Friday, September 26, 2025
নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের সহিংস আচরণ, সরকারের ব্যর্থতা ও নতুন সংঘাতের লক্ষণ by আসিফ বিন আলী
সাম্প্রতিকতম ঘটনা হলো আমেরিকার নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা। প্রথম আলোর খবর নিশ্চিত করে যে এই হামলার সঙ্গে প্রবাসী আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরাই জড়িত ছিলেন। আখতার হোসেনের সঙ্গে ছিলেন সফরসঙ্গী হিসেবে আসা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-সদস্যসচিব তাসনিম জারা।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা এ সময় তাসনিম জারাকে কটূক্তি বা অশ্লীল মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুলও এই অশোভন আচরণ থেকে নিরাপদে ছিলেন না। তাঁরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান।
এই ঘটনা মোটেই নতুন নয়। আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি, সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিমানবন্দরে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে একদল আওয়ামী লীগ সমর্থক হেনস্তা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে লন্ডনে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর হামলার চেষ্টা করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। ওই সময় হাইকমিশনের গাড়িতে মাহফুজ আছেন, এই সন্দেহে গাড়ির ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। কয়েকজন গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
প্রথম আলো লন্ডন হাইকমিশনের বরাতে প্রতিবেদন করে, যাতে আমরা জানতে পারি ওই গাড়ির ভেতরে মাহফুজ আলম ছিলেন না। আওয়ামী লীগের ওই নেতা-কর্মীরা যে মাহফুজ আলমকেই টার্গেট করেছিলেন, সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ খুব কমই আছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সফরেও মাহফুজ আলমকে হেনস্তার চেষ্টা করে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা। নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট ভবনের কাচের দরজা ভেঙে ফেলেন তাঁরা।
এই ঘটনাগুলো আমাদের কয়েকটি প্রশ্নের মুখোমুখি করে। প্রথম প্রশ্ন, এই ঘটনার দায় কাদের? উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা সংগঠিতভাবে জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ও বিশেষ করে যাঁরা সরকারে আছেন, তাঁদের টার্গেট করে আগ্রাসী বিক্ষোভ করেছেন, অনেক ক্ষেত্রেই সেটি সহিংস হয়েছে।
সরকারপন্থী কারও বিরুদ্ধে প্রবাসে বিক্ষোভ কি নতুন কিছু? যেমন ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে যখনই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিগত সফর করেছেন, প্রতিবারই তাঁর অবস্থানস্থল, এয়ারপোর্ট ও অনুষ্ঠানস্থলের সামনে বিভিন্ন ধরনের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বিএনপি মূলত এর আয়োজন করে।
বাংলাদেশি রাজনীতিতে প্রবাসে নেতাদের টার্গেট করে বিক্ষোভ বা লাঞ্ছনার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেটি আরও চরম পর্যায়ে চলে গেছে।
২০১৪, ২০১৮, ২০২৪–এর বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে অকেজো করে দিয়ে স্বৈরতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল আওয়ামী লীগ। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। যার প্রেক্ষিতে ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ। এর নেতৃত্বও পালিয়ে গিয়ে বিদেশে আশ্রয় নেয়।
এই বিষয়ে সন্দেহ নেই যে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফেরত আসতে মরিয়া। তবে তারা যে প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ প্রবাসে নিজেদের একত্রিত করে সরকার ও জুলাই আন্দোলনের জড়িত ব্যক্তিদের প্রতি আক্রমণাত্মক হয়ে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করে, তা বরং জনগণকে আরও বেশি ক্ষুব্ধ করে তোলে তাদের প্রতি। যদিও আওয়ামী লীগের বয়ানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’, কিন্তু সেই বয়ান দেশের মানুষের কাছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও অগ্রহণযোগ্য।
তাই আওয়ামী লীগ যদি মনে করে গায়ের জোরে ও সহিংসতা করে তারা রাজনীতিতে ফিরতে পারবে, তবে ভুল করবে। বিগত কয়েক মাসে তাদের প্রতি যদি কোনো সহানুভূতি তৈরি হয়েও থাকে, তবে এ ধরনের আচরণ মানুষের মধ্যে বিরক্তি ও ঘৃণার উদ্রেক করবে।
আওয়ামী লীগের বোঝা উচিত, জুলাই-আগস্ট মাসে যে হত্যাযজ্ঞের নেতৃত্ব তারা দিয়েছে, তার স্মৃতি মানুষের মন থেকে সহজে মুছে যাবে না। নিউইয়র্ক বা লন্ডনকে মঞ্চ বানিয়ে ক্ষমতা দেখিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বোঝানো হচ্ছে, তারা এখনো প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। কিন্তু প্রতীকী এই প্রদর্শন জনগণের কাছে উল্টো নেতিবাচক বার্তা দেয়।
এখন আরেকটি প্রশ্ন হচ্ছে, প্রবাসে আওয়ামী লীগের এসব সহিংস আচরণে সরকারের দায় কী? বিশেষ করে নিউইয়র্কে যে বিষয়টি ঘটেছে, তার দায় সরকার ও নিউইয়র্কের বাংলাদেশের কনস্যুলেট অফিস এড়াতে পারেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া ভিডিওগুলো স্পষ্টভাবে দেখায় যে সেখানে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী রাজনীতিবিদদের নিরাপত্তার অভাব ছিল। বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এমন ধারণা করা ভুল নয় যে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এমন কাজ করতে পারেন, তবে কেন সরকার ও নিউইয়র্ক কনস্যুলেট ঘটনার মোকাবিলার জন্য যথাসম্ভব পূর্বপরিকল্পনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলো?
অন্যদিকে এই হামলার ঘটনায় যে প্রতিক্রিয়া দেশের অভ্যন্তরে আমরা দেখছি, তা আশঙ্কাজনক। কেউ কেউ হামলাকারীদের ছবি শেয়ার করে তাদের পরিবারের ‘খোঁজ খবর’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
একজন লিখেছেন, নিউইয়র্কে সরকারি প্রোটোকলের দায়িত্বে থাকা কনস্যুলেট অফিসারদের একটি তালিকা চাই—প্রশ্ন উঠেছে, তাঁরা এই তালিকা নিয়ে কী করবেন; আইন কি নিজেদের হাতে নেবেন? তাঁদের রাগ ও ক্ষোভের উৎস আওয়ামী লীগের কর্মীদের অবিবেচক আচরণ।
সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা যায় পারস্পরিক উগ্রতা (রেসিপ্রোক্যাল র্যাডিকালাইজেশন), যেখানে এক পক্ষের সহিংসতা অপর পক্ষকে আরও উত্তেজিত করে তোলে। কিন্তু এই উত্তেজনা আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে? আমরা কি আরও সহিংসতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি?
যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন কিংবা সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা শুধু বাংলাদেশি রাজনীতির নোংরামির ধারাবাহিকতা নয়, বরং এগুলো দেখায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতা এখন আর অভ্যন্তরীণ পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই, সেটা ট্রান্স-ন্যাশনালাজাইড হয়েছে।
এই মুহূর্তে বিবদমান পক্ষগুলো এই সহিংসতার মাধ্যমে প্রতীকী ক্ষমতার প্রদর্শন করছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ দেখাতে চাচ্ছে যে প্রবাসের মাটিতে তারা রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েম রেখেছে। কিন্তু এতে লাভ কি আওয়ামী লীগের?
এতে করে তাদের প্রতি মানুষের ক্ষোভ ও রাগ আর বাড়বে। এ ধরনের আচরণ দেশে থাকা আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতা-কর্মীদের আরও বিপদের মুখে ঠেলে দেবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বও যাঁরা প্রবাসে থেকে এসব কাজের ইন্ধন দিচ্ছেন, তাঁদের বোঝা উচিত, সহিংসতা করে, মানুষকে হেনস্তা করে জনসমর্থন পাওয়া যায় না।
প্রবাসী সম্প্রদায় প্রায়ই নিজ দেশের রাজনীতির সম্প্রসারণ হিসেবে কাজ করে।সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, ডায়াসপোরা রাজনীতি ‘হোমল্যান্ড পলিটিকস’ ও ‘হোস্টল্যান্ড পলিটিকস’-এর মাঝামাঝি এক অস্বস্তিকর অবস্থানে থাকে। এই অস্বস্তিকর অবস্থানে যদি নেতারা সহিংসতার উসকানি দেন, তবে তার রাজনৈতিক ফলাফল ভালো হয় না।
বাস্তবতা হলো প্রবাসী রাজনৈতিক সহিংসতা শুধু বিদেশে অশান্তি তৈরি করবে না, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিকে আরও অস্থিতিশীল করবে। পাশাপাশি সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে নিরাপত্তাসংকট পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিদেশের মাটিতে দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা ব্যর্থতা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে আরও উসকে দেবে।
* আসিফ বিন আলী, ডক্টরাল ফেলো, জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| নিউইয়র্কের ঘটনায় জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ স্ট্রিট থেকে আটক করা হয় যুবলীগ কর্মী মিজানুর রহমানকে। ছবি: তোফাজ্জল হোসেন |
Saturday, June 14, 2025
ভাইয়ের ‘প্রতারণায়’ নিঃস্ব প্রবাসফেরত তমিজ
কিন্তু দেশে ফিরে দেখেন স্ত্রী, সন্তান, পৈতৃক ভিটেমাটি, জমিজমা, কোনো কিছুই আর তার নেই। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, তমিজ উদ্দিনের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে আপন ছোট ভাই আলাউদ্দিন দখল করে নিয়েছেন পৈতৃক সব সম্পত্তি। আর স্ত্রী-সন্তানরাও অন্যত্র চলে গিয়েছেন। শেষ বয়সে সব হারিয়ে এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই। এখানে সেখানে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সর্বশেষ এক বোনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি জানেন না সম্পত্তি আদৌ ফিরে পাবেন কি না? এ জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তমিজ উদ্দিন বলেন, এক ভারতীয় নাগরিক হত্যার ঘটনায় কুয়েত পুলিশ আমাকে জেলে নিয়ে যায়। কিন্তু আমি হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। পরে তারা আমাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। আমি ভেঙে পড়িনি, আপিল করেছি। পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। খালাসের জন্য কয়েক দফা আবেদন করি, অবশেষে ২৫ বছর সাজা ভোগ করার পর মুক্তি পাই।
তিনি বলেন, ভেবেছিলাম দেশে ফিরে অন্তত একটা ছায়া পাব। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করব। কিন্তু এসে দেখি, নিজের ভিটেতেই আমি অনাহূত। স্ত্রী-সন্তান মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমায়। আমার আপন ভাই সব সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে। আমি সরকারের কাছে প্রতিকার দাবি করছি।
তমিজ উদ্দিনের ভাই জহির উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও আলাউদ্দিন কোনো প্রকার মীমাংসায় রাজি হননি। উল্টো প্রবাসী তমিজ উদ্দিনকে হুমকি-ধমকিও দেওয়া হচ্ছে। এর আগে তমিজ উদ্দিনকে মাদক মামলায় জড়িয়ে দিয়েছিল। পরে আদালত তাকে মামলা থেকে খালাস দিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে মো. আলাউদ্দিন বলেন, আমি কারও সম্পত্তি দখল করিনি। পৈতৃক সম্পত্তি যতটুকু পেয়েছি, ততটুকই ভোগদখল করছি। তার (তমিজ উদ্দিন) সম্পত্তি কোথায় আছে, কার দখলে আছে জানি না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাশেম বাহাদুর কালবেলাকে বলেন, এমন অনেক প্রবাসী আছেন, যারা বছরের পর বছর কষ্ট করে দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠালেও দেশে ফিরে ভিটেমাটি খুঁজে পান না। সরকারের কাছে আবেদন, প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ান। নইলে একের পর এক তমিজ উদ্দিনরা নিঃস্ব হয়ে যাবে।
জানতে চাইলে দাগনভুঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স ম আজহারুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
![]() |
| ভুক্তভোগী প্রবাসফেরত তমিজ উদ্দিন। ছবি : কালবেলা |
Wednesday, May 14, 2025
কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নবদিগন্তের অন্বেষণ by রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
ঘর ছেড়ে আসা এই খেটে খাওয়া মানুষেরা মাতৃভূমির রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিবর্তনের স্বপ্নে স্বৈরাচারী শাসনের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে অকুণ্ঠচিত্তে কারাবাসের ঝুঁকিও নিয়েছিলেন। তাঁদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্সের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারই পতিত স্বৈরাচারের খাদের কিনারে রেখে যাওয়া অর্থনীতি ফেরানোর চালিকা শক্তি। রহিম ও তাঁর মতো কোটি বাংলাদেশি উৎসুক নয়নে তাকিয়ে আছেন, এই পরিবর্তনের ঢেউ তাঁদের প্রবাসজীবনের কঠিন বাস্তবতায় কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না।
বিংশ শতাব্দীর ডিজাইন দিয়ে একবিংশ শতাব্দীর আকাঙ্ক্ষা পূরণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রয়োজন কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আমূল পরিবর্তন। কীভাবে এই রাষ্ট্র তার অগণিত প্রবাসী নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রভাব জোরালোভাবে বিস্তার করবে? চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি ও ভারতের অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি ভূরাজনৈতিক খেলার মঞ্চে কীভাবে শান্তি, সমৃদ্ধির বঙ্গোপসাগর অঞ্চল গড়ে তুলবে? এমনই অনেক প্রশ্ন নিয়ে তর্ক–বিতর্ক জরুরি।
উপাত্তভিত্তিক পুনর্বিন্যাস
বাংলাদেশের কূটনৈতিক কৌশলগত পুনর্বিন্যাসে জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক স্থায়ী রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে স্বাধীন, আত্মনির্ভরশীল ও পারস্পরিক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি আবশ্যক। একইভাবে কূটনৈতিক অবস্থানের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণও জরুরি। কূটনৈতিক অবস্থানের গুরুত্ব নির্ধারণে অন্যান্য বিবেচনার সঙ্গে সুস্পষ্ট ও ন্যায়সংগত মূল্যায়ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, পাঁচটি প্রধান সূচকের ওপর ভিত্তি করে এই মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে। প্রথমত, রাজনৈতিক সম্পর্ক—মোট গুরুত্বের ৩০ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কৌশলগত তাৎপর্যের গভীরতা বিবেচিত হবে।
দ্বিতীয়ত, বাণিজ্য (২৫ শতাংশ)—বর্তমান অর্থনৈতিক লেনদেন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা। তৃতীয়ত, প্রবাসীর আকার (২০ শতাংশ)—বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের সংখ্যা ও গুরুত্ব। চতুর্থত, নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্টতা (১৫ শতাংশ)—সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি এবং সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা। এবং পঞ্চমত, বহুপক্ষীয় সম্পৃক্ততা (১০ শতাংশ)—আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ফোরামে সক্রিয়তার গুরুত্ব।
