Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts
Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts

Thursday, August 27, 2026

পুরোনো জাহাজ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ালেন নেতানিয়াহু ও তার নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গভির

ইসরাইলের রাজনীতিতে পুরোনো এক অধ্যায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ডুবে যাওয়া ইরগুনের অস্ত্রবাহী জাহাজ আলতালেনা ঘিরে মুখোমুখি হয়েছেন দেশটির উগ্রপন্থি দুই নেতা—প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

ইরগুন ছিল ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ও ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের সময় সক্রিয় একটি ইহুদি আধাসামরিক সংগঠন। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে সংগঠনটির জড়িত থাকার ইতিহাস রয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়। ফিলিস্তিনিদের কাছে এ ঘটনা ‘নাকবা’ বা মহাবিপর্যয় হিসেবে পরিচিত।

সোমবার আলতালেনার ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার ঘোষণা দেন বেন-গভির। তার ঘোষণার পরই বিষয়টি রাজনৈতিক গুরুত্ব পায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে যান নেতানিয়াহুও। এরপর একই স্থান থেকে আলাদা ভিডিও বার্তা দেন দুই নেতা।

জাফার কাছে ইরগুনের হিব্রু নাম ‘এতজেল’-এর নামে প্রতিষ্ঠিত এতজেল জাদুঘরে গিয়ে নেতানিয়াহু আলতালেনার ইতিহাস তুলে ধরেন। তার দল লিকুদ নিজেদের ইরগুনের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে দাবি করে।

কী হয়েছিল আলতালেনার

১৯৪৮ সালের জুনে ফ্রান্স থেকে ইরগুনের জন্য অস্ত্র নিয়ে ইসরাইলে আসে আলতালেনা। কিন্তু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরগুন ও নবগঠিত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়নের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত জাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় ইসরাইলিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে ওই সময়ের ইরগুন কমান্ডার মেনাখেম বেগিনের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইসরাইলি বাহিনী গুলি চালালেও বেগিন তার যোদ্ধাদের পাল্টা গুলি না চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এরপর নেতানিয়াহু বর্তমান সময়ের রাজনীতির সঙ্গে ওই ঘটনার তুলনা করেন। নিজের ও লিকুদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও ইসরাইলিরা পরস্পরের ভাই।

নাকবার রক্তাক্ত ইতিহাস

ইরগুনের সঙ্গে ইসরাইলের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস যেমন জড়িয়ে আছে, তেমনি জড়িয়ে আছে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি ও সহিংসতার ইতিহাসও।

১৯৪৮ সালের এপ্রিলে জেরুজালেমের কাছে দেইর ইয়াসিন গ্রামে ইরগুন ও আরেক উগ্রপন্থি আধাসামরিক সংগঠন লেহির যোদ্ধারা হামলা চালান। নারী ও শিশুসহ শতাধিক গ্রামবাসী নিহত হন। এর আগে গ্রামটির সঙ্গে নবগঠিত ইসরাইলি বাহিনীর অনাক্রমণ চুক্তি হয়েছিল বলে ইতিহাসবিদেরা উল্লেখ করেছেন।

এর কয়েক সপ্তাহ পর জাফায় হামলা চালায় ইরগুন। শহরের প্রান্তে গোলাবর্ষণসহ ওই অভিযানের পর বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি বাসিন্দা জাফা ছেড়ে পালিয়ে যান।

ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগেও ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান চালিয়েছিল ইরগুন। ১৯৪৬ সালে জেরুজালেমের কিং ডেভিড হোটেলে বোমা হামলায় ৯০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

তবে ইসরাইলি সমাজবিজ্ঞানী ইয়েহুদা শেনহাভ-শাহরাবানি মনে করেন, নাকবার সব দায় শুধু ইরগুনের ওপর চাপানো ঠিক নয়। তার মতে, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার ঘটনায় লেবার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত জায়নবাদী আধাসামরিক সংগঠনগুলোরও প্রধান ভূমিকা ছিল।

নির্বাচনের আগে নতুন সমীকরণ

আলতালেনার ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়ার ঘটনা এমন সময়ে সামনে এল, যখন অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন নেতানিয়াহু। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তার দল লিকুদ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টির পেছনে রয়েছে।

এই নির্বাচনে কট্টর উগ্রপন্থি ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আর সেই ভোটারদের মধ্যে বেন-গভিরেরও শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যানিয়েল বার-তালের মতে, আলতালেনা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ মূলত নেতানিয়াহু ও বেন-গভিরের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেই। অধিকাংশ ইসরাইলি ভোটারের কাছে বিষয়টির তেমন গুরুত্ব নেই।

বার-তালের ভাষ্য, আলতালেনা আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়ে বেন-গভির নেতানিয়াহুকে কিছুটা চাপে ফেলেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে একই মঞ্চে ছবি তুলতে রাজি হননি—এ বিষয়টিও সামনে আনেন বেন-গভির।

বেন-গভির নিজেকে মেনাখেম বেগিনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, অন্যরা যখন তার সঙ্গে একই মঞ্চে ছবি তুলতে চায় না, তখন বেগিনের মতো তিনিও সেই পরিস্থিতির স্বাদ জানেন।

‘বেন-গভির নেতানিয়াহুকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন’

চ্যাথাম হাউসের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ইয়োসি মেকেলবার্গের মতে, ‘বেন-গভির নেতানিয়াহুর চেয়েও বেশি নেতানিয়াহু হয়ে উঠছেন।’

তার মতে, অন্য দেশের জনতুষ্টিবাদী নেতাদের মতো নেতানিয়াহু ও বেন-গভির—দুজনই নিজেদের সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত ও অন্যায়ের শিকার হিসেবে তুলে ধরতে চান। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের রাজনৈতিক সমর্থকদের কাছে আরো জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।

ইসরাইলে রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়ার সময়ে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কার কথা বলা মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রচারণার অংশ বলে মনে করেন মেকেলবার্গ। তবে এমন বক্তব্যকে তিনি বিপজ্জনক বলেও সতর্ক করেছেন।

১৯৯৫ সালে প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিন হত্যার আগে ইসরাইলে উসকানিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে নেতানিয়াহুর ভূমিকা ছিল—এমন দীর্ঘদিনের অভিযোগের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

মেকেলবার্গের মতে, নেতানিয়াহু সংকটের অনুভূতি জিইয়ে রাখতে এ ধরনের বক্তব্য ব্যবহার করেন। এরপর নিজেকেই সেই সংকট থেকে দেশকে উদ্ধারের নেতা হিসেবে তুলে ধরেন।

পুরোনো জাহাজ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ালেন নেতানিয়াহু ও তার নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গভির
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইতামার বেন গভির। ছবি: সংগৃহীত

Saturday, August 22, 2026

ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ইসলাম বিদ্বেষকে হাতিয়ার করছে ইসরাইল

আল জাজিরার নিবন্ধঃ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলাম বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ডানপন্থি রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে ইসরাইল নিজেকে ‘কট্টরপন্থি ইসলাম’-এর বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের রক্ষাকবচ হিসেবে তুলে ধরছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রচারণা বেড়েছে। ‘শরিয়া-ফ্রি আমেরিকা ককাস’-এর মতো উদ্যোগ এবং মুসলিমদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি মসজিদে হামলার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও অভিবাসীদের বিরুদ্ধেও বিদ্বেষমূলক রাজনীতি জোরদার হয়েছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়কার অবস্থানের সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর বুশ একটি মসজিদে গিয়ে বলেছিলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। কিন্তু বর্তমান মার্কিন ডানপন্থি রাজনীতিতে এমন অন্তর্ভুক্তিমূলক বার্তা অনেকটাই অনুপস্থিত।

ইসরাইলও এই রাজনৈতিক পরিবেশকে কাজে লাগাচ্ছে বলে মতামত নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেরুজালেমে ইসরাইল আয়োজিত একটি ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী সম্মেলনে ইউরোপের বিভিন্ন কট্টর ডানপন্থি দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। নেতানিয়াহু সেখানে ‘র‌্যাডিক্যাল ইসলামের আগ্রাসন’-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এসব রাজনৈতিক শক্তিকে মিত্র হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই প্রবণতার পেছনে ট্রাম্পপন্থি রাজনীতির পাশাপাশি ইসরাইলের জনসংযোগ ও ‘হাসবারা’ প্রচারণারও ভূমিকা রয়েছে। ইসরাইলি সরকার পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলাম ও মুসলিম অভিবাসীদের ঘিরে ভয় তৈরি করে নিজেদের নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের প্রশ্নকে সামনে আনতে চাইছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কানাডাতেও ইসরাইল-সমর্থিত একটি প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণার মাধ্যমে মুসলিম অভিবাসীদের হুমকি হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগ উঠেছিল।

ইসরাইলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি, বিশেষ করে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটি সমালোচকদের মোকাবিলায় আরো আগ্রাসী প্রচারণার পথ বেছে নিয়েছে। এ প্রচারণায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর ডানপন্থিদের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কও দৃঢ় হচ্ছে।

তবে ইসলামোফোবিয়া উসকে দিয়ে ইসরাইল পশ্চিমা জনসমর্থন পুনরুদ্ধার করতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মুসলিমসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ছে। মুসলিম প্রার্থীদের নির্বাচনী সাফল্যও দেখাচ্ছে যে ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রতিরোধ তৈরি হচ্ছে।

