Friday, November 2, 2012
গন্তব্য by আনোয়ারা সৈয়দ হক
গন্তব্য by আনোয়ারা সৈয়দ হক
বুঝতে পারছি এই শহরে আমি অস্তিত্বহীন হয়ে যাচ্ছি। আমার বাইরের অবয়ব আর ভেতরের অবয়ব একটা আরেকটা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আমি প্রাণপণে আমার নিজস্ব দুটো অস্তিত্বের ভেতরে যতবার চেষ্টা করছি সমন্বয় করতে ততবার আমার ভেতরে ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে; আর কান পাতলে শব্দ হচ্ছে ঝুরঝুর, ঝুরঝুর।
অর্থাৎ ঝরে যাচ্ছে, ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে, গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। আমি এখন কি করি? কোথায় যাই?
এখন অনেক রাত, কিন্তু যতদূর সম্ভব কালিমালিপ্ত। অনেক রাত আছে, যা কালিমালিপ্ত নয়। তখন আকাশে চাঁদ থাকে, নভোমণ্ডলে তারা, দূরের রাস্তায় হলুদ আবছা বাতি, ফুরফুর বাতাসের বারান্দায় থাকে কোমল নীল আলো, আলোর ভেতরে মানুষ, আর মানুষের ভেতরে প্রেম।
আবার অনেকগুলো দিনও থাকে মানুষের। সেই দিনের ভেতরে থাকে দুপুর। দুপুরের ভেতরে থাকে মানুষের গায়ের গন্ধ, হলুদ পেঁপের মতো যে গন্ধ জড়িয়ে ধরে মন। প্রেমের উজ্জ্বলতায় সে দুপুরগুলো হয়ে যায় সোনা। সোনা ঝিকমিক করে জ্বলে রমনা পার্কের লেকে।
কার অভিশাপে কোথায় হারিয়ে গেল আমার সেইসব রাত ও দিন?
আমি তো জ্ঞানত দেবতা জিউসকে কোনওদিন ক্ষিপ্ত করে তুলিনি? ইকারুসের পাখা রোদে পুড়ে যাবার মতো হঠকারি কোনও কাজ করিনি। নাকি করেছি?
আমি কিছু বুঝতে পারছিনে।
বর্তমানে আমি অন্ধকারে মেঝের ওপর উবু হয়ে বসে আছি। আমার দু'হাঁটুর ওপরে রাখা আছে আমার মুখ। আমার যে মুখ মহিউদ্দিন একদিন দু'হাতের ভেতর তুলে ধরে বলেছিল, তুমি আমার তাহিতি দ্বীপের মেয়ে। তুমি পল্ গঁগ্যার তাহিতি দ্বীপের মেয়ে। তুমি নীল জামা পরে বসে আছো আমার সমুখে, তোমার মাথার পেছনে গাঢ় হলুদ ক্যানভাস। ক্যানভাসের দু'পাশে উড়ন্ত প্রজাপতির মতো গাঢ় সবুজ পাতা। তুমি বসে আছো লাল ভেলভেট মোড়া চেয়ারে, এক হাতের ওপরে অন্য হাত রেখে। তোমার ডান হাতের দু'আঙুলের ফাঁকে সবুজ পাতার কমলা ফুল।
কিন্তু না, আমি তো তা ছিলাম না। আমি লাল ভেলভেট মোড়া চেয়ারে ছিলাম ঠিকই কিন্তু আমি বসে ছিলাম ন্যুড হয়ে। আমি একপায়ে তুলে দিয়েছিলাম আরেকটি পা। আমার দু'হাত জড়ো হয়ে নাভির নিচে ঢেকে রেখেছিলাম আমার লজ্জা। আমার মাথার খোলা চুলে গোঁজা ছিল রক্তজবা, বুক ছিল উন্নত। শরীরের চেয়ে ছোট দুটি স্তনে আমাকে দেখাচ্ছিল কিশোরীর মতো।
আমার মহিউদ্দিন, আমার নিজস্ব পল গঁগ্যা, আমার দিকে ফিরে তাকিয়ে পাগলের মতো রঙ চড়াচ্ছিল ক্যানভাস-এ।
এমনি করে দিনের পর দিন। দুপুরের পর দুপুর।
আর প্রতিবার কাজ শেষ হলে ঘর্মাক্ত দেহে আমরা দুজন জড়াজড়ি করে শুয়ে পড়তাম আধো অন্ধকার ঘরটার ভেতরে। আমাকে কোলে করে সেই ঘরে তুলে নিয়ে যেতো মহিউদ্দিন। চুমোয়, আদরে, সঙ্গমে পড়ন্ত দুপুর চিত্রল হরিণের মতো ছুটোছুটি করে ফিরতো সেই অন্ধকার ঘরে।
কিন্তু কোথায় হারিয়ে গেল আমার গঁগ্যা? আমার নিজস্ব পল গঁগ্যা কোথায় আমাকে ফেলে রেখে চলে গেল? গঁগ্যাহীন এই শহরে আমি বাস করি কি করে?
আমার তো নিজস্ব অস্তিত্ব নিয়েই এখন টানাটানি।
সারা শহরভর্তি এতো মানুষ। এতো অলিগলি, এতো রাস্তা; বড় রাস্তা, ছোট রাস্তা, মাঝারি রাস্তা; এতো বড় বড় পার্ক, রেস্তোরাঁ, সংগঠন; এতো বড় চারুকলা, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, পাবলিক লাইব্রেরি, নিউমার্কেট; রঙতুলির দোকান, ক্যানভাসের দোকান, ছবি বাঁধাবার দোকান, সাজুর আর্ট গ্যালারি_কোথাও আজ সাতদিন ধরে আমার গঁগ্যাকে খুঁজে পাচ্ছিনে। তার স্টুডিও ঘরে মস্তো বড় তালা ঝুলছে, বারবার নেড়েচেড়ে সেই তালা দেখি, তালার শরীরে মহিউদ্দিনের হাতের ছাপ ভেবে চুমো খাই, গন্ধ শুঁকি, একে শুধোই, ওকে শুধোই, এ রাস্তা দিয়ে হেঁটে ওই রাস্তায় যাই, ওই রাস্তা থেকে এই রাস্তায় আসি আবার সেখান থেকে অন্য রাস্তায় যাই, চারপাশে পাগলের মতো মাথা ঘুরিয়ে তাকাই, সারাদিন আজকাল আমার রাস্তায় কাটছে; কখনও বা রিকশায় চড়ি, কখনও বেবিট্যাঙ্,ি পয়সা বেশি থাকলে হলুদ ক্যাব ভাড়া করতেও দ্বিধা করিনে।
কিন্তু ঘুরে বেড়ানো আমার সার।
আমার আবাল্য পরিচিত এই শহর আমার কাছে যে অচেনা হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ আমি তা বুঝতে পারছি। গঁগ্যাহীন এই শহর মূলতই আমার কাছে অচেনা। আজ কতদিন, কতমাস, সেই দু'বছর আগে শিল্পকলা একাডেমীতে প্রথম যেদিন আলাপ হয় মহিউদ্দিনের সঙ্গে, তখন তার বয়স্ক চেহারা, মাথার কাঁচাপাকা চুল, চোখের চশমা, আমাকে আকৃষ্ট করেছিল ভীষণভাবে; আমার ভেতরে, আমার বাইশ বছরের শরীরের ভেতরে আমি নড়াচড়ার শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম। আমি তার ছবির প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম, এবং প্রতি বিকেলে, যতদিন তার প্রদর্শনী চলেছিল হাজিরা দিতাম একাডেমীতে।
তারপর, কি করে কি করে টেলিফোনের আদান-প্রদান, দেখা করার জন্য অনুরোধ, একদিন স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়া, তারপর হঠাৎ করে 'আমি তোমার ন্যুড আঁকতে চাই' বলে আমার পায়ের কাছে বসে আমার মুখের দিকে অচেনা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা, সবকিছু আজকাল বায়োস্কোপের ছবির মতো বারবার আমার মনে এসে ধাক্কা দিচ্ছে, ধাক্কাটা ঢেউয়ের মতো। বড় বড় ঢেউ, ছোট ছোট ঢেউ।
তোমার বয়স কত? একদিন জিজ্ঞেস করল মহিউদ্দিন।
বাইশ। আর আপনার? জিজ্ঞেস করেছিলাম আমি।
তোমার ডবল, চুয়ালি্লশ।
এই বলে হেসেছিল সে খুব সেদিন।
আর আমার বাইশ বছরের চোখে তার সে চুয়ালি্লশকে মনে হয়েছিল অপূর্ব। এইতো চাই, এই রকম পুরুষ আমার পছন্দ, এই যাকে আশ্রয় করে আমি নিশ্চিন্তে জীবনের পথে চলতে পারি, যে আমার ভেতরটা, নরম ও কোমল ভেতরটা জল ছলছল করে দিয়ে যেতে পারবে।
হ্যাঁ, আমি ন্যুড হয়েছিলাম।
তার ছবি আঁকার জন্য আমাকে ন্যুড হতে হয়েছিল। তার চেয়েও বড় কথা আমি তাকে ভালোবেসেছিলাম। তার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখার কিছুই আমার ছিল না। আর সেও কি আমাকে ভালোবাসেনি? কেন সে তাহলে উদ্ভ্রান্তের মতো সমস্ত শহর তার গাড়ি দাবড়ে নিয়ে আমাকে খুঁজে বেড়াতো? একদিন এ্যলিয়াস ফ্র্যাঁসে এসে আমাকে খুঁজে পেয়ে বলেছিল, এখানে কেন আসো?
ক্লাস করতে, ফরাসি ভাষাটা শেখার চেষ্টা করছি।
আর কতদিন লাগবে কোর্স শেষ করতে? গাড়ির মুখ মিরপুরের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল সে।
অনেকদিন। এই তো সবে শুরু।
বেশ। গম্ভীর হয়ে বলেছিল মহিউদ্দিন। তারপর একটু চুপ করে থেকে জিজ্ঞেস করেছিল, যে ছেলেটি করিডোরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল, সে ছেলেটি কে? মহিউদ্দিনের প্রশ্ন শুনে আমি হেসে ফেলেছিলাম। বাচ্চা মেয়ের মতো ফিক্ করে ওঠা হাসি। আমার হাসি দেখে গাড়ি চালাতে চালাতে সে বলেছিল, হাসছো যে?
হাসি থামিয়ে আমি বলেছিলাম, ওর নাম কাজল। আমার বন্ধু।
শুধু বন্ধু, আর কিছু না?
সেদিন তার স্টুডিও ঘরে সে পাগলের মতো আমাকে আদর করেছিল। আর বলেছিল, আমি জানি আমি তোমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়, তবু কোনওদিন তুমি আমাকে ভুলতে পারবে না। আমি ভুলতে দেবো না। আমি অনেক ন্যুড এঁকেছি জীবনে, তবু তোমার মতো কাউকে এভাবে ভালোবাসিনি।
আমিও না। এই কথা বলে আমি তার চুলভর্তি মাথা আমার বুকে চেপে ধরে রেখেছিলাম। অনেকক্ষণ।
সেসব কথা থাক। অতীতের কথা অতীতে ফিরে যাক। এখন অস্তিত্বের সংকট। আজ সাতদিনের ওপর হতে চললো আমি মহিউদ্দিনকে খুঁজে পাচ্ছিনে। বাড়িতে টেলিফোন করলে আনসারিং সার্ভিস কথা বলে ওঠে, মোবাইলে আনসারিং সার্ভিস, তার অফিসের ফোনেও আনসারিং সার্ভিস। কিন্তু এগুলোর একটিও মহিউদ্দিনের কণ্ঠস্বর নয়, অচেনা এক স্বর, ঘষা ঘষা, অস্পষ্ট, যেন কেউ একদলা কাগজ পুরে দিয়েছে গলার ভেতরে। আমি ঘোরে পড়া মানুষের মতো আমার মোবাইল দিয়ে বারবার করে এই স্বরগুলো শুনতে থাকি, একমনে, শুনতে শুনতে আমার গা শিরশির করে ওঠে, যেন মৃত্যুমুখী এই গলার স্বর আমাকে সতর্ক করে দিয়ে বলে যায়, সাবধান ইতি, সাবধান।
কিন্তু আমি তো সাবধান আর থাকতে পারছিনে। আমি জানি মহিউদ্দিনের বাড়িতে ঢুঁ মারা নিষেধ। সেখানে তার স্ত্রী আছে, তের বছরের ছেলে আছে। মহিউদ্দিনের অফিসে যাওয়াও আমার নিষেধ। এই অফিসটা আসলে মহিউদ্দিনের শো-রুম যেখান থেকে প্রচুর মানুষ তাদের শখের ছবি কিনে নিয়ে যায়, মূল ছবির রিপ্রিন্ট নেয়, ক্যালেন্ডারের ছবির জন্য বিনীত অর্ডার দিয়ে যায়; কিন্তু বাড়িতে যেতে না পারি অফিসে যাওয়া আমার ঠেকাতে পারবে না মহিউদ্দিন।
কারণ আমি আর এখন আমাতে নেই।
মহিউদ্দিনহীন জীবন এখন আমার কাছে মূল্যহীন এক ভাঙাচোরা জাহাজের আসবাবের মতো।
আমি খুব সাধারণ পোশাকে, সাধারণ প্রসাধনে, অতি সাধারণ একটা মেয়ের মতো একদিন তার অফিসে গিয়ে হাজির হলাম। মহিউদ্দিনের অফিসটা বড়। এই অফিসে অনেক জানালা। কিন্তু কালো কাচে ঢাকা। হয়তো ছবির জন্যই অনেক জানালা অনেক আলোর প্রয়োজন হয়।
এসে দেখি অফিস বন্ধ। প্রতিটি জানালা ভেতর থেকে বন্ধ। আমি ঝুঁকে বুক পেতে কাচে নাক ঠেকিয়ে, পায়ের পাতায় ভর দিয়ে, দেখতে লাগলাম তার অফিস। প্রথমে রাস্তার পুবদিক থেকে, পরে পশ্চিম দিক থেকে, তারও পরে উত্তর দিক থেকে, সবশেষে দক্ষিণ দিক থেকে দেখতে লাগলাম। কাচে নাক ঠেকাতে ঠেকাতে নাক লাল হয়ে উঠলো আমার। জিভ শুকিয়ে গেল, তবু ভালো করে কিছু দেখতে পেলাম না। জানালাগুলো আজ পর্দাটানা, একরঙা হালকা হালকা অফ-হোয়াইট পর্দাগুলো ক্রমে হলুদ হয়ে গেল, তারপর আমার চারপাশের সবকিছুই হলুদ।
রাস্তা হলুদ। চলন্ত গাড়িগুলো হলুদ। মানুষগুলো হলুদ। আমার দু'হাত শূন্যে মেলে ধরে তাকিয়ে দেখলাম, আমার হাত দুটোও হলুদ। যেন ভ্যান গ'র সূর্যমুখী ফুলগুলো থেকে বিচ্ছুরিত হলুদ ক্যানভাসের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়তে লাগল চারদিকে।
অবশেষে আমি ক্রন্দনরত, অতিদ্রুত হলুদের ভেতর দিয়ে ক্রমশ হলুদ হয়ে যেতে যেতে পার হতে লাগলাম পান্থপথের রাস্তা। কীভাবে বেঁচে আছি আজকাল আমি বুঝতে পারিনে। আমার ভেতরে শুধু ঝরে পড়ার শব্দ। এই চবি্বশ বছরেই আমার শরীরে চুরাশির ছাপ। আমার শরীর থেকে আমার গঁগ্যার শারীরিক দূরত্ব আমাকে ক্রমে ক্রমে করে তুলছে বয়স্ক। আমার শরীরের ভাঁজে ভাঁজে যেখানে একদিন আমার নিজস্ব গঁগ্যার হাত পড়েছিল সেখানে সময়ের শরীর তার অনন্ত ভার চাপিয়ে দিয়ে বসেছে। আমি তাকিয়ে দেখছি আমার চামড়া কুঁচকে যাচ্ছে, হাতের শিরা বেরিয়ে পড়ছে, কপালে বুড়ো মানুষের মতো অসংখ্য বলিরেখার ছাপ, আর আমি না কল্পনা না বাস্তব কোথায় আছি বুঝতে না পেরে ইদানীং শুধু হেঁটে যাচ্ছি শহরের পথে পথে। ইভা লুনার মতো কল্পনা করছি, একদিন যে কোনও সময় যে কোনও মুহূর্তে এই শহরের যে কোনও গলি থেকে হঠাৎ করে এসে হাজির হবে আমার ত্রাণকর্তা রিয়াদ হালাবি। মাঝবয়সী শক্ত সমর্থ শরীরে সে দু'হাত বাড়িয়ে পাঁজা কোলে আমাকে মাটি থেকে তুলে জড়িয়ে ধরবে তার বুকে। তারপর পরম মমতার সাথে 'আমার ছোট্ট মেয়ে' বলে তুলে দেবে মালভর্তি চলন্ত ট্রাকে। বাবার মতো এই রিয়াদ হালাবিকে আমি এক সময় প্রেমিকের চোখে দেখতে থাকবো, তারপর আমি বড় হলে একদিন তুলে নেবে তার বুকে। জন্মগত ত্রুটির কারণে জোড়া না লাগা তার ওপরের ঠোঁট সে লজ্জাবশত রুমালে লুকিয়ে রাখবে সঙ্গমের সময়, কিন্তু আমি জোর করে সে রুমাল তার মুখ থেকে সরিয়ে পরম সোহাগে চুমো খাবো তার ভাঙা ঠোঁটে। তার শরীরের ক্ষত ও বয়স তখন আমার কাছে হয়ে উঠবে গৌণ, মানুষ হিসেবে সে হয়ে উঠবে বিশাল হৃদয়ের মহান একজন মানুষ।
এই শহরে কোথায় আমার সে রিয়াদ হালাবি?
ইসাবেল আয়েন্দের রিয়াদ হালাবি কি বই-এর পাতায় চিরদিন থেকে যাবে? বাস্তবে কোনওদিন সে কি রাস্তায় বেরিয়ে আসবে না তার চলন্ত ট্রাক নিয়ে বেশ্যাপাড়া থেকে আমাকে উদ্ধার করতে?
আমি এসব জানিনে। আমি কিচ্ছু বুঝতে পারিনে আজকাল।
মাঝে মাঝে এমনও হয় হোটেল সোনারগাঁও-এর সামনে নিতুন কুণ্ডুর ভাস্কর্যের নিচে দাঁড়িয়ে আমি আমার পাজামা কামিজ পরা দু'পা ফাঁক করে চিৎকার করে উঠি, রি-য়া-দ হা-লা-বি! রি-য়া-দ হা-!
আমার গলা ফাটানো চিৎকার শুনে ট্রাফিক পুলিশ কৌতূহলী ও বিরক্ত মুখে এগিয়ে আসে। আফগানিস্তানে এখন তালেবানদের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ বেঁধেছে। তালেবানদের সমর্থকরা মাঝে মাঝেই মিটিং, মিছিল করে। আমার মুখে অদ্ভুত এই নাম শুনে লোকে ভাবে আমি বুঝি মস্ত বড় কোন তালেবানের নাম চিৎকার করে মানুষদের জানাচ্ছি। লোকটা তালেবান না তুর্কি তা বোঝার ক্ষমতা যেমন তাদের নেই, তেমনি আমারও নেই। এই যুদ্ধে রিয়াদ হালাবি যদি সত্যিকারের কোনও চরিত্র হতো তাহলে সে কোন্ দলে যেতো? তালেবান না অ্যান্টি-তালেবান?
এরপর আমি গঁগ্যার নাম ধরেও চিৎকার করি। তবে বাংলায় নয়, ইংরেজিতে। আমি বলি, প্লিজ ক্যান অ্যানি ওয়ান গিভ মি নিউজ অ্যাবাউট পল গঁগ্যা, আ নিউ ভিশন অব আর্ট অ্যান্ড লাইফ। পল গঁগ্যা ওয়াজ বর্ন ফিফথ জুলাই নাইনটিন ফিফটি সিঙ্, থুড়ি হি ওয়াজ বর্ন সেভেনথ জুন এইটিন ফোরটি এইট। হিজ রিয়েল নেম ওয়াজ মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, থুড়ি হিজ রিয়েল নেম ওয়াজ ইউজিন আঁরি পল গঁগ্যা। হি ওয়াজ বর্ন ইন ঢাকা দ্যা ক্যাপিটাল সিটি অব আ থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রি, আ কান্ট্রি ফুল অব অ্যাট্রোসিটি, ভায়োলেন্স অ্যান্ড ডিসঅর্ডার, থুড়ি হি ওয়াজ বর্ন ইন প্যারিস, দ্য ক্যাপিটাল সিটি অব ফ্রান্স, আ কান্ট্রি ফুল অব আর্টিস্টিক ট্যালেন্টস, ফ্যাসিনেটিং ইমাজিনেশন অ্যান্ড অর্ডার। ইট ওয়াজ আ গ্রেট_
এবার ট্রাফিক পুলিশ দৌড়ে এসে আমার কানের পর্দা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলে, ভদ্রঘরের মাইয়া মাতারিগো লাহান চিক্ পাড়েন ক্যান? যান, ভাগেন।
তার বিকট চেহারা দেখে ভয় পেয়ে আমি ভেগে যাই, বেশ দ্রুতই ভেগে যাই।
এরপর আমি আর্ট কলেজের মাঠে গিয়ে উঠি। এটা বোধ করি আর কলেজ নেই, এতদিনে ইনস্টিটিউটে পরিণত হয়েছে, আমি এ বিষয়গুলো ঠিক জানিনে, মহিউদ্দিন এ বিষয়ে আমাকে কিছু বলে যায়নি। বস্তুত আর্ট কলেজের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না, তার দলছুট স্বভাব অনেকের কাছে মনে হতো অসহ্য, আর্টের যে কোনও বিষয়ে আলোচনার সময় তার নাম থাকতো উহ্য, কিন্তু ছায়ার মতো সে ছাপ ফেলে থাকতো সকলের মনে, অনেকে অস্বস্তি বোধ করতো, অনেকে খুশি হতো মহিউদ্দিনকে ল্যাং মারতে পারছে ভেবে। কিন্তু শিল্পকলা একাডেমীতে সে যেবার 'মা ও শিশু' প্রদর্শনী দিয়েছিল, হু হু করে রাতারাতি নাম ছড়িয়ে গেল তার, শুধু দেশে না, বিদেশেও। পুরো প্রদর্শনী জুড়ে শুধু মা ও শিশু। বিভিন্ন পরিবেশের মা, বিভিন্ন বয়সের মা; বিভিন্ন পরিবেশের শিশু, বিভিন্ন বয়সের শিশু। এরকমভাবে মাতৃরূপ আর শিশুর আবেগ এর আগে এ দেশে অন্য কোনও শিল্পীর তুলিতে উঠে আসেনি। এ ছিল শিল্পীর প্রতিভার আশ্চর্য এক বিকাশ। নিজের মাকে মহিউদ্দিন কোনওদিন চোখে দেখেনি, তার জন্মের পরপরই সে মাকে হারায়, সৎমায়ের কাছ থেকে কোনও মাতৃস্নেহ কোনওদিন পেয়েছে বলে আমি শুনিনি, অথচ তারই তুলিতে মাতৃস্নেহের এই প্রতিফলন অনেক শিল্পীই সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। মাতৃহারা শিশুর কাছে মা যে কিভাবে ধরা দিতে পারে তা যাদের মা আছে তারা কি করে বুঝবে?
আমি আর্ট কলেজের প্রাঙ্গণে ঘোরাঘুরি করছি দেখে একটা ছেলে এগিয়ে এলো কাছে। তার পরনে জিনস্-এর প্যান্ট, গায়ে হাতাঅলা কালো গেঞ্জি, গেঞ্জির গায়ে 'টরেন্টো' লেখা। ছেলেটি আমার কাছে আমার আগাপাশতলা দেশে ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করলো, হু আর ইউ? তার ইংরেজি উচ্চারণ খুব সুন্দর। একেবারে ইংরেজদের মতো।
উত্তরে আমি আমার বাঙালি উচ্চারণের ইংরেজিতে বললাম, আই কাম ফ্রম তাহিতি আইল্যান্ড।
হোয়াট? হোয়াট ডিড্ ইউ সে?
আমি আবারও বললাম, আই সেড্ আই কাম ফ্রম তাহিতি আইল্যান্ড।
হোয়াট ননসেন্স ইউ আর টকিং? ছেলেটি ভীষণ বিরক্ত হয়ে ভুরু কুঁচকে তাকালো। আমি তার ভুরু কোঁচকানো দেখে একটু ভয় পেয়ে সেটুকু ঢাকার জন্য জোর গলায় বলে উঠলাম, নো, নো ননসেন্স। রিয়ালি আই কাম ফ্রম তাহিতি। লুক অ্যাট মাই ফেস, লুক অ্যাট মাই ফেসিয়াল কনট্যুর, অ্যাজ আ তাহিতি গার্ল আই হ্যাভ গিভেন সো মেনি সিটিংস টু ইওর ফেমাস পেইন্টার মিস্টার_
মাই ফুট্! এই কথা বলে আমার পুরো বাক্যটা না শুনেই ঘাড় ঝাঁকিয়ে ছেলেটা চলে গেল। সে পেছন ফিরলে তার গেঞ্জিতে আবারও 'টরেন্টো' ছাপা আছে দেখলাম। ভাবলাম, কি চমৎকার ইংরেজি বললো ছেলেটি, আজকাল কি আর্ট কলেজে ইংরেজি মিডিয়ামের ছেলেমেয়েরাও ভর্তি হয়? আশ্চর্য, আর্টের কদর বুঝে কি দ্রুত উন্নত হয়ে যাচ্ছে এই দেশ!
কিন্তু তবু কেন যেন আমার মন খারাপ হয়ে গেল। আর্ট কলেজ থেকে আবার আমি হাঁটতে লাগলাম রাস্তায়। আজকাল রাস্তায় হাঁটতে আমার খুব ভালো লাগে। ফুটপাত মাড়িয়ে, উঁচু-নিচু গর্ত পার হয়ে, লোকের গায়ে ধাক্কা খেয়ে আমি হাঁটতে থাকি। এবড়ো থেবড়ো ফুটপাত গনগনে সূর্যের নিচে আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। আমার মনে হয় এই ফুটপাত বাংলাদেশের জীবন। আর জীবন মানেই চলন্ত, জীবন মানেই বেঁচে থাকা। মরে যাবার ভয়ে ফুটপাতকেই তাই আমি আজকাল আঁকড়ে ধরেছি, এই ফুটপাত এখন আমার ত্রাণকর্তা। আমার পল গঁগ্যা নেই, আমার রিয়াদ হালাবি নেই, আমার মহিউদ্দিন আহমেদ মহি নেই, আমার সাইকোলজিস্ট নেই; ফুটপাত ছাড়া কে আজ আমাকে বাঁচাবে? থুতু, খয়ের, পানের পিক এবং নাকের পোঁটা বাদ দিলে ফুটপাতের এই চলন্ত জীবনে নানাজাতের ফেরিঅলা, ভিখিরি, পকেটমার, উঠতি মাস্তান; ভাপাপিঠে, হাতরুটি, ভাজি, হালুয়া নিয়ে বসে থাকা কাজের মহিলা; গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির শত শত মহিলা ও পুরুষকর্মী; প্রায় সবাই এইসব ফুটপাত দিয়ে কম করে হলেও দিনে অন্তত দুবার করে হেঁটে যায় এবং এই গরিব দেশটাকে জীবন্ত করে রাখে। চলতে চলতে খিদে লাগলে এই ফুটপাতেই উবু হয়ে বসে আমি হাতরুটি ভাজি আর ডাল খেয়ে নিই। তারপর আবার খিদে পেলে ফেরিঅলার কাছ থেকে হাতের কারসাজিতে ফুলের পাপড়ি হয়ে যাওয়া আমড়া কিনে খাই। ভাজামুড়ি ও ছোলা ওড়নার ভেতরে পোঁটলা করে নিয়ে খেতে খেতে পথ হাঁটি বা হাঁটতে হাঁটতে খাই। পায়ের স্যান্ডেলের দড়ি ছিঁড়ে গেলে রাস্তার ধারে বসে থাকা জুতো সেলাইঅলার কাছে এসে দাঁড়াই।
এতসব কাজ করি আর ভাবি, আচ্ছা, আত্মহত্যা করতে কেমন লাগে? কোন্ সব মানসিকতার মানুষ আত্মহত্যা করে কেউ কি আমাকে বলতে পারে? আচ্ছা, মানুষ ছাড়া জীবজগতে আর কেউ কি আত্মহত্যা করে? কুকুরেরা তাদের মনিব হারিয়ে গেলে আত্মহত্যা করে? আত্মহত্যা করলে সে মানুষ হোক বা কুকুর হোক, তাদের অশান্ত আত্মা নাকি শান্তি পায় না? এসব আমি জানিনে, তবু রাস্তায় আজকাল বড় দুরন্তভাবে ট্রাক ছুটে যেতে দেখলে ইচ্ছে করে ঝাঁপ দিয়ে সামনে পড়ি। ইচ্ছেটা মাঝে মাঝে এমন প্রবল হয়ে ওঠে যে, মন আমার হামানদিস্তের নিচে ভাঙচুর হতে থাকে। কী করি, কিভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ি ভাবতে ভাবতে ট্রাক আমার চোখের সামনে দিয়ে ছুটে বেরিয়ে যায়। আমার তখন ভয় হয়। ভীষণ হয়। আত্মহত্যা করবো বলে নয়, আত্মহত্যার পর ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পোস্টমর্টেমের অপেক্ষায় শুয়ে থাকার ভয়।
আমার তখন ইয়াসমিনের কথা মনে হয়। না, দশ মাইল রাস্তার মোড়ের ইয়াসমিনের কথা নয়, যে-ইয়াসমিনকে পুলিশ গ্যাং ধর্ষণ করে রাস্তায় ছুড়ে ফেলেছিল তার কথা নয়, এ আরেক ইয়াসমিন, যে প্লেনের একজন কো-পাইলট ছিল; ঝড়বৃষ্টির ভেতরে প্লেন যখন একদিন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় উড়ে এসে পাইলটের হঠকারিতায় রানওয়ের বাইরে এক ডোবায় ল্যান্ড করেছিল এবং পুরো যাত্রীসহ হাহাকার করে নিমজ্জিত হয়েছিল, সেই প্লেনের কো-পাইলট ইয়াসমিনের কথা মনে হয়। তার মরদেহ যখন বিমানের ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে আনা হয়; আমার ফুফাতো ভাইয়ের সাথে, সে তখন মেডিকেলের ছাত্র, আমি ছোট মানুষের কৌতূহল নিয়ে দেখতে গিয়েছিলাম। অনেক লম্বা একটা করিডোর পার হয়ে আমি যখন মৃতদেহ পচনের গন্ধে ভরপুর সেই পোস্টমর্টেম ঘরে ঢুকলাম, তখন দেখি ঘরের দরজা জানালা সব হা হা করে খোলা, মেঝেয় চিৎ হয়ে পড়ে আছে অসংখ্য নারী ও পুরুষ, সবাই উলঙ্গ। এবং তাদের মাঝখানে শুয়ে আছে উলঙ্গ ইয়াসমিন। খোলা জানালার বাইরে অসংখ্য কৌতূহলী চোখের পুরুষ ও আমার মতো ছোট ছেলেরা জানালার শিক আঁকড়ে তাকিয়ে দেখছে ইয়াসমিনকে।
সেদিন আমি যত ছোটই হই, আমার গা-মাথা-মন ঘুলিয়ে দলা পাকিয়ে ভেজা কাগজের মণ্ড হয়ে গিয়েছিল। উলঙ্গ ইয়াসমিনের আব্রু হারাবার লজ্জায় আমার চোখ দিয়ে পানি পড়েছিল অবিরাম আর আমার ফুফাতো ভাই আমার ভেজা গাল হাত দিয়ে মুছিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে করুণার স্বরে বলেছিল, কি এবার শখ মিটল তো? কতবার করে তোকে মানা করলাম না যে খবরদার আসিসনে আমার সাথে, দেখে ভয় পাবি।
হ্যাঁ, ভয় আমি পেয়েছিলাম। কারণ আমার ফুফাতো ভাই জানত না যে আমিও মনে মনে একদিন পাইলট হবো ভেবেছিলাম। খবরের কাগজ থেকে প্লেনের ছবির কাটিং জমিয়ে রেখেছিলাম আমার বইয়ের ভেতরে। প্রথমে আমি কো-পাইলট হবো ভেবেছিলাম, পরে পাইলট। প্রথমে দেশের ভেতরে প্লেন চালাবো ভেবেছিলাম, পরে পাড়ি দেবো ট্রান্স-আটলান্টিক। আমার ভেতরে সম্ভাবনা ছিল সে-রকম একজন পাইলট হবার কিন্তু ইয়াসমিনের আব্রু নষ্ট হতে দেখে সেই যে আমার মনে ভয় ঢুকে গেল, তা আজও শেষ হয়ে যায়নি।
হাঃ তৃতীয় বিশ্বের নরককুণ্ডে যেখানে জীবন্ত মানুষের মর্যাদা নেই, সেখানে মৃত মানুষের কিসের সম্মান, কিসের আব্রু?
ভাগ্যের কি পরিহাস, এতো যে আমার মনের ভেতরে আব্রু হারাবার ভয়, সেই আমিই ন্যুড হয়ে আমার পল গঁগ্যার স্টুডিওতে সিটিং দিয়েছি! হা, কেন আমার এতো বড় অধঃপতন হলো? কেন আমি দূর থেকেই একজন বিবাহিত, সম্ভ্রান্ত ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীকে ভালোবেসে গেলাম না? যেমন আমি জয়নুলকে ভালোবেসেছি, কামরুলকে ভালোবেসেছি, শাহাবুদ্দিনকে ভালোবেসেছি, পিকাসোকে ভালোবেসেছি, যেমন আমি ভালোবেসেছি টার্নার, মনে, কনস্টেবল, মাতিস, সালভেদর দালিকে।
হা, আমার এ ভালোবাসা কি সে-রকম কোনো ভালোবাসা ছিল? আমি যে মহিউদ্দিনকে আমার প্রেমিক বলে জেনেছিলাম। আমার দেহ ও মনের একচ্ছত্র মালিক বলে জেনেছিলাম। এমনকি আমি মনে মনে তার ঔরসের সন্তানকে আমার জরায়ুতে স্থান দেবো বলেও প্রস্তুত ছিলাম।
কিন্তু কোথায় যেন আমার অজান্তে হঠাৎ করে কিছু একটা ঘটে গেল।
আজ কতদিন, প্রায় তিন সপ্তাহ হতে চললো, আমার মহিউদ্দিনকে খুঁজে পাচ্ছিনে। আমাকে ফেলে সে কোথায় চলে গেল? আমি লজ্জার মাথা খেয়ে যাকেই জিজ্ঞেস করি তার কথা, সে মুখ টিপে হাসে। হাসে নাকি মুখ বাঁকায়, আমি বুঝতে পারিনে। আজকাল আমি মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে তাদের ব্যবহার, ভাবভঙ্গি, চালচলন কিছু বুঝতে পারিনে। আমি যত মন দিয়ে দেখতে চাই, আমার চোখের সামনে ঝিলমিল করে পর্দা ঝুলতে থাকে। সেই পর্দা ভেদ করে আমার দৃষ্টি বেশি দূরে যেতে পারে না। কিন্তু অন্তরের গভীরে তীব্র একটা অনুভব হয়, তা হলো বেঁচে থাকার। আত্মহত্যার পর্ব শেষ হয়ে, আমি এখন বেঁচে থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যেভাবেই হোক আমাকে এখন বেঁচে থাকতে হবে। আমার একটা দুঃখী বুড়ো মা আছে, আমি তার শেষ বয়সের একমাত্র সন্তান। আমার দুর্বিনীত বাবার লাথি থাপ্পড় খেয়ে সারাটা জীবন কাটিয়েছে এই মহিলা। মহিউদ্দিনকে হারিয়ে আমি যত কষ্ট পাচ্ছি, আমাকে হারালে সে এর চেয়ে চারগুণ বেশি কষ্ট পাবে। তাকে প্ল্যান প্রোগ্রাম করে আর জীবন হারাতে হবে না, আমাকে হারালে খুব সাধারণভাবেই মরে যাবে শিগগির।
ফুটপাত আমার সবচেয়ে বড় বন্ধু হয়েছে বর্তমানে। হাঁটতে হাঁটতে আমি আজকাল মহাখালীর গাড়ির গ্যারেজের পেছনে চলে যাই। সেখানে এক কুষ্ঠরোগী ছালা পেতে ভিক্ষে করে। বড় রাস্তায় সে ভিক্ষে করতে ভয় পায়, লোকে লাঠি পিটিয়ে তাড়ায় বলে। আমি প্রায় প্রতিদিন সেখানে হাজিরা দিই। এতো কাছে কুষ্ঠরোগীদের হাসপাতাল তাকে সেখানে যেতে বললে বিড়বিড় করে বলে, এই দুনিয়ায় গরিব মাইনসের চিকিৎসা নাই। আল্লাহর ইচ্ছায় আমার এই বিমার হইছে, আল্লাহর ইচ্ছায় সারবো।
সে যখন অসীম বিশ্বাসে এ কথা বলে আমি মুগ্ধ হয়ে তার গলে যাওয়া নাক, গলে যাওয়া মুখগহ্বরের দিকে তাকিয়ে থাকি। আমি তার পাশে আমার পাজামা কামিজ পরা পা গুটিয়ে নিয়ে বসে যাই। তার গলিত ক্ষত থেকে যে দুর্গন্ধ বেরোয়, আমার তাতে গা গুলোয় না, বমি আসে না। সে গোল বাটারবানের ভেতরে শুকিয়ে চিমসে ধরা গরুর মাংসের বার্গার খেতে ভালোবাসে, এটা তার বিলাসিতা; প্রতিবার তার সাথে দেখা করতে যাবার আগে আমি তাই মহাখালীর মোড় থেকে বার্গার কিনে নিয়ে যাই তার জন্যে। সে একদিন একজন পুরুষ মানুষ ছিল, এখন সে লিঙ্গহীন, কুষ্ঠ আক্রান্ত নামধারী জীবমাত্র। আমার কাছে এই চলন্ত জীবটাকেই বর্তমানে সবচেয়ে কাছের মানুষ বলে মনে হয়। সে যখন তার দুঃখের কথা বলে কাঁদে, আমি তার সাথে কাঁদি। সে যখন তার গ্রামের ফেলে আসা ছেলেবেলার হাসি-খেলার দিনগুলোর কথা বলে হাসে, আমি তখন হাসি। আমার ইচ্ছে হয় জিজ্ঞেস করি, শরীরের কুষ্ঠের মতো মানুষের মনেও যে কুষ্ঠরোগ হয় তার খবর সে রাখে কি না। মানুষের মনও যে অন্য এক কুষ্ঠরোগে গলে যায়, ক্ষয়ে যায়, পচে যায় এই খবর কি আমার এই বন্ধুটি জানে?
না জানে না। আমি জানি আমার এই প্রশ্নের উত্তর সে দিতে পারবে না। আজকাল তাই বাড়ি ফিরে প্রায়ই আমি ঘর অন্ধকার করে বসে থাকি। পাজামা হাঁটুর ওপরে তুলে, পা ভাঁজ করে, বাঁ হাতে গালে ভর দিয়ে খালি মেঝের ঠাণ্ডায় বসে থাকি। কল্পনায় দেখি আমার গায়ে কামিজের বদলে হাতাকাটা ঢোলা জামা, চুলের মাঝখান থেকে সিঁথি, আমার ডান হাত কনুই ভাঁজ হয়ে কোমরে বসানো, নিজের অজান্তেই আমি প্যারির পল গঁগ্যার 'ব্রুডিং উওম্যান' হয়ে যাই। তখন মহিউদ্দিনের কথা আবার আমার মনে পড়ে। আমার বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়ে যায়। মনে পড়ে মহিউদ্দিন শখ করে একদিন আমার গায়ে গাঢ় নীল ভেলভেটের এক ফ্রক চড়িয়ে, আমার মাথার লম্বা চুলে সাদা তিনটে ফুল গুঁজে, ডান হাতে আমার লাল সিঁদুরে একটা আম ধরিয়ে, আমাকে গঁগ্যার 'উওম্যান উইথ এ্যা ম্যাঙ্গো' সাজিয়ে রেখেছিল।
আর একটু দূরে দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হেসে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল আমার দিকে যেন আমি সত্যিই এক দ্বীপ থেকে উঠে এসেছি তার ঢাকার স্টুডিওতে।
ক'দিন বাদে ফুটপাতও আর ভালো লাগল না আমার। মনে হতে লাগল ফুটপাতের জীবন বড় মানবেতর জীবন। বড় লাঞ্ছনার জীবন। এ জীবন আমাকে আর আকৃষ্ট করতে পারল না। এখন ঘরই আমার একমাত্র সম্বল। আমার দুর্ধর্ষ ও নিষ্ঠুর বাবার মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া এই ছোট্ট বাড়িটার অন্ধকার এক কোণে আমি মাথা গুঁজে পড়ে থাকি আজকাল। অন্য কোণে, আরেকটা ঘরে থাকে আমার দুঃখী মা, আমাকে ভালোবাসলেও সে আমার সাথে কথা বলতে ভয় পায়। মৃত্যুর আগে আমার বাবা তার মনের ব্যাকবোন ভেঙে দিয়ে গেছে। তার সমস্ত শরীরে অ্যান্টার্কটিকার শৈত্য জড়ানো। মাঝরাতে বাবা যখন তাকে ঘর থেকে রাস্তায় বের করে দিতো, বন্ধ করে দিতো বাড়িতে ঢোকার দরজা, তখন আমাকে কোলে নিয়ে অন্ধকারে শীতের মধ্যে সে দাঁড়িয়ে থাকতো চুপ করে। কোনও প্রতিবাদ না, প্রতিরোধ না। বরফে শীতল করে রাখা মৃত মাছের মতো শীত আমাদের দুজনের শরীর জড়িয়ে ধরতো ঠেসে। তার মাতৃহৃদয়ের উষ্ণতাও আমার শরীর গরম রাখতে পারতো না, যদিও সে চেষ্টা করতো তার বুকের ভেতরে আমাকে গুঁজে রাখতে। আমি কেন আজকাল আর ইউনিভার্সিটিতে যাইনে, কেন ঘরের পর্দা টেনে চুপচাপ শুয়ে থাকি, কেন আমি তার সাথে আর কথা বলিনে, সে এসবের কিছুই আমাকে জিজ্ঞেস করে না। আমি তাকে কাছে না ডাকলে সে কোনওদিন আমার কাছে আসবে না, আমার বাবা তাকে এই নিয়ম শিখিয়ে দিয়ে গেছে। মৃত বাবার আদেশ সে এখনও অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলে। এর জন্য বাবার চেয়ে মায়ের প্রতিই আমার ঘৃণা বেশি হয় আজকাল। আমি সে ঘৃণা চেপে রাখি এবং নিজেকে শাসন করি। আমার বাবার বায়োলজিক্যাল জিন্সের ভেতরে অপরাধবোধের ছিটেফোঁটা না থাকলেও তার মেয়ে আমি সর্বক্ষণই জর্জরিত হয়ে থাকি এক গভীর অপরাধবোধে এবং সেটা আমার মায়ের জন্য।
আমার মনে হয় আমার গায়ে আজকাল সর্বক্ষণই একটু একটু জ্বর থাকে। মুখের ভেতরে তেতো বিষ। জিভ খড়ের মতো শুকনো। আমার কোনো খিদে লাগে না। তৃষ্ণাও নয়। আমার শরীরের যাবতীয় অনুভূতি ক্রমশ ভোঁতা হয়ে আসছে আমি সেটা টের পাই। এখন আর আমার দিন ও রাতের হিসাব নেই। আজকাল কত তারিখ, কী বার, ঘড়ি, সময়, রোদ সবকিছু থেকে আমি যোজন যোজন মাইল দূরে বসে থাকি।
এই রকম একটা সময়ে, একদিন যখন আমি বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে, আমার বন্ধ চোখের ওপরে আড়াআড়ি করে ধরে রাখা দু'হাত, তখন হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ার মতো জোর ধাক্কায় দরজা খুলে আমার ঘরে ঢুকলো যেন কে।
আকস্মিকতায় মানুষ যেমন সিঁটিয়ে যায়, তেমনিভাবে সিঁটিয়ে পড়ে থাকলাম আমি বিছানায়। তখনও আমার চোখ বন্ধ। চোখের ওপরে হাত।
দুর্ধর্ষ এক গোঁয়ারের মতো প্রথমেই সে টান মেরে দূরে সরিয়ে ফেললো আমার জানালার পর্দা। ঘরে বসে লেখালেখি করার চেয়ারটা এক লাথি মেরে ছুঁড়ে ফেললো দূরে।
কানে শব্দ পেলাম আমার পড়ার টেবিলের ওপর থপ্ থাপ করে পড়লো একগাদা বই।
এরপর একটুক্ষণের জন্য পিনপতন স্তব্ধতা।
সেই স্তব্ধতাও এবার লাথি মেরে গুঁড়িয়ে ফেলে অতি কর্কশ স্বরে সে বলে উঠলো, এ্যাই ইতি, চোখ থেকে হাত সরা, চোখ খোল্।
কিন্তু আমি এতো সহজে চোখ খুলবো কী করে?
আজ কতদিন আমি আলোর দিকে তাকাইনি। আলোর চেহারা আমি ভুলে গেছি।
আমি তাহিতি দ্বীপের মেয়ে ছিলাম একদিন।
আলো, সমুদ্র, আকাশ, সবুজ ও শঙ্খচিলের ডানার গন্ধ ছিল আমার সারাদিনের সঙ্গী; সারাটা দিন আমি বুক ভরে টেনে নিতাম সমুদ্রের বাতাস; সমুদ্রের ঢেউ ছিল আমার প্রেম; সমুদ্রের তীর ছিল আমার নুড়ি কুড়িয়ে কোঁচড়ে তোলার খেলাঘর; আমার একটা গঁগ্যা ছিল তখন; ইউজির অ্যাঁরি পল গঁগ্যা ওরফে মহিউদ্দিন আহমেদ মহি; আজ আমার সে গঁগ্যা নেই; আজ আমার দ্বীপ সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসে অতল গভীরে নিমজ্জিত; আজ আমি পঙ্গু, বধির, কুৎসিত ও কুষ্ঠের ছোঁয়ায় অসাড়।
ইতি, অনেক ঢং হয়েছে। আজ দু'মাস ধরে এই ঢং দেখছি। এবার চোখ খোল্ বলছি।
নিষ্ঠুর এক চামারের মতো আমার চোখের ওপর থেকে হাত টেনে সরিয়ে দিয়ে বলে উঠলো দুলু। এই সেই দুলু। যাকে আমি একদিন আমার বন্ধু বলে জেনে এসেছি।
দুলু আমার বন্ধু হলেও জানে না এ চোখ খোলার নয়! খোলার পরমুহূর্তে তীব্র বেগে ঘরে ঢোকা সূর্যের আলো আমার চোখের মণি ভেদ করে রেটিনায় রক্তক্ষরণ করবে।
কত দিন আমি সূর্যের দিকে তাকাইনি। কত দিন হলুদ রোদ এসে পড়েনি আমার ঘরের মেঝেয়।
অন্ধকারের মধ্যে জন্ম নেয়া এবং অন্ধকারেই বড় হয়ে ওঠা জীবেরা যেমন আলোয় এলে চোখে দেখতে পায় না কিছুই, আমার অবস্থাও এখন সে রকম।
দুলু আবার বললো, শোন্ ইতি, তোর নাম কেন ইতি রেখেছিলেন তোর বাবা-মা আমি জানিনে, সাতটা মেয়ে পরপর সংসারে জন্ম নিলে তবেই শেষ মেয়ের নাম রাখে ইতি, আর তুই সংসারের প্রথম ও একমাত্র মেয়ে হয়েই ইতি হয়ে গেলি, বিষয়টা রিসার্চের, সন্দেহ নেই, তা যা হোক শোন্ এবার, অনেক হয়েছে। আজ থেকে তোর গত জীবনের সবকিছু ইতি। আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে।
আমি অতি কষ্টে শুকনো জিভ টেনে টেনে ভেজাবার চেষ্টা করতে করতে বললাম, দুলু তুই এখান থেকে চলে যা। কে তোকে বাসায় ঢুকতে দিলো?
কেন যাবো রে লুলা? দুলু খেঁকিয়ে উঠলো আমার কথা শুনে।
দুলুর ভগবান দুলুর গলার স্বরে মিষ্টতা দিতে ভুলে গিয়েছিল বলেই দুলু যেন তার প্রতিশোধ নিতে যত্রতত্র খেঁকিয়ে কথা বলে। রাগ তার সৃষ্টিকর্তার প্রতি, কিন্তু শাস্তি ভোগ করে নিরীহ মানুষ।
খেঁকিয়ে উঠে দুলু আরও বললো, এ বাড়িতে আমার ঢোকার পথ আটকাবে কে? তুই? তুই তো তোর বুড়ো প্রেমিক হারাবার কালাজ্বরে কাহিল। এই অসুস্থ প্রেমের প্লীহা এখন তোর সমস্ত পেট-বুকজুড়ে রাজত্ব করছে। এ প্রেম যে আর নেই, হারিয়ে গেছে বাতাসে, মিলিয়ে গেছে হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো, এটুকু বোঝবার ক্ষমতা তো আর নেই। তোর মায়ের মুখের দিকে ইদানীং কখনও তাকিয়ে দেখেছিস?
না দেখিনি। এই পৃথিবীতে কারো দিকে আমি চোখ তুলে দেখিনি কতদিন। যেন কতকাল।
তবু নিষ্ঠুর দুলুর কথা শুনে আমার বুক চিরে আর্তনাদ বেরিয়ে এলো।
আমি দু'চোখ বুজে রেখে বলে উঠলাম, প্লিজ দুলু, পর্দা টেনে দে। আর এভাবে কথা বলিসনে। আমি আমার প্রেম হারাইনি, আমার প্রেমিককে শুধু আমি খুঁজে পাচ্ছিনে। আমার বিশ্বাস তার কোনো কঠিন অসুখ হয়েছে। নইলে প্রতিবার সে তো আমার ন্যুড আঁকবার পরে_
ননসেন্স। তুই একটা ননসেন্স।
আমার কথা শেষ না হতেই দুলু বলে উঠলো।
দুলুর গলার স্বর এবার ভিন্ন। যেন কি এক ম্যাজিকে কর্কশতা হারিয়ে কোমল ও ভারী হয়ে এলো। যেন দুধের সরের মতো ধবল ও মসৃণ হয়ে এলো তার কণ্ঠ।
নিচু স্বরে বড় দুঃখী হয়ে দুলু বললো, এই শহরে তুই আর লোক পেলিনে, একটা পটুয়াকে ভালোবাসতে গেলি! কামরুলের দেয়া কী বিশ্রী নাম এই পটুয়া, কেউ ভয়ে প্রতিবাদ করে না। আদতে এখন ভেবে দেখছি এই নামই ওদের জন্য উপযুক্ত সম্বোধন। ওরে মূর্খ, মহিউদ্দিনের মতো পটুয়ারা কাউকে ভালোবাসে না, ওদের গন্তব্য হলো কালোত্তীর্ণ খ্যাতির চূড়োয় আরোহণের পর বাড়ি ফেরা। প্রেম ভালোবাসা ওদের জীবনে নিত্যদিনের খাদ্য-পানি-মদ-ধূমপানের মতো প্রয়োজনীয় একটা বস্তু। ওদের কাছে ভালোবাসা একটা শব্দ মাত্র, প্রেম হলো নড়বড়ে সম্পর্কের এক খোলস। বরং তোর জন্যে হাত বাড়িয়ে আছে যে মিজান, এতকিছু জেনেও যে তোকে কাছে টেনে নিতে চায়, তাকেই বলে হয়তো প্রেম। বলে ভালোবাসা। তবু আমি এ ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত নই; কারণ এখনও আমি কাউকে ভালোবাসতে পারিনি। বা কেউ আমাকে।
দুলুর শেষ বাক্যটা অবশ্য সত্যি।
কিন্তু দুলুকে কেউ ভালোবাসবে কি, ভালোবাসার কথা কেউ বলতে এসেছে আন্দাজ করলেই দুলু এমন মারমুখী হয়ে ওঠে যে, কেউ আর কাছেই ঘেঁষে না। ক্লাসের সবাই দুলুর নাম দিয়েছে গার্ডিয়ান।
দুলু কথাটা জেনেও ডোন্ট কেয়ার ভাব দেখায়।
তবে আমার নিজের সমস্যাটা এতো প্রকট যে, দুলুর কথা বেশিক্ষণ ভাবতে পারলাম না।
আমার বুকের ভেতরে আবারো বুক ভাঙার শব্দ শুনতে পাচ্ছি, ঝুরঝুর, ঝুরঝুর, ঝুরঝুর।
শব্দ শুনতে শুনতে বেদনার্ত স্বরে আমি বলে উঠলাম, তুই কী যা-তা বলছিস দুলু? আমার মহিকে তুই এতো হেনস্তা করিসনে। সে শিল্পী বটে, অমানুষ নয়।
আমার কথা শেষ হতে না হতেই মুহূর্তে আবার ভোল পাল্টে গেল দুলুর।
চেঁচিয়ে উঠে সে বললো, অমানুষ নয়? কী ঘটেছে তা তুই নিজেও কি নিজের ভেতরে অনুভব করতে পারছিসনে? না পারলে, আজ দু'মাস এভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে আছিস কেন? তোর ভালোবাসার সেই শিল্পী, সেই পল গঁগ্যা, মাই ফুট, সেই পটুয়া বউ বাচ্চা নিয়ে হঠাৎ পাড়ি দিয়েছে ফ্রান্স। সেখানে সে তার সংসার গুছিয়ে আবার নতুন করে কাজে মন বসাবে বলে ছেড়ে গেছে দেশ।
এই তুই কী বলছিস দুলু?
আমার গলা চিরে প্রশ্নটা বেরোলো খসখসে হয়ে।
মহিউদ্দিনের রেখে যাওয়া আনসারিং সার্ভিসের মতো গলার স্বর আমার হয়ে উঠছে, আমি তা বুঝতে পারছি। আমার ভেতরটা যে ক্রমশ শূন্য হয়ে উঠছে আমি তাও বুঝতে পারছি। আমার যুদ্ধ করার শক্তি নিঃশেষ হয়ে আসছে সেটাও বুঝতে পারছি।
আর যতো বুঝতে পারছি ততোই আমার চারপাশে শুধু শূন্যেরা লাফালাফি করে বেড়াচ্ছে।
দুলুর কানে হয়তো আমার গলার স্বর পেঁৗছলো না। হয়তো সে আপন মনে জানালার বাইরে চোখ ফেলে পেয়ারাগাছের পাতা দেখতে শুরু করেছে। সে পাতাগুলো হয়তো এখনো কচি ও সবুজ। এখনো হয়তো সময়ের চাপে, বয়সের চাপে, ঝড়বৃষ্টিরোদ মোকাবেলা করতে করতে রুক্ষ ও খসখসে হয়ে ওঠেনি।
দুলু এবার আপন মনে বলতে লাগলো, বিদেশে গিয়ে আরো অনেক ভালো ছবি আঁকবে সে। আরও অনেক সমুদ্রের ছবি আঁকবে, বেলাভূমির ছবি আঁকবে, আরো অনেক বেলাভূমিতে নুড়ি কুড়িয়ে তোলা মেয়েদের আঁকবে তার ক্যানভাসে জড়ো হবে আরো অনেক সবুজ ও হলুদ, নীল ও লাল। আরো অনেক ন্যুড আঁকবে সে, সেসব ন্যুড তুই না, অন্য মেয়েদের, অন্যসব নতুন মুখের মেয়েদের, নতুন সব শরীরের মেয়েদের। তাদের শরীরের বাঁকে বাঁকে চোখ ফেলে একমনে তুলি টেনে যাবে তোর গঁগ্যা তার ক্যানভাসে। আঁকা শেষ হলে তাদের অনেককেই সে নিয়ে যাবে তার স্টুডিওর কোণে ডিভানে, প্রবিষ্ট হবে সে তাদের ভেতরে, প্রেম হবে, শীৎকারও হবে; অনেক ন্যুড তোর মতো তাকে ভালোবাসবে, কিন্তু শিল্পীর কাজ যেই শেষ হবে, উদ্দেশ্য যখনি পূরণ হবে অমনি তার মনে পড়বে বাড়ি ফেরার কথা। প্যালেট থেকে রঙে ল্যাপটানো তুলি কুড়িয়ে তুলে ধুয়েমুছে সাজিয়ে রেখে আবার সে ফিরে যাবে তার ডেরায়_যার নাম সংসার, যেখানে আছে তার পথ চেয়ে থাকা স্ত্রী, নয়নমণি পুত্রসন্তান, যে সংসারে সে তার স্ত্রীর ফেলে রাখা কাপড় মেঝে থেকে যত্ন করে তলে গুছিয়ে রাখবে আলমারিতে, যেমন সে স্টুডিওতে গুছিয়ে রেখে আসে তার তুলি। তারপর চুম্বন করবে ছেলের মুখ।
কথা বলতে বলতে থেমে গেল এবার দুলু। আমার যেন মনে হলো, দুলু এখন ভাবছে। ভাবতে ভাবতে যেন অন্যমনস্ক হয়ে তাকিয়ে দেখছে বিছানায় লেপ্টে পড়ে থাকা আমার কালো ও ক্ষীণ শরীর বর্তমানে যা লাবণ্যহীন, অথচ মাত্র কিছুদিন আগেই যা ছিল যে কোনো পুরুষের চোখে লোভনীয়।
দুলু এবার বললো, ইতি তোকে একটা কথা বলি, কিছু মনে করিসনে, আর এ কথাটা বলতেই আমি জাহাঙ্গীরনগর থেকে ছুটে এসেছি ভার্সিটির শেষ ক্লাসটা না করেই। শোন্, শিল্পীদের এমনিতে দেখতে লাগে বোহেমিয়ান, যেন সব কাছাখোলা ভাব, কিন্তু মনের গভীরে ওরা বড় হিসেবি, বড় চুলচেরা হিসেব। ওদের ব্যক্তিগত জীবনের শেষ গন্তব্য সবসময়ই হলো_বাড়ি। সে বাড়ি যদি আস্তাকুঁড় হয়, তবু। প্যারির পল গঁগ্যা যতই তাহিতি দ্বীপে যান না কেন, সিফিলিস জর্জরিত হয়ে, বেওয়ারিশ সন্তানের জন্ম দিয়ে যত জীবন নিয়ে বাজি খেলুন না কেন, মৃত্যুর আগে ঠিকই ফিরে এসেছিলেন বাড়ি, যে বাড়ির নাম দিয়েছিলেন শখ করে, হাউস অব প্লেজার। তুই কি এতো ভ্যাবলা যে এসব খবর রাখিসনে? তুই কি জানিসনে গঁগ্যা নিজে এতোবড় একজন শিল্পী হয়েও নিজের ছেলেকে বলেছিলেন, শিল্পী না হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হতে, কারণ তাতে পয়সা বেশি?
না, আমি এসব কথা জানিনে। দুলু সত্যি কথা বলছে কি না তাও জানিনে। এখন আমার ভেতরের শূন্যতা জুড়ে কতগুলো প্রশ্ন জোরেশোরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। প্রশ্নগুলো দুলুকে করতে আমি সাহস পাচ্ছিনে, তাই নিজের মনের ভেতরে রেখেই করছি। এক নম্বর হলো, অমানুষ একজন শিল্পীর হাতে এতো আলো ঝলমল শিল্পের সৃষ্টি হয় কী করে? দু'নম্বর, অমানুষ এক শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনের আসল গন্তব্য কি শেষ পর্যন্ত একটা বাড়ি? নাকি তার গন্তব্য হলো একজন মানুষ?
এখন অনেক রাত, কিন্তু যতদূর সম্ভব কালিমালিপ্ত। অনেক রাত আছে, যা কালিমালিপ্ত নয়। তখন আকাশে চাঁদ থাকে, নভোমণ্ডলে তারা, দূরের রাস্তায় হলুদ আবছা বাতি, ফুরফুর বাতাসের বারান্দায় থাকে কোমল নীল আলো, আলোর ভেতরে মানুষ, আর মানুষের ভেতরে প্রেম।
আবার অনেকগুলো দিনও থাকে মানুষের। সেই দিনের ভেতরে থাকে দুপুর। দুপুরের ভেতরে থাকে মানুষের গায়ের গন্ধ, হলুদ পেঁপের মতো যে গন্ধ জড়িয়ে ধরে মন। প্রেমের উজ্জ্বলতায় সে দুপুরগুলো হয়ে যায় সোনা। সোনা ঝিকমিক করে জ্বলে রমনা পার্কের লেকে।
কার অভিশাপে কোথায় হারিয়ে গেল আমার সেইসব রাত ও দিন?
আমি তো জ্ঞানত দেবতা জিউসকে কোনওদিন ক্ষিপ্ত করে তুলিনি? ইকারুসের পাখা রোদে পুড়ে যাবার মতো হঠকারি কোনও কাজ করিনি। নাকি করেছি?
আমি কিছু বুঝতে পারছিনে।
বর্তমানে আমি অন্ধকারে মেঝের ওপর উবু হয়ে বসে আছি। আমার দু'হাঁটুর ওপরে রাখা আছে আমার মুখ। আমার যে মুখ মহিউদ্দিন একদিন দু'হাতের ভেতর তুলে ধরে বলেছিল, তুমি আমার তাহিতি দ্বীপের মেয়ে। তুমি পল্ গঁগ্যার তাহিতি দ্বীপের মেয়ে। তুমি নীল জামা পরে বসে আছো আমার সমুখে, তোমার মাথার পেছনে গাঢ় হলুদ ক্যানভাস। ক্যানভাসের দু'পাশে উড়ন্ত প্রজাপতির মতো গাঢ় সবুজ পাতা। তুমি বসে আছো লাল ভেলভেট মোড়া চেয়ারে, এক হাতের ওপরে অন্য হাত রেখে। তোমার ডান হাতের দু'আঙুলের ফাঁকে সবুজ পাতার কমলা ফুল।
কিন্তু না, আমি তো তা ছিলাম না। আমি লাল ভেলভেট মোড়া চেয়ারে ছিলাম ঠিকই কিন্তু আমি বসে ছিলাম ন্যুড হয়ে। আমি একপায়ে তুলে দিয়েছিলাম আরেকটি পা। আমার দু'হাত জড়ো হয়ে নাভির নিচে ঢেকে রেখেছিলাম আমার লজ্জা। আমার মাথার খোলা চুলে গোঁজা ছিল রক্তজবা, বুক ছিল উন্নত। শরীরের চেয়ে ছোট দুটি স্তনে আমাকে দেখাচ্ছিল কিশোরীর মতো।
আমার মহিউদ্দিন, আমার নিজস্ব পল গঁগ্যা, আমার দিকে ফিরে তাকিয়ে পাগলের মতো রঙ চড়াচ্ছিল ক্যানভাস-এ।
এমনি করে দিনের পর দিন। দুপুরের পর দুপুর।
আর প্রতিবার কাজ শেষ হলে ঘর্মাক্ত দেহে আমরা দুজন জড়াজড়ি করে শুয়ে পড়তাম আধো অন্ধকার ঘরটার ভেতরে। আমাকে কোলে করে সেই ঘরে তুলে নিয়ে যেতো মহিউদ্দিন। চুমোয়, আদরে, সঙ্গমে পড়ন্ত দুপুর চিত্রল হরিণের মতো ছুটোছুটি করে ফিরতো সেই অন্ধকার ঘরে।
কিন্তু কোথায় হারিয়ে গেল আমার গঁগ্যা? আমার নিজস্ব পল গঁগ্যা কোথায় আমাকে ফেলে রেখে চলে গেল? গঁগ্যাহীন এই শহরে আমি বাস করি কি করে?
আমার তো নিজস্ব অস্তিত্ব নিয়েই এখন টানাটানি।
সারা শহরভর্তি এতো মানুষ। এতো অলিগলি, এতো রাস্তা; বড় রাস্তা, ছোট রাস্তা, মাঝারি রাস্তা; এতো বড় বড় পার্ক, রেস্তোরাঁ, সংগঠন; এতো বড় চারুকলা, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, পাবলিক লাইব্রেরি, নিউমার্কেট; রঙতুলির দোকান, ক্যানভাসের দোকান, ছবি বাঁধাবার দোকান, সাজুর আর্ট গ্যালারি_কোথাও আজ সাতদিন ধরে আমার গঁগ্যাকে খুঁজে পাচ্ছিনে। তার স্টুডিও ঘরে মস্তো বড় তালা ঝুলছে, বারবার নেড়েচেড়ে সেই তালা দেখি, তালার শরীরে মহিউদ্দিনের হাতের ছাপ ভেবে চুমো খাই, গন্ধ শুঁকি, একে শুধোই, ওকে শুধোই, এ রাস্তা দিয়ে হেঁটে ওই রাস্তায় যাই, ওই রাস্তা থেকে এই রাস্তায় আসি আবার সেখান থেকে অন্য রাস্তায় যাই, চারপাশে পাগলের মতো মাথা ঘুরিয়ে তাকাই, সারাদিন আজকাল আমার রাস্তায় কাটছে; কখনও বা রিকশায় চড়ি, কখনও বেবিট্যাঙ্,ি পয়সা বেশি থাকলে হলুদ ক্যাব ভাড়া করতেও দ্বিধা করিনে।
কিন্তু ঘুরে বেড়ানো আমার সার।
আমার আবাল্য পরিচিত এই শহর আমার কাছে যে অচেনা হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ আমি তা বুঝতে পারছি। গঁগ্যাহীন এই শহর মূলতই আমার কাছে অচেনা। আজ কতদিন, কতমাস, সেই দু'বছর আগে শিল্পকলা একাডেমীতে প্রথম যেদিন আলাপ হয় মহিউদ্দিনের সঙ্গে, তখন তার বয়স্ক চেহারা, মাথার কাঁচাপাকা চুল, চোখের চশমা, আমাকে আকৃষ্ট করেছিল ভীষণভাবে; আমার ভেতরে, আমার বাইশ বছরের শরীরের ভেতরে আমি নড়াচড়ার শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম। আমি তার ছবির প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম, এবং প্রতি বিকেলে, যতদিন তার প্রদর্শনী চলেছিল হাজিরা দিতাম একাডেমীতে।
তারপর, কি করে কি করে টেলিফোনের আদান-প্রদান, দেখা করার জন্য অনুরোধ, একদিন স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়া, তারপর হঠাৎ করে 'আমি তোমার ন্যুড আঁকতে চাই' বলে আমার পায়ের কাছে বসে আমার মুখের দিকে অচেনা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা, সবকিছু আজকাল বায়োস্কোপের ছবির মতো বারবার আমার মনে এসে ধাক্কা দিচ্ছে, ধাক্কাটা ঢেউয়ের মতো। বড় বড় ঢেউ, ছোট ছোট ঢেউ।
তোমার বয়স কত? একদিন জিজ্ঞেস করল মহিউদ্দিন।
বাইশ। আর আপনার? জিজ্ঞেস করেছিলাম আমি।
তোমার ডবল, চুয়ালি্লশ।
এই বলে হেসেছিল সে খুব সেদিন।
আর আমার বাইশ বছরের চোখে তার সে চুয়ালি্লশকে মনে হয়েছিল অপূর্ব। এইতো চাই, এই রকম পুরুষ আমার পছন্দ, এই যাকে আশ্রয় করে আমি নিশ্চিন্তে জীবনের পথে চলতে পারি, যে আমার ভেতরটা, নরম ও কোমল ভেতরটা জল ছলছল করে দিয়ে যেতে পারবে।
হ্যাঁ, আমি ন্যুড হয়েছিলাম।
তার ছবি আঁকার জন্য আমাকে ন্যুড হতে হয়েছিল। তার চেয়েও বড় কথা আমি তাকে ভালোবেসেছিলাম। তার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখার কিছুই আমার ছিল না। আর সেও কি আমাকে ভালোবাসেনি? কেন সে তাহলে উদ্ভ্রান্তের মতো সমস্ত শহর তার গাড়ি দাবড়ে নিয়ে আমাকে খুঁজে বেড়াতো? একদিন এ্যলিয়াস ফ্র্যাঁসে এসে আমাকে খুঁজে পেয়ে বলেছিল, এখানে কেন আসো?
ক্লাস করতে, ফরাসি ভাষাটা শেখার চেষ্টা করছি।
আর কতদিন লাগবে কোর্স শেষ করতে? গাড়ির মুখ মিরপুরের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল সে।
অনেকদিন। এই তো সবে শুরু।
বেশ। গম্ভীর হয়ে বলেছিল মহিউদ্দিন। তারপর একটু চুপ করে থেকে জিজ্ঞেস করেছিল, যে ছেলেটি করিডোরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল, সে ছেলেটি কে? মহিউদ্দিনের প্রশ্ন শুনে আমি হেসে ফেলেছিলাম। বাচ্চা মেয়ের মতো ফিক্ করে ওঠা হাসি। আমার হাসি দেখে গাড়ি চালাতে চালাতে সে বলেছিল, হাসছো যে?
হাসি থামিয়ে আমি বলেছিলাম, ওর নাম কাজল। আমার বন্ধু।
শুধু বন্ধু, আর কিছু না?
সেদিন তার স্টুডিও ঘরে সে পাগলের মতো আমাকে আদর করেছিল। আর বলেছিল, আমি জানি আমি তোমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়, তবু কোনওদিন তুমি আমাকে ভুলতে পারবে না। আমি ভুলতে দেবো না। আমি অনেক ন্যুড এঁকেছি জীবনে, তবু তোমার মতো কাউকে এভাবে ভালোবাসিনি।
আমিও না। এই কথা বলে আমি তার চুলভর্তি মাথা আমার বুকে চেপে ধরে রেখেছিলাম। অনেকক্ষণ।
সেসব কথা থাক। অতীতের কথা অতীতে ফিরে যাক। এখন অস্তিত্বের সংকট। আজ সাতদিনের ওপর হতে চললো আমি মহিউদ্দিনকে খুঁজে পাচ্ছিনে। বাড়িতে টেলিফোন করলে আনসারিং সার্ভিস কথা বলে ওঠে, মোবাইলে আনসারিং সার্ভিস, তার অফিসের ফোনেও আনসারিং সার্ভিস। কিন্তু এগুলোর একটিও মহিউদ্দিনের কণ্ঠস্বর নয়, অচেনা এক স্বর, ঘষা ঘষা, অস্পষ্ট, যেন কেউ একদলা কাগজ পুরে দিয়েছে গলার ভেতরে। আমি ঘোরে পড়া মানুষের মতো আমার মোবাইল দিয়ে বারবার করে এই স্বরগুলো শুনতে থাকি, একমনে, শুনতে শুনতে আমার গা শিরশির করে ওঠে, যেন মৃত্যুমুখী এই গলার স্বর আমাকে সতর্ক করে দিয়ে বলে যায়, সাবধান ইতি, সাবধান।
কিন্তু আমি তো সাবধান আর থাকতে পারছিনে। আমি জানি মহিউদ্দিনের বাড়িতে ঢুঁ মারা নিষেধ। সেখানে তার স্ত্রী আছে, তের বছরের ছেলে আছে। মহিউদ্দিনের অফিসে যাওয়াও আমার নিষেধ। এই অফিসটা আসলে মহিউদ্দিনের শো-রুম যেখান থেকে প্রচুর মানুষ তাদের শখের ছবি কিনে নিয়ে যায়, মূল ছবির রিপ্রিন্ট নেয়, ক্যালেন্ডারের ছবির জন্য বিনীত অর্ডার দিয়ে যায়; কিন্তু বাড়িতে যেতে না পারি অফিসে যাওয়া আমার ঠেকাতে পারবে না মহিউদ্দিন।
কারণ আমি আর এখন আমাতে নেই।
মহিউদ্দিনহীন জীবন এখন আমার কাছে মূল্যহীন এক ভাঙাচোরা জাহাজের আসবাবের মতো।
আমি খুব সাধারণ পোশাকে, সাধারণ প্রসাধনে, অতি সাধারণ একটা মেয়ের মতো একদিন তার অফিসে গিয়ে হাজির হলাম। মহিউদ্দিনের অফিসটা বড়। এই অফিসে অনেক জানালা। কিন্তু কালো কাচে ঢাকা। হয়তো ছবির জন্যই অনেক জানালা অনেক আলোর প্রয়োজন হয়।
এসে দেখি অফিস বন্ধ। প্রতিটি জানালা ভেতর থেকে বন্ধ। আমি ঝুঁকে বুক পেতে কাচে নাক ঠেকিয়ে, পায়ের পাতায় ভর দিয়ে, দেখতে লাগলাম তার অফিস। প্রথমে রাস্তার পুবদিক থেকে, পরে পশ্চিম দিক থেকে, তারও পরে উত্তর দিক থেকে, সবশেষে দক্ষিণ দিক থেকে দেখতে লাগলাম। কাচে নাক ঠেকাতে ঠেকাতে নাক লাল হয়ে উঠলো আমার। জিভ শুকিয়ে গেল, তবু ভালো করে কিছু দেখতে পেলাম না। জানালাগুলো আজ পর্দাটানা, একরঙা হালকা হালকা অফ-হোয়াইট পর্দাগুলো ক্রমে হলুদ হয়ে গেল, তারপর আমার চারপাশের সবকিছুই হলুদ।
রাস্তা হলুদ। চলন্ত গাড়িগুলো হলুদ। মানুষগুলো হলুদ। আমার দু'হাত শূন্যে মেলে ধরে তাকিয়ে দেখলাম, আমার হাত দুটোও হলুদ। যেন ভ্যান গ'র সূর্যমুখী ফুলগুলো থেকে বিচ্ছুরিত হলুদ ক্যানভাসের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়তে লাগল চারদিকে।
অবশেষে আমি ক্রন্দনরত, অতিদ্রুত হলুদের ভেতর দিয়ে ক্রমশ হলুদ হয়ে যেতে যেতে পার হতে লাগলাম পান্থপথের রাস্তা। কীভাবে বেঁচে আছি আজকাল আমি বুঝতে পারিনে। আমার ভেতরে শুধু ঝরে পড়ার শব্দ। এই চবি্বশ বছরেই আমার শরীরে চুরাশির ছাপ। আমার শরীর থেকে আমার গঁগ্যার শারীরিক দূরত্ব আমাকে ক্রমে ক্রমে করে তুলছে বয়স্ক। আমার শরীরের ভাঁজে ভাঁজে যেখানে একদিন আমার নিজস্ব গঁগ্যার হাত পড়েছিল সেখানে সময়ের শরীর তার অনন্ত ভার চাপিয়ে দিয়ে বসেছে। আমি তাকিয়ে দেখছি আমার চামড়া কুঁচকে যাচ্ছে, হাতের শিরা বেরিয়ে পড়ছে, কপালে বুড়ো মানুষের মতো অসংখ্য বলিরেখার ছাপ, আর আমি না কল্পনা না বাস্তব কোথায় আছি বুঝতে না পেরে ইদানীং শুধু হেঁটে যাচ্ছি শহরের পথে পথে। ইভা লুনার মতো কল্পনা করছি, একদিন যে কোনও সময় যে কোনও মুহূর্তে এই শহরের যে কোনও গলি থেকে হঠাৎ করে এসে হাজির হবে আমার ত্রাণকর্তা রিয়াদ হালাবি। মাঝবয়সী শক্ত সমর্থ শরীরে সে দু'হাত বাড়িয়ে পাঁজা কোলে আমাকে মাটি থেকে তুলে জড়িয়ে ধরবে তার বুকে। তারপর পরম মমতার সাথে 'আমার ছোট্ট মেয়ে' বলে তুলে দেবে মালভর্তি চলন্ত ট্রাকে। বাবার মতো এই রিয়াদ হালাবিকে আমি এক সময় প্রেমিকের চোখে দেখতে থাকবো, তারপর আমি বড় হলে একদিন তুলে নেবে তার বুকে। জন্মগত ত্রুটির কারণে জোড়া না লাগা তার ওপরের ঠোঁট সে লজ্জাবশত রুমালে লুকিয়ে রাখবে সঙ্গমের সময়, কিন্তু আমি জোর করে সে রুমাল তার মুখ থেকে সরিয়ে পরম সোহাগে চুমো খাবো তার ভাঙা ঠোঁটে। তার শরীরের ক্ষত ও বয়স তখন আমার কাছে হয়ে উঠবে গৌণ, মানুষ হিসেবে সে হয়ে উঠবে বিশাল হৃদয়ের মহান একজন মানুষ।
এই শহরে কোথায় আমার সে রিয়াদ হালাবি?
ইসাবেল আয়েন্দের রিয়াদ হালাবি কি বই-এর পাতায় চিরদিন থেকে যাবে? বাস্তবে কোনওদিন সে কি রাস্তায় বেরিয়ে আসবে না তার চলন্ত ট্রাক নিয়ে বেশ্যাপাড়া থেকে আমাকে উদ্ধার করতে?
আমি এসব জানিনে। আমি কিচ্ছু বুঝতে পারিনে আজকাল।
মাঝে মাঝে এমনও হয় হোটেল সোনারগাঁও-এর সামনে নিতুন কুণ্ডুর ভাস্কর্যের নিচে দাঁড়িয়ে আমি আমার পাজামা কামিজ পরা দু'পা ফাঁক করে চিৎকার করে উঠি, রি-য়া-দ হা-লা-বি! রি-য়া-দ হা-!
আমার গলা ফাটানো চিৎকার শুনে ট্রাফিক পুলিশ কৌতূহলী ও বিরক্ত মুখে এগিয়ে আসে। আফগানিস্তানে এখন তালেবানদের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ বেঁধেছে। তালেবানদের সমর্থকরা মাঝে মাঝেই মিটিং, মিছিল করে। আমার মুখে অদ্ভুত এই নাম শুনে লোকে ভাবে আমি বুঝি মস্ত বড় কোন তালেবানের নাম চিৎকার করে মানুষদের জানাচ্ছি। লোকটা তালেবান না তুর্কি তা বোঝার ক্ষমতা যেমন তাদের নেই, তেমনি আমারও নেই। এই যুদ্ধে রিয়াদ হালাবি যদি সত্যিকারের কোনও চরিত্র হতো তাহলে সে কোন্ দলে যেতো? তালেবান না অ্যান্টি-তালেবান?
এরপর আমি গঁগ্যার নাম ধরেও চিৎকার করি। তবে বাংলায় নয়, ইংরেজিতে। আমি বলি, প্লিজ ক্যান অ্যানি ওয়ান গিভ মি নিউজ অ্যাবাউট পল গঁগ্যা, আ নিউ ভিশন অব আর্ট অ্যান্ড লাইফ। পল গঁগ্যা ওয়াজ বর্ন ফিফথ জুলাই নাইনটিন ফিফটি সিঙ্, থুড়ি হি ওয়াজ বর্ন সেভেনথ জুন এইটিন ফোরটি এইট। হিজ রিয়েল নেম ওয়াজ মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, থুড়ি হিজ রিয়েল নেম ওয়াজ ইউজিন আঁরি পল গঁগ্যা। হি ওয়াজ বর্ন ইন ঢাকা দ্যা ক্যাপিটাল সিটি অব আ থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রি, আ কান্ট্রি ফুল অব অ্যাট্রোসিটি, ভায়োলেন্স অ্যান্ড ডিসঅর্ডার, থুড়ি হি ওয়াজ বর্ন ইন প্যারিস, দ্য ক্যাপিটাল সিটি অব ফ্রান্স, আ কান্ট্রি ফুল অব আর্টিস্টিক ট্যালেন্টস, ফ্যাসিনেটিং ইমাজিনেশন অ্যান্ড অর্ডার। ইট ওয়াজ আ গ্রেট_
এবার ট্রাফিক পুলিশ দৌড়ে এসে আমার কানের পর্দা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলে, ভদ্রঘরের মাইয়া মাতারিগো লাহান চিক্ পাড়েন ক্যান? যান, ভাগেন।
তার বিকট চেহারা দেখে ভয় পেয়ে আমি ভেগে যাই, বেশ দ্রুতই ভেগে যাই।
এরপর আমি আর্ট কলেজের মাঠে গিয়ে উঠি। এটা বোধ করি আর কলেজ নেই, এতদিনে ইনস্টিটিউটে পরিণত হয়েছে, আমি এ বিষয়গুলো ঠিক জানিনে, মহিউদ্দিন এ বিষয়ে আমাকে কিছু বলে যায়নি। বস্তুত আর্ট কলেজের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না, তার দলছুট স্বভাব অনেকের কাছে মনে হতো অসহ্য, আর্টের যে কোনও বিষয়ে আলোচনার সময় তার নাম থাকতো উহ্য, কিন্তু ছায়ার মতো সে ছাপ ফেলে থাকতো সকলের মনে, অনেকে অস্বস্তি বোধ করতো, অনেকে খুশি হতো মহিউদ্দিনকে ল্যাং মারতে পারছে ভেবে। কিন্তু শিল্পকলা একাডেমীতে সে যেবার 'মা ও শিশু' প্রদর্শনী দিয়েছিল, হু হু করে রাতারাতি নাম ছড়িয়ে গেল তার, শুধু দেশে না, বিদেশেও। পুরো প্রদর্শনী জুড়ে শুধু মা ও শিশু। বিভিন্ন পরিবেশের মা, বিভিন্ন বয়সের মা; বিভিন্ন পরিবেশের শিশু, বিভিন্ন বয়সের শিশু। এরকমভাবে মাতৃরূপ আর শিশুর আবেগ এর আগে এ দেশে অন্য কোনও শিল্পীর তুলিতে উঠে আসেনি। এ ছিল শিল্পীর প্রতিভার আশ্চর্য এক বিকাশ। নিজের মাকে মহিউদ্দিন কোনওদিন চোখে দেখেনি, তার জন্মের পরপরই সে মাকে হারায়, সৎমায়ের কাছ থেকে কোনও মাতৃস্নেহ কোনওদিন পেয়েছে বলে আমি শুনিনি, অথচ তারই তুলিতে মাতৃস্নেহের এই প্রতিফলন অনেক শিল্পীই সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। মাতৃহারা শিশুর কাছে মা যে কিভাবে ধরা দিতে পারে তা যাদের মা আছে তারা কি করে বুঝবে?
আমি আর্ট কলেজের প্রাঙ্গণে ঘোরাঘুরি করছি দেখে একটা ছেলে এগিয়ে এলো কাছে। তার পরনে জিনস্-এর প্যান্ট, গায়ে হাতাঅলা কালো গেঞ্জি, গেঞ্জির গায়ে 'টরেন্টো' লেখা। ছেলেটি আমার কাছে আমার আগাপাশতলা দেশে ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করলো, হু আর ইউ? তার ইংরেজি উচ্চারণ খুব সুন্দর। একেবারে ইংরেজদের মতো।
উত্তরে আমি আমার বাঙালি উচ্চারণের ইংরেজিতে বললাম, আই কাম ফ্রম তাহিতি আইল্যান্ড।
হোয়াট? হোয়াট ডিড্ ইউ সে?
আমি আবারও বললাম, আই সেড্ আই কাম ফ্রম তাহিতি আইল্যান্ড।
হোয়াট ননসেন্স ইউ আর টকিং? ছেলেটি ভীষণ বিরক্ত হয়ে ভুরু কুঁচকে তাকালো। আমি তার ভুরু কোঁচকানো দেখে একটু ভয় পেয়ে সেটুকু ঢাকার জন্য জোর গলায় বলে উঠলাম, নো, নো ননসেন্স। রিয়ালি আই কাম ফ্রম তাহিতি। লুক অ্যাট মাই ফেস, লুক অ্যাট মাই ফেসিয়াল কনট্যুর, অ্যাজ আ তাহিতি গার্ল আই হ্যাভ গিভেন সো মেনি সিটিংস টু ইওর ফেমাস পেইন্টার মিস্টার_
মাই ফুট্! এই কথা বলে আমার পুরো বাক্যটা না শুনেই ঘাড় ঝাঁকিয়ে ছেলেটা চলে গেল। সে পেছন ফিরলে তার গেঞ্জিতে আবারও 'টরেন্টো' ছাপা আছে দেখলাম। ভাবলাম, কি চমৎকার ইংরেজি বললো ছেলেটি, আজকাল কি আর্ট কলেজে ইংরেজি মিডিয়ামের ছেলেমেয়েরাও ভর্তি হয়? আশ্চর্য, আর্টের কদর বুঝে কি দ্রুত উন্নত হয়ে যাচ্ছে এই দেশ!
কিন্তু তবু কেন যেন আমার মন খারাপ হয়ে গেল। আর্ট কলেজ থেকে আবার আমি হাঁটতে লাগলাম রাস্তায়। আজকাল রাস্তায় হাঁটতে আমার খুব ভালো লাগে। ফুটপাত মাড়িয়ে, উঁচু-নিচু গর্ত পার হয়ে, লোকের গায়ে ধাক্কা খেয়ে আমি হাঁটতে থাকি। এবড়ো থেবড়ো ফুটপাত গনগনে সূর্যের নিচে আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। আমার মনে হয় এই ফুটপাত বাংলাদেশের জীবন। আর জীবন মানেই চলন্ত, জীবন মানেই বেঁচে থাকা। মরে যাবার ভয়ে ফুটপাতকেই তাই আমি আজকাল আঁকড়ে ধরেছি, এই ফুটপাত এখন আমার ত্রাণকর্তা। আমার পল গঁগ্যা নেই, আমার রিয়াদ হালাবি নেই, আমার মহিউদ্দিন আহমেদ মহি নেই, আমার সাইকোলজিস্ট নেই; ফুটপাত ছাড়া কে আজ আমাকে বাঁচাবে? থুতু, খয়ের, পানের পিক এবং নাকের পোঁটা বাদ দিলে ফুটপাতের এই চলন্ত জীবনে নানাজাতের ফেরিঅলা, ভিখিরি, পকেটমার, উঠতি মাস্তান; ভাপাপিঠে, হাতরুটি, ভাজি, হালুয়া নিয়ে বসে থাকা কাজের মহিলা; গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির শত শত মহিলা ও পুরুষকর্মী; প্রায় সবাই এইসব ফুটপাত দিয়ে কম করে হলেও দিনে অন্তত দুবার করে হেঁটে যায় এবং এই গরিব দেশটাকে জীবন্ত করে রাখে। চলতে চলতে খিদে লাগলে এই ফুটপাতেই উবু হয়ে বসে আমি হাতরুটি ভাজি আর ডাল খেয়ে নিই। তারপর আবার খিদে পেলে ফেরিঅলার কাছ থেকে হাতের কারসাজিতে ফুলের পাপড়ি হয়ে যাওয়া আমড়া কিনে খাই। ভাজামুড়ি ও ছোলা ওড়নার ভেতরে পোঁটলা করে নিয়ে খেতে খেতে পথ হাঁটি বা হাঁটতে হাঁটতে খাই। পায়ের স্যান্ডেলের দড়ি ছিঁড়ে গেলে রাস্তার ধারে বসে থাকা জুতো সেলাইঅলার কাছে এসে দাঁড়াই।
এতসব কাজ করি আর ভাবি, আচ্ছা, আত্মহত্যা করতে কেমন লাগে? কোন্ সব মানসিকতার মানুষ আত্মহত্যা করে কেউ কি আমাকে বলতে পারে? আচ্ছা, মানুষ ছাড়া জীবজগতে আর কেউ কি আত্মহত্যা করে? কুকুরেরা তাদের মনিব হারিয়ে গেলে আত্মহত্যা করে? আত্মহত্যা করলে সে মানুষ হোক বা কুকুর হোক, তাদের অশান্ত আত্মা নাকি শান্তি পায় না? এসব আমি জানিনে, তবু রাস্তায় আজকাল বড় দুরন্তভাবে ট্রাক ছুটে যেতে দেখলে ইচ্ছে করে ঝাঁপ দিয়ে সামনে পড়ি। ইচ্ছেটা মাঝে মাঝে এমন প্রবল হয়ে ওঠে যে, মন আমার হামানদিস্তের নিচে ভাঙচুর হতে থাকে। কী করি, কিভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ি ভাবতে ভাবতে ট্রাক আমার চোখের সামনে দিয়ে ছুটে বেরিয়ে যায়। আমার তখন ভয় হয়। ভীষণ হয়। আত্মহত্যা করবো বলে নয়, আত্মহত্যার পর ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পোস্টমর্টেমের অপেক্ষায় শুয়ে থাকার ভয়।
আমার তখন ইয়াসমিনের কথা মনে হয়। না, দশ মাইল রাস্তার মোড়ের ইয়াসমিনের কথা নয়, যে-ইয়াসমিনকে পুলিশ গ্যাং ধর্ষণ করে রাস্তায় ছুড়ে ফেলেছিল তার কথা নয়, এ আরেক ইয়াসমিন, যে প্লেনের একজন কো-পাইলট ছিল; ঝড়বৃষ্টির ভেতরে প্লেন যখন একদিন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় উড়ে এসে পাইলটের হঠকারিতায় রানওয়ের বাইরে এক ডোবায় ল্যান্ড করেছিল এবং পুরো যাত্রীসহ হাহাকার করে নিমজ্জিত হয়েছিল, সেই প্লেনের কো-পাইলট ইয়াসমিনের কথা মনে হয়। তার মরদেহ যখন বিমানের ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে আনা হয়; আমার ফুফাতো ভাইয়ের সাথে, সে তখন মেডিকেলের ছাত্র, আমি ছোট মানুষের কৌতূহল নিয়ে দেখতে গিয়েছিলাম। অনেক লম্বা একটা করিডোর পার হয়ে আমি যখন মৃতদেহ পচনের গন্ধে ভরপুর সেই পোস্টমর্টেম ঘরে ঢুকলাম, তখন দেখি ঘরের দরজা জানালা সব হা হা করে খোলা, মেঝেয় চিৎ হয়ে পড়ে আছে অসংখ্য নারী ও পুরুষ, সবাই উলঙ্গ। এবং তাদের মাঝখানে শুয়ে আছে উলঙ্গ ইয়াসমিন। খোলা জানালার বাইরে অসংখ্য কৌতূহলী চোখের পুরুষ ও আমার মতো ছোট ছেলেরা জানালার শিক আঁকড়ে তাকিয়ে দেখছে ইয়াসমিনকে।
সেদিন আমি যত ছোটই হই, আমার গা-মাথা-মন ঘুলিয়ে দলা পাকিয়ে ভেজা কাগজের মণ্ড হয়ে গিয়েছিল। উলঙ্গ ইয়াসমিনের আব্রু হারাবার লজ্জায় আমার চোখ দিয়ে পানি পড়েছিল অবিরাম আর আমার ফুফাতো ভাই আমার ভেজা গাল হাত দিয়ে মুছিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে করুণার স্বরে বলেছিল, কি এবার শখ মিটল তো? কতবার করে তোকে মানা করলাম না যে খবরদার আসিসনে আমার সাথে, দেখে ভয় পাবি।
হ্যাঁ, ভয় আমি পেয়েছিলাম। কারণ আমার ফুফাতো ভাই জানত না যে আমিও মনে মনে একদিন পাইলট হবো ভেবেছিলাম। খবরের কাগজ থেকে প্লেনের ছবির কাটিং জমিয়ে রেখেছিলাম আমার বইয়ের ভেতরে। প্রথমে আমি কো-পাইলট হবো ভেবেছিলাম, পরে পাইলট। প্রথমে দেশের ভেতরে প্লেন চালাবো ভেবেছিলাম, পরে পাড়ি দেবো ট্রান্স-আটলান্টিক। আমার ভেতরে সম্ভাবনা ছিল সে-রকম একজন পাইলট হবার কিন্তু ইয়াসমিনের আব্রু নষ্ট হতে দেখে সেই যে আমার মনে ভয় ঢুকে গেল, তা আজও শেষ হয়ে যায়নি।
হাঃ তৃতীয় বিশ্বের নরককুণ্ডে যেখানে জীবন্ত মানুষের মর্যাদা নেই, সেখানে মৃত মানুষের কিসের সম্মান, কিসের আব্রু?
ভাগ্যের কি পরিহাস, এতো যে আমার মনের ভেতরে আব্রু হারাবার ভয়, সেই আমিই ন্যুড হয়ে আমার পল গঁগ্যার স্টুডিওতে সিটিং দিয়েছি! হা, কেন আমার এতো বড় অধঃপতন হলো? কেন আমি দূর থেকেই একজন বিবাহিত, সম্ভ্রান্ত ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীকে ভালোবেসে গেলাম না? যেমন আমি জয়নুলকে ভালোবেসেছি, কামরুলকে ভালোবেসেছি, শাহাবুদ্দিনকে ভালোবেসেছি, পিকাসোকে ভালোবেসেছি, যেমন আমি ভালোবেসেছি টার্নার, মনে, কনস্টেবল, মাতিস, সালভেদর দালিকে।
হা, আমার এ ভালোবাসা কি সে-রকম কোনো ভালোবাসা ছিল? আমি যে মহিউদ্দিনকে আমার প্রেমিক বলে জেনেছিলাম। আমার দেহ ও মনের একচ্ছত্র মালিক বলে জেনেছিলাম। এমনকি আমি মনে মনে তার ঔরসের সন্তানকে আমার জরায়ুতে স্থান দেবো বলেও প্রস্তুত ছিলাম।
কিন্তু কোথায় যেন আমার অজান্তে হঠাৎ করে কিছু একটা ঘটে গেল।
আজ কতদিন, প্রায় তিন সপ্তাহ হতে চললো, আমার মহিউদ্দিনকে খুঁজে পাচ্ছিনে। আমাকে ফেলে সে কোথায় চলে গেল? আমি লজ্জার মাথা খেয়ে যাকেই জিজ্ঞেস করি তার কথা, সে মুখ টিপে হাসে। হাসে নাকি মুখ বাঁকায়, আমি বুঝতে পারিনে। আজকাল আমি মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে তাদের ব্যবহার, ভাবভঙ্গি, চালচলন কিছু বুঝতে পারিনে। আমি যত মন দিয়ে দেখতে চাই, আমার চোখের সামনে ঝিলমিল করে পর্দা ঝুলতে থাকে। সেই পর্দা ভেদ করে আমার দৃষ্টি বেশি দূরে যেতে পারে না। কিন্তু অন্তরের গভীরে তীব্র একটা অনুভব হয়, তা হলো বেঁচে থাকার। আত্মহত্যার পর্ব শেষ হয়ে, আমি এখন বেঁচে থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যেভাবেই হোক আমাকে এখন বেঁচে থাকতে হবে। আমার একটা দুঃখী বুড়ো মা আছে, আমি তার শেষ বয়সের একমাত্র সন্তান। আমার দুর্বিনীত বাবার লাথি থাপ্পড় খেয়ে সারাটা জীবন কাটিয়েছে এই মহিলা। মহিউদ্দিনকে হারিয়ে আমি যত কষ্ট পাচ্ছি, আমাকে হারালে সে এর চেয়ে চারগুণ বেশি কষ্ট পাবে। তাকে প্ল্যান প্রোগ্রাম করে আর জীবন হারাতে হবে না, আমাকে হারালে খুব সাধারণভাবেই মরে যাবে শিগগির।
ফুটপাত আমার সবচেয়ে বড় বন্ধু হয়েছে বর্তমানে। হাঁটতে হাঁটতে আমি আজকাল মহাখালীর গাড়ির গ্যারেজের পেছনে চলে যাই। সেখানে এক কুষ্ঠরোগী ছালা পেতে ভিক্ষে করে। বড় রাস্তায় সে ভিক্ষে করতে ভয় পায়, লোকে লাঠি পিটিয়ে তাড়ায় বলে। আমি প্রায় প্রতিদিন সেখানে হাজিরা দিই। এতো কাছে কুষ্ঠরোগীদের হাসপাতাল তাকে সেখানে যেতে বললে বিড়বিড় করে বলে, এই দুনিয়ায় গরিব মাইনসের চিকিৎসা নাই। আল্লাহর ইচ্ছায় আমার এই বিমার হইছে, আল্লাহর ইচ্ছায় সারবো।
সে যখন অসীম বিশ্বাসে এ কথা বলে আমি মুগ্ধ হয়ে তার গলে যাওয়া নাক, গলে যাওয়া মুখগহ্বরের দিকে তাকিয়ে থাকি। আমি তার পাশে আমার পাজামা কামিজ পরা পা গুটিয়ে নিয়ে বসে যাই। তার গলিত ক্ষত থেকে যে দুর্গন্ধ বেরোয়, আমার তাতে গা গুলোয় না, বমি আসে না। সে গোল বাটারবানের ভেতরে শুকিয়ে চিমসে ধরা গরুর মাংসের বার্গার খেতে ভালোবাসে, এটা তার বিলাসিতা; প্রতিবার তার সাথে দেখা করতে যাবার আগে আমি তাই মহাখালীর মোড় থেকে বার্গার কিনে নিয়ে যাই তার জন্যে। সে একদিন একজন পুরুষ মানুষ ছিল, এখন সে লিঙ্গহীন, কুষ্ঠ আক্রান্ত নামধারী জীবমাত্র। আমার কাছে এই চলন্ত জীবটাকেই বর্তমানে সবচেয়ে কাছের মানুষ বলে মনে হয়। সে যখন তার দুঃখের কথা বলে কাঁদে, আমি তার সাথে কাঁদি। সে যখন তার গ্রামের ফেলে আসা ছেলেবেলার হাসি-খেলার দিনগুলোর কথা বলে হাসে, আমি তখন হাসি। আমার ইচ্ছে হয় জিজ্ঞেস করি, শরীরের কুষ্ঠের মতো মানুষের মনেও যে কুষ্ঠরোগ হয় তার খবর সে রাখে কি না। মানুষের মনও যে অন্য এক কুষ্ঠরোগে গলে যায়, ক্ষয়ে যায়, পচে যায় এই খবর কি আমার এই বন্ধুটি জানে?
না জানে না। আমি জানি আমার এই প্রশ্নের উত্তর সে দিতে পারবে না। আজকাল তাই বাড়ি ফিরে প্রায়ই আমি ঘর অন্ধকার করে বসে থাকি। পাজামা হাঁটুর ওপরে তুলে, পা ভাঁজ করে, বাঁ হাতে গালে ভর দিয়ে খালি মেঝের ঠাণ্ডায় বসে থাকি। কল্পনায় দেখি আমার গায়ে কামিজের বদলে হাতাকাটা ঢোলা জামা, চুলের মাঝখান থেকে সিঁথি, আমার ডান হাত কনুই ভাঁজ হয়ে কোমরে বসানো, নিজের অজান্তেই আমি প্যারির পল গঁগ্যার 'ব্রুডিং উওম্যান' হয়ে যাই। তখন মহিউদ্দিনের কথা আবার আমার মনে পড়ে। আমার বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়ে যায়। মনে পড়ে মহিউদ্দিন শখ করে একদিন আমার গায়ে গাঢ় নীল ভেলভেটের এক ফ্রক চড়িয়ে, আমার মাথার লম্বা চুলে সাদা তিনটে ফুল গুঁজে, ডান হাতে আমার লাল সিঁদুরে একটা আম ধরিয়ে, আমাকে গঁগ্যার 'উওম্যান উইথ এ্যা ম্যাঙ্গো' সাজিয়ে রেখেছিল।
আর একটু দূরে দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হেসে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল আমার দিকে যেন আমি সত্যিই এক দ্বীপ থেকে উঠে এসেছি তার ঢাকার স্টুডিওতে।
ক'দিন বাদে ফুটপাতও আর ভালো লাগল না আমার। মনে হতে লাগল ফুটপাতের জীবন বড় মানবেতর জীবন। বড় লাঞ্ছনার জীবন। এ জীবন আমাকে আর আকৃষ্ট করতে পারল না। এখন ঘরই আমার একমাত্র সম্বল। আমার দুর্ধর্ষ ও নিষ্ঠুর বাবার মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া এই ছোট্ট বাড়িটার অন্ধকার এক কোণে আমি মাথা গুঁজে পড়ে থাকি আজকাল। অন্য কোণে, আরেকটা ঘরে থাকে আমার দুঃখী মা, আমাকে ভালোবাসলেও সে আমার সাথে কথা বলতে ভয় পায়। মৃত্যুর আগে আমার বাবা তার মনের ব্যাকবোন ভেঙে দিয়ে গেছে। তার সমস্ত শরীরে অ্যান্টার্কটিকার শৈত্য জড়ানো। মাঝরাতে বাবা যখন তাকে ঘর থেকে রাস্তায় বের করে দিতো, বন্ধ করে দিতো বাড়িতে ঢোকার দরজা, তখন আমাকে কোলে নিয়ে অন্ধকারে শীতের মধ্যে সে দাঁড়িয়ে থাকতো চুপ করে। কোনও প্রতিবাদ না, প্রতিরোধ না। বরফে শীতল করে রাখা মৃত মাছের মতো শীত আমাদের দুজনের শরীর জড়িয়ে ধরতো ঠেসে। তার মাতৃহৃদয়ের উষ্ণতাও আমার শরীর গরম রাখতে পারতো না, যদিও সে চেষ্টা করতো তার বুকের ভেতরে আমাকে গুঁজে রাখতে। আমি কেন আজকাল আর ইউনিভার্সিটিতে যাইনে, কেন ঘরের পর্দা টেনে চুপচাপ শুয়ে থাকি, কেন আমি তার সাথে আর কথা বলিনে, সে এসবের কিছুই আমাকে জিজ্ঞেস করে না। আমি তাকে কাছে না ডাকলে সে কোনওদিন আমার কাছে আসবে না, আমার বাবা তাকে এই নিয়ম শিখিয়ে দিয়ে গেছে। মৃত বাবার আদেশ সে এখনও অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলে। এর জন্য বাবার চেয়ে মায়ের প্রতিই আমার ঘৃণা বেশি হয় আজকাল। আমি সে ঘৃণা চেপে রাখি এবং নিজেকে শাসন করি। আমার বাবার বায়োলজিক্যাল জিন্সের ভেতরে অপরাধবোধের ছিটেফোঁটা না থাকলেও তার মেয়ে আমি সর্বক্ষণই জর্জরিত হয়ে থাকি এক গভীর অপরাধবোধে এবং সেটা আমার মায়ের জন্য।
আমার মনে হয় আমার গায়ে আজকাল সর্বক্ষণই একটু একটু জ্বর থাকে। মুখের ভেতরে তেতো বিষ। জিভ খড়ের মতো শুকনো। আমার কোনো খিদে লাগে না। তৃষ্ণাও নয়। আমার শরীরের যাবতীয় অনুভূতি ক্রমশ ভোঁতা হয়ে আসছে আমি সেটা টের পাই। এখন আর আমার দিন ও রাতের হিসাব নেই। আজকাল কত তারিখ, কী বার, ঘড়ি, সময়, রোদ সবকিছু থেকে আমি যোজন যোজন মাইল দূরে বসে থাকি।
এই রকম একটা সময়ে, একদিন যখন আমি বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে, আমার বন্ধ চোখের ওপরে আড়াআড়ি করে ধরে রাখা দু'হাত, তখন হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ার মতো জোর ধাক্কায় দরজা খুলে আমার ঘরে ঢুকলো যেন কে।
আকস্মিকতায় মানুষ যেমন সিঁটিয়ে যায়, তেমনিভাবে সিঁটিয়ে পড়ে থাকলাম আমি বিছানায়। তখনও আমার চোখ বন্ধ। চোখের ওপরে হাত।
দুর্ধর্ষ এক গোঁয়ারের মতো প্রথমেই সে টান মেরে দূরে সরিয়ে ফেললো আমার জানালার পর্দা। ঘরে বসে লেখালেখি করার চেয়ারটা এক লাথি মেরে ছুঁড়ে ফেললো দূরে।
কানে শব্দ পেলাম আমার পড়ার টেবিলের ওপর থপ্ থাপ করে পড়লো একগাদা বই।
এরপর একটুক্ষণের জন্য পিনপতন স্তব্ধতা।
সেই স্তব্ধতাও এবার লাথি মেরে গুঁড়িয়ে ফেলে অতি কর্কশ স্বরে সে বলে উঠলো, এ্যাই ইতি, চোখ থেকে হাত সরা, চোখ খোল্।
কিন্তু আমি এতো সহজে চোখ খুলবো কী করে?
আজ কতদিন আমি আলোর দিকে তাকাইনি। আলোর চেহারা আমি ভুলে গেছি।
আমি তাহিতি দ্বীপের মেয়ে ছিলাম একদিন।
আলো, সমুদ্র, আকাশ, সবুজ ও শঙ্খচিলের ডানার গন্ধ ছিল আমার সারাদিনের সঙ্গী; সারাটা দিন আমি বুক ভরে টেনে নিতাম সমুদ্রের বাতাস; সমুদ্রের ঢেউ ছিল আমার প্রেম; সমুদ্রের তীর ছিল আমার নুড়ি কুড়িয়ে কোঁচড়ে তোলার খেলাঘর; আমার একটা গঁগ্যা ছিল তখন; ইউজির অ্যাঁরি পল গঁগ্যা ওরফে মহিউদ্দিন আহমেদ মহি; আজ আমার সে গঁগ্যা নেই; আজ আমার দ্বীপ সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসে অতল গভীরে নিমজ্জিত; আজ আমি পঙ্গু, বধির, কুৎসিত ও কুষ্ঠের ছোঁয়ায় অসাড়।
ইতি, অনেক ঢং হয়েছে। আজ দু'মাস ধরে এই ঢং দেখছি। এবার চোখ খোল্ বলছি।
নিষ্ঠুর এক চামারের মতো আমার চোখের ওপর থেকে হাত টেনে সরিয়ে দিয়ে বলে উঠলো দুলু। এই সেই দুলু। যাকে আমি একদিন আমার বন্ধু বলে জেনে এসেছি।
দুলু আমার বন্ধু হলেও জানে না এ চোখ খোলার নয়! খোলার পরমুহূর্তে তীব্র বেগে ঘরে ঢোকা সূর্যের আলো আমার চোখের মণি ভেদ করে রেটিনায় রক্তক্ষরণ করবে।
কত দিন আমি সূর্যের দিকে তাকাইনি। কত দিন হলুদ রোদ এসে পড়েনি আমার ঘরের মেঝেয়।
অন্ধকারের মধ্যে জন্ম নেয়া এবং অন্ধকারেই বড় হয়ে ওঠা জীবেরা যেমন আলোয় এলে চোখে দেখতে পায় না কিছুই, আমার অবস্থাও এখন সে রকম।
দুলু আবার বললো, শোন্ ইতি, তোর নাম কেন ইতি রেখেছিলেন তোর বাবা-মা আমি জানিনে, সাতটা মেয়ে পরপর সংসারে জন্ম নিলে তবেই শেষ মেয়ের নাম রাখে ইতি, আর তুই সংসারের প্রথম ও একমাত্র মেয়ে হয়েই ইতি হয়ে গেলি, বিষয়টা রিসার্চের, সন্দেহ নেই, তা যা হোক শোন্ এবার, অনেক হয়েছে। আজ থেকে তোর গত জীবনের সবকিছু ইতি। আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে।
আমি অতি কষ্টে শুকনো জিভ টেনে টেনে ভেজাবার চেষ্টা করতে করতে বললাম, দুলু তুই এখান থেকে চলে যা। কে তোকে বাসায় ঢুকতে দিলো?
কেন যাবো রে লুলা? দুলু খেঁকিয়ে উঠলো আমার কথা শুনে।
দুলুর ভগবান দুলুর গলার স্বরে মিষ্টতা দিতে ভুলে গিয়েছিল বলেই দুলু যেন তার প্রতিশোধ নিতে যত্রতত্র খেঁকিয়ে কথা বলে। রাগ তার সৃষ্টিকর্তার প্রতি, কিন্তু শাস্তি ভোগ করে নিরীহ মানুষ।
খেঁকিয়ে উঠে দুলু আরও বললো, এ বাড়িতে আমার ঢোকার পথ আটকাবে কে? তুই? তুই তো তোর বুড়ো প্রেমিক হারাবার কালাজ্বরে কাহিল। এই অসুস্থ প্রেমের প্লীহা এখন তোর সমস্ত পেট-বুকজুড়ে রাজত্ব করছে। এ প্রেম যে আর নেই, হারিয়ে গেছে বাতাসে, মিলিয়ে গেছে হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো, এটুকু বোঝবার ক্ষমতা তো আর নেই। তোর মায়ের মুখের দিকে ইদানীং কখনও তাকিয়ে দেখেছিস?
না দেখিনি। এই পৃথিবীতে কারো দিকে আমি চোখ তুলে দেখিনি কতদিন। যেন কতকাল।
তবু নিষ্ঠুর দুলুর কথা শুনে আমার বুক চিরে আর্তনাদ বেরিয়ে এলো।
আমি দু'চোখ বুজে রেখে বলে উঠলাম, প্লিজ দুলু, পর্দা টেনে দে। আর এভাবে কথা বলিসনে। আমি আমার প্রেম হারাইনি, আমার প্রেমিককে শুধু আমি খুঁজে পাচ্ছিনে। আমার বিশ্বাস তার কোনো কঠিন অসুখ হয়েছে। নইলে প্রতিবার সে তো আমার ন্যুড আঁকবার পরে_
ননসেন্স। তুই একটা ননসেন্স।
আমার কথা শেষ না হতেই দুলু বলে উঠলো।
দুলুর গলার স্বর এবার ভিন্ন। যেন কি এক ম্যাজিকে কর্কশতা হারিয়ে কোমল ও ভারী হয়ে এলো। যেন দুধের সরের মতো ধবল ও মসৃণ হয়ে এলো তার কণ্ঠ।
নিচু স্বরে বড় দুঃখী হয়ে দুলু বললো, এই শহরে তুই আর লোক পেলিনে, একটা পটুয়াকে ভালোবাসতে গেলি! কামরুলের দেয়া কী বিশ্রী নাম এই পটুয়া, কেউ ভয়ে প্রতিবাদ করে না। আদতে এখন ভেবে দেখছি এই নামই ওদের জন্য উপযুক্ত সম্বোধন। ওরে মূর্খ, মহিউদ্দিনের মতো পটুয়ারা কাউকে ভালোবাসে না, ওদের গন্তব্য হলো কালোত্তীর্ণ খ্যাতির চূড়োয় আরোহণের পর বাড়ি ফেরা। প্রেম ভালোবাসা ওদের জীবনে নিত্যদিনের খাদ্য-পানি-মদ-ধূমপানের মতো প্রয়োজনীয় একটা বস্তু। ওদের কাছে ভালোবাসা একটা শব্দ মাত্র, প্রেম হলো নড়বড়ে সম্পর্কের এক খোলস। বরং তোর জন্যে হাত বাড়িয়ে আছে যে মিজান, এতকিছু জেনেও যে তোকে কাছে টেনে নিতে চায়, তাকেই বলে হয়তো প্রেম। বলে ভালোবাসা। তবু আমি এ ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত নই; কারণ এখনও আমি কাউকে ভালোবাসতে পারিনি। বা কেউ আমাকে।
দুলুর শেষ বাক্যটা অবশ্য সত্যি।
কিন্তু দুলুকে কেউ ভালোবাসবে কি, ভালোবাসার কথা কেউ বলতে এসেছে আন্দাজ করলেই দুলু এমন মারমুখী হয়ে ওঠে যে, কেউ আর কাছেই ঘেঁষে না। ক্লাসের সবাই দুলুর নাম দিয়েছে গার্ডিয়ান।
দুলু কথাটা জেনেও ডোন্ট কেয়ার ভাব দেখায়।
তবে আমার নিজের সমস্যাটা এতো প্রকট যে, দুলুর কথা বেশিক্ষণ ভাবতে পারলাম না।
আমার বুকের ভেতরে আবারো বুক ভাঙার শব্দ শুনতে পাচ্ছি, ঝুরঝুর, ঝুরঝুর, ঝুরঝুর।
শব্দ শুনতে শুনতে বেদনার্ত স্বরে আমি বলে উঠলাম, তুই কী যা-তা বলছিস দুলু? আমার মহিকে তুই এতো হেনস্তা করিসনে। সে শিল্পী বটে, অমানুষ নয়।
আমার কথা শেষ হতে না হতেই মুহূর্তে আবার ভোল পাল্টে গেল দুলুর।
চেঁচিয়ে উঠে সে বললো, অমানুষ নয়? কী ঘটেছে তা তুই নিজেও কি নিজের ভেতরে অনুভব করতে পারছিসনে? না পারলে, আজ দু'মাস এভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে আছিস কেন? তোর ভালোবাসার সেই শিল্পী, সেই পল গঁগ্যা, মাই ফুট, সেই পটুয়া বউ বাচ্চা নিয়ে হঠাৎ পাড়ি দিয়েছে ফ্রান্স। সেখানে সে তার সংসার গুছিয়ে আবার নতুন করে কাজে মন বসাবে বলে ছেড়ে গেছে দেশ।
এই তুই কী বলছিস দুলু?
আমার গলা চিরে প্রশ্নটা বেরোলো খসখসে হয়ে।
মহিউদ্দিনের রেখে যাওয়া আনসারিং সার্ভিসের মতো গলার স্বর আমার হয়ে উঠছে, আমি তা বুঝতে পারছি। আমার ভেতরটা যে ক্রমশ শূন্য হয়ে উঠছে আমি তাও বুঝতে পারছি। আমার যুদ্ধ করার শক্তি নিঃশেষ হয়ে আসছে সেটাও বুঝতে পারছি।
আর যতো বুঝতে পারছি ততোই আমার চারপাশে শুধু শূন্যেরা লাফালাফি করে বেড়াচ্ছে।
দুলুর কানে হয়তো আমার গলার স্বর পেঁৗছলো না। হয়তো সে আপন মনে জানালার বাইরে চোখ ফেলে পেয়ারাগাছের পাতা দেখতে শুরু করেছে। সে পাতাগুলো হয়তো এখনো কচি ও সবুজ। এখনো হয়তো সময়ের চাপে, বয়সের চাপে, ঝড়বৃষ্টিরোদ মোকাবেলা করতে করতে রুক্ষ ও খসখসে হয়ে ওঠেনি।
দুলু এবার আপন মনে বলতে লাগলো, বিদেশে গিয়ে আরো অনেক ভালো ছবি আঁকবে সে। আরও অনেক সমুদ্রের ছবি আঁকবে, বেলাভূমির ছবি আঁকবে, আরো অনেক বেলাভূমিতে নুড়ি কুড়িয়ে তোলা মেয়েদের আঁকবে তার ক্যানভাসে জড়ো হবে আরো অনেক সবুজ ও হলুদ, নীল ও লাল। আরো অনেক ন্যুড আঁকবে সে, সেসব ন্যুড তুই না, অন্য মেয়েদের, অন্যসব নতুন মুখের মেয়েদের, নতুন সব শরীরের মেয়েদের। তাদের শরীরের বাঁকে বাঁকে চোখ ফেলে একমনে তুলি টেনে যাবে তোর গঁগ্যা তার ক্যানভাসে। আঁকা শেষ হলে তাদের অনেককেই সে নিয়ে যাবে তার স্টুডিওর কোণে ডিভানে, প্রবিষ্ট হবে সে তাদের ভেতরে, প্রেম হবে, শীৎকারও হবে; অনেক ন্যুড তোর মতো তাকে ভালোবাসবে, কিন্তু শিল্পীর কাজ যেই শেষ হবে, উদ্দেশ্য যখনি পূরণ হবে অমনি তার মনে পড়বে বাড়ি ফেরার কথা। প্যালেট থেকে রঙে ল্যাপটানো তুলি কুড়িয়ে তুলে ধুয়েমুছে সাজিয়ে রেখে আবার সে ফিরে যাবে তার ডেরায়_যার নাম সংসার, যেখানে আছে তার পথ চেয়ে থাকা স্ত্রী, নয়নমণি পুত্রসন্তান, যে সংসারে সে তার স্ত্রীর ফেলে রাখা কাপড় মেঝে থেকে যত্ন করে তলে গুছিয়ে রাখবে আলমারিতে, যেমন সে স্টুডিওতে গুছিয়ে রেখে আসে তার তুলি। তারপর চুম্বন করবে ছেলের মুখ।
কথা বলতে বলতে থেমে গেল এবার দুলু। আমার যেন মনে হলো, দুলু এখন ভাবছে। ভাবতে ভাবতে যেন অন্যমনস্ক হয়ে তাকিয়ে দেখছে বিছানায় লেপ্টে পড়ে থাকা আমার কালো ও ক্ষীণ শরীর বর্তমানে যা লাবণ্যহীন, অথচ মাত্র কিছুদিন আগেই যা ছিল যে কোনো পুরুষের চোখে লোভনীয়।
দুলু এবার বললো, ইতি তোকে একটা কথা বলি, কিছু মনে করিসনে, আর এ কথাটা বলতেই আমি জাহাঙ্গীরনগর থেকে ছুটে এসেছি ভার্সিটির শেষ ক্লাসটা না করেই। শোন্, শিল্পীদের এমনিতে দেখতে লাগে বোহেমিয়ান, যেন সব কাছাখোলা ভাব, কিন্তু মনের গভীরে ওরা বড় হিসেবি, বড় চুলচেরা হিসেব। ওদের ব্যক্তিগত জীবনের শেষ গন্তব্য সবসময়ই হলো_বাড়ি। সে বাড়ি যদি আস্তাকুঁড় হয়, তবু। প্যারির পল গঁগ্যা যতই তাহিতি দ্বীপে যান না কেন, সিফিলিস জর্জরিত হয়ে, বেওয়ারিশ সন্তানের জন্ম দিয়ে যত জীবন নিয়ে বাজি খেলুন না কেন, মৃত্যুর আগে ঠিকই ফিরে এসেছিলেন বাড়ি, যে বাড়ির নাম দিয়েছিলেন শখ করে, হাউস অব প্লেজার। তুই কি এতো ভ্যাবলা যে এসব খবর রাখিসনে? তুই কি জানিসনে গঁগ্যা নিজে এতোবড় একজন শিল্পী হয়েও নিজের ছেলেকে বলেছিলেন, শিল্পী না হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হতে, কারণ তাতে পয়সা বেশি?
না, আমি এসব কথা জানিনে। দুলু সত্যি কথা বলছে কি না তাও জানিনে। এখন আমার ভেতরের শূন্যতা জুড়ে কতগুলো প্রশ্ন জোরেশোরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। প্রশ্নগুলো দুলুকে করতে আমি সাহস পাচ্ছিনে, তাই নিজের মনের ভেতরে রেখেই করছি। এক নম্বর হলো, অমানুষ একজন শিল্পীর হাতে এতো আলো ঝলমল শিল্পের সৃষ্টি হয় কী করে? দু'নম্বর, অমানুষ এক শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনের আসল গন্তব্য কি শেষ পর্যন্ত একটা বাড়ি? নাকি তার গন্তব্য হলো একজন মানুষ?
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
November
(2002)
-
▼
Nov 02
(63)
- দিনশেষে সায়েদাবাদে বাড়ি ফেরত মানুষের জট by মুনিফ আ...
- প্রেসক্লাব এলাকায় আটক ৩৪- নাশকতার পরিকল্পনা ছিল জা...
- ‘ভারত তাদের নীতি পরিবর্তন করেছে’
- এবার হাতির মুখে কথা! আসিফ আজিজ
- ভিয়েতনামের সঙ্গে ২টি চুক্তি ও ২টি এমওইউ সই by শাম...
- শাঁখারীবাজারঃ হেরিটেজ তালিকা থেকে বাদ না দিলে কঠোর...
- ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন মোবাইল ব্যবহারকারীরা
- সেরা যৌন আবেদনময়ী তারকা মিরান্ডা
- বিনা মস্তিষ্কে ৩ বছরঃ শেষ রক্ষা হলো না
- ছয় বছর পর নিপুণের প্রথম ছবি!
- বৃষ্টি by আলাউদ্দিন আল আজাদ
- কালো নৌকা by আল মাহমুদ
- সাইকেলে চড়ে প্রযুক্তিঃ গ্রামে গ্রামে তথ্য কল্যাণী ...
- বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময়ী নারী মিরান্ডা
- স্রোতস্বিনী ব্র্রহ্মপুত্র মরে যাচ্ছে! by এম.আব্দুল...
- নিপুণের প্রথম ছবি!
- রিমু এবার যাত্রাপালার নায়িকা
- যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রেজওয়ানের ১৭ বছর...
- এক কোটি রুপিতে নাচবেন নাথালিয়া
- বিয়ে করবেন আগামী বছর
- স্যান্ডির তাণ্ডবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০
- চাকরি হারালেন নাফিসের বাবা!
- হুজুর কেবলা by আবুল মনসুর আহমদ
- ছিনতাই by আবু রুশদ
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা by আবু জাফর শামসুদ্দীন
- সিসিমপুর- ইকরির জন্য রুমাল
- আমার গাঁ by শাহানার রশীদ
- মার ছক্কা by আহমেদ সাব্বির
- হ্যালো মিস্টার বিন by শিউল মনজুর
- অভিনন্দন by পবিত্র সরকার
- ভ্রমণ- ভ্যাটিকানের ভেনাস by লতিফুল ইসলাম
- দুই শিল্পীর যুগলবন্দী by আহমেদ মুনির
- চারুশিল্প- সমুদ্র-শহরে আর্টক্যাম্প by আবুল হাসনাত
- চাষির মুখে টপ্পা গাওয়ায় by আবদুশ শাকুর
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার- আযাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ...
- চট্টগ্রামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়- নিয়ম না মেনেই চ...
- জোঁক by আবু ইসহাক
- অসুখ by আবদুশ শাকুর
- সত্যের মতো বদমাশ by আবদুল মান্নান সৈয়দ
- কেয়া আমি এবং জার্মান মেজর by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
- গন্তব্য by আনোয়ারা সৈয়দ হক
- হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিবৃতি- মালালার অবস্থার উন্নত...
- প্রশাসনের আপস প্রস্তাবে রাজি নয় লিমন
- প্রতিক্রিয়া- মেঘকে জিজ্ঞাসাবাদ যদি করতেই হয় তবে......
- তদন্ত চলাকালেই কাজে যোগ দিলেন মসিউর
- হাতিরঝিল প্রকল্প- খেজুর, পামে বিবর্ণ প্রকল্প by ...
- দুধভাতে উৎপাত by আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- প্রসারিত হচ্ছে ইসলাম by জহির উদ্দিন বাবর
- শান্তির বিশ্ব গড়তে ঐক্যবদ্ধ হোন by মুফতি শায়খ আবদু...
- লোহার সেতু by মোঃ মোতাহের হোসেন
- সম্প্রীতি-বিভেদ নয়, ঐক্যই সব ধর্মের সারকথা by গওসল...
- রাজনীতিকরা কি সেলসম্যান? by জর্জ এফ. উইল
- সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ-রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিক উদ্যো...
- গাছ কাটা অনুমোদন-উন্নয়নের স্বার্থে সামান্য ছাড়
- অপরাধকর্মে পুলিশ-শর্ষেতেই যখন ভূত
- দীপিতার ঘরে রাত্রি by অমিয়ভূষণ মজুমদার
- হাসপাতালের শয্যা ও ওষুধ-মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে...
- গুরুতর অপরাধে পুলিশ-অবিলম্বে এই প্রবণতা রোধ করতে হবে
- চরাচর-দ্বিতীয় জীবন দান by ফাহমিদা আক্তার রিম্পি
- নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আমাদের রাজনীতি by দিল...
- স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ, না কেন্দ্রীয় সরকার প...
- বহে কাল নিরবধি-ভারত-চীন যুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তিতে প্...
-
▼
Nov 02
(63)
-
▼
November
(2002)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment