Saturday, February 21, 2026
শুরুটা আরও সুন্দর হতে পারত by টিপু সুলতান
কিন্তু শুরুতেই দেখা দিল অনাকাঙ্ক্ষিত টানাপোড়েন।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো প্রথম জটিলতা। বিএনপি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে এ ধরনের শপথের উল্লেখ নেই। শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতেই তারা জানিয়ে দেয়, তারা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবে না। তাদের যুক্তি—সংবিধানে যেহেতু এর ভিত্তি নেই।
বিএনপির এই অবস্থান রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। সকালে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জানায়, বিএনপি যদি সংস্কার পরিষদের শপথ না নেয়, তবে তারা সংসদ সদস্য ও সংস্কার পরিষদের শপথ না–ও নিতে পারে। এতে দিনের প্রথম ভাগে সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দুটি শপথই নেন। তবে দল দুটির কেউ বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেননি, যা অনেকের কাছে রাজনৈতিক দূরত্বের সূক্ষ্ম ইঙ্গিত হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষে জনরায় এসেছে। সেই রায় কার্যকর করার জন্যই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা। আদেশ অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একই অনুষ্ঠানে পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার বিধান ছিল এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারিত। সূচনালগ্নেই এই প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়ার কারণে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য বেড়ে গেছে।
১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো, এটা কেবল সরকার পরিবর্তন বা নতুন সরকার গঠন নয়; এটা ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশার নির্বাচন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের রক্তঝরা পটভূমিতে দেশের তরুণেরা নতুন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখার আশা জুগিয়েছিল—সংলাপ, সমঝোতা ও সহযোগিতার সংস্কৃতি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিদায়ী ভাষণে বলা হয়েছিল, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা।
নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা রাখতে চায়। বিএনপি জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতির কথা বলছে জোরেশোরে।
কিন্তু শপথের দিনেই যে দৃশ্য দেখা গেল, তা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে অনেকটাই বেমানান।
গণতন্ত্রে মতভেদ অস্বাভাবিক নয়; বরং সেটিই তার প্রাণশক্তি। তবে সূচনালগ্নে প্রতীকী ঐক্যের গুরুত্বও কম নয়। নতুন সরকারের প্রথম দিনটি যদি আরও দৃশ্যমান ঐক্যের বার্তা দিতে পারত, তবে সেটা হতো গণ-অভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের প্রতি গভীরতর শ্রদ্ধা।
এখন দেখার বিষয়, এই প্রাথমিক টানাপোড়েন বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নেয়, নাকি সংলাপের মধ্য দিয়ে পথ খুঁজে নেয় নতুন বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে বলা যায়, এত ত্যাগের পর যে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা গড়ে উঠেছে, তার আনুষ্ঠানিক শুরুটা আরও সুন্দর হতে পারত।
* টিপু সুলতান: সাংবাদিক
![]() |
| বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথগ্রহণ কক্ষে শপথবাক্য পাঠ করেন। ছবি: বাসস থেকে নেওয়া |
Friday, February 20, 2026
বিএনপির শপথ না নেওয়া গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করা by শরীফ ভূঁইয়া
দ্বিতীয়ত, যে কারণে দৃঢ়ভাবে বলা যায় যে বিএনপি জনরায়কে উপেক্ষা করছে, তা হলো নির্বাচনের আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সুস্পষ্টভাবে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন ১২ তারিখে দয়া করে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেবেন। বিএনপির অন্যান্য প্রতিশ্রুতি যেমন ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড ইত্যাদির মতো গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থানও দলটির একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। তাই এই প্রশ্ন উত্থাপন করা যায় যে বিএনপি যদি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান না নিয়ে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিত, তাহলে নির্বাচনে তারা যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা করতে পারত কি না? ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিলে এমনও হতে পারত যে বিএনপি নির্বাচনে খারাপ ফল করত। কিন্তু এই শপথ না নেওয়ার ফলে কার্যত গণভোটের রায় ‘না’ হলে যে অবস্থা দাঁড়াত, জাতি এখন সেই অবস্থার মুখোমুখি। কাজেই বিএনপি দুভাবে অর্থাৎ গণভোটের ফলাফলকে উপেক্ষা করে এবং তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে জনরায়কে উপেক্ষা করেছে।
এর ফলে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রক্রিয়া চিন্তা করা হয়েছিল, তা একটা প্রাথমিক বাধার সম্মুখীন হলো। এই প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপ ছিল সংবিধান সংস্কার আদেশ জারি, দ্বিতীয় ধাপ ছিল গণভোট এবং তৃতীয় ধাপ ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদ। প্রথম দুটি ধাপ অনুসরণ করা গেলেও তৃতীয় ধাপে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনপ্রক্রিয়া বাধার সম্মুখীন হলো। তবে এখনো আশা করি বিএনপির প্রতিনিধিরা শপথ নেবেন। এতে বিএনপির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো আশঙ্কাও নেই। যেহেতু সংস্কার পরিষদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে।
আর যদি সংস্কার পরিষদ গঠন করা সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে ১৪২ অনুচ্ছেদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করার দুর্বলতা হলো, এই অনুচ্ছেদের অধীনে সংবিধান সংশোধন করার ক্ষমতা সীমিত এবং এর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক বিষয় পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এ ধরনের মৌলিক পরিবর্তন অতীতে আদালত কর্তৃক অসাংবিধানিক ঘোষিত হয়েছে। যেমন, হাইকোর্ট বিকেন্দ্রীকরণ-সংক্রান্ত সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা-সংক্রান্ত ত্রয়োদশ সংশোধনী। বলা বাহুল্য, আদালত কর্তৃক ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করার ফলেই দেশে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছিল। এ কারণে জুলাই সনদে বর্ণিত ব্যাপক ও মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত প্রক্রিয়া টেকসই না-ও হতে পারে। বিএনপির পক্ষে এখনো শপথ নেওয়া সম্ভব এবং সে ক্ষেত্রে পুরো বিষয়ের একটি সুন্দর সমাধান হতে পারে।
* ড. শরীফ ভূঁইয়া, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আইনবিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন।
![]() |
| শরীফ ভূঁইয়া। ফাইল ছবি |
Wednesday, February 18, 2026
বিএনপির অবস্থান গণভোটের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী by হাসনাত কাইয়ূম
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা দেখছি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের দলীয় অবস্থান ও কৌশলগত স্বার্থের আলোকে সংবিধানকে ব্যাখ্যা করছে। ফলে মৌলিক ঐকমত্যের বদলে বিভাজনই বেশি প্রকট হয়ে উঠছে।
বিএনপি শুরু থেকেই ১৯৭২ সালের সংবিধানের ধারাবাহিকতার মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতিকে দেখতে চেয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী ও কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাকাঠামো অপরিহার্য। তারা মনে করে, রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল রাখতে হলে নির্বাহী ক্ষমতা দুর্বল করা যাবে না। এই দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে একটি আমলাতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার চিন্তা কাজ করে।
গণভোটের আগে বা পরে সংস্কার, সনদকে আগে আইনে পরিণত করা ইত্যাদি প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে তারা আলোচনাকে জটিল করেছে। এ ছাড়া একাডেমিক মহলের একটি অংশ বিষয়টিকে তাত্ত্বিক ও নীতিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখার চেষ্টা করেছে। ফলে চারটি আলাদা ধারায় সংবিধান বিশ্লেষণের প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় আমরা চেষ্টা করেছিলাম একটি সমন্বিত পথ খুঁজে বের করতে। সংবিধানের ক্ষমতাকাঠামো অংশের সংস্কার প্রয়োজন। এর পেছনে একাডেমিক, ঐতিহাসিক ও দার্শনিক যুক্তি রয়েছে। কিন্তু আমরা চেয়েছি বিতর্কিত দার্শনিক প্রশ্নগুলো আপাতত পাশে রেখে একটি কমন মিনিমাম গোল নির্ধারণ করতে, যাতে ক্ষমতাকাঠামোর সংস্কার নিয়ে বিস্তৃত ঐকমত্য তৈরি হয়। লক্ষ্য ছিল, এমন একটি কাঠামো দাঁড় করানো, যা স্থিতিশীল ও টেকসই হবে এবং ভবিষ্যতে সাংবিধানিক সংকটের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে।
দুঃখজনকভাবে কমিশন মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সীমিত আলোচনায় নিজেদের আবদ্ধ রেখেছে। জনগণের বৃহৎ অংশকে সরাসরি আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে। এতে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে সংবিধান সংস্কারের একমাত্র কর্তৃত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর হাতেই। বড় দলগুলো নিজেদের স্বার্থ ও কৌশল অনুযায়ী অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি ’৭২ সালের সংবিধানের কাঠামোকে যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ন রাখতে চেয়েছে। অন্যদিকে এনসিপি শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবিধানের দাবি তুললেও পরে বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করেছে।
সবচেয়ে বড় ঘাটতি ছিল পদ্ধতিগত বিষয়ের আলোচনায়। সংস্কার কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সেই প্রশ্নটি শুরুতেই গুরুত্ব পায়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে বারবার কমিশনকে বলেছি যে পদ্ধতির প্রশ্নটি আগে নির্ধারণ করতে হবে। বাস্তবায়ন কাঠামো স্পষ্ট না থাকলে প্রস্তাব কাগজেই থেকে যাবে। পরে যখন বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠল, তখন আমরা সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব দিয়েছি।
গণভোট ও নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়াকে বিলম্বিত করার মাধ্যমে বিএনপি শুরুতেই অভ্যুত্থান এবং গণভোটের আকাঙ্ক্ষা পরিপন্থী অবস্থান নিল। এটা দুঃখজনক। বিএনপি এখন বলছে, তারা তাদের নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী এগোবে।
কিন্তু এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন আছে। জনগণ একই সঙ্গে তাদের প্রতিনিধিত্বশীল ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং গণভোটের মাধ্যমে সরাসরি মতামতও জানিয়েছে। গণভোট সরাসরি জনগণের অভিব্যক্তি। গণতান্ত্রিক তত্ত্ব অনুযায়ী সরাসরি অভিব্যক্তির গুরুত্ব কম নয়। অতএব নোট অব ডিসেন্টের যেসব আপত্তি নীতিগত নয়, বরং পদ্ধতিগত বা তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
সংবিধান সংস্কার পরিষদে বসে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণের উদ্দেশ্য ছিল, এই সরকারের আমলেই জনগণ সংস্কারের সুফল পাবে এবং পরবর্তী নির্বাচন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও স্বাধীন ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। যদি সরকার সত্যিই জনগণের স্বার্থে কাজ করতে চায়, তাহলে এই সময়সীমাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সংসদের প্রথম দিনেই সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে শপথ ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থান একটি প্রতীকী বিষয়। এ ঘটনাটি বড় বাধা নয়, কিন্তু একটি সতর্কবার্তা। এত বড় পরিবর্তনের পর যদি রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বিফলে যেতে পারে। অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল বিভাজন থেকে বেরিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক কাঠামো নির্মাণ। সেই দায়িত্ব এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাঁধে সবচেয়ে বেশি।
* হাসনাত কাইয়ূম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| হাসনাত কাইয়ূম |
Tuesday, February 17, 2026
সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান যৌক্তিক -রিদওয়ানুল হকের অভিমত
প্রথমে একটি মৌলিক বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। সংসদীয় নির্বাচন হয়েছে সংবিধানের অধীনে। যে সংসদ গঠিত হয়েছে, তা বর্তমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই বৈধতা পেয়েছে। অন্যদিকে গণভোটে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো ছিল বহুমাত্রিক। কিছু বিষয়ে প্রায় সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। সেসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সংসদের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন বা সংশোধন করে বাস্তবায়ন করা তুলনামূলক সহজ।
কিন্তু যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো গণভোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় একটি নতুন প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। গণভোটে মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে বটে, কিন্তু সেই মতামত সংসদ কীভাবে বাস্তবায়ন করবে, তার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনো স্পষ্ট নয়।
সংসদ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের ভূমিকা আলাদা। সংসদের কাজ আইন প্রণয়ন করা। সংবিধান সংশোধনও সংসদের মাধ্যমেই হয়। যদি বর্তমান সংসদকে হঠাৎ করে একটি সংস্কার পরিষদে রূপান্তর করা হয়, তবে তার আইনি ভিত্তি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। সংবিধান সংশোধন ছাড়া এমন কোনো কাঠামো কার্যকর করা হলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
উদাহরণ হিসেবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব ধরা যেতে পারে। যদি সংবিধান সংশোধন করে বলা হয় যে ভবিষ্যৎ নির্বাচন থেকে দ্বিকক্ষব্যবস্থা কার্যকর হবে, তবে সেটি বৈধ প্রক্রিয়া। কিন্তু বর্তমান সংসদ গঠনের দিন থেকেই সেটি কার্যকর ঘোষণা করা হলে তা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাজনৈতিক ঐকমত্য। একটি বড় দল ইতিমধ্যে জানিয়েছে যে সংস্কার পরিষদ গঠনের পদ্ধতিতে তাদের সরাসরি সম্মতি ছিল না। অন্যদিকে কিছু দল হুবহু জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে। এই বিভাজন সংসদের ভেতরেই একটি ভিন্নমত তৈরি করছে। গণতন্ত্রে মতভেদ অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা না থাকলে সেই মতভেদ অবিশ্বাসে রূপ নিতে পারে।
গণভোটের প্রশ্নেও একই কথা প্রযোজ্য। সাধারণত সংসদে আলোচনার পর কোনো বড় পরিবর্তনের জন্য গণভোট হয়। এবার প্রক্রিয়াটি উল্টো হয়েছে। প্রথমে আলোচনা, তারপর গণভোট, এরপর সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন। গণভোটে সমর্থন পাওয়া মানেই প্রতিটি প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে, এমন নয়। বিশেষ করে যখন প্রস্তাবগুলো বহুবিধ এবং জটিল। সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
আরও একটি মৌলিক নীতি মনে রাখা জরুরি। কোনো এক প্রজন্ম পরবর্তী প্রজন্মকে সাংবিধানিকভাবে সম্পূর্ণভাবে বেঁধে রাখতে পারে না। সংসদ সংবিধান সংশোধন করতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যৎ সংসদের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই যুক্তি থেকেই বিএনপির নোট অব ডিসেন্টকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত। একই সঙ্গে অন্য দলগুলোর দাবিও অগ্রাহ্য করা যায় না। সমাধান একটাই, সংসদে আলোচনা করা।
ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সংস্কার প্রশ্নে মতভেদ থাকলে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সম্পর্ক টানাপোড়েনে পড়তে পারে। কিন্তু ইতিবাচক দিকও আছে। প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের পারস্পরিক সাক্ষাৎ ও সংলাপের উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক। গণতন্ত্রে সংস্কৃতি গড়ে ওঠে ধারাবাহিক চর্চার মাধ্যমে। তর্ক, আপস, সমঝোতা ও স্বচ্ছতা এই সংস্কৃতির ভিত্তি।
এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো সংসদকে কার্যকরভাবে কাজ শুরু করতে দেওয়া। অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা, সহিংসতা রোধ এবং জনজীবনের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। সংবিধান সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, কিন্তু সেটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নয়। বরং স্থিতিশীলতার ভিত মজবুত হলেই সংস্কার টেকসই হয়।
* রিদওয়ানুল হক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| রিদওয়ানুল হক। ছবি: প্রথম আলো |
বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবে কি না, স্পষ্ট হয়নি
অবশ্য নবনির্বাচিতদের দুটি শপথের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিতরা আজ দুটি শপথ নেবেন।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এখন জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা। সে হিসেবে নির্বাচিতরা প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং এরপর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। কিন্তু বিএনপি থেকে নির্বাচিত ২০৯ জন সংসদ সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে এই পরিষদ গঠন এবং সংবিধান সংস্কার কার্যক্রম ঝুলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আজ বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে শুরুতেই হোঁচট খাবে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রম। এতে নতুন রাজনৈতিক সংকটও তৈরি হতে পারে।
বিএনপি মনে করে, বিদ্যমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে কিছু নেই। বিদ্যমান সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে বিভিন্ন পদের শপথের বিষয়ে বলা আছে। সেখানে সংসদ সদস্যদের শপথের কথা আছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের বিষয় নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনারেরও এ ধরনের শপথ পড়ানোর এখতিয়ার নেই।
গতকাল সোমবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে কথা বলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করা। সাংবিধানিকভাবে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার ‘অ্যাভেইলেবল’ না থাকলে বা অপারগ হলে বা তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধি না থাকলে দ্বিতীয় বিকল্প হচ্ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। সে হিসেবে মঙ্গলবার (আজ) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ হবে। এটা সিইসির সাংবিধানিক এখতিয়ার আছে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘এর বাইরে...সংবিধান সংস্কার পরিষদ, এটা যদি কনস্টিটিউশনে (সংবিধান) ধারণ হয়, সেই মর্মে অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধন) হয় এবং সেই শপথ পরিচালনার জন্য সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ফরম হয়, কে শপথ পাঠ করাবেন, সেটা নির্ধারিত হয়—এতগুলো হয়-এর পরে, তারপরে হলে হতে পারে।’
গতকাল বিকেলে সংসদ সচিবালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আজ সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে।
শপথ নেবে জামায়াত-এনসিপি
বিএনপির দিক থেকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা না হলেও জামায়াত ও এনসিপি জানিয়েছে, তাদের সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, জুলাই সনদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সেই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট হয়েছে। মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। জামায়াত সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবে।
গতকাল সন্ধ্যায় যমুনায় জুলাই সনদে সই করার পর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আগামীকাল (আজ) শপথ গ্রহণ করবেন। আমরা একই সঙ্গে দুটো শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমাদের ওপর দেশের মানুষ যে আস্থা রেখেছে, আমরা তা বাস্তবায়ন করব।’
এদিকে গতকাল রাত নয়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া লিখেছেন, ‘“সংবিধান সংস্কার পরিষদ” সদস্য শপথ আগামীকাল (আজ) নির্ধারিত সময়েই হতে হবে। “সংবিধানে নেই” মর্মে যদি “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” সদস্য হিসেবে শপথ না নিতে চান, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথেরও কোনো মানে নেই। ২০২৬ সালে নির্বাচন কোন সংবিধানে ছিল জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ?’
পরে এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞদেরও মত নিয়েছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। শেষ পর্যন্ত গত বছরের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ’ জারি করেন। সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টিও রাখা হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রধান নির্বাহী ও সাবেক ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যমান সংবিধানে অনেক কিছুই নেই। যেভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে, সেটিও বর্তমান সংবিধানে নেই। তিনি মনে করেন, গত ১৫-১৬ বছরের স্বৈরশাসনের পর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে এসে এখন এসব বিতর্ক তৈরি করা অহেতুক। গণভোটে হ্যাঁ–এর পক্ষে মানুষ ভোট দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বিএনপি বিশালত্ব ও সমঝোতার মনোভাব দেখিয়ে সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে তাদের পদক্ষেপ নেবে, এটাই নাগরিক হিসেবে তিনি আশা করেন।
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে সংবিধান সংশোধন করা যায়। কিন্তু এবার নিয়মিত সংসদ নয়, সংবিধান সংস্কারে কাজ করবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ—এমনটি বলা হয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে।
দলগুলোর সঙ্গে সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় এ ধরনের একটি পরিষদ গঠনের বিষয়টি এসেছিল। তখন, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংবিধান-সম্পর্কিত যেসব সংস্কার প্রস্তাব জুলাই সনদে আছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে। নিয়মিত সংসদ সংবিধানের মৌলিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ আছে। এভাবে সংবিধান সংশোধন করা হলে পরে এটি আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কিন্তু যদি আগামী সংসদকে সংবিধান সংস্কারের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকবে না। তবে ওই আলোচনায় বিএনপি এ ধরনের পরিষদ গঠনের প্রয়োজন নেই—এমন মত দিয়েছিল।
এ ছাড়া সনদ বাস্তবায়নে অধ্যাদেশ নয়, একটি আদেশ জারির প্রস্তাব দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি দল। অন্যদিকে বিএনপি এর বিপক্ষে ছিল। তারা বলেছিল, এ ধরনের আদেশ জারির কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।
![]() |
| বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। ফাইল ছবি |
Monday, February 16, 2026
আগামীকাল সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথেরও প্রস্তুতি চলছে by রিয়াদুল করিম
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আগামীকাল দুটি শপথ হবে কি না বা জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে এখনই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে কি না, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় আছে।
দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, দলটি মনে করছে, বিদ্যমান সংবিধানে যা আছে সেটা অনুসরণ করাই যৌক্তিক হবে। বিদ্যমান সংবিধানে শুধু সংসদ সদস্যদের শপথের কথা বলা আছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ বা এ ধরনের কিছু নেই। যদি সংবিধানে কখনো এটি ধারণ করা হয়, তখন এ রকম শপথের বিষয়টি আসবে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের আইনি ভিত্তি নিয়েও শুরু থেকে বিএনপির প্রশ্ন আছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’জয়ী হওয়ায় এখন জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা। আগামীকাল সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে মন্ত্রিসভার শপথ। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর শপথ বইয়ে সই করেন। শপথ নেওয়ার নির্ধারিত ফরম আছে। এগুলো আসনওয়ারি প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের তফসিলে আছে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার ফরম। সেটি অনুসারে সংসদ সদস্যরা দ্বিতীয় শপথ নেবেন, এমন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা গতকাল রোববার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ হবে। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।
তবে গতকাল বিএনপির সূত্র জানায়, আগামীকাল দলটি থেকে নির্বাচিত ২০৯ জন এবং তাদের মিত্র দলের ৩ জন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নাও নিতে পারেন। শেষ পর্যন্ত এমনটা হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি ঝুলে যেতে পারে।
জুলাই জাতীয় সনদে থাকা সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিয়ে ভিন্নমত আছে বিএনপির। অন্য দিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রায় সব বিষয়ে একমত। তারা জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চায়।
গতকাল কিশোরগঞ্জে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সংস্কারের ওপর যে গণভোট হয়েছে, এটার পুরোটাই মানতে হবে। এর কোনো খণ্ডিত অংশ আমরা বাস্তবায়ন দেখতে চাই না।’
সংস্কার বাস্তবায়নে পরিষদ
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেগুলো নিয়ে তৈরি করা হয় জুলাই জাতীয় সনদ। এর মধ্যে ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান সম্পর্কিত, এগুলো বাস্তবায়নে গণভোট হয়েছে। তাতে ‘হ্যাঁ’জয়ী হয়েছে।
সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে তিনটি স্তর। ইতিমধ্যে দুটি স্তর পার হয়েছে। প্রথমত, আইনি ভিত্তি দিতে গত বছরের ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। বাস্তবায়নের দ্বিতীয় স্তরে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট হয়েছে । এতে ‘হ্যাঁ’জয়ী হওয়ায় তৃতীয় স্তর শুরু হওয়ার কথা। এই স্তরে জুলাই সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা বলা আছে আদেশে।
প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমানো, কিছু নিয়োগে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো, আইনসভা দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট করা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের পদ্ধতি সরাসরি সংবিধানে যুক্ত করার মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব আছে জুলাই সনদে।
অবশ্য উচ্চকক্ষের গঠন পদ্ধতিসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত দিয়েছিল বিএনপি। দলটি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে নিজেদের সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাবগুলো রেখেছিল।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের ভিত্তি কী
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে সংবিধান সংশোধন করা যায়। কিন্তু এবার নিয়মিত সংসদ নয়, সংবিধান সংস্কারে কাজ করবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ-এমনটি বলা হয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে।
দলগুলোর সঙ্গে সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় এ ধরনের একটি পরিষদ গঠনের বিষয়টি এসেছিল। তখন বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংবিধান-সম্পর্কিত যেসব সংস্কার প্রস্তাব জুলাই সনদে আছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে। নিয়মিত সংসদ সংবিধানের মৌলিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ আছে। এভাবে সংবিধান সংশোধন করা হলে পরে এটি আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কিন্তু যদি আগামী সংসদকে সংবিধান সংস্কারের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকবে না। তবে ওই আলোচনায় বিএনপি এ ধরনের পরিষদ গঠনের প্রয়োজন নেই-এমন মত দিয়েছিল।
এ ছাড়া সনদ বাস্তবায়নে অধ্যাদেশ নয়, একটি আদেশ জারির প্রস্তাব দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল। অন্যদিকে বিএনপি এর বিপক্ষে ছিল। তারা বলেছিল, এ ধরনের আদেশ জারির কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।
পরে এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞদেরও মত নিয়েছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। শেষ পর্যন্ত গত বছরের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির ‘জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ’জারি করেন। সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টিও রাখা হয়।
১৩ নভেম্বর এ আদেশ জারির পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নামে একটি নতুন আইডিয়া, একটা পরিষদ গঠনের কথা আদেশে বলা হয়েছে। তিনি সেদিন আরও বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি এই আদেশ জারি করেছেন। রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা আছে। সংবিধান মোতাবেক আদেশ জারির ক্ষমতা নেই।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ কাজ করবে কীভাবে
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হবে একই পদ্ধতিতে পরিষদের প্রথম সভা আহ্বান করা হবে। সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে পরিষদের সদস্যরা সভাপ্রধান ও উপ-সভাপ্রধান নির্বাচন করবেন।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্য দিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং তা সম্পন্ন করবার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে। তবে এই সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন না হলে কী হবে তা আদেশে উল্লেখ নেই।
আদেশে বলা হয়েছে, সংস্কার পরিষদের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সময় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ‘পরিষদ সদস্য’হিসেবে অভিহিত হবেন। পরিষদ তার অধিবেশন আহ্বান ও মুলতবি, সংবিধান সংস্কার বিষয়ক প্রস্তাব উত্থাপনের পদ্ধতি, প্রস্তাব বিবেচনা ও গ্রহণ এবং অন্য সব বিষয়ে কার্যপ্রণালী নির্ধারণ করবে। সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অন্তত ৬০ জন পরিষদ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে। সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিষদের মোট সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সিদ্ধান্ত হবে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা অনুসারে সংবিধানে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উচ্চকক্ষ কবে
আদেশে বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে এবং কর্মপরিধি নির্ধারণ করা হবে। উচ্চকক্ষের মেয়াদ হবে সদস্যদের শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত। উচ্চকক্ষ গঠনের ক্ষেত্রে যে-কোনো প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্দেশ্যে পরিষদ প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়ন করতে পারবে এবং সরকার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।
আইনসভা দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট করার প্রস্তাবে একমত হলেও এর গঠন পদ্ধতি ও ক্ষমতা নিয়ে ভিন্নমত ছিল বিএনপির। দলটি নিম্নকক্ষে পাওয়া আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের পক্ষে। এ ছাড়া সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের অনুমোদনের বাধ্য-বাধকতারও বিপক্ষে বিএনপি। দলটি যেভাবে উচ্চকক্ষ চায় সেটি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে রেখেছিল।
গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘আইনগত বিবেচনার চেয়েও রাজনীতিতে প্রথম এবং প্রধান বিবেচনাটা আপনাকে রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। …আমরা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, জনরায় (গণভোটে হ্যাঁ জিতেছে) হয়েছে, আবার রাজনৈতিক দলের প্রতিও জনগণের সমর্থন দেখা গেছে। ফলে এর মধ্যে একটি সমন্বয় করতে হবে। সমন্বয়ের দায়িত্বটা রাজনীতিকদের।’
![]() |
Saturday, February 14, 2026
সংস্কার বাস্তবায়নে সব দলের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা আছে: -আলী রীয়াজ
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘আইনগত বিবেচনার চেয়েও রাজনীতিতে প্রথম এবং প্রধান বিবেচনাটা আপনাকে রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। …আমরা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, জনরায় হয়েছে, আবার রাজনৈতিক দলের প্রতিও জনগণের সমর্থন দেখা গেছে। ফলে এর মধ্যে একটি সমন্বয় করতে হবে। সমন্বয়ের দায়িত্বটা রাজনীতিকদের।’
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আলী রিয়াজ এ কথা বলেন। সদ্য অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলের বিষয়ে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার গঠন করতে যাওয়া দল বিএনপির কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, সার্বভৌম জনগণের অভিপ্রায় হিসেবে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলেরই এ বিষয়ে নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা আছে। তিনি বলেন, ‘কেবল লিখিত আইনের বিবেচনার চেয়ে রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে সেভাবেই বিবেচনা করবেন বলে আশা করি।’
আলী রিয়াজ আরও বলেন, গণভোটে যে প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, তার ভিত্তিতেই জনরায় এসেছে। বিএনপি সব সময় জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। তাই আশা করা যায়, দেশ পরিচালনা ও সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে দলটি জনগণের এই প্রত্যাশা বিবেচনায় নেবে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, দলগুলো যেমন নিজেদের ইশতেহার দিয়েছে, তেমনি দলের শীর্ষ নেতারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেও জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন। সুতরাং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়া কেবল সরকারের এজেন্ডা নয়; এটি রাষ্ট্রের এবং সব রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা।
আলী রীয়াজ বলেন, দলগুলোর ইশতেহারের মধ্য দিয়ে মানুষ যেটা অনুমোদন করেছে, সেটা কিছুটা পরোক্ষ; কিন্তু গণভোটের মধ্য দিয়ে সংবিধানের বড় রকমের সংস্কারের যে প্রস্তাব, সেটা দেশের জনগণ সরাসরি অনুমোদন করেছে। এটাকে জনরায় হিসেবে দেখতে হবে। সংস্কারের জন্য জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তি হিসেবে দেখতে হবে।
সংস্কার বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ বলেন, কাজটি কীভাবে এগোচ্ছে তার ওপরই অগ্রাধিকার নির্ভর করবে। তবে সুনির্দিষ্ট আদেশে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা থাকায় এটি ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবেন ক্ষমতাসীন দল ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আলী রিয়াজ বলেন, ‘গণভোটের মধ্য দিয়ে সংস্কারের বিষয়ে যে সুস্পষ্ট গণরায় প্রকাশিত হয়েছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর। রাষ্ট্র সংস্কারের ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দল অঙ্গীকারবদ্ধ। ক্ষমতাসীন দল এবং জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো এবং সংসদের বাইরেও যেসব রাজনৈতিক দল আছে তাদের সবার প্রতি আহ্বান হচ্ছে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যম ঐক্যবদ্ধভাবে এই গণরায় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’
নতুন কোনো ভূমিকায় তাঁকে দেখা যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমি আমার পেশায় ফিরে যেতে চাই এবং সেটা যত দ্রুত সম্ভব।’
সংবাদ সম্মেলনে শুরুতে গণভোটের প্রচার ও জনসচেতনতা তৈরির কাজে সহযোগিতা করার জন্য সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আলী রীয়াজ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার ও প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
![]() |
| সদ্য অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফল নিয়ে সংবাদ সম্মেলন। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে। ছবি: প্রথম আলো |
Friday, February 13, 2026
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এগিয়ে আছে
২৯৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫৬টি আসনে গণভোটের আংশিক ফলাফল গতকাল রাত একটা পর্যন্ত জানা গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।
যে ৫৬টি সংসদীয় আসনের গণভোটের ফলাফল জানা গেছে, তাতে মাত্র দুটি আসন (রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি) ছাড়া বাকি সব কটিতে ‘হ্যাঁ’ ভোট এগিয়ে আছে।
নেত্রকোনা জেলার পাঁচটি নির্বাচনী আসনে মোট ভোটার ২০ লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৬ জন। জেলার ৬৭৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৬৫টির গণভোটের ফলাফলে দেখা যায়, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৩টি। আর ‘না’ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭৪৭টি।
একইভাবে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টির ফলাফল পাওয়া গেছে। এখানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪টি। আর ‘না’ ভোট পেয়েছে ৩৮ হাজার ৫৪৬টি।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ৯৪ হাজার ৬০৫টি। ‘না’ ভোট পেয়েছে ২৭ হাজার ৪৯৭টি। ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ৫১ হাজার ৮৭৫টি। ‘না’ ভোট পেয়েছে ২৫ হাজার ৪০১টি।
রাজশাহী–১ আসনেও ‘হ্যাঁ’ ভোট এগিয়ে আছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে ‘হ্যাঁ’ ৪০ হাজার ৬১১ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছে। এখানে ‘না’ পেয়েছে ১৩ হাজার ৯২৯ ভোট।
এর বাইরে হবিগঞ্জ–১, পাবনা–২, পটুয়াখালী–১, কুমিল্লা–১, ৭ ও ৮, পিরোজপুর–২, জয়পুরহাট–২, বাগেরহাট– ১ ও ৩, চট্টগ্রাম–১, ৭, ১৪ ও ১৫, ফেনী–২ ও ৩ এবং চাঁদপুর–৩ আসনে গণভোটের সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ এগিয়ে আছে।
অবশ্য রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি—এই দুটি সংসদীয় আসনে গত রাত ১টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ ফলাফলে (আংশিক) ‘হ্যাঁ’ ভোট পিছিয়ে আছে। রাঙামাটির ২১৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৪টির ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ২২ হাজার ৮৬৮ ভোট। আর ‘না’ পেয়েছে ৬১ হাজার ২৬২ ভোট।
অন্যদিকে খাগড়াছড়ির ২০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১টি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। এখানেও ‘হ্যাঁ’ পিছিয়ে আছে। ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ৩০ হাজার ৬৬৫ ভোট। আর ‘না’ পেয়েছে ৩১ হাজার ৭৬ ভোট।
‘হ্যাঁ’ জিতলে কী হবে
গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের পথ খুলবে। এতে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বাড়বে। সাংবিধানিক পদে নিয়োগ হবে ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল ও ক্ষেত্রবিশেষে বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, প্রায় সব নির্বাহী কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে অন্য যেকোনো কাজ করতে হয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী।
এ ছাড়া কোনো বিষয়ে সংসদে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার আওতা বাড়বে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে।
হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। সংবিধান সংশোধন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসবে। কোনো একটি দলের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের অঙ্গীকার করে। এ লক্ষ্যে ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করে। এরপর আরও কয়েকটি খাতে সংস্কারের সুপারিশ দিতে কমিশন করা হয়।
প্রথমে গঠন করা ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে ১৬৬টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়। ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কমিশনের দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়। এগুলো নিয়ে তৈরি করা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ। এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান–সম্পর্কিত। অন্য প্রস্তাবগুলো সরকারি আদেশ, অধ্যাদেশ জারি বা আইন বিধি করে বাস্তবায়ন সম্ভব। বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের কিছু প্রস্তাব ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
কিন্তু সংবিধান–সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো অধ্যাদেশ বা কোনো আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। জুলাই জাতীয় সনদে থাকা সংবিধান–সম্পর্কিত এই ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত হয় গণভোট। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ১৯টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাব হিসেবে চিহ্নিত করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
মূলত সংবিধান–সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে তিনটি স্তর। প্রথমত, আইনি ভিত্তি দিতে আদেশ জারি। গত ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি করেন রাষ্ট্রপতি।
বাস্তবায়নের দ্বিতীয় স্তরে হয়েছে গণভোট। এই গণভোট হয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার–সম্পর্কিত অংশ নিয়ে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে তৃতীয় স্তর শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংস্কার সম্পন্ন করবে। তবে পরিষদ নির্দিষ্ট সময়ে সংবিধান সংস্কার না করলে কী হবে, তা বাস্তবায়ন আদেশে উল্লেখ নেই।
সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী, এক ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ব্যক্তি একই সঙ্গে দলীয় প্রধানের পদে থাকবেন না, এমন বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এই প্রস্তাব নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত ছিল।
এখন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতিকে কাজ করতে হয়। তবে জুলাই সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে কারও পরামর্শ বা সুপারিশ ছাড়াই নিজ এখতিয়ারে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিতে পারবেন।
জুলাই সনদে আইনসভা বা সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা এবং উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, সংবিধান সংশোধন করতে নিম্নকক্ষের দুই–তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন লাগবে।
Monday, February 2, 2026
নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে বলে মনে হয়: তৌহিদ হোসেন
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতারা গণভোটে ‘না’ ভোট দিতে প্রচার চালাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে সরকার সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারবে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বুঝে না বুঝে ‘না’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন হচ্ছিল। অনেকে না বুঝেই ‘না’ ভোটের পক্ষে। সরকার চায় যে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হোক—এটা খুব স্পষ্ট। সরকার এক বছরের বেশি সময় নিয়ে বিভিন্ন কমিশনের মাধ্যমে সংস্কারের প্রস্তাব তৈরি করেছে। সেটা বাস্তবায়ন করতে চায়। ‘হ্যাঁ’, ‘না’ ভোট নিয়ে সমস্যা যেটা ছিল জামায়াত, এনসিপি এবং আরও দু-একটি দল তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছে। একটু এম্বুগিউটি (অস্পষ্টতা) ছিল বিএনপিকে নিয়ে। দু-একজন স্থানীয় নেতা ‘না’-এর পক্ষে বলছিলেন। ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বলছিলেন যে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা, তাঁদের কণ্ঠ জোরালো ছিল না বলে মনে হয়েছে।
‘এটা আমি ব্যক্তি হিসেবে বলছি, মন্ত্রী হিসেবে নয় বা উপদেষ্টা হিসেবে নয়। কিন্তু আমার মনে হয় সেই কনফিউশনটা (বিভ্রান্তি) দূর হয়ে গেছে। কারণ, গতকাল বিএনপির সভাপতি (চেয়ারম্যান) ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে জোরালোভাবে, শক্তভাবে বলেছেন,’ বলেন উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
মানুষ চারটা শর্ত পড়ে চিন্তাভাবনা করে ভোট দিতে যাবে না বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওই সময়ও নেই, সুযোগও নেই। আসলে তারা ভোট দিতে যাবে পার্টি লাইনে। আমার পার্টি সমর্থন করছে “না”, কাজেই আমি দেব “না”। আমার পার্টি সমর্থন করছে, আমি ভোট দেব। প্রধান তিন চারটি দল সবাই কিন্তু “হ্যাঁ”-এর পক্ষে। কাজেই আমার মনে হয় না এটা নিয়ে বড় কোনো সমস্যা হবে।’
এবার নির্বাচনে কিছু লোক ভোট দিতে যাবে না উল্লেখ করে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘এটা সব সময় হয়। প্রতি নির্বাচনে কিছু মানুষ ভোট দিতে যায় না। এবার কিছু বেশি মানুষ ভোট দিতে যাবে কি না, এটা আমি বলতে পারব না। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। তবে এবার নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে বলে আমার মনে হয়।’
নির্বাচনের পরিবেশ নাজুক কি না, সে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আপনাদের আগেই বলেছি যে কোনো নির্বাচনই সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হয় না। আমি আজকে সকালে ১৯৯১ সালের নির্বাচন দেখে...। আমি ভেবেছিলাম ১৯৯১ সালের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল। আসলে কিছু অস্থিরতা আছে। কিছু অস্থিরতা থাকবে। এটাকে একেকজন একেকভাবে দেখবে। সেটাকে আমাদের বিবেচনায় নিলে চলবে না। আমরা আমাদের মতো করে যেভাবে এগোচ্ছি নির্বাচনের দিকে। নির্বাচন হবে।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও তাঁর স্ত্রীর কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমি এবং আমার স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করিনি। যথারীতি তা বহাল আছে। এটা খুব অস্বাভাবিক যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা মন্ত্রী তাঁর মেয়াদ থাকাকালে পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। এটা খুবই একটা অস্বাভাবিক ঘটনা। মন্ত্রীরা কেউ কেউ করেছেন। এরপর তাঁদের বাইরে যাওয়ার বিষয় আছে। এখন তাঁরা পাসপোর্ট দিয়ে দিলেন, যাতে তাঁদের ভিসা নিতে সহজ হয়।’
নির্বাচনে বিদেশিদের হস্তক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি দেশেরই ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কিছু ট্র্যাডিশন দাঁড়িয়ে যায়। ভারতে যেমন একধরনের ট্র্যাডিশন দাঁড়িয়ে গেছে। এখানেও এমন আছে। এটা কালচারের অংশ হয়ে গেছে যে এখানে যাঁরা কূটনৈতিক কমিউনিটি আছেন, তাঁরা এটা নিয়ে কথাবার্তা বলেন। এখানকার সমাজেরও একটি বড় অংশ চায় যে তাঁরা (কূটনীতিক) কথা বলুক। কাজেই তিনি তাঁদের (কূটনীতিক) দোষ দিতে পারেন না। এটা সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।
নির্বাচন সামনে রেখে বিদেশিদের উদ্বেগ দূর করার বিষয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘...সমাধানের চেষ্টা করছি। যতটুকু সম্ভব, তা নিরসনের চেষ্টা করে যাব।’
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, নিরাপদ নির্বাচনের স্বার্থে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা খুবই জরুরি। বিশেষ করে ডিজিটাল পরিসরে নারী প্রার্থী ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় জোর দেন তিনি।
সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান, ডিকাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা ইমরুল কায়েস।
![]() |
| পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। আজ রোববার ঢাকায় এক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে। ছবি: প্রথম আলো |
নির্বাচনের মাঠ: সংস্কারের পক্ষে–বিপক্ষে ও দোষারোপের রাজনীতি by শাহাদাৎ স্বাধীন
মানুষ আর গুম হবে না, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বেড়াজালে সাংবাদিক ও অ্যাকটিভিস্টদের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে না, সাংবাদিকদের তুলে নেওয়া হবে না, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে দখলবাজি বন্ধ হবে, আন্দোলনে গুলি চলবে না—এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
এই প্রত্যাশাকে আরও বেগবান করেছে জুলাই সনদ। জুলাই সনদে রাষ্ট্র সংস্কারের একটি বিস্তৃত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দলগুলো এই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। কোন সংস্কার প্রয়োজন, কোন বিষয়ে ভিন্নভাবে ভাবা যেতে পারে—এসব প্রশ্নে দিনের পর দিন মতবিনিময় হয়েছে। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একটি ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা হয়েছে।
জুলাই সনদ এখন গণভোটের মুখোমুখি; অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে জুলাই সনদের একটি সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি তৈরি হবে। মোটাদাগে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রায় সব রাজনৈতিক দলই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে; একমাত্র জাতীয় পার্টি ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
কিন্তু বিস্ময়করভাবে, একটি প্রায় মীমাংসিত বিষয়কেই এখন ভোটের মাঠে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আঘাত করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রচার করা হচ্ছে, “বিএনপি আসলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে নয়”, “বিএনপি সংস্কারবিরোধী”। বাস্তবে এটি সংস্কার বিতর্ক নয়; এটি প্রোপাগান্ডা ও ন্যারেটিভ পলিটিকস।
রাজনীতির ভাষায়, ন্যারেটিভ পলিটিকস বা বয়াননির্ভর রাজনীতি হলো এমন একটি কৌশল, যেখানে বাস্তবতার নির্বাচিত অংশ, অতিরঞ্জন এবং কখনো সরাসরি মিথ্যার সমন্বয়ে একটি গল্প তৈরি করা হয়। এরপর সেই গল্পকে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক ভাষণের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রচার করা হয়, যেন সেটিই সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় সত্যের চেয়ে ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাস্তবতা নয়; বরং কার গল্প বেশি গ্রহণযোগ্য, রাজনীতি তখন সেই লড়াইয়ে পরিণত হয়।
বিএনপিকে ‘সংস্কারবিরোধী’ বলে রাজনৈতিক অপপ্রচার চালানো হলেও রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রশ্নে প্রথম দিককার উদ্যোগগুলোর একটি নিয়েছিল বিএনপি। জুলাই সনদের অনেক প্রস্তাবে দলটির দ্বিমত থাকলেও, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে বিএনপি তা মেনে নিয়ে রাজনৈতিক উদারতার পরিচয় দিয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হলো প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা।
বিএনপির ৩১ দফায় বলা হয়েছিল, পরপর দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না; তবে এক টার্ম বিরতি দিয়ে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়া যাবে। ফলে যখন জুলাই সনদে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সরাসরি ১০ বছরে সীমিত করার প্রস্তাব আসে, তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বিএনপি তা মানবে না। কারণ, আওয়ামী লীগের পতনের পর রাজনৈতিক মাঠ অনেকটাই বিএনপির জন্য উন্মুক্ত। দলটি বর্তমানে জনপ্রিয় এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বয়স প্রায় ৬০ বছর। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলে আরও অন্তত ২০ বছর নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তাঁর রয়েছে, এমন ধারণাও প্রচলিত।
তবু অনুকূল রাজনৈতিক বাস্তবতায় থেকেও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরে সীমিত করার প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক উদারতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
এ ছাড়া কিছু বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকা সত্ত্বেও বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জুলাই সনদবিষয়ক গণভোটের চারটি ধারার মধ্যে দুটিতে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট উপেক্ষিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উচ্চকক্ষে পিআর বা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি। গণভোটের দ্বিতীয় ধারায় বলা হয়েছে, উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা হবে এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগসংক্রান্ত প্রস্তাবেও বিএনপির আপত্তি ছিল। এই বিষয়গুলো আলাদাভাবে গণভোটের ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এত বড় আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এরপরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বাস্তবতা হলো, জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে আগামী সংসদ গঠিত হবে। সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। যেসব সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, সেসব ক্ষেত্রেও দলটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রয়েছে।
বিএনপির সংস্কার ভাবনা নতুন নয়। ২০১৬ সাল থেকেই দলটি রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলে আসছে। বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকতেই ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে এই ভিশনের বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করা হয়।
এই ভিশনের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে একটি ‘রেইনবো নেশন’ হিসেবে গড়ে তোলা যেখানে ভিন্নমত, ভিন্ন বিশ্বাস ও ভিন্ন মতাদর্শের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে এবং একটি বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকশিত হবে।
বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, বিএনপি তিনটি ‘জি’র—ভালো রাজনীতি, ভালো শাসনব্যবস্থা ও ভালো সরকার—সমন্বয় ঘটাতে চায়। তিনি মনে করতেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত নির্বাহী ক্ষমতা স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা তৈরি করে। তাই সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার কথা তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন।
ভিশন ২০৩০–এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু করা, যেখানে উচ্চকক্ষে অভিজ্ঞ পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা থাকবেন। একই সঙ্গে প্রতিহিংসা ও সংঘাতের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে ইতিবাচক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারও করা হয়।
২০১৬ সালের ভিশন ২০৩০ পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখায় রূপ নেয়। সেখানে সরকারপ্রধান ও মন্ত্রিসভার নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনার কথা বলা হয়। নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার সুসমন্বয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না হওয়া, উচ্চকক্ষ চালু করা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, জুডিশিয়াল কমিশন, মিডিয়া কমিশন, অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীকে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার অঙ্গীকার—সবই সেখানে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ফলে জুলাই সনদে আলোচিত বহু সংস্কারের ধারণা বিএনপি এক দশক আগেই প্রকাশ করেছিল। আজকের জুলাই সনদের যে আকাঙ্ক্ষা, তার বীজ বপন হয়েছিল ২০১৬ সালেই। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা রাজনৈতিক বাস্তবতার বিকৃতি এবং জাতীয় সংহতির জন্য একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত।
বাংলাদেশ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অচলাবস্থা, দমন-পীড়ন ও আস্থাহীনতার পর রাষ্ট্রসংস্কার এবং গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কেবল একটি দল বা জোটের বিষয় নয়, এটি সমগ্র জাতির ভবিষ্যৎ পথনির্দেশের প্রশ্ন।
এই প্রক্রিয়ায় মতপার্থক্য স্বাভাবিক; ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে, থাকবে দ্বিমতও। কিন্তু সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে যদি দোষারোপ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা ও বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভে পরিণত করা হয়, তাহলে সেই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যই ক্ষুণ্ন হয়।
রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাবের ঊর্ধ্বে উঠে যদি সংস্কারকে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন হিসেবে দেখা যায়, তবেই গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও আইনের শাসনের প্রত্যাশা বাস্তব রূপ পেতে পারে। অন্যথায় সংস্কার নিজেই আরেকটি বিভাজনের রাজনীতির শিকার হয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।
* শাহাদাৎ স্বাধীন, কলামিস্ট ও গবেষক। দ্য ডিপ্লোমেট, ইন্ডিয়া আউটলুকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশ ইস্যুতে লেখেন।
- মতামত লেখকের নিজস্ব

BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1782)
-
▼
August
(329)
-
▼
Aug 30
(14)
- লেবাননে সমৃদ্ধ ইতিহাসের নতুন তথ্য, মিলছে হাজার বছর...
- আরব বিশ্বে বাড়ছে খাদ্য ও পানির সংকট, মরুকরণে ব্যাহ...
- তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে চাপে নেতানিয়াহু
- ইরান যুদ্ধে অস্ত্রের মজুত ‘সংকটজনক’, চীন-রাশিয়া মো...
- নিষেধাজ্ঞায় কি নত হবে ইরান, ট্রাম্পের সামনে বড় প্রশ্ন
- ব্যাগে ছয় দেশের পাসপোর্ট, বেনজীর এখন সেন্ট লুসিয়ায়...
- ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ এখন রড-সিমেন্টের কারবারি by নাজমু...
- ইরানের হুমকি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরলেন নে...
- পশ্চিম তীরের গ্রামের একমাত্র প্রবেশপথ বন্ধ করে দিল...
- ইরান যুদ্ধ ও বাণিজ্য উত্তেজনা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে...
- কেন লোকচক্ষুর আড়ালে ব্যারন ট্রাম্প
- ক্যানসারের চিকিৎসার মধ্যেই সিনেমার কাজ, কঠিন লড়াইয়...
- কিয়েভের কাছে গোলাবারুদের গুদামে রাশিয়ার হামলা, নিহ...
- কলকাতার মুসলিম কলোনিতে এক মাস ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ...
-
▼
Aug 30
(14)
-
▼
August
(329)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...







