Friday, November 2, 2012
অসুখ by আবদুশ শাকুর
অসুখ by আবদুশ শাকুর
কেন জানি বহুদিন পর আজ ভোর ভোর চোখ খুলে গেল। তবে ভারি ভালো লাগল। এতখানি যে মন এখন চিত্ত। এমন কি, আয়েশাও আশা। রাতের টিভিই হয়তো সুরটা বেঁধে দিয়েছিল। বারবার সেই আপ্লুত কণ্ঠের রপুটে ঘোষণা : আগামীকাল পয়লা ফাগুন, ইত্যাদি।
তারপর সারা রাত ছিল দখিনা বাতাস। ছিল সামান্য ফুলের সুবাস, আমাদের একান্ত জানালায়।
ফাগুন তখন টিভির ঘোষণায় কিংবা পঞ্জিকার পাতায় নয়, অনুভবেই ধরা দিত। হেমন্ত আর বসন্ত, এ দুটি ঋতুকে মাটি আর বাতাস শুঁকে চেনা যেত। চোখে ঘোর, গায়ে পুলক, আর মনে প্রেম নিয়ে আসত। কণ্ঠে সুর, আর কথায় ছন্দ আনাগোনা করত। ধমনীতে চলত তুমুল তালফের্তা। কত কাণ্ডকারখানাই না হতো!
এখনো তবে মৌন নয় মৌসুম, অন্তত মনোরাজ্যে_আশ্চর্য বিবর্ধনে সম্প্রসারিত করে দিয়েছে মনটাকে। ফলে বেচারীর তুচ্ছতম বিকার-বৈকল্যও সহজে নজরে পড়ে যাচ্ছে। আপনাকে এত নির্ভুল জানা যাচ্ছে যে নিজেকে পর বোধ হচ্ছে। তৃতীয় দৃষ্টি তাই এখন অবান্তর। যেমন আশাকে আমার আরো ভালোবাসা উচিত, অন্তত যেটুকু ভালোবাসি সেটুকুরই আরেকটু ধারণা দেওয়া। গত রাতটাই তো বেশ অন্তরঙ্গ তৎপরতার রাত ছিল। সংসারের পেছনে সারা দিন ছুটোছুটির পর আশা যখন আমার হাতে এলো, তখন তো একবার বলেওছিলাম_আজ তোমাকে, কী বলব, পরস্ত্রীর মতো দেখাচ্ছে। জবাবে সে তো শুধু আরেকটু সুরক্ষিতই হয়ে নিল। তবে আমিই বা এমন কী ফলো-আপ্ করেছি! বরং দখিনার আরেক দমকায় নিজের মনের পেছনের দুয়ারটি খুলে যেতেই, চোরের মতো নিঃশব্দে পালিয়ে গিয়েছি ১০টি বছর দূরে_জুটে গেছি কবেকার কলেজের যুথী-রেবেকার সঙ্গে। সম্বিৎ হলো, যখন রাতের মতো কূটনৈতিক সম্পর্কটুকুও ছিন্ন হয়ে যাওয়ার নোটিসটি পেলাম, আয়েশার মোহনবাঁশি নাসিকার কর্মক্লান্ত সুরে।
তারপর? বাকি রজনীর জন্য দুটি সার্বভৌম ব্যক্তিত্বের শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান ছাড়া আর কী-ই বা করণীয় থাকে! এই তো আমাদের 'আবহাওয়ার নৈশকালীন বিজ্ঞপ্তি' রাতের পর রাত, অপরিবর্তিত। আজ এই ভোরের রোদে শীতের কাঁথার মতো মেলে-দেওয়া মনটা কিঞ্চিৎ উষ্ণ হয়ে উঠতেই বুঝলাম_এ বন্ধ্যাত্বের জন্য প্রধানত দায়ী আমার অন্তঃসারশূন্য দাম্পত্যনীতি। সুতরাং সুফলা মৌসুমের এই প্রথম প্রহর থেকেই বিপ্লব আনতে হবে জীবনে।
আত্মশুদ্ধির এই নবচেতনার আলোকে আমার ভেতরে বিপ্লবের মেনিফেস্টো রচনা এবং অভ্যুত্থান, যেন একই সঙ্গে শুরু হয়ে গেছে।
হঠাৎ মশারির দূর প্রান্তখানি ঈষৎ দুলে উঠতেই তাকিয়ে দেখি টিপু মিয়া, আমার কনিষ্ঠ পুত্র। বিড়ালছানাটির মতো অতি সন্তর্পণে টুপ করে খাটে উঠে, ঝুপ করে আমার বুকের ভেতরে সেঁধিয়ে, গুটিসুটি মেরে একেবারে বিন্দুবৎ মিলিয়ে গেল। নিশ্চিন্ততম দুর্গ হিসেবে পিতৃবক্ষের আশ্রয়খানি সে আত্মরক্ষার তাগিদেই আবিষ্কার করেছে এবং পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতেও শিখেছে আমার দুর্বর্লতা থেকে। পড়ার সময় কাটছাঁট করার এসব বিস্ময়কর বিচক্ষণতা শিশুতেও সম্ভব বরং শিশুদেরই স্বভাবসুলভ।
আমার বর্তমান অনুতাপের দাহ টিপুর সানি্নধ্যে খানিকটা নির্বাপিত হলো। সঙ্গে সঙ্গে আজকের অতি-সংবেদী মানসপটের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, সেখানে পিতৃদায়িত্বে অবহেলার ছাপও পরিস্ফুট। স্নেহশীল মনোযোগের পটভূমি ছাড়া ওদের বাঞ্ছিত পুষ্টি তো হওয়ার নয়। নাহ, স্বরচিত এই সংসারটির সঙ্গে সর্বতোভাবে একটি আন্তরিক সম্পর্কে আমার আসতেই হয়। এবং সে তো নিখর্চাতেই সম্ভব।
মায়ের তাড়া অত্যাসন্ন অনুমান করে টিপু এবার উঠি-উঠি ভাব করছে। কিন্তু ওঠার আগে তার ছোট্ট কচি মুখে একটা বিরাট বড় কথা বলে ফেলল সে :
'বাবা, ১০টা টাকা দিতে হবে।'
শিউরে উঠলাম। বুকের সঙ্গে সেঁটে থাকা একরত্তি আদর আমার! সেও গোখ্রোর ছোবল আয়ত্ত করে ফেলেছে।
'টাকা দিয়ে কী করবে বাবা? স্কুল নেই?'
'আছে তো। সে জন্যই টাকা লাগবে। স্যার বলে দিয়েছে বাড়ির কাজের খাতাগুলো নিয়ে না দেখালে এবার সোজা পিটুনি। সেদিন তো খালি ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছিল।'
আর বলতে হবে না। মনে পড়েছে। কদিন থেকে আশা বলছিল। বললে কী হবে, কোনো ঘটনা না ঘটে যাওয়া পর্যন্ত কিছুই কানে না তোলার পলিসি নিয়ে বসে আছি যে! খাতা কেনা তো খরচের একটা মুখ্য খাত এ কালে। সে কালে তো আমরা তালপাতায়, কলাপাতায়, বড়জোর মাটির স্লেটে, অক্ষর গড়ে নিতাম। তারপর মোটাসোটা একটা রাফ-খাতায় যাবতীয় বিদ্যা ধরে রেখে দিতাম। রীতিমতো বিশ্বকোষ বলা চলত ওটাকে। তবে আমাদের তো চলে যেত মোটামুটি লেখাপড়ায়। এদের যে আবার রীতিমতো বিদ্যাচর্চা ছাড়া চলবে না।
যা হোক, আমার জীবন যাপনের বর্তমান মেনিফেস্টো অনুযায়ী পরিবারের কোনো সদস্যকেই আর লাঞ্ছিত হতে দেওয়া যাবে না। অতএব বালিশ-ব্যাংকে হাত বাড়ালাম। এবং এই প্রথম এত টাকা অম্লানবদনে দিয়েও দিতে পারলাম। টিপুর দেখছি ফার্স্ট-এইড্ তক জানা হয়ে গেছে। তাড়াহুড়ো করে ইতঃস্তত কিছু চুমু ছড়িয়ে দিয়ে গেল সে।
'বাবা তোমার চা!'
পেয়ালাটা তেপয়ের ওপর রেখে কাপে চামচ নাড়তে লাগল দ্বিতীয়া কন্যা শাবিনা। অসংগত মনে হলেও সকালের শয্যাগত এই চা আমার একান্ত ব্যক্তিগত বিলাস। দিনের শুরুতে নিজেকে বিছানা-বালিশের ঊধর্ে্ব তুলে নেওয়ার ব্যবস্থাবিশেষ।
হঠাৎ মনোযোগ দিয়ে শুনে মনে হলো, চিনি নাড়ার কাজ ফুরিয়েছে। শাবিনা এবার তার বিশেষ কোনো চিন্তা-ভাবনা নিয়েই নাড়াচাড়া করছে, যার সুরে কিছু দ্বিধা-সংকোচ ফুটে উঠতে চাইছে। মনের মধ্যে যেন কিছু গোছগাছ সেরে নিয়ে কন্যা অতঃপর কথা পাড়ল :
'বাবা! আমাদের সাইকোলজির স্যারটা ভারি ভালো ছিল।'
'ভালো ছিল! কেন, মারা গেছে?'
'আহ! মারা যাবে কেন, বদলি হয়ে গেছে।'
'ও, তাই বল। ভালো শিক্ষকদের অবশ্য বদলি হওয়াও ভালো। সব কলেজের ছেলেমেয়েরা পায়। ভালো খুব কম তো_'
'কিন্তু আমাদের যে লস হচ্ছে? সত্যি বাবা রকিব-স্যার দারুণ পপুলার ছিলেন।'
'সে-ই তো একজন শিক্ষকের বড় সৌভাগ্য_'
'তাঁর সৌভাগ্য হলে কী হবে, আমাদের যে এখন ১০টা করে টাকা দিতে হবে!'
'টাকা? কেন, ভদ্রলোক বিপদে পড়েছেন নাকি?'
'বাবা তুমি তো ঠাট্টা করছো! এদিকে টাকা না নিলে যে ক্লাসে আমি আজ কী লজ্জা পাব_'
হঠাৎ বেচারী এমন সিরিয়াস হয়ে উঠল যে বাচালতার জন্য সেকেন্ড ইয়ারে পড়া মেয়ের কাছে পিতাকেই পতিত মনে হলো। পরিস্থিতি শুধরে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাড়াতাড়ি বললাম :
'আজকেই ফেয়ারওয়েল? তা বাবা একেবারে ১০ টাকা কেন জানতে পারি একটু?'
