Saturday, December 14, 2024
চাঁদাবাজি দখলের হাত বদল, ক্ষোভ by শুভ্র দেব
চাঁদাবাজি দখলের হাত বদল, ক্ষোভ by শুভ্র দেব
৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ কেমন আছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনব্যবস্থা কেমন লাগছে, সাধারণ মানুষের জীবনমানে কোনো পরিবর্তন এসেছে কিনা এসব জানতে বুধবার জেলার কয়েকটি উপজেলা ঘুরে বিভিন্ন তথ্য মিলেছে। বেশির ভাগ মানুষের সঙ্গে কথা বলে মোটাদাগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে।
বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চাঁনপুরের বাসিন্দা আব্দুল কাদের। ৬০ বছর বয়সী কাদের গত ১৪ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, ‘সরকার যেই হউক আমি কখনো কোনো সুবিধা নেইনি। আমরা সাধারণ মানুষ। ছোটখাটো ব্যবসা বাণিজ্য করে খাই। আওয়ামী লীগের আমলে ব্যবসা নিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এখন আর সেই সমস্যা নাই। সব জিনিসের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। কিনতে হয় বেশি দিয়ে অথচ বিক্রি করতে হয় আগের দামে। এতে করে লাভ কমে গেছে। যে হারে দাম বাড়ছে সেভাবে মানুষের আয় বাড়ছে না। তাই সরকারের জিনিসপত্রের দাম কমানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া দরকার। হাসিনা সরকারের আমলে ভোট দিতে পারি নাই ১৬ বছর। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজনই পড়েনি। মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এম এ সালাম ভোট জালিয়াতি করে ১৬ বছর ধরে চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনিই এই এলাকার সব নিয়ন্ত্রণ করতেন। শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সঙ্গে সখ্যতা রেখে দাপট দেখাতেন। তার বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ ছিল না। কতো মানুষের যে জমিজমা দখল করেছে তার হিসাব নাই। কেওঢালা বাজারের জুতার ব্যবসায়ী ইয়াকুব দেওয়ান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে সব সমাধান করা সম্ভব না। কারণ এতগুলো মন্ত্রণালয় অথচ সব মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা নাই। অনেকগুলো মন্ত্রণালয় একজন উপদেষ্টা সামলাচ্ছেন। তাই এখন মানুষ যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এসব সমাধানের জন্য সরকারপ্রধান ও উপদেষ্টাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা উচিত। আর জনগণের নির্বাচিত সরকার যত দ্রুত আসবে ততই সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে অনেক পরিবর্তন এসেছে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরে। এই এলাকায় আওয়ামী নেতাদের প্রভাব কমেছে। সবাই পালিয়েছেন। এখন মানুষ চাচ্ছে দ্র্রব্যমূল্যর দাম নিয়ন্ত্রণে আসুক।
সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের ললাটি গ্রামের বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী শাহেদ শাহ বলেন, দ্রব্যমূল্য এত বেশি হয়েছে আমাদের মতো মানুষের একেবারে নাগালের বাইরে। মানুষ আশাবাদী ছিল এই সরকার সব নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। কিন্তু এখনও সবকিছু বেড়েই চলছে। একই ইউনিয়নের সুখেরটেক গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন বলেন, কত বছর পরে রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারছি গত কয়েকমাস ধরে। ভয় ছাড়া হাটাচলা করতে পারছি। পুলিশ এসে গ্রেপ্তার করার ভয় নেই। অকারণে বিনা অপরাধে অনেক মামলার আসামি হতে হয়েছে। এখন শান্তিতে নিশ্বাস নিতে পারি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান যেভাবে দেশে চালাচ্ছেন তাতে আমরা অনেক খুশি। এ ছাড়া জিনিসপত্রের দাম তিনি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন না। কারণ এখানে বড় একটা সিন্ডিকেট কাজ করছে। সিন্ডিকেট ভাঙা কষ্ট হবে। একই এলাকার অলি উল্লাহ বলেন, আমাদের এলাকায় শান্তি ফিরেছে। আমরা মিলেমিশে আছি। ধর্মীয় কোনো সংঘাত নাই। আলাউদ্দিন নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, সবমিলিয়ে দেশের যা অবস্থা তাতে আমার কাছে ভালো মনে হচ্ছে না। অস্থির এক পরিবেশ বিরাজ করছে। বাজারে গেলে জিনিসপত্রের দাম শুনলে মন খারাপ হয়ে যায়। সোনারগাঁও উপজেলার পানামনগর সিটির পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচিত সরকার না আসলে দেশ এরকমই অস্থির থাকবে। কারণ নির্বাচিত সরকারের জবাবদিহিতা করতে হয়। তারা খারাপ করলে মানুষ আর ভোট দিবে না। এই ভয় তাদের মনে কাজ করে। তাই এই সরকার কোনো কিছু না করলেও বলার মতো কিছু থাকবে না। তবে সরকারের উচিত মানুষ কী চায় সেটা বোঝার। রিকশাচালক আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, আমার রিকশায় করে প্রতিদিন কতো যাত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাই। যাত্রীদের গল্প শুনে বোঝা যায়। সবাই এক অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন।
রূপগঞ্জের চনপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ আহমেদ বলেন, ভেবেছিলাম হাসিনা সরকারের পতনের পর স্বস্তিতে থাকবো। কিন্তু কিছু পরিবর্তন আসলেও বেশির ভাগ সমস্যার সমাধান হয়নি। আগে চাঁদাবাজি, দখল, মাদক ব্যবসা আওয়ামী লীগের নেতারা করতো। তারা পালিয়ে যাওয়ার পর এখন হাতবদল হয়েছে। চিত্র আগের মতোই আছে। এ ছাড়া আমরা সাধারণ মানুষের দাবি-দাওয়াও নাই। আমরা চাই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকুক। প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে দাম বাড়লেও আমাদের আয় একই জায়গায় বন্দি। তাই এসবের পরিবর্তন হওয়া দরকার। কায়েতপাড়ার বাসিন্দা সোলায়মান ভূঁইয়া বলেন, স্বৈরাচারের পতনে আমরা খুশি। দেশে এক দুঃশাসন ছিল। এখন আমরা স্বস্তিতে আছি।
সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনানী নতুন মহল্লার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, লুটপাটের জমানা এখন আর নাই। সব মানুষ এখন ভালো আছে। আয় কম হলেও মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারছে। কোনো ভয় নাই মনে। আগে তো একটা ভয় নিয়ে চলতে হতো। কখন কার ওপর কোন বিপদ আসে। একই এলাকার বাহরাইন প্রবাসী মকবুল বলেন, আমি দীর্ঘদিন ব্যবসা করেছি দেশে। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে ব্যবসা করতে গিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আমরা দেশে কৃষিপণ্য উৎপাদন করেছি। অথচ ভারত থেকে পণ্য আনার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। অনেক টাকা লোকসানের পরে আমি মধ্যেপ্রাচ্য চলে যাই। এখন ভালো আছি। তবে আওয়ামী লীগের সময় আমার পরিবারের সদস্যরা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়েও হয়রানি করা হয়েছে আমার পরিবারকে। হাসিনা সরকারের পতনের খবর পেয়ে দেশে এসেছি। এখন আর কোনো সমস্যা নাই।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1404)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
December
(237)
-
▼
Dec 14
(9)
- বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা গভীরভাব...
- ক্ষুধা দূরীকরণে বৈশ্বিক লড়াই ব্যর্থ কেন?
- মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের দুর্বল হওয়া কি ভারতের জন্য উদ্...
- রাজনৈতিক দলগুলো ৫৩ বছরে সংস্কার করেননি কেন?
- গুলিতে মৃত্যু: অবলম্বন হারিয়ে অসহায় ইফতির বাবা
- চাঁদাবাজি দখলের হাত বদল, ক্ষোভ by শুভ্র দেব
- জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান: চোখ হারানোদের কান্না চক্ষু...
- শীতে ওদের রাত কাটে যেভাবে by মেহনাজ শাহরিন অর্থি
- বিদায় কবি হেলাল হাফিজ (১৯৪৮-২০২৪)
-
▼
Dec 14
(9)
-
▼
December
(237)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment