Saturday, July 18, 2026
বুয়েট আমার কাছে এক না পাওয়া প্রিয়তমার মতো
বুয়েট আমার কাছে এক না পাওয়া প্রিয়তমার মতো
স্বপ্নেও কখনো ভাবিনি ডাক্তার হব। ছোটবেলায় প্রথমে পদার্থবিজ্ঞানী, পরে প্রকৌশলী হতে চেয়েছি। আমার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ছিল বুয়েট (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়)। বুয়েট আমার কাছে এক না পাওয়া প্রিয়তমার মতো! প্রতিদিন যখন সামনে দিয়ে যাই, মাঝেমধ্যেই হার্টবিট মিস হয়। জীবনে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন শুনতে হয়েছে, তা হলো, ‘আমি কেন ডাক্তার হলাম?’ উত্তর একটাই—মা-বাবা চেয়েছেন তাই। আমি মূলত প্রকৌশলের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। পরে একই সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে যাই।
মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর মনে হতো এত বিদঘুটে পড়াশোনা কীভাবে মনে রাখব। এত পড়া আমাকে দিয়ে হবে না। পাসটা করে নিই, এরপরই একটা ব্যবস্থা নিতে হবে। ভেবেছিলাম, বিসিএস দিয়ে ক্যাডার চেঞ্জ করে ফেলব। পরে বিসিএস জটের কারণে এফসিপিএস পরীক্ষা দিই। পার্ট ওয়ান পাসও করে ফেলি। পরে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ পাই। শেষমেশ যেটা বুঝলাম, ডাক্তারি থেকে আমার মুক্তি নেই! সৃষ্টিকর্তা আমাকে ডাক্তার হিসেবেই দেখতে চান। শুধু তা–ই নয়, মেডিকেলের জন্য আমি হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছি, যাঁদের মধ্যে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এখন বিভিন্ন মেডিকেলে পড়াশোনা করছে এবং অনেকে ডাক্তার হয়ে গেছে।
তোমরা যারা জিপিএ–৫ পেয়েছ, জেনে রেখো, এটাই তোমাদের সাফল্যের শেষ নয়, বরং একটি নতুন শুরু। আমি পাঁচটি পয়েন্ট বলব, যেগুলো শুধু ভর্তি পরীক্ষার ফলই নয়, তোমাদের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।
প্রথমত, লক্ষ্য পরিষ্কার করো। যদি তোমার লক্ষ্য পরিষ্কার না হয়, তাহলে পথ কখনো পরিষ্কার হবে না। ঠিক করো তুমি কোন জীবন চাও। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত পড়ো। অল্প পড়লেও প্রতিদিন পড়ো। ধারাবাহিকতা সেই শক্তি, যা প্রতিভাকেও হার মানায়। তৃতীয়ত, সঠিক রিসোর্স বেছে নাও। বই-প্রশ্নব্যাংক-গাইড—সবকিছু বিচক্ষণতার সঙ্গে নির্বাচন করো। ভুল রিসোর্স সঠিক মেধাকেও থামিয়ে দিতে পারে। চতুর্থত, মানসিক শক্তি ধরে রাখো। চাপ আসবে, