Friday, August 28, 2026
পুরুষের প্রোস্টেট স্ফীত হওয়ার সমস্যা by ডা. কাজী জিকরুর রাজ্জাক
প্রোস্টেট পুরুষের জননতন্ত্রের একটি গ্রন্থি, যা শুক্ররসের একটা অংশ তৈরি করে শুক্রকীটের পুষ্টি ও পরিবহনে সাহায্য করে। এর অবস্থান মূত্রথলির ঠিক নিচে, মূত্রথলি থেকে মূত্রনালি এ গ্রন্থির ভেতর দিয়ে বেরিয়ে আসে।
প্রোস্টেট গ্রন্থির প্রধান রোগ
● প্রোস্টেট গ্রন্থি স্ফীত হওয়া (বিনাইন এনলার্জমেন্ট অব প্রোস্টেট)।
● প্রোস্টেট গ্রন্থির সংক্রমণ।
● প্রোস্টেট ক্যানসার।
● বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে গ্রন্থির আয়তন বাড়তে থাকা। পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সে প্রায় ৮ শতাংশ, ষাটোর্ধ্ব বয়সে ৫০ শতাংশ এবং ৮০–এর বেশি বয়সে ৮০ শতাংশ পুরুষের এ রোগ দেখা যায়। এই স্ফীতি অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিনাইন বা নিরীহ এবং কিছু ক্ষেত্রে মেলিগন্যান্ট বা ক্যানসার প্রকৃতির।
কীভাবে বুঝবেন
● বারবার প্রস্রাব, বিশেষত রাতে।
● প্রস্রাবের চাপ এলে ধরে রাখতে না পারা।
● প্রস্রাবের গতি কমে যাওয়া ও বাড়তি চাপ দিয়ে করা।
● প্রস্রাব ঠিকভাবে না হওয়া বা রয়ে যাওয়ার অনুভূতি।
● মূত্রত্যাগের সময় ব্যথা, জ্বালার অনুভূতি।
প্রাথমিক লক্ষণগুলোর পরও যদি সঠিক চিকিৎসা না হয়, তবে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তখন বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাত, হঠাৎ প্রস্রাব বন্ধ হওয়া বা আটকে যাওয়া, মূত্রথলিতে পাথর বা হার্নিয়া হতে পারে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় মূত্রথলি ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে।
করণীয়
চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা করে প্রোস্টেট বড় হয়েছে কি না, বুঝতে পারেন। কিছু টেস্ট করা হয় স্ফীতিটা ঠিক কী ধরনের তা বুঝতে ও চিকিৎসাপদ্ধতি নির্বাচন করতে। বিনাইন প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গ্রন্থির আয়তন, রোগের উপসর্গ, কতটা শারীরিক সমস্যা করছে, কোনো জটিলতা আছে কি না ও পরীক্ষা–নিরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে তিন ধাপে চিকিৎসা করা হয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে জীবনযাত্রা পরিবর্তনের উপদেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বা মধ্যম পর্যায়ে ওষুধের মাধ্যমে উপসর্গ কমানো সম্ভব। তৃতীয় বা তীব্র পর্যায়ে অস্ত্রোপচার করতে হয়।
নানা ধরনের অস্ত্রোপচার পদ্ধতি রয়েছে। এখন পর্যন্ত ‘টিইউআরপি’কে সবচেয়ে আদর্শ ধরা হয়। এ পদ্ধতিতে কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়া অত্যাধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে প্রোস্টেট গ্রন্থির বাড়তি অংশ কেটে বের করা হয় এবং এক সপ্তাহের মধ্যে রোগী স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে পারেন।
প্রোস্টেট ক্যানসারের লক্ষণ বিনাইন রোগের মতোই। ক্যানসার নিশ্চিত হলে স্টেজ গ্রেড অনুযায়ী র্যাডিক্যাল সার্জারি, রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি, কেমোথেরাপি প্রয়োগ করা হয়। আশার কথা, এটি অন্যান্য ক্যানসারের মতো মারাত্মক নয়। এর ছড়িয়ে পড়া অন্য ক্যানসারের তুলনায় অনেক ধীর। ফলে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা করলে সুস্থভাবে অনেক দিন বেঁচে থাকা যায়।
* ডা. কাজী জিকরুর রাজ্জাক, ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ, সাবেক সহযোগী অধ্যাপক, বিআইএইচএস, ঢাকা

Thursday, August 27, 2026
দৈনন্দিন খাবারে সিসার ঝুঁকি থেকে কীভাবে মুক্ত হবেন by ডা. হিমেল বিশ্বাস
লেড বা সিসা একটি মৌলিক উপাদান, যা মাটি ও পরিবেশে সব জায়গায় বিদ্যমান। ফলে গাছপালা এবং প্রাণিজ খাদ্যে সামান্য পরিমাণে সিসা থাকা স্বাভাবিক। তবে এই সামান্য উপস্থিতি থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি এবং জনমনে তৈরি হওয়া আতঙ্কের মধ্যে একটি বড় ফারাক রয়েছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘ঝুঁকি উপলব্ধির ব্যবধান’।
ঝুঁকির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে শিশুরা
সিসার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, শিশুদের জন্য সিসার সংস্পর্শে আসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। এমনকি সামান্য মাত্রাও তাদের স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি করে, যা বুদ্ধিমত্তার বিকাশে বাধা দেয়। বাংলাদেশেও কোটি কোটি শিশু সিসা দূষণের শিকার।
২০২২ থেকে ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকার শিশুদের রক্তে সিসার গড় ঘনত্ব হলো লিটারপ্রতি ৬৭ মাইক্রোগ্রাম। মার্কিন রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) নিরাপদ মান লিটারপ্রতি ৩৫ মাইক্রোগ্রাম, মানে স্বাভাবিকের চেয়ে এই মাত্রা অনেকটা বেশি বলতে গেলে প্রায় দ্বিগুণ। সিসা কোনো মাত্রায় গ্রহণযোগ্য নয়। এই নীরব বিষ শিশুদের আইকিউ কমিয়ে দিচ্ছে, আচরণগত সমস্যা বাড়াচ্ছে।
তবে এ সমস্যায় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঝুঁকির মাত্রা পরিমাপের ক্ষেত্রে ‘ডোজ’ বা পরিমাণের গুরুত্ব অপরিসীম। মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) সিসা গ্রহণের যে সর্বোচ্চ দৈনিক সীমা (আইআরএল) নির্ধারণ করেছে, তা যথেষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই করা হয়েছে।
আমাদের করণীয় কী?
১. খাদ্যের বৈচিত্র্য: সিসা দূষণ এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনা। কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবার বেশি পরিমাণে বা নিয়মিত না খেয়ে, সব ধরনের খাবার পরিমিত পরিমাণে খান। এটি সিসাসহ যেকোনো পরিবেশগত দূষণকারীর সংস্পর্শ কমিয়ে দেবে।
২. সরকারি নজরদারি: সিসার প্রধান উৎস, যেমন পুরোনো রং, দূষিত পানি ও ব্যাটারি কারখানার বর্জ্য—এগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।
৩. সচেতনতা বৃদ্ধি: সিসাযুক্ত মসলা, খেলনা বা প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের মাটি বা পুরোনো পেইন্টযুক্ত দেয়ালে খেলতে নিরুৎসাহিত করুন।
প্রয়োজন দ্রুত ও সম্মিলিত পদক্ষেপ
২০৪০ সালের মধ্যে ‘সিসামুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নে গৃহীত কর্মপরিকল্পনাগুলো হচ্ছে:
১. উৎস অপসারণ: সিসা দূষণের হটস্পট চিহ্নিত করে দ্রুত অপসারণ ও মাটি পরিষ্কার করা।
২. নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগ: সিসাযুক্ত রং, মসলা ও পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রির ওপর কঠোর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
৩. জনসচেতনতা: সিসা দূষণ প্রতিরোধের উপায় (যেমন: ঘন ঘন হাত ধোয়া, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ও পুরোনো রং করা দেয়াল থেকে শিশুদের দূরে রাখা) নিয়ে ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরি করা।
সিসা নিয়ে ‘ভূতের ভয়’ নয়, বরং বৈচিত্র্যময় ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাসই হোক সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি সিসামুক্ত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।
সোর্স: ওয়েব এমডি, জার্নাল অব হেলথ অ্যান্ড পলিউশন
* ডা. হিমেল বিশ্বাস, ক্লিনিক্যাল স্টাফ, স্নায়ুরোগ বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা
![]() |
| দারুচিনি, আপেল এমনকি প্রোটিন পাউডারের মতো জনপ্রিয় পণ্যগুলোয়ও সিসা পাওয়া যাচ্ছে। ছবি: গ্রাফিকস |
পুরুষের সমস্যা ভেরিকোসিল কেন হয়, চিকিৎসা কী? by অধ্যাপক ডা. আজফার উদ্দীন শেখ
ভেরিকোসিলে সমস্যা
ভেরিকোসিলের জন্য অণ্ডকোষ/ অণ্ডথলি মোটা দেখায়, হালকা ধরনের বিরক্তিকর ব্যথা থাকে; যা অণ্ডকোষ, কুঁচকি হয়ে পশ্চাৎ পিঠেও যেতে পারে। শিশুকাল বা যৌবনের শুরুতে ভেরিকোসিল হলে অণ্ডকোষ ছোট হয়ে যেতে পারে। ভেরিকোসিল থাকলে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা ও ফ্রি–রেডিকেল বেড়ে যায়, ফলে স্বাভাবিক শুক্রাণু উৎপাদন ও এর চলন ব্যাহত হয়। শুক্রাণুর এসব সমস্যা পুরুষের বন্ধ্যত্বের জন্য দায়ী। তা ছাড়া ভেরিকোসিল থাকলে অণ্ডকোষ থেকে টেস্টোসটেরন হরমোন তৈরি কমে যেতে পারে, এ কারণে যৌন দুর্বলতা ও যৌন সম্পর্কে অনাগ্রহ দেখা দিতে পারে।
কারণ
অণ্ডকোষের শিরাগুলো যদি ঠিকভাবে রক্ত অণ্ডকোষ থেকে পেটের ভেতর বহন করতে না পারে, তাহলে ভেরিকোসিল হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিরার ভেতরের ভালভগুলো নষ্ট হয়ে যায় বা কাজ করে না। তা ছাড়া পেটের ভেতরের অপেক্ষাকৃত উষ্ণ রক্ত রিফ্লাক্স হয়ে বা উল্টোপথে অণ্ডকোষে চলে এলে সেখানকার তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
রক্ত জমে থাকতে থাকতে শিরাগুলো ফুলে যায় ও আঁকাবাঁকা হয়ে যায়। অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, ফ্রি–রেডিকেল ও শুক্রাণুর ডিএনএতে ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে ভেরিকোসিল শুক্রাণু উৎপাদন ও চলনের ক্ষতি করে বন্ধ্যত্ব সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাঁদের সন্তান হচ্ছে না ও সিমেন অ্যানালাইসিসে শুক্রাণুর সমস্যা আছে, তাঁদের ভেরিকোসিল আছে কি না, পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং এর চিকিৎসা নিতে হবে।
চিকিৎসা
● ওষুধের মাধ্যমে ভেরিকোসিলের ভালো চিকিৎসা নেই। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যথার জন্য ওষুধ ও অণ্ডকোষের সাপোর্ট বা টাইট আন্ডারওয়্যার ব্যবহার করলে সাময়িক আরাম পাবেন; কিন্তু পুরোপুরি রোগ নিরাময় হবে না।
● অনেক ক্ষেত্রে অনেক দিন ধরে অণ্ডকোষে ব্যথা থাকে। ব্যথার ওষুধ আর অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে অনেকে আশ্বাস পান যে এতেই ভালো হয়ে যাবেন। এমন রোগীর অনেকেরই কিন্তু ভেরিকোসিল আছে, যা ধরা পড়তে দেরি হয়। তাই ভেরিকোসিল সন্দেহ হলে বা অণ্ডকোষে ব্যথা হলে অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্ট ও ইন্ডোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
● ভেরিকোসিলের সঠিক ও সর্বোত্তম চিকিৎসা হলো মাইক্রোসার্জিক্যাল ভেরিকোসিলেকটমি। এতে রোগটি ফিরে আসার আশঙ্কা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বা নেই বললেই চলে। এ পদ্ধতিতে সর্বাধুনিক মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে মাইক্রোসার্জিক্যাল সেন্টারে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের জন্য মাত্র এক দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। দুই দিন পর থেকেই স্বাভাবিক কাজকর্ম করা সম্ভব। এ অস্ত্রোপচার অত্যন্ত নিরাপদ ও সবচেয়ে কার্যকর।
* অধ্যাপক ডা. আজফার উদ্দীন শেখ, বিভাগীয় প্রধান, ইউরোলজি ও ইন্ডোলজি, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ
| ভেরিকোসিল থাকলে টেস্টোসটেরন হরমোন তৈরি কমে যেতে পারে। ছবি: আনস্প্ল্যাশ |
Wednesday, August 26, 2026
৯ মিনিটের এই সহজ শরীরচর্চায় বদলে ফেলুন জীবন by মমতাজ মোস্তফা
একদিন রাতে ফোন স্ক্রল করতেই তার সামনে এল থ্রি ইনটু থ্রি ফিটনেস রুল নামে ছোট্ট একটি ভিডিও। তিন মিনিট তিন মিনিট করে তিন বারে মোট ৯ মিনিটের ছোট্ট একটি ওয়ার্কআউট।
একধরনের কৌতূহল থেকেই সেটা করে দেখার সিদ্ধান্ত নেন রিচা।
ফোনে তিন মিনিটের টাইমার সেট করে প্রথম ধাপের স্ট্রেচিং শুরু করেন রিচা, তার মনে হয় যেন অনেক পুরোনো জং ধরা একটা দরজা খোলার চেষ্টা করছেন। তারপর স্কোয়াট এবং লাঞ্জ করেন। সবশেষের ধাপ ছিল জাম্পিং জ্যাক। যখন টাইমার বিপ বাজে তখন রীতিমতো হাঁপাচ্ছিলেন রিচা, দরদর করে ঘাম ঝরতে থাকে। সবচেয়ে বড় কথা কফি না খেয়েই ঘুম ঘুম ভাব, অলসতা কেটে গিয়ে বেশ চনমনে লাগতে থাকে।
দ্বিতীয় দিন যথারীতি দেরিতে ঘুম ভাঙলে ভাবলেন আজ আর ওয়ার্কআউট করবেন না। কিন্তু যেই মনে পড়ল ওয়ার্কআউটটা মাত্র ৯ মিনিটের, আবার করে দেখার সিদ্ধান্ত নিলেন। এভাবে চতুর্থ দিনে তার মধ্যে শরীরচর্চাটি নিয়মিত করার ব্যাপারে একটা আগ্রহ তৈরি হলো। পছন্দের কিছু মিউজিক বাছাই করে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয়নার সামনে শরীরচর্চা করতে লাগলেন। দুই সপ্তাহ পরে রিচা কিছু ছোট ছোট পরিবর্তন লক্ষ্য করেন।
এনার্জি (শক্তি): রিচার নিজের কাছে নিজেকে বেশ ঝরঝরে, প্রাণবন্ত ও কর্মচঞ্চল মনে হয়। আগে যেখানে এক কাপ কফি ছাড়া ঘুম কাটিয়ে কাজে মনোনিবেশ করতে পারতেন না, এখন মাত্র ৯ মিনিটের এই শরীরচর্চা তাঁর কাজের উদ্দীপনা অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছিল।
ফোকাস বা মনোযোগ: কাজ শুরুর প্রথম থেকেই তাঁর চিন্তা ও মনোযোগ ঠিকঠাক কাজ করছিল। কাজের বিষয় ও পরিকল্পনা মাথার মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় তা এগিয়ে নেওয়া দ্রুত ও সহজ হয়।
মেজাজ: সকাল থেকেই মেজাজ ঠান্ডা রেখে কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল। অকারণে লোকজনের ওপর রেগে যাওয়া, মাথা গরম করে ফেলার প্রবণতা কম লক্ষ করা যাচ্ছিল।
ধারাবাহিকতা: নিজের মধ্য অস্থিরতা অনেক কম মনে হচ্ছিল। কাজের সঙ্গে একাগ্রভাবে লেগে থাকা, একটার পর একটা ধারাবাহিকভাবে করে যাওয়া অনেকটা সহজ মনে হচ্ছিল। রিচা জানান ওজন কমানো বা ফিট দেখানো তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। কেবল অলসতার কারণে অপরাধবোধে না ভুগে কর্মোদ্দীপনা নিয়ে সুন্দরভাবে একটা দিন শুরু করতেই এই ওয়ার্কআউট শুরু করেন।
