Showing posts with label মধ্যপ্রাচ্য. Show all posts
Showing posts with label মধ্যপ্রাচ্য. Show all posts

Saturday, August 29, 2026

অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে মার্কিন ডলার বর্জনের ডাক দিলেন মোজতবা খামেনি

ইরানের অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রা সংক্রান্ত সংকট মোকাবিলায় দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো এবং লেনদেনে মার্কিন ডলারের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সরকার সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং অবরোধের মধ্যেও জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন তিনি।

সরকার সপ্তাহ প্রতিবছর পালিত হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী রাজাই ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ বাহোনারের স্মরণে। ১৯৮১ সালের ৩০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বোমা হামলায় তারা নিহত হন।

বার্তায় রাজাই ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, বাহোনার এবং বিভিন্ন সরকারের নিহত কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক ও মন্ত্রীদের স্মরণ করেন খামেনি। পাশাপাশি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি, যিনি প্রায় দুই মেয়াদ ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

সরকারের সক্রিয় কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে খামেনি বিশেষভাবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি শত্রুদের নানা বিধিনিষেধ ও ষড়যন্ত্র, নিষেধাজ্ঞা এবং অবরোধের মধ্যেও তৃতীয় দফার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মেরামত এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ প্রশংসনীয়।

গত ছয় মাসের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় ইরানের জনগণ তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে উল্লেখ করে খামেনি বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন শাখার সেবা পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় করণীয় তুলে ধরে তিনি মূল্যস্ফীতির মতো জীবনযাত্রাসংক্রান্ত সমস্যার পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো এবং অর্থনীতিতে ডলারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার ওপর জোর দেন।

খামেনি বলেন, শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধী অর্থনীতির নীতিগুলোকে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের মূল চাবিকাঠি হলো যতটা সম্ভব দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর নির্ভর করা। যেখানে পর্যাপ্ত দেশীয় উৎপাদন নেই, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী বিচক্ষণতার সঙ্গে আমদানি করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই খামেনি এই বার্তা দিলেন। এর আগে সোমবার ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করে।

খামেনি বলেন, যুদ্ধের সময় এবং পরবর্তী সময়ে শত্রুপক্ষের কর্মকাণ্ড দেশের ওপর প্রভাব ফেললেও অর্থনীতির বিভিন্ন উপাদান আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা, জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া এবং নতুন সক্ষমতাগুলো কাজে লাগানোর মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ইরানের শত্রুরা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ তাদের অনুসরণ করা এবং তাদের অযৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার মধ্যেই রয়েছে। কিন্তু ইসলামি বিপ্লবের আগেও বহু বছর ধরে ইরান ও এর সম্পদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ পর্যবেক্ষণ করলে এর বিপরীত চিত্রই পাওয়া যায়।

তরুণ মেধাবীদের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন খামেনি। তিনি বলেন, সময়মতো নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কাজে লাগানো এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতি ও দীর্ঘদিনের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা দেশের অগ্রগতিতে কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারে।

তিনি বলেন, জনগণের মনোবল ও জাতীয় উদ্দীপনা দুর্বল করে এমন যে কোনো হতাশাজনক বক্তব্য এবং কল্পিত বিভাজন, যেমন যুদ্ধ না আলোচনা, ঐকমত্য না উগ্রতা, সমঝোতা না যুদ্ধংদেহী মনোভাব; আগেও ইরানের জনগণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষতি করেছে। ভবিষ্যতেও এসবের একই ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

সামাজিক সংহতির ক্ষতি করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে খামেনি বলেন, জাতীয় ঐক্য রক্ষা করতে হবে। সরকারের সব কৌশল ও নীতিতে সংস্কৃতি, শিক্ষা ও নৈতিক বিকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, নার্স ও চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান খামেনি। সন্তানদের লালন-পালনের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক ভবিষ্যৎ গঠনে গৃহিণীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সূত্র : প্রেস টিভি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি : এএফপি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি : এএফপি

Friday, August 28, 2026

বিশ্বসেরা দেশের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে ইরানের পারমাণবিক শিল্প: তেহরান

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হামলার পরও ইরানের পারমাণবিক শিল্প বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সমপর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি। খবর আল জাজিরার।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দেওয়া এক বক্তব্যে মোহাম্মদ ইসলামি বলেন, আজ ইরানের পারমাণবিক শিল্প এ খাতের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং সমপর্যায়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ নয়, দেশটির শত্রুরা এমন অভিযোগ করে আসছে উল্লেখ করে ইসলামি বলেন, মূলত ইরানের অগ্রগতি থামিয়ে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, তারা নিজেরাও বিষয়টি জানে এবং তাদের কর্মকাণ্ডেও তা প্রমাণিত হয়েছে যে, তাদের প্রধান লক্ষ্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অগ্রগতি ঠেকানো।

ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যাতে পারমাণবিক কর্মসূচিকে অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করতে না পারে, তা ঠেকাতেই ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির পরিকল্পনা করছে না। যদিও সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুদ্ধের পর ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আগ্রহ আরও বাড়তে পারে।

সূত্র : আল জাজিরা

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করছেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও মোহাম্মদ ইসলামি। ছবি : এএফপি
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করছেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও মোহাম্মদ ইসলামি। ছবি : এএফপি

Thursday, August 27, 2026

পুরোনো জাহাজ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ালেন নেতানিয়াহু ও তার নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গভির

ইসরাইলের রাজনীতিতে পুরোনো এক অধ্যায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ডুবে যাওয়া ইরগুনের অস্ত্রবাহী জাহাজ আলতালেনা ঘিরে মুখোমুখি হয়েছেন দেশটির উগ্রপন্থি দুই নেতা—প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

ইরগুন ছিল ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ও ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের সময় সক্রিয় একটি ইহুদি আধাসামরিক সংগঠন। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে সংগঠনটির জড়িত থাকার ইতিহাস রয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়। ফিলিস্তিনিদের কাছে এ ঘটনা ‘নাকবা’ বা মহাবিপর্যয় হিসেবে পরিচিত।

সোমবার আলতালেনার ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার ঘোষণা দেন বেন-গভির। তার ঘোষণার পরই বিষয়টি রাজনৈতিক গুরুত্ব পায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে যান নেতানিয়াহুও। এরপর একই স্থান থেকে আলাদা ভিডিও বার্তা দেন দুই নেতা।

জাফার কাছে ইরগুনের হিব্রু নাম ‘এতজেল’-এর নামে প্রতিষ্ঠিত এতজেল জাদুঘরে গিয়ে নেতানিয়াহু আলতালেনার ইতিহাস তুলে ধরেন। তার দল লিকুদ নিজেদের ইরগুনের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে দাবি করে।

কী হয়েছিল আলতালেনার

১৯৪৮ সালের জুনে ফ্রান্স থেকে ইরগুনের জন্য অস্ত্র নিয়ে ইসরাইলে আসে আলতালেনা। কিন্তু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরগুন ও নবগঠিত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়নের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত জাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় ইসরাইলিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে ওই সময়ের ইরগুন কমান্ডার মেনাখেম বেগিনের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইসরাইলি বাহিনী গুলি চালালেও বেগিন তার যোদ্ধাদের পাল্টা গুলি না চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এরপর নেতানিয়াহু বর্তমান সময়ের রাজনীতির সঙ্গে ওই ঘটনার তুলনা করেন। নিজের ও লিকুদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও ইসরাইলিরা পরস্পরের ভাই।

নাকবার রক্তাক্ত ইতিহাস

ইরগুনের সঙ্গে ইসরাইলের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস যেমন জড়িয়ে আছে, তেমনি জড়িয়ে আছে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি ও সহিংসতার ইতিহাসও।

১৯৪৮ সালের এপ্রিলে জেরুজালেমের কাছে দেইর ইয়াসিন গ্রামে ইরগুন ও আরেক উগ্রপন্থি আধাসামরিক সংগঠন লেহির যোদ্ধারা হামলা চালান। নারী ও শিশুসহ শতাধিক গ্রামবাসী নিহত হন। এর আগে গ্রামটির সঙ্গে নবগঠিত ইসরাইলি বাহিনীর অনাক্রমণ চুক্তি হয়েছিল বলে ইতিহাসবিদেরা উল্লেখ করেছেন।

এর কয়েক সপ্তাহ পর জাফায় হামলা চালায় ইরগুন। শহরের প্রান্তে গোলাবর্ষণসহ ওই অভিযানের পর বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি বাসিন্দা জাফা ছেড়ে পালিয়ে যান।

ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগেও ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান চালিয়েছিল ইরগুন। ১৯৪৬ সালে জেরুজালেমের কিং ডেভিড হোটেলে বোমা হামলায় ৯০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

তবে ইসরাইলি সমাজবিজ্ঞানী ইয়েহুদা শেনহাভ-শাহরাবানি মনে করেন, নাকবার সব দায় শুধু ইরগুনের ওপর চাপানো ঠিক নয়। তার মতে, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার ঘটনায় লেবার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত জায়নবাদী আধাসামরিক সংগঠনগুলোরও প্রধান ভূমিকা ছিল।

নির্বাচনের আগে নতুন সমীকরণ

আলতালেনার ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়ার ঘটনা এমন সময়ে সামনে এল, যখন অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন নেতানিয়াহু। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তার দল লিকুদ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টির পেছনে রয়েছে।

এই নির্বাচনে কট্টর উগ্রপন্থি ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আর সেই ভোটারদের মধ্যে বেন-গভিরেরও শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যানিয়েল বার-তালের মতে, আলতালেনা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ মূলত নেতানিয়াহু ও বেন-গভিরের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেই। অধিকাংশ ইসরাইলি ভোটারের কাছে বিষয়টির তেমন গুরুত্ব নেই।

বার-তালের ভাষ্য, আলতালেনা আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়ে বেন-গভির নেতানিয়াহুকে কিছুটা চাপে ফেলেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে একই মঞ্চে ছবি তুলতে রাজি হননি—এ বিষয়টিও সামনে আনেন বেন-গভির।

বেন-গভির নিজেকে মেনাখেম বেগিনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, অন্যরা যখন তার সঙ্গে একই মঞ্চে ছবি তুলতে চায় না, তখন বেগিনের মতো তিনিও সেই পরিস্থিতির স্বাদ জানেন।

‘বেন-গভির নেতানিয়াহুকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন’

চ্যাথাম হাউসের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ইয়োসি মেকেলবার্গের মতে, ‘বেন-গভির নেতানিয়াহুর চেয়েও বেশি নেতানিয়াহু হয়ে উঠছেন।’

তার মতে, অন্য দেশের জনতুষ্টিবাদী নেতাদের মতো নেতানিয়াহু ও বেন-গভির—দুজনই নিজেদের সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত ও অন্যায়ের শিকার হিসেবে তুলে ধরতে চান। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের রাজনৈতিক সমর্থকদের কাছে আরো জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।

ইসরাইলে রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়ার সময়ে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কার কথা বলা মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রচারণার অংশ বলে মনে করেন মেকেলবার্গ। তবে এমন বক্তব্যকে তিনি বিপজ্জনক বলেও সতর্ক করেছেন।

১৯৯৫ সালে প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিন হত্যার আগে ইসরাইলে উসকানিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে নেতানিয়াহুর ভূমিকা ছিল—এমন দীর্ঘদিনের অভিযোগের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

মেকেলবার্গের মতে, নেতানিয়াহু সংকটের অনুভূতি জিইয়ে রাখতে এ ধরনের বক্তব্য ব্যবহার করেন। এরপর নিজেকেই সেই সংকট থেকে দেশকে উদ্ধারের নেতা হিসেবে তুলে ধরেন।

পুরোনো জাহাজ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ালেন নেতানিয়াহু ও তার নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গভির
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইতামার বেন গভির। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ

আল-জাজিরাঃ ইসরাইল কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র দখলে নিলেও ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স।

তিনি বলেন, ‘আমরা কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করছি না।’

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সন্ডার্স এ কথা বলেন। এ সময় কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র দখল নিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিভিন্ন দাবিরও জবাব দেন তিনি।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দাবি, কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি ইহুদি ন্যাশনাল ফান্ডের মালিকানাধীন। পরিকল্পিত একটি কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য জায়গাটি জেরুজালেম পৌরসভাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালের অক্টোবরে পাস হওয়া একটি আইনের কথাও উল্লেখ করেছে তারা। ওই আইনে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম সীমিত করার কথা বলা হয়।

ইউএনআরডব্লিউএ অবশ্য এসব দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির বক্তব্য, কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র জাতিসংঘের একটি স্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এটি সুরক্ষিত।

সন্ডার্স বলেন, ইউএনআরডব্লিউএর দায়িত্ব জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সরাসরি দিয়েছে। ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সংস্থাটির কাজ হলো ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের মানবিক ও জনসেবা দেওয়া।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি মানবিক সংস্থা। আমরা উন্নয়নমূলক কাজও করি। গুরুত্বপূর্ণ সেবা দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে।’

সন্ডার্স জানান, সাধারণ পরিষদ অন্য কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত অথবা ফিলিস্তিন প্রশ্নের একটি স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইউএনআরডব্লিউএ তার কাজ চালিয়ে যাবে।

ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের পর কর্মী ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে নিরাপত্তা মূল্যায়ন, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে জাতিসংঘের স্থাপনায় ইসরাইলি বাহিনীর বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেছেন সন্ডার্স। তার মতে, এ ধরনের বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেওয়া ঠিক হয়নি। এসব সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই করতে হবে।

সন্ডার্স বলেন, ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মুখোমুখি বসে এসব সমস্যা সমাধানের সময় অনেক আগেই এসেছে।

ইউএনআরডব্লিউএর ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করছি না।’ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ -:এআইডিএর প্রধান

গাজার ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর জোট অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজের (এআইডিএ) নির্বাহী পরিচালক অ্যাথেনা রেবার্ন।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) দেওয়া বক্তব্যে রেবার্ন বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, ইসরাইলের অবৈধ উপস্থিতির অবসান এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের দিকে অগ্রগতি—এই তিনটি বিষয় দিয়ে বোর্ড অব পিসের কার্যক্রম বিচার করা উচিত। এসব মৌলিক মানদণ্ডে বোর্ডটি ব্যর্থ।

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কাজ করা শতাধিক আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে এআইডিএ। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে রেবার্ন নিরাপত্তা পরিষদের সামনে গাজার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের অধীনে বোর্ড অব পিস গঠিত হয়েছে। এই প্রস্তাব সহিংসতা কমানোর সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু একই সময়ে এটি ইসরাইলের ‘অবৈধ উপস্থিতি’ আরো পাকাপোক্ত করার কাজ করেছে।

রেবার্নের অভিযোগ, গাজার ফিলিস্তিনিদের অধিকার এখন তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকারী পক্ষের ‘দূরপ্রসারী, খামখেয়ালি ও স্বেচ্ছাচারী’ শর্তের নিচে চাপা পড়ে গেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থা এমন একটি পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করে তুলেছে, যেখানে প্রায় ২০ লাখ মানুষ গাজায় আটকা পড়ে আছেন। তাদের বেঁচে থাকার জন্য মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অথচ সেই সহায়তার প্রবেশ ও বিতরণ নিয়ন্ত্রণ ও সীমিত করছে সেই রাষ্ট্র, যার নীতির কারণে এই সংকট ও ঘাটতির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

রেবার্নের ভাষায়, ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে অগ্রাধিকার না দিয়ে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে তাদের জীবনযাপন ক্রমেই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

নিরাপত্তা পরিষদে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গাজার বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হওয়াই যেকোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। সেই মানদণ্ডে বর্তমান বোর্ড অব পিসের কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়।

ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের আল-মাখা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনি সেনাবাহিনী একটি সূত্রের বরাতে দাবি করেছে যে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির আল-মাখা (মোখা) বন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে । খবর আলজাজিরার।

বুধবার হামলায় শহরের বন্দর এলাকায় অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র আল-বারাহ মোড়ের দিকে গিয়ে পড়ে।

হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। হুতিরাও এখন পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি।

এদিকে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলীয় হোদেইদা গভর্নরেটের আল-খাওখাহ এলাকায় অন্তত পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাইজের পূর্বে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ছোড়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মাখা ও এর বন্দর এলাকায় হুতিদের হামলা বেড়েছে। এর আগে আগস্টেও বন্দরনগরীটিতে হুতি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। 

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন > হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে আগুন ধরে গেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ তথ্য জানিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ইউকেএমটিও বলেছে, ট্যাংকারটিতে লাগা আগুন পরে নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। জাহাজটির সব ক্রু নিরাপদে আছেন এবং তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবেশের ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাবের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ট্যাংকারটিতে আঘাত করা বস্তুটি কী ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইউকেএমটিওও ঘটনাটিকে ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। এই সমুদ্রপথে চলাচলকারী একটি ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল -:ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান

ইসরাইল জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকে বিলুপ্ত করে ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যুটিই ‘মুছে ফেলতে’ চায় বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির প্রধান ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স।

তার মতে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের উপস্থিতি বিলীন করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ইউএনআরডব্লিউএর একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অভিযান চালানো হয়েছে।

আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সন্ডার্স এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের কাছে কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান শুধু একটি স্থাপনা দখলের ঘটনা নয়। এর পেছনে আরো বড় লক্ষ্য রয়েছে।

মঙ্গলবার কাফর আকাব এলাকায় অবস্থিত ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি দখলে নেয় ইসরাইলি বাহিনী। অভিযানে ইউএনআরডব্লিউএর কর্মীরা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। এ সময় ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া গুলিতে অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি আহত হন।

অভিযানে অংশ নেন ইসরাইলের কট্টরপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। সেখানে তিনি ঘোষণা দেন, ‘জেরুজালেম ও ইসরাইলে এই সংস্থার কোনো জায়গা নেই।’

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই অভিযান ও স্থাপনা খালি করার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি দাবি করেন, ইসরাইলি আইনের আওতায় এ পদক্ষেপ বৈধ। একই সঙ্গে ইউএনআরডব্লিউএর বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় হামাসকে সহায়তা করার অভিযোগ তোলেন তিনি।

তবে ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান সন্ডার্সের বক্তব্য, এর লক্ষ্য আরো গভীরে।

তার ভাষ্য, সংস্থাটিকে অর্থসংকটে ফেলে বিলুপ্ত করা গেলে ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যুটিও আর থাকবে না—এমনটাই আশা করছে ইসরাইল।

সন্ডার্স বলেন, ইউএনআরডব্লিউএর অর্থায়ন বন্ধ করে সংস্থাটিকে বিলুপ্ত করা হলে ফিলিস্তিনি শরণার্থী সমস্যাটি ‘শেষ হয়ে যাবে’। একই সঙ্গে শরণার্থীদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার, পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিপূরণের দাবিও আর থাকবে না।

কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সন্ডার্স। তিনি বলেন, কেন্দ্রটি স্থানীয় তরুণদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল।

তার ভাষ্য, কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৩৪০ তরুণ প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হবে। এই কর্মসূচি তরুণদের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়ার সুযোগ করে দিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সন্ডার্স বলেন, প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি হারানোর অর্থ শুধু একটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। এর সঙ্গে শত শত তরুণের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও বন্ধ হয়ে গেল।

ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল
ছবি: এপি

ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জাতিসংঘে কাতার

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে হবে বলে জানিয়েছে কাতার। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক অধিবেশনে এ কথা বলেছেন জাতিসংঘে কাতারের রাষ্ট্রদূত আলিয়া আহমেদ সাইফ আল-থানি। খবর আলজাজিরা।

গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে আয়োজিত ওই অধিবেশনে আরব গোষ্ঠীর পক্ষে বক্তব্য দেন আল-থানি। তিনি বলেন, ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান না ঘটালে ন্যায়সংগত, পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই শান্তি অর্জন করা সম্ভব নয়।

তিনি গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের চলমান ‘গুরুতর লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানান। আল-থানি বলেন, এর মধ্যে রয়েছে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র এবং ২০২৫ সালের ব্যাপক পরিকল্পনা—যুদ্ধ বন্ধ, জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনের জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি—উভয়কেই ইসরায়েলের প্রত্যাখ্যান।

আল-থানি বলেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে মৌলিকভাবে দুর্বল করা হচ্ছে। এ কারণে তিনি পরিকল্পনাটির পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনাকে স্বাগত জানান কাতারের এই রাষ্ট্রদূত।

ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জাতিসংঘে কাতার

Wednesday, August 26, 2026

ইসরাইলকে স্বীকৃতির শর্তে সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করবেন ট্রাম্প

সৌদি আরবের সঙ্গে প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি সহায়তা চুক্তি চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার জন্য একটি বড় শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সৌদি আরব যদি ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করে, তাহলে এই চুক্তি কোনোভাবেই আলোর মুখ দেখবে না।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তি গত জুলাই মাসে চূড়ান্ত হয়েছিল। এর আওতায় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তি রপ্তানির সুযোগ পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের এপি১০০০ মডেলের পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের এই প্রকল্পে লাভবান হবে কানাডাভিত্তিক ক্যামেকো ও ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েস্টিংহাউস’।

কংগ্রেসের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চুক্তিটি সোমবার মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং এটি বুধবার সংশ্লিষ্ট কমিটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য কংগ্রেসের হাতে ৯০টি অধিবেশন দিবস সময় থাকবে। এই মেয়াদের মধ্যে কংগ্রেস যদি কোনো আপত্তি বা প্রস্তাব পাস না করে, তবে চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে। তবে কংগ্রেস এটিকে প্রত্যাখ্যান করলে ট্রাম্প তার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। আর ট্রাম্পের সেই ভেটোকে বাতিল করতে হলে কংগ্রেসে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে।

মার্কিন প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট—সৌদি আরব মার্কিন মধ্যস্থতায় আয়োজিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দিয়ে ইসরাইলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলেই কেবল চুক্তিটি বাস্তবায়িত হবে। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেই ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ও সৌদির সঙ্গে এই চুক্তির চেষ্টা হয়েছিল এবং সেখানেও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্তটি ছিল। ২০২৩ সালে সৌদি-ইসরাইল কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হলেও, ওই বছরের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর সব হিসাব বদলে যায়। বর্তমানে রিয়াদ তাদের অবস্থানে অনড় থেকে স্পষ্ট জানিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি ‘অপরিবর্তনীয় ও স্পষ্ট পথ’ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরাইলকে কোনো কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে চুক্তি ঘিরে বিতর্কের ঝড়

এদিকে চুক্তিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা ও পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে কাজ করা বিশ্লেষকরা এই চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাদের অভিযোগ, ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মার্কিন পারমাণবিক চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ছিল, যা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু সৌদির সঙ্গে প্রস্তাবিত নতুন এই চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর সরাসরি কোনো কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়নি, যা ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দিতে পারে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আইন অনুযায়ী চুক্তিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও বিস্তার রোধের সকল শর্তই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু নন-প্রলিফারেশন পলিসি এডুকেশন সেন্টারের প্রধান হেনরি সোকোলস্কি মনে করেন, কংগ্রেসে এটি জমা দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প একটি বিপজ্জনক পথ তৈরি করেছেন। এর ফলে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়া বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছাড়াই কংগ্রেস থেকে চুক্তিটি পাস হয়ে যাওয়ার একটি আইনি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ইসরাইলকে স্বীকৃতির শর্তে সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করবেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

হরমুজ প্রণালিতে ছয় মাসে ২০ নাবিক ও বন্দরকর্মী নিহত

৬৮ জাহাজে হামলাঃ ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় অন্তত ৬৮টি নৌযানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ নাবিক ও বন্দরকর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৫ জন। একজন এখনো নিখোঁজ। ইরাকি সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৬ দিনে একটি করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রায় অর্ধেকই ছিল তেলবাহী জাহাজকে ঘিরে। কনটেইনারবাহী জাহাজ আক্রান্ত হয় ২০ শতাংশ ঘটনায় এবং বাল্ক ক্যারিয়ার ১৫ শতাংশ ঘটনায়।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বা ইউকেএমটিও ৬৮টি ঘটনার মধ্যে ৪৭টিকে হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ঘটনাগুলোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ। এসব দেশের পতাকাবাহী ১৩টি জাহাজ বিভিন্ন ঘটনায় জড়িয়েছে। পানামা ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ১০টি করে জাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইরানের পতাকাবাহী চারটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের বড় অংশ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক সংঘাত ও নৌ-হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ

হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স