Showing posts with label প্রথম আলো. Show all posts
Showing posts with label প্রথম আলো. Show all posts

Saturday, August 29, 2026

গোপনে ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করে ডলার কামানো কতটুকু নৈতিক? নিলয়ের প্রশ্ন

কোনো অনুমতি ছাড়াই বর্তমান সময়ে শুটিং ইউনিটের শিল্পী–কলাকুশলীরা শুটিং কিংবা শুটিংয়ের পেছনের গল্পের ভিডিও করছেন। সেগুলো কেউ সরবে, কেউ নীরবে নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করে ডলার আয় করছেন। কিন্তু দিন শেষে ক্ষতির মুখে পড়ছেন প্রযোজক, এমনটাই মনে করেন অভিনেতা নিলয় আলমগীর। এই নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন এই অভিনেতা। তিনি লিখেছেন, ‘এমন ভিডিওর ঘটনায় কোনো প্রযোজক যদি আইনি পদক্ষেপ নেন, তাহলে বিপদে পড়বেন কারা?’

নিলয় লিখেছেন, ‘নাটকের প্রযোজক বা চ‍্যানেল মালিক টাকা ইনভেস্ট করে নাটক বানান। ইউটিউব, ফেসবুক, টিভি, ব্র্যান্ডিং থেকে সেই টাকা ওঠানোর চেষ্টা করেন। সেই নাটকের অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে পরিচালক, সহকারী পরিচালক, সিনেমাটোগ্রাফার, প্রোডাকশন, লাইটগ্রাফার, মেকআপ, হাউস, স্ক্রিপ্টরাইটার, ফটোগ্রাফারসহ সংশ্লিষ্ট সব পেশার মানুষকে তাঁর পারিশ্রমিক দিয়ে দেওয়া হয়।’
কিন্তু শুটিংয়ে এসে এই শিল্পী–কলাকুশলীরা নিয়মের কোনো তোয়াক্কা না করেই ইচ্ছেমতো ভিডিও করতে থাকেন, এ কথা দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। নিলয় লিখেছেন, ‘পারিশ্রমিক দেওয়ার পরেও শুটিং চলাকালীন কেউ কেউ নাটকের বিটিএস (বিহাইন্ড দ্য সিন) শুটিং করেন। সেগুলো, তাঁরা ফেসবুক আইডি বা পেজে পোস্ট করে ডলার কামানোর চেষ্টা করেন। ব‍্যাপারটা কতটুকু নৈতিক?’

এ সময় তিনি আরও লিখেছেন, ‘যাঁরা ভিডিও করছেন, তাঁদের জিজ্ঞেস করলে বলে প্রমোশন করছি। এই প্রমোশন নাটকের প্রযোজকের জন‍্য কতটুকু লাভজনক, সেটা প্রযোজকই ভালো জানেন। প্রমোশন করতে হলে প্রযোজক নিজে বলবেন অথবা তাঁদের নিজের চ‍্যানেল বা পেজে প্রমোশন করবেন।’

প্রমোশনের নামে শুটিংয়ের ভিডিও দিয়েই অনেকে গোপন চ্যানেল তৈরি করছেন। সেখান থেকেও তাঁরা আয়ও করছেন উল্লেখ করে নিলয় লিখেছেন, ‘শুটিং ইউনিটের কেউ কেউ সিক্রেট চ‍্যানেল ওপেন করেছেন সেই বিটিএস দিয়ে। খোঁজ নিলে দেখা যাবে তাঁরা সহকারী পরিচালক অথবা ডিওপির সহকারী। তাঁরা নিজেরা শুটিং সেট থেকে বিটিএস কালেক্ট করতে না পারলে আর্টিস্টদের আইডি বা পেজ থেকে বিটিএস কালেক্ট করে তাঁদের সিক্রেট চ‍্যানেলে দিচ্ছেন। যে যেটাই করছেন, তাতে ক্ষতি হচ্ছে প্রযোজকের। এখন কোনো প্রযোজক যদি আইনি পদক্ষেপ নেন, তাহলে বিপদে পড়বেন কারা?’

নিলয় আলমগীর। ছবি: ফেসবুক থেকে
নিলয় আলমগীর। ছবি: ফেসবুক থেকে

‘অ্যাডাল্ট’ সনদ পাওয়া বাংলা সিনেমাটি মুক্তি পেল, কী আছে সিনেমায়

প্রকাশ ২২ নভেম্বর ২০২৫ঃ ‘দ্য একাডেমি অব ফাইন আর্টস’ সিনেমাটি মুক্তির আগে থেকেই চর্চায় রয়েছে। কলকাতার বাংলা ছবিটিকে ‘অ্যাডাল্ট’ সনদ দিয়েছে ভারতের সার্টিফিকেশন বোর্ড। সম্প্রতি অ্যাডাল্ট সনদ পাওয়ার ঘটনা কলকাতার সিনেমায় দেখা যায়নি।

১৪ নভেম্বর ২০২৫ সিনেমাটি মুক্তির কথা ছিল। তবে টালিগঞ্জের ফেডারেশন সিনেমার মুক্তি আটকে দেয়। বলা হয়, সিনেমাটি ফেডারেশনের নিয়মকানুন মানেনি। সপ্তাহখানেক ধরে টানাপোড়েনের পর বিষয়টির সুরাহা হয়েছে। ২৮ নভেম্বর ২০২৫ শুক্রবার কলকাতার ৩০টি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে।

সিনেমাটির পরিচালক জয়ব্রত দাস বলেন, ‘ছবি মুক্তি আটকে যাওয়ার খবরে প্রথমে আমরা মানসিকভাবে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু পরে এই ধাক্কা সামলে উঠি।’
সিনেমার পরিবেশক বদল করা হয়েছে। আইনক্স পিভিআরের বদলে পরিবেশনার দায়িত্ব নিয়েছেন পরিবেশক শতদীপ সাহা। শতদীপ সাহা জানান, মোট ৩০টি প্রেক্ষাগৃহে দেখানো হবে এই সিনেমা। সবটাই ঠিক হয়েছে শেষ মুহূর্তে। যদি প্রথম সপ্তাহে ফল ভালো হয়, তাহলে প্রদর্শনের সংখ্যা বাড়বে।

ফেডারেশনের অভিযোগ ছিল, সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্রমোদ ফিল্মস তাদের আগের দুটি ছবির জন্য কলাকুশলীদের বকেয়া মেটায়নি। সে কারণেই আপত্তি জানিয়েছে ফেডারেশন। তারপর দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে ফেডারেশনের সঙ্গে ছবির পরিচালক ও প্রযোজকের। পরে বিষয়টি সুরাহা করা হয়েছে।

সিনেমায় পায়েল সরকার, রুদ্রনীল ঘোষ, সৌরভ দাস, ঋষভ বসু, অনুরাধা মুখোপাধ্যায়, সুদীপ মুখোপাধ্যায়, অমিত সাহা, অনিন্দ্য পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, অঞ্জন রায় চৌধুরী, রানা বসু ঠাকুরসহ অনেকে অভিনয় করেছেন।

কী আছে সিনেমায়

এক বিরল ও অমূল্য অ্যানটিক মদের বোতল ঘিরে ‘দ্য একাডেমি অব ফাইন আর্টস’ সিনেমার গল্প এগিয়েছে। কয়েকজন অপরাধী সেই বোতল চুরির পরিকল্পনা করে।

এরপরই শুরু হয় প্রতারণা, পরকীয়া, চুরি–ডাকাতি ও বিশ্বাসঘাতকতার টানটান দৌড়।
নির্মাতার দাবি, প্রতিশোধ ও প্রলোভনের খেলার পরতে পরতে উত্তেজনায় ভরা চিত্রনাট্য দর্শককে নিশ্বাস নিতে দেবে না। টলিপাড়ায় গুঞ্জন, বাংলা ছবিতে এ রকম ‘বোল্ড’ ও ‘বিস্ফোরক’ যৌনদৃশ্য আগে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে দর্শকও অপেক্ষায় অন্য ধারার পরীক্ষামূলক সিনেমা দেখতে।

জয়ব্রত দাসের কথায়, এটি একটি পাল্প অ্যাকশন থ্রিলার, পরিচালক কুইন্টিন ট্যারান্টিনোর প্রতি ভালোবাসা থেকেই প্রেরণা। তবে থ্রিলারের সঙ্গে এখানে রয়েছে কমেডির এক ঠিকঠাক মিশেল—বাংলা দর্শকের জন্য একদমই নতুন অভিজ্ঞতা।

তথ্যসূত্র: এবিপি আনন্দ, ইটিভি ভারত

সিনেমায় অভিনয় করেছেন পায়েল সরকার, সৌরভ দাস ও রুদ্রনীল ঘোষ
সিনেমায় অভিনয় করেছেন পায়েল সরকার, সৌরভ দাস ও রুদ্রনীল ঘোষ। কোলাজ

Friday, August 28, 2026

পুরুষের প্রোস্টেট স্ফীত হওয়ার সমস্যা by ডা. কাজী জিকরুর রাজ্জাক

বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব, বারবার প্রস্রাবের বেগ, প্রস্রাবের বেগ পেলে ধরে রাখতে সমস্যা, প্রস্রাব করার জন্য রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া—এসব লক্ষণ থাকলে বুঝতে হবে একজন বয়স্ক পুরুষ প্রোস্টেট গ্রন্থির সমস্যায় ভুগছেন।

প্রোস্টেট পুরুষের জননতন্ত্রের একটি গ্রন্থি, যা শুক্ররসের একটা অংশ তৈরি করে শুক্রকীটের পুষ্টি ও পরিবহনে সাহায্য করে। এর অবস্থান মূত্রথলির ঠিক নিচে, মূত্রথলি থেকে মূত্রনালি এ গ্রন্থির ভেতর দিয়ে বেরিয়ে আসে।

প্রোস্টেট গ্রন্থির প্রধান রোগ

● প্রোস্টেট গ্রন্থি স্ফীত হওয়া (বিনাইন এনলার্জমেন্ট অব প্রোস্টেট)।

● প্রোস্টেট গ্রন্থির সংক্রমণ।

● প্রোস্টেট ক্যানসার।

● বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে গ্রন্থির আয়তন বাড়তে থাকা। পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সে প্রায় ৮ শতাংশ, ষাটোর্ধ্ব বয়সে ৫০ শতাংশ এবং ৮০–এর বেশি বয়সে ৮০ শতাংশ পুরুষের এ রোগ দেখা যায়। এই স্ফীতি অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিনাইন বা নিরীহ এবং কিছু ক্ষেত্রে মেলিগন্যান্ট বা ক্যানসার প্রকৃতির।

কীভাবে বুঝবেন

● বারবার প্রস্রাব, বিশেষত রাতে।

● প্রস্রাবের চাপ এলে ধরে রাখতে না পারা।

● প্রস্রাবের গতি কমে যাওয়া ও বাড়তি চাপ দিয়ে করা।

● প্রস্রাব ঠিকভাবে না হওয়া বা রয়ে যাওয়ার অনুভূতি।

● মূত্রত্যাগের সময় ব্যথা, জ্বালার অনুভূতি।

প্রাথমিক লক্ষণগুলোর পরও যদি সঠিক চিকিৎসা না হয়, তবে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তখন বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাত, হঠাৎ প্রস্রাব বন্ধ হওয়া বা আটকে যাওয়া, মূত্রথলিতে পাথর বা হার্নিয়া হতে পারে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় মূত্রথলি ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে।

করণীয়

চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা করে প্রোস্টেট বড় হয়েছে কি না, বুঝতে পারেন। কিছু টেস্ট করা হয় স্ফীতিটা ঠিক কী ধরনের তা বুঝতে ও চিকিৎসাপদ্ধতি নির্বাচন করতে। বিনাইন প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গ্রন্থির আয়তন, রোগের উপসর্গ, কতটা শারীরিক সমস্যা করছে, কোনো জটিলতা আছে কি না ও পরীক্ষা–নিরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে তিন ধাপে চিকিৎসা করা হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে জীবনযাত্রা পরিবর্তনের উপদেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বা মধ্যম পর্যায়ে ওষুধের মাধ্যমে উপসর্গ কমানো সম্ভব। তৃতীয় বা তীব্র পর্যায়ে অস্ত্রোপচার করতে হয়।

নানা ধরনের অস্ত্রোপচার পদ্ধতি রয়েছে। এখন পর্যন্ত ‘টিইউআরপি’কে সবচেয়ে আদর্শ ধরা হয়। এ পদ্ধতিতে কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়া অত্যাধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে প্রোস্টেট গ্রন্থির বাড়তি অংশ কেটে বের করা হয় এবং এক সপ্তাহের মধ্যে রোগী স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে পারেন।

প্রোস্টেট ক্যানসারের লক্ষণ বিনাইন রোগের মতোই। ক্যানসার নিশ্চিত হলে স্টেজ গ্রেড অনুযায়ী র‍্যাডিক্যাল সার্জারি, রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি, কেমোথেরাপি প্রয়োগ করা হয়। আশার কথা, এটি অন্যান্য ক্যানসারের মতো মারাত্মক নয়। এর ছড়িয়ে পড়া অন্য ক্যানসারের তুলনায় অনেক ধীর। ফলে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা করলে সুস্থভাবে অনেক দিন বেঁচে থাকা যায়।

* ডা. কাজী জিকরুর রাজ্জাক, ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ, সাবেক সহযোগী অধ্যাপক, বিআইএইচএস, ঢাকা

পুরুষের প্রোস্টেট স্ফীত হওয়ার সমস্যা

নেপালে বিপর্যয়: ‘নিমেষেই চোখের সামনে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল আমার গ্রাম’

কাঠমান্ডুতে কান্তিপুর পাবলিকেশনসের কার্যালয়ে গত বুধবার সকালে যাচ্ছিলেন সাংবাদিক অর্জুন পৌডেল। এমন সময় তাঁর স্ত্রীর ফোন এল। ওপাশ থেকে উদ্বিগ্ন কণ্ঠ,‘ত্রিশূলী নদীতে হঠাৎ বন্যা এসেছে। সোলে বাজার আর বেত্রাবতীতে কী যেন একটা ঘটে গেছে। সবাই বলছে, সেখানে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। লোকজন রাস্তায় নেমে এসেছে। তাঁদের আতঙ্কের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে।’

স্ত্রীর কথা প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি অর্জুন। কারণ, সোলে তাঁর নিজের গ্রাম। এই গ্রামের অলিগলিতে খেলতে খেলতে বড় হয়েছেন তিনি। এখানকার মাঠে কাজ করেছেন। বছরের পর বছর এই পথ ধরে হেঁটে স্কুলে গেছেন। এমন কিছু ঘটার আশঙ্কা থাকলে সবার আগে তো তাঁরই জানার কথা।

এ ছাড়া অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টির কোনো খবরও অর্জুন শোনেননি। তীব্র বর্ষাতেও ত্রিশূলী নদীর পানি কখনো এই জনপদ পর্যন্ত পৌঁছায়নি। তাই খবরটিকে তেমন গুরুত্ব দেননি অর্জুন। বেলা ১১টায় নিউজের মিটিং থাকায় দ্রুত অফিসের দিকে পা বাড়ালেন তিনি।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের এক নিবন্ধে অর্জুন বলেছেন, বেত্রাবতী বাজারেই তাঁরা কেনাকাটা করেন। এখান থেকেই বাস ছাড়ে, সরাসরি কাঠমান্ডু যাওয়া যায়। বাড়ি ফেরার পথে মা-বাবা তাঁর জন্য এ বাজারেই অপেক্ষা করতেন। এলাকাটির প্রাণকেন্দ্র ছিল এটি।

বেত্রাবতী বাজারে আছে রামমন্দির ও কৃষ্ণমন্দির। রামনবমী ও জন্মাষ্টমীতে মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠত চারপাশ। এটি প্রাচীন নেওয়ার সম্প্রদায়ের জনপদ। তাই এখানে গাইযাত্রার মতো উৎসবও হতো। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মাঘসংক্রান্তির ষাঁড়ের লড়াই দেখতে কাঠমান্ডু থেকেও মানুষ আসতেন।

অর্জুন বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর জানতে পারলাম, স্মৃতিঘেরা সেই জায়গাগুলোর অনেক কিছুই আর নেই। স্ত্রীর কথার সত্যতা যাচাই করতে একটি নিউজ পোর্টালে ঢুকলাম। ভেবেছিলাম, তেমন কিছু নয়। কিন্তু শিরোনাম দেখেই বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল—ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ বন্যা।

