিলিয়ন মানুষের বাজার”।

ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ইতিবাচক জবাবের ব্যাপারেও খুব সামান্যই আশাবাদ রয়েছে মি কোরেশির। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন যে, পাকিস্তান যখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে কাশ্মীরের বিষয়টি উত্থাপন করবে, তখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের যে কোন স্থায়ী সদস্য পাকিস্তানের জন্য বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, বিগত বছরগুলোতে কাশ্মীরের সমস্যার ব্যাপারে বিশ্ব খুব সামান্যই গুরুত্ব দিয়েছে এবং এবারও সেটা করার সম্ভাবনা কম। সন্দেহ নেই যে, মি কোরেশির কথাগুলো গভীর হতাশা থেকে উঠে এসেছে বিশেষ করে ভারতের অবৈধ পদক্ষেপের ব্যাপারে শক্তিধর মুসলিম দেশগুলোর নিরবতার কারণে।

তবে, ভারতের অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়েও আরেকটি সমান বাস্তবতা সামনে রয়েছে যেটা আরও গুরুত্বপূর্ণ, যে বিপদটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবজ্ঞা করছে। রাষ্ট্রের নিষ্ঠুরতার বিপরীতে স্থানীয় কাশ্মীরীদের স্বাধীকারের আকাঙ্ক্ষা বেপরোয়া মাত্রায় বেড়ে গেছে। এ ধরনের হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্যেই মৌলবাদের উত্থান হয়ে থাকে, যেখানে হাজার হাজার দুর্ভোগ একটার উপর আরেকটি জমে স্তুপ হয়ে গেছে এবং যেটার প্রতিক্রিয়া অঞ্চল ছেড়ে অঞ্চলের বাইরে ছড়িয়ে গেছে। বহুজাতিক চরমপন্থী শক্তিগুলো হয়তো কিছুটা দুর্বল হয়ে গেছে, কিন্তু তাদের ছায়া উপস্থিতি এখনও রয়েছে এবং নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য সুযোগের অপেক্ষায় আছে তারা। বিশ্বকে তাই এখনই কাশ্মীরী জনগণের বিরুদ্ধে অবিচারের প্রতিবাদে সক্রিয় হতে হবে।
>>>ডন

Saturday, August 17, 2019

জম্মু ও কাশ্মীরের সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল ‘অবৈধ ও একতরফা’ -ওআইসি

ইসলামী দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করে নেয়া বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সিদ্ধান্তটিকে ‘অবৈধ ও একতরফা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ভারতের রাজ্যসভায় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের সাংবিধানিক স্বাধীন মর্যাদা বিলুপ্ত করার পরদিন, গত ৬ আগস্ট সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসির কাশ্মীর বিষয়ক স্থায়ী প্রতিনিধি দেশগুলোর এক জরুরি বৈঠকে ভারত সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের আইনসম্মত অধিকারের সুরক্ষা, বিশেষ করে জাতিগত আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রক্ষার বিষয়ে ওআইসির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

তুরস্ক, সৌদি আরব, আজারবাইজান ও নাইজারের স্থায়ী প্রতিনিধিরা ছাড়াও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকশেষে দেয়া এক বিবৃতিতে ওআইসি জম্মু-কাশ্মীরের সংকটময় পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি সেখানে গুরুতর মানবাধিকার লংঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা অনুসন্ধানের জন্য স্থায়ী মানবাধিকার কমিশনসহ সকল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাকে জম্মু-কাশ্মীরে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়ার জন্যও বিজেপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ওআইসি।

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করাসহ ভারতের পার্লামেন্ট রাজ্যসভা ও লোকসভায় গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওআইসির এই নিন্দা, প্রতিবাদ ও আহ্বানের প্রতি মুসলিম দেশগুলোর পাশাপাশি বিশ্বের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী সকল দেশও দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে। কারণ প্রথমত, ওআইসি কোনো সাধারণ আঞ্চলিক সংগঠন নয়। এটা ইসলামী দেশগুলোর খুবই প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা। এর প্রতিটি বক্তব্যেই মুসলিম বিশ্বের প্রকৃত মনোভাবের প্রকাশ ঘটে থাকে। সেদিক থেকে স্বীকার করতে হবে, জম্মু-কাশ্মীর প্রশ্নেও ওআইসি কাশ্মীরিদের পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের ইচ্ছা ও আকাংক্ষারই প্রতিধ্বনি করেছে। 

দীর্ঘ প্রায় ৭২ বছর পর ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে ভারত এবার শুধু জম্মু-কাশ্মীরের স্বাধীন মর্যাদাই বাতিল করেনি, রাজ্যটিকে কাশ্মীর এবং লাদাখ নামে দুটি পৃথক রাজ্য বানানোরও উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে ভারতের পার্লামেন্টে নেয়া সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রস্তাবিত দুই রাজ্য কাশ্মীর এবং লাদাখ শাসন করা হবে নয়াদিল্লি থেকে। অর্থাৎ রাজ্য দুটির স্বাধীন মর্যাদা তো থাকবেই না, সেখানকার জনগণ এমনকি ভোটাধিকার থেকেও বঞ্চিত হবে। ভারতের অন্য ২৮টি রাজ্যের মতো কাশ্মীর ও লাদাখে কোনো বিধান সভাও রাখতে দেয়া হবে না। পরিকল্পিত এ রাজ্য দুটিতে একযোগে ভারতের অন্য সকল অঞ্চল থেকেও লোকজন এনে তাদের জন্য স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। যার ফলে কাশ্মীর হারাবে তার হাজার বছরের স্বকীয়তা।

Thursday, August 15, 2019

একতরফা সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর রোববার চীন সফর শুরু করেছেন। সফরের পরিকল্পনা আগেই ছিল। কিন্তু ভারত সম্প্রতি একতরফাভাবে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছে এবং মুসলিম সংখ্যাগুরু এই রাজ্যটির স্বায়ত্বশাসনের স্ট্যাটাস বাতিল করেছে। নয়াদিল্লীর ঘোষণার আওতায় ভারত-চীনের মধ্যে অমীমাংসিত এলাকাও পড়েছে এবং এ কারণে প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছে চীন। অনেকেই এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশির সাম্প্রতিক সফরের সাথে জড়িত হিসেবে মনে করছেন।

পাকিস্তান ঘোষণা দিয়েছে যে, ভারতের সাথে তারা কূটনৈতিক তৎপরতা কমিয়ে আনবে এবং বাণিজ্য সম্পর্ক স্থগিত করেছে তারা। কাশ্মীর ইস্যু অত্যন্ত জটিল এবং ভারতের পদক্ষেপে চীনের স্বার্থেরও ক্ষতি হবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশ্যেই বলেছে যে, ভারতের সিদ্ধান্ত ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।

সীমান্ত ইস্যুতে নয়াদিল্লি খুবই বেপরোয়া। তারা একতরফা পদক্ষেপ নেয়া অব্যাহত রেখেছে এবং এর মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ভঙ্গ করছে এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির উপর প্রভাব পড়ছে। তাদের পদক্ষেপে আশেপাশের দেশের স্বার্থের ক্ষতি হচ্ছে, কিন্তু তারা চাচ্ছে যাতে এই দেশগুলো তাদের উসকানিকে সহ্য করে এবং ভারতের সিদ্ধান্তগুলো মেনে নেয়।

যে কোন দেশেই একটা জাতিগত বা ধর্মভিত্তিক অঞ্চলের স্বায়ত্বশাসনকে বদলে কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে নিয়ে যাওয়াটা একটা চরম স্পর্শকাতর বিষয়। কাশ্মীর একটি বিতর্কিত এলাকা, যেটা নিয়ে বিংশ শতাব্দীতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তিন তিনবার যুদ্ধ হয়েছে। ভারতের পদক্ষেপে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাকিস্তান। এটা ভাবাই যায় না যে, পাকিস্তান এখানে পাল্টা পদক্ষেপ না নিয়ে চুপ থাকবে।

