Friday, November 2, 2012
দীপিতার ঘরে রাত্রি by অমিয়ভূষণ মজুমদার
দীপিতার ঘরে রাত্রি by অমিয়ভূষণ মজুমদার
দীপিতার সঙ্গে পরিচয় হবার আগেই ইন্দু তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াল। ব্যাপারটা বোধ করি ঠিক এ-শব্দটা দিয়ে বোঝানো যায় না। সাধারণত ভিন্নমুখী দুটি শক্তিকে এনে পাশাপাশি দাঁড় করানো গেলে বলা যায় এ-কথাটা।
কিন্তু কতগুলি অসাধারণ ক্ষেত্রও আছে যখন বৈপরীত্য বোধটা পাশাপাশি অবস্থানের উপর নির্ভর করে না, যখন তুলনার বিষয় দুটিও সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির, যেমন গোমড়ামুখো মন আর শরৎকালের প্রারম্ভিক রোদ, পলিটিক্যাল পরাজয়ের অনুশোচনা ও যে-কোনো একটা জেঠামেয়ের হাসির মাঝখানে স্যান্ডউইচ করা তার নরম কাঁধের শ্রাগ।
শান দেওয়া শহরের মেয়ে দীপিতা; কথা যখন সে বলে চশমার সোনার ফ্রেম সেগুলিতে পালিশ লাগিয়ে দেয়, কানের অদ্ভুত-গড়ন দুলজোড়া দুলে, ডিগবাজি খেয়ে কাঁধের আনতিতে ফুটে ওঠা যতি কমা, কোলোন, জিজ্ঞাসাচিহ্নের প্রকাশগুলি স্পষ্ট করে তোলে।
দীপিতা খদ্দরেই অভ্যস্ত; শুধু শাড়িতে নয়, তার বসবার ধরন, বুকের কাছে বইগুলি কুড়িয়ে নেবার পদ্ধতিটাতেই শুধু খদ্দর নয়, উঁচু করে কথা সে বলে না, উঁচু গলায় হাসে না।
কিন্তু এ সত্ত্বেও লোকে বলে : হঠাৎ কিছুদিন ধরে আঁচলের একপ্রান্ত একটু তুলে খোঁপাটাকে আড়াল করার যে-রেওয়াজ উঠেছিল কলেজে তার পেছনে দীপিতার শুধু প্রশ্রয়ই ছিল না। তেমনি ডাক-পিওনদের মতো চামড়ার অর্ধচন্দ্রাকার ব্যাগ কাঁধে ঝোলানোর ব্যাপারটাতেও দীপিতার নাম জুড়ে গেছে।
কিন্তু লোকে প্রকাশ্যে বলে না। পাছাপেড়ে শাড়ি কলকাতায় কী করে জুটল, এর চাইতেও বড় সমস্যা হলো একদিন সেটা পরে কলেজে আসবার কথা দীপিতা কী করে ভাবতে পারল! শুধু পরা নয় যেখানে যে-রকম টানটোন দেয়া দরকার তেমনি করে দেহকে ফুটিয়ে তুলে! সারা দিন তাকে কেন্দ্র করে কলেজে একটা বাতাস খেলে গেল। প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলেনি, হয়তো হাস্যকর ব্যাপারও অভিভূত করে দেবার মতো ভালো লেগে যায় কখনো।
দীপিতা নিজেও জানে এগুলি তার একসেন্ট্রিসিটি, আগে টের পায় না, পায় ঘটে যাবার পর। কলেজে নতুন পাশ-করা কোনো অধ্যাপককে বিব্রত করে, লেডি চ্যাটারলির লালসার সমালোচনা তাঁর মৌনতা থেকে টেনে বার করে-করে, শেষ পর্যন্ত উপন্যাসের প্রথম একশো-তিরাশি পাতা স্রেফ গ্রন্থের কলেবর বাড়ানোর জন্যে লেখা বলিয়ে নিয়ে, লরেন্সের প্রশংসা নিন্দায় পরিণত করে দীপিতা যখন তার বেঞ্চটাতে বসে তখন সে ভাবে এটাও একসেন্ট্রিসিটি হল।
ডিবেটিং-ক্লাবের দীপিতা, ভারতীয় ফেবিয়ান-ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা 'এমাজন' নয়। কেউ তাকে দেখেনি হেদোর উঁচু ব্রিজ থেকে কালো পোশাকে ঝাঁপ দিয়ে পড়তে জলে। কল্পনাও করা যায় না।
কিন্তু যখন সে বাড়ি ফিরে যায় কেউ কি দেখেছে তাকে? একটা ব্লাউজ থেকে আর-একটায় যাবার ক্ষণটুকু দীর্ঘায়িত হয়ে আয়নায় যখন প্রতিবিম্বিত হয় তখন ক্লান্তির স্বেদমালা নাভির কাছে জন্ম নিয়ে বিপন্ন স্তনযুগলের মাঝখান দিয়ে কাঁধের দুদিকে ছড়িয়ে পড়ে ঘাড়ের পেছনে আবার একত্রিত হয়ে মাথাটাকে সামনের দিকে নত করে দেয় যেন। দীপিতা 'আঃ' বলে পাশের চেয়ারটায় গা ঢেলে দেয়। সে শুধু উনিশ বছরের একটি মেয়ে।
পরেশ মিত্তির বেড়িয়ে ফিরে আদ্দির পাঞ্জাবি খুলল, চুনট-করা কোঁচাটা এক অদ্ভুত কায়দায় জড়িয়ে আলনায় ঝুলিয়ে রাখল। পাম্পশুটা খুলে ব্রাশ দিয়ে ঝেড়ে গুছিয়ে রাখল, পাঞ্জাবির তলে যে মোটা গেঞ্জিটা পরা ছিল সেটা পালটে মসলিনের মতো হালকা একটা পরল। হালকা রঙের সিল্কের লুঙ্গিটার বাঁধন আলগা করে পায়ের দুপাশে মাথা হেলিয়ে-হেলিয়ে লুঙ্গির ঘের মাটি স্পর্শ করেছে দেখে নিশ্চিন্ত হলো। আলনা থেকে বিলিতি তোয়ালেটা কাঁধে ফেলে বাথরুমের দিকে যেতে-যেতে ফিরে দাঁড়াল, আলনাটার পায়ের কাছে বসে জুতো চটিগুলি সোজা করে রাখল।
কাঁধ থেকে চুলের গোড়া, আঙুলের ডগা থেকে কনুই অবধি সাবান দিয়ে ধুয়ে পরেশ যখন ঘরে ফিরে সরু ধাতব ফ্রেমের চশমা খাপে পুরে কালো ফ্রেমের পুরু কাচের বই-পড়বার চশমা বার করে বসেছে টেবিলের সম্মুখে, তখন ইন্দুর ফিরবার সময় হলো
ইন্দুর বর্ণনা করা বেশ একটু কঠিন। যতই গম্ভীর হয়ে বিচার করতে বসা যাক, বর্ণনা খানিকটা হাস্যকর হবেই। নস্য রঙের সিল্কের পাঞ্জাবিটা আধো-অন্ধকারেও দৃশ্য হচ্ছে। হাতে একগোছা গোলাপ ফুল। তার গলার সাড়া পেয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় বার্ষিক শ্রেণীর দু-তিনটে ছেলে তার কাছে এসে দাঁড়িয়েছিল। ঘরের তালায় চাবি পরাতে-পরাতে ইন্দু তাদের দেখে ফিরে ঘরগুলির সম্মুখে বারান্দায় রেলিঙের কাছে দুটো থামের মাঝখানে যে-কোণটুকু আছে তার কাছে ফিরে দাঁড়াল_ভাবখানা এই, এস হল্লা করি খানিকটা।
একটা ছেলে কচি গলায় বললে, 'গোলাপের উঠনো বন্দোবস্ত আছে নাকি, ইন্দুদা?' আর-একজন রসিকতা করবার চেষ্টা করে বললে, 'প্রেমের ব্যাপার নাকি, ইন্দুদা, শুনেছি তিনি বন্ধুপত্নী।'
ইন্দু খক-খক করে হেসে উঠে বললে, 'তা প্রেম বইকি। দাদাকে অজস্র মুঠি-মুঠি বিলোবার পরও বউদির ভাড়ার কিছু কিঞ্চিৎ থাকে, আমাকে ডুবিয়ে দিতে সেইটুকুই যথেষ্ট।'
দীপিতা স্বীকার করে ইন্দুর বর্ণনাটা আগাগোড়াই কল্পনা, হয়তো-বা খানিকটা পক্ষপাতদুষ্ট। সে হয়তো নস্য রঙের সিল্কের ভক্ত নয়, কিন্তু ইন্দুর কথা মনে হলেই এ-রকম দৃশ্যই তার মনে পড়ে। অনেক অজুহাতেই পরেশ মিত্তিরের ঘরখানা সে দেখেছে। সেটা কল্পনা নয়, ঘর গুছিয়ে রাখে পরেশ। কিছু বললে বলে_নিজের হাতে সাতদিনের জঞ্জাল এক রবিবারে সাফ করবার চাইতে জঞ্জাল জমতে না দেওয়াই ভালো। কিন্তু ইন্দু?
দীপিতা না-দেখেও বলে দিতে পারে ইন্দুর ঘরের দুর্দশার কথা। সিগারেটের দগ্ধাবশেষ, টিনের খাবারের খালি আধার, ময়লা কাপড়-জামা, ধুলোয় ঢাকা টেবিল এসবই থাকবে_যেন শরৎবাবুর কোনো নায়ক; কোনো নায়িকা এসে ঘর গুছিয়ে দেবে, গুছিয়ে দেবার মধ্যে ফুটে উঠবে_নিশ্চিন্তে আরাম এনে দেবার মতো স্ত্রী হতে পারি তোমার। মানুষকে চেনা গেলে তার সম্বন্ধের খুঁটিনাটি বিষয়গুলি কল্পনা করা কঠিন নয়।
ইন্দুর কথায় পরেশের মনে হয় : মানুষের জীবন কেন বাহুল্য-বর্জিতের একটা তরঙ্গে গঠিত হয় না।
দুজনে একসঙ্গে ঝরনা কলম কিনতে গিয়েছিল দোকানে; পরেশ কিনল ধূসর রঙের স্ট্রিমলাইন্ড একটা-কিছু আর ইন্দু নিল কলরব-করে-ওঠা ফিরোজারঙের দামি পার্কার সোনার খাপে মোড়া। এইখানেই রুচির তফাত, এই পার্থক্যই দুজনের সর্বত্র।
পরেশের বন্ধু হিসাবে ইন্দু চলতে পারে না। বহুদিন পরে, ম্যাট্রিক পাশ করবার পর চতুর্থ বার্ষিক শ্রেণীতে এসে, দেখা; পরেশও খুশি হয়েছিল বইকি; হাত জোড় করে স্মিত হাসিতে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিল_ইন্দুবাবু! ভালোই হলো, পুরনো দিনের অনেক কথা বলা যাবে। প্রত্যুত্তরে ইন্দু_আরে বাঁটলো যে রে, বলে লাফিয়ে এসে বুকে জড়িয়ে ধরেছিল পরেশকে।
ইন্দুর সঙ্গে পরেশের বিচ্ছেদের যা কারণ সেটাকে এই রকম বলা যায়; রবিবারের পাগল ইন্দু; প্রতি রবিবারে সকাল থেকে বেলা বারোটা অবধি কলকাতার পথে-পথে হৈ-হৈ করে হা-হা করে হেসে, কেবল সিগারেট ফুঁকে রেস্তোঁরা-কাফেতে চা খেয়ে ঘুরে বেড়াবে। এই বোহেমিয়ানা যে এক শতাব্দীর পুরোনো হয়ে গেছে এ ইন্দু বোঝেও না, জানে না।
কিন্তু এ-কথাগুলি ভাবলেও, কী শোভন প্রকাশ করেছিল তার পরেশ, এতটুকু ক্ষোভ নেই, এতটুকু বিচলন নেই, শান্ত মৃদুস্বরে বলেছিল, 'ওর স্বাস্থ্য ভালো, ও পারে, পিছিয়ে পড়লুম আমি।... এইসব দিয়ে ইন্দু গড়া, পরেশও।
মাঝে মাঝে কিন্তু ইন্দুর রুচি মোহগ্রস্ত করতে পারে চারিপাশের লোককে। দীপিতার গত জন্মদিনে এ রকমের একটা ব্যাপার ঘটেছিল; অন্য অনেকের মতো ইন্দুও উপহার দিয়েছিল। সত্যিকারের কাজ যাতে আছে এমন একটি রুপোর রেকাবিতে একটা কালচে-লাল রঙের দগদগে গোলাপ। টাকার দেমাক না-দেখিয়ে যতটা ব্যয় করা ছাত্রের পক্ষে সম্ভব ততটা নিশ্চয় হয়েছিল রেকাবিখানা কিনতে, কিন্তু তার চাইতে প্রাধান্য পেয়েছিল ক্ষণস্থায়ী গোলাপটি। এমনকী দীপিতার গালেও ব্রীড়ার রং লেগেছিল।
তেমনি হয়তো ভালো লাগার উপাদান তাকে তার হঠাৎ বলা কোনো কথায়। পরেশ বলেছিল_এখনও অর্ধেক কল্পনায় ঘিরে রাখতে চাই নারীকে। হর্ষে, দুঃখে, উদারতায়, হিংসার সার্টের আড়ালের মানুষটির সঙ্গে বডিসের অন্তর্বর্তিনীর কোনো প্রভেদ নেই, এ বুঝব আমরা কবে? এখনও এই বিংশ শতকের মাঝামাঝি এসেও বলব, তুমি হেঁটে গেলে পদ্ম ফুটে ওঠে। এসব কথা, ছেলে ভুলানো ছড়া আর-কতদিন চলবে।
দীপিতা বলতে যাচ্ছিল_ছেলে ভুলানো ছড়া যাদের জন্য সেই শিশুমনগুলিতে এখনও আছে, এমনি সব লাল রং দেখে হাত-বাড়ানো শিশু।
প্রথম দিকে ইন্দু চুপ করেছিল, হঠাৎ বলে উঠল_বিংশ শতকের কাচের বাঙ্ েরাখা জীবন আমাদের; শো-কেসে রাখা প্রজাপতির ডানার পরাগের মতো খসে গেছে আমাদের কল্পনা; অনেক গালভরা টানা টানা লাতিন নাম সুস্পষ্ট পাইকায় লিখে দিয়েছি বাঙ্রে গায়ে-গায়ে; তবু পরাগ-উঠে-যাওয়া জীবন। তারপর সে দীর্ঘনিঃশ্বাসও ফেলেছিল।
মাঝে-মাঝে মনে হয় লোকটি কথা বলছে না যেন স্ফটিক নিয়ে খেলা করছে। কিন্তু এ-ব্যাপারটা তার পিছিয়ে থাকবার নজিরও বটে; কথার এই সুবিবেচিত প্রয়োগ, লক্ষ্যে পড়ে যাবার মতো প্যাঁচের প্রাচুর্য। বস্তুত ইন্দুর লক্ষ্যের মাঝখানে গিয়ে পড়বেই, তার সুগৌর প্রকাণ্ড দেহের মতো প্রাধান্য-কাঙাল যেন তার রুচি, ফলে গোলাপের মতন বর্ণচ্ছটায় ও আবেগের উত্তাপে ভরে ওঠে সে।
ইন্দু নিজেও জানে তার পদ্ধতিতে সেকেলেমি ছাড়া আর কিছু নেই, সেও ধীরে-ধীরে বিকাশের প্রভাব মেনে নিচ্ছে। বিকাশ দীপিতার দাদা, তার সংস্পর্শে এসে ইন্দুর বলবার ভাষার পরিবর্তন সূচিত হয়েছে, অনাড়ম্বর, প্রজ্ঞাদীপ্ত, উৎপ্রেক্ষাহীন হয়ে উঠবার লক্ষণ দিয়েছে ইতিমধ্যে।
এ-বাড়ির কথা বলতে গেলে বিকাশের কথা বলতে হয়। খদ্দর পরেন না তিনি, সাধারণ বাঙালির মতো দোকানের কাপড় কিনে পরেন। জেল তাঁকে বারংবার খাটতে হয়েছে গান্ধী-মহারাজের ডাকে। কোনোদিন কেউ মাথায় দেখেনি গান্ধীটুপি, খুব বিরক্ত করলে মধুর পরিহাস করে বলেন : বাঙালির ছেলে, হঠাৎ নগ্নমাথায় খাপ উঠলে বেখাপ্পা দেখাবে। জেল থেকে বেরিয়ে কেউ দেখেনি তাঁকে ফুলের মালা গলায় পরতে, জেলে ঢুকবার সময়ে কেউ শোনেনি বন্দে মাতরম বলতে বুকভরে। দেশ আমার, আমার দেশকে আমার বলতে শ্লোকে গান গেয়ে উঠতে হবে কেন স্বর্গাদপি গরীয়সী বলে? আমার মা আমার ছেলে বলে কেউ কি কোনোদিন গান গেয়ে ওঠে।
এ-বাড়ির আবহাওয়া বিকাশের জ্যামিতির প্রতিজ্ঞার মতো স্বল্পবাক, বাহুল্যবর্জিত জীবনের তৈরি!
