Showing posts with label যুগান্তর. Show all posts
Showing posts with label যুগান্তর. Show all posts

Friday, September 20, 2019

কাশ্মীর নিয়ে কেন ভারত-পাকিস্তানের এত আকর্ষণ? by মনযূরুল হক

কাশ্মীর শুধু মুসলিমদের নয়, শুধু হিন্দু কিংবা বৌদ্ধদেরও নয়। লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীর মিলে যে জে-কে স্টেট, সেখানে লাদাখে বৌদ্ধ ও মুসলিমরা থাকেন, কাশ্মীরে থাকেন মুসলিম, পণ্ডিত ও শিখরা। আর জম্মুতে জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ হিন্দু, ৪০ শতাংশ মুসলিম। যদিও রাজ্যে গড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম প্রায় ৭০ ভাগ।

হিন্দু ধর্ম কি মানুষের মুক্তি চায় না, বৌদ্ধধর্মও কি চায় না- যেভাবে ইসলাম চায়? এই প্রশ্নের উত্তর জানা প্রয়োজন। কেননা, মানুষের মুক্তির প্রশ্নে মুক্তি ও ধর্মকে কাশ্মীরে মুখোমুখী করে দাঁড় করানো হয়েছে এই অজুহাতে যে, এটা রাষ্ট্রের সমাধান, এখানে ধর্মের নাক-গলানো যাবে না।

অর্থাৎ ধর্মের সমাধান রাষ্ট্র মানুক চাই না-মানুক, রাষ্ট্রের সমাধান ধার্মিকমাত্রই মানতে বাধ্য, তা রাষ্ট্র যদি নির্দিষ্ট ধর্মানুসারীদের পক্ষপাতী হয়েও করে, তাহলেও।

-----এক.-----

রাষ্ট্রের সমাধানটা আসলে কী? ভারত রাষ্ট্র কাশ্মীরকে ভালোবাসে না। সমাধান তো ঘৃণা দিয়ে হয় না। রাষ্ট্র নিজে তো ঘৃণা করেই (রাজনীতিকরাই এখন রাষ্ট্র), ভারতের জনসাধারণের কমসংখ্যক আছেন যারা কাশ্মীরের প্রতি হৃদ্যতা রাখেন। যুগের পর যুগ বেশুমার হত্যা ও নিপীড়ন কাশ্মীরের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ, তাতে সন্দেহ কি।

ইন্ডিয়া এই ঘৃণ্য-কাশ্মীরকে ধরে রেখেছে কেনো? কারণ পাকিস্তান তার জাতশত্রু, সে পাকিস্তানের কাছে হারতে চায় না। কাশ্মীরকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে সে পাকিস্তানকে পোড়ায়। কাশ্মীর হাতছাড়া হওয়া মানে পাকিস্তানের কাছে হেরে যাওয়া। এই হারের লজ্জায়, জাতীয়তাবাদের গায়রাতের জিঘাংসা সে কাশ্মীরের উপর মেটায়।

কারণ কাশ্মীরিরা পাকিস্তানের প্রতি হৃদ্যতা পোষণা করে, আর ইন্ডিয়াকে ঘৃণা করে বলে- কাওয়ার্ড। তাতে ইন্ডিয়া ভীষণ বিব্রত ও ক্ষিপ্ত হয়। তারপরও যদি কাশ্মীরের প্রতি ভারতের সামান্য আকর্ষণ থেকে থাকে, তা হলো স্বর্গসম সেখানকার ভূমি- জনসমষ্টি নয়।

হতে পারে জনসমষ্টির বিচারে সারা ভারতে একমাত্র সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম বলে।

পাকিস্তান কি কাশ্মীরকে ভালোবাসে? প্রজারা হয়তো বাসে, রাজারা? প্রজারা যে বাসে, তা কি এই কারণে নয় যে, তারা মুসলিম? হিন্দু-বৌদ্ধদেরও কি তারা একইরকমভাবে পাশে চায়, যেভাবে ভূখণ্ডসহ মুসলিমদের চায়? বাকি রাজনীতিকদের ভালোবাসার বেশিরভাগই তো মেকি। তাদেরও আসল চাওয়া ভূস্বর্গ- মানুষ নয়।

তাদের স্বত্ব হলো, তারা জানে, কাশ্মীরের জনগণ পাকিস্তানের সমর্থন প্রবলভাবে কামনা করে। রাষ্ট্র চোরাপথে সেনা কিংবা বিদ্রোহী পাঠায়। কেননা, ভারতকে হারাতে সে-ও উদগ্রীব; এই সুযোগ সে অযথা হারাতে চায় না। কাশ্মীরিদের নিখাঁদ মুক্তির জন্য ততটা দায় তার নেই।

যদি থেকেই থাকে, তাহলে কাশ্মীর পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা চাইলে পাকিস্তান কি তা মেনে নেবে? অর্থাৎ আজাদ কাশ্মীর, যা পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং পুরো কাশ্মীর প্রদেশের ৩৭ ভাগ, তা কি তারা ছেড়ে দেবে?

কাশ্মীর স্বাধীন হলে অবশ্যই ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণাধীন আজাদ কাশ্মীর, গিলগিট ও বাল্টিস্তান এবং চীনের দখলে থাকা আকসাই-চিন ও ট্রান্স-কারাকোরাম মিলেই দেশ গঠন হবে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভূমিকা তখন কী হবে?

-----দুই.-----

কাশ্মীরকে আজকাল দক্ষিণ এশিয়ার ফিলিস্তিন বলা হচ্ছে। উভয় অঞ্চল পরাধীন হয় একই বছরে-১৯৪৭ এবং হোতাও এক-ব্রিটিশ। তাই দীর্ঘমেয়াদি নিগ্রহ, নিপীড়নের ধরন, প্রতিবাদিদের স্টাইল এবং উভয় অঞ্চলের পর্যটন আকর্ষণ ও উভয় দখলদার দেশের সুপ্রাচীন বন্ধুত্বের দিকে নজর রাখলে যদিও কাশ্মীরকে ফিলিস্তিনের সঙ্গে তুলনা করা যায়-কিন্তু ফিলিস্তিন যা পেরেছে তা কাশ্মীরিরা পারবে কি না জানা নেই।

ফিলিস্তিন এখন জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র। অকুপাইড হয়েও তারা বেশ কয়েকটি সিটি গড়েছে, বিচারালয় হয়েছে, ভালো সংবাদমাধ্যম আছে, সরকারি-বেসরকারি শিল্প-কারখানা, আন্তর্জাতিকমানের বিশ্ববিদ্যালয়, পৃথিবীর বহুদেশে নিজস্ব কূটনৈতিক মিশন এবং পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীও আছে তাদের। সাহিত্য ও কালচারে আরবি ভাষায় নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা।

ফিলিস্তিনি নারী রাশিদা তালেব মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য, তাদের ফিল্মমেকাররা হলিউড কাঁপিয়ে অস্কার আয়োজনেও বিচারকপদ অলঙ্কৃত করছেন। তাদের ছাত্ররা ইউরোপ-আমেরিকায় ছাত্র ইউনিয়ন গড়ে গড়ে সংঘবদ্ধ। ওআইসির মতো শক্তিশালী সংস্থার সৃষ্টিই হয়েছে বলতে গেলে তাদের উদ্ধারের জন্য, আবার ইরান ও হিজবুল্লাহ হলো তাদের প্রধান শত্রু ইসরাইলের চরম শত্রু।

এছাড়া আরব হওয়ায় তাদের প্রতি আরবদের সহমর্মিতা আছে, রাজারা না-হোক ধনী আরবরা তাদের জন্য উদারহস্তে ব্যয় করছে। বাইতুল মোকাদ্দাস রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়বহন করে জর্ডান, এমনকি রাইজিং পিরিয়ডে ইয়াসির আরাফাত তার হাজার হাজার সদস্যের মিলিশিয়া বাহিনী নিয়ে জর্ডান ও লেবাননে বসবাস করেছেন।

সর্বোপরি তাদের আছে শাশ্বত ইসলামিক ইমোশন-মসজিদে আকসার মর্যাদা রক্ষা। ফলে তারা হিটলারের ইহুদি-বিদ্বেষকে মার্জিনে নিয়ে বিশ্বব্যাপী ইসরাইলি জায়নবাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে দিতে পেরেছে।

কাশ্মীর কতটুকু পেরেছে? একটা অমোঘ সত্য হলো- পাকিস্তানের হাতে কাশ্মীর নগদে চলে যাবে, তা ভারত ও তার রাষ্ট্রশক্তি কখনও মানবে না এবং জাতিসংঘও তাতে সায় দেবে বলে মনে হয় না।

ব্রিটিশরা দ্বিজাতিতত্ত্বের সুযোগ নিয়ে উপমহাদেশে এমন এক হিংসা ছড়িয়ে দিয়েছে যে, গান্ধীর অহিংসানীতি তার জীবদ্দশাতেই ভেসে গেছে। উপমহাদেশের কোনও দেশ নিজেরা শক্ত হয়ে দাঁড়াতে না পারলেও কোমরের অবশিষ্ট শক্তি প্রতিবেশির শত্রুতায় ক্ষয় করতে রাজি।

আবার যেই ব্রিটিশ-ইংরেজরা তাদের মেরুদণ্ড ভেঙেছে সোজা হয়ে দাঁড়াতে তাদেরই সহায়তা ভিক্ষা করে। তো এই হাস্যকর রাজনৈতিক চর্চার কারণে কাশ্মীরিদের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ কৌশল হলো, পূর্ণ স্বাধীনতার আওয়াজ তোলা- করদরাজ্য হয়ে থাকা নয়।

কথা হলো স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই বসে এবং তিব্বত কিংবা বাংলাদেশের মতো জেনোসাইডের শিকার হয়, তাহলে কি কাশ্মীর টিকতে পারবে?

কাশ্মীরের কবিরা তাদের কাব্য কতদূর পৌঁছাতে পেরেছেন? তাদের বুদ্ধিজীবি, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিকরা কতটা মগজ রাখেন? তাদের ইন্ডাস্ট্রি কতটা স্বনির্ভর? তাদের আন্তর্জাতিক মিশন কতটা শক্তিধর?

ফিলিস্তিনের চেয়ে বরং বাংলাদেশে তাদের জন্য যুতসই আদর্শ হতে পারে। স্বাধীনতার পথে বাংলাদেশ যেমন ভারতের একনিষ্ঠ সমর্থন পেয়েছে, পেয়েছে দুই কোটি শরণার্থীর আশ্রয়, যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র এবং সর্বোপরি সারা বিশ্বে বাংলাদেশের পক্ষে লড়েছে ভারত, কাশ্মীর কি ততটা পাকিস্তান থেকে পাবে? মনে হয় না।

বাংলাদেশ যেমন ভারতের প্ররোচনায় পাকিস্তান ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে, প্রতিশোধের স্পৃহায় ভারত থেকে খানিকটা সেই শোধ তেলার চেষ্টা করতে পারে পাকিস্তান, এ-ই যা।

আবার পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বন্ধু চীন কি তার অংশ ছেড়ে দিয়ে কাশ্মীরের স্বাধীনতায় সহযোগী হবে? কাশ্মীর উত্তপ্ত হলে ভারত-পাকিস্তানের দ্বন্দ্ব যতটা আগুন ছড়ায়, চীনের অংশের কথা তার সিকিভাগও কিন্তু আলোচনায় আসে না।

তারপরও যদি পাকিস্তান সত্যিই বন্ধুর মতো তাদের সহায়তা করে, তাহলেও আন্দাজ করা উচিত পাকিস্তানের ভূরাজনৈতিক সামর্থ্যই-বা কতটুকু।

এ অঞ্চলে, বলতে গেলে গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান বড় একা। বাংলাদেশ তাকে জন্মশত্রু জ্ঞান করে- সাপোর্ট করে ভারতকে। শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ সবাই ইন্ডিয়াকে নমঃ নমঃ করে- কতকটা নিজেদের ঘটে বুদ্ধি না-থাকায় কতকটা হিন্দু ও বৌদ্ধদের বিরাট একটি অংশের আশ্রয় ভারতে হওয়ায়।

একে তো এই দেশগুলো পাকিস্তানের সরাসরি প্রতিবেশি নয়, আবার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠও নয়। তার প্রতিবেশি এক হলো চীন, আর হলো আরব-সাগরকূলের সৌদি আরব। আফগানকে না-গুণলেও চলে। দীর্ঘদিনের বন্ধু চীনকে তো ট্রান্স-কারাকোরাম ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধের পরের বছর নিজেই ছেড়ে দিয়েছে পাকিস্তান। আর সৌদি আরব একে তো ভূরাজনীতিতে অপটু, উপরন্তু উপমহাদেশে রাজনৈতিক প্রভাবশূন্যও বটে।

একটা তিক্ত সত্য মনে রাখা দরকার- ভারত আজ ৭০ বছর পরে যা করেছে, পাকিস্তান বহু আগেই তা করে রেখেছে। অর্থাৎ ভারত ৩৫ (ক) ও আর্টিকেল ৩৭০-এর বলে অন্তত এতদিন তাদের বিধানসভা দিয়েছিল, নিজস্ব সংবিধানের সুযোগ দিয়েছিল, বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা দিয়েছিল; আজ না হয় তা কেড়ে নিয়ে বিরাট অন্যায় করেছে। কিন্তু পাকিস্তান তার নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরিদের কী দিয়েছে?

আজাদ কাশ্মীরে যারা আছে, তাদের তো নেতাও নেই, ক্ষমতাও নেই, স্কুলও নেই, হাসপাতালও নেই। এমনকি তারা পাকিস্তানিও নয়। স্রেফ লেজকাটা হনুমান- কাশ্মীরি। স্বাধীনতাকামীদের নিরাপদ ঘাঁটি বানিয়ে রাখার অজুহাতে এলাকাটাকে পাকিস্তান ঘুটঘুটে অন্ধকার বানিয়ে রেখেছে। সীমান্তে উত্তেজনা হলেই জনসাধারণ নিদারুণ উৎকণ্ঠা বুকে নিয়ে পালাতে থাকে।

কাশ্মীরিরা নিজেদের ইন্ডিয়ান ভাবে না ঠিক- বিশ্ব মিডিয়াও তাদের বিভক্ত ভূখণ্ডকে পরিচয় করিয়ে দেয় ‘ভারত অধিকৃত কাশ্মীর’ ও ‘পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর’ বলে- কিন্তু তারা তো নিজেদের পাকিস্তানিও ভাবে না। তাহলে পাকিস্তান নিজের ভাবে কেনো তাদের? মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে?

সেটা হলে জিজ্ঞাসা রাখি, ‘৪৭ থেকে ’৭১ পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে যে আচরণ করেছে পাকিস্তান, সেই চরিত্র বদলে কি ইদানিং সত্যিকার শুদ্ধ মুসলিম হয়ে গেছে সে?

-----তিন.----

তো কাশ্মীরের সঙ্গে থাকছে কে? কথিত ‘মুসলিম উম্মাহ’ চেতনা। তাহলে বলি, বিশ্বে নতুন করে আরও একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশের আবির্ভাব এই ক্রিশ্চিয়ান ডমিনেটিং ওয়ার্ল্ড সহজে মেনে নেবে না- তাতে সর্বধর্মবাদি সেক্যুলারিকরণের মূলমন্ত্রকে সে-দেশের সকাল-সাঁঝের তসবি বানিয়ে নিলেও।

এর মানে বিশ্ব-রাজনীতিতে অন্য কোনও ধর্ম তা দিতে পারছে না, তা নয়।

ভারতের সিদ্ধান্তে হিন্দুত্ববাদিরা খুশি হচ্ছে, যদিও কাশ্মীরে রয়েছে বিরাট সংখ্যক স্বাধীনতাকামী হিন্দুর আবাস। তবে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে মুসলিমরা। আবার মুসলিমরা ‘গাজওয়ায়ে হিন্দের’ বুলিতে চঞ্চল, তবে তারা জম্মুর মতো জায়গায়ও সংখ্যালঘু।

তথাপি ধর্মীয় সদস্য সংখ্যার হিসাব কাশ্মীরের মুক্তিকে কোনও দিক থেকে সুফল দিতে পারছে না। আবার কাশ্মীরের মতো ধর্মপরায়ণ মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল নিজেদের ধর্মকে ভুলে কেবল সেক্যুলার রাজনীতি দিয়ে সমাধানে আসতে পারবে, তা-ও সম্ভব নয়।

কেননা, তখন সর্বশেষ ভরসার ‘মুসলিম উম্মাহ’ চেতনাও যে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ছেড়ে যাবে- তা না বললেও চলে।

সুতরাং কাশ্মীরের মুক্তি দূরঅস্ত! আল্লাহ তাদের সহায় হোন।
>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর

Sunday, September 8, 2019

ভারতে স্কুলেও জাতপাত

একদিকে চাঁদে পা রাখছে ভারত। অন্যদিকে জাতের পার্থক্য বোঝাতে, আলাদা আলাদা রঙের রিস্ট ব্যান্ড পরছে ছোট ছোট শিশুরা।

আর এই প্রথাকে সমর্থন জানাচ্ছেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী। এমনটাই ঘটে চলেছে দেশটির তামিলনাড়ু রাজ্যে। সমর্থন জানিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী কেএ সেঙ্গোত্তাইয়ান। উঁচু জাত নাকি নীচু জাত চালু হয় অনেক স্কুলে। দায় এড়িয়ে গিয়ে ঘটনাটিকে এখন ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলছে রাজ্য সরকার। প্রথার কথা জানাজানি হতেই ভারতে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

তামিলনাড়ু শিক্ষা দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলেন, যে স্কুলগুলোতে এ ঘটনা ঘটেছে তাদের খুঁজে বের করা হবে। জাত বৈষম্যের কালো বিষ সমাজে ছড়ানোর অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সেই অনুযায়ী কাজ এগোচ্ছিল। কিন্তু তাদের এ উদ্যোগে রীতিমতো জল ঢেলে দিলেন ক্ষমতাসীন এআইএডিএমকে দলের শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষা দফতরের পাশে থেকে এ ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো এই প্রথাকেই সমর্থন জানান তিনি।

ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেমন চলছিল, তেমনই চলবে। কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না। আমাকে না জানিয়েই এই প্রথা বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু আমি বিষয়টি জানতে পেরে পদক্ষেপ নিয়েছি।

ছাত্রছাত্রীরা যেমন রঙিন রিস্ট ব্যান্ড পরে স্কুল আসছিল; তেমনই আসবে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ২০১৮ সালের একটি সার্ভে থেকে জানা যায়; তামলিনাড়ুর কিছু স্কুলে জাত অনুযায়ী পড়ুয়াদের লাল; হলুদ, গেরুয়া কিংবা সবুজ রঙের রিস্ট ব্যান্ড পরে আসতে হচ্ছে।

এমনকি তারা উঁচু না নীচু জাতের তা বোঝাতে নির্দিষ্ট রঙের আংটি ও কপালে তিলক কাটতে হচ্ছে। আবার কয়েকটা স্কুলের পোশাকের নিচে নিজেদের জাতের নেতার ছবি দেয়া গেঞ্জি পরে আসতে হয়।

এই ‘জাতের বৈষম্য’ অঙ্গনওয়াড়ি থেকেই চালু করা হয়েছে স্কুলগুলোতে। বিশেষত দলিতদের আরও বেশি অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জাতের তারতম্যের জন্য বিশেষ সুবিধাও পায় উঁচু জাতের শিশুরা। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হলেও একটুও চিন্তিত নয় তামিলনাড়ু সরকার। কিছু সমাজকর্মী প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলেও অদ্ভুতভাবে চুপ রয়েছে সরকারবিরোধী সব দল।

>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর,

Tuesday, August 27, 2019

কাশ্মীরে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে ভারতীয় কর্মকর্তার পদত্যাগ

সংবিধান থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ তুলে দেয়ার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন ভারতের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

গত ৫ আগস্ট ভারতের পার্লামেন্টে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে মোদি সরকার। এতে বিশেষ মর্যাদা হারায় ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর।

এ অনুচ্ছেদ বহাল রাখতে বিক্ষোভ ফেটে পড়ে কাশ্মীর ও লাদাখজুড়ে। বিক্ষোভ বানচাল করতে ১৪৪ ধারা জারিসহ ভারতনিয়ন্ত্রিত গোটা কাশ্মীরকে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় ভারত প্রশাসন। টেলিফোন, ইন্টারনেট সংযোগসহ যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয় কাশ্মীরি জনতার জন্য।

তাই এবারের ঈদুল আজহার নামাজ পড়তে পারেননি অনেক কাশ্মীরি। ঈদ উৎসব একেবারেই নামমাত্রভাবে পালিত হয় সেখানে।

টানা দেড় সপ্তাহ অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে সম্প্রতি পরিস্থিতিতে শিথিল হয়ে উঠছে কাশ্মীর। মসজিদ ও স্কুল খুলে দেয়া হয়েছে। ল্যান্ডলাইনের সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।

তবে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জম্মু-কাশ্মীরে দমন-নিপীড়নের প্রতিবাদে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের (আইএএস) কর্মকর্তা কান্নান গোপীনাথ।

নরেন্দ্র মোদি সরকার ভারতীয় সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা তুলে দেয়ার পর এই প্রথম কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করে প্রতিবাদ জানালেন।

বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন কান্নান। বর্তমানে দাদ্রা নগর হাভেলি পোস্টিং ছিলেন তিনি।

আইএএস অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন কান্নান।

পদত্যাগের কারণ জানিয়ে টুইটও করেছেন কান্নান।

জম্মু-কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করে তিনি লেখেন- ‘ভেবেছিলাম সিভিল সার্ভিসে যোগদান করে মানুষের বক্তব্য তুলে ধরতে পারব। মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করব। কথা বলতে পারব। কিন্তু এখন দেখছি আমার কণ্ঠই রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।’

পদত্যাগের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন- ‘আমি স্বরাষ্ট্র সচিব বা অর্থসচিব নই। আমার পদত্যাগে পরিস্থিতির বদল হবে না। কিন্তু আমার বিবেক স্বচ্ছ।’

কান্নানের এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার এক সহকর্মী বলেছেন, ‘কাশ্মীরের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ও অস্বস্তিতে থাকতেন কান্নান। তিনি বরাবরই বলতেন, মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ার অর্থ জরুরি অবস্থা জারি হওয়া। কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি আমি মেনে নিতে পারছি না।’

এদিকে ৩৭০ ধারা বাতিল ও কাশ্মীরে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর চলা দমন-পীড়নের প্রতিবাদে কান্নানের পদত্যাগের সিদ্ধান্তে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন অনেক ভারতীয়।

কান্নানকে ‘দেশবিরোধী’ আখ্যায়িত করে টুইটারে সমালোচনা করছেন কেউ কেউ।

ইতিবাচক টুইটও জমা পড়ছে অনেক। কান্নানের পাশে দাঁড়িয়েছেন কেউ কেউ।

সাবেক আইএএস অনিল স্বরূপ বলেন, ‘কান্নানের মতো অফিসারদের নিয়ে আমরা গর্বিত।’

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে কী বলা হচ্ছে, তাতে নজর দিচ্ছেন না কান্নান।

তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে আমি দেশবিরোধী তকমা সহ্য করতে রাজি আছি। আমি সবসময় ন্যায়ের পক্ষে। মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব যেখানে হবে, সেখানে আমার অবস্থান বিপরীতই থাকবে।’

>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর,

Saturday, August 24, 2019

ঋণের টাকায় ভারত থেকে অস্ত্র কিনবে বাংলাদেশ

ভারতের দেয়া ঋণের টাকায় ওই দেশ থেকেই সামরিক সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ৷ তবে ভারত থেকে কি ধরণের অস্ত্র কেনা হবে এখনো সেই সিদ্ধান্ত হয়নি বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন৷

বুধবারর ডয়চে ভেলেকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলছেন, ভারত থেকে কি কি অস্ত্র কেনা হবে সেই সিদ্ধান্ত নেবে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ৷

সামরিক সরঞ্জাম কিনতে ২০১৭ সালে ভারতের সঙ্গে ৫০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করে বাংলাদেশ৷ কিন্তু ওই অর্থ দিয়ে এখনো কোনো সামরিক সরঞ্জাম কেনা হয়নি৷ ভারতের দেওয়া এই ঋণ এক শতাংশ সুদে ২০ বছরে শোধ করতে হবে৷

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত মঙ্গলবার ঢাকায় এক বৈঠকে তাদের দেওয়া ঋণের টাকায় ভারত থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেনকে অনুরোধ করেন৷

এ প্রসঙ্গে আবদুল মোমেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, “সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য তারা পাঁচশ’ মিলিয়ন ডলার (৫০ কোটি ডলার) লাইন অব ক্রেডিট দিয়েছে৷ তারা বলছে, আপনারা এখন আমাদের সামরিক সরঞ্জাম কেনেন৷ ভারতে এখন অনেকগুলো ডিফেন্স কোম্পানি গড়ে উঠেছে৷

“আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনি৷ অ্যামেরিকা, চায়না, ইউকে, টার্কি থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনি৷ আমরা যেহেতু আগে কোনোদিন ভারত থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনি নি তাই এখন আমাদের লোকরা দেখছে ভারত থেকে কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম কেনা যায়৷”

মন্ত্রী বলেন, “অফিসিয়াল কমফার্মেশন নেই, আমি শুনেছি আমরা ভারত থেকে আমরা একটা সাবমেরিন কিনতে চেয়েছিলাম৷ কিন্তু তারা সাবমেরিন দেবে না৷”

“সম্প্রতি আমরা চীন থেকে মাল্টিপল রেঞ্জের কিছু অটোমেটিক ফায়ার আর্মস কিনেছি৷ তারা (ভারত) বলছে এগুলো তাদের কাছ থেকে কিনতে৷ আমরা বলেছি আমরা কিনতে রাজি আছি এবং তোমাদের কাছ থেকে আমরা সামরিক সরঞ্জাম কিনব৷ আমাদের আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনকে জানাব, তারা জানাবে কী ধরণের সরঞ্জাম আমরা কিনতে পারি, তারাই সেই লিস্ট তৈরি করবে৷”

ভারত থেকে অস্ত্র কিনলে রাজনৈতিক বিরোধিতা হতে পারে কি না, সেই প্রশ্নে মোমেন বলেন, “আমার মনে হয় না৷ কারণ আমরা আমাদের প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করব৷ ভারত শুধু আমাদের দেশে নয়, অন্য দেশেও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করে, অস্ত্র বিক্রিতে তাদের সুনাম আছে৷ তাদের বাস-ট্রাক বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কেনে, আমরাও কিনি৷ আমাদের দেশে ভারতবিরোধী একটি মত থাকলে ভারতের ট্রাক-বাসের কেউ বিরোধিতা করে না৷ আমরা আগে কখনো ভারতীয় সামরিক সরঞ্জাম কিনি নি৷ এখন ওরা আমাদের টাকা দিয়েছে, এখন আমরা ওদের কাছ থেকে কিনব৷”

এসব সরঞ্জাম কীভাবে কেনা হবে তার ব্যাখ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কী কিনব এখন তা চিহ্নিত করতে হবে৷ আমরাতো যেই-সেই জিনিস কিনব না৷ আমাদের খুবই সতর্কতার সাথে কিনতে হবে৷ যাতে এটা দিয়ে (ঋণের টাকা) অপ্রয়োজনীয় কোনো কিছু কিনতে না হয়৷ কারণ ভারতের ঋণের টাকা সুদসহ ফেরত দিতে হবে৷ সুতরাং আমাদের খুবই কেয়ারফুল থাকতে হবে৷”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে এখন অনেক দেশই টাকা দিতে চাচ্ছে৷ এটা খুবই ভালো খবর যে সম্পর্ক এখন টাকার মাধ্যমে আসছে৷ কিন্তু বাংলাদেশ সবার কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে না৷ আমরা সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি৷”

এদিকে ভারতের ঋণের টাকায় ওই দেশ থেকেই অস্ত্র কেনার অনুরোধে সাড়া দেয়া উচিত হবে না বলে মত দিয়েছেন এই সরকারের শরিক দলের নেতা ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। আরেক বামপন্থী নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স তার সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। অবশ্য আরেক সাবেক মন্ত্রী ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ মনে করেন, ভারত থেকে অস্ত্র কেনা যেতে পারে। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘আমি মনে করি এ ধরনের কোনো শর্ত দেয়া উচিত নয়। কারণ ওই চুক্তির আওতায় সামরিক সরঞ্জাম কেনার কোনো কথা ছিল না। সরকার এ ধরনের কোনো বিষয়ে সাড়া দেবে বলে আমি মনে করি না।’

অপরদিকে বাংলাদেশের কোন ধরনের অস্ত্রের প্রয়োজন রয়েছে তা মূল্যায়ন করে ভারত থেকে কেনা হলে তাতে কোনো অসুবিধা দেখছেন না জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘অনুরোধ করতেই পারে। আমরা তো অস্ত্র কিনছিই। যখন কিনব তখন মূল্যায়ন করে যদি ভারত থেকে কেনা যায় তাতে তো আপত্তির কারণ আছে বলে মনে করি না। আর্মড ফোর্সেস আছে, আর্মির জন্য সময় সময় আমরা অস্ত্র কিনি। মিয়ানমার ১১ লাখ মানুষ তাড়িয়ে দেয়, আমরা আশ্রয় দিয়েছি। ভবিষ্যতে যদি ওরকম কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’

>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর,

শরণার্থী শিশুর কান্নার ছবি জিতল সেরা পুরস্কার

সিরিয়ার অ্যালান কুর্দি বা ওরমান দাকনিশের ছবি কাঁদিয়েছিল সারা বিশ্বকে। আর এর পরই টেক্সাস সীমান্তে দুই বছরের শিশুকন্যা ইয়ানেলার কান্নার ছবি জিতে নিল সেরা পুরস্কার।
গত বছর বিশ্বজুড়ে ৭৮ হাজার ৮০১টি ছবির মধ্যে সেরা বিবেচিত হয়েছে জন মুরের ‘ক্রাইং গার্ল ইন দ্য বর্ডার’ শীর্ষক ছবিটি।
দীর্ঘদিন আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে কাজ করছেন চিত্রসাংবাদিক জন মুর। গত বছর তার তোলা একটি ছবি পুরস্কার জিতে নিয়েছে। ছবিটি গত বছর প্রকাশ্যে আসার পরই আলোড়ন তৈরি হয়েছিল।
জন মুর জানিয়েছেন, ১২ জুন ২০১৮ সালের সন্ধ্যায় তিনি এ ছবিটি তুলেছিলেন। সেদিন রাতের অন্ধকারে মেক্সিকো থেকে বেশ কয়েক শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে টেক্সাসে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।
কিন্তু সীমান্তরক্ষা বাহিনীর হাতে ধরে পড়ে যান তারা। এদের মধ্যেই ছিলেন হন্ডুরাসের স্যান্ড্রা স্যানচেজ ও তার দুই বছরের শিশুকন্যা ইয়ানেলা।
স্যানচেজের তল্লাশি শুরু হতেই ভয়ে কাঁদতে শুরু করে ইয়ানেলা। কয়েক মুহূর্তের সেই ঘটনা বন্দি হয় জন মুরের ক্যামেরায়।
ছবিটির নাম দেন ‘ক্রাইং গার্ল ইন দ্য বর্ডার’। ছবিটি ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো অ্যাওয়ার্ডের স্পট নিউজ, সিঙ্গেলস ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার জিতে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুরস্কার ঘোষণার পর জন মুর জানিয়েছেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তার কাজের মধ্য দিয়ে সবসময় চেষ্টা করেছেন, যাতে এ শরণার্থী সমস্যাকে মানবতার চোখ দিয়ে দেখা হয়।
The crying Honduran girl on the cover of Time was not separated from her mother, father says
A two-year-old Honduran asylum seeker cries as her mother is searched and detained near the U.S.-Mexico border on June 12, 2018 in McAllen, Texas. The asylum seekers had rafted across the Rio Grande from Mexico and were detained by U.S. Border Patrol agents before being sent to a processing center for possible separation. Customs and Border Protection (CBP) is executing the Trump administration's zero tolerance policy towards undocumented immigrants. U.S. Attorney General Jeff Sessions also said that domestic and gang violence in immigrants' country of origin would no longer qualify them for political asylum status. (Photo by John Moore/Getty Images)

Thursday, August 22, 2019

অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বলিউড অভিনেত্রী জায়রা ওয়াসিম ‘নিখোঁজ’

‘ঈমান’ বা ধর্মবিশ্বাসের কারণে অভিনয় জগত ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে বলিউডপাড়ায় ব্যাপক আলোচিত হয়েছিলেন কাশ্মীরি কিশোরী জায়রা ওয়াসিম। কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে জায়রার কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না পরিচিতজনরা।
ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, অভিনয় জগত ছাড়ার আগেই ‘দ্য স্কাই ইজ পিঙ্ক’ নামে একটি ছবিতে কাজ করেছিলেন জায়রা ওয়াসিম।
কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপের পর থেকে ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা জায়রার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এ তথ্য জানিয়েছেন ছবিটির পরিচালক সোনালি বোস। জায়রার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ কারণেই কাশ্মীর নিয়ে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন এই বলিউড পরিচালক।
সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে জায়রার সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেন সোনালি। সঙ্গে দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘দুই সপ্তাহ হয়ে গেল জম্মু- কাশ্মীরের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভারতের গণতন্ত্র অন্ধকার। কংগ্রেসের সময় থেকে উপত্যকায় মানুষের অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে। আমার কষ্ট হয় ওই মানুষগুলোর জন্য।
বাঙালি, মারাঠি, গুজরাটি, তামিল সবার কেমন লাগবে যদি রাতারাতি আপনাদের রাজ্য ভেঙে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে দেয়া হয়?’
বোস আরও বলেন, ‘৩৭০-কে কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গিয়ে সৎভাবে এর উত্তর দিন। আমাদের নিজেদের লোকেরাই কীভাবে এই দেশে বাস করছেন, এটা ভেবেই আমার বিস্ময় ও রাগ এখন দুঃখে পরিণত হয়েছে। ওদের অনুভূতির সম্পর্কে আমরা শুধুই ধারণা করতে পারি।’
জায়রা তার মেয়ের মতো-উল্লেখ করে পরিচালক জানান, তার সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে পারছেন না। গত এক বছরে জায়রা ও তার পরিবারের সঙ্গে খুব সুন্দর সময় কাটিয়েছেন। এমনকি ৩৭০ ধারা বাতিলের আগের দিনও জম্মুতে জায়রার সঙ্গেই ছিলেন তিনি।
সোনালি বোস বলেন, কাশ্মীরে হঠাৎ সেনাবাহিনীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়ায় খুবই চিন্তিত ছিল জায়রা।
এদিকে কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসন বাতিলের পর বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষনিক একটি টুইট করেছিলেন জায়রা ওয়াসিম। জায়রা লিখেছিলেন, এও একদিন কেটে যাবে। পাশে ‘হ্যাশ ট্যাগ’ দিয়ে লেখেন ‘কাশ্মীর’।
গত ৩০ জুন অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন ‘দঙ্গলকন্যা’ খ্যাত জায়রা ওয়াসিম।
অভিনয় ছাড়ার কারণ হিসেবে ভারতের জাতীয় পুরস্কারজয়ী এ অভিনেত্রী জানান, সিনেমা কিংবা তারকা-জীবন ধর্মবিশ্বাস বা ‘ঈমান’ থেকে তাকে ক্রমশ দূরে ঠেলে দিচ্ছিল।
২০১৬ সালে আমির খানের সঙ্গে ‘দঙ্গল’ ছবিতে অভিনয় করেন জায়রা ওয়াসিম। এটাই ছিল তার ডেব্যু ফিল্ম। এত কম বয়সে তার অভিনয় দক্ষতা অত্যন্ত প্রশংসিত হয়।
ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড, ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড-ন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাওয়ার্ড ফর একসেপশনাল অ্যাচিভমেন্ট পেয়েছেন জায়রা।
>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর,

কাশ্মীরে নারীদের যৌন হয়রানি করছে জওয়ানরা

কাশ্মীরিদের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ পেলেট বা ছররা গুলি ছুড়ছে ভারতীয় সেনারা। শিশু, যুবক, কিংবা বৃদ্ধ- ঘর থেকে বের হলেই চোখ-মুখ লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ছোড়া হচ্ছে গুলি।

আগে থেকেই ছররা গুলির ব্যবহার থাকলেও জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর থেকে বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এতে নতুন করে আহত হয়েছেন অনেকেই। অন্ধ হয়েছেন বেশ কয়েকজন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন কেউ কেউ। গুরুতর আহত হলেও অনেকেরই চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো রকম উসকানি ছাড়াই তাদের দিকে ‘পেলেট গান’ তাক করা হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে ঠিক কতজন ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন, তা নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। নয়াদিল্লিভিত্তিক কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ, বাড়ি তল্লাশির নামে বহু নারী ও অল্প বয়সী কিশোরীকে যৌন হয়রানি এবং শতশত কিশোরকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার নিউ ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

স্বায়ত্তশাসন বাতিলের একদিন পর (৬ আগস্ট) ছররা গুলিতে গুরুতর আহত হন ১৬ বছর বয়সী কিশোর আসরার আহমেদ। বাড়ির বাইরে বের হলে সেনারা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

এতে তার মাথা, চোখ, কাঁধ ও মুখে মারাÍক ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ১৫ দিন ধরে শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সেস (এসকেআইএমএস) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে ছররা গুলি খাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে আহমেদ বলেন, ‘একটা বল আনতে বাড়ির প্রধান ফটকের বাইরে বের হই আমি।

ঠিক তখনই কিছু দূরে দাঁড়ানো সেনারা প্রথমে আমার দিকে টিয়ার গ্যাস ছুড়ে মারে। পরপরই আমার চোখে ও মুখে ছররা গুলি ফায়ার করে।’ ছররা গুলিতে আহতদের চিকিৎসার জন্য শ্রীনগরের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল শ্রী মহারাজা হরি সিং হাসপাতালে (এসএমএইচএস) চক্ষু বিভাগ খোলা হয়েছে।

প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে এখানে। এখন অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। শ্রীনগর পুরনো শহরের বাসিন্দা সামির হোসেন তাদেরই একজন। একটি ওষুধের দোকান চালান হোসেন। তিনি জানান, গত শনিবার ছররা গুলি লাগে তার।

ওই সময় নিজের ওষুধের দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। সেদিনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বাম চোখে এসে লাগে গুলি। দোকান থেকে ফেরার পথে পুলিশ গুলি চালায়। আমি ঠিক জানি না, তারা কেন আমার দিকে তাক করল।’

সামির হোসেনের বিছানার পাশেই যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন ৭৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক। তার চোখেও ছররা গুলি লেগেছে। সাদিক বলছিলেন, ‘মাগরিবের নামাজ পড়ে ঘরে ফিরছিলাম আমি। ওই সময় মসজিদের কাছেই কিছু মানুষ বিক্ষোভ করছিল। তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে পুলিশ। আমি বিক্ষোভে অংশ নিইনি। কিন্তু আমাকেও গুলি করা হয়েছে।’

হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে ছররা গুলির রোগীর ভিড় থাকলেও এ পর্যন্ত ঠিক কতজন চিকিৎসা নিয়েছেন, সে ব্যাপারে একেবারে নীরব রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইতিপূর্বে হাসপাতালের স্টাফরাও ছররা গুলির রোগীর ব্যাপারে সহজেই তথ্য দিতেন।

কিন্তু এখন একেবারেই চুপ। রোগীদের দর্শনার্থীদের ওপর কড়া নজর রাখছে পুলিশ। রাতে দায়িত্ব পালন করা চক্ষু বিভাগের এক ডাক্তারের সঙ্গে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ওয়ার্ডে বর্তমানে ঠিক কতজন রোগী ভর্তি আছেন তা তিনি জানেন না।

সিনিয়র ডাক্তারদের থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। এ নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার এখতিয়ার নেই আমাদের।’ বিক্ষোভ রুখতে ২০১০ সাল থেকে পেলেট গান (এক ধরনের অস্ত্র) ব্যবহার করছে বাহিনী।

ভারতে শুধু কাশ্মীরেই এই পেলেট গান ব্যবহার করা হচ্ছে। বন্দুকের গুলির মতো মারণাস্ত্র নয় এ ছররা। একেকটি শেলের মধ্যে ছোট ছোট পাঁচ শতাধিক লোহার বল থাকে। বন্দুক থেকে এই শেল ছোড়া হলে বাইরের খোলস ফেটে বলগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

কাশ্মীর সরকারের এক তথ্যানুসারে, ২০১৭ সালে আট শতাধিক কাশ্মীরি চোখে আহত হন। তবে পিলেট ভিকটিম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মতে, ২০১৭ সালে ১২০০-এর বেশি নারী, পুরুষ ও শিশুর চোখে ছররার গুলি লাগে। এর মধ্যে শতাধিক কাশ্মীরির এক বা উভয় চোখ অন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালকে তো ‘গণ-অন্ধত্ব বছর’ বলা হয়ে থাকে। ওই বছরের ৮ জুলাই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বুরহান ওয়ানির হত্যার পর উত্তপ্ত কাশ্মীরে ১১০০ জনের চোখে ছররা ঢোকে।
>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর,

Tuesday, August 20, 2019

কাশ্মীর নিয়ে নীলনকশায় স্বর্ণমন্দিরের সেই রিকশাওয়ালা!

কাশ্মীর নিয়ে মোদি সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূলে যে ব্যক্তিটি রয়েছেন, তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। গত জুলাইয়ের শেষে কাশ্মীরে তার দুই দিনের সফরের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৩৭০ ধারা বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ।

নরেন্দ্র মোদির ডান হাতখ্যাত অজিত দোভাল কাশ্মীরে দুই দিনের সফর শেষ করে আসার পরই নতুন করে সেনা মোতায়েনের এ ঘোষণা দেয় কেন্দ্র সরকার। এরপর থেকে কয়েক দফায় সেনা মোতায়েন করা হয় উপত্যকাটিতে।

কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পরও উদ্ভূত পরিস্থিতি দেখতে কাশ্মীর গিয়েছেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অজিত দোভালকে তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এ পদটি প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পদাধিকার বলে চিরশত্রু পাকিস্তানের সঙ্গে তাকেই কথা বলতে হয়, অস্ত্রাগারগুলো পরিদর্শনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৌশলগত সক্ষমতা, জঙ্গি হামলার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ও দেশের সবচেয়ে উচ্চপদস্থ কূটনীতিকদের সঙ্গেও নিয়মিত আলোচনা করেন তিনি।

গোয়েন্দা হিসেবে জম্মু-কাশ্মীর এবং যুক্তরাজ্যে তিন দশকের মতো সময় কাজ করেছেন তিনি।

কিন্তু কে এই অজিত দোভাল? জেমস বন্ড হিসেবে পরিচিত হওয়ার ক্ষেত্রে তার বিশেষ একটি কীর্তি সব সময় আলোচনায় ওঠে আসে।

আসুন জেনে নিই অজিত দোভালের অজানা সেই কীর্তির কথা।

১৯৮৪ সালে জুনের প্রথম সপ্তাহ (৩-৮ জুন)। আজ থেকে ঠিক ৩৪ বছর আগে অমৃতসরের (পাঞ্জাব) স্বর্ণমন্দিরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে অপারেশন ব্লু স্টার পরিচালনা করেছিল ভারতীয় সেনারা। ওই অপারেশনের উদ্দেশ্য ছিল, হরমন্দির সাহিব কমপ্লেক্সকে খালিস্তান সমর্থক জার্নেইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালে এবং তার সমর্থকদের হাত থেকে মুক্ত করা।

জানা যায়, অপারেশন ব্লু স্টারের জন্য একটি কক্ষে সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক চলছিল। তার মধ্যেই এক রিকশাওয়ালা সেই ঘরে প্রবেশ করে এবং জঙ্গিদের গতিবিধি ও তাদের বিষয়ে সংগ্রহ করা তথ্য জানায়৷ আর এই রিকশাওয়ালাই হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডানহাত এবং বর্তমানে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।

১৯৮৮ সালে খালিস্তানি জঙ্গিদের হাত থেকে পাঞ্জাবের স্বর্ণমন্দির রক্ষা করার পিছনে যার সব থেকে বড় অবদান ছিল।

শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাত থেকে স্বর্ণমন্দির রক্ষা করতে অজিত দোভাল তখন এক অভিনবপন্থা বেছে নিয়েছিলেন। স্বর্ণমন্দিরে যখন দখল নিয়েছে জঙ্গিরা সেই সময় ওই মন্দির সংলগ্ন এলাকায় রিকশাওয়ালা সেজে হাজির হন তিনি। খালিস্তানি জঙ্গিদের কাছে নিজেকে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর এজেন্ট বলে পরিচয় দিয়েছিলেন অজিত।

ভারতীয় সেনাদের অভিযানের দিন কয়েক আগে খালিস্তানি জঙ্গিদের প্রভাবিত করে সেই রিকশাওয়ালা ঢুকেছিল মন্দিরের ভিতরে। পাক গুপ্তচর হওয়ায় খালিস্তানি জঙ্গিরা তাকে মন্দিরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে দেখিয়েছিলেন সার্বিক পরিস্থিতি। সেই রিকশাওয়ালার থেকে মন্দিরের ভেতরে জঙ্গিদের অবস্থান এবং গতিবিধি সম্পর্কে অবগত হয় ভারতীয় সেনা। এবং খালিস্তানি জঙ্গিদের হটিয়ে স্বর্ণমন্দিরের দখল নেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী।

তার কীর্তি, তার সাহসিকতার জন্যই অজিত দোভালকে হলিউডের জনপ্রিয় চরিত্র জেমস্ বন্ডের মতোই ভারতের জেমস্ বন্ড মনে করা হয়৷ বর্তমানে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা৷ তাকে প্রধানমন্ত্রীর ডানহাত বলেও মনে করা হয়৷

সেই অভিযানের একজন সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা করন খার্ব। তিনি বলেন, মন্দিরে ঢোকার জন্য দোভাল একজন রিকশাচালকের ছদ্মবেশ নিয়েছিল। দোভাল ভেতরে গিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বোঝাতে সক্ষম হন যে, তিনি পাকিস্তান থেকে এসেছেন এবং ‘খালিস্তান’নামে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা যে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাতে তিনি তাদের সহায়তা করতে চান।

পুলিশ প্রথমে ভেবেছিল মন্দিরের ভেতরে আনুমানিক ৪০ জনের মতো সন্ত্রাসী আছে। কিন্তু দোভালই প্রথম জানান যে, ভেতরে অন্তত ২০০ সন্ত্রাসী প্রস্তুতি নিয়ে আছে। বাইরে থেকে যা বোঝা ছিল একেবারেই অসম্ভব। সরকার সন্ত্রাসীদের হটাতে সেনা অভিযানের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু দোভাল ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সরকারকে এমন পদক্ষেপ নিতে বারণ করেন।

করন খার্ব বলেন, দোভালের পরামর্শেই সরকার প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই মন্দিরের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে নয় দিনের মাথায় সন্ত্রাসীরা আত্মসমর্পণ করে।

ভারতের কোনো সরকারি দফতরের ওয়েবসাইটেই দোভালের প্রোফাইল নেই। ২০১৫ সালে মুম্বাইতে দেয়া তার এক বক্তৃতার আগে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সময় বলা হয়েছিল, তার জন্ম ১৯৪৫ সালে, উত্তরাখন্ডে। ১৯৬৭ সালের পুলিশে যোগ দেয়ার আগে তিনি ইউনিভার্সিটি অব আগ্রা থেকে ইকোনোমিকসে মার্স্টার্স ডিগ্রি নিয়েছেন।

১৯৬৮ সালে আইপিএস অফিসার হিসেবে যোগ দেয়ার পর ১৯৭২ সালে দোভাল গোয়েন্দা বিভাগে যোগ দেন। গোয়েন্দা হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীর এবং যুক্তরাজ্যে তিন দশকের মতো সময় কাজ করেছেন।

তার জীবনের উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হল, তিনি তার চাকরি জীবনে মাত্র সাত বছরই ইউনিফর্ম পরেছিলেন, কারণ তাকে বিভিন্ন মিশনের জন্য বেশিরভাগ সময়ই দেশের বাইরে থাকতে হতো, যা অত্যন্ত গোপনীয়ও ছিল৷
>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর,
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অজিত দোভাল। ছবি: সংগৃহীত

Saturday, August 17, 2019

কাশ্মীর নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত এল

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরিদের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয়ার ভারতীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।

চীন ও পাকিস্তানের অনুরোধে শুক্রবার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বলে কূটনীতিকদের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বৈঠকে জম্মু-কাশ্মীর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। গত কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর বিষয়ে আলোচনা হলো।

তবে প্রবল ক্ষমতাধর নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের এ আলোচনায় কাশ্মীর সংকট সমাধানে তেমন কোনো ফল আসেনি বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন। জাতিসংঘের একজন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকের পর নিরপত্তা পরিষদের বিবৃতিতে কাশ্মীর ইস্যুতে কোনো কথা বলা হয়নি। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর গণমাধ্যমে বিবৃতি দেয়াকে পরিষদের ন্যূনতম কাজ হিসেবে দেখা হয়। কাশ্মীর ইস্যুতে এবার ন্যূনতম পদক্ষেপটি নেয়া হয়নি।

জাতিসংঘের ওই কূটনীতিক আরও জানান, নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর কোনো বিবৃতি দেয়া হলে তা কাশ্মীরের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আরো বাড়িয়ে তুলবে মনে করে এর বিরোধিতা করে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের একাংশ। আবার পরিষদের আরেকটি অংশ এই বৈঠক শেষে কোনো বিবৃতি দেয়া হলে তা হবে পাকিস্তানের পক্ষ নেয়া— এমন ভাবনা থেকে বিবৃতি দেয়ার বিরোধিতা করে।

এছাড়া বৈঠকে ফ্রান্স, জার্মানি ও জাতিসংঘ কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সুযোগ নষ্ট হওয়াসহ পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করতে পারে— এমন ভাষা ব্যবহারের বিরুদ্ধে মত দেয়।

জাতিসংঘের আরেকজন কূটনীতিক জানান, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকেই কাশ্মীর ইস্যুতে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।

কাশ্মীর নিয়ে পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে এবং চীন পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এ কারণে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ শুক্রবারের বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না বলে আগে থেকেই ধারণা করে আসছিলেন পর্যবেক্ষকরা। সেটিই শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো।

এই ফলহীন বৈঠকের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি মালিহা লোধি। তিনি বলেন, ‘এ বৈঠক প্রমাণ করেছে, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের জনগণের চিৎকার-ধ্বনি জাতিসংঘের কানে পৌঁছেছে।’

মালিহা লোধি দাবি করেন, এ বৈঠক প্রমাণ করে কাশ্মীর ইস্যু একটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। কাশ্মীর ইস্যুর একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য পাকিস্তান প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিন বলেন, ‘কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমাদের আন্তর্জাতিক কোনো পক্ষকে প্রয়োজন নেই।’

এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জুন বলেন, ‘কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান উভয়েরই একতরফা পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকা উচিত বলে মনে করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।’

৫ আগস্ট ভারতের পার্লামেন্টে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হয়। এ কারণে স্বায়ত্তশাসন হারান কাশ্মীরিরা। সেখানে কেন্দ্রীয় শাসন জারি করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা নন এমন নাগরিকদের সম্পত্তি কেনা ও বিয়ে করার সুযোগ করে দিয়েছে ভারত। এর প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন কাশ্মীরিরা। তারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। অবরোধও চলছে। এদিকে ওই দিনটি থেকে কাশ্মীরের টেলিফোন লাইন, ইন্টারনেট ও টেলিভিশন নেটওয়ার্ক বন্ধ করে রেখেছে দিল্লি এবং লোকজনের অবাধ চলাচল ও জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহসহ কয়েকশ কাশ্মীরি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বরাবর একটি চিঠি লেখেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরাইশি। তিনি চিঠিতে ভারতের সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈঠকে বসার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান।

চিঠিতে কোরাইশি লিখেছেন, ‘পাকিস্তান কাশ্মীরে যুদ্ধের উসকানি দেবে না। কিন্তু ভারত যেন আমাদের সংযমকে দুর্বলতা না ভাবে। ভারত যদি ফের শক্তি প্রয়োগ করার পথে যায়, আত্মরক্ষার জন্য সর্বশক্তি নিয়ে পাকিস্তান জবাব দিতে বাধ্য হবে।’

এদিকে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকতে ভারত ও পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। কাশ্মীরের ভারতীয় অংশে বিধিনিষেধ আরোপের খবরে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন মহাসচিব।

১৯৪৮ ও ১৯৫০ সালের দশকে কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের বিরোধের বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। এর মধ্যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গণভোট নেয়ার কথাও ছিল।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অস্ত্রবিরতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য ১৯৪৯ সাল থেকে জম্মু-কাশ্মীরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মোতায়েন আছে।
>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর

Monday, August 12, 2019

দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু আক্রান্ত ঠেকাতে ভ্যাকসিন

দেশে প্রতিদিনই উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। মশাবাহিত এ রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে প্রত্যেকটি জেলায়। রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় আলোচনা হচ্ছে ডেঙ্গুর প্রতিষেধক নিয়ে।

বিশ্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য কোনো চিকিৎসা না থাকলেও সম্প্রতি প্রথমবারের মতো একটি ভ্যাকসিনের (টিকা) অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এটির উন্নয়নে এখনও কাজ চলছে, তথাপি দ্বিতীয়বারের মতো ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়া ঠেকাতে এটিই এখন পর্যন্ত একমাত্র ‘ভরসা’।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ১ মে ‘ডেংভেক্সিয়া’ নামের এই ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেয়। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দেয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদনপ্রাপ্ত ভ্যাকসিনটি ৯ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের মধ্যে চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করবে।

সংস্থাটির ডেপুটি কমিশনার আন্না আব্রাহাম বলেন, মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিভাগ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে আমরা কাজ করছি। নতুন এই ভ্যাকসিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশকিছু অঞ্চলের মানুষের ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেবে।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সানোফি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ‘তাকেডা’ নামের অপর একটি প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিনটি ২০১৫ সালে আবিষ্কার করে। এরপর তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপণন করা হয়।

২০১৭ সালে ফিলিপাইনে ব্যাপক হারে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিলে দেশটিতে এই ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এতে তেমন একটা সাফল্য আসেনি। এমনকি ভ্যাকসিন নেয়ার পরও অনেক শিশু ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এরপরই দেশটি এই ভ্যাকসিন ব্যবহার সাময়িক নিষিদ্ধ করে।

ভ্যাকসিনটি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সানোফি বলছে, ভ্যাকসিনটির আরও উন্নয়ন করা হয়েছে। এছাড়া এটি ভুলভাবে ব্যবহার করা হলে তা কার্যকর হবে না। ভ্যাকসিনটি শুধু তাদের জন্য, যারা এরই মধ্যে একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

যারা এখনও রোগটিতে আক্রান্ত হননি, তারা ভ্যাকসিনটি গ্রহণ করতে পারবেন না। এটি মূলত তৈরি করা হয়েছে দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্তের ভয়াবহতা প্রতিরোধের জন্য। এ কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে, তারা যেন রোগীর ইতিহাস ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে নেন।

ভ্যাকসিনটি তিনটি ইনজেকশনের মাধ্যমে দেয়া হয়। প্রথম ইনজেকশন দেয়ার ৬ মাস পর দ্বিতীয়টি এবং তৃতীয়টি এক বছর পর দিতে হয়। ৩৫ হাজার রোগীর ওপর ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে।

এতে ৯ থেকে ১৬ বছর বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৬ শতাংশ কার্যকারিতা পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে ১৯টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেংভেক্সিয়ার অনুমোদন দিয়েছে। সানোফি বলছে, এখন পর্যন্ত ডেংভেক্সিয়া গ্রহণকারীদের মধ্যে মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা, ক্লান্তি কিংবা সামান্য জ্বরের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বলছে, বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এডিস মশার কামড়ে হওয়া ডেঙ্গু ভাইরাসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে। মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের মানুষ এই রোগে বেশি আক্রান্ত হন।

এই রোগে হাসপাতালে নেয়া রোগীদের শতকরা ৯৫ ভাগই দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকিতে থাকেন। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ কোটি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে মৃতের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার।