Wednesday, June 24, 2026
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে যেসব পানীয়
তবে পুষ্টিবিদদের মতে, গ্রিন টি ছাড়াও এমন কিছু ঘরোয়া পানীয় রয়েছে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে দারুণ কাজ করে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি এই পানীয়গুলো খেলে হৃদ্যন্ত্র বা হার্ট ভালো থাকে। চলুন, জেনে নিই পানীয়গুলো কী কী।
তবে মনে রাখা জরুরি, কোনো পানীয়ই উচ্চ রক্তচাপের মূল ওষুধের বিকল্প নয়।
উচ্চ রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়, কারণ দীর্ঘ সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি শরীরের বড় ক্ষতি করে দেয়। তাই ওষুধের পাশাপাশি এগুলোকে স্বাস্থ্যকর জীবনের অংশ করে নেওয়া যেতে পারে।
জবা ফুলের চা (হিবিস্কাস টি)
যাদের ক্যাফেইনে সমস্যা আছে, তারা গ্রিন টি-র বদলে জবা ফুলের চা বেছে নিতে পারেন। এই চা ঠাণ্ডা বা গরম— দুইভাবেই খাওয়া যায়।
জবা ফুলে থাকা ‘পলিফেনল’ রক্তনালিগুলোকে শিথিল করে দেয়, ফলে রক্ত চলাচল সহজ হয়। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ভিটামিন সি-তে ভরপুর এই চা রক্তচাপের পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম ভালো করে এবং ওজন কমাতেও সাহায্য করে।
বেদানার রস
বেদানা কেবল সুস্বাদু ফলই নয়, এটি হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে, যা শরীরের প্রদাহ (ইনফ্লেমেশন) কমাতে সাহায্য করে। বেদানার রস রক্তনালি সচল রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
তবে বাজার থেকে কেনা চিনিযুক্ত জুস না খেয়ে, বাড়িতে তৈরি করা খাঁটি বেদানার রস খাওয়া বেশি কার্যকরী।
বিটের রস
বিট হলো ‘ডায়েটারি নাইট্রেট’-এর একটি দুর্দান্ত উৎস। এই রস শরীরে যাওয়ার পর নাইট্রেট উপাদানটি ‘নাইট্রিক অক্সাইড’-এ পরিণত হয়। এটি রক্তনালিকে প্রসারিত ও শিথিল করে দেয়, যার ফলে রক্তচাপ দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এই রস যেমন উপকারি, তেমনই এটি শারীরিক কর্মক্ষমতা ও শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেবল পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত প্রেশার মাপা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সুষম জীবনযাপন করা জরুরি।
সূত্র : আনন্দবাজার

চুলের যত্নে নারকেল তেলের সঙ্গে মেশাতে পারেন যে ৫ উপাদান
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারকেল তেলে থাকা লরিক অ্যাসিড চুলের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, যা চুলের প্রোটিন ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। ফলে চুল থাকে আরো স্বাস্থ্যকর, মজবুত এবং প্রাণবন্ত। তবে নারকেল তেলের সঙ্গে কিছু উপকারী উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার করলে এর উপকারিতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। জেনে নিন এমন ৫টি কার্যকর সংমিশ্রণের কথা।
নারকেল তেল ও মেথি
মেথি বীজে রয়েছে প্রোটিন, আয়রন, ফ্ল্যাভোনয়েড ও নিকোটিনিক অ্যাসিডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। এছাড়া মেথিতে থাকা লেসিথিন মাথার ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং শুষ্কতা কমায়।
ব্যবহার পদ্ধতি
২ টেবিল চামচ মেথি সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে পেস্ট তৈরি করে নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বক ও চুলে লাগান।
নারকেল তেল ও ভৃঙ্গরাজ
আয়ুর্বেদে ভৃঙ্গরাজকে ‘ভেষজের রাজা’ বলা হয়। এটি চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে এবং অকালেই চুল পেকে যাওয়া প্রতিরোধে সহায়ক বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে।
ব্যবহার পদ্ধতি
আধা কাপ নারকেল তেলের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ শুকনো ভৃঙ্গরাজ গুঁড়ো মিশিয়ে ১৫ মিনিট হালকা আঁচে গরম করুন। ঠান্ডা হলে ছেঁকে কাচের বোতলে সংরক্ষণ করুন এবং নিয়মিত ব্যবহার করুন।
নারকেল তেল ও কালোজিরা
কালোজিরায় থাকা থাইমোকুইনোন শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক উপাদান হিসেবে পরিচিত।
এটি মাথার ত্বকের প্রদাহ ও জ্বালাভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি চুলের গোড়াকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও সুরক্ষা দেয় বলে মনে করা হয়।
ব্যবহার পদ্ধতি
গুঁড়ো করা কালোজিরা নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে কয়েক ঘণ্টা রেখে ব্যবহার করতে পারেন।
নারকেল তেল ও লবঙ্গ
চুলের যত্নে লবঙ্গের ব্যবহার খুব বেশি পরিচিত না হলেও এটি বেশ উপকারী হতে পারে। লবঙ্গে থাকা ইউজেনল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণে সমৃদ্ধ, যা মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি রক্তসঞ্চালন বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্যবহার পদ্ধতি
৪ থেকে ৫টি লবঙ্গ নারকেল তেলে হালকা গরম করুন। ঠান্ডা হলে সেই তেল মাথার ত্বকে মালিশ করুন।
নারকেল তেল ও রোজমেরি অয়েল
বর্তমানে চুলের বৃদ্ধির জন্য রোজমেরি অয়েল বেশ জনপ্রিয় একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এটি মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে এবং প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
ব্যবহার পদ্ধতি
২ টেবিল চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে ৫ ফোঁটা রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন। সারা রাত রেখে পরদিন শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
যদিও এসব প্রাকৃতিক উপাদান চুলের যত্নে সহায়ক হতে পারে, তবে সবার ত্বক ও চুলের ধরন এক নয়। তাই নতুন কোনো উপাদান ব্যবহার করার আগে অল্প পরিমাণে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। কোনো ধরনের অ্যালার্জি বা সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নিতে চাইলে নারকেল তেলের সঙ্গে এই উপাদানগুলোর সংমিশ্রণ হতে পারে একটি সহজ ও কার্যকর সমাধান।
সূত্র : এই সময়

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারী হতে পারে যে ফল
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় একে অনেকেই ‘সুপারফুড’ বলে থাকেন। সম্প্রতি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অ্যাভোকাডোর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা বেড়েছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, অ্যাভোকাডোতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (গুড ফ্যাট) । অন্যান্য অনেক ফলের তুলনায় এতে কার্বোহাইড্রেট কম এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বেশি থাকে, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য অ্যাভোকাডো উপকারী হতে পারে কারণ এর উচ্চ ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রক্তে শর্করার দ্রুত ওঠানামা কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাভোকাডো সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস খাদ্যের গ্লাইসেমিক লোড কমাতে সহায়তা করতে পারে।
সকালের নাস্তায় ব্রাউন ব্রেডের সঙ্গে অ্যাভোকাডোর শাঁস মেখে খাওয়া যেতে পারে।
সিদ্ধ ডিমের সঙ্গে খেলে তা আরো পুষ্টিকর হতে পারে। ফাইবারের উপস্থিতির কারণে এটি দীর্ঘ সময় তৃপ্তি দেয় এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়। তবে চিকিৎসকদের মতে, অ্যাভোকাডো কোনোভাবেই ডায়াবেটিসের ওষুধ নয়। এটি কেবল স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাভোকাডো উপকারী হলেও আপেল, পেয়ারা বা অন্যান্য পুষ্টিকর ফলের বিকল্প হিসেবে নয়; বরং সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবেই এটি খাওয়া উচিত।
সূত্র : আনন্দবাজার

Wednesday, March 23, 2022
তাকদিরে বিশ্বাস কী ও কেন by মুফতি মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

তাকদির কি পরিবর্তিত হয়?
তাকদির বা ভাগ্যলিপি দুই প্রকার; যথা—১. তাকদিরে মুবরাম (অপরিবর্তনীয় ভাগ্যলিপি) ও ২. তাকদিরে মুআল্লাক (ঝুলন্ত ভাগ্যলিপি)। তাকদিরে মুবরাম কখনোই পরিবর্তিত হয় না। আর তাকদিরে মুআল্লাক বান্দার নেক আমল, দোয়া ইত্যাদির মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়। হজরত সালমান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, দোয়া আল্লাহর ফয়সালাকে পরিবর্তন করাতে পারে। আর নেক আমল বয়সকে বৃদ্ধি করাতে পারে।’ (তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ২১৩৯)
তাকদির কি মানুষের কাজের কারণ ও উপকরণ?
তাকদির মানুষের কাজের কারণ নয় এবং তাকদির লিপিবদ্ধ আছে বলে মানুষ ভালো-মন্দ ইত্যাদি কাজ করছে—বিষয়টি এমন নয়; বরং ভবিষ্যতে মানুষ যা করবে, আল্লাহ তাআলা তা আগে থেকেই জানেন, ফলে তিনি তা আদিতেই লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা আদিতে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন বলে মানুষ লেখা অনুযায়ী কর্ম করছে—এ কথা মোটেও ঠিক নয়। বরং আমরা কখন কী করব, কী খাব, কোথায় কী ঘটবে—এগুলো আল্লাহ তাআলা পূর্ব থেকে জানেন। কারণ তিনি ইলমে গায়েবের অধিকারী। তাঁর পূর্বজ্ঞান অনুযায়ী তা লিখে রেখেছেন। উদাহরণস্বরূপ—
১. একজন শিক্ষক পাঁচজন ছাত্রকে শিক্ষাদানের পর তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি যদি তাঁর ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেন যে অমুক ছাত্র ‘এ প্লাস’ পাবে, অমুক ছাত্র ‘এ’ পাবে, অমুক ছাত্র ‘এ মাইনাস’ পাবে, অমুক ছাত্র ‘বি’, অমুক ছাত্র ‘সি’ পাবে। এখন পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর যদি শিক্ষকের আগের লেখা অনুযায়ী ফলাফল হয়, তাহলে কি শিক্ষকের লেখার কারণে এই ফলাফল হলো? অবশ্যই না। তাকদিরের বিষয়টিও এমনই।
২. একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তাঁর রোগীর অবস্থা বুঝে অভিজ্ঞতার আলোকে তাঁর ডায়েরিতে লিখে রেখেছেন যে এই রোগী অমুক দিন, অমুক অবস্থায় মারা যাবে। কার্যত যদি তা-ই হয়, তাহলে ডাক্তারের লিখে রাখার কারণেই কি তার মৃত্যু হলো? নিশ্চয়ই না। ঠিক তেমনই আল্লাহ তাআলা মানুষের অবস্থা আদি থেকেই জানেন বলে সব কিছু লিখে রেখেছেন। কিন্তু এই লিপিবদ্ধকরণ মানুষের কার্যের কারণ নয়। বরং কার্যের কারণ হলো তার ইচ্ছা। ফলে ব্যক্তির কজের জন্য সে নিজেই দায়ী।
তাকদিরের প্রতি ঈমানের স্বরূপ
তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস করা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাকদিরের ওপর সন্তুষ্ট থাকা ফরজ। তাকদিরে বিশ্বাসের অর্থ হলো—
১. আল্লাহর ব্যাপারে এই বিশ্বাস রাখা যে তিনি আদি থেকে সব কিছুর ব্যাপারে ওয়াকিফহাল।
২. তিনি লাওহে মাহফুজে (সংরক্ষিত ফলকে) সব কিছু লিখে রেখেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিকুল সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে সৃষ্টিকুলের তাকদির লিখে রেখেছেন।’ (মুসলিম) তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা প্রথমে কলম সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর কলমকে বললেন—লেখো। কলম বলল, হে রব! কী লিখব? তিনি বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক জিনিসের তাকদির লেখো।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭০০) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তুমি কি জানো না যে নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে আল্লাহ সব কিছু জানেন। নিশ্চয়ই এসব কিতাবে লেখা আছে। অবশ্যই এটা আল্লাহর কাছে সহজ।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৭০)
৩. আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে কোনো কিছু ঘটে না। তাঁর বাণী হলো, ‘আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা করেন এবং (যা ইচ্ছা) মনোনীত করেন।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৬৮)
৪. সব কিছুর সত্তা, বৈশিষ্ট্য, গতি, স্থিতি—সবই আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সব কিছুর তত্ত্বাবধায়ক।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৬২) কোরআনের অন্য আয়াতে এসেছে, ‘তিনি (আল্লাহ) সব কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেককে যথোচিত আকৃতি দান করেছেন।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ২)
আরো ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে, তা-ই তার জন্য এবং সে যা কামাই করে তা তারই ওপর বর্তাবে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৮৬)
আলী (রা.) থেকে আরো বর্ণিত আছে, মহানবী (সা.) বলেন, কোনো বান্দাই মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না চারটি বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে। তা হলো—১. এ সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং আমি তাঁর প্রেরিত রাসুল। ২. মৃত্যুতে বিশ্বাস করা, ৩. মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাস করা, ৪. তাকদিরে বিশ্বাস করা। (বায়হাকি)
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী হওয়া তাকদিরের বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে যে ব্যক্তি ঈমান আনে, কিন্তু তাকদিরে অবিশ্বাস করল, সে প্রকৃতপক্ষে একত্ববাদকেই অস্বীকার করল। (সূত্র : তাবলিগে দ্বিন, ইমাম গাজালি (রহ.)
তাকদিরে অবিশ্বাসীদের রাসুলুল্লাহ (সা.) লানত করেছেন। রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যদি কেউ আমার নির্ধারিত তাকদিরের ওপর সন্তুষ্ট না থাকে এবং বিপদাপদে ধৈর্যধারণ না করে, তাহলে সে যেন আমি ছাড়া অন্য কাউকে রব বানিয়ে নিল। (বায়হাকি)
তাকদির প্রসঙ্গে বিতর্কের বিধান
হাদিস শরিফে তাকদির প্রসঙ্গে বিতর্ক করতে বারণ করা হয়েছে। যেমন—হজরত ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকা তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি একদা হজরত আয়েশা (রা.)-এর দরবারে যান। তিনি তাঁকে তাকদির প্রসঙ্গে কিছু জিজ্ঞাসা করেন, তখন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তাকদিরের বিষয়ে কথা বলে, কিয়ামতের ময়দানে এ কারণে সে জিজ্ঞাসিত হবে। আর যে এ বিষয়ে আলোচনা করবে না, তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে না। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৪)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুল (সা.) আমাদের কাছে এলেন, আমরা তখন তাকদির প্রসঙ্গে আলোচনা করছিলাম। তখন রাসুল (সা.) প্রচণ্ড রেগে গেলেন। রাগে তাঁর চেহারা আনারের মতো রক্তিম বর্ণ হয়ে গেল। তিনি বলেন, তোমরা কি এসব করতে আদিষ্ট হয়েছ? নাকি আমি এসবের জন্য প্রেরিত হয়েছি? এর আগের লোকজন এ বিষয়ে আলোচনা করে ধ্বংস হয়েছে, আমি তোমাদের দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, তোমরা এ বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়ো না। (তিরমিজি, হাদিস : ২১৩৩)
তাকদিরের সঙ্গে তদবিরের সম্পর্ক
কাজ সম্পাদন করার জন্য উপায়-উপকরণের সহযোগিতা নেওয়াকে তদবির বলে। তাকদিরের সঙ্গে তদবিরের কোনো সংঘাত নেই। কেননা তাকদিরের ওপর ঈমান আনার সঙ্গে কাজের ওপর তদবির করার কথাও লিখিত আছে। হাদিস শরিফে রয়েছে, জনৈক সাহাবি আরজ করেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা যে ঝাড়ফুঁক করে থাকি, চিকিৎসায় ওষুধ ব্যবহার করে থাকি কিংবা আত্মরক্ষার জন্য যেসব উপায় অবলম্বন করে থাকি, তা কি তাকদিরের কোনো কিছুকে পরিবর্তন করতে পারে? প্রত্যুত্তরে রাসুল (সা.) বলেন, তোমাদের এসব চেষ্টাও তাকদিরের অন্তর্ভুক্ত। (বায়হাকি)
শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি (রহ.) বলেন, তাকদির ও তদবিরের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। কেননা তদবির তাকদিরের আওতাধীন। এর প্রমাণ হলো, ইয়াকুব (আ.) স্বীয় পুত্রদের মিসর পাঠানোর প্রাক্কালে অসিয়ত করেন, ‘হে আমার পুত্ররা! তোমরা এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। বরং ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে...।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৬৭) এটি ছিল তদবির। পরে তাকদির প্রসঙ্গে বলেন, ‘...আল্লাহর বিধানের বাইরে আমি তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারব না। বিধান আল্লাহরই।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৬৭)
ইয়াকুব (আ.) তাকদির ও তদবিরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন। আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল (সা.) মানুষকে কাজ করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন, তাকদিরের ওপর ভরসা করে বসে থাকতে নিষেধ করেছেন।
>>>লেখক : প্রধান ফকিহ, আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসা, ফেনী
Friday, May 28, 2021
চীনা পর্যটক মা হার চোখে: পনেরো শতকের মক্কা-মদিনা by সৈয়দ আশফাক হাসান

অ্যাডমিরাল জ্যা হা চীন থেকে শুরু করে ইন্দো-মালয় দ্বীপপুঞ্জ, ভারত মহাসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর হয়ে আফ্রিকার পূর্ব উপকূল পর্যন্ত ভ্রমণ করেন। ৩০ বছরে তিনি সর্বমোট এক লাখ ৬০ হাজার নটিক্যাল মাইল (প্রায় তিন লাখ কিলোমিটার) পথ পাড়ি দেন। ৫০টিরও বেশি বন্দরে তিনি যাত্রাবিরতি দেন। এই যাত্রায় জ্যাং হা ৪১টিরও বেশি ‘আন্তর্জাতিক নৌপথ’ আবিষ্কার করেন।
অ্যাডমিরাল জ্যাং হা কে ছিলেন?
মূল নাম ‘মা হা’ বা ‘মা সান পাও’। ১৩৭১ খ্রিস্টাব্দে চীনের হুই মুসলিম বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষরা চীনের পশ্চিমাংশ (সম্ভবত মোঙ্গল) থেকে ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে এসে বসবাস শুরু করেন। ধারণা করা হয়, তিনি ইউয়ান সাম্রাজ্যের জিয়ান ইয়াংয়ের প্রভাবশালী রাজপুত্র জায়েদুদ্দিন শাহ শামসুদ্দিনের উত্তরসূরি ছিলেন। তাঁর পরিবার ছিল ধর্মপরায়ণ। তাঁর প্রপিতা, দাদা ও বাবা সবাই ছিলেন হাজি।
মা হা ছিলেন যুবরাজ ইয়ানের একনিষ্ঠ ভক্ত, যিনি পরবর্তী সময়ে সম্রাট ইয়াংল নামেই পরিচিত হন। মা হাকেও তিনি অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং আস্থাশীল মনে করতেন। আস্থার প্রতিদান হিসেবে প্রথমে সেনানায়ক এবং পরবর্তী সময়ে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। মা হা সেনাধিনায়ক হিসেবে একাধিক যুদ্ধে অংশ নেন এবং সব যুদ্ধে জয় লাভ করেন। বীরত্ব ও সাহসিকতার জন্য সম্রাট ইয়াংল ও তাঁর পরবর্তী আরো দুই সম্রাটের প্রিয়ভাজন ছিলেন। বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে সম্রাট ইয়াংল তাঁকে ‘জ্যাং হা’ নামে ভূষিত করেন।
জ্যাং হার বিবরণে পবিত্র মক্কা নগরী
মা হুয়ানের বিবরণীতে অ্যাডমিরাল জ্যাং হার অভিযানের পথপ্রণালি ও এলাকাভিত্তিক বিবরণ পাওয়া যায়। সেই বিবরণে পবিত্র মক্কা নগরীর চিত্রও উঠে এসেছে। তিনি লেখেন, এই দেশটি হলো সেই দেশ, যেখানে ‘স্বর্গের বর্গক্ষেত্র’ বা ‘ম-খেই-খ্যা’ (চৈনিক উচ্চারণ অনুসারে) রয়েছে। কু-লি (কালিকাট, কেরালা) থেকে যদি তুমি পশ্চিম দিকে ২৪০ ডিগ্রি বরাবর যাত্রা শুরু করো, তবে তিনটি চাঁদের সময়কাল পর তাদের শহরের জেটিতে (সম্ভবত এডেন) পৌঁছানো যায়। এর বৈদেশিক নাম ‘চিহতা’। চিহতা থেকে আরো পশ্চিম-উত্তরে এক দিনের পথ পেরোলে এমন শহর পাওয়া যায়, যেখানে এদের রাজা থাকেন। এর নামই ম-খেই-খ্যার রাজধানী (সম্ভবত তিনি জেদ্দা শহর বোঝাতে চেয়েছেন)।
এরা মুসলিম ধর্মের অনুসারী। এখানেই প্রথম একজন ‘মানুষ’ আসেন, যিনি একটি মতবাদ প্রবর্তন করেন, যা এখন পর্যন্ত তাঁরা একে নিখুঁতভাবে পালন করেন। এখানকার লোকেরা বেশ সুদর্শন ও সাহসী। তাঁদের গায়ের রং গাঢ়, অনেকটা বেগুনি! (সম্ভবত রোদে বা গরমে পুড়ে যাওয়ায় চামড়ার রং অতি বাদামি দেখিয়ে থাকবে)। এরা মাথায় কাপড় বাঁধেন এবং অনেক লম্বা জামা পরেন। পায়ে চামড়ার জুতা পরেন। মহিলারা পুরো মাথা ঢেকে রাখেন। তাঁদের চেহারাও দেখা যায় না। তাঁরা আল-লা-ফি (আরবি) ভাষায় কথা বলেন। এ দেশে মদ নিষিদ্ধ। এদের পোশাক ও আচরণ সুন্দর, শান্ত ও প্রশংসনীয়। এখানে কোনো দুস্থ বা গরিব পরিবার নেই। এরা সবাই তাঁদের ধর্মীয় নিয়ম মেনে চলেন আর নিয়ম ভঙ্গ করেন এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম। সত্যি বলতে, সবচেয়ে ‘সুখী মানুষদের’ দেশ এটি। বিয়ে ও মরদেহ সৎকারে এঁরা ধর্মীয় প্রথা অনুসরণ করেন।
যেমন দেখেছিলেন কাবা
এখান থেকে অর্ধদিনের বেশি যাত্রা করলে একটি ‘উন্মুক্ত’ জায়গায় পৌঁছানো যায়, যাকে এরা কাই-পাই (কাবা) বলে ডাকে। এর চারপাশ দেয়ালঘেরা। এই দেয়ালে ৪৬৬টি দরজা আছে। দরজার দুই পাশের থামগুলো সাদা জেড পাথরের। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৬৭টি খিলান রয়েছে। সামনে ৯৯টি, পেছনে ১০১টি, বাঁয়ে ১৩২টি এবং ডানে ১৩৫টি। উন্মুক্ত জায়গায় রয়েছে একটি ঘর, যা পাঁচ রঙের পাথর দিয়ে তৈরি। দেখতে বর্গাকার এবং ওপরের দিক সমতল। ভেতরে পাঁচটি আড়াআড়ি স্তম্ভ রয়েছে, যা সুগন্ধিযুক্ত। আর আছে স্বর্ণ নির্মিত তাক। এর সাজসজ্জাও বেশ সুন্দর। দেয়ালগুলো কাদা দিয়ে লেপন করা। তবে তার সঙ্গে সুগন্ধি মিশ্রণ রয়েছে, যা জায়গাটিকে ঘ্রাণে আবেশিত করে রাখে।
ঘরটি শণ-রেশমের তৈরি কাপড় দিয়ে আচ্ছাদিত। প্রতিবছর ১২তম চাঁদের দশম দিনে বিভিন্ন জায়গা (বিভিন্ন দেশ) থেকে মুসলিমরা এখানে আসেন। তাঁদের অনেককেই এক-দুই বছরের দূরের যাত্রা পথ পেরোতে হয়। অনেকেই এখান থেকে ফিরে যাওয়ার সময় গিলাফের কাপড়ের অংশ ‘ছিঁড়ে’ নিয়ে যায়। যখন ‘ছেঁড়া’ শেষ হয়, রাজা তখন আরেকটি নতুন গিলাফ দিয়ে তা ঢেকে দেন। এমনটাই হয়ে আসছে বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ। এর বাঁ পাশে সু-মা-ই (ইসমাঈল আ.), একজন পবিত্র মানুষের কবর। কবরের দেয়াল সবুজ-পাথরের তৈরি। এটির দৈর্ঘ্য ১২ ফুট, উচ্চতা প্রায় পাঁচ ফুট ও প্রস্থ তিন ফুট। যে দেয়াল কবর ঘিরে রেখেছে তা বেগুনি রঙের টোপাজ দ্বারা সজ্জিত।
মক্কার আবহাওয়া ও কৃষিব্যবস্থার বর্ণনা
আবহাওয়ার বর্ণনা এভাবে দিয়েছেন যে বছরের বেশির ভাগ সময় এখানে বেশ গরম। এখানে কোনো বৃষ্টি, বজ্রপাত, বরফ বা ঠাণ্ডা নেই। রাতে যে শিশির পড়ে তা বেশ ভারী। এখানকার ফল-ফসলাদি এই শিশিরের ওপর নির্ভরশীল। যদি রাতে একটি খালি পাত্র বাইরে রাখা হয়, তবে সূর্যোদয় পর্যন্ত এতে প্রায় চার ইঞ্চি পরিমাণ পানি জমা হয়।
এখানে চাল ও শস্য খুবই অপ্রতুল। যা-ও অল্প কিছু হয় তার মধ্যে রয়েছে আকাড়া চাল, গম, কালো বাজড়া, লাউ আর কিছু সবজি। কিছু কিছু তরমুজ ও বাঙ্গি হয়। মাঝেমধ্যে একটি তরমুজ ওঠাতে দুজনের প্রয়োজন হয়। এখানে একপ্রকার গাছ হয়, দেখতে অনেকটা তুতগাছের মতো, যাতে পেঁচালো ফুল ফোটে। বছরে দুবার ফোটে। ফলের ভেতর শালগম, পার্সিয়ান খেজুর, ডালিম, আপেল আর পিচ ফল পাওয়া যায়, যার ওজন চার থেকে পাঁচ পাউন্ড পর্যন্ত হয়।
গবাদি পশুর ভেতরে উট, ঘোড়া, গাধা, খচ্চর, ষাঁড়, ছাগল, বিড়াল, কুকুর, হাঁস, কবুতরসহ নানা জাতের পাখির দেখা পাওয়া যায়। কিছু পাখি আর হাঁস ওজনে প্রায় ১৪-১৫ পাউন্ড বা সাত-আট কেজি হয়।
এ দেশে সুগন্ধি পানি (সম্ভবত আতর) তৈরি হয়। পশুর ভেতরে জিরাফ, সিংহ, উট পাখি, অস্ট্রিচ, লিনাক্স দেখা যায়। মূল্যবান সম্পদের মাঝে নানা রকম দামি পাথর মণি-মুক্তা, আম্বর ও কোরাল পাওয়া যায়।
মদিনায়ও গিয়েছিলেন জ্যাং হা
মদিনার বর্ণনায় লেখা হয়েছে, ‘এ শহর থেকে পশ্চিমে আরো এক দিনের পথ এগোলে যে শহর পাওয়া যায় তার নাম ম-তি-না (মদিনা)। যেখানে পবিত্র পুরুষ ‘মা-হা-মা’ (মুহাম্মদ সা.)-এর কবর রয়েছে। এখানে একটি আলোক-নির্দেশক কবরের মাথার কাছ থেকে বের হয়ে সোজা আকাশের দিকে মেঘের ভেতরে ছুটে গেছে।
Monday, April 12, 2021
মাথা ব্যথায় কী করবেন

দুশ্চিন্তা (টেনশন) থেকে সৃষ্ট মাথা ব্যথা ও মাইগ্রেন প্রাথমিক পর্যায়ের বা সাধারণ মাত্রার মাথা ব্যথা। ৯০ শতাংশ মাথা ব্যথার কারণ হিসেবে কাজ করে দুশ্চিন্তা। মানসিক চাপ, চোখের অস্বস্তি, ঘুমের অভাব, ক্ষুধা, অস্বস্তিকর ঘুমের ভঙ্গি, ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় করা, পেশির খিঁচুনি, শিরায় রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, অতিমাত্রায় অ্যালকোহল ও ধূমপান, পানিশূন্যতা, জেনেটিক অবস্থা ইত্যাদি কারণেও এ মাথা ব্যথা হয়। মাইগ্রেন অন্য মাথা ব্যথার চেয়ে মারাত্মক ও তীব্র। ক্রনিক নিউরোলজিক্যাল ডিস-অর্ডার এবং আলোয় সংবেদনশীলতা, বমি ভাব ও অবসাদগ্রস্ততা মাইগ্রেনের ব্যথার সঙ্গে দেখা দেয়।
দ্বিতীয় পর্যায়ের মাথা ব্যথার উৎস হিসেবে গলার পেছন দিকটা, মাথা ও মানসিক অবস্থার কথা বলা হয়। এটা প্রায়ই মারাত্মক মাথা ব্যথা হিসেবে দেখা দেয়। ক্ষেত্রবিশেষে তা প্রাণনাশীও হতে পারে। এ ব্যথা হঠাৎ কয়েক মিনিটের মধ্যে তীব্রতা পায় এবং দ্রুতই কমে যেতে পারে। অনেক সময় ঘুম থেকে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা নিয়ে জাগতে হয়। তখন দৃষ্টিশক্তি হয় অস্বাভাবিক। ঘাড় নড়ানো যায় না, ব্যথার সঙ্গে জ্বরও আসতে পারে। দ্বিতীয় পর্যায়ের মাথা ব্যথার কারণ হিসেবে বাড ক্লটস, মস্তিষ্কে টিউমার, অ্যানিউরিজমস (ধমনির দেয়ালের দুর্বলতার কারণে ধমনি স্ফীত হয়ে ওঠা), মিনিয়েচার স্ট্রোক এবং কার্বন মনোক্সাইড বা বিষাক্ত উপাদানের প্রভাবের কথা বলা হয়।
করণীয়
প্রাথমিক পর্যায়ের মাথা ব্যথার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা প্রচুর পানি পান এবং বাদাম, শাক, শিমের বিচি, ডার্ক চকোলেটের মতো ম্যাগনেসিয়ামপূর্ণ খাবার খেতে বলেন। পর্যাপ্ত ঘুমও মাথা ব্যথা থেকে বাঁচার উপায়। পনির, গাজন প্রক্রিয়ায় বানানো খাবার, অ্যালকোহল ইত্যাদিতে হিস্টামিন নামের উপাদান থাকে, যা মাথা ব্যথা সৃষ্টি করে। কাজেই যাদের মাথা ব্যথা হয় এবং যারা এ ধরনের খাবারে অভ্যস্ত তাদের সাবধান হতে হবে। সাধারণ মাথা ব্যথায় ক্যাফেইন গ্রহণ করা যেতে পারে। আর মাথা ব্যথা কমাতে অবশ্যই একটু খোলা বাতাসে হাঁটাহাঁটি করুন। কারো এসব উপায়ে ব্যথা না গেলে প্রচলিত ওষুধগুলো খাওয়া যেতে পারে।
দ্বিতীয় পর্যায়ের মাথা ব্যথা নিরাময়ে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ এ ব্যথা জটিল কোনো কারণে ঘটে থাকে।
অর্গানিক ফ্যাক্টস অবলম্বনে সাকিব সিকান্দার
Wednesday, July 15, 2020
ডেঙ্গু মায়োকার্ডিটিস রূপ নিলেই সর্বনাশ! ঝুঁকি কমাতে এই তথ্যগুলো জেনে রাখুন

এডিস ইজিপটি নামের মশার কামড়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু ভাইরাস মানব শরীরে প্রবেশ করে। এই মশা ভাইরাসবাহী কাউকে কামড়ানোর পর অন্য আরেকজনকে কামড়ালে সেই মানুষটি আক্রান্ত হয়। এডিস মশা স্থির পানিতে, যেমন—পরিত্যক্ত টায়ার, পানির বোতল, কনটেইনার, ফুলের টব, এয়ারকুলারের পানি ইত্যাদির মধ্যে বংশবৃদ্ধি করে। সাধারণত শহরাঞ্চলে রোগটি বেশি হয়, তুলনামূলকভাবে গ্রামে কম হয়। এক রোগী থেকে অন্য মানুষের শরীরে সরাসরি ডেঙ্গু ছড়াতে পারে না। তাই রোগীর সংস্পর্শে গেলেই ডেঙ্গুও হয় না।
চারটি সেরোটাইপ
ডেঙ্গুর বিষয়টি মানুষ জানলেও এর যে গতি-প্রকৃতিতে পরিবর্তন হচ্ছে, সে সম্পর্কে সচেতনতা নেই অনেকের। অনেক চিকিৎসকেরও এ বিষয়ে ভালো ধারণা নেই। ফলে সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন ও সতর্ক থাকা উচিত।
ডেঙ্গু রোগের চারটি সেরোটাইপ রয়েছে (ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪)। সাধারণত একবার এক সেরোটাইপ দিয়ে আক্রান্ত হলে পরবর্তী সময় আরেকটি দিয়ে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কারো হয়তো ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে, কিন্তু ঠিক কোন টাইপের ডেঙ্গু তা শনাক্ত করা হচ্ছে না। ফলে ডেঙ্গু পরীক্ষার পাশাপাশি টাইপিং বের করাটাও জরুরি। না হলে রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
রকমফের
ভাইরাসজনিত জ্বর ডেঙ্গু, যা এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। ডেঙ্গু ক্লাসিক্যাল, ডেঙ্গু হেমোরেজিক ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোম—এই কয়েক ধরনের ডেঙ্গু হয়। যেমন—
ক্লাসিক্যাল : ক্লাসিক্যাল বা সাধারণ ডেঙ্গুতে প্রচণ্ড জ্বর হয়, যা ১০৪ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্তও হতে পারে। জ্বর দুই থেকে সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সঙ্গে মাথা ব্যথা, পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব, চোখের পেছনে ব্যথা, মাংসপেশি বা গিঁটে ব্যথা, শরীরে র্যাশ থাকতে পারে। ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু হলে তেমন সমস্যা নেই, এতে মৃত্যুর মতো ঘটনা সাধারণত ঘটে না।
হেমোরেজিক : ডেঙ্গু হেমোরেজিকে জ্বর কমে যাওয়ার দু-তিন দিনের মধ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাল লাল র্যাশ বা রক্তবিন্দুর মতো দাগ দেখা যায়। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে মাড়ি বা নাক দিয়ে আপনা-আপনি রক্তক্ষরণ, রক্তবমি, কালো রঙের পায়খানা, ফুসফুসে বা পেটে পানি জমা ইত্যাদি। রক্ত পরীক্ষা করালে দেখা যায়, রক্তের অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেটের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। হেমোরেজিক ডেঙ্গুতে মৃত্যুঝুঁকি বেশি, যাতে শরীর থেকে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হতে পারে।
ডেঙ্গু শক সিনড্রোম : ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের উপসর্গগুলোর পাশাপাশি রোগীর রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায়, নাড়ির গতি বৃদ্ধি পায়, হাত-পা শীতল হয়ে আসে, রোগী নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এমনকি রোগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের জ্বর হলে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া উচিত। অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত বা অণুচক্রিকাও দিতে হতে পারে। তবে সবার যে এমন হবে, তা কিন্তু নয়।
জ্বর হলে করণীয়
► যেকোনো জ্বরে আক্রান্ত রোগী যত বেশি বিশ্রামে থাকবে, যত বেশি তরল খাবার খাবে, তত দ্রুত জ্বর নিয়ন্ত্রণে আসবে। তাই ডেঙ্গুর মূল চিকিৎসা প্রচুর তরল বা পানি গ্রহণ করা, পর্যাপ্ত বিশ্রামে থাকা ইত্যাদি।
► যেকোনো জ্বরে ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপর তাপমাত্রা গেলেই তা কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে সাপোজিটরি ব্যবহার করতে হবে।
► প্রচুর পানি, শরবত ও তরল খাবার বেশি দিতে হবে। কোনো অবস্থায়ই শরীরে যেন তরলের ঘাটতি না হয়।
► জ্বর হলে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ খাবেন না। অন্যান্য ওষুধ প্রয়োগ না করাই উচিত। তবে যেকোনো জ্বর তিন দিনের বেশি থাকলে, শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই এতে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই।
► চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনো ব্যথার ওষুধ সেবন নয়। কেননা হেমোরেজিক ডেঙ্গু হলে কিছু ব্যথার ওষুধ রক্তক্ষরণ বাড়িয়ে বিপদ ঘটাতে পারে।
► তীব্র জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, মাথা ব্যথা, চোখ ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে অবশ্যই বিশ্রাম নিতে হবে।
► মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গু কোনো মারাত্মক রোগ নয় এবং এতে চিন্তার কিছু নেই। এই রোগ নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়, এমনকি কোনো চিকিৎসা না করালেও। তবে মারাত্মক জটিলতা এড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।
► জ্বর কমে যাওয়ার পরের কিছুদিনকে বলা হয় ক্রিটিক্যাল পিরিয়ড। এ সময়টায় সবার সচেতন থাকা খুব জরুরি।
► ডেঙ্গু নিয়ে অহেতুক ভয় নেই। সাধারণ ডেঙ্গুতে মৃত্যুঝুঁকি ১ শতাংশের কম।
কখন হাসপাতালে
► ডেঙ্গুর চিকিৎসা বাড়িতেও সম্ভব, তবে বেশি দুর্বল ও পানিশূন্য হয়ে পড়লে বা শরীরের কোথাও রক্তবিন্দুর মতো দাগ, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, নাক বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার মতো যেকোনো লক্ষণে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে।
► ডেঙ্গু আক্রান্তদের কারো পেট ব্যথা বা ডায়রিয়া হলে সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে ভর্তি করানো উচিত।
► ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে দ্বিতীয়বার আক্রান্তরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
মায়োকার্ডিটিসে ভয় বেশি
এখনকার ডেঙ্গু রোগের প্রকৃতি ও ধরন অনেকটা বদলে গেছে। ডেঙ্গু হলে অনেকের হার্ট, লিভার ও কিডনি আক্রান্ত হচ্ছে। নতুন আতঙ্ক হয়ে সামনে এসেছে মায়োকার্ডিটিস বা হৃদযন্ত্রের প্রদাহ। ডেঙ্গু হলে সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা না নিলে হৃপিণ্ডের পেশির প্রদাহ বা মায়োকার্ডিটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। ডেঙ্গুর কারণে মায়োকার্ডিটিসে আক্রান্ত হওয়া খুবই বিপজ্জনক। এটি প্রায়ই ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হলেও অনেক চিকিৎসকের পক্ষে তা দ্রুত বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে।
মায়োকার্ডিটিসের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—শ্বাস-প্রশ্বাসের হ্রস্বতা, বুকের ব্যথা, ব্যায়াম করার ক্ষমতা হ্রাস, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন ইত্যাদি। এই রোগ নির্ণয়ে রক্ত পরীক্ষা, বুকের এক্স-রে, ইলেকট্রোক্রেডিওগ্রাফি (ইসিজি), ইকোকার্ডিওগ্রাম (হৃদযন্ত্রের বিশেষ আল্ট্রাসাউন্ড) ইত্যাদি পরীক্ষা করা যেতে পারে।
প্রতিরোধে করণীয়
► ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত রোগ হলেও এর কার্যকর কোনো টিকা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তাই রোগটি প্রতিরোধ করতে হলে যেকোনোভাবেই হোক, নিজেকে মশার কামড়ের হাত থেকে বাঁচাতে হবে।
► স্ত্রী এডিস মশা সাধারণত অল্প পানিতে, যেমন ঘরের ভেতরে জমে থাকা পানি, টবের পানি, ফ্রিজের পেছনে জমে থাকা পানি ইত্যাদিতে ডিম পাড়ে। তাই ফুলের টবসহ বাসার বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি নিয়মিত অপসারণ করুন। অন্তত তিন-চার দিন পর পর করা ভালো।
► এডিস মশা সাধারণত দিনের প্রথম ভাগে (সকালে) ও শেষ ভাগে (বিকালে) বেশি কামড়ায়। তবে রাতে ও অন্যান্য সময়ও কামড়াতে পারে। এ জন্য সব সময় মশারি টাঙিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা উচিত।
► প্রয়োজনে মশার কয়েল, ইনসেক্ট স্প্রে ব্যবহার করুন।
► পারতপক্ষে দিনের বেলা ঘুমানোর অভ্যাস কমানো উচিত। দিনে ঘুমালেও মশারি বা মশানিরোধক ব্যবহার করুন।
► শিশুদের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন। কেননা তারা মশা তাড়াতে পারে না বলে মশা সহজেই কামড়ায়।
► গাঢ় রঙের কাপড়ে মশা বেশি আকৃষ্ট হয়, তাই হালকা রঙের কাপড় পরিধান করুন। এ ছাড়া এমন পোশাক পরুন, যাতে হাত-পা আলগা না থাকে। সম্ভব হলে ফুলহাতা জামা, হাত ও পায়ে মোজা পরিধান করুন।
Wednesday, February 12, 2020
শেখ হাসিনার পর কে? by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁকে খুব পছন্দ করেন। এবার লন্ডন সফরে এসে প্রকাশ্যেই বলেছেন, বরিস ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি খুশি হন। ট্রাম্পের ভাবসাব, কথাবার্তায় মনে হয় তিনি সম্ভবত ব্রিটেনকে এখন আমেরিকার উপনিবেশ মনে করেন। সেভাবেই ব্রিটেনকে উপদেশের আড়ালে নানা নির্দেশ দেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছাড়লে তিনি ব্রিটেনকে ব্যবসা-বাণিজ্যে আঁচল ভরিয়ে দেবেন, বরিসকে যেন প্রধানমন্ত্রী করা হয়। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) যেন তাঁর হাতে (আমেরিকার) তুলে দেওয়া হয়। এই সার্ভিস তাঁর হাতে নিরাপদ থাকবে ইত্যাদি ইত্যাদি।
অন্যান্য দেশের মতো ব্রিটেনেও এখন বাম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি দুর্বল। তাই ইরাক যুদ্ধের সময় প্রেসিডেন্ট বুশ জুনিয়র লন্ডন সফরে এলে বিশাল জনবিক্ষোভের মুখে বাকিংহাম প্রাসাদ ছেড়ে লন্ডনের রাস্তায় নামতে পারেননি। এবার বুশের চেয়েও নিন্দিত ও বিতর্কিত ডোনাল্ড ট্রাম্প লন্ডনে এলে রাজপথে বিরাট বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে বটে, কিন্তু তাঁকে বুশের মতো গৃহবন্দি করে রাখা যায়নি, তাঁর লম্ফঝম্ফও বন্ধ করা যায়নি।
ধান ভানতে শিবের গীত গেয়ে লাভ নেই। শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে আসি। বলছিলাম ছোট ও উন্নয়নশীল বাংলাদেশের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্বের বিশাল পরিধিতে তাঁর পরিচিত ও আলোচিত হওয়ার কথা। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের রেস্টুরেন্টে এক লেবার দলীয় তরুণ এমপির সঙ্গে খেতে গেছি। উদ্দেশ্য ছিল টোরি দলের নতুন নেতা নির্বাচন সম্পর্কে উত্তপ্ত ঘরোয়া বিতর্ক উপভোগ করা এবং পার্লামেন্টের রেস্টুরেন্টে আজকাল ডাল-ভাত খাদ্য তালিকায় আসায় তার স্বাদ নেওয়া।
খেতে বসে বন্ধু এমপি একসময় জিজ্ঞেস করলেন, এবার বরিসই হয়তো টোরি দলের নেতৃত্বে বসবেন, তোমাদের দেশের খবর কী? শেখ হাসিনার বিকল্প কোনো নেতা তো শুধু আওয়ামী লীগে নয়, তোমাদের দেশেও দেখছি না, তাহলে দলের পরবর্তী নেতা কে হবেন, ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীই বা কে হবেন? উপমহাদেশে এতকালের পরিবারতন্ত্রও অচল হতে চলেছে। ভারতে রাহুল গান্ধীর পরিণাম দেখলে তো।
বললাম, বাংলাদেশ নিয়ে এসব ভাবনা এখন কেউ ভাবছে না। সামনে আওয়ামী লীগের জন্য আরো পাঁচ বছর পড়ে আছে। শেখ হাসিনা এখনো দলের নেতৃত্বের হাল ধরে আছেন এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদেও আসীন। দেশের রাজনীতিও এখন মোটামুটি স্থিতিশীল। আশা করা যায়, অর্থনৈতিক পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়ন গতিশীল রাখতে পারলে আগামী নির্বাচনেও মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় চাইবে।
বন্ধু এমপি বললেন, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে কী হবে তুমি তা জানো না। হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন পরবর্তী নির্বাচনে তিনি নেতৃত্ব দেবেন না। ক্ষমতায়ও থাকতে চান না। এ অবস্থায় শেখ হাসিনার এবং তাঁর দলেরই তো উচিত আওয়ামী লীগের জন্য এখনই একজন যোগ্য ও দক্ষ নেতা খুঁজে বের করা এবং সময় থাকতে তাঁকে জনগণের কাছে পরিচিত করে তোলা। না হলে খালেদাবিহীন বিএনপির যে দশা হয়েছে, হাসিনাবিহীন আওয়ামী লীগের কি সেই অবস্থা হবে না?
তাঁকে বললাম, বাংলাদেশ সম্পর্কে তাঁর ধারণার সঙ্গে আমার ধারণার একটা পার্থক্য আছে। অবশ্য আমাদের দুজনের ধারণার মধ্যে কার ধারণা সফল হবে, তা বলতে পারি না। প্রথমে শেখ হাসিনার আগামী নির্বাচনে, যা এখনো পাঁচ বছর দূরে, তাতে নেতৃত্ব না দেওয়ার সম্পর্কে বলি? চার-চারবার দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকার পর শেখ হাসিনা নিশ্চয়ই ক্লান্তিবোধ করছেন এবং যথার্থভাবেই রাজনীতির সম্মুখ সারি থেকে সরে যেতে চাইছেন। এটা অনেক দেশের জনপ্রিয় নেতাই চান।
কিন্তু জনগণের বিপুলভাবে আস্থাভাজন কোনো নেতা যদি দেখেন, দেশের কল্যাণের স্বার্থেই তাঁকে ক্ষমতায় রাখতে জনগণ উন্মুখ, তাহলে তাঁকে সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। একবার ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজয়ের পর জামাল নাসের মিসরের প্রেসিডেন্ট পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন। কিন্তু কায়রোর রাজপথে উত্তাল জনগণের দাবিতে তাঁকে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করতে হয়েছিল।
এটা শেখ হাসিনার জীবনেও ঘটেছে। এরশাদের আমলে এক সাধারণ নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর শেখ হাসিনা দলের নেতৃত্বে ইস্তফা দিয়েছিলেন। দলের নেতাকর্মীরা শুধু নয়, সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল তাঁর পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করার দাবিতে। তাঁকে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করতে হয়েছিল। ভবিষ্যতেও শেখ হাসিনা দলের নেতৃত্ব ছেড়ে রাজনীতির পেছনের সারিতে যেতে চাইলে একই অবস্থার উদ্ভব ঘটবে। তা ছাড়া তাঁর রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণের বয়সও হয়নি। বর্তমানে তাঁর বয়স ৭২ বছর। পাঁচ বছর পরেও তিনি ৮০ বছর বয়সে পৌঁছাবেন না। দ্য গল, চার্চিল, রিগ্যান, মাহাথির প্রমুখ নেতা বয়সের তোয়াক্কা করে ক্ষমতায় থাকেননি। যদি দেশের স্বার্থে প্রয়োজন পড়ে তাহলে সক্ষমতা থাকা পর্যন্ত হাসিনা কেন ক্ষমতায় থাকবেন না? ইসরায়েলের নেতানিয়াহু এবার নিয়ে কত দফা ক্ষমতায় আছেন?
ব্রিটিশ এমপি বন্ধুকে বললাম, খালেদাবিহীন বিএনপির আজ যে অবস্থা, হাসিনাবিহীন আওয়ামী লীগের সেই অবস্থা হবে তা মনে করি না। বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে এবং নেতৃত্ব ব্যক্তি ও পরিবারভিত্তিক। জনগণের মধ্যে এই দলের কোনো শিকড় (root) নেই। এই দলের পরিণতি ঘটতে চলেছে মুসলিম লীগের মতো। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের জন্ম গণ-আন্দোলন থেকে। দলে নেতৃত্ব ও নীতির ক্রমবিবর্তন হয়েছে। নেতৃত্বেও বারবার বদল ঘটেছে। দলটির জন্ম মূলত মওলানা ভাসানী ও শেখ মুজিবের নেতৃত্বে। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী এসে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বসেন। মওলানা ভাসানীর পর পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি হন মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ।
শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর নওয়াবজাদা নসরুল্লাহ খান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বসেন। ছয় দফা আন্দোলনের সময় শেখ মুজিব কারাগারে বসে আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। তাঁর মৃত্যুর পর বেগম জোহরা তাজউদ্দীন ও আবদুল মালেক দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন। লিখতে ভুলে গেছি, বঙ্গবন্ধু যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী, তখন দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন কামারুজ্জামানের ওপর। সর্বশেষ শেখ হাসিনা দলের সভানেত্রী নির্বাচিত হন এবং এখনো আছেন। তাঁর নেতৃত্বেই দল আবার শাসন ক্ষমতায় ফিরে আসে এবং এখনো শাসন ক্ষমতায় আছে।
দলের নেতৃত্বের মতো নীতিরও পরিবর্তন হয়েছে বহুবার। ভাসানী ও সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ছিল একটি মডারেট সাম্প্রদায়িক দল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে দলটি গড়ে ওঠে অসাম্প্রদায়িক সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট দল হিসেবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটি মডার্ন ও সেক্যুলার ডেমোক্র্যাট পার্টি। প্রতিটি সংকটে আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়াবার শক্তি আছে এবং নেতৃত্ববিহীন অবস্থায় নতুন নেতা তৈরির সক্ষমতা আছে। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর চরম নেতৃত্বহীন অবস্থায় দলটি কি নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে সক্ষমতা দেখায়নি? হাসিনা-নেতৃত্ব কি উঠে আসেনি?
আমার বক্তব্য শেষ করে বন্ধু ব্রিটিশ এমপিকে বলেছি, অবশ্যই বাংলাদেশের গণতন্ত্র চিরকাল এক দল, এক নেতানির্ভর থাকুক তা দেশের মানুষ চায় না। কিন্তু বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত—এরা গণতান্ত্রিক দল নয় এবং আওয়ামী লীগের বিকল্প দলও নয়। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বিকল্প একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক দল ও নেতৃত্ব গড়ে ওঠা দরকার। আজকের সুধীসমাজ নামক গোষ্ঠীর ছড়ানো বিভ্রান্তি থেকে দেশের মানুষ চূড়ান্তভাবে মুক্ত হলে জনগণের চাহিদা, আন্দোলন ও উদ্যোগ থেকে বিকল্প রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্ব গড়ে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস। পচা শামুকে বারবার জনগণের পা কাটবে না।
লন্ডন, ১৭ জুন, সোমবার ২০১৯
Tuesday, December 10, 2019
হাতে-পায়ে অসহ্য জ্বালাপোড়া? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার

এ রোগের প্রধাণ উপসর্গ হলো হাত বা পায়ের পাতা দুটি মাঝেমধ্যে জ্বলে উঠবে। কখনো সুই ফোটার মতো বিঁধে। ঝিম ঝিম বা অবশও লাগে। অনেকেরই এ ধরনের অনুভূতি হয়।
এই রোগের কারণ
* হাত-পায়ে জ্বালাপোড়ার বড় কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত ও দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস। রক্তে শর্করার আধিক্য ধীরে ধীরে হাত-পায়ের স্নায়ুকে ধ্বংস করে এ ধরনের উপসর্গ সৃষ্টি করে।
* কিডনি ও থাইরয়েড সমস্যা থাকলে।
* শরীরে ভিটামিন বি ১২ ও বি ১-এর অভাব হলে।
* মদ্যপান, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি রোগ থাকলে।
* ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় পায়ে জ্বালাপোড়া হতে পারে, যেমন যক্ষ্মা রোগে ব্যবহৃত আইসোনিয়াজিড, হৃদরোগে ব্যবহৃত অ্যামিওড্যারোন, কেমোথেরাপি ইত্যাদি।
* ছত্রাক সংক্রমণ।
* রক্ত চলাচলে সমস্যা।
* মহিলাদের মেনোপোজের পর।
* অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ।
এক্ষেত্রে করণীয়
* ডায়াবেটিসের রোগীরা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন, হাত-পায়ের যত্ন নিন।
* যাঁদের স্নায়ু সমস্যা আছে, তাঁরা হাত-পায়ের যেকোনো ক্ষতের দ্রুত চিকিৎসা নিন।
* পায়ে গরম সেঁক নিন। নখ কাটা ও জুতা নির্বাচনে সাবধান হোন।
* পায়ের সমস্যার জন্য সব সময় যে ভিটামিনের অভাবই দায়ী, তা নয়। তাই সব ধরনের সমস্যায় ভিটামিন বি খেয়ে উপকার পাওয়া যাবে না।
* দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমান।
* নিউরোপ্যাথি আছে প্রমাণিত হলে স্নায়ুর যন্ত্রণা লাঘব করে এমন কিছু ওষুধ পাওয়া যায়। চিকিৎসকের পরামর্শে সেগুলো সেবন করতে পারেন।
কখন যাবেন ডাক্তারের কাছে
* জ্বালাপোড়া হঠাৎ শুরু হয়ে আর কমছে না।
* আঙুল বা পাতায় অনুভূতি কমে যাচ্ছে, অবশ মনে হচ্ছে।
* আপনার পায়ের স্নায়ু ঠিক আছে কি না, বোঝার জন্য অনেক সময় কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষারও প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি একটি আলপিন বা একটি টিউনিং ফর্ক ব্যবহার করেই হাতপায়ের অনুভূতি যাচাই করে নিতে পারবেন।
কৃতজ্ঞতা: ডাক্তার সানজিদা আজাদ
তথ্যসূত্র: কালেরকণ্ঠ
Sunday, September 15, 2019
যৌবনে টানাটানি, বার্ধক্যে অচ্ছুৎ, পাকিস্তানি হিজড়াদের হাহাকার জীবন

বিবিসি'র মোবিন আযহার লিখেছেন, অন্তত সম্মানের সাথে জীবনের শেষ সময়টুকু পার করার একটা সুযোগ তাদের অনেকের জন্য তৈরি হলো।
বয়স যেভাবে বদলে দেয় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জীবন
লাহোরে বাদশাহী মসজিদের ধারেই ডায়মন্ড মার্কেট। ডায়মন্ড মার্কেট হলেও সেখানে হীরা কিনতে পাওয়া যায় না। তবে সেখানে অর্থের বিনিময়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের যৌনতা কেনা যায়। তাদের নাচ দেখা যায়। তাদের মধ্যে বয়স্ক যারা, তারা অল্প বয়সীদের তুলনায় কম পয়সায় এসব সেবা দিয়ে থাকেন। আর যখন আরো বয়স হয়ে যায়, তখন জীবিকা নির্বাহ করা তাদের জন্য রীতিমতো কঠিন হয়ে পরে।
এই সম্প্রদায়ের একজন আশি বাট। সম্মান করে অনেকে তাকে গুরু আশি বলে ডাকেন। বছর ২৫ আগে লাহোরে বেশ নামডাক ছিল তার। শহরের বহু বিয়ের অনুষ্ঠান বা পার্টিতে তাকে নিয়মিত নাচগানে মশগুল দেখা যেতো। কিন্তু বয়স যত বাড়তে থাকলো, সময় তার জন্য ততই বদলাতে থাকলো।
নিজের বিছানায় প্রিয় বিড়াল চান্দাকে পাশে নিয়ে বলছিলেন, সেইসব দিনে রোজ রাতেই একটা করে পার্টি থাকতো। নাচের বিনিময়ে আমি যে টাকা চাইতাম সেটাই আমাকে দেয়া হতো। কিন্তু সময় বদলে গেছে।
তিনি বলছেন, এখনো নাচের অনুষ্ঠান করেন তিনি কিন্তু সাথে করে তরুণ বয়সীদের নিতে হয়। তিনি হাঁপিয়ে গেলে তারাই যেন বেশ কিছুক্ষণ সবাইকে মাতিয়ে রাখতে পারেন।
গুরু আশির জীবন যেমন বয়সের ভারে বদলে গেছে, তেমনি বদলে গেছে পাকিস্তান। ১৯৯০ এর দশক থেকে পাকিস্তান ক্রমাগত রক্ষণশীল ভাবধারার দিকে ঝুঁকছে।
যার অর্থ হলো, আশির মতো মানুষের জায়গা পাকিস্তানের সমাজে সংকুচিত হয়ে আসছে। নতুন ধারার পাকিস্তানে মানুষের চিন্তার ধারাও পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু সেখানে হিজড়া সম্প্রদায়ের সব সময় একটা অবস্থান ছিল। মুঘল আমলে এমনকি তারা রাজদরবারে উপদেষ্টা হিসেবেও নিয়োগ পেতেন।
গৌতম থেকে যেভাবে অনন্যা হয়ে উঠলেন তিনি
পাকিস্তানে এখনো অনেকে মনে করেন হিজড়ারা নব দম্পতি ও শিশুদের আশীর্বাদ করলে তা কাজে লাগে। তাদের প্রতি বৈষম্যও ব্যাপক। এখনো তাদের প্রধান পেশা নাচ, ভিক্ষাবৃত্তি ও যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করা।
বৃদ্ধ বয়সের জন্য একটু আশার আলো
পাকিস্তানের আনুমানিক পাঁচ লাখ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের বাস। পরিবার যে তাদের ত্যাগ করে সেটি বেশিরভাগ হিজড়ারাই মানসিকভাবে একরকম গ্রহণ করেই নিয়েছেন। কিন্তু ভবিষ্যতে তাদের এক কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়তে হয়। পাকিস্তানের সমাজে বৃদ্ধ বাবা মায়ের দায়িত্ব থাকে ছেলে-মেয়ের কাঁধে। কিন্তু যখন ছেলে মেয়ে থাকে না, তখন কোন সহায়তা পাওয়া খুবই কঠিন।
তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য বাস্তবতা আরো কঠিন। সেই সমস্যা মোকাবেলায় এই সম্প্রদায়ের মানুষজন নিজেরাই একটা ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। যার নাম দেয়া হয়েছে 'গুরু-চেলা' ব্যবস্থা। নামটি শুনেই কিছুটা আঁচ করা যায় পদ্ধতিটি কেমন হতে পারে। গুরু মানে বয়স্ক কেউ, আর চেলা মানে বয়সে তরুণ কেউ। যেখানে গুরুকে দেখভাল করার দায়িত্ব বয়সে তরুণদের। কিন্তু এই ব্যবস্থা সব সময় কাজ করে না। এই সমস্যা নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে অনুধাবন করেছিলেন আশি বাট।
তিনি বলছেন, একদিন একটা লোক হন্তদন্ত করে আমার কাছে এসে বলল গত সপ্তাহখানেক হল মর্গে তোমাদের একজনের মরদেহ পরে রয়েছে। কেউ সেই মরদেহ দাবি করেনি বলে কোন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হয়নি। আমার খুব কষ্ট লেগেছিল। আমি বিষয়টা মেনে নিতে পারিনি।
সেখান থেকেই মাথার মধ্যে একটা ধারনা ঘুরপাক খেতে থাকলো। গত আট বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। অবশেষে এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নিজের সম্প্রদায়ের বয়স্কদের জন্য একটি বৃদ্ধ নিবাস বা অবসরকালীন নিবাস চালু করেছেন তিনি। সেখানে তৃতীয় লিঙ্গের ৪০ জন বয়স্ক ব্যক্তির বাস। যাদের জন্য থাকা, খাওয়া, চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। সামনে এর সাথে একটি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং আরো বড় আকারের থাকার ব্যবস্থা তৈরি করতে চান তিনি। শুরুতে নিজের অর্থেই এই কেন্দ্র চালু করেছেন আশি বাট। তবে সম্প্রতি কিছু অর্থ সহায়তা পেতে শুরু করেছেন।
অবসকালীন নিবাসের এক বাসিন্দার গল্প
৫০ বছর বয়সী মাধু জীবনের বেশিরভাগ সময় যৌনকর্মী হিসেবে অতিবাহিত করেছেন। মাধু বলছিলেন, আগে প্রতিবারের জন্য পাঁচশ থেকে এক হাজার রুপি পর্যন্ত নিতাম। এখন একশ রুপিও জোটে না। এই পয়সায় ঘরভাড়া দেয়া সম্ভব না। বয়স যখন ৫০ তখন ভিক্ষা ছাড়া আমাদের কপালে আর কিছু নেই।
মাধু এখন সপ্তাহে কয়েকবার এই কেন্দ্রে আসেন। সেখানে সময় কাটে অন্য বাসিন্দাদের সাথে লুডু খেলে। মাধু নিজের পরিচয় প্রকাশ করার পর নিজের ভাইদের হাতেই চরম মার খেয়েছিলেন। কিন্তু এখানে তৃতীয় লিঙ্গের জন্য তৈরি অবসরকালীন নিবাসে তিনি নিজের মত মানুষদের সাথেই সময় কাটান।
খাবার আর থাকার জায়গা তো আছেই কিন্তু তার সবচাইতে বেশি যে বিষয়টি ভালো লাগে, তা হলো এখানে কেউ তাকে খাটো করে দেখে না।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (1767)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...