নিবন্ধের শেষ দিকে বলা হয়, ভয় ও বিদ্বেষ সাময়িকভাবে রাজনৈতিক সমর্থন বাড়াতে পারলেও তা পশ্চিমা সমাজে বিভাজন ও সহিংসতা আরো বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ইসরাইল যদি পশ্চিমা সমর্থন ধরে রাখতে চায়, তাহলে ইসলামোফোবিয়াকে উসকে দেওয়ার পরিবর্তে সমতা, শান্তি ও রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোই বেশি কার্যকর হতে পারে। পশ্চিমা দেশগুলোরও উচিত বিদেশি প্রভাব ও প্রচারণার বিষয়টি উপলব্ধি করে নিজেদের বহুত্ববাদী মূল্যবোধ রক্ষা করা।

ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ইসলাম বিদ্বেষকে হাতিয়ার করছে ইসরাইল
ছবি: সংগৃহীত।

Friday, August 21, 2026

স্বৈরাচারের পরিণতি বড়ই নির্মম by জালাল উদ্দিন ওমর

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ক্ষমতা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ৮ ডিসেম্বর সিরিয়ার ক্ষমতা থেকে প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ পালিয়েছেন। এ রকম ঘটনা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে ঘটেছে। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষ এবং ২০২১ সালে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি পালিয়ে যান। ২০১১ সালে তিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট বেনআলি পালিয়ে যান এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০১২ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহ, ১৯৭৯ সালে ইরানের রেজা শাহ পাহলভি এবং ১৯৮৬ সালে ফিলিপাইনের ফার্ডিনান্ড মার্কোস পালিয়ে যান। জনতার আন্দোলনে এরা ক্ষমতাচ্যুত হয়। এদের সবারই পরিণতি অত্যন্ত নির্মম, অপমানজনক এবং শোচনীয়। এদের কেউ কেউ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের ভোটে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেও পরে জালিম এবং স্বৈরশাসকে পরিণত হয়েছেন। ভোটাধিকার হরণ করে এবং জনগণের ওপর জুলুম নির্যাতন চালিয়ে এরা আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন। কিন্তু কারোই শেষ রক্ষা হয়নি। জুলুম নির্যাতন এবং দমননীতি চালিয়ে ক্ষমতাকে কিছুদিনের জন্য দীর্ঘায়িত করা সম্ভব হলেও, শেষে জনতার প্রতিবাদ-প্রতিরোধে চরম অপমানের সঙ্গে বিদায় নিয়েছেন। কারণ স্বৈরাচারের পরিণতি কখনো ভালো হয় না। এটি ইতিহাসের অনিবার্য সত্য এবং নির্মম বাস্তবতা।

পৃথিবীতে আমরা সবাই ক্ষণিকের অতিথি। নির্দিষ্ট সময় পর মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে পৃথিবী ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে যায়। অর্থ, বিত্ত, আভিজাত্য, ক্ষমতা এবং প্রভাব প্রতিপত্তি কোনোটাই মানুষের সঙ্গে যায় না। খালি হাতেই পৃথিবীতে মানুষের আগমন এবং খালি হাতেই বিদায়। একজন ভিখারি এবং প্রেসিডেন্টের বিদায় ও একই রকম। তবু কিছু মানুষ এই চিরন্তন সত্যকে ভুলে যায়। পৃথিবীতে প্রভাব-পতিপ্রত্তি এবং ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে যায়। এরা সত্যকে হত্যা করে, আইনকে মানে না এবং অন্যের অধিকার হরণ করে। নিজের স্বার্থকে হাসিল করতে মানুষের ওপর জুলুম করে। তারা মনে করে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী এবং কখনো পতন হবে না। দম্ভ এবং অহংকারে মানুষকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, যা ইচ্ছা তাই করে এবং শক্তির জোরে মানুষকে দমিয়ে রাখে। কিন্তু এর মাধ্যমে তিনি যে নিজেকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে, তা বুঝতে চায় না। অবশেষে একদিন ধ্বংসের সময় এসে যায় এবং ধ্বংস হয়ে যায়। সব হারানোর পর তিনি ভুল বুঝতে পারেন। কিন্তু তখন শোধরানোর সময় থাকে না। ধ্বংসই হয় তার জীবনের অনিবার্য পরিণতি, যা তাকে ভোগ করতেই হয়।

সৃষ্টির সূচনা থেকেই মানুষের মধ্যে সত্য-মিথ্যা লড়াই বিদ্যমান। কিছু মানুষ ন্যায় ও সত্যকে বর্জন করে অন্যায় এবং মিথ্যার পথে চলে। কিছু মানুষ অন্যায় ও মিথ্যাকে বর্জন করে ন্যায় ও সত্যের পথে চলে। ন্যায় ও সত্যপন্থিদের সঙ্গে অন্যায় ও মিথ্যাপান্থিদের দ্বন্দ্ব সংঘাত চলে। অন্যায় ও মিথ্যার অনুসারীরা প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে সবসময় ন্যায় ও সত্যের অনুসারীদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ন্যায় ও সত্যপন্থিদের বিজয় হয় এবং অন্যায় ও মিথ্যার অনুসারীদের পরাজয় হয়। অন্যায়ও মিথ্যার অনুসারীদের জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়, অপমান এবং লাঞ্ছনা। ইতিহাসের এই নিয়ম বহতা নদীর মতোই বয়ে চলছে। ফেরাউন সবসময় হজরত মুসা (আ.) ও তার অনুসারীদের ওপর, নমরুদ সবসময় হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তার অনুসারীদের ওপর এবং আবু জেহেল ও আবু লাহাবরা সবসময় হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তার অনুসারীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফেরাউন, নমরুদ, আবু জেহেল এবং আবু লাহাবদের করুণ পরিণতি হয়েছে। ইতিহাসে অভিশপ্ত এবং ঘৃণিত হয়েছে। যুগে যুগে সব স্বৈরাচারেরই করুণ পরিণতি এবং সবাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এরা মানুষের ভালোবাসা এবং সম্মান অর্জন করতে পারেনি বরং ঘৃণা এবং অসম্মানই অর্জন করেছে।

কিছু মানুষ সবসময় বিজয়ী হতে চায়। বিজয়ী হতে আইনলঙ্ঘন করে এবং সত্যকে হত্যা করে। কিন্তু সব বিজয় বিজয় নয় এবং সব পরাজয় পরাজয় নয়। কিছু বিজয় আসলে পরাজয় এবং কিছু পরাজয় আসলে বিজয়। সত্য ও ন্যায়ের পথে চলে পরাজিত হলেও তা আসলে বিজয় এবং মিথ্যা ও অন্যায়ের পথে চলে বিজয়ী হলেও তা আসলে পরাজয়। কারবালায় ইয়াজিদ এবং পলাশীতে মীরজাফর বিজয়ী হলেও, তারা আসলে পরাজিতই হয়েছে। এজন্য বিশ্বজুড়ে ইয়াজিদ এবং মীরজাফর অতি ঘৃণিত এবং বাবা-মায়েরা সন্তানের নাম ইয়াজিদ এবং মীরজাফর রাখে না। কিন্তু ইমাম হোসেন (রা.) এবং সিরাজউদ্দৌলা সেদিন পরাজিত এবং মৃত্যুবরণ করলেও, দুজনেই বিশ্বজুড়ে অতি সম্মানিত । ইতিহাসের বাস্তবতা থেকে সবারই শিক্ষা নিতে হবে।

প্রকৃতির প্রতিশোধ বলে একটা কথা আছে। মানুষের ওপর জুলুম, নির্যাতন, অবিচার এবং তাদের অধিকার হরণ করলে এর পরিণতি ভোগ করতেই হবে। যেভাবেই হোক জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এর প্রায়শ্চিত্ত করতেই হবে। মানুষের ওপর জুলুম নির্যাতন করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। এটি পৃথিবীর অতীত ইতিহাসের প্রমাণিত সত্য এবং আগামী দিনের অনিবার্য বাস্তবতা। জুলুম এবং অবিচার শুধু দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা এবং সমাজের ক্ষমতাবান ব্যক্তিরাই করে তা নয়। সবাই কিন্তু নিজ নিজ অবস্থানে ক্ষমতাবান। কারো ক্ষমতা ছোট এবং কারো ক্ষমতা বড়। সবাইকে নিজস্ব পরিমণ্ডলে অধীনস্থ মানুষগুলোর প্রতি সদয় আচরণ করতে হবে। জনগণের শাসক না হয়ে সেবক এবং জনগণকে শোষণ না করে সাহায্য করতে হবে। জনগণ না চাইলে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু ভোটাধিকার হরণ করে, বলপ্রয়োগ করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে স্বৈরাচার হয়ে মানুষের অধিকার হরণ করা যাবে না। প্রত্যেকেই নিজ অবস্থান থেকে মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার করলে বং কারো প্রতি জুলুম না করলে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং বিশ্বÑসর্বত্রই শান্তি বিরাজ করবে। জালিম এবং স্বৈরাচার হয়ে মানুষের প্রতি অবিচার করলে পরিণতি নিশ্চিতভাবেই নির্মম ও করুণ হবে। এ দ্রুব সত্যটি সবারই বোঝা দরকার।

* লেখক : জালাল উদ্দিন ওমর, প্রকৌশলী, ইমেইল : omar_ctg123@yahoo.com 

স্বৈরাচারের পরিণতি বড়ই নির্মম
এআই দ্বারা নির্মিত প্রতীকী ছবি।

Thursday, August 20, 2026

টেক্সাসে বাড়ছে মুসলিমদের সংখ্যা, তীব্র হচ্ছে ইসলামবিদ্বেষও

কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষ করে ডালাসের আশপাশে। ভালো স্কুল, তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন এবং শক্তিশালী মুসলিম সম্প্রদায়ের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসলিম পরিবারগুলো সেখানে বসতি গড়েছে। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায় গড়ে উঠেছে কয়েক ডজন মসজিদ ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠান। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের এই বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অঙ্গরাজ্যটিতে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য, সামাজিক বৈরিতা এবং রাজনৈতিক প্রচারণাও জোরালো হয়েছে।

বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

জুনের শুরুর দিকে ভোর হওয়ার আগেই ঘুম থেকে উঠেছিলেন গুলাম কেহার। টেক্সাসের আরভিংয়ে নিজের স্থানীয় মসজিদ ভ্যালি র‍্যাঞ্চ ইসলামিক সেন্টারে দিনের প্রথম নামাজ আদায় করে কয়েক মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডে দায়িত্ব পালনে যাওয়ার কথা ছিল তার।

এর আগেও তিনি দায়িত্ব পালনে গিয়েছেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। স্ত্রী ও চার সন্তানকে টেক্সাসে রেখে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন।

টেক্সাসের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মুসলিমবিরোধী বক্তব্য তখন আরও তীব্র হয়ে উঠেছিল এবং সেগুলোর প্রভাব সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে হচ্ছিল। বিভিন্ন মসজিদের মুসল্লি ও ধর্মীয় নেতারা প্রকাশ্যে নামাজ পড়ার সময় কিংবা পার্কে বসে থাকার সময় তাদের উদ্দেশে করা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিজ্ঞতা পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিলেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হিউস্টনের একটি বড় ইসলামিক সেন্টারে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কনরো শহরে এক নারী মুসলিম ক্রেতাদের বলেন, তারা ‘এই অঙ্গরাজ্য বা এই দেশে স্বাগত নয়’। ওই মন্তব্যের ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর নারীটি চাকরি হারান। পরে সমর্থকদের কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পান তিনি।

ডালাসের উপশহর ম্যাককিনিতেও একটি মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে উত্তপ্ত সিটি কাউন্সিলের শুনানির সময় এক নারী সাবেক মেয়রের জামার ভেতরে ইসলামবিরোধী বার্তা লেখা কাগজ ঢুকিয়ে দেন।

‘এমন পরিবেশে তাদের একা রেখে যাওয়া কিছুটা উদ্বেগের বিষয় ছিল,’ নিজের পরিবারের প্রসঙ্গে বলেন কেহার। ‘বাইরে যেসব কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোই ভয় ধরিয়ে দিচ্ছিল।’

পরে দায়িত্ব পালনের এলাকায় তার পরিবারকে যত দ্রুত সম্ভব তার সঙ্গে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি।

কেহারের মতো গত কয়েক দশকে টেক্সাসে বসতি গড়া মুসলিমদের সংখ্যা বেড়েছে। ডালাসের দক্ষিণে ‘ডিসোটো হাউস অব পিস’-এর মতো প্রতিষ্ঠানও মুসলিম সম্প্রদায়ের নতুন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে।

‘আমেরিকান মুসলিমদের জন্য এটাই থাকার সবচেয়ে ভালো জায়গা,’ বলেন তাম্মাম আলওয়ান। ডেট্রয়েট থেকে আরভিংয়ে চলে আসা এই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি প্রার্থনা করেছিলাম—হে আল্লাহ, আমাকে আরভিংয়ে পাঠান।’

কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায় যত বেড়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভও তত বেড়েছে।

‘র‍্যাডিক্যাল ইসলাম’ মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকান রাজনীতির অংশ। জাতীয় পর্যায়েও এই বক্তব্য আরও তীব্র হয়েছে। মুসলিম রাজনীতিকদের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয় এবং মুসলিমদের রাজনৈতিক দৃশ্যমানতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

তবে টেক্সাসের রাজনীতিকরা শুধু বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তারা কিছু মুসলিম প্রতিষ্ঠান ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্যের ক্ষমতাও প্রয়োগ করেছেন।

২০২৫ সালের শুরুর দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে। পূর্ব প্লানোর ইসলামিক সেন্টার বা এপিকের সদস্যরা ডালাসের পূর্বদিকে প্রায় ৪০০ একর জমিতে মসজিদকেন্দ্রিক একটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রকাশ করলে তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয় এপিক সিটি । পরে এর নাম পরিবর্তন করে ‘দ্য মেডো’ রাখা হয়। প্রকল্পটিতে এক হাজারের বেশি বাড়ি, মসজিদ, স্কুল, দোকান, স্বাস্থ্যসেবা ও বিনোদনমূলক স্থাপনা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটি নিয়ে ইসলামবিরোধী প্রভাবক অ্যামি মেকেলবার্গ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, টেক্সাসের বারবিকিউ রেস্তোরাঁগুলোকে একটি সমন্বিত ‘দখল’-এর অংশ হিসেবে ‘আরব শপিং প্লাজা’ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। এপিক সিটি নিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘এভাবেই পশ্চিমা বিশ্বের পতন হয়।’

তার প্রচারণা টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এরপর অ্যাবট প্রস্তাবিত প্রকল্প ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে রাজ্যীয় তদন্ত শুরু করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনও প্রকল্পটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন।

প্রকল্পটির সমালোচকেরা এটিকে ‘শরিয়াহ-নিয়ন্ত্রিত’ বা মুসলিমদের জন্য আলাদা এলাকা হিসেবে তুলে ধরলেও প্রকল্পের উদ্যোক্তারা বলেছেন, এটি সব ধর্ম ও পটভূমির মানুষের জন্য উন্মুক্ত।

রিপাবলিকান কনভেনশনে শরিয়াহবিরোধী প্রপাগাণ্ডা

মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের বিস্তার টেক্সাসের রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

জুনে অনুষ্ঠিত টেক্সাস স্টেট রিপাবলিকান কনভেনশনে ‘Don’t Sharia Our Texas’ বা টেক্সাসকে শরিয়াহমুক্ত রাখার বার্তা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক স্লোগানে পরিণত হয়। একাধিক প্যানেলে মুসলিম ‘আগ্রাসন’ নিয়ে সতর্ক করা হয় এবং শরিয়াহ আইন নিষিদ্ধ করাকে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়। গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটও সম্মেলনে শরিয়াহ আইন নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান।

সম্মেলনস্থলে টেক্সাস হাউসের নতুন ‘শরিয়াহ-মুক্ত ককাস’-এর একটি বুথও ছিল। সেখানে অ্যামি মেকেলবার্গের সংগঠনের পক্ষ থেকেও প্রচারণা চালানো হয়।

এক নারীর হাতে থাকা একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমার টেক্সাসকে শরিয়াহ আইনে শাসিত করো না। স্বাধীনতা রক্ষা করো। টেক্সাস রক্ষা করো।’

এরই মধ্যে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রিপাবলিকান প্রার্থী বো ফ্রেঞ্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলিম চলে না যাওয়া পর্যন্ত আমি থামব না।’

২০১৫ থেকেই শরিয়াহবিরোধী রাজনীতি

টেক্সাসে মুসলিমদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৫ সালে আরভিংয়ের তৎকালীন মেয়র বেথ ভ্যান ডুইন শরিয়াহ আইনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন। তিনি বর্তমানে কংগ্রেসের সদস্য।

এর দুই বছর পর, ওয়াশিংটনভিত্তিক কট্টর ডানপন্থী থিঙ্কট্যাঙ্ক সেন্টার ফর সিকিউরিটি পলিসি-র উদ্যোগে আনা একাধিক বিলের অংশ হিসেবে টেক্সাসের রিপাবলিকানরা শরিয়াহবিরোধী আইন পাস করেন।

এরপর কিছু সময়ের জন্য কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিতে ইসলাম ইস্যুর গুরুত্ব কমে যায়। অভিবাসন, মহামারি ও লিঙ্গ রাজনীতি বেশি গুরুত্ব পায়।

কিন্তু পরে কট্টর ডানপন্থীদের একটি অংশ নতুন করে এমন একটি বিতর্কিত ধারণা সামনে আনে—ইসলাম কোনো ধর্ম নয়, বরং একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ।

এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই এপিক সিটি নিয়ে নতুন করে প্রচারণা শুরু হয়।

মুসলিমদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ

রিপাবলিকান রাজনৈতিক পরামর্শক অ্যান্থনি হোমের মতে, ইসলাম নিয়ে রিপাবলিকান ভোটারদের উদ্বেগ মূলত অবৈধ অভিবাসন নিয়ে তাদের ভীতিরই সম্প্রসারণ। গভর্নর অ্যাবটের বিভিন্ন পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি যা কিছু করেন, তা জনমত জরিপ দ্বারা চালিত।’

এদিকে অ্যাবট মুসলিম যাত্রীদের ধর্মীয় অজুর জন্য ব্যবস্থা রাখা টেক্সাসের বিমানবন্দরগুলোর সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করার হুমকি দেন। মুসলিমদের একটি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত একটি ব্যক্তিগত ওয়াটার পার্ক অনুষ্ঠান বাতিলের নির্দেশও দেন তিনি।

একই সঙ্গে অ্যাবট জাতীয় নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা সিএআইআর-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেন। সংগঠনটি আদালতে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

মুসলিম নেতাদের অভিযোগ, সিএআইআর-কে লক্ষ্যবস্তু করার পাশাপাশি অন্যান্য ইসলামি প্রতিষ্ঠানকেও রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মুসলিম নেতাদের অবস্থান

টেক্সাসের মুসলিম নেতারা কীভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করবেন, তা নিয়ে আলোচনা করছেন। কেউ আন্তঃধর্মীয় যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ততার পক্ষে। আবার কেউ মনে করছেন, শুধু নিজেদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব নয়।

ভ্যালি র‍্যাঞ্চ মসজিদে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশিষ্ট মুসলিম স্কলার ড. ওমর সুলেইমান বলেন, ‘আমরা সবসময় আমাদের কর্মকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে আশা করেছি, আমাদের কর্মকাণ্ডই স্বাভাবিকভাবে আমাদের পক্ষে কথা বলবে। আমরা সেটা চেষ্টা করেছি, কিন্তু এতে আমাদের কোনো লাভ হয়নি।’

তার মতে, এখন পরিস্থিতির জন্য ‘শক্ত অবস্থান’ প্রয়োজন এবং মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আইনি প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার।

‘আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলাকে এসব মানুষের জন্য আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল করে তুলতে হবে,’ বলেন তিনি। ‘আমাদের তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।’

তিনি এমন প্রতিরোধের ভিত্তি হিসেবে মার্কিন সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষার কথা উল্লেখ করেন। তবে কট্টর রক্ষণশীলরা কীভাবে সেই সুরক্ষা সীমিত করা যায়, তার পথ খুঁজছেন।

টেক্সাসে এমন একটি উদ্যোগ হিসেবে কিছু ইসলামি সাংস্কৃতিক চর্চা—যেমন বিবাহ ও অন্যান্য বিষয়ে ধর্মীয় বিধানভিত্তিক সালিশি ব্যবস্থা—নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণে রাজ্য আইন ব্যবহারের কথা আলোচনা হচ্ছে।

সান অ্যান্টোনিওর রিপাবলিকান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যালান স্কুলক্রাফট বলেন, ‘আমরা প্রথম যে বিষয়গুলো করার চেষ্টা করব, তার একটি হলো—ধর্ম বলতে কী বোঝায়, সেটি সংজ্ঞায়িত করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইসলাম শুধু একটি ধর্ম নয়। এটি একটি ধর্মের চেয়েও অনেক বেশি কিছু।’

মুসলিম অধিকারকর্মীদের মতে, পরিস্থিতি এখন আর বিচ্ছিন্ন কিছু ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক প্রচারণা, আইন প্রণয়নের উদ্যোগ এবং সরকারি পদক্ষেপের মধ্য দিয়েও এর প্রকাশ ঘটছে।

সিএআইআর-এর অস্টিন শাখার শাইমা জায়ান বলেন, ‘আমরা ইসলামোফোবিয়ার ঢেউয়ের সম্মুখীন হচ্ছি। এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঢেউ।’

সব মিলিয়ে, টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিস্তারের পাশাপাশি ইসলামবিদ্বেষী রাজনৈতিক প্রচারণাও নতুন মাত্রা পেয়েছে। মসজিদ ও মুসলিম অধ্যুষিত কমিউনিটি গড়ে ওঠা থেকে শুরু করে শরিয়াহ আইন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক—সবকিছু মিলিয়ে অঙ্গরাজ্যটির মুসলিমদের ঘিরে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হচ্ছে। 

টেক্সাসে বাড়ছে মুসলিমদের সংখ্যা, তীব্র হচ্ছে ইসলামবিদ্বেষও
ছবি: সংগৃহীত।

Tuesday, August 18, 2026

পশ্চিমবঙ্গে পরপর তিন খুন ঘিরে উত্তেজনা, নিহতদের সবাই মুসলিম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বাঁকুড়ায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা রাজ্য সরকারকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয় পুলিশের ওপর চাপ বজায় রাখতে তাঁরা আপাতত বাঁকুড়া জেলাতেই অবস্থান করছেন তিনি।

পাশাপাশি রাঙ্কা পুরো ঘটনার একটি আদালতের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্ত, নিহতের পরিবারের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা এবং নিহত ব্যক্তির স্মৃতিতে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিদ্যালয় স্থাপনেরও দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের দাবি, ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবারটির অভিযোগ, সিজেপির কর্মীর বৃদ্ধ বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ গত সপ্তাহান্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে খুনের ঘটনায় রাজ্যে কিছুটা রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার রাতে নদীয়া জেলায় বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা ৫৪ বছর বয়সী আনিসুর রহমান এবং তাঁর ২৩ বছর বয়সী ছেলে আবু সুফিয়ানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের হাত। গত রোববার এই ঘটনায় পুলিশ স্থানীয় হরনগর পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান ফাতেমা বিবি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাহেব আলী মণ্ডল ও মিঠু শেখকে গ্রেপ্তার করেছে। ঠিক এই সময়ই অর্থাৎ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক তাণ্ডব চলার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মহত্যা করেন।

এই চারটি মৃত্যুর জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি স্বাভাবিকভাবেই এসব খুনের দায় এড়াতে পারে না; কারণ, তারা রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু বিরোধী পক্ষ সরকারকে খুব একটা কোণঠাসা করতে পারেনি। কারণ, প্রধান বিরোধী মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া বাকি তিন বিরোধী অর্থাৎ সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ঋতব্রতপন্থী অংশ এখনো ঘর গুছিয়ে উঠতে পারেনি। ফলে বিজেপির ওপর চাপ খুব একটা বাড়েনি। তবে পরপর এতগুলো খুন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রবল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

বাঁকুড়ার ঘটনা

ককরোচ জনতা পার্টির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লি থেকে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ইন্দাসের কারিশুন্ডা গ্রামে এসে পৌঁছান এবং বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মারা যাওয়া মোহাম্মদ মাফিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন।

দুদিন আগে নিজের বাড়িতেই নির্মমভাবে পেটানোর পর মাফিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। তাঁদের আসার ও এই ঘটনা নিয়ে আন্দোলনে নামার কারণ, নিহত মাফিকের ছেলে আবদুল হাফিজ সিজেপির সদস্য। দিল্লিতে সিজেপির প্রতিবাদ চলাকালে তিনি সক্রিয়ভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।

রাঙ্কা জানিয়ে দেন, ১০ দিনের মধ্যে সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত আইনি ধারায় কঠোর সাজা দিতে হবে এবং ইন্দাস থানার পুলিশ কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও আদালত-পর্যবেক্ষিত নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ, পুলিশ প্রশাসন পরিবারটির পাশে সঠিকভাবে দাঁড়ায়নি।

​নিহত মাফিকের পরিবার রাজ্য সরকারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মাফিকের ছেলে আবদুল হাফিজ তাঁর বাবার স্মরণে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কুল গড়ে তোলার দাবি তুলেছেন।

হাফিজের কথায়, শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে এ ধরনের স্কুল তৈরি হওয়াই হবে তাঁর বাবার প্রতি সঠিক শ্রদ্ধাঞ্জলি। এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে সিজেপি নেতা রাঙ্কা ঘোষণা করেন, তাঁরা হাফিজকে আর্থিক সহায়তা দেবেন এবং রাজ্যজুড়ে ‘স্কুল ঠিক করো’ আন্দোলন গড়ে তুলবেন, একই সঙ্গে সময়সীমার মধ্যে আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে জেলা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করারও হুঁশিয়ারি দেন।

নদীয়া জেলার ঘটনা

​এরই মধ্যে নদীয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল নেত্রীসহ তিনজনকে শারীরিক পরীক্ষার পর আদালতে পেশ করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে চায়। আদালত তাঁদের ৯ দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ কংগ্রেসের নদীয়া জেলা সম্পাদক আনিসুর রহমান তাঁর ছেলে, পেশায় আইনজীবী আবু সুফিয়ানকে নিয়ে গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন। একটি রেলওয়ে আন্ডারপাসের কাছে তাঁদের গাড়ি আটকে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয় এবং পরে গাড়ি থেকে টেনে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়।

​তদন্তের শুরুতেই পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ইঙ্গিত দিয়েছে, এই জোড়া হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফল। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অতুল ভি এই তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার খবর নিশ্চিত করেছেন।

তবে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য কী এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা নিয়ে এখনই মন্তব্য করা তড়িঘড়ি হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

নিহত কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান (বাঁয়ে) ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান
নিহত কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান (বাঁয়ে) ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান ছবি: সংগৃহীত। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ায় বাড়ি ফেরার পথে এক কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলেকে কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহত ব্যক্তিরা হলেন আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান। গত শনিবার রাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এতে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় এক পঞ্চায়েতপ্রধানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, কারাবন্দী তৃণমূল নেতা জব্বার শেখের পরিকল্পনা ও নির্দেশে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর আগে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশ জব্বারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুমান, নিজের গ্রেপ্তারের বদলা নিতেই এই নেতার নির্দেশে প্রতিপক্ষ কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া পঞ্চায়েতপ্রধান ফাতেমা বিবি জব্বার শেখের স্ত্রী। রাজ্য সচিবালয়ে রোববার সাংবাদিকদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘তৃণমূলই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ আমাকে জানিয়েছে, জব্বার শেখ এখন জেলে আছে। জেল থেকেই সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। জব্বার শেখের স্ত্রীও গ্রেপ্তার হয়েছেন, যিনি তৃণমূলের পঞ্চায়েতপ্রধান।’ জব্বার শেখের স্ত্রী হরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। তাঁর নাম ফাতেমা বিবি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে নদীয়ার নাগাদি রেলগেটের কাছে একদল দুষ্কৃতকারী বেথুয়াডহরী থেকে ফেরার পথে আনিসুর রহমানের গাড়ি আটকে বোমা ছুড়ে তাঁকে গাড়ির ভেতর থেকে টেনে বের করে পিটিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করে। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে বেথুয়াডহরী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জব্বার শেখের গ্রেপ্তারের বদলা নিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কি না, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

Sunday, August 16, 2026

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন ফিলিস্তিনপন্থি ওকাসিও-কর্টেজ!

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে এখনই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। সেই আলোচনার কেন্দ্রে ক্রমেই উঠে আসছেন নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ (এওসি)। মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা এই প্রগতিশীল নেত্রী প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও জনপ্রিয়তা ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা দিন দিন জোরালো হচ্ছে।

সম্প্রতি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রকফেলার মেমোরিয়াল চ্যাপেলে দেওয়া এক বক্তব্যে ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা কোনো পদ বা আসন দখল করা নয়; বরং ‘দেশকে পরিবর্তন করা’। তার এ বক্তব্য উপস্থিত শ্রোতাদের ব্যাপক করতালির জন্ম দেয়। এরপর থেকেই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ওকাসিও-কর্টেজের জন্য অনুকূল হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের একটি অংশ পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বে হতাশ। বিশেষ করে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রবীণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকারকে সামনে রেখে প্রগতিশীল প্রার্থীদের সাম্প্রতিক কিছু নির্বাচনি সাফল্যও ওকাসিও-কর্টেজের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

জুলাইয়ে ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি জরিপে সম্ভাব্য ডেমোক্রেটিক প্রার্থীদের মধ্যে ওকাসিও-কর্টেজ এগিয়ে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। শুধু ইনস্টাগ্রামেই তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। তার সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ)-এর মতো প্রগতিশীল সংগঠন থেকে শুরু করে ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির মতো শীর্ষস্থানীয় নেতাও।

ডিএসএর কো-চেয়ার আশিক সিদ্দিকি বলেন, ওকাসিও-কর্টেজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়লে সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হবে। তার মতে, ২০২৮ সালের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে শ্রমজীবী মানুষের শক্তিশালী কণ্ঠ থাকা প্রয়োজন।

জাতীয় পরিচিতি তৈরিতে দীর্ঘ প্রস্তুতি

ওকাসিও-কর্টেজ ২০১৬ সালে বার্নি স্যান্ডার্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছিলেন। পরবর্তীতে নিজেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে ২০১৮ সালে নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ১০ মেয়াদের কংগ্রেসম্যান জো ক্রাউলিকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেন। তখন তিনি ছিলেন সাবেক বারটেন্ডার ও ওয়েট্রেস, নির্বাচনি প্রচারের জন্যও তার হাতে ছিল খুব সামান্য অর্থ।

তবে প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর সহায়তায় তিনি দ্রুত জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে আসেন। তার প্রথম নির্বাচনি চক্রেই প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছ থেকেও সাক্ষাতের অনুরোধ আসতে শুরু করে।

ওকাসিও-কর্টেজের সাবেক যোগাযোগ পরিচালক ও জাস্টিস ডেমোক্র্যাটসের সহপ্রতিষ্ঠাতা করবিন ট্রেন্টের ভাষ্য, ২০১৮ সালে ক্রাউলিকে হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহল তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু করে। কিন্তু তিনি নিজে কখনো প্রেসিডেন্ট, গভর্নর বা সিনেটর হওয়ার কোনো দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করেননি।

ট্রেন্টের মতে, ওকাসিও-কর্টেজের সবচেয়ে বড় শক্তি তার স্বাভাবিকতা ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষমতা। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগকে তিনি নিজের ভাষায় তুলে ধরতে পারেন বলেই তার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক কৌশলবিদ ক্রিস স্কটও মনে করেন, তার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা—বিশেষ করে বারটেন্ডার হিসেবে কাজ করার অতীত—অনেক ভোটারের সঙ্গে তাকে সহজে সংযুক্ত করে। ক্রমেই মেরুকৃত মার্কিন রাজনীতিতে ভোটাররা এমন প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকছেন, যাদের জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেদের জীবনের মিল খুঁজে পান।

প্রগতিশীলদের সমর্থন, আবার সমালোচনাও

গাজা ইস্যুতেও তার অবস্থান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তিনি ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে কমলা হ্যারিসের গাজা নীতির প্রশংসা করায় বামপন্থী কর্মীদের একাংশ তার সমালোচনা করে।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ২০২০ সালের মহামারি-পরবর্তী সময়ের সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব ও ‘পুলিশের অর্থায়ন বন্ধ’ করার মতো কিছু বামপন্থী দাবির প্রসঙ্গে ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, সেই সময়ের ‘ওয়োক’ রাজনীতি ছিল অতিরিক্ত উগ্র। বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য তার রাজনৈতিক অবস্থানকে কিছুটা মধ্যপন্থী করার কৌশলও হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে বড় চ্যালেঞ্জ

২০২৮ সালের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি যে কঠিন প্রতিযোগিতাপূর্ণ হবে, তা নিয়ে খুব বেশি সন্দেহ নেই। ওকাসিও-কর্টেজ প্রার্থী হলে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তালিকায় থাকতে পারেন কমলা হ্যারিস, পিট বুটিগিগ, গ্যাভিন নিউজম, জন অসফ এবং প্রগতিশীল কংগ্রেসম্যান রো খান্নার মতো নেতারা।

২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হলে ওকাসিও-কর্টেজ মার্কিন ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ পাবেন—এমনকি থিওডোর রুজভেল্ট ও জন এফ কেনেডির রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারেন।

তবে তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে ডেমোক্রেটিক পার্টির বিভিন্ন অংশের সমর্থন নিশ্চিত করা। বিশেষ করে আফ্রিকান-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক ধারার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বার্নি স্যান্ডার্সের ২০২০ সালের নির্বাচনি প্রচারের জাতীয় কো-চেয়ার নিনা টার্নার বলেন, ডিএসএ ও প্রগতিশীলরা কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের কাছে যথেষ্ট কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পারেনি। তার মতে, ২০২৮ সালে ওকাসিও-কর্টেজকে জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য হতে হলে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর উদ্বেগ ও সংগ্রামকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে।

দক্ষিণ ক্যারোলিনার ডেমোক্রেটিক কৌশলবিদ অ্যান্টুয়ান সিওরাইটের মতে, ওকাসিও-কর্টেজকে এমন ইস্যুতে মনোযোগ দিতে হবে যা সাধারণ আমেরিকান পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো বিষয়কে সহজবোধ্যভাবে তুলে ধরতে পারলে তিনি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন।

রিপাবলিকানদের আক্রমণও হবে বড় বাধা

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হলে রিপাবলিকান ও ডানপন্থী গণমাধ্যমের তীব্র আক্রমণের মুখেও পড়তে পারেন ওকাসিও-কর্টেজ। বহু বছর ধরে তাকে উগ্র বামপন্থী বা ‘কমিউনিস্ট’ হিসেবে চিত্রিত করে আসছে ডানপন্থী মহল।

সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল যোগাযোগ পরিচালক তারা সেটমেয়ার মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওকাসিও-কর্টেজের কিছু মন্তব্য তার অবস্থানকে মধ্যপন্থী দেখানোর কৌশল হতে পারে। তবে ইন্টারনেটের যুগে তার পুরোনো বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান সহজে হারিয়ে যাবে না।

সেটমেয়ারের পরামর্শ, সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে না গিয়ে ওকাসিও-কর্টেজের বরং নিউইয়র্কের সিনেট আসনের দিকে নজর দেওয়া উচিত। তার মতে, সিনেটর হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জন করলে ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য তার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

তবে ইতিহাসে এমন অনেক উদাহরণও রয়েছে, যেখানে নেতারা ‘সঠিক সময়ের’ অপেক্ষায় থেকে সুযোগ হারিয়েছেন। আবার বারাক ওবামার মতো নেতারা সঠিক মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে সরাসরি হোয়াইট হাউসে পৌঁছেছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন ফিলিস্তিনপন্থি ওকাসিও-কর্টেজ!
নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ

কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে শহরে থানাপাড়া জামে মসজিদের সামনে ছয়রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ হামলার জন্য গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের অভিযুক্ত করছেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মহসীন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গণ অধিকার পরিষদের লোকজন আক্রমণ করেছে। তাঁদের সঙ্গে বিএনপির ছাত্রদল যোগ দিয়েছে। এমপি সাহেব (আমির হামজা) বাইরে থেকে আসছিলেন, ওরা ইটপাটকেল মেরে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙেছে। আমাদের লোকজন প্রতিহত করতে গেলে মারামারি হয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে কেস (মামলা) করব।’

হামলায় আমির হামজা আঘাত পেয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে জেলা জামায়াতের আমির বলেন, ‘আঘাতপ্রাপ্ত হননি। এমপি সাহেব ওনার বাসায় আছেন। আমাদের লোকজন প্রটেকশন দিচ্ছে।’

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গণ অধিকার পরিষদ সম্পর্কে আমির হামজা একটি বক্তব্য দিয়েছেন। সেই বক্তব্যের জেরে গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে আজ বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে থানাপাড়া জামে মসজিদের সামনে প্রতিবাদ সভা করা হয়। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে আমির হামজা নিজ গাড়িতে করে মোড় হয়ে পাশেই তাঁর বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় সমাবেশ থেকে স্লোগান দিতে থাকেন গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা। তখন আমির হামজার গাড়ির সামনে-পেছনে পুলিশের একাধিক গাড়ি ছিল।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ছয় রাস্তার মোড় অতিক্রম করার সময় গণ অধিকার পরিষদ ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের (এমপির গাড়িবহরের সঙ্গে থাকা) মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। পাল্টাপাল্টি স্লোগানও চলতে থাকে। একপর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা আমির হামজাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হেঁটে বাড়ির দিকে নিয়ে যান। গাড়িটিও তাঁদের পেছন পেছন যেতে থাকে। দুই দলের নেতা-কর্মীদের ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে দুই পক্ষই ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। ইটের আঘাতে আমির হামজার গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। গাড়ির আরও কয়েক জায়গায় ইটের আঘাত লাগে।

দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের সময় ছয় রাস্তার মোড় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ ছোটাছুটি করতে থাকে। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। ঘটনার সময় পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতুব্বর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সাথেই ছিলাম। এরই মধ্যে হঠাৎ করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এমপি সাহেব বাড়িতে আছেন। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে আছে।’

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আমির হামজার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর গাড়িটি গ্যারেজে রাখা। তিনি বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। নেতা-কর্মীদেরও ভিড় ছিল। ওই সময় ৫০-৬০ জন নেতা-কর্মীকে লাঠিসোঁটা বের হতে দেখা যায়।

আমির হামজার মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত তানভীর হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা একটা অনুষ্ঠান শেষ করে বাসায় ফিরছিলাম। এমপি সাহেবের গাড়ির সামনে ও পেছনে পুলিশ ও র‌্যাবের গাড়ি ছিল। এমপি সাহেব চলে যাওয়ার সময় গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা আক্রমণ করে। ইট দিয়ে গাড়িতে আঘাত করে। সদর থানার ওসির উপস্থিতি থাকা সত্বেও হত্যার উদ্দেশে এ আক্রমণ হয়। ইটের আঘাতে আমার পায়ে রক্ত ঝড়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গণ অধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলার সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন তাঁর ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, কুষ্টিয়ার এমপি আমির হামজা তাঁর এক বক্তব্যে গণ অধিকার পরিষদকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন, সেই বক্তব্যের প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করলে সেখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে গণ অধিকার পরিষদের ৪০-৫০ জন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হন।

হাসান আল মামুন ফেসবুকে আরও লিখেছেন, ‘প্রিয় জামাত, আপনারা ভুলে গেছেন গণ অধিকার পরিষদের অবদান? সমস্যা নেই, সময় বলে দিবে আপনারা কোন পথে যাবেন! শেখ হাসিনার পথ আপনাদের ডাকছে।’

গণ অধিকার কার্যালয়ে হামলা

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সন্ধ্যা সাতটার দিকে আমির হামজার সর্মথকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে গণ অধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে শহরের ছয় রাস্তা মোড়ের পাশে হরিপুর সংযোগ সেতুর নিচে যায়। সেতুর নিচে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। এতে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে গেলে তাঁদের ওপর চড়াও হয় ভাঙচুরকারীরা।

এ বিষয়ে গণ অধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় আমির হামজার সমর্থকেরা তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজন এসেছিলেন। তাঁরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। তাঁদের সামান্য কাটাছেঁড়া দেখা গেছে। ইটের আঘাত হতে পারে।
গণ অধিকারের বিষয়টা আমাদের ওপর চাপাচ্ছে

আমির হামজার ওপর হামলার বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের ছেলেরা গিয়ে দুই পক্ষকেই সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছে। আমরা কখনোই চাইনি মারামারি হোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি আমির হামজা গণ অধিকার ও আমাদের নিয়ে কিছু আপত্তিকর কথা বলেছেন। এ জন্য গণ অধিকার ছয় রাস্তার মোড়ে সমাবেশ করছিল। জামায়াত যে অভিযোগ করছে তা একেবারেই ভিত্তিহীন। গণ অধিকারের বিষয়টা আমাদের ওপর চাপাচ্ছে।’

হামলায় আমির হামজার গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তোলা ছবি
হামলায় আমির হামজার গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তোলা ছবি। প্রথম আলো

Tuesday, August 11, 2026

দিল্লির চাপ সামাল দিতে ঝাড়খন্ডকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পুঁজি করছে বিজেপি

দিল্লিতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশি অত্যাচার নিয়ে কোণঠাসা বিজেপিকে চাঙা করে দিল ঝাড়খন্ডে একই ধরনের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিপেটা। দিল্লির ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমাপ্রার্থনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহির দাবিতে জেরবার বিজেপি আজ মঙ্গলবার পাল্টা মুখর হলো রাঁচিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশি লাঠিপেটার ঘটনায়।

বিরোধীদের যে দাবিতে টানা তিন সপ্তাহ সংসদ অচল রয়েছে, সেই দাবিই এবার হাতিয়ার হলো কেন্দ্রের শাসকশিবিরের সদস্যদের। ঝাড়খন্ডের ঘটনার জন্য আজ কংগ্রেস নেতার রাহুল গান্ধীর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি। সংসদ চত্বর গম গম করে ওঠে সরকার ও বিরোধীদের মুখোমুখি বিক্ষোভ ও পাল্টাপাল্টি স্লোগানে।

এর ফলে আজও সংসদের উভয় কক্ষে স্বাভাবিক কাজ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও লোকসভা বা রাজ্যসভায় যাননি। টানা তিন সপ্তাহ সংসদে বিরোধীদের মুখোমুখি না হয়ে মোদি ও শাহ এক বিরল নজির সৃষ্টি করলেন।

সরকারপক্ষ জানিয়েছে, অমিত শাহ বিবৃতি দিতে রাজি। বিরোধীরা জানিয়েছেন, দায়সারা বিবৃতি নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে, পেলেট গান ছোড়াসহ পুলিশকে অত্যাচারের নির্দেশ কে দিয়েছিল। আগামী বৃহস্পতিবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের শেষ দিন।

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে ঝাড়খন্ডের শিক্ষার্থীরা কিছুদিন ধরেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। দিল্লিতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভের সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সদস্যদের পাশাপাশি অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতানেত্রীরা অনশন করেছিলেন, ঝাড়খন্ডে তেমনই অনশন করছেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো।

নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল, অপরাধীদের শাস্তিদান ও দুর্নীতির তদন্তের ভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে গতকাল সোমবার শিক্ষার্থীরা বিধানসভা ভবন অভিযানে শামিল হন। তা ঠেকাতে ঝাড়খন্ড পুলিশ জলকামান ছোড়ে। লাঠি চালায়। আজ সংসদ ভবন চত্বরে তা নিয়ে সরব হন বিজেপি ও এনডিএ সদস্যরা। পুলিশি অত্যাচারের জন্য পাল্টা তাঁরা রাহুল গান্ধীর ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। কংগ্রেস ঝাড়খন্ডে ইন্ডিয়া জোট সরকারের শরিক। ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) নেতৃত্বাধীন মোর্চায় কংগ্রেস ছাড়াও রয়েছে আরজেডি ও বামপন্থীরা।

দিল্লিতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশ, র‍্যাফ ও সিআরপিএফ লাঠি চালিয়েছিল, কাঁদানে গ্রাসের শেল ছুড়েছিল, পেরেক পোঁতা ও ইলেকট্রিক শক দেওয়া লাঠি (শক ব্যাটন) ব্যবহার করেছিল এবং পেলেট গান থেকে ছররা গুলি ছুড়েছিল।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ সিজেপি নেতারা সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন, পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীকে ওভাবে শক্তি প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই। সে কারণে তাঁর জবাবদিহির দাবিতে বিরোধীরা আজও সংসদ অচল রেখেছে।

বিরোধীদের দাবি, অমিত শাহকে জানাতে হবে ওই নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন কি না। না দিলে কে পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিল। বস্তুত, তিন সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও অমিত শাহ সেই দাবি মানেননি। প্রধানমন্ত্রী মোদিও শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাননি।

ঝাড়খন্ডের ঘটনা নিয়ে আজ সকালে কোণঠাসা বিজেপি ও এনডিএ জোট সরব হয়ে ওঠেন। বিরোধীদের মতো তাঁরাও প্ল্যাকার্ড নিয়ে সংসদ ভবনে আসেন। কংগ্রেস নেতা রাহুলের ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে মুখর হন, যদিও রাহুল ঝাড়খন্ড সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন।

২০ জুলাই দিল্লিতে পুলিশি অত্যাচার নিয়ে মোদি-শাহ এখনো মুখ খোলেননি। কিন্তু রাহুল গতকালই রাঁচিতে পুলিশি লাঠি চালনার নিন্দা করে বিবৃতি দেন। গতকালই ‘এক্স’ হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘ঝাড়খন্ডে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ ভুল সিদ্ধান্ত। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার রয়েছে। একমাত্র আলোচনার মধ্য দিয়েই সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসতে পারে।’

রাহুল রাজ্য সরকারকে অনুরোধ জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে দ্রুত সমস্যার সুরাহা করতে।

ইনস্টাগ্রামে রাহুল গান্ধী ‘আস্ক মি এনিথিং’ নামে এক অনুষ্ঠান করছেন। তাতে ঝাড়খন্ডের শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাহুল বলেন, ‘দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন করছেন বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে। কোটা, দেরাদুন, এলাহাবাদে (প্রয়াগরাজ) আমি স্পষ্ট ভাষায় বলেছি, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও নিপীড়নমূলক। কেন্দ্রীয় সরকার, ঝাড়খন্ড সরকার বা কংগ্রেস সরকার, সবার উচিত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার আনা।’

শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে রাহুলের অবস্থান স্বচ্ছ ও স্পষ্ট হলেও সংসদ ভবন চত্বরে বিজেপি সদস্যরা তাঁকেই আক্রমণের লক্ষ্য করে তোলেন। ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে মুখর হন। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকেন বিরোধীরাও। তাঁরাও মুখর নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে। এক সময় ওইখান দিয়ে আসতে দেখা যায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদেরাকে। বিজেপি সদস্যরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন রাহুল কেন চুপ। জবাবে প্রিয়াঙ্কা বলেন, রাহুল পুলিশি অত্যাচারের নিন্দা করেছেন। ঝাড়খন্ডের পড়ুয়াদের সঙ্গেও দেখা করেছেন।

ঝাড়খন্ডের অনশনকারী ছাত্র নেতা দেবেন্দ্র মাহাতো গতকাল বিধানসভা অভিযানে শামিল হন অ্যাম্বুলেন্সে চেপে। পরে শরীর খারাপ হয়ে গেলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেবেন্দ্র ১০ দিন ধরে অনশন করছেন। গতকাল গভীর রাতে তাঁকে ভিডিও কল করেন সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে।

পরে দিপকে ‘এক্স’ হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘দেবেন্দ্র মাহাতোর সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশের লাঠিতে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ওকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বুকে ব্যথা অনুভব করছেন। যন্তর মন্তর হোক বা ঝাড়খন্ড, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের এই বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা অমানবিক। সিজেপি দৃঢ়ভাবে দেবেন্দ্র ও তাঁর সংগ্রামের পাশে আছে। তিনি একজন প্রকৃত বীর। তাঁর সাহস ও শক্তিকে কুর্নিশ করি।’

ঝাড়খন্ড সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বারবার আলোচনা করেছে। রাজ্য সরকারের দাবি, ৯৮ শতাংশ দাবি মানা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যে দুই দাবি মানতে সরকার নারাজ তার একটি হলো দুর্নীতির তদন্তের ভার সিবিআইয়ের হাতে ছেড়ে দেওয়া। অন্যটি হলো ঝাড়খন্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি) ও কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (সিজিএল) পরীক্ষা দুটি বাতিল করার।

এই দুই দাবি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে সরকার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে। রাজ্যে বিজেপি বিরোধী পক্ষ। তারা ছাত্রদের সমর্থনে ও পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে আজ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

সিজেপির সমর্থকদের ওপর পুলিশের দমন–পীড়ন ও রামমন্দিরের অর্থ লোপাটের প্রতিবাদের কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য অভিনেত্রী জয়া বচ্চনসহ বিরোধী সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভ করেন। ১১ আগস্ট ২০২৬, নয়াদিল্লি
সিজেপির সমর্থকদের ওপর পুলিশের দমন–পীড়ন ও রামমন্দিরের অর্থ লোপাটের প্রতিবাদের কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য অভিনেত্রী জয়া বচ্চনসহ বিরোধী সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভ করেন। ১১ আগস্ট ২০২৬, নয়াদিল্লি। ছবি: এএনআই

Monday, August 10, 2026

ডিনায়াল ও ডিফেমেশনের রাজনীতি by দিলশানা পারুল

২০২৪-এর জুলাই মাসে আন্দোলনের হত্যা এবং নৃশংসতার যেসব ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে আসত, সেটি ফেসবুকে শেয়ার দেওয়ার পর আওয়ামী লীগপন্থিরা সঙ্গে সঙ্গে কমেন্ট সেকশনে এসে বলত, এটা ফেক ভিডিও, আপনি প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। কোনো ধরনের ভ্যালিডেশন ছাড়া সব ভিডিওকে তারা ফেক ভিডিও বলে হত্যাকাণ্ডগুলোকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিত। এমনকি আন্দোলনের যে ছবিগুলো আসত, প্রতিরোধের যে ভিডিওগুলো আসত, সেগুলোর পোস্টের নিচে এসেও বলত, এসব ভিডিও ফেক, আপনি প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন।

আজকে দুই বছর পর, ২০২৬-এর জুলাই মাসেও একইভাবে দেখবেন, পুরো এই দুই বছর জুড়েই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে যে রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করা হয় এবং এই দুই বছর যাবৎই যেটা করা হয়েছে, সেটি হচ্ছে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এসব হত্যাকাণ্ডকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা। এমনকি এই ছাত্র-জনতার প্রতিরোধগুলোকেও অস্বীকার করা এবং এই যে ঘটমান সত্যকে তারা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে, ডিনাই করে, এটি কোনো র‍্যান্ডম ঘটনা না; বরং এটা ডেলিবারেটলি দুই বছর ধরে করে আসা ঘটনা। এটাই তাদের সচেতন রাজনৈতিক অবস্থান যে, আওয়ামী লীগের দ্বারা সংঘটিত সব অপরাধকে চোখ বন্ধ করে অস্বীকার করে ফেলতে হবে। তাহলে বোধহয় তাদের দায়মুক্তি ঘটে গেল। এটি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান। অনেকটা এ রকম, যতক্ষণ অপরাধী অপরাধের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত অপরাধী অপরাধ ঘটিয়েছে—এর কোনো প্রমাণ নেই। আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এটা মনে করে এবং রিলিজিয়াসলি এটা চর্চা করে।

এটাই হচ্ছে অস্বীকার বা ডিনায়ালের রাজনীতি। খুব দুঃখজনকভাবে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে গত দুই বছরে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্টেকহোল্ডার আরো অনেক দল এই অস্বীকারের রাজনীতিকে এনডোর্স করেছে, প্যাট্রোনাইজ করেছে।

আরো কতগুলো রাজনৈতিক গোষ্ঠী আছে, যারা আওয়ামী লীগের দ্বারা হত্যাকাণ্ডকে স্বীকার করে, কিন্তু তার বিপরীতে জুলাইয়ের সময় মাঠে যে ছাত্র-জনতার রেজিস্ট্যান্স ছিল, সেই প্রতিরোধকারী স্টেকগুলোকে ক্রমাগত অস্বীকার করে। জুলাই অভ্যুত্থানে পরিষ্কার দুটি ভাগ ছিল। একটা হচ্ছে শেখ হাসিনা রেজিম দ্বারা ছাত্র-জনতাকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা আর দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে রাস্তায় ছাত্র-জনতার গড়ে তোলা রেজিস্ট্যান্স। আওয়ামী লীগ সরাসরি ডিনাই করে তাদের দ্বারা যে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটেছে সেটাকে আর বাংলাদেশের অপরাপর অনেক রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডার তারা অস্বীকার করে ছাত্র-জনতার যে শক্তিটা মাঠে রেজিস্ট্যান্স গড়ে তুলেছিল সেই অংশটাকে। তারা প্রধানত অস্বীকার করে মাঠের রেজিস্ট্যান্সের যে নিউক্লিয়াস ছিল, যারা খুব পরিকল্পিতভাবে অন্তত নিউক্লিয়াসের অংশটাকে সংগঠিত করেছে এবং দেশব্যাপী আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়েছে, সেই রেজিস্ট্যান্সের নিউক্লিয়াসটাকে তারা অস্বীকার করে। এটাও ডিনায়ালের রাজনীতিই। ঘটমান সত্যকে অস্বীকার করা।

এবার একটু দেখতে চাই ডিফেম বা কলঙ্কিতকরণের রাজনীতিটা কীভাবে ঘটেছে। তার আগে একটু বলে নিই, ডিফেম বা কলঙ্কিতকরণ কেন করা হয়। আপনি যখন কোনো কিছুর গ্রহণযোগ্যতাকে নষ্ট করতে চান, তখন সে বিষয় বা ব্যক্তিকে ধরে ডিফেম করবেন বা কলঙ্কিত করবেন। পর্যাপ্ত পরিমাণে যদি ওই বিষয় বা ব্যক্তির ওপর কলঙ্ক আরোপ করা যায়, তাহলে তার গ্রহণযোগ্যতাকে সরাসরি নষ্ট করে দেওয়া যায় এবং রাজনীতিতে এটা খুবই কার্যকর একটা পন্থা। ঠিক এ বিষয়টিকেই আমরা দেখেছি জুলাই অভ্যুত্থানের আন্দোলন এবং তার পরবর্তী গত দুই বছর।

এবার একটু দেখতে চাই এই কলঙ্কিতকরণ প্রকল্পটা কী কীভাবে চলেছে

পুরো জুলাই মাসে ছাত্ররা যখন মাঠে আন্দোলন গড়ে তুলছে, তখন এটাকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে জঙ্গিদের আন্দোলন হিসেবে।

আওয়ামী লীগ যেহেতু নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে পোর্ট্রে করতে পেরেছিল, কাজেই এই আন্দোলনকে তারা ট্যাপ ইন করার চেষ্টা করল ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় হেরে যাওয়া শক্তি জামায়াত-শিবির-রাজাকারের চক্রান্ত হিসেবে’।

আন্দোলনের মধ্যে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে গেছে—এই ন্যারেটিভ মাঠে আমদানি করে। তবে এই কলঙ্কিতকরণ সবচেয়ে বেশি চলেছে ৫ আগস্টের পর। ৫ আগস্টের পর যেটি হলো, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারের পেছনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক যে ছাত্র সংগঠনটি নেতৃত্বদানকারী এবং অন্যতম প্রধান সংগঠকের ভূমিকায় ছিল, সেই ‘ছাত্রশক্তি’ সংগঠনটিকে ভিলেন হিসেবে হাজির করা হলো। কোনো ধরনের ডকুমেন্ট এবং ঐতিহাসিক রেফারেন্স ছাড়া ছাত্রশক্তি সংগঠনটিকে বাংলাদেশের রাজনীতির বিভিন্ন স্টেকহোল্ডাররা স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক, রাজনীতি না বোঝা, ক্ষমতালোভী একদল ছেলেমেয়ের ক্ষতিকারক ক্লাব হিসেবে হাজির করলেন। একটি লেজিটিমেট, শক্তিশালী নতুন ধরনের ছাত্র সংগঠনের ক্রেডিবিলিটিকে সম্পূর্ণভাবে ধসিয়ে দেওয়া সম্ভব হলো এই কলঙ্কিতকরণের মধ্য দিয়ে।

আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ব্যানারের নিচে ‘ছাত্র সমন্বয়ক’ এই পদটা। জুলাই অভ্যুত্থানের পরে সবচেয়ে বেশি কলঙ্কিত করা হয়েছে এই ছাত্র সমন্বয়ক দাবি করা এবং পরিচয়ে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আন্দোলনের যে সংগঠকরা ছিল, তাদের। সত্য-মিথ্যা জড়িয়ে অথবা বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ—এসব কিছু প্রয়োগ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র সমন্বয়ক পদটাকে সম্পূর্ণভাবে কলঙ্কিত করা গেছে। বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের রাজনীতিতে যে আন্দোলনের ব্যানারটা হতে পারত অসম্ভব শক্তিশালী একটা ব্যানার এবং রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারত, তাকে সম্পূর্ণভাবে ধসিয়ে দেওয়া গেছে।

পরে এই অভ্যুত্থানের মধ্যে থেকে উঠে আসা ছাত্র নেতৃত্বরা যখন রাজনৈতিক দল করতে চাইল, সে রাজনৈতিক দলের সম্মুখভাগে থাকা নেতৃত্বদের একজন একজন করে ধরে ভিলিফাই করা হয়েছে, কলঙ্কিত করা হয়েছে। তার অর্থনৈতিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, পদবাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত—এই ধরনের বহুবিধ সত্য-মিথ্যা অ্যালিগেশন এনে, যেগুলো পরে প্রমাণও করা যায়নি, এগুলো করার মধ্য দিয়ে এই রাজনৈতিক ফোর্সটাকেও খুব সফলভাবে কলঙ্কিত করা গেছে।

অভ্যুত্থানপন্থি রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে কলঙ্কিত করার জন্য বা ডিফেম করার জন্য কতগুলো মতাদর্শিক অবস্থানকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন : অভ্যুত্থানপন্থি যে দলীয় রাজনৈতিক এবং নির্দলীয় রাজনৈতিক বর্গ বা এনটিটিগুলো ছিল, তাদের হরেদরে ডানপন্থি, উগ্রবাদী, নারীবিদ্বেষী, সংস্কৃতিবিদ্বেষী অথবা ধর্মবিদ্বেষী, শাহবাগি—এ ধরনের বিভিন্ন মতাদর্শিক কম্পাসের নিক্তিতে মেপে এই জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোকে ভিলিফাই করা হয়েছে এবং তারা সমাজের জন্য ক্ষতিকারক, এই মতাদর্শিক অবস্থানগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়—সেটি প্রমাণ করা গেছে এবং এই মতাদর্শিক স্কেলে মেপে তাদের কলঙ্কিত করা হয়েছে, তাদের গ্রহণযোগ্যতাকে খারিজ করা হয়েছে। রাজনীতির ময়দানে এই ডিনায়াল এবং ডিফেমেশন খুবই কার্যকর দুটি টুলস। অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে পারপেট্রেটর বা অপরাধী সব অপরাধকে যেমন ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, একইভাবে গণমানুষের রেজিস্ট্যান্সকে অস্বীকার করে গণমানুষের যে সম্ভাবনা, সেটাকেও ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

আর ডিফেমেশন বা কলঙ্কিতকরণ টুলসের মধ্য দিয়ে সব সম্ভাবনাময় যে বিপ্লবী বা পরিবর্তনকামী রাজনৈতিক ফোর্স ছিল, তাদের গণমানুষের সামনে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে হাজির করা হয়েছে। যেন গণমানুষের রাজনৈতিক শক্তি গড়ে ওঠার জন্য ন্যূনতম শর্তও মাঠে হাজির না থাকে।

* দিলশানা পারুল, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

ডিনায়াল ও ডিফেমেশনের রাজনীতি

Sunday, August 9, 2026

দুই বছর পর প্রকাশ্যে শামীম ওসমান, করলেন কর্মীসভা by আবু সাউদ মাসুদ

নারায়ণগঞ্জে ‘খেলা হবে’ স্লোগান দিয়ে রাজনৈতিক মাঠ গরম রাখা সেই শামীম ওসমানকে প্রায় দুই বছর পর আবার প্রকাশ্যে দেখা গেছে। তবে এবার নারায়ণগঞ্জের কোনো মিছিল-মিটিংয়ে নয়, হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের এক কর্মীসভায়।

প্রতিপক্ষের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক বিভিন্ন মন্তব্য ছুড়ে দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই সাবেক সংসদ সদস্যকে নিউইয়র্কের ওই সভায় বক্তব্য দিতে দেখা যায়।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রকাশ্যে তার অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। দুই বছর পরে অবশেষে তাকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা গেল।

সভায় নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে অনেকটা আত্মসমালোচনার সুরেই কথা বলেন শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যর্থ।’ একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শামীম ওসমানের বক্তব্যে অবশ্য পুরোনো রাজনৈতিক ‘খেলার’ প্রসঙ্গও ফিরে আসে। তিনি বলেন, কে বড় নেতা আর কে ছোট নেতা—এটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; এখন প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, অনেক আগেই তিনি দেশে কী হতে যাচ্ছে তা বুঝতে পেরেছিলেন। তার দাবি, তিনি ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখতেন। বিএনপিকে নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।

নিউইয়র্কের সভায় শামীম ওসমান দাবি করেন, তার রাজনৈতিক মনোযোগের মূল লক্ষ্য ছিল এমন গোষ্ঠী, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মানে না। এ প্রসঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা গোলাম আজমের নিষিদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। নিজের কার্যালয়ে দেশের বড় বোমা হামলার ঘটনাও স্মরণ করেন তিনি।

এরপর আসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের উত্তাল সময়ের প্রসঙ্গ। শামীম ওসমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ২ আগস্ট রাতে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তখন তিনি সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া, কারফিউ প্রত্যাহার এবং নারায়ণগঞ্জে বড় ধরনের জনসমাবেশ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জে তার দেড় থেকে দুই লাখ মানুষ জড়ো করার সক্ষমতা ছিল। আশপাশের এলাকাতেও খবর পাঠানোর কথা বলেছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগের শক্তির উৎস ছিল জনগণ। তবে সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় শেখ হাসিনা রক্তপাত এড়াতে চেয়েছিলেন।

১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় শামীম ওসমানসহ ওসমান পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। ওই সময় সংঘর্ষ ও গুলিতে শিশু রিয়া গোপসহ বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হন। এসব ঘটনায় শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও ওঠে।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির আলোচিত-সমালোচিত এই নেতাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এরপর তিনি দেশ ছাড়েন এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শামীম ওসমানসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার চলমান রয়েছে।

তবে নিউইয়র্কের কর্মীসভায় শামীম ওসমানের উপস্থিতি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন পর তাকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দেখা যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।

দুই বছর পর প্রকাশ্যে শামীম ওসমান, করলেন কর্মীসভা