এ খবর দেখার সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিক বন্ধু নিরঞ্জনকে ফোন করেন অর্জুন। নিরঞ্জনের পরিবার সোলে বাজারে থাকে। বাজার বড় হওয়ার পর তাঁরা গ্রাম থেকে সেখানে এসে বসতি গড়েছিল। তার কাকার বাড়ি ছিল নদীর আরও কাছে।

‘এক নিশ্বাসে সে বলল, “দাই (বড় ভাই), আমিও এইমাত্র শুনলাম। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। মা, বাবা, কাকা, কাকি—কারও ফোনেই রিং হচ্ছে না।”’

অফিসে যাওয়ার পুরো পথে তাঁরা দুজন বারবার একে অপরকে ফোন করতে লাগলেন। এলাকার পরিচিত যত নম্বর মনে পড়ল, একে একে সব কটিতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু কোনো সংযোগ মিলল না। শেষ পর্যন্ত পরিচিত এক বড় ভাইয়ের বাড়ির নম্বরে ফোন ঢুকল। তাঁর স্ত্রী ফোন ধরে একবাক্যে বললেন, ‘গ্রামে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। অধিকাংশ মানুষই ভেসে গেছে।’

কথাটা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না অর্জুন। কারণ নদীগর্ভ থেকে সোলে ও টুপচে গ্রামের উচ্চতা প্রায় ১০০ মিটার। কয়েক শতকের ইতিহাসে এমন উচ্চতায় কোনো বন্যা আসার নজির নেই। তাঁর বয়স এখন ৪৪ বছর। এই জীবনে কখনো তিনি নদীর পানি এত দূর উঠে আসতে দেখেননি।

অর্জুন বলেন, ‘গ্রামে আমার ভাই, প্রতিবেশী ও শৈশবের বন্ধুরা থাকেন। পরিচিত ও ভালোবাসার প্রায় সব মানুষই ওই গ্রামের। একে একে সবাইকে ফোন দিতে লাগলাম। সোলের মতো জায়গায় সবাই সবার আত্মীয়। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও বয়সের সূত্রে অপরিচিত মানুষও হয়ে ওঠেন “দাই” (ভাই) কিংবা “দিদি” (বোন)। সেখানকার সংস্কৃতিটাই এমন। সবাই আমার আপন, আমিও সবার।’

‘ধীরে ধীরে আমার ফোনে ভিডিও ও ছবি আসতে শুরু করল। সেখানে যা দেখলাম, তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।’ এভাবেই জানিয়েছেন অর্জুন।

এই সাংবাদিক বলেছেন, ‘বানের জলে আমার বড় খালা ভেসে গেছেন। তাঁর ছেলে মধু ভাই ও তাঁর স্ত্রীও রক্ষা পাননি। শুনলাম আরেক খালাও বেঁচে নেই। খালার নাতি সিজন ও তাঁর স্ত্রীও ভেসে গেছেন। সিজনের ছেলে ও ছেলের বউয়ের কোনো খোঁজ নেই। সকালে গরু-ছাগলের জন্য ঘাস কাটতে বের হয়েছিলেন আমার মামা। তিনিও আর ফেরেননি।’

এভাবে অর্জুনের ফোনে একটার পর একটা শুধু দুঃসংবাদই আসছিল। অবশেষে স্থানীয় ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নেপালকে ফোন দেন তিনি। ওই চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘ভাই, সকালে পৌরসভা অফিসে এসেছিলাম। এখন এখানেই আটকে পড়েছি। গ্রামে আর কিচ্ছু নেই। বাকিটা আপনি নিজেই বুঝে নেন। কিছু মানুষ কোনোমতে পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে উঠে প্রাণে বেঁচেছেন।’

এরপর স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন অর্জুন। ওই শিক্ষক বলেছেন, ‘ভাই, নিজের পরিবারের লোকজনেরই কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। বেত্রাবতীর ৯০ শতাংশ ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। স্কুলের ভ্যানটিও ভেসে গেছে। আমার পাশে একটি ছেলের পা ভেঙে পড়ে আছে। আরেকজন মানুষের পা ভাঙা, চোখ মারাত্মক জখম। পারলে একটা হেলিকপ্টার পাঠানোর ব্যবস্থা করো, ভাই।’

এর কিছুক্ষণ পর নিরঞ্জনের কাকা ফোন করে অর্জুনকে জানিয়েছে, নিরঞ্জনের বাবা, মা, কাকা, কাকি ও ছোট বোন হিমানী—সবাইকে নদী ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘অর্জুন, আমরা শেষ হয়ে গেলাম। ফোন রাখছি।’ এরপরই তিনি ফোন রেখে দেন।

স্মৃতির বেত্রাবতী এখন ধ্বংসস্তূপ

বেত্রাবতী শুধু সাধারণ কোনো বাজার এলাকা ছিল না। যুদ্ধের পর এখানেই নেপাল ও তিব্বতের ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি সই হয়েছিল। এখানেই রয়েছে পবিত্র ‘উত্তর গঙ্গা ধাম’। পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির কামনায় প্রতিবছর পৌষ অমাবস্যায় হাজারো পুণ্যার্থী এখানে আসেন। সেই মন্দির, ঐতিহাসিক চুক্তির স্থান ও তীর্থক্ষেত্র—সবই এখন ধ্বংসস্তূপ।

এখন আর কোনো রাস্তা অবশিষ্ট নেই। বিদ্যুৎ নেই, মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক নেই, ইন্টারনেটও বন্ধ। নদীর ভাটিতে ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের হেডগেট ও বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে ঢল। এসব দেখে অর্জুনের ২০১০-১১ সালের কথা মনে পড়ে। তখন দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং চললেও তাঁদের গ্রামে কখনো বিদ্যুৎ যেত না।

অর্জুন বলেন, ‘আজ গোটা জেলাই অন্ধকারে নিমজ্জিত। বুধবার সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে জেলা সদরে যাওয়ার পথে নিজের চোখেই তা দেখেছি। শুধু আমার গ্রাম নয়, পুরো জেলাই যেন আঁধারে ডুবে গেছে।’

সকালে কাজে যাঁরা জেলা সদরে এসেছিলেন, তাঁরা সেখানেই আটকা পড়েছেন। বাড়ি ফেরার কোনো পথ নেই। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাও আর বাড়ি ফিরতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

বাট্টারের সেনা প্রশিক্ষণকেন্দ্রের দিকে যাওয়া একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের কাছে এক প্রতিবেশীকে দেখেছেন অর্জুন। তিনি হেলিকপ্টারে ওঠার জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘আমার কাকা-কাকি ভেসে গেছেন। ফোন বন্ধ। নিজের বাড়ির কী অবস্থা, তা–ও জানি না।’

স্বজন হারানোর শোক করার সময়ও নেই

অর্জুনের বড় খালার বড় ছেলে কাঠমান্ডুতে থাকেন। এত দূর থেকে তাঁর কিছুই করার নেই। আর ছোট ছেলেটি মাত্রই বিদেশ থেকে কাজ করে দেশে ফিরেছেন। গ্রামে পৌঁছানোর আগেই আকস্মিক ঢল সব কেড়ে নিয়েছে।

ফোনে পরিচিত লোকজন অর্জুনকে জানিয়েছেন, দৌড়ে প্রাণে বেঁচে যাওয়া শিশুদেরও বের করে আনা যাচ্ছে না। স্বজন হারানোর শোক প্রকাশ করার সময়টুকুও কারও নেই। মা, ভাই বা ভাবির মৃত্যুর জন্য কাঁদার চেয়ে গ্রামে আটকে পড়া মানুষদের আগে উদ্ধার করাই এখন বড় লড়াই।

অর্জুন বলেছেন, বন্যা (আকস্মিক ঢল) শুধু গ্রামকেই ভাসিয়ে নেয়নি, জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের রাস্তাও মুছে দিয়েছে। ফলে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। যে বাজার থেকে মানুষ রসদ কিনত, সেটিও বিলীন হয়ে গেছে। এখন কেনাকাটার কোনো জায়গা নেই।

ফসলি জমিগুলো তলিয়ে গেছে। বাড়িতে যেটুকু খাদ্যশস্য জমা আছে, তা-ও ধান বা আটা ভাঙানোর উপায় নেই। কারণ, এলাকার সব মিল নদীতে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ধাঙ্গে থেকে ত্রিশূলী বাজারকে যুক্ত করা ১৯৬৭ সালের পুরোনো সেতুটি নদী গিলে খেয়েছে। কয়েক বছর আগে তৈরি হওয়া নতুন সেতুটিও ভেসে গেছে। ভৈঁসে সেতুসহ নদীর ওপরের সব ঝুলন্ত সেতু ভেঙে পড়েছে। ফলে জেলা সদরে যাওয়ার আর কোনো উপায় নেই। বাঘতারের জেলা হাসপাতালটি এত কাছে হয়েও এখন সম্পূর্ণ নাগালের বাইরে।

ভৈরামকোট, সামারি, টোকসার, দেউরালি, কিসপাং, কাউলে, ভালচে, সালমে ও ধাদিঙের থার্পুসহ দূরের গ্রামগুলোও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পুরো রসুয়া জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

গ্রামের একজন বাসিন্দা ভারী কণ্ঠে অর্জুনকে বলেছেন, ‘এখন কেউ অসুস্থ হলে ঘরেই মারা যাবে। হাসপাতালে কীভাবে নেবেন? কোনো রাস্তা নেই, ব্রিজ নেই, কোনো গাড়িও চলছে না। এমনকি একটু লবণ কেনার মতো দোকানও খোলা নেই।’

অর্জুন বলেন, ‘এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখে মনে হয় না, দ্রুত এসব আবার আগের মতো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

সামনে শুধু অনিশ্চয়তা

অর্জুন বলেছেন, অসংখ্য মানুষ গৃহহীন। বহু মানুষ নিখোঁজ। যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী—কেউ জানে না।

গ্রামে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে প্রায় দেড় দিন আগে রওনা হয়েছিলেন অর্জুন। অথচ এখনো জেলা সদর বিদুরেই আটকে আছেন তিনি। কিছুতেই সামনে এগোতে পারছেন না।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদক আরও বলেন, ‘বারবার নিজেকে প্রশ্ন করছি, এই গ্রাম কবে আবার আগের চেহারা ফিরে পাবে? কারও কাছে এর উত্তর নেই। আমাদের কেউই জীবনে এমন দুর্যোগ দেখেনি। এত সবুজ আর সুন্দর একটি গ্রাম চোখের পলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো। জায়গাটি কি আর কখনো আগের মতো হবে!’

দুর্যোগের আগে ও পরে নেপালের নুয়াকোটের বেত্রাবতী বাজার
দুর্যোগের আগে ও পরে নেপালের নুয়াকোটের বেত্রাবতী বাজার। ছবি: দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের নিবন্ধ থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট

শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, সেটে ফিরবেন না নায়িকা

প্রকাশ ২৫ নভেম্বর ২০২৫ঃ রোমান্টিক সিরিয়াল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’–এ জুটি বেঁধে পরিচিতি পেয়েছেন কলকাতার দুই অভিনয়শিল্পী জিতু কমল ও দিতিপ্রিয়া রায়। তবে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিয়ে কলকাতায় বেশ চর্চা চলছে।

জিতুর সঙ্গে রোমান্টিক দৃশ্য করবেন না, এমন দাবি তোলেন দিতিপ্রিয়া। এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

বিষয়টি নিয়ে চর্চার মধ্যে ধারাবাহিকটি থেকে সরে দাঁড়ালেন দিতিপ্রিয়া রায়। কলকাতার আর্টিস্ট ফোরামকে এক ই–মেইলে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান ছোট পর্দার এই অভিনেত্রী।

ই–মেইলে দিতিপ্রিয়া লিখেছেন, তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ফলে সেটে আর ফিরতে পারবেন না। আর্টিস্ট ফোরাম জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা কোনো রকম হস্তক্ষেপ করাকে অনৈতিক বলে মনে করে।

আর্টিস্ট ফোরাম নায়ক-নায়িকার ঝামেলা মেটাতে একটি বৈঠক করে। বৈঠকে হাজির ছিলেন জিতু-দিতিপ্রিয়াসহ চ্যানেল ও প্রযোজনা সংস্থার প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে দিতিপ্রিয়া জানান, তিনি আর এই ধারাবাহিকে কাজ করতে চান না। টেকনিশিয়ানসহ বাকিদের স্বার্থের কথা ভেবে দিতিপ্রিয়াকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছিল, তবে সায় দেননি অভিনেত্রী।

দিতিপ্রিয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি চ্যানেল ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে জানিয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম। ফোরাম বলছে, বিষয়টি নিয়ে চ্যানেল ও প্রোডাকশন হাউস সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রশ্ন উঠেছে, দিতিপ্রিয়া সরে দাঁড়ালে সিরিয়ালটির কী হবে? ‘অপর্ণা’ চরিত্রে কাকে দেখা যাবে? তবে সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর মেলেনি।

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা অবলম্বনে

দিতিপ্রিয়া রায়
দিতিপ্রিয়া রায়। ইনস্টাগ্রাম থেকে

Thursday, August 27, 2026

দৈনন্দিন খাবারে সিসার ঝুঁকি থেকে কীভাবে মুক্ত হবেন by ডা. হিমেল বিশ্বাস

সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলো আমাদের রোজকার খাদ্যে সিসার উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রোটিন পাউডার, দারুচিনি, আপেল এমনকি ডার্ক চকলেটের মতো জনপ্রিয় পণ্যগুলোয়ও সিসা পাওয়া যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, আমাদের খাবার কি তবে এক ‘অদৃশ্য ঘাতক’-এর কবলে?

লেড বা সিসা একটি মৌলিক উপাদান, যা মাটি ও পরিবেশে সব জায়গায় বিদ্যমান। ফলে গাছপালা এবং প্রাণিজ খাদ্যে সামান্য পরিমাণে সিসা থাকা স্বাভাবিক। তবে এই সামান্য উপস্থিতি থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি এবং জনমনে তৈরি হওয়া আতঙ্কের মধ্যে একটি বড় ফারাক রয়েছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘ঝুঁকি উপলব্ধির ব্যবধান’।

ঝুঁকির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে শিশুরা

সিসার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, শিশুদের জন্য সিসার সংস্পর্শে আসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। এমনকি সামান্য মাত্রাও তাদের স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি করে, যা বুদ্ধিমত্তার বিকাশে বাধা দেয়। বাংলাদেশেও কোটি কোটি শিশু সিসা দূষণের শিকার।

২০২২ থেকে ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকার শিশুদের রক্তে সিসার গড় ঘনত্ব হলো লিটারপ্রতি ৬৭ মাইক্রোগ্রাম। মার্কিন রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) নিরাপদ মান লিটারপ্রতি ৩৫ মাইক্রোগ্রাম, মানে স্বাভাবিকের চেয়ে এই মাত্রা অনেকটা বেশি বলতে গেলে প্রায় দ্বিগুণ। সিসা কোনো মাত্রায় গ্রহণযোগ্য নয়। এই নীরব বিষ শিশুদের আইকিউ কমিয়ে দিচ্ছে, আচরণগত সমস্যা বাড়াচ্ছে।

তবে এ সমস্যায় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঝুঁকির মাত্রা পরিমাপের ক্ষেত্রে ‘ডোজ’ বা পরিমাণের গুরুত্ব অপরিসীম। মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) সিসা গ্রহণের যে সর্বোচ্চ দৈনিক সীমা (আইআরএল) নির্ধারণ করেছে, তা যথেষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই করা হয়েছে।

আমাদের করণীয় কী?

১. খাদ্যের বৈচিত্র্য: সিসা দূষণ এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনা। কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবার বেশি পরিমাণে বা নিয়মিত না খেয়ে, সব ধরনের খাবার পরিমিত পরিমাণে খান। এটি সিসাসহ যেকোনো পরিবেশগত দূষণকারীর সংস্পর্শ কমিয়ে দেবে।

২. সরকারি নজরদারি: সিসার প্রধান উৎস, যেমন পুরোনো রং, দূষিত পানি ও ব্যাটারি কারখানার বর্জ্য—এগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।

৩. সচেতনতা বৃদ্ধি: সিসাযুক্ত মসলা, খেলনা বা প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের মাটি বা পুরোনো পেইন্টযুক্ত দেয়ালে খেলতে নিরুৎসাহিত করুন।

প্রয়োজন দ্রুত ও সম্মিলিত পদক্ষেপ

২০৪০ সালের মধ্যে ‘সিসামুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নে গৃহীত কর্মপরিকল্পনাগুলো হচ্ছে:

১. উৎস অপসারণ: সিসা দূষণের হটস্পট চিহ্নিত করে দ্রুত অপসারণ ও মাটি পরিষ্কার করা।

২. নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগ: সিসাযুক্ত রং, মসলা ও পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রির ওপর কঠোর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

৩. জনসচেতনতা: সিসা দূষণ প্রতিরোধের উপায় (যেমন: ঘন ঘন হাত ধোয়া, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ও পুরোনো রং করা দেয়াল থেকে শিশুদের দূরে রাখা) নিয়ে ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরি করা।

সিসা নিয়ে ‘ভূতের ভয়’ নয়, বরং বৈচিত্র্যময় ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাসই হোক সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি সিসামুক্ত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।

সোর্স: ওয়েব এমডি, জার্নাল অব হেলথ অ্যান্ড পলিউশন

* ডা. হিমেল বিশ্বাস, ক্লিনিক্যাল স্টাফ, স্নায়ুরোগ বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা

দারুচিনি, আপেল এমনকি প্রোটিন পাউডারের মতো জনপ্রিয় পণ্যগুলোয়ও সিসা পাওয়া যাচ্ছে
দারুচিনি, আপেল এমনকি প্রোটিন পাউডারের মতো জনপ্রিয় পণ্যগুলোয়ও সিসা পাওয়া যাচ্ছে। ছবি: গ্রাফিকস

পুরুষের সমস্যা ভেরিকোসিল কেন হয়, চিকিৎসা কী? by অধ্যাপক ডা. আজফার উদ্দীন শেখ

অণ্ডকোষ বা টেস্টিসের শিরাগুলো যখন অনেক মোটা হয়ে যায়, তাকে ভেরিকোসিল বলে। ভেরিকোসিল অণ্ডকোষে ব্যথার অন্যতম কারণ। ভেরিকোসিল আর ভেরিকোস ভেইন এক নয়; ভেরিকোস ভেইন সাধারণত পায়ের মোটা ও আঁকাবাঁকা শিরাকে বোঝায়।

ভেরিকোসিলে সমস্যা

ভেরিকোসিলের জন্য অণ্ডকোষ/ অণ্ডথলি মোটা দেখায়, হালকা ধরনের বিরক্তিকর ব্যথা থাকে; যা অণ্ডকোষ, কুঁচকি হয়ে পশ্চাৎ পিঠেও যেতে পারে। শিশুকাল বা যৌবনের শুরুতে ভেরিকোসিল হলে অণ্ডকোষ ছোট হয়ে যেতে পারে। ভেরিকোসিল থাকলে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা ও ফ্রি–রেডিকেল বেড়ে যায়, ফলে স্বাভাবিক শুক্রাণু উৎপাদন ও এর চলন ব্যাহত হয়। শুক্রাণুর এসব সমস্যা পুরুষের বন্ধ্যত্বের জন্য দায়ী। তা ছাড়া ভেরিকোসিল থাকলে অণ্ডকোষ থেকে টেস্টোসটেরন হরমোন তৈরি কমে যেতে পারে, এ কারণে যৌন দুর্বলতা ও যৌন সম্পর্কে অনাগ্রহ দেখা দিতে পারে।

কারণ

অণ্ডকোষের শিরাগুলো যদি ঠিকভাবে রক্ত অণ্ডকোষ থেকে পেটের ভেতর বহন করতে না পারে, তাহলে ভেরিকোসিল হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিরার ভেতরের ভালভগুলো নষ্ট হয়ে যায় বা কাজ করে না। তা ছাড়া পেটের ভেতরের অপেক্ষাকৃত উষ্ণ রক্ত রিফ্লাক্স হয়ে বা উল্টোপথে অণ্ডকোষে চলে এলে সেখানকার তাপমাত্রা বেড়ে যায়।

রক্ত জমে থাকতে থাকতে শিরাগুলো ফুলে যায় ও আঁকাবাঁকা হয়ে যায়। অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, ফ্রি–রেডিকেল ও শুক্রাণুর ডিএনএতে ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে ভেরিকোসিল শুক্রাণু উৎপাদন ও চলনের ক্ষতি করে বন্ধ্যত্ব সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাঁদের সন্তান হচ্ছে না ও সিমেন অ্যানালাইসিসে শুক্রাণুর সমস্যা আছে, তাঁদের ভেরিকোসিল আছে কি না, পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং এর চিকিৎসা নিতে হবে।

চিকিৎসা

● ওষুধের মাধ্যমে ভেরিকোসিলের ভালো চিকিৎসা নেই। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যথার জন্য ওষুধ ও অণ্ডকোষের সাপোর্ট বা টাইট আন্ডারওয়্যার ব্যবহার করলে সাময়িক আরাম পাবেন; কিন্তু পুরোপুরি রোগ নিরাময় হবে না।

● অনেক ক্ষেত্রে অনেক দিন ধরে অণ্ডকোষে ব্যথা থাকে। ব্যথার ওষুধ আর অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে অনেকে আশ্বাস পান যে এতেই ভালো হয়ে যাবেন। এমন রোগীর অনেকেরই কিন্তু ভেরিকোসিল আছে, যা ধরা পড়তে দেরি হয়। তাই ভেরিকোসিল সন্দেহ হলে বা অণ্ডকোষে ব্যথা হলে অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্ট ও ইন্ডোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

● ভেরিকোসিলের সঠিক ও সর্বোত্তম চিকিৎসা হলো মাইক্রোসার্জিক্যাল ভেরিকোসিলেকটমি। এতে রোগটি ফিরে আসার আশঙ্কা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বা নেই বললেই চলে। এ পদ্ধতিতে সর্বাধুনিক মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে মাইক্রোসার্জিক্যাল সেন্টারে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের জন্য মাত্র এক দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। দুই দিন পর থেকেই স্বাভাবিক কাজকর্ম করা সম্ভব। এ অস্ত্রোপচার অত্যন্ত নিরাপদ ও সবচেয়ে কার্যকর।

* অধ্যাপক ডা. আজফার উদ্দীন শেখ, বিভাগীয় প্রধান, ইউরোলজি ও ইন্ডোলজি, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ

ভেরিকোসিল থাকলে টেস্টোসটেরন হরমোন তৈরি কমে যেতে পারে
ভেরিকোসিল থাকলে টেস্টোসটেরন হরমোন তৈরি কমে যেতে পারে। ছবি: আনস্প্ল্যাশ

Wednesday, August 26, 2026

৯ মিনিটের এই সহজ শরীরচর্চায় বদলে ফেলুন জীবন by মমতাজ মোস্তফা

সকালে কয়েক দফা অ্যালার্মের পরও রিচার ঘুম ভাঙতে চায় না। আর ঘুম থেকে জেগে গেলেও বিছানায় আরও বেশ কিছুক্ষণ কেটে যায় ফোন স্ক্রল করে। আর সকালের ওয়ার্কআউট? সেটা আগামীকালের জন্য তোলা থাকে। যে আগামীকাল আসলে আর কখনোই আসে না।

একদিন রাতে ফোন স্ক্রল করতেই তার সামনে এল থ্রি ইনটু থ্রি ফিটনেস রুল নামে ছোট্ট একটি ভিডিও। তিন মিনিট তিন মিনিট করে তিন বারে মোট ৯ মিনিটের ছোট্ট একটি ওয়ার্কআউট।

একধরনের কৌতূহল থেকেই সেটা করে দেখার সিদ্ধান্ত নেন রিচা।

ফোনে তিন মিনিটের টাইমার সেট করে প্রথম ধাপের স্ট্রেচিং শুরু করেন রিচা, তার মনে হয় যেন অনেক পুরোনো জং ধরা একটা দরজা খোলার চেষ্টা করছেন। তারপর স্কোয়াট এবং লাঞ্জ করেন। সবশেষের ধাপ ছিল জাম্পিং জ্যাক। যখন টাইমার বিপ বাজে তখন রীতিমতো হাঁপাচ্ছিলেন রিচা, দরদর করে ঘাম ঝরতে থাকে। সবচেয়ে বড় কথা কফি না খেয়েই ঘুম ঘুম ভাব, অলসতা কেটে গিয়ে বেশ চনমনে লাগতে থাকে।

দ্বিতীয় দিন যথারীতি দেরিতে ঘুম ভাঙলে ভাবলেন আজ আর ওয়ার্কআউট করবেন না। কিন্তু যেই মনে পড়ল ওয়ার্কআউটটা মাত্র ৯ মিনিটের, আবার করে দেখার সিদ্ধান্ত নিলেন। এভাবে চতুর্থ দিনে তার মধ্যে শরীরচর্চাটি নিয়মিত করার ব্যাপারে একটা আগ্রহ তৈরি হলো। পছন্দের কিছু মিউজিক বাছাই করে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয়নার সামনে শরীরচর্চা করতে লাগলেন। দুই সপ্তাহ পরে রিচা কিছু ছোট ছোট পরিবর্তন লক্ষ্য করেন।

এনার্জি (শক্তি): রিচার নিজের কাছে নিজেকে বেশ ঝরঝরে, প্রাণবন্ত ও কর্মচঞ্চল মনে হয়। আগে যেখানে এক কাপ কফি ছাড়া ঘুম কাটিয়ে কাজে মনোনিবেশ করতে পারতেন না, এখন মাত্র ৯ মিনিটের এই শরীরচর্চা তাঁর কাজের উদ্দীপনা অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছিল।

ফোকাস বা মনোযোগ: কাজ শুরুর প্রথম থেকেই তাঁর চিন্তা ও মনোযোগ ঠিকঠাক কাজ করছিল। কাজের বিষয় ও পরিকল্পনা মাথার মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় তা এগিয়ে নেওয়া দ্রুত ও সহজ হয়।

মেজাজ: সকাল থেকেই মেজাজ ঠান্ডা রেখে কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল। অকারণে লোকজনের ওপর রেগে যাওয়া, মাথা গরম করে ফেলার প্রবণতা কম লক্ষ করা যাচ্ছিল।

ধারাবাহিকতা:
নিজের মধ্য অস্থিরতা অনেক কম মনে হচ্ছিল। কাজের সঙ্গে একাগ্রভাবে লেগে থাকা, একটার পর একটা ধারাবাহিকভাবে করে যাওয়া অনেকটা সহজ মনে হচ্ছিল। রিচা জানান ওজন কমানো বা ফিট দেখানো তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। কেবল অলসতার কারণে অপরাধবোধে না ভুগে কর্মোদ্দীপনা নিয়ে সুন্দরভাবে একটা দিন শুরু করতেই এই ওয়ার্কআউট শুরু করেন।

রিচা জানান, ফিটনেসের সবচেয়ে কঠিন অংশ শরীরচর্চা নয়, বরং শরীরচর্চা শুরু করা। যখন আমরা অনলাইনে ওয়ার্কআউট প্ল্যান দেখি, তখন সেগুলো বেশির ভাগ সময় ৪৫ মিনিট বা এক ঘণ্টার শরীরচর্চা বা যোগব্যায়াম হয়ে থাকে। এত দীর্ঘ সময়ের শারীরিক কর্মকাণ্ডের কথা ভেবে উৎসাহ হারিয়ে ফেলি। কিন্তু বিষয়টা যখন মাত্র তিন মিনিটের হয়, তখন তা আর অতটা ক্লান্তিকর মনে হয় না।

রিচা জানান, অভ্যাসের মধ্যে আসার পর এই ৯ মিনিটের সঙ্গে তিনি মাঝেমধ্যে পুশআপ যোগ করে শরীরচর্চাটাকে আরও বেশি সময় ধরেও চালিয়ে নেন। তাঁর মতে, থ্রি ইনটু থ্রি রুল একটা ছোট্ট নিয়ম কিন্তু একটা বিরাট পরিবর্তন। যা কেবল তার সকালটাই নয়, নিজেকে দেখার ধরনটাও বদলে দিয়েছে। তাই বাড়িতে, ভ্রমণে যেখানেই থাকুক না কেন, ৯ মিনিটের ছোট্ট এই শরীরচর্চা কখনোই বাদ দেন না রিচা।

পরিশেষ রিচা জানান, এটি সম্পূর্ণই তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ওপর ভিত্তি করে লেখা। কোনো চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য বা জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার আগে যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র: মিডিয়াম

ফোনে তিন মিনিটের টাইমার সেট করে প্রথম ধাপে স্ট্রেচিং শুরু করতে পারেন
ফোনে তিন মিনিটের টাইমার সেট করে প্রথম ধাপে স্ট্রেচিং শুরু করতে পারেন। ছবি: সুমন ইউসুফ

কেউ আমার অভিনয় দেখতে না চাইলে কিছু করার নেই: অঞ্জন দত্ত

মুক্তি পেল অঞ্জন দত্ত অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দেরি হয়ে গেছে’। ৪৫ বছরের ক্যারিয়ারে অভিনয় ও পরিচালনা মিলিয়ে এটি তাঁর ৩১তম চলচ্চিত্র। মুক্তির দিন সকালেই এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে নিজের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা ও দর্শকদের প্রতি প্রত্যাশার কথা খোলামেলাভাবে তুলে ধরেন অঞ্জন।

অঞ্জন দত্ত লিখেছেন, ‘খুব বেছে বেছে কাজ নিয়েছি। চেষ্টা করেছি খুব সস্তার গান বা নিম্ন রুচির কিছু না করার। সব সময় পারিনি। তিনটি সিনেমা নিয়ে আজও আমি বিব্রত, লজ্জিত। নিজের বলে স্বীকার করে নিতে অসুবিধে হয়। রাজনীতি, বিতর্ক, ঝগড়া, বোকামি, মধ্য মেধা এড়িয়ে চলেছি। পরিস্থিতির রং যতই বেগুনি হোক। আমার বয়স ৭২। কৌতুকবোধ আমার বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল।’

পোস্টে তিনি লেখেন, শীত, সকাল-বিকেলের রোদ্দুর, ফুলঘাটের স্টিমার, হুগলি নদীর সূর্যাস্ত—এসব তাঁর মন ভালো করে দেয়। একই সঙ্গে কলকাতার প্রতি নস্টালজিয়াও উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। তিনি লিখেছেন, ‘কিন্তু এরই মধ্যে কার সিনেমা কতবার অলমোস্ট হাউসফুল হয়ে রমরমিয়ে ব্যবসা করছে, সেটা প্রমাণ করবে ফেসবুক। জেদি বাছুরের মতো দর্শক কিছুতেই সিনেমা হলে যেতে চাইছে না। পর্বতপ্রমাণ প্রচার করে, যেনতেন প্রকরণে তাদের টেনে, হিঁচড়ে হলে ঢোকানোর আপ্রাণ চেষ্টা চলছে, চলবে। আমিও সেই দলে আছি। কিন্তু আমার অভিনয় হলে গিয়ে কেউ দেখতে না চাইলে আমার কিছু করার নেই। যদি দু–একজন ভুল করে ঢুকে পড়ে, তাহলে তাদের মুখের কথা আমার একমাত্র সম্বল। তা ছাড়া আমরা এমন কোনো সিনেমা বানাচ্ছি না, যেটা না দেখলে জীবন ব্যর্থ হয়ে যাবে। আর একটা সিনেমার জন্য জীবন ব্যর্থ বা সার্থক হবেই বা কেন? আমরা তো কেউ যুগান্তকারী কিছু বানাচ্ছি না।’

সংবাদমাধ্যম ও চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রভাব নিয়েও স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, মিডিয়া বা সাংবাদিকদের লেখার ধার বা দাম এতটাই কম যে তারা গাদা গুচ্ছের লিখে গেলেও দর্শক হলমুখী হবে না। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা কয়েকজন চেষ্টা করে যাচ্ছি একটু ভালো সিনেমা করার। কারণ, এটা করেই আমাদের রোজগার। সাংবাদিক বা পডকাস্টের দলবল চেষ্টা করছে বাজার ঠান্ডা বা গরম করার। পোস্টারের ওপরে পোস্টার পড়ে যাচ্ছে। সবই বাসী খবর।’
দর্শকদের উদ্দেশে অঞ্জন লিখেছেন, ‘তবে এটাও ঠিক যে আপনারা অর্থাৎ দর্শকদের হাতে একদম সময় নেই বা আপনাদের পকেট গড়ের মাঠ, এ রকম আদৌ নয়। আপনারাও কিন্তু চাইলে কিছুক্ষণের জন্য নিজেদের টেলিফোনটা বন্ধ করে ফেলতে পারেন। সর্বক্ষণ ওটা নিয়ে গেম খেলা, একই রান্নার একই রেসিপি দেখা, কী করলে রোগা হবেন, হজম শক্তি বাড়বে, কোথায় ধস নামল, কে ছাদে উঠে নাচ্ছে, কে কী গোগ্রাসে খাচ্ছে, আগামী সপ্তাহে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে কি না, সেই নিয়ে কারুর বাতেলা শোনা এসব কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে একটু ভেবে দেখতে পারেন, আপনার পছন্দ হতে পারে এ রকম একটা সিনেমার হলে ঢুকবেন কি না। বিশাল কোনো ক্ষতি হবে না।’

দর্শকদের প্রতি একটি অনুরোধও রেখেছেন অঞ্জন। বলেন, ‘নিজের পছন্দটা ঠিক করতে হবে। আমি লিখছি বলে নয়। আমি একটা প্রস্তাব দিচ্ছি মাত্র। নিজের পছন্দ নির্ধারিত করার। যা চলছে তার মধ্যে কিসসু পছন্দ না হলে ফোনটা নিয়েই থাকুন। কোনো সমস্যা নেই। আমারও বেশির ভাগ সময় হলে যেতে ইচ্ছে করে না। কারণ, আমার কোনোটাই পছন্দ হচ্ছে না। কিন্তু যদি পছন্দ হয় বা ইচ্ছে করে, তাহলে ঢুকে পড়ুন।’
নতুন ছবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের সিনেমার নাম “দেরি হয়ে গেছে”। নামটা শুনে দেরি করে দেখব ভাবলে দেখতে পারবেন না, কারণ দেরি না করেই উঠে যাবে…মমতা শঙ্কর, আমার মতে, তার ইদানীংকালের শ্রেষ্ঠ অভিনয় করেছেন…আমি একটা রবীন্দ্রনাথের গান গেয়েছি শ্রাবণী সেনের সঙ্গে। গপ্পোটা মন্দ নয়।’
শেষে দর্শকদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ‘টেলিফোন বন্ধ করবেন না করবেন না?’

অঞ্জন দত্ত
অঞ্জন দত্ত। ছবি: ফেসবুক থেকে

Tuesday, August 25, 2026

যে ৩টি কৌশল ব্যর্থ হওয়ায় ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হার by ব্র্যাট ডেভরোক্স

ইরান ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘাত এখনো শেষ হয়নি; কিন্তু বিশ্লেষকেরা এর মধ্যেই এ থেকে কী শিক্ষা নেওয়া উচিত, তা ঘোষণা করতে তাড়াহুড়া শুরু করে দিয়েছেন। নিরাপত্তা নীতি–সংক্রান্ত একটি নতুন ধারার নিবন্ধে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত সামরিক অভিযানের বিভিন্ন রসদ–সংক্রান্ত ও কৌশলগত ঘাটতিগুলো তুলে ধরা হচ্ছে। যেমন জ্বালানি তেল ও সার পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার প্রস্তুতি না থাকা, নিখুঁত অস্ত্র ও প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া, সস্তা একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন মোকাবিলার কার্যকর প্রস্তুতির অভাব, পর্যাপ্ত মাইন অপসারণকারী জাহাজের ঘাটতি ইত্যাদি।

ভবিষ্যতের সংঘাতগুলোর প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এগুলো হয়তো দরকারি শিক্ষা হতে পারে। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে দেশের চরম ব্যর্থতার মূল কারণ এগুলো নয়। সংঘাতের অনেক আগেই যদি এই বিষয়গুলো সমাধান করা যেত, তাহলেও ট্রাম্প প্রশাসন তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য—অর্থাৎ শাসনব্যবস্থার পতন, ইরানের দূরপাল্লার আঘাত হানার ক্ষমতা ধ্বংস করা বা পারমাণবিক অস্ত্র ও আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোর বিষয়ে তাদের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা—অর্জন করতে পারত কি না, তা বলা কঠিন।

অস্ত্রের মজুত বাড়ানো কিংবা তেলসংকটের প্রস্তুতি হয়তো দীর্ঘমেয়াদি বোমাবর্ষণ অভিযান বা অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির সুযোগ দিত। কিন্তু গত ছয় মাসে যা অর্জিত হয়নি, তা যে আরও সাত মাসের বোমাবর্ষণ বা অবরোধে অর্জিত হতো—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। কৌশলগত ব্যর্থতার ফলে ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে আরও উন্মুক্ত সুযোগ পাওয়া, হরমুজ প্রণালিতে আগের চেয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর প্রভাব বৃদ্ধির সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখনো অত্যন্ত সক্ষম। এমনকি এই ভুলভাবে পরিকল্পিত যুদ্ধেও তারা এমন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, যা বিশ্বের অন্য কোনো সামরিক বাহিনীর নেই। তারা নিজস্ব উপকূল থেকে সাত হাজার মাইলের বেশি দূরে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেছে এবং ইরানের আকাশসীমার ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

এর ফলে ক্ষয়ক্ষতির চিত্রটি অত্যন্ত একপেশে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন, যেখানে ইরানের পক্ষে মৃতের সংখ্যা নিশ্চিতভাবেই হাজার ছাড়িয়ে গেছে (যদিও সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা নেই)। সংক্ষেপে বলতে গেলে, পরিকল্পনা ও সরবরাহের ব্যর্থতা সত্ত্বেও মার্কিন সামরিক বাহিনী দেখিয়েছে যে তারা এখনো অত্যন্ত বিপজ্জনক।

তবে কোনো প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বই সেই কৌশলগত অক্ষমতার ক্ষতিপূরণ করতে পারে না, যা সামরিক বাহিনীর কাছে অসম্ভব কিছু দাবি করে বসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক বাহিনীর কাছে একটা নয়, তিন-তিনটি অসম্ভব কাজ চেয়েছেন এবং সেগুলো করতে ব্যর্থ হলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

প্রথম অসম্ভব কাজ ছিল—কোনো ধরনের পদাতিক বা স্থল অভিযান ছাড়াই বোমাবর্ষণ করে শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো। কেবল বিমানশক্তি দিয়ে কৌশলগত বিজয় অর্জনের স্বপ্ন স্বাধীন বিমানবাহিনীগুলো ১৯২১ সাল থেকেই দেখে আসছে, যখন ইতালীয় তাত্ত্বিক জিউলিও দুহেত ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে কেবল বোমারু বিমান দিয়েই ভবিষ্যৎ যুদ্ধে জয় পাওয়া সম্ভব। তিনি ১৯২৮ সালে এমনকি এটাও দাবি করেছিলেন যে একটি মাঝারি আকারের দেশে মাত্র ৩০০ টন বোমা ফেললেই এক মাসের মধ্যে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে।

কেবল আকাশপথেই যুদ্ধ জেতা যায়—এই তত্ত্ব আধুনিক শিল্পযুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লন্ডনের ওপর জার্মানির ফেলা ৪০ হাজার টন বোমা কেবল ব্রিটিশদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার মানসিকতাকে আরও শক্ত করেছিল। জবাবে অক্ষশক্তির ওপর মিত্রবাহিনীর ফেলা ২৫ লাখ টন বোমা অ্যাডলফ হিটলারের রাজত্বকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করলেও তা কিন্তু তাদের পতন ঘটাতে পারেনি; বরং যুদ্ধের প্রতি সাধারণ জনগণের সমর্থনকে আরও চাঙা করেছিল।

ভিয়েতনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেলা ৮০ লাখ টন বোমায় কাজের কাজ কিছুই হয়নি; বরং তা সেখানে কমিউনিস্টদের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন বাড়াতে সাহায্য করেছিল।

পারমাণবিক হামলা ছাড়া কেবল বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করে কোনো শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলা হয়তো অসম্ভব। এর কাছাকাছি যা গিয়েছিল, তা হলো স্লোবোদান মিলোসেভিচের অধীনে সার্বিয়ার ওপর ন্যাটোর বিমান হামলা। কিন্তু ১৯৯৯ সালের জুনেই সেখানে বোমাবর্ষণ বন্ধ হয়েছিল, আর মিলোসেভিচ সরকারের পতন ঘটেছিল ২০০০ সালের অক্টোবরে গণবিক্ষোভের মুখে।

কেবল বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানি সরকারের পতন ঘটানোর সম্ভাবনা ছিল শূন্যের কোঠায়। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছে পরবর্তী অসম্ভব দাবি ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা অকার্যকর করা—সেটিও কেবল আকাশপথ থেকে। কিন্তু সামান্য পদাতিক বাহিনী ব্যবহার করে মোবাইল লঞ্চার অকার্যকর করার এই চেষ্টাও অতীতে বারবার করা হয়েছে এবং প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও আমেরিকান ও ব্রিটিশ বিমানবাহিনী একটি বিস্তৃত বোমাবর্ষণ অভিযান চালিয়ে জার্মানির ভি-১ ও ভি-২ রকেটের উৎপাদন ও উৎক্ষেপণকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা উৎক্ষেপণ বন্ধ করতে পারেনি। এগুলো লুকিয়ে রাখা বা শক্ত আবরণে ঢেকে রাখা খুবই সহজ ছিল।

নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্রের বিকাশ এই হিসাবকে পাল্টে দিতে পারেনি। কারণ, এর বিপরীতে চলে এসেছে মোবাইল লঞ্চব্যবস্থা। প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় আকাশ থেকে ইরাকি স্কাড ক্ষেপণাস্ত্রের লঞ্চার ধ্বংস করার চেষ্টা একটিও নিশ্চিত ধ্বংসের প্রমাণ দিতে পারেনি।

একইভাবে ইসরায়েলও গাজা ও দক্ষিণ লেবানন থেকে হামাস ও হিজবুল্লাহর রকেট হামলা ঠেকাতে দুই দশক ধরে ব্যাপক বিমান অভিযান চালিয়েছে, কিন্তু কেবল স্থল অভিযান চালিয়েই সেই রকেটগুলোকে নীরব করা সম্ভব হয়েছিল।

ইয়েমেন থেকে হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বন্ধ করতে একাধিক দেশের জোট চেষ্টা করেছে, অথচ এখনো সেই আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। সুতরাং নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও কেবল আকাশ থেকে মোবাইল উৎক্ষেপণব্যবস্থাগুলোকে ধ্বংস করা সম্ভব নয়, যা সহজে আড়াল থেকে নিক্ষেপ করে দ্রুত নতুন জায়গায় সরে যেতে পারে। শাসনব্যবস্থার পতনের মতোই, রকেট হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতেও স্থলবাহিনীর প্রয়োজন হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের শেষ ভরসা ছিল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এক নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চালু রাখা, যাতে জিসিসিভুক্ত (গালফ কো–অপারেশন কাউন্সিল) দেশগুলোর অবকাঠামো ইরান ধ্বংস করতে না পারে। কারণ, এই দেশগুলোর আতিথেয়তার ওপরই মার্কিন সামরিক অভিযান নির্ভর করছিল। আক্রমণ রোখার সস্তা উপায়ে বেশি বিনিয়োগ এবং স্বল্পপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করলে হয়তো মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি আক্রমণের বড় একটি অংশ প্রতিহত করতে পারত।

কিন্তু যেখানে ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সেগুলোকে ঠেকানোর ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি সস্তা এবং দ্রুতগতির, সেখানে ইরান শেষ পর্যন্ত আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে ভাসিয়ে দেবে—এটাই ছিল স্বাভাবিক। দুটি ব্যর্থতার পর তৃতীয় আরেকটি অসম্ভব কাজ মার্কিনদের রক্ষা করতে পারল না।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর যদি ড্রোন এবং রণতরি, মাইন অপসারণকারী জাহাজ ও সুরক্ষিত বিমানঘাঁটি–সম্পর্কিত কেনাকাটার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো নিয়ে চোখ খোলার প্রয়োজন থেকে থাকে, তবে সেই শিক্ষা তারা পেয়ে গেছে। কিন্তু এই যুদ্ধ পেন্টাগনের ভেতরে হারেনি; এটি হেরেছে হোয়াইট হাউসের অলিন্দে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছে অসম্ভব কিছু দাবি করার ঝুঁকি যদি ট্রাম্পের মাথায় না ঢোকে, তবে তা মনে করিয়ে দেওয়া ছিল তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব। অবশ্য ট্রাম্প কোনো অভিজ্ঞ ও যোগ্য প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বেছে নেননি; বরং পিট হেগসেথের মতো একজন অনুগত তোষামোদকারীকে বসিয়েছেন, যাঁর চরম অক্ষমতা তাঁকে কেবল আরও বেশি অনুগত করে তুলেছে।

হেগসেথ পেন্টাগনের শীর্ষ পদে থাকা এমন যেকোনো অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের ছেঁটে ফেলার জন্য বহুদূর হেঁটেছেন, যিনি অন্য কোনো মতামত দিতে পারেন। মার্কিন অফিসার কোর কখনোই রাজনীতিবিদের কাছে অপ্রিয় খবর পৌঁছে দেওয়ার কাজে খুব একটা পারদর্শী ছিল না, কিন্তু হেগসেথের এই কৌশলের কারণে প্রেসিডেন্টকে থামানোর মতো কেউ পেন্টাগনে অবশিষ্ট ছিল না।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন কাঠখড় পুড়িয়ে কোনোমতে সমস্যার সংকেত দেওয়ার চেষ্টা করলেও হেগসেথের অন্ধ সমর্থনের মুখে তা ধামাচাপা পড়ে যায়।

এর সবই পূর্বানুমানযোগ্য ছিল এবং বস্তুত এর অনেকটাই আগেভাগে বলা হয়েছিল। ফলে ইরানে এই বিপর্যয়ের তাৎক্ষণিক দায় ট্রাম্প এবং তাঁর অপদার্থ উপদেষ্টাদের ওপর বর্তালেও, চূড়ান্ত দায় এমন এক জায়গায় গিয়ে ঠেকে, যা কোনো রাজনীতিবিদ স্বীকার করবেন না—আর তা হলো দেশটির ভোটাররা।

ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ছিল মার্কিন সাধারণ ভোটারদের। একজন ব্যক্তি, যিনি স্পষ্টতই অক্ষম, যিনি অপ্রিয় বা ভিন্ন কোনো তথ্য গ্রহণে চরমভাবে অক্ষম এবং যিনি নিজেকে তোষামোদকারীদের দিয়ে ঘিরে রাখতে পছন্দ করেন।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর নেতা নির্বাচন করা আর কোনো রিয়্যালিটি শোর বিনোদনমূলক উপস্থাপক নির্বাচন করা যে এক কথা নয়, সেটাই এখন প্রমাণিত। পেন্টাগনের ভেতরে হয়তো ভুলগুলো নিয়ে প্রতিবেদন লেখা শুরু হয়ে গেছে।

কিন্তু তেলের মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে মার্কিন সম্পদের ক্ষয়—এই ব্যর্থতার কৌশলগত পরিণতিগুলো যখন আরও ঘনীভূত হতে থাকবে, তখন দেখার বিষয় একটাই: আমেরিকান ভোটাররা আদৌ বুঝতে পেরেছেন কি না যে ব্যালট বাক্সে করা ভুল পছন্দ থেকে কেবল সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব কখনোই তাদের সুরক্ষা দিতে পারে না।

* ব্র্যাট ডেভরোক্স, একজন সামরিক ইতিহাসবিদ, রোমান অর্থনীতি ও সামরিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। ফরেন পলিসি থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবিসংবলিত একটি ব্যানার। তেহরান, ইরান। ২ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবিসংবলিত একটি ব্যানার। তেহরান, ইরান। ২ জুলাই ২০২৬ ছবি: রয়টার্স