Showing posts with label মালয়েশিয়া. Show all posts
Showing posts with label মালয়েশিয়া. Show all posts

Thursday, July 23, 2026

শতবর্ষে মাহাথির: বললেন দীর্ঘায়ু হওয়ার মন্ত্র

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ঃ মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এবার ১০০ বছরে পা রাখলেন। এ সময়ে তিনি তার আজীবনের অভ্যাস বজায় রাখলেন। অল্প খাবার খাওয়া, বেশি কাজ করা এবং বিশ্রামের লোভে না পড়ার মধ্য দিয়ে। জন্মশতবর্ষে তিনি আল জাজিরাকে বললেন, প্রধান বিষয় হলো আমি সব সময় কাজ করি। আমি নিজেকে বিশ্রাম দিই না। আমি সব সময় শরীর ও মস্তিষ্ক ব্যবহার করি। মন আর শরীরকে সক্রিয় রাখো, তাহলেই দীর্ঘায়ু হওয়া যায়।

রাজধানী কুয়ালালামপুরের দক্ষিণে পুত্রজয়ায় তার দপ্তরের ডেস্কে বসেই তিনি শতবর্ষের দিন কাটালেন অন্য দিনের মতোই- মালয়েশিয়ার অর্থনীতি, রাজনীতি ও বিশ্ব ঘটনাবলি, বিশেষত গাজার পরিস্থিতি নিয়ে লিখে। জন্মদিনের সময়ে সামান্য শারীরিক অবসাদ কাটিয়ে উঠে আল জাজিরার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মাহাথির ভবিষ্যদ্বাণী করলেন। বললেন, ইসরাইলের ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্মমতা বিশ্ব ইতিহাসে চিরস্থায়ীভাবে খোদাই হয়ে থাকবে। তিনি বললেন, গাজায় প্রায় ৬৬ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। গাজা ভয়াবহ। তারা গর্ভবতী মা, সদ্যোজাত শিশু, তরুণ-তরুণী, পুরুষ-মহিলা, অসুস্থ ও দরিদ্রদের হত্যা করছে। এটা কি ভোলা সম্ভব? শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি ভোলা যাবে না।

গাজার যুদ্ধকে তিনি গণহত্যা আখ্যা দিয়ে এর তুলনা টানলেন ১৯৯০-এর দশকের বসনিয়ায় মুসলিম হত্যাকাণ্ড এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির হাতে ইহুদি নিধনের সঙ্গে। তিনি অবাক হলেন, ইসরাইলিরা নিজেরা গণহত্যার শিকার হয়েও অন্যদের ওপর একই বর্বরতা চালাচ্ছে। মাহাথির বলেন, আমি ভেবেছিলাম যারা এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তারা চাইবে না অন্য কারও সঙ্গে একই আচরণ করতে। কিন্তু ইসরাইলের ক্ষেত্রে আমি ভুল ছিলাম। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা অবস্থায় মাহাথির ছিলেন পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর শোষণের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর।

তিনি আজীবন ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যদিও এ কারণে তাকে প্রায়ই ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগে সমালোচিত হতে হয়েছে। তিনি বলেন, ইসরাইলিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু শেখেনি। তারা চায় যা তাদের সঙ্গে ঘটেছে, সেটাই আরবদের ওপর চাপিয়ে দিতে। সমাধান প্রসঙ্গে মাহাথির বলেন, একমাত্র যুক্তিসঙ্গত পথ হলো দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। তবে বাস্তবে তা কার্যকর হতে অনেক দেরি এবং তিনি নিজ জীবদ্দশায় তা দেখবেন না।

তিন দফা হার্ট অ্যাটাকের পরও বেঁচে থাকা মাহাথির মালয়েশিয়ার দীর্ঘতম সময় ক্ষমতায় থাকা নেতা। তার ক্ষমতার মোট মেয়াদ ২৪ বছর। তার জন্ম ১০ জুলাই ১৯২৫ সালে, মালয়েশিয়ার কেদাহ প্রদেশে। তিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ১৯৮১ থেকে ২০০৩। চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তন হয় তার ২০১৮ সালে, ৯২ বছর বয়সে।  সর্বশেষ পদত্যাগ করেন ২০২০ সালে। ডাক্তারি পেশা থেকে রাজনীতিতে আসা এই নেতা মালয়েশিয়াকে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে আধুনিক শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে রূপ দেন। মাহাথির ১৯৭০-এর দশকে চীন সফরের স্মৃতি মনে করলেন- তখন দেশটি ছিল দরিদ্র, গাড়িও ছিল হাতেগোনা। অথচ আজ চীন বৈশ্বিক শক্তি, বিশেষত বৈদ্যুতিক গাড়িতে পশ্চিমকে টক্কর দিচ্ছে।

তিনি বলেন, চীন ১০ বছরের মধ্যে আমেরিকার সমান হবে। তারপর আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাবে। চীন একাই ইউরোপ ও আমেরিকার চেয়ে বড় বাজার। চীনারা পরিশ্রমী এবং ব্যবসায় খুবই দক্ষ। অন্যদিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নীতি নিয়ে সমালোচনা করেন। বলেন,  আমেরিকায় উৎপাদন ফিরিয়ে আনতে চাইলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে। ফলে আমেরিকা আর বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে না।

১০০ বছর বয়সেও মাহাথির প্রতিদিন হাঁটেন, ব্যায়াম করেন, অফিসে যান, অতিথিকে অভিবাদন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন এবং বিদেশ ভ্রমণ করেন। দীর্ঘায়ুর রহস্য সম্পর্কে তিনি বলেন, শরীর-মন সক্রিয় রাখো, আর বেশি খেও না। আমার মায়ের সেরা উপদেশ ছিল- ‘খাবার যখন সবচেয়ে সুস্বাদু লাগে, তখন খাওয়া বন্ধ করো।’

Saturday, July 18, 2026

ইসরাইলিদের মালয়েশিয়ায় ঠাঁই নেই, পেলেই বহিষ্কার -আনোয়ার ইব্রাহিমের হুঁশিয়ারি

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, দেশে কোনো ইসরাইলি নাগরিকের সন্ধান পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হবে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ দক্ষিণাঞ্চলীয় জোহর রাজ্যের একটি বেসরকারি আবাসিক কমিউনিটির কার্যক্রমে একজন ইসরাইলি সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত করছে। আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

ইংরেজি দৈনিক ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানিয়েছে, আনোয়ার বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অভিযোগের তদন্ত করছে এবং অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি কোনো ইসরাইলিকে খুঁজে পাই, তাহলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করব, কারণ আমরা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিই না।

মালয়েশিয়া ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় না। তাই বিশেষ অনুমতি ছাড়া সাধারণত ইসরাইলি পাসপোর্টধারীদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয় না।

জোহরভিত্তিক স্টার্টআপ কমিউনিটি নেটওয়ার্ক স্কুল-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জোহর রাজ্য সরকার ফেডারেল তদন্তের আহ্বান জানানোর পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্ত শুরু করে।

ইসরাইলিদের মালয়েশিয়ায় ঠাঁই নেই, পেলেই বহিষ্কার
আনোয়ার ইব্রাহিম

Wednesday, July 15, 2026

মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরাইলিকে পাওয়া গেলেই বহিষ্কার -প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিম

মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরাইলি নাগরিককে পাওয়া গেলে, সঙ্গে সঙ্গে তাকে বহিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের জোহর রাজ্যে ফরেস্ট সিটিতে একটি বেসরকারি আবাসিক কমিউনিটির কার্যক্রমে একজন ইসরায়েলি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সরকার কোনো ছাড় দেবে না।

তিনি বলেন, ‘যদি আমরা কোনো ইসরাইলিকে খুঁজে পাই, তাহলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে দেশ থেকে বের করে দেব। কারণ আমরা ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেই না।’

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগগুলো তদন্ত করছে এবং এগুলো সত্য প্রমাণিত হলে সরকার কোনো আপোস করবে না।

ইসরাইলের পাসপোর্টধারীদের জন্য সাধারণত বিশেষ সরকারি অনুমোদন ছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রবেশ নিষিদ্ধ, কারণ দেশটি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় না।

জোহরভিত্তিক একটি স্টার্টআপ কমিউনিটি ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ সম্পর্কিত অভিযোগের বিষয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত শুরু করেছে।

পাশাপাশি অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে যে ফরেস্ট সিটির একটি আন্তর্জাতিক কমিউনিটিতে পরিদর্শন করা ২৬৬ জন বিদেশির সকলেরই বৈধ অভিবাসন নথি ছিল।

ফরেস্ট সিটি হলো সিঙ্গাপুর সীমান্তের কাছে জোহরে কৃত্রিম দ্বীপের ওপর নির্মিত একটি বড় আকারের মিশ্র-ব্যবহারের উন্নয়ন প্রকল্প।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরাইলিকে পাওয়া গেলেই বহিষ্কার
আনোয়ার ইবরাহিম। ছবি: সংগৃহীত

Tuesday, December 23, 2025

গৃহবন্দী থাকার আবেদন খারিজ, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে নাজিব রাজাককে

কারাগারে নয়, গৃহবন্দী থেকে নিজের বাকি কারাদণ্ড ভোগ করার আবেদন করেছিলেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। কিন্তু আজ সোমবার দেশটির আদালত তাঁর এই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

দুর্নীতির মামলায় কারাবাসে থাকা নাজিবের জন্য এটি একটি বড় আঘাত। নাজিবের বিরুদ্ধে লাখ লাখ ডলারের আলোচিত এই দুর্নীতির মামলাটি ‘১ এমডিবি আর্থিক কেলেঙ্কারি’ নামে পরিচিত। মালয়েশিয়া ছাড়া আরও কয়েকটি দেশে এই মামলা নিয়ে তদন্ত হয়েছে। নাজিবের বিরুদ্ধে এই কেলেঙ্কারি সংশ্লিষ্ট আরও একটি মামলার রায় এ সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে।

২০২২ সালে এ মামলায় নাজিবকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁর সাজা কমিয়ে অর্ধেক করা হয়। ৭২ বছর বয়সী নাজিব এখন তাঁর ছয় বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ২০২২ সালের আগস্ট মাস থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

নাজিবের আইনজীবীরা তাঁর সাজার বাকি মেয়াদ গৃহবন্দী থেকে কাটানোর অনুমতি দেওয়ার আবেদন করেছিলেন। আদালতে তাঁদের যুক্তি ছিল, মালয়েশিয়ার সাবেক রাজার একটি অনুমোদন নাজিবকে সাজার বাকি মেয়াদ বাড়িতে বন্দী থেকে ভোগ করার অনুমতি দিয়েছে। সাবেক রাজার ওই অনুমোদন ‘রয়্যাল অ্যাডেনডাম’ নামে পরিচিত।

যদিও আইনজীবীদের এই যুক্তির সঙ্গে বিচারক অ্যালিস লোক ই চিং একমত হতে পারেননি। তিনি বলেন, রয়্যাল অ্যাডেনডাম বৈধ কোনো আদেশ ছিল না।

কুয়ালালামপুর হাইকোর্টের বিচারক অ্যালিস লোক ই চিং আরও বলেন, ‘আদালত গৃহবন্দী রাখার নির্দেশ দিয়ে কোনো আদেশ জারি করতে পারে না। কারণ, মালয়েশিয়ায় গৃহবন্দী রাখার কোনো আইনি বিধান নেই। তাই বিচারিক পর্যালোচনার আবেদন খারিজ করা হলো।’

বিচারকের এই রায় শোনার পর ধূসর রঙের স্যুট ও সাদা শার্ট পরা নাজিবকে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যায়।

নাজিবের আইনজীবী মুহাম্মদ শাফি আবদুল্লাহ শুনানি শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব আদালতের এই সিদ্ধান্তে খুবই হতাশ। তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

নাজিবকে ২০২০ সালের জুলাই মাসে প্রথমে এই মামলায় ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে দেশটির শাস্তি মওকুফ বোর্ড (পারডনস বোর্ড) তাঁর সাজার মেয়াদ অর্ধেক কমিয়ে দেয়।

 সোমবার আদালতে হাজির ছিলেন নাজিব রাজাক। ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫
সোমবার আদালতে হাজির ছিলেন নাজিব রাজাক। ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ছবি: এএফপি

Monday, December 1, 2025

বন্যা ও ভূমিধসে এশিয়ার তিন দেশে মৃতের সংখ্যা ছয় শতাধিক

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিরল এক ট্রপিক্যাল ঝড়ে সৃষ্ট প্রবল বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। সপ্তাহজুড়ে চলা দুর্যোগে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রোববার প্রকাশিত সরকারি হিসাব বলছে- ইন্দোনেশিয়ায় ৪৩৫, থাইল্যান্ডে ১৭০ এবং মালয়েশিয়ায় ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত তিন দেশের বহু অঞ্চলে পানি নামতে শুরু করলেও এখনো বিপুল সংখ্যক মানুষ গৃহহীন। তিন দেশে মোট ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ৪০ লাখের বেশি। এর মধ্যে দক্ষিণ থাইল্যান্ডে প্রায় ৩০ লাখ এবং পশ্চিম ইন্দোনেশিয়ায় ১১ লাখ মানুষ মারাত্মকভাবে দুর্ভোগে রয়েছে।

অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের ওপারে শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়ে ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৯১ জন। দেশটিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা পাঁচ লাখেরও বেশি।

ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ায় মৃতের সংখ্যা একদিনে ৩০৩ থেকে বেড়ে ৪৩৫ জনে পৌঁছেছে। পশ্চিম সুমাত্রার তিন প্রদেশে টানা বৃষ্টি ও ভূমিধসে বহু এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় কোথাও কোথাও বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পালেমবায়ান শহরের উপর দিয়ে নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার উড়ে যাওয়ার সময় দেখা গেছে- বড় বড় এলাকা এখনও পানির নিচে, সেখানে ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। হেলিকপ্টার নামতেই খাদ্যের অপেক্ষায় থাকা ভিড় জমায় স্থানীয়রা। ক্ষতিগ্রস্তদের হতাশা থেকে কোথাও কোথাও ত্রাণবাহী লাইন লুটের ঘটনাও ঘটেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এখনো ৪০৬ জন নিখোঁজ এবং অন্তত ২ লাখ ১৩ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত।

থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭০ হয়েছে। শুধু সংখলা প্রদেশেই ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার একদিনে হাট ইয়াই শহরে ৩৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। যা গত ৩০০ বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। এদিকে মালয়েশিয়ায় দুর্যোগ কিছুটা কমলেও এখনও ১৮ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর ঝড় ও অবিরাম বৃষ্টির সতর্কতা তুলে নিয়েছে এবং বেশির ভাগ এলাকায় আকাশ পরিষ্কার থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে। প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে মালয়েশিয়ার কিছু অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। থাইল্যান্ডে আটকা পড়া ৬২০০ এর বেশি মালয়েশিয়ান নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম সুমাত্রায় বসবাসরত নাগরিকদের দূতাবাসে নিবন্ধনের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে জানানো হয়- এলাকার একটি ভূমিধসে ৩০ বছর বয়সী এক মালয়েশিয়ান নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

mzamin

মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের নির্বাচনে ধাক্কা খেল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারের জোট

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট ‘পাকাতান হারাপান’ সাবাহ রাজ্যের নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তিন বছর ক্ষমতায় থাকা জোটটির জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা।

বোর্নিও দ্বীপের পূর্বাঞ্চলীয় সাবাহ রাজ্যে গতকাল শনিবার ভোট হয়েছে। রোববার প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, রাজ্যের ২০টি আসনের মধ্যে পাকাতান হারাপান জোট মাত্র একটি আসনে জিতেছে। এর আগে এ রাজ্যে জোটটি সাতটি আসনে জিতেছিল।

মালয়েশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক লি কুওক টিয়ুং বলেন, ‘সাবাহ রাজ্যের এই নির্বাচনী ফলে দেখা যাচ্ছে, আনোয়ারের জোট বড় ধরনের পরাজয়ের শিকার হয়েছে।’

সাবাহের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ার রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচন শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রাজ্যেও ভোট হবে। ২০২৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব ভোট আনোয়ারের জোটের জন্য বড় পরীক্ষা। কারণ, এতে তাঁর জনপ্রিয়তা কেমন, তা প্রমাণ হবে।

আনোয়ারের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পাকাতান হারাপান জোট ধাক্কা খেলেও তাঁর সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজ্য পর্যায়ের গাবুঙ্গান রাক্যাত সাবাহ (জিআরএস) জোট ক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে। সাবাহ মালয়েশিয়ার বৃহত্তম ও দরিদ্রতম রাজ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। রাজ্যটিতে আরও বিস্তৃত স্বায়ত্তশাসনের দাবি ক্রমে জোরদার হচ্ছে। তাই আনোয়ারের জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে চাপের মুখে ছিল জিআরএস। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা জিতেছে।

জিআরএস নেতা হাজিজি নুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আনোয়ার। গতকাল তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার সাবাহ রাজ্যের ভোটারদের দেওয়া ‘স্পষ্ট ও শক্ত বার্তাকে পূর্ণ সম্মান’ জানায়।

আনোয়ার আরও লেখেন, ‘প্রায় সব রাজনৈতিক দলের অবিচার ও অবহেলার মুখে পড়ে সাবাহবাসী এখন সত্যিকারের পরিবর্তন চাইছে।’

পাকাতান হারাপান জোটের মিত্রদের বড় পরাজয় নিয়ে আনোয়ার কোনো মন্তব্য করেননি। তাঁর দপ্তরও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজি হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক লি কুওক টিয়ুং বলেন, সাবাহ রাজ্যের ভোটাররা আঞ্চলিক দল, বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন এবং পানি, বিদ্যুৎ ও সড়ক—এই মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেন। আনোয়ারকে স্থানীদের জনমত বুঝতে হবে। আর আগের প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন কত দূর হয়েছে, তা–ও নতুন করে পর্যালোচনা করা দরকার।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। কুয়ালালামপুরে ৪৭তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত ২৮তম আসিয়ান-জাপান শীর্ষ সম্মেলনে, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। কুয়ালালামপুরে ৪৭তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত ২৮তম আসিয়ান-জাপান শীর্ষ সম্মেলনে, ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

Sunday, October 26, 2025

আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন: জোটের সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান আনোয়ার ইব্রাহিমের

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোটের (আসিয়ান) সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

আজ রোববার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে শুরু হওয়া ৪৭তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে আনোয়ার ইব্রাহিম এ আহ্বান জানান। ২৮ অক্টোবর এ সম্মেলন শেষ হবে। এতে যোগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

স্বাগত বক্তব্যে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ক্রমবর্ধমান অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে আসিয়ানের সদস্যদেশগুলোর জন্য ঐক্য, খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং অভিন্ন উদ্দেশ্য বজায় রাখা অপরিহার্য।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, নেতৃত্ব মানে রুটিনমাফিক কাজ করা নয়, এটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়। কী অগ্রাধিকার দিতে হবে, আসিয়ানের উদ্দেশ্য কীভাবে এগিয়ে নিতে হবে ও জনগণের আশা অনুযায়ী সঠিক পথ কীভাবে নির্ধারণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আনোয়ার আরও বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান সুরক্ষাবাদ নীতি এবং সরবরাহশৃঙ্খলে পরিবর্তন আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমাদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে হবে। অন্যথায় আসিয়ান স্থিতিশীল থাকতে পারবে না।’

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত, লাওসের প্রধানমন্ত্রী সোনেক্সেই সিফানদোন, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ও ব্রুনেইয়ের সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়াহ মুইজ্জাদ্দিন ওয়াদদৌল্লাহ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাসহ বিশ্বের আরও অনেক নেতা।

সম্মেলনে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ২০২৫ সাল আসিয়ানের জন্য নতুন পরীক্ষার বছর। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ক্রমে বাড়ছে। ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ব্যাঘাত অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা ও সম্মিলিত সংকল্পকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখছি, এ অঞ্চলজুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি শুধু আমাদের অর্থনীতি নয়; বরং সহযোগিতায় বিশ্বাস রাখার সম্মিলিত সংকল্পকেও পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।’

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: রয়টার্স

Friday, September 19, 2025

মালয়েশিয়ায় হালাল পণ্যের মেলায় প্রাণের ৫০০ পণ্য by শফিকুল ইসলাম

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে চলছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ হালাল পণ্যের মেলা। সেখানে বাংলাদেশের পণ্যও আছে।

এই হালাল পণ্যের তালিকায় বিভিন্ন ফ্লেভারের নুডলস, বিস্কুট, জুস কিংবা মাছ–মাংসের মতো প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের সমাহার আছে। পাশাপাশি পোশাক, লিপস্টিক ও সুগন্ধির মতো জীবনযাপন ও সৌন্দর্যবর্ধনের সামগ্রী আছে। আরও আছে হালাল পণ্য তৈরি করার নানা যন্ত্রপাতি।

এ ধরনের হাজার হাজার হালাল পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত মিহাস ফেয়ার বা হালাল পণ্যের প্রদর্শনীতে। মালয়েশিয়া বহির্মুখী বাণিজ্য উন্নয়ন করপোরেশনের (ম্যাট্রেড) আয়োজনে আজ বুধবার সকালে এ মেলা শুরু হয়েছে। চার দিনব্যাপী এ মেলা চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এতে বিশ্বের ৯০টি দেশ থেকে ২ হাজার ৩০০টি স্টলে পণ্য প্রদর্শন করছে হালাল পণ্যের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন দেশের কোম্পানি।

রাজধানী কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রদর্শনী কেন্দ্রে (মিটেক) মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস বা মিহাসের এটি ২১তম আসর।

সরেজমিনে যা দেখা গেল

এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড প্রাণ অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশি প্রাণ ব্র্যান্ডের ৫০০–এর বেশি পণ্য মেলায় প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। প্রাণের পণ্য নিয়ে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মধ্যেও বেশ আগ্রহ আছে। এবারের আসরে প্রাণ দুটি স্টলের মাধ্যমে পাঁচ শতাধিক পণ্য প্রদর্শন করছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে স্ন্যাকস, জুস ও ড্রিংকস, কালিনারি (নুডলস, সস প্রভৃতি) পণ্য, বিস্কুট ও বেকারি এবং বিভিন্ন কনফেকশনারি (চকলেট, বাবলগাম, ক্যান্ডি) পণ্য।

সরেজমিন মেলা ঘুরে দেখা গেছে, প্রাণের স্টল দুটিতে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা এসে পণ্যের খোঁজ নিচ্ছেন।

দর্শনার্থীদের একজন সিঙ্গাপুরের ভোগ্যপণ্যের পাইকারি ব্যবসায়ী শিবা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেলায় এসে প্রাণের তৈরি কারি ফ্লেভারের নুডলস খেয়ে দেখলাম। এটি বেশ সুস্বাদু। আশা করছি, সিঙ্গাপুরেও এটির ভোক্তা চাহিদা পাব।’

শিবা আরও বলেন, ‘আমি শুধু নেসলের নুডলস বিক্রি করি। এখন নতুন আরেকটি ব্র্যান্ডও যুক্ত করতে চাই। এ জন্য প্রাণের কারি ফ্লেভারের এক কনটেইনার নুডলস অর্ডার করব ভাবছি।’

মালয়েশিয়ায় প্রাণের পণ্যের একমাত্র আমদানিকারক পিনাকল ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা নতুন কিছু পণ্যে বেশি জোর দেব। এর মধ্যে রয়েছে কোরিয়ান নুডলস, বিভিন্ন বিস্কুট ও বাসিল সিড ড্রিংকস।’

সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘এবারের মেলায় প্রাণের প্রধান লক্ষ্য, আসিয়ানভুক্ত দেশ, দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপের দেশে হালাল পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা। এর মাধ্যমে মেলা থেকে ২০ লাখ ডলার সমমানের পণ্যের সরাসরি রপ্তানি আদেশ পাব বলে আশা করছি আমরা।’

মালয়েশিয়াকে হালাল পণ্যের অন্যতম বৃহৎ বাজার উল্লেখ করে প্রাণের কর্মকর্তারা জানান, এর পাশাপাশি প্রতিবেশী ব্রুনেই ও ইন্দোনেশিয়ায় হালাল পণ্যের বড় বাজার রয়েছে। এসব বাজারে রপ্তানি পণ্যের সম্প্রসারণ করতে চায় প্রাণ গ্রুপ।

পিনাকল ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম ভূঁইয়া জানান, মালয়েশিয়ার মিহাস ফেয়ার হালাল অর্থনীতিতে প্রবেশের জন্য ব্যাপক সুযোগ তৈরি করে। কারণ, মিহাস ফেয়ারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা তাঁদের প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের জন্য হাজির হন। আবার অনেক ব্যবসায়ী এখান থেকে হালাল পণ্যের বাজার সম্পর্কে ধারণা পান এবং সে অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবস্থায় নিজেদের তৈরি করেন। তাই বিশাল এই অর্থনীতিতে প্রবেশ করতে মিহাস ফেয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৯০টি দেশ অংশ নিয়েছে

মালয়েশিয়া বহির্মুখী বাণিজ্য উন্নয়ন করপোরেশন (ম্যাট্রেড) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মিহাস ২০২৫–এ বাংলাদেশসহ ৯০টি দেশের ২ হাজার ৩০০ বুথ ও আন্তর্জাতিক প্রদর্শক অংশ নিচ্ছেন। প্রায় ৪৫ হাজার দর্শনার্থীর উপস্থিতি আশা করছে আয়োজকেরা।

হালাল খাদ্য ও পানীয়, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ইসলামিক অর্থায়ন, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল পণ্য, ব্যক্তিগত যত্ন, প্রসাধনী ও মুসলিমবান্ধব পর্যটন—সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত প্রদর্শনীর সুযোগ তৈরি হয়েছে এ মেলায়। ২০২৪ সালে মিহাস মেলা থেকে ৪৩০ কোটি রিঙ্গিত বিক্রির রেকর্ড হয়েছিল। এ বছর নতুন মাইলফলক সৃষ্টির আশা করছে তারা।

বাংলাদেশের প্রাণের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বিশ্বে হালাল পণ্যের বাজার প্রায় তিন লাখ কোটি (তিন ট্রিলিয়ন) ডলারের কাছাকাছি। বিশ্বের ২০০ কোটির বেশি মুসলিম জনসংখ্যা এই পণ্যের প্রধান ক্রেতা। এ ছাড়া অন্য গ্রাহকের কাছেও মান ও পুষ্টিগুণের বিবেচনায় এ পণ্যের চাহিদা রয়েছে। মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ছাড়া বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় হালাল পণ্যের বাজার তৈরি হয়েছে।

২০০৪ সাল থেকে প্রতিবছর মিহাস মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে মালয়েশিয়ার প্রাণকেন্দ্র কুয়ালালামপুরে। ২০১৩ সাল থেকে এ প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে প্রাণ। মিহাস মেলা ছাড়া প্রাণ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গালফ ফুড ফেয়ার, জার্মানির আনুগা, ফ্রান্সের সিয়াল ফেয়ারসহ খাদ্যপণ্যের জন্য বিখ্যাত সব মেলায় নিয়মিত অংশ নিচ্ছে।

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে চলছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ হালাল পণ্যের মেলা। মেলায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি ব্র্যান্ড প্রাণের স্টলে আসা ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে চলছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ হালাল পণ্যের মেলা। মেলায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি ব্র্যান্ড প্রাণের স্টলে আসা ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। ছবি: প্রথম আলো

Thursday, July 24, 2025

মাহাথিরের চোখে সত্যি কি আনোয়ার ইব্রাহিমের রাজনৈতিক ভিত্তি নড়বড়ে?

মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গন ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদের মুখোমুখি অবস্থানে। কয়েক দশকের পুরনো সম্পর্ক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার আবারও প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে, যেখানে ক্ষমার বৈধতা, নির্বাচনী নৈতিকতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্ন উঠে এসেছে প্রবলভাবে।

সাম্প্রতিক একাধিক বক্তব্য ও ফেসবুক পোস্টে মাহাথির মোহাম্মদ আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্ব, নৈতিকতা এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। মাহাথির মোহাম্মদের অভিযোগ, আনোয়ার ইব্রাহিম জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রধানমন্ত্রী হননি। তিনি নির্বাচনে হেরে গিয়ে বিভিন্ন পরাজিত দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন। এর ফলে জনগণের প্রকৃত রায় উপেক্ষিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আরও স্পর্শকাতর ইস্যু সেখানে উঠে এসেছে যে, মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাধারণ ক্ষমা। ২০১৮ সালে মাহাথির মোহাম্মদ যখন দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন, তখন তার শাসনামলেই আনোয়ার ইব্রাহিম রাজক্ষমার মাধ্যমে মুক্তি পান এবং রাজনীতিতে ফিরতে সক্ষম হন। তবে এখন মাহাথির মোহাম্মদ বলছেন, তিনি সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পরামর্শ অনুযায়ী, এবং তখন তা সঠিক বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এ বিষয়ে আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উঠে এসেছে। সম্প্রতি তুন মাহাথির মোহাম্মদের ভাষায়, আনোয়ার ইব্রাহিমের ক্ষমা বৈধ না হলে তার সংসদ সদস্য হওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত থাকার বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

মাহাথির মোহাম্মদ, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলেছেন যে, তিনি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছেন। তিনি বলেছেন, একসময় যিনি রিফর্মাসি আন্দোলনের নেতা ছিলেন, আজ তিনিই প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছেন। সাধারণ মানুষ আনোয়ারের নেতৃত্বে হতাশ হয়ে “ডাউন আনোয়ার” স্লোগানে রাস্তায় নামছে বলে মাহাথির দাবি করেন। বিশেষ করে আলোর সেতার এলাকায় এই স্লোগান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আনোয়ার ইব্রাহিম মাহাথিরকে সরাসরি জবাব না দিলেও সম্প্রতি পুলাউ বাতু পুতেহ ইস্যুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাহাথিরের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করেন। রাজপরামর্শ কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই দ্বীপের সার্বভৌমত্ব বিষয়ে ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় এবং পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে মামলাভুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। আনোয়ার ইব্রাহিম এ প্রসঙ্গ টেনে তুলে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন এখানে একটি বড় ধরনের ভুল হয়েছিল, তবে মাহাথিরের বয়স বর্তমানে ১০০ বছর হওয়ায় মানবিক বিবেচনায় মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তার ভাষায়, “তিনি কি দোষী ছিলেন না? ছিলেন। আমরা কি ব্যবস্থা নিতে পারি? পারি। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে তা করব না।” দেশটির বারনামা সহ প্রায় সবকটি গণমাধ্যম ফলাও করে এসব খবর দিয়েছে।

এই অবস্থানে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশী কমিউনিটিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দ্বিধাবিভক্ত। একদল মনে করছেন, তুন ড. মাহাথিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার মধ্যে মানবিকতা ও রাজনৈতিক সহনশীলতার প্রকাশ রয়েছে। অন্যদিকে অনেকেই মনে করছেন, এটি জবাবদিহিতার ব্যত্যয়, যেখানে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দোষী প্রমাণিত হলেও বয়সের দোহাই দিয়ে আইনের বাইরে রাখা হচ্ছে।

বর্তমানে মালয়েশিয়ার রাজনীতি সেই পুরনো দ্বন্দ্বে মাহাথির মোহাম্মদ বনাম আনোয়ার ইব্রাহিম। কিন্তু এবার দ্বন্দ্বটি কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে নৈতিকতা, আইনগত বৈধতা, এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে। দুই নেতার মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপ ও মতবিরোধের এই পর্যায়ে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা এখন সময়ই বলবে।

mzamin

Friday, July 11, 2025

রুশ ক্ষেপণাস্ত্রেই ধ্বংস এমএইচ ১৭ বিমান, মৃত্যু ২৯৮ জনের: ইউরোপের মানবাধিকার আদালতের চাঞ্চল্যকর রায়

নয় বছর আগে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলাতেই  ধ্বংস হয়ে যায় মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ ১৭ বিমানটি। যার জেরে মৃত্যু হয়েছিল ২৮৩ জন যাত্রী ও ১৫ জন বিমানকর্মীরা। এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করল ইউরোপের শীর্ষ মানবাধিকার আদালত। এক দশক ধরে ইউক্রেনে নৃশংসতার অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল কিয়েভ ও নেদারল্যান্ডস। সেই মামলাতেও পুতিনের প্রশাসনের বিরুদ্ধে গিয়েছে মানবাধিকার আদালতের রায়। ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ভেঙে পড়ে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ ১৭। নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডাম থেকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে যাচ্ছিল যাত্রীবাহী ওই বিমানটি। সেটি যখন পূর্ব ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চল অতিক্রম করছিল, তখনই একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বিমানটিতে। ওই সময় দোনবাস অঞ্চলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ধুন্ধুমার সংঘর্ষ চলছিল। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই যে বিমানটি ধ্বংস হয়েছিল তা নিশ্চিত করেছে ইউরোপের সর্বোচ্চ মানবাধিকার আদালত। এর ফলেই মৃত্যু হয় ৮০টি শিশু-সহ ২৮৩ জন যাত্রী এবং ১৫ জন বিমানকর্মীর।

স্ট্রাসবার্গের একটি আদালতের কক্ষে রায় পড়ার সময়, আদালতের বিচারপতি মাতিয়াস গুয়োমার বলেছেন, ‘প্রমাণ থেকে বোঝা যায় ক্ষেপণাস্ত্রটি ইচ্ছাকৃতভাবে ফ্লাইট এমএইচ ১৭  লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল, সম্ভবত তারা ভেবেছিলো এটি একটি সামরিক বিমান ছিল। বিচারকদের সামনে প্রমাণিত হয়েছে যে  ফ্লাইট এমএইচ ১৭ ধ্বংসে রাশিয়ার জড়িত থাকার বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করতে মস্কোর ব্যর্থতা মৃতদের আত্মীয় এবং বন্ধুদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে।’ মে মাসে, জাতিসংঘের বিমান সংস্থাও এই বিপর্যয়ের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে অন্যান্য রায়
এর পাশাপাশি আদালত রাশিয়াকে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস এবং ২০২২ সালের মস্কোর পূর্ণ-মাত্রায় আক্রমণের পরে ইউক্রেনীয় শিশুদের অপহরণের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে। আদালত জানিয়েছে, রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে।  হামলা চালিয়ে  হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিককে হত্যা ও আহত করেছে, ভয় ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে।

আদালতের  আরও পর্যবেক্ষণ, এই  মানবাধিকার লঙ্ঘনগুলো কোনও সামরিক উদ্দেশ্যে নয়। ইউক্রেনের মনোবল ভাঙার কৌশলের অংশ হিসাবে যৌন সহিংসতাকে হাতিয়ার করেছে রাশিয়া। ৫০২-পৃষ্ঠার রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে রাশিয়া ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের চুক্তিও লঙ্ঘন করেছে।

আদালত সম্পর্কে
European Court of Human Rights বা ইউরোপের মানবাধিকার আদালত হলো ইউরোপের কাউন্সিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা এই মহাদেশের শীর্ষ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান। আদালতের গভর্নিং বডি সর্বাত্মক আক্রমণের প্রতিক্রিয়া হিসাবে ২০২২ সালে মস্কোকে বহিষ্কার করেছিল। তা সত্ত্বেও  আদালত এখনও রাশিয়ার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করতে  পারে। আইনত, রাশিয়া এখনও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য। আদালত পরবর্তী তারিখে আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয়ে রায় দেবে, তবে রাশিয়ার বহিষ্কারের  ফলে ক্ষতিপূরণ সংগ্রহ করা যাবে এমন আশা কম ।
সূত্র : এনডিটিভি

mzamin