চীন এক বছরের মধ্যেই কানাডাকে গিলে ফেলবে: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ও তার উত্তরে অবস্থিত প্রতিবেশী কানাডার মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন। সম্প্রতি দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে (ডব্লিউএফএ) কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনির বক্তব্যের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও টানাপড়েনে পড়েছে। এ খবর দিয়েছে ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই। বুধবার ডব্লিউইএফের ৫৬তম বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কারনির সমালোচনা করেন ট্রাম্প এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া নানা ফ্রি সুবিধা, বিশেষ করে নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য কানাডার আরও কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত।
ট্রাম্প বলেন, কানাডা আমাদের কাছ থেকে অনেক ফ্রি সুবিধা পায়। তাদের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কিন্তু তারা তা নয়। আমি তোমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছি, তিনি মোটেও কৃতজ্ঞ ছিলেন না। তাদের আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, তার প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কানাডাকেও সুরক্ষা দেবে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা টিকে আছে। মার্ক, পরেরবার যখন তুমি এমন বক্তব্য দেবে, তখন এটা মনে রেখো।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ছিল মূলত কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনিকে লক্ষ্য করে। ডব্লিউইএফএতে দেয়া কারনি বলেন, বিশ্ব এখন মহাশক্তির প্রতিযোগিতার যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে তিনি শুল্ককে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিরোধিতা করেন, যা গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রশ্নে ওয়াশিংটনের আর্থিক চাপ প্রয়োগের প্রতি এক ধরনের পরোক্ষ ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
১৭ জানুয়ারি চীনের সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি। তিনি বলেন, এই চুক্তি কানাডার ব্যবসা ও শ্রমিকদের জন্য নতুন বাজার খুলে দেবে। এক্সে দেয়া এক পোস্টে কারনি লিখেছেন, আমরা চীনের সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করেছি। এর মাধ্যমে কানাডার শ্রমিক ও ব্যবসার জন্য ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি বাজার উন্মুক্ত হবে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, একটি আরও বিভক্ত ও অনিশ্চিত বিশ্বে কানাডা একটি শক্তিশালী, আরও স্বাধীন ও স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলছে। সে লক্ষ্যে নতুন সরকার দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে বাণিজ্য অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করছে এবং ব্যাপক বিনিয়োগে গতি আনছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে চীন এই লক্ষ্য পূরণে কানাডার জন্য বিশাল সুযোগ এনে দেয়।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর আরোপিত ১০০ শতাংশ শুল্ক কমানোর বিনিময়ে কানাডা কৃষিপণ্যের ওপর চীনের শুল্ক হ্রাসে সম্মত হয়েছে। কারনি জানান, প্রাথমিকভাবে বছরে সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি কানাডায় আমদানির অনুমতি দেয়া হবে, যা পাঁচ বছরে বেড়ে প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে চীন কানাডার গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য ক্যানোলা বীজের ওপর শুল্ক ৮৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রায় ১৫ শতাংশে নামাবে। কারনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীন এখন কানাডার জন্য বেশি পূর্বানুমানযোগ্য অংশীদার।
বর্তমানে কানাডার পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এছাড়া আমদানি করা ধাতুর ওপর ৫০ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে উৎপাদিত গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কের প্রভাবেও পড়ছে কানাডা। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একে অপরের বিরুদ্ধে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর চীনা পণ্যের একটি অংশের ওপর শুল্ক ২০২৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

No comments