এই পাঁচ সূচকের ওপর ভিত্তি করে বর্তমানের ও সম্ভাব্য কূটনৈতিক মিশন শূন্য থেকে ১–এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট মান লাভ করবে। যেসব অবস্থানের মান শূন্য দশমিক ৭ বা তার বেশি হবে, ওই স্থান পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস স্থাপনের জন্য বিবেচিত হবে। শূন্য দশমিক ৪ থেকে শূন্য দশমিক ৭ মানযুক্ত স্থানে কনস্যুলেট স্থাপন যুক্তিযুক্ত এবং শূন্য দশমিক ৪-এর চেয়ে কম মানযুক্ত স্থানে নিকটবর্তী দূতাবাস থেকে অনাবাসী রাষ্ট্রদূত কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
এ ধরনের নৈর্ব্যক্তিক প্রক্রিয়া জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কূটনৈতিক মিশন স্থাপন, সম্প্রসারণ ও পুনর্গঠনে বস্তুনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
কৌশলগত পুনর্গঠন
বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে তীব্র উত্তেজনায় লিপ্ত থাকলেও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। চীন বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীন বাংলাদেশে অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন অব্যাহত রেখেছে। বৈশ্বিক শক্তিদ্বয়ের পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েন এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট ও জাতিগত সংঘাতের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে কার্যকরভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে।
প্রায় ৮০ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের উন্নত পরিষেবা প্রদানের জন্য রিয়াদ, দুবাই, মাসকাট ও দোহার কূটনৈতিক কার্যক্রমকে জরুরি ভিত্তিতে সম্প্রসারণ অপরিহার্য। একই সঙ্গে ওই উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কূটনৈতিক পোস্টগুলোকে একত্র করে কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে। দুর্নীতিগ্রস্ত অভিবাসনপ্রক্রিয়া, ভিসার নামে হয়রানি, ভুল চাকরি ও বেতনের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্ভোগের সূত্রপাত। এই সমস্যার সমাধান ঢাকায় শুরু হওয়া উচিত। অ্যাপভিত্তিক কনস্যুলার সেবা সময়ের দাবি।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক দৃশ্যপটও বিবেচনায় আনতে হবে। বর্তমানে বার্ষিক প্রায় ১২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে বসবাস করেন। মনে রাখা জরুরি, ভবিষ্যতের শ্রমবাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা বিদ্যমান বিধায় ১৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঊর্ধ্বে বাণিজ্যে সক্ষমতায় পৌঁছাতে হবে।
ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার জন্য সুচিন্তিত নীতির প্রয়োজন। যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তর ব্রাসেলসের এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র তথা বার্লিন মিশন সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। অন্যান্য মিশন একত্র করা যেতে পারে। ডি-৮–ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে কার্যকর করতে তুরস্কের দূতাবাসকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সব প্রতিবেশীই সর্বাধিক গুরুত্ব দাবি করে। দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশীর পাশাপাশি আসিয়ানও প্রতিবেশী। ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ উন্মোচনে আসিয়ান সদস্যপদ প্রাপ্তি অতীব জরুরি।
বাংলাদেশ ১৭ কোটি ভোক্তার বাজার। আসিয়ান তিন ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ব্লক। বিপুল পরিমাণে অভিবাসী মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে কর্মরত। আসিয়ান ও পূর্ব এশিয়ায় বয়সী মানুষ দ্রুতগতিতে বাড়ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সাড়ে ৪ কোটির বেশি ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী। সদস্যপদ উভয়ের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মিশনগুলোর জন্য আলাদা কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।
আফ্রিকায় গুরুত্ব বিবেচনা করে পুনর্গঠন করা যেতে পারে। আফ্রিকান ইউনিয়ন হাব, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য প্রবেশদ্বার এবং ফ্রাঙ্কোফোন আফ্রিকার কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের দিকেই মনোযোগ দেওয়া যায়।
সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো
প্রয়োজন সমন্বিত কাঠামো, ‘সমগ্র সরকার’ভিত্তিক কৌশল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাফল্য অন্য মন্ত্রণালয়েরও ওপর নির্ভরশীল। ‘এক দেশ, এক কৌশল’ নীতির ভিত্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একা নয়; বরং অর্থ, বাণিজ্য, প্রবাসীকল্যাণ, প্রতিরক্ষা, শিল্প, পরিকল্পনা, কৃষি, স্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নিয়ে সমন্বিত কূটনৈতিক কাঠামো জরুরি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে গঠিত ‘জাতীয় কূটনৈতিক সমন্বয় পরিষদ’-এর মাসিক সভায় অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং আন্তমন্ত্রণালয় দ্বন্দ্বের সমাধান করা হবে।
সমন্বিত কৌশল বাস্তবায়ন–সংক্রান্ত বিধানাবলি প্রণয়ন ছাড়াও নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রাতিষ্ঠানিক সহমর্মিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে ঢাকা ও মিশনভিত্তিক সীমিত কূটনৈতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান উইংগুলোর ব্যাপক পুনর্গঠন এবং শক্তিশালী ‘কর্মদক্ষতা ব্যবস্থাপনা কাঠামো’ প্রবর্তন জরুরি। প্রতি ছয় মাস অন্তর প্রধান সূচকগুলোর ভিত্তিতে স্কোরিং অনুযায়ী সব কার্যক্রমের মূল্যায়ন হতে পারে। মূল্যায়নের আলোকে ‘ট্যালেন্ট অপটিমাইজেশন’–পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। কৌশলগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন উইং, যেমন ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যানালাইসিস ইউনিট’ প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।
কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য ব্যাপক কূটনৈতিক গতি বৃদ্ধির প্রয়োজন। একই কারণে মিশনগুলোর বাজেট বরাদ্দকাঠামোয় পরিবর্তন আনা জরুরি। কৌশলগত মিশনে জনবল ও ব্যয় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। দূতাবাস রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। মিশন পর্যায়ে রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে ‘সমন্বিত কান্ট্রি টিম’ গঠনের পাশাপাশি আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের জন্য ‘ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড’ চালু করা যেতে পারে। কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর, সমন্বিত ও ভবিষ্যৎমুখী করতে গুণগত সংস্কার আবশ্যক।
* রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
![]() |
| প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্সই দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি। প্রতীকী ছবি: এআই/প্রথম আলো |
Sunday, January 19, 2025
মিয়ানমারে আটক ১৮ বাংলাদেশির ফেরার আকুতি by মিজানুর রহমান
সেগুনবাগিচার এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে গতকাল বলেন- রিপোর্ট ভয়াবহ। বাংলাদেশি দালালদের মাধ্যমে প্রলুব্ধ হয়ে উন্নত জীবনের আশায় তারা আজ কঠিন পথে পড়েছেন। তাদের হয়তো উদ্ধার করা যাবে কিন্তু জীবন-ঝুঁকিতে পড়া এই পথসহ দুনিয়ার দেশে দেশে অবৈধ মানব পাচারের রুটগুলো বন্ধ করতে এখনই আন্তঃসরকার উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। ঢাকায় প্রাপ্ত রিপোর্ট মতে, হাত বদলের পর স্ক্যাম সেন্টারগুলোতে জিম্মিদের ওপর চলে বর্বর নির্যাতন। বাংলাদেশিদের অবস্থাও তাই। প্রাণে বাঁচতে তারা বিভিন্ন মারফতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে উদ্ধারের আকুতি জানাচ্ছেন। কিন্তু দুর্গম এবং বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় স্ক্যাম সেন্টারের রিয়েল টাইম পিকচার পাচ্ছে না সরকার। তাদের উদ্ধারেরও কূলকিনারা নেই। এ বিষয়ে মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মনোয়ার হোসেন সম্প্রতি ঢাকায় মানবজমিনকে বলেন, আমরা আমাদের মতো করে চেষ্টা চালাচ্ছি। মিয়ানমার সরকারকে বিষয়টি দফায় দফায় অবহিত করেছি। থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী ওই এলাকাটা কারেন বিদ্রোহীদের দখলে। স্ক্যাম সেন্টারগুলোর নিয়ন্ত্রণও তাদেরই হাতে। তাই এটা একটি জটিল প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে গেছে।
থাইল্যান্ডসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার তাদের উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব পূর্ব এশিয়া ড. নজরুল ইসলামও প্রায় অভিন্ন অভিমত দেন। অবশ্য অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, এই ঘটনায় সবার আগে থাইল্যান্ডের সঙ্গে বোঝাপড়া জরুরি। কারণ তাদের অপরাধী চক্র বিদেশিদের চাকরির অফার করে প্রথমে থাইল্যান্ডে নেয়। সেখান থেকে মিয়ানমারের গহীন অরণ্যে পাচার করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। এটাকে ‘মানুষ বিক্রি’ আখ্যা দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এটা নিশ্চিতভাবে থাইল্যন্ডের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের নলেজের বাইরে নয়। হয় তারা বিষয়টি ওভার লুক করে বখরার বিনিময়ে, অন্যথায় তারাই এই চক্রের পৃষ্ঠপোষক। সেগুনবাগিচার দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, থাইল্যান্ড সীমান্তের গহীন অরণ্যে মিয়ানমার অংশে থাকা স্ক্যাম সেন্টারে জিম্মি বাংলাদেশিদের উদ্ধারকল্পে দফায় দফায় বৈঠক ও চিঠি চালাচালি হচ্ছে। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি এখনো নেই। সূত্রমতে, ওই স্ক্যাম সেন্টারগুলোর নিয়ন্ত্রক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকেন্দ্রিক একটি আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্র। ওই অঞ্চলে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সক্রিয় অবস্থানের সুযোগ নিয়ে তারা এটি গড়ে তুলেছে। মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় অনেকগুলো স্ক্যাম সেন্টারের অস্তিত্ব রয়েছে বলে রিপোর্ট পেয়েছে ঢাকা। রিপোর্ট মতে, অপরাধী চক্রটি বিভিন্ন দেশে মোটামুটি কম্পিউটার জানা লোকদের টার্গেট করে। তাদের বড় মাইনের চাকরি অফার করে নিটকজনকে দিয়ে। বিশ্বাস জন্মানোর জন্য তারা এমনটি করে। এরমধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি তাদের আকর্ষণ বা টার্গেট সবচেয়ে বেশি। যারা তাদের ফাঁদে পা দেয় তাদের প্রথমে ব্যাংকক নেয়া হয়। চূড়ান্ত গন্তব্য মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্তের মিয়ানমার অংশে অবস্থিত স্ক্যাম সেন্টারগুলো।
সেখানে তাদের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট হয় স্ক্যামিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অনলাইনে অর্থ বিনিয়োগের জন্য পরিচিতদের প্রলুব্ধ করা। অনলাইনভিত্তিক ওই অপকর্মে অনেকে মজাও পেয়ে যায়। কিছুদিন তাদের ভালো বেতন দেয়া হয়। বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকের এন্ট্রিলেভেলে চাকরির সঙ্গে যেভাবে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেয়া হয় সেভাবে তাদেরও একটি লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়। সেটি অর্জনে ব্যর্থ হলেই নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে যা অবর্ণনীয়। তাদের জিম্মি করে স্বজনদের কাছ থেকেও অর্থ নেয়ার রেকর্ড রয়েছে। সূত্র বলছে, বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু কোনো অ্যাকশনে যেতে অপরাগতা প্রকাশ করেছে। চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে সংশ্লিষ্ট ওই এলাকা বিদ্রোহীদের দখলে। তাই মিয়ানমার কারও বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। ঢাকা রিপোর্ট পেয়েছে, জিম্মি বাংলাদেশিরা যে স্ক্যাম সেন্টারগুলোতে আটকে আছেন তা থাইল্যান্ড সীমান্তের শো কেকো শহরে অবস্থিত। শহরটি কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন নামের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর দখলে। যাদের নিজস্ব কারেন ‘স্টেট বর্ডার গার্ড ফোর্স’ নামে একটি বাহিনী রয়েছে। ওই শহরে তাদের সদর দপ্তর। আন্তঃসীমান্ত অপরাধীদের কাছে বখরা আদায় তাদের আয়ের অন্যতম উৎস। আন্তর্জাতিক অপরাধ বিশেষজ্ঞদের বিবেচনায় এই অঞ্চল বহুমুখী অপরাধের ‘হাব’ হিসেবে কুখ্যাত।
পালিয়ে প্রাণে বাঁচা এক বাংলাদেশির বর্ণনা: সরকারি সূত্র বলছে, ওই স্ক্যাম সেন্টার থেকে বেশ ক’জন পালিয়ে কোনোমতে প্রাণে বাঁচতে পেরেছেন। তাদেরই একজন বেলাবো, নরসিংদীর মো. জুনায়েদ হোসেন। তার ভাষ্য মতে, ‘তিনিসহ পাঁচজন ফেনী জেলার ইফতেখারুল আলম রনি, (পাসর্পোট নং-অ ০৪৭৬১৭১৬, ঠিকানা: ফাজিলপুর, ওয়ার্ড নং-০৭, ফেনী সদর, ফাজিলপুর-৩৯০১, ফেনী) এর প্ররোচনায় বিগত ১২ই আগস্ট ২০২৪ তারিখে দুবাই থেকে থাইল্যান্ড যান। এরপর তাদের একজনকে থাইল্যান্ডের মাইসর্ট শহরে মাসিক ১২০০ ডলার বেতনে কম্পিউটার অপারেটর পদের চাকরির অফার দেয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের থাই-মিয়ানমার সীমান্তের দুই নদী পার করে মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত স্ক্যাম সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কম্পিউটার সংক্রান্ত প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তাদের মাসে ১৫০০০ ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। ইলেকট্রিক শক ও হ্যান্ডকাফ পরিয়ে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন করা হতো। দেশে ফিরে আসার কথা বললে উপর্যুপরি নির্যাতন চালানো হতো। ভুক্তভোগী সুযোগ বুঝে মুই নদী পার হয়ে থাইল্যান্ড সীমান্তে ফিরে আসেন। এরপর থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং এনজিও’র সহায়তায় দেশে ফিরেন। তার বর্ণনায় বোঝা যায়, স্ক্যাম সেন্টারটি মিয়ানমারের ‘ডেমোক্রেটিক কারেন বোদ্ধিস্ট আর্মি’ নামের প্রতিষ্ঠিত একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্ক্যাম সেন্টারে তাদের সশস্ত্র প্রহরা রয়েছে এবং স্ক্যাম সেন্টারের অবস্থান কিছুদিন পরপরই পরিবর্তন করা হয়। স্ক্যাম সেন্টারের টেকনিক্যাল বিষয়গুলো চাইনিজ নাগরিকরা নিয়ন্ত্রণ করে।
ইয়াঙ্গুন মিশনের রিপোর্ট কি বলছে: ঢাকায় পাঠানো মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন মিশনের রিপোর্টে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সেইসঙ্গে মিশনের পদক্ষেপের খানিকটাও উল্লেখ ছিল। সেই রিপোর্ট মতে, আগস্ট-২০২৪ তারিখে ১৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকের একটি তালিকা পায় বাংলাদেশ মিশন। যারা স্ক্যাম সেন্টারে আটক রয়েছেন। ১৫ জনের মধ্যে ৪ জনের দুবাইয়ে অবস্থানের ভিসা ছিল। বাকিরা বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণ ভিসায় দুবাই যান। সেখান থেকে ভ্রমণ ভিসা জোগাড় করে থাইল্যান্ড পৌঁছান। ডেমোক্রেটিক কারেন বোদ্ধিস্ট আর্মি এবং থাইল্যান্ডের বর্ডার গার্ড সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করায় ভিসা ছাড়া লোকজন মিয়ানমারে প্রবেশ করতে পারে। ফলে মিয়ানমার ইমিগ্রেশনের কাছে বাংলাদেশি কতোজন প্রবেশ করলো সে তথ্য থাকে না। উদ্ভূত জটিল পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং বৃটেনভিত্তিক ফরেন ফান্ডেড এনজিও’র মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে ঢাকাকে জানিয়েছে বাংলাদেশের ইয়াঙ্গুন মিশন।

Wednesday, December 11, 2024
বিদেশে পাসপোর্টের জন্য হাহাকার by মিজানুর রহমান