কোথা থেকে কী হলো কলেজে, কী কেলেঙ্কারি ঘটে গেল। দরজার পাল্লায় হাত ছেঁচে রক্তারক্তি। দরজার পাল্লায় মানুষের দু-তিনটে আঙুল অমন বীভৎসভাবে জখম হতে পারে এ না-দেখলে বিশ্বাস হয় না। অতটা বাড়াবাড়ি যেন ইন্দুর ক্ষেত্রে ছাড়া ঘটতও না। স্যোসালিস্ট এক নেতার সংবর্ধনা ব্যাপারকে উপলক্ষ্য করে ঘটল ব্যাপার। দীপিতা ও পরেশ ঝগড়া করতে নয়, ইন্দু ও তার পেছনে কয়েকটি ছেলের একটি দল তৈরি হচ্ছিল, তাদের বোঝাতে গিয়েছিল; কেলেঙ্কারিটা ঘটে গেল। কেউ কেউ বলে পরেশ ইচ্ছা করে দরজাটা চেপে দিয়েছিল, কেউ বলে ইচ্ছা করে দিলেও ইন্দুকে জখম করবার জন্য নয়, দিয়েছিল নিজের বিরক্তির নাটকীয় প্রতীক সৃষ্টি করতে। কিন্তু আর্তচিৎকার করে হাত চেপে ধরে ইন্দু যখন বসে পড়ল, এতসব ভাববার অবকাশ কারো ছিল না। দীপিতা স্তব্ধ হয়ে দেখল, ছ-ফিট উঁচু পুরুষটির দেহটা একেবারে তার পায়ের কাছে নুয়ে পড়েছে; বেদনায় এমন হাহাকার করতে কাউকে সে শোনেনি, দেখেনি এমন করে পুরুষকে কান্না চাপবার বৃথা চেষ্টা করতে। অ্যাম্বুলেন্স, প্রফেসাররা, ছাত্ররা যখন এল তখন দীপিতা ইন্দুর অনতিদূরে চৌকাঠে মাথা রেখে বসে আছে, তার চোখ বন্ধ, হাত মুঠো করা, চোয়াল শক্ত হয়ে উঠেছে, ইন্দুর রক্ত গড়িয়ে এসে তার শাড়ির খানিকটা ভিজে গেছে।
সম্ভবত রক্ত সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা কম বলেই কথাটা তার মনে দাগ কেটেছিল। পরেশ মিত্তির সম্বন্ধে কেউ-কেউ সন্দেহ আরোপ করেছিল। সহসা একটা আবেগের মতো বোধ করতে প্যাড টেনে নিয়ে দীপিতা খসখস করে একদিন লিখল : পরেশবাবু, আজকের ব্যাপারের জন্য তোমার লজ্জিত হওয়া উচিত; সুরেন্দ্র তোমার ইকোনমিঙ্রে নোট চুরি করে পড়েছে এই অজুহাতে কলেজে যে-রোল উঠেছিল তার পেছনে তুমি ছিলে এ রকম সন্দেহ হচ্ছে আমার।
এই পর্যন্ত লিখে চিঠিটা ছিঁড়ে ফেলেছিল সে, ডাকে দেয়া যেত, চাকরের হাতেও পেঁৗছে দেয়া যেত, বাধা সেটা নয়; চিঠি লিখবার কোনো যুক্তিই নেই বরং ভাবাতিশয্য প্রকাশ পাবে; নাটকের মতো হবে ব্যাপারটা।
রাত্রিতে সে খেল না, ইন্দুর রক্তাক্ত হাতের কথা মনে হতে গা ঘেঁটে উঠতে লাগল। পরের দিন কলেজে যেতে কুণ্ঠা হচ্ছিল তার, কিন্তু না-গেলে বাড়বে হৈ-চৈ, গেল সে, পরেশও এল; অন্যান্য দশদিনের মতো স্বাভাবিক হয়ে চলল তারা। তিনদিনের মাথায় ব্যাপারটা থিতিয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু কলেজ থেকে ফিরে দীপিতা চিঠি পেল, ভেবেছিল পরিচিত কারো, তলে নাম দেখে অবাক হলো। ইন্দু চিঠি লিখেছে! লিখেছে :
শ-দেড়েক টাকার আজই প্রয়োজন; হাতের অবস্থা ভালো নয়। হাসপাতালের ব্যবচ্ছেদে কেটে বাদ দিতে হবে দুটি আঙুল। আমার অমন সুন্দর আঙুলগুলি হারাতে চাই না, বাইরে বড় কাউকে দেখাব। টাকাটা আজই পেঁৗছে দেবার ব্যবস্থা করবেন।
ইন্দু চিঠি লিখেছে, তাকে লিখেছে, লিখে টাকা চেয়েছে! পোস্টকার্ডখানা উল্টেপাল্টে দেখে তার শুধু মনে হলো হিং টিং ছট। উপন্যাসের নায়িকা যেন সে, জোর করে মন কেড়ে নেবার পার্ট যেন তার সম্মুখে। দেড়শোটা টাকা এমন কিছু নয়, এর আগে চাঁদা হিসাবে সে দিয়েছে, বড় জোর মা একটু হুঁশিয়ার করে দেবেন, কিন্তু ইন্দুর টাকা চাইবার কী যুক্তি এত লোকের মধ্যে বেছে-বেছে তার কাছে। টাকা পাঠাবার কথা ভাবতে গিয়ে তার মনে হতে লাগল উপন্যাসের পূর্বরাগের কথা।
রাত্রিতে শুতে গিয়ে একলা অন্ধকারে তার মনে হলো চিঠিটার কথা, হাসিও পেল। কিন্তু চিন্তাগুলিকে যখন ঘুমের গহ্বর থেকে টেনে বার করতে হচ্ছে দীপিতার মনে হয়েছিল : নন্তুটা (তার ছোট ভাই) এমন করে মাঝে মাঝে পয়সা চায় বটে, কিন্তু ক্লাস সিঙ্রে ছেলে নন্তু আর ইন্দু একই অর্থে পুরুষ নয়।
প্রায় এক সপ্তাহ পরে বৈকালে, অধ্যাপক দু-তিনদিন আসেননি, তাঁর অসুখ করেছে কিনা এ খোঁজ করতে গিয়ে দীপিতা আটকে পড়ল অধ্যাপক যখন বললেন_গাড়ি রাখো, শম্ভু পণ্ডিতের হাসপাতালে ইন্দুকে দেখে যাব তোমাদের বাড়িতে, চা খাওয়া হয়নি, তোমাদের ওখানেই খাব।
এরপরে অজুহাত দেখানো চলে, না-যাওয়া চলে না। বাড়াবাড়ি হয়, জেদের মতো ুএকটা-কিছু প্রকাশ হয়ে পড়ে।
ইন্দু বিছানায় উঠে বসেছিল। ক্লান্ত নিষ্প্রভ দৃষ্টি, গভীর শোক ছাড়া এমন চেহারা হয় না কারো। অধ্যাপকের প্রশ্নের উত্তরে ব্যান্ডেজ বাঁধা হাত তুলে দেখাল ইন্দু, ব্যান্ডেজের ফের দেখেই বোঝা গেল কঠিন সত্যটুকু, দুটি আঙুলই কেটে বাদ দিতে হয়েছে। অধ্যাপক ধীরতা সম্বন্ধে কী-একটা উপদেশ দিতে ইন্দু টেনে-টেনে হেসে উঠেছিল, কিন্তু দীপিতার দিকে চোখ পড়তেই ওর হাসি থেমে গেল; গভীর অভিমানে মুখের চেহারা যেমন হয় তেমনি হলো, চোখেও জল এল।
একদিন মুখ নিচু করে বই গোছাতে-গোছাতে দীপিতা শুনছিল ইন্দুর অসুখের কথা অধ্যাপকের মুখে। তিনি একসময়ে বলেছিলেন, বেচারার আঙুলগুলির জন্য দুঃখ হয়। বাইরের কাউকে দেখাতে চেয়েছিল শুধু কিছু টাকার জন্যই হলো না।
'আপনি দিলেন না কেন,' দীপিতা বলেছিল, চিঠির কথা মনে পড়েছিল তার।
'দিয়েছি, কিন্তু বাইরের ডাক্তার এসে বললেন, অপকারটুকু হয়ে গেছে।' অতঃপর অধ্যাপক বললেন, 'কে একজন ওর আছে, তার কাছে টাকা চেয়ে পাঠিয়েছে, বলেছে তিনি টাকা পাঠালে আমার ধার শোধ করে দেবে। আমি ভেবেই পেলুম না কলকাতায় থেকে এত বড় বিপদের কথা শুনেও টাকা পাঠাতে দেরি করলেন কেন তিনি। অমন বন্ধু থেকে লাভ কী? ধার হিসাবেও তো টাকাটা দেয়া যায়।'
দীপিতা সোজাসুজি একটু তীক্ষ্ন করে অধ্যাপকের দিকে চাইল, সন্দেহ হয়েছে তিনি চিঠির কথা জানেন, বিঁধবার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তা নয়। অধ্যাপককে এমন একটি বৃত্তি আরোপ করার জন্যই দীপিতা কুণ্ঠাবোধ করল।
অধ্যাপক চলে গেলে দীপিতা ভাবল_পাঠালেও হতো টাকাটা, ইন্দুকে যা ভেবেছিল তা হয়তো নয় সে। টাকার প্রয়োজনে লিখেছিল, দীপিতাদের দেবার ক্ষমতা আছে জেনে। হৃদয়ের অনুসন্ধান সে করেনি উপন্যাসের নায়কের মতো। টাকাটা দিতে হবে, অধ্যাপকের ধার যখন ইন্দু শোধ করতে চায় তখন টাকার প্রয়োজন ফুরায়নি, ইন্দুকে অঋণী করতে অগ্রহ হলো তার।
পরদিন টাকাটা পাঠাতে গিয়ে আগ্রহটা তাকে সংকুচিত করেছিল, ইন্দু যদি তার আগ্রহে কোনো গভীরতর বৃত্তি আরোপ করে বসে। কিন্তু একটা ভালো লাগার বোধও ছিল এ-কুণ্ঠার মধ্যে। মনি-অর্ডারের কুপনে সে লিখল : পাঠাতে দেরি হলো বলে আমি দুঃখিত।
তার লিখতে ইচ্ছা হলো : আপনি নিতান্ত ছেলেমানুষ, এত অল্পদিনের পরিচয়, যাকে পরিচয়ই বলা যায় না, তাতেই আপনি টাকা চেয়ে পাঠিয়েছেন, আপনার আত্মপ্রত্যয়ের মূল অনুসন্ধান করতে ইচ্ছা হয়।
কিন্তু দীপিতার মতো মেয়ে এ-কথা কাউকে লিখতে পারে না, বরং ভালো লাগার বোধটাকে আড়াল করবার জন্য কুপনে লিখল_যখন সম্ভব হয় শোধ করে দেবেন।
টাকাটা পাঠিয়ে রাত্রির অন্ধকার অপূর্ব বোধ হতে লাগল। ইন্দু কি তাকে ভালোবাসে?
দীপিতা বালিশে মুখ গুঁজে হেসে ফেলেছিল। কিন্তু একজন পুরুষ তাকে ভালোবাসে এ-বোধটা হাস্যকর হলেও, পুরাতন হলেও প্রত্যেকটি মেয়ে প্রথম যখন অনুভব করে তখন বোধ হয় কৌতুক ও কৌতূহলে উন্মনা হয়ে ওঠে_ভাবল দীপিতা।
পরের দিন সকালে টাকা পাঠানোর ব্যাপারটায় নিজেকে খুবই বোকা বললে দীপিতা। ইন্দুকে অঋণী করবার জন্য টাকাটাও পাঠাতে হবে এতটা আগ্রহ হওয়া উচিত ছিল। দু-পাঁচদিন ডাকের দেরি হলেও ইন্দুর বাড়ি থেকেই নিশ্চয় এসেছিল টাকাটা।
কিন্তু খুব খারাপ লাগছে না, কুণ্ঠার মধ্যে ভালো লাগার বোধ একটা থাকেই, বিশেষ করে আজকের রাত্রিটায় যেন ভালো লাগছে চিন্তা করতে।
একদিন সশরীরে ইন্দু এসেছিল দীপিতাদের বাড়িতে, অন্য অনেকবারের মতো দীপিতা অবাক হয়ে শুনেছিল ইন্দুর রঙদারি ভাষা।
কিন্তু বিকাশ চলে গেলে, দীপিতার সম্মুখে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে ঘামতে লাগল ইন্দু। ব্যথা নেই আর_দীপিতা বলেছিল।
অস্ফুট একটি_না।
একটু পরে আবার দীপিতা বললে_হোস্টেলে না-ফিরলে যদি চলে, খুব বৃষ্টি হচ্ছে না?
ইন্দু বললে_হোস্টেলে না-ফিরলে চলে।
আসলে ব্যাপারটা এই, পরে একদিন ভাবল দীপিতা_রোজকার ঘটনার বাইরে যা সেটাই রোমান্স, আর সব ব্যাপারটার মূলে আছে ইন্দুর রোমান্সপ্রিয়তা। টাকা ধার করার ব্যাপারটা হয় কুসীদজীবীর সঙ্গে বা কুসীদজীবীর বিলেতি প্রতিরূপ ব্যাংক ও ব্যাংকারের কাছে থেকে। আমাদের দেশের মেয়েদের অর্থ সম্বন্ধে কোনো স্বাধীনতা নেই, দিতে হলে কাউকে কিছু তাদের অভিভাবকস্থানীয় পুরুষরা দেন। ঠিক এজন্যই হঠাৎ কোনো মেয়ের যদি অর্থনীতিগত স্বাধীনতা থাকে তার আবহাওয়া অনেক পুরুষের কাছে রোমান্টিক বোধ হয়। এমনকি অনেক মেয়েরও হয়, যেমন হয়েছিল স্বাগতার। স্বাগতা বুদ্ধিশাণিতা মেয়ে, কলেজে সে রোমান্স কল্পনা করতে পারত না। কিন্তু কলেজ থেকে বেরিয়ে অধ্যাপিকা হিসাবে অর্থ উপার্জন করে সে রোমান্টিক হয়ে উঠল। তার চাইতে বয়েসে ছোট (লোকে বলে) একটি রোগা ফ্যাকাশে খদ্দর-পরা ছেলেকে এখন-তখন অর্থসাহায্য করতে করতে একসময়ে সে তার মোহে কলেজ ছাড়ল, গ্রামে চলে গেল ছোট একটি রোমান্টিক কুটির গড়বার লোভে।
বিশ বছর আগে কলেজে পড়ার ব্যাপারটাই এমন রোমান্সের উপাদান হতো, মেয়েরা কলেজে পড়ছে এই নতুনত্ব। নতুন শাড়ি পরলে পুরনো বউকে যেমন ভালো লাগে, তেমনি স্ত্রীজাতি-বিমুখ অনেক কলেজের ছাত্রের চোখে এই নতুন রূপটি, বুকের কাছে বই কুড়িয়ে নিয়ে, ছাতা হাতে করে চলা মেয়েদের, ভালো লেগে উঠল। সাহিত্যিকদের উপরেও এসব পরিবর্তন প্রভাব বিস্তার করে।
দীপিতা সকালের ডাকে আসা কলম্বিয়া য়ুনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত বর্তমান ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসের ধারা খুলে বসল। কিন্তু ঘুম পাচ্ছিল তার। মনে হলো ঘুম পেলে ছেলে-ছাত্ররা নস্যি নেয়। হাই তুলে সে ভাবল একদিন নিয়ে দেখলে হয় ঘুম যায় কিনা, কিন্তু বড্ড নোংরা।
তাহলেও, ভাবলে দীপিতা_একদিন যদি দেখা যায় মেয়েরা নস্যি নিতে আরম্ভ করেছে, হয়তো সেটাই রোমান্সের উপকরণ হয়ে উঠবে।
এটা হাস্যকর কথা হলেও এর চাইতে বড়-বড় ঘটনার মূলেও এ-অভিনয়ের নেশা দেখা যায় বইকি। বস্তুত আজই দেখেছে সে, বিকাশের ঘরের পাশ দিয়ে আসতে-আসতে গানের মৃদুশব্দে অর্ধোন্মুক্ত দরজা দিয়ে চোখ পড়েছিল ঘরের মধ্যে, ভামিনী বউদিকে দেখা দিয়েছিল প্রসাধন করতে। একটু অবাক লেগেছিল বইকি দীপিতার। সবজে সাটিনের পায়জামা পরা, পিঠের চওড়া চ্যাপ্টা বেণী এসে পড়েছে নিতম্বে। আর্দ্র দৃষ্টি বেষ্টন করে যেন কাজলের রেখাও ছিল।
দুগাছি সরু সোনার চুড়িতে, একগাছা সরু সোনার হারে, লাল পেড়ে সাদা শাড়িতে দেখা ভামিনী বউদির সঙ্গে মেলে না। তার দাদা বিকাশ স্কুলের হেডমাস্টার, কিন্তু তাই বলে অর্ধ-সন্ন্যাসের আদর্শে খাড়া হবেন ছাত্রদের সম্মুখে এ মত নয় দীপিতার। রাত্রির প্রভাব, আদিম সূর্যোদয়ের চাইতেও প্রাচীন তমিস্রার রক্তে সঞ্চারিত স্মৃতি।
একবার একটা কবিতার কথা মনে হয়েছিল তার। পুরুষ বলছে নারীকে : 'এইটুকু আমার কামনা, শুধু এইটুকু_তোমার পাশে দাঁড়িয়ে আমার মন যখন করুণায় টলমল করে উঠেছে, সেই কারুণ্যের কাঁপন লাগুক তোমার মর্মমূলে, পরম সহ-অনুভবের প্রতিতরঙ্গ।' মিথ্যা নয় কবির আশা, আরো দু'এক শতক পরে হয়তো মানুষের জীবনে সত্য হয়ে উঠবে।
কিন্তু তা না হলেও ক্ষতি নেই। ইংরেজি সাহিত্য ও বিজ্ঞান দীপিতার পাথেয়। যদিও সে এখনও ইংরেজি 'লাভ' কথাটাকে অপ্রচুর মনে করে মানুষের পারস্পরিক সবগুলি আকর্ষণ নির্দেশের পক্ষে, এবং যদিও সে স্নেহ ও শ্রদ্ধা কথা দুটিকে ইংরেজি চালানোর চেষ্টা করছে তাদের আদিম বাঙালি অর্থে, সে সব সময়েই স্বীকার করে ভারতবর্ষের লোক আমরা শত চেষ্টা করলেও দাম্পত্য ভালোবাসাকে স্নেহ ও শ্রদ্ধার স্তরে উন্নীত করতে পারব না, বাৎসায়নের এক্তিয়ারের বাইরে এনে।
কাল ভোর হতে-না-হতে দীপিতা প্রাত্যহিক ভোরাই চায়ের আসরে যোগ দিতে বিকাশের ঘরে যাবে। বাইরে চড়ুই পাখিটা সরু ঠোঁট দিয়ে ঠুকছে ঠুক-ঠুক করে কাচের শার্সি, কার্নিশের টবে একটি নিশাগন্ধার কলি আগামী রাত্রির তপস্যায় সংহত ও ঋজু হয়ে উঠবে। মিতভাষিণী ভামিনী বউদির মৃদু পরিহাসে ভোরের হাওয়ার মতো অনির্দেশ্য সুখের আমেজ আনবে।
কিন্তু কাল সকালে যদি মনে পড়ে যায় রাত্রির এই বেলোয়াড়ি আড়ম্বর, এই রং ও রেখার সপ্রচুরতা? ইন্দুর পক্ষে যা স্বাভাবিক তাই যেন ঘটে গেছে। যেন সে প্রভাবিত করছে। মিলিয়ে নেয়া কষ্টকর, আট পহুরে দুপুরের বিশদ বস্ত্রের বিকাশের কথা ছেড়ে দিলেও, বোরাই চায়ের আসরের অস্নাত অবিন্যস্ত কেশ বিকাশের সঙ্গেও মেলে না। দীপিতার প্রশ্ন হচ্ছে : বিকাশ কি সহ্য করতে পারে ভামিনী বউদির এই ভাবালুতা, রাত্রির রোমান্স গড়বার প্রয়াস। হয়তো করে, অপ্রিয় হবার জন্য কেউ প্রয়াস করে না, প্রসাধন করে না।
ইলেকট্রিকের বাল্বে মধ্যরাত্রির শব্দ হয় না। টেবিলের সম্মুখে বসে থাকতে-থাকতে দীপিতার মনে হলো সে যেন বাল্বের অভ্যন্তরে কম্পমান শিখা দেখতে পাচ্ছে। অনেক দিন পূর্বের এক বিয়েবাড়িতে চোখ-জ্বালা করা মধ্যরাত্রিতে শোনা গ্যাসের সাঁ-সাঁ শব্দটার কথা মন পড়ে গেল তার। সেই আলোটার চারিদিকে অসংখ্য সবুজ রঙের পোকা গিজ গিজ করছিল। দীপিতা এবার লক্ষ্য করলে ঘেরাটোপের গায়ে কতগুলি বাদলা পোকা লেগে আছে, স্ট্যান্ডের পক্ষাকৃতি গোড়াটাতেও। আঙুল দিয়ে গোড়াটা সাফ করতে গিয়ে সে আশা করেছিল আলোর গা চোয়ানো খানিকটা ময়লা আর্দ্রতা লাগবে আঙুলে, কিন্তু তাদের শুষ্কতা মনকে আকৃষ্ট করবার মতো।
আকাশের প্রান্তে মেঘ আছে। অজস্র কালো চুলের সীমার মধ্যে চকচকে অবিশ্বাস্য টাকের মতো আকাশে গুটিকয়েক তারাও চকচক করছে। দূরের মেঘগুলির গতি দেখে সেগুলিকে কালো বর্ণের ফুটন্ত দ্রব্য বলে মনে হচ্ছে, যা-কিছু বাতাস মেঘের বীচিভঙ্গে সৃষ্টি হচ্ছে, বাধা পাচ্ছে, মেঘমুক্ত আকাশের অংশটুকু যেন আতপ্ত সৈকত মেঘের ঢেউগুলির স্নিগ্ধতা বহন করে যে-বাতাসটুকু আসছে সেটুকু আতপ্ত তটভূমির স্পর্শে তপ্ত হয়ে উঠছে। রুক্ষতার একটা অনুভূতি অন্যান্য বোধগুলির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে, পরিবর্তিত করেছে সেগুলিকে, দুটি শ্রাবণের ঘণ্টার মধ্যে একখণ্ড ফাল্গুনের সময় এসে পড়েছে যেন।
