Saturday, August 22, 2026
এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীদের জন্য ‘বন্দে মাতরম’ পাঠ অস্বস্তিকর: শর্মিলা ঠাকুর
শর্মিলা ঠাকুর বলেন, ভারতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। তাদের মধ্যে অনেকে এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী। কিন্তু ‘বন্দে মাতরম’-এর পরবর্তী কিছু স্তবকে একাধিক হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে। যারা এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য ‘বন্দে কালী’ বা ‘বন্দে দুর্গা’র মতো বাক্য বলা অসুবিধাজনক হতে পারে। তাই দেশের সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হলে গানটির প্রথম দুই স্তবকই ভালো এবং গ্রহণযোগ্য।
বিজ্ঞাপন
শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্য ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা পেয়েছে। কংগ্রেস দলীয় অনুষ্ঠানে গানটির প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির নেতারা এ নিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা করছেন। ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পর জাতীয় গানটির পরিবেশন ও এর ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
সূত্র: জি নিউজ ও সিটি এয়ার নিউজ

Sunday, July 19, 2026
ইরানের গুপ্তচরবৃত্তি ঠেকাতে মাঠে নামানো হলো ইহুদি ধর্মগুরুদের
রাব্বিদের মাধ্যমে সচেতনতা
ইসরাইলের প্রধান রাব্বিনিকাল কাউন্সিলের সদস্য ও প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রাব্বি ইগ্যাল কোহেন অনুসারীদের সতর্ক করে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, ইরানি এজেন্টরা ছবি তোলা, অস্ত্র লুকিয়ে রাখা বা হত্যার মতো কাজের জন্য ইসরাইলের ভেতরে লোক নিয়োগের চেষ্টা করছে।
তিনি অনুসারীদের এই ফাঁদে পা না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এটি চরম ধর্মদ্রোহিতা এবং এর পরিণতি হবে জেল ও জীবন ধ্বংস।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অনুরোধেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এছাড়া কট্টর রক্ষণশীল (হারিদি) সম্প্রদায়ের পরিচিত মুখ ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ইসরাইল কোহেনও রাব্বিদের সঙ্গে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে এই প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। জুলাইয়ের শুরুতে হারিদি সম্প্রদায়ের আরেক সাংবাদিক উইদ্দিশ ভাষায় এই সতর্কবার্তা প্রচার করেছেন।
৬০টির বেশি মামলা
ইসরাইলি পুলিশ ও প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেনা, বেসামরিক নাগরিক, ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদি এবং আরবদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ৬০টিরও বেশি মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ তদন্তকারী আমিচাই প্যানেট্টা জানান, সন্দেহভাজনদের অনেকেই যুদ্ধের সময়েও শত্রুকে সাহায্য করেছেন।
টেলিগ্রাম ও এসএমএসের ফাঁদ
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলা এবং ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ওপর ইসরাইলের প্রথম হামলার পর তেহরান এই তৎপরতা বাড়িয়েছে। মূলত টেলিগ্রাম অ্যাপ ও ভুয়া নামে এসএমএস পাঠিয়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করা হয়। প্রথমে নিজের এলাকার সাধারণ ছবি বা ভিডিওর বিনিময়ে সহজ উপায়ে টাকা দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। পরে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল তথ্য চাওয়া হয়।
সাবেক শিন বেত কর্মকর্তা শালোম বেন হানান জানান, তার স্ত্রীও প্রতিনিয়ত বড় পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে ইরানি গোয়েন্দাদের কাছ থেকে এমন বার্তা পান। হাজারো চেষ্টার মধ্যে দু-একটি সফল হওয়াই ইরানের জন্য বড় সাফল্য।
উল্লেখযোগ্য কিছু গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা
মার্কিন শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার
গত ৯ জুন জেরুজালেমের একটি ধর্মীয় শিক্ষালয় থেকে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। টাকার বিনিময়ে সংবেদনশীল ছবি তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে মার্কিন দূতাবাস কোনো মন্তব্য করেনি।
সেনার কারাদণ্ড
২০২৫ সালের সংঘাতের সময় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের ভিডিও ইরানি এজেন্টের কাছে পাঠানোর দায়ে চলতি মাসে এক ইসরাইলি সেনাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সামরিক আদালত।
আয়রন ডোম ও বিমানবাহিনীর তথ্য ফাঁস
আইরন ডোম ইউনিটের এক রিজার্ভ সেনা ব্যাটারির অবস্থান, ৭টি বিমান ঘাঁটি ও পরিচালনা পদ্ধতির ভিডিও পাচারের অভিযোগে আটক হয়েছেন। এছাড়া বিমানবাহিনীর দুই টেকনিশিয়ান সার্জেন্ট টেলিগ্রামে তথ্য পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।
নেতা হত্যার ষড়যন্ত্র
হাইফা থেকে ২২ বছর বয়সি এক যুবককে রাজনৈতিক নেতা হত্যা ও বিস্ফোরক তৈরির প্লটে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হাইফা বন্দর ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের স্থানের ছবি তুলেছিলেন।
চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে জালিয়াতি
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মামলাটি ঘটেছে ২৪ বছর বয়সি হারিদি শিক্ষার্থী মেইর নাহুম ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। তিনি চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ইসরাইলের বিশেষ '৮২০০' গোয়েন্দা ইউনিটের ভুয়া নথিপত্র তৈরি করেন।
তিনি ইরানি এজেন্টকে জানান, ২০২৪ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পেছনে ইসরাইল জড়িত ছিল।
এছাড়া এক সাধারণ ইরানি নাগরিকের নাম ইসরাইলি তথ্যদাতা হিসেবে দেন, যাকে পরে ইরান জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়। এই কাজের জন্য তারা ডিজিটাল কারেন্সিতে ১ লাখ শেকেল (৩৫ হাজার ডলারের বেশি) নেন।