রিচা জানান, ফিটনেসের সবচেয়ে কঠিন অংশ শরীরচর্চা নয়, বরং শরীরচর্চা শুরু করা। যখন আমরা অনলাইনে ওয়ার্কআউট প্ল্যান দেখি, তখন সেগুলো বেশির ভাগ সময় ৪৫ মিনিট বা এক ঘণ্টার শরীরচর্চা বা যোগব্যায়াম হয়ে থাকে। এত দীর্ঘ সময়ের শারীরিক কর্মকাণ্ডের কথা ভেবে উৎসাহ হারিয়ে ফেলি। কিন্তু বিষয়টা যখন মাত্র তিন মিনিটের হয়, তখন তা আর অতটা ক্লান্তিকর মনে হয় না।
রিচা জানান, অভ্যাসের মধ্যে আসার পর এই ৯ মিনিটের সঙ্গে তিনি মাঝেমধ্যে পুশআপ যোগ করে শরীরচর্চাটাকে আরও বেশি সময় ধরেও চালিয়ে নেন। তাঁর মতে, থ্রি ইনটু থ্রি রুল একটা ছোট্ট নিয়ম কিন্তু একটা বিরাট পরিবর্তন। যা কেবল তার সকালটাই নয়, নিজেকে দেখার ধরনটাও বদলে দিয়েছে। তাই বাড়িতে, ভ্রমণে যেখানেই থাকুক না কেন, ৯ মিনিটের ছোট্ট এই শরীরচর্চা কখনোই বাদ দেন না রিচা।
পরিশেষ রিচা জানান, এটি সম্পূর্ণই তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ওপর ভিত্তি করে লেখা। কোনো চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য বা জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার আগে যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: মিডিয়াম
| ফোনে তিন মিনিটের টাইমার সেট করে প্রথম ধাপে স্ট্রেচিং শুরু করতে পারেন। ছবি: সুমন ইউসুফ |
Tuesday, August 25, 2026
পুরুষ বন্ধ্যত্ব কেন হয়, সমাধান কী by ডা. অবন্তি ঘোষ
কারণ
● অতিরিক্ত ধূমপান করা।
● অ্যালকোহল, নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করা।
● কম সক্রিয় জীবনযাপন।
● ওজনাধিক্য।
● অতিরিক্ত স্ট্রেস।
● হরমোনজনিত সমস্যা (টেস্টোস্টেরন, থাইরয়েড, প্রোলাকটিন)।
● জিনগত কারণ।
● সংক্রমণ যেমন ক্ল্যামাইডিয়া, গনোরিয়া ইত্যাদি।
● শুক্রনালির ব্লকেজ।
● অণ্ডকোষের টিউমার, ভেরিকোসিলি, মামস অরকাইটিস।
● দীর্ঘ সময় গরম আবহাওয়ায় কাজ করা।
কীভাবে শনাক্ত করা হয়
বীর্য পরীক্ষার মাধ্যমে পুরুষ বন্ধ্যত্ব শনাক্ত করা সম্ভব। এর নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। তিন দিন সহবাস বন্ধ রেখে বীর্য পরীক্ষা করতে হবে। একটি বীর্য পরীক্ষার রিপোর্ট যদি খারাপ আসে তাহলে এক মাস পরে আরেকটি বীর্য পরীক্ষা করতে হবে। সেটিও যদি খারাপ আসে তাহলে অণ্ডকোষের আলট্রাসনোগ্রাফি ও হরমোন পরীক্ষা করতে হবে।
যা করতে হবে
* ওজন কমানো, প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটাচলা করা, সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া, তৈলাক্ত ও চর্বিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা।
* স্ট্রেস কমানো এবং রাতে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা।
* ধূমপান, মদ্যপান পরিহার করা।
* শুক্রাণুর সংখ্যা ও গতির উন্নতির জন্য কিছু মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট দেওয়া হয়। যেমন লেবোকারনিটিন, ভিটামিন সি, ই, ডি, বি কমপ্লেক্স, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।
* তিন মাস পর্যবেক্ষণের পর যদি শুক্রাণুর সংখ্যার উন্নতি না হয়, তাহলে ইন্ট্রাইউটেরাইন ইনসেমিনেশন বা আইভিএফ/ইকসি করা যেতে পারে।
* ভেরিকোসিলি (অণ্ডকোষের শিরা ফুলে যাওয়া) বা শুক্রনালি বন্ধ। এ-জাতীয় সমস্যা থাকলে অনেক ক্ষেত্রে সার্জারি লাগতে পারে।
* হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে এর চিকিৎসা করতে হবে।
* যদি শুক্রাণুর সংখ্যা বা গতির মাঝারি ধরনের সমস্যা থাকে, তবে সাধারণত আইইউআই এবং যদি শুক্রাণুর সংখ্যা বা গতির অনেক বেশি সমস্যা থাকে তবে ইকসি করা হয়।
* কিছু ক্ষেত্রে বীর্যে কোনো শুক্রাণুই পাওয়া যায় না, যাকে অ্যাজোস্পারমিয়া বলা হয়, সে ক্ষেত্রে অণ্ডকোষ থেকে শুক্রাণু নিয়ে ইকসি করা হয়।
* ডা. অবন্তি ঘোষ, গাইনি, প্রসূতি ও বন্ধ্যত্ব রোগবিশেষজ্ঞ, আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা
| সব বন্ধ্যত্ব-দম্পতির ক্ষেত্রে ৩০-৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষজনিত কারণই দায়ী। ছবি: আনস্প্ল্যাশ |
Monday, August 24, 2026
কেবল গ্লুটেন নয়, ফ্রুকটানের জন্যও হয় হজমের সমস্যা—জানিয়েছে দ্য ল্যানসেট সাময়িকী by রাফিয়া আলম
ফ্রুকটান কী
ফ্রুকটান হলো গমে থাকা শর্করাজাতীয় উপাদান। এই উপাদান অন্ত্রে পানির পরিমাণ বাড়ায়। কারণ, ফ্রুকটানের বৈশিষ্ট্যই হলো পানি ধরে রাখা।
মানবদেহে ফ্রুকটান হজম করার জন্য প্রয়োজনীয় সব এনজাইম না থাকায় তা খাওয়ার পর ভাঙে না। এ অবস্থায় ফ্রুকটান যখন বৃহদান্ত্রে পৌঁছায়, তখন সেখানে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে এই ফ্রুকটানের ফারমেন্টেশন বা গাঁজন হয়। তাই সেখানে বেশি পরিমাণ গ্যাসও তৈরি হয় এই ফ্রুকটানের কারণে।
অবশ্য কেবল গম নয়, পেঁয়াজ, রসুন, তরমুজ, আঙুর, আনার, কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম, রাই, বার্লি প্রভৃতিতেও থাকে ফ্রুকটান।
যে সমস্যা হয়
ফ্রুকটানের এমন সব বৈশিষ্ট্যের কারণে পেটব্যথা ও বদহজম হতে পারে। ঢেকুর উঠতে পারে। অতিরিক্ত গ্যাস হতে পারে। কারও কারও মলত্যাগের ধরনেও আসে পরিবর্তন। তবে সবারই এমন সমস্যা হয় না।
যাঁদের ফ্রুকটানে সংবেদনশীলতা আছে, কেবল তাঁদেরই এমন সমস্যা হয়ে থাকে। ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমে (আইবিএস) আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের ফ্রুকটানের মতো উপাদানে সংবেদনশীলতা থাকতে পারে।
কেবল গ্লুটেনই দায়ী নয়
গমের তৈরি খাবার খেলে যাঁদের হজমজনিত কোনো সমস্যা হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই ধারণা করা হয় যে সমস্যাগুলো গ্লুটেনের প্রতি সংবেদনশীলতার কারণে হচ্ছে। তখন গ্লুটেন-ফ্রি ডায়েট মেনে চলা হয়। এটা ঠিক যে গ্লুটেনের প্রতি সংবেদনশীলতার জন্যও এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে যে গ্লুটেনই দায়ী নয়, তা খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
গম ও নানা ধরনের শস্যদানা এবং আরও কিছু খাবার ও পানীয়তে গ্লুটেন থাকে। তাই গ্লুটেন-ফ্রি ডায়েট মেনে চলতে গেলে খাদ্যতালিকা থেকে আপনাকে অনেক কিছুই বাদ দিতে হবে। অথচ সবার ক্ষেত্রে এত নিষেধাজ্ঞার আদতে প্রয়োজন নেই। কারণ, অনেকের ক্ষেত্রে তো কেবল ফ্রুকটানের জন্যই সমস্যাগুলো হয়।
ফ্রুকটানে সংবেদনশীলতায় করণীয়
ফ্রুকটানসমৃদ্ধ খাবার খেলে যাঁদের সমস্যা হয়, তাঁদের যে এসব খাবার একেবারেই এড়িয়ে চলতে হবে, তা নয়। তবে পুষ্টিবিদের তত্ত্বাবধানে এসব খাবারের মাত্রা নির্ধারণ করে নেওয়া উচিত। দীর্ঘ মেয়াদে একইভাবে ফ্রুকটানের মাত্রা কম রাখারও প্রয়োজন হয় না এবং সেটা উচিতও নয়।
সূত্র: দ্য ল্যানসেট, ওহাইও স্টেট হেলথ অ্যান্ড ডিসকভারি, হেলথলাইন, ওয়েবএমডি, সায়েন্সডিরেক্ট
![]() |
| ফ্রুকটান হলো গমে থাকা শর্করাজাতীয় উপাদান, যা অন্ত্রে পানির পরিমাণ বাড়ায়। ছবি: পেক্সেলস |
Saturday, August 22, 2026
ডায়াবেটিস রোগীর কাঁধে ব্যথার কারণ ও প্রতিকার by এম ইয়াছিন আলী
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অন্যদের তুলনায় বেশি কাঁধের ব্যথায় ভোগেন। এর কারণ, অ্যাডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস বা ফ্রোজেন শোল্ডার। ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে এটি বেশি হয়।
এর ফলে ব্যথার পাশাপাশি কাঁধের সংযোগস্থল শক্ত হয়ে পড়ে। পর্যায়ক্রমে রোগী হাত ওপরে ওঠাতে পারেন না, পিঠের দিকে নিতে পারেন না, পোশাকও পরতে পারেন না। এমনকি চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াতেও কষ্ট হয়।
কারণ কী
আগেই বলা হয়েছে, রক্তে অনিয়ন্ত্রিত শর্করা ফ্রোজেন শোল্ডারের অন্যতম কারণ। এ ছাড়া হাত দিয়ে ভারী কিছু ওঠাতে গিয়ে আগে কখনো ব্যথা পেয়েছিলেন, কিন্তু গুরুত্ব দেননি; তা থেকেও ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া স্ট্রোকের (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ) পরও এমন সমস্যা হতে পারে।
সার্ভিক্যাল স্পন্ডিলোসিস রোগে ঘাড় ও বাহুর ব্যথার কারণে রোগী হাতের নড়াচড়া কমিয়ে দেন। এতে ক্রমেই কাঁধের সংযোগস্থল শক্ত হয়ে যেতে পারে। চালক হঠাৎ কষে ব্রেক করলে গাড়ির যাত্রীরা নিজেদের রক্ষার জন্য হাতল বা কোনো কিছু শক্ত করে ধরে ফেলেন বা ধরার চেষ্টা করেন। এতে অনেকে ব্যথা পেয়ে থাকেন, যা পরে কাঁধব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রতিকার কী
কাঁধে খুব ব্যথা না হলে ব্যথানাশক ওষুধ পরিহার করা ভালো। তবে মাংসপেশি স্বাভাবিক (রিলাক্স) করতে মাসল রিলাক্সেন্ট–জাতীয় ওষুধের প্রয়োজন পড়ে। পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক ও সময়োপযোগী ফিজিওথেরাপি। এ রোগের চিকিৎসায় কিছু ইলেকট্রো থেরাপিউটিক এজেন্ট খুব উপকারী।
রোগীকে প্রতিদিন কিছু ব্যায়াম করতে হয়। অবশ্যই রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ফ্রোজেন শোল্ডার ধীরে ধীরে সারে। পুরো সারতে কয়েক মাস, এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে। ধৈর্য ধরে ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম চালিয়ে যেতে হবে।
* এম ইয়াছিন আলী, চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল
![]() |
| ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অন্যদের তুলনায় বেশি কাঁধের ব্যথায় ভোগেন। ছবি: পেক্সেলস |
Friday, August 21, 2026
শত ক্যানসার যোদ্ধা এক হলেন যুদ্ধজয়ের শক্তি নিয়ে by রাফিয়া আলম
ক্যানসার শব্দটার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আতঙ্ক। নিজের কিংবা প্রিয়জনের ক্যানসার হলে তা মেনে নেওয়াই দুরূহ এক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তবে সেই সত্যকে মেনে নিয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ীও হন বহু মানুষ। তেমনই ১০০ যোদ্ধা সেই সকালে হাজির হয়েছিলেন স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মিলনায়তনে। নিবন্ধন পর্ব শেষে তাঁরা যোগ দিয়েছিলেন মূল অনুষ্ঠানে।
সূচনায় নতুন উদ্যোগের ঘোষণা
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন হাসপাতালটির চিফ অপারেটিং অফিসার মো. এসাম ইবনে ইউসুফ সিদ্দিক। সূচনা বক্তব্যে তিনি জানান, ক্যানসারজয়ী একজন ব্যক্তির (ক্যানসার সারভাইভার) প্রতিবছর নিয়মিত যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হয়। আজীবন বিশেষ মূল্যে সেসব করানোর সুযোগ থাকবে স্কয়ার হাসপাতালে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তাঁদের এ উদ্যোগ।
বাস্তব যখন ভীষণ কঠিন
সূচনা পর্বের পর শুরু হয় প্যানেল ডিসকাশন। স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও শল্যচিকিৎসকেরা অংশ নেন এ আলোচনা পর্বে। ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যে শারীরিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যান, সে সম্পর্কে আলোচনা করেন তাঁরা।
সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের সামাজিক পরিসরে ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের রোল মডেল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, তাঁরাই হয়ে উঠতে পারেন বহু মানুষের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা।
এ আয়োজনে নিজের জীবনের গল্প সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন ক্যানসারজয়ী প্রণতি রানী দাস। ২০২০ সালে যখন করোনা অতিমারির কারণে কোনো হাসপাতালে সরাসরি চিকিৎসক দেখানোর সুযোগ পাচ্ছিলেন না, তখন স্কয়ার হাসপাতালেই সেই সেবা পেয়েছিলেন বলে জানালেন।
প্রণতি বললেন, ‘স্কয়ার হাসপাতালে বিশ্বমানের সেবা পেয়েছি। ক্যানসার ধরা পড়ার পরও মনোবল হারাইনি। বিশ্বাস ছিল, আমি হারব না। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি নিয়েও অফিস করেছি। আমার স্বামীও আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে একটা মিনিট দেরি করেননি।’
ক্যানসারে আক্রান্ত মায়ের জন্য ১০ বছর ধরে লড়ছেন সামিয়া হাসান। তাঁর মতে, ক্যানসারে আক্রান্ত একজন রোগীর স্বজনের কখনো ছুটি হয় না। এই স্বজনদের লড়াই চলে প্রতিনিয়ত। ১০ বছরের এ পথচলায় স্কয়ার হাসপাতাল তাঁর ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হয়ে উঠেছে বলেই জানান তিনি।
ভিন্নধর্মী আয়োজন
যোগব্যায়াম, চিত্রকর্ম আর সুরের মাধ্যমে সুস্থতার চর্চার আয়োজন ছিল অনুষ্ঠানের বাকি অংশে। যোগব্যায়াম ও মিউজিক থেরাপির দায়িত্বে ছিলেন যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক কুশল রায় ও তাঁর সহকারীরা। তাঁর নির্দেশনায় যোগব্যায়ামে অংশ নেন ক্যানসারজয়ীরা। তাঁর সহকারীরা সঠিকভাবে যোগব্যায়ামের ভঙ্গিগুলো শিখতে সাহায্য করছিলেন তাঁদের।
সবাই মিলে সুস্থতার এ উদ্যোগে অংশ নেওয়া বেশ ভিন্নধর্মী বিষয়ই বটে। চিত্রশিল্পী মেগান এডওয়ার্ডের তত্ত্বাবধানে ‘গারডেন অব হিলিং’ থিমে ছবি আঁকছিলেন ক্যানসারজয়ীরা। তাঁদের প্রতি মেগান এডওয়ার্ডের নির্দেশনা ছিল, নিজের জীবনের বিজয়ের কঠিন গল্পটাকে একটা বাগান হিসেবে ফুটিয়ে তোলার। নিজেকে একটা বীজ হিসেবে কল্পনা করতে বলেছিলেন তিনি। সেই থিম নিয়েই নিজেদের মনের ভাব ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলছিলেন এই লড়াকু মানুষেরা।
![]() |
| ব্রেস্ট ক্যানসার সারভাইভারস মিট ২০২৫-এ যোগব্যায়ামে অংশ নেন ক্যানসারজয়ীরা। ছবি: স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের সৌজন্যে |
ঘাড়, কোমর, হাঁটু বা কাঁধের ব্যথা বারবার ফিরে আসে কেন, সমাধান কী by ডা. সাকিব-আল-নাহিয়ান
ব্যথা হলে আমরা একটি ব্যথানাশক ওষুধ খাই, কিছুদিন বিশ্রাম নিই, ব্যথা কমে গেলে আবার আগের জীবনে ফিরে যাই।
কিন্তু কিছুদিন পর দেখা যায় একই ব্যথা আবার ফিরে এসেছে, কখনো আরও বেশি তীব্র হয়ে ফিরে আসে। প্রশ্ন হলো, কেন এমন হয়?
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা ব্যথার কারণ নয়, শুধু উপসর্গের চিকিৎসা করি। ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন (পুনর্বাসন) চিকিৎসার এমন একটি ধরন, যা শুধু ব্যথা কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যথার কারণ খুঁজে বের করে রোগীকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে।
ব্যথা সব সময় রোগ নয়, একটি সংকেত। ব্যথা অনেকটা অ্যালার্মের মতো। এটি শরীরের কোনো সমস্যার সতর্কবার্তা। কোমরের ব্যথা হতে পারে দুর্বল কোর মাংসপেশির কারণে।
ঘাড়ের ব্যথা হতে পারে দীর্ঘ সময় মুঠোফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে। হাঁটুর ব্যথা হতে পারে ওজন বৃদ্ধি বা ভুলভাবে হাঁটার কারণে। শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও মূল সমস্যা থেকে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মাংসপেশি ও হাড়-জোড়ের রোগ বর্তমানে কর্মক্ষমতা হ্রাসের অন্যতম কারণ।
পুনর্বাসন চিকিৎসা আসলে কী
অনেকেই মনে করেন রিহ্যাবিলিটেশন মানেই ফিজিওথেরাপি; বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। একজন ফিজিয়াট্রিস্ট বা ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ রোগীর পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করেন।
ব্যথার উৎস, মাংসপেশির শক্তি, অস্থিসন্ধির (জয়েন্ট) কার্যক্ষমতা, কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি, দৈনন্দিন অভ্যাস ও মানসিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।
চিকিৎসার মধ্যে থাকতে পারে—জীবনযাত্রার পরিবর্তন, নির্দিষ্ট ব্যায়াম, ভঙ্গি সংশোধন করা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ওষুধ, ইন্টারভেনশনাল পেইন ম্যানেজমেন্ট, ফিজিওথেরাপি অকুপেশনাল থেরাপি, পুনর্বাসন প্রশিক্ষণ।
শুধু ব্যথা-বেদনা নয়, স্ট্রোক, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি, ব্রেন ইনজুরি, সেরিব্রাল পালসি, পারকিনসনস ডিজিজ, অঙ্গচ্ছেদ, খেলাধুলাজনিত আঘাত, দীর্ঘমেয়াদি বাতরোগ, ক্যানসার–পরবর্তী দুর্বলতা, এমনকি হার্ট ও ফুসফুসের রোগের ক্ষেত্রেও রিহ্যাবিলিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চলাফেরা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী ওষুধ। সঠিকভাবে পরিচালিত শারীরিক কার্যক্রম ও ব্যায়াম নিজেই একটি শক্তিশালী চিকিৎসা। নিয়মিত ব্যায়াম শুধু ব্যথা কমায় না; এটি পেশি শক্তিশালী করে, জয়েন্ট সচল রাখে, হাড় মজবুত করে, হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখে ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে।
তবে সব ব্যায়াম সবার জন্য নয়। বয়স, রোগ এবং শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম নির্বাচন করা জরুরি।
* ডা. সাকিব-আল-নাহিয়ান, সহকারী অধ্যাপক, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা
| ঘাড় ও মেরুদণ্ডের জয়েন্টের একটি রোগ সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস। নানা কারণে এ সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। ছবি: প্রথম আলো |
Wednesday, August 19, 2026
ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায় by আলিয়া রিফাত
ঠোঁটে কোনো তেলগ্রন্থি নেই। ঠান্ডা বাতাসে, এমনকি ঘরের তাপমাত্রায়ও ঠোঁট পানিশূন্য হয়ে যায়। জিব দিয়ে ঠোঁট ভেজালে, পর্যাপ্ত পানি না খেলে এসব সমস্যা আরও বাড়ে। ভয়ের কিছু নেই।
সঠিকভাবে সঠিক উপকরণ ব্যবহার করে ঠোঁটের যত্ন নিতে হবে। মেনে চলতে হবে কিছু অভ্যাস। তাহলে শীতজুড়েই আপনার ঠোঁট থাকবে কোমল ও উজ্জ্বল।
মরা চামড়া এক্সফলিয়েট করুন
কোমল ঠোঁটের জন্য আপনাকে অবশ্যই নিয়মিত এক্সফলিয়েশন করতে হবে। এক্সফলিয়েটর হিসেবে ব্যবহার করতে হবে একটি ভালো মানের লিপ স্ক্রাব। ঘরোয়াভাবেই লিপ স্ক্রাব তৈরি করা যায়। মধু ও চিনি মিশিয়ে লিপ স্ক্রাব তৈরি করতে পারেন।
এ ক্ষেত্রে চিনি ও মধুর অনুপাত হতে হবে ১: ১। চাইলে অলিভ অয়েলও মেশাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে চিনির পরিমাণ দ্বিগুণ করতে হবে। এই লিপ স্ক্রাব সপ্তাহে অন্তত এক দিন ব্যবহার করা প্রয়োজন।
প্রতিবার এক মিনিট ধরে লিপ স্ক্রাব দিয়ে ঘষে ঘষে ঠোঁটের মরা চামড়া তুলে ফেলতে হবে। এ ছাড়া এক্সট্রা সফট টুথ ব্রাশ দিয়ে ঠোঁটের মরা চামড়া তুলে ফেলতে পারেন। প্রতিবার এক্সফলিয়েশনের পর ঠোঁটে লিপ বাম ব্যবহার করতে ভুলবেন না।
এতে ঠোঁট মোলায়েম হবে। নিয়মিত এক্সফলিয়েট করা ঠোঁটে ময়েশ্চারাইজার লাগালে ঠোঁট খুব ভালোভাবে সেটি শুষে নেবে। খুব ঘন ঘন এক্সফলিয়েট করবেন না। সপ্তাহে দুই দিন এক্সফলিয়েট করাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত এক্সফলিয়েশনের ফলে ঠোঁটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
নিয়মিত ঠোঁট ময়েশ্চারাইজ করুন
ঠোঁটে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং লিপ বাম ব্যবহার করতে হবে। শিয়া বাটার, নারকেল তেল কিংবা কোকো বাটার-সমৃদ্ধ লিপ বাম ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। এসব উপাদান প্রাকৃতিকভাবে ঠোঁট কোমল করে।
ভিটামিন ই এবং বিজওয়াক্স ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখে। ফেটে যাওয়া ঠোঁট সারিয়ে তুলতেও উপাদান দুটি কার্যকর। দিনের মধ্যে বেশ কয়েকবার ঠোঁটে লিপ বাম দিতে হবে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে। এটি ঠোঁটে পুষ্টি জোগাতে খুবই প্রয়োজন।
পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার খান
শীতকালেও আপনার পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেতে হবে। পাশাপাশি গ্রিন-টি খেতে পারেন। এতে আপনার শরীরের ও ঠোঁটের পানিশূন্যতা দূর হবে। শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে ঠোঁটে তার চিহ্ন ফুঁটে ওঠে।
চরম আবহাওয়া থেকে ঠোঁটকে রক্ষা করুন
বাইরে বের হওয়ার আগে এসপিএফ-যুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করুন। এতে আপনার ঠোঁট ঠান্ডা বাতাস ও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা পায়। বাইরের অতিরিক্ত ঠান্ডায় খসখসে হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে ঠোঁট স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে রাখতে পারেন।
বদভ্যাস এড়িয়ে চলুন
জিব দিয়ে ঠোঁট ভেজানো, দাঁত দিয়ে কামড়ানো, খুঁটতে থাকা, ঠোঁটের চামড়া তোলা—এসব বদভ্যাস বাদ দিতে হবে। এসব করলে ঠোঁট আরও শুকিয়ে যায়, ফাটা সহজে সেরে ওঠে না।
এসব নিয়ম মেনে চললে শীতকালেও আপনার ঠোঁট থাকবে কোমল ও মসৃণ।
সূত্র: উইকিহাউ
![]() |
| সঠিকভাবে যত্ন নিলে শীতেও ঠোঁট থাকবে কোমল, উজ্জ্বল। ছবি: পেক্সেলস |
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (1767)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




