Showing posts with label বাংলানিউজ. Show all posts
Showing posts with label বাংলানিউজ. Show all posts

Wednesday, June 24, 2026

আম খেলে যে কারণে ঘুম পায়

আমের মৌসুমে ঘরে ঘরে পাকা আমের ঘ্রাণে ভরে ওঠে পরিবেশ। ফলটি ছোট-বড় সবারই প্রিয় হলেও অনেকের ক্ষেত্রে আম খাওয়ার পরই ঘুম ঘুম ভাব চলে আসে।

বিশেষ করে রাতে আম খেলে শরীর এলিয়ে পড়ার প্রবণতা আরও বেশি দেখা যায়। কেন এমন হয়, এ নিয়ে কৌতূহলও কম নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকা আমে থাকা ট্রিপটোফ্যান নামক উপাদান শরীরে প্রাকৃতিকভাবে নিদ্রার অনুভূতি তৈরি করতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে আমে থাকা কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল শরীরে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ায়।

এই ইনসুলিন ট্রিপটোফ্যানকে সহজে মস্তিষ্কে পৌঁছাতে সহায়তা করে। এরপর মস্তিষ্কে ট্রিপটোফ্যান থেকে সেরোটোনিনসহ বিভিন্ন নিউরোট্রান্সমিটার তৈরি হয়।
সেরোটোনিন মূলত মস্তিষ্ককে শান্ত ও স্থিতিশীল রাখে, যার ফলে ধীরে ধীরে ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হয় এবং শরীর শিথিল হয়ে আসে।

আমে থাকা ট্রিপটোফ্যান, কার্বোহাইড্রেট ও ইনসুলিনের পারস্পরিক প্রভাবে সেরোটোনিন বৃদ্ধি পায়, যা ঘুমের অনুভূতি তৈরি করে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে পাকা আম খেলে এই প্রভাব আরও বেশি অনুভূত হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আম খেলে যে কারণে ঘুম পায়

Wednesday, June 10, 2026

ক্যানভাসে সাম্রাজ্যবাদকে চ্যালেঞ্জ করা এক ইরানি শিল্পী by আশরাফুর রহমান

যখন পুরো শহরজুড়ে সাইরেনের আর্তনাদ প্রতিধ্বনিত হয় এবং সংবাদমাধ্যমের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে বারুদের গন্ধ, তখন প্রতিটি বিবেকবান মানুষ নিজের মতো করে অস্ত্র তুলে নেয়। কেউ কাঁধে তুলে নেন রাইফেল, কেউ আবার তাক করেন ক্যামেরার লেন্স।

আর বিশ্বসাম্রাজ্যবাদের এই আগ্রাসী রূপের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এমন এক শিল্পী, যার অস্ত্র কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নয়—তার অস্ত্র হলো নিখুঁত কিছু রেখা, রং এবং বিশ্বরাজনীতিকে কাঁপিয়ে দেওয়া অত্যন্ত অর্থপূর্ণ ও তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গচিত্র।

ইরানের প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট সাইয়্যেদ মাসুদ শোজায়ি তাবাতাবায়ি ‘৪০ দিনের যুদ্ধ’ শুরুর প্রথম ভোরেই একটি নীরব প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, যে প্রতিজ্ঞার ভিত্তি ছিল শিল্প ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা।
তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যতদিন এই সংঘাতের আগুন জ্বলবে, ততদিন তিনি প্রতিদিন অন্তত একটি করে ক্যারিকেচার (ব্যঙ্গচিত্র) তৈরি করবেন। এই ছবিগুলো যুদ্ধক্ষেত্রের পেছনের আসল সত্য, পশ্চিমা মিডিয়ার একপেশে প্রচারণার জবাব এবং সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের এক সৎ ও আপসহীন দলিল হিসেবে কাজ করবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছোট ছোট ফ্রেমে বন্দি থাকা সেই উত্তাল দিনগুলোর গল্পই উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে। বিশ্বসাম্রাজ্যবাদের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করা থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মকে দিনরাত কার্টুন আঁকার প্রশিক্ষণ দেওয়া—সবই জড়িয়ে আছে এই শিল্পীর লড়াকু জীবনের সাথে।
এটি এমন এক স্রষ্টার দুনিয়ায় ঘুরে আসার গল্প, যিনি বিশ্বাস করেন যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সত্যকে টেনে বের করতে হলে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপকে কখনো কখনো তীরের মতো তীক্ষ্ণ ও ধারালো হতে হয়।

ক্যানভাসের নীরব বৈপ্লবিক ঝড়
ডিজিটাল স্ক্রিনের ওপর দিয়ে স্টাইলাস (ডিজিটাল কলম) আলতো করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সবকিছু শুরু হয় একটিমাত্র কালো বিন্দু দিয়ে। সেই বিন্দুটি ধীরে ধীরে প্রাণ পেয়ে রেখায় রূপ নেয় এবং ফুটিয়ে তোলে একটি চেনা মুখের অবয়ব। ভেতরের চরিত্র আর উপাদানগুলো সব যার যার জায়গায় ঠিকঠাক বসে যায়; মনে হয় যেন ক্যানভাসে এখনই রঙ আর ব্যঙ্গের একটা বিস্ফোরণ ঘটতে যাচ্ছে। এই দৃশ্যের পরিচালক পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের কোনো জোরালো আওয়াজ বা প্রোপাগান্ডা নয়, বরং একজন শিল্পীর মন, যিনি তার কর্মশালার নীরবতার মাঝেই একটা বৈপ্লবিক ঝড় তুলে দিচ্ছেন।

হঠাৎ করেই রেখাগুলো একে অপরের সাথে জড়িয়ে যায় এবং স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ভাঙা শিংওয়ালা একটি ষাঁড়। এটি কোনো ফ্যান্টাসি দৃশ্য নয়, এটি বর্তমান ভূরাজনীতির একটি দীর্ঘস্থায়ী ও চাক্ষুষ রূপ। এই ৪০ দিনের মিডিয়া যুদ্ধের আসল চেহারা কী ছিল, তা যদি কেউ জানতে চায়, তবে তাকে এই শিল্পীর প্রতিদিনের কার্টুনগুলো দেখানোই যথেষ্ট। ইতিহাস যেন তাকে এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সাক্ষী হতে এবং তা স্মৃতির পাতায় ধরে রাখার জন্যই নির্বাচন করেছে। বাস্তবতা হলো, এই যুদ্ধের পরিধি সাধারণ খবরের চেনা ফ্রেমে তুলে ধরা যায় না; এই লড়াইকে দেখতে হবে তার কার্টুনের অতিরঞ্জিত রেখা, তেতো ব্যঙ্গ আর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সাহসী রঙের মধ্য দিয়ে।

সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের আগুন জ্বলে ওঠার প্রথম দিন থেকেই এই পরিশ্রমী ও সচেতন কার্টুনিস্ট হাত গুটিয়ে বসে না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি কেবল একজন দর্শক বা সংবাদের নিস্পৃহ ভোক্তা হয়ে থাকতে চাননি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি সেই ব্যক্তিগত প্রতিজ্ঞার মুহূর্তটি তুলে ধরে বলেন: ‘যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতেই আমি একটি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম: যদি আল্লাহ চান এবং কোনো বাধা না আসে, তবে আমি এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিন অন্তত একটি করে ব্যঙ্গচিত্র তৈরি ও প্রকাশ করব। আল্লাহর রহমতে, আজ পর্যন্ত আমি প্রায় প্রতিদিনই এটি করতে পেরেছি, এমনকি কোনো কোনো দিন একাধিক ছবিও এঁকেছি। এখন পর্যন্ত এই কাজের সংখ্যা ৮০টি ছাড়িয়ে গেছে।’

তবে এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে, যেখানে খবরের গতি আলোর চেয়েও দ্রুত, সেখানে প্রতিটি ঘটনার সাথে তাল মিলিয়ে চলা মোটেও সহজ কাজ নয়। তিনি বলেন, ‘এত এত ঘটনা আর একের পর এক সংবাদের জোয়ারে কখনো কখনো সত্যিই কিছুটা পিছিয়ে পড়তে হয়। খবরের গতি অত্যন্ত তীব্র, তবে আমি চেষ্টা করি প্রতিদিনের এই পরিবর্তনের অন্তত একটি ভিজ্যুয়াল বর্ণনা তুলে ধরতে।’

ছবি দিয়ে সত্য উন্মোচন
কার্টুনের দুনিয়ায় রেখাগুলো কেবল মানুষকে হাসানোর জন্য আঁকা হয় না। কখনো কখনো একটি সাধারণ খসড়া ছবিও একটি বিশ্বসাম্রাজ্যের মিডিয়া একাধিপত্যকে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে। শোজায়ি তাবাতাবায়ি তার এই কার্টুনগুলোকে ‘মুখোশ উন্মোচনের ভাষা’ হিসেবে দেখেন। পর্দার আড়ালে কী ঘটছে তা প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তায় তিনি বিশ্বাস করেন: ‘আমাদের কাজ হলো এটা দেখানো যে বাস্তবে কী ধরনের অপরাধ ঘটছে, এর পেছনে কারা রয়েছে এবং সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক খবরের আড়ালে কোন সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ লুকিয়ে রাখা হচ্ছে।’

যখন তার কার্টুনের নিয়মিত চরিত্রগুলো সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়, তখন দুটি নাম সবচেয়ে বেশি সামনে আসে: ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি এই দুজনকে ‘আগ্রাসী ও যুদ্ধবাজ নীতির প্রতীক’ মনে করেন। তাবাতাবায়ি বলেন, ‘আজ নেতানিয়াহুকে কার্যত একজন যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চেনে সবাই। অন্যদিকে ট্রাম্পও একজন জটিল ব্যক্তিত্ব—যার বিরুদ্ধে অসংখ্য আইনি মামলা রয়েছে। এই চরিত্রগুলো ব্যঙ্গচিত্রের জন্য খুবই উপযোগী, কারণ তারা একদিকে যেমন বিশ্বজুড়ে পরিচিত, অন্যদিকে তেমনি একবিংশ শতাব্দীর কুৎসিত রাজনৈতিক আচরণের প্রতীক।’

ভাঙা শিংয়ের ষাঁড় এবং ‘মেড ইন চায়না’ পতাকা
একজন সাধারণ মানুষ যেভাবে পৃথিবীকে দেখে, এই শিল্পী দেখেন তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন চোখে। নিজের সাম্প্রতিক একটি বহুল প্রচারিত (ভাইরাল) কাজের কথা উল্লেখ করে শোজায়ি তাবাতাবায়ি বলেন: ‘আমি একটি ছবি এঁকেছিলাম যেখানে ট্রাম্পকে একটি আহত ষাঁড় হিসেবে দেখানো হয়েছে—যার একটি শিং ভাঙা এবং ব্যান্ডেজ করা। ষাঁড়ের শরীরের দাগগুলোকে আমি পৃথিবীর মানচিত্র হিসেবে ব্যবহার করেছি। সাধারণত বলা হয় গরুর প্রতিটি অংশই উপকারী, কিন্তু এখানে এটিকে একটি ক্ষতিগ্রস্ত ও পরাজিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই কাজটি ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার শিল্পীদের কাছ থেকে প্রচুর সাড়া পায়।’

ক্ষমতার লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তার ব্যঙ্গাত্মক রূপটি মাঝেমধ্যে বেশ নিষ্ঠুর ও রূপক হয়ে ওঠে। আরেকটি কাজে তিনি উদীয়মান পরাশক্তি চীনের সামনে মার্কিন নেতৃত্বকে ক্ষুদ্র ও অসহায় হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছেন: “এক সময় তারা চীনের সাথে হুমকির ভাষায় কথা বলত, কিন্তু আজ তারা এমন এক অবস্থানে আছে যেখানে তাকে অন্যের কাছে এক ধরনের মরিয়া ভাব নিয়ে যেতে হয়। ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের হাতে একটি বিশাল চীনা পতাকার সামনে আমেরিকার একটি ছোট্ট পতাকা রয়েছে। আর সবচেয়ে মজার ব্যঙ্গাত্মক বিষয় হলো, ট্রাম্পের হাতের ওই ছোট্ট পতাকাটিতেও লেখা ‘মেড ইন চায়না’!”

ব্রাজিল থেকে তেহরান: বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত সাম্রাজ্যবাদবিরোধী নেটওয়ার্ক
শোজায়ি তাবাতাবায়ির এই ব্যঙ্গচিত্রগুলোর বার্তা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় আটকে থাকেনি। তিনি আন্তর্জাতিক শিল্পীদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত, যারা কার্টুনকে কেবল বিনোদন হিসেবে নয়, বরং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একটি নৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখেন।

বিদেশি কার্টুনিস্টদের সাথে তার সুগভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি ব্রাজিলের একজন শিল্পীকে নিয়ে একটি চমৎকার স্মৃতি চারণ করেন: “ব্রাজিলের একজন বিখ্যাত কার্টুনিস্ট ছিলেন যিনি আমাদের একটি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে বিচারক হিসেবে ইরানে এসেছিলেন। তিনি তেহরানের ১০ লাখ মানুষের সেই বিশাল সমাবেশে অংশ নেন এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সেই গণজাগরণ খুব কাছ থেকে দেখেন। পরে তিনি ব্রাজিলে ইরানি সংস্কৃতির একজন প্রকৃত দূত হয়ে ওঠেন! তিনি বলতেন, ‘যারা নিপীড়কদের হয়ে কাজ করে, তাদের আমরা কার্টুনিস্ট বলেই গণ্য করি না; যার বাস্তবতার সঠিক বোধ ও পর্যাপ্ত সচেতনতা নেই, সে পেশাদার কার্টুনিস্টদের দলের মধ্যেই পড়ে না’।”

শোজায়ি এবং তার সমমনা বন্ধুদের কাছে ভার্চুয়াল জগৎ—বিশেষ করে ফেসবুক—একটি ‘নরম যুদ্ধ’ বা ‘সফট ওয়ার’ রুমে পরিণত হয়েছে। যখন বিশ্বখ্যাত কোনো ব্যক্তিত্ব এই ছবিগুলো শেয়ার করেন, তখন সেটি হাজার হাজার বার ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একটি মনস্তাত্ত্বিক দলিল হয়ে ওঠে।

ক্যানভাসে অশ্রু: মিনাবের শহীদদের গল্প
সব ব্যঙ্গচিত্র মানুষকে হাসানোর জন্য নয়; কখনো কখনো এটি এমন এক আয়না হিসেবে কাজ করে যা সত্যকে প্রতিফলিত করে বুকের ভেতর এক গভীর বেদনা তৈরি করে। বেসামরিক ভুক্তভোগী ও শিশুদের নিয়ে তৈরি করা ছবির প্রসঙ্গে আসতেই শোজায়ি তাবাতাবায়ির কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে ওঠে। সাম্রাজ্যবাদের এই নিষ্ঠুর আগ্রাসনের চিত্রকর নিজেও এর মানসিক আঘাত থেকে রেহাই পাননি। অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন:
“মিনাবের শহীদদের জন্য আমি যে ছবিটি এঁকেছিলাম, তা গভীর ভালোবাসা আর তীব্র বেদনা থেকে তৈরি হয়েছিল। কাজটা করার সময় আমি সত্যিই কাঁদছিলাম। আপনি যখন এমন শিশুদের ছবি আঁকেন যারা যুদ্ধের শিকার হয়েছে, অথচ একই সাথে ছবিতে তাদের মর্যাদা ও নির্দোষ ভাবটা ফুটিয়ে তোলেন, তখন সেই কাজটা আর কেবল কার্টুন থাকে না; তা একটি আবেগঘন দলিলে পরিণত হয়। আমি বিশ্বাস করি, কোনো কাজ যখন হৃদয় থেকে আসে, তখন তা অন্যের হৃদয়েও জায়গা করে নেয়।”

কোমে মধ্যরাতের ক্লাস: পেন্সিল ও কাগজের এক নতুন বাহিনী
তবে এই লড়াই কেবল একজন মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইরানের পবিত্র কোম শহরে শোজায়ি তাবাতাবায়ি রাত প্রায় দেড়টা পর্যন্ত জেগে তরুণ প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, যারা আগামী দিনে এই দেশের ও সময়ের সত্যগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে। সেখানে এক দারুণ সৃজনশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে; শিশু, কিশোর ও তরুণরা এসে তাদের চারপাশের বেদনা ভাগ করে নেয় এবং এই গভীর কথোপকথন থেকেই নতুন নতুন কার্টুনের আইডিয়া জন্ম হয়।

গর্বের সঙ্গে তিনি বলেন, “আমার কিছু শিক্ষার্থী এখন এত ভালো কাজ করছে যে আমি তাদের বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিই। আজকের যুগে যখন রাজনীতিবিদরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ঝকঝকে প্রচারণার ওপর নির্ভর করছেন, তখন ব্যঙ্গচিত্র কোনো সীমান্ত না মেনেই মানুষের মনে পৌঁছে যাচ্ছে খুব সহজেই।”

এ প্রসঙ্গে শোজায়ি তাবাতাবায়ি বলেন, “আমি এই দিনগুলোতে আমার সব শক্তি ব্যয় করছি, যেন প্রতিদিন অন্তত একটি কাজ তৈরি হয়, যা একই সঙ্গে গল্প, সচেতনতা এবং শিক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে। আশা করি, এই কার্টুনগুলো সত্য তুলে ধরতে এবং শোকাহত মানুষের হৃদয়ে সামান্য হলেও সান্ত্বনা দিতে পারবে।”

যতদিন অন্যায় ও সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য থাকবে, ততদিন এই শিল্পীদের ক্যানভাসে আঁকা রেখাগুলো কখনো বিশ্রাম পাবে না। তারা তাদের তুলি ও কলমকে তীক্ষ্ণ করেছেন যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাস কেবল অস্ত্রধারী বিজয়ীদের মুখ থেকেই না শোনে, বরং সত্যের আসল রূপটি দেখতে পায়।

ক্যানভাসে সাম্রাজ্যবাদকে চ্যালেঞ্জ করা এক ইরানি শিল্পী
সাইয়্যেদ মাসুদ শোজায়ি তাবাতাবায়ির ব্যঙ্গচিত্র ‘বৈশ্বিক সংকট: একটি গরু, হাজার সমস্যা!

বসতঘরের ভেতর গাছে ঝুলছে কাঁঠাল!

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামে দেখা মিলেছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। একটি বসতঘরের বারান্দার মাঝখান দিয়ে উঠে গেছে কাঁঠাল গাছ, আর সেই গাছেই ধরেছে একাধিক কাঁঠাল।

প্রকৃতির এই অনন্য সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন কৌতূহলী মানুষ।

দেখা যায়, বাড়ির বারান্দার ভেতর দিয়েই উঠে গেছে কাঁঠাল গাছের কাণ্ড।
আর সেই গাছের সঙ্গে ঝুলছে কয়েকটি কাঁঠাল। ঘরের ভেতর থেকেই ফল ধরার এমন দৃশ্য স্থানীয়দের কাছে বেশ বিস্ময়কর হয়ে উঠেছে।

বাড়ির মালিক সেলিম চাপরাসি জানান, ছোটোবেলা থেকেই তিনি গাছপালা ভালোবাসেন। একসময় তার স্ত্রী কাঁঠাল খাওয়ার পর বিচি বারান্দার পাশে ফেলে দেন।
সেখান থেকে একটা চারা গজিয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে গাছটি বড়ো হয়ে ফল দিতে শুরু করে। পরে বাড়ির বারান্দা নির্মাণের সময় গাছটি কেটে ফেলার সুযোগ থাকলেও মায়ার টানে সেটি সংরক্ষণ করেন তিনি।

সেলিম চাপরাসি বলেন, “গাছ ও ফলের প্রতি ভালোবাসার কারণেই এটি কেটে ফেলিনি বরং গাছের কোনো ক্ষতি না করে বারান্দার গ্রিল ও অন্যান্য নির্মাণকাজ করেছি। এখন ঘরে বসেই গাছে ফল ধরার দৃশ্য দেখতে পাই।”

স্থানীয়রা জানান, সাধারণত বসতঘরের এত কাছাকাছি বড়ো ফলজ গাছ খুব কমই দেখা যায়। পরিবারের পরিবেশ সচেতনতা ও গাছের প্রতি ভালোবাসার কারণেই গাছটি আজও টিকে আছে। এটি এখন শুধু ফলই দিচ্ছে না, বাড়ির সৌন্দর্যও বাড়িয়ে তুলেছে।

এলাকাবাসীর মতে, আধুনিক নির্মাণের যুগে যেখানে গাছ কেটে ফেলার প্রবণতা বাড়ছে, সেখানে সেলিম চাপরাশির পরিবার প্রকৃতি সংরক্ষণের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাদের এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় অন্যদেরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন তারা।

বসতঘরের ভেতর গাছে ঝুলছে কাঁঠাল!

মন খারাপের সময় অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে

প্রেম ভাঙা, মন খারাপ বা মানসিক চাপ, এ ধরনের আবেগঘন মুহূর্তে অনেকেই অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়েন। পিৎজা, বার্গার, চিপস, পেস্ট্রি কিংবা ভাজাভুজির মতো খাবার তখন দ্রুত সান্ত্বনার উৎস হয়ে ওঠে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভ্যাস শরীর ও মনের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক পুষ্টি মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।
ভিটামিন, মিনারেল ও স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, তেমনি অতিরিক্ত চিনি ও ফাস্টফুড উদ্বেগ ও অবসাদ বাড়িয়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ কৌশলের পরামর্শ দিয়েছেন, যা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৫ সেকেন্ডের বিরতি নিন

মন খারাপের সময় চিপস বা ভাজাভুজি খেতে ইচ্ছা হলে আগে ৫ সেকেন্ড থামুন।
নিজেকে প্রশ্ন করুন, আসলেই কি ক্ষুধা পেয়েছে, নাকি এটি শুধু আবেগের কারণে খাওয়ার ইচ্ছা? এই ছোট বিরতিই অনেক সময় অভ্যাস ভাঙতে সাহায্য করে।

নিয়মিত খাবারের অভ্যাস বজায় রাখুন

মন খারাপ থাকলেও সময়মতো সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার খাওয়া জরুরি। এই সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখার চেষ্টা করতে হবে। বিশেষ করে ফল, শাকসবজি, প্রোটিন ও সাইট্রাস জাতীয় খাবার মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। কারণ, ভিটামিন সি, ডি, জিঙ্ক ও ফোলেটের মতো উপাদান মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

অস্বাস্থ্যকর খাবার দূরে রাখুন

চিপস, চানাচুর, পিৎজা বা ভাজাভুজি হাতের কাছে থাকলে খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই এগুলো সহজে পাওয়া যায় এমন জায়গা থেকে সরিয়ে রাখা উচিত। পরিবর্তে বাদাম, শুকনো ফল, মাখানা, ঘরে তৈরি হালকা স্ন্যাকস বা ঝালমুড়ির মতো স্বাস্থ্যকর বিকল্প রাখা যেতে পারে।

শরীরচর্চা ও হাঁটাহাঁটি

নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। হাঁটা, যোগব্যায়াম বা প্রাণায়াম মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে সকালে খালি পায়ে ঘাসের ওপর হাঁটা মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে বলে মনে করেন অনেকে। ব্যায়ামের সময় শরীরে ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসৃত হয়, যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।

নিজেকে ব্যস্ত রাখুন

অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ইচ্ছা হলে পানি পান করুন এবং নিজেকে কিছু সময় দিন। ১০ মিনিট দেরি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাসও কার্যকর হতে পারে। এই সময়ে পছন্দের কোনো কাজে মনোযোগ দিলে মন অন্যদিকে সরে যায় এবং খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কমে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও সচেতন জীবনযাপনই অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

মন খারাপের সময় অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে

Tuesday, February 25, 2025

ইসরায়েলি বসতি কী, কেন তা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ? by মাহমুদুল হাসান

১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজাসহ কিছু ভূখণ্ড ইসরায়েল দখল করে। সেসব ভূখণ্ডে ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠিত বেসামরিক নাগরিকদের বসবাসের স্থানকেই বলা হয় ‘বসতি’।

ইসরায়েলের ৭০ লাখ ইহুদি জনসংখ্যার ১০ শতাংশ অর্থাৎ সাত লাখেরও বেশি বসতি স্থাপনকারী এখন অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের ১৫০টি বসতি ও ১২৮টি ফাঁড়িতে বাস করে।  

এসব বসতির বেশ কয়েকটিতে হাজার হাজার ইসরায়েলির বাস। সেগুলোকে শহরের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আবার ভাঙাচোরা জোড়াতালি দেওয়া ফাঁড়ির মতো বসতিও আছে, যেগুলোর অনুমোদনই নেই। তবে ইসরায়েলিদের এসব বসতিই ফিলিস্তিনিদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে।

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের ইতিহাস

১৮০০ সালের শেষের দিকে থেকে ২০ শতকের শুরুতে যখন জায়নবাদের সূচনা হয়, তখন ইউরোপে ইহুদি-বিদ্বেষও বাড়তে থাকে। তখন পূর্ব ইউরোপীয় ইহুদিদের ফিলিস্তিনে অভিবাসনও শুরু হয়।  