গর্হিত অন্যায় কিছু নয়, অবাক করবার মতো, ধাক্কা দিয়ে জাগ্রত করে দেবার মতো বিষয়_ভাবলে দীপিতা। হয়তো কৌতুকের জন্যই এই বেশভূষা, তবু এক-একটি ব্যাপার এমন সন্দিহান করে তোলে মনকে। মনেপ্রাণে কি আমরা উপচার-প্রয়াসী? আমাদের রিয়ালিস্টিক দৃষ্টির গভীরে, র্যাশন্যাল জীবনপদ্ধতির আড়ালে ইন্দুর মতো একজন লুকিয়ে আছে। সেই জন্যই কি দিনমানের উচ্ছ্বাসবৃত্তি রাত্রির অবসরে এমন প্রগল্ভ হয়ে ওঠে। এতটুকু ফিকে হতে দেবে না, উপচার-বাহুল্যে আস্বাদনকে পীড়িত না-করে ছাড়বে না? কীটস্ভক্ত ইন্দুর মতো।
এত স্বাভাবিক ছিল এসব ব্যাপার যে কেউ বিচার করার কথা চিন্তাও করেনি। আজ বিচার করতে হচ্ছে : মালা গেঁথেছিল, ভামিনী বউ শাদা বেলফুলের মালা, বিকাশের গলায় পরিয়ে দেননি ভামিনী বউদি, লজ্জার বাধা নয়, দীপিতা গেঁথেছিল, সেও পরাতো। বিকাশ ফিরে এসে মালা দেখে খুশি হয়েছিল, প'রে নয়। এটা খুব বড় কথা নয়, জীবনদর্শনও নয়, তবু যেন রুচি ও চিন্তাধারার প্রতীক।
দীপিতা প্রশ্ন করল, অভ্যাসের ফলেই কি এমন হয়েছিল, নতুবা ভামিনীর কি সাধ ছিল বেলফুলের মালাটা প্রিয়জনের গলায় তুলে দিয়ে প্রতীক্ষায় ঊর্ধ্বমুখী হয়ে দাঁড়াতে পারেনি অভ্যস্ত নয় বলে।
দীপিতা জানালার কাছে উঠে গিয়ে গরাদে দেহভার রেখে দাঁড়াল। অভ্যাসের ফলে হয়েছে, ভাবতে একটু কষ্ট হলো, কারণ অভ্যাসের ফল মানে অনেক দিন অভিনয় করার ফল।
বিকাশের ছেলেটি, যে শুধু ভালোবাসা কেড়ে নেবার জন্য আঙুল বাড়াতে শিখেছিল, একদিন অব্যক্ত ব্যথায় মায়ের মুখের দিকে চেয়ে থাকতে-থাকতে নীল হয়ে কেঁদে উঠে বিদায় নিয়েছিল। সেদিন দীপিতা হাহাকার করে কেঁদে উঠতে গিয়ে বিকাশের মুখের দিকে চেয়ে শঙ্কিত হয়েছিল, শোককে ছাপিয়ে উঠেছিল মানুষের মননশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা। বিকাশ ম্লান হেসে বলেছিল_ওকে ফুল দিয়ে সাজাবি, বরং মসলিনের নিষ্পাপ কিছু একটা পরিয়ে দে। ভামিনী শিশুমুখের দিকে চেয়ে থেকে একটা-বা অশ্রুর ধারা মুছে রোজকার মতো সাজিয়ে দিলেন।
শুধু কি অভ্যস্ততা, এত বড় বেদনার মুহূর্তেও কি অভ্যাস বড় হয়ে ওঠে? দীপিতার সন্দেহ হলো, সব আলো নিভিয়ে দিয়ে এলে সন্দেহ, বোধ হয় অনুভব ছিল না, হাহাকার করে কেঁদে উঠবার মতো প্রাণের সাড়া।
কিন্তু দীপিতা হাসল, হেসে বলতে পারল নিজেকে : দীপিতা তুমি একটি উনিশ বছরের মেয়ে মাত্র। এখনও সুস্থ সবল চিন্তাধারা তোমার নিজস্বত্বের কাঠিন্য অর্জন করতে পারেনি, অন্যান্য কারো চিন্তার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। এখন হাতে-মুখে জল দিয়ে বিছানায় যাও। কপালের রগ দুটিকে মাসাজ করে দিয়ো, ঘুমিয়ে পড়বে। কাল সকালে যখন সকালের খটখটে রোদে উঠে দাঁড়াবে তখন এপস্টাইনের মর্মরের মতো বাহুল্যবর্জিতের পরিপূর্ণতায় প্রকাশ পাবে তুমি।
তবু ভাবল দীপিতা : এখন মনে পড়ে না ঘুমাবার আগে অর্গল খোলা ছিল কিম্বা ঘুমের মাঝখানে উঠে দাঁড়িয়ে দরজাটার দিকে চেয়ে তার মনে হয়েছিল ওপারে ইন্দু হয়তো হাত-দুখানা প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছে তার মতো, দরজার অর্গল খুলে দিয়েছিল সে।
বর্ষণক্ষান্ত আকাশের দিকে চেয়ে দীপিতা দাঁড়িয়েছিল, তখন ইন্দু এল ঘরে, তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল বাইরের দৃশ্যের অংশ নিয়ে।
ইন্দু বলেছিল_আপনার পড়বার ঘরে ব্রাউনিং খুঁজে পেলাম না।
ব্রাউনিং খুঁজে দিয়ে ফিরে আসবার অনুভূতি এখনও লেগে আছে গায়ে, কিন্তু আরো অদ্ভুত বোধ হয় ভাবতে গেলে। ইন্দু শুধু বলেছিল_শুনুন, দীপিতা ঘরের প্রায় আধখানা হেঁটে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল ইন্দুর পাশে।
ইন্দু বলেছিল তোমার চুলগুলি খুলে দাও বাইরের ঐ অন্ধকারকে আরো স্নিগ্ধ করে, কথা বোলো না। প্রজাপতি-ডানার নিচের অন্ধকারের মতো কোমল নীরবতায় ডুবে যাও। কথা বোলো না, পাতার আড়ালে একটি ডানার ছায়ায় আর-এক জোড়া ডানা স্বপন দেখছে চ্যুতমঞ্জরীর।
ইন্দু কথা না-বললে কী হতো কে জানে, ইন্দুর কথায় দীপিতার সন্মোহন টুটে গিয়েছিল, হেসে সে বলেছিল_পিলিয়াস মেলিসান্ডার কথা বলছেন? মেটারলিংক তাহলে ভালো লাগে আপনার?
না, আঘাত দেয়নি দীপিতা। অধ্যাপকের উপস্থিতিতে সাহিত্য আলোচনা করবার মতো লঘু হাসি ছিল তার ঠোঁটে।
টিনের ঘরে ফিরে এসে মনে হয়েছিল, সিনক্রিয়েট করা হলো যেন। যেন প্রেমনিবেদনভীতা ত্রস্তা কিশোরীর পলায়ন।
অতঃপর দরজার কাছে দাঁড়িয়ে সে স্বচ্ছ গলায় বলেছিল_ও ইন্দুবাবু, আসুন। ঘুম হচ্ছে না, হয়ও না এ-অবস্থায়, পোকার খেলি বরং।
দীপিতার সলিলকি করা অভ্যাস নয়, তবু মনে হলো আবার : তুমি কি চেষ্টা করে আজ ঘুমাতে পারো না। ইতিমধ্যে তুমি যা নয় তা চিন্তা করতে শুরু করেছ, আরো কিছুক্ষণ জেগে থাকলে নেশা মাথায় উঠবার মতো অবস্থা হবে তোমার। কাল সকালে থাকবে তা নয়, ঘুম ভালো না-হলে কাল সারাদিনই মস্তিষ্ক ভালো কাজ করবে না। নেশার পরে ভোঁতা বিস্বাদ জিহ্বার মতো হয়ে থাকবে মন। কাজেই বুঝলে... কাজেই উনিশ বছরের মেয়েটির মতো বিছানায় তালগোল পাকিয়ে রৌদ্রতৃপ্ত পুষির মতো ঘুমিয়ে পড়বে।
তথাপি প্রায় কেঁদে ফেলার মতো মুখ নিয়ে চেয়ারে ফিরে এল দীপিতা, ইন্দুর সেই মেটারলিংক প্রভাবিত রাত্রির কথা মনে পড়ে গেল। ইন্দুর ঘর তারই নিজেরই পড়বার ঘর, সেই দিন রাত্রির জন্য ইন্দুর ঘর হয়েছিল, ব্রাউনিং খুঁজে দিতে সবার মতো পুরুষের স্পর্শ-উদ্বেল অন্ধকার আজও ঘরে।
মনে হলো : যে-আগ্রহে ইন্দু কবি হয়ে ওঠে সেটা কি ভাব?
ইন্দুর উপপাদ্য একটা বিষয় মনে পড়ল_বিংশ শতকে এসে দেখছি আমরা রুক্ষ হয়ে উঠেছি, যে-কূপ থেকে উদ্বেল হয়ে ওঠে প্রাণরস, শুকিয়ে গেছে সেটা। বিশ্বাস নেই কিছুতেই থাকলেও স্বীকার করি না, কারণ বিশ্বাস জিনিসটা মধ্যযুগের ব্যাপার, সেই জন্যই তাকে বর্জন করেছি।
খুব অন্যায় করেছি? মধ্যযুগের পোশাকটা বর্জন করবার সময়ে ন্যায় ও অন্যায়ের কোনো প্রশ্ন যেমন ওঠে না, এটার বেলাতে হলে ক্ষতি কী?
ইন্দু এ রকম পরিস্থিতিতে ঠোঁট দুটি আলগা করে রাখে, বোকামির চিহ্ন নয়, কথা বলবার, তর্কের কোণ চেপে ধরবার আগ্রহাতিশয্যে সে টপ করে বলে বসল, 'দেখুন এই সাহিত্যিক অমিয়বাবুর কথাই ধরুন, আপনার প্রিয়জনস্থানীয় অমিয়বাবুর, যখন ভাবের প্রসারতায় সহানুভূতিতে যখন তাঁর চোখ দুটি করুণায় ভরে উঠবার লক্ষণ দেখাচ্ছে, কলমকে অব্যাহত ছেড়ে দিলে যখন গ্রীক ক্লাসিকের স্বল্প পরিমিত গভীর বেদনার দু-চারটে কথা লিখে ফেলবেন মনে হচ্ছে, ঠিক তখনই টপিকাল কোনো কথা উত্থাপন করে বাজে কথার অবতারণা করে নিজের ভাবাবেগকে ব্যঙ্গ করে নিজের লেখাটাকে থার্ড ক্লাস করে তুলবেন। এটা হচ্ছে একটা পোজ, যুগের ভঙ্গি। ডেমোক্রাসির রিঅ্যাকশন।'
বক্তৃতা দেবার সময়ে ইন্দুর মাংসল চোয়াল দুটি স্থূলভাবে নড়ে-নড়ে ওঠে।
দীপিতা জ্বালাময় চোখের সম্মুখে ভার্জিনিয়া উল্ফই খুলে বসল। হাতের কাছে পেয়ে এমন স্পস্ট ভাষায় নিজেদের কথা কে বলেছে, কোথায় এমন বর্তমানের আলোকসম্পাত?
কিন্তু চোখে পড়ে গেল_না-না, আমরা পারছি না, প্রাচীনদের মতো কোনো মহৎ সৃষ্টি। সেই সুর, পরাজয়ের অবিশ্বাসের আজকের রাত্রির সুর। মনে হলো : বিশ্বাস ত্যাগ করাটা উচিত হয়নি। বিশ্বাস জিনিসটা অবিভাজ্য, প্রাচীনের প্রতি সব বিশ্বাস ত্যাগ করতে গিয়ে বর্তমানে বিশ্বাস রাখা আর সম্ভব নয়।
মনে হলো আশ্রয় চাই কিছু। সহসা সিগারেটের অনাস্বাদিতপূর্ব ধোঁয়ার অদম্য পিপাসা বোধ করল সে। ছেলেমানুষি করে কেনা ডাকপিওনের মতো চামড়ার কাঁধব্যাগ হাঁটকে বেরোল কয়েকদিন পূর্বে ব্রাভাডো দেখানোর জন্য সীতার কেনা বিবর্ণ এক প্যাকেট সিগারেট, যেটা দীপিতা শাসনের ভঙ্গিতে কেড়ে নিয়েছিল।
মুখে একটা তোবড়ানো সিগারেট গুঁজে পুরুষের ভঙ্গিতে টেবিলের উপরে পা তুলে বসল। নেই নেই কিছু নেই, মহৎ কোনো সম্পদ প্রাণরসের কোনো চিহ্ন_এমনি হাহাকারে শেষ হয়েছিল ভার্জিনিয়া উল্ফের জীবন, এ-কথাটাও মনে পড়ে গেল।
চেয়ারের পিঠে মাথা হেলিয়ে দীপিতা, মুখে তোবড়ানো সিগারেট ঝুলে আছে। হঠাৎ ঘুম এলো দুর্নিবার মোহের মতো বাইরের আকাশে গুরু-গুরু বর্ষণ নামামাত্র। বাঁ-দিকের বুকটায় গরাদের চাপে ব্যথা হয়ে আছে, ঘুমের ঘোরে একখানা হাত সে-ব্যথাটাকে স্পর্শ করে রইল।
শান দেওয়া শহরের মেয়ে দীপিতা; কথা যখন সে বলে চশমার সোনার ফ্রেম সেগুলিতে পালিশ লাগিয়ে দেয়, কানের অদ্ভুত-গড়ন দুলজোড়া দুলে, ডিগবাজি খেয়ে কাঁধের আনতিতে ফুটে ওঠা যতি কমা, কোলোন, জিজ্ঞাসাচিহ্নের প্রকাশগুলি স্পষ্ট করে তোলে।
দীপিতা খদ্দরেই অভ্যস্ত; শুধু শাড়িতে নয়, তার বসবার ধরন, বুকের কাছে বইগুলি কুড়িয়ে নেবার পদ্ধতিটাতেই শুধু খদ্দর নয়, উঁচু করে কথা সে বলে না, উঁচু গলায় হাসে না।
কিন্তু এ সত্ত্বেও লোকে বলে : হঠাৎ কিছুদিন ধরে আঁচলের একপ্রান্ত একটু তুলে খোঁপাটাকে আড়াল করার যে-রেওয়াজ উঠেছিল কলেজে তার পেছনে দীপিতার শুধু প্রশ্রয়ই ছিল না। তেমনি ডাক-পিওনদের মতো চামড়ার অর্ধচন্দ্রাকার ব্যাগ কাঁধে ঝোলানোর ব্যাপারটাতেও দীপিতার নাম জুড়ে গেছে।
কিন্তু লোকে প্রকাশ্যে বলে না। পাছাপেড়ে শাড়ি কলকাতায় কী করে জুটল, এর চাইতেও বড় সমস্যা হলো একদিন সেটা পরে কলেজে আসবার কথা দীপিতা কী করে ভাবতে পারল! শুধু পরা নয় যেখানে যে-রকম টানটোন দেয়া দরকার তেমনি করে দেহকে ফুটিয়ে তুলে! সারা দিন তাকে কেন্দ্র করে কলেজে একটা বাতাস খেলে গেল। প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলেনি, হয়তো হাস্যকর ব্যাপারও অভিভূত করে দেবার মতো ভালো লেগে যায় কখনো।
দীপিতা নিজেও জানে এগুলি তার একসেন্ট্রিসিটি, আগে টের পায় না, পায় ঘটে যাবার পর। কলেজে নতুন পাশ-করা কোনো অধ্যাপককে বিব্রত করে, লেডি চ্যাটারলির লালসার সমালোচনা তাঁর মৌনতা থেকে টেনে বার করে-করে, শেষ পর্যন্ত উপন্যাসের প্রথম একশো-তিরাশি পাতা স্রেফ গ্রন্থের কলেবর বাড়ানোর জন্যে লেখা বলিয়ে নিয়ে, লরেন্সের প্রশংসা নিন্দায় পরিণত করে দীপিতা যখন তার বেঞ্চটাতে বসে তখন সে ভাবে এটাও একসেন্ট্রিসিটি হল।
ডিবেটিং-ক্লাবের দীপিতা, ভারতীয় ফেবিয়ান-ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা 'এমাজন' নয়। কেউ তাকে দেখেনি হেদোর উঁচু ব্রিজ থেকে কালো পোশাকে ঝাঁপ দিয়ে পড়তে জলে। কল্পনাও করা যায় না।
কিন্তু যখন সে বাড়ি ফিরে যায় কেউ কি দেখেছে তাকে? একটা ব্লাউজ থেকে আর-একটায় যাবার ক্ষণটুকু দীর্ঘায়িত হয়ে আয়নায় যখন প্রতিবিম্বিত হয় তখন ক্লান্তির স্বেদমালা নাভির কাছে জন্ম নিয়ে বিপন্ন স্তনযুগলের মাঝখান দিয়ে কাঁধের দুদিকে ছড়িয়ে পড়ে ঘাড়ের পেছনে আবার একত্রিত হয়ে মাথাটাকে সামনের দিকে নত করে দেয় যেন। দীপিতা 'আঃ' বলে পাশের চেয়ারটায় গা ঢেলে দেয়। সে শুধু উনিশ বছরের একটি মেয়ে।
পরেশ মিত্তির বেড়িয়ে ফিরে আদ্দির পাঞ্জাবি খুলল, চুনট-করা কোঁচাটা এক অদ্ভুত কায়দায় জড়িয়ে আলনায় ঝুলিয়ে রাখল। পাম্পশুটা খুলে ব্রাশ দিয়ে ঝেড়ে গুছিয়ে রাখল, পাঞ্জাবির তলে যে মোটা গেঞ্জিটা পরা ছিল সেটা পালটে মসলিনের মতো হালকা একটা পরল। হালকা রঙের সিল্কের লুঙ্গিটার বাঁধন আলগা করে পায়ের দুপাশে মাথা হেলিয়ে-হেলিয়ে লুঙ্গির ঘের মাটি স্পর্শ করেছে দেখে নিশ্চিন্ত হলো। আলনা থেকে বিলিতি তোয়ালেটা কাঁধে ফেলে বাথরুমের দিকে যেতে-যেতে ফিরে দাঁড়াল, আলনাটার পায়ের কাছে বসে জুতো চটিগুলি সোজা করে রাখল।
কাঁধ থেকে চুলের গোড়া, আঙুলের ডগা থেকে কনুই অবধি সাবান দিয়ে ধুয়ে পরেশ যখন ঘরে ফিরে সরু ধাতব ফ্রেমের চশমা খাপে পুরে কালো ফ্রেমের পুরু কাচের বই-পড়বার চশমা বার করে বসেছে টেবিলের সম্মুখে, তখন ইন্দুর ফিরবার সময় হলো
ইন্দুর বর্ণনা করা বেশ একটু কঠিন। যতই গম্ভীর হয়ে বিচার করতে বসা যাক, বর্ণনা খানিকটা হাস্যকর হবেই। নস্য রঙের সিল্কের পাঞ্জাবিটা আধো-অন্ধকারেও দৃশ্য হচ্ছে। হাতে একগোছা গোলাপ ফুল। তার গলার সাড়া পেয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় বার্ষিক শ্রেণীর দু-তিনটে ছেলে তার কাছে এসে দাঁড়িয়েছিল। ঘরের তালায় চাবি পরাতে-পরাতে ইন্দু তাদের দেখে ফিরে ঘরগুলির সম্মুখে বারান্দায় রেলিঙের কাছে দুটো থামের মাঝখানে যে-কোণটুকু আছে তার কাছে ফিরে দাঁড়াল_ভাবখানা এই, এস হল্লা করি খানিকটা।
একটা ছেলে কচি গলায় বললে, 'গোলাপের উঠনো বন্দোবস্ত আছে নাকি, ইন্দুদা?' আর-একজন রসিকতা করবার চেষ্টা করে বললে, 'প্রেমের ব্যাপার নাকি, ইন্দুদা, শুনেছি তিনি বন্ধুপত্নী।'
ইন্দু খক-খক করে হেসে উঠে বললে, 'তা প্রেম বইকি। দাদাকে অজস্র মুঠি-মুঠি বিলোবার পরও বউদির ভাড়ার কিছু কিঞ্চিৎ থাকে, আমাকে ডুবিয়ে দিতে সেইটুকুই যথেষ্ট।'
দীপিতা স্বীকার করে ইন্দুর বর্ণনাটা আগাগোড়াই কল্পনা, হয়তো-বা খানিকটা পক্ষপাতদুষ্ট। সে হয়তো নস্য রঙের সিল্কের ভক্ত নয়, কিন্তু ইন্দুর কথা মনে হলেই এ-রকম দৃশ্যই তার মনে পড়ে। অনেক অজুহাতেই পরেশ মিত্তিরের ঘরখানা সে দেখেছে। সেটা কল্পনা নয়, ঘর গুছিয়ে রাখে পরেশ। কিছু বললে বলে_নিজের হাতে সাতদিনের জঞ্জাল এক রবিবারে সাফ করবার চাইতে জঞ্জাল জমতে না দেওয়াই ভালো। কিন্তু ইন্দু?
দীপিতা না-দেখেও বলে দিতে পারে ইন্দুর ঘরের দুর্দশার কথা। সিগারেটের দগ্ধাবশেষ, টিনের খাবারের খালি আধার, ময়লা কাপড়-জামা, ধুলোয় ঢাকা টেবিল এসবই থাকবে_যেন শরৎবাবুর কোনো নায়ক; কোনো নায়িকা এসে ঘর গুছিয়ে দেবে, গুছিয়ে দেবার মধ্যে ফুটে উঠবে_নিশ্চিন্তে আরাম এনে দেবার মতো স্ত্রী হতে পারি তোমার। মানুষকে চেনা গেলে তার সম্বন্ধের খুঁটিনাটি বিষয়গুলি কল্পনা করা কঠিন নয়।
ইন্দুর কথায় পরেশের মনে হয় : মানুষের জীবন কেন বাহুল্য-বর্জিতের একটা তরঙ্গে গঠিত হয় না।
দুজনে একসঙ্গে ঝরনা কলম কিনতে গিয়েছিল দোকানে; পরেশ কিনল ধূসর রঙের স্ট্রিমলাইন্ড একটা-কিছু আর ইন্দু নিল কলরব-করে-ওঠা ফিরোজারঙের দামি পার্কার সোনার খাপে মোড়া। এইখানেই রুচির তফাত, এই পার্থক্যই দুজনের সর্বত্র।
পরেশের বন্ধু হিসাবে ইন্দু চলতে পারে না। বহুদিন পরে, ম্যাট্রিক পাশ করবার পর চতুর্থ বার্ষিক শ্রেণীতে এসে, দেখা; পরেশও খুশি হয়েছিল বইকি; হাত জোড় করে স্মিত হাসিতে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিল_ইন্দুবাবু! ভালোই হলো, পুরনো দিনের অনেক কথা বলা যাবে। প্রত্যুত্তরে ইন্দু_আরে বাঁটলো যে রে, বলে লাফিয়ে এসে বুকে জড়িয়ে ধরেছিল পরেশকে।
ইন্দুর সঙ্গে পরেশের বিচ্ছেদের যা কারণ সেটাকে এই রকম বলা যায়; রবিবারের পাগল ইন্দু; প্রতি রবিবারে সকাল থেকে বেলা বারোটা অবধি কলকাতার পথে-পথে হৈ-হৈ করে হা-হা করে হেসে, কেবল সিগারেট ফুঁকে রেস্তোঁরা-কাফেতে চা খেয়ে ঘুরে বেড়াবে। এই বোহেমিয়ানা যে এক শতাব্দীর পুরোনো হয়ে গেছে এ ইন্দু বোঝেও না, জানে না।
কিন্তু এ-কথাগুলি ভাবলেও, কী শোভন প্রকাশ করেছিল তার পরেশ, এতটুকু ক্ষোভ নেই, এতটুকু বিচলন নেই, শান্ত মৃদুস্বরে বলেছিল, 'ওর স্বাস্থ্য ভালো, ও পারে, পিছিয়ে পড়লুম আমি।... এইসব দিয়ে ইন্দু গড়া, পরেশও।
মাঝে মাঝে কিন্তু ইন্দুর রুচি মোহগ্রস্ত করতে পারে চারিপাশের লোককে। দীপিতার গত জন্মদিনে এ রকমের একটা ব্যাপার ঘটেছিল; অন্য অনেকের মতো ইন্দুও উপহার দিয়েছিল। সত্যিকারের কাজ যাতে আছে এমন একটি রুপোর রেকাবিতে একটা কালচে-লাল রঙের দগদগে গোলাপ। টাকার দেমাক না-দেখিয়ে যতটা ব্যয় করা ছাত্রের পক্ষে সম্ভব ততটা নিশ্চয় হয়েছিল রেকাবিখানা কিনতে, কিন্তু তার চাইতে প্রাধান্য পেয়েছিল ক্ষণস্থায়ী গোলাপটি। এমনকী দীপিতার গালেও ব্রীড়ার রং লেগেছিল।
তেমনি হয়তো ভালো লাগার উপাদান তাকে তার হঠাৎ বলা কোনো কথায়। পরেশ বলেছিল_এখনও অর্ধেক কল্পনায় ঘিরে রাখতে চাই নারীকে। হর্ষে, দুঃখে, উদারতায়, হিংসার সার্টের আড়ালের মানুষটির সঙ্গে বডিসের অন্তর্বর্তিনীর কোনো প্রভেদ নেই, এ বুঝব আমরা কবে? এখনও এই বিংশ শতকের মাঝামাঝি এসেও বলব, তুমি হেঁটে গেলে পদ্ম ফুটে ওঠে। এসব কথা, ছেলে ভুলানো ছড়া আর-কতদিন চলবে।
দীপিতা বলতে যাচ্ছিল_ছেলে ভুলানো ছড়া যাদের জন্য সেই শিশুমনগুলিতে এখনও আছে, এমনি সব লাল রং দেখে হাত-বাড়ানো শিশু।
প্রথম দিকে ইন্দু চুপ করেছিল, হঠাৎ বলে উঠল_বিংশ শতকের কাচের বাঙ্ েরাখা জীবন আমাদের; শো-কেসে রাখা প্রজাপতির ডানার পরাগের মতো খসে গেছে আমাদের কল্পনা; অনেক গালভরা টানা টানা লাতিন নাম সুস্পষ্ট পাইকায় লিখে দিয়েছি বাঙ্রে গায়ে-গায়ে; তবু পরাগ-উঠে-যাওয়া জীবন। তারপর সে দীর্ঘনিঃশ্বাসও ফেলেছিল।
মাঝে-মাঝে মনে হয় লোকটি কথা বলছে না যেন স্ফটিক নিয়ে খেলা করছে। কিন্তু এ-ব্যাপারটা তার পিছিয়ে থাকবার নজিরও বটে; কথার এই সুবিবেচিত প্রয়োগ, লক্ষ্যে পড়ে যাবার মতো প্যাঁচের প্রাচুর্য। বস্তুত ইন্দুর লক্ষ্যের মাঝখানে গিয়ে পড়বেই, তার সুগৌর প্রকাণ্ড দেহের মতো প্রাধান্য-কাঙাল যেন তার রুচি, ফলে গোলাপের মতন বর্ণচ্ছটায় ও আবেগের উত্তাপে ভরে ওঠে সে।
ইন্দু নিজেও জানে তার পদ্ধতিতে সেকেলেমি ছাড়া আর কিছু নেই, সেও ধীরে-ধীরে বিকাশের প্রভাব মেনে নিচ্ছে। বিকাশ দীপিতার দাদা, তার সংস্পর্শে এসে ইন্দুর বলবার ভাষার পরিবর্তন সূচিত হয়েছে, অনাড়ম্বর, প্রজ্ঞাদীপ্ত, উৎপ্রেক্ষাহীন হয়ে উঠবার লক্ষণ দিয়েছে ইতিমধ্যে।
এ-বাড়ির কথা বলতে গেলে বিকাশের কথা বলতে হয়। খদ্দর পরেন না তিনি, সাধারণ বাঙালির মতো দোকানের কাপড় কিনে পরেন। জেল তাঁকে বারংবার খাটতে হয়েছে গান্ধী-মহারাজের ডাকে। কোনোদিন কেউ মাথায় দেখেনি গান্ধীটুপি, খুব বিরক্ত করলে মধুর পরিহাস করে বলেন : বাঙালির ছেলে, হঠাৎ নগ্নমাথায় খাপ উঠলে বেখাপ্পা দেখাবে। জেল থেকে বেরিয়ে কেউ দেখেনি তাঁকে ফুলের মালা গলায় পরতে, জেলে ঢুকবার সময়ে কেউ শোনেনি বন্দে মাতরম বলতে বুকভরে। দেশ আমার, আমার দেশকে আমার বলতে শ্লোকে গান গেয়ে উঠতে হবে কেন স্বর্গাদপি গরীয়সী বলে? আমার মা আমার ছেলে বলে কেউ কি কোনোদিন গান গেয়ে ওঠে।
এ-বাড়ির আবহাওয়া বিকাশের জ্যামিতির প্রতিজ্ঞার মতো স্বল্পবাক, বাহুল্যবর্জিত জীবনের তৈরি!