তাদের আইনজীবী আরিয়েল আতারি দাবি করেছেন, তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ইরানকে ঠকিয়ে টাকা নিয়েছেন এবং ইসরাইলকে ঝুঁকিতে ফেলেননি।
তবে পুলিশ বলছে, রাইসিকে নিয়ে করা মিথ্যা দাবি যুদ্ধ লাগিয়ে দিতে পারত। আজ রোববার আদালতে এই দুই ভাইয়ের শুনানি রয়েছে।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
Monday, July 6, 2026
খামেনির শেষবিদায়ের অনুষ্ঠানে ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে কী বার্তা দিচ্ছে ইরান
সুচিন্তিত বক্তব্য, পরিকল্পিত কর্মসূচি এবং সংগঠিত জনসমাবেশের মাধ্যমে তেহরান এমন একটি বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যেন ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানি সরকারের সমর্থকদের মধ্যে ঐক্যের চিত্র ফুটে উঠছে।
তেহরানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের মধ্য দিয়ে খামেনির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। শোকযাত্রার মধ্য দিয়ে তাঁর মরদেহ ইরানের বিভিন্ন শহরে নেওয়া হবে। ইরাকের বিভিন্ন শহরেও হবে শোকযাত্রা। এই শোকযাত্রার প্রতিটি ধাপে খামেনির জীবন, রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং সামগ্রিকভাবে শিয়া সম্প্রদায়ের নানা প্রতীকী দিককে গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হবে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনে তিনি নিহত হন। এরপর গত মার্চ মাসে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ইরানে সরকারিভাবে দেওয়া বার্তাগুলোতে খামেনির মৃত্যুকে ‘শাহাদাত’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশকে জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
শেষবিদায়ের আয়োজনের আনুষ্ঠানিক স্লোগান ‘আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে’। ইরানের বিভিন্ন স্থানে টানানো ব্যানার এবং শোকহত মানুষের বহন করা পোস্টারে এ স্লোগান দেখা যাচ্ছে।
খামেনির মুষ্টিবদ্ধ হাত
মুষ্টিবদ্ধ হাতের একটি প্রতীকী চিত্র খামেনির শেষকৃত্যের সবচেয়ে পরিচিত প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে ইরানের সরকারি প্রচারে এই প্রতীক ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির নামে প্রচারিত একটি খুদে বার্তা থেকে অনুপ্রাণিত বলে জানানো হচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং তাঁর কোনো প্রকাশ্য বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার কিছুদিন আগে গত ১২ মার্চ ওই খুদে বার্তা প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ১৯৮১ সালে বোমা হামলায় হত্যাচেষ্টার সময় স্প্লিন্টারের গুরুতর আঘাত ও দগ্ধ হওয়ার কারণে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তাঁর ডান হাতের কার্যক্ষমতা হারিয়েছিলেন। মোজতবা নাকি শুনেছেন, ওই সময় খামেনির সুস্থ হাতের মুষ্টি শক্ত করে বন্ধ ছিল।
নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টা এড়ানোর জন্য মোজতবা খামেনি তাঁর বাবার শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিগুলোতে প্রকাশ্যে অংশ নেবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
শেষবিদায়–সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সাজসজ্জা ও প্রচারে কালো ও লাল রঙের ব্যাপক ব্যবহার করা হয়েছে। এই দুই রঙের মাধ্যমে শোক, শাহাদাত এবং প্রতিশোধের আহ্বান—এই তিন বার্তা একসঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে।
গতকাল রোববার বিকেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, ‘নিজেদের নেতাকে শেষবিদায় জানাতে এবং তাঁর শোকযাত্রায় অংশ নিতে সমবেত এই জনসমুদ্র দুটি স্লোগান উচ্চারণ করছে—শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং ইরানের শহীদ নেতার রক্তের প্রতিশোধ।’
আজ সোমবার তেহরানে মূল শোকযাত্রা শুরুর আগে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন ও রাষ্ট্রীয় প্রার্থনার জন্য গত শনিবার ও গতকাল রোববার খামেনির মরদেহ রাজধানীর বৃহত্তম ধর্মীয় কমপ্লেক্স গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে রাখা হয়। সেখানে একটি বিশাল লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
পতাকাটিতে আরবি ভাষায় লেখা হয়, ‘হে, হুসেনের প্রতিশোধ গ্রহণকারীরা’, এই স্লোগানের মাধ্যমে খামেনির হত্যাকাণ্ডকে প্রতিবেশী দেশ ইরাকের কারবালার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। প্রায় ১ হাজার ৩০০ বছর আগে সেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর দৌহিত্র ইমাম হুসেনকে প্রথম উমাইয়া খলিফা মুয়াবিয়া প্রতিষ্ঠিত বাহিনীর হাতে নিহত হতে হয়েছিল। বহু শিয়া মুসলিমের কাছে উমাইয়া রাজবংশের শাসন অবৈধ ও নিপীড়নমূলক শাসনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
খামেনির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় বিভিন্ন প্রতীকী বার্তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়াকে ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ কীভাবে সেই প্রতিশোধ নিতে চায়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর ইরানি সেনাবাহিনী ইরাকে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। তবে ওই হামলায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি। এরপরও ইরান বলেছিল, অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনীকে পুরোপুরি বিতাড়িত করাটাই তাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশোধের কৌশল।
শিয়া সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক মানচিত্র
খামেনির মরদেহ বহনের জন্য যে পথ বেছে নেওয়া হয়েছে, সেটিও একটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বার্তা বহন করছে। এই পথ তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত শিয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র শহর কোম থেকে শুরু হয়ে ইরাকে শিয়াদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নাজাফ ও কারবালা অতিক্রম করবে। এরপর তাঁকে সমাহিত করা হবে মাশহাদে, ইমাম রেজার মাজারে।
শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ থেকে। এই মসজিদ ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনিকে সম্মান জানাতে নির্মাণ করা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার মধ্যে একটি প্রতীকী ধারাবাহিকতা ও সংযোগ তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কোম শহরটি ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের বৈধতা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সমর্থনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রগুলোই ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। খোমেনির সমর্থনে পাহলভি রাজবংশের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিবাদও এই শহর থেকেই শুরু হয়েছিল। ওই আন্দোলন এক বছর পর ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে রূপ নেয়।
ইরাকের নাজাফ ইরানের বাইরে শিয়া মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কর্তৃত্বের কেন্দ্র। এই শহরের সঙ্গে শিয়া সম্প্রদায়ের ১২ ইমামের প্রথম ইমাম হজরত আলী (রা.)-এর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক আছে। তাঁর মাজারকে কেন্দ্র করেই নাজাফ শহরের বিকাশ ঘটেছে। বর্তমানে এটি শিয়া মুসলিমদের সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
কারবালা ও মাশহাদে শোকযাত্রা শেষে খামেনির মরদেহ এমন এক প্রতীকী সফর সম্পন্ন করবে, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আদর্শিক ভিত্তি এবং শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রধান প্রধান কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচ দশক ধরে সীমান্ত ছাড়িয়ে শিয়া সম্প্রদায়ের আদর্শ ও প্রভাব বিস্তারে ইরানি ধর্মীয় নেতৃত্ব যে প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে, এই শোকযাত্রা সেই আদর্শিক ধারাকেই প্রতীকীভাবে তুলে ধরছে।
ইরাকের নাজাফ হলো ইরানের বাইরে শিয়া মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র। শিয়া মুসলিমদের কাছে শ্রদ্ধাভাজন হিসেবে বিবেচিত ১২ ইমামের মধ্যে প্রথম ইমাম হজরত আলী (রা.)-এর সঙ্গে এই শহরের গভীর সম্পর্ক আছে। তাঁর মাজারকে ঘিরেই নাজাফ নগরীর বিকাশ হয়েছে। বর্তমানে এটি শিয়া মুসলিমদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
কারবালা ও মাশহাদে শোকযাত্রার মধ্য দিয়ে খামেনির মরদেহ এমন একটি প্রতীকী সফর শেষ করবে, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আদর্শিক ভিত্তি এবং শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রধান কেন্দ্রগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে। বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচ দশক ধরে জাতীয় সীমানার বাইরে শিয়া ইসলামের আদর্শ ও প্রভাব বিস্তারে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব যে প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে, এই শোকযাত্রা সেই আদর্শিক ধারারই প্রতীক।
গত শুক্রবার খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস ও ইসলামিক জিহাদ এবং ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের প্রতিনিধিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
খামেনির কফিনের সামনে উপস্থিত প্রতিটি বিদেশি প্রতিনিধিদলের জন্য সরকার-নির্ধারিত একজন পবিত্র কোরআনের একটি করে নির্দিষ্ট আয়াত তিলাওয়াত করেন। এরপর তাঁরা ইরানের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
হামাস, হিজবুল্লাহ এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের জন্য নির্বাচিত আয়াতগুলোতে অঙ্গীকারের প্রতি আনুগত্য, অবিচলতা এবং আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতার বার্তা তুলে ধরা হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানকে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইসলামাবাদ যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, সেটিও তুলে ধরা হয়েছে।
রিয়াদ থেকে আসা প্রতিনিধিদলের জন্য নির্বাচিত একটি কোরআনের আয়াত নিয়ে আরবি ভাষার গণমাধ্যমে বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে। ওই আয়াতে বর্তমান সৌদি আরবের মদিনার কাছে সপ্তম শতকে সংঘটিত বদরের যুদ্ধে মুখোমুখি হওয়া মুসলিম ও কাফিরদের দুই পক্ষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আয়াতটির অর্থ হলো: ‘মুমিনেরা নিজেদের চোখে দেখেছিলেন, তাঁদের শত্রুদের সংখ্যা তাঁদের তুলনায় দ্বিগুণ। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, তাঁকে সাহায্যের মাধ্যমে বিজয় দান করেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।’
এই নির্দিষ্ট আয়াত বেছে নেওয়ার বিষয়টিকে বিশ্লেষকেরা বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
![]() |
| ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি (বাঁয়ে), প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (মাঝখানে) এবং তাঁর ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবি-সংবলিত একটি বিলবোর্ড। ছবি: এএফপি ফাইল ছবি |
Saturday, June 27, 2026
ভারতে ধর্মান্তরবিরোধী কঠোর আইনের ঘোষণা দিলেন শুভেন্দু
অর্থাৎ এ আইন কার্যকর হলে ভারতে হিন্দুদের মধ্যে ভিন্ন ধর্ম গ্রহণের যে প্রবণাতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল তা আর ইচ্ছামত তারা গ্রহণ করতে পারবেন না। এ বিষয়ে রাষ্ট্র যে সিদ্ধান্ত নেবে সে আলোকে তাদের সিন্ধান্ত নিতে হবে।
শুক্রবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মান্তরের প্রবণতা এবং জনসংখ্যার ভারসাম্যে পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। তার মতে, এ পরিস্থিতি রাজ্যের সামাজিক কাঠামো ও দেশের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ।
তিনি বলেন, কিছু সময়ের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে ধর্মান্তরবিরোধী কঠোর আইন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং এনআরসি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শুভেন্দুর দাবি, বিজেপি সরকার সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আটক কেন্দ্রও গড়ে তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে দেশের সংস্কৃতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন বা সিএএ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দুরা অনুপ্রবেশকারী নন। সিএএ অনুযায়ী তারা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, যারা ভারতে বসবাস করেও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে অসম্মান করে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বিরোধিতা করে বা পেহেলগাম ইস্যুতে নীরব থেকে শুধু মানবতার কথা বলে, তাদের এমন কর্মকাণ্ড পশ্চিমবঙ্গে বরদাশত করা হবে না।
সূত্র: এনডিটিভি

Friday, June 26, 2026
ধর্মীয় উগ্রতা নয়, ১৪০০ বছরের আইনি ভিত্তিতে চলে ইরান
এক নিবন্ধে এমনটাই দাবি করেছেন বিশিষ্ট গবেষক ও আইনজীবী লিম টিন।
তার মতে, পশ্চিমা প্রচারণার কারণে ইরানের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক জটিল কাঠামো এবং এর পেছনের আইনি ভিত্তি বিশ্ববাসীর কাছে আড়ালে রয়ে গেছে।
নিবন্ধে লিম টিন উল্লেখ করেন, ইরানের একটি নিজস্ব সংবিধান, নির্বাচিত সংসদ, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও সুপ্রিম কোর্ট রয়েছে। এছাড়া সেখানে একটি সাংবিধানিক পর্যালোচনা কাউন্সিল রয়েছে। এই পুরো ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা আইনজ্ঞ।
শব্দ চয়ন ও পশ্চিমা প্রচারণা
লিম টিন বলেন, পশ্চিমা এস্টাবলিশমেন্ট ইরানকে হেয় করতে অত্যন্ত সচেতনভাবে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ শব্দটি বেছে নিয়েছে। এই শব্দটির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে যে, ইরান কোনো আইন ছাড়াই কেবল ধর্মীয় উগ্রতা দিয়ে পরিচালিত হয়। অথচ ইরানের শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠেছে ১৪ শ বছরের পুরোনো এবং অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইসলামি আইনশাস্ত্রের (ফিকহ) ওপর ভিত্তি করে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম ইরানকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যাতে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো বা হামলা চালানো সহজ হয় এবং মানুষের মনে কোনো অপরাধবোধ না জাগে।
খোমেনির পড়াশোনা
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মূল ভিত্তি হলো ‘ভেলায়েত-ই-ফকিহ’ বা ইসলামি আইনজ্ঞের অভিভাবকত্ব। আয়াতুল্লাহ খোমেনি কেবল একজন ধর্মীয় প্রচারক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন ‘ফকিহ’ বা আইনশাস্ত্রের মাস্টার। ১৯২২ সালে তিনি পবিত্র শহর কোমে যান। সেখানে তিনি আয়াতুল্লাহ আবদুল করিম হায়েরি ইয়াজদির অধীনে পড়াশোনা শুরু করেন। ৩০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ‘ইজতিহাদ’ বা স্বাধীন আইনি যুক্তির সনদ লাভ করেন এবং একজন ‘মুজতাহিদ’ হন। এর ফলে তিনি কোরআন ও হাদিস থেকে সরাসরি নতুন আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।
আইনশাস্ত্রের পাশাপাশি তিনি দর্শন, নীতিশাস্ত্র এবং ইসলামি আধ্যাত্মবাদ শিক্ষা দিতেন। ১৯৬১ ও ১৯৭০ সালে যথাক্রমে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ বোরুজেরদি এবং গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হাকিমের মৃত্যুর পর খোমেনি লাখ লাখ মানুষের কাছে অনুসরণের উৎস হিসেবে স্বীকৃতি পান। এই পদটি কোনো রাজনৈতিক বা মনোনীত পদ নয়, বরং পণ্ডিতদের মধ্যে সর্বোচ্চ পাণ্ডিত্যের ভিত্তিতে এই স্বীকৃতি মেলে। নির্বাসনে থাকা অবস্থাতেও তার আইনি নির্দেশনাবলী অনুসারীদের কাছে বাধ্যতামূলক ছিল।
১৯৬৩ সালে শাহের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় খোমেনি গ্রেফতার হন। ওই সময় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারত। কিন্তু ১৯০৬ সালের ইরানি সংবিধানের একটি ধারা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতাদের মৃত্যুদণ্ড থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হতো। আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ কাজেম শরিয়তমাদারিসহ জ্যেষ্ঠ আলেমদের প্রতিবাদের মুখে শাহের সরকার তার মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করে এবং তাকে নির্বাসনে পাঠাতে বাধ্য হয়।
যা প্রমাণ করে ১৯৭৯ সালের আগেই ইরানে সাংবিধানিক চিন্তাভাবনা বিদ্যমান ছিল। খোমেনি আইনশাস্ত্র, আইনি দর্শন এবং আধ্যাত্মবাদের ওপর ৪০টিরও বেশি বই লিখেছেন। তার লেখা ‘কিতাব আল-বায়’ বা ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত আইন এবং দুই খণ্ডের ‘তাহরির আল-ওয়াসিলা’ অত্যন্ত বিখ্যাত ও জটিল আইনি গ্রন্থ।
জনগণের রায় ও সাংবিধানিক কাঠামো
১৯৭৯ সালের মার্চ ও এপ্রিলে ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে রেকর্ডসংখ্যক ভোটার অংশ নেন এবং ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন।
লিম টিন এটিকে ২০১৬ সালের ব্রিটেনের ব্রেক্সিট গণভোটের সাথে তুলনা করে বলেন, ব্রেক্সিটকে বিশ্ব গণতান্ত্রিক স্বীকৃতি দিলেও ইরানের গণভোটকে স্বৈরতন্ত্র হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ ইরান ১৯৫৩ সালে সিআইএ-র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বসানো শাহের স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত হয়ে এই ব্যবস্থা বেছে নিয়েছিল।
ইরানের সংবিধানে একটি চমৎকার ভারসাম্য রয়েছে। এর সর্বোচ্চ নেতা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত, বিশেষজ্ঞ পরিষদ দ্বারা মনোনীত হন। ২৯০ সদস্যের একটি নির্বাচিত সংসদ (মজলিস) আইন পাস করে এবং প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনে। গার্ডিয়ান কাউন্সিল আইনগুলোর সাংবিধানিক বৈধতা পরীক্ষা করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বা ফ্রান্সের কনস্টিটিউশনাল কাউন্সিলের মতো কাজ করে।
আইনজীবীর দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তর্জাতিক আইন
ব্রিটিশ কমন ‘ল’ ঐতিহ্যে প্রশিক্ষিত একজন আইনজীবী হিসেবে লিম টিন বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের মূল ভিত্তি হলো ‘কমিটি অব লজ’ বা অন্য দেশের আইনি ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। তিনি ইতালির ফৌজদারি আদালতের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে আসামিদের শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দিতে হয় না, যা কমন ‘ল’-এর চেয়ে আলাদা হলেও নিকৃষ্ট নয়। একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সূচনাকালে দাসদের মানুষের তিন-পঞ্চমাংশ ধরা হতো, নারীদের ভোটাধিকার ছিল না এবং পূর্ণ নাগরিক অধিকার পেতে প্রায় দুই শতাব্দী লেগেছে। সেই তুলনায় ইরানের শাসনব্যবস্থার বয়স মাত্র ৪৬ বছর।
লিম টিন স্বীকার করেন, ইরানে রাজনৈতিক স্বাধীনতার অভাব, নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকারের সীমাবদ্ধতা এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের প্রার্থী বাছাইয়ের কড়াকড়ির মতো প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা ও গণতান্ত্রিক ঘাটতি রয়েছে। তবে সমালোচনা করতে হবে প্রকৃত সত্যকে সামনে রেখে, প্রচারণার ওপর ভিত্তি করে নয়। ইরান ৯ কোটি ৩০ লাখ মানুষের একটি সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র, যা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত আইনি ঐতিহ্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। পশ্চিমা প্রচারণা এই সত্য অস্বীকার করতে চায়, কারণ ধর্মান্ধদের একটি দেশকে ধ্বংস করা সহজ, কিন্তু একটি বৃহৎ সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্রকে সহজে মুছে ফেলা যায় না।
গবেষণার জন্য তিনি হামিদ আলগারের অনূদিত খোমেনির রাজনৈতিক লেখা এবং সাইদ আমির আরজোমান্দের 'দ্য টারবান ফর দ্য ক্রাউন' বইটি পড়ার পরামর্শ দেন। লিম টিনের এই নিবন্ধের সাথে নাজাফে নির্বাসনে থাকার সময় খোমেনির পড়াশোনার একটি ছবিও যুক্ত রয়েছে।
![]() |
| ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনি। ছবি: সংগৃহীত |
Friday, June 12, 2026
উত্তর প্রদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘ধর্মান্তরবিরোধী’ সেল গঠন হচ্ছে, কাকে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ
রাজ্যপালের সচিবালয় থেকে রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য এবং পরিচালকদের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটসহ সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কাউন্সেলিং সেবা, নজরদারিব্যবস্থা, ছাত্রকল্যাণ পদ্ধতি, তথ্য জানানোর প্রোটোকল জোরদার করতে এবং প্রতিরোধমূলক সুরক্ষাকবচ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তথাকথিত প্রলোভন, মানসিক চাপ বা অন্য কোনো অনৈতিক উপায়ে শিক্ষার্থীদের (ধর্মান্তর করার জন্য) প্রভাবিত করার অভিযোগ আসার পর রাজ্যপালের দপ্তর থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হলো।
আরেক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করে, ভয় দেখিয়ে, মানসিক চাপ তৈরি করে বা অনৈতিক প্রলোভন দেখিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ বা জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের চেষ্টা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য, অনৈতিক এবং আইনবিরোধী।’
চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ‘প্রলোভন বা মানসিক চাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টার’ বিষয়ে ঘন ঘন প্রতিবেদন বা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে ‘র্যাডিক্যালাইজেশনবিরোধী’ (উগ্রবাদবিরোধী) ইউনিট বা ছাত্রকল্যাণ সেলগুলোকে অত্যন্ত সক্রিয় করতে হবে।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে ‘নৈতিক মূল্যবোধ, যৌক্তিক চিন্তাভাবনা এবং আইনি অধিকার’ বিষয়ে বক্তৃতা ও সেমিনারের আয়োজন করে, চিঠিতে সেই পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো সংস্থা, গোষ্ঠী বা ব্যক্তি যদি ধর্মান্তরের চেষ্টার সঙ্গে জড়িত কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের ক্ষেত্রে রাজ্যের ধর্মান্তরবিরোধী আইনের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’ এর আগেও প্রতিবেদন করেছিল, কীভাবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এবং রাজনৈতিক নির্দেশে এই ধর্মান্তরবিরোধী আইনের অপব্যবহার করেছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও অন্যান্য সংগঠনের নজরদারি দলগুলো সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে মুসলমানদের হয়রানি করতে এই আইন ব্যবহার করছে।
কোনো অ-হিন্দু প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠী যদি বিনা মূল্যে ক্লিনিক, বৃত্তি বা এমনকি একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ প্রার্থনাসভার আয়োজন করে, তবে তা নজরদারির আওতায় আসে এবং এরপর আইনি ও বেআইনি পথে হিন্দুত্ববাদীরা প্রশাসনের সহায়তায় হয়রানি শুরু করে।
এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা দেখা গেছে, যেখানে হিন্দুত্ববাদী কোনো গোষ্ঠী অভিযোগ দায়ের করেছে এবং প্রমাণ দুর্বল বা অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। কম সাজা হওয়ার হারের কারণে এ ধরনের গ্রেপ্তার, আদালতের মামলা এবং সহিংসতা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করছে। আইনগুলো ধর্মান্তর রোধ করার জন্য নয়, বরং সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানোর একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
চলতি বছরের এপ্রিলে ভারতের উত্তর প্রদেশের বেআইনি ধর্মান্তরকরণ নিষেধাজ্ঞা আইন, ২০২১-এর অধীনে মিথ্যা এফআইআর দায়ের করার বিষয়টিকে ‘উদ্বেগজনক প্রবণতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন এলাহাবাদ হাইকোর্ট। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকে (স্বরাষ্ট্র) এ ধরনের মামলায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা উল্লেখ করে একটি ব্যক্তিগত হলফনামা (এফিডেভিট) দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
![]() |
| ভারতের উত্তর প্রদেশের উগ্র হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ধর্মান্তরবিরোধী সেল’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে. ছবি। এএনআই |
Friday, May 1, 2026
কবরে মাটি দেওয়ার নিয়ম ও দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন, কবর খনন করেছেন এবং মাটি দিয়েছেন। তাই মুসলিমদের জন্য এ বিষয়টি জানা ও সঠিকভাবে পালন করা জরুরি।
কবর দেওয়ার নিয়ম
দাফন প্রক্রিয়ার মূলনীতি হলো:
১. মৃতদেহকে গোসল করানো, কাফন দেওয়া ও জানাজা পড়ানো।
২. কবর যথেষ্ট গভীর করা যাতে মৃতদেহ নিরাপদ থাকে।
৩. মৃতদেহকে ডান দিকে কিবলামুখী করে রাখা।
৪. কবর ঢেকে দেওয়া ও মাটি চাপা দেওয়া।
নবীজি (সা.) বলেছেন: “তোমরা মৃতদেহকে সম্মানের সাথে দাফন করো।” (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৩২২১)
কবরে মাটি দেওয়ার নিয়ম
কবর ঢাকতে গিয়ে প্রথমে সাধারণত ৩ মুঠো করে মাটি দেওয়া সুন্নাহ। প্রত্যেকে পালাক্রমে মৃতের দিকে মুখ করে কবরের ভেতর প্রথম তিন মুঠো মাটি দেন। প্রতিবার মুঠো খোলার সময় সুরা ত্বাহার ৫৫ নম্বর আয়াতের একটি করে অংশ পড়তে হয়।
* প্রথম মুঠোয় পড়তে হয়: “মিনহা খালাক্না–কুম।” অর্থ: “আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।”
* দ্বিতীয় মুঠোয় পড়তে হয়: “ওয়া ফীহা নু‘ঈদুকুম।” অর্থ: “এবং আমি তোমাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেব।”
* তৃতীয় মুঠোয় পড়তে হয়: “ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তারাতান উখরা।” অর্থ: “এবং সেখান থেকে আবার তোমাদেরকে একবার বের করব।”
এটি রাসুল (সা.) ও সাহাবিদের আমল। (তাফসির ইবন কাসির, সুরা ত্বাহা. আয়াত ৫৫ এর ব্যাখ্যা)
দাফনের পর দোয়া
দাফন শেষে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা সুন্নাহ। নবীজি প্রতিবার দাফনের পর সাহাবিদের বলতেন: “তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তার জন্য স্থিরতার দোয়া করো, কারণ এখন তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩২২১; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৫৩১)
এ সময় সাধারণত বলা হয়:
উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মাগ্ফির লাহু, আল্লাহুম্মা সাব্বিতহু, আল্লাহুম্মাজ্‘আল কবরাহু রাওযাতান মিন রিয়াযিল জান্নাহ।”
অর্থ: “হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন, তাকে স্থির রাখুন এবং তার কবরকে জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগানে পরিণত করুন।”
কবরের মাটি দেওয়ার নিয়ম ও দোয়া ইসলামি শিষ্টাচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে রয়েছে মৃতের প্রতি সম্মান, আখিরাতের স্মরণ এবং জীবিতদের জন্য শিক্ষা। আমাদের উচিত নবীজির (সা.) প্রদর্শিত এ সুন্নাহ যথাযথভাবে পালন করা।

Wednesday, March 25, 2026
ইরানে ট্রাম্পের আমেরিকার ধর্মযুদ্ধ! by রায়ান জিকগ্রাফ
প্রায় ৫০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের মধ্যে একটি বিশ্বাস প্রচলিত আছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে শুধু রাজনীতি বা ভূরাজনীতির ঘটনা হিসেবে দেখে না; তাদের অনেকেই মনে করে, এসব ঘটনার মধ্যেই বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তব হয়ে উঠছে। এ বিশ্বাসে লাখ লাখ মানুষকে বড় করা হয়েছে। একসময় আমিও সেই বিশ্বাসে বিশ্বাসীদের একজন ছিলাম।
সম্প্রতি
খবর এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ইউনিটের কমান্ডার গত সোমবার এক
ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তাদের বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নাকি ঈশ্বরের পরিকল্পনারই
অংশ। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যিশু বেছে নিয়েছেন ইরানে
সেই আগুন জ্বালানোর জন্য, যেখান থেকে আরমাগেডনের শুরু হবে এবং যিশুর
পৃথিবীতে ফিরে আসার পথ তৈরি হবে।
খ্রিষ্টান বিশ্বাস অনুযায়ী,
আরমাগেডন হচ্ছে শেষ সময়ের এক চূড়ান্ত যুদ্ধ। বাইবেলের রেভেলেশন গ্রন্থে বলা
আছে, পৃথিবীর শেষ দিকে ভালো ও মন্দ শক্তির মধ্যে একটি বড় যুদ্ধ হবে। এ
যুদ্ধকে আরমাগেডন বলা হয়। অনেকের বিশ্বাস, এই যুদ্ধের পর যিশু ফিরে আসবেন
এবং পৃথিবীতে নতুন শান্তির যুগ শুরু হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক
অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সদস্য এমন
আরও অনেক ঘটনা নিয়ে অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগ পেয়েছে মিলিটারি রিলিজিয়াস
ফ্রিডম ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা
জানিয়েছেন, কিছু কমান্ডারের মধ্যে অদ্ভুত এক উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। অনেকে
মনে করছেন, তাঁরা শুধু যুদ্ধ করছেন না, বরং বাইবেলের ‘বুক অব রেভেলেশন’-এ
বলা শেষ সময়ের ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়নের কাজ করছেন।
আয়ারল্যান্ডে
জন্ম নেওয়া প্রচারক জন নেলসন ডারবি আঠারো শতকের ত্রিশের দশকে বাইবেল
ব্যাখ্যার একটি নতুন ধারণা দেন। এ ধারণার নাম ডিসপেনসেশনালিজম। তাঁর মতে,
মানব ইতিহাস সাতটি আলাদা যুগে ভাগ করা। প্রতিটি যুগে ঈশ্বর মানুষের সঙ্গে
ভিন্নভাবে সম্পর্ক রাখেন। যেমন আদম ও হাওয়ার সময়, মহাপ্লাবনের সময় ও যিশুর
ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার সময়।
এই বিশ্বাস অনুযায়ী, শেষ জামানায় পৃথিবীতে বড়
অস্থিরতা দেখা দেবে। এরপর ঘটবে ‘র্যাপচার’। অর্থাৎ বিশ্বাসীরা অলৌকিকভাবে
স্বর্গে চলে যাবেন। তারপর কিছু সময় পৃথিবী শাসন করবে অ্যান্টিক্রাইস্ট বা
ধর্মদ্রোহীরা। শেষে যিশু ফিরে এসে পৃথিবীতে হাজার বছরের শান্তির রাজত্ব
প্রতিষ্ঠা করবেন।
ডারবির এ ধারণাই পরে যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে এবং
ইভানজেলিক্যাল সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশ প্রভাব ফেলে। তবে অধিকাংশ খ্রিষ্টান
এই ব্যাখ্যা মানেন না। ক্যাথলিক, অর্থোডক্স ও অনেক প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জা
‘রেভেলেশন’ গ্রন্থকে প্রতীকীভাবে ব্যাখ্যা করে। অনেক গবেষকের মতে, সেখানে
উল্লেখিত ‘বিস্ট’ বা পশু আসলে রোমান সম্রাট নিরোর প্রতীক, যিনি প্রাচীন
খ্রিষ্টানদের ওপর নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত ছিলেন।
১৯০৯ সালে
প্রকাশিত ‘স্কোফিল্ড রেফারেন্স বাইবেল’-এ ডারবির ব্যাখ্যাগুলো বাইবেলের
পাশে নোট হিসেবে ছাপা হয়। এতে অনেক পাঠক বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীকে
বিশ্বরাজনীতির একধরনের সংকেত হিসেবে দেখতে শুরু করেন। এই ধারণা আরও জনপ্রিয়
হয় ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হাল লিন্ডসের বই ‘দ্য লেট গ্রেট প্ল্যানেট আর্থ’-এর
মাধ্যমে। বইটিতে তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রের সৃষ্টি এবং পরে
জেরুজালেমের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া শেষ যুগের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
এ
ব্যাখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাইবেলের ‘ইজেকিয়েল’ গ্রন্থের ৩৮ নম্বর
অধ্যায়। সেখানে বলা হয়েছে, কিছু দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জোট বাঁধবে। অনেকের
মতে, সেখানে উল্লেখ করা পারস্য বলতে আজকের ইরানকে বোঝানো হয়েছে। লিন্ডসে
মনে করেছিলেন, সেই জোটের উত্তরের শক্তি হতে পারে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং আশির
দশকেই আরমাগেডন ঘটতে পারে।
আজ অনেকেই ভুলে গেছেন, কিন্তু ষাটের
দশকের অস্থিরতা, শীতল যুদ্ধের ভয় ও পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কার সময় এই বই
আমেরিকায় বড় আলোড়ন তুলেছিল। ১৯৭৪ সালে হাল লিন্ডসে এ বিষয়ে একটি টেলিভিশন
অনুষ্ঠান করেন, যা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ দেখেছিল। পরে এ নিয়ে একটি
প্রামাণ্যচিত্রও তৈরি হয়।
১৯৭৬ সালের হরর চলচ্চিত্র ‘দ্য ওমেন’-এ
অ্যান্টিক্রাইস্টকে শয়তানের সন্তান হিসেবে দেখানো হয়, যার শরীরে ৬৬৬
সংখ্যার জন্মচিহ্ন থাকে। আশির দশকে কিছু হেভি মেটাল ব্যান্ডও বাইবেলের
ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে গান করে। এর একটি উদাহরণ হলো জনপ্রিয় মেটাল ব্যান্ড আয়রন
মেইডেনের গান ‘নাম্বার অব দ্য বিস্ট’।
আমার বাবা স্কোফিল্ড বাইবেল ও
হাল লিন্ডসের বই পড়ে ধীরে ধীরে এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীমুখী ভাবনায় আচ্ছন্ন
হয়ে পড়েন। একসময় তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে বারাক ওবামা হলেন
অ্যান্টিক্রাইস্ট।
ওবামা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর
অনেক ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্লেষকের কাছে ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। শীতল যুদ্ধ
শেষ হওয়ার পর তারা নতুন প্রতিপক্ষ খুঁজতে থাকে এবং ধীরে ধীরে তাদের দৃষ্টি
ঘুরে যায় ইরানের দিকে।
এই ধারার একজন পরিচিত প্রচারক ওকলাহোমার
পাদ্রি মার্ক হিচকক। তিনি বিভিন্ন বইয়ে দাবি করেছেন, আধুনিক ইরানই বাইবেলে
উল্লেখ করা পারস্য এবং ইরানই ভবিষ্যতের শেষ যুদ্ধের কেন্দ্র হতে পারে। তাঁর
মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনা সেই ঘটনারই প্রস্তুতি।
অনেক
ইভানজেলিক্যাল গির্জায় যে খ্রিষ্টান জায়নবাদ দেখা যায়, তার শিকড়ও এই
বিশ্বাসে। সেখানে মনে করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলেই শেষ যুগের
ঘটনাগুলো শুরু করবে, যার মধ্যে ইরানের সঙ্গে সংঘাত গুরুত্বপূর্ণ।
ডোনাল্ড
ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনে এই গোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রভাবও বাড়ে। ভাইস
প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স তাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০১৮ সালে ইসরায়েল সফরে গিয়ে
তিনি ইরান চুক্তি বাতিল এবং জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস দ্রুত খোলার
প্রতিশ্রুতি দেন। তখন ইসরায়েলের একটি পত্রিকা লিখেছিল, অনেক ইভানজেলিক্যাল ও
মেসিয়ানিক ইহুদির কাছে এটি যেন নতুন যুগের ইঙ্গিত।
কিছু বছর এই
ধর্মীয় ভাষা কম শোনা গেলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তা আবার
জোরালো হয়েছে। মিলিটারি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ফাউন্ডেশন জানিয়েছে,
যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩০টি সামরিক ঘাঁটির ৪০টির বেশি ইউনিট থেকে এ ধরনের
অভিযোগ এসেছে। এতে বোঝা যায়, ধর্মীয় বিশ্বাস ও রাষ্ট্রনীতির মিশ্রণ এখন
পেন্টাগন পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এদিকে সম্প্রতি সিনেটর জন করনিন সান
আন্তোনিওতে একটি ধর্মসভায় অংশ নেন, যার শিরোনাম ছিল ‘এন্ড অব ডেজ অপারেশন
এপিক ফিউরি’। যার অর্থ দাঁড়ায় ‘শেষ সময়ের মহা অভিযান’। সভাটি পরিচালনা করেন
টেলিভিশন প্রচারক জন হাগি, যিনি ‘ক্রিশ্চিয়ানস ইউনাইটেড ফর ইসরায়েল’-এর
প্রতিষ্ঠাতা।
ট্রাম্প নিজে ধর্মতত্ত্বে খুব একটা আগ্রহী নন। তবে
তিনি ধর্মীয় প্রতীকের রাজনৈতিক গুরুত্ব বোঝেন। বাইবেল হাতে ছবি তোলা বা
নিজের বেঁচে যাওয়াকে ঈশ্বরের ইচ্ছা বলা—এ ধরনের কাজ তিনি প্রায়ই করেছেন।
তাই ইরান যুদ্ধ ঘিরে তৈরি হওয়া ভবিষ্যদ্বাণীর আলোচনায় ট্রাম্প এক অদ্ভুত
অবস্থানে আছেন। কারও কাছে তিনি বাইবেলের সাইরাস রাজার মতো, যাঁকে ঈশ্বর
ইতিহাসের শেষ অধ্যায় শুরু করার জন্য ব্যবহার করছেন। আবার অন্যদের কাছে তিনি
সেই আকর্ষণীয় নেতার প্রতীক, যাঁর কথা ‘রেভেলেশন’ গ্রন্থে বলা হয়েছে; যিনি
বিশৃঙ্খলার সময়ে উঠে এসে মানুষের আনুগত্য অর্জন করেন।
মার্কিন
সিনেটর মার্কো রুবিও প্রায়ই বলেন, ইরানের শিয়া ধর্মগুরুদের ধর্মীয় বিশ্বাস
তাঁদের নীতিকে প্রভাবিত করছে। কিছু ক্ষেত্রে তা সত্যও হতে পারে।
কিন্তু
যখন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারাই ব্রিফিংয়ে আরমাগেডনের কথা বলেন এবং
সিনেটররা ‘শেষ দিনের’ ধর্মসভায় অংশ নেন, তখন মনে হয়, ভবিষ্যদ্বাণীর প্রভাব
শুধু এক পক্ষের রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়।
* রায়ান জিকগ্রাফ, আটলান্টাভিত্তিক একজন সাংবাদিক
- ইংরেজি সাময়িকী জ্যাকবান থেকে নেওয়া, সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
![]() |
| বাইবেল ছুঁয়ে শপথ নিচ্ছেন ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স |
৬ বছরের সাধনা, হাতে লেখা বিশাল কোরআন
লক্ষ্য ছিল পবিত্র কোরআনের এক অনন্য পাণ্ডুলিপি তৈরি করা। দীর্ঘ শ্রম ও শৈল্পিক নৈপুণ্যের পর অবশেষে সেই মহৎ কাজ শেষ করেছেন ইরাকি ক্যালিগ্রাফার আলী জামান।
৫৪ বছর বয়সী এই শিল্পীর তৈরি করা কোরআনের পাণ্ডুলিপিটি এখন ইস্তাম্বুলের ওই মসজিদেই সংরক্ষিত আছে। পাণ্ডুলিপিটির বিশালত্ব যে কাউকেই চমকে দেবে। এতে রয়েছে ৩০২টি দ্বিমুখী স্ক্রল বা পাতা, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৪ মিটার (১৩ ফুট) এবং প্রস্থ ১ দশমিক ৫ মিটার (৫ ফুট)।
আলী জামান বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ‘যখনই আমি এই কোরআনটির কথা ভাবি, আমার এক অদ্ভুত প্রশান্তি লাগে। মহান আল্লাহ আমাকে এটি শেষ করার তৌফিক দিয়েছেন, এ জন্য আমি গর্বিত।’
অদম্য স্পৃহা
এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য সাধারণ কাগজ ব্যবহার করেননি জামান। ডিমের সাদা অংশ, কর্ন স্টার্চ (ভুট্টার আটা) এবং ফিটকিরির বিশেষ মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছিল টেকসই বিশেষ কাগজ।
১২ বছর বয়স থেকে ক্যালিগ্রাফির প্রেমে পড়া জামান মূলত ইরাকের সোলাইমানিয়া প্রদেশের বাসিন্দা। তবে ক্যালিগ্রাফি বা হস্তশিল্পের কদর তুরস্কে বেশি হওয়ায় ২০১৭ সালে সপরিবারে ইস্তাম্বুলে চলে আসেন তিনি।
আলী জামানের এই দীর্ঘ সাধনায় বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে তাঁর পরিবারকেও।
তাঁর ছেলে রেকার জামান স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘বাবার এই প্রকল্পের কাজ চলাকালীন আমরা তাঁকে খুব কমই কাছে পেয়েছি। শুধু তাঁর খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় অথবা রাতে যখন তিনি ঘুমাতে আসতেন, তখনই তাঁর দেখা মিলত। আলহামদুলিল্লাহ, কাজ শেষ হওয়ার পর এখন আমরা তাঁকে বেশি সময় পাচ্ছি।’
বিশ্ব রেকর্ডের হাতছানি
আলী জামানের দাবি, এটি বিশ্বের বৃহত্তম হাতে লেখা কোরআন। যদিও গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ এখনো এর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।
রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের মক্কার ‘হলি কোরআন মিউজিয়ামে’ সংরক্ষিত একটি কোরআনকে বিশ্বের বৃহত্তম ছাপানো কোরআন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে জামানের শিল্পকর্মটি হাতে লেখা হওয়ার কারণে এর গুরুত্ব আলাদা।
শিল্প বিশেষজ্ঞ উমিত কোসকুনসু বলেন, ‘ইসলামি ক্যালিগ্রাফি কেবল সাধারণ কোনো লেখা নয়, এটি একধরনের ইবাদত। আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম।’
বর্তমানে এই বিশাল পাণ্ডুলিপিটি ধুলাবালি ও আর্দ্রতা থেকে বাঁচাতে বিশেষ আবরণে ঢেকে রাখা হয়েছে।
আলী জামানের শেষ ইচ্ছা, কোনো বিশেষ জাদুঘর বা শিল্পসংগ্রাহক যেন এটি সংগ্রহ করেন, যেখানে সাধারণ মানুষ এই অনন্য শিল্পকর্মটি দেখার ও মূল্যায়ন করার সুযোগ পাবে।
সূত্র: এপি
![]() |
| নিবিষ্ট মনে কোরআনের ক্যালিগ্রাফি আঁকছেন আলী জামান। ছবি: এপি |
Friday, March 20, 2026
যশোরে এক মসজিদে ইতিকাফে বসেছেন দেড় হাজারেরও বেশি মুসল্লি
এতে ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র ও পানামাসহ বিভিন্ন দেশের ৭৫ জন বিদেশি নাগরিক অংশ নিয়েছেন।
সাধারণত ২০ রমজান থেকে সুন্নত ইতিকাফ শুরু হলেও এই মসজিদে প্রথম রমজান থেকেই অনেকে নফল ইতিকাফ শুরু করেন। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লির সংখ্যাও বেড়েছে। ২২ রমজান পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সুন্নত ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ জন মুসল্লি। চারতলা বিশিষ্ট এই মসজিদে সহস্রাধিক মুসল্লির অবস্থানের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সুবিধার্থে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইফতার, রাতের খাবার ও সাহরির আয়োজন করা হচ্ছে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মচারী এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর একটি বড় অংশ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দিনরাত কাজ করছেন।
আশরাফুল মাদারিসের শিক্ষা সচিব হাফেজ মাওলানা সাব্বির আহমাদ জানান, শায়খুল হাদিস মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহি (রহ.)-এর সিলসিলার অনুসারীরা মূলত এখানে সমবেত হয়েছেন। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রখ্যাত আলেম শায়খ ইব্রাহিম আফ্রিকি এ সিলসিলার অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। তিনি যেখানে অবস্থান করেন, দেশ-বিদেশের অনুসারীরা সেখানে ছুটে আসেন। এবার তিনি যশোরে অবস্থান করায় দেশি-বিদেশি বহু আলেম ও ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে ইতিকাফে যোগ দিয়েছেন।
মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা নাসীরুল্লাহ জানান, ২০২৩ সাল থেকে এখানে বৃহৎ পরিসরে ইতিকাফের আয়োজন করা হচ্ছে। এরপর থেকে প্রতিবছরই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এর আগে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের বড় জমায়েত হলেও এবার যশোরের এই মাদারিস প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠেছে দেশি-বিদেশি মুসল্লিদের পদচারণায়।
![]() |
| যশোরের সদর উপজেলায় এক মসজিদে ইতিকাফে বসেছেন দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ প্রায় ১ হাজার ৬০০ মুসল্লি। ছবি : কালবেলা |
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (1767)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...