ফলে প্রাচীন ফিলিস্তিনে ইহুদি জনসংখ্যা ১৮৮২ সালে প্রায় ২৪ হাজার থেকে বেড়ে ১৯৪৮ সালে ছয় লাখ হয়ে যায়। ওই ইহুদিরা মূলত নতুন প্রতিষ্ঠিত কৃষি স্থাপনা এবং খামারে বাস করত, যাকে তারা ‘কিবুতজিম’ বলে থাকে।

১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের বিভাজন পরিকল্পনা প্রাচীন ফিলিস্তিনকে আরব ও ইহুদি রাষ্ট্রে বিভক্ত করে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রের ঘোষণার পর আরব ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু হয়।  

যুদ্ধের ঠিক আগে এবং যুদ্ধ চলাকালে সাত লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে তাদের বাড়িঘর থেকে নিষ্ঠুরভাবে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল। সেই ঘটনাকে ‘নাকবা’ বলা হয়। যুদ্ধের সময় ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং পশ্চিম তীরে অবস্থিত কেফার এটজিয়ন বসতির মতো আরও কিছু ইহুদি বসতিতে আরব সেনাবাহিনী আক্রমণ চালায় এবং সেগুলো জনশূন্য করে।  

১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে নেয়। চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের অধীনে অবৈধ হওয়ার পরও কেফার এটজিওন ছিল ইসরায়েলি সরকারের আবারও প্রতিষ্ঠা করা প্রথম বসতি। বর্তমানে সেখানে এক হাজার ৩০০ মানুষ বাস করে। ১৯৬৭ সালে কেফার এটজিওন আবার প্রতিষ্ঠা করার পর ব্যাঙের ছাতার মতো আরও ইসরায়েলি বসতি গজিয়ে উঠতে থাকে।

ইসরায়েলের সরকারি বসতি নীতি

১৯৬৭ সালের যুদ্ধের এক বছর পর সিরিয়ার গোলান মালভূমিতে ছয়টি ইসরায়েলি বসতি স্থাপন করা হয়। ১৯৭৩ সালের মধ্যে ইসরায়েল পশ্চিম তীরে ১৭টি এবং গাজা উপত্যকায় সাতটি বসতি স্থাপন করে। ১৯৭৭ সালের মধ্যে প্রায় ১১ হাজার ইসরায়েলি পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা, গোলান মালভূমি ও সিনাই উপদ্বীপে বাস করত।  

৭০ ও ৮০’র দশকজুড়ে ধারাবাহিক ইসরায়েলি সরকারের অধীনে বসতি নির্মাণে গতি আসে। সরকার ইসরায়েলিদের ওইসব অঞ্চলে বাস করতে উৎসাহ দিতে আবাসন এবং অবকাঠামোর জন্য ভর্তুকির মতো প্রণোদনা দিয়েছে।

১৯৯৩ সালে অসলো চুক্তি সই হওয়ার সময় পশ্চিম তীরের ১২৮টি বসতিতে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার এবং পূর্ব জেরুজালেমের ১২টি বসতিতে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার বসতি স্থাপনকারী ছিল। ১৯৯৩ সালে ইসরায়েল ও প্যালেস্টিনিয়ান লিবারেশন অরগানাইজেশন— পিএলওর মধ্যে অসলো চুক্তি সই হয়।  

অধিকৃত পশ্চিম তীরকে এ, বি ও সি— তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নতুন বসতি নির্মাণ বন্ধ করতে ইসরায়েল সম্মত হয়েছিল। তারপরও বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত ছিল।

এক বছর পর ১৯৯৪ সালে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বৃহত্তম বসতি মোদিন ইলিট প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে ৮৩ হাজার বসতি স্থাপনকারীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়। তাদের বেশিরভাগই অতিগোঁড়া ইহুদি। বসতিটির নিজস্ব মেয়র, স্কুল এবং চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে। এনজিওগুলোর ক্ষোভ সত্ত্বেও ২০১৮ সালে বসতিটিকে শহরের মর্যাদা দেওয়া হয়।

অসলো চুক্তির পর থেকে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা স্বাধীনভাবে ছিটমহল তৈরি করেছে। সেগুলো ফাঁড়ি নামে পরিচিত। ফাঁড়িগুলো সরকারের অনুমোদিত নয়। অনেক সময়ই সেগুলো ক্যারাভানের মতো ভ্রাম্যমাণ ঘর নিয়ে গড়ে উঠতো।  

অন্য বসতিগুলো আরও উন্নত। সেগুলোতে পাকা রাস্তা এবং ইহুদি উপাসনালয় সিনাগগ রয়েছে। যদিও ইসরায়েল ফাঁড়িকে অবৈধ বলে মনে করে, কিন্তু ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সেগুলো প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রায়ই সেগুলোকে সুরক্ষা দেয়।

২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ১০টি ফাঁড়িকে বৈধতা দিয়েছিলেন। সবচেয়ে বড় ফাঁড়িগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে প্রায় ৪০০ মানুষের থাকার ব্যবস্থা ছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীরা কমপক্ষে ১৫টি ফাঁড়ি এবং ১৮টি রাস্তা তৈরি করেছে। অসলো চুক্তির পর থেকে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি পশ্চিম তীরের ৪২ শতাংশ জমি দখল করেছে। পূর্ব জেরুজালেমের ৩৫ শতাংশ জমি বসতি এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো দিয়ে দখল করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের জীবনে ইসরায়েলিদের বসতি কী প্রভাব ফেলছে

বসতি স্থাপনের জন্য সহায়ক অবকাঠামোরও প্রয়োজন। বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ইসরায়েলে এবং বসতি থেকে বসতিতে যাতায়াতের রাস্তা, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ গ্রিডও স্থাপন করা হয়েছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বাইপাস রোড নেটওয়ার্ক বসতিগুলোকে পরস্পর এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করে।  

কিন্তু এসবের কারণে ফিলিস্তিনি এলাকাগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলিদের এসব কার্যকলাপ ফিলিস্তিনিদের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে, তাদের চলাফেরা মারাত্মকভাবে সীমাবদ্ধ করে দিচ্ছে। পশ্চিম তীরজুড়ে ১৪০টি চেকপয়েন্টসহ ৭০০টি রাস্তার বাধা থাকায় ফিলিস্তিনি যানবাহনগুলো তুলনামূলক দীর্ঘ আর অপ্রধান রাস্তা ধরে চলতে বাধ্য করে। কারণ রাস্তাগুলোতে বসতি স্থাপনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

ইসরায়েলের সীমানা বেষ্টনী পশ্চিম তীরের মধ্য দিয়ে গেছে। এটি ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা বরাবর নয়। এটি ৩০ লক্ষেরও বেশি ফিলিস্তিনিদের চলাচলকে সীমাবদ্ধ করছে। যেমন, কৃষকেরা বছরে মাত্র দুইবার বসতির কাছাকাছি তাদের কৃষিজমিতে যেতে পারে। তার জন্যেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগে অনুমোদন নিতে হয়। এই বিষয়ে ইসরায়েলের বক্তব্য হলো, নিরাপত্তার কারণে এমন বিধিনিষেধ প্রয়োজন। তবে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের এমন নীতিগুলোকে ‘বর্ণবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ইসরায়েল পশ্চিম তীরের প্রায় ২৫ শতাংশ ভূখণ্ডকে ‘রাষ্ট্রীয় ভূমি’ করে নিয়েছে। এর অর্থ হলো জমিটি প্রায় একচেটিয়াভাবে ইহুদি বসতি স্থাপনে উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনিদের তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করে থাকে।

বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জায়গা তৈরি করতে তারা ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি দখল এবং ধ্বংস করে থাকে। ইসরায়েলের যুক্তি, ফিলিস্তিনি সম্পত্তিতে ইসরায়েলের ইস্যু করা কোনো বিল্ডিং পারমিট এবং জমির নথিপত্র নেই। এই পারমিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রায়ই ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজস্ব বাড়িঘর ধ্বংস করতে বাধ্য করে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়ন করা নীতি অথবা ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার কারণে ২০২৩ সালে চার হাজার ফিলিস্তিনিকে অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ঘরছাড়া করা হয়েছিল। তাদের বাড়িঘর, দাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত স্কুল, কৃষি অবকাঠামো ও মানবিক সহায়তা সরবরাহকারী অন্যান্য স্থাপনাসহ শত শত ফিলিস্তিনি কাঠামো ইসরায়েল ধ্বংস করেছে বা জব্দ করেছে।

বসতি বাড়ানোর জন্য ইসরায়েলি সরকারের জমি ক্রোক করা এবং বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলি গোষ্ঠীর দখলবাজির ফলে ফিলিস্তিনিরা তাদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হন। তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় স্থান কমে যায়। সেচ, কৃষিকাজ এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত পানির উৎসের অভাব গ্রামীণ ফিলিস্তিনি মানুষদের মারাত্মক বিপদে ফেলে। তারা ঝুঁকিতে পড়েন এবং তাদের মানবিক সাহায্যের প্রয়োজন হয়।  

অনেক  প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইসরায়েলি বসতি থেকে অপরিশোধিত বর্জ্য, মানুষের মলমূত্র ও পশুর বর্জ্য ফিলিস্তিনি কৃষিজমিতে ফেলা হয়। এসব আবর্জনা জমিগুলোকে ব্যবহারের অযোগ্য করে ফেলে।

১৯৯৩ সাল থেকে পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সংখ্যা ছিল প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তা প্রায় সাত লাখে পৌঁছে। ২০৪৬ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে। বসতি স্থাপনকারীরা যত বাড়ে, ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে হামলাও বাড়তে থাকে।  

বসতি স্থাপনকারীদের ঘন ঘন সহিংসতার কারণে পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইসরায়েলিদের ওইসব সহিংসতার মধ্যে রয়েছে আক্রমণ, ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি, গাছ বা ফসলের ক্ষতি ও গ্রামে অভিযান। আক্রমণগুলো প্রায়শই ইসরায়েলি সৈন্যদের জানিয়েই করা হয়। তারা আক্রমণকারীদেরই রক্ষা করে। বছরের পর বছর ধরে এমন আচরণ বেড়েছে।

জাতিসংঘ এবং অন্যান্য দেশ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে মনে করে। বিশেষ করে চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন দখলদার শক্তিকে তার বেসামরিক জনগণকে তাদের দখলকৃত অঞ্চলে স্থানান্তর করতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। জাতিসংঘ অসংখ্য প্রস্তাবের মাধ্যমে বসতি স্থাপনের নিন্দা করেছে।  

২০১৬ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছিল যে, বসতিগুলোর কোনো আইনি বৈধতা নেই। ঐতিহাসিক, ধর্মীয় এবং নিরাপত্তার কারণ উল্লেখপূর্বক ইসরায়েল সেই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও জাতিসংঘে প্রায়ই তার ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে ইসরায়েলকে কূটনৈতিক নিন্দা থেকে রক্ষা করে।

মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা যুক্তি দিয়েছেন যে বসতি স্থাপন শান্তি প্রক্রিয়ার একটি বড় বাধা। ওই তৎপরতা অধিকৃত পশ্চিম তীরকে টুকরো টুকরো করে এবং ফিলিস্তিনিদের জীবনকে গভীর কষ্টে ফেলে। বসতি নির্মাণ বন্ধ করার জন্য ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। তারপরও ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থী সরকার কখনো কখনো জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সহযোগিতা করে বসতি বাড়ানোকে সমর্থন করে চলেছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের সরকার পূর্ব জেরুজালেমে বসতি নির্মাণ প্রকল্পে গতি এনেছে। অসলো চুক্তির পর এবারই সবচেয়ে বড় ভূমি দখল শুরু করেছে। এতে জর্দান উপত্যকায় ১২ দশমিক ৭ বর্গকিলোমিটার জমি দখল করা হয়েছে। একদিকে ইসরায়েলি বসতি বাড়ছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিনি জনগণ, তাদের সংস্কৃতি এবং অর্থনীতিকে যেভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সামান্য আশাও হারিয়ে যাচ্ছে। 

ইসরায়েলি বসতি কী, কেন তা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ?
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির কাছে গাধার পিঠে বসে আছেন এক ফিলিস্তিনি

নিজেদের মধ্যে হানাহানি-বিষোদগার অপরাধীদের সুযোগ দিচ্ছে: সেনাপ্রধান

ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ না করতে পারলে, কাদা ছোড়াছুড়ি করলে, মারামারি-কাটাকাটি করলে দেশ ও জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে, এমনটি বলেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি- কাটাকাটি করেন, এই দেশ ও জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে।

তিনি বলেন, আমি আজ বলে দিলাম, নইলে আপনারা বলবেন, আমি আপনাদের সতর্ক করিনি। আমি সতর্ক করে দিচ্ছি আপনাদের। আমার অন্য কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। আই হ্যাড এনাফ লাস্ট সেভেন-এইট মান্থস। আই হ্যাড এনাফ।

ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমি চাই দেশ ও জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে আমরা সেনানিবাসে ফেরত আসব। আরেকটা জরুরি বিষয়, যেটা ভাবলাম যে আপনাদের সাথে আমি শেয়ার করি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের পেছনে কিছু কারণ আছে।

তিনি বলেন, প্রথম কারণ হলো, আমরা নিজেরা হানাহানির মধ্যে ব্যস্ত। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বিষোদগারে ব্যস্ত। এটা একটা চমৎকার সুযোগ অপরাধীদের জন্য। যেহেতু আমরা একটা অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে বিরাজ করছি, তারা খুব ভালোভাবেই জানে যে এই সময়ে যদি এই সমস্ত অপরাধ করা যায়, তাহলে এখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। সেই কারণে এই অপরাধগুলো হচ্ছে।  

আমরা যদি সংগঠিত থাকি, একত্রিত থাকি, তাহলে অবশ্যই এটা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে, বলেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। 

নিজেদের মধ্যে হানাহানি-বিষোদগার অপরাধীদের সুযোগ দিচ্ছে: সেনাপ্রধান

Wednesday, September 18, 2024

আমার বই পড়ে তরুণরা গণঅভ্যুত্থানের দিক-নির্দেশনা পেয়েছে: ফরহাদ মজহার

নিজের লেখা ‘গণঅভ্যুত্থান ও গঠন’ বই পড়ে ৫ আগস্টের মতো ঘটনার জন্য তরুণরা দিক-নির্দেশনা পেয়েছে বলে দাবি করেছেন বিশিষ্ট কবি, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘দ্য ভয়েস অব টাইমস’ আয়োজিত ‘গণঅভ্যুথ্যান-২৪: জনআকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন দাবি করেন।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) ছাত্র রেদোয়ানুর রহমানের একটি বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ফরহাদ মজহার ওই দাবি করেন। রেদোয়ানুর রহমান কবি ও লেখক আহমেদ ছফার একটি লাইন উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, দেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছিল তখন বুদ্ধিজীবীরা তা জানতো না।

বুদ্ধিজীবীরা সমাজ বদলায়নি, বদলেছে তরুণরা—এমন একটি বক্তব্য টেনে এনে ফরহাদ মজহার বলেন, বুদ্ধিজীবীদের কথা শুনলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না—একজন তরুণ বলেছেন। একটা কথা মনে রাখতে হবে, বুদ্ধিজীবিতা ছাড়া কোনো বড় ঘটনা বা বাংলাদেশকে গঠন করতে পারব না।

ওই তরুণকে উদ্দেশ্য করে ফরহাদ মজহার বলেন, তিনি আর একটা কথা বলেছেন, বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হচ্ছে, এটা জানতো না। এটা ভুল কথা। ২০২৩ সালে আমাদের একটা বই বের হয়েছিল। আমাদের যৌথ প্রযোজনা। বইটির নাম ‘গণঅভ্যুত্থান ও গঠন’। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট এটা প্রকাশ পায়। বাংলাদেশের তরুণদের বড় একটা অংশ সেই বই দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। সেই বই তারা পড়েছে। সেই বই থেকে তারা দিক-নির্দেশনা পেয়েছে।

রাষ্ট্রচিন্তা প্রকাশনী থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত ‘গণঅভ্যুত্থান ও গঠন: বাংলাদেশের গণরাজনৈতিক ধারার বিকাশ প্রসঙ্গে’ বইটি নিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, এই গ্রন্থটির পেছনে আমার নিজের ক্ষতবিক্ষত হৃদপিণ্ডের অনেক টুকরা জড়িত। বইটি যখন স্নেহভাজন সারোয়ার তুষার হাতে তুলে দিলেন; ভেবেছি, একাত্তরের শহীদদের প্রতি কিছু দায় কি শোধ করা গেল? আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি যে, বাহাত্তরে আমরা নিজেদের রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে গঠন করতে পারিনি, সেই কাজ আমাদের অবশ্যই সম্পূর্ণ করতে হবে, সেটা স্মরণ করিয়ে দেবার জন্য এই গ্রন্থ।

ফরহাদ মজহার বলেন, ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট বইটি বের হয়েছে। আর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। তাই তরুণরা যেভাবে বলছেন, সেটা ঠিক না। বারুদ জমা ছিল কিন্তু ম্যাচের কাঠি জ্বালানোর লোক ছিল না। তরুণরা ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়েছেন। ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে তরুণরা যেহেতু বুদ্ধিজীবিতাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন নাই, তাই তারা বিজয়ের ফসল তুলে দিয়েছেন ওই চুপ্পুর (রাষ্ট্রপতি) হাতে। এটা বুঝতে হবে। তরুণরা কাজটা শুরু করেছেন, জনগণ সাড়া দিয়েছে। আজ এই বিজয়টা চলে গেল তাদের হাতে, যারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে গণতন্ত্রের কোনো সম্পর্ক নাই। গণতন্ত্র হলো রাষ্ট্রের একটা ধরন। বাড়িটা হলো রাষ্ট্র আর বাড়িটা কে নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটা হচ্ছে নির্বাচন। বাড়ির ঠিক নাই, সেখানে কী নির্বাচন করবেন? এইজন্য বারবার বলা হচ্ছে গঠনের কথা।

ফরহাদ মজহার বলেন, এই সরকারকে এই বিষয়গুলো ঠিক করতে হবে। না হলে মারাত্মক ভুল হবে। তরুণদের বুদ্ধিজীবীদের নেতিবাচক হিসেবে মনে করলে হবে না। এটার চর্চা না থাকলে সেই রাষ্ট্রে হাজার হাতুড়ি পিটিয়ে গণতন্ত্র আনতে পারবেন না।

উপদেষ্টাদের নিয়ে গঠিত সরকার প্রসঙ্গে ফরহাদ মজহার বলেন, জনগণের অভিপ্রায় হচ্ছে গণতন্ত্র। জনগণের অভিপ্রায় বিসর্জন দিয়ে এখন একটা উপদেষ্টা সরকার বানানো হয়েছে। তার ভাষায় এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রশাসনের সকল স্তরে জনগণের অংশগ্রহণ করতে হবে। কিন্তু এই সরকারের সেটা হচ্ছে না। তারা কিন্তু কাউকে বলে নাই। জনগণের পক্ষে কনক সারোয়ার, পিনাকী কথা বলেছে। কিন্তু এই সরকার কি তাদের কিছু বলেছে? যাদের আন্দোলন ও প্রোপাগান্ডার ফলে হয়েছে।

সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রসঙ্গে এই বুদ্ধিজীবী বলেন, এটা খুব ভালো লক্ষণ নয়। আমরা চেয়েছিলাম পুলিশ সংস্কার করা। তা হয়নি। পুলিশ না এলে তাদের পলাতক ঘোষণা করা হোক। আগে পুলিশ মাসে লাখ টাকা কামাতো। তারা তো এই দুই চার টাকার জন্য ফিরে আসবে না। আগে থেকেই এটা ভাবা উচিত না। তরুণরা ভেবেছিল বিল্পব ডিনার পার্টি, এটা ডিনার পার্টি না।

বিচার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে ফরহাদ মজহার বলেন, তারা (বিচার বিভাগ) ইকোনমিক ইস্যুতে, প্রসাশনিক এবং আইনের ক্ষেত্রে তারা স্বাধীন। এরশাদ সাহেব আদালতকে একবার ডিসেন্ট্রালাইজ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এটা আদতে হয়নি, যেটা নিয়ে আমরা আজ পর্যন্ত কাজ করতে পারিনি। আদালতকে জনগণের কাছে থামতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কথাটা বলা সহজ। এক-এগারোর সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার কথা বলে নির্বাহী শাসন ব্যবস্থা নিয়ে এসেছিল। মানবিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা আমরা মুখে বলি, কিন্তু কার্যত এর ব্যবস্থা আমরা করতে পারি না। আমরা কারো কথা শুনি না, অন্যের কথায় নাচানাচি করি। এটা কি আমাদের স্বভাব নাকি জ্ঞানের অভাব? এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অনেক সচেতন হতে হবে এবং সহনশীলভাবে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

ছাত্ররা একটি নাগরিক কমিটি করেছে কিন্তু প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল সেটাকে সন্দেহের চোখে দেখছে উল্লেখ করে ফরহাদ মাজহার বলেন, কারণ তারা বলছে তোমরা নাগরিক কমিটি করো কিন্তু এই সরকারের ক্ষমতা নিয়ে আরেকটি কিংস পার্টি হয়ো না। এখন যেটা দরকার সেটি হলো বিপুল বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন।  চিন্তার পরিবর্তন এবং সেই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র গঠন করা। যে ভিত্তিটা কারো পক্ষে অস্বীকার করা সম্ভব হবে না এবং সেই ভিত্তি তৈরি হলে কোনো দেশের পক্ষে নতুন বাংলাদেশ তৈরি হতে কোনো বাধা থাকবে না।

ভয়েস অব টাইমস-এর সম্পাদক মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অংশ নেন সাংবাদিক ওলীউল্লাহ নোমান, জামায়াতে ইসলামীর পল্টন থানার আমির শাহীন আহমেদ খান, লেখক ও গবেষক সারোয়ার তুষার, সাংবাদিকনেতা শহীদুল ইসলাম। 

আমার বই পড়ে তরুণরা গণঅভ্যুত্থানের দিক-নির্দেশনা পেয়েছে: ফরহাদ মজহার

Thursday, August 15, 2024

বাবরি মসজিদের মতো কিছু বাংলাদেশে ঘটেনি: ভারতীয় টিভিকে রিজওয়ানা হাসান

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। এই সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এর মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান মুখোমুখি হন ভারতীয় টিভি চ্যানেল নিউজ নাইনের।

ভার্চ্যুয়াল সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়- হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের রক্ষায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ কী?

এ বিষয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, যেসব শিক্ষার্থী আন্দোলন করছে, তাদের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরাও আছে। সুতরাং বলা যাবে না যে এটা শুধু মুসলিম শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। এই আন্দোলনে হিন্দু, খ্রিস্ট্রান, আদিবাসীসহ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ আছে। যে কোনো সরকার পরিবর্তনের পর কিছু বিশৃঙ্খলা ঘটে- এখানেও সেটাই হয়েছে। হিন্দুদের ওপর যেসব আক্রমণের কথা শোনা যাচ্ছে- সেগুলো যে ধর্মীয় কারণে হয়েছে, এমন নয়। এগুলো হয়েছে মূলত রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে। পুলিশের অনুপস্থিতির কারণে এগুলো হয়েছে। আমরা এরই মধ্যে হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা যে কোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে। একেবারেই যে হামলার ঘটনা ঘটেনি, তা আমরা বলছি না। তবে এগুলো কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা নয়।

তাহলে শুধু আহমাদিয়া এবং হিন্দুদের কেন টার্গেট করা হচ্ছে?

রিজওয়ানা হাসান বলেন, শুধু আহমাদিয়া এবং হিন্দুদের টার্গেট করা হচ্ছে- বিষয়টি এমন নয়। আপনি যদি খেয়াল করেন, দেখতে পাবেন মুসলিমরাও আক্রমণের শিকার হয়েছে। যে কোনো সম্প্রদায় যারা সরকারের ভোট ব্যাংক হিসেবে কাজ করে, সেগুলো হামলার শিকার হয়। এখানেও দু/একটি ঘটনা এ রকম ঘটেছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, সেটি হচ্ছে- সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে। যেসব জায়গায় হামলা হয়েছে, সেখানে হিন্দু, মুসলিম, আহমাদিয়া, আদিবাসী সবার ওপরেই হয়েছে।

কোনো মৌলবাদী গোষ্ঠী এই গণঅভ্যুত্থানের সুযোগ নিতে পারে কি না, এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

এ বিষয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, এ ব্যাপারে আমি মোটেও চিন্তিত নই। কারণ, আমি আমার দেশকে ভালোভাবেই চিনি। এ রকম কথা বিগত অনেক বছর ধরেই শোনা যায়। এমনকি আপনি আপনার পুরো সাংবাদিকতার ক্যারিয়ারেই হয়তো এ ধরনের কথা শুনে থাকবেন। তবে আমি আমার জীবনে কখনও দেখিনি যে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচনে এ দেশে মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো ২ বা ৩ শতাংশের বেশি ভোট কখনও পেয়েছে। সুতরাং রাতারাতি বিষয়টি পরিবর্তন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমি একটি বিষয় আপনাকে বলতে চাই, ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীগুলো যে শুধু বাংলাদেশেই সংগঠিত হয়েছে, বিষয়টি কিন্তু এমন নয়। ভারতে যেমন বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়েছে, সেখানেও মুসলিমরা নিরাপদ নয়। এটার একটা প্রভাব কিন্তু সেখানে পড়েছে। আমাদের সৌভাগ্য যে বাংলাদেশে এ রকম কিছু ঘটেনি। আপনার প্রশ্নের জবাবে আমি বলবো, আপনি ভারতের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনার প্রভাব লক্ষ্য করতে পারবেন, সেখানে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো সংগঠিত হয়। তবে আমাদের দেশে এর নজির নেই।

সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ বন্ধে আপনাদের পদক্ষেপ কী?
 
এর জবাবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমরা প্রত্যেক ঘটনার রেকর্ড রেখেছি। আমরা পুলিশকে বাড়তি নিরাপত্তার নির্দেশ দিয়েছি, আমরা সেনাবাহিনীকেও বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলেছি। আমরা তাদের বলেছি- যে কেউ এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নিতে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার কখনওই বাংলাদেশ আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। সাধারণত নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিপক্ষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটায়। অবশ্যই এটির অবসান ঘটাতে হবে।

এই অন্তর্বর্তী সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ কী?

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- সব খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। কারণ, আমরা প্রায় ১৬ বছর ধরে একটি বিশেষ দলের শাসনে ছিলাম, যারা ক্ষমতায় এসেছিল জালিয়াতির নির্বাচনের মাধ্যমে। ক্ষমতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে তারা সব খাতে এমনভাবে আধিপত্য বিস্তার করেছে যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে চেইন অব কমান্ড (শৃঙ্খলা) একেবারেই ভেঙে পড়েছে। আমাদের প্রচেষ্টা হবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনমুখী করা, সেগুলোকে যে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব থেকে মুক্ত করা এবং আমার আহ্বান হচ্ছে- প্রচলিত ব্যবস্থার সংস্কার, যাতে সব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে পারে এবং সেগুলো যাতে কোনো রাজনৈতিক দলের কাজ না করে। সুতরাং বলা যায়, আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং জনমুখী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেগুলো মানুষের প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সাড়া দেবে।
এই সরকার নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছে বলে কি আপনি মনে করেন?

রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমরা দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র আড়াই দিন হয়েছে। যেসব খাতে জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, সেগুলোতে এই সরকার ধারাবাহিকভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। আমি বলব- অর্থ ও আইন-শৃঙ্খলা খাতে এরই মধ্যে নিয়ন্ত্রণ চলে এসেছে।

নতুন এই সরকার কীভাবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করবে?

এ বিষয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আজ আমাদের দ্বিতীয় দিনের অফিস চলছে। এই সময়ে অর্থ উপদেষ্টাকে পুরো বাংলাদেশ ব্যাংকে বড় ধরনের রদবদল করতে হচ্ছে। কেননা, সেখানে শীর্ষ পর্যায়ের সব কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খালি পদগুলো পূরণ করা হয়েছে, যাতে করে কোনোভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর সরবরাহ বন্ধ হয়ে না যায়। এখন আমাদের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ, আমরা দেখতে পাচ্ছি- কিছু ব্যাংক প্রায় দেউলিয়াত্বের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। যদিও এর নেপথ্যে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি একটি কারণ। তবে দুঃশাসন, দুর্নীতি, অর্থ পাচার অনেক কিছুই এর পেছনে রয়েছে। আমি ঠিক এই মুহূর্তে বলতে পারছি না কীভাবে সংস্কার আনা যাবে, তবে আমরা যদি অন্য দেশগুলোর দিকে তাকাই তাহলে দেখব, এটা একেবারেই অসম্ভবও না। আমাদের এই মুহূর্তে এজেন্ডাই হচ্ছে সংস্কার এবং কীভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেটা করা যায়।

সর্বপ্রথম কোন কোন খাতে সংস্কার আনা হতে পারে?

এর জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও বিচার বিভাগ। সূত্র: নিউজ৯

Tuesday, September 15, 2020

ঘাড়ের সমস্যা বাড়ায় স্মার্টফোন

স্মার্টফোন, ট্যাব বা এ জাতীয় ডিভাইসে কোনো কিছু অতি মনোযোগ দিয়ে পড়তে আপনি যখন চেষ্টা করছেন, অজ্ঞাতসারে কিন্তু ভুল করে ফেলছেন। মাথা নুইয়ে, ঘাড় বাঁকা করে ‘স্মার্ট ডিভাইস’ ব্যবহার আপনার ঘাড়ের সমস্যার কারণ!
আমরা যখন এ ধরনের ডিভাইসে কোনো কিছু পড়ি বা টেক্সট করি তখন আমাদের ঘাড় অজান্তেই বাঁকা হয়ে যায়। শুধু ঘাড় নয়, এ সময় আমাদের মাথা সামনের দিকে চলে আসে এবং কাঁধ ঝুঁকে পড়ে।
এখন কি তাহলে আপনি ঠিকভাবে বসেছেন?
সামনের দিকে ঝুঁকে টেক্সট পড়া বা লেখার কারণে আপনার ঘাড়ে ব্যথা হয়। থেরাপিস্টর‍া এ ধরনের সমস্যার নাম দিয়েছেন ‘টেক্সট নেক’।
‘টেক্সট নেক’কে টেক্সটিং প্রবলেম, গেমিং প্রবলেম ও ই-মেইলিং প্রবলেম বলে উল্লেখ করেছেন ডিয়ান ফিসম্যান নামে এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
২০০৮ সালে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণীর সমস্যার সূত্র ধরে তিনি এর নামকরণ করে ‘টেক্সট নেক’। মাথাব্যথা ও ঘাড় ব্যথার সমস্যা নিয়ে ওই তরুণী তার কাছে আসেন। ফিসম্যান ওই তরুণীর মায়ের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান।
এ সময় তিনি তরুণীকে চেয়ারের সামনে ঝুঁকে মোবাইল ব্যবহার করতে দেখে বলেন, মনে হচ্ছে আমি কিছু বুঝতে পারছি।
সম্প্রতি প্রকাশিত সার্জিক্যাল টেকনোলজি ইন্টারন্যাশনালের ২৫তম প্রতিবেদনে বলা হয়, ঝুঁকে টেক্সটের কারণে স্মার্টফোন বা ট্যাব ব্যবহারকারীর পিঠ ও ঘাড়ে সমস্যা হয়।
জরিপে অংশগ্রহণকারী নিউইয়র্ক স্পাইন সার্জন বিশেষজ্ঞ কিনেথ সান্সরাজ বলেন, মাথা নুইয়ে মোবাইলে তাকানোর ফলে ঘাড়কে অতিরিক্ত ৬০ পাউন্ড ওজন নিতে হয়।
তিনি বলেন, মোবাইল ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারীর ঘাড় ১৫, ৩০, ৪৫ এমনকি ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত বাঁকাতে হয়। এজন্য সঠিকভাবে মোবাইল ব্যবহারের উপদেশ দেন তিনি।
ব্যবহারকারী তার মোবাইল ডিভাইস ব্যবহারে মজা পাবেন বিষয়টি স্বাভাবিক, তবে মাথা ও মোবাইল ডিভাইসের মধ্যে সঠিক দূরত্ব সম্পর্কে জানতে হবে, বলেন হান্সরাজ।
তিনি বলেন, স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের সময় আপনার মাথা সোজা রয়েছে, বিষয়টি সর্তকতার সঙ্গে খেয়াল করতে হবে।
সমান্তরাল অবস্থানে একজন মানুষের মাথার গড় ওজন ১০ পাউন্ড। আর প্রতি ইঞ্চি মাথা বাঁকানোর সঙ্গে এই ওজন দ্বিগুণ হয়ে যায়। তাই যখন আপনি মাথা ন‍ুইয়ে মোবাইল ব্যবহার করছেন, তখন আপনার ঘাড়কে ২০ বা ৩০ পাউন্ড ওজন বহন করতে হচ্ছে।
এ ওজন আপনার স্পাইনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে, যা স্পাইনকে সঠিক অবস্থান থেকে সরিয়ে ফেলে।
আমেরিকান ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট (প্রাইভেট প্র্যাকটিস বিভাগ) ড. টম ডিঅ্যাঙ্গিলিস বলেন, অনেক সময় ধরে যদি আপনার টিস্যুর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, তবে এটি সঠিক অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে এবং রক্ত জমতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, অতিরিক্ত সময় কত...।
এক জরিপে দেখা যায়, ৮-১৮ বছর বয়সীরা বিনোদনমূলক কাজে দিনে সাড়ে সাত ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন। শুধুমাত্র শিশুরা নয়, ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ সালে স্মার্টফোনে ডাটা ব্যবহারের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে বলে জরিপে বলা হয়েছে।
সামনের দিকে ঝুঁকে মোবাইল ব্যবহারের ফলে শুধু নার্ভ পেইনই নয়, এটি মেটাবোলিক সমস্যাও তৈরি করে বলে উল্লেখ করেছেন পারফরম্যান্স ফিজিক্যাল থেরাপির চিকিৎসক ড. মিচিল্লি কোলি।
তাহলে স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহকারকারীদের জন্য উপায় কী? প্রথমেই স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন হতে বলেন কোলি।
বড় খবর হলো, মাথা সামনে ঝোঁকানোর সমস্যার সমাধানে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফিসম্যান। অ্যাপটি ব্যবহারকারীকে মাথা ঝোঁকানোর সময় সর্তক করবে।
তবে স্মার্ট ডিভাইসগুলো একটানা ব্যবহার না করে কিছু সময় পরপর ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন শরীর বিশেষজ্ঞরা।
তারা পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রতি বিশ মিনিট পরপর দাঁড়ানো উচিত। এতে ব্যবহারকারীর ঘাড়ের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং ঘাড় সংক্রান্ত সমস্যা এড়ানো যাবে।

Monday, July 20, 2020

আ’লীগ নেতার ৫২ কর্মী দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর পাহারাদার

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর ১৫০০ যৌনকর্মীর নিরাপত্তায় রয়েছে ৫২ পাহারাদার।
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম ২০১২-০১-২৮
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর ১৫০০ যৌনকর্মীর নিরাপত্তায় রয়েছে ৫২ পাহারাদার।  
নীল রংয়ের শার্ট গায়ে কারো কারো হাতে লাঠি মানুষগুলো চোখে পড়ে যৌনপল্লীতে ঢোকার পরপরই।
পল্লীর বাসিন্দা এবং যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করছে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি সংগঠনের সভানেত্রী মনি বেগম বাংলানিউজকে বলছিলেন, এই যৌন পল্লীর নিরাপত্তাহীনতার কথা।
তিনি জানান, নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সব সময় শঙ্কায় থাকি। আগে কমিউনিটি পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও এক অজানা কারনে এখন কমিউনিটি পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে না।
জানা গেলো, কমিউনিটি পুলিশ তুলে দিয়ে তাদের পরিবর্তে এখন ৫২ জন পাহারাদার এই এলাকার দায়িত্বে রয়েছে। যাদের নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা।
মনি বেগম বলেন, এতে নিরাপত্তা কিছুই নিশ্চিত করা যায়নি। আমরা বার বার স্থানীয় থানায় এ নিয়ে অভিযোগ করেও কোনো সাড়া পাইনি। কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সূত্র জানায়, সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে কমিউনিটি পুলিশ উঠে যায় এবং দৌলতদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম মন্ডল হয়ে উঠেন এই যৌনপল্লীর দ-মু-ের কর্তা। এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও চলে আসে তার কব্জায়। গঠন হয় নিজস্ব নিরাপত্তা দল। নীল শার্টে লাঠি হাতে যাদের দেখা যায় দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে।
প্রতিদিন পল্লীতে আসা খদ্দেরদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা তোলে এই দলের কর্মীরা। টোকেন সিস্টেম। জন প্রতি ২০ টাকা হারে নেওয়া হচ্ছে খদ্দেরের কাছ থেকে।
দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে ঢুকতে পাঁচটিট গেট রয়েছে। এই সব গেটে বসে থাকে পাহারাদাররা। সেখান থেকেই তোলা হয় টাকা। ভিতরে ঘুরে ঘুরেও টাকা তুলতে দেখা যায় অনেককে।
পল্লী ঘুরে দেখা যায়, দুপুর দুইটার পর লাল মিয়া, মানিক, নিজাম, রশিদ, মফিজ ও স্বপনের পরিচালনায় ৫২ জন পাহারাদার গ্রুপে গ্রুপে ভাগ হয়ে বিভিন্ন রংয়ের টোকেন দিয়ে জন প্রতি ২০টাকা করে তুলছে।
সংশ্লিষ্টদের হিসেবে প্রতিদিন কমপক্ষে দুই হাজার টোকেন বিক্রি হয় যার মূল্য ৪০হাজার টাকা।
অভিযোগ, সরকারি নিয়ম নীতি না মেনে পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে শ্রেফ চাঁদাবাজি করছে এরা। এবং যৌনপল্লীতে যেকোন ঘটনার বিচারও তাদের হাতে। সবকিছুই তাদের ইচ্ছামতো চলে। যৌনপল্লীর বাড়ীওয়ালী ও সাধারন যৌনকর্মীরা এদের কাছে জিম্মি এবং অসহায় হয়ে আছেন।
পাহারাদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় রয়েছে। কোন খদ্দের যদি এদের কথা না মানে তাহলে তাকে নির্যাতন করা হয়। তাই ভয়ে বাধ্য হয়ে এই পাহারাদার গ্রুপের কথামত চলতে হয় সবাইকে।
যৌনপল্লীতে প্রবেশ করার প্রধান গেটে এদের একটি অফিস আছে এবং সেখান থেকেই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ হয়।
পাহারাদার গ্রুপের নেতা মফিজ, স্বপন ও মানিকের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, মো. নুরুল ইসলাম মন্ডল আমাদের চাকরি দিয়েছে। আমরা যা করি তার নির্দেশ মত করি। আমরা দিন মজুর মাত্র। সারা রাত ৩০০টাকা বেতনে চাকরি করি। দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে টিকিট বিক্রি করে যা আয় হয় তার সর্ম্পূণ টাকা আমরা তার কাছেই দিয়ে দেই। এই পল্লীতে যা আয় তার সব কিছুর হিসাব তাকে দিতে হয়। যাকে যাকে ম্যানেজ করার দরকার সে করে। আমরা তা বলতে পারবো না।
স্থানীয় কয়েকজন নাম না প্রকাশ করার শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, এই পদ্ধতিতে পল্লীতে প্রতিদিন অবৈধভাবে অর্ধলক্ষাধিক টাকা আয় হয়। পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই এই গ্রুপ গত তিন বছর ধরে এমন চাঁদাবাজী করছে। এমনকি তাদের কোনো দায়িত্ব নিতেও রাজি নয় পুলিশ।
এই পাহারাদারদের বিষয়ে স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা থেকে বলা হয়, ‘তারা আমাদের কেউ না।’
তবে অনেকেরই অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গেই সারাক্ষণ দেখা যায় তাদের।
এর আগে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকা কালে এই দ-মু-ের কর্তা ছিলেন আরেকজন। নাম সাঈদ। তার নেতৃত্বেই সেসময় চাঁদাবাজী চলতো। মাঝে জরুরি অবস্থার মধ্যে বন্ধ হয় চাঁদাবাজী। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার শুরু  হয় চাঁদা নেওয়া এবং এখন সেটা নিচ্ছেন নুরুল ইসলাম মন্ডল।
এ দিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার বাংলানিউজকে বলেন, ‘নুরুল ইসলাম মন্ডলের পাহারাদার বাহিনী গঠিত হয়েছে আমি এখানে আসার অনেক আগেই। তারা কীসের ভিত্তিতে কার কাছ থেকে কতো টাকা নিয়ে থাকে আমি সঠিক বলতে পারবো না। তবে যে কোন অপরাধের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখি।
এ পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে আবুল বাশার বলেন.  কোনো অভিযোগ পেলে তার ভিত্তিতে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবো।
অপর দিকে নুরুল ইসলাম মন্ডলের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ‘অভিযোগ পুরোটাই মিথ্যা। যৌন পল্লীর নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পাহারাদার নিয়োগ করা হয়েছে। এরা কতো করে টাকা পায় তাও আমি জানি না।’
পাহারাদার সবাইকে আপনি নিয়োগ করেছেন এমন  প্রসঙ্গে কিছুটা এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ইউনিয়ন এবং এর আশেপাশের ইউনিয়নের লোকও এখানে আছে। মূলত, পল্লীর নিরাপত্তার জন্যই এই পাহারাদার নিয়োগ করা।’
খদ্দেরদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এরা এই টাকা দিয়েই সংসার চালায়।
চাঁদার টাকার বড় অংশ তাকে দেওয়া হয় এমন অভিযোগের প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম ম-ল বলেন, ‘এই ধরনের টাকা আমি খাই না এবং চিন্তাও করি না। না জেনে এবং আমাকে বিপদে ফেলতেই এ অভিযোগ করা হয়েছে।’