কোথা থেকে কী হলো কলেজে, কী কেলেঙ্কারি ঘটে গেল। দরজার পাল্লায় হাত ছেঁচে রক্তারক্তি। দরজার পাল্লায় মানুষের দু-তিনটে আঙুল অমন বীভৎসভাবে জখম হতে পারে এ না-দেখলে বিশ্বাস হয় না। অতটা বাড়াবাড়ি যেন ইন্দুর ক্ষেত্রে ছাড়া ঘটতও না। স্যোসালিস্ট এক নেতার সংবর্ধনা ব্যাপারকে উপলক্ষ্য করে ঘটল ব্যাপার। দীপিতা ও পরেশ ঝগড়া করতে নয়, ইন্দু ও তার পেছনে কয়েকটি ছেলের একটি দল তৈরি হচ্ছিল, তাদের বোঝাতে গিয়েছিল; কেলেঙ্কারিটা ঘটে গেল। কেউ কেউ বলে পরেশ ইচ্ছা করে দরজাটা চেপে দিয়েছিল, কেউ বলে ইচ্ছা করে দিলেও ইন্দুকে জখম করবার জন্য নয়, দিয়েছিল নিজের বিরক্তির নাটকীয় প্রতীক সৃষ্টি করতে। কিন্তু আর্তচিৎকার করে হাত চেপে ধরে ইন্দু যখন বসে পড়ল, এতসব ভাববার অবকাশ কারো ছিল না। দীপিতা স্তব্ধ হয়ে দেখল, ছ-ফিট উঁচু পুরুষটির দেহটা একেবারে তার পায়ের কাছে নুয়ে পড়েছে; বেদনায় এমন হাহাকার করতে কাউকে সে শোনেনি, দেখেনি এমন করে পুরুষকে কান্না চাপবার বৃথা চেষ্টা করতে। অ্যাম্বুলেন্স, প্রফেসাররা, ছাত্ররা যখন এল তখন দীপিতা ইন্দুর অনতিদূরে চৌকাঠে মাথা রেখে বসে আছে, তার চোখ বন্ধ, হাত মুঠো করা, চোয়াল শক্ত হয়ে উঠেছে, ইন্দুর রক্ত গড়িয়ে এসে তার শাড়ির খানিকটা ভিজে গেছে।
সম্ভবত রক্ত সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা কম বলেই কথাটা তার মনে দাগ কেটেছিল। পরেশ মিত্তির সম্বন্ধে কেউ-কেউ সন্দেহ আরোপ করেছিল। সহসা একটা আবেগের মতো বোধ করতে প্যাড টেনে নিয়ে দীপিতা খসখস করে একদিন লিখল : পরেশবাবু, আজকের ব্যাপারের জন্য তোমার লজ্জিত হওয়া উচিত; সুরেন্দ্র তোমার ইকোনমিঙ্রে নোট চুরি করে পড়েছে এই অজুহাতে কলেজে যে-রোল উঠেছিল তার পেছনে তুমি ছিলে এ রকম সন্দেহ হচ্ছে আমার।
এই পর্যন্ত লিখে চিঠিটা ছিঁড়ে ফেলেছিল সে, ডাকে দেয়া যেত, চাকরের হাতেও পেঁৗছে দেয়া যেত, বাধা সেটা নয়; চিঠি লিখবার কোনো যুক্তিই নেই বরং ভাবাতিশয্য প্রকাশ পাবে; নাটকের মতো হবে ব্যাপারটা।
রাত্রিতে সে খেল না, ইন্দুর রক্তাক্ত হাতের কথা মনে হতে গা ঘেঁটে উঠতে লাগল। পরের দিন কলেজে যেতে কুণ্ঠা হচ্ছিল তার, কিন্তু না-গেলে বাড়বে হৈ-চৈ, গেল সে, পরেশও এল; অন্যান্য দশদিনের মতো স্বাভাবিক হয়ে চলল তারা। তিনদিনের মাথায় ব্যাপারটা থিতিয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু কলেজ থেকে ফিরে দীপিতা চিঠি পেল, ভেবেছিল পরিচিত কারো, তলে নাম দেখে অবাক হলো। ইন্দু চিঠি লিখেছে! লিখেছে :
শ-দেড়েক টাকার আজই প্রয়োজন; হাতের অবস্থা ভালো নয়। হাসপাতালের ব্যবচ্ছেদে কেটে বাদ দিতে হবে দুটি আঙুল। আমার অমন সুন্দর আঙুলগুলি হারাতে চাই না, বাইরে বড় কাউকে দেখাব। টাকাটা আজই পেঁৗছে দেবার ব্যবস্থা করবেন।
ইন্দু চিঠি লিখেছে, তাকে লিখেছে, লিখে টাকা চেয়েছে! পোস্টকার্ডখানা উল্টেপাল্টে দেখে তার শুধু মনে হলো হিং টিং ছট। উপন্যাসের নায়িকা যেন সে, জোর করে মন কেড়ে নেবার পার্ট যেন তার সম্মুখে। দেড়শোটা টাকা এমন কিছু নয়, এর আগে চাঁদা হিসাবে সে দিয়েছে, বড় জোর মা একটু হুঁশিয়ার করে দেবেন, কিন্তু ইন্দুর টাকা চাইবার কী যুক্তি এত লোকের মধ্যে বেছে-বেছে তার কাছে। টাকা পাঠাবার কথা ভাবতে গিয়ে তার মনে হতে লাগল উপন্যাসের পূর্বরাগের কথা।
রাত্রিতে শুতে গিয়ে একলা অন্ধকারে তার মনে হলো চিঠিটার কথা, হাসিও পেল। কিন্তু চিন্তাগুলিকে যখন ঘুমের গহ্বর থেকে টেনে বার করতে হচ্ছে দীপিতার মনে হয়েছিল : নন্তুটা (তার ছোট ভাই) এমন করে মাঝে মাঝে পয়সা চায় বটে, কিন্তু ক্লাস সিঙ্রে ছেলে নন্তু আর ইন্দু একই অর্থে পুরুষ নয়।
প্রায় এক সপ্তাহ পরে বৈকালে, অধ্যাপক দু-তিনদিন আসেননি, তাঁর অসুখ করেছে কিনা এ খোঁজ করতে গিয়ে দীপিতা আটকে পড়ল অধ্যাপক যখন বললেন_গাড়ি রাখো, শম্ভু পণ্ডিতের হাসপাতালে ইন্দুকে দেখে যাব তোমাদের বাড়িতে, চা খাওয়া হয়নি, তোমাদের ওখানেই খাব।
এরপরে অজুহাত দেখানো চলে, না-যাওয়া চলে না। বাড়াবাড়ি হয়, জেদের মতো ুএকটা-কিছু প্রকাশ হয়ে পড়ে।
ইন্দু বিছানায় উঠে বসেছিল। ক্লান্ত নিষ্প্রভ দৃষ্টি, গভীর শোক ছাড়া এমন চেহারা হয় না কারো। অধ্যাপকের প্রশ্নের উত্তরে ব্যান্ডেজ বাঁধা হাত তুলে দেখাল ইন্দু, ব্যান্ডেজের ফের দেখেই বোঝা গেল কঠিন সত্যটুকু, দুটি আঙুলই কেটে বাদ দিতে হয়েছে। অধ্যাপক ধীরতা সম্বন্ধে কী-একটা উপদেশ দিতে ইন্দু টেনে-টেনে হেসে উঠেছিল, কিন্তু দীপিতার দিকে চোখ পড়তেই ওর হাসি থেমে গেল; গভীর অভিমানে মুখের চেহারা যেমন হয় তেমনি হলো, চোখেও জল এল।
একদিন মুখ নিচু করে বই গোছাতে-গোছাতে দীপিতা শুনছিল ইন্দুর অসুখের কথা অধ্যাপকের মুখে। তিনি একসময়ে বলেছিলেন, বেচারার আঙুলগুলির জন্য দুঃখ হয়। বাইরের কাউকে দেখাতে চেয়েছিল শুধু কিছু টাকার জন্যই হলো না।
'আপনি দিলেন না কেন,' দীপিতা বলেছিল, চিঠির কথা মনে পড়েছিল তার।
'দিয়েছি, কিন্তু বাইরের ডাক্তার এসে বললেন, অপকারটুকু হয়ে গেছে।' অতঃপর অধ্যাপক বললেন, 'কে একজন ওর আছে, তার কাছে টাকা চেয়ে পাঠিয়েছে, বলেছে তিনি টাকা পাঠালে আমার ধার শোধ করে দেবে। আমি ভেবেই পেলুম না কলকাতায় থেকে এত বড় বিপদের কথা শুনেও টাকা পাঠাতে দেরি করলেন কেন তিনি। অমন বন্ধু থেকে লাভ কী? ধার হিসাবেও তো টাকাটা দেয়া যায়।'
দীপিতা সোজাসুজি একটু তীক্ষ্ন করে অধ্যাপকের দিকে চাইল, সন্দেহ হয়েছে তিনি চিঠির কথা জানেন, বিঁধবার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তা নয়। অধ্যাপককে এমন একটি বৃত্তি আরোপ করার জন্যই দীপিতা কুণ্ঠাবোধ করল।
অধ্যাপক চলে গেলে দীপিতা ভাবল_পাঠালেও হতো টাকাটা, ইন্দুকে যা ভেবেছিল তা হয়তো নয় সে। টাকার প্রয়োজনে লিখেছিল, দীপিতাদের দেবার ক্ষমতা আছে জেনে। হৃদয়ের অনুসন্ধান সে করেনি উপন্যাসের নায়কের মতো। টাকাটা দিতে হবে, অধ্যাপকের ধার যখন ইন্দু শোধ করতে চায় তখন টাকার প্রয়োজন ফুরায়নি, ইন্দুকে অঋণী করতে অগ্রহ হলো তার।
পরদিন টাকাটা পাঠাতে গিয়ে আগ্রহটা তাকে সংকুচিত করেছিল, ইন্দু যদি তার আগ্রহে কোনো গভীরতর বৃত্তি আরোপ করে বসে। কিন্তু একটা ভালো লাগার বোধও ছিল এ-কুণ্ঠার মধ্যে। মনি-অর্ডারের কুপনে সে লিখল : পাঠাতে দেরি হলো বলে আমি দুঃখিত।
তার লিখতে ইচ্ছা হলো : আপনি নিতান্ত ছেলেমানুষ, এত অল্পদিনের পরিচয়, যাকে পরিচয়ই বলা যায় না, তাতেই আপনি টাকা চেয়ে পাঠিয়েছেন, আপনার আত্মপ্রত্যয়ের মূল অনুসন্ধান করতে ইচ্ছা হয়।
কিন্তু দীপিতার মতো মেয়ে এ-কথা কাউকে লিখতে পারে না, বরং ভালো লাগার বোধটাকে আড়াল করবার জন্য কুপনে লিখল_যখন সম্ভব হয় শোধ করে দেবেন।
টাকাটা পাঠিয়ে রাত্রির অন্ধকার অপূর্ব বোধ হতে লাগল। ইন্দু কি তাকে ভালোবাসে?
দীপিতা বালিশে মুখ গুঁজে হেসে ফেলেছিল। কিন্তু একজন পুরুষ তাকে ভালোবাসে এ-বোধটা হাস্যকর হলেও, পুরাতন হলেও প্রত্যেকটি মেয়ে প্রথম যখন অনুভব করে তখন বোধ হয় কৌতুক ও কৌতূহলে উন্মনা হয়ে ওঠে_ভাবল দীপিতা।
পরের দিন সকালে টাকা পাঠানোর ব্যাপারটায় নিজেকে খুবই বোকা বললে দীপিতা। ইন্দুকে অঋণী করবার জন্য টাকাটাও পাঠাতে হবে এতটা আগ্রহ হওয়া উচিত ছিল। দু-পাঁচদিন ডাকের দেরি হলেও ইন্দুর বাড়ি থেকেই নিশ্চয় এসেছিল টাকাটা।
কিন্তু খুব খারাপ লাগছে না, কুণ্ঠার মধ্যে ভালো লাগার বোধ একটা থাকেই, বিশেষ করে আজকের রাত্রিটায় যেন ভালো লাগছে চিন্তা করতে।
একদিন সশরীরে ইন্দু এসেছিল দীপিতাদের বাড়িতে, অন্য অনেকবারের মতো দীপিতা অবাক হয়ে শুনেছিল ইন্দুর রঙদারি ভাষা।
কিন্তু বিকাশ চলে গেলে, দীপিতার সম্মুখে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে ঘামতে লাগল ইন্দু। ব্যথা নেই আর_দীপিতা বলেছিল।
অস্ফুট একটি_না।
একটু পরে আবার দীপিতা বললে_হোস্টেলে না-ফিরলে যদি চলে, খুব বৃষ্টি হচ্ছে না?