'কী জানি। কারা জানি ঠিক করছিল। অমনি কয়েকটি মেয়ে ঝটপট টাকা ফেলে দিল, ব্যস। তা ছাড়া সাইকোলজিতে ছাত্রীসংখ্যা কম বলেই বোধ হয় বেশি করে দিতে হচ্ছে।'
উপায় কী! মেয়েটির উদ্বিগ্ন মুখের দিকে তাকিয়ে প্রায়-অনিচ্ছুক হস্তখানি প্রসারিত করতেই হলো সেই উপাধান-ব্যাংকের উদ্দেশে_যেখানে আমার মুমূর্ষু অ্যাকাউন্টটি অতি অযত্নে রক্ষিত। মনোরাজ্যে জুড়ে-বসা বিপ্লবী সরকার চোখ রাঙাতেই দ্বিধা অবশ্য তড়িঘড়ি কেটে গেল।
মেনিফেস্টোতেও দেখলাম বলিষ্ঠ হরফে লেখা রয়েছে_অভাব থাকতে পারে, কিন্তু তাই বলে পারিবারিক প্রজাবর্গের মনের প্রতি উদাসীনতা চলবে না। টাকাটা পেয়ে উৎফুল্ল কন্যা অনুযোগের সুরে শাসিয়ে গেল :
'তোমার চা ঠাণ্ডা হলে কিন্তু আমার দোষ নেই বাবা।'
দোষ? বালিকা মেয়ের মূঢ়তায় হাসিও পাচ্ছে। দোষের মুকুটখানি তো একমাত্র পরিবারপতির। তিনি যে রাজন্য! প্রজা-সাধারণ তো চিরনিরীহ, শান্তিপ্রিয়।
চা-টা অবশ্য জমল না সিগ্রেটের অভাবে। মনটা কেবলই দমে আসতে চাইছে। সেখানে নতুন সরকার বসেছে তো_হঠাৎ করে মানিয়ে নিতে পারছে না হয়তো।
কবে থেকে যে মরে গিয়ে চুপি চুপি বাঁচতে শুরু করেছি খেয়ালই নেই। আমার একটিমাত্র জীবন, বহুকাল ধরে কেটে যাচ্ছে আমারি অজান্তে। ১০টি খাস্তা সিগ্রেটে দিনকে বেঁধেছি। ৭০০টি সস্তা টাকায় মাসকে বেঁধেছি। আর দুটি বিধুর-মলিন ঈদোৎসবে বছরকে বেঁধেছি। এভাবে সর্বাঙ্গীণ শৃঙ্খলিত আমি কালে কালে ফসিলের মর্যাদা পেয়ে গেছি। বিস্মৃত হয়েছি যে ইচ্ছা আর চেতনাকে যেকোনো দুর্যোগের মুখেও বাঁচিয়ে রাখা যায়, জাগিয়েও রাখা যায়। এবং রাখাটা জীবনেরই স্বপক্ষে। তাই আজকের এই সুরেলা সকালে কেবলই যেন চেতনার বিকাশ ঘটছে, ইচ্ছার পুনর্জন্ম হচ্ছে_দৈনন্দিনের কালক্ষেপণে নেহাত শুদ্ধির সঙ্গে একটুখানি সৌন্দর্য আনার ইচ্ছা, নিরালম্ব ভেসে চলার বদলে কিছু পরিকল্পনার চেতনা, আর কিছু বাস্তবায়নের রোমাঞ্চ।
'বাবা! তোমার মোটর সাইকেলের চাকা বসে গেছে।'
এই ভগ্নদূত আমার জ্যেষ্ঠ পুত্র। পিতার টুকিটাকি সাহায্যে আসতে শুরু করেছে। কিছু কিছু তদারকির ভার ইতিমধ্যে তার স্কন্ধে অর্পিতও হয়ে গেছে। পরিস্থিতি অনুকূল। অচিরে অ্যাসিন্ট্যান্ট থেকে ডেপুটি হয়ে যেতে পারে।
'কোনটা? দোকান পর্যন্ত যাওয়া যাবে না?'
'এখনো কোনো রকমে যাওয়া যাবে। পেছনেরটা প্রায় ফ্ল্যাট হয়ে এসেছে। চাকা বদলিয়ে পাংচার সারাতে দিয়ে আসব বাবা?'
'না দিয়ে আর উপায় কী। তবে বলে দিতে হবে, যাতে অফিসে যাওয়ার পথে নিয়ে যেতে পারি।'
ভেস্পাটা চালানোর সুবর্ণ সুযোগ মিলে গেল_টিটু মিয়ার মনের মতো দুর্ঘটনা। কিন্তু আমার ভারি ত্যক্ত বোধ হলো। এত সঘন ব্যাজার হচ্ছে চাকাগুলো! রাস্তাজুড়ে কি কেউ পেরেক পুঁতে রাখে নাকি? আজকাল তো সব কিছুর পেছনেই শুনি নাশকতামূলক তৎপরতা থাকে।
'বাবা!'
বড় দরদ দিয়ে ডাকল তো! তাই তো, টিটু দেখছি ছুটে যায়নি। জানেই তো, হুকুম রদ হওয়ার কোনো আশঙ্কা আপাতত নেই।
'আজ তো প্রেসিডেন্ট টিটো আসছে।'
'হ্যাঁ, আজই তো।'
কী ব্যাপার? ছেলে রাজনীতিটা শুরু করে দিয়েছে নাকি? করবেই বা কী, নীতি বলতে ওই একটাই তো এখনো তবু আছে।
'দু-ঘণ্টা ক্লাসের পরই আজ আমাদের স্কুলের সব ছাত্রকে নিয়ে গিয়ে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দেবে ড্রিল-স্যার।'
'রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কষ্ট পাবি আর কি!'
ভাবলাম রবিকরের এই প্রখর প্রতিশ্রুতি দেখে ছেলে হয়তো সহানুভূতিই চাইছে। ছেলেমেয়ে দিয়ে সড়ক সাজিয়ে প্রীতি-সম্প্রীতির দলিল জাল করা কত সস্তা আর সহজ। পদ্ধতিটার উদ্ভাবক না জানি কোন কুখ্যাত আমলা! এর অবশ্য একটা বিরাট শিক্ষাগত দিকও ভাবা যায়। বড় বড় ব্যক্তিত্বের প্রত্যক্ষ দর্শনলাভ এসব সুকুমার চিত্তে কোনো মহতী আদর্শের প্রেরণাও জোগাতে পারে। কিন্তু টিটু আপাতত তেমন বড় কোনো আদর্শের ধারেপাশে আছে বলে মনে হলো না।
"জানো বাবা, যেখানটায় আমাদের দাঁড় করাবে, সেখানে একটা নামকরা কাবাবের দোকান আছে_'বিলাস কাবাব ঘর'। ছেলেরা বলে ড্রিল-স্যারটা কাবাব বোধ হয় খুব বেশি পছন্দ করে।"
'দূর পাগলা! পছন্দ করলেও কাবাব খাওয়ার জন্য ছাত্রদল নিয়ে মার্চ করে যেতে হয় নাকি? বিভিন্ন স্কুলের মধ্যে রাজপথগুলো কর্তৃপক্ষই ভাগ করে দেয়।'
কিন্তু আমার মুখচোরা সন্তান আজ দেখি বেশ মুখর হয়ে উঠেছে। খুশিই হলাম। অনেক দিন ধরেই আমার মনে হচ্ছিল, অবোলা টিটুর হরবোলা না হলেও, অন্তত আরেকটু আলাপী হওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
'স্কুলের ছেলেগুলো এমন পাজি যে আমাকে খালি প্রেসিডেন্ট টিটো বলে খ্যাপায়।'
'তাই নাকি! তা তুই খেপিস কেন? এ তো বরং বিরাট সম্মানের কথা। বিনা যুদ্ধে, বিনা নির্বাচনে, আমাদের টিটু মিয়া হয়ে গেল প্রেসিডেন্ট টিটো।'
'তাহলে আমাকে ১০টা টাকা দিতে হবে আজ।'
'টাকা? টাকা দিয়ে কী হবে?'
প্রশ্ন করেছি বটে একখানা_টাকা দিয়ে কী হবে। সরাসরি জবাব না দিয়ে টিটু জ্যেষ্ঠপুত্রসুলভ দায়িত্বশীল বচনেই বলল :
'কোত্থেকে যে ছেলেগুলো এত টাকা আনে! কথায় কথায় খালি বন্ধুদের খাওয়ায়। আমি তো কোনো দিন কাউকে চুইংগাম-চীনাবাদামও খাওয়াইনি। তবু আমাকেও বাদ দেবে না। মানা করলেও না। আমার এখন ভীষণ লজ্জা করে!'
এতক্ষণে এক মারাত্মক মোড় নিল বাৎসল্য রসে মণ্ডিত সংলাপ। সমস্যাটিকে সঠিক তুলে ধরতে পেরেছে টিটু। বেশ ভালো নম্বর দেওয়া যায়। অধোবদনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলের বয়োব্রণের প্রতি তাকিয়ে হঠাৎ মনে হলো_এ বাড়ির সে টিটু হতে পারে, ধানমণ্ডি হাইস্কুলে তো সে দশম শ্রেণীর রেজাউর রহমান, প্রায় জনৈক ভদ্রলোক। তার একটা জগৎ আছে, বৃত্ত আছে, আনুগত্য থাকবে_অতএব দায়িত্বও থাকবে। মনোরাজ্যে দেখলাম, বহু বিপ্লবী সেপাই-সান্ত্রী ইতিমধ্যেই জড়ো হয়ে গেছে কোমলমতি এক বালকের স্বাধিকার রক্ষাকল্পে, আমার প্রতি শত সঙ্গিন উঁচিয়ে। সুতরাং মনে মনে সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলে আবার ফিরে গেলাম স্নেহের সংলাপে। প্রথম ছেলের প্রথম বয়স্বী শখ একটুখানি রসিয়ে রসিয়েই মেটানো যাক।
'ছেলেরা কী চায়?'
"কিছ্ছু না। শুধু খেতে চায়_'বিলাস কাবাব'। বলে, আজ তোর মিতা আসছে। সুতরাং আজ তুই খাওয়াবি।"
'বাহ্, মিতা কী করে হয়? তুই হলি টিটু আর ও ভদ্রলোক হলেন টিটো। কোনো সময় এসব জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে ভেবেই তো আমরা আগে ভাগে গরমিলটা করে রেখেছিলাম।'
'আমি তাও বলেছিলাম বাবা। ওরা বলে এসব উকার-ওকারের ভেদাভেদ আমরা মানি না।'
'কী সাংঘাতিক! ভেদাভেদ না মানলে তো কাবাবই ভালো। কখন আবার শ্রেণীশত্রু খতম করার জেদ ধরে!'
সুতরাং ২৪ ঘণ্টা সবার সেবায় নিয়োজিত বালিশ-ব্যাংক থেকে অর্ধঘণ্টায় এই তৃতীয়বার টাকা তুলতে হলো।
মহোল্লাসে লম্ফ দিয়ে ছুট দিল টিটু। যেকোনো খরচেরই এইটুকু প্রতিদান বড় অনাবিল, বড় মধুর।
টিটু বিদায় নেওয়ার পর সন্দেহটা জোরালো হলো। এরা কি সবাই তবে জেনে গেছে নাকি যে কাল আমি ৬০ টাকার একটা বকেয়া বিল পেয়ে গেছি উপরি রোজগারের মতো। মাসকাবারের বাঁধা খরচটা তো আশার হাতে দেওয়াই থাকে। এ ছাড়া সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে মা কালীর মতো, মোড়ে-বাঁকে নোয়াখালীর দোকানগুলো তো আছেই_যেগুলো প্রায় ক্রেডিট কার্ডেই চলে।
আধাখোলা দরজা দিয়ে দেখতে পাচ্ছি আমার জ্যেষ্ঠা কন্যা সামিনা বারান্দায় বসে। এত মানা করি, তবু তার মায়ের শাড়ি পরার শখ দিন দিন বেড়েই চলেছে। রীতিমতো ভদ্রমহিলা বলে ভ্রম হচ্ছে। মহিলা অবশ্য বটে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তো। এইমাত্র দিয়ে-যাওয়া দৈনিক পত্রিকাখানি দ্রুত উল্টে-পাল্টে দেখে নিচ্ছে। সে জানে, ওটা না দেখে আমি শয্যাত্যাগ করলেও দুর্গত্যাগ করতে পারব না কিছুতেই। দুনিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতিটি না জেনে নিয়ে অজানা বিশ্বে পা বাড়ানোর সাহস আমার আদৌ নেই।
কাগজখানি পেছনে লুকিয়ে সামিনা আস্তে আমার মাথায় হাত রাখল। এবং অসুস্থ চুলগুলো টেনে দিতে লাগল। আশ্চর্য এক সুখের আমেজে আমার চোখ দুটি বুজে এলো। এত সেবাও জানে মেয়েগুলো! সকালের শয্যায় সময় সময় নিজেকে দস্তুরমতো রাজকীয় বোধ হয়। নানান জন নানান তোয়াজে-তদবিরে বাসি মেজাজটা চাগিয়ে তোলার শুশ্রূষায় লিপ্ত হয়ে যায়। শয্যায় এলায়িত আমি যেন তখন মুখর নিশি-ভোরের আয়েশী মোগল। কখনো মনে হয়, আমি এক দুর্ধর্ষ কুস্তিগীর, উদ্যাপিত পেশাদার। ভালো ফাইট করার প্রস্তুতি হিসেবে আমার দলাই-মলাই হচ্ছে, মঞ্চে অবতীর্ণ হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে। গভীর রাত অবধি ফাইট, শেষরাতে দু-দণ্ড দুঃস্বপ্নময় ঘুম, সকালে দলাই-মলাই, পুনরায় বাউট শুরু। এই তো জীবন, অথচ 'মরিতে চাহি না_'।
'আজকের প্রধান খবর কী রে বেটি?'
'আজকের প্রধান খবর? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীরা মৌচাক যাচ্ছে বনভোজনে এবং তার জন্যে চাঁদা ধরা হয়েছে মাথাপিছু ১০ টাকা।'
খবর শুনে আমার অতি দুর্বল চুলগুলোও দাঁড়িয়ে গেল। সামিনার অঙ্গুলি সঞ্চালন আর আরামপ্রদ বোধ হচ্ছে না; বরং মনে হচ্ছে সহস্র বৃশ্চিক সেখানে কিলবিল করছে।
'এও লিখেছে নাকি যে চাঁদা না দিলে, অর্থাৎ বনভোজনে না গেলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে?'
একটু তিরস্কার হয়ে গেল কী? মেয়েটির সেবার হস্ত নিশ্চল হয়ে এলো। ও রকম একটা মজার ভূমিকার পর বেশ অপ্রস্তুত বোধ করছে বেচারী। একটু থেমে জবাব দিল :
'কিন্তু তুমিই তো বলো, সবার সঙ্গে বাঁচতে হবে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া অস্বাভাবিক, অস্বাস্থ্যকর। আসলে তুমি ঠিকই বলেছো বাবা, এ পিকনিকে যাওয়া মোটেই জরুরি নয়। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবো_অসুস্থ ছিলাম। ব্যস, ফুরিয়ে গেল।'
'সে কিরে? এত অভিমানের কী হলো? তুই নাটক করলি, আমি একটু সংলাপ জুড়ে দিলাম। এই তো মোট ব্যাপার!'
'সত্যি বাবা, অভিমান নয়, রাগও নয়। এসব হৈ-হল্লা এমনিতেও আমার তেমন ভালো লাগে না। এ পিকনিকে আমি সত্যি যাব না।'
'যাবি, যাবি, আলবত যাবি। ধড়ে যদ্দিন প্রাণ থাকবে, আর দেহ যদ্দিন সুস্থ থাকবে, তদ্দিন সব হতেই হবে। এসব ফিল্ড-ট্রিপের বিরাট একটা শিক্ষামূলক দিক তো আছেই।'
'তুমি বললে যেতে তো হবেই। কিন্তু বাবা, তাহলে কি বুঝতে হবে_জীবনে যুক্তির চেয়ে জিদটাও ছোট নয়? বাবা তুমি রাগ কোরো না_আজকাল এসব ভাবতে ইচ্ছে করে, বুঝতে ইচ্ছে করে।'
আমি কিন্তু আর সামিনাকে শুনছি না। ভাবছিলাম, আমি আজ ৬০ টাকার রাজা। মনটাও অকারণ পুলকে তাজা। সবাই এই হরষের হিস্যা নিয়ে গেল। সবার বড় বলে ও বেচারী বাদ যাবে কেন! অতএব উপাধান, আবার আমার উপাধান। নাহ্! এই মারাত্মক খরস্রোতা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট রক্ষা করে যে বাহাদুর ব্যাংক, তার সম্মানে এবার কিছু জুতসই স্লোগান উৎসর্গ করতেই হয় :
'বেতারে_উপাধান, আপনার নিকটতম ব্যাংক! টিভিতে_আবহমান বাঙলার ঐতিহ্যে লালিত, উপাধান ব্যাংক! পত্রিকায়_উপাধান ব্যাংক, হ্যান্ড-টু-মাউথ বাংলার ঘরে ঘরে যার শাখা বর্তমান। লেটার হেড্_আপনার সদয় ইচ্ছাই আমাদের চেক্, উপাধান ব্যাংক। মনোগ্রাম_কামনাই ক্যাশ, উপাধান ব্যাংক।'
টাকাটা সামিনা গ্রহণ করল বটে, কিন্তু গমনটা হলো স্খলিত পদে। মেয়েটি দেখছি সত্যি বড় হয়ে গেছে। বোধ-উপলব্ধি ইত্যাদি উচ্চ মূল্যবোধগুলো বর্তে গেছে চরিত্রে।
হঠাৎ ঝাঁ করে মাথাটা শূন্য হয়ে গেল এবং বড় দুর্বল বোধ হলো। বেজায় বেশি রক্তক্ষরণে যে রকম হয়। আগাগোড়া ব্যাপারটাই যেন কয়েক পসলা সুরেলা বৃষ্টি শেষের গ্রামীণ পট। পরিবেশ থেকে কবিতার বাষ্প মিলিয়ে যেতেই নিরেট ঘটনাগুলো তাল তাল কাদা হয়ে পড়ে আছে। সোহাগের সন্তানগুলো যেন একে একে আদর-আবদার ফেরি করে নগদ মূল্য আদায় করে নিয়ে গেল। দামটাও এক একটা মাইনর স্ট্রোকের মতো। আয়েশী মোগল আমি বস্তুত অর্ধমৃত লাশ। আর এক দণ্ডও এভাবে পড়ে থাকা বোধ হয় নিরাপদ হবে না। অবশিষ্ট আয়েশার আগমন তো হবে নির্ঘাত এক অন্তিক আঘাত।
তাড়াতাড়ি পত্রিকাখানি উল্টে-পাল্টে উঠে পড়লাম। খবর রোজকার মতোই : স্বাধীনতার স্বর্ণফসল ঘরে ঘরে পেঁৗছে দেওয়ার অঙ্গীকার আর প্রতিটি বাঙালির মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলার বজ্রশপথ। সান্ত্বনাটুকুও নৈমিত্তিক। অর্থাৎ, মহৎ উদ্দেশ্যটি দেশনেতাদের অন্তত এজেন্ডায় আছে।
সর্বনাশ! নেশায়, বিকারে, আলাপে, প্রলাপে, সাড়ে ৮টাই বেজে গেছে। এবার তো ফাইট শুরু করে দিতে হয়। নইলে বাউটের শুরুতেই তো পয়েন্ট হারাবো_লেট হাজিরা।
রান্নাঘরের উদ্দেশে সাধারণভাবে চা-নাস্তার নিত্যকার তাগিদটি ছুড়ে দিয়ে গোসলখানায় ঢুকে পড়লাম। ২০ মিনিট পর বেরোলাম যখন, পুনরায় রাজা। শীতের শেষের স্নানকর্মটি আমার অনুভবে বরাবরই সিনানপর্ব। কাঁপুনি নেই, তাড়া নেই, খালি তরতাজা হওয়া, আর রাজা হয়ে যাওয়া।
অফিসের পোশাক পরতে গিয়ে পকেটে গুরুত্বপূর্ণ গুপ্তধন আবিষ্কার করলাম_এক শলা ফিল্টার সিগ্রেট। নির্ঘাৎ কারো তদবিরের জ্বলন্ত স্মারকস্তম্ভস্বরূপ উৎসর্গিত। মনে পড়েছে_হামিদের জন্য রেশনকার্ডের ফর্ম, না কি চালানের ফর্ম, জোগাড় করা। কিন্তু আপাতত সিগ্রেটটি তার যোগ্য দোসর চায়ের কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। নাস্তার প্রতীক্ষায় পত্রিকা ঘাঁটতে ঘাঁটতে যত্রতত্র বিপন্ন-বিভ্রান্ত মনুষ্যের চিত্রকাব্য পাঠ করে নিজেকে এক রকম ভাগ্যবানও বোধ হতে লাগল।
ঘড়িতে স্থির দৃষ্টি আর চায়ে অধীর চুমুক, এসব মিলিয়ে নিজের স্থিতিটাকে আরো সারবান ঠেকল। ব্যস্তসমস্ত থাকার সময়টা কিন্তু দারুণ স্মার্ট বোধ করা যায়। তৎপরতার এই বোনাসটি ভারি চমৎকার।
কিন্তু আশার বেলায়? তার ব্যস্ততার আদৌ কোনো বোনাস আছে কি? অবশেষে মানুষটির কথা মনে পড়ে গেল, যে সুখের মতোই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু শান্তির মতোই অনুপস্থিতঙ্আমার চোখ থেকে, অতএব আমার মন থেকে। ঊষার আলোর প্রথম আভায় চারপাশ থেকে সরে যায় আঁধার, আর আমার পাশ থেকে আশা। তারপর বিশ্রী কিচেনে তার নির্বাসন, আর ধোঁয়াটে উনুনে দাহন।
আমার ব্যস্ততার যেখানে সুনির্দিষ্ট দাঁড়ি-কমা পর্যন্ত আছে, আশার তৎপরতার সেখানে অনুচ্ছেদ-পরিচ্ছেদও নেই। তাকে তো নিতান্ত তরলিত হয়ে ভবনদীর সব শাখা ভরপুর রাখতে হয়। তবেই না সংসারের গাধা-বোটটি সুখের সাম্পান হয়ে চলে। নিশীথে ছুটির পরও তাই আয়েশা জবজবে থেকে যায়, কোনো ইচ্ছার আগুনেই জ্বলে উঠতে চায় না।
কবে আয়েশাকে নিয়ে একটু বেড়ানো-বেরোনো হয়েছে? এত প্রাচীন ইতিহাস কি স্মরণ রাখা যায়? তবে আজ যখন নতুন রাজার অভিষেক উপলক্ষে সবার স্বাচ্ছন্দ্য আসছে, আজ যখন আমি সম্রাট হর্ষবর্ধন (শেষ কপর্দকটিও দান করে ভগ্নীর কাছে চীবর ধার চাওয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত), তখন আশাকেও কিছু দান করতে হয়, এমন কি নিজেকেও। আমিও তো আবিবাহ সংসারের সামরিক শাসনাধীন নিতান্ত নিপীড়িত একজন।
সাময়িক হলেও এই সম্পন্নভাব, মেকী হলেও এই সচ্ছলতার অভিজ্ঞতা মন্দ লাগে না। পরিণাম? যা হওয়ার তা-ই তো হবে। এবং যথাসময়ে দেখাও যাবে। চায়ের সরঞ্জাম রেখেই সামিনা যেন ফিরে যাচ্ছে না মনে হলো। জিজ্ঞাসু দৃষ্টি তুলতেই অনিশ্চিত কণ্ঠে নিবেদন করল :
'তোমরাও আজ কোনোদিকে যাও না বাবা!'
'আমরা কারা? আমি তো অফিসে যাচ্ছি!'
'অফিস তো আজ এক বেলা। আমরা সবাই আজ নানান প্রোগ্রামে এদিক-ওদিক যাচ্ছি। এ রকম তো আর সব সময় হবে না। সুতরাং মাকে নিয়ে তুমিও বিকেলে কোথাও বেড়িয়ে আসতে পারো।'
'কথাটা অবশ্য মন্দ বলিসনি। কিন্তু কোথায়ই বা যাওয়া যায়! আসলে_আসলে ব্যাপার কী জানিস? বিষয়টি বহুদিন ভেবেও দেখিনি, বস্তুত মনেই পড়েনি।'
'এত ভাবাভাবির কী আছে! আমি বলি তাহলে?'
'বল্ তো দেখি।'
'রাগ করতে পারবে না কিন্তু!'
'বাহ্। রাগ করব কেন? আচ্ছা! তাহলে তোদের ধারণা, আমি কেবল রাগই করি। কেমন?'
"তাহলে বলি। মাসহ 'বলাকা'র ছবিটা দেখে এসো! আচ্ছা বাবা, মনে করতে পারো_কবে তোমরা একসঙ্গে সিনেমা দেখেছো?"
'যাহ্ পাজি মেয়ে! তোর মাকে বলে দেখ্ না গিয়ে, মার খাবি!'
'বা রে, আমি বলতে যাব কেন? আর বললেও মা শুনবে কেন আমার কথা? তুমি আগ্রহ করে একটু জোর দিয়ে বললে মা কখ্খনো কিছুই মানা করবে না।'
তাই তো। আশাকে কখনো আমি একটু আগে বেড়ে কিছু দিতে চেয়েছি বলে তো মনে পড়ে না। দাবি করে কিছু আদায় করার মানুষ তো সে নয়ই। আমাদের পিরামিড-চাপা জীবনযাপন তাহলে মেয়েদেরও দৃষ্টি এড়ায়নি। কী অস্বাভাবিক শৃঙ্খলা! কী নির্মম যান্ত্রিকতা! সামিনার সমীক্ষা নির্ভুল। অবশ্য আমাদের এই করুণ বন্দিদশার পেছনে আশার কিছু অবিবেচনাও কাজ করে এসেছে। যেমন তার বিচারে, ছেলেমেয়েদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উৎসবই আনন্দের হতে পারে না_এমন কি নিউ মার্কেটে গিয়ে মাসের তেল-নুন-মসলা কেনাকাটার প্রোগ্রামও না। আজ অবশ্য ওদিকটার ভাবনা ঠিকই নেই।
অতএব, আর আলাপ-প্রস্তাব নয়, একেবারে সারপ্রাইজ দেব। শুধু অফিস-ফিরতি দুখানি টিকিট কিনে নিয়ে আসা। হল তো কাছেই। রিকশার জটিল প্রশ্নটিও নেই। নিরুত্তাপ বিকেলি রোদে হাঁটতে হাঁটতে চলে যাব_সেই বিশ্ববিদ্যালয়-জীবনে জলি-ডলিদের সঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিল কি পাবলিক লাইব্রেরির দিকে যাওয়ার মতো। এবার কিন্তু সত্যি সত্যি লেট হতে চলল। ব্যস্তসমস্ত হয়ে মোটর সাইকেলে গিয়ে হাত দিতেই ছুটে এসে দুঃসংবাদটা দিল টিটু :
'বাবা! সাইকেলটা কোনোমতেই স্টার্ট নিল না।'
'কেন? চাকা দিস্নি সারাতে?'
'হেঁটে গিয়ে দিয়ে এসেছি।'
ঠিক এই সময় সুরটা কাটল। হন্তদন্ত হয়ে কিচেন থেকে ছুটে এসে, বিরক্তিকর কণ্ঠে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করে বসল আয়েশা :
'কোথায় যাচ্ছো, রেশনের টাকা না দিয়ে?'
এমনিতেই প্রায় লেট হয়ে অফিস-ছোটা। তার মুখে সাইকেল বিগড়ানোর খবর। মেজাজটা বিচ্ছিরি হয়েই ছিল। তার ওপর এ সময় অঙ্গময় রান্নাঘরের নোংরামি নিয়ে আয়েশার আবির্ভাব, আবার আপত্তিকর বাচনভঙ্গিতে অস্বস্তিকর প্রশ্ন। সব কিছু মিলিয়ে মাথাটা ধপ করে জ্বলে উঠল :
'একটু ভদ্রতা বাঁচিয়ে কথা বলতে জানো না? কোথায় যাচ্ছি সে তো তোমার জানার কথা। চোরের মতো পালাচ্ছি মনে হচ্ছে কেন শুনি?'
'অত মনে হওয়া-হওয়ি আমি বুঝি না। ভদ্রতা-অভদ্রতা মেপে কথা বলার সময়ও আমার নেই। আমি শুধু জানিয়ে দিতে চাই যে ঘরে চাল-তেল সবই শেষ। আজ রেশন না ছাড়ালে ল্যাপ্স্ তো হবেই, বিকেল থেকে চুলোও জ্বলবে না। আগামী হ্নায় চাল-কেরোসিন দেবে কি না, তারও কোনো ঠিক নেই। ব্যস্।'
ঘোষণাগুলো এক নিঃশ্বাসে শেষ করেই থপ থপ পদে আশা মঞ্চ ত্যাগ করছিল। কিন্তু পরিস্থিতির গুরুত্বটা যত পরিষ্কার হয়ে আসছিল, ভেতরে ভেতরে পরাজয়ের গ্লানিতে মেজাজটাও ততই তেঁতে উঠছিল। অবশেষে আচমকা আমার কণ্ঠ চিরে অপমানকর পর্দায় প্রায় ধমকের মতো নির্দেশটি বেরিয়ে এলো :
'দাঁড়াও! বেতন পেতেই গোটা মাসের খরচের টাকাটা যে এককালীন হাতে তুলে দিই_সেটার কি মাঝেমধ্যে পাখা গজায়?'
'গজায়। হোঁচট খেয়ে তোমার গুণধর ছেলের পায়ে যখন ফাংগাস্ গজায়, তখন দু শিশি ক্যাপসুলের দাম পঞ্চাশটি টাকা কি উড়ে আসে? সে জন্যই তো বলি, আমার হাতে টাকা-পয়সা দেওয়ারই কোনো দরকার নেই। আমি শুধু চাই_যখন যা না হলে সংসার চলে না, তখন তা যেন থাকে।'
কথার কাটাকাটি আর গলার বাড়াবাড়ি শুনে ছেলেমেয়েরা যে যেখানে ছিল, গুটিগুটি এসে কখন জানি চারপাশে নির্বাক দাঁড়িয়ে গিয়েছিল_ধরা পড়ে-যাওয়া অপরাধী চক্রের মতো!
চোখের সামনে জনক-জননীর এই হতাশ অচলাবস্থা দেখে, এক সময় সামিনাই প্রথম তার ১০ টাকার নোটখানি মায়ের দিকে নিঃশব্দে বাড়িয়ে ধরল_আমার প্রতি ভ্রূক্ষেপটিও না করে। এটাকে অগ্রজার অনুসরণীয় নেতৃত্ব জ্ঞান করে, বুঝে কিংবা না বুঝেই, শাবিনা, টিটু, টিপু, সবাই সকাল থেকে পাওয়া যার যার টাকার নোটখানি মন্ত্রমুগ্ধের মতো মায়ের দিকে বাড়িয়ে দিল।
সব অপমান, সকল উষ্মা, সকল জ্বালা বেমালুম ভুলে গিয়ে, বেহায়ার মতো হিসেব করে টাকাগুলো মিলিয়ে নিতে আশা কিন্তু বিন্দুমাত্র দ্বিধা কিংবা বিলম্ব করল না।
সকাল থেকে নবিস খেলোয়াড়রা যে যা জিতেছিল, আশা যেন এক দানেই সব কেড়ে নিল_পেশাদার জুয়াড়ীর মতো। তাসের খেলাই ছিল নাকি (নেশাটা, রোমাঞ্চটা তো তেমনি, এবং প্রথাগত ডামি হাতটাই তো জিতল)?
পলকে কোন দিক থেকে যে কী ঘটে গেল! সেই ভোর থেকেই তো উড়ছিলাম। গন্তব্যের কাছাকাছি এসেই বিধ্বস্ত হয়ে গেলাম। মস্তিষ্কের সমগ্র প্রক্রিয়া এককালীন স্থগিত হয়ে যেতেই ভয়ানক অসুস্থ বোধ করলাম। পরাভূত-পর্যুদস্ত-কিংকর্তব্যবিমূঢ় আমি, সহসা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় জড়ীভূত হয়ে আছি।
এমতাবস্থায় অভিনব এক মৌলিক সমাধান দিয়ে, আমার রক্ত-সংবহন আবার শুরু করিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিল সামিনা। যদিও সে জ্যেষ্ঠ সন্তানের দায়িত্ব পালনই করতে চাইছিল, তবু ভাবখানা এমন করল যেন মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধিই খেলে গেল হঠাৎ :
'আচ্ছা বাবা, আমরা সবাই মিলে আজ ছুটি করলে কেমন হয়? যেমন ধরো তুমিও অফিসে গেলে না_'
আমার অন্যমনস্কতার সুযোগে সে আরো একটু এগিয়ে গেল :
'কী হয়, মাঝেমধ্যে এক-আধদিন ছুটি করলে? আজ তো এমনিও হাফ ছুটি। তার ওপর তোমার সাইকেলটাও বিকল।'
প্রস্তাবটির মর্ম অপূর্ব বোধ হলো শাবিনারও :
'হ্যাঁ বাবা, এসো না। আজ আমরা ঘরে-ঘরেই না হয় একটা পিক্নিক করে ফেলি_'
আমার স্থবির নিশ্চুপতায় মেয়েদের উৎসাহ আরো বেড়ে গেল :
'চট করে একটা ছুটির দরখাস্ত লিখে দিলে, টিটু কারো হাতে দিয়ে আসবে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে।'
টিটুর আবার যানবাহনের কারিগরিতে বেজায় ঝোঁক। আমার উচ্চবাচ্য না শুনে সেও এতক্ষণে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল :
'আজ তাহলে বাবা, ডার্টি ভেস্পাটাকে একেবারে সার্ভিসিং করেই ছাড়ব!'
ঘটনার এই আকস্মিক পট পরিবর্তনে এবং আগাগোড়া ব্যাপারটির অভিনবত্বে টিপু মিয়া তো উল্লাসে উল্লম্ফনই শুরু করে দিল। এবং নাটিকাটির মূল রচয়িতাকে সবার আগে জানানির মজাটা লুফে নেওয়ার লোভে সে আচমকা চেঁচিয়েই উঠল :
'মা! আজ আমাদের পেয়ারাতলায় পিকনিক হবে। তুমি কিন্তু আজ রান্নার কাছেই যেতে পারবে না। শুধু আমাদের কাণ্ডকারখানা দেখে যাবে।'
ফাগুনের বাতাস তখনো অনর্গল আমার দিকে ধেয়ে ধেয়ে আসছিল। মুখ ফিরিয়ে নিলাম। এবং আমার চূড়ান্ত রায় শোনার জন্যে উৎকণ্ঠিত জনতার উদ্দেশে, সামিনার বনভোজন-বর্জনের অজুহাত হিসেবে উদ্ভাবিত এবং বেশ বাস্তবসম্মত সেই বাক্যটিই উৎসর্গ করে দিলাম :
'তাই হোক। আমরা তো আজ অসুস্থই।'
ফাগুন তখন টিভির ঘোষণায় কিংবা পঞ্জিকার পাতায় নয়, অনুভবেই ধরা দিত। হেমন্ত আর বসন্ত, এ দুটি ঋতুকে মাটি আর বাতাস শুঁকে চেনা যেত। চোখে ঘোর, গায়ে পুলক, আর মনে প্রেম নিয়ে আসত। কণ্ঠে সুর, আর কথায় ছন্দ আনাগোনা করত। ধমনীতে চলত তুমুল তালফের্তা। কত কাণ্ডকারখানাই না হতো!
এখনো তবে মৌন নয় মৌসুম, অন্তত মনোরাজ্যে_আশ্চর্য বিবর্ধনে সম্প্রসারিত করে দিয়েছে মনটাকে। ফলে বেচারীর তুচ্ছতম বিকার-বৈকল্যও সহজে নজরে পড়ে যাচ্ছে। আপনাকে এত নির্ভুল জানা যাচ্ছে যে নিজেকে পর বোধ হচ্ছে। তৃতীয় দৃষ্টি তাই এখন অবান্তর। যেমন আশাকে আমার আরো ভালোবাসা উচিত, অন্তত যেটুকু ভালোবাসি সেটুকুরই আরেকটু ধারণা দেওয়া। গত রাতটাই তো বেশ অন্তরঙ্গ তৎপরতার রাত ছিল। সংসারের পেছনে সারা দিন ছুটোছুটির পর আশা যখন আমার হাতে এলো, তখন তো একবার বলেওছিলাম_আজ তোমাকে, কী বলব, পরস্ত্রীর মতো দেখাচ্ছে। জবাবে সে তো শুধু আরেকটু সুরক্ষিতই হয়ে নিল। তবে আমিই বা এমন কী ফলো-আপ্ করেছি! বরং দখিনার আরেক দমকায় নিজের মনের পেছনের দুয়ারটি খুলে যেতেই, চোরের মতো নিঃশব্দে পালিয়ে গিয়েছি ১০টি বছর দূরে_জুটে গেছি কবেকার কলেজের যুথী-রেবেকার সঙ্গে। সম্বিৎ হলো, যখন রাতের মতো কূটনৈতিক সম্পর্কটুকুও ছিন্ন হয়ে যাওয়ার নোটিসটি পেলাম, আয়েশার মোহনবাঁশি নাসিকার কর্মক্লান্ত সুরে।
তারপর? বাকি রজনীর জন্য দুটি সার্বভৌম ব্যক্তিত্বের শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান ছাড়া আর কী-ই বা করণীয় থাকে! এই তো আমাদের 'আবহাওয়ার নৈশকালীন বিজ্ঞপ্তি' রাতের পর রাত, অপরিবর্তিত। আজ এই ভোরের রোদে শীতের কাঁথার মতো মেলে-দেওয়া মনটা কিঞ্চিৎ উষ্ণ হয়ে উঠতেই বুঝলাম_এ বন্ধ্যাত্বের জন্য প্রধানত দায়ী আমার অন্তঃসারশূন্য দাম্পত্যনীতি। সুতরাং সুফলা মৌসুমের এই প্রথম প্রহর থেকেই বিপ্লব আনতে হবে জীবনে।
আত্মশুদ্ধির এই নবচেতনার আলোকে আমার ভেতরে বিপ্লবের মেনিফেস্টো রচনা এবং অভ্যুত্থান, যেন একই সঙ্গে শুরু হয়ে গেছে।
হঠাৎ মশারির দূর প্রান্তখানি ঈষৎ দুলে উঠতেই তাকিয়ে দেখি টিপু মিয়া, আমার কনিষ্ঠ পুত্র। বিড়ালছানাটির মতো অতি সন্তর্পণে টুপ করে খাটে উঠে, ঝুপ করে আমার বুকের ভেতরে সেঁধিয়ে, গুটিসুটি মেরে একেবারে বিন্দুবৎ মিলিয়ে গেল। নিশ্চিন্ততম দুর্গ হিসেবে পিতৃবক্ষের আশ্রয়খানি সে আত্মরক্ষার তাগিদেই আবিষ্কার করেছে এবং পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতেও শিখেছে আমার দুর্বর্লতা থেকে। পড়ার সময় কাটছাঁট করার এসব বিস্ময়কর বিচক্ষণতা শিশুতেও সম্ভব বরং শিশুদেরই স্বভাবসুলভ।
আমার বর্তমান অনুতাপের দাহ টিপুর সানি্নধ্যে খানিকটা নির্বাপিত হলো। সঙ্গে সঙ্গে আজকের অতি-সংবেদী মানসপটের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, সেখানে পিতৃদায়িত্বে অবহেলার ছাপও পরিস্ফুট। স্নেহশীল মনোযোগের পটভূমি ছাড়া ওদের বাঞ্ছিত পুষ্টি তো হওয়ার নয়। নাহ, স্বরচিত এই সংসারটির সঙ্গে সর্বতোভাবে একটি আন্তরিক সম্পর্কে আমার আসতেই হয়। এবং সে তো নিখর্চাতেই সম্ভব।
মায়ের তাড়া অত্যাসন্ন অনুমান করে টিপু এবার উঠি-উঠি ভাব করছে। কিন্তু ওঠার আগে তার ছোট্ট কচি মুখে একটা বিরাট বড় কথা বলে ফেলল সে :
'বাবা, ১০টা টাকা দিতে হবে।'
শিউরে উঠলাম। বুকের সঙ্গে সেঁটে থাকা একরত্তি আদর আমার! সেও গোখ্রোর ছোবল আয়ত্ত করে ফেলেছে।
'টাকা দিয়ে কী করবে বাবা? স্কুল নেই?'
'আছে তো। সে জন্যই টাকা লাগবে। স্যার বলে দিয়েছে বাড়ির কাজের খাতাগুলো নিয়ে না দেখালে এবার সোজা পিটুনি। সেদিন তো খালি ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছিল।'
আর বলতে হবে না। মনে পড়েছে। কদিন থেকে আশা বলছিল। বললে কী হবে, কোনো ঘটনা না ঘটে যাওয়া পর্যন্ত কিছুই কানে না তোলার পলিসি নিয়ে বসে আছি যে! খাতা কেনা তো খরচের একটা মুখ্য খাত এ কালে। সে কালে তো আমরা তালপাতায়, কলাপাতায়, বড়জোর মাটির স্লেটে, অক্ষর গড়ে নিতাম। তারপর মোটাসোটা একটা রাফ-খাতায় যাবতীয় বিদ্যা ধরে রেখে দিতাম। রীতিমতো বিশ্বকোষ বলা চলত ওটাকে। তবে আমাদের তো চলে যেত মোটামুটি লেখাপড়ায়। এদের যে আবার রীতিমতো বিদ্যাচর্চা ছাড়া চলবে না।
যা হোক, আমার জীবন যাপনের বর্তমান মেনিফেস্টো অনুযায়ী পরিবারের কোনো সদস্যকেই আর লাঞ্ছিত হতে দেওয়া যাবে না। অতএব বালিশ-ব্যাংকে হাত বাড়ালাম। এবং এই প্রথম এত টাকা অম্লানবদনে দিয়েও দিতে পারলাম। টিপুর দেখছি ফার্স্ট-এইড্ তক জানা হয়ে গেছে। তাড়াহুড়ো করে ইতঃস্তত কিছু চুমু ছড়িয়ে দিয়ে গেল সে।
'বাবা তোমার চা!'
পেয়ালাটা তেপয়ের ওপর রেখে কাপে চামচ নাড়তে লাগল দ্বিতীয়া কন্যা শাবিনা। অসংগত মনে হলেও সকালের শয্যাগত এই চা আমার একান্ত ব্যক্তিগত বিলাস। দিনের শুরুতে নিজেকে বিছানা-বালিশের ঊধর্ে্ব তুলে নেওয়ার ব্যবস্থাবিশেষ।
হঠাৎ মনোযোগ দিয়ে শুনে মনে হলো, চিনি নাড়ার কাজ ফুরিয়েছে। শাবিনা এবার তার বিশেষ কোনো চিন্তা-ভাবনা নিয়েই নাড়াচাড়া করছে, যার সুরে কিছু দ্বিধা-সংকোচ ফুটে উঠতে চাইছে। মনের মধ্যে যেন কিছু গোছগাছ সেরে নিয়ে কন্যা অতঃপর কথা পাড়ল :
'বাবা! আমাদের সাইকোলজির স্যারটা ভারি ভালো ছিল।'
'ভালো ছিল! কেন, মারা গেছে?'
'আহ! মারা যাবে কেন, বদলি হয়ে গেছে।'
'ও, তাই বল। ভালো শিক্ষকদের অবশ্য বদলি হওয়াও ভালো। সব কলেজের ছেলেমেয়েরা পায়। ভালো খুব কম তো_'
'কিন্তু আমাদের যে লস হচ্ছে? সত্যি বাবা রকিব-স্যার দারুণ পপুলার ছিলেন।'
'সে-ই তো একজন শিক্ষকের বড় সৌভাগ্য_'
'তাঁর সৌভাগ্য হলে কী হবে, আমাদের যে এখন ১০টা করে টাকা দিতে হবে!'
'টাকা? কেন, ভদ্রলোক বিপদে পড়েছেন নাকি?'
'বাবা তুমি তো ঠাট্টা করছো! এদিকে টাকা না নিলে যে ক্লাসে আমি আজ কী লজ্জা পাব_'
হঠাৎ বেচারী এমন সিরিয়াস হয়ে উঠল যে বাচালতার জন্য সেকেন্ড ইয়ারে পড়া মেয়ের কাছে পিতাকেই পতিত মনে হলো। পরিস্থিতি শুধরে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাড়াতাড়ি বললাম :
'আজকেই ফেয়ারওয়েল? তা বাবা একেবারে ১০ টাকা কেন জানতে পারি একটু?'
'কী জানি। কারা জানি ঠিক করছিল। অমনি কয়েকটি মেয়ে ঝটপট টাকা ফেলে দিল, ব্যস। তা ছাড়া সাইকোলজিতে ছাত্রীসংখ্যা কম বলেই বোধ হয় বেশি করে দিতে হচ্ছে।'
উপায় কী! মেয়েটির উদ্বিগ্ন মুখের দিকে তাকিয়ে প্রায়-অনিচ্ছুক হস্তখানি প্রসারিত করতেই হলো সেই উপাধান-ব্যাংকের উদ্দেশে_যেখানে আমার মুমূর্ষু অ্যাকাউন্টটি অতি অযত্নে রক্ষিত। মনোরাজ্যে জুড়ে-বসা বিপ্লবী সরকার চোখ রাঙাতেই দ্বিধা অবশ্য তড়িঘড়ি কেটে গেল।
মেনিফেস্টোতেও দেখলাম বলিষ্ঠ হরফে লেখা রয়েছে_অভাব থাকতে পারে, কিন্তু তাই বলে পারিবারিক প্রজাবর্গের মনের প্রতি উদাসীনতা চলবে না। টাকাটা পেয়ে উৎফুল্ল কন্যা অনুযোগের সুরে শাসিয়ে গেল :
'তোমার চা ঠাণ্ডা হলে কিন্তু আমার দোষ নেই বাবা।'
দোষ? বালিকা মেয়ের মূঢ়তায় হাসিও পাচ্ছে। দোষের মুকুটখানি তো একমাত্র পরিবারপতির। তিনি যে রাজন্য! প্রজা-সাধারণ তো চিরনিরীহ, শান্তিপ্রিয়।
চা-টা অবশ্য জমল না সিগ্রেটের অভাবে। মনটা কেবলই দমে আসতে চাইছে। সেখানে নতুন সরকার বসেছে তো_হঠাৎ করে মানিয়ে নিতে পারছে না হয়তো।
কবে থেকে যে মরে গিয়ে চুপি চুপি বাঁচতে শুরু করেছি খেয়ালই নেই। আমার একটিমাত্র জীবন, বহুকাল ধরে কেটে যাচ্ছে আমারি অজান্তে। ১০টি খাস্তা সিগ্রেটে দিনকে বেঁধেছি। ৭০০টি সস্তা টাকায় মাসকে বেঁধেছি। আর দুটি বিধুর-মলিন ঈদোৎসবে বছরকে বেঁধেছি। এভাবে সর্বাঙ্গীণ শৃঙ্খলিত আমি কালে কালে ফসিলের মর্যাদা পেয়ে গেছি। বিস্মৃত হয়েছি যে ইচ্ছা আর চেতনাকে যেকোনো দুর্যোগের মুখেও বাঁচিয়ে রাখা যায়, জাগিয়েও রাখা যায়। এবং রাখাটা জীবনেরই স্বপক্ষে। তাই আজকের এই সুরেলা সকালে কেবলই যেন চেতনার বিকাশ ঘটছে, ইচ্ছার পুনর্জন্ম হচ্ছে_দৈনন্দিনের কালক্ষেপণে নেহাত শুদ্ধির সঙ্গে একটুখানি সৌন্দর্য আনার ইচ্ছা, নিরালম্ব ভেসে চলার বদলে কিছু পরিকল্পনার চেতনা, আর কিছু বাস্তবায়নের রোমাঞ্চ।
'বাবা! তোমার মোটর সাইকেলের চাকা বসে গেছে।'
এই ভগ্নদূত আমার জ্যেষ্ঠ পুত্র। পিতার টুকিটাকি সাহায্যে আসতে শুরু করেছে। কিছু কিছু তদারকির ভার ইতিমধ্যে তার স্কন্ধে অর্পিতও হয়ে গেছে। পরিস্থিতি অনুকূল। অচিরে অ্যাসিন্ট্যান্ট থেকে ডেপুটি হয়ে যেতে পারে।
'কোনটা? দোকান পর্যন্ত যাওয়া যাবে না?'
'এখনো কোনো রকমে যাওয়া যাবে। পেছনেরটা প্রায় ফ্ল্যাট হয়ে এসেছে। চাকা বদলিয়ে পাংচার সারাতে দিয়ে আসব বাবা?'
'না দিয়ে আর উপায় কী। তবে বলে দিতে হবে, যাতে অফিসে যাওয়ার পথে নিয়ে যেতে পারি।'
ভেস্পাটা চালানোর সুবর্ণ সুযোগ মিলে গেল_টিটু মিয়ার মনের মতো দুর্ঘটনা। কিন্তু আমার ভারি ত্যক্ত বোধ হলো। এত সঘন ব্যাজার হচ্ছে চাকাগুলো! রাস্তাজুড়ে কি কেউ পেরেক পুঁতে রাখে নাকি? আজকাল তো সব কিছুর পেছনেই শুনি নাশকতামূলক তৎপরতা থাকে।
'বাবা!'
বড় দরদ দিয়ে ডাকল তো! তাই তো, টিটু দেখছি ছুটে যায়নি। জানেই তো, হুকুম রদ হওয়ার কোনো আশঙ্কা আপাতত নেই।
'আজ তো প্রেসিডেন্ট টিটো আসছে।'
'হ্যাঁ, আজই তো।'
কী ব্যাপার? ছেলে রাজনীতিটা শুরু করে দিয়েছে নাকি? করবেই বা কী, নীতি বলতে ওই একটাই তো এখনো তবু আছে।
'দু-ঘণ্টা ক্লাসের পরই আজ আমাদের স্কুলের সব ছাত্রকে নিয়ে গিয়ে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দেবে ড্রিল-স্যার।'
'রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কষ্ট পাবি আর কি!'
ভাবলাম রবিকরের এই প্রখর প্রতিশ্রুতি দেখে ছেলে হয়তো সহানুভূতিই চাইছে। ছেলেমেয়ে দিয়ে সড়ক সাজিয়ে প্রীতি-সম্প্রীতির দলিল জাল করা কত সস্তা আর সহজ। পদ্ধতিটার উদ্ভাবক না জানি কোন কুখ্যাত আমলা! এর অবশ্য একটা বিরাট শিক্ষাগত দিকও ভাবা যায়। বড় বড় ব্যক্তিত্বের প্রত্যক্ষ দর্শনলাভ এসব সুকুমার চিত্তে কোনো মহতী আদর্শের প্রেরণাও জোগাতে পারে। কিন্তু টিটু আপাতত তেমন বড় কোনো আদর্শের ধারেপাশে আছে বলে মনে হলো না।
"জানো বাবা, যেখানটায় আমাদের দাঁড় করাবে, সেখানে একটা নামকরা কাবাবের দোকান আছে_'বিলাস কাবাব ঘর'। ছেলেরা বলে ড্রিল-স্যারটা কাবাব বোধ হয় খুব বেশি পছন্দ করে।"
'দূর পাগলা! পছন্দ করলেও কাবাব খাওয়ার জন্য ছাত্রদল নিয়ে মার্চ করে যেতে হয় নাকি? বিভিন্ন স্কুলের মধ্যে রাজপথগুলো কর্তৃপক্ষই ভাগ করে দেয়।'
কিন্তু আমার মুখচোরা সন্তান আজ দেখি বেশ মুখর হয়ে উঠেছে। খুশিই হলাম। অনেক দিন ধরেই আমার মনে হচ্ছিল, অবোলা টিটুর হরবোলা না হলেও, অন্তত আরেকটু আলাপী হওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
'স্কুলের ছেলেগুলো এমন পাজি যে আমাকে খালি প্রেসিডেন্ট টিটো বলে খ্যাপায়।'
'তাই নাকি! তা তুই খেপিস কেন? এ তো বরং বিরাট সম্মানের কথা। বিনা যুদ্ধে, বিনা নির্বাচনে, আমাদের টিটু মিয়া হয়ে গেল প্রেসিডেন্ট টিটো।'
'তাহলে আমাকে ১০টা টাকা দিতে হবে আজ।'
'টাকা? টাকা দিয়ে কী হবে?'
প্রশ্ন করেছি বটে একখানা_টাকা দিয়ে কী হবে। সরাসরি জবাব না দিয়ে টিটু জ্যেষ্ঠপুত্রসুলভ দায়িত্বশীল বচনেই বলল :
'কোত্থেকে যে ছেলেগুলো এত টাকা আনে! কথায় কথায় খালি বন্ধুদের খাওয়ায়। আমি তো কোনো দিন কাউকে চুইংগাম-চীনাবাদামও খাওয়াইনি। তবু আমাকেও বাদ দেবে না। মানা করলেও না। আমার এখন ভীষণ লজ্জা করে!'
এতক্ষণে এক মারাত্মক মোড় নিল বাৎসল্য রসে মণ্ডিত সংলাপ। সমস্যাটিকে সঠিক তুলে ধরতে পেরেছে টিটু। বেশ ভালো নম্বর দেওয়া যায়। অধোবদনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলের বয়োব্রণের প্রতি তাকিয়ে হঠাৎ মনে হলো_এ বাড়ির সে টিটু হতে পারে, ধানমণ্ডি হাইস্কুলে তো সে দশম শ্রেণীর রেজাউর রহমান, প্রায় জনৈক ভদ্রলোক। তার একটা জগৎ আছে, বৃত্ত আছে, আনুগত্য থাকবে_অতএব দায়িত্বও থাকবে। মনোরাজ্যে দেখলাম, বহু বিপ্লবী সেপাই-সান্ত্রী ইতিমধ্যেই জড়ো হয়ে গেছে কোমলমতি এক বালকের স্বাধিকার রক্ষাকল্পে, আমার প্রতি শত সঙ্গিন উঁচিয়ে। সুতরাং মনে মনে সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলে আবার ফিরে গেলাম স্নেহের সংলাপে। প্রথম ছেলের প্রথম বয়স্বী শখ একটুখানি রসিয়ে রসিয়েই মেটানো যাক।
'ছেলেরা কী চায়?'
"কিছ্ছু না। শুধু খেতে চায়_'বিলাস কাবাব'। বলে, আজ তোর মিতা আসছে। সুতরাং আজ তুই খাওয়াবি।"
'বাহ্, মিতা কী করে হয়? তুই হলি টিটু আর ও ভদ্রলোক হলেন টিটো। কোনো সময় এসব জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে ভেবেই তো আমরা আগে ভাগে গরমিলটা করে রেখেছিলাম।'
'আমি তাও বলেছিলাম বাবা। ওরা বলে এসব উকার-ওকারের ভেদাভেদ আমরা মানি না।'
'কী সাংঘাতিক! ভেদাভেদ না মানলে তো কাবাবই ভালো। কখন আবার শ্রেণীশত্রু খতম করার জেদ ধরে!'
সুতরাং ২৪ ঘণ্টা সবার সেবায় নিয়োজিত বালিশ-ব্যাংক থেকে অর্ধঘণ্টায় এই তৃতীয়বার টাকা তুলতে হলো।
মহোল্লাসে লম্ফ দিয়ে ছুট দিল টিটু। যেকোনো খরচেরই এইটুকু প্রতিদান বড় অনাবিল, বড় মধুর।
টিটু বিদায় নেওয়ার পর সন্দেহটা জোরালো হলো। এরা কি সবাই তবে জেনে গেছে নাকি যে কাল আমি ৬০ টাকার একটা বকেয়া বিল পেয়ে গেছি উপরি রোজগারের মতো। মাসকাবারের বাঁধা খরচটা তো আশার হাতে দেওয়াই থাকে। এ ছাড়া সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে মা কালীর মতো, মোড়ে-বাঁকে নোয়াখালীর দোকানগুলো তো আছেই_যেগুলো প্রায় ক্রেডিট কার্ডেই চলে।
আধাখোলা দরজা দিয়ে দেখতে পাচ্ছি আমার জ্যেষ্ঠা কন্যা সামিনা বারান্দায় বসে। এত মানা করি, তবু তার মায়ের শাড়ি পরার শখ দিন দিন বেড়েই চলেছে। রীতিমতো ভদ্রমহিলা বলে ভ্রম হচ্ছে। মহিলা অবশ্য বটে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তো। এইমাত্র দিয়ে-যাওয়া দৈনিক পত্রিকাখানি দ্রুত উল্টে-পাল্টে দেখে নিচ্ছে। সে জানে, ওটা না দেখে আমি শয্যাত্যাগ করলেও দুর্গত্যাগ করতে পারব না কিছুতেই। দুনিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতিটি না জেনে নিয়ে অজানা বিশ্বে পা বাড়ানোর সাহস আমার আদৌ নেই।
কাগজখানি পেছনে লুকিয়ে সামিনা আস্তে আমার মাথায় হাত রাখল। এবং অসুস্থ চুলগুলো টেনে দিতে লাগল। আশ্চর্য এক সুখের আমেজে আমার চোখ দুটি বুজে এলো। এত সেবাও জানে মেয়েগুলো! সকালের শয্যায় সময় সময় নিজেকে দস্তুরমতো রাজকীয় বোধ হয়। নানান জন নানান তোয়াজে-তদবিরে বাসি মেজাজটা চাগিয়ে তোলার শুশ্রূষায় লিপ্ত হয়ে যায়। শয্যায় এলায়িত আমি যেন তখন মুখর নিশি-ভোরের আয়েশী মোগল। কখনো মনে হয়, আমি এক দুর্ধর্ষ কুস্তিগীর, উদ্যাপিত পেশাদার। ভালো ফাইট করার প্রস্তুতি হিসেবে আমার দলাই-মলাই হচ্ছে, মঞ্চে অবতীর্ণ হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে। গভীর রাত অবধি ফাইট, শেষরাতে দু-দণ্ড দুঃস্বপ্নময় ঘুম, সকালে দলাই-মলাই, পুনরায় বাউট শুরু। এই তো জীবন, অথচ 'মরিতে চাহি না_'।
'আজকের প্রধান খবর কী রে বেটি?'
'আজকের প্রধান খবর? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীরা মৌচাক যাচ্ছে বনভোজনে এবং তার জন্যে চাঁদা ধরা হয়েছে মাথাপিছু ১০ টাকা।'
খবর শুনে আমার অতি দুর্বল চুলগুলোও দাঁড়িয়ে গেল। সামিনার অঙ্গুলি সঞ্চালন আর আরামপ্রদ বোধ হচ্ছে না; বরং মনে হচ্ছে সহস্র বৃশ্চিক সেখানে কিলবিল করছে।
'এও লিখেছে নাকি যে চাঁদা না দিলে, অর্থাৎ বনভোজনে না গেলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে?'
একটু তিরস্কার হয়ে গেল কী? মেয়েটির সেবার হস্ত নিশ্চল হয়ে এলো। ও রকম একটা মজার ভূমিকার পর বেশ অপ্রস্তুত বোধ করছে বেচারী। একটু থেমে জবাব দিল :
'কিন্তু তুমিই তো বলো, সবার সঙ্গে বাঁচতে হবে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া অস্বাভাবিক, অস্বাস্থ্যকর। আসলে তুমি ঠিকই বলেছো বাবা, এ পিকনিকে যাওয়া মোটেই জরুরি নয়। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবো_অসুস্থ ছিলাম। ব্যস, ফুরিয়ে গেল।'
'সে কিরে? এত অভিমানের কী হলো? তুই নাটক করলি, আমি একটু সংলাপ জুড়ে দিলাম। এই তো মোট ব্যাপার!'
'সত্যি বাবা, অভিমান নয়, রাগও নয়। এসব হৈ-হল্লা এমনিতেও আমার তেমন ভালো লাগে না। এ পিকনিকে আমি সত্যি যাব না।'
'যাবি, যাবি, আলবত যাবি। ধড়ে যদ্দিন প্রাণ থাকবে, আর দেহ যদ্দিন সুস্থ থাকবে, তদ্দিন সব হতেই হবে। এসব ফিল্ড-ট্রিপের বিরাট একটা শিক্ষামূলক দিক তো আছেই।'
'তুমি বললে যেতে তো হবেই। কিন্তু বাবা, তাহলে কি বুঝতে হবে_জীবনে যুক্তির চেয়ে জিদটাও ছোট নয়? বাবা তুমি রাগ কোরো না_আজকাল এসব ভাবতে ইচ্ছে করে, বুঝতে ইচ্ছে করে।'
আমি কিন্তু আর সামিনাকে শুনছি না। ভাবছিলাম, আমি আজ ৬০ টাকার রাজা। মনটাও অকারণ পুলকে তাজা। সবাই এই হরষের হিস্যা নিয়ে গেল। সবার বড় বলে ও বেচারী বাদ যাবে কেন! অতএব উপাধান, আবার আমার উপাধান। নাহ্! এই মারাত্মক খরস্রোতা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট রক্ষা করে যে বাহাদুর ব্যাংক, তার সম্মানে এবার কিছু জুতসই স্লোগান উৎসর্গ করতেই হয় :
'বেতারে_উপাধান, আপনার নিকটতম ব্যাংক! টিভিতে_আবহমান বাঙলার ঐতিহ্যে লালিত, উপাধান ব্যাংক! পত্রিকায়_উপাধান ব্যাংক, হ্যান্ড-টু-মাউথ বাংলার ঘরে ঘরে যার শাখা বর্তমান। লেটার হেড্_আপনার সদয় ইচ্ছাই আমাদের চেক্, উপাধান ব্যাংক। মনোগ্রাম_কামনাই ক্যাশ, উপাধান ব্যাংক।'
টাকাটা সামিনা গ্রহণ করল বটে, কিন্তু গমনটা হলো স্খলিত পদে। মেয়েটি দেখছি সত্যি বড় হয়ে গেছে। বোধ-উপলব্ধি ইত্যাদি উচ্চ মূল্যবোধগুলো বর্তে গেছে চরিত্রে।
হঠাৎ ঝাঁ করে মাথাটা শূন্য হয়ে গেল এবং বড় দুর্বল বোধ হলো। বেজায় বেশি রক্তক্ষরণে যে রকম হয়। আগাগোড়া ব্যাপারটাই যেন কয়েক পসলা সুরেলা বৃষ্টি শেষের গ্রামীণ পট। পরিবেশ থেকে কবিতার বাষ্প মিলিয়ে যেতেই নিরেট ঘটনাগুলো তাল তাল কাদা হয়ে পড়ে আছে। সোহাগের সন্তানগুলো যেন একে একে আদর-আবদার ফেরি করে নগদ মূল্য আদায় করে নিয়ে গেল। দামটাও এক একটা মাইনর স্ট্রোকের মতো। আয়েশী মোগল আমি বস্তুত অর্ধমৃত লাশ। আর এক দণ্ডও এভাবে পড়ে থাকা বোধ হয় নিরাপদ হবে না। অবশিষ্ট আয়েশার আগমন তো হবে নির্ঘাত এক অন্তিক আঘাত।
তাড়াতাড়ি পত্রিকাখানি উল্টে-পাল্টে উঠে পড়লাম। খবর রোজকার মতোই : স্বাধীনতার স্বর্ণফসল ঘরে ঘরে পেঁৗছে দেওয়ার অঙ্গীকার আর প্রতিটি বাঙালির মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলার বজ্রশপথ। সান্ত্বনাটুকুও নৈমিত্তিক। অর্থাৎ, মহৎ উদ্দেশ্যটি দেশনেতাদের অন্তত এজেন্ডায় আছে।
সর্বনাশ! নেশায়, বিকারে, আলাপে, প্রলাপে, সাড়ে ৮টাই বেজে গেছে। এবার তো ফাইট শুরু করে দিতে হয়। নইলে বাউটের শুরুতেই তো পয়েন্ট হারাবো_লেট হাজিরা।
রান্নাঘরের উদ্দেশে সাধারণভাবে চা-নাস্তার নিত্যকার তাগিদটি ছুড়ে দিয়ে গোসলখানায় ঢুকে পড়লাম। ২০ মিনিট পর বেরোলাম যখন, পুনরায় রাজা। শীতের শেষের স্নানকর্মটি আমার অনুভবে বরাবরই সিনানপর্ব। কাঁপুনি নেই, তাড়া নেই, খালি তরতাজা হওয়া, আর রাজা হয়ে যাওয়া।
অফিসের পোশাক পরতে গিয়ে পকেটে গুরুত্বপূর্ণ গুপ্তধন আবিষ্কার করলাম_এক শলা ফিল্টার সিগ্রেট। নির্ঘাৎ কারো তদবিরের জ্বলন্ত স্মারকস্তম্ভস্বরূপ উৎসর্গিত। মনে পড়েছে_হামিদের জন্য রেশনকার্ডের ফর্ম, না কি চালানের ফর্ম, জোগাড় করা। কিন্তু আপাতত সিগ্রেটটি তার যোগ্য দোসর চায়ের কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। নাস্তার প্রতীক্ষায় পত্রিকা ঘাঁটতে ঘাঁটতে যত্রতত্র বিপন্ন-বিভ্রান্ত মনুষ্যের চিত্রকাব্য পাঠ করে নিজেকে এক রকম ভাগ্যবানও বোধ হতে লাগল।
ঘড়িতে স্থির দৃষ্টি আর চায়ে অধীর চুমুক, এসব মিলিয়ে নিজের স্থিতিটাকে আরো সারবান ঠেকল। ব্যস্তসমস্ত থাকার সময়টা কিন্তু দারুণ স্মার্ট বোধ করা যায়। তৎপরতার এই বোনাসটি ভারি চমৎকার।
কিন্তু আশার বেলায়? তার ব্যস্ততার আদৌ কোনো বোনাস আছে কি? অবশেষে মানুষটির কথা মনে পড়ে গেল, যে সুখের মতোই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু শান্তির মতোই অনুপস্থিতঙ্আমার চোখ থেকে, অতএব আমার মন থেকে। ঊষার আলোর প্রথম আভায় চারপাশ থেকে সরে যায় আঁধার, আর আমার পাশ থেকে আশা। তারপর বিশ্রী কিচেনে তার নির্বাসন, আর ধোঁয়াটে উনুনে দাহন।
আমার ব্যস্ততার যেখানে সুনির্দিষ্ট দাঁড়ি-কমা পর্যন্ত আছে, আশার তৎপরতার সেখানে অনুচ্ছেদ-পরিচ্ছেদও নেই। তাকে তো নিতান্ত তরলিত হয়ে ভবনদীর সব শাখা ভরপুর রাখতে হয়। তবেই না সংসারের গাধা-বোটটি সুখের সাম্পান হয়ে চলে। নিশীথে ছুটির পরও তাই আয়েশা জবজবে থেকে যায়, কোনো ইচ্ছার আগুনেই জ্বলে উঠতে চায় না।
কবে আয়েশাকে নিয়ে একটু বেড়ানো-বেরোনো হয়েছে? এত প্রাচীন ইতিহাস কি স্মরণ রাখা যায়? তবে আজ যখন নতুন রাজার অভিষেক উপলক্ষে সবার স্বাচ্ছন্দ্য আসছে, আজ যখন আমি সম্রাট হর্ষবর্ধন (শেষ কপর্দকটিও দান করে ভগ্নীর কাছে চীবর ধার চাওয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত), তখন আশাকেও কিছু দান করতে হয়, এমন কি নিজেকেও। আমিও তো আবিবাহ সংসারের সামরিক শাসনাধীন নিতান্ত নিপীড়িত একজন।
সাময়িক হলেও এই সম্পন্নভাব, মেকী হলেও এই সচ্ছলতার অভিজ্ঞতা মন্দ লাগে না। পরিণাম? যা হওয়ার তা-ই তো হবে। এবং যথাসময়ে দেখাও যাবে। চায়ের সরঞ্জাম রেখেই সামিনা যেন ফিরে যাচ্ছে না মনে হলো। জিজ্ঞাসু দৃষ্টি তুলতেই অনিশ্চিত কণ্ঠে নিবেদন করল :
'তোমরাও আজ কোনোদিকে যাও না বাবা!'
'আমরা কারা? আমি তো অফিসে যাচ্ছি!'
'অফিস তো আজ এক বেলা। আমরা সবাই আজ নানান প্রোগ্রামে এদিক-ওদিক যাচ্ছি। এ রকম তো আর সব সময় হবে না। সুতরাং মাকে নিয়ে তুমিও বিকেলে কোথাও বেড়িয়ে আসতে পারো।'
'কথাটা অবশ্য মন্দ বলিসনি। কিন্তু কোথায়ই বা যাওয়া যায়! আসলে_আসলে ব্যাপার কী জানিস? বিষয়টি বহুদিন ভেবেও দেখিনি, বস্তুত মনেই পড়েনি।'
'এত ভাবাভাবির কী আছে! আমি বলি তাহলে?'
'বল্ তো দেখি।'
'রাগ করতে পারবে না কিন্তু!'
'বাহ্। রাগ করব কেন? আচ্ছা! তাহলে তোদের ধারণা, আমি কেবল রাগই করি। কেমন?'
"তাহলে বলি। মাসহ 'বলাকা'র ছবিটা দেখে এসো! আচ্ছা বাবা, মনে করতে পারো_কবে তোমরা একসঙ্গে সিনেমা দেখেছো?"
'যাহ্ পাজি মেয়ে! তোর মাকে বলে দেখ্ না গিয়ে, মার খাবি!'
'বা রে, আমি বলতে যাব কেন? আর বললেও মা শুনবে কেন আমার কথা? তুমি আগ্রহ করে একটু জোর দিয়ে বললে মা কখ্খনো কিছুই মানা করবে না।'
তাই তো। আশাকে কখনো আমি একটু আগে বেড়ে কিছু দিতে চেয়েছি বলে তো মনে পড়ে না। দাবি করে কিছু আদায় করার মানুষ তো সে নয়ই। আমাদের পিরামিড-চাপা জীবনযাপন তাহলে মেয়েদেরও দৃষ্টি এড়ায়নি। কী অস্বাভাবিক শৃঙ্খলা! কী নির্মম যান্ত্রিকতা! সামিনার সমীক্ষা নির্ভুল। অবশ্য আমাদের এই করুণ বন্দিদশার পেছনে আশার কিছু অবিবেচনাও কাজ করে এসেছে। যেমন তার বিচারে, ছেলেমেয়েদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উৎসবই আনন্দের হতে পারে না_এমন কি নিউ মার্কেটে গিয়ে মাসের তেল-নুন-মসলা কেনাকাটার প্রোগ্রামও না। আজ অবশ্য ওদিকটার ভাবনা ঠিকই নেই।
অতএব, আর আলাপ-প্রস্তাব নয়, একেবারে সারপ্রাইজ দেব। শুধু অফিস-ফিরতি দুখানি টিকিট কিনে নিয়ে আসা। হল তো কাছেই। রিকশার জটিল প্রশ্নটিও নেই। নিরুত্তাপ বিকেলি রোদে হাঁটতে হাঁটতে চলে যাব_সেই বিশ্ববিদ্যালয়-জীবনে জলি-ডলিদের সঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিল কি পাবলিক লাইব্রেরির দিকে যাওয়ার মতো। এবার কিন্তু সত্যি সত্যি লেট হতে চলল। ব্যস্তসমস্ত হয়ে মোটর সাইকেলে গিয়ে হাত দিতেই ছুটে এসে দুঃসংবাদটা দিল টিটু :
'বাবা! সাইকেলটা কোনোমতেই স্টার্ট নিল না।'
'কেন? চাকা দিস্নি সারাতে?'
'হেঁটে গিয়ে দিয়ে এসেছি।'
ঠিক এই সময় সুরটা কাটল। হন্তদন্ত হয়ে কিচেন থেকে ছুটে এসে, বিরক্তিকর কণ্ঠে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করে বসল আয়েশা :
'কোথায় যাচ্ছো, রেশনের টাকা না দিয়ে?'
এমনিতেই প্রায় লেট হয়ে অফিস-ছোটা। তার মুখে সাইকেল বিগড়ানোর খবর। মেজাজটা বিচ্ছিরি হয়েই ছিল। তার ওপর এ সময় অঙ্গময় রান্নাঘরের নোংরামি নিয়ে আয়েশার আবির্ভাব, আবার আপত্তিকর বাচনভঙ্গিতে অস্বস্তিকর প্রশ্ন। সব কিছু মিলিয়ে মাথাটা ধপ করে জ্বলে উঠল :
'একটু ভদ্রতা বাঁচিয়ে কথা বলতে জানো না? কোথায় যাচ্ছি সে তো তোমার জানার কথা। চোরের মতো পালাচ্ছি মনে হচ্ছে কেন শুনি?'
'অত মনে হওয়া-হওয়ি আমি বুঝি না। ভদ্রতা-অভদ্রতা মেপে কথা বলার সময়ও আমার নেই। আমি শুধু জানিয়ে দিতে চাই যে ঘরে চাল-তেল সবই শেষ। আজ রেশন না ছাড়ালে ল্যাপ্স্ তো হবেই, বিকেল থেকে চুলোও জ্বলবে না। আগামী হ্নায় চাল-কেরোসিন দেবে কি না, তারও কোনো ঠিক নেই। ব্যস্।'
ঘোষণাগুলো এক নিঃশ্বাসে শেষ করেই থপ থপ পদে আশা মঞ্চ ত্যাগ করছিল। কিন্তু পরিস্থিতির গুরুত্বটা যত পরিষ্কার হয়ে আসছিল, ভেতরে ভেতরে পরাজয়ের গ্লানিতে মেজাজটাও ততই তেঁতে উঠছিল। অবশেষে আচমকা আমার কণ্ঠ চিরে অপমানকর পর্দায় প্রায় ধমকের মতো নির্দেশটি বেরিয়ে এলো :
'দাঁড়াও! বেতন পেতেই গোটা মাসের খরচের টাকাটা যে এককালীন হাতে তুলে দিই_সেটার কি মাঝেমধ্যে পাখা গজায়?'
'গজায়। হোঁচট খেয়ে তোমার গুণধর ছেলের পায়ে যখন ফাংগাস্ গজায়, তখন দু শিশি ক্যাপসুলের দাম পঞ্চাশটি টাকা কি উড়ে আসে? সে জন্যই তো বলি, আমার হাতে টাকা-পয়সা দেওয়ারই কোনো দরকার নেই। আমি শুধু চাই_যখন যা না হলে সংসার চলে না, তখন তা যেন থাকে।'
কথার কাটাকাটি আর গলার বাড়াবাড়ি শুনে ছেলেমেয়েরা যে যেখানে ছিল, গুটিগুটি এসে কখন জানি চারপাশে নির্বাক দাঁড়িয়ে গিয়েছিল_ধরা পড়ে-যাওয়া অপরাধী চক্রের মতো!
চোখের সামনে জনক-জননীর এই হতাশ অচলাবস্থা দেখে, এক সময় সামিনাই প্রথম তার ১০ টাকার নোটখানি মায়ের দিকে নিঃশব্দে বাড়িয়ে ধরল_আমার প্রতি ভ্রূক্ষেপটিও না করে। এটাকে অগ্রজার অনুসরণীয় নেতৃত্ব জ্ঞান করে, বুঝে কিংবা না বুঝেই, শাবিনা, টিটু, টিপু, সবাই সকাল থেকে পাওয়া যার যার টাকার নোটখানি মন্ত্রমুগ্ধের মতো মায়ের দিকে বাড়িয়ে দিল।
সব অপমান, সকল উষ্মা, সকল জ্বালা বেমালুম ভুলে গিয়ে, বেহায়ার মতো হিসেব করে টাকাগুলো মিলিয়ে নিতে আশা কিন্তু বিন্দুমাত্র দ্বিধা কিংবা বিলম্ব করল না।
সকাল থেকে নবিস খেলোয়াড়রা যে যা জিতেছিল, আশা যেন এক দানেই সব কেড়ে নিল_পেশাদার জুয়াড়ীর মতো। তাসের খেলাই ছিল নাকি (নেশাটা, রোমাঞ্চটা তো তেমনি, এবং প্রথাগত ডামি হাতটাই তো জিতল)?
পলকে কোন দিক থেকে যে কী ঘটে গেল! সেই ভোর থেকেই তো উড়ছিলাম। গন্তব্যের কাছাকাছি এসেই বিধ্বস্ত হয়ে গেলাম। মস্তিষ্কের সমগ্র প্রক্রিয়া এককালীন স্থগিত হয়ে যেতেই ভয়ানক অসুস্থ বোধ করলাম। পরাভূত-পর্যুদস্ত-কিংকর্তব্যবিমূঢ় আমি, সহসা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় জড়ীভূত হয়ে আছি।
এমতাবস্থায় অভিনব এক মৌলিক সমাধান দিয়ে, আমার রক্ত-সংবহন আবার শুরু করিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিল সামিনা। যদিও সে জ্যেষ্ঠ সন্তানের দায়িত্ব পালনই করতে চাইছিল, তবু ভাবখানা এমন করল যেন মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধিই খেলে গেল হঠাৎ :
'আচ্ছা বাবা, আমরা সবাই মিলে আজ ছুটি করলে কেমন হয়? যেমন ধরো তুমিও অফিসে গেলে না_'
আমার অন্যমনস্কতার সুযোগে সে আরো একটু এগিয়ে গেল :
'কী হয়, মাঝেমধ্যে এক-আধদিন ছুটি করলে? আজ তো এমনিও হাফ ছুটি। তার ওপর তোমার সাইকেলটাও বিকল।'
প্রস্তাবটির মর্ম অপূর্ব বোধ হলো শাবিনারও :
'হ্যাঁ বাবা, এসো না। আজ আমরা ঘরে-ঘরেই না হয় একটা পিক্নিক করে ফেলি_'
আমার স্থবির নিশ্চুপতায় মেয়েদের উৎসাহ আরো বেড়ে গেল :
'চট করে একটা ছুটির দরখাস্ত লিখে দিলে, টিটু কারো হাতে দিয়ে আসবে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে।'
টিটুর আবার যানবাহনের কারিগরিতে বেজায় ঝোঁক। আমার উচ্চবাচ্য না শুনে সেও এতক্ষণে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল :
'আজ তাহলে বাবা, ডার্টি ভেস্পাটাকে একেবারে সার্ভিসিং করেই ছাড়ব!'
ঘটনার এই আকস্মিক পট পরিবর্তনে এবং আগাগোড়া ব্যাপারটির অভিনবত্বে টিপু মিয়া তো উল্লাসে উল্লম্ফনই শুরু করে দিল। এবং নাটিকাটির মূল রচয়িতাকে সবার আগে জানানির মজাটা লুফে নেওয়ার লোভে সে আচমকা চেঁচিয়েই উঠল :
'মা! আজ আমাদের পেয়ারাতলায় পিকনিক হবে। তুমি কিন্তু আজ রান্নার কাছেই যেতে পারবে না। শুধু আমাদের কাণ্ডকারখানা দেখে যাবে।'
ফাগুনের বাতাস তখনো অনর্গল আমার দিকে ধেয়ে ধেয়ে আসছিল। মুখ ফিরিয়ে নিলাম। এবং আমার চূড়ান্ত রায় শোনার জন্যে উৎকণ্ঠিত জনতার উদ্দেশে, সামিনার বনভোজন-বর্জনের অজুহাত হিসেবে উদ্ভাবিত এবং বেশ বাস্তবসম্মত সেই বাক্যটিই উৎসর্গ করে দিলাম :
'তাই হোক। আমরা তো আজ অসুস্থই।'
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
November
(2002)
-
▼
Nov 02
(63)
- দিনশেষে সায়েদাবাদে বাড়ি ফেরত মানুষের জট by মুনিফ আ...
- প্রেসক্লাব এলাকায় আটক ৩৪- নাশকতার পরিকল্পনা ছিল জা...
- ‘ভারত তাদের নীতি পরিবর্তন করেছে’
- এবার হাতির মুখে কথা! আসিফ আজিজ
- ভিয়েতনামের সঙ্গে ২টি চুক্তি ও ২টি এমওইউ সই by শাম...
- শাঁখারীবাজারঃ হেরিটেজ তালিকা থেকে বাদ না দিলে কঠোর...
- ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন মোবাইল ব্যবহারকারীরা
- সেরা যৌন আবেদনময়ী তারকা মিরান্ডা
- বিনা মস্তিষ্কে ৩ বছরঃ শেষ রক্ষা হলো না
- ছয় বছর পর নিপুণের প্রথম ছবি!
- বৃষ্টি by আলাউদ্দিন আল আজাদ
- কালো নৌকা by আল মাহমুদ
- সাইকেলে চড়ে প্রযুক্তিঃ গ্রামে গ্রামে তথ্য কল্যাণী ...
- বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময়ী নারী মিরান্ডা
- স্রোতস্বিনী ব্র্রহ্মপুত্র মরে যাচ্ছে! by এম.আব্দুল...
- নিপুণের প্রথম ছবি!
- রিমু এবার যাত্রাপালার নায়িকা
- যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রেজওয়ানের ১৭ বছর...
- এক কোটি রুপিতে নাচবেন নাথালিয়া
- বিয়ে করবেন আগামী বছর
- স্যান্ডির তাণ্ডবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০
- চাকরি হারালেন নাফিসের বাবা!
- হুজুর কেবলা by আবুল মনসুর আহমদ
- ছিনতাই by আবু রুশদ
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা by আবু জাফর শামসুদ্দীন
- সিসিমপুর- ইকরির জন্য রুমাল
- আমার গাঁ by শাহানার রশীদ
- মার ছক্কা by আহমেদ সাব্বির
- হ্যালো মিস্টার বিন by শিউল মনজুর
- অভিনন্দন by পবিত্র সরকার
- ভ্রমণ- ভ্যাটিকানের ভেনাস by লতিফুল ইসলাম
- দুই শিল্পীর যুগলবন্দী by আহমেদ মুনির
- চারুশিল্প- সমুদ্র-শহরে আর্টক্যাম্প by আবুল হাসনাত
- চাষির মুখে টপ্পা গাওয়ায় by আবদুশ শাকুর
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার- আযাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ...
- চট্টগ্রামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়- নিয়ম না মেনেই চ...
- জোঁক by আবু ইসহাক
- অসুখ by আবদুশ শাকুর
- সত্যের মতো বদমাশ by আবদুল মান্নান সৈয়দ
- কেয়া আমি এবং জার্মান মেজর by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
- গন্তব্য by আনোয়ারা সৈয়দ হক
- হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিবৃতি- মালালার অবস্থার উন্নত...
- প্রশাসনের আপস প্রস্তাবে রাজি নয় লিমন
- প্রতিক্রিয়া- মেঘকে জিজ্ঞাসাবাদ যদি করতেই হয় তবে......
- তদন্ত চলাকালেই কাজে যোগ দিলেন মসিউর
- হাতিরঝিল প্রকল্প- খেজুর, পামে বিবর্ণ প্রকল্প by ...
- দুধভাতে উৎপাত by আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- প্রসারিত হচ্ছে ইসলাম by জহির উদ্দিন বাবর
- শান্তির বিশ্ব গড়তে ঐক্যবদ্ধ হোন by মুফতি শায়খ আবদু...
- লোহার সেতু by মোঃ মোতাহের হোসেন
- সম্প্রীতি-বিভেদ নয়, ঐক্যই সব ধর্মের সারকথা by গওসল...
- রাজনীতিকরা কি সেলসম্যান? by জর্জ এফ. উইল
- সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ-রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিক উদ্যো...
- গাছ কাটা অনুমোদন-উন্নয়নের স্বার্থে সামান্য ছাড়
- অপরাধকর্মে পুলিশ-শর্ষেতেই যখন ভূত
- দীপিতার ঘরে রাত্রি by অমিয়ভূষণ মজুমদার
- হাসপাতালের শয্যা ও ওষুধ-মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে...
- গুরুতর অপরাধে পুলিশ-অবিলম্বে এই প্রবণতা রোধ করতে হবে
- চরাচর-দ্বিতীয় জীবন দান by ফাহমিদা আক্তার রিম্পি
- নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আমাদের রাজনীতি by দিল...
- স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ, না কেন্দ্রীয় সরকার প...
- বহে কাল নিরবধি-ভারত-চীন যুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তিতে প্...
-
▼
Nov 02
(63)
-
▼
November
(2002)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment