Showing posts with label প্রকৃতি. Show all posts
Showing posts with label প্রকৃতি. Show all posts

Sunday, July 29, 2018

বৃষ্টির ঘ্রাণ কেন ভালো লাগে আমাদের?

সম্প্রতি জানা গেছে, দীর্ঘ সময় শুষ্ক আবহাওয়ার পর বৃষ্টির পরমুহুর্তে সৃষ্ট ঘ্রাণ বিভিন্ন কারণে মানুষের স্নায়ুতে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরী করে।
এই ভালো লাগার পেছনে রাসায়নিক বিক্রিয়াঘটিত বেশকিছু কারণ রয়েছে।
ব্যাকটেরিয়া, গাছপালা বা বিদ্যুত চমকানো - সবকিছুই বৃষ্টির সময়কার ভেজা মাটি ও নির্মল বাতাসের মনোরম সৌরভের অনুভূতি তৈরী করার পেছনে ভূমিকা রাখে।
ইংরেজিতে 'পেট্রিকোর' নামের এই সুঘ্রাণের উৎসের সন্ধানে বহুদিন ধরেই গবেষণা চালাচ্ছেন বৈজ্ঞানিকরা। ভেজা মাটি
১৯৬০ সালে দু'জন অস্ট্রেলিয় গবেষক প্রথম এই নামকরণ করেন। বৃষ্টি যখন প্রথম শুষ্ক মাটি স্পর্শ করে তখন আমরা যে উষ্ণ, সোঁদা গন্ধ পাই তা ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয় বলে জানান তারা।
যুক্তরাজ্যের জন ইনস সেন্টারের আণবিক জীবাণুবিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক মার্ক বাটনার বলেন, "মাটিতে এই ব্যাকটেরিয়া প্রচুর পরিমাণে আছে।"
বিবিসিকে তিনি বলেন, "আপনি যখন মাটির সোঁদা গন্ধ পান তখন আসলে বিশেষ একধরণের ব্যাকটেরিয়ার তৈরী করা অণু গন্ধ পান আপন।"
জিওসমিন নামের ঐ অণু স্ট্রেপটোমাইস দিয়ে তৈরী হয়, যা সাধারণত উর্বর মাটিতে উপস্থিত থাকে। বৃষ্টির পানির ফোঁটা মাটি স্পর্শ করলে মাটিতে উপস্থিত জিওসমিন বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৃষ্টির পর আরো অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।
অধ্যাপক বাটনার বলেন, "অনেক প্রাণীই এই গন্ধের বিষয়ে সংবেদনশীল হলেও মানুষ এ সম্পর্কে অতিরিক্ত অনুভূতিশীল।"
এই গন্ধকে 'পেট্রিকোর' নাম দেয়া দু'জন গবেষক ইসাবেল বেয়ার আর আর.জি. থমাস ১৯৬০ সালে জানতে পারেন যে সেসময় ভারতের উত্তর প্রদেশে এই ঘ্রাণ আহরণ করে সুগন্ধি হিসেবে বিক্রি করা হতো 'মাটি কা আত্তর' নামে।
বর্তমানে সুগন্ধি তৈরীর কাঁচামাল হিসেবে জিওসমিনের ব্যবহার বাড়ছে।
তবে জিওসমিনের গন্ধ ভালবাসলেও, অনেকেই কিন্তু এর স্বাদ অপছন্দ করেন।
মানুষের জন্য এটি ক্ষতিকর না হলেও পানিতে বা ওয়াইনে সামান্য পরিমাণ জিওসমিনের উপস্থিতিও সহ্য করতে পারেন না অনেকেই। ডেনমার্কের আলবর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেপ্পে নিয়েলসেন বলেন, "স্বাভাবিকভাবে প্রকৃতিতে যে মাত্রায় পাওয়া যায়, সেই পরিমাণ জিওসমিন মানুষের জন্য ক্ষতিকর না হলেও মানুষ কেন এর স্বাদ পছন্দ করে না সেসম্পর্কে এখনো কিছু জানি না আমরা।"
পেট্রিকোর:পরিভাষা
নেচার জার্নালে প্রকাশিত হওয়া বৈজ্ঞানিক ইসাবেল জয় বেয়ার ও রিচার্ড থমাসের ১৯৬৪ সালের প্রবন্ধ "ন্যাচার অব আর্গিলেশাস ওডর"এ প্রথমবার এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
গ্রীক শব্দ 'পেত্রোস' ও 'ইকোর' থেকে উদ্ভূত হয়েছে এই শব্দ। পেত্রোস অর্থ 'পাথর' আর ইকোর অর্থ 'ঈশ্বরের শিরায় প্রবাহিত তরল।'
গাছ
বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে অধ্যাপক নিয়েলসেন বলেন জিওসমিন তারপিনের সাথেও সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক গাছে উদ্ধৃত সুঘ্রাণের উৎস তারপিন।
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল বোটানি গার্ডেনসের গবেষণা প্রধান ফিলিপ স্টিভেনসনের মতে বৃষ্টির কারণে এসব সুবাস প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে। গাছে উপস্থিত যেসব রাসায়নিক সুগন্ধ তৈরী করে সেগুলো অনেকসময় পাতার মধ্যে তৈরী হয় এবং বৃষ্টির কারণে এগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ফলে বায়ুতে নির্গত হয়।"
মি. নিয়েলসেন বিবিসিকে বলেন, "শুকনা ভেষজ গুড়া করলে যেমন তার ঘ্রাণ বৃদ্ধি পায়, তেমনি দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুমের পর বৃষ্টি হলে গাছের শুকিয়ে যাওয়া অংশগুলো থেকে নতুনভাবে সুবাস তৈরী হয়।"
অতিরিক্ত শুষ্কতার ফলে গাছের অভ্যন্তরীন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার গতি ধীর হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় গাছ নতুন সজীবতা পায় এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে সুঘ্রাণ ছড়ায়। বজ্রপাত
বৃষ্টির সময় সুঘ্রাণ তৈরীর পেছনে বজ্রপাতেরও ভূমিকা রয়েছে।
বিদ্যুত চমকানোর কারণে বায়ুমন্ডলে বৈদ্যুতিক আবেশ তৈরী হওয়ায় প্রকৃতিতে ওজোন গ্যাসের একধরণের গন্ধ প্রতীয়মান হয়।
মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যারিবেথ স্টোলযেনবার্গ বলেন, "বিদ্যুৎ চমকানোর পাশাপাশি ঝড় এবং বিশেষত বৃষ্টির কারণে বাতাস পরিষ্কার হয়। যার ফলে বৃষ্টি পরবর্তী সুঘ্রাণও সহজে ছড়িয়ে পড়ে।"
সূত্রঃ বিবিসি

Saturday, January 20, 2018

সারা মাসে সূর্যের দেখা ৬ মিনিট

প্রায় এক মাস সূর্য ছাড়াই কাটিয়েছে রাশিয়ানরা। বছরের শেষ মাস এমনিতেই রাশিয়ায় ‘সবচেয়ে অন্ধকার’ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ এ সময় রাশিয়ার আকাশে সূর্য থাকে না বললেই চলে। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বর মাস রেকর্ড গড়েছে। মেঘের দয়া হওয়ায় রাশিয়া পুরো ডিসেম্বরে সূর্যের আলো দেখেছে মাত্র ছয় মিনিট। সাইক্লোনের প্রভাবে মেঘ সূর্যকে ঢেকে দিয়েছিল। খবর বিবিসির। এর আগে ২০০০ সালের ডিসেম্বরে ৩ ঘণ্টা সূর্যের আলো দেখেছিল রাশিয়া। চলতি মৌসুমে রাশিয়ায় ঠাণ্ডাও পড়েছে ভয়াবহ মাত্রায়। পূর্বাঞ্চলের ইয়াকুতিয়া শহর সবচেয়ে বেশি ঠাণ্ডার রেকর্ড করেছে।
তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৬০ ডিগ্রিরও কম। মস্কো থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার পূর্ব দিকের এ অঞ্চলটিতে অবশ্য এমনিতেই ঠাণ্ডার প্রকোপ বেশি হয়। গত সপ্তাহেও রাশিয়ার এ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৫০ ডিগ্রির মতো। কিন্তু তারপরও এবারের তাপমাত্রাকে অস্বাভাবিক বলছেন আবহাওয়াবিদরা। শীতের সময়ে সাধারণত এ অঞ্চলের অধিবাসীরা ঘর থেকে বের হন না। বন্ধ থাকে স্কুল-কলেজ। সাধারণত সতর্কতার অংশ হিসেবে এমন ঠাণ্ডায় মদ্যপান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। কারণ মদ্যপানজনিত কারণে শরীরের তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখতে গরম বা ঢিলেঢালা কাপড় পরেন তারা। কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে দেয়া হয় নানা সতর্কতা। যেমন- বাতাস এড়িয়ে চলুন, বাচ্চাদের কিছুক্ষণ পরপর উষ্ণ স্থানে আনা।

Wednesday, February 10, 2016

কুয়াশা-রোদের লুকোচুরি

বিদায়বেলায় মাঘ মাস যেন প্রকৃতির সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে। কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি, কখনো রোদ, কখনোবা কুয়াশা। গতকাল মঙ্গলবার ছিটেফোঁটা বৃষ্টি। আজ বুধবার ভোররাত থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় পুরো দেশ। এর সঙ্গে ছিল হিমেল বাতাস। কিন্তু সকাল ১০টার পর নীলাকাশে হাসি দিয়ে ওঠে রোদ।
আবহাওয়াবিদদের মতে, শীতের শেষে প্রকৃতির রূপ এমনই হয়। দিন যত যাবে, শীত সরিয়ে গরমের মাত্রা আরও বাড়তে থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুদিনে রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ২ মিলিমিটার। তবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টির মাত্রা ছিল তুলনামূলক বেশি। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বৃষ্টি হয়েছে ৭১ মিলিমিটার।
বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কমে গেছে, এর সঙ্গে কুয়াশাও পড়ছে।
আজ সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় রাজশাহীতে, ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল পটুয়াখালীতে, ২৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ এবং আজ সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ সময় বৃষ্টি হলে সাধারণত কুয়াশা পড়ে। গত দুদিনের বৃষ্টির কারণেই আজ সকালে এই কুয়াশা পড়েছে। কুয়াশার মাত্রা ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বেশি ছিল

Sunday, February 7, 2016

গাছ থেকে পড়ছে কাক, তারপর মরছে

গাছ থেকে পড়ে যাচ্ছে কাক, কিছুক্ষণ পরই মারা যাচ্ছে। এক সপ্তাহে রাজশাহী নগরে এভাবে শতাধিক কাকের মৃত্যু হয়েছে। আর অধিক সংখ্যক কাক মারা গেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে। বিষয়টিতে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকার একটি বিশেষজ্ঞ দল এসে অসুস্থ ও মরা কাকের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের গাছগুলোতে অনেক কাক থাকে। স্থানীয় লোকজন জানান, গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ এসব গাছ থেকে কাক মাটিতে পড়তে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যে বেশকিছু কাক মারাও যায়। এ ছাড়া নগরের শালবাগান, উপশহর ও সাহেববাজার এলাকার রাস্তার ধারে বেশ কিছু কাক মরে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টা আমিও শুনেছি। তবে ঠিক কী কারণে কাক মারা যাচ্ছে, আমার জানা নেই।’ মানুষের ওপর প্রভাব পড়বে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা মানুষের জন্য খারাপ কি না, পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে বলা যাচ্ছে না।’
রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুক হোসেন বলেন, বিভিন্ন জায়গায় কাক মরে পড়ে থাকতে দেখে ভয় হচ্ছে। হয়তো কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কাকের মৃত্যু হচ্ছে। এখন এর থেকে মানুষের কোনো ক্ষতি হয় কি না, তা নিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার।
এদিকে কাকের মৃত্যুর কারণ খুঁজতে গতকাল শুক্রবার ঢাকা থেকে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) একটি বিশেষজ্ঞ দল এসেছিল। দলের সদস্যরা নগরের বিভিন্ন জায়গা থেকে অসুস্থ ও মৃত কাকের লালা, রক্ত ও মল সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন। যোগাযোগ করা হলে এই দলের কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

Sunday, December 27, 2015

একমাত্র প্যাপিরাসগাছের মৃত্যু by মোকারম হোসেন

ঢাকায় বলধা গার্ডেনের বিরল সংগ্রহ একমাত্র প্যাপিরাসগাছটি এখন আর নেই। দুর্লভ এই গাছটি দীর্ঘদিন ধরে বলধা গার্ডেনের সাইকিতে সংরক্ষিত ছিল। এ বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে কনকসুধার ছবি তুলতে গিয়ে জানতে পারি প্যাপিরাসগাছটি নেই। সাইকিতে ঢোকার পর ডান দিকে রোজক্যাকটাসের পাশে টবের ভেতরেই ছিল গাছটি। জানামতে, দেশে আর কোনো প্যাপিরাসগাছ নেই। আমাদের অবহেলায় একটি উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্ত হলো। কারণ জানতে চাইলে বাগানের কর্মীরা জানান, এ বছর অতিবৃষ্টিতে বাগানের ভেতর জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বৃষ্টির পানির সঙ্গে পয়োনিষ্কাশন নালার ময়লা গাছের গোড়ায় জমে থাকায় গাছটির মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হয়, বাগান তৈরির সূচনা পর্বেই বৃক্ষপ্রেমিক জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায় প্যাপিরাসগাছটি এখানে নিয়ে আসেন।
দেশের প্রকৃতিপ্রেমিক লেখক ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বলধা গার্ডেন সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিল। গুরুত্বপূর্ণ এই বাগানের চারপাশে অনেক সুউচ্চ স্থাপনা তৈরি হওয়ায় সেখানকার উদ্ভিদবৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি বর্ষায় নিয়মিত জলাবদ্ধতার কারণেও প্রতিবছর অনেক গাছপালার মৃত্যু হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে এখানকার বিলুপ্ত গাছের তালিকা প্রতিনিয়তই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অচিরেই এই বাগান ধ্বংস হবে। দেশের উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও নিসর্গীদের মতে, মূল গাছগুলো অক্ষত রেখে চারা–কলমের মাধ্যমে বাগানের গাছগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে বলধা গার্ডেনের আদলে আরেকটি বাগান তৈরি করা উচিত। তাহলে বাগানটি নিশ্চিত বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে। হারিয়ে যাবে না প্যাপিরাসের মতো দুষ্প্রাপ্য গাছগুলো। শুধু উল্লিখিত গাছটিই নয়, বাগানে এমন আরও অনেক গাছ রয়েছে, যার দ্বিতীয়টি কোথাও সংরক্ষিত নেই। এ ধরনের কোনো একটি গাছ বাগান থেকে হারিয়ে যাওয়া মানে সারা দেশ থেকেই চিরতরে হারিয়ে যাওয়া।
এখানকার বিলুপ্ত গাছের তালিকা প্রতিনিয়তই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অচিরেই এই বাগান ধ্বংস হবে প্যাপিরাস (Cyperus papyrus) মূলত প্রাচীন লেখার উপকরণ। প্যাপিরাসের বাকলে লেখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ দলিল এখনো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাচীন জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। তবে প্রাচীন লেখার আরেক উপকরণ ভূর্জপত্রের গাছটি এখনো বাগানের সাইকি অংশে বেঁচে আছে। প্রাচীন মিসরীয়রা প্যাপিরাসের কাণ্ড থেকে একধরনের কাগজ তৈরি করত। একাধিক গাছের সংগৃহীত বিভিন্ন অংশ জোড়া দিয়ে একটি পরিপূর্ণ লেখার উপকরণ বানানো হতো। প্যাপিরাসগাছ এক থেকে চার মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কাণ্ড খুব নরম এবং গোড়ার দিকে মানুষের হাতের কবজির মতো মোটা। মোথা বেশ শক্ত। মোথা থেকে গজানো নতুন চারা লালচে বাদামি রঙের আবরণে ঢাকা থাকে। মাথার দিকে পাতার ভারে কাণ্ড অনেকটা নুয়ে পড়ে। গাছের পাতা দেখতে কোঁকড়ানো খসখসে চুলের মতো। পাতা ছোট, মূল শক্ত। মিসরীয়রা প্যাপিরাসগাছের সরু লম্বা ডাঁটি দিয়ে মাদুর ও নৌকার পাল তৈরি করত। কাণ্ডের ভেতরের মজ্জা শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করত। ইথিওপিয়া ও নীল নদের উজানে এখনো প্যাপিরাসগাছ দেখা যায়। সাধারণত ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এ গাছ ভালো থাকে। গ্রীষ্মের শেষ ভাগে ফুল ফোটে। জলার ধার অথবা অল্প পানির জলাভূমি পছন্দ। বীজ ও মোথাকন্দ থেকে বংশবৃদ্ধি।
বলধা গার্ডেনের হতশ্রী রূপ দেখে খুব সহজেই অনুমান করা যায় যে বাগানটি লোকবল ও অর্থ–সংকটে ভুগছে। বাগানের সর্বত্র অযত্নের ছাপ। সংরক্ষিত সাইকি অংশের পরিস্থিতিও বেশ নাজুক। স্বল্পসংখ্যক মালি নিয়ে শুধু গাছগুলো বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। চারপাশের উঁচু দালানে প্রায় ঢাকা পড়েছে বাগানটি। দিনের আলোয়ও পেছনের দিকটা বেশ অন্ধকার। সিবিলি অংশে সারা দিনই দর্শনার্থীদের ভিড়। এই দর্শনার্থীরা মূলত অন্য মতলবে এখানে আসেন। প্রশ্ন হলো, বলধা গার্ডেনের মতো এমন স্পর্শকাতর একটি স্থাপনা কেন টিকিটের বিনিময়ে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হলো! তবু যাঁরা এখানে বেড়াতে আসেন, তাঁরা যদি সত্যিকার অর্থে বৃক্ষের সমঝদার হতেন, তাহলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। উপরন্তু, নিত্যদিনের এই অনিয়ন্ত্রিত জনস্রোত উদ্যানের বিপন্ন গাছগুলোর মৃত্যুকেই শুধু ত্বরান্বিত করছে। এই বাগানের অর্জিত অর্থ ছাড়া কি বন বিভাগের চলছিল না? আবার এখানকার অর্জিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হলেও বাগান রক্ষণাবেক্ষণে তার সিকি ভাগও ব্যয় হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, অচিরেই এসব আত্মঘাতী কাজের সমাপ্তি ঘটবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাগানটি বাঁচিয়ে রাখতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
মোকারম হোসেন: প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক। সাধারণ সম্পাদক: তরুপল্লব
tarupallab@gmail. com

Friday, October 30, 2015

মানুষের বন্দিশালায় পাখিদের আশ্রয় by আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ

থাকে ওরা কারাগারে, তবে বন্দী নয়। সকালে বাইরে বেরোয়, বিকেলে ফেরে। ওদেরই কূজনে মুখরিত কারাগার। পায়ে ওদের শিকল পরাবে কে?
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের গাছে গাছে এখন অসংখ্য পাখি। সবই শামুকখোল। নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পাখিরা শেষ পর্যন্ত কারাগারকেই বেছে নিয়েছে। এখানে তাদের ধরার কেউ নেই। বিরক্ত করারও কেউ নেই। গত তিন-চার বছরে কারাগারের গাছগুলোতে এই পাখির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সংখ্যা বাড়তে বাড়তে তারা কারাগারের বাইরের কয়েকটি গাছেও ছড়িয়ে পড়েছে।
কারাগারের বাইরে দাঁড়িয়ে ভেতরের গাছে পাখিদের এই মাতামাতি অনায়াসে দেখা যায়। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের পূর্ব পাশে রয়েছে কারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে কারাগারের ভেতরে কয়েকটি রেইনট্রিগাছের চূড়া চোখে পড়ে। তাকালে গাছে কোনো পাতা দেখা যাবে না, দেখা যাবে পাখি আর পাখি। মনের আনন্দে ওদের অকারণ ওড়াউড়ি বেশ উপভোগ্য।
কারা বিদ্যালয়ের সামনে একটি তেঁতুলগাছ, একটি মেহগনিসহ বেশ কয়েকটি গাছে একইভাবে বসে আছে পাখি। তাকালে আর চোখ ফেরানো যায় না। ছবির মতো মনে হয়। একসঙ্গে এত পাখি খুব কমই দেখা যায়।
২৩ অক্টোবর সকালে এই কারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে পাখি দেখছিলেন রাজশাহী শহরের কবি আমিনা আনসারী। তিনি বলেন, ‘চারদিকে যেভাবে পাখিদের নিরাপদ আবাস ধ্বংস করা হচ্ছে, তাতে পাখিরা দাঁড়ানোর জায়গা পাচ্ছে না। মানুষের অত্যাচারে এলাকা ছেড়ে পালাতে পালাতে পাখিরা শেষ পর্যন্ত মানুষের বন্দিশালায় এসে আশ্রয় নিয়েছে। কী মিরাকল! মানুষ যেখানে বন্দী, পাখি সেখানে স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। তারা সেখানে নিরাপদ। এই দৃশ্য দেখে আমাদের লজ্জা পাওয়া উচিত।’
পাখি দেখছিলেন নগরের ছোটবনগ্রাম ইউসেপ স্কুলের শিক্ষক মাসুদ রানা। তিনি বললেন, শহরের যান্ত্রিক সভ্যতার মধ্যেও পাখিরা ঠিকই তাদের নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে বের করেছে। শহরের মধ্যে এ রকম নজরকাড়া দৃশ্য আর নেই। তিনি বলেন, পাখিদের সুবিধার্থে কারা বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা উচিত। বিদ্যালয়ের পেছনে কারাগারের জমিতে কাজ করছিলেন একজন দিনমজুর। তিনি বললেন, চার বছর ধরে তিনি এখানে কাজ করছেন। তিনি খেয়াল করেছেন, জুন মাসের দিকে এই পাখিরা আসে।
জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, কারাগারের ভেতর যে এলাকায় আগে গোয়ালঘর ছিল—মহিষ পোষা হতো, এখন সেখানে কেঁচো সার ও মাশরুম চাষ করা হয়। ওপরে চালা রয়েছে। সেখানে বন্দীদের চলাফেরা কম। প্রয়োজনে যখন তাঁরা যান, তখন ছাতা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, এইটুকু অসুবিধা তারা পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়ের স্বার্থে মেনে নিয়েছেন। তা ছাড়া বন্দীদেরও নির্দেশ দেওয়া রয়েছে—কেউ তাদের বিরক্ত করবে না। গত বছরের চেয়ে এবার আরও বেশি পাখি এসেছে এখানে। সন্ধ্যার আগে সব পাখি যখন গাছে এসে বসে, তখন পরিবেশটা আরও দর্শনীয় হয়ে ওঠে বলে জানালেন এই জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে ও বাইরের গাছগুলোয় ঠাঁই নিয়েছে শামুকখোল পাখি l ছবি: প্রথম আলো

Wednesday, September 23, 2015

পাখি- সবুজ হাঁড়িচাঁচা by আ ন ম আমিনুর রহমান

কাপ্তাইয়ের ব্যাঙছড়ি এলাকায় সেগুনগাছে
বসে আছে সবুজ হাঁড়িচাঁচা। ছবিটি ২০১৪
সালের ২৫ জানুয়ারি তোলা l লেখক
দুর্লভ দুটি সবুজ পাখির সন্ধানে ছিলাম বহুদিন। দুটি পাখির একটি, নীল দাড়ি সুইচোরা (Blue-bearded Bee-eater), যাকে নিয়ে এর আগে লিখেছি। কাজেই আজকে দ্বিতীয়টির পালা, যে কিনা আরও আকর্ষণীয়। ‘জু এনিমেল মেডিসিন’ বিষয়ে বহিঃপরীক্ষক হিসেবে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম জানুয়ারি ২০১৪-এ। চার দিনের ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে ২৪ জানুয়ারি ভোরে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের উদ্দেশে রওনা হলাম ছাত্র ইয়াছিনকে নিয়ে। সে যাত্রায় প্রকৃতিবিষয়ক আলোকচিত্রী মিজানুর রহমানও ঢাকা থেকে গিয়ে শামিল হলেন। মোট পাঁচজনের টিম নিয়ে প্রথম দিন রাস্তার পাশে ও ছড়ায় তিন-তিনবার নীল দাড়ি সুইচোরার দেখা পেলাম।
দ্বিতীয় দিন দুপুরের খাবার ছেড়ে ব্যাঙছড়ি বিটে ঢোকার কিছুক্ষণ পরই বাচ্চাসহ চার-চারটি কাও ধনেশের দেখা পেলাম। ওদের পেছন ছুটতে ছুটতে একসময় মারমা পাড়ায় চলে এলাম। ঘড়িতে যখন ৪টা বেজে ৫০ মিনিট, ঠিক তখন একটি সিংহরাজকে (Greater Racket-tailed Drongo) নিশানসহ লম্বা লেজ নিয়ে উড়ে যেতে দেখলাম। কাজেই ওর ছবি তোলার জন্য পিছু নিলাম। ওর পেছনে সাত-আট মিনিট ছোটার পর হঠাৎ সবুজ কিছু একটাকে ডান পাশের ঘন বন থেকে বাঁ পাশের সেগুনবাগানের একটি গাছে গিয়ে বসতে দেখলাম। ক্যামেরায় চোখ রাখতেই মন আনন্দে নেচে উঠল। কিন্তু ছবি তোলার জন্য মাত্র এক মিনিট সময় পেলাম। ৪টা ৫৯ মিনিটে এক টিপে মোট পাঁচটি ক্লিক করলাম। এরপর পাখি উড়াল দিল।
এতক্ষণ আকর্ষণীয় যে পাখিটির কথা বললাম, তা এ দেশে দুর্লভ পাখি সবুজ হাঁড়িচাঁচা (Common Green Magpie)। সোনা থালা নামেও এটি পরিচিত। করভিডি অর্থাৎ কাক-হাঁড়িচাঁচা পরিবারভুক্ত পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Cissa chinensis।
সবুজ হাঁড়িচাঁচা আকারে হাঁড়িচাঁচার চেয়ে ছোট। লেজ লম্বা। দেহের দৈর্ঘ্য ৩৭-৩৯ সেন্টিমিটার এবং ওজন ১২০-১৩৩ গ্রাম। মাথা ও পিঠ পাতা-সবুজ, কখনো কখনো নীলচে-সবুজও হতে পারে। লেজের ওপরটা নীলচে-সবুজ। বুক-পেট-লেজ টিয়ে-সবুজ। চোখ থেকে ঘাড় পর্যন্ত কাজল রেখাটি বেশ চওড়া। এ কারণেই মাথার সবুজ ঝুঁটিটি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। ডানার প্রান্ত ও মধ্য পালক তামাটে-খয়েরি এবং ডানার গোড়া ও লেজের আগার পালক সাদা। চোখ টকটকে লাল। পা, পায়ের পাতা ও আঙুল প্রবাল-লাল। মজবুত ও শক্ত ঠোঁটটিও প্রবাল-লাল। পুরুষ ও স্ত্রী দেখতে একই রকম। মাথার ঝুঁটি কালচে-বাদামি ও লেজের নিচটা সাদা।
সবুজ হাঁড়িচাঁচা বড় পাতাওয়ালা ঘন বনের বাসিন্দা। তবে সহজে চোখে পড়ে না। মূলত চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বনের বাসিন্দা এরা। জামালপুর ও শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাতাঝরা বনে কদাচ দেখা মেলে। পাহাড়ি ছড়ার পাশে, গিরিখাতে একাকী বা জোড়ায় বিচরণ করে। গাছের ডালে ও পাতার আড়ালে লুকিয়ে খাবার খোঁজে। টিকটিকি, গিরগিটি, ব্যাঙ, কীটপতঙ্গ, সাপ, পাখির ডিম-বাচ্চা খায়। মরা প্রাণীর মাংসও খেতে পারে। বেশ সাহসী ও জেদি পাখি। অন্যের খাবার ছিনিয়ে নিতেও বেশ পটু। সচরাচর উচ্চস্বরে ডাকাডাকি ও চেঁচামেচি করে। তবে মিষ্টি স্বরেও ডাকতে পারে। ‘পিপ-পিপ, ক্লি-হুয়ি-ও’ স্বরে ডাকে।
এপ্রিল-মে প্রজননকাল। গাছের শিকড়, পাতা, কাঠিকুঠি ও শেওলা দিয়ে ঘন বনের গাছে পাতার আড়ালে বাটির মতো বাসা বানায়। বাসায় চার থেকে ছয়টি ডিম পাড়ে।

Thursday, September 17, 2015

পশ্চিমবঙ্গে ৩,০০০ গাছ পরিচয়পত্র পেলো

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলার কন্যাগর পৌরসভার গাছগুলো এবার তাদের পরিচয় পেলো। বিশ্বে যখন জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় নিয়ে নানা পদক্ষেপ গৃহীত হচ্ছে, তখন এ ধরনের উদ্যোগ ভারতে এটাই প্রথম। হুগলি জেলার কন্যাগরে বায়ুম-ল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইডকে টেনে নিয়ে বা শোষণের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে পারে, এমন ২৮টি প্রজাতির গাছকে শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিলো কর্তৃপক্ষ। এ প্রজাতিগুলোর প্রায় ৩,০০০ গাছের জন্য পরিচয়পত্র ইস্যু করা হয়। ওই পরিচয়পত্রে গাছগুলোর সাধারণ নাম, বৈজ্ঞানিক নাম, ভৌগোলিক অবস্থান এবং গাছগুলো কি পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করতে পারে, সে পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা আইএএনএস। এ উদ্যোগ সবুজ বাসযোগ্য পৃথিবীর তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে সাহায্যক করবে। মানুষ আরও সচেতন হবে। কন্যাগর পৌরসভার চেয়ারম্যা বাপ্পাদিত্য চট্টোপাধ্যায় বলছিলেন, গাছগুলোর সঙ্গে তাদের পরিচয়পত্রগুলো ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। এভাবে শিশুরা প্রতিটি প্রজাতির গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে একটি ধারণা পাবে। যতোগুলোতে সম্ভব, আমরা ততোগুলো গাছে এভাবে পরিচয়পত্র লাগিয়ে দেবো। বিজ্ঞানী অভিজিত মিত্র প্রকল্পটির নেতৃত্বে রয়েছেন। এ প্রকল্পটি সম্প্রসারণের মাধ্যমে অন্য প্রজাতির গাছগুলোকেও শনাক্ত করা হবে। বাপ্পাদিত্য বলছিলেন, এ অঞ্চলে সাধারণভাবে নিম, কৃষ্ণচূড়া, পিপুল জাতীয় গাছ বেশি দেখা যায়। তিনি জানান, ভারতে এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ এটি। চেয়ারম্যান আরও জানান, এ প্রজাতির গাছগুলোর ওপর একটি ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে এবং অচিরেই এটি অনলাইনে আপলোড করা হবে।

Saturday, August 15, 2015

ভালোবাসার ফুল ফুটছে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে by ইফতেখার মাহমুদ

দুর্লভ আমাজন লিলি ফুটতে শুরু করেছে জাতীয় উদ্ভিদ
উদ্যানে। ছবিটি গত বৃহস্পতিবার তোলা -সাজিদ হোসেন
দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশেই এই ফুলটি ভালোবাসার প্রতীক। প্রেমিকাকে ভালোবাসা জানাতে বা বিয়ের অনুষ্ঠানে স্ত্রীকে উপহার হিসেবে আমাজান লিলি দেওয়া হয়।
ছিল তারা ব্রাজিলের আমাজান নদীতে। গত শতকের ষাটের দশকে আসে এই বঙ্গে। আজ অবধি আছে তারা। তবে সংখ্যায় অল্প। নাম তাদের আমাজান লিলি। ষাট থেকে নব্বই দশকে দেশের অনেক স্থানেই তাদের ভাসানো হয়েছিল। মানে তাদের চারা রোপণ হয়েছিল অনেক এলাকার জলকাদায়। কিন্তু কোনো এক অভিমানে বা যন্ত্রণায় তারা বাঁচেনি। এখন আছে শুধু পুরোনো ঢাকার ওয়ারীর বলধা গার্ডেন ও মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে। গত সপ্তাহে মিরপুরের জাতীয় উদ্যানের বিশাল সবুজ থালার আকৃতির পাতার সন্নিবেশে আমাজান লিলি ফুটতে শুরু করেছে।
মিরপুর জাতীয় উদ্যানের আমাজান লিলি ফুলের চৌবাচ্চাটির সামনে প্রতিদিনই প্রকৃতিপ্রেমীরা একনজর দেখতে আসেন। অল্প অল্প করে ফুটতে থাকা ওই ফুল দেখাটাই অনেকের কাছে আনন্দের। গত মাসের টানা বৃষ্টির পরশে আমাজান লিলির পাতাগুলোও এবার আরও গাঢ় সবুজ হয়ে উঠেছে। ফুলটির শুভ্রতাও যেন অন্য বছরের চেয়ে বেশি। গত বৃহস্পতিবার শাপলা-জাতীয় ওই ফুলটি দেখতে গেলে হাসিমুখে জানান জাতীয় উদ্যানের মালি আবদুল মালেক।
কবে, কী করে, সুদূর ব্রাজিল থেকে জাতীয় উদ্যানে এই ফুল এল—সেই ইতিহাস জানতে চাইলে নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা জানালেন, ষাটের দশকে বরিশালের এক প্রকৃতিপ্রেমী ডা. এম আহমেদ দক্ষিণ আমেরিকার কোনো এক দেশ থেকে এই ফুলের চারা নিয়ে আসেন। বরিশাল শহরে তাঁর বাড়ির পুকুরে ওই ফুল রোপণ করেন তিনি। ১৯৬৪ সালে বলধা গার্ডেন কর্তৃপক্ষকে কিছু চারা দেন তিনি। বলধা গার্ডেন থেকে ১৯৯৪ সালে মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে ওই চারা নিয়ে আসা হয়।
ডা. এম আহমেদ চেয়েছিলেন শাপলা ও পদ্ম ফুলের মতো আমাজান লিলিতে ভরে যাক বাংলাদেশের পুকুর, বিল, ঝিল, হাওর-বাঁওড়। কিন্তু তাতে বাদ সাধে খোদ বাংলার প্রকৃতি। দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়ায় প্রতিবেশ আমাজান লিলির জন্য উপযোগী। আমাজান লিলির জন্য স্বচ্ছ পানির নিরবচ্ছিন্ন ধারা থাকতে হয়। শীতকালে মাঝারি শীত ও প্রচণ্ড খরতাপের গ্রীষ্ম না হলে আমাজন লিলি বাঁচে না। বাংলাদেশে স্বচ্ছ পানির জলাভূমি এমনিতেই কম। যা আছে তা-ও যেভাবে দূষিত হয়ে যাচ্ছে, তাতে দেশি ফুল ও উদ্ভিদেরই প্রাণ যাওয়ার উপক্রম। সুদূরের অতিথি আমাজান লিলি আর কীভাবে বাঁচবে এখানে।
রাজধানীর শিশুপার্কের পুকুরে, রমনা উদ্যানের লেকে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক পুকুরে আমাজান লিলির চারা রোপণ করা হয়। শেরপুর, নওগাঁ, ময়মনসিংহেও এই ফুলের চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু কোনোটাই টেকেনি। রাজধানীর বলদা গার্ডেনের আমাজান লিলিগুলোর অবস্থাও খুব একটা ভালো নেই। চারপাশে আলো-বাতাস আটকে বহুতল ভবন নির্মাণ হওয়ায় সেখানে আমাজান লিলিগুলো কত দিন টিকবে, তা নিয়ে প্রকৃতিবিদদের রয়েছে সংশয়।
জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের সাবেক প্রধান উদ্ভিদবিদ শামসুল হক জানালেন, আমাজান লিলি ভারী বর্ষণমুখর বর্ষায় ফুটে। তাই জুলাই-আগস্টে এর প্রস্ফুটন শুরু হয়। নভেম্বরে তাপমাত্রা ও বৃষ্টি কমে গেলে এর বিশাল পাতাগুলো মরতে থাকে। ফুলও ঝরতে থাকে। ফেব্রুয়ারিতে পুকুরের পানি শুকিয়ে গেলে সেখানে এর বীজ পড়ে থাকে। কাদার মধ্যে থাকা অবস্থায় তাপমাত্রা টানা ৩৪ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাতে অঙ্কুরোদ্গম হয়। পরের বছর আবারও মে-জুনে বৃষ্টি বাড়লে এর পাতা বড় হতে থাকে এবং ফুল ফোটে।
দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশেই এই ফুলটি ভালোবাসার প্রতীক। প্রেমিকাকে ভালোবাসা জানাতে বা বিয়ের অনুষ্ঠানে স্ত্রীকে উপহার হিসেবে আমাজান লিলি দেওয়া হয়। পেরুর অধিবাসীরা বিশ্বাস করে, আমাজান লিলি ফুলের বীজ প্রাণশক্তিবর্ধক। সেখানে আমাজান লিলির বীজ ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

Saturday, June 20, 2015

চোখধাঁধানো আলতাপরি by আ ন ম আমিনুর রহমান

পুরুষ আলতাপরি। ২০১৩ সালের ১৫ মার্চ কালেঙ্গা
অভয়ারণ্য থেকে লেখকের তোলা ছবি
ওদের দুজনকে প্রথম দেখি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে। চোখধাঁধানো রূপে মন ভরে গিয়েছিল, মনোমুগ্ধ হয়ে কতক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম জানি না। তবে প্রথম দর্শনে ওদের রূপ-জৌলুশে মুগ্ধ হয়ে ক্যামেরাতেই ক্লিক করতে ভুলে গিয়েছিলাম! সেবার সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণী চিকিৎসার ছাত্রদের ব্যবহারিক পরীক্ষা নিয়ে ফেরার পথে মৌলভীবাজারের বন্য প্রাণী আলোকচিত্রী ও ফরেস্ট রেঞ্জার প্রয়াত মুনির আহমেদ খানের সঙ্গে দেখা করতে ভুলিনি। তাঁর সঙ্গে ২০১১ সালের ৮ এপ্রিল লাউয়াছড়া গিয়ে বর্ণিল ওই দম্পতির সঙ্গে দেখা। আজ মুনির আহমেদ নেই, কিন্তু তাঁর সঙ্গে তোলা ওদের ছবিগুলো রয়ে গেছে।
এর দুবছর পর ২০১৩ সালের ১৫ মার্চ কালেঙ্গা বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে আবার দেখা হলো এই দম্পতির সঙ্গে। আর এরও ঠিক এক বছর পর অর্থাৎ ১৫ মার্চ ২০১৪-এ সুন্দরবনে আবার দেখা। একটি আশ্চর্যের বিষয় হলো প্রতিবারই ওদের দর্শনে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার কারণে ভালো ছবি তুলতে ব্যর্থ হয়েছি। তবে এতে দুঃখ নেই। কারণ, ওদের দিকে তাকিয়ে থাকার সুখ ও আনন্দের মূল্য ছবি তোলার চেয়েও ঢের বেশি।
রূপ-লাবণ্যে ভরপুর অনিন্দ্যসুন্দর যে পাখি দম্পতির কথা এতক্ষণ বললাম, ওরা এ দেশের দুর্লভ প্রজাতির পাখি আলতাপরি (Scarlet Minivet)। রাঙাবউ, সিঁদুরে সহেলি, সিঁদুরে-লাল সাত সহেলি বা সিঁদুরে সাত সাইলি নামেও পরিচিত। এই পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Pericrocotus flammeus।
আলতাপরি ছোট আকারের পাখি। লম্বায় মাত্র ২২ সেমি ও ওজন ২৬ গ্রাম। পুরুষটির বুক, পেট ও লেজের তলা আলতা লাল। মাথা, গলা, পিঠ ও লেজের উপরিভাগ চকচকে কালো। কালচে ডানায় দুটি আলতা লাল পট্টি। কোমর আলতা লাল। পুরুষ ও স্ত্রী পাখির রঙে বেশ পার্থক্য দেখা যায়। তবে প্রথম দর্শনে স্ত্রী পাখিটিকে দেখতে পুরোপুরি হলদে বলেই মনে হবে। স্ত্রী পাখির কপাল, গলা, বুক, পেট ও লেজের তলা হলুদ। মাথা, পিঠ ও লেজে ওপরটা কালচে ধূসর। ডানা কালচে ধূসর এবং তাতে দুটি হলুদ পট্টি রয়েছে। স্ত্রী ও পুরুষ উভয়েরই চোখ বাদামি আর ঠোঁট কালো। পা, পায়ের পাতা এবং আঙুলও কালো।
মূলত পাহাড়-টিলাময় বনজঙ্গল ও সুন্দরবনে এদের আবাস। এরা বন ও চষা জমিতে বিচরণ করে। সচরাচর জোড়ায় এবং কখনো বা ঝাঁকে দেখা যায়। শুঁয়োপোকা ও বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ এদের প্রধান খাদ্য। খাবারের সন্ধানে এরা গাছের ডাল থেকে ডালে ঘুরে বেড়ায় আর কীটপতঙ্গ শিকার করে। ‘টিউয়ি-টিউয়ি’ করে বেশ মধুর স্বরে বারবার ডাকতে থাকে।
এরা ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরে প্রজনন করে। গাছের সরু শাখায় লতা, শিকড়, লাইকেন, মাকড়সার জাল প্রভৃতি দিয়ে গোলাকার ছিমছাম বাসা তৈরি করে। বাসা তৈরি হলে তাতে দু-চারটি নীল-সবুজ রঙের ডিম পাড়ে। স্ত্রী একাই ডিমে তা দেয়। ডিম ফোটে ১৩ থেকে ১৯ দিনে। মা-বাবা দুজনে মিলেমিশেই বাচ্চাদের খাইয়ে-দাইয়ে বড় করে তোলে। এরপর একদিন এরা কচি ডানায় ভর করে নীল আকাশে উড়াল দেয়।