ইন্দু বললে_হোস্টেলে না-ফিরলে চলে।
আসলে ব্যাপারটা এই, পরে একদিন ভাবল দীপিতা_রোজকার ঘটনার বাইরে যা সেটাই রোমান্স, আর সব ব্যাপারটার মূলে আছে ইন্দুর রোমান্সপ্রিয়তা। টাকা ধার করার ব্যাপারটা হয় কুসীদজীবীর সঙ্গে বা কুসীদজীবীর বিলেতি প্রতিরূপ ব্যাংক ও ব্যাংকারের কাছে থেকে। আমাদের দেশের মেয়েদের অর্থ সম্বন্ধে কোনো স্বাধীনতা নেই, দিতে হলে কাউকে কিছু তাদের অভিভাবকস্থানীয় পুরুষরা দেন। ঠিক এজন্যই হঠাৎ কোনো মেয়ের যদি অর্থনীতিগত স্বাধীনতা থাকে তার আবহাওয়া অনেক পুরুষের কাছে রোমান্টিক বোধ হয়। এমনকি অনেক মেয়েরও হয়, যেমন হয়েছিল স্বাগতার। স্বাগতা বুদ্ধিশাণিতা মেয়ে, কলেজে সে রোমান্স কল্পনা করতে পারত না। কিন্তু কলেজ থেকে বেরিয়ে অধ্যাপিকা হিসাবে অর্থ উপার্জন করে সে রোমান্টিক হয়ে উঠল। তার চাইতে বয়েসে ছোট (লোকে বলে) একটি রোগা ফ্যাকাশে খদ্দর-পরা ছেলেকে এখন-তখন অর্থসাহায্য করতে করতে একসময়ে সে তার মোহে কলেজ ছাড়ল, গ্রামে চলে গেল ছোট একটি রোমান্টিক কুটির গড়বার লোভে।
বিশ বছর আগে কলেজে পড়ার ব্যাপারটাই এমন রোমান্সের উপাদান হতো, মেয়েরা কলেজে পড়ছে এই নতুনত্ব। নতুন শাড়ি পরলে পুরনো বউকে যেমন ভালো লাগে, তেমনি স্ত্রীজাতি-বিমুখ অনেক কলেজের ছাত্রের চোখে এই নতুন রূপটি, বুকের কাছে বই কুড়িয়ে নিয়ে, ছাতা হাতে করে চলা মেয়েদের, ভালো লেগে উঠল। সাহিত্যিকদের উপরেও এসব পরিবর্তন প্রভাব বিস্তার করে।
দীপিতা সকালের ডাকে আসা কলম্বিয়া য়ুনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত বর্তমান ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসের ধারা খুলে বসল। কিন্তু ঘুম পাচ্ছিল তার। মনে হলো ঘুম পেলে ছেলে-ছাত্ররা নস্যি নেয়। হাই তুলে সে ভাবল একদিন নিয়ে দেখলে হয় ঘুম যায় কিনা, কিন্তু বড্ড নোংরা।
তাহলেও, ভাবলে দীপিতা_একদিন যদি দেখা যায় মেয়েরা নস্যি নিতে আরম্ভ করেছে, হয়তো সেটাই রোমান্সের উপকরণ হয়ে উঠবে।
এটা হাস্যকর কথা হলেও এর চাইতে বড়-বড় ঘটনার মূলেও এ-অভিনয়ের নেশা দেখা যায় বইকি। বস্তুত আজই দেখেছে সে, বিকাশের ঘরের পাশ দিয়ে আসতে-আসতে গানের মৃদুশব্দে অর্ধোন্মুক্ত দরজা দিয়ে চোখ পড়েছিল ঘরের মধ্যে, ভামিনী বউদিকে দেখা দিয়েছিল প্রসাধন করতে। একটু অবাক লেগেছিল বইকি দীপিতার। সবজে সাটিনের পায়জামা পরা, পিঠের চওড়া চ্যাপ্টা বেণী এসে পড়েছে নিতম্বে। আর্দ্র দৃষ্টি বেষ্টন করে যেন কাজলের রেখাও ছিল।
দুগাছি সরু সোনার চুড়িতে, একগাছা সরু সোনার হারে, লাল পেড়ে সাদা শাড়িতে দেখা ভামিনী বউদির সঙ্গে মেলে না। তার দাদা বিকাশ স্কুলের হেডমাস্টার, কিন্তু তাই বলে অর্ধ-সন্ন্যাসের আদর্শে খাড়া হবেন ছাত্রদের সম্মুখে এ মত নয় দীপিতার। রাত্রির প্রভাব, আদিম সূর্যোদয়ের চাইতেও প্রাচীন তমিস্রার রক্তে সঞ্চারিত স্মৃতি।
একবার একটা কবিতার কথা মনে হয়েছিল তার। পুরুষ বলছে নারীকে : 'এইটুকু আমার কামনা, শুধু এইটুকু_তোমার পাশে দাঁড়িয়ে আমার মন যখন করুণায় টলমল করে উঠেছে, সেই কারুণ্যের কাঁপন লাগুক তোমার মর্মমূলে, পরম সহ-অনুভবের প্রতিতরঙ্গ।' মিথ্যা নয় কবির আশা, আরো দু'এক শতক পরে হয়তো মানুষের জীবনে সত্য হয়ে উঠবে।
কিন্তু তা না হলেও ক্ষতি নেই। ইংরেজি সাহিত্য ও বিজ্ঞান দীপিতার পাথেয়। যদিও সে এখনও ইংরেজি 'লাভ' কথাটাকে অপ্রচুর মনে করে মানুষের পারস্পরিক সবগুলি আকর্ষণ নির্দেশের পক্ষে, এবং যদিও সে স্নেহ ও শ্রদ্ধা কথা দুটিকে ইংরেজি চালানোর চেষ্টা করছে তাদের আদিম বাঙালি অর্থে, সে সব সময়েই স্বীকার করে ভারতবর্ষের লোক আমরা শত চেষ্টা করলেও দাম্পত্য ভালোবাসাকে স্নেহ ও শ্রদ্ধার স্তরে উন্নীত করতে পারব না, বাৎসায়নের এক্তিয়ারের বাইরে এনে।
কাল ভোর হতে-না-হতে দীপিতা প্রাত্যহিক ভোরাই চায়ের আসরে যোগ দিতে বিকাশের ঘরে যাবে। বাইরে চড়ুই পাখিটা সরু ঠোঁট দিয়ে ঠুকছে ঠুক-ঠুক করে কাচের শার্সি, কার্নিশের টবে একটি নিশাগন্ধার কলি আগামী রাত্রির তপস্যায় সংহত ও ঋজু হয়ে উঠবে। মিতভাষিণী ভামিনী বউদির মৃদু পরিহাসে ভোরের হাওয়ার মতো অনির্দেশ্য সুখের আমেজ আনবে।
কিন্তু কাল সকালে যদি মনে পড়ে যায় রাত্রির এই বেলোয়াড়ি আড়ম্বর, এই রং ও রেখার সপ্রচুরতা? ইন্দুর পক্ষে যা স্বাভাবিক তাই যেন ঘটে গেছে। যেন সে প্রভাবিত করছে। মিলিয়ে নেয়া কষ্টকর, আট পহুরে দুপুরের বিশদ বস্ত্রের বিকাশের কথা ছেড়ে দিলেও, বোরাই চায়ের আসরের অস্নাত অবিন্যস্ত কেশ বিকাশের সঙ্গেও মেলে না। দীপিতার প্রশ্ন হচ্ছে : বিকাশ কি সহ্য করতে পারে ভামিনী বউদির এই ভাবালুতা, রাত্রির রোমান্স গড়বার প্রয়াস। হয়তো করে, অপ্রিয় হবার জন্য কেউ প্রয়াস করে না, প্রসাধন করে না।
ইলেকট্রিকের বাল্বে মধ্যরাত্রির শব্দ হয় না। টেবিলের সম্মুখে বসে থাকতে-থাকতে দীপিতার মনে হলো সে যেন বাল্বের অভ্যন্তরে কম্পমান শিখা দেখতে পাচ্ছে। অনেক দিন পূর্বের এক বিয়েবাড়িতে চোখ-জ্বালা করা মধ্যরাত্রিতে শোনা গ্যাসের সাঁ-সাঁ শব্দটার কথা মন পড়ে গেল তার। সেই আলোটার চারিদিকে অসংখ্য সবুজ রঙের পোকা গিজ গিজ করছিল। দীপিতা এবার লক্ষ্য করলে ঘেরাটোপের গায়ে কতগুলি বাদলা পোকা লেগে আছে, স্ট্যান্ডের পক্ষাকৃতি গোড়াটাতেও। আঙুল দিয়ে গোড়াটা সাফ করতে গিয়ে সে আশা করেছিল আলোর গা চোয়ানো খানিকটা ময়লা আর্দ্রতা লাগবে আঙুলে, কিন্তু তাদের শুষ্কতা মনকে আকৃষ্ট করবার মতো।
আকাশের প্রান্তে মেঘ আছে। অজস্র কালো চুলের সীমার মধ্যে চকচকে অবিশ্বাস্য টাকের মতো আকাশে গুটিকয়েক তারাও চকচক করছে। দূরের মেঘগুলির গতি দেখে সেগুলিকে কালো বর্ণের ফুটন্ত দ্রব্য বলে মনে হচ্ছে, যা-কিছু বাতাস মেঘের বীচিভঙ্গে সৃষ্টি হচ্ছে, বাধা পাচ্ছে, মেঘমুক্ত আকাশের অংশটুকু যেন আতপ্ত সৈকত মেঘের ঢেউগুলির স্নিগ্ধতা বহন করে যে-বাতাসটুকু আসছে সেটুকু আতপ্ত তটভূমির স্পর্শে তপ্ত হয়ে উঠছে। রুক্ষতার একটা অনুভূতি অন্যান্য বোধগুলির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে, পরিবর্তিত করেছে সেগুলিকে, দুটি শ্রাবণের ঘণ্টার মধ্যে একখণ্ড ফাল্গুনের সময় এসে পড়েছে যেন।
গর্হিত অন্যায় কিছু নয়, অবাক করবার মতো, ধাক্কা দিয়ে জাগ্রত করে দেবার মতো বিষয়_ভাবলে দীপিতা। হয়তো কৌতুকের জন্যই এই বেশভূষা, তবু এক-একটি ব্যাপার এমন সন্দিহান করে তোলে মনকে। মনেপ্রাণে কি আমরা উপচার-প্রয়াসী? আমাদের রিয়ালিস্টিক দৃষ্টির গভীরে, র্যাশন্যাল জীবনপদ্ধতির আড়ালে ইন্দুর মতো একজন লুকিয়ে আছে। সেই জন্যই কি দিনমানের উচ্ছ্বাসবৃত্তি রাত্রির অবসরে এমন প্রগল্ভ হয়ে ওঠে। এতটুকু ফিকে হতে দেবে না, উপচার-বাহুল্যে আস্বাদনকে পীড়িত না-করে ছাড়বে না? কীটস্ভক্ত ইন্দুর মতো।
এত স্বাভাবিক ছিল এসব ব্যাপার যে কেউ বিচার করার কথা চিন্তাও করেনি। আজ বিচার করতে হচ্ছে : মালা গেঁথেছিল, ভামিনী বউ শাদা বেলফুলের মালা, বিকাশের গলায় পরিয়ে দেননি ভামিনী বউদি, লজ্জার বাধা নয়, দীপিতা গেঁথেছিল, সেও পরাতো। বিকাশ ফিরে এসে মালা দেখে খুশি হয়েছিল, প'রে নয়। এটা খুব বড় কথা নয়, জীবনদর্শনও নয়, তবু যেন রুচি ও চিন্তাধারার প্রতীক।
দীপিতা প্রশ্ন করল, অভ্যাসের ফলেই কি এমন হয়েছিল, নতুবা ভামিনীর কি সাধ ছিল বেলফুলের মালাটা প্রিয়জনের গলায় তুলে দিয়ে প্রতীক্ষায় ঊর্ধ্বমুখী হয়ে দাঁড়াতে পারেনি অভ্যস্ত নয় বলে।
দীপিতা জানালার কাছে উঠে গিয়ে গরাদে দেহভার রেখে দাঁড়াল। অভ্যাসের ফলে হয়েছে, ভাবতে একটু কষ্ট হলো, কারণ অভ্যাসের ফল মানে অনেক দিন অভিনয় করার ফল।
বিকাশের ছেলেটি, যে শুধু ভালোবাসা কেড়ে নেবার জন্য আঙুল বাড়াতে শিখেছিল, একদিন অব্যক্ত ব্যথায় মায়ের মুখের দিকে চেয়ে থাকতে-থাকতে নীল হয়ে কেঁদে উঠে বিদায় নিয়েছিল। সেদিন দীপিতা হাহাকার করে কেঁদে উঠতে গিয়ে বিকাশের মুখের দিকে চেয়ে শঙ্কিত হয়েছিল, শোককে ছাপিয়ে উঠেছিল মানুষের মননশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা। বিকাশ ম্লান হেসে বলেছিল_ওকে ফুল দিয়ে সাজাবি, বরং মসলিনের নিষ্পাপ কিছু একটা পরিয়ে দে। ভামিনী শিশুমুখের দিকে চেয়ে থেকে একটা-বা অশ্রুর ধারা মুছে রোজকার মতো সাজিয়ে দিলেন।
শুধু কি অভ্যস্ততা, এত বড় বেদনার মুহূর্তেও কি অভ্যাস বড় হয়ে ওঠে? দীপিতার সন্দেহ হলো, সব আলো নিভিয়ে দিয়ে এলে সন্দেহ, বোধ হয় অনুভব ছিল না, হাহাকার করে কেঁদে উঠবার মতো প্রাণের সাড়া।
কিন্তু দীপিতা হাসল, হেসে বলতে পারল নিজেকে : দীপিতা তুমি একটি উনিশ বছরের মেয়ে মাত্র। এখনও সুস্থ সবল চিন্তাধারা তোমার নিজস্বত্বের কাঠিন্য অর্জন করতে পারেনি, অন্যান্য কারো চিন্তার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। এখন হাতে-মুখে জল দিয়ে বিছানায় যাও। কপালের রগ দুটিকে মাসাজ করে দিয়ো, ঘুমিয়ে পড়বে। কাল সকালে যখন সকালের খটখটে রোদে উঠে দাঁড়াবে তখন এপস্টাইনের মর্মরের মতো বাহুল্যবর্জিতের পরিপূর্ণতায় প্রকাশ পাবে তুমি।
তবু ভাবল দীপিতা : এখন মনে পড়ে না ঘুমাবার আগে অর্গল খোলা ছিল কিম্বা ঘুমের মাঝখানে উঠে দাঁড়িয়ে দরজাটার দিকে চেয়ে তার মনে হয়েছিল ওপারে ইন্দু হয়তো হাত-দুখানা প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছে তার মতো, দরজার অর্গল খুলে দিয়েছিল সে।
বর্ষণক্ষান্ত আকাশের দিকে চেয়ে দীপিতা দাঁড়িয়েছিল, তখন ইন্দু এল ঘরে, তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল বাইরের দৃশ্যের অংশ নিয়ে।
ইন্দু বলেছিল_আপনার পড়বার ঘরে ব্রাউনিং খুঁজে পেলাম না।
ব্রাউনিং খুঁজে দিয়ে ফিরে আসবার অনুভূতি এখনও লেগে আছে গায়ে, কিন্তু আরো অদ্ভুত বোধ হয় ভাবতে গেলে। ইন্দু শুধু বলেছিল_শুনুন, দীপিতা ঘরের প্রায় আধখানা হেঁটে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল ইন্দুর পাশে।
ইন্দু বলেছিল তোমার চুলগুলি খুলে দাও বাইরের ঐ অন্ধকারকে আরো স্নিগ্ধ করে, কথা বোলো না। প্রজাপতি-ডানার নিচের অন্ধকারের মতো কোমল নীরবতায় ডুবে যাও। কথা বোলো না, পাতার আড়ালে একটি ডানার ছায়ায় আর-এক জোড়া ডানা স্বপন দেখছে চ্যুতমঞ্জরীর।
ইন্দু কথা না-বললে কী হতো কে জানে, ইন্দুর কথায় দীপিতার সন্মোহন টুটে গিয়েছিল, হেসে সে বলেছিল_পিলিয়াস মেলিসান্ডার কথা বলছেন? মেটারলিংক তাহলে ভালো লাগে আপনার?
না, আঘাত দেয়নি দীপিতা। অধ্যাপকের উপস্থিতিতে সাহিত্য আলোচনা করবার মতো লঘু হাসি ছিল তার ঠোঁটে।
টিনের ঘরে ফিরে এসে মনে হয়েছিল, সিনক্রিয়েট করা হলো যেন। যেন প্রেমনিবেদনভীতা ত্রস্তা কিশোরীর পলায়ন।
অতঃপর দরজার কাছে দাঁড়িয়ে সে স্বচ্ছ গলায় বলেছিল_ও ইন্দুবাবু, আসুন। ঘুম হচ্ছে না, হয়ও না এ-অবস্থায়, পোকার খেলি বরং।
দীপিতার সলিলকি করা অভ্যাস নয়, তবু মনে হলো আবার : তুমি কি চেষ্টা করে আজ ঘুমাতে পারো না। ইতিমধ্যে তুমি যা নয় তা চিন্তা করতে শুরু করেছ, আরো কিছুক্ষণ জেগে থাকলে নেশা মাথায় উঠবার মতো অবস্থা হবে তোমার। কাল সকালে থাকবে তা নয়, ঘুম ভালো না-হলে কাল সারাদিনই মস্তিষ্ক ভালো কাজ করবে না। নেশার পরে ভোঁতা বিস্বাদ জিহ্বার মতো হয়ে থাকবে মন। কাজেই বুঝলে... কাজেই উনিশ বছরের মেয়েটির মতো বিছানায় তালগোল পাকিয়ে রৌদ্রতৃপ্ত পুষির মতো ঘুমিয়ে পড়বে।
তথাপি প্রায় কেঁদে ফেলার মতো মুখ নিয়ে চেয়ারে ফিরে এল দীপিতা, ইন্দুর সেই মেটারলিংক প্রভাবিত রাত্রির কথা মনে পড়ে গেল। ইন্দুর ঘর তারই নিজেরই পড়বার ঘর, সেই দিন রাত্রির জন্য ইন্দুর ঘর হয়েছিল, ব্রাউনিং খুঁজে দিতে সবার মতো পুরুষের স্পর্শ-উদ্বেল অন্ধকার আজও ঘরে।
মনে হলো : যে-আগ্রহে ইন্দু কবি হয়ে ওঠে সেটা কি ভাব?
ইন্দুর উপপাদ্য একটা বিষয় মনে পড়ল_বিংশ শতকে এসে দেখছি আমরা রুক্ষ হয়ে উঠেছি, যে-কূপ থেকে উদ্বেল হয়ে ওঠে প্রাণরস, শুকিয়ে গেছে সেটা। বিশ্বাস নেই কিছুতেই থাকলেও স্বীকার করি না, কারণ বিশ্বাস জিনিসটা মধ্যযুগের ব্যাপার, সেই জন্যই তাকে বর্জন করেছি।
খুব অন্যায় করেছি? মধ্যযুগের পোশাকটা বর্জন করবার সময়ে ন্যায় ও অন্যায়ের কোনো প্রশ্ন যেমন ওঠে না, এটার বেলাতে হলে ক্ষতি কী?
ইন্দু এ রকম পরিস্থিতিতে ঠোঁট দুটি আলগা করে রাখে, বোকামির চিহ্ন নয়, কথা বলবার, তর্কের কোণ চেপে ধরবার আগ্রহাতিশয্যে সে টপ করে বলে বসল, 'দেখুন এই সাহিত্যিক অমিয়বাবুর কথাই ধরুন, আপনার প্রিয়জনস্থানীয় অমিয়বাবুর, যখন ভাবের প্রসারতায় সহানুভূতিতে যখন তাঁর চোখ দুটি করুণায় ভরে উঠবার লক্ষণ দেখাচ্ছে, কলমকে অব্যাহত ছেড়ে দিলে যখন গ্রীক ক্লাসিকের স্বল্প পরিমিত গভীর বেদনার দু-চারটে কথা লিখে ফেলবেন মনে হচ্ছে, ঠিক তখনই টপিকাল কোনো কথা উত্থাপন করে বাজে কথার অবতারণা করে নিজের ভাবাবেগকে ব্যঙ্গ করে নিজের লেখাটাকে থার্ড ক্লাস করে তুলবেন। এটা হচ্ছে একটা পোজ, যুগের ভঙ্গি। ডেমোক্রাসির রিঅ্যাকশন।'
বক্তৃতা দেবার সময়ে ইন্দুর মাংসল চোয়াল দুটি স্থূলভাবে নড়ে-নড়ে ওঠে।
দীপিতা জ্বালাময় চোখের সম্মুখে ভার্জিনিয়া উল্ফই খুলে বসল। হাতের কাছে পেয়ে এমন স্পস্ট ভাষায় নিজেদের কথা কে বলেছে, কোথায় এমন বর্তমানের আলোকসম্পাত?
কিন্তু চোখে পড়ে গেল_না-না, আমরা পারছি না, প্রাচীনদের মতো কোনো মহৎ সৃষ্টি। সেই সুর, পরাজয়ের অবিশ্বাসের আজকের রাত্রির সুর। মনে হলো : বিশ্বাস ত্যাগ করাটা উচিত হয়নি। বিশ্বাস জিনিসটা অবিভাজ্য, প্রাচীনের প্রতি সব বিশ্বাস ত্যাগ করতে গিয়ে বর্তমানে বিশ্বাস রাখা আর সম্ভব নয়।
মনে হলো আশ্রয় চাই কিছু। সহসা সিগারেটের অনাস্বাদিতপূর্ব ধোঁয়ার অদম্য পিপাসা বোধ করল সে। ছেলেমানুষি করে কেনা ডাকপিওনের মতো চামড়ার কাঁধব্যাগ হাঁটকে বেরোল কয়েকদিন পূর্বে ব্রাভাডো দেখানোর জন্য সীতার কেনা বিবর্ণ এক প্যাকেট সিগারেট, যেটা দীপিতা শাসনের ভঙ্গিতে কেড়ে নিয়েছিল।
মুখে একটা তোবড়ানো সিগারেট গুঁজে পুরুষের ভঙ্গিতে টেবিলের উপরে পা তুলে বসল। নেই নেই কিছু নেই, মহৎ কোনো সম্পদ প্রাণরসের কোনো চিহ্ন_এমনি হাহাকারে শেষ হয়েছিল ভার্জিনিয়া উল্ফের জীবন, এ-কথাটাও মনে পড়ে গেল।
চেয়ারের পিঠে মাথা হেলিয়ে দীপিতা, মুখে তোবড়ানো সিগারেট ঝুলে আছে। হঠাৎ ঘুম এলো দুর্নিবার মোহের মতো বাইরের আকাশে গুরু-গুরু বর্ষণ নামামাত্র। বাঁ-দিকের বুকটায় গরাদের চাপে ব্যথা হয়ে আছে, ঘুমের ঘোরে একখানা হাত সে-ব্যথাটাকে স্পর্শ করে রইল।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
November
(2002)
-
▼
Nov 02
(63)
- দিনশেষে সায়েদাবাদে বাড়ি ফেরত মানুষের জট by মুনিফ আ...
- প্রেসক্লাব এলাকায় আটক ৩৪- নাশকতার পরিকল্পনা ছিল জা...
- ‘ভারত তাদের নীতি পরিবর্তন করেছে’
- এবার হাতির মুখে কথা! আসিফ আজিজ
- ভিয়েতনামের সঙ্গে ২টি চুক্তি ও ২টি এমওইউ সই by শাম...
- শাঁখারীবাজারঃ হেরিটেজ তালিকা থেকে বাদ না দিলে কঠোর...
- ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন মোবাইল ব্যবহারকারীরা
- সেরা যৌন আবেদনময়ী তারকা মিরান্ডা
- বিনা মস্তিষ্কে ৩ বছরঃ শেষ রক্ষা হলো না
- ছয় বছর পর নিপুণের প্রথম ছবি!
- বৃষ্টি by আলাউদ্দিন আল আজাদ
- কালো নৌকা by আল মাহমুদ
- সাইকেলে চড়ে প্রযুক্তিঃ গ্রামে গ্রামে তথ্য কল্যাণী ...
- বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময়ী নারী মিরান্ডা
- স্রোতস্বিনী ব্র্রহ্মপুত্র মরে যাচ্ছে! by এম.আব্দুল...
- নিপুণের প্রথম ছবি!
- রিমু এবার যাত্রাপালার নায়িকা
- যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রেজওয়ানের ১৭ বছর...
- এক কোটি রুপিতে নাচবেন নাথালিয়া
- বিয়ে করবেন আগামী বছর
- স্যান্ডির তাণ্ডবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০
- চাকরি হারালেন নাফিসের বাবা!
- হুজুর কেবলা by আবুল মনসুর আহমদ
- ছিনতাই by আবু রুশদ
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা by আবু জাফর শামসুদ্দীন
- সিসিমপুর- ইকরির জন্য রুমাল
- আমার গাঁ by শাহানার রশীদ
- মার ছক্কা by আহমেদ সাব্বির
- হ্যালো মিস্টার বিন by শিউল মনজুর
- অভিনন্দন by পবিত্র সরকার
- ভ্রমণ- ভ্যাটিকানের ভেনাস by লতিফুল ইসলাম
- দুই শিল্পীর যুগলবন্দী by আহমেদ মুনির
- চারুশিল্প- সমুদ্র-শহরে আর্টক্যাম্প by আবুল হাসনাত
- চাষির মুখে টপ্পা গাওয়ায় by আবদুশ শাকুর
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার- আযাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ...
- চট্টগ্রামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়- নিয়ম না মেনেই চ...
- জোঁক by আবু ইসহাক
- অসুখ by আবদুশ শাকুর
- সত্যের মতো বদমাশ by আবদুল মান্নান সৈয়দ
- কেয়া আমি এবং জার্মান মেজর by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
- গন্তব্য by আনোয়ারা সৈয়দ হক
- হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিবৃতি- মালালার অবস্থার উন্নত...
- প্রশাসনের আপস প্রস্তাবে রাজি নয় লিমন
- প্রতিক্রিয়া- মেঘকে জিজ্ঞাসাবাদ যদি করতেই হয় তবে......
- তদন্ত চলাকালেই কাজে যোগ দিলেন মসিউর
- হাতিরঝিল প্রকল্প- খেজুর, পামে বিবর্ণ প্রকল্প by ...
- দুধভাতে উৎপাত by আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- প্রসারিত হচ্ছে ইসলাম by জহির উদ্দিন বাবর
- শান্তির বিশ্ব গড়তে ঐক্যবদ্ধ হোন by মুফতি শায়খ আবদু...
- লোহার সেতু by মোঃ মোতাহের হোসেন
- সম্প্রীতি-বিভেদ নয়, ঐক্যই সব ধর্মের সারকথা by গওসল...
- রাজনীতিকরা কি সেলসম্যান? by জর্জ এফ. উইল
- সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ-রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিক উদ্যো...
- গাছ কাটা অনুমোদন-উন্নয়নের স্বার্থে সামান্য ছাড়
- অপরাধকর্মে পুলিশ-শর্ষেতেই যখন ভূত
- দীপিতার ঘরে রাত্রি by অমিয়ভূষণ মজুমদার
- হাসপাতালের শয্যা ও ওষুধ-মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে...
- গুরুতর অপরাধে পুলিশ-অবিলম্বে এই প্রবণতা রোধ করতে হবে
- চরাচর-দ্বিতীয় জীবন দান by ফাহমিদা আক্তার রিম্পি
- নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আমাদের রাজনীতি by দিল...
- স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ, না কেন্দ্রীয় সরকার প...
- বহে কাল নিরবধি-ভারত-চীন যুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তিতে প্...
-
▼
Nov 02
(63)
-
▼
November
(2002)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment