Thursday, August 27, 2026
ভারতে হিজাব পরায় বাধা, ক্ষুব্ধ ওয়াইসি বললেন ‘এটি ইসলামের ওপর আঘাত’
মঙ্গলবার এআইএমআইএমের দারুস সালাম কার্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত ‘জালসা-এ-রহমাতুল লিল আলামিন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ওয়াইসি এ মন্তব্য করেন।
ওয়াইসি বলেন, স্কুলে কোনো ছাত্রী হিজাব পরতে পারবে না—আদালতের এমন সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত নন। তিনি প্রশ্ন করেন, সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির বেঞ্চে সাবরিমালা-সংক্রান্ত বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় হাইকোর্ট কেন কোনো ধর্মীয় অনুশীলন ইসলামের জন্য অপরিহার্য কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিল।
তিনি বলেন, “আজকের রায় ভারতের সংবিধানের ২৫ ও ১৯ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। ইসলামের জন্য কোনটি অপরিহার্য, তা নির্ধারণ করার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে? মেয়েরা মাথায় হিজাব পরে, মনে নয়।”
এর আগে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বলেছিল, বৈষম্যহীন ও সৎ উদ্দেশ্যে নির্ধারিত ইউনিফর্ম নীতিমালা স্কুল কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত। ওই ছাত্রী আগের বছরগুলোতে কোনো আপত্তি ছাড়াই মাথায় স্কার্ফ পরলেও এবার পোশাকবিধির কারণ দেখিয়ে তাঁকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি দেওয়া হয়নি।
এদিকে আসাম ও উত্তরাখণ্ডে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি প্রণয়নের উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন ওয়াইসি। তার দাবি, ইউসিসির নামে হিন্দু ব্যক্তিগত আইন, যেমন হিন্দু বিবাহ আইন, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত আইন অনুসরণে মুসলমানদের বাধ্য করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মুসলমানদের কেন এসব আইন অনুসরণ করতে হবে। তাঁর ভাষ্য, ধর্মীয় বিশ্বাসে অটল মুসলমানরা কোরআন ও সুন্নাহ অনুসরণ করেই চলবেন।
‘বন্দে মাতরম’ নিয়েও বক্তব্য দেন ওয়াইসি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু ও মহাত্মা গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, গানটির প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁদের চেয়ে নিজেকে বেশি জ্ঞানী মনে করেন কি না—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ওয়াইসি বলেন, ভারত সবার এবং পরিণতি যা-ই হোক, তিনি কালেমা ঘোষণা করে যাবেন।
এ সময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও বিজেপিরও সমালোচনা করেন এআইএমআইএম সভাপতি। তার দাবি, ভারতের সংবিধান গৃহীত হওয়ার কয়েকদিন পরই আরএসএসের মুখপত্র সংবিধানের পরিবর্তে মনুস্মৃতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
তিনি আন্দামান কারাগারে বিনায়ক দামোদর সাভারকারের আচরণের সঙ্গে মুসলিম স্বাধীনতাসংগ্রামীদের ভূমিকার তুলনা করেন এবং দাবি করেন, মুসলিম স্বাধীনতাসংগ্রামীরা কখনো ব্রিটিশদের অনুগ্রহ চাননি। স্বাধীনতা সংগ্রামে আরএসএস কোনো ত্যাগ স্বীকার করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, মুসলিম মিরর
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত। |
Wednesday, August 26, 2026
হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেব, মুসলিমদের ঘাড়ধাক্কা: শুভেন্দু
মঙ্গলবার জি ২৪ ঘণ্টার মেগা কনক্লেভে এসব কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেব আর মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ঘাড়ধাক্কা দেব।’
ক্ষমতায় আসার পর নিজের ‘টু-ডু লিস্টে’ থাকা কাজগুলোর একটি ক্রমানুযায়ী খতিয়ান তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তার সরকারের প্রথম লক্ষ্য দেশের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া। ইতিমধ্যে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এরপরই নাগরিকত্ব ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ঘাড়ধাক্কা দিয়ে দেশের বাইরে বের করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দ না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ থাকত না। আমরা কেউ এত বড় বড় ভাষণ দিতে পারতাম না।
মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন। দুই বছর পর রাজ্যে বিএনএস চালু হয়েছে। কেন্দ্রের সব প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করাও সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিতে না পারলেও বর্তমান বিজেপি সরকার নতুন বিমানবন্দরের জন্য ২ হাজার একর জমি চিহ্নিত করেছে বলে জানান তিনি।
কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, চিকেন নেককে সুরক্ষিত রাখতে কেন্দ্র প্রাক্তন সরকারের কাছে সাতটি রাস্তা চেয়েছিল। সেই সাতটি রাস্তাই কেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কেন্দ্রের রেল প্রকল্পের জন্য হিলি, লালগড়, গোপীবল্লভপুর, এগরা, দাঁতন, দিঘা, জলেশ্বর, করিমপুর ও তেহট্টের জমি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার দাবি, পূর্বতন সরকারের আমলে প্রায় ৫০০টি রাস্তা ও সেতু তৈরির জন্য জমি আটকে রাখা হয়েছিল। সেই জমিও কেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনাসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ যুক্ত হয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী।
সরকারের চতুর্থ দায়িত্ব জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যের ১ কোটি ৪৫ লাখ নারী অন্নপূর্ণা যোজনার অনুদান পাচ্ছেন। আরও ২০ থেকে ৩০ লাখ নারীকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। স্বচ্ছতা যাচাই করেই এই অনুদান দেওয়া হবে।
স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নিয়োগ দুর্নীতির বাইরে রাখতে রামকৃষ্ণ মিশনের আচার্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। একইভাবে একজন সৎ আইএএস কর্মকর্তাকে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের শীর্ষ পদে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকারের পঞ্চম কাজ শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিকীকরণ। যুবকদের নিজেদের পায়ে দাঁড় করানোর জন্য এসব কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী।
সরকারের ষষ্ঠ কাজ হলো বাম ও তৃণমূল আমলে হওয়া দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা। এ জন্য মন্ত্রিগোষ্ঠীর মাধ্যমে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ভোট ঘোষণার ছয় মাস আগে পর্যন্ত এবং গত তিন মাসে পূর্ববর্তী সরকার যেসব ক্ষতি করে গেছে, সেগুলোও খতিয়ে দেখা বর্তমান সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু।
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার ১০০ দিনের মধ্যে এই ছয় দফা কর্মসূচির ‘সিক্সার’ বাস্তবায়নের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Tuesday, August 25, 2026
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে আবারো উত্তাল ভারত
মঙ্গলবার বিপুলসংখ্যক বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (বিপিএসসি) চাকরিপ্রার্থীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থী পাটনার গান্ধী ময়দান থেকে পূর্বঘোষিত মিছিল শুরু করেন। পরে তারা ডাক বাংলো মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাক্কাধাক্কি হয় এবং একপর্যায়ে তারা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ জলকামান ছুড়লে আন্দোলনকারীদের অনেকে ভিজে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হলে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতেই ছিল জাতীয় পতাকা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাটনার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ডাক বাংলো মোড়ে অতিরিক্ত বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।
যেসব দাবিতে আন্দোলন
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে পাটনার গার্দানিবাগ এলাকায় অবস্থান ও বিক্ষোভ করছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা এক ধাপে নেওয়া, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বিহার স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (বিএসএসসি) নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন এবং হিন্দি মাধ্যমের প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া ৭০তম বিপিএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পরীক্ষাটি বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
পুলিশের আইনশৃঙ্খলা বিভাগের সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার কামাখ্যা নারায়ণ সিং বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং আলোচনার ফল ইতিবাচক। তার দাবি, শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এরপরও যারা মিছিল নিয়ে এগিয়ে আসবেন, তাদের থামানো হবে এবং সামনে যেতে দেওয়া হবে না।
সরকারের সঙ্গে সংলাপের দাবি
বিক্ষোভস্থলে কংগ্রেস নেতা সুশীল কুমার বলেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় এক ধাপের ব্যবস্থা এবং নেগেটিভ মার্কিং বাতিলসহ বিপিএসসি, বিএসএসসি ও সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ধরে অনশন করলেও সরকার তাদের সঙ্গে কার্যকর সংলাপে বসেনি। মুখ্যমন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদলকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে চলমান বিপিএসসি পরীক্ষাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে চিঠি দিয়েছেন বিহারের বিরোধীদলীয় নেতা তেজস্বী যাদব। তিনি আন্দোলনকারীদের দাবি উপেক্ষা না করে তাদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
তেজস্বী যাদবের দল রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) আন্দোলনকে সমর্থন করেছে। এছাড়া রেভল্যুশনারি ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন, এসএসএআই ও ছাত্র যুব সংগ্রাম মোর্চাসহ ১৪টি ছাত্র ও যুব সংগঠনও বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ জানাতে ‘বিদ্যার্থী সহযোগ শিবির’
বিক্ষোভের মধ্যে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ হিসেবে মাসিক ‘বিদ্যার্থী সহযোগ শিবির’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিহার সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রতি মাসের চতুর্থ মঙ্গলবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব শিবির আয়োজন করা হবে। সেখানে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে সরাসরি নিজেদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।
এ ছাড়া অনলাইনে অভিযোগ নিবন্ধন এবং তার অগ্রগতি অনুসরণের সুবিধাও থাকবে। এ জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল ও ১১০০ হেল্পলাইন চালুর কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের মন্তব্য ঘিরেও ক্ষোভ
এর আগে বিপিএসসি পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে পরীক্ষার নিয়ন্ত্রক রাজেশ কুমার বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘হাতি চলে বাজার, কুকুর ভোকে হাজার’—এই মন্তব্যকে আন্দোলনকারীদের প্রতি অবমাননাকর হিসেবে দেখছেন বিরোধীরা।
তেজস্বী যাদব ওই কর্মকর্তাকে অবিলম্বে অপসারণ এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, পরীক্ষায় বারবার অনিয়ম ও বাতিলের ঘটনা ঘটলেও দায় নির্ধারণ বা জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
শিক্ষার্থীদের দাবি ও সরকারের অবস্থান নিয়ে অচলাবস্থা কাটাতে দ্রুত সংলাপ না হলে পাটনায় আন্দোলন আরও জোরালো হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি

হিজাব পরা ইসলামে অপরিহার্য আচার নয়: ভারতের হাইকোর্ট
প্রয়াগরাজের আটারসুইয়ার ‘টাগোর পাবলিক স্কুল’-এর একাদশ শ্রেণির নাবালিকা ছাত্রী সুকাইনা রিজভীর দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি জে জে মুনীর এবং বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেন।
আবেদনকারী সুকাইনা রিজভী আদালতকে জানান, তিনি শৈশব থেকেই হিজাব পরেন। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ওই স্কুলে পড়ার সময়ও তিনি ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি পেয়েছিলেন। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সময়ও হিজাব পরার অধিকার বজায় রাখার দাবি জানান তিনি।
সুকাইনা রিজভীর দাবি ছিল, তাকে হিজাব পরতে না দেওয়া সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা এবং ১৯(১)(এ) নম্বর ধারার লঙ্ঘন। তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে বলেছেন, শুধু মৌখিক দাবি বা বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবিধানের ২৫ নম্বর ধারার অধীন সুরক্ষা দাবি করা যায় না।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, সংবিধানের ২৫ নম্বর ধারার ওপর নির্ভর করে করা কোনো দাবি পর্যাপ্ত তথ্য ও আইনি ভিত্তি ছাড়া কেবল মৌখিক সমর্থনের ভিত্তিতে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
দ্বৈত বেঞ্চ তাদের রায়ে বিদ্যালয়ের ড্রেস কোড এবং নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ড্রেস কোড যদি নিরপেক্ষ, সর্বজনীন ও বৈষম্যহীন হয়, তাহলে শৃঙ্খলা এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিচয় বজায় রাখতে সেটি কার্যকর করার পূর্ণ অধিকার কর্তৃপক্ষের রয়েছে।
আদালত আরও বলেন, ইউনিফর্ম শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা এবং ধর্মীয় দিক থেকে নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করে। অতীতে স্কুল কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানায়নি বলেই ভবিষ্যতেও ছাড় দিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে না।
স্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতে যুক্তি দেয়, একজন শিক্ষার্থীকে ড্রেস কোডে ছাড় দেওয়া হলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে। তাছাড়া ওই স্কুলের অন্যান্য মুসলিম ছাত্রীরাও নির্ধারিত ড্রেস কোড মেনে চলছেন।
রায়ে কর্নাটক হাইকোর্টের ২০২২ সালের একটি রায়েরও উল্লেখ করেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বেঞ্চ। ওই রায়ে হিজাবকে ইসলামের অপরিহার্য অঙ্গ নয় বলে গণ্য করা হয়েছিল উল্লেখ করে বেঞ্চ বলেন, বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে।
এভাবেই প্রয়াগরাজের টাগোর পাবলিক স্কুলে ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে করা মুসলিম ছাত্রীর রিট আবেদন খারিজ করে দেন এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
![]() |
| প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত |
Monday, August 24, 2026
জেন-জির ক্ষোভ সামলাতে জোড়া ব্যবস্থা বিজেপির by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে সদ্য গঠিত ৬৫ সদস্যের জাতীয় টিমের প্রথম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত শনিবার ওই সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন, এত দিন দলীয় নেতারা সবাইকে কর্তব্য সম্পর্কে জানিয়ে এসেছেন। কী কী করতে হবে, সেসব ‘বাণী’ শুনিয়ে এসেছেন। এবার থেকে চলতে হবে নতুন করে। বাণী নয়, ভাষণ নয়, নেতাদের এবার থেকে নতুন প্রজন্মের মুখোমুখি বসতে হবে। তাঁদের প্রশ্ন করতে দিতে হবে। অভিযোগ ও চাহিদার কথা বলতে দিতে হবে। নেতাদের মন দিয়ে সেসব কথা শুনতে হবে। সেই অনুযায়ী দলকে চালনা করতে হবে। ওপর থেকে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
অর্থাৎ বিজেপিতে নেতাদের একতরফা ভাষণবাজির দিন শেষ হতে চলেছে। প্রাধান্য পেতে চলেছে নয়া প্রজন্মের সঙ্গে সংলাপ শুরুর দিন।
এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণও আছে। ভুঁইফোড়ের মতো গজিয়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে দেশের যুবসমাজ বা জেন–জি যেভাবে দিকে দিকে প্রতিবাদী হয়ে উঠছে, বিজেপির কাছে তা অশনিসংকেত। শুধু বিজেপিই নয়, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘও (আরএসএস) নয়া প্রজন্মের এই অসন্তোষ টের পেয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে সজাগ করে দিয়েছে। আরএসএস ও তার সঙ্গী সংগঠনগুলো, যাদের ‘সংঘ পরিবার’ মনে করা হয়, তাদের নেতারা সম্প্রতি অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপট্টনমে এক সমন্বয় বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। সংঘ নেতৃত্বের উপলব্ধি, তরুণদের মধ্যে হতাশা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোর ধারাবাহিক প্রশ্ন ফাঁস, বেকারত্ব বৃদ্ধি, উপযুক্ত চাকরির আকালসহ নানা কারণে তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। সরকারের ওপর তাদের আস্থা ও ভরসা টলে যাচ্ছে। সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত এই উপলব্ধির কথা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়ে বলেছেন, সরকারকে যেমন যথাযথ পদক্ষেপ করতে হবে, দলকে তেমন পরিচালনা করতে হবে নতুনভাবে, নতুন ভাবনায়।
একদিকে সংলাপ, অন্যদিকে প্রতিরোধ: বিজেপির সাঁড়াশি নীতি
তবে শুধু ‘ভুল শোধরানো’ নয়, তেলাপোকাদের দল সিজেপির মোকাবিলায় বিজেপি নেতৃত্ব কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নৈরাজ্য বন্ধে প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিচ্ছে এবং সেটা প্রয়োগ করা হচ্ছে সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।
স্বাধীনতা দিবসের দিন, অর্থাৎ ১৫ আগস্ট থেকে সিজেপি দেশজুড়ে এক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ‘স্কুল ঠিক করো’। দলীয় নেতা–কর্মীরা রাজ্যে রাজ্যে সরকারি স্কুল পরিদর্শনে যাচ্ছেন। স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক আছেন কি না, অবকাঠামো কেমন, শিক্ষার পরিবেশ কেমন, পড়ুয়ারা কতটা সন্তুষ্ট—এসব তাঁরা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন, যাতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়। সিজেপির এই কর্মসূচির কথা জানাজানি হওয়ার পর বহু জেন আলফা স্কুলপড়ুয়া নিজেরাই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছে। বিজেপি এই কর্মসূচির বিরোধিতা করছে। কোথাও সিজেপি নেতাদের মারধর করা হয়েছে। তাঁদের গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে। স্কুলে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কোথাওবা অনধিকার চর্চার মামলা করা হয়েছে।
যেমন রাজস্থানের এক গ্রামে সিজেপির শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাংকাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কলকাতার কোথাও তাঁদের মিলনায়তন ভাড়া দেওয়া হয়নি। কোথাও প্রতিনিধিদের মারধর করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলায় সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, দিপকেসহ সিজেপি নেতারা ওই স্কুলে বিনা অনুমতিতে ঢুকেছিলেন। পড়ুয়াদের সঙ্গে স্কুলের হালহকিকত নিয়ে আলোচনা করেছেন। সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের কাজে বাধা দিয়েছেন।
বিজেপির ‘হার্ড লাইনাররা’, মানে কট্টরপন্থীরা মনে করছেন, সংলাপের প্রয়োজন আছে, কিন্তু তার পাশাপাশি সিজেপিকে হতোদ্যম করাও জরুরি। তাদের এমন কিছু করতে দেওয়া ঠিক হবে না, যাতে সমাজে নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়। অরাজকতা দেখা যায়। এই কট্টরপন্থীদের কাছে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী।
নৈরাজ্য–তত্ত্ব ও রাহুল গান্ধীর দাদাগিরি
শুধু তেলাপোকারাই নয়, নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধেও বিজেপির শীর্ষ নেতারা তুলতে শুরু করেছেন। দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচদের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গত ২০ জুলাই সাহিল লোচাব নামে ১৯ বছরের এক তরুণ পুলিশের ছোড়া ‘পেলেট’ বা ছররা গুলিতে আহত হন। তাঁর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি ছররার কারণে লোপ পেয়েছে। সাহিলের অভিযোগ, দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তিনি এফআইআর করতে পারছিলেন না। পুলিশ কোনো না কোনো উসিলায় তাঁর এফআইআর নিচ্ছিল না। ফিরিয়ে দিচ্ছিল। উপায়ান্তর না দেখে তিনি রাহুল গান্ধীর শরণাপন্ন হন।
সাহিল, তাঁর মা ও সাহিলের আইনজীবীকে নিয়ে রাহুল সম্প্রতি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে ধরনায় বসেন। পুলিশের বড় কর্তাদের তিনি বলেন, দিল্লি পুলিশকে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে এফআইআর নিতেই হবে। কোনো অজুহাতেই তা এড়ানো যাবে না। পুলিশ টালবাহানা করলে সাহিল, তাঁর মা ও আইনজীবীকে নিয়ে রাহুল থানার সামনে ধরনায় বসে যান। তাঁদের সঙ্গ দিতে একে একে চলে আসেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, জয়রাম রমেশ, সলমন খুরশিদ, পবন খেরাসহ বহু কংগ্রেস নেতা ও কর্মী। পার্লামেন্ট স্ট্রিটে বন্ধ হয়ে যায় গাড়ি চলাচল। কংগ্রেসিরা সরকারবিরোধী স্লোগানে তল্লাট মুখর করে তোলেন। সাড়ে ছয় ঘণ্টা ধরনার পর অবশেষে দিল্লি পুলিশ এফআইআর নিতে বাধ্য হয়।
রাহুলের ওই প্রতিবাদী চরিত্র, থানার সামনে ধরনায় বসে যাওয়ার সমালোচনায় মুখর হন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। সাবেক সভাপতি জে পি নাড্ডা বলেন, রাহুল নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছেন। এইভাবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনেও ধরনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। রবিশংকর প্রসাদ সংবাদ সম্মেলন করে রাহুলের ‘অগণতান্ত্রিক’ মনোভাবের নিন্দা করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও রাহুলকে তাঁরা টলাতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে কংগ্রেসিদের বলপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে থেকে তা করা যায়নি, যেহেতু আইনত পুলিশ এফআইআর নিতে বাধ্য। রাহুলের অনমনীয়তার দরুন এত দিন টালবাহানা করা দিল্লি পুলিশ এফআইআর নিতে বাধ্য হয়। রাহুল তারপর বলেন, এটাই প্রতিবাদের জয়। ন্যায়ের জয়। পুলিশ এফআইআর নিতে বাধ্য। অথচ তা না নিয়ে তারাই আইন লঙ্ঘন করছিল।
বিজেপির ‘নৈরাজ্য–তত্ত্ব’ এবং মামলা দায়ের তেলাপোকাদের দমাতে পারছে না। এফআইআর করা সত্ত্বেও তারা ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি থেকে সরছে না। একইভাবে রাহুল গান্ধীও বন্ধ করছেন না ‘ছাত্র কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি। গত শনিবার মহারাষ্ট্রের পুনেয় রাহুলের সমাবেশে ছাত্র–ছাত্রীদের বিপুল ভিড় দেখা যায়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ও প্রশাসনের বাধা সত্ত্বেও ওই সমাবেশে জেন–জি ও জেন আলফার ভিড় ছিল চমকে দেওয়ার মতো। রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেস এই কর্মসূচির আয়োজন করছে।
রাহুলকে ঘিরে এই ভিড় বিজেপির বাড়তি চিন্তার কারণ। সরকারের প্রতি হতাশ ও ক্ষুব্ধ জেন–জি এবং জেন আলফার সমর্থন কংগ্রেসের দিকে যাতে ঢলে না পড়ে, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিজেপি জোর দেওয়ার সেটাও একটা বড় কারণ।
![]() |
| ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের মিছিলে বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। ২০ জুলাই ২০২৬ ছবি: রয়টার্স |
Sunday, August 23, 2026
সোমালি জলদস্যুদের হাতে জিম্মি ৬ ভারতীয় নাবিক
সোমালিয়ার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাহাজটিতে তুরস্কের জন্য পাঠানো অস্ত্র ও বিভিন্ন যোগাযোগ সরঞ্জাম ছিল। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভারত ও তুরস্কের কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার পুন্টল্যান্ডের ইয়েল জেলার মারাইয়া উপকূল থেকে প্রায় সাড়ে ৩ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি দখল করা হয়। সংবেদনশীল তথ্যের কারণে ওই কর্মকর্তা নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।
জাহাজটিতে ৬ জন ভারতীয় নাবিক ছাড়াও একজন তুর্কি ও একজন জর্জিয়ান নাগরিক ছিলেন। এ ছাড়া দুইজন সার্বিয়ান নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন।
ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, আটজন জলদস্যু জাহাজটি দখল করে। পরে তারা জাহাজটি পুন্টল্যান্ডের দাঙ্গোরয়ো জেলার গারমালের কাছাকাছি উপকূলের দিকে নিয়ে যায়।
কর্মকর্তার ধারণা, জলদস্যুরা এর আগে গত ২৬ এপ্রিল ‘সোয়ার্ড’ নামের আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজও ছিনতাই করেছিল।
জাহাজে ছিল অস্ত্র ও যোগাযোগ সরঞ্জাম
সোমালিয়ার ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘লুতুফ’ জাহাজে মোগাদিশুর একটি তুর্কি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের জন্য পাঠানো অস্ত্র ছিল। এর পাশাপাশি যোগাযোগ ও স্যাটেলাইট সরঞ্জামও ছিল।
জাহাজটির মালিক ‘পোলার মুভমেন্ট শিপিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
জাহাজটি ছিনতাইয়ের পর নাবিকদের কী অবস্থায় রাখা হয়েছে বা তাঁদের বিষয়ে জলদস্যুরা কোনো দাবি জানিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় ভারত ও তুরস্কের সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
![]() |
| ছবি: এএফপি |
বিয়ের পোশাকে মন্দিরে ৪০ বর, সারাদিনেও এলেন না কোনো কনে
ঘটনাটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস এলাকায়।
অভিষেকের বাবা-মা তার বিয়ে দেওয়ার জন্য মরিয়া ছিলেন। ভারতের একটি কাছের গ্রামের এক ব্যক্তি নিজেকে ঘটক পরিচয় দিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, একটি ছবির অ্যালবাম থেকে এতিম নারী পছন্দ করলেই হবে এবং একটি গণবিয়েতে অংশ নিতে প্রায় ২০০ ডলার দিতে হবে।
গত মে মাসের শেষ দিকে নির্ধারিত দিনে অভিষেক ভার্মাসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৪০ জন বর সকাল ৮টায় বিয়ের পোশাক কুর্তা ও শেরওয়ানি পরে হাজির হন। কিন্তু সারাদিন অপেক্ষার পরও কোনো কনের দেখা না পেয়ে তারা বুঝতে পারেন, তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা প্রীতি কাটারে বলেন, প্রতারকরা তাদের ‘টোপ গিলিয়েছিল’। ভুক্তভোগীরা ছিলেন গ্রামাঞ্চলের ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষ। লজ্জার কারণে আরো অনেক ব্যক্তি অভিযোগ করতে আসেননি বলেও জানান তিনি।
ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য মধ্যপ্রদেশে ঘটনার কথিত ঘটক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে। ভারতের বিয়ের বাজারে প্রতারণা নতুন নয়, তবে ভুয়া গণবিয়ের ঘটনা খুবই বিরল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মধ্যপ্রদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর রাম লাল ভগত বলেন, ৪০ বছরের চাকরি জীবনে এ ধরনের প্রতারণামূলক গণবিয়ের ঘটনা এই প্রথম দেখলেন তিনি।
অভিষেক ভার্মাসহ আরো একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে কথিত ঘটককে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়। জুলাইয়ের শেষ দিকে পুলিশ জানায়, ৪৫ বছর বয়সী দিনেশ বৈরাগী এবং তার ভাই ৪০ বছর বয়সী মুকেশ বৈরাগীসহ চার সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি বরের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার রুপি করে নিয়ে বৈরাগী পরিবারটি প্রায় ৪ হাজার ডলার আয় করেছে। গ্রামীণ পরিবারের জন্য এটি উল্লেখযোগ্য অর্থ হলেও বিয়ের খরচের তুলনায় কম বলে জানায় পুলিশ।
তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রীতি কাটারে বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের গ্রামীণ পুরুষদের জন্য পাত্রী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ার সুযোগ নিয়েছিল প্রতারকরা।
ভারতে পণ প্রথা ১৯৬১ সালে আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হলেও এখনো এর প্রচলন রয়েছে। গ্রামীণ কনের পরিবারের জন্য পণ হিসেবে কয়েকশ ডলার ব্যয় করতে হয়, যা কখনো কখনো তাদের কয়েক বছরের আয়ের সমান।
কনের সংকট মোকাবিলায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্য সরকার গণবিয়েতে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এসব বিয়ে সাধারণত প্রচলিত কয়েক দিনের বিয়ের চেয়ে কম সময় ও কম খরচে সম্পন্ন হয়।
তবে মধ্যপ্রদেশের এই ভুয়া গণবিয়ের সঙ্গে কোনো সরকারি প্রকল্প বা নির্বাচনের সম্পর্ক ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত পরিবারটি গ্রামে নিজেদের পরিচিতি ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে লোকজনকে প্রতারণা করেছে।
দিনভর কনের অপেক্ষায় থাকার পর সন্ধ্যার দিকে বর ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দেওয়াস শহরের একটি মন্দিরে তাদের জড়ো হতে বলা হয়েছিল।
অভিষেক জানান, পরে তিনি কথিত ঘটকদের দেওয়া কনেদের ছবিগুলো খতিয়ে দেখেন। তখন জানতে পারেন, ওই নারীরা এতিম নন; বরং তারা ইনস্টাগ্রামে লাখ লাখ অনুসারী থাকা ইনফ্লুয়েন্সার।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
![]() |
| ২০১৯ সালে ভারতের সুরাটে একটি গণবিবাহ অনুষ্ঠানে কনেরা। ছবি: এপি। |
পশ্চিমবঙ্গে থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে—শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বাংলায় থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতেই হবে। জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে এই মুখ্যমন্ত্রী কোনো আপস করবেন না।’
এ সময় অধিকারীর অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি, রাজ্য শিক্ষা দপ্তরকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া এবং প্রজাতন্ত্র দিবস ও স্বাধীনতা দিবস পালনের বিরোধিতা করার জন্য ‘টুকড়ে-টুকড়ে গ্যাং’ এবং ‘জিহাদি’ শক্তিকে অভিযুক্ত করেন।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘দেশবিরোধীদের সমর্থনে গণমাধ্যমের একটি অংশ যা-ই লিখুক না কেন, আমরা যাদবপুরের ভেতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করব।’
তার সরকারের লক্ষ্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদ, ভারতীয় সংস্কৃতি ও ‘সনাতন’ সংস্কৃতির প্রতিফলন থাকতে হবে।
বাম দলগুলোরও সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী তাদের নেতাদের ‘লাল বাবু’ বলে কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে তাদের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
![]() |
| শুভেন্দু অধিকারী |
Saturday, August 22, 2026
এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীদের জন্য ‘বন্দে মাতরম’ পাঠ অস্বস্তিকর: শর্মিলা ঠাকুর
শর্মিলা ঠাকুর বলেন, ভারতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। তাদের মধ্যে অনেকে এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী। কিন্তু ‘বন্দে মাতরম’-এর পরবর্তী কিছু স্তবকে একাধিক হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে। যারা এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য ‘বন্দে কালী’ বা ‘বন্দে দুর্গা’র মতো বাক্য বলা অসুবিধাজনক হতে পারে। তাই দেশের সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হলে গানটির প্রথম দুই স্তবকই ভালো এবং গ্রহণযোগ্য।
বিজ্ঞাপন
শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্য ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা পেয়েছে। কংগ্রেস দলীয় অনুষ্ঠানে গানটির প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির নেতারা এ নিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা করছেন। ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পর জাতীয় গানটির পরিবেশন ও এর ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
সূত্র: জি নিউজ ও সিটি এয়ার নিউজ

Thursday, August 20, 2026
ভারতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৫৯ বছরের পুরোনো মাদরাসার একাংশ, তীব্র ক্ষোভ
মঙ্গলবার জেলার পিপরা রামলাল গ্রামের আরাবিয়া জিয়া-উল-উলুম মাদরাসা, যা মক্তব মাদরাসা নামেও পরিচিত, ভাঙা হয়। প্রায় ১৪ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে থাকা মাদরাসাটির সাতটি কক্ষ, একটি দোকান এবং হলের অর্ধেক অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, মাদরাসাটির একটি অংশ সরকারি জমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছিল। আদালতের আদেশের ভিত্তিতেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
আদালতের আদেশে উচ্ছেদ
২০২২ সালে গ্রামের পাঁচ বাসিন্দা কথিত সরকারি জমি দখলমুক্ত করার দাবিতে ডোমরিয়াগঞ্জ তহসিলদারের আদালতে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মাদরাসার তত্ত্বাবধায়ক আবদুল সালাম একই বছর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেন। প্রায় তিন বছর ধরে শুনানি চলার পর ১৪ আগস্ট ২০২৬ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তহসিলদারের আদেশ বহাল রাখেন এবং মাদরাসার আবেদন খারিজ করে দেন।
এরপর প্রশাসন কথিত দখল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দখল সরানো হয়নি দাবি করে মঙ্গলবার মাদরাসা ভাঙার অভিযান চালানো হয়।
সকাল ৭টার দিকে ডোমরিয়াগঞ্জের এসডিএম বিবেকানন্দ মিশ্র, ডোমরিয়াগঞ্জের সিও ব্রিজেশ ভার্মা ও বানসি সিও শিবেন্দু সিংয়ের উপস্থিতিতে অভিযান শুরু হয়। ঘটনাস্থলে পাঁচটি থানার প্রায় ১০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
বিক্ষোভ
মাদরাসা ভাঙার খবর পেয়ে ডোমরিয়াগঞ্জের সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক সৈয়দা খাতুন, এসপি জেলা সভাপতি লালজি যাদবসহ ৫০ জনের বেশি দলীয় নেতা-কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভ করেন। তারা মাদরাসা ভাঙার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং অভিযান বন্ধের দাবি জানান।
পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বাধা দিলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে সামান্য ধস্তাধস্তিও হয়।
এসপি নেতা কামাল আহমেদ খান মাদরাসার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ডোমরিয়াগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী প্রকাশ যাদব তাকে বাধা দেন। পুলিশ জোর করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
জবাবে খান বলেন, ‘ঠিক আছে, যা করার করুন। আপনারা কি আমার গায়ে হাত তুলবেন?’
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অন্য পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। বিধায়ক সৈয়দা খাতুনও দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার এবং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানান।
পরে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভকারীদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়।
প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে মাদরাসাটির সাতটি কক্ষ, একটি দোকান এবং হলের অর্ধেক অংশ ভেঙে ফেলা হয়।
‘অসাংবিধানিক’ বলল আম আদমি পার্টি
আম আদমি পার্টির উত্তরপ্রদেশ শাখা এই অভিযানকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে দাবি করেছে। দলটির উত্তরপ্রদেশের বুদ্ধিস্ট প্রদেশের সভাপতি ইমরান লতিফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
আপ প্রশ্ন তুলেছে, কখন নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না।
দলটি এক বিবৃতিতে বলেছে, এই পদক্ষেপ “বাবাসাহেব ড. ভীমরাও আম্বেদকরের সংবিধানে আঘাত করেছে”, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের সমতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনের সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
আপের দাবি, বিষয়টি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে নয়; বরং এটি আইনের শাসন ও সংবিধান রক্ষার লড়াই।
মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্বেষের এজেন্ডা
কংগ্রেস নেতা জাভেদ আশরাফ খান এই ঘটনাকে ‘মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্বেষের এজেন্ডা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিজেপি ও আরএসএসের কাছে “ধ্বংস করা ছাড়া আর কোনো সমাধান আছে কি না”। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
রাজনৈতিক কর্মী আবদুর রকীব খান বলেন, “আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।”
মাদরাসা ভাঙার আগে সব সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ ‘শিশুদের শিক্ষা, সামাজিক ভ্রাতৃত্ব এবং জনআস্থার’ বিনিময়ে হওয়া উচিত নয় এবং রাস্তা বা সরকারি জমি দখল করে থাকা সকল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে “সমান, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা” নেওয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সিদ্ধার্থনগর জেলা সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে ডোমারিয়াগঞ্জ তহসিলে অবস্থিত মাদ্রাসাটি ১৯৩৮ সালে গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ১৯৬৭ সালে পিপড়া রামলালের প্রধান সড়কে স্থানান্তরিত হয়।
কর্মকর্তাদের মতে, মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৪০০ শিশু পড়াশোনা করছিল।
প্রশাসন দাবি করেছে যে, মাদ্রাসাটি প্রথমে ব্যক্তিগত জমিতে নির্মিত হলেও ক্রমান্বয়ে এর সামনের খালি সরকারি জমিতে তা সম্প্রসারিত করা হয়।
সূত্র: মক্তব মিডিয়া
![]() |
| ভারতের উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগর জেলায় ৫৯ বছরের পুরোনো একটি মাদরাসার অর্ধেকের বেশি অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত। |
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1782)
-
▼
August
(329)
-
▼
Aug 30
(14)
- লেবাননে সমৃদ্ধ ইতিহাসের নতুন তথ্য, মিলছে হাজার বছর...
- আরব বিশ্বে বাড়ছে খাদ্য ও পানির সংকট, মরুকরণে ব্যাহ...
- তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে চাপে নেতানিয়াহু
- ইরান যুদ্ধে অস্ত্রের মজুত ‘সংকটজনক’, চীন-রাশিয়া মো...
- নিষেধাজ্ঞায় কি নত হবে ইরান, ট্রাম্পের সামনে বড় প্রশ্ন
- ব্যাগে ছয় দেশের পাসপোর্ট, বেনজীর এখন সেন্ট লুসিয়ায়...
- ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ এখন রড-সিমেন্টের কারবারি by নাজমু...
- ইরানের হুমকি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরলেন নে...
- পশ্চিম তীরের গ্রামের একমাত্র প্রবেশপথ বন্ধ করে দিল...
- ইরান যুদ্ধ ও বাণিজ্য উত্তেজনা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে...
- কেন লোকচক্ষুর আড়ালে ব্যারন ট্রাম্প
- ক্যানসারের চিকিৎসার মধ্যেই সিনেমার কাজ, কঠিন লড়াইয়...
- কিয়েভের কাছে গোলাবারুদের গুদামে রাশিয়ার হামলা, নিহ...
- কলকাতার মুসলিম কলোনিতে এক মাস ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ...
-
▼
Aug 30
(14)
-
▼
August
(329)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...






