Thursday, August 27, 2026
দৈনন্দিন খাবারে সিসার ঝুঁকি থেকে কীভাবে মুক্ত হবেন by ডা. হিমেল বিশ্বাস
লেড বা সিসা একটি মৌলিক উপাদান, যা মাটি ও পরিবেশে সব জায়গায় বিদ্যমান। ফলে গাছপালা এবং প্রাণিজ খাদ্যে সামান্য পরিমাণে সিসা থাকা স্বাভাবিক। তবে এই সামান্য উপস্থিতি থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি এবং জনমনে তৈরি হওয়া আতঙ্কের মধ্যে একটি বড় ফারাক রয়েছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘ঝুঁকি উপলব্ধির ব্যবধান’।
ঝুঁকির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে শিশুরা
সিসার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, শিশুদের জন্য সিসার সংস্পর্শে আসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। এমনকি সামান্য মাত্রাও তাদের স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি করে, যা বুদ্ধিমত্তার বিকাশে বাধা দেয়। বাংলাদেশেও কোটি কোটি শিশু সিসা দূষণের শিকার।
২০২২ থেকে ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকার শিশুদের রক্তে সিসার গড় ঘনত্ব হলো লিটারপ্রতি ৬৭ মাইক্রোগ্রাম। মার্কিন রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) নিরাপদ মান লিটারপ্রতি ৩৫ মাইক্রোগ্রাম, মানে স্বাভাবিকের চেয়ে এই মাত্রা অনেকটা বেশি বলতে গেলে প্রায় দ্বিগুণ। সিসা কোনো মাত্রায় গ্রহণযোগ্য নয়। এই নীরব বিষ শিশুদের আইকিউ কমিয়ে দিচ্ছে, আচরণগত সমস্যা বাড়াচ্ছে।
তবে এ সমস্যায় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঝুঁকির মাত্রা পরিমাপের ক্ষেত্রে ‘ডোজ’ বা পরিমাণের গুরুত্ব অপরিসীম। মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) সিসা গ্রহণের যে সর্বোচ্চ দৈনিক সীমা (আইআরএল) নির্ধারণ করেছে, তা যথেষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই করা হয়েছে।
আমাদের করণীয় কী?
১. খাদ্যের বৈচিত্র্য: সিসা দূষণ এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনা। কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবার বেশি পরিমাণে বা নিয়মিত না খেয়ে, সব ধরনের খাবার পরিমিত পরিমাণে খান। এটি সিসাসহ যেকোনো পরিবেশগত দূষণকারীর সংস্পর্শ কমিয়ে দেবে।
২. সরকারি নজরদারি: সিসার প্রধান উৎস, যেমন পুরোনো রং, দূষিত পানি ও ব্যাটারি কারখানার বর্জ্য—এগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।
৩. সচেতনতা বৃদ্ধি: সিসাযুক্ত মসলা, খেলনা বা প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের মাটি বা পুরোনো পেইন্টযুক্ত দেয়ালে খেলতে নিরুৎসাহিত করুন।
প্রয়োজন দ্রুত ও সম্মিলিত পদক্ষেপ
২০৪০ সালের মধ্যে ‘সিসামুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নে গৃহীত কর্মপরিকল্পনাগুলো হচ্ছে:
১. উৎস অপসারণ: সিসা দূষণের হটস্পট চিহ্নিত করে দ্রুত অপসারণ ও মাটি পরিষ্কার করা।
২. নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগ: সিসাযুক্ত রং, মসলা ও পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রির ওপর কঠোর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
৩. জনসচেতনতা: সিসা দূষণ প্রতিরোধের উপায় (যেমন: ঘন ঘন হাত ধোয়া, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ও পুরোনো রং করা দেয়াল থেকে শিশুদের দূরে রাখা) নিয়ে ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরি করা।
সিসা নিয়ে ‘ভূতের ভয়’ নয়, বরং বৈচিত্র্যময় ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাসই হোক সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি সিসামুক্ত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।
সোর্স: ওয়েব এমডি, জার্নাল অব হেলথ অ্যান্ড পলিউশন
* ডা. হিমেল বিশ্বাস, ক্লিনিক্যাল স্টাফ, স্নায়ুরোগ বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা
![]() |
| দারুচিনি, আপেল এমনকি প্রোটিন পাউডারের মতো জনপ্রিয় পণ্যগুলোয়ও সিসা পাওয়া যাচ্ছে। ছবি: গ্রাফিকস |
Saturday, August 22, 2026
শিশু হত্যা বন্ধ হলেই আমরা ন্যায়বিচার পাব: হিন্দ রজবের মা
অনেকের কাছে, এই ফৌজদারি তদন্তের ঘোষণাটি গণহত্যা যুদ্ধের অন্যতম প্রতীকী একটি মামলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
হিন্দের মা, ওয়েসাম হামাদার জন্য, এতে খুব বেশি কিছু বদলায় না।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি শিশুরা যখন মারা যেতেই থাকে, তখন একটি সামরিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পরিমাপ করা যায় না। হিন্দের হত্যাকাণ্ড গাজার শিশুদের দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
৩০ বছর বয়সী ওয়েসাম হামাদার টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ন্যায়বিচার হলো যুদ্ধ বন্ধ হওয়া।’
২০২৪ সালের ২৯শে জানুয়ারি, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর নির্দেশে হিন্দ ও তার পরিবার গাজা শহর থেকে পালিয়ে যাচ্ছিল।
তদন্ত অনুযায়ী, তারা যখন গাড়ি চালিয়ে চলে যাচ্ছিল, তখন ইসরাইলি বাহিনী তাদের বহনকারী কালো কিয়া গাড়িটির ওপর গুলি চালায় এবং এতে ৩০০টিরও বেশি গুলি লাগে।
গাড়িচালক হিন্দের চাচা এবং অন্যান্য আত্মীয়রা নিহত হন। তার ১৫ বছর বয়সী চাচাতো বোন লায়ানও নিহত হওয়ার আগে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (পিআরসিএস) ডিসপ্যাচারদের সাথে ফোনে কথা বলতে সক্ষম হয়।
একমাত্র জীবিত হিন্দ, তার আত্মীয়দের মৃতদেহের মাঝে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে ছিল। সে সাহায্যের জন্য আকুতি জানিয়ে বারবার পিআরসিএস-কে ফোন করে।
পরে সংস্থাটি তাকে উদ্ধারের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠায়, কিন্তু অবশেষে হিন্দ এবং প্যারামেডিক উভয়ের সাথেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
হিন্দ রজবের চাওয়া সাহায্যের আকুতি গাজার সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর প্রতিধ্বনিত হয়েছে। যা তাকে শিশুদের ওপর যুদ্ধের ভয়াবহতার এক বিশ্বব্যাপী প্রতীকে পরিণত করেছে। ‘দ্য ভয়েস অফ হিন্দ রজব’ নামক একটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত তথ্যচিত্র নির্মাণে অনুপ্রেরণা জোগায়। এই তথ্যচিত্রটি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার জেতে এবং বাফটা ও অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন লাভ করে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একাধিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষিত হয়েছে, ভেস্তে গেছে বা কার্যকর হতে ব্যর্থ হয়েছে। তবুও একটি বাস্তবতা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে: ফিলিস্তিনি শিশুরা এখনো সহিংসতার প্রধান শিকার হয়ে চলেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর, ২০২৩ থেকে ৭ অক্টোবর, ২০২৫-এর মধ্যে ৬৪,০০০-এরও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।
১০ অক্টোবর, ২০২৫-এ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরেও সহিংসতা অব্যাহত ছিল। পরবর্তী ৩০০ দিনে গাজায় অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
![]() |
| হিন্দ রজবের একটি বিশাল প্রতিকৃতি তার মৃত্যুর দ্বিতীয় বার্ষিকীতে এবং তার মৃত্যু নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র অস্কার মনোনয়ন পাওয়ার পর, স্পেনের বার্সেলোনার বার্সেলোনেটা সৈকতে উন্মোচন করা হয়, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬। ছবি: সংগৃহীত। |
Friday, August 21, 2026
ইসরাইলি সেনারাই গুলি করেই হত্যা করেছিলো হিন্দ রজবকে, বাঁচাতে আসা অ্যাম্বুলেন্সেও করা হয় হামলা
২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি গাজা সিটিতে ইসরাইলি আক্রমণ থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার সময় শিশু হিন্দের পরিবারের গাড়িটি হামলার মুখে পড়ে। গাড়ির ভেতর আটকা পড়ে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের সাথে টানা তিন ঘণ্টা ফোনে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল অবুঝ শিশু হিন্দ। তাকে উদ্ধারে যাওয়া একটি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালানো হয়, যাতে দুজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন।
এতদিন ওই এলাকায় সেনা উপস্থিতির কথা অস্বীকার করে আসলেও স্বাধীন তদন্তে ইসরাইলি ট্যাংকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। দীর্ঘ আড়াই বছর পর বুধবার ইসরাইলি বাহিনী স্বীকার করে যে, তাদের সেনারাই গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। হিন্দ রজবের ঘটনা ছাড়াও দক্ষিণ গাজার রাফায় ২০২৫ সালের মার্চে ১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ত্রাণকর্মীকে হত্যার ঘটনায় ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
হামলার পর বুলডোজার দিয়ে মরদেহ ও গাড়ি গণকবরে মাটিচাপা দিয়েছিল সেনারা। তবে ২০২৪ সালের এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের গাড়িবহরে বিমান হামলায় বিদেশি ত্রাণকর্মী নিহতের ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা না নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইসরাইল। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের হত্যার ঘটনায় ইসরাইলি বাহিনীর এমন তদন্ত ঘোষণার নজির থাকলেও দোষীদের শেষ পর্যন্ত শাস্তির আওতায় আনা হয় না বললেই চলে।

Monday, August 3, 2026
গাজায় আবারও রক্তঝরা দিন, ইসরাইলি হামলায় প্রাণ গেল অনাগত শিশুসহ ১২ জনের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ‘বোর্ড অব পিস’ গাজা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়ার মাত্র দুই দিন পরই নতুন করে এই হামলা চালাল ইসরাইল।
উপত্যকাজুড়ে যা ঘটেছে—
• দক্ষিণ গাজা (খান ইউনিস): খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমের আল-কারারা এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে ইসরাইলি বিমান হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন—মাহমুদ জাকি আল-হামস (৩৮), তার স্ত্রী ফাতিমা আল-হামস (৩৭) এবং তাদের ছোট মেয়ে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। এছাড়া খান ইউনিসের কেন্দ্রে দার আল-সালাম এলাকায় ইসরাইলি গোলন্দাজ বাহিনী গোলাবর্ষণ করলেও সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
• মধ্য গাজা (দেইর আল-বালাহ): দেইর আল-বালাহর আল-মাশালা এলাকায় একটি বাড়িতে ইসরাইলি হেলিকপ্টার হামলায় কামাল আবু মুয়াইলিক (৬৮) এবং তার স্ত্রী হুদা (৫৯) নিহত হন। একই শহরে একটি মোটরসাইকেলে পৃথক বিমান হামলায় আরও দুইজন প্রাণ হারান।
• গাজা সিটি: গাজা সিটির আল-সুসি টাওয়ারের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ইসরাইলি হামলায় আব্দুল্লাহ আবু তাইফ (৩৩), তার স্ত্রী আবীর আনান (২৯), তাদের ৫ বছরের ছেলে আজ্জাম এবং তাদের অনাগত শিশু নিহত হয়। অন্যদিকে, শহরের পশ্চিমের আল-নাসর এলাকায় ফিলিস্তিন মসজিদের কাছে একটি অ্যাপার্টমেন্টে হামলায় একজন গুরুতর আহত হন এবং আল-তুফাহ এলাকায় ইসরাইলি সামরিক যান থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়।
• উত্তর গাজা: জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে সরাসরি হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং অপরজন আশঙ্কাজনকভাবে আহত হন।
যুদ্ধবিরতি ও বর্তমান পরিস্থিতি:
গত শুক্রবার ট্রাম্প ও বোর্ড অব পিস যুদ্ধবিরতির নতুন রোডম্যাপে হামাসের সম্মতির কথা জানালেও ইসরাইল এ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, অব্যাহত হামলা এবং ত্রাণ সরবরাহে বিধিনিষেধের কারণে এই যুদ্ধবিরতি কেবল একটি ‘মরীচিকা’ বা প্রতারণায় পরিণত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি চালুর পর থেকে ইসরাইল হাজার হাজার বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইসরাইলি হামলায় ইতিমধ্যে ১,২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪,০৫৩ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া এই দুই বছরের টানা সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৭৩,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৭৪,০০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত। |
Wednesday, July 22, 2026
‘এমন জন্ম, এমন মৃত্যু যেন কারও না হয়’ by মানসুরা হোসাইন
নারায়ণগঞ্জে ভুঁইগড়ের মামুদপুর কবরস্থানে নামহীন শিশুর এই কবরের পাশে দাঁড়ালে বোঝার উপায় নেই যে মৃত্যুর আগে বা পরে এই কন্যাসন্তান তার মা–বাবা বা কোনো স্বজনকেই কাছে পায়নি। তার চিকিৎসা ও দাফনের ব্যবস্থা করেছে ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশন।
কাগজে মায়ের নাম আছে, বাস্তবে মা নেই
৫ নভেম্বর ২০২৫ রাত ৩টার দিকে কে বা কারা নবজাতকটিকে শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক সমস্যা নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড মোড়ের বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন। এ সময় শিশুটির ওজন ছিল এক কেজির মতো। ভর্তির কাগজে মায়ের নাম লেখা ছিল—আঁখিমনি-রন্টি। ভর্তির পর থেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে আর খুঁজে পায়নি। যোগাযোগের যে নম্বর দেওয়া ছিল, সেই নম্বরে কেউ ফোন ধরেননি।
মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চিকিৎসক অধ্যাপক মজিবুর রহমান। তিনি মাতুয়াইলের শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক, পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে চিফ কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কন্যাসন্তানটিকে ভর্তির সময় মায়ের নাম আঁখিমনি-রন্টি বলে উল্লেখ করা ছিল। তাই তার কবরের ওপরে—বেবী অফ আঁখিমনি-রন্টি (কন্যা সন্তান) লিখে রাখা হয়েছে।
মজিবুর রহমান আরও বলেন, রাজধানীর বাইরে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম বেওয়ারিশ লাশ দাফন করে না। তাই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ভবিষ্যতে আইনি ঝামেলা এড়াতে নবজাতক উদ্ধার এবং মারা গেলে থানা ও প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়। সকালে এই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অনুমতি নিতে নিতে লাশ দাফন করতে বিকেল হয়ে গেছে। জন্ম, মৃত্যু—সব জায়গাতেই ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে নবজাতকটিকে।
বৃদ্ধাশ্রমে নিঃসঙ্গ মৃত্যু
এই নবজাতকের মৃত্যুর কয়েক দিন পর ১৪ নভেম্বর ২০২৫ রাজধানীর মেরুল বাড্ডার রাশমনা আপনঘর বৃদ্ধাশ্রমে থাকা ৯৫ বছর বয়সী মো. আবদুল আজিজ চৌধুরী মারা যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে তিনি বারবার স্বজনদের মুখ দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কেউ আসেননি। এমনকি মৃত্যুর পর খবর দেওয়ার পরও তাঁর লাশ নিতে আসেননি কেউ। বৃদ্ধাশ্রমের প্রশাসন আইনি ঝামেলা সামলে আজিমপুর কবরস্থানে তাঁর দাফনের ব্যবস্থা করেছে।
রাশমনা আপনঘর বৃদ্ধাশ্রম ও ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন জন্ম ও মৃত্যু যেন কারও না হয়।
বেসরকারি উদ্যোগ ‘ভালো কাজের হোটেল’-এর পাশাপাশি রাশমনা আপনঘর বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা মো. আরিফুর রহমান ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, গত মাসের ৮ তারিখ থেকে আবদুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তখন থেকেই তাঁর পরিবারের সদস্যদের বেশ কয়েকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তাঁরা কেউ দেখতে আসেননি। এমনকি মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পরও লাশ নেওয়া তো দূরের কথা তাঁর পরিবারের কেউ দেখতে আসেননি।
আরিফুর রহমান বলেন, ‘নিজের পরিবার অস্বীকার করলেও রাশমনা আপনঘরের পরিবার তাঁকে অস্বীকার করেনি। আমরা তাঁকে আজিমপুর কবরস্থানের দাফন করেছি।’
‘কবি কাকা’—অপরিচয়েই কাটল শেষ জীবন
আরিফুর রহমান বলেন, তিন বছর ধরে বৃদ্ধাশ্রমে থাকা আবদুল আজিজের পরিচয় ছিল ‘কবি কাকা’। বৃদ্ধাশ্রমের সবাই তাঁকে এই সম্বোধনেই ডাকতেন। তিনি কবিতা লিখতেন। আচরণ ও কথাবার্তায় সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষের ছাপ স্পষ্ট থাকলেও নিজের পরিচয় জানাতে চাইতেন না।
আবদুল আজিজের এক ভাই, এক বোন আর এক ভাগনের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করেছিল বৃদ্ধাশ্রম কর্মৃপক্ষ। এবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়ার কথা বলেছিলেন। সে সময় এবং মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের যে সদস্যদের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে ফোন কেটে দেন তাঁরা। আবদুল আজিজের ভাগনে ‘রং নম্বর’ জানিয়ে ফোন কেটে দেন জানিয়েছেন আপনঘর বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যুসনদে আবদুল আজিজের বয়স লেখা ৯৫ বছর। তবে বৃদ্ধাশ্রমে কর্মরতারা বলছেন, বয়স এর চেয়ে কম হবে। চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র, মৃত্যুসনদ ও আজিমপুর কবরস্থানের দাফন-সংক্রান্ত নথিতে রাশমনা আপনঘর বৃদ্ধাশ্রমের নাম লেখা হয়েছে।
বৃদ্ধাশ্রমে ভর্তির সময় দেওয়া তথ্যে লেখা ছিল—আবদুল আজিজের স্থায়ী ঠিকানা দিনাজপুর। অস্থায়ী ঠিকানা রংপুরের বদরগঞ্জ। বাবার নাম আমিনুল হক চৌধুরী ও মায়ের নাম ফরিদা আমিন চৌধুরী।
বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আবদুল আজিজের পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোন নম্বর নিয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে কথা বলা হয়। ভাই পরিচয় স্বীকার করলেও ওই ব্যক্তি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে ফোন কেটে দেন।
আর নিজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোন পরিচয় দেওয়া একজন নারী বলেন, তাঁরা সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। নিজের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়া বা ভাইয়ের লাশ আনা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাঁদের মা-বাবাও মারা গেছেন।
এই নারী আরও বলেন, তাঁর ভাই আবদুল আজিজ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। লেখালেখি করতেন। পৈতৃক ভিটা সম্পত্তি ভাগ–বাঁটোয়ারা হয়নি। তবে ধানি জমি ভাগের টাকা তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন।
বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আবদুল আজিজ খুব সম্ভবত সিনেমাও বানিয়েছিলেন। বৃদ্ধাশ্রমে আসা অধিকাংশ মানুষের মনে চাপা কষ্ট থাকে। অভিমান বা যেকোনো কারণে তাঁরা নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চান না।
আবদুল আজিজের শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পচন ধরেছিল। দুটি হাসপাতালে টানাটানি করতে হয়েছে। মারা যাওয়ার পরও তাঁর লাশটা পরিবারের কেউ নিতে আসেননি। এমন মৃত্যু কোনোভাবেই কারও কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন আরিফুর রহমান।
নবজাতক ও একটি চিরকুট
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরেক নবজাতক কন্যাসন্তানকে রেখে তার পরিবার উধাও হয়ে যায় বলে ৭ নভেম্বর প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। হাসপাতালের পঞ্চম তলায় শিশু ওয়ার্ডের বেডে তাকে রেখে যান স্বজনেরা। হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্ট্রারে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়—ইনছুয়ারা, শাহিনুর, আলাদিপুর, ফুলবাড়ী।
পঞ্চাশোর্ধ্ব এক দম্পতি নানা-নানি পরিচয় দিয়ে নবজাতকটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। পরে তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
শিশুটির পাশে একটি বাজারের ব্যাগ রেখে যাওয়া হয়েছিল। কিছু ওষুধ ছাড়াও জন্মের তারিখ লেখা ছিল ওই ব্যাগের ভেতর মায়ের ফেলে যাওয়া চিরকুটে। লেখা ছিল—‘আমি মুসলিম। আমি একজন হতভাগী। পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে বাচ্চা রেখে গেলাম। দয়া করে কেউ নিয়ে যাবেন। বাচ্চার জন্মতারিখ ৪ নভেম্বর ২০২৫ (মঙ্গলবার)। এগুলো সব বাচ্চার ওষুধ...।’
প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশের পর অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। বর্তমানে শিশুটি দিনাজপুরের অরবিন্দু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মজিবুর রহমান বলেন, সামাজিক বা পারিবারিক কোনো কারণে এই নবজাতকদের তাদের পরিবার ফেলে রেখে যায়। তারা বেঁচে থাকতেই মা, বাবা বা অন্য কোনো অভিভাবক পাওয়া যায় না। আর মারা গেলে তো আরও পাওয়া যায় না। তাই কন্যাসন্তানটির পরিচয় জানার আর কোনো উপায় নেই।
মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশন রাস্তায় ফেলে যাওয়া নবজাতকদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ হওয়ার পরে আদালতের মাধ্যমে অভিভাবক খুঁজে পেতে সহায়তা করে। হাসপাতালটিতে এই ধরনের বেওয়ারিশ নবজাতকদের জন্য আলাদা একটি বিভাগ আছে। ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত উদ্ধারের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট নবজাতক মারা গেছে। হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আরও সাত নবজাতক। অনেককে নতুন পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মজিবুর রহমান।
![]() |
| বৃদ্ধাশ্রমে থাকা প্রয়াত মো. আবদুল আজিজ চৌধুরীর (ডানে) সঙ্গে আপনঘর বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা মো. আরিফুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত |
Saturday, July 18, 2026
যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় প্রতিদিন একজন শিশু নিহত
ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু নিহত হচ্ছে। পত্রিকাটির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে এ পর্যন্ত ২৭৪ জন শিশু ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছে। খবর আনাদোলু।
শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ২১ হাজারের বেশি শিশু নিহত হয়েছে। হারেৎজের তথ্যমতে, নিহত শিশুদের অধিকাংশই বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া স্নাইপারের গুলি, ভবন ধসে পড়া এবং গোলার স্প্লিন্টারের আঘাতেও অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজার ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে চিকিৎসার অভাবে অনেক শিশু মারা গেছে। এছাড়া ক্ষুধা ও রোগে আরও শিশু প্রাণ হারালেও তাদের এই মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখিত পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
হারেৎজ গাজার মানবিক সংকট আরও তীব্র হওয়ার কথাও তুলে ধরে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপুলসংখ্যক বাড়িঘর এখনো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে আছে এবং প্রায় ১৭ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশন সুবিধাবিহীন তাঁবুতে বসবাস করছে।
এতে আরও বলা হয়, তাঁবু শিবিরগুলোতে ইঁদুর ও মশার উপদ্রব বেড়েছে, সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে এবং তীব্র গরম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে হাজারো মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ১২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৬৪৩ জন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি আগ্রাসী হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ২৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫১ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত। |
শিশুর সুস্থতায় শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবারের গুরুত্ব by অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী
কেন আঁশযুক্ত খাবার দরকার
* বৃহদন্ত্রে থাকা ব্যাকটেরিয়া এসব আঁশযুক্ত খাবারের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তৈরি করে প্রোবায়োটিকস, যা অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবাণুগুলোকে পুষ্টি জোগায়।
* পরিপাকতন্ত্রে থাকা বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন এবং ক্যানসার তৈরির উপাদান বিনষ্ট করে দেয়।
* মলের আয়তন ধরে রাখে। ফলে শিশুর কোষ্ঠবদ্ধতার নিরসন হয়।
* আঁশ পাকস্থলী থেকে খাবার অন্ত্রে যাওয়ার সময় বৃদ্ধি করে মানে পরিপাকতন্ত্রের চলনকে ধীর করে এবং এভাবে শিশুর খিদে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
* ফলমূল-শাকসবজি খাওয়া হলে শর্করাজাতীয় পানীয় পানের ফলে দেহে হঠাৎ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি কম থাকে।
* শিশুর দৈনন্দিন খাবারে আঁশযুক্ত ফলমূল, শাকসবজি বা দানাদার খাবার শিশু বয়সে ডায়াবেটিস, মুটিয়ে যাওয়া, রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, কোলন ক্যানসার ও আইবিডির মতো অন্ত্রের রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে উপকারী।
শিশু কতটুকু আঁশ খাবে
শিশুর খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন ন্যূনতম আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ নির্ণয়ে নিম্নোক্ত ফর্মুলা ব্যবহার হয়। শিশুর বয়স (বছর) + ৫ = আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ (গ্রাম হিসাবে)। যেমন—১ বছর বয়সের একটি শিশুর জন্য আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ হবে: ১+৫ = ৬ গ্রাম/প্রতিদিন।
* অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী, সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
![]() |
| শিশুর খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন আঁশযুক্ত খাবার থাকা দরকার। ছবি: পেক্সেলস |
Monday, July 13, 2026
শিশুকে ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে কী হয় by ডা. মানিক মজুমদার
রোগ প্রতিরোধক্ষমতায় প্রভাব
শিশুকে অপ্রয়োজনে বারবার অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো তার দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এতে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো শিশুর হজমশক্তি স্বাভাবিক রাখা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে জরুরি। বারবার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে শিশু ঘন ঘন অসুস্থ হয়। সাধারণ সর্দি-কাশির সঙ্গেও শিশুর ইমিউন সিস্টেম লড়াই করতে পারে না।
ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি হলো ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স। অপ্রয়োজনে বা অসম্পূর্ণ কোর্সে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে শিশুর শরীরের ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে সেই ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে যখন শিশু সত্যিকারের মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আক্রান্ত হয়, তখন অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করে না। বাংলাদেশে এখন এমন শিশু নিয়মিতই পাওয়া যায়, যাদের শরীরে ছয়-সাত ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আর কোনো প্রভাব ফেলছে না। এ পরিস্থিতি কতটা ভয়ংকর তা কল্পনারও অযোগ্য।
মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব
অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পর ডায়রিয়া, বমি, অ্যালার্জি বা ত্বকে র্যাশ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। গবেষণায় উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য—শিশুর জীবনের প্রথম দিকে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা দিতে পারে। মনোযোগের ঘাটতি, অতিরিক্ত চঞ্চলতা ও নানা আচরণগত সমস্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
করণীয়
প্রথমত, কখনো নিজ থেকে বা দোকানির পরামর্শে শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াবেন না। কেবল নিবন্ধিত চিকিৎসক বা শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শে খাওয়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, মনে রাখবেন—ভাইরাসজনিত সাধারণ সর্দি, কাশি বা জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। সঠিক যত্নে এসব কিছুটা সময় নিয়ে এমনিতেই সেরে যায়। শিশুর পুষ্টি ও বিশ্রামের দিকে নজর দিন। তৃতীয়ত, চিকিৎসক যদি অ্যান্টিবায়োটিক দেন, পুরো কোর্স শেষ করুন। মাঝপথে বন্ধ করলে ড্রাগ রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ে। চতুর্থত, স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে শিশুকে সঠিক সুষম পুষ্টিকর খাবার দিন। সংক্রমণ এড়াতে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি ও হাঁচি–কাশির শিষ্টাচারের দিকে লক্ষ রাখুন।
* ডা. মানিক মজুমদার, কনসালট্যান্ট (শিশুরোগ) পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি. ময়মনসিংহ
![]() |
| বাংলাদেশে এখন এমন শিশু নিয়মিতই পাওয়া যায়, যাদের শরীরে ছয়-সাত ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আর কোনো প্রভাব ফেলছে না। ছবি: পেক্সেলস |
Monday, July 6, 2026
বাল্যবিবাহ এবং আমাদের মাধ্যমিক পড়াশোনায় বাধা by জান্নাতি আক্তার
আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, একটি মেয়েকে স্কুলে যাওয়ার বয়সে যদি ঘরে আটকে রাখা হয়, তার জীবন কতটা কঠিন হয়ে যায়? সে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখতে চায়, বন্ধুদের সঙ্গে খেলার আনন্দ উপভোগ করতে চায়, নতুন কিছু শিখতে চায়, কিন্তু সে বাধাপ্রাপ্ত হয়। স্কুলে নিয়মিত যাওয়া কঠিন হয়ে যায়, পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি অসম্ভব হয়ে যায়, হোমওয়ার্ক করা মুশকিল হয়ে ওঠে। তার স্বপ্ন থেমে যায়।
মাধ্যমিক শিক্ষা হলো এমন এক সময়, যখন একটি শিশু তার ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করে। কিন্তু বাল্যবিবাহ সেই সময়কেই ভেঙে দেয়। ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত থাকা, পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া, নতুন কিছু শেখা—সবই বাধাপ্রাপ্ত হয়। ঘরের দায়িত্ব, সংসার পরিচালনা, সন্তান দেখাশোনার মতো দায়িত্ব এসে চাপ সৃষ্টি করে। ফলে সে তার স্বপ্ন পূরণের পথ হারিয়ে ফেলে।
শুধু পড়াশোনা নয়, বাল্যবিবাহ মেয়েদের মানসিক ও সামাজিক জীবনকেও প্রভাবিত করে। বন্ধুর সঙ্গে খেলার সময় কমে যায়। নতুন কিছু শেখার সুযোগ সীমিত হয়। সমাজের নানা রকম সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়। কেউ বলে, ‘ছোট বয়সে বিয়ে করলে কী হবে?’ বা ‘এটা ঠিক হয়নি।’ এই কথাগুলো শিশুর মনকে আরও দমিয়ে দেয়, তার স্বপ্নের জগৎকে ছোট করে দেয়।
বাল্যবিবাহের ফলে স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মেয়েরা প্রাকৃতিকভাবে বয়সের জন্য প্রস্তুত নয়। যখন তারা সন্তান ধারণ করে, তখন তাদের শরীর ও মন উভয়ই প্রভাবিত হয়। ক্লাসে যাওয়া বা হোমওয়ার্ক করা কঠিন হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার পথ বন্ধ হয়ে যায়।
মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারে বাল্যবিবাহের প্রভাব আরও বেশি। অনেক পরিবার মেয়েকে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার চেয়ে বিয়ে করাতে আগ্রহী। কেউ ভাবেন, ‘মেয়ের নিরাপত্তা সবচেয়ে বড়।’ কিন্তু বাস্তবে নিরাপত্তার নামে মেয়েদের পড়াশোনা ও স্বপ্ন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। স্কুল হলো প্রতিটি শিশুর জন্য জ্ঞান ও স্বাধীনতার জায়গা। বাল্যবিবাহ তা বন্ধ করে দেয়।
আপনি যদি একনজরে দেখেন, দেশের বহু গ্রামের মেয়েরা মাধ্যমিক স্তরে পৌঁছাতে পারে না। তারা ছোট বয়সেই সংসারের দায়িত্বে আবদ্ধ হয়। বন্ধুর সঙ্গে খেলাধুলা, স্কুলে যাওয়ার আনন্দ, নতুন বই পড়ার সুযোগ—সবই সীমিত হয়ে যায়। অনেক সময় তারা হতাশ হয়। স্বপ্ন দেখতে ভয় পায়। তারা মনে করে, ‘আমার জীবন শেষ।’
তবে শুধু স্কুলে যাওয়া বন্ধ হওয়া নয়; বাল্যবিবাহ মেয়েদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তিকেও নষ্ট করে। তারা নিজের ক্ষমতা ও সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করে। মনে হয়, ‘আমি কীভাবে বড় হয়ে নিজের জীবন গড়ব?’ বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়। নতুন কিছু শেখার আগ্রহও কমে যায়। মানসিক চাপ বাড়ে।
আমরা যদি সত্যিই চাই আমাদের মেয়েরা স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, তাহলে বাল্যবিবাহ রোধ করা অত্যন্ত জরুরি। পরিবার, শিক্ষক, সমাজ, সরকার—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মা–বাবা যদি সচেতন থাকেন, তাঁরা মেয়েকে ছোট বয়সে বিয়ে না দিয়ে পড়াশোনায় সহায়তা করতে পারেন। তাঁরা মেয়েকে বলবেন, ‘তুমি পড়াশোনা করো, বড় হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াও।’ এই ছোট্ট কথাগুলোই মেয়ের জন্য বড় শক্তি। শিক্ষকেরা মেয়েদের উৎসাহিত করবেন। বন্ধুরা সহমর্মিতা দেখাবে। সমাজও সমর্থন করলে বাল্যবিবাহ রোধ করা সম্ভব।
আইনও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আইন আছে। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয় না। অনেক পরিবার আইনের উপেক্ষা করে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেয়। স্কুলের পরিবেশ, সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি আর আইনের কঠোর প্রয়োগ—সব মিলিয়ে আমাদের সমাজে মেয়েদের শিক্ষার পথ খোলা রাখতে হবে।
মাধ্যমিক পড়াশোনা মেয়ের জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি তার স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ, কর্মসংস্থান ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। বাল্যবিবাহ সেই সম্ভাবনা কেড়ে নেয়। তাই আমাদের সচেতন হতে হবে। প্রতিটি মেয়েকে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে, তার পড়াশোনা চালিয়ে নিতে হবে।
আজও অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে পড়েছে। কেউ চাকরি করছে না, কেউ ব্যবসা করছে না, কেউ একাই সংসার সামলাচ্ছে। তারা প্রমাণ করছে—বাল্যবিবাহ শুধু তাদের শিক্ষা ও স্বপ্নকে থামায়, কিন্তু সাহস ও সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নষ্ট করতে পারে না। তারা বড় হয়ে জীবন গড়ার চেষ্টা করছে।
আমরা সবাই যদি সচেতন হই, তাহলে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব। পরিবার, শিক্ষক, বন্ধু, সমাজ—সবাইকে মেয়েদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের শিক্ষা চালিয়ে নিতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা শেষ করার সুযোগ দিতে হবে। এভাবে তারা স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।
শিক্ষিত মেয়ে শুধু নিজের জীবন গড়বে না, সমাজ ও দেশের জন্যও উপকার করবে। সে ভালো চাকরি করতে পারবে। নিজের পরিবারকে সাহায্য করতে পারবে। সন্তানদের ভালোভাবে মানুষ করতে পারবে। সমাজে উদাহরণ স্থাপন করতে পারবে। বাল্যবিবাহ সবকিছু ধ্বংস করে। তাই এটি রোধ করা জরুরি।
আমাদের সমাজের প্রত্যেককে বোঝানো দরকার, বাল্যবিবাহ মানে কোনো সুবিধা নয়; এটি শিশুর জীবন, স্বপ্ন ও শিক্ষা নষ্ট করে। আমাদের কাজ হলো মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ দেওয়া, তাদের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করা। ছোট্ট শিক্ষার্থীরাও বুঝতে পারবে—পড়াশোনা করা জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
* জান্নাতি আক্তার, শিক্ষার্থী
- ঝুমুরবাড়ি দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়

Sunday, July 5, 2026
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ‘প্রজনন গণহত্যা’ : লক্ষ্য মা ও শিশু
ফিলিস্তিনি নারীবাদী গোষ্ঠীর নতুন একটি প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইল এই বর্বরতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে, যার উদ্দেশ্য ফিলিস্তিন থেকে জীবনের চিহ্ন মুছে ফেলা।
জাতিসঙ্ঘের তদন্ত কমিটি নিশ্চিত করেছে, ইসরাইলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের টার্গেট করছে। স্নাইপার ও ড্রোন দিয়ে নিখুঁত নিশানা, বন্দিশালায় নির্যাতন, প্রজনন সহিংসতা এবং স্কুল-হাসপাতাল ধ্বংসের মাধ্যমে শিশুদের ওপর চরম আঘাত হানা হচ্ছে।
ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ২১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে এবং কমপক্ষে ১৫ হাজার শিশু তাদের মাকে হারিয়েছে। আল-নাসর শিশু হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ইসরাইল। পরে হাসপাতালটির ইনকিউবেটরে থাকা চার শিশুর পচাগলা লাশ উদ্ধার করা হয়।
ফিলিস্তিনি নারীবাদী গোষ্ঠী ১৮৮ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যার শিরোনাম ‘একটি শিকারী রাষ্ট্র : ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের পদ্ধতিগত যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা’।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি নারীদের ওপর পদ্ধতিগত যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা চালাচ্ছে ইসরাইল। পানি ও স্যানিটারি পণ্য আটকে দেয়ায় তীব্র সঙ্কটে পড়েছেন নারীরা। বোমাবর্ষণে ধ্বংস হওয়া হাসপাতালে জ্বালানি, বিদ্যুৎ বা চেতনানাশক কিছুই নেই।
আন্তর্জাতিক চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অ্যানেস্থেশিয়া ছাড়াই সেখানে সিজারিয়ান অপারেশন করতে হচ্ছে। প্রসূতি মায়েরা ডায়াপার, খাবার ও পানি পাচ্ছেন না। আইভিএফ ক্লিনিক ধ্বংস এবং সাদা ফসফরাসের মতো বিষাক্ত অস্ত্রের ব্যবহার ফিলিস্তিনিদের প্রজনন ক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ‘ব্যাপক অনাহার, বাস্তুচ্যুতি ও মহামারীর মধ্যেও সন্তান জন্মদান এবং তাদের বাঁচিয়ে রাখার এক অসম্ভব লড়াই একা কাঁধে বয়ে বেড়াচ্ছেন ফিলিস্তিনি মায়েরা।’
রানিয়া আবু আনজা নামে এক নারী ১০ বছর চিকিৎসার পর যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। কিন্তু ইসরাইলি বিমান হামলায় তার স্বামী ও দুই সন্তানই নিহত হয়। জোমানা আরাফা নামে আরেক মা যমজ সন্তান জন্ম দেন। এর ঠিক দু’দিন পর তথাকথিত নিরাপদ অঞ্চলেই তিনি এবং তার দুই শিশু ও মা নিহত হন। সন্তানদের জন্মনিবন্ধন আনতে বাইরে যাওয়ায় বেঁচে যান তার স্বামী।
ইসরাইল মূলত ফিলিস্তিনিদের বংশবৃদ্ধিকে ভয় পায়। এর আগে ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ার বলেছিলেন যে, তার দুঃস্বপ্ন শুরু হয় যখন তিনি ভাবেন ‘আরেকটি ফিলিস্তিনি শিশু জন্ম নেবে’।
জাতিসঙ্ঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ বলেছেন, ‘এটি এমন এক ব্যবস্থার কলঙ্কজনক দলিল যা ফিলিস্তিনিদের জীবন, শরীর ও পরিবারকে দমনের হাতিয়ারে পরিণত করেছে।’
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
![]() |
| মায়ের কোলে এক ফিলিস্তিনি শিশু। সংগৃহীত |
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1782)
-
▼
August
(329)
-
▼
Aug 30
(14)
- লেবাননে সমৃদ্ধ ইতিহাসের নতুন তথ্য, মিলছে হাজার বছর...
- আরব বিশ্বে বাড়ছে খাদ্য ও পানির সংকট, মরুকরণে ব্যাহ...
- তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে চাপে নেতানিয়াহু
- ইরান যুদ্ধে অস্ত্রের মজুত ‘সংকটজনক’, চীন-রাশিয়া মো...
- নিষেধাজ্ঞায় কি নত হবে ইরান, ট্রাম্পের সামনে বড় প্রশ্ন
- ব্যাগে ছয় দেশের পাসপোর্ট, বেনজীর এখন সেন্ট লুসিয়ায়...
- ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ এখন রড-সিমেন্টের কারবারি by নাজমু...
- ইরানের হুমকি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরলেন নে...
- পশ্চিম তীরের গ্রামের একমাত্র প্রবেশপথ বন্ধ করে দিল...
- ইরান যুদ্ধ ও বাণিজ্য উত্তেজনা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে...
- কেন লোকচক্ষুর আড়ালে ব্যারন ট্রাম্প
- ক্যানসারের চিকিৎসার মধ্যেই সিনেমার কাজ, কঠিন লড়াইয়...
- কিয়েভের কাছে গোলাবারুদের গুদামে রাশিয়ার হামলা, নিহ...
- কলকাতার মুসলিম কলোনিতে এক মাস ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ...
-
▼
Aug 30
(14)
-
▼
August
(329)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...







