Sunday, August 30, 2026
তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে চাপে নেতানিয়াহু
মেকেলবার্গের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তুরস্কের সীমান্তের কাছে সিরিয়ার আবু দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরাইলি হামলা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। ইসরাইল দাবি করেছে, ওই ঘাঁটিতে তুরস্ক সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছিল। তবে তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে তুরস্ককে সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কে রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়া-বিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাকও ইসরাইলের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, তুরস্ককে সংঘাতে টেনে নেওয়ার জন্য ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করে থাকতে পারে।
মেকেলবার্গ বলেন, সিরিয়ার নতুন নেতা আহমাদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন সরকার ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতে যেতে আগ্রহী নয়। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর সিরিয়া এখন দেশ পুনর্গঠন, অর্থনীতি সচল করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের দিকে মনোযোগ দিতে চায়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে ৪৭ বছর পর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক দেশের তালিকা থেকে সরিয়েছে, যা দামেস্কের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকের মতে, সিরিয়ায় তুরস্কের সম্ভাব্য উপস্থিতিকে সরাসরি ইসরাইলের জন্য হুমকি হিসেবে দেখার যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তুরস্কের একটি প্রতিনিধি দল ওই বিমানঘাঁটি পুনর্গঠনের সম্ভাবনা যাচাই করতে সেখানে গিয়েছিল—এটি সেখানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সমান নয়।
মেকেলবার্গের মতে, তুরস্কের মতো ন্যাটো সদস্য দেশের সঙ্গে সরাসরি উত্তেজনা সৃষ্টি করলে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তার বিশ্লেষণে, নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক নীতি ইসরাইলের জাতীয় স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখার হিসাব দ্বারা বেশি প্রভাবিত হতে পারে।

ইরান যুদ্ধে অস্ত্রের মজুত ‘সংকটজনক’, চীন-রাশিয়া মোকাবিলায় মার্কিন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
জার্নালটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দীর্ঘদিনের পেন্টাগন প্রক্রিয়ার আওতায় ‘অর্ডার্স বুক’ ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানোর বিষয়টি তদারক করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ত্রের ঘাটতি এতটাই প্রকট হয়েছে যে ইউরোপে থাকা মার্কিন PAC-3 প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ইন্টারসেপ্টর এবং ATACMS ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতকে ‘ক্রিটিক্যাল সীমারও নিচে’ বলে বিবেচনা করা হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি হামলা অনেকটাই কমিয়ে আনলেও অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানির মতো দেশ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ এবং নতুন করে উৎপাদনের মাধ্যমে মজুত পুনর্গঠন করতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপ ও এশিয়ায় সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য তাইওয়ান সংকট কিংবা রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সরবরাহ করা কঠিন হতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।
সূত্র: আলজাজিরা।

নিষেধাজ্ঞায় কি নত হবে ইরান, ট্রাম্পের সামনে বড় প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও অব দ্য রেকর্ড স্ট্র্যাটেজিসের প্রেসিডেন্ট মার্ক ফাইফল মনে করেন, ইরানের ওপর কার্যকর চাপ তৈরি করতে হলে শুধু একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেই হবে না। প্রয়োজন সরকারের সব পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ।
ওয়াশিংটন থেকে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশ্লেষণে ফাইফল বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি প্রকাশ করা দিয়ে ইরানকে নত করা কঠিন। প্রকৃত চাপ তৈরি করতে হলে পুরো মার্কিন সরকারকে একটি সমন্বিত কৌশল নিয়ে কাজ করতে হবে।
ফাইফলের মতে, ইরানকে চাপে ফেলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশটির পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা। অর্থনৈতিক চাপ যতই দেওয়া হোক, ইরান যদি তার ইউরেনিয়াম ধরে রাখতে পারে, তাহলে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
একইভাবে ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যেতে পারে এবং আঞ্চলিক প্রক্সিদের অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে পারে, তাহলেও শুধু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে।
ফাইফল সতর্ক করে বলেন, ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি সমন্বিত নীতি নিতে হবে, যা একই সঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, ইউরেনিয়াম মজুত, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও প্রক্সিদের অর্থায়নকে লক্ষ্য করবে।
তার বক্তব্যে মূল বিষয়টি স্পষ্ট—নিষেধাজ্ঞা আরোপের সংখ্যা নয়, বরং সেগুলো কতটা সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর ‘পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ চালানোর কথা বলছে। কিন্তু সেই হুমকি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ওয়াশিংটন কতটা পরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে চাপ প্রয়োগ করতে পারে তার ওপর।
ফাইফলের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যদি ইউরেনিয়াম ধরে রাখে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক প্রক্সিদের অর্থায়ন চালিয়ে যেতে পারে, তাহলে শুধু নিষেধাজ্ঞা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হুমকি খুব বেশি কাজে আসবে না। অর্থাৎ, ট্রাম্পের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা, নাকি সেই চাপকে এমন পর্যায়ে নেওয়া, যাতে তেহরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতায়ও বাস্তব প্রভাব পড়ে।
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত |
ইরানের হুমকি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরলেন নেতানিয়াহুর ছেলে
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিন বেত হুমকিটি মূল্যায়ন করে এবং ইয়ার নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা দলের সঙ্গে সমন্বয় করে তাকে দ্রুত ইসরায়েলে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।
চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে নিউইয়র্কে থাকা শিন বেতের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও এই অভিযান পরিচালনায় সহায়তার জন্য মিয়ামিতে পাঠানো হয়েছিল।
শিন বেতের এই নিশ্চিতকরণের আগে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, ইয়ার নেতানিয়াহুকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফ্লোরিডা থেকে ইসরায়েলে ফিরিয়ে আনা হয়। সে সময় ইসরায়েলি গোয়েন্দারা অভিযোগ করেছিল, ফ্লোরিডায় অবস্থানকালে তাকে হত্যার একটি ইরানি ষড়যন্ত্র তারা শনাক্ত করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত। |
পশ্চিম তীরের গ্রামের একমাত্র প্রবেশপথ বন্ধ করে দিলো ইসরাইলি বাহিনী
গ্রাম পরিষদের প্রধান আমিন আবু আলিয়া ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফাকে বলেন, শুক্রবার থেকে গেটটি প্রায় পুরো সময় বন্ধ রয়েছে। মাঝেমধ্যে মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য তা খুলে দেওয়া হচ্ছে।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে আমিন আবু আলিয়া বলেন, সকালে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে গ্রামের শ্রমিকেরা কাজে যেতে না পারেন। কাজ শেষে তারা গ্রামে ফিরতে চাইলেও একই পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন।
আমিন আবু আলিয়ার অভিযোগ, এর লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের ওই এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য করা।
শুক্রবার এক ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীর ভেড়া চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে আল-মুঘাইয়িরে অভিযান চালায় ইসরাইলি বাহিনী। তবে গ্রাম পরিষদের প্রধান এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অভিযানের সময় তিন ফিলিস্তিনি আহত হন। আহতদের কাছে যাওয়ার সময় একটি অ্যাম্বুলেন্সকেও বাধা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
আমিন আবু আলিয়া বলেন, অভিযানের সময় ৫০ জনের বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী গ্রামের উত্তর অংশে ঢোকেন। তারা এক কৃষককে মারধর করেন এবং তার ২৫টি ভেড়া নিয়ে যান।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ২০ দিন ধরে আল-মুঘাইয়ির ‘শ্বাসরুদ্ধকর অবরোধের’ মধ্যে রয়েছে। এই সময়ে কোনো কোনো দিন বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য গেট মাত্র দুই ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে একমাত্র প্রবেশপথ বন্ধ থাকায় গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচল ও কর্মজীবন ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অবরোধের কারণে গ্রামের পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠেছে।
![]() |
| ছবি: আনাদোলু |
ইরান যুদ্ধ ও বাণিজ্য উত্তেজনা, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চাপে ট্রাম্প
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। একই সময়ে যুদ্ধের কারণে সামরিক ব্যয় বাড়ায় দেশটির সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বাড়ায় বন্ড বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ঋণ নেওয়ার খরচেও। বিশেষ করে বাড়ির ঋণ বা মর্টগেজের সুদের হার এখনো বেশি রয়েছে।
জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কানাডার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব শুল্ক মার্কিন ভোক্তাদের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে। ইয়েল বাজেট ল্যাবের হিসাব অনুযায়ী, নতুন শুল্কের কারণে একটি গড় মার্কিন পরিবারের বছরে প্রায় ১ হাজার ১০০ ডলার অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শুল্ক, ইরান যুদ্ধ এবং সরকারের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে মূল্যস্ফীতি আগের প্রত্যাশার তুলনায় বেশি সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।
তবে সব সূচকই নেতিবাচক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। উৎপাদন খাতও শক্তিশালী হচ্ছে। শ্রমবাজার স্থিতিশীল রয়েছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগও বাড়ছে।
তারপরও মূল্যস্ফীতি, সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের বাড়তি ব্যয় এবং বাণিজ্য ও ইরান যুদ্ধ ঘিরে অনিশ্চয়তা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ তৈরি করছে।
এই পরিস্থিতিতে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। অর্থনীতি ইস্যুর ওপর ওপর ভর করে ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, তাদের নীতির সুফল দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও ঋণের চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: শাফাক নিউজ
![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপি |
কেন লোকচক্ষুর আড়ালে ব্যারন ট্রাম্প
নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যারন খুব একটা বাইরে বের হন না। ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র তাকে ‘বেশ অন্তর্মুখী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
গত কয়েক বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একাধিক হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভেনিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন ট্রাম্প। একই বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডায় তার গলফ কোর্সে এক বন্দুকধারী তাকে হত্যার চেষ্টা করে।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারেও বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে।
এসব ঘটনার পর ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে ব্যারন ট্রাম্পও হুমকির লক্ষ্য হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সম্প্রতি ইরানের কট্টরপন্থীদের একটি ভিডিওতে ব্যারনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং তার মাথার জন্য ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মেলানিয়া ট্রাম্পও ওই পক্ষের হুমকির লক্ষ্য হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ব্যারন সম্প্রতি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করেছেন। গ্রীষ্মের বেশিরভাগ সময় তিনি তার মা, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্প পরিবারের গলফ ক্লাবে কাটিয়েছেন।
ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর ভাষ্য, ব্যারন কোথাও গেলে সাধারণত জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় বেশি সময় থাকেন না। দ্রুত নিজের ব্যক্তিগত জায়গায় চলে যান।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড ব্যারনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল বলে জানা গেছে। কার্কের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
বই লেখক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের দাবি, বাবাকে কার্কের মৃত্যুর খবর দেওয়ার সময় ব্যারন বলেছিলেন, ‘তুমি বাইরে বের হলে এটাই হয়।’
এই ঘটনা ব্যারনের নিরাপত্তা ও জনসম্মুখে চলাফেরার বিষয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য ফার্স্ট লেডির কার্যালয় গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। মেলানিয়া ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ছেলের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়ে সতর্ক।
২০২২ সালে ব্যারনের ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তার সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে মেলানিয়ার অনুরোধে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার নিরাপত্তা বাড়ানোর অনুমতি দেন।
২০২৫ সালে মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রেও ব্যারনের বাইরে যেতে অনীহার বিষয়টি উঠে আসে।
শপথ অনুষ্ঠানের সময় ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের পেনসিলভেনিয়া অ্যাভিনিউ দিয়ে হাঁটার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মেলানিয়া বলেছিলেন, “আমি জানি ব্যারন বাইরে যাবে না। আর আমি সেটা সম্মান করি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে থাকার কারণে ব্যারন সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে অন্যদের তুলনায় বেশি সচেতন হয়ে উঠতে পারেন। তবে তাদের মতে, অন্তর্মুখী হওয়া মানেই তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
ট্রাম্প পরিবারের অন্য সন্তানদের তুলনায় ব্যারনের জীবনযাপন অনেকটাই আলাদা। ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ইভাঙ্কা ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। টিফানি ট্রাম্পও মাঝে মাঝে বাবার সঙ্গে জনসম্মুখে দেখা দেন।
অন্যদিকে ব্যারন নিজের ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
মার-আ-লাগো ও নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারেও তার জন্য আলাদা ব্যক্তিগত জায়গা রয়েছে। এমনকি হোয়াইট হাউসেও তার ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার উপযোগী করে বিশেষ আসবাবপত্র তৈরি করা হয়েছে।
ব্যারনের বর্তমান জীবনযাপন ও জনসম্মুখে আসার অনীহা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে তিনি রাজনীতির বদলে ব্যবসার দিকেই যেতে পারেন।
তবে আপাতত তার অগ্রাধিকার নিজের ব্যক্তিগত জীবন, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা। ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠদের বক্তব্যেও সেটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
![]() |
| ফ্লোরিডায় বাবা মায়ের সঙ্গে ব্যারন ট্রাম্প। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান |
কিয়েভের কাছে গোলাবারুদের গুদামে রাশিয়ার হামলা, নিহত ৩৭
আজ শনিবার কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তৈমুর তকাচেঙ্কো বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, বুচা জেলায় নিহত বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকারী দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পরিষেবা সংস্থা এই মর্মান্তিক ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’
ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ আজ জানিয়েছে, কিয়েভের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরতলির কাছে মাইলা শহরের ওই গোলাবারুদের গুদামে হামলার পরপরই সেখানে একের পর এক বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে।
তকাচেঙ্কো জানান, এই হামলায় অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার কারণে সেখানে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়, যা পরে আশপাশের বাড়িঘর এবং একটি রেস্তোরাঁয় ছড়িয়ে পড়ে।
হামলার শিকার ওই এলাকা থেকে প্রায় ৪০০ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় কয়েক ডজন মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তকাচেঙ্কো জানান, নিহতদের মধ্যে দিমিত্রিভস্কা গ্রামের মেয়র তারাস দিদিচও রয়েছেন।
ইউক্রেনীয় সরকারি কৌঁসুলিদের মতে, ওই গুদামে ‘বিস্ফোরক বস্তু’ মজুত করা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরাধমূলক অবহেলার দায়ে তাঁরা একটি তদন্ত শুরু করছেন বলেও জানিয়েছেন।
তদন্তে মূলত ‘ওই প্রতিষ্ঠানের জায়গায় বিস্ফোরক পণ্য ও সরঞ্জাম মজুত রাখা কতটা বৈধ ছিল’, সেটির ওপর জোর দেওয়া হবে। এ ছাড়া ওই কোম্পানির ‘প্রয়োজনীয় অনুমতি এবং অনুমোদন’ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। কোম্পানিটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, হামলার পর সেখানে ‘বিস্ফোরণ ঘটে’। তিনি ঘটনাস্থল সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে নিশ্চিত করেছেন, এ ঘটনার পর ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে ইউক্রেনে অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৬৭টি ড্রোন ছুড়েছে রাশিয়া।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুদামে হামলার পাশাপাশি শনিবার ভোরে রাশিয়ার অন্যান্য হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে কিয়েভে দুই বছরের একটি শিশু এবং রাজধানীর বাইরের শহরতলিতে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী রয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ টেলিগ্রামে জানিয়েছে, রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে নয়জন। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ক্রিমিয়া উপদ্বীপের রুশ-নিয়ন্ত্রিত সেভাস্তোপোলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির রুশ-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয় দেশই একে অপরের ওপর দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে। এতে ক্রমেই বেসামরিক অবকাঠামো, যেমন বিভিন্ন গুদাম এবং তেল ও বন্দর স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এর ফলে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি অনেক বেড়ে গেছে।
![]() |
| কিয়েভের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরতলির আকাশে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী। রাতের হামলার পর সেখানকার একটি গোলাবারুদের গুদামে আগুন জ্বলছিল। ২৯ আগস্ট ২০২৬ ছবি: এএফপি |
কলকাতার মুসলিম কলোনিতে এক মাস ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ, কারা কেন করলেন
আপাতত অর্থের বিনিময়ে পুরসভার কাছ থেকে বাসিন্দাদের পানি কিনতে হচ্ছে। এলাকাটি কলকাতা পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। ওই কলোনির বাসিন্দাদের বেশির ভাগই মুসলিম।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানি বন্ধ করার পেছনে স্থানীয় বিজেপির এমএলএ রীতেশ তিওয়ারির ভূমিকা রয়েছে। কারণ, ওই অঞ্চলে বেশির ভাগ মানুষ মুসলিম সম্প্রদায়ের। তিওয়ারি নির্দিষ্টভাবে তাঁদের হুমকি দিয়েছিলেন।
ভোটে জেতার পর এক সভায় তিওয়ারি বলেছিলেন, মুসলিমরা তাঁকে ভোট দেননি। আগামী পাঁচ বছর তাঁদের জন্য তিনি কোনো কাজ করবেন না। বাসিন্দারা কলকাতার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) কাউন্সিলর সুমন সিং নির্বাচনের ফলাফলের পরই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।
ওই অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ প্রায় এক মাস ধরে পানি সরবরাহ থেকে বঞ্চিত। অভিযোগ উঠেছে, গত ২৯ জুলাই রাত থেকে এই কলোনির মধ্যে থাকা পাঁচটি রাস্তার কলের পানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তার আলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরে রাস্তার আলো জ্বললেও পানি সরবরাহ এখনো বন্ধ।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁদের এলাকার কলগুলোতে পানি বন্ধ থাকলেও একই রাস্তার ধারে অবস্থিত হিন্দুপ্রধান কলোনিগুলোর কলে নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, শিশুরা মুখ ধোয়ার জন্য ঘাটে যাচ্ছে। অনেকেই গঙ্গায় (হুগলি নদী) পড়ে গেছে। অল্পের জন্য কেউ কেউ ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। যারা সাঁতার জানে না, তারাও নদীতে গোসল করতে বাধ্য হচ্ছে। এলাকায় রয়েছে একটি মসজিদ। পানির অভাবে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া মানুষজন অজুও করতে পারছেন না।
কলকাতা পুরনিগমের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত কাশীপুর এলাকায় এই কলোনির অবস্থান। প্রায় ছয় দশক ধরে এখানে মানুষ বসবাস করছে। বর্তমানে প্রায় ৫০০ পরিবারের সাড়ে তিন হাজার মানুষ বসবাস করে। বাসিন্দাদের অধিকাংশই মুসলিম। তবে কিছু হিন্দু পরিবারও এখানে থাকে। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি ‘মোল্লা পাড়া’ বা ‘মুসলিম কলোনি’ নামে পরিচিত।
বেশির ভাগ বাসিন্দা নির্মাণশ্রমিক হিসেবে বা বোতল গলানোর কারখানায় নামমাত্র মজুরিতে কাজ করেন। সরস্বতী বিশ্বাস নামে এলাকার এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বহু বছর ধরে হিন্দু ও মুসলিম—উভয় সম্প্রদায়ের গরিব মানুষ নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে একসঙ্গে থাকছেন। কিন্তু কখনো এমন অসুবিধার মুখে পড়েননি।’
বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ২৭ জুলাই কেএমসির কর্মীরা কলোনির পানির পাইপলাইন মেরামতের কাজ করতে এসেছিলেন। ২৯ জুলাই পর্যন্ত সেই মেরামতের কাজ চলে, সেদিন বাসিন্দারা পানি পান। কিন্তু ওই দিনই রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা হঠাৎ লক্ষ করেন, পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর বিশ্বাস বলেন, পরদিন তাঁরা পুরনিগমের কার্যালয়ে যোগাযোগ করলেও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি। পরের দিন কলোনির রাস্তার আলো বা বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। পরে অবশ্য আলো জ্বলে।
কলোনির বাসিন্দা শেখ মইনউদ্দিন নিজেদের অসুবিধার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, নদীর দূষিত পানি ব্যবহার শুরুর পর থেকে অনেক শিশুর জ্বর, মাথাব্যথা ও ত্বকের সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঘাটের কাদা ও পিচ্ছিল ধাপে পা পিছলে পড়ে অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন।
বয়স্ক ব্যক্তি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য পরিস্থিতিটি বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, স্নান ও অন্যান্য প্রাত্যহিক প্রয়োজনে তাঁরা নদীটি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ইসমা খাতুন নামে এক স্কুলছাত্রী গণমাধ্যমকে বলে, পানির সংকটের কারণে সে স্কুলে যেতে পারছে না। তার অভিযোগ, পরীক্ষার সময় এই সংকট শুরু হওয়ায় তার পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। এমনকি বস্তির স্কুলটিতেও পানির সংযোগ দেওয়া হয়নি।
এ অবস্থায় আগামী দিনে উচ্ছেদের আশঙ্কা করছেন কলোনির বাসিন্দারা। বিজেপির তরফ থেকে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
![]() |
| পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: এএনআই |
Saturday, August 29, 2026
বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ সীমিত করতে বিধিনিষেধ আরোপ ট্রাম্প প্রশাসনের
২৪ আগস্ট জারি করা এক স্মারকে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার অধীন শিক্ষার্থী ও বিনিময় দর্শনার্থী কর্মসূচি বলেছে, পাঠ্যক্রমভিত্তিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের অনুমোদন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু ঘটনা তারা লক্ষ্য করেছে, যা বিদ্যমান বিধিমালা লঙ্ঘন করতে পারে।
স্মারকে বলা হয়েছে, পাঠ্যক্রমভিত্তিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কেবল তখনই অনুমোদনযোগ্য, যখন সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কোনো প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়। সংশ্লিষ্ট বিধিমালা না মানলে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন হারাতে পারে।
এর পরই ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলেসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদেশি শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু কাজের অনুমতির আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের এক মুখপাত্র বলেছেন, সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পর্যালোচনা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের সময় তারা পাঠ্যক্রমভিত্তিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের কিছু অনুমোদন স্থগিত রেখেছেন।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয় জানিয়েছে, ২৪ আগস্টের স্মারকটি আগের নির্দেশনার তুলনায় আরও নির্দিষ্ট, সরাসরি এবং প্রকৃতিগতভাবে বেশি বিধিনিষেধমূলক।
মার্কিন সরকার এর আগে আগস্টের মাঝামাঝিও এ বিষয়ে একটি স্মারক জারি করেছিল।
বার্কলের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয় বলেছে, নির্দিষ্ট কিছু কাজের অনুমতির আবেদন নিকট ভবিষ্যতে প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে না বলে তারা মনে করছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে ডিগ্রি অর্জনের বাধ্যতামূলক শর্তের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের আবেদন স্বাভাবিকভাবে প্রক্রিয়া করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একইভাবে পিএইচডি গবেষণাপত্র ও স্নাতকোত্তর থিসিস গবেষণাসংক্রান্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের আবেদনও আবার প্রক্রিয়া করার কথা জানিয়েছে তারা।
নতুন কেন্দ্রীয় বিধিনিষেধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন প্রক্রিয়া তৈরির জন্য আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে বার্কলে।
তবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ বলেছে, এসব বিধিমালায় নতুন করে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগদাতাদের সতর্ক করে দিয়ে তারা বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে এই সুবিধাজনক ব্যবস্থার অপব্যবহার আর সহ্য করা হবে না।
ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত ও অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের গাজা অভিযানবিরোধী ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, বৈচিত্র্যভিত্তিক কর্মসূচি, জলবায়ু কার্যক্রম এবং তৃতীয় লিঙ্গসংক্রান্ত নীতি।
এসব পদক্ষেপ নিয়ে অধিকারকর্মীরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষাগত স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বৈচিত্র্যবিরোধী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিদ্যা ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ তুলেছে।
বৃহস্পতিবার বিচার বিভাগ অভিযোগ করে, প্রতিষ্ঠানটির ভর্তি প্রক্রিয়ায় কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিচার বিভাগের এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে বলেছে, অভিযোগগুলো সঠিক নয়। তাদের দাবি, ভর্তি নীতিমালা আইন মেনেই পরিচালিত হয়েছে এবং এতে কোনো বৈষম্য করা হয়নি।
বিচার বিভাগ এর আগে আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে। এসব বিষয়ে সমঝোতার জন্য আলোচনা করার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছে তারা। আলোচনা ব্যর্থ হলে আদালতে মামলা করা হবে বলেও সতর্ক করেছে বিচার বিভাগ।
এছাড়া ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভিসাও বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এসব বিক্ষোভকে প্রশাসন ইহুদিবিদ্বেষী এবং উগ্রপন্থিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে অভিহিত করেছে।
তবে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থাকা ইহুদি সংগঠনসহ বিভিন্ন অধিকারকর্মী বলছেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের বিরোধিতা করা ইহুদিবিদ্বেষ নয়। তাদের মতে, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে উগ্রপন্থার সমর্থন হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই।
সূত্র : রয়টার্স
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স |
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1782)
-
▼
August
(329)
-
▼
Aug 30
(14)
- লেবাননে সমৃদ্ধ ইতিহাসের নতুন তথ্য, মিলছে হাজার বছর...
- আরব বিশ্বে বাড়ছে খাদ্য ও পানির সংকট, মরুকরণে ব্যাহ...
- তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে চাপে নেতানিয়াহু
- ইরান যুদ্ধে অস্ত্রের মজুত ‘সংকটজনক’, চীন-রাশিয়া মো...
- নিষেধাজ্ঞায় কি নত হবে ইরান, ট্রাম্পের সামনে বড় প্রশ্ন
- ব্যাগে ছয় দেশের পাসপোর্ট, বেনজীর এখন সেন্ট লুসিয়ায়...
- ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ এখন রড-সিমেন্টের কারবারি by নাজমু...
- ইরানের হুমকি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরলেন নে...
- পশ্চিম তীরের গ্রামের একমাত্র প্রবেশপথ বন্ধ করে দিল...
- ইরান যুদ্ধ ও বাণিজ্য উত্তেজনা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে...
- কেন লোকচক্ষুর আড়ালে ব্যারন ট্রাম্প
- ক্যানসারের চিকিৎসার মধ্যেই সিনেমার কাজ, কঠিন লড়াইয়...
- কিয়েভের কাছে গোলাবারুদের গুদামে রাশিয়ার হামলা, নিহ...
- কলকাতার মুসলিম কলোনিতে এক মাস ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ...
-
▼
Aug 30
(14)
-
▼
August
(329)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...