মালয়েশিয়ায় এমআরপি পাসপোর্ট সেবা বন্ধ করায় রেমিট্যান্স শাটডাউনের ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছেন প্রবাসীরা। তারা তাদের ভোগান্তির বার্তা পাঠাচ্ছেন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। স্বৈরশাসনের নিষ্ঠুর হয়রানি আর স্ব স্ব দেশের কঠোর বিধি নিষেধের ঝুঁকি সত্ত্বেও জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিঃশর্তভাবে সাপোর্ট দেয়া প্রবাসীদের বিষয়ে আগাগোড়ায় সংবেদনশীল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু কারিগরি কারণে তাদের পাসপোর্ট সমস্যার চটজলদি সমাধান অসম্ভব। একদিকে প্রবাসীদের কান্না অন্যদিকে তাদের প্রতি দায় থেকে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংকটটির একটি অন্তর্বর্তী সমাধান বের করতে গতকাল জরুরি বৈঠক বসেছিলেন পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩ উপদেষ্টা। সঙ্গে ছিলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ, বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের ৯ কর্মকর্তা। সেগুনবাগিচায় অনুষ্ঠিত ওয়ে-আউট খোঁজার ওই জরুরি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুলের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পাসপোর্ট অধিদপ্তর জরুরি ভিত্তিতে সাড়ে ৩ লাখ পাসপোর্ট বুক সংগ্রহের কথা জানিয়েছে। সেইসঙ্গে বলা হয়েছে, প্যান্ডিং ১ লাখ ৯০ হাজার পাসপোর্টের একটি বড় অংশ ১৫ই ডিসেম্বরের মধ্য বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। বাকিটা আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছানো হবে বলে জানানো হয়।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্তাব্যক্তিরা ৩ উপদেষ্টাকে এই বলে আশ্বস্ত করেছেন, ই-পাসপোর্টের পাশাপাশি মেশিন-রিডেবল পাসপোর্ট সেবা চালু রাখতে এমআরপি বই এবং লেমিনেশন ফয়েল আমদানিতে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বৃটেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এইচআইডি সিআইডি লিমিটেড থেকে এমআরপি বই এবং লেমিনেশন ফয়েল আমদানি করা হচ্ছে। আগেও এই প্রতিষ্ঠান থেকে একই জিনিস আমদানি করেছিল সরকার। এ দফায় সর্বমোট ১৫ লাখ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) বই এবং ১৫ লাখ লেমিনেশন ফয়েল আমদানি করা যাচ্ছে। বৈঠকে জানানো হয়, বিদেশে বাংলাদেশের ৮০টি মিশন রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি মিশনে ই-পাসপোর্ট চালু আছে। বাকি ৩৫টি মিশনে ই-পাসপোর্ট চালু করা হবে পর্যায়ক্রমে। ই-পাসপোর্ট চালু না হওয়া পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন চাহিদা পূরণে ২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত এমআরপি চালু থাকবে। নতুন বুক সরবরাহ না হওয়া পর্যন্ত সংকট থাকবে বলে আশঙ্কা করা হয়। স্মরণ করা যায়, ১৫ লাখ এমআরপি বই এবং ২০ লাখ লেমিনেশন ফয়েল আমদানির জন্য বিগত সরকারের আমলে উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকা হয়। কিন্তু তখন সরকার যে গুণের ও মানের এমআরপি বই ও ফয়েল চেয়েছিল, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের দেয়া স্পেসিফিকেশন তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না থাকায় সেই দরপত্র কার্যক্রম বাতিল করা হয়। সংকটটা এ কারণে ঘনীভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আবেদনের ৬ মাসেও পাসপোর্ট পাচ্ছেন না মালয়েশিয়ান প্রবাসীরা: ঢাকা রিপোর্ট পেয়েছে, আবেদনের ৬ মাসেও পাসপোর্ট না পেয়ে ক্ষোভ বাড়ছে মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে। দেশটির বাংলাদেশ মিশনে দীর্ঘদিন ধরে এমআরপি পাসপোর্ট সেবা বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। পাসপোর্ট না থাকায় অবৈধ হয়ে পড়েছেন অনেকে। করতে পারছেন না ওয়ার্ক ভিসা নবায়ন। পাসপোর্টের জন্য কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত প্রবাসী।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় এমআরপি পাসপোর্ট নবায়নের জন্য ২০ হাজারের বেশি প্রবাসী আবেদন করে রেখেছেন। অবশ্য ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর জানিয়েছে, এমআরপি আবেদন প্রিন্টিংয়ে অপেক্ষমাণ থাকা আবেদনকারীরা ফি জমা দিয়ে আবেদন করলে দ্রুত ই-পাসপোর্ট দেয়া হবে। অন্যদিকে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন ক’দিন আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এমআরপির বুকলেট, লেমিনেশন ফয়েল পেপার ঘাটতি ও এমআরপির প্রিন্টিং মেশিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট প্রিন্ট হতে দেরি হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো প্রবাসী। পাসপোর্ট না থাকায় কেউ কেউ এরই মধ্যে অবৈধ হয়ে পড়েছেন, অনেকে রয়েছেন অবৈধ হওয়ার ঝুঁকিতে। এমন অবস্থায় নতুন করে ই-পাসপোর্ট নিতে প্রতিদিনই আবেদন করছেন অনেকে। হাইকমিশন নিজে থেকে অন্তর্বর্তীকালীন একটি সমাধানও বের করেছে। বলা হয়েছে, এমআরপির জন্য যারা আগে আবেদন করেছেন তাদের সেই ব্যাংক স্ল্লিপ কপির সঙ্গে অতিরিক্ত ৫১ রিঙ্গিত জমা দিলে এমআরপির জন্য অপেক্ষায় না রেখে ই-পাসপোর্ট দিয়ে দেয়া হবে।

Thursday, November 28, 2024
মালয়েশিয়ায় নার্স সংকট: যেভাবে খুলতে পারে রেমিটেন্সের নতুন দুয়ার by আরিফুল ইসলাম
দেশটির ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অফ নার্সেস (আইসিএন) বলছে, সিভিল সার্ভিস রিমুনারেশন সিস্টেমের অধীনে একটি নতুন নির্দেশনার এসেছে, যেখানে ওয়ার্ড নার্সদের সপ্তাহে ৪২ ঘণ্টার পরিবর্তে ৪৫ ঘণ্টা কাজ করতে বলা হয়েছে। দেশটিতে এই নিয়ম ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
এই পদক্ষেপটিকে একটি স্বল্পমেয়াদি দ্রুত সমাধান হলেও আইসিএন-এর সিইও হাওয়ার্ড ক্যাটন বলছেন যে, পদক্ষেপটি নার্সদের শারীরিক এবং মানসিকভাবে আরও চাপ বাড়িয়ে দেবে, যা আরও বেশি নার্স হারানোর কারণ হতে পারে।
এদিকে দেশটির ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানিয়েছে, মালয়েশিয়া গুরুতর নার্স সংকটের মুখোমুখি, যা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আরও প্রকট করে তুলছে। এর কারণ হিসেবে জনপ্রিয় এ গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার বৃদ্ধি এবং ব্রেন ড্রেন সমস্যা।
ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে আরো জানিয়েছে, গত মে মাসে, দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রী জুলকেফলি আহমাদ বলেছিলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে নার্সিং কর্মী ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৬০% ছাড়িয়ে যাবে।
কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় নার্স সংকটের এ সুযোগ বাংলাদেশ নিতে পারে কি না? এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিলো মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার, মো. শামীম আহসান-এর কাছে, তিনি এ সম্পর্কে দৈনিক মানবজমিনের মালয়েশিয়া করেসপন্ডেন্ট আরিফুল ইসলামকে বলেন;
"নীতিগতভাবে, আমরা মালয়েশিয়ায় দক্ষ কর্মী ও প্রফেশনালদের নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেই। মানব সম্পদের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমাদের শুধু শ্রমিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরিবর্তনের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে নার্সিং একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও, কেয়ার-গিভারের চাহিদা সম্পর্কে আমরা শুনেছি। অন্যান্য খাতগুলোর পাশাপাশি আমরা এই খাতগুলো নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালাচ্ছি। তবে, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই খাতগুলোতে পেশাদারিত্ব সম্পর্কে আমাদের আরো আত্মবিশ্বাসী হতে হবে, কারণ আমাদের দেশের অধিকাংশ নার্সদের রয়েছে পেশাদারিত্বের অভাব, ইংরেজিতে দুর্বলতা, সাথে লোকাল ভাষার সাথে সম্পূর্ণ অপরিচিতি। যার ফলে, কিছু নিয়োগদাতা অন্য দেশ থেকে কর্মী সংগ্রহ করেছে।"
এদিকে মালয়েশিয়াতে ঘুরতে আসা অনেক ইউরোপীয় বিদেশিরা বলেছেন যে, তাদের দেশে নার্সরা তাদের রোগীদের ভাই, বোন ও মায়ের মতো যত্ন করেন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন। তবে আমাদের নার্সদের এখনও এই ধরনের নোংরা কাজ, মানবিকতা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি, পেশাদার মানসিকতা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশি একাডেমিসিয়ান, মেডিকেল মাইক্রোবায়োলোজিস্ট, মেডিকেল সায়েন্টিস্ট এবং যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশপিডিয়া কর্তৃক প্রকাশিত ‘সাকসেসফুল পিপল্ ইন মালয়েশিয়া’ নামক বইয়ে স্থান পাওয়া বাংলাদেশি, বর্তমানে মালয়েশিয়ার পারদানা ইউনিভার্সিটি গ্রাজুয়েট স্কুল অফ মেডিসিন-এর মেডিকেল সায়েন্টিস্ট ড. নাজমুল হাসান মাজিজ এ সম্পর্কে দৈনিক মানবজমিনকে জানিয়েছেন-
“মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি নতুন পলিসি করে, সার্কুলার দিয়ে বিদেশ থেকে নার্স নেওয়ার ঘোষণা দেয় তখন সরকারিভাবে বাংলাদেশ থেকে নার্স নিয়ে আসা সম্ভব। যদিও প্রাইভেট সেক্টরে এখনো নার্স নিয়ে আসা সম্ভব তবে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের ভিসা জটিলতা এবং আমাদের দেশের নার্সদের ভাষা জটিলতার কারণে তা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।”
স্বাস্থ্যসেবায় নিরাপত্তার বিষয়টিকে খুব সতর্কতার সাথে গুরুত্ব দিতে হয়। এখানে ভুলের পরিণতি খুব ভয়াবহ। নার্সরা ক্লান্ত হলে সেবার মান ও কার্যকারিতা কমে যায়। যদি একজন নার্স ভুল করে, তবে তার পরিণতি ভুল নম্বরে ডায়াল করার মতো না যে, কেটে দিয়ে সঠিক নাম্বারে ডায়াল করলাম। এটা জীবন সম্পর্কিত বিষয়, যদি তা পেশাদারিত্বের সাথে নিতে পারা যায়, তবেই না মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি নার্স নিয়ে আসার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ডা. শংকর চন্দ্র পোদ্দারের সাথে। যিনি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, “মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশি নার্স নিয়ে আসার ব্যাপারে আমি প্রথম কাজ শুরু করি কিন্তু আমাদের দেশের নার্সদের রয়েছে পেশাদারিত্বের অভাব, ইংরেজিতে দুর্বলতা এবং লোকাল (মালয়) ভাষা না শেখার প্রবণতা।
ভাষাগত জ্ঞান না থাকার ফলে ইমার্জেন্সি রোগীর চিকিৎসায় গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। রোগীর অবস্থা সঠিকভাবে চিকিৎসককে জানানো কঠিন হয়ে যায়, যা সঠিক চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটায়। ভুল বোঝাবুঝি বা অপর্যাপ্ত তথ্য প্রদান রোগীর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ব্যাঘাত ঘটে, যা কখনো কখনো রোগীর জীবনকে সংকটাপন্ন করে তোলে। এই সমস্যাগুলো এড়াতে ভাষার প্রাথমিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশ থেকে নার্স নিয়ে আসার সঙ্কটের সমাধান নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম, বাংলা প্রেসক্লাব মালয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট, দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টিভির মালয়েশিয়া প্রতিনিধি, আহমাদুল কবিরকে, তিনি জানিয়েছেন
আমাদের দেশের নার্সদের পেশাদারিত্ব মনোভাবের পরিচয় দিতে হবে। কাটাতে হবে ইংরেজিতে দুর্বলতা, সাথে মালয় ভাষা অনর্গল বলতে শিখতে হবে কারণ মালয়েশিয়াতে একজন নার্সকে সার্বক্ষণিক একজন ডাক্তারদের তত্ত্ববধানে থাকতে হয়। আর এর জন্য প্রয়োজন আমাদের দেশে প্রফেশনাল নার্স ইনস্টিটিউট এবং ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার গড়ে তোলার। যা মালয়েশিয়া তথা বিশ্বের স্বাস্থ্য খাতের পলিসিগত বিষয়কে প্রভাবিত করতে পারে।
যদিও মালয়েশিয়া সকল ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এর ব্যবহার নিয়ে ভাবছে, তবে সময়ের প্রয়োজনে স্বাস্থ্যসেবায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এর ব্যবহারের এক প্রশ্নে ক্যাটন বলছিলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নার্সদের বিকল্প হতে পারবে না, কারণ রোগীরা স্বাস্থ্য সমস্যার ক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পছন্দ করে। আমরা সেই মানবিক যোগাযোগ চাই। এটি কেবল আমাদের শারীরিক প্রয়োজন নয়, আমাদের মানসিক প্রয়োজনও মেটায়। যা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রোবট কখনোই তা বিকল্প হতে পারবে না।
সে হিসেবে আমাদের দেশের নার্সদের ভাষাগত জ্ঞান এবং পেশাদারিত্বের সকল স্তরে উন্নীত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়োগদাতাদের সকল শর্ত মেনে নার্সদের বৈশ্বিকভাবে তৈরি করতে এখন থেকেই সঠিক পদক্ষেপ, পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন করতে পারলেই খুব দ্রুতই খুলতে পারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া তথা পৃথিবীর অন্যতম আধুনিক স্থাপত্য শিল্পের দেশ মালয়েশিয়ার আরেক নতুন দুয়ার।
![]() |
| প্রতীকী ছবি |
Tuesday, October 29, 2024
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন যেসব প্রবাসী
শেখ হাসিনা সরকারের দুর্নীতি, দুঃশাসন, খুন, গুম ও লুটপাটের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন তারাও। ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা ও অষ্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনলাইন ও গণমাধ্যমে টকশোতে অংশ নিয়ে সরকারের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন তারা। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব থেকেছেন এসব প্রবাসী।
এদের মধ্যে লন্ডনের সাংবাদিক রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী সুয়েব, যুক্তরাষ্ট্রের এম রহমান মাসুম, আলাউর খন্দকার, কানাডার ড. তাজ হাশমী, ফ্রান্সের সাইফুর সাগর ও অস্ট্রেলিয়ার মুন্নী চৌধুরী মেধাসহ আরো অনেকেই রয়েছেন। যারা ছিলেন নিয়মিত সরব।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের কারণে এসব সাংবাদিকদের অনেকেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশে আসতে পারেননি। তবে স্বৈরাচার সরকারের হুমকি-ধমকি, রোষানল তাদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। তারা প্রতিবাদ চালিয়ে গিয়েছেন প্রতিনিয়ত।
টেলিভিশন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গঠনমূলক সমালোচনায় দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলেছেন।
এমনকি সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের পরামর্শে দেশের একটি জাতীয় দৈনিকেও তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর ফয়সল চৌধুরী, পিনাকী ভট্টাচার্য ও তাজ হাশমীকে নিয়ে ‘দেশবিরোধী ভয়ানক তিন সাইবার দুর্বৃত্ত’ শিরোনামে ওই জাতীয় দৈনিকে প্রধান সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ওই প্রতিবেদনে ফয়সল চৌধুরীকে দেশবিরোধী দিগভ্রান্ত আখ্যায়িত করে বলা হয়, তিনি বিদেশে বসে মিথ্যাচার, উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
তাকে যুদ্ধাপরাধী অপশক্তি এবং জঙ্গিবাদের পক্ষে জামায়াতে ইসলামী ও পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার পেইড এজেন্ট বলেও বর্ণনা করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, সরকার, প্রধানমন্ত্রী, শিল্পপতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিষোদগার ও গুজব ছড়ানোই কথিত সাংবাদিক ফয়সল চৌধুরী সুয়েবের মূল কাজ। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যাচার করে চলেছেন। এছাড়া অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান, জুনাইদ আহমেদ পলক, আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ, এস আলম গ্রুপ, এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার ও পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস শরাফতসহ বিভিন্ন জনের বিরুদ্ধে ইচ্ছামাফিক বিষোদগার করে যাচ্ছেন এই স্বঘোষিত পণ্ডিত।
লন্ডনে বসবাস করেন রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী। ঢাকার স্যাটেলাইট টিভি ‘চ্যানেল আই’র ইউরোপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন তিনি।
বহির্বিশ্বে ফয়সল চৌধুরীই প্রথম টিভি চ্যানেলটির মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের অন্যায়-অত্যাচার, গুম-খুনের বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করেন।
তার সঞ্চালনায় চ্যানেল আই-ইউকেতে ‘স্ট্রেইট ডায়ালগ’ শিরোনামে টকশো সম্প্রচারিত হয়। ২০১৩ থেকে টানা ২০১৮ সাল পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া ‘স্ট্রেইট ডায়ালগে’র কারণে আওয়ামী লীগ সরকার তার ওপর প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে টকশোটি বন্ধ করতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ হাইকমিশন নানা তৎপরতা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হাসিনা সরকারের চাপে ঢাকার চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ লন্ডনে চ্যানেল আই এর সম্প্রচার এক দিনের নোটিশে বন্ধ করে দেয়। অভিযোগ করা হয়, লন্ডন স্টুডিওতে কেক কেটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে।
তব এসব করেও স্বৈরাচার সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থেমে থাকেনি। ‘চ্যানেল ইউরোপ ফেসবুক পেজ’, ‘স্ট্রেইট ডায়ালগ ইউটিউব চ্যানেল’ ও ‘আইপিটিভি চ্যানেল ইউরোপ; দিয়ে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন তিনি।
এছাড়া গত বছরে ডিসেম্বরে সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের কাছে বাংলাদেশ সরকারের দুঃশাসনের কিছু চিত্র তুলে ধরেন ফয়সল চৌধুরী।
‘ফিফটি ইয়ার্স অব বাংলাদেশ’ বইয়ের লেখক ডক্টর তাজ হাশমী বসবাস করেন কানাডায়। সেখানে বসে শেখ হাসিনা সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে আলোচিত হন তিনি।
এদের মধ্যে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এম রহমান মাসুমও বাংলাদেশে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসে ২০১২ সাল থেকে ইউটিউব-ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইংরেজি ভাষায় আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠান শুরু করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর, কংগ্রেসম্যান, ইউরোপিয়ান মেম্বার অব পার্লামেন্ট, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মীদের তার অনুষ্ঠানে যুক্ত করে আওয়ামী লীগ সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেন। সে সময় তার অনুষ্ঠান থেকে দেশের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারত মানুষ।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের দুর্দশা ও তাদের অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করেন এম রহমান মাসুম। যিনি সরজমিন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে তাদের অবস্থা দেখেন এবং একটি প্ল্যাটফর্মে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ‘রেমিট্যান্স ফাইটার্স অব বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন গঠন করেন। এটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে।
এছাড়া কানাডা থেকে ‘ফেস দ্য পিপল’ নামে টকশো করে শেখ হাসিনা সরকারের কাছে বিতর্কিত হন সাইফুর সাগর, ফ্রান্স থেকে সুসময় শরীফ ও সিডনি থেকে বনী আমীন। টকশোতে অতিথি হয়ে মালয়েশিয়া থেকে ডা. ফয়জুল হক, সাকিব আলী, ব্যারিস্টার সরওয়ার হোসেনসহ অনেকে হাসিনা সরকারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। লন্ডন থেকে আরিফ আল মাহফুজ শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অনলাইনে জনমত গঠনেও ভূমিকা রাখেন।
এদিকে লন্ডন থেকে সাংবাদিক আব্দুর রব ভুট্টোও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনিও সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রের আরেক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নায়েব আলী। তিনি হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলনে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন নূরে আলম হামিদী। তিনি বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী। পাকিস্তানি নাগরিক ও লস্কর-ই-তৈইয়্যবার স্কোয়াড লিডার হিসেবে পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন এমনকি জাতীয় সংসদে নূরে আলম হামিদীকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
আমেরিকায় বসবাস করেন আলাউর খন্দকার। আমেরিকা বাংলা চ্যানেল (এবিসি) নামে একটি টিভিতে টকশো করে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা রাখেন তিনি।
ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদ সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মোখলেসুর রহমান চৌধুরী দীর্ঘদিন থেকে লন্ডনে বসবাস করছেন। তিনি পতিত হাসিনা সরকারের নানা অপকর্ম, দুঃশাসন ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সে সময় সরব ছিলেন। লন্ডন-আমেরিকার বেশ কয়েটি চ্যানেলের টকশোতে নিয়মিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে জোরালো ভূমিকাও পালন করেন মোখলেসুর রহমান।

Sunday, October 20, 2024
আনোয়ার ইব্রাহিমের বাংলাদেশ সফরের প্রতিফলন: বাংলাদেশি কর্মীদের ইপিএফ বাধ্যতামূলক করছে মালয়েশিয়া by আরিফুল ইসলাম
প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের বরাতে দেশটির সরকারি নিউজ এজেন্সি বারনামা সহ দেশটির প্রায় সকল মিডিয়া জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মান অনুসারে, জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য ছাড়াই সকল কর্মীকে ন্যায্য অধিকার প্রদানের জন্য মালয়েশিয়া সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গত শুত্রুবার দেশটির সংসদ 'দেওয়ান রাকয়াতে' ২০২৫ সালের বাজেট পেশ করার সময় এই প্রস্তাব ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার এমন ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
অবসরকালীন সঞ্চয়কে উৎসাহিত করতে এবং অনানুষ্ঠানিক কর্মী ও অনিয়মিত আয়ের ব্যক্তিদের জন্য, আনোয়ার ইব্রাহিম, যিনি দেশটির অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ ঘোষণা করেছেন যে, এমপ্লয়ীজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (ইপিএফ) এর আওতায় রিটায়ারমেন্ট সেভিংস আই-সারাণ ম্যাচিং প্রণোদনা ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে, যা বার্ষিক সীমা হিসেবে সর্বোচ্চ ৫০০ রিঙ্গিত থেকে সারাজীবনে সর্বোচ্চ ৫০০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত থাকবে।
এছাড়া জনবান্ধব এ প্রধানমন্ত্রী আরো জানিয়েছেন, 'আই-সুরি' প্রোগ্রামটি অর্থাৎ, গৃহিণী, বিধবা, একক মা এবং একক মহিলাসহ জাতীয় দারিদ্র্য ডেটা ব্যাংক 'ইকাছিহ'তে নিবন্ধিত মহিলাদের জন্য স্বেচ্ছাসেবী এ সাবস্ক্রিপশন প্রোগ্রামটি সরকারি এবং সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের অবদানের ভিত্তিতে ম্যাচিং প্রণোদনার সাথে চালিয়ে যাওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা এজেন্ডা আরও জোরদার করা হবে যাতে বেশি সংখ্যক মানুষের অবসরকালীন সঞ্চয় এবং দুর্যোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। আত্ম-কর্মসংস্থান সামাজিক সুরক্ষা স্কিমটি কর্মচারীদের অবদানের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কভার করবে, যার জন্য ১০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তাছাড়া মালয়েশিয়া একটি বয়স্ক জাতির দিকে ধাবিত হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে আনোয়ার বলেন, এমপ্লয়ীজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (ইপিএফ) তাদের স্কিমগুলিকে পর্যালোচনা করছে যাতে সকল জেনারেশনের মধ্যে শক্তভাবে তা বণ্টন করা যায় এবং ইপিএফ সদস্যদের সঞ্চয়ের একটি অংশ সরাসরি তার পরিবারের সদস্যদের ইপিএফ অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করার সুযোগ তৈরি করে দেবে।
উল্লেখ্য যে, গত ৪ অক্টোবর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশ সফরের সময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ‘আমরা পুরো ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। আমাদের শ্রমিক দরকার, তাদের আধুনিক দাস হিসেবে গণ্য করা যাবে না। তারা বাংলাদেশ বা অন্য যেখান থেকেই আসুক না কেন, আমি এখানকার মতো আগেও প্রকাশ্যে এ কথা বলেছি।’

Tuesday, October 15, 2024
প্রবাসীরা ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছেন by এম এস সেকিল চৌধুরী
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রেস ব্রিফিং ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত খবর অনুযায়ী দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীর ব্যক্তিগত তথ্য অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে উন্মুক্ত হয়ে গেছে কতিপয় অসাধু প্রভাবশালী মানুষের ব্যক্তিগত অর্থ লালসার কারণে। এ ঘটনা জাতিকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশে কর্মরত ও বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক যাদের এনআইডি কার্ড রয়েছে তারা ভীষণ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। অনেকের এনআইডি কার্ডে ছোটখাটো বানান বিভ্রাট ও তথ্যের ভ্রান্তি থাকার অবকাশ আছে। এ কারণে প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট এবং বিভিন্ন দেশে অবস্থান সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রবাসীদের তথ্যভাণ্ডারের সম্ভাব্য অসঙ্গতির প্রধান কারণ হচ্ছে এ বিষয়ে আমরা ‘প্রথম জেনারেশন’ এবং সম্যকভাবে অবহিত ছিলাম না সুতরাং ভ্রান্তিগুলো নির্মূল করে আদর্শ অবস্থানে আসতে আমরা এখনো সক্ষম হইনি। দ্বিতীয়ত: অনেকদিন আগে থেকে যারা বিদেশে থাকেন তাদের বিদেশের তথ্যাবলী ও দেশের তথ্যভাণ্ডারে থাকা তথ্যের সমন্বয়ে কিছু ঘাটতি আছে। এমতাবস্থায় দেশে থাকা তথ্য ভাণ্ডারের তথ্য বিদেশি নিয়োগকর্তা ও কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছালে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
দেশের অপরাপর জনগোষ্ঠীর তথ্যও অন্যদের কাছে থাকা নিরাপদ নয়। এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্ব সম্প্রদায় যখন নিজেদের নাগরিকদের তথ্য ভাণ্ডার সুরক্ষিত ও নিরাপদ রাখার জন্য নানা কর্মকৌশল গ্রহণ করছে, প্রতিনিয়ত নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী নিশ্চিত করার জন্য নিয়ত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে তখন আমাদের দেশের কতিপয় লোক নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে দেশ জাতির নিরাপত্তা বিক্রি করে দিচ্ছে এবং এ কাজে রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল সহায়তা পাচ্ছে। কি বিভৎস্য ও ভয়ঙ্কর এই ঘটনা!
বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক নানা উপলক্ষে বাংলাদেশের বহু নাগরিকের বিভিন্ন পারিবারিক, সামাজিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ আছে বহির্বিশ্বের সঙ্গে। এই তথ্যপাচার এসব মানুষকে বিপদগ্রস্ত করতে পারে। আর্থিক ও বৈষয়িক নানা ক্ষেত্রে এই তথ্য সংশ্লিষ্ট থাকায় মানুষ বিপদে থাকবেন।
এমনিতেই আমাদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার নষ্ট করার জন্য প্রতিযোগী কতিপয় দেশ আমাদের নামে দেশে-বিদেশে নানা অপপ্রচার চালায়। আমরাও নানা রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার জন্য নিজ দেশকে জঙ্গিবাদের ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উত্থানের কথা বলে বেড়িয়েছি নিজেদের দলীয় রাজনীতির সুবিধা আদায়ের জন্য। এ সবই আমাদেরকে জাতি হিসেবে ঝুঁকির মধ্যে রেখেছে।
উপরন্তু কতিপয় মানুষের অতি লোভ ও অসাধুতায় গোটা জাতির নিরাপত্তা আজ ঝুঁকিপূর্ণ, এ অবস্থায় দেশে ও বিদেশে অবস্থানকারী সকল নাগরিকদের ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেয়া যায় এ ব্যাপারে খাত-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। এ ব্যাপারে সরকারকে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানাই। এ ক্ষেত্রে যেকোনো বিলম্ব নানা বিপদ ডেকে আনতে পারে।

Sunday, October 13, 2024
৫ সিকার ছাগল চিনতে না পারলে রক্ত দেয়া থামবে না: পিনাকী ভট্টাচার্য by আব্দুল মোমিত
শনিবার প্যারিসের একটি হোটেলের বলরুমে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফরোয়ার্ড’র (এইচআরএফ) উদ্যোগে ‘গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ: প্রবাসীদের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি পিনাকী ভট্টাচার্য আরও বলেন, বারবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষে থেকে দাবি জানানো হয়। কিন্তু হওয়ার কথা ছিল তারা বলবে এবং সেটি সরকার মেনে নেবে। আমাদেরকে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। আমি একটি উদ্যোগ নিয়েছি পুরো বিশ্ব থেকে প্রবাসীরা পাঁচ বিলিয়ন ডলার রাষ্ট্রকে দেবে। এটি হলে সরাসরি প্রবাসীরা রাষ্ট্র নির্মাণের কাজে চলে আসবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এইচআরএফ সভাপতি মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ফরাসি গণমাধ্যম ফ্রান্স টুয়েন্টিফোরের সাংবাদিক মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ। বাংলা টেলিগ্রাম সম্পাদক সাংবাদিক শাহ সুহেল আহমদের সঞ্চালনায় শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাংবাদিক অনুক্ত কামরু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত রাজনীতিবিদ নুরুল ইসলাম ভুঁইয়া (ছোটন), ফ্রান্স বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা এহসানুল হক বুলু, সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের, সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমেদ, কমিউনিটি নেতা টি এম রেজা।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধের উপর প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন, বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্স (বিসিএফ)-এর প্রেসিডেন্ট এম ডি নূর, অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, আইনজীবী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মনোয়ার হোসাইন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরাসি আইনজীবী আকাশ হেলাল, বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্স (বিসিএফ)-এর প্রেসিডেন্ট এম ডি নূর।
এছাড়া সেমিনারে অতিথি আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শামীমা আক্তার রুবি, বিকশিত নারী সংঘের সভানেত্রী তৌফিকা শাহেদ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মীর জাহান, লিটল ম্যাগ স্রোতের সম্পাদক কবি বদরুজ্জামান, মানবাধিকার সংগঠন এফডিএইচআর ফ্রান্স- এর সভাপতি মোহাম্মদ আল আমিন, সিনিয়র সাংবাদিক কামরুজ্জামান কাজল।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ থেকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোর তত্ত্বাবধানে জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, দ্বিতীয়ত ফ্রান্সসহ সবগুলো দূতাবাসে দ্রুত ই-পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরির ব্যবস্থা করা, তৃতীয়ত দাবি হচ্ছে জাতীয় সংসদে প্রবাসীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করা, চতুর্থত অনিয়মিত অভিবাসীদের লাশ সরকারি খরচে দেশে প্রেরণের ব্যবস্থা করা।
এছাড়া বক্তারা বলেন, এই প্রথমবারের মতো অভিবাসী বাংলাদেশিরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্টেক হোল্ডারের ভূমিকায় এসেছেন। চার দফা দাবি আদায়ে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে জোরদার ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়াও ৫ই আগস্টের বিপ্লবকে সার্থক করার জন্য প্রবাসে সকল বাংলাদেশিকে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (1767)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