পাকিস্তান এবং ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মুসলিমদের বিরোধিতার হয়তো বাস্তব পরিণতি রয়েছে। মুসলিমরা যদি সঙ্ঘবদ্ধভাবে ভারতের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা ভারতের পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে। এই ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর মতো রাজনৈতিক ও অন্যান্য সম্পদ ভারতের আছে বলে মনে হয় না।

নয়াদিল্লী অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসী। ভারতের ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচন মোদি প্রশাসনের ক্ষমতা ও স্ট্যাটাসকে সংহত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোও ভারতের সাথেই রয়েছে। ভারত আরও মনে করেছে চীন যেহেতু বাণিজ্য যুদ্ধ এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ নিয়ে ব্যস্ত, আর সে কারণেই সীমান্ত ইস্যুতে পদক্ষেপ নেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।

কিন্তু বড় কোন দেশের জন্য এটা আদর্শ কৌশল হতে পারে না। নিজেদের উত্থানের জন্য ভারতের বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী দরকার। ভারত যদি ভূ-রাজনৈতিক কূটকৌশল ও একতরফা নীতিতে এমনকি পার পেয়েও যায়, এর পরও তাদের পদক্ষেপ প্রচুর ঘৃণার জন্ম দেবে। আর দক্ষিণ এশিয়ায় একতরফা নীতি যে বিপজ্জনক, এটার উল্লেখ না হয় না-ই করলাম।

পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং তাদের স্থানীয় শক্তিগুলোর উপর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর এক ধরনের কর্তৃত্বও রয়েছে। প্রতিবেশী সঙ্কুচিত করার চেষ্টা না করাটাই ভারতের জন্য বিজ্ঞের কাজ হবে। ভারত হয়তো মনে করেছে যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মেরামতের আগের চেষ্টায় স্থানীয় ইসলামী চরমপন্থী গ্রুপগুলোর সহিংস হামলা বন্ধ হয়নি। আর সে কারণেই পূর্ণমাত্রায় কঠোর পদক্ষেপের দিকে তারা এগিয়েছে। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত: ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা থাকলে একটা স্পর্শকাতর পরিস্থিতি আরও জটিলই হয়ে উঠবে।

কাশ্মীরে আঞ্চলিক, জাতিগত ও ধর্মীয় বিবাদগুলো একত্র হয়েছে। এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ অঞ্চল নয়। কাশ্মীরের স্ট্যাটাস নিয়ে প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ। এই অঞ্চলকে পরিবর্তনের জন্য ভারতের বলপ্রয়োগকারী পদক্ষেপ অত মসৃণভাবে চলে যাবে না। নয়াদিল্লীর একতরফা সিদ্ধান্তের ব্যাপারে পুরনো ও নতুন ঘৃণার কারণে তাদের চলার পথে ফাঁদ তৈরি হবে।

নয়াদিল্লী যদি তাদের বেপরোয়া কূটনৈতিক পদক্ষেপকে সমর্থনের জন্য জাতীয়তাবাদকে ব্যবহার করে, তাহলে একটা অশুভ চক্রের জন্ম হবে। ভারতকে ক্রমাগত মৌলবাদী হয়ে উঠতে হবে সেক্ষেত্রে।

জাতীয়তাবাদী ভারতের কোন ভবিষ্যৎ নেই। এশিয়ার সাধারণ ভূ-রাজনৈতিক প্যাটার্ন এ ধরনের ভারতকে মেনে নেবে না। বন্ধুপ্রতীম ও যৌক্তিক শক্তির মতো আচরণ করলে ভারতের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।

Wednesday, August 14, 2019

ভারতের প্রয়োজন পাকিস্তানের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা by লি কিংকিং

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সোমবার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানে অসন্তুষ্টি সৃষ্টি করেছে। ফলে আঞ্চলিক পরিবেশের আরো অনিশ্চয়তা যোগ করেছে। ভারতের কাশ্মীর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াই করার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

মোদি ভারত-পাকিস্তান সঙ্ঘাতকে বিজেপির ক্ষমতায় থাকার মর্যাদা সংহত করা ও ভারতীয় জনগণের হৃদয় জয় করার কাজে ব্যবহার করছেন। মোদি ও তার বিজেপি দেশে উগ্র জাতীয়তাবাদ জাগিয়ে তুলছেন। ২০১৯ সালের ভারতীয় সাধারণ নির্বাচনের সময়ই বিজেপি কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। মে মাসে মোদির বিপুল বিজয়ের প্রায় তিন মাস পর এখন মনে হচ্ছে, তারা ওই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চলেছে। আবারো ভারতে জাতীয়তাবাদ সফলভাবে কষাঘাত করছে।

অবশ্য মোদির একতরফা ঘোষণার ফলে এই অঞ্চলে আরো সঙ্ঘাত উস্কে দেবে। কাশ্মীরে সঙ্ঘাত বৃদ্ধির ফলে ভারতের নিরাপত্তাও মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বিশেষ মর্যাদা বাতিলের আগে কাশ্মীরের ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ কেটে দেয় ভারত, কারফিউ জারি করে। এখন অঞ্চলটি পুরোপুরি অচল হয়ে আছে। পরিস্থিতি যদি জটিল হতে থাকে এবং চরম আকার ধারণ করে, তবে তা মোদির নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারত সরকারের কাশ্মীর পদক্ষেপ চীনকেও অসন্তুষ্ট করেছে। কারণ অঞ্চলটির পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে চীন-ভারত সীমান্ত। ভারত ইচ্ছামতো আইন পরিবর্তন করে চীনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করতে পারে না।

চীন কোনো পক্ষ নেবে না, ভারত-পাকিস্তান বিরোধে হস্তক্ষেপ করবে না। তবে এর মানে এই নয় যে চীন তার জাতীয় স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সুযোগ দেবে ভারতকে। ভারতের পদক্ষেপের ফলে চীন ও ভারতের মধ্যে অনেক পরিশ্রমে গড়ে ওঠতে থাকা সম্পর্কে নাশকতা সৃষ্টি করেছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিঙ মঙ্গলবার বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য, প্রয়োগ করা উচিত হয়নি। চীন সবসময় তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে, ভারতকে তার খেয়ালখুশিমতো যা ইচ্ছা করার সুযোগ দেয়নি।

ভূখণ্ডগত ও ঐতিহাসিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। কয়েক দশক ধরে চলা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার কাশ্মীর নিয়ে বিরোধে মধ্যস্ততা করার জন্য কয়েকটি দেশ প্রস্তাব দিয়েছ। কিন্তু ভারত সবসময়ই তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্ততার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন দেশটি একতরফা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, হঠাৎ করেই স্থিতিবস্থা পরিবর্তন করেছে। এর ফলে আরো বিরোধিতারই সৃষ্টি হবে।

একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জাতীয়তাবাদকে উস্কে দেয়ার বদলে ভারতের উচিত অচলাবস্থা নিরসনের একটি পথ খুঁজে বের করা। অন্য কথায় বলা যায়, কাশ্মীরে উত্তেজনা ভারত বাড়াবেই, কমাবে না। ভারতের উচিত হবে তার কাশ্মীর কৌশল নিয়ে চিন্তা করা, কাশ্মীর পরিস্থিতিকে জটিল করা বন্ধ করা। বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে কাজ করা হলে তাতে কারো কল্যাণ হয় না।

ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পাকিস্তানের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ইস্যুটির সমাধান করা। ভারত এখন তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্ততা প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু তার প্রয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যাটির সমাধানের উপায় খোঁজা। ভারত-পাকিস্তান সঙ্ঘাত সাত দশকের বেশি সময় ধরে চলছে। এটি কি আরো এক বা দুই শ’ বছর স্থায়ী হতে দেয়া উচিত হবে?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী যেই হোন না কেন, তিনি যদি এই অঞ্চলের সঙ্ঘাত অবসান ও শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারেন, তবে তিনি বিশ্ব ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রেখে যাবেন।