Showing posts with label নারী ধর্ষণ. Show all posts
Showing posts with label নারী ধর্ষণ. Show all posts

Saturday, February 28, 2026

নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নূরা গ্রেপ্তার

নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি শর্ষেখেত থেকে ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ৯ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা করেন ওই কিশোরীর মা।

মামলার এজাহারে নামোল্লেখ করা ৯ জন আসামি হলেন, নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), মো. গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), ইমরান দেওয়ান (৩২), ইছহাক ওরফে ইছা (৪০), আবু তাহের (৫০) ও মো. আইয়ুব (৩০)। আহাম্মদ আলী দেওয়ান মহিষাশুড়া ইউপির সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি। তাকেসহ পাঁচ আসামিকে এই বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকি চারজন হলেন ইমরান দেওয়ান, এবাদুল্লাহ, আইয়ুব ও গাফফার।

এদিকে অভিযোগ ওঠার পর আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলা বিএনপির এক নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়। সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় আহাম্মদ আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তরুণ কিশোরীকে তুলে নেয়। তখন তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনার বিচারের জন্য কিশোরীর পরিবার মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহাম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যায়। তবে পরিবারটি বিচার পায়নি। সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে অভিযোগ করায় নূরাসহ সংশ্লিষ্ট তরুণেরা ক্ষুব্ধ হন।

এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন বাবা। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয় তরুণ বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যান। রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েটির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিলপাড় ও দড়িকান্দী এলাকার মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেতে কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে মাধবদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ধর্ষণের বিচারের দায়িত্ব নিয়ে আহম্মদ আলী দেওয়ান অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কোনো বিচার না করেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। পাশাপাশি কিশোরীর পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে চাপ দেন। বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এর জেরেই গত বুধবার রাতে বাবার সামনে থেকে কিশোরীকে অপহরণের পর শর্ষেখেতে নিয়ে হত্যা করা হয়।

গ্রেপ্তার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা
গ্রেপ্তার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা। ছবি: পুলিশের সৌজন্যে

Wednesday, January 28, 2026

ডিএনএ পরীক্ষায় সামনে এল শৈশবে মা হওয়া কিশোরীর জীবনের নির্মম বাস্তবতা

যেখানে শৈশব নিরাপদ ও যত্নে কাটার কথা, সেখানে ভয় ও নীরবতায় দিন পার করেছে রাজশাহীর এক কিশোরী। ১২ বছর বয়সেই ধর্ষণের শিকার হয়ে তাকে মাতৃত্বের ভার বহন করতে হচ্ছে। দীর্ঘ তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলছে, শিশুটি মামা ও সৎবাবার—দুজনের হাতেই নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

অভিযুক্ত সৎবাবার নাম মেহেদী হাসান ওরফে হৃদয় (২৫)। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার একটি গ্রামে হলেও রাজশাহী শহরের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। আর মেয়েটির মামার বাড়িও বাঘা উপজেলার একটি গ্রামে।

ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর জন্ম দেওয়া শিশুটির বয়স এখন ১ বছর ৯ মাস। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন আসার পর অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ২১ জানুয়ারি নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পিবিআই বলছে, সৎবাবার কাছে ধর্ষণের শিকার হয়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হলেও সে তার মামার হাতেও ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাই দুজনের বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রোববার রাজশাহী পিবিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২১-২২ সালে ওই কিশোরী রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় তার নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। সেখানে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে সে জানায়, ২০২১-২২ সাল পর্যন্ত নানার বাড়িতে থাকার সময় প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে তার মামা দিনের পর দিন ধর্ষণ করেন।

ঘটনা জানাজানি হলে ২০২২ সালের ২২ নভেম্বর এলাকার লোকজন ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্র্যাম্পে সাত লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে মামার সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে দেন। এ বিয়ে মানতে না পেরে তার মামা আত্মগোপন করেন। পরবর্তী সময় মেয়েটির মা তাকে রাজশাহী শহরের ভাড়া বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর ২০২৩ সালের ৩ মার্চ মেয়েটি একটি পুত্রসন্তান প্রসব করে।

এরপর ভুক্তভোগী মেয়েটির মা বাদী হয়ে তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল আদালতে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তারা আসামিকে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে গ্রেপ্তার করে। এরপর আদালতের আদেশে ওই কিশোরী, তার সন্তান ও আসামির ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু দেখা যায়, আসামির সঙ্গে নবজাতকের ডিএনএ মিলছে না।

পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আরও অধিকতর তদন্ত শুরু করে পিবিআই। এরপর তারা জানতে পারে, মেয়েটির মা ২০২০ সালে তার দ্বিতীয় স্বামী মেহেদী হাসানের সঙ্গে রাজশাহী শহরে ভাড়া থাকতেন। ২০২২ সালে মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে এসে প্রায় দুই মাস সেই বাসায় থাকে ওই কিশোরী। ওই সময় মেহেদী তাকে ধর্ষণ করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, মামার সঙ্গে ডিএনএ না মেলায় মেয়েটির সঙ্গে তিনি আবার কথা বলেন। সে কোথায় কোথায় ছিল, তা জানার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী জানায়, সে মায়ের বাড়ি এসে দুই মাস থেকেছে। তখন তিনি সৎবাবাকে সন্দেহ করেন। কিন্তু মেয়েটি জানায়, ঘুমের মধ্যে কিছু হয়েছে কি না, তা তার মনে নেই। পরবর্তী সময়ে ডিএনএ পরীক্ষা করে তাঁরা নিশ্চিত হন।

মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, ২১ জানুয়ারি অভিযুক্ত মেহেদীকে রাজশাহী নগরের মুক্তমঞ্চ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন। পরদিন তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি সব স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, মেয়েটি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে যে তার মামা তাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছেন। আবার মেহেদীও অপরাধ স্বীকার করেছেন। মেহেদীর ধর্ষণের কারণে মেয়েটি গর্ভবতী হলেও তার মামাও তার সঙ্গে একই কাজ করেছেন। বর্তমানে তার মামা জামিনে আছেন। আর মেহেদী কারাগারে। এখন বিষয়টির তদন্ত চলছে। মেয়েটিকে দুজন ধর্ষণ করে থাকলে দুজনকেই অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত করা হবে।

ধর্ষণ
ধর্ষণ। প্রতীকী ছবি: প্রথম আলো

Tuesday, December 30, 2025

ধর্ষিতার প্রতি বিজেপি কাউন্সিলরের স্বামীর হুমকি

ভারতের মধ্যপ্রদেশের সতনা জেলায় এক বিজেপি কাউন্সিলরের স্বামী ছুরি দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, তিনি ধর্ষিতাকে হুমকি দিয়েছেন। দম্ভ করে বলেছেন, ‘আমার কিছুই হবে না’। শুধু ধর্ষণই নয় এর ভিডিও-ও ধারণ করেছেন তিনি। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে তাকে বারবার যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করেন। পরে যখন ওই নারী তাকে ক্যামেরার সামনে মুখোমুখি করে বলেন যে, তিনি তাদের কথোপকথনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করবেন, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্লজ্জভাবে বলেন, তার কিছুই হবে না। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম অশোক সিং। তিনি রামপুর বাঘেলান নগর পরিষদের এক বিজেপি কাউন্সিলরের স্বামী। সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্তমানে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে অশোক সিংকে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গালিগালাজ করতে ও ভুক্তভোগীকে হুমকি দিতে দেখা যাচ্ছে। এই ভিডিও জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ভাইরাল ভিডিওতে অভিযুক্তকে এমন বলতে শোনা যায়, ‘আমার কী হবে? কিছুই হবে না। যেখানে খুশি অভিযোগ কর- আমার কিছুই হবে না।’ এসময় পেছনে কাঁদতে থাকা নারীর কণ্ঠ শোনা যায়। তিনি অভিযোগ দায়েরের কথা বলছিলেন। ভুক্তভোগী সোমবার সতনার পুলিশ সুপার (এসপি) হাঁসরাজ সিং-এর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তিনি জানান, ঘটনাটি ঘটে প্রায় ছয় মাস আগে। কিন্তু নিজের ও পরিবারের প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি এতদিন চুপ ছিলেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর এসপি তদন্তভার সহকারী পুলিশ সুপার (ডিএসপি) মনোজ ত্রিবেদীর কাছে হস্তান্তর করেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, কারহি এলাকার বাসিন্দা অশোক সিং তার বাড়িতে ঢুকে ছুরি ঠেকিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। পুরো ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করেন এবং কাউকে জানালে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেন।

ওই নারীর অভিযোগ, ২০ ডিসেম্বর তিনি আবার তার কাছে গিয়ে তাকে যৌন হেনস্থা করেন ও পূর্বের ভিডিও প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে নিজের ইচ্ছামতো চলতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। তিনি আরও জানান, অশোক সিংয়ের অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এবং তাকে পূর্বে জেলাসীমানা থেকে নির্বাসিতও করা হয়েছিল। এই প্রভাবেই তিনি দাপটের সঙ্গে তাকে হুমকি দিচ্ছেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, অশোক সিং নিয়মিত তার দোকানে এসে তাকে গালিগালাজ করেন, ভয় দেখান এবং মানসিক আতঙ্ক তৈরি করেন। ওই নারীর অভিযোগ, তিনি পাঁচ দিন আগে পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি তার বা তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয় তাহলে তার দায় পুলিশেরই থাকবে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করছে এবং সব ধরনের প্রমাণ পরীক্ষা করছে। এ পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

mzamin

Friday, December 19, 2025

যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুদের পরীক্ষা করতেন, এবার নিজের মেয়ের সেই পরীক্ষা করতে হলো মাকে by মানসুরা হোসাইন

মেয়ের বয়স এখনো ছয় বছরে পা দেয়নি। তার প্যান্টে রক্ত দেখে বুক কেঁপে উঠেছিল মায়ের। তিনি মনে মনে চাচ্ছিলেন, যা ভাবছেন—তা যেন সত্যি না হয়।

এই মা নিজে একজন চিকিৎসক, সার্জন। বর্তমানে বগুড়ায় কর্মরত। আগে রাজধানীর একটি হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে কাজ করার সময় ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) অধীনে ভর্তি শিশুদের পরীক্ষা করেছেন, ক্ষতবিক্ষত যোনিপথ অস্ত্রোপচার করে ঠিক করেছেন। এবার তাঁকে নিজের মেয়ের একই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হলো। এরপর থানায় বসে তাঁর মেয়ে নারী পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বলে, ‘দাদু আমাকে ব্যথা দিয়েছে।’

বগুড়া থেকে এই মা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলছিলেন নিজের এই অভিজ্ঞতার কথা; শুনিয়েছেন তার একাকী লড়াইয়ের গল্প।

আশঙ্কা সত্যি হলো

শিশুটির দাদার বয়স প্রায় ৮০ বছর। মেয়ের বক্তব্য শোনার পর এই মা প্রথমে কিছুটা নিশ্চিত হন, মেয়ের প্যান্টে রক্ত দেখে তিনি যে আশঙ্কা করেছিলেন, তা হয়তো সত্যি।

এ ঘটনার পর মেয়ের যোনিপথ খালি চোখে পরীক্ষা করে যা দেখেছেন, তা তিনি মামলার এজাহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

তবে একদিকে নিজের মেয়ে, অন্যদিকে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি শ্বশুর। এ কারণে স্বামীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা কেউই মামলা করতে চাননি। কিন্তু মা তা মানতে পারেননি। তাই তিনি একাই থানায় গিয়ে মামলা করেন।

একার লড়াই

মেয়েকে সরকারি হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করে চিকিৎসা করিয়েছেন। এখনো একাই সব পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন এই মা।

মেয়েটি অনেক ছোট হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়ার সময় পুলিশ মাকে কাছে থাকতে দেয়নি। ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। আর বয়সসহ অন্যান্য বিবেচনায় আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন অভিযুক্ত শ্বশুর।

মামলা সঠিক ধারায় হয়েছে কি না—এসব নিয়ে এই মা এখন চরম সংশয়ে ভুগছেন। এ ছাড়া পরিবার-পরিজনের বিরোধিতার পরও মেয়ের জন্য তাঁকেই ন্যায়বিচারের লড়াই একা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

‘আমি যত দিন বেঁচে আছি, তত দিন মেয়ের ন্যায়বিচারের জন্য লড়ে যাব’—এভাবেই বলেছেন ওই মা।

ঘটনার দিন

এই মা বলেন, তাঁর স্বামীও একজন চিকিৎসক। গত ২৮ নভেম্বর ব্যক্তিগত কাজে তিনি ঢাকায় ছিলেন। সেদিন মেয়ে তার বাবার সঙ্গে বগুড়া শহরের বাসা থেকে পাশের উপজেলায় দাদার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল। রাতে বগুড়ায় ফিরে তিনি বাসার গৃহকর্মীর কাছ থেকে মেয়ের রক্তাক্ত প্যান্ট দেখতে পান।

পেশাগত অভিজ্ঞতা থেকে মেয়ের যোনিপথ পরীক্ষা করে তাঁর মনে হয়েছে, বয়স অনুযায়ী জায়গাটি অস্বাভাবিকভাবে প্রশস্ত। জায়গায় জায়গায় ছিঁড়ে যাওয়ার লক্ষণ, লালচে ভাব—সবই আঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

দ্বিতীয় চিকিৎসকের মতামত

এই মা যে হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত, সেখানকার আরেকজন সংশ্লিষ্ট নারী চিকিৎসককে বিষয়টি জানান তিনি। ওই চিকিৎসক বাসায় এসে মেয়েটিকে খালি চোখে পরীক্ষা করেন এবং প্রায় একই পর্যবেক্ষণের কথা বলেন। মেয়ের বাবার উপস্থিতিতেই এই পরীক্ষা করা হয়।

এর পরদিন মেয়েকে একটি হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। সেখানে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসা চলে। দায়িত্বরত চিকিৎসকদের মৌখিক বক্তব্যও শিশুটির মায়ের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মিলে যায়।

মামলা ও সন্দেহ

শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে এই মা বলেন, ঘটনার পরপরই তিনি মামলা করেননি। মেয়ের বাবার কাছে বারবার জানতে চেয়েছেন কীভাবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে? কিন্তু তাকে একবার বলা হয়, বালুতে খেলতে গিয়ে জোঁক ঢুকেছে। আবার বলা হয়, লাঠি দিয়ে খেলতে গিয়ে আঘাত পেয়েছে। এমনকি মাসিক হওয়ার কথাও বলা হয়।

এই মা বলেন, ‘মেয়ের এ অবস্থার জন্য তার বাবার কোনো উদ্বেগ কাজ করেনি। এ কারণে আমি একা প্রথমে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে মামলা করতে থানায় যাই। সে সময় মেয়ে নারী পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বলেছে, ওর দাদু তাকে ব্যথা দিয়েছে। এরপর ৩ ডিসেম্বর শ্বশুরকে আসামি করে মামলা করি।’

শিশুটির বাবার সঙ্গে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তাঁকে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো জবাব আসেনি।

যে ধারায় মামলা হয়েছে

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ নম্বর ধারা এবং ১৮৬০ দণ্ডবিধির ৩২৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় উল্লেখ আছে, যদি কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে তাঁর যৌন কামনা চরিতার্থ করার জন্য তাঁর শরীরের যেকোনো অঙ্গ বা কোনো বস্তু দিয়ে কোনো নারী বা শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোনো অঙ্গ স্পর্শ করেন বা কোনো নারীর শ্লীলতাহানি করেন, তাহলে তাঁর এই কাজ হবে যৌনপীড়ন। এ অপরাধের শাস্তি অনধিক ১০ বছর কিন্তু অন্যূন তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।

অন্যদিকে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩২৪ ধারা বলছে, বিপজ্জনক অস্ত্র বা উপায় (যেমন ধারালো অস্ত্র) ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান আছে।

শিশুটির মা বলেন, ‘আমি মামলার এজাহারে সবকিছু স্পষ্ট করেই উল্লেখ করেছি। আমি একজন সার্জন। মেয়ের শারীরিক অবস্থা বুঝতে পারলেও মামলার ধারা তো বুঝি না।’

নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় দাদাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে তিনি জামিন পেয়েছেন।

শিশুটির মা প্রথম আলোকে বলেন, এজাহারে ঘটনার বিস্তারিত উপাদান যথেষ্ট স্পষ্ট নয়—এই যুক্তিতে এবং আসামির বয়স বিবেচনায় জামিন আদালত আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।

হারিয়ে যাওয়া প্রমাণ

ঘটনার দিন মেয়ের রক্তমাখা প্যান্ট প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন মা। সকালে উঠে দেখেন, সেটি নেই। বাসার সিসি ক্যামেরাও কাজ করছিল না।

মা বলেন, ‘বাসায় আমার স্বামী, একজন অবিবাহিত ননদ ও চারজন কাজের মানুষ ছাড়া কেউ নেই। তাহলে প্যান্টটা কে নিল? বাসার সিসিটিভি কেন কাজ করছে না, তার উত্তরও স্বামীর কাছ থেকে পাইনি। সব মিলে আমার সন্দেহটা বাড়ছেই।’

স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্য

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন কারণে আগে থেকেই মনোমালিন্য চলছে বলে জানান এই মা। তিনি বলেন, ‘শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, সংসার করতে চাচ্ছি না বলেই মিথ্যা অভিযোগ করেছি।’

এই মা বলেন, ‘আমি যদি সংসার না চাইতাম, তালাক দিতে পারতাম। স্বামীর বিরুদ্ধেই মিথ্যা অভিযোগ করতে পারতাম। আমি কেন আমার শ্বশুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করব?’

শিশুটির বর্তমান অবস্থা ও তদন্ত

ঘটনার পর শিশুটি মানসিক ট্রমায় ছিল উল্লেখ করে তার মা বলেন, ‘মেয়ে এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। তবে এসব নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা হলে সে বিরক্ত হচ্ছে।

মামলাটির তদন্ত করছেন দুপচাঁচিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান সরকার। তিনি মুঠোফোন প্রথম আলোকে বলেন, ‘তদন্ত চলছে। এর বাইরে কিছু বলা সম্ভব নয়।’

শিশু ধর্ষণ
শিশু ধর্ষণ। প্রতীকী ছবি: প্রথম আলো

Tuesday, November 25, 2025

৫ তারকা হোটেলে কেবিন ক্রু ধর্ষিত, পাইলটের বিরুদ্ধে মামলা

ব্যাঙ্গালোরে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এক যুবতী কেবিন ক্রুকে ধর্ষণ করেছেন ৬০ বছর বয়সী এক পাইলট। এই অভিযোগে ওই পাইলটের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ধর্ষিত কেবিন ক্রু। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, একটি বেসরকারি এভিয়েশন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওই পাইলট। পুলিশ বলেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ১৮ই নভেম্বর। অভিযুক্ত পাইলটের নাম রোহিত সারান। তিনি ওই দিন হায়দরাবাদের বেগমপেট এবং অন্ধ্রপ্রদেশের পুট্টাপার্থি থেকে একটি চার্টার্ড প্লেনে তার সহকর্মী ও অভিযোগকারিণীর সঙ্গে হোটেলে যান। দুই পাইলট ও ওই কেবিন ক্রু সদস্য পরের দিন ১৯শে নভেম্বর পুট্টাপার্থি ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তাই তারা বিশ্রামের জন্য হোটেলে চেক-ইন করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগে ওই নারী উল্লেখ করেন, রোহিত প্রথমে সিগারেট খাওয়ার অজুহাতে তাকে তার কক্ষের কাছে নিয়ে যান। এরপর জোর করে তাকে ঘরে ঢুকিয়ে ধর্ষণ করেন। ২০শে নভেম্বর বেগমপেটে ফিরে অভিযোগকারিণী সঙ্গে সঙ্গে এভিয়েশন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার কাছে বিষয়টি জানান এবং বেগমপেট থানায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৩ নম্বর ধারায় (ধর্ষণের অপরাধ) মামলা করা হয়েছে। মামলাটি আরও তদন্তের জন্য ব্যাঙ্গালোর সিটির হালাসুরু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

mzamin

Tuesday, October 28, 2025

তিন মাসে ২২৩ বার ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ ভারতে পাচার হওয়া বাংলাদেশি কিশোরীর by অমিতাভ ভট্টশালী

(এই প্রতিবেদনের কিছু বর্ণনা আপনার মানসিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে)

"কিশোরীটি যখন আমাকে বলছিল যে গত তিন মাসে ২২৩ জন পুরুষ তাকে ধর্ষণ করেছে, ওর চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম।"

কথাগুলো বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মহারাষ্ট্রের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'হারমোনি ফাউন্ডেশন'-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্রাহাম মাথাই।

তিনি জানান, বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা ১২ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে পাচার করে দেওয়া হয়েছিল ভারতে। পাচারকারীরা কিশোরী জানিয়েছে, তাকে জোর করে, অত্যাচার চালিয়ে যৌন সংসর্গ করতে বাধ্য করা হতো। গুজরাত ও মহারাষ্ট্রের মীরা-ভায়ান্দার এলাকায় তার ওপরে চলেছিল এই অমানুষিক অত্যাচার।

আরেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'এক্সোডাস রোড ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন' এবং পুলিশের মানবপাচার রোধ ইউনিট এক অভিযান চালিয়ে ২৩শে জুলাই ওই কিশোরীটিকে উদ্ধার করে মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার নাইগাঁও থেকে।

কৃত্রিমভাবে শারীরিক গঠন বৃদ্ধির জন্য ওই কিশোরীটিকে হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল।

মীরা-ভায়ান্দার-ভাসাই-ভিরার পুলিশের কমিশনার নিকেত কৌশিক সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন যে, এখন পর্যন্ত নয়জনকে তারা গ্রেফতার করতে পেরেছে। এদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও দুইজন নারী বাংলাদেশের নাগরিক। পুরো পাচার চক্রটিকে ধরার চেষ্টা করছে পুলিশ।

গত সপ্তাহে তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদ শহরে আরেক বাংলাদেশি কিশোরী স্থানীয় থানায় এসে সাহায্য চায়। ঢাকার বাসিন্দা ১৫ বছরের ওই কিশোরীকে তারই এক প্রতিবেশী ভারতে নিয়ে এসে দেহ ব্যবসায় নামিয়েছিল বলে অভিযোগ করে।

ওই কিশোরীর কাছ থেকে খবর পেয়ে হায়দ্রাবাদ পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে একটি আন্তর্জাতিক যৌন ব্যবসার চক্র খুঁজে পেয়েছে।

বাড়ি থেকে পালিয়ে পাচারকারীর খপ্পরে

মহারাষ্ট্রের পালঘর থেকে যে বাংলাদেশি কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে, তার বাড়ি খুলনার আমিরপুরে। তার পরিবারের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করে উঠতে পারেনি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মকর্তারা।

'হারমোনি ফাউন্ডেশন'-এর সভাপতি আব্রাহাম মাথাই বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "ওই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে আমি জানতে পারি যে সে স্কুলের পরীক্ষায় একটি বিষয়ে ফেল করেছিল। বাড়িতে বাবা-মা বকবেন, সেই ভয়ে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।"

"এক পরিচিত নারী কিশোরীটিকে কাজের লোভ দেখিয়ে সীমান্ত পার করিয়ে কলকাতায় নিয়ে আসে। সেখানেই তার জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র বানানো হয় এবং তারপরে বিমানে চাপিয়ে তাকে মুম্বাই নিয়ে আসা হয়।"

এক বাংলাদেশি কিশোরীকে পাচার করে আনা হয়েছে, এই খবর পেয়ে মীরা-ভায়ান্দার-ভাসাই-ভিরার পুলিশের মানব-পাচাররোধ ইউনিট যখন তল্লাশিতে যায়, তাদের সঙ্গেই ছিলেন 'এক্সোডাস রোড ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন'-এর শ্যাম কুম্বলে।

তিনি বলছিলেন, "মুম্বাই থেকে তাকে গুজরাতের নাদিয়াদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে এক ব্যক্তি ওই কিশোরীকে কৃত্রিমভাবে শারীরিক গঠন বৃদ্ধির ইনজেকশন দেয়, তাকে ধর্ষণ করে ভিডিও করে রাখা হয়। ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে যৌন সংসর্গ করতে বাধ্য করা হয়।"

"যে পাচারকারীরা ধরা পড়েছে, আর ওই কিশোরী – সবার সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি যে গত তিন মাসে ২২৩ জন পুরুষ তাকে ধর্ষণ করেছে। ওই কিশোরীটিকে গুজরাতের চারটি হোটেল এবং পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন খামারবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপরে তাকে মহারাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়," বলছিলেন মি. কুম্বলে।

উদ্ধার করার পরে ওই কিশোরী এখন একটি হোমে রয়েছে।

বাংলাদেশের কিশোরী সাহায্য চেয়ে হায়দ্রাবাদের থানায়

দক্ষিণ ভারতের হায়দ্রাবাদ শহরের পুলিশ গত শুক্রবার একটি ঘটনার কথা জানিয়েছে, যেখানে ১৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি কিশোরী নিজেই সাহায্য চেয়ে থানায় এসে হাজির হয়েছিল।

সেদিন সকাল সোয়া আটটা নাগাদ বান্ডলাগুড়া থানায় হাজির হয় ওই কিশোরী। সে পুলিশকে জানায় যে তার বাড়ি ঢাকায় এবং তার এক প্রতিবেশী কলকাতায় বেড়াতে নিয়ে যাবে বলে তাকে পাচার করে দেয় এবছর ফেব্রুয়ারি মাসে।

চন্দ্রায়নগুট্টার সহকারী পুলিশ কমিশনার এ সুধাকর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে কলকাতায় বেড়াতে নিয়ে আসার নাম করে ওই কিশোরীকে হায়দ্রাবাদে নিয়ে এসে জোর করে যৌনকর্মে নামানো হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ওপরে ভিত্তি করে বান্ডলাগুড়া ও মেহদিপটনমের দুটি পৃথক বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ।

ওই চক্রের সদস্য দুই নারীকে গ্রেফতার করার সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গের তিনজন নারীকেও উদ্ধার করা হয়, যাদের জোর করে যৌনকর্মে নামানো হয়েছিল।

এছাড়া একজন অটোরিকশা চালককেও গ্রেফতার করা হয়েছে, যে ওই বাংলাদেশি কিশোরী এবং অন্য নারীদের 'খদ্দের'দের কাছে নিয়ে যেত।

প্রতিটা 'খদ্দের'কে গ্রেফতারের দাবি

হারমোনি ফাউন্ডেশনের আব্রাহাম মাথাই বলছিলেন, "ওইটুকু বাচ্চা মেয়ে, ষষ্ঠ কি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। পরীক্ষায় ফেল করে বকা খাওয়ার ভয়ে সে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। অথচ তারই এক পরিচিত নারী এইভাবে তার কৈশোরটা ছিনিয়ে নিল!"

"আমি পুলিশের কাছে দাবি জানিয়েছি প্রতিটা পুরুষ খদ্দের, যাদের এই কিশোরীর কাছে পাঠিয়েছিল চক্রের মাথারা, সেই সব খদ্দেরকেও গ্রেফতার করতে হবে।"

"প্রতিটা খদ্দের যদি ধরা পড়ে কঠোর শাস্তি পায়, তবেই একটা কড়া বার্তা যাবে যে কিশোরীদের ধর্ষণ করলে কী শাস্তি পেতে হয়। তবে যদি কিছুটা রাশ টানা যায়," বলছিলেন আব্রাহাম মাথাই।

শ্যাম কুম্বলের কথায়, বাংলাদেশ থেকে বহু কিশোরী এবং নারীকে পাচার করে মহারাষ্ট্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে শুধু তার সংগঠনই ৫০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নারী ও কিশোরীকে উদ্ধার করেছে।

"শুধু আমাদের একটা সংগঠনই যদি মহারাষ্ট্রে এত জন পাচার হওয়া নারী ও কিশোরীকে উদ্ধার করে থাকতে পারি, তাহলে ভাবুন, অন্য অনেক সংস্থাও কাজ করে, তারাও উদ্ধার কাজ চালায়, সংখ্যাটা পুরো দেশে কত হতে পারে!"

"পুণের যৌনপল্লী বলে পরিচিত বুধওয়ারপেটে অন্তত হাজার দশেক বাঙালি নারী যৌনকর্মে জড়িত। এদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের নারীরা যেমন আছেন, তেমনই বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে আসা নারীরাও আছেন," বলছিলেন মি. কুম্বলে।

বাড়ি থেকে পালিয়ে পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে খুলনার ১২ বছরের কিশোরী - প্রতীকী চিত্র
ছবির ক্যাপশান, বাড়ি থেকে পালিয়ে পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে খুলনার ১২ বছরের কিশোরী - প্রতীকী চিত্র

Wednesday, October 22, 2025

মেয়েকে ধর্ষণ, নরপিশাচ পিতার কারাদণ্ড

জাপানের এক আদালত নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে পিতা নামের এক নরপিশাচকে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। সাধারণত এ ধরনের মামলায় ভুক্তভোগীরা নিজের পরিচয় গোপন রাখেন। কিন্তু এই মামলায় মেয়েটি সাহসিকতার সঙ্গে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে বলা হয়, দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি কোজি দাইমন। ২০১৬ সালে তার মেয়ে রিহো ফুকুয়ামা হাইস্কুলে পড়তেন। সে সময় তাকে ধর্ষণ করে সে। আদালতে সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও দাবি করে, ‘আমার মেয়ে এমন অবস্থায় ছিল, যেখানে সে আমাকে বাধা দিতে পারতো।’

বিচারক তোশিআকি উমেজাওয়া রায় ঘোষণার সময় বলেন, ভুক্তভোগী আজও শারীরিক ও মানসিক কষ্টে ভুগছেন। তাই এই অপরাধের পরিণতি গুরুতর বলে বিবেচিত হবে। ফুকুয়ামা জানান, তার ওপর যৌন নির্যাতন শুরু হয় যখন তিনি জুনিয়র হাইস্কুলে পড়তেন এবং তার মা তখন বাড়িতে থাকতেন না। গত বছর মার্চ মাসে তার পিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। রায়ের পর আদালতের বাইরে ফুকুয়ামা সাংবাদিকদের বলে, রায় শোনার পর আমি স্বস্তি পেয়েছি। আমি সবাইকে বলতে চাই, পারিবারিক যৌন সহিংসতা সত্যিই ঘটে। দয়া করে ভুক্তভোগীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না। এর আগে সাংবাদিক শিওরি ইতো এক প্রভাবশালী টিভি প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করে ঐতিহাসিক রায় জিতেছিলেন। ২০২১ সালে রিনা গোনোই তার সহকর্মী সেনাদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনেন, যার পর তিনজন সেনাকে স্থগিত সাজা দেয়া হয়। ঘটনার পর গোনোই সেনাবাহিনী ছেড়ে দেয়। ইতো ও গোনোই দু’জনই প্রকাশ্যে আসার জন্য ব্যাপক প্রশংসা পেলেও, তারা অনলাইনে প্রচুর ঘৃণার শিকার হন। এ কারণে ইতোকে লন্ডনে চলে যেতে হয়।

সম্প্রতি আলোচিত এক মামলায় ওসাকার এক নারী প্রসিকিউটর তার সাবেক বসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। তবে তিনি এখনো নাম প্রকাশ করেননি। কারণ তিনি আবার কাজে ফিরতে চান। যদিও জাপানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বড় কোনো মিটু আন্দোলন গড়ে ওঠেনি, তবুও ২০১৯ সালে কয়েকজন অভিযুক্ত ধর্ষক খালাস পাওয়ার পর দেশজুড়ে যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে ছোট ছোট বিক্ষোভ হয়। আইন পরিবর্তনের ফলে ভুক্তভোগীদের জন্য বিচার পাওয়া কিছুটা সহজ হয়েছে। ২০১৭ সালে ধর্ষণের সংজ্ঞা সম্প্রসারিত হয়, এবং ২০২৩ সালে আইন থেকে ভুক্তভোগীদের জন্য ‘সহিংসতা বা ভয় প্রদর্শনের প্রমাণ’ দেয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়। 

mzamin

আত্মজীবনীতে তথ্য: একজন সুপরিচিত প্রধানমন্ত্রী ধর্ষণ করেছেন ভার্জিনিয়া জিফ্রেকে

ভার্জিনিয়া জিফ্রে দাবি করেছেন, তাকে একজন সুপরিচিত প্রধানমন্ত্রী নৃশংসভাবে ধর্ষণ করেছিলেন। ‘নোবডিস গার্ল’ আত্মজীবনীতে তিনি এ দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌণ অপরাধের অভিযোগ এনেছেন যে কয়েকজন নারী, তার প্রধান ভার্জিনিয়া জিফ্রে। ওদিকে জেফ্রি এপস্টেইন কানেকশনের কারণে বৃটেনে রাজপরিবার থেকে সব পদ পদবী ত্যাগ করেছেন বহুল আলোচিত প্রিন্স অ্যানড্রু। তাকে নিয়ে বৃটেনে এখন তোলপাড় চলছে।

ওদিকে আত্মজীবনীতে ভার্জিনিয়া জানিয়েছেন, এপস্টেইন ও তার চক্র তাকে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিত। ভার্জিনিয়া জিফ্রে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী ‘যতটা নৃশংসভাবে আমাকে ধর্ষণ করেছিলেন, কেউ আগে তার চেয়ে বেশি নৃশংসভাবে ধর্ষণ করেনি’। তিনি ভয় পেতেন যে, হয়তো তিনি ‘যৌনদাসী হয়ে মারা যেতে পারেন।’ তিনি বর্ণনা করেছেন, তাকে ঘাড়ে হাত দিয়ে চেপে ধরাও হয়েছে। মারধর করা হয়েছে। অবমাননা করা হয়েছে। ধর্ষক ওই প্রধানমন্ত্রী তার কষ্ট দেখে হাসতেন। মার্কিন সংস্করণে ওই ব্যক্তিকে ‘সুপরিচিত প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে আত্মজীবনীর বৃটিশ সংস্করণে তাকে কেবল ‘সাবেক মন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বইটিতে প্রিন্স অ্যানড্রু সম্পর্কে অভিযোগগুলোকেও পুনর্ব্যক্ত করেছেন ভার্জিনিয়া জিফ্রে।

https://mzamin.com/uploads/news/main/185965_Abul-10.webp

Monday, August 25, 2025

শত শত নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, আটক ব্যক্তির ভয়ঙ্কর তথ্য

দক্ষিণ ভারতের একটি ছোট মন্দির শহরকে ঘিরে সম্প্রতি ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন এক ব্যক্তি। পুলিশের হাতে আটক ওই ব্যক্তির দাবি, শত শত নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার পর তাকে মৃতদেহগুলোকে গোপনে সমাধিস্থ করতে বাধ্য করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ধর্মস্থলে। এ নিয়ে নানা রহস্য জট পেকেছে। খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, কর্ণাটকের ধর্মস্থলে অবস্থিত শ্রী মঞ্জুনাথ স্বামী মন্দির। শতাব্দী প্রাচীন এই মন্দিরটিতে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। পবিত্র এই স্থানটির সঙ্গে বহু মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি এবং জীবনের গভীর সম্পর্ক জড়িত। সেই ধর্মস্থলের সাবেক এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী গত জুলাই মাসে পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মন্দিরে কাজ করার সময় তাকে শত শত নারী ও তরুণীর মৃতদেহ গোপনে পুঁতে ফেলার জন্য বাধ্য করা হয়। তিনি জানান, সেসব নারীররা নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছিলেন।

আটক ব্যক্তির পরিচয় গোপন রেখেছে পুলিশ। জনসমক্ষে অনা-নেয়ার সময় সর্বদাই কালো পোশাক ও মাস্কে ঢেকে রাখা হয় তাকে। অভিযোগের স্বপক্ষে একটি মানুষের মাথার খুলি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে ওই ব্যক্তি দাবি করেন এটি তিনি সদ্য কবর থেকে তুলে এনেছেন। এই অভিযোগের পর রাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকার ঘটনাটি তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছেন।

শনিবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন এসআইটি কর্মকর্তা জানান, ওই ব্যক্তিকে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের শুরুতে তিনি ১৩টি স্থান চিহ্নিত করেন। যেখানে তিনি মৃতদেহ কবর দিয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। এসব স্থান ছিল দুর্গম এবং ঘন ঝোপঝাড়ে আবৃত।

এসআইটি এই স্থানগুলোতে কয়েক সপ্তাহ ধরে খননকার্য চালায়। যদিও কিছু মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার আগ পর্যন্ত সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এসআইটি কর্মকর্তার মতে, ওই ব্যক্তি যে মাথার খুলিটি প্রমাণ হিসেবে দিয়েছেন, তা তার দেখানো কোনো স্থান থেকে আনা হয়নি।

এই অভিযোগ মন্দির প্রশাসন এবং এর বংশানুক্রমিক প্রধান হেগড়ে পরিবারের ওপরও সন্দেহ তৈরি করেছে। যদিও মন্দিরের প্রধান প্রশাসক বীরেন্দ্র হেগড়ে এই অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, মন্দির কর্তৃপক্ষ তদন্তে পূর্ণ সহায়তা করছে এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা আছে।

এ ঘটনা নিয়ে রাজ্য বিধানসভাতেও তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। এটিকে একটি হিন্দুদের ধর্মীয় স্থানের বিরুদ্ধে ‘কলঙ্ক লেপনের অভিযান’ বলে আখ্যা দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। অন্যদিকে, রাজ্যের বিরোধী দল কংগ্রেসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর জানান, সরকারের উদ্দেশ্য কাউকে রক্ষা করা বা হেয় করা নয়, বরং সত্য উদঘাটন করা। তিনি বলেন, যদি কিছুই না পাওয়া যায় তবে ধর্মস্থলের মর্যাদা আরও বাড়বে। আর যদি কিছু বেরিয়ে আসে তাহলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। এই ঘটনাটি এখন এক নতুন মোড় নিয়েছে। অভিযোগকারীর গ্রেপ্তারের পর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে।

mzamin

Thursday, May 22, 2025

আদালতে কাঁদলেন অভিনেত্রী জেসিকা, ধর্ষণের অভিযোগ

আদালতে দাঁড়িয়ে কাঁদলেন হলিউডের সাবেক অভিনেত্রী জেসিকা মান। কাঁদতে কাঁদতে তিনি নিউ ইয়র্কের এক জুরিকে বলছেন, হলিউডের প্রযোজক হার্ভে উইনস্টেন কত খারাপ মানুষ ছিলেন। জেসিনা অভিযোগ করেন, ২০১৩ সালে মিডটাউনে এক হোটেল কক্ষে তাকে ধর্ষণ করেছেন হার্ভে উইনস্টেন। হলিউডের এক সময়ের দাপুটে এই প্রযোজকের বিরুদ্ধে এখন থেকে ৫ বছর আগে একই রকম অভিযোগ করেন বেশ কিছু অভিনেত্রী। এখন এতদিন পরে আদালতে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া কাহিনী প্রকাশ করলেন জেসিকা মান। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ১৮ই মার্চ মিডটাউনের ডাবল ট্রি হোটেলে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন হার্ভে উইনস্টেন। তার আগে জেসিকাকে ওই কক্ষে কৌশলে ফাঁদে আটকে ফেলেন হার্ভে। তারপর নিজেই একটি ইঞ্জেকশন নেন তিনি। জেসিকা পরে জেনেছেন ওই ইঞ্জেকশন ব্যবহার করা হয় যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে। এরপর জোর করে জেসিকাকে ধর্ষণ করেন হার্ভে। কিভাবে দরজা বন্ধ করে জেসিকাকে আটকে ফেলে তাকে বিবস্ত্র হতে বাধ্য করেছিলেন তিনি সে বিষয়ে জেসিকা বলেছেন- এটা এমন একটি মুহূর্ত, যা আমি মুছে দিয়েছিলাম। জেসিকা মান বলেন, হার্ভে আমাকে ধর্ষণ করার পরে আমি দেখতে পাই বিনের ভিতর পড়ে আছে সূচের একটি লেবেল। তাতে ‘নেক্রো-এরকম’ কিছু একটা শব্দ লেখা ছিল।  পরে আমি গুগলে সার্স করে দেখতে পাই এটার অর্থ আসলে নিস্তেজ হয়ে যাওয়া পুরুষত্ব। কি কি ঘটেছিল তা কি আমি সব প্রকাশ করবো? আমার ভয় হয়।

মর্মান্তিক এই ঘটনা সত্ত্বেও জুরিদের কাছে মিস জেসিকা সাক্ষ্যে বলেন, এ ঘটনার পর হার্ভে উইনস্টেনের সঙ্গে জটিল এক সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন। তিনি বলেন, আমি স্রেফ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি তার সঙ্গে রিলেশনশিপের। সেটা যদি খারাপ সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে তার জন্য আমি দুঃখিত। আমি এটা করেছিলাম। এ বিষয়টি কিভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে সেটা আসলে আমি জানতাম না। এ জন্য আমি শুধু সময় নিয়েছি। কখনো কখনো তিনি আমাকে বৈধভাবে ব্যবহার করেছেন। আমি না বললে সেটা তার কাছে ট্রিগারের মতো ছিল। এটাকে আমি ‘দৈত্যের আচরণ’ বলবো। এমন আচরণ বেরিয়ে আসতো।

২০১৩ সালে হোটেল কক্ষে ধর্ষণের আগেই জেসিকা মানের কাছে ‘ওরাল’ সম্পর্ক স্থাপন করতে চেয়েছিলেন হার্ভে উইনস্টেন। এটা ছিল লস অ্যানজেলেসে প্রথম প্রাইভেট মিটিংয়ের সময়। জেসিকা জুরিদের কাছে বলেছেন, হার্ভে তাকে ও একজন বন্ধুকে নিজের হোটেল কক্ষে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কথা ছিল ‘ভ্যাম্পায়ার একাডেমি’ ছবির সংলাপের কপি দেবেন।  কিন্তু যখন জেসিকাকে বেডরুমে একা পান, তখন হার্ভে তার বাধা উপেক্ষা করে জেসিকার ওপর চড়াও হন। এক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ করেন তিনি। তাদের মধ্যে এ সময় একরকম লড়াই হয়। এসব বলতে বলতে কাঁপতে থাকেন জেসিকা মান। তবু তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর হার্ভের সঙ্গে রিলেশনশিপে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আশা করেছিলেন, ভয়াবহ যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সে বিষয়ে একটি সেন্স জাগ্রত হবে। আমি শুধু বেদনাকে সরাতে চেয়েছি।
জেসিকা মান বলেছেন, ওই সময়ে তিনি এ নিয়ে কথা বলার সাহস পাননি। কারণ, হার্ভের প্রভাব ছিল বিশাল। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কোনো কোনো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার শক্তিশালী যোগাযোগ। জেসিকার ভাষায়- আমার মনে আছে, কল্পনা করেছি যদি আমি এসব নিয়ে কোনো কথা বলি তাহলে হার্ভে তার বন্ধু ও সিক্রেট সার্ভিসকে কল করবেন আমাকে ধরতে। হার্ভের কাছ থেকে কখনো কোনো অর্থ নেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন জেসিকা। তিনি বলেন, আমার মনে হয়েছে আমি যদি কোনো অর্থ নিই তাহলে তা হবে দেহব্যবসায়ীদের নোংরা উপার্জনের মতো। কখনোই তার নোংরা অর্থ আমি চাই নি। কারণ, আমি তো বিক্রি হতে যাইনি।

এর আগে অন্য অভিনেত্রীদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে হার্ভে উইনস্টেন অভিযুক্ত হন ২০২০ সালে। তবে জেসিকা মানকে থার্ড-ডিগ্রি ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও তা উল্টে দেয়া হয়। এখন আবার সেই অভিযোগের নতুন করে বিচার হচ্ছে। যদি এতে হার্ভে অভিযুক্ত হন তাহলে তার ২৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। হার্ভের বিরুদ্ধে পুনঃবিচারে জেসিকা মান হলেন তৃতীয় ও চূড়ান্ত অভিযোগকারী। এর আগে সাবেক মডেল কাজা সোকোলা, প্রযোজকের সাবেক সহকারী মরিয়ম মিমি হ্যালি একই অভিযোগ আনেন।

mzamin