Wednesday, December 4, 2024
ফরমায়েশি মামলা তদন্ত করে পুরস্কার পেয়েছিলেন কাহ্হার by আশরাফুল ইসলাম
২০১৯ সালে পুলিশের চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর থেকেই তিনি এমপি পদে প্রার্থী হতে এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেন। অথচ ওই মেয়াদে তার কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাবেক আইজিপি, রাষ্ট্রদূত ও সচিব নূর মোহাম্মদ। কিন্তু সবাইকে অবাক করে এবং সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদকে বাদ দিয়ে বিগত নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পান কাহার আকন্দ। তবে নির্বাচনী দৌড়ে সফল হতে পারেননি তিনি। আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে ধরাশায়ী হন। শেখ হাসিনার কাছের মানুষ হওয়ায় এরপরও তাকে নিয়ে এলাকায় আলোচনা ছিল- কাহার আকন্দ মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। তিনি নিজেও মন্ত্রিত্ব পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। তার কাছের মানুষজনকে বলেছিলেনও, নেত্রী (শেখ হাসিনা) তাকে মন্ত্রী করবেন। কিন্তু ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লব তার সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয়। কিশোরগঞ্জ ও কটিয়াদী থানায় দায়ের হয় ৩ মামলা। অপকর্মের দায় থেকে বাঁচতে দেশ ছেড়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরদিন ৬ই আগস্ট কাহার আকন্দ নিরাপদে দেশ ছেড়েছেন বলেও তার কাছের অনেকগুলো সূত্র জানিয়েছে। তবে অনেকেই বিষয়টি বিশ্বাস করছেন না। তারা মনে করছেন, দেশেই কোথাও আত্মগোপনে রয়েছেন কাহার আকন্দ।
এদিকে মানবজমিনের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সামান্য একজন দারোগা হিসেবে চাকরি শুরু করা কাহার আকন্দের পারিবারিক অবস্থা ছিল খুবই নাজুক। বাবা মৃত মেহেদি আকন্দ ছিলেন কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম ধূলদিয়া ইউনিয়নের পূর্বপুরুড়া গ্রামের একজন দরিদ্র কৃষক। বনগ্রাম আনন্দ কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন তিনি। বাড়ি থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরের এ বিদ্যালয়ে তিনি হেঁটে যাতায়াত করতেন। সেখান থেকেই ১৯৬৭ সালে তিনি এসএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন মহকুমা সদরের গুরুদয়াল সরকারি কলেজে। সেখান থেকে ১৯৬৯ সালে এইচএসসি পাস করেন। তখন তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে তিনি পুলিশে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসআই পদে চাকরি নেন। চাকরির ধারাবাহিকতায় ধাপে ধাপে হন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তিনি পদোন্নতি লাভ করেন। চাকরির বেশিরভাগ সময়ই তার কেটেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি)। আওয়ামী লীগের ১৯৯৬ জামানায় শুরু হয় তার স্বর্ণযুগ। ১৯৯৬ সালের ১৪ই নভেম্বর সংসদে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান আবদুল কাহার আকন্দ। এরপর তিনি জেলহত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফেরে। একই সঙ্গে চাকরিতে ফেরানো হয় চাকরিচ্যুৎ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাহার আকন্দকে। ২০০৯ সালের ২৮ই জানুয়ারি চাকরি ফেরত পাওয়ার একদিন পরই তিনি অবসরে যান। কিন্তু অবসর থেকে ফিরিয়ে এনে আবদুল কাহার আকন্দকে চুক্তিতে সিআইডিতে বিশেষ পুলিশ সুপার করা হয়। চুক্তিতে ফিরেই কাহার আকন্দ ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব নেন। ২০১১ সালের ৩রা জুলাই আসামির তালিকায় আরও ৩০ জনকে যোগ করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন কাহার আকন্দ। সম্পূরক অভিযোগপত্রে তারেক রহমানসহ চারদলীয় জোট সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও বিএনপি-জামায়াত নেতাদের নাম ঢুকিয়ে দেন কাহার আকন্দ।
অনুসন্ধান এবং কাহার আকন্দের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, কাহার আকন্দের ফর্মুলা ছিল তদন্তে শেখ হাসিনার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো। শেখ হাসিনার মিশন বাস্তবায়ন করাই ছিল তার কাজ। এর মাধ্যমে তিনি শেখ হাসিনার আনুকুল্য পাওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্লাট-প্লট ও বাড়ি করা ছাড়াও কানাডাতেও তিনি একাধিক বাড়ি করেছেন। এ ছাড়া গড়েছেন বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। একটি সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-এর জামানায় খিলগাঁওয়ের তালতলার কাহার আকন্দ একটি বহুতল ভবন করেছেন। আওয়ামী লীগের বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে তিনি রাজধানীর বসুন্ধরাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় একাধিক ফ্লাট-প্লট ও বাড়ি করেছেন। এক সময় তিনি তালতলা’র বাসায় থাকলেও সর্বশেষ তিনি বসুন্ধরা এলাকার ফ্লাটে থাকতেন। দেশ ও দেশের বাইরে মিলিয়ে অন্তত হাজার কোটি টাকার মালিক বনেছেন কাহার আকন্দ। এ ছাড়া তার ভাই স্থানীয় সহশ্রাম ধূলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম আকন্দের নামেও বিপুল পরিমাণ সহায়-সম্পদ করেছেন।

Monday, October 14, 2024
ব্যাকফুটে চুন্নু, গ্রেপ্তার নাকি পুনর্বাসন! by আশরাফুল ইসলাম
মহাজোট প্রার্থী হিসেবে চুন্নু ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। সে নির্বাচনে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরার স্বীকারোক্তি তিনি নিজেই দিয়েছেন। ২০২২ সালের ৩১শে জুলাই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে জাতীয় পার্টির সংলাপে তিনি বলেছিলেন, ‘রাতে কিন্তু কাজটা (ভোট দেয়া) হয়। হয় মানে কী, আমরাই করাইছি। কী বলবো এটা হয়। এটা হয় না, ঠিক না।’ এর আগে ২০২১ সালের ৯ই অক্টোবর জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান থেকে মুজিবুল হক চুন্নুকে মহাসচিব করা হয়। তাকে মহাসচিব করার ব্যাপারেও সরকারি দল আওয়ামী লীগ এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তদবির ছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্র বলছে, সর্বশেষ গত ৭ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনে মহাসচিব হিসেবে প্রায় একক সিদ্ধান্তে চুন্নু জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে নিয়ে যান। এমনকি গত ৭ই জানুয়ারির নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় মুজিবুল হক চুন্নু তার নির্বাচনী পোস্টারে নিজেকে ‘জাতীয় পার্টি মনোনীত ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত’ প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেন। সে সময় বিষয়টি বেশ সমালোচিত হয়। এদিকে গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শুরুর দিকে বেশ স্বস্তিতেই ছিলেন মুজিবুল হক চুন্নু। ৫ই আগস্ট সেনাপ্রধানের সঙ্গে জাতীয় পার্টির বৈঠক এবং ৩১শে আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি দলে ছিলেন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের বিরোধিতার মুখে পরবর্তীতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকে ডাক পায়নি জাতীয় পার্টি। এতে জাতীয় পার্টির পাশাপাশি দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বিপাকে পড়েন। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যেই গত ৬ই অক্টোবর রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় মুজিবুল হক চুন্নুকে আসামি করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিকে ঘিরে গত ৫ই আগস্ট রাজধানীর আজমপুর এলাকায় গুলিতে নিহত আলমগীর হোসেন (৩৪) এর মা মোসা. আলেয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে করা এ মামলায় ৬নং আসামি করা হয়েছে মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে। ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে এটি মুজিবুল হক চুন্নুর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া প্রথম ও একমাত্র মামলা। এরপর থেকেই অনেকটা ব্যাকফুটে রয়েছেন মুজিবুল হক চুন্নু। তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়টি তার নিজ জেলা কিশোরগঞ্জে জানাজানি হওয়ার পর সেখানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া তার নিজ এলাকার মানুষ মুজিবুল হক চুন্নুকে এ মামলায় অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতি চুন্নু কীভাবে সামাল দিবেন, সেটিই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে শনিবার (১২ই অক্টোবর) জাতীয় পার্টি আয়োজিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সকল থানা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ বরাবরই আমাদের অনৈতিকভাবে বিভিন্ন চাপে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করেছে। তাদের কাছে অনেক সময় আমরা জিম্মিও ছিলাম।
এখন কোনো চাপ নেই তাই আমরা স্বাধীনভাবে আমাদের রাজনৈতিক কর্মকৌশল প্রণয়ন করে জনগণকে প্রকৃত সেবা দেয়ার লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হবো। জনগণ আমাদেরকেই সমর্থন করবে। এজন্য ধৈর্য্য ধারণ করে কারও কোনো উস্কানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে পার্টির সকল সাংগঠনিক কার্যক্রমে একাগ্রতার সহিত অংশগ্রহণ করতে হবে এবং জনগণকেও উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলীয় ফোরামে চুন্নু যাই বলেন না কেন, আওয়ামী লীগকে সর্বগ্রাসী হয়ে উঠতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল জাতীয় পার্টি এবং এক্ষেত্রে প্রভাবকের ভূমিকায় ছিলেন মুজিবুল হক চুন্নু। তাই বর্তমান পরিস্থিতি জাতীয় পার্টি কিংবা চুন্নু কারওরই অনুকূলে নয়।
বিশেষ করে চুন্নুর বিরুদ্ধে বেশি সরব আলোচনা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হবেন কি-না, সেটি নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তিনি পুনর্বাসিত হন কি-না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Wednesday, September 4, 2024
কটিয়াদী পাকুন্দিয়ায় সুলতানের সাম্রাজ্য by আশরাফুল ইসলাম
স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনের পর আরও ভয়ঙ্কররূপে আবির্ভূত হয় সুলতান বাহিনী। এই বাহিনী হয়ে ওঠে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক। এমপি বাবাকে সামনে রেখে দুই উপজেলার সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করতেন সুলতান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের ম্যানেজিং কমিটি, কালিয়াচাপড়া সুগার মিলের যন্ত্রাংশ ও মালামাল পাচার, বালুমহাল, টিসিবি ডিলারসহ সবকিছুই হতো সুলতানের হাতের ইশারায়। সুলতান নিজেই দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ দখল করেন। মাত্র ৭ মাসেই এসব খাত থেকে অন্তত অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন সুলতান। এ ছাড়া তার নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জ জেলা জুড়ে গড়ে ওঠে ভারতীয় চোরাই চিনির একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। চোরাই এসব চিনি যেতো রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে। চিনি চোরাচালান থেকে সুলতান বিপুল অঙ্কের টাকা কামালেও সংসদ সদস্য বাবার সুবাদে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান তিনি। গত ৮ই মে অনুষ্ঠিত পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এমপি’র সমর্থনের জন্য তৎকালীন পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক জুটনের কাছ থেকে সুলতান ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। সে সময় বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়। সুলতানকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে এমপি’র সমর্থন লাভের পরপরই মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ১৬ই এপ্রিল এমদাদুল হক জুটন ইউপি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। নির্বাচনের দিন সুলতান বাহিনী তার পক্ষে ভোটে ব্যাপক অনিয়মসহ একাধিক কেন্দ্র দখলে ভূমিকা রাখে। এরপর ফলাফল ঘোষণার সময়ে জালিয়াতির মাধ্যমে এমদাদুল হক জুটনকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। এ ব্যাপারে প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থী নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করলে ভোটভর্তি ব্যালটবাক্স আদালতের জিম্মায় রাখা হয়। সর্বশেষ ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ৪ঠা আগস্ট সোহ্রাব ও তার ছেলে সাগরের নেতৃত্বে পাকুন্দিয়া থানার ওসি আসাদুজ্জামান টিটুসহ থানা পুলিশ ও সুলতান বাহিনী মিলে পাকুন্দিয়া সদরে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। ৫ই আগস্ট পটপরিবর্তনের পর সুলতান বাহিনী উপজেলার দরগা বাজারে সোহ্রাবের বাসভবনকে ঘিরে শক্ত অবস্থান নেয়। সুলতান বাহিনীর পাহারায় গত ১২ই আগস্ট সেখানে একটি সভাও হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার ক্ষোভের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গত আগস্ট পিতা-পুত্র পাকুন্দিয়া ত্যাগ করেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ২০১৪ সালের পর সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ আত্মসাতসহ ব্যাপক টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি ছিল সুলতান বাহিনীর নিত্যনৈমত্তিক কাজ। এমপির ক্ষমতার প্রভাবে মামলার জালে ঘায়েল করা হতো প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের। এমপিকে প্রধান অতিথি করা ছাড়া এলাকায় কোনো অনুষ্ঠান করা যেতো না। রাজনৈতিক, ক্রীড়া, সামাজিক প্রতিটি অনুষ্ঠানে সোহ্রাবকে প্রধান অতিথি করতে হতো। এর ব্যত্যয় হলে সে অনুষ্ঠান ভণ্ডুল করে দেয়া হতো। এ ছাড়া সোহ্রাবের সেই মেয়াদে সড়কবাতি প্রকল্পের টেন্ডার বাগিয়ে নিয়ে তার ছেলে সাগর কয়েক কোটি টাকা কামাই করেন। ২০১৯ সালের মে মাসে সাগর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শোভন-রাব্বানী কমিটিতে টাকার বিনিময়ে সহ-সভাপতি পদ বাগিয়ে নেন। সে সময় এ নিয়ে বেশ বিতর্ক হয়। এর প্রেক্ষিতে সহ-সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন সাগর। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৪ই নভেম্বর প্রকাশিত কেন্দ্রীয় যুবলীগের ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নির্বাহী সংসদের সদস্য হিসেবে স্থান পান তিনি। যুবলীগের এই পদকে পুঁজি করে সাগর তার সুলতান বাহিনীর মাধ্যমে এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখেন। ৫ বছর বিরতির পর সোহ্রাবের সর্বশেষ এমপির মেয়াদে মাত্র ৭ মাসেরও কম সময়ে অন্তত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তার ছেলে সাগর। এর মধ্যে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া এই দুই উপজেলার বালু খাত থেকেই আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। পিতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর পরই নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে সাগর জানিয়ে দেন, ‘টাকা খরচ করে আমরা এমপি হয়েছি, এখন আমি সুদে-আসলে সে টাকা তুলবো। এ নিয়ে যেন কারও কোন কথা না শুনি।’ এরপরই শুরু হয় সুলতানের টাকা কামানোর মিশন। এসব ব্যাপারে কথা বলার জন্য সোমবার বিকাল ৫টা ৩৬ মিনিটে এসএম তৌফিকুল হাসান সাগর এর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
Saturday, August 17, 2024
বাবা মুক্তিযোদ্ধা না হলেও ডিবি হারুনের চাকরি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় by আশরাফুল ইসলাম
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদের তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার মো. আবদুল হামিদের প্রভাবে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় জায়গা পান হারুনের বাবা আবুল হাশেম হাসিদ। কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তৎকালীন কমান্ডার ফজলুল হক চাপে পড়ে আবুল হাশেম হাসিদকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রত্যয়ন দেন। তখন তৎকালীন মিঠামইন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড থেকে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি জামুকাতে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু সে প্রতিবাদ ও অভিযোগ আমলে নেয়া হয়নি।
মিঠামইন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার কোরবান আলী বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হারুন অর রশীদের বাবা আবুল হাশেম হাসিদ ঘাগড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা। মুক্তিযুদ্ধের সময় পক্ষে বা বিপক্ষে তিনি কোনো ভূমিকা রাখেননি। সে সময় গ্রামের খুব সাধারণ একজন মানুষ ছিলেন আবুল হাশেম হাসিদ। তার গোষ্ঠীর লোকজন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতায় ভূমিকা রেখেছিলেন। এগুলো এলাকার সবাই জানে। সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ডেপুটি স্পিকার থাকার সময়ে আবুল হাশেম হাসিদকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন। ঘাগড়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তৎকালীন কমান্ডার ফজলুল হক চাপে পড়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবুল হাশেম হাসিদকে প্রত্যয়ন দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা এর বিরোধিতা করেছিলাম। তৎকালীন মিঠামইন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এডভোকেট রফিকুল আলম রতন এবং আমি জামুকাতে লিখিতভাবে অভিযোগও করেছিলাম। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাবের কারণে আমাদের সেই অভিযোগের ফাইলই খুঁজে পাইনি। তবে আমরা যেটি সত্য, সেটি সব সময় বলে এসেছি। আবুল হাশেম হাসিদ মারা যাওয়ার পর তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় যখন দাফন করা হয়, তখন আমরা অনেকেই সে সময় যাইনি। অনেকে আবার চাপে পড়ে গিয়েছেন। জানা গেছে, গাজীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকার সময় হারুন অর রশীদের বাবা আবুল হাশেম হাসিদ ২০১৬ সালের ৭ই এপ্রিল মারা যান। পরদিন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন কিশোরগঞ্জের আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সূর্যসেন হলে থাকতেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ১২ই জুনের নির্বাচনের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার মো. আবদুল হামিদ এডভোকেটের স্নেহভাজন হওয়ার কারণে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০০০ সালে হারুন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশে চাকরি নেন। তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার মো. আবদুল হামিদ এডভোকেটের সুপারিশে তিনি ভাইভাতে শতভাগ নাম্বার পান। এ নিয়ে সে সময় পত্র-পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়।
Friday, August 21, 2020
‘তার মতো এমন মানবদরদি খুবই বিরল’ by আশরাফুল ইসলাম

নিহত কুদ্দুসের পরিবার বিচার না পেলেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা হয় ৩টি মিথ্যা মামলা।
ওই সময়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে দৈনিক মানবজমিন-এর ভৈরব প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ২২শে আগস্ট দিনটি ভৈরববাসীর জন্য এক কালোদিন। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমান আহতসহ হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদে ২২শে আগস্ট ভৈরবে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকা হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ এ হরতাল আহ্বান করে। হরতালের সমর্থনে ভোর থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ভৈরব বাজার আওয়ামী লীগ অফিসে জড়ো হন। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটি ভৈরব বাজার রেলজংশনের মনমরা রেলসেতুর কাছে পিকেটারদের কবলে পড়ে। উত্তেজিত জনতা ট্রেনটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ আওয়ামী লীগ কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ও টিয়ার শেল ছোড়ে। গুলিতে আবদুল কুদ্দুস নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হন। ঘটনার পর উত্তাল হয়ে পড়ে ভৈরব। এ ঘটনায় পুলিশ ভৈরবের ২ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৩টি মিথ্যা মামলা করে। মিথ্যা মামলা করায় আওয়ামী লীগ লাগাতার কর্মসূচি দেয়। পুলিশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালায়। গ্রেপ্তার আতঙ্ক ও হয়রানির আশঙ্কায় অনেকে ভৈরব ছাড়তে বাধ্য হন। পুলিশ দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ অফিস অবরুদ্ধ করে রাখে।
সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম বলেন, সর্বদা পরিশ্রমী, অক্লান্ত ছুটে চলা আইভি রহমান আজ স্মৃতির সাদা ফ্রেমে বাঁধা নিশ্চুপ ছবি হলেও, ভৈরববাসী আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার কাছে তিনি জীবন্ত, চলমান। তিনি বেঁচে আছেন তার কর্মের মধ্য দিয়ে।
ভৈরব মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক উলফাত আরা জাহান জানান, ১৯৯৬ সালে তিনি যখন ভৈরব মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন, আইভি রহমান তখন কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান। ভৈরবে আসলেই তিনি ডাকতেন। কথা ও কাজে এক ছিলেন তিনি। দেশীয় খাবার খেতে পছন্দ করতেন তিনি। শুঁটকির ভর্তা ছিল তার প্রিয় খাবার। ১৯৯৮ সালে মহিলা সংস্থার অফিস নির্মাণ ছাড়াও মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে তিনি ভৈরব বাজারে মহিলা সমবায় মার্কেটের জন্য জায়গা বরাদ্দের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। উলফাত আরা জাহান বলেন, নারী উন্নয়ন ও নারী অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার এমন মানুষ আর দেখা যায় না। গ্রেনেড হামলার ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগেও তিনি ভৈরবে এসেছিলেন।
সে সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে উলফাত আরা জাহান বলেন, ওই বছর ভৈরবে বন্যা হয়েছিল। নিজ এলাকার দুর্গত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে জলাবদ্ধ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বাড়ি বাড়ি ছুটে গিয়ে তাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ত্রাণসামগ্রী। জন্মস্থান ভৈরবে তিনি আজীবন এভাবে নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে বেঁধে রেখেছিলেন। বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সভানেত্রী ও জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতির অবৈতনিক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে এখানকার নারীদের উন্নয়ন এবং সমাজের অবহেলিত শিশু, প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে তিনি ব্যাপক কাজ করেন। সেসব অসহায় মানুষের কাছে আইভি রহমান এখনো দেবীতুল্য। উলফাত আরা জাহান জানান, একেবারেই সাধারণ জীবনযাপন করতেন আইভি রহমান। পরতেন সুতির শাড়ি। আমৃত্যু মানুষকে ভালোবেসে গেছেন, তাদের ভালোবাসা পেয়েছেন। মানুষকে অকাতরে দান করলেও সেসব প্রচার করতেন না তিনি। তার মতো এমন মানবদরদি খুবই বিরল।
১৯৪৪ সালের ৭ই জুলাই কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব শহরের চণ্ডিবের গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সভ্রান্ত এক পরিবারে তার জন্ম। পিতা মরহুম জালাল উদ্দিন আহমেদ ছিলেন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ এবং ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ। মা হাসিনা বেগম ছিলেন আদর্শ গৃহিণী। ৮ বোন ও ৪ ভাইয়ের মধ্যে আইভি পঞ্চম। ছেলেবেলা থেকেই আইভি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, তবে প্রখর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। তার ব্যক্তিত্ব, গাম্ভীর্যপূর্ণ স্বভাবের জন্য তাকে বাইরে থেকে খুব কঠিন মনে হলেও, আদতে তিনি ছিলেন খুবই দরদি মনের মানুষ। যারা মিশেছে, কাছে গেছে তারাই পেয়েছে অপরিসীম ভালোবাসা, আদর, মমতা আর সহযোগিতা। প্রথম দর্শনেই আইভিকে ভালোবেসে ফেলেছিলেন বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ প্রয়াত প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে নবম শ্রেণি পড়ুয়া আইভির সঙ্গে ১৯৫৮ সালের ২৭শে জুন প্রয়াত প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমানের বিয়ে হলে নামের পরে ‘রহমান’ যুক্ত হয়। এ নামেই তিনি পরিচিতি পান দেশব্যাপী। শুধু আওয়ামী রাজনীতির জন্য নয়, আইভি রহমান বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সঙ্গে পারিবারিকভাবেও জড়িত ছিলেন। তার বড় বোন শামসুন্নাহার সিদ্দিক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানার শাশুড়ি। একমাত্র ছেলে বিসিবি সভাপতি ও সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন, দুই মেয়ে তানিয়া বখ্ত ও তনিমা রহমান ময়না এবং তাদের ছেলেমেয়ে ও স্বামী জিল্লুর রহমানকে নিয়ে তার পারিবারিক জীবন ছিল খুবই গোছানো। গ্রেনেড হামলায় আহত হয়ে আইভি রহমানের মৃত্যুর পর তাই বিষাদভরা কণ্ঠে মো. জিল্লুর রহমান জানিয়েছিলেন, ‘আইভিকে ছাড়া আমি জীবন্মৃত।’ ভৈরবের বাড়ির ‘গৃহকোণ’ নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘আইভি ভবন’। এই বাড়িটিতে ভৈরববাসীর সঙ্গে আইভি রহমানের নানা স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে আইভির অসামপ্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য জীবনের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। একই সঙ্গে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭১ সালে আইভি রহমান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তিনি ভারতে গিয়ে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে জাতীয় মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী হন। ১৯৭৮ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের মহিলা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৮০ সালে কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আইভি রহমান চলে গেছেন বার বছর হলো। কিন্তু ভৈরবে ‘আইভি ভবন’ আছে আগের মতোই। সেখানে বিভিন্ন উপলক্ষ্যে এসে অশ্রু-পুষ্পে ভৈরববাসী স্মরণ করেন তাদের প্রিয় নেত্রী আইভি রহমানকে। বাংলার এই কৃতী সন্তানের স্মরণে ভৈরবের কমলপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নির্মাণ করা হয়েছে ‘আইভি রহমান গেইট’। চণ্ডিবের গ্রামের নিজ বাড়িতে স্থাপন করা হয়েছে ‘স্মৃতিস্তম্ভ’। ভৈরব জিল্লুর রহমান সরকারি মহিলা কলেজের একটি ছাত্রীনিবাসের নামকরণ করা হয়েছে তার নামে। আইভি রহমান নিহত হওয়ার পর তার নামে ভৈরবে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছিল এলাকাবাসী। কিন্তু সেটি আজও উপেক্ষিত রয়ে গেছে।
Monday, September 16, 2019
গোয়ালঘরে মা by আশরাফুল ইসলাম

৯০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধার নামে দুই শতক জায়গা ছিলো। সেটিও লিখে দিয়েছেন ছোট দুই ছেলে হেলাল উদ্দিন ও নিজাম উদ্দিনের নামে। এরপর থেকে ছেলেরাও আর তার কোন খোঁজ নেন না। স্বামী-সন্তান থেকেও যেন কেউ নেই শমলা বিবির।
শমলা বিবির ছেলেরা স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন আর পরিপাটি সুন্দর ঘরে বসবাস করেন। কিন্তু মায়ের স্থান হয়নি তাদের সঙ্গে। অগত্যা পরিত্যক্ত মালামালের মতো তারও ঠাঁই হয়েছে বাড়ির গোয়ালঘরে। গোয়ালঘরের এক কোণে মাথা গুজে খেয়ে, না খেয়ে দিন কাটে তার।
গত দু’বছর ধরে গোয়ালঘরে গরুর পাশাপাশি নোংরা পরিবেশের মধ্যে একটি ভাঙা চৌকিতে শুয়ে দিন পার করছেন এই সর্বংসহা নারী। সেই গোয়ালঘরে জ্বলে না কোন বৈদ্যুতিক বাতি। এক অন্ধকার প্রকোষ্ঠের মতোই সেখানে দিন-রাত কাটে তার। গোয়ালঘরের গোমূত্রের গর্ত, আবর্জনা আর নোংরা পরিবেশে মশার অসহনীয় উৎপাতকে সঙ্গী করে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুকেই নিয়তি হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন এই জনমদুঃখী মা।
শমলা বিবির এই অসহায়ত্ব পীড়া দেয় ঢাকা থেকে স্বামীর সঙ্গে বাড়িতে বেড়াতে আসা মেয়ে নূরজাহান বেগমকে। ভাই হেলাল উদ্দিনকে তার বৈদ্যুতিক মিটার থেকে মায়ের থাকার ঘর গোয়ালঘরে বৈদ্যুতিক বাতির সংযোগ দিতে বলেন। কিন্তু মাস শেষে তার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল বহন করতে হবে বলে বৈদ্যুতিক বাতির সংযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান হেলাল। মায়ের দুর্ভোগ আর দুর্দশা সইতে না পেরে স্বামী মানিক মিয়াকে হোসেনপুর থানায় অভিযোগ দিতে পাঠান নূরজাহান।
গতকাল শনিবার দুপুরে মানিক মিয়া অভিযোগ নিয়ে হোসেনপুর থানায় গেলে বিষয়টি জানতে পারেন হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোনাহর আলী। অভিযোগ শুনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোনাহর আলী সেই মাকে দেখতে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও অফিসার ফোর্সসহ বিকালেই ছুটে যান উপজেলার শাহেদল বড়বাড়িতে।
হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোনাহর আলীকে শমলা বিবি জানান, দুই বছর ধরে তিনি গোয়ালঘরে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন। সারাদিন গোয়ালঘরে, একবারও কেউ তার খোঁজ নিতে আসে না। এই বয়সটাই যেন তার কাছে এক বিরাট অভিশাপ।
এ সময় হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোনাহর আলী স্থানীয় দুই ইউপি সদস্যকে ডেকে আনেন। দুই ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে শমলা বিবিকে ছোট ছেলে নিজাম উদ্দিনের ঘরে তুলে দেন তারা। শমলা বিবির ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন দ্বিতীয় ছেলে ইমান উদ্দিনের ব্যবসায়ী ছেলে ওমর ফারুক। এছাড়া ৪ ছেলে গিয়াস উদ্দিন, ইমান উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন ও নিজাম উদ্দিন ১০ দিনের মধ্যে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেয়ার লিখিত অঙ্গীকার করেন।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোনাহর আলী বলেন, শমলা বিবির চার ছেলে নতুন ঘর নির্মাণ করার অঙ্গীকার করেছেন। তবে সেই অঙ্গীকার তারা কতটা রাখেন সেটি বলা যাচ্ছে না। এ কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে তারা এই দুখিনী মায়ের থাকার জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। নতুন ঘর নির্মাণ করে দেয়া ছাড়াও এই মায়ের থাকার জন্য যাবতীয় জিনিসপত্রের ব্যবস্থাও করে দেবে পুলিশ।
Tuesday, August 20, 2019
ভ্রমণপিপাসুরা ছুটছে কিশোরগঞ্জের হাওরে by আশরাফুল ইসলাম

প্রতি বর্ষাতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ঘুরতে আসেন এই হাওরে। এবারের ঈদ যেন দর্শণার্থীদের আরো বেশি হাওরপ্রেমী করে তুলেছে। মানুষজন দলবেঁধে ছুটছেন হাওরের বিভিন্ন মনোরম স্থানে। জেলার হাওরের পাড়ে পাড়ে এখন ভ্রমণপিপাসুদের কলরব। তাদের বাঁধভাঙা ঢল আর উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা হাওর যেন পরিণত হয়েছে পর্যটনের এক স্বর্গপুরীতে। শুকনো মৌসুমে হাওর মানে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, ধুলোউড়া মেঠোপথ, রুপালি নদী। বর্ষায় এই রুপালি নদীগুলোই ফুঁসে উঠে। দুই তীর ছাপিয়ে প্লাবিত করে ফসলি মাঠ। এই প্লাবিত মাঠই বর্ষার হাওর। হাওর অধ্যুষিত অন্যতম একটি জেলা কিশোরগঞ্জ। এই বর্ষায় অন্যবছরের চেয়ে হাওরে পানি তুলনামূলকভাবে বেশি এসেছে। এই পানির টানে এবারের ঈদে হাওরের বেশ কয়েকটি স্থানে ঢল নেমেছে দর্শনার্থীদের। এরমধ্যে রয়েছে করিমগঞ্জ উপজেলার চামড়াঘাট, বালিখলা ও হাসানপুর ব্রিজ, ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সংযোগ সড়ক ও বেড়িবাঁধ, শিমুলবাঁকের হিজলবন, মিঠামইনের কামালপুরে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের বাড়ি, দিল্লির আখড়া, নিকলী বেড়িবাঁধ, ছাতিরচরের হিজলবন এবং তাড়াইলের হিজলজানি হাওর।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহর থেকে সবচেয়ে কাছে হাওরের স্পর্শ পাওয়া যায় করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা এলাকায়। বালিখলা থেকে মিঠামইনে যাওয়ার পথে হাওরের পানিতে ভাসছে একটি সেতু। হাসানপুর গ্রামের পাশে গড়াভাঙ্গা নদীর উপর নির্মিত এই সেতুটি হাসানপুর ব্রিজ নামে পরিচিত। প্রায় ১৫৭ মিটার দীর্ঘ ব্রিজের সাথে রয়েছে ১.১৭ কিলোমিটার অলওয়েদার সড়ক ও ১.৬৫ কিলোমিটার সাবমার্সিবল সড়ক। এবারের ঈদে জেলার হাওরের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দপর্যটকের ঢল নেমেছে বালিখলা এলাকায়। বালিখলা এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে তারা হাওরের বিপুল সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। অনেকেই আবার হাওরের বহমান পানির স্রোতে গা ভাসিয়ে দিচ্ছেন। বালিখলা ঘাট থেকে নৌকা ভাড়া নিয়ে অনেকেই ছুটছেন হাওর ভ্রমণে। নৌকাযোগে ছুটে যাচ্ছেন অদূরের হাসানপুর ব্রিজে। সেখানে ফটোসেশন, আড্ডা আর ঘুরেফিরে সময় কাটানোর পাশাপাশি ব্রিজের সাবমার্চেবল সড়ক অংশে পা ভেজাচ্ছেন হাওরের জলে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাওরের সৌন্দর্যের টানে প্রতিদিন ভ্রমণপিপাসু মানুষ দলবেঁধে ছুটে আসছেন।
বালিখলা ও হাসানপুর ব্রিজ ছাড়াও হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলীতে রয়েছে বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ। নির্মিত হচ্ছে উপজেলাগুলোর সংযোগ সড়ক। এসব বেড়িবাঁধ বা সড়কে দাঁড়িয়ে সামনের দিকে তাকালে ৩০-৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো গ্রাম চোখে পড়ে না। বাঁধ বা সড়কে দাঁড়িয়ে হাওর দেখা সাগর দেখার মতোই উপভোগ্য। হাজারো দর্শনার্থী রোজ ছুটছেন হাওরের নির্মল বাতাসে বুকভরে নিঃশ্বাস নেয়ার পাশাপাশি হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।
হাওরের নান্দনিক স্থানের মধ্যে দর্শনার্থীদের কাছে পছন্দের একটি নাম নিকলী বেড়িবাঁধ। নিকলী উপজেলা সদরে হাওরের ঢেউয়ের কবল থেকে রক্ষা করতে ২০০০ সালে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই বেড়িবাঁধটি নির্মাণ করা হয়। পরে ২০১০ সালে নিকলী উপজেলা পরিষদের সামনের প্রতিরক্ষা দেওয়াল বাঁধটিকেও বেড়িবাঁধ আকারে করে এর সাথে সংযুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই দীর্ঘ ৬ কিলোমিটারের এই হাওর রক্ষা বাঁধটিকে কেন্দ্র করে নিকলী পর্যটন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বর্ষা এলেই জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন নিকলীতে। ফলে ঈদের আগে থেকেই দর্শণার্থীরা নিকলী বেড়িবাঁধে ভিড় জমাতে থাকেন। ঈদের পর থেকে নির্মল আনন্দের খোঁজে দর্শনার্থীরা বেছে নিয়েছেন হাওরের এই স্থানটিকেই। ফলে সকাল থেকে সন্ধ্যা এমনকি রাত পর্যন্ত সব বয়সীদের উপচে পড়া ভিড় সেখানে লেগেই রয়েছে। এছাড়া নিকলী উপজেলা সদরের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ থাকায় সেটিও দর্শনার্থীদের আগ্রহী করছে। নিকলী বেড়িবাঁধ থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও স্পিডবোট ভাড়ায় নিয়ে দর্শণার্থীরা হাওরের মাঝে ভেসে বেড়ানোরও সুযোগ পাচ্ছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, এবারের ঈদের পরের দিন থেকে নিকলীতে প্রতিদিন লাখো মানুষ ভিড় করছেন। রোদারপুড্ড সেতু থেকে শুরু হওয়া দর্শনার্থীদের এই ভিড় দেখতেও চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে। দর্শনার্থীরা শুধু হাওর-ই দেখছেন না, ঢেউয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে নামছেন গোসল, জলকেলি ও সাঁতারে।
হাওরে বর্ষা থাকে বছরের প্রায় ছয় মাস। পানি আসতে শুরু করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ থেকে। শেষ হয় আশ্বিন-কার্তিকে। এই পুরো সময় জুড়েই হাওরে পর্যটকদের ভিড় থাকে। শ্রাবণ মাস শেষে এখন ভাদ্র মাস চলছে। হাওরে টুইটম্বুর পানি। ঈদের ছুটিতে হাওরদর্শন যেন ঈদের আনন্দকে আরো বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। ঈদের আমেজে প্রতিদিনই হাওরে ছুটছেন লাখো মানুষ। যেন এক মহামিলনের উৎসবে মাতোয়ারা বিনোদনপ্রেমীরা।
দর্শনার্থীরা বলছেন, প্রতিদিন হাওরে হাজার হাজার মানুষ আসছেন একটু নির্মল আনন্দময় পরিবেশে সময় কাটাতে। হাওরের মতো এমন পরিবেশ এখন আর কোথাও দেখা যায় না।
হাওরে ঘুরতে আসা দর্শণার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক রয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) বলেন, হাওরের এবার দর্শনার্থীদের বিপুল সমাগম ঘটছে। তবে দর্শনার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণের ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত। নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের পুলিশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
Thursday, August 8, 2019
খেলাপি ঋণের পাহাড় by আশরাফুল ইসলাম

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছরের শুরুতেই অর্থমন্ত্রী ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১৫ বছরের জন্য ঋণ নবায়নের কথা বলেন। যদিও পরে তা সার্কুলার করে ১২ বছর করা হয়েছে। এসব কারণে যেসব ব্যবসায়ী নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করতেন, তারা আর ঋণ পরিশোধে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার এটা অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতের ঋণ বিতরণ ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে মোট ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশই খেলাপি।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, মার্চ শেষে সরকারি খাতের ৬ ব্যাংকের ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা ঋণের ৫৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা খেলাপি। গড়ে ব্যাংকগুলোর ৩২ দশমিক ২০ শতাংশ ঋণই খেলাপি হয়ে গেছে।
বেসরকারি খাতের দেশীয় ৪০টি ব্যাংকের ঋণ ৭ লাখ ৫ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর ৪৯ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা খেলাপি, যা মোট ঋণের ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ।
ব্যাংক-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালকেরা নিজেদের মধ্যে ঋণ আদান-প্রদান করছেন। যে উদ্দেশ্যে এসব ঋণ নেয়া হচ্ছে, তার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। ঋণের অর্থ পাচারও হচ্ছে। এর সাথে জড়িয়ে পড়েছেন ব্যাংকের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও। ফলে খেলাপি ঋণের ভয়াবহতা প্রকাশ পাচ্ছে।
বিদেশী ৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ মার্চ শেষে হয়েছে ২ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর ৬ দশমিক ২০ শতাংশ ঋণ খেলাপি। এসব ব্যাংক ঋণ দিয়েছিল ৩৬ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।
বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ ঋণই খেলাপি। এসব ব্যাংক ঋণ দিয়েছিল ২৪ হাজার ৬০২ কোটি টাকা।
জানা যায়, গত বছরের শেষ দিকে বিপুল অঙ্কের ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে নিয়মিত করা এবং আদায় জোরদায় করায় খেলাপিঋণ তিন মাসের ব্যবধানে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমে ৯৩ হাজার কোটি টাকায় নেমেছিল। কিন্তু নবায়ন করা খেলাপি ঋণ আদায় না হওয়ায় আবার ওই ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে। এতে চলতি বছরে খেলাপি ঋণ আবার লাগামহীনভাবে বাড়তে শুরু করেছে। এর কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলো তাদের অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাই সেখানে ভালো অবস্থান দেখাতেই কূট কৌশল প্রয়োগ করে থাকে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে অন্যতম হলো খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল বা নবায়ন। আর বছরের শেষ সময়ে এসে এই সুবিধা দেয়া-নেয়ার প্রবণতাও বাড়ে। এ ছাড়া শেষ সময়ে ঋণ আদায় কার্যক্রম জোরদার করা হয়। কিন্তু বছরের শুরুতেই ঋণ পুনঃতফসিল যেমন কম হয়, তেমনি আদায় কার্যক্রমেও গতি থাকে না।
সূত্র বলছে, ২০১৪ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা দিতে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনে (নিয়মিত) বিশেষ ছাড় দেয়া হয়। ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই আড়াই বছরেই এ সুযোগ নেন দেশের বড় শিল্প গ্রুপ। এর আওতায় ওই সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি সাপেক্ষে প্রায় ৪৯ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নিয়মিত করা হয়েছিল। এর বাইরে বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় ব্যাংকগুলো নিজেরা আরো ৬৪ হাজার ৮৬২ কোটি টাকার ঋণ নিয়মিত করে। সবমিলে ওই সময় পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকার ঋণ বিশেষ সুবিধায় নিয়মিত করা হয়ে। পরে ব্যাংক খাতে ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে এরকম ১১টি ব্যবসায়ী গ্রুপকে ১৫ হাজার ২১৮ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত এসব ঋণ গ্রাহকেরা যথাসময়ে ফেরত দিচ্ছে না। ফলে তা আবার খেলাপি হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মূলত দুইটি কারণে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। একটি খেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দেয়া এবং অপরটি দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়া। গত ডিসেম্বরে বিশেষ সুবিধায় যেসব ব্যবসায়ী ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই খেলাপি ঋণ নবায়ন করেছিলেন, ওই সব ঋণ আবার খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। কারণ এ সময়ে ব্যবসাবাণিজ্যের কোনো উন্নতি হয়নি। এর বাইরে ব্যাংকিং খাতে যেসব দুর্নীতি হয়েছে তার একটিরও বিচার হয়নি। বরং তাদের রক্ষায় আরো নীতিসহায়তা দেয়া হয়েছে। সাম্প্রতি খেলাপি ঋণ কমাতে যেসব নীতিমালা করা হয়েছে, এসবই ভুল। এতে ভুল বার্তা দেয়া হয়েছে। সে কারণে কেউ টাকা দিচ্ছে না। ধীরে ধীরে এটি আরো খারাপ পরিণতির দিকে যাচ্ছে। সুশাসনের ঘাটতি, পরিচালকদের ঋণ ভাগাভাগি ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় সমস্যাÑ এসব কারণে খেলাপি ঋণ না কমে ক্রমেই বাড়ছে।
Tuesday, August 6, 2019
কিশোরগঞ্জে সৌরভ ছড়াল ‘নাইট কুইন’ by আশরাফুল ইসলাম

এছাড়া ফোটার অপেক্ষায় রয়েছে আরো একাধিক ফুল। রাত ১০টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, মৃদু সৌরভে ভরা নাইট কুইন ফুল দেখতে সাদা রঙের পদ্ম ফুলের মতো। গাছের পাতা থেকে জন্ম নেয়া ফুল দু’টি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি মন মাতানো গন্ধ। যেন প্রকৃতিপ্রেমীরদের জন্য এক অনন্য উপহার। কিশোরগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মো. সায়েদুর রহমান খান জানান, সন্ধ্যা থেকেই ফুল দু’টি প্রস্ফুটিত হচ্ছিল। রাত বাড়ার সাথে সাথে নাইট কুইন ফুল দু’টি নিজেদের সৌন্দর্য মেলে ধরে সৌরভ ছড়াতে থাকে। জেলা ও দায়রা জজ মো. সায়েদুর রহমান খান বলেন, ফুলটিকে সচরাচর দেখা যায় না। দুর্লভ এই ফুলের জন্ম হয় পাতা থেকে। আর সেই পাতা থেকেই প্রস্ফুটিত হয় অসাধারণ নাইট কুইন ফুল। পাতার যেকোনো দিকে ছোট একটি গুটির মতো বের হয়। এই গুটি আস্তে আস্তে বড় হয়ে ফুলে পরিণত হয়। জেলা ও দায়রা জজ মো. সায়েদুর রহমান খানের সহধর্মিণী জেলা যুব উন্নয়ন কেন্দ্রের সিনিয়র প্রশিক্ষক নাজমুন নাহার কাদীর জানান, তিনি আগে কখনো নাইট কুইন ফুল দেখেননি। এখানে এসে গাছটি দেখার পর থেকেই পরিচর্যা করেছেন আর দিন গুনছেন ‘কবে দেখা মিলবে রাতের রানীর’। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে গাছটিতে দুটি নাইট কুইন ফুল চোখে পড়ে তার। বিস্মিত চোখে বিস্ময়কর রাতের রানীর সৌন্দর্য আর সৌরভ উপভোগ করেছেন তিনি। নাজমুন নাহার কাদীর এর সঙ্গে আলাপচারিতার মাঝেই নাইট কুইন ফোটার খবরে একনজর দেখতে জেলা জজের বাসভবনে বিচার বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা সপরিবারে ছুটে আসেন। নাজমুন নাহার কাদীর বলেন, বাসায় নাইট কুইন ফুল ফুটেছে, এই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেও ভীষণ ভালো লাগছে।
Tuesday, July 23, 2019
বর্বর প্রেমিক পিয়াসের হাতেই ধর্ষণের শিকার হয় রিমা by আশরাফুল ইসলাম

সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে গত ১৭ই জুলাই রাতে সুকৌশলে স্কুল ছাত্রীকে নানার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে প্রথমে সে নিজে ধর্ষণ করে এবং পরে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের নিয়ে গণধর্ষণ করে। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিয়াস মিয়া ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। লে. কমান্ডার, বিএন এম শোভন খান জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের গাংধোয়ারচর গ্রামে নানার বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ের একটি বরই গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় রিমার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই র্যাবের একটি চৌকস আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। এছাড়া তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত আসামিদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চালায়। এরই ধারবাহিকতায় এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও ধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মামলার এজাহারনামীয় ২নং আসামি পিয়াস মিয়াকে তারা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্যও র্যাবের অভিযান চলমান রয়েছে।
লে. কমান্ডার বিএন এম শোভন খান জানান, পিয়াসের বাবা রুবেল মিয়া সৌদি আরব থাকার সুযোগে পিয়াস উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। এলাকায় বখাটেপনা ছাড়াও সে ইয়াবায় আসক্ত ছিল। সে ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে একবার গ্রেপ্তারও হয়েছিল।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে পিয়াস জানিয়েছে, দুই মাস আগে রিমার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সুবাদে রিমা নানাবাড়িতে আসলে পিয়াস তার সঙ্গে দেখা করতো। ঘটনার রাতেও পিয়াসের ডাকে রিমা ঘর থেকে বের হয়। পরে বাড়ির পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে রিমাকে সে প্রথমে ধর্ষণ করে। এ সময় জাহিদ ও তার অন্য বন্ধুরা পাহারায় ছিলো। পিয়াসের পর পালাক্রমে অন্যরা মেয়েটিকে ধর্ষণ করে।
পিয়াস সম্পর্কে তার স্কুল পাকুন্দিয়া পাইলট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফছর উদ্দিন আহম্মদ মানিক জানান, সে স্কুলে আসতো না। তার মাথার চুলের স্টাইল ছিল অন্যরকম। বছর দু’য়েক আগে বিদ্যালয়ে ছাত্রদের চুল রাখার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপের পরও সে তার চুলের স্টাইলের পরিবর্তন করেনি। ফলে সেলুনে নিয়ে গিয়ে তার চুল কাটানো হয়।
প্রধান শিক্ষক আফছর উদ্দিন আহম্মদ মানিক বলেন, বর্বর ও নৃশংস এই ঘটনায় পিয়াস জড়িত থাকায় ও গ্রেপ্তার হওয়ায় আমরা তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করবো। এজন্যে সোমবার মিটিং করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৌদি প্রবাসী রুবেল মিয়ার এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে পিয়াস ছোট। বাবার অবর্তমানে একমাত্র ছেলে পিয়াস এই বয়সেই উচ্ছৃঙ্খলতায় ডুব দেয়। পিয়াস এবং তার বন্ধুদের বখাটেপনায় এলাকাবাসী ছিলেন দিশেহারা। পিয়াস তার বন্ধুদের নিয়ে বাড়িতেই ইয়াবার আড্ডা বসাতো। এলাকার মেয়েদের উত্যক্ত করতো। রিমা হত্যাকাণ্ডের পর তার বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং কনডম পাওয়া যায়।
নিহত স্মৃতি আক্তার রিমা পার্শ্ববর্তী হোসেনপুর উপজেলার জামাইল গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের কন্যা ও হোসেনপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের গাংধোয়ারচর গ্রামে নানার বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ের একটি বরই গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিনই বিকালে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে স্মৃতি আক্তার রিমার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্তে ধর্ষণের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত স্কুল ছাত্রীর মা আঙ্গুরা খাতুন বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় মামলাটি (নং-৮) করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩)/৭ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় জাহিদ মিয়া (২০), পিয়াস মিয়া, রুমান মিয়া (১৮) ও রাজু মিয়া (১৮) এই চার জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার চার আসামির মধ্যে জাহিদ মিয়া পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী গ্রামের খুরশিদ মিয়ার ছেলে, পিয়াস মিয়া একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী রুবেল মিয়ার ছেলে, রুমান মিয়া গ্রামেরই ফারুক মিয়ার ছেলে ও রাজু মিয়া একই গ্রামের কফুল উদ্দিনের ছেলে। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়েতে ব্যর্থ হয়ে রিমাকে অপহরণের পর জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম শফিকুল ইসলাম জানান, র্যাব গ্রেপ্তারের পর পিয়াসকে রোববার বিকালে পাকুন্দিয়া থানায় হস্তান্তর করেছে। এছাড়া মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1782)
-
▼
August
(329)
-
▼
Aug 30
(14)
- লেবাননে সমৃদ্ধ ইতিহাসের নতুন তথ্য, মিলছে হাজার বছর...
- আরব বিশ্বে বাড়ছে খাদ্য ও পানির সংকট, মরুকরণে ব্যাহ...
- তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে চাপে নেতানিয়াহু
- ইরান যুদ্ধে অস্ত্রের মজুত ‘সংকটজনক’, চীন-রাশিয়া মো...
- নিষেধাজ্ঞায় কি নত হবে ইরান, ট্রাম্পের সামনে বড় প্রশ্ন
- ব্যাগে ছয় দেশের পাসপোর্ট, বেনজীর এখন সেন্ট লুসিয়ায়...
- ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ এখন রড-সিমেন্টের কারবারি by নাজমু...
- ইরানের হুমকি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরলেন নে...
- পশ্চিম তীরের গ্রামের একমাত্র প্রবেশপথ বন্ধ করে দিল...
- ইরান যুদ্ধ ও বাণিজ্য উত্তেজনা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে...
- কেন লোকচক্ষুর আড়ালে ব্যারন ট্রাম্প
- ক্যানসারের চিকিৎসার মধ্যেই সিনেমার কাজ, কঠিন লড়াইয়...
- কিয়েভের কাছে গোলাবারুদের গুদামে রাশিয়ার হামলা, নিহ...
- কলকাতার মুসলিম কলোনিতে এক মাস ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ...
-
▼
Aug 30
(14)
-
▼
August
(329)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...