Tuesday, October 30, 2012
হাসন সখী by অন্নদাশঙ্কর রায়
হাসন সখী by অন্নদাশঙ্কর রায়
ক্লাসে যারা ডাকসাইটে দস্যি ছেলে, পড়া বলতে পারে না, বেঞ্চির উপর দাঁড়ায়, তারা বসে পিছনের সারিতে। একদিন তাদের রাজা সূর্যমোহন এসে আমায় বললে, 'আজ থেকে তুমি হলে আমাদের মন্ত্রী। আমাদের সঙ্গে বসবে, খাতা দেখতে দেবে, প্রম্পট্ করবে। কেমন, রাজি?'
আমি নবাগত, আমার ছেলেবেলার ইস্কুল থেকে নাম কাটিয়ে পুরী জেলা স্কুলে ভর্তি হয়েছি। কাউকে চিনিনে বললে হয়তো ভুল বলা হবে, কারণ আমার এক দূর সম্পর্কের দাদা আমার সহপাঠী, তারই কাছে বসি ও তারই সঙ্গে বেড়াই। এমন যে আমি, সেই আমাকেই কিনা মন্ত্রী মনোনয়ন করলেন সেকেন্ড ক্লাসের ছোট লাট সূর্যমোহন ছোটরায়।
শুনেছিলাম তাদের অসাধ্য কাজ নেই। ফুটবল খেলার সময় ফাউল করে পা ভেঙে দেওয়া তাদের নিত্যকর্ম। সন্ধ্যার অন্ধকারে ল্যাং মারা ও গলির মধ্যে অদৃশ্য হওয়া তাদের অভ্যাস। আমার যদিও ফুটবল খেলার ব্যসন ছিল না, সমুদ্রতীর থেকে বাসায় ফিরতে প্রায়ই অন্ধকার হত। বাসা ছিল গলির ভিতরে, সুতরাং ভয়ের হেতু ছিল। আমি আর কথা কাটাকাটি না করে পিছনের সারিতে মুখ ঢাকলুম।
এই ঘটনা যে কেউ লক্ষ করবে অতটা আমি ভাবিনি। আমি অপরিচিত নগণ্য ব্যক্তি, কেই বা আমাকে চেনে? কিন্তু দিন কয়েক পরে আমাদের ইংরেজি মাস্টার কেশববাবু আমাকে অযাচিত অপমান করলেন আমি খারাপ ছেলেদের একজন বলে। তার পর কী মনে করে আমাকে কাছে ডেকে নিয়ে বললেন, 'ওভ ুড়ঁ ধিহঃ ঃড় নব ধ মড়ড়ফ নড়ু ভড়ষষড় িসু ঘরষঁ.'
কেশববাবুর ছেলে নীলাদ্রি পড়ত আমাদেরই ক্লাসে, বসত সামনের সারিতে। সত্যিকারের ভালো ছেলে, ফার্স্ট সেকেন্ড হত। আমি তার সঙ্গে আলাপের চেষ্টা করিনি, সেও আমার সঙ্গে না। আমি লাজুক, সে অহংকারী। অন্তত লোকে তো তাই বলে। তার বাবা যখন এত মানুষের মাঝখানে আমাকে অপমান করে গেলেন তখন আমিও আমার মুখরক্ষার জন্যে তার কথাগুলির অন্য অর্থ করলুম। আমার দুষ্ট ছেলের দলটিকে মন্ত্রণা দিলুম, 'ওহে মাস্টার মশাই কী করতে বললেন শুনলে তো। নীলুকে ফলো করতে হবে। তার মানে, নীলু যখন যেদিকে যাবে তোমরাও তখন সেই দিকে যাবে। কিন্তু খবরদার, নীলু যেন টের না পায়।'
সে দিন থেকে আমাদের মন্ত্র হল নীলুকে ফলো করো। আমরা ওটার উপর বাঁদরামি ফলিয়ে ওর উচ্চারণ করতুম, ফল্লো মাই নীল্লো!
তখন ঠাহর হয়নি এর পরিণাম কী হতে পারে। একদিন আমাদের দলের দীনকৃষ্ণ এসে আমার কানে কানে বললে, 'জানিস, ও কোথায় যায়?'
'কোথায়?'
'কাউকে বলিসনে। সমুদ্রের ধারে একটা ছোট দোতলা বাড়ি আছে, চক্রতীর্থের দিকে। সেখানে রোজ বিকেল বেলা নীলু গিয়ে কাদের সঙ্গে আড্ডা দেয়, শুনবি?'
'কাদের সঙ্গে?'
'মেয়েদের সঙ্গে!'
ডিটেকটিভ বই পড়েও আমি এমন রোমাঞ্চিত হইনি। সেদিন আমার ইচ্ছা করছিল দুনিয়ার লোককে ডেকে বলতে, আহা! নীলু কেমন ভালো ছেলে দেখলেন তো আপনারা! ফল্লো মাই নীল্লো!
মেয়েদের উল্লেখ শুনে আমি আমার মুখখানাকে যথাসাধ্য সাধু সন্ন্যাসীদের মতো করে বললুম, 'আমরা দুষ্টু ছেলে বটে, কিন্তু দুশ্চরিত্র নই। আমাদের আদর্শ স্বামী বিবেকানন্দ, আমরা কি কখনো মেয়েদের সঙ্গে মিশতে পারি!'
দীনু বললে, 'মেশা দূরে থাক, ওদের কাছে যেতেই আমার বুক ধুকপুক করে। একটি মেয়ে যেই নিচে নামল আমি দিলুম ভোঁ দৌড়। নীলুর, যাই বল, সাহস আছে।'
আমি সেদিন আবিষ্কার করলুম যে আমরা দুজনেই সমান ভণ্ড। যেমন আমি তেমনি দীনু। আসলে আমরা নীলুর অনুসরণ করতে পেলে বাঁচি। দুনিয়ার লোকের চোখে ধুলো দিয়ে আমরা দুই ভণ্ড সন্ন্যাসী নীলুর পিছু নিলুম। বুক ধুকপুক করছিল বটে দুজনেরই কিন্তু মেয়েদের জন্য নয়, তাদের অভিভাবকদের ভয়ে। মুখে বোলচাল দিচ্ছিলুম, 'নীলুটাকে ধরিয়ে দিতে হবে।' কিন্তু অন্তরাত্মা জানেন যা মনে মনে বলছিলুম। 'যদি ধরা পড়ি তখন?' তখন অবশ্য ভোঁ দৌড়।
বাড়িটার নাম 'ঊর্মিমুখর'। ছোট দোতলা বাড়ি। ফিকে নীল রং। সমুদ্রের হাওয়ায় ছিল সমুদ্রের স্বনন। বাড়িটা সার্থকনামা।
আমরা ওর পাশে ঝিনুক কুড়োতে বালু খুঁড়তে আরম্ভ করে দিলুম গুটি কয়েক অচেনা শিশুর সঙ্গে ভাব করে। নজর রাখলুম নীলুর উপরে। নীলু যখন দোতলায় পেঁৗছল তখন হাসির হররা উঠল তাকে দেখে, না তার পোশাক দেখে, না কী দেখে তা বোঝা গেল না। নীলুও সে হাসিতে যোগ দিলে। আমাদের কানে আসতে লাগল, হা হা। হো হো। হি হি।
নীলুটা যে এমন বাঁদর তা কে জানত। মেয়েদের সঙ্গে সমানে চাল দেয়। কখনো হাসে, কখনো গায়, কখনো খুনসুটি করে। আমরা শুনে পেলুম ওরা ওকে ভূতুম বলে ডাকছে। নামের কী ছিরি। ভূতুম! নীলুর কিন্তু তাতেই আনন্দ। সে পেঁচার মতো আওয়াজ করছে, 'হুঁম... হুঁম... হুঁম...'
দীনু বললে, 'খেতে খেতে আওয়াজ করছে বলে অমন শোনাচ্ছে।'
আমি বললুম, 'বুঝেছি, খাবার লোভেই ছোঁড়া রোজ এদিকে আসে।'
নীলু যে একজন ভাগ্যবান পুরুষ এ বিষয়ে আমাদের দ্বিমত ছিল না। না জানি কী ভালোমন্দ খায়, আমরা তো পাইনে। এতগুলো মেয়ে মিলে রেঁধেবেড়ে খাওয়ায়। হয়তো চপ কাটলেট ডিমের অমলেট। কী বলে ওকে? পুডিং। হয়তো চকোলেট টফি লজেন্স খেতে দেয়, আইসক্রিম লেমনেড সিরাপ।
আমরা স্থির করলুম নীলুর বাবাকে জানাতে হবে সে কুসংসর্গে মিশছে। আমাদের দলের টাইগারের উপর সে ভার পড়ল। ওর মতো ঠোঁটকাটা বেহায়া খুব কম দেখা যায়। মানুষের গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধায়, বিশ্রী গালাগাল দেয়। ওর মুখে কিছু আটকায় না। গুরু লঘু জ্ঞান নেই।
টাইগার একদিন মাস্টার মশায়ের পা মাড়িয়ে দিয়ে ঘটা করে পায়ের ধুলো নিলে। তারপর বললে, 'এবার থেকে নীলুরও পায়ের ধুলো নেব স্যার। সে আমাদের চেয়ে অনেক উঁচুতে।'
'কেন হে?'
'সে গাছের ডালে বিচরণ করে, নাম তার ভূতুম। একটি নয়, দুটি নয়, অনেকগুলি পেচানী তার সহচারিণী।'
মাস্টার তো হতবাক। তারপরে টাইগারের কানটা নিজের মুখের কাছে টেনে নিয়ে বললেন, 'ভালো করে খোঁজ নিলে জানবে যে নীলু যায় একটি রুগ্ন মেয়েকে একটুখানি আনন্দ দিতে। মেয়েটির যক্ষ্মা, বাঁচবে কিনা সন্দেহ। সহচারিণী যাদের বলছ তাদেরও ঐ কর্তব্য। সহচরও আছে। সব ভদ্র ঘরের ছেলে, ভদ্র ঘরের মেয়ে। তোমাদের মতো ইতর নয়।'
এর পরে আমি নীলুর সঙ্গে যেচে আলাপ করি। সে একটি যক্ষ্মা রোগীকে একটুখানি আনন্দ দিতে যায়, ভূতুম সাজে, লোক হাসায়। এতে আমি তার মহত্ত্বের পরিচয় পেলুম। তাকে খুলে বললুম সমস্ত, মাফ চাইলুম। নিজের দল ছেড়ে সামনের সারিতে বসতে লাগলুম তার পাশে। ইতিমধ্যে সেও পেয়েছিল আমার বিদ্যার পরিচয়। মাস্টার মশায় আমার খাতা দেখে তাকে নাকি বলেছিলেন যে ছোকরার স্টাইল আছে।
অবশেষে সেই অনিবার্য দিনটি এল যেদিন নীলু আমাকে তার অনুসরণ করতে বললে 'ঊর্মিমুখরে'র দোতলায়। সেখানে একখানি ইজি চেয়ার পাতা, তাতে ঠেস দিয়ে বসেছিল বা শুয়েছিল আমাদেরই বয়সের একটি বিষণ্ন রুগ্ন মেয়ে। নীলু বললে, 'এ আমার হাসন সখী।' মেয়েটি একটু হাসল। 'আর আমি এর ভূতুম।'
'তোমার নাম কি বুদ্ধু?' প্রথম আলাপেই প্রশ্ন করল মেয়েটি। আমি বলতে যাচ্ছিলাম আমার নাম, কিন্তু চোখ টিপল নীলু। তখন আমি উত্তর করলুম, 'হ্যাঁ, ভাই, আমার নাম বুদ্ধু।' সে যখন আমাকে তুমি বলেছে আমিও কেন তাকে তুমি বলব না? শুধালাম 'তুমি বুঝি 'ঠাকুমার ঝুলি' পড়তে ভালোবাসো?'
'ভালোবাসি। সবচেয়ে ভালো লাগে কিরণমালার কাহিনী। আমি যেন কিরণমালা আর তোমরা যেন অরুণ বরুণ। তোমরা যেন মস্ত এক পুরী বানালে মর্মর পাথরের। আর আমি তাকে সাজালুম যত রাজ্যের মণি মাণিক্য দিয়ে। তবু কিসের যেন অভাব। তাই তোমাদের বললুম, যাও তোমরা, নিয়ে এসো সেই সোনার পাখি আর সেই মুক্তা ঝরার জল।'
মেয়েটির আসল নাম চাঁপা। এককালে ওর গায়ের রং চাঁপার মতো ছিল, এখন শুকিয়ে কালো হয়ে আসছে। মুখে এক প্রকার মাদকতা বা মদিরতা। নেশা লাগে ওর সঙ্গে কিছুক্ষণ থাকলে। দেখতে যে খুব সুন্দর তা নয়, কিন্তু তন্ময় হয়ে কথা যখন বলে তখন মনের সৌন্দর্য এসে তনুর সৌন্দর্য হয়।
সেদিন ওদের ওখান থেকে যখন ফিরলুম, তখন চোখে আমার জল। নীলু লক্ষ করলে।
বললে, 'কাঁদছিস নাকি?'
'কাঁদব না তো কী? হাসব? আমি কি তোর মতো পাষাণ?'
'আমি যে হাসি তা পাষাণ বলে নয়। হাসি ওকে হাসাতে।'
'ওকে হাসাতে চাইলেও আমি হাসতে পারব না। এ কি হাসির কথা যে একটি সুন্দর ফুল দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে! হায় ভগবান, কেন আমাদের এত অক্ষম করে সৃষ্টি করলে। কেন, কেন, ওগো একটিবার বলে দাও কেন আমরা পারব না ওকে মুক্তা ঝরার জল দিয়ে বাঁচাতে।'
নীলু শুধু বললে, 'মানছি তোর স্টাইল আছে।'
এখন যেমন আমি একজন হাস্যরসিক তখন তেমন ছিলুম না। তখন ছিলুম উচ্ছ্বাসপরায়ণ ও অরসিক। সেই যে সেদিন ফিরলুম আর ও মুখো হলুম না। নীলু ডাকলে চোখের জল মুছি। বলি, 'যেদিন পারব ওকে মুক্তা ঝরার জল এনে দিতে সেদিন যাব। তার আগে নয়।'
নীলু হাসিয়ে হাসিয়ে বলে, 'বুঝেছি। প্রথম দর্শনেই প্রেম। দ্বিতীয় দর্শনের আবশ্যক হত বিয়ের আশা থাকলে।'
আমি তাকে তাড়া করে যাই। ভাবি, নীলুটা এমন নিরেট।
পুরীতে আরো কিছু কাল থাকলে হয়তো আবার যেতুম, কিন্তু যে কারণেই হোক আমাকে আবার নাম লেখাতে হলো আমার ছেলেবেলার ইস্কুলে। পুরী থেকে বিদায় নিলুম অকালে।
প্রায় চার বছর পরে পাটনা কলেজের উত্তরে গঙ্গার ধারে বেড়াচ্ছি, এমন সময় নীলুর সঙ্গে মুখোমুখি। শুনলুম সে পাটনা ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে পড়ে, ওভারসিয়ার হয়ে বেরোবে। তার বাবা হঠাৎ মারা যান, তাই কলেজে পড়বার সাধ থাকলেও সাধ্য ছিল না।
নীলু বললে, 'তোর চেহারার তো বিশেষ পরিবর্তন দেখছিনে। তোর স্বভাবটি কি তেমনি আছে? কথায় কথায় কান্না।'
'তোর শরীরটা তো বেশ খোট্টার মতো হয়েছে। স্বভাবটি কি তেমনি আছে? কথায় কথায় হাসি!'
এর থেকে হাসন সখীর প্রসঙ্গ। নীলু বললে, 'বেঁচে আছে। তার চেয়ে বড় কথা ভালো আছে। বিয়ের কথাবার্তা চলছে।'
'বলিস কী! এত দূর! আমি আশ্চর্য হলুম। 'আমি ভাবছি এ অসম্ভব হলো কী করে? কে তাকে এনে দিলে মুক্তা ঝরার জল? তুই, নীলু? না আর কেউ?'
নীলু আমাকে তার হোস্টেলে ধরে নিয়ে গেল। খেতে দিলে পাটনার অমৃতি আর পল্লী অঞ্চলের ঠেকুয়া। যাক, ছাতু আর লঙ্কা খেতে দেয়নি, এই ঢের। ও নাকি নিজে তাই খেয়ে খেয়ে চেহারা ফিরিয়েছে। পাশেই কোন এক মহাবীরজির আখড়ায় ডন বৈঠক ফেলে, সাঁতার কাটে গঙ্গায়।
সে কিছুতেই স্বীকার করলে না যে তার সখী সেরে উঠেছে তার আনন্দ রসায়নে। বললে, 'দু বছরের উপর আমি পাটনায়, চাঁপা দেওঘরে। ছুটির সময় দেখা হয় অল্প কয়েক দিনের জন্যে। কাজেই আমার কৃতিত্ব কতটুকু! জানিনে আর কেউ আছে কিনা ওখানে।'
পাটনায় নীলুর পড়া শেষ হয়ে গেল আমার আগে, যাবার আগে সে আমাকে খবর দিয়ে গেল যে চাঁপার বিবাহ হয়েছে কলকাতার এক ডাক্তারের সঙ্গে। বললে, 'ওঃ। কী ভাবনাই ছিল ওর জন্যে আমার। ডাক্তার শুনে ধড়ে প্রাণ এল। ও বাঁচবে বহুকাল। চিরকাল বাঁচবে ও। ডাক্তার ঠিক বাঁচাবে ওকে। তোকে বোধ হয় বলিনি যে ডাক্তারটি প্রবীণ ও প্রসিদ্ধ। হাঁ, দোজবর।'
আমি বললুম, 'নীল, মুক্তা ঝরার জল ডাক্তারখানায় মেলে না। মানুষকে যে বাঁচায় সে ডাক্তার নয়। আমি নিশ্চিন্ত হতুম, যদি তোর সঙ্গে ওর বিয়ে হত। হাসছিস যে। তোর না হয় অর্থ নেই, কিন্তু ভালোবাসা তো আছে। তুই কিসে অযোগ্য শুনি?'
'শঙ্কর', নীলু আমার দুহাত ধরে আমার দুচোখে চোখ রেখে বললে, 'তুই বিদ্বান, তুই কবি। কিন্তু বিদগ্ধ নস্। কখনো ভালোবেসেছিস কি না সন্দেহ। যদি কোনো দিন বাসিস তা হলে দেখবি দুরকম ভালোবাসা আছে। সখার সঙ্গে সখীর। প্রিয়ের সঙ্গে প্রিয়ার। চাঁপার সঙ্গে আমার ভালোবাসা দ্বিতীয় পর্যায়ের নয়, কোনো দিনই ছিল না, তুই ভুল বুঝেছিলি।'
'বুঝেছি।' আমি যেন কত বড় একটা আবিষ্কার করলুম। 'তোরা ছিলি এক হিসাবে ভাইবোন। কেমন, ঠিক ধরেছি কিনা।'
'না ঠিক নয়, বেঠিক। ভাইবোনের ভালোবাসা অন্য জিনিস। চাঁপাকে আমি বোন বলে ভাবতে পারিনে। ও আমার সখী, সই, সহেলী। এই যেমন তোর সঙ্গে আমার সখ্য তেমনি ওর সঙ্গেও। তুই কি আমার ভাই? ভাইয়ের কাছে কি সব কথা বলা যায়? তুই আমার সুহৃদ, তাই তোর কাছে আমার লুকোবার কিছু নেই। তেমনি চাঁপার কাছে।'
'কালিদাস তো গৃহিণীকেই সখী বলে গেছেন। তা হলে চাঁপা কেন তোর গৃহিণী হতে পারে না, বল আমাকে।' আমি চেপে ধরলুম।
'গৃহিণী হয়তো সখী হতে পারে, কিন্তু সখী হতে পারে না গৃহিণী। কেউ যদি জোর করে আমাদের বিয়ে দেয় তা হলেও আমরা স্বামী-স্ত্রী হব না। যদি হই তা হলে আমাদের মুখে হাসি চোখে মিলিয়ে যাবে।'
বছর পাঁচ ছয় পরে আমি বিলেত থেকে ফিরেছি, উঠেছি কলকাতার এক বিখ্যাত হোটেলে। ওরা আমার নাম খবরের কাগজে ছাপিয়েছে। ফলে অনেকেই দয়া করে আসছেন আমাকে দেখতে। বেয়ারা এক রাশ কার্ড নিয়ে এল। তাদের একখানার পিঠে ছাপা ছিল, 'নীলদ্রিনাথ গুপ্ত। মার্টিন এন্ড কোম্পানী।' পাছে চিনতে না পারি সেই জন্যে কালি দিয়ে লেখা ছিল 'নীলু'।
নীলু! আমার বাল্যবন্ধু নীলু! নীলু কলকাতায়, মার্টিন কোম্পানিতে? নীলুকেই অভ্যর্থনা করলুম সকলের আগে।
খাটো শার্ট খাটো প্যান্ট পরা এক লৌহ মানব আমার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করল না পাঞ্জা কষল। আমি শিউরে উঠে বললুম, 'আঃ ছেড়ে দে, ভাই। লাগে।'
'হুঁ'! বাংলা মনে আছে। আমি পরখ করে দেখছিলুম, বাংলা বেরিয়ে আসে, না ইংরেজি!'
শুনলাম চাকরিতে বেশ উন্নতি করেছে, মাইনে পাচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারের সমান। বললে, 'সময় একদম পাইনে। এই যে তোকে দেখতে এসেছি এ অনেক কষ্টে। চাঁপার ওখানে তোর নিমন্ত্রণ। আমি তোকে ড্রাইভ করে নিয়ে যাব সন্ধ্যার পরে। তৈরি থাকবি। না, না, অন্য এনগেজমেন্ট আছে, ও কথা শুনব না। ক্যানসেল ইট। চাঁপা একেবারে অধৈর্য হয়ে উঠেছে তোকে দেখতে। ওঃ, কত কাল পরে। তুই কিন্তু তেমনি আছিস। তোর স্বভাবটিও কি তেমনি আছে?'
আমি জানতে চাইলুম চাঁপা কেমন আছে, বিয়ে সুখের হয়েছে কিনা, ছেলেমেয়ে কটি, নীলুও কি বিয়ে করেছে, ইত্যাদি। উত্তর পেলুম, নীলুর স্ত্রী চাঁপার সঙ্গে অত মাখামাখি পছন্দ করেন না, তাই চাঁপার সঙ্গে নীলুর কদাচ দেখা হয়। ওদিকে আবার ডাক্তার সাহেবেরও সেই মনোভাব, তিনিও নীলুকে প্রশ্রয় দেন না। এসব বাধাবিঘ্ন সত্ত্বেও তাদের বন্ধুতা অবিকল তেমনি রয়েছে। নীলুর একটি ছেলে, চাঁপার সন্তান হয়নি।
নীলু এক নিঃশ্বাসে উত্তর দিয়ে এক দৌড়ে প্রস্থান করলে। সময় নেই যে। সন্ধ্যার পর কথা রাখলে। ওর নিজের মোটরে করে আমাকে পেঁৗছে দিলে থিয়েটার রোডে। ডক্টর সেন আমাকে সাদর সম্ভাষণ করে তাঁর স্ত্রীর কাছে নিয়ে গেলেন। তাঁর স্ত্রীর কাছে ছিলেন আরো কয়েকটি তরুণী। শুনলুম তাঁরা সকলেই মিস। কেউ ও বাড়ির, কেউ পাশের বাড়ির। বাড়ি মানে ফ্ল্যাট। আমার কিন্তু নজর ছিল না আর কারো প্রতি। আমার দৃষ্টির সবটা জুড়েছিল চাঁপা। আমাদের হাসন সখী। আমাদের কিরণমালা। আমাদের হারানো কৈশোর।
চাঁপার গায়ের রং আবার চাঁপাফুলের মতো হয়েছে, ভরন্ত দেহ, সুঠাম গড়ন। কেবল তার চোখ দুটিতে কত কালের ক্লান্তি, কত কালের নিরাশা।
'তার পর, বন্ধু, তোমাকে বুদ্ধু বলে ডাকলে ক্ষমা করবে তো? তুমি বলব না আপনি বলব?' সে হাসল। কী তন্ময় হাসি। সে যখন যা বলে, যা করে, তন্ময় হয়ে বলে, তন্ময় হয়ে করে।
'বুদ্ধু বলতে পারো, বরুণ বলতে পারো, যা বলতে তোমার সাধ যায়, যা বললে তুমি রূপকথার স্বাদ পাও।' আমি আশ্বাস দিলুম। 'না, আপনি কেন? আপনি কবে হলুম?' সেই প্রথম থেকেই তো তুমি।'
'তুমি তো এত দেশ দেখলে, এত রাজ্য বেড়ালে, ঠিক রূপকথার রাজপুত্রের মতো। কই, তোমার রাজকন্যা কোথায়?' সে তেমনি হাসল।
'রাজকন্যা এখনো ঘুমিয়ে। সোনার কাঠি খুঁজে পাইনি।'
'কিন্তু রূপোর কাঠির খোঁজ তো পেয়েছ?'
'তা পেয়েছি, কিন্তু রূপোর কাঠি ছোঁয়ালে তো সে জাগবে না। যে জাগবে না তাকে নিয়ে আমি কী করব! আমার অন্য কাজ আছে, হাসন। আমি একজন কবি।'
এমনি কত কথাবার্তা। সব সাংকেতিক ভাষায়। সে বুঝল যে আমি তার ননদদের কাউকে, তার প্রতিবেশিনীদের কাউকে বিয়ে করব না। একটু ক্ষুণ্ন হলো। তার আশা ছিল, ওদের একজনকে বিয়ে করে আমি তার সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক পাতাব। তা হলে দেখাশোনা সুগম হবে। কিন্তু আমি নীলুর দৃষ্টান্ত দিলুম। বিয়ের পরে সব মেয়েই সমান। কেউ কারো স্বামীকে স্বাধীনতা দেবে না সখীর সঙ্গে মিশতে, নিজের বোন হলেও না, বৌদি হলেও না।
ডিনার টেবিলে আমি ছিলুম তার ডান দিকে, খেতে খেতে কথা বলছিলুম সাংকেতিকে। ডিনারের পর অন্যান্য মেয়ের দিকে মনোযোগ দিতে হলো। হাসন তাতে খুব খুশি হলো না, নীলুকে নিয়ে বসল তাস খেলতে। আমার কানে এল, 'বুদ্ধু দেখছি এক নম্বর ফ্লার্ট। বিয়ে করবে না একজনকেও, তবু সকলের সঙ্গে রঙ্গ করা চাই।'
ডাক্তার সাহেবের লক্ষ সব সময় নীলুর উপর, আমাকে তিনি প্রতিযোগী বলে গণ্য করেননি। নীলু বেচারা সমস্তক্ষণ উসখুস করছিল, তার লক্ষ একটা ক্লক ঘড়ির উপরে। দেরি করলে তার বৌ রাগ করবে। লৌহমানবও তার বৌকে ভয় করে। আমার এমন হাসি পাচ্ছিল ভাবতে। আমি তাকে রহস্য করে বললুম, 'আজ তোর কপালে ঝাঁটা আছে।'
বিদায়বেলায় চাঁপা বললে, 'আবার যখন কলকাতা আসবে, দেখা করবে তো?' বুদ্ধু, আবার যেন দেখা হয়।' কী জানি কেন আমার চোখ সজল হলো। নীলু বললে, 'চল, তোকে রেখে আসি। ইচ্ছা ছিল এক দিন আমার ওখানে ডাকতে, কিন্তু কালকেই আমাকে মফঃস্বলে বেরোতে হচ্ছে। আসছে বার কলকাতা এলে আমার ওখানেই উঠিস।'
তারপর নানা কারণে ওদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটেনি। প্রায় সাত বছর পরে ছুটি নিয়ে মিহিজামে বিশ্রাম করছি, একদিন ঠিক দুপুর বেলা একখানা মোটর এসে আমার দরজায় থামল। লাফ দিয়ে নামল একটা কুকুর, তা দেখে ছুটে এল আমার দুই ছেলে। উত্তেজিত হয়ে বললে, 'বাবা, দেখবে চলো কাদের মোটর আর কুকুর।'
বেরিয়ে দেখি সাহেবী পোশাক পরা এক ভদ্রলোক, ওভারকোট গায়ে দেওয়া শাড়ি পরা এক মহিলা। আরে, এ যে আমাদের নীলু, সঙ্গে ওর স্ত্রী রত্নাবলী। আমার স্ত্রী রান্নাঘরে ছিলেন, তাঁকে ইতিমধ্যে কুকুরের ও মোটরের খবর দেওয়া হয়েছিল, মহিলার খবর দেওয়া হয়নি। আমার ডাক শুনে তিনি বাইরে এলেন ও থাকবার নিমন্ত্রণ জানালেন। শোনা গেল নীলুরা আসানসোল থেকে এসেছে জমি কিনতে, একটু পরে আসানসোল ফিরে যাবে, থাকবে না। যদি রান্নার দেরি না থাকে খেয়ে যাবে।
আমি বললুম, 'আমরা একটার সময় টিফিন খাই, এখনো এক ঘণ্টা বাকি। চল নীলু, তোকে একখানা মনের মতো জমি দেখাই।'
নীলু রাজি হলো। তার স্ত্রী আমার স্ত্রীর সঙ্গে রান্নাঘরে গেলেন। শীতের দুপুর। হাওয়া দিচ্ছিল। আমরা পায়ে হেঁটে কতক দূরে গেলুম। মোটর এবং কুকুর রইল ছেলেদের হেফাজতে। জিজ্ঞাসা করলুম, 'নীলু, চাঁপা কেমন আছে?'
নীলু উত্তর দিলে, 'সে অনেক কথা। আরেক দিন বলব।'
'আরেক দিন মানে তো আরো সাত আট বছর। তার চেয়ে তুই যেটুকু পারিস বল।'
'আচ্ছা। তবে সারাংশটুটু বলি।'
বিয়ের অল্প কয়েক দিন পরেই তার স্বামী তাকে বলেন অপারেশন করতে হবে। কিসের অপারেশন, চাঁপা অত শত বোঝে না। মত না দিলে যদি প্রাণসংশয় হয় সে কথা ভেবে মত দেয়। অপারেশনের পরে টের পায় চিরজীবনের মতো বন্ধ্যা হয়েছে। তার মনে দারুণ আঘাত লাগে। নীলুকে বলে, আর বেঁচে থেকে কী হবে! কী হবে প্রাণ রেখে, যদি প্রাণ দিতে না পারি! নীলু বলে, কত মেয়ে বন্ধ্যা হচ্ছে নৈসর্গিক কারণে। মনে করো, তুমিও তাদের একজন। তোমার স্বামীর চার পাঁচটি ছেলেমেয়ে, তারা তোমাকে মা বলে। তুমি তাদের মানুষ করে তোল, প্রচুর বাৎসল্য রস পাবে।
কিন্তু কিছুদিন পরে ভদ্রলোক তাঁর ছেলেমেয়েদের অন্যত্র সরালেন। বাড়িতে রইল তাঁর ভাই বোন, চাঁপার ননদ দেওর। তাদের নিয়ে চাঁপার সময় কাটত মন্দ না, কিন্তু তাদের সঙ্গ পেয়ে তার হৃদয় ভরবে কেন! স্বামীর সঙ্গ পাওয়া ভার, তাঁর পসারের ক্ষতি তিনি সইতে পারেন না, আর পসারও তাঁর অসাধারণ। সে নীলুকে চিঠি লেখে ফোন করে, সাধে। কিন্তু নীলুরও কি উপায় আছে! তারও যে ঘরে বাইরে হাকিম, এখানে জবাবদিহি, ওখানে কৈফিয়ৎ। নীলু পরামর্শ দিলে, চাঁপা, তুমি একটা কোনো কাজ বেছে নাও। কাজ করো, কাজ করে যাও। পৃথিবীতে আমরা হৃদয় ভরাতে আসিনি, এসেছি মাটি খুঁড়তে, বাড়ি গড়তে, রাস্তা বানাতে, শহর বসাতে, ভোগোপকরণ উৎপাদন করতে, শিক্ষা বিস্তার করতে, স্বাস্থ্য বর্ধন করতে, আনন্দ দিতে ও পেতে। চাঁপা, তুমি যে কোনো একটা কাজ বেছে নাও, তা হলেই বাঁচবে।
সে এক এক করে অনেক রকম কাজে হাত দিলে, কিন্তু দিতে না দিতে গুটিয়ে নিলে। বললে, আমার পুরী কবে নির্মাণ করবে, তাই বল? অরুণ বরুণ, কবে আনবে মুক্ত ঝরার জল, সোনার বরণ পাখি? আমি এ বাড়িতে বাঁচব না, অরুণ। আমাকে আমার নিজের বাড়ি দাও। কত লোকের বাড়ি তৈরি করো, সখীর বাড়ি তৈরি করতে পারো না?
বাস্তবিক এর কোনো উত্তর নেই। ইচ্ছা করলেই নীলু পারে হাসনকে তার নিজের বাড়ি দিতে। অবশ্য মুক্ত ঝরার জল কিংবা সোনার বরণ পাখি দেওয়া তার সাধ্য নয়। শঙ্করেরও অসাধ্য। কিন্তু বাড়ি! মনের মতো বাড়ি দিতে পারবে না সখীকে। নীলু ভাবে কিন্তু উপায় খুঁজে পায় না। মনের মতো একখানা বাড়ি মানে কত কালের সঞ্চয়। স্ত্রীকে বঞ্চিত করে সখীকে দেবে তার সঞ্চয়! তা কি হয়! রত্না কী মনে করবে! সমাজ কী মনে করবে! নীলু পিছিয়ে যায়। কথা দিতে পারে না। চাঁপা একেবারে অবুঝ। যে মানুষ লক্ষ লক্ষ টাকার বাড়ি তৈরি করেছে সে মানুষ পাঁচ সাত হাজার টাকার বাড়ি তৈরি করতে পারত না! তার কি টাকার অভাব! আর দেওঘর তো সস্তা।
ডাক্তারের টাকার অভাব নেই, চাঁপা চাইলেই সাত হাজার টাকার চেক পায়। কিন্তু চাইবে কী করে! ডাক্তার কি অরুণ বরুণ, বুদ্ধু ভূতুম! তিনি তাকে দয়া করে বিয়ে করেছেন, যত্ন করে বাঁচিয়ে রেখেছেন, পারত পক্ষে অবহেলা করেন না, কিন্তু তাঁর কাছে কি সখীর মতো দাবি করা চলে। না, তাঁর সঙ্গে তেমন সম্পর্কই নয়। কোন সুবাদে চাইবে!
নীলু কিছু করলে না, পরিণামে চাঁপার আবার জ্বর হতে লাগল এবং সে কথা শুনে নীলুর মনে হলো সে-ই দায়ী। তখন সে দেওঘর মধুপুর গিরিডি অঞ্চলে জমি খুঁজতে শুরু করে দিলে রত্নাকে না জানিয়ে! বাড়িও তৈরি হলো বেনামীতে মধুপুরে। খরচ যা পড়ল তা এল বোনাস থেকে। কিন্তু প্রশ্ন উঠল, বেড়ালের গলায় ঘণ্টা পরাবে কে? ডাক্তারকে সমঝাবে কে যে মধুপুরে না গেলে চাঁপার শরীর সারবে না? কে তাঁকে বিশ্বাস করাবে যে সেখানে চাঁপার আপন বাড়ি আছে? চাঁপার আত্মীয়দের একে একে ডাক পড়ল। তাঁদের জেরা করে ডাক্তার জানতে পারলেন তাঁকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। শেষকালে একটা মনোমালিন্য ঘটল। চাঁপা চলে গেল মধুপুর। বছর খানেক সবুর করে সেন আবার সাদী করলেন।
চাঁপা সে কথা শুনে দুঃখিত হলো না, বরং অভিনন্দন জানালে। নীলু তো চটেমটে লাল। বোকা মেয়ে, নিজের স্বার্থ বোঝে না। আর হতভাগা ডাক্তার, কেবল শরীরটি বোঝে। মানুষের যেন মন বলে কোনো পদার্থ নেই। কিন্তু নীলুর চোখ কপালে উঠল যখন চাঁপা লিখলে, আমি একা থাকলে মরে যাব। অরুণ বরুণ, তোমরাও এখানে এসো। আবার আমরা হাসব, আমরা গল্প করব, গান করব, রাঁধব আর খাব। তোমরা আনবে মুক্তা ঝরার জল, অর্থাৎ অফুরন্ত জীবন। তোমরা আনবে সোনার বরণ পাখি, সোনালি রঙের শুক, অর্থাৎ সুখ। অরুণ বরুণ, তোমরা কবে আসবে?
এক বার নয়, দুবার নয়, বারবার আসতে লাগল চিঠি। নীলু আর চুপ করে থাকতে পারলে না, গেল মধুপুর। দেখলে সখী শুকিয়ে যাচ্ছে চাঁপা ফুলের মতো। ওকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র পন্থা ওর সঙ্গে সময় কাটানো। কিন্তু সময় যে বয়সসুলভ ছিল সে বয়সে তো আর নেই। এখন সময় মানে টাকা, টাকা প্রাণধারণের উপায়। নীলু ওকে অনেক কিছু দিতে পারে, কিন্তু সময় দেবে কী করে? নিজের স্ত্রীকেই সময় দিতে পারে না, রোজ ঝাঁটা খায়। ঝাঁটা নয় খোঁটা, একই কথা। পরের স্ত্রীকে সময় দেবে? বাপ রে! সমাজ ফোঁস করে উঠবে না? সমাজের কথা দূরে থাক, ঘরের লোকটি কি রক্ষা রাখবে?
নীলু অনেক খরচ পত্তর করে ওর জন্যে সঙ্গিনী নিয়োগ করলে। বই কিনে দিলে। গ্রামোফোন, রেডিও, রিফ্রিজারেটর কিনে দিলে। ওর বসবার ঘর শোয়ার ঘর ডিস্টেম্পার করা হলো। মার্বেল পাথর আনিয়ে মেঝে বাঁধিয়ে দেওয়া গেল। তা সত্ত্বেও সখী বলে, ওতে আমার হৃদয় ভরবে না। আমি চাই বান্ধব বান্ধবী। বান্ধবীদের সকলের বিয়ে হয়ে গেছে। কেউ আমার চিঠির জবাব পর্যন্ত দেয় না। এমনকি, মিনতি, যার সিঁথির সিঁদুর মুছে গেছে সেও আমার কাছে আসবে না। তুমি একমাত্র বান্ধব যে আমাকে বাঁচাতে সাহায্য করেছ। আর সবাই স্বার্থপর। ভূতুম, তোমার কাছে আমি চিরঋণী। এ ঋণ জন্মান্তরেও শোধ হবে না। জন্মান্তরে যেন তোমার মতো বন্ধু পাই। তোমাকেই বন্ধু রূপে পাই।
'তারপর?' আমি এতক্ষণ পরে কথা কইলুম।
'তারপর?' নীলু শুকনো গলায় বললে, ''আমি তার আত্মীয়দের অনুনয় বিনয় করলুম, টাকা দিতে চাইলুম, কিন্তু কেউ কেন রাজি হবে তার কাছে থাকতে? তাদের প্রাণের দাম আছে, তারা সংসারী মানুষ, তাদের উপর নির্ভর করছে বহু অসহায় প্রাণী। তারা বললে, 'দাও ওকে কোনো স্যানিটরিয়ামে পাঠিয়ে। ভাওয়ালীতে কি মদনপল্লীতে। অন্ততপক্ষে যাদবপুরে। আমরাও সাহায্য করব।' বোঝে না যে মধুপুরে ওর নিজের বাড়ি, ওর 'মায়াপুরী', ওখান থেকে ও কোথাও যায় তো স্বর্গে।''
'তারপর, ও কি এখনো সেইখানে আছে, না স্বর্গে?'
'তারপর, আমি সমস্ত খুলে বললুম আমার সহধর্মিণীকে। বললুম, ও যদি মরে যায় তো আমার ভিতরটা শুকিয়ে যাবে, ঝুনো নারকেলের মতো। তুমি কি তেমন স্বামী নিয়ে সুখী হতে পারো, রত্না? যদি না হও তো আমাকে ক্ষমা করো, আমাকে অনুমতি দাও মাঝে মাঝে ওর ওখানে হাজিরা দিয়ে আসবার, অবশ্য উঠব আমি ডাক-বাংলোয়। তুমিও যেতে পারো আমার সঙ্গে। রত্না যখন দেখলে যে আমার ভিতরের মানুষটাই মরতে বসেছে তখন অনুমতি দিল। কিন্তু আমার সঙ্গে যেতে রাজি হলো না। এই ভাবে দুবছর কাটল। সখী আবার সজীব হলো, তার রং ফিরল, হাসি ফুটল। মনে হলো তার সুখ না থাকলেও দুঃখ নেই। কিন্তু ওটা আমার মনের ভুল। ভিতরে ভিতরে ও শুকিয়ে যাচ্ছিল ঠিকই। সখ্যের অভাবে নয়, প্রেমের অভাবে। আমি তার কী করতে পারি!'
'থাক', আমি সান্ত্বনা জানালুম, 'যে যাবার সে গেছে, তার কথা ভেবে মন খারাপ করিসনে। তুই তোর যথাসাধ্য করেছিস। সংসারে এই বা কজন করে। তুই আদর্শ বন্ধু।'
'কিন্তু ও বেঁচে আছে। হ্যাঁ, বেঁচে আছে। ভালো আছে। সুখে আছে। ও পেয়ে গেছে মুক্তা ঝরার জল, সোনার শুক পাখি।'
'য়্যাঁ! এ অসম্ভব সম্ভব হলো কী করে! করলে কে!'
'ওরই মতো এক যক্ষ্মা রোগী। মধুপুরেই ওদের আলাপ। ওরা এখন এক সঙ্গেই থাকে। আমি কিছু বলিনে। দেখেও দেখিনে শুনেও শুনিনে। জীবন বড় না নীতি বড়? মানুষ বড় না সমাজ বড়? শঙ্কর, তুই তো কবি ও সাহিত্যিক। তোর কী মনে হয়?'
উচ্ছ্বাস আমার কণ্ঠ রোধ করেছিল। কোনো মতে বলতে পারলুম, 'ওরা নিরাময় হোক!' কলকাতায় নীলুর সঙ্গে আবার দেখা হয়েছিল এই সেদিন। রবীন্দ্র জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক আসরে। রত্না ছিলেন সঙ্গে। কুশল-বিনিময়ের পর ওকে একান্তে টেনে নিয়ে শুধালাম, 'সখীর খবর কী?'
'ভালো আছে। ওদের জীবন পরিপূর্ণ হয়েছে। ওরা এখন তিন-চারটি ছেলেমেয়ের মা বাপ।'
আমি চমকে উঠলুম। 'বলিস কী! হলো কী করে!'
নীলু হেসে বললে, 'হয়নি। রুগ্ন দেখে আশ্রয় দিয়েছে। হাসন তাদের আপন সন্তানের মতো ভালোবেসে মানুষ করছে।'
'খরচ জোগায় কে?'
'যে জোগাত সেই জোগায়।'
'রত্না জানে?'
'জানে। তারও তো মায়ের প্রাণ। এত দিনে তার গ্লানি মুছে গেছে। আমাকে আর ঘরে-বাইরে সংগ্রাম করতে হয় না।'
আমি তার হাতে হাত রেখে বললুম, 'নীল, তোকে যদি ফলো করতে জানতুম ধন্য হতুম। চাঁপার সঙ্গে দেখা হলে বলিস, যে বাঁচায় সেই বাঁচে।'
শুনেছিলাম তাদের অসাধ্য কাজ নেই। ফুটবল খেলার সময় ফাউল করে পা ভেঙে দেওয়া তাদের নিত্যকর্ম। সন্ধ্যার অন্ধকারে ল্যাং মারা ও গলির মধ্যে অদৃশ্য হওয়া তাদের অভ্যাস। আমার যদিও ফুটবল খেলার ব্যসন ছিল না, সমুদ্রতীর থেকে বাসায় ফিরতে প্রায়ই অন্ধকার হত। বাসা ছিল গলির ভিতরে, সুতরাং ভয়ের হেতু ছিল। আমি আর কথা কাটাকাটি না করে পিছনের সারিতে মুখ ঢাকলুম।
এই ঘটনা যে কেউ লক্ষ করবে অতটা আমি ভাবিনি। আমি অপরিচিত নগণ্য ব্যক্তি, কেই বা আমাকে চেনে? কিন্তু দিন কয়েক পরে আমাদের ইংরেজি মাস্টার কেশববাবু আমাকে অযাচিত অপমান করলেন আমি খারাপ ছেলেদের একজন বলে। তার পর কী মনে করে আমাকে কাছে ডেকে নিয়ে বললেন, 'ওভ ুড়ঁ ধিহঃ ঃড় নব ধ মড়ড়ফ নড়ু ভড়ষষড় িসু ঘরষঁ.'
কেশববাবুর ছেলে নীলাদ্রি পড়ত আমাদেরই ক্লাসে, বসত সামনের সারিতে। সত্যিকারের ভালো ছেলে, ফার্স্ট সেকেন্ড হত। আমি তার সঙ্গে আলাপের চেষ্টা করিনি, সেও আমার সঙ্গে না। আমি লাজুক, সে অহংকারী। অন্তত লোকে তো তাই বলে। তার বাবা যখন এত মানুষের মাঝখানে আমাকে অপমান করে গেলেন তখন আমিও আমার মুখরক্ষার জন্যে তার কথাগুলির অন্য অর্থ করলুম। আমার দুষ্ট ছেলের দলটিকে মন্ত্রণা দিলুম, 'ওহে মাস্টার মশাই কী করতে বললেন শুনলে তো। নীলুকে ফলো করতে হবে। তার মানে, নীলু যখন যেদিকে যাবে তোমরাও তখন সেই দিকে যাবে। কিন্তু খবরদার, নীলু যেন টের না পায়।'
সে দিন থেকে আমাদের মন্ত্র হল নীলুকে ফলো করো। আমরা ওটার উপর বাঁদরামি ফলিয়ে ওর উচ্চারণ করতুম, ফল্লো মাই নীল্লো!
তখন ঠাহর হয়নি এর পরিণাম কী হতে পারে। একদিন আমাদের দলের দীনকৃষ্ণ এসে আমার কানে কানে বললে, 'জানিস, ও কোথায় যায়?'
'কোথায়?'
'কাউকে বলিসনে। সমুদ্রের ধারে একটা ছোট দোতলা বাড়ি আছে, চক্রতীর্থের দিকে। সেখানে রোজ বিকেল বেলা নীলু গিয়ে কাদের সঙ্গে আড্ডা দেয়, শুনবি?'
'কাদের সঙ্গে?'
'মেয়েদের সঙ্গে!'
ডিটেকটিভ বই পড়েও আমি এমন রোমাঞ্চিত হইনি। সেদিন আমার ইচ্ছা করছিল দুনিয়ার লোককে ডেকে বলতে, আহা! নীলু কেমন ভালো ছেলে দেখলেন তো আপনারা! ফল্লো মাই নীল্লো!
মেয়েদের উল্লেখ শুনে আমি আমার মুখখানাকে যথাসাধ্য সাধু সন্ন্যাসীদের মতো করে বললুম, 'আমরা দুষ্টু ছেলে বটে, কিন্তু দুশ্চরিত্র নই। আমাদের আদর্শ স্বামী বিবেকানন্দ, আমরা কি কখনো মেয়েদের সঙ্গে মিশতে পারি!'
দীনু বললে, 'মেশা দূরে থাক, ওদের কাছে যেতেই আমার বুক ধুকপুক করে। একটি মেয়ে যেই নিচে নামল আমি দিলুম ভোঁ দৌড়। নীলুর, যাই বল, সাহস আছে।'
আমি সেদিন আবিষ্কার করলুম যে আমরা দুজনেই সমান ভণ্ড। যেমন আমি তেমনি দীনু। আসলে আমরা নীলুর অনুসরণ করতে পেলে বাঁচি। দুনিয়ার লোকের চোখে ধুলো দিয়ে আমরা দুই ভণ্ড সন্ন্যাসী নীলুর পিছু নিলুম। বুক ধুকপুক করছিল বটে দুজনেরই কিন্তু মেয়েদের জন্য নয়, তাদের অভিভাবকদের ভয়ে। মুখে বোলচাল দিচ্ছিলুম, 'নীলুটাকে ধরিয়ে দিতে হবে।' কিন্তু অন্তরাত্মা জানেন যা মনে মনে বলছিলুম। 'যদি ধরা পড়ি তখন?' তখন অবশ্য ভোঁ দৌড়।
বাড়িটার নাম 'ঊর্মিমুখর'। ছোট দোতলা বাড়ি। ফিকে নীল রং। সমুদ্রের হাওয়ায় ছিল সমুদ্রের স্বনন। বাড়িটা সার্থকনামা।
আমরা ওর পাশে ঝিনুক কুড়োতে বালু খুঁড়তে আরম্ভ করে দিলুম গুটি কয়েক অচেনা শিশুর সঙ্গে ভাব করে। নজর রাখলুম নীলুর উপরে। নীলু যখন দোতলায় পেঁৗছল তখন হাসির হররা উঠল তাকে দেখে, না তার পোশাক দেখে, না কী দেখে তা বোঝা গেল না। নীলুও সে হাসিতে যোগ দিলে। আমাদের কানে আসতে লাগল, হা হা। হো হো। হি হি।
নীলুটা যে এমন বাঁদর তা কে জানত। মেয়েদের সঙ্গে সমানে চাল দেয়। কখনো হাসে, কখনো গায়, কখনো খুনসুটি করে। আমরা শুনে পেলুম ওরা ওকে ভূতুম বলে ডাকছে। নামের কী ছিরি। ভূতুম! নীলুর কিন্তু তাতেই আনন্দ। সে পেঁচার মতো আওয়াজ করছে, 'হুঁম... হুঁম... হুঁম...'
দীনু বললে, 'খেতে খেতে আওয়াজ করছে বলে অমন শোনাচ্ছে।'
আমি বললুম, 'বুঝেছি, খাবার লোভেই ছোঁড়া রোজ এদিকে আসে।'
নীলু যে একজন ভাগ্যবান পুরুষ এ বিষয়ে আমাদের দ্বিমত ছিল না। না জানি কী ভালোমন্দ খায়, আমরা তো পাইনে। এতগুলো মেয়ে মিলে রেঁধেবেড়ে খাওয়ায়। হয়তো চপ কাটলেট ডিমের অমলেট। কী বলে ওকে? পুডিং। হয়তো চকোলেট টফি লজেন্স খেতে দেয়, আইসক্রিম লেমনেড সিরাপ।
আমরা স্থির করলুম নীলুর বাবাকে জানাতে হবে সে কুসংসর্গে মিশছে। আমাদের দলের টাইগারের উপর সে ভার পড়ল। ওর মতো ঠোঁটকাটা বেহায়া খুব কম দেখা যায়। মানুষের গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধায়, বিশ্রী গালাগাল দেয়। ওর মুখে কিছু আটকায় না। গুরু লঘু জ্ঞান নেই।
টাইগার একদিন মাস্টার মশায়ের পা মাড়িয়ে দিয়ে ঘটা করে পায়ের ধুলো নিলে। তারপর বললে, 'এবার থেকে নীলুরও পায়ের ধুলো নেব স্যার। সে আমাদের চেয়ে অনেক উঁচুতে।'
'কেন হে?'
'সে গাছের ডালে বিচরণ করে, নাম তার ভূতুম। একটি নয়, দুটি নয়, অনেকগুলি পেচানী তার সহচারিণী।'
মাস্টার তো হতবাক। তারপরে টাইগারের কানটা নিজের মুখের কাছে টেনে নিয়ে বললেন, 'ভালো করে খোঁজ নিলে জানবে যে নীলু যায় একটি রুগ্ন মেয়েকে একটুখানি আনন্দ দিতে। মেয়েটির যক্ষ্মা, বাঁচবে কিনা সন্দেহ। সহচারিণী যাদের বলছ তাদেরও ঐ কর্তব্য। সহচরও আছে। সব ভদ্র ঘরের ছেলে, ভদ্র ঘরের মেয়ে। তোমাদের মতো ইতর নয়।'
এর পরে আমি নীলুর সঙ্গে যেচে আলাপ করি। সে একটি যক্ষ্মা রোগীকে একটুখানি আনন্দ দিতে যায়, ভূতুম সাজে, লোক হাসায়। এতে আমি তার মহত্ত্বের পরিচয় পেলুম। তাকে খুলে বললুম সমস্ত, মাফ চাইলুম। নিজের দল ছেড়ে সামনের সারিতে বসতে লাগলুম তার পাশে। ইতিমধ্যে সেও পেয়েছিল আমার বিদ্যার পরিচয়। মাস্টার মশায় আমার খাতা দেখে তাকে নাকি বলেছিলেন যে ছোকরার স্টাইল আছে।
অবশেষে সেই অনিবার্য দিনটি এল যেদিন নীলু আমাকে তার অনুসরণ করতে বললে 'ঊর্মিমুখরে'র দোতলায়। সেখানে একখানি ইজি চেয়ার পাতা, তাতে ঠেস দিয়ে বসেছিল বা শুয়েছিল আমাদেরই বয়সের একটি বিষণ্ন রুগ্ন মেয়ে। নীলু বললে, 'এ আমার হাসন সখী।' মেয়েটি একটু হাসল। 'আর আমি এর ভূতুম।'
'তোমার নাম কি বুদ্ধু?' প্রথম আলাপেই প্রশ্ন করল মেয়েটি। আমি বলতে যাচ্ছিলাম আমার নাম, কিন্তু চোখ টিপল নীলু। তখন আমি উত্তর করলুম, 'হ্যাঁ, ভাই, আমার নাম বুদ্ধু।' সে যখন আমাকে তুমি বলেছে আমিও কেন তাকে তুমি বলব না? শুধালাম 'তুমি বুঝি 'ঠাকুমার ঝুলি' পড়তে ভালোবাসো?'
'ভালোবাসি। সবচেয়ে ভালো লাগে কিরণমালার কাহিনী। আমি যেন কিরণমালা আর তোমরা যেন অরুণ বরুণ। তোমরা যেন মস্ত এক পুরী বানালে মর্মর পাথরের। আর আমি তাকে সাজালুম যত রাজ্যের মণি মাণিক্য দিয়ে। তবু কিসের যেন অভাব। তাই তোমাদের বললুম, যাও তোমরা, নিয়ে এসো সেই সোনার পাখি আর সেই মুক্তা ঝরার জল।'
মেয়েটির আসল নাম চাঁপা। এককালে ওর গায়ের রং চাঁপার মতো ছিল, এখন শুকিয়ে কালো হয়ে আসছে। মুখে এক প্রকার মাদকতা বা মদিরতা। নেশা লাগে ওর সঙ্গে কিছুক্ষণ থাকলে। দেখতে যে খুব সুন্দর তা নয়, কিন্তু তন্ময় হয়ে কথা যখন বলে তখন মনের সৌন্দর্য এসে তনুর সৌন্দর্য হয়।
সেদিন ওদের ওখান থেকে যখন ফিরলুম, তখন চোখে আমার জল। নীলু লক্ষ করলে।
বললে, 'কাঁদছিস নাকি?'
'কাঁদব না তো কী? হাসব? আমি কি তোর মতো পাষাণ?'
'আমি যে হাসি তা পাষাণ বলে নয়। হাসি ওকে হাসাতে।'
'ওকে হাসাতে চাইলেও আমি হাসতে পারব না। এ কি হাসির কথা যে একটি সুন্দর ফুল দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে! হায় ভগবান, কেন আমাদের এত অক্ষম করে সৃষ্টি করলে। কেন, কেন, ওগো একটিবার বলে দাও কেন আমরা পারব না ওকে মুক্তা ঝরার জল দিয়ে বাঁচাতে।'
নীলু শুধু বললে, 'মানছি তোর স্টাইল আছে।'
এখন যেমন আমি একজন হাস্যরসিক তখন তেমন ছিলুম না। তখন ছিলুম উচ্ছ্বাসপরায়ণ ও অরসিক। সেই যে সেদিন ফিরলুম আর ও মুখো হলুম না। নীলু ডাকলে চোখের জল মুছি। বলি, 'যেদিন পারব ওকে মুক্তা ঝরার জল এনে দিতে সেদিন যাব। তার আগে নয়।'
নীলু হাসিয়ে হাসিয়ে বলে, 'বুঝেছি। প্রথম দর্শনেই প্রেম। দ্বিতীয় দর্শনের আবশ্যক হত বিয়ের আশা থাকলে।'
আমি তাকে তাড়া করে যাই। ভাবি, নীলুটা এমন নিরেট।
পুরীতে আরো কিছু কাল থাকলে হয়তো আবার যেতুম, কিন্তু যে কারণেই হোক আমাকে আবার নাম লেখাতে হলো আমার ছেলেবেলার ইস্কুলে। পুরী থেকে বিদায় নিলুম অকালে।
প্রায় চার বছর পরে পাটনা কলেজের উত্তরে গঙ্গার ধারে বেড়াচ্ছি, এমন সময় নীলুর সঙ্গে মুখোমুখি। শুনলুম সে পাটনা ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে পড়ে, ওভারসিয়ার হয়ে বেরোবে। তার বাবা হঠাৎ মারা যান, তাই কলেজে পড়বার সাধ থাকলেও সাধ্য ছিল না।
নীলু বললে, 'তোর চেহারার তো বিশেষ পরিবর্তন দেখছিনে। তোর স্বভাবটি কি তেমনি আছে? কথায় কথায় কান্না।'
'তোর শরীরটা তো বেশ খোট্টার মতো হয়েছে। স্বভাবটি কি তেমনি আছে? কথায় কথায় হাসি!'
এর থেকে হাসন সখীর প্রসঙ্গ। নীলু বললে, 'বেঁচে আছে। তার চেয়ে বড় কথা ভালো আছে। বিয়ের কথাবার্তা চলছে।'
'বলিস কী! এত দূর! আমি আশ্চর্য হলুম। 'আমি ভাবছি এ অসম্ভব হলো কী করে? কে তাকে এনে দিলে মুক্তা ঝরার জল? তুই, নীলু? না আর কেউ?'
নীলু আমাকে তার হোস্টেলে ধরে নিয়ে গেল। খেতে দিলে পাটনার অমৃতি আর পল্লী অঞ্চলের ঠেকুয়া। যাক, ছাতু আর লঙ্কা খেতে দেয়নি, এই ঢের। ও নাকি নিজে তাই খেয়ে খেয়ে চেহারা ফিরিয়েছে। পাশেই কোন এক মহাবীরজির আখড়ায় ডন বৈঠক ফেলে, সাঁতার কাটে গঙ্গায়।
সে কিছুতেই স্বীকার করলে না যে তার সখী সেরে উঠেছে তার আনন্দ রসায়নে। বললে, 'দু বছরের উপর আমি পাটনায়, চাঁপা দেওঘরে। ছুটির সময় দেখা হয় অল্প কয়েক দিনের জন্যে। কাজেই আমার কৃতিত্ব কতটুকু! জানিনে আর কেউ আছে কিনা ওখানে।'
পাটনায় নীলুর পড়া শেষ হয়ে গেল আমার আগে, যাবার আগে সে আমাকে খবর দিয়ে গেল যে চাঁপার বিবাহ হয়েছে কলকাতার এক ডাক্তারের সঙ্গে। বললে, 'ওঃ। কী ভাবনাই ছিল ওর জন্যে আমার। ডাক্তার শুনে ধড়ে প্রাণ এল। ও বাঁচবে বহুকাল। চিরকাল বাঁচবে ও। ডাক্তার ঠিক বাঁচাবে ওকে। তোকে বোধ হয় বলিনি যে ডাক্তারটি প্রবীণ ও প্রসিদ্ধ। হাঁ, দোজবর।'
আমি বললুম, 'নীল, মুক্তা ঝরার জল ডাক্তারখানায় মেলে না। মানুষকে যে বাঁচায় সে ডাক্তার নয়। আমি নিশ্চিন্ত হতুম, যদি তোর সঙ্গে ওর বিয়ে হত। হাসছিস যে। তোর না হয় অর্থ নেই, কিন্তু ভালোবাসা তো আছে। তুই কিসে অযোগ্য শুনি?'
'শঙ্কর', নীলু আমার দুহাত ধরে আমার দুচোখে চোখ রেখে বললে, 'তুই বিদ্বান, তুই কবি। কিন্তু বিদগ্ধ নস্। কখনো ভালোবেসেছিস কি না সন্দেহ। যদি কোনো দিন বাসিস তা হলে দেখবি দুরকম ভালোবাসা আছে। সখার সঙ্গে সখীর। প্রিয়ের সঙ্গে প্রিয়ার। চাঁপার সঙ্গে আমার ভালোবাসা দ্বিতীয় পর্যায়ের নয়, কোনো দিনই ছিল না, তুই ভুল বুঝেছিলি।'
'বুঝেছি।' আমি যেন কত বড় একটা আবিষ্কার করলুম। 'তোরা ছিলি এক হিসাবে ভাইবোন। কেমন, ঠিক ধরেছি কিনা।'
'না ঠিক নয়, বেঠিক। ভাইবোনের ভালোবাসা অন্য জিনিস। চাঁপাকে আমি বোন বলে ভাবতে পারিনে। ও আমার সখী, সই, সহেলী। এই যেমন তোর সঙ্গে আমার সখ্য তেমনি ওর সঙ্গেও। তুই কি আমার ভাই? ভাইয়ের কাছে কি সব কথা বলা যায়? তুই আমার সুহৃদ, তাই তোর কাছে আমার লুকোবার কিছু নেই। তেমনি চাঁপার কাছে।'
'কালিদাস তো গৃহিণীকেই সখী বলে গেছেন। তা হলে চাঁপা কেন তোর গৃহিণী হতে পারে না, বল আমাকে।' আমি চেপে ধরলুম।
'গৃহিণী হয়তো সখী হতে পারে, কিন্তু সখী হতে পারে না গৃহিণী। কেউ যদি জোর করে আমাদের বিয়ে দেয় তা হলেও আমরা স্বামী-স্ত্রী হব না। যদি হই তা হলে আমাদের মুখে হাসি চোখে মিলিয়ে যাবে।'
বছর পাঁচ ছয় পরে আমি বিলেত থেকে ফিরেছি, উঠেছি কলকাতার এক বিখ্যাত হোটেলে। ওরা আমার নাম খবরের কাগজে ছাপিয়েছে। ফলে অনেকেই দয়া করে আসছেন আমাকে দেখতে। বেয়ারা এক রাশ কার্ড নিয়ে এল। তাদের একখানার পিঠে ছাপা ছিল, 'নীলদ্রিনাথ গুপ্ত। মার্টিন এন্ড কোম্পানী।' পাছে চিনতে না পারি সেই জন্যে কালি দিয়ে লেখা ছিল 'নীলু'।
নীলু! আমার বাল্যবন্ধু নীলু! নীলু কলকাতায়, মার্টিন কোম্পানিতে? নীলুকেই অভ্যর্থনা করলুম সকলের আগে।
খাটো শার্ট খাটো প্যান্ট পরা এক লৌহ মানব আমার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করল না পাঞ্জা কষল। আমি শিউরে উঠে বললুম, 'আঃ ছেড়ে দে, ভাই। লাগে।'
'হুঁ'! বাংলা মনে আছে। আমি পরখ করে দেখছিলুম, বাংলা বেরিয়ে আসে, না ইংরেজি!'
শুনলাম চাকরিতে বেশ উন্নতি করেছে, মাইনে পাচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারের সমান। বললে, 'সময় একদম পাইনে। এই যে তোকে দেখতে এসেছি এ অনেক কষ্টে। চাঁপার ওখানে তোর নিমন্ত্রণ। আমি তোকে ড্রাইভ করে নিয়ে যাব সন্ধ্যার পরে। তৈরি থাকবি। না, না, অন্য এনগেজমেন্ট আছে, ও কথা শুনব না। ক্যানসেল ইট। চাঁপা একেবারে অধৈর্য হয়ে উঠেছে তোকে দেখতে। ওঃ, কত কাল পরে। তুই কিন্তু তেমনি আছিস। তোর স্বভাবটিও কি তেমনি আছে?'
আমি জানতে চাইলুম চাঁপা কেমন আছে, বিয়ে সুখের হয়েছে কিনা, ছেলেমেয়ে কটি, নীলুও কি বিয়ে করেছে, ইত্যাদি। উত্তর পেলুম, নীলুর স্ত্রী চাঁপার সঙ্গে অত মাখামাখি পছন্দ করেন না, তাই চাঁপার সঙ্গে নীলুর কদাচ দেখা হয়। ওদিকে আবার ডাক্তার সাহেবেরও সেই মনোভাব, তিনিও নীলুকে প্রশ্রয় দেন না। এসব বাধাবিঘ্ন সত্ত্বেও তাদের বন্ধুতা অবিকল তেমনি রয়েছে। নীলুর একটি ছেলে, চাঁপার সন্তান হয়নি।
নীলু এক নিঃশ্বাসে উত্তর দিয়ে এক দৌড়ে প্রস্থান করলে। সময় নেই যে। সন্ধ্যার পর কথা রাখলে। ওর নিজের মোটরে করে আমাকে পেঁৗছে দিলে থিয়েটার রোডে। ডক্টর সেন আমাকে সাদর সম্ভাষণ করে তাঁর স্ত্রীর কাছে নিয়ে গেলেন। তাঁর স্ত্রীর কাছে ছিলেন আরো কয়েকটি তরুণী। শুনলুম তাঁরা সকলেই মিস। কেউ ও বাড়ির, কেউ পাশের বাড়ির। বাড়ি মানে ফ্ল্যাট। আমার কিন্তু নজর ছিল না আর কারো প্রতি। আমার দৃষ্টির সবটা জুড়েছিল চাঁপা। আমাদের হাসন সখী। আমাদের কিরণমালা। আমাদের হারানো কৈশোর।
চাঁপার গায়ের রং আবার চাঁপাফুলের মতো হয়েছে, ভরন্ত দেহ, সুঠাম গড়ন। কেবল তার চোখ দুটিতে কত কালের ক্লান্তি, কত কালের নিরাশা।
'তার পর, বন্ধু, তোমাকে বুদ্ধু বলে ডাকলে ক্ষমা করবে তো? তুমি বলব না আপনি বলব?' সে হাসল। কী তন্ময় হাসি। সে যখন যা বলে, যা করে, তন্ময় হয়ে বলে, তন্ময় হয়ে করে।
'বুদ্ধু বলতে পারো, বরুণ বলতে পারো, যা বলতে তোমার সাধ যায়, যা বললে তুমি রূপকথার স্বাদ পাও।' আমি আশ্বাস দিলুম। 'না, আপনি কেন? আপনি কবে হলুম?' সেই প্রথম থেকেই তো তুমি।'
'তুমি তো এত দেশ দেখলে, এত রাজ্য বেড়ালে, ঠিক রূপকথার রাজপুত্রের মতো। কই, তোমার রাজকন্যা কোথায়?' সে তেমনি হাসল।
'রাজকন্যা এখনো ঘুমিয়ে। সোনার কাঠি খুঁজে পাইনি।'
'কিন্তু রূপোর কাঠির খোঁজ তো পেয়েছ?'
'তা পেয়েছি, কিন্তু রূপোর কাঠি ছোঁয়ালে তো সে জাগবে না। যে জাগবে না তাকে নিয়ে আমি কী করব! আমার অন্য কাজ আছে, হাসন। আমি একজন কবি।'
এমনি কত কথাবার্তা। সব সাংকেতিক ভাষায়। সে বুঝল যে আমি তার ননদদের কাউকে, তার প্রতিবেশিনীদের কাউকে বিয়ে করব না। একটু ক্ষুণ্ন হলো। তার আশা ছিল, ওদের একজনকে বিয়ে করে আমি তার সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক পাতাব। তা হলে দেখাশোনা সুগম হবে। কিন্তু আমি নীলুর দৃষ্টান্ত দিলুম। বিয়ের পরে সব মেয়েই সমান। কেউ কারো স্বামীকে স্বাধীনতা দেবে না সখীর সঙ্গে মিশতে, নিজের বোন হলেও না, বৌদি হলেও না।
ডিনার টেবিলে আমি ছিলুম তার ডান দিকে, খেতে খেতে কথা বলছিলুম সাংকেতিকে। ডিনারের পর অন্যান্য মেয়ের দিকে মনোযোগ দিতে হলো। হাসন তাতে খুব খুশি হলো না, নীলুকে নিয়ে বসল তাস খেলতে। আমার কানে এল, 'বুদ্ধু দেখছি এক নম্বর ফ্লার্ট। বিয়ে করবে না একজনকেও, তবু সকলের সঙ্গে রঙ্গ করা চাই।'
ডাক্তার সাহেবের লক্ষ সব সময় নীলুর উপর, আমাকে তিনি প্রতিযোগী বলে গণ্য করেননি। নীলু বেচারা সমস্তক্ষণ উসখুস করছিল, তার লক্ষ একটা ক্লক ঘড়ির উপরে। দেরি করলে তার বৌ রাগ করবে। লৌহমানবও তার বৌকে ভয় করে। আমার এমন হাসি পাচ্ছিল ভাবতে। আমি তাকে রহস্য করে বললুম, 'আজ তোর কপালে ঝাঁটা আছে।'
বিদায়বেলায় চাঁপা বললে, 'আবার যখন কলকাতা আসবে, দেখা করবে তো?' বুদ্ধু, আবার যেন দেখা হয়।' কী জানি কেন আমার চোখ সজল হলো। নীলু বললে, 'চল, তোকে রেখে আসি। ইচ্ছা ছিল এক দিন আমার ওখানে ডাকতে, কিন্তু কালকেই আমাকে মফঃস্বলে বেরোতে হচ্ছে। আসছে বার কলকাতা এলে আমার ওখানেই উঠিস।'
তারপর নানা কারণে ওদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটেনি। প্রায় সাত বছর পরে ছুটি নিয়ে মিহিজামে বিশ্রাম করছি, একদিন ঠিক দুপুর বেলা একখানা মোটর এসে আমার দরজায় থামল। লাফ দিয়ে নামল একটা কুকুর, তা দেখে ছুটে এল আমার দুই ছেলে। উত্তেজিত হয়ে বললে, 'বাবা, দেখবে চলো কাদের মোটর আর কুকুর।'
বেরিয়ে দেখি সাহেবী পোশাক পরা এক ভদ্রলোক, ওভারকোট গায়ে দেওয়া শাড়ি পরা এক মহিলা। আরে, এ যে আমাদের নীলু, সঙ্গে ওর স্ত্রী রত্নাবলী। আমার স্ত্রী রান্নাঘরে ছিলেন, তাঁকে ইতিমধ্যে কুকুরের ও মোটরের খবর দেওয়া হয়েছিল, মহিলার খবর দেওয়া হয়নি। আমার ডাক শুনে তিনি বাইরে এলেন ও থাকবার নিমন্ত্রণ জানালেন। শোনা গেল নীলুরা আসানসোল থেকে এসেছে জমি কিনতে, একটু পরে আসানসোল ফিরে যাবে, থাকবে না। যদি রান্নার দেরি না থাকে খেয়ে যাবে।
আমি বললুম, 'আমরা একটার সময় টিফিন খাই, এখনো এক ঘণ্টা বাকি। চল নীলু, তোকে একখানা মনের মতো জমি দেখাই।'
নীলু রাজি হলো। তার স্ত্রী আমার স্ত্রীর সঙ্গে রান্নাঘরে গেলেন। শীতের দুপুর। হাওয়া দিচ্ছিল। আমরা পায়ে হেঁটে কতক দূরে গেলুম। মোটর এবং কুকুর রইল ছেলেদের হেফাজতে। জিজ্ঞাসা করলুম, 'নীলু, চাঁপা কেমন আছে?'
নীলু উত্তর দিলে, 'সে অনেক কথা। আরেক দিন বলব।'
'আরেক দিন মানে তো আরো সাত আট বছর। তার চেয়ে তুই যেটুকু পারিস বল।'
'আচ্ছা। তবে সারাংশটুটু বলি।'
বিয়ের অল্প কয়েক দিন পরেই তার স্বামী তাকে বলেন অপারেশন করতে হবে। কিসের অপারেশন, চাঁপা অত শত বোঝে না। মত না দিলে যদি প্রাণসংশয় হয় সে কথা ভেবে মত দেয়। অপারেশনের পরে টের পায় চিরজীবনের মতো বন্ধ্যা হয়েছে। তার মনে দারুণ আঘাত লাগে। নীলুকে বলে, আর বেঁচে থেকে কী হবে! কী হবে প্রাণ রেখে, যদি প্রাণ দিতে না পারি! নীলু বলে, কত মেয়ে বন্ধ্যা হচ্ছে নৈসর্গিক কারণে। মনে করো, তুমিও তাদের একজন। তোমার স্বামীর চার পাঁচটি ছেলেমেয়ে, তারা তোমাকে মা বলে। তুমি তাদের মানুষ করে তোল, প্রচুর বাৎসল্য রস পাবে।
কিন্তু কিছুদিন পরে ভদ্রলোক তাঁর ছেলেমেয়েদের অন্যত্র সরালেন। বাড়িতে রইল তাঁর ভাই বোন, চাঁপার ননদ দেওর। তাদের নিয়ে চাঁপার সময় কাটত মন্দ না, কিন্তু তাদের সঙ্গ পেয়ে তার হৃদয় ভরবে কেন! স্বামীর সঙ্গ পাওয়া ভার, তাঁর পসারের ক্ষতি তিনি সইতে পারেন না, আর পসারও তাঁর অসাধারণ। সে নীলুকে চিঠি লেখে ফোন করে, সাধে। কিন্তু নীলুরও কি উপায় আছে! তারও যে ঘরে বাইরে হাকিম, এখানে জবাবদিহি, ওখানে কৈফিয়ৎ। নীলু পরামর্শ দিলে, চাঁপা, তুমি একটা কোনো কাজ বেছে নাও। কাজ করো, কাজ করে যাও। পৃথিবীতে আমরা হৃদয় ভরাতে আসিনি, এসেছি মাটি খুঁড়তে, বাড়ি গড়তে, রাস্তা বানাতে, শহর বসাতে, ভোগোপকরণ উৎপাদন করতে, শিক্ষা বিস্তার করতে, স্বাস্থ্য বর্ধন করতে, আনন্দ দিতে ও পেতে। চাঁপা, তুমি যে কোনো একটা কাজ বেছে নাও, তা হলেই বাঁচবে।
সে এক এক করে অনেক রকম কাজে হাত দিলে, কিন্তু দিতে না দিতে গুটিয়ে নিলে। বললে, আমার পুরী কবে নির্মাণ করবে, তাই বল? অরুণ বরুণ, কবে আনবে মুক্ত ঝরার জল, সোনার বরণ পাখি? আমি এ বাড়িতে বাঁচব না, অরুণ। আমাকে আমার নিজের বাড়ি দাও। কত লোকের বাড়ি তৈরি করো, সখীর বাড়ি তৈরি করতে পারো না?
বাস্তবিক এর কোনো উত্তর নেই। ইচ্ছা করলেই নীলু পারে হাসনকে তার নিজের বাড়ি দিতে। অবশ্য মুক্ত ঝরার জল কিংবা সোনার বরণ পাখি দেওয়া তার সাধ্য নয়। শঙ্করেরও অসাধ্য। কিন্তু বাড়ি! মনের মতো বাড়ি দিতে পারবে না সখীকে। নীলু ভাবে কিন্তু উপায় খুঁজে পায় না। মনের মতো একখানা বাড়ি মানে কত কালের সঞ্চয়। স্ত্রীকে বঞ্চিত করে সখীকে দেবে তার সঞ্চয়! তা কি হয়! রত্না কী মনে করবে! সমাজ কী মনে করবে! নীলু পিছিয়ে যায়। কথা দিতে পারে না। চাঁপা একেবারে অবুঝ। যে মানুষ লক্ষ লক্ষ টাকার বাড়ি তৈরি করেছে সে মানুষ পাঁচ সাত হাজার টাকার বাড়ি তৈরি করতে পারত না! তার কি টাকার অভাব! আর দেওঘর তো সস্তা।
ডাক্তারের টাকার অভাব নেই, চাঁপা চাইলেই সাত হাজার টাকার চেক পায়। কিন্তু চাইবে কী করে! ডাক্তার কি অরুণ বরুণ, বুদ্ধু ভূতুম! তিনি তাকে দয়া করে বিয়ে করেছেন, যত্ন করে বাঁচিয়ে রেখেছেন, পারত পক্ষে অবহেলা করেন না, কিন্তু তাঁর কাছে কি সখীর মতো দাবি করা চলে। না, তাঁর সঙ্গে তেমন সম্পর্কই নয়। কোন সুবাদে চাইবে!
নীলু কিছু করলে না, পরিণামে চাঁপার আবার জ্বর হতে লাগল এবং সে কথা শুনে নীলুর মনে হলো সে-ই দায়ী। তখন সে দেওঘর মধুপুর গিরিডি অঞ্চলে জমি খুঁজতে শুরু করে দিলে রত্নাকে না জানিয়ে! বাড়িও তৈরি হলো বেনামীতে মধুপুরে। খরচ যা পড়ল তা এল বোনাস থেকে। কিন্তু প্রশ্ন উঠল, বেড়ালের গলায় ঘণ্টা পরাবে কে? ডাক্তারকে সমঝাবে কে যে মধুপুরে না গেলে চাঁপার শরীর সারবে না? কে তাঁকে বিশ্বাস করাবে যে সেখানে চাঁপার আপন বাড়ি আছে? চাঁপার আত্মীয়দের একে একে ডাক পড়ল। তাঁদের জেরা করে ডাক্তার জানতে পারলেন তাঁকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। শেষকালে একটা মনোমালিন্য ঘটল। চাঁপা চলে গেল মধুপুর। বছর খানেক সবুর করে সেন আবার সাদী করলেন।
চাঁপা সে কথা শুনে দুঃখিত হলো না, বরং অভিনন্দন জানালে। নীলু তো চটেমটে লাল। বোকা মেয়ে, নিজের স্বার্থ বোঝে না। আর হতভাগা ডাক্তার, কেবল শরীরটি বোঝে। মানুষের যেন মন বলে কোনো পদার্থ নেই। কিন্তু নীলুর চোখ কপালে উঠল যখন চাঁপা লিখলে, আমি একা থাকলে মরে যাব। অরুণ বরুণ, তোমরাও এখানে এসো। আবার আমরা হাসব, আমরা গল্প করব, গান করব, রাঁধব আর খাব। তোমরা আনবে মুক্তা ঝরার জল, অর্থাৎ অফুরন্ত জীবন। তোমরা আনবে সোনার বরণ পাখি, সোনালি রঙের শুক, অর্থাৎ সুখ। অরুণ বরুণ, তোমরা কবে আসবে?
এক বার নয়, দুবার নয়, বারবার আসতে লাগল চিঠি। নীলু আর চুপ করে থাকতে পারলে না, গেল মধুপুর। দেখলে সখী শুকিয়ে যাচ্ছে চাঁপা ফুলের মতো। ওকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র পন্থা ওর সঙ্গে সময় কাটানো। কিন্তু সময় যে বয়সসুলভ ছিল সে বয়সে তো আর নেই। এখন সময় মানে টাকা, টাকা প্রাণধারণের উপায়। নীলু ওকে অনেক কিছু দিতে পারে, কিন্তু সময় দেবে কী করে? নিজের স্ত্রীকেই সময় দিতে পারে না, রোজ ঝাঁটা খায়। ঝাঁটা নয় খোঁটা, একই কথা। পরের স্ত্রীকে সময় দেবে? বাপ রে! সমাজ ফোঁস করে উঠবে না? সমাজের কথা দূরে থাক, ঘরের লোকটি কি রক্ষা রাখবে?
নীলু অনেক খরচ পত্তর করে ওর জন্যে সঙ্গিনী নিয়োগ করলে। বই কিনে দিলে। গ্রামোফোন, রেডিও, রিফ্রিজারেটর কিনে দিলে। ওর বসবার ঘর শোয়ার ঘর ডিস্টেম্পার করা হলো। মার্বেল পাথর আনিয়ে মেঝে বাঁধিয়ে দেওয়া গেল। তা সত্ত্বেও সখী বলে, ওতে আমার হৃদয় ভরবে না। আমি চাই বান্ধব বান্ধবী। বান্ধবীদের সকলের বিয়ে হয়ে গেছে। কেউ আমার চিঠির জবাব পর্যন্ত দেয় না। এমনকি, মিনতি, যার সিঁথির সিঁদুর মুছে গেছে সেও আমার কাছে আসবে না। তুমি একমাত্র বান্ধব যে আমাকে বাঁচাতে সাহায্য করেছ। আর সবাই স্বার্থপর। ভূতুম, তোমার কাছে আমি চিরঋণী। এ ঋণ জন্মান্তরেও শোধ হবে না। জন্মান্তরে যেন তোমার মতো বন্ধু পাই। তোমাকেই বন্ধু রূপে পাই।
'তারপর?' আমি এতক্ষণ পরে কথা কইলুম।
'তারপর?' নীলু শুকনো গলায় বললে, ''আমি তার আত্মীয়দের অনুনয় বিনয় করলুম, টাকা দিতে চাইলুম, কিন্তু কেউ কেন রাজি হবে তার কাছে থাকতে? তাদের প্রাণের দাম আছে, তারা সংসারী মানুষ, তাদের উপর নির্ভর করছে বহু অসহায় প্রাণী। তারা বললে, 'দাও ওকে কোনো স্যানিটরিয়ামে পাঠিয়ে। ভাওয়ালীতে কি মদনপল্লীতে। অন্ততপক্ষে যাদবপুরে। আমরাও সাহায্য করব।' বোঝে না যে মধুপুরে ওর নিজের বাড়ি, ওর 'মায়াপুরী', ওখান থেকে ও কোথাও যায় তো স্বর্গে।''
'তারপর, ও কি এখনো সেইখানে আছে, না স্বর্গে?'
'তারপর, আমি সমস্ত খুলে বললুম আমার সহধর্মিণীকে। বললুম, ও যদি মরে যায় তো আমার ভিতরটা শুকিয়ে যাবে, ঝুনো নারকেলের মতো। তুমি কি তেমন স্বামী নিয়ে সুখী হতে পারো, রত্না? যদি না হও তো আমাকে ক্ষমা করো, আমাকে অনুমতি দাও মাঝে মাঝে ওর ওখানে হাজিরা দিয়ে আসবার, অবশ্য উঠব আমি ডাক-বাংলোয়। তুমিও যেতে পারো আমার সঙ্গে। রত্না যখন দেখলে যে আমার ভিতরের মানুষটাই মরতে বসেছে তখন অনুমতি দিল। কিন্তু আমার সঙ্গে যেতে রাজি হলো না। এই ভাবে দুবছর কাটল। সখী আবার সজীব হলো, তার রং ফিরল, হাসি ফুটল। মনে হলো তার সুখ না থাকলেও দুঃখ নেই। কিন্তু ওটা আমার মনের ভুল। ভিতরে ভিতরে ও শুকিয়ে যাচ্ছিল ঠিকই। সখ্যের অভাবে নয়, প্রেমের অভাবে। আমি তার কী করতে পারি!'
'থাক', আমি সান্ত্বনা জানালুম, 'যে যাবার সে গেছে, তার কথা ভেবে মন খারাপ করিসনে। তুই তোর যথাসাধ্য করেছিস। সংসারে এই বা কজন করে। তুই আদর্শ বন্ধু।'
'কিন্তু ও বেঁচে আছে। হ্যাঁ, বেঁচে আছে। ভালো আছে। সুখে আছে। ও পেয়ে গেছে মুক্তা ঝরার জল, সোনার শুক পাখি।'
'য়্যাঁ! এ অসম্ভব সম্ভব হলো কী করে! করলে কে!'
'ওরই মতো এক যক্ষ্মা রোগী। মধুপুরেই ওদের আলাপ। ওরা এখন এক সঙ্গেই থাকে। আমি কিছু বলিনে। দেখেও দেখিনে শুনেও শুনিনে। জীবন বড় না নীতি বড়? মানুষ বড় না সমাজ বড়? শঙ্কর, তুই তো কবি ও সাহিত্যিক। তোর কী মনে হয়?'
উচ্ছ্বাস আমার কণ্ঠ রোধ করেছিল। কোনো মতে বলতে পারলুম, 'ওরা নিরাময় হোক!' কলকাতায় নীলুর সঙ্গে আবার দেখা হয়েছিল এই সেদিন। রবীন্দ্র জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক আসরে। রত্না ছিলেন সঙ্গে। কুশল-বিনিময়ের পর ওকে একান্তে টেনে নিয়ে শুধালাম, 'সখীর খবর কী?'
'ভালো আছে। ওদের জীবন পরিপূর্ণ হয়েছে। ওরা এখন তিন-চারটি ছেলেমেয়ের মা বাপ।'
আমি চমকে উঠলুম। 'বলিস কী! হলো কী করে!'
নীলু হেসে বললে, 'হয়নি। রুগ্ন দেখে আশ্রয় দিয়েছে। হাসন তাদের আপন সন্তানের মতো ভালোবেসে মানুষ করছে।'
'খরচ জোগায় কে?'
'যে জোগাত সেই জোগায়।'
'রত্না জানে?'
'জানে। তারও তো মায়ের প্রাণ। এত দিনে তার গ্লানি মুছে গেছে। আমাকে আর ঘরে-বাইরে সংগ্রাম করতে হয় না।'
আমি তার হাতে হাত রেখে বললুম, 'নীল, তোকে যদি ফলো করতে জানতুম ধন্য হতুম। চাঁপার সঙ্গে দেখা হলে বলিস, যে বাঁচায় সেই বাঁচে।'
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1336)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
October
(1721)
-
▼
Oct 30
(31)
- হাসন সখী by অন্নদাশঙ্কর রায়
- কাল-ভুজঙ্গ by অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়
- চাঁদপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড ত...
- সরকার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেখতে চায় না: প্রধানমন...
- শেষ পর্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনায় প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্য...
- প্রবারণা- দূর হোক সাম্প্রদায়িকতার অন্ধকার by সুক...
- মিয়ানমারকে বিরত করায় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিতে হবে...
- দল যার যার, দেশটা হোক সবার- শুভেচ্ছা বিনিময়ের রাজনীতি
- চারদিক- আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যাল
- জ্বালানি সম্পদ- মার্কিন নির্বাচন ও জ্বালানি-বিতর্ক...
- পুলিশের হাতে অবৈধ গোলাবারুদ-অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ...
- চামড়ার বাজারে অস্থিরতা-সরকারকে কার্যকর ভূমিকা পালন...
- পবিত্র কোরআনের আলো-হজ-পরবর্তী করণীয় ও হজের মর্মবাণী
- মধ্যরাতের টক শো ও সিঁদ কাটা-গলা কাটার কথকতা by কাজ...
- চরাচর-সড়কদ্বীপের গাছ by আহমেদ রিয়াজ
- বিনা বিচারে ৮ বছর কারাবাসের পর মুক্তি- ভাস্কর রশীদ...
- টাইমস অব ইন্ডিয়ার বিশ্লেষণ- খালেদা জিয়ার কাছে ভারত...
- লিমনকে আপসের প্রস্তাব
- অভিযোগ নিচ্ছে না সাভার থানা- আমিনবাজারের গ্রাম থেক...
- প্রতিদিন ধার করে চলছে চার ব্যাংক by মনজুর আহমেদ
- আত্মহত্যা প্রবণতায় প্রচারমাধ্যমের প্রভাব by ডা. মু...
- ক্ষমতাহীন শিক্ষকসমাজ ও বর্বরতা by ড. নিয়াজ আহম্মেদ
- আবার অশনিসংকেত by হায়দার আকবর খান রনো
- যায়দিন ভালো দিন by রণজিৎ বিশ্বাস
- জাতীয় সংসদ-সংরক্ষিত আসনের 'বিশেষ সুবিধা' আসলে কার?...
- ভারত :মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসকাব্য by এম জে আকবর
- উৎসব ও শহর by মাহবুব মোর্শেদ
- সমকালীন প্রসঙ্গ-সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে যোগাযোগমন্ত্...
- ভর্তি প্রক্রিয়া -অক্সব্রিজের আয়নায় আমাদের বিশ্ববিদ...
- কোরবানি পশুর বর্জ্য-শতভাগ পরিচ্ছন্নতা অসম্ভব নয়
- রোহিঙ্গা সমস্যা-মিয়ানমারের হাতেই সমাধান
-
▼
Oct 30
(31)
-
▼
October
(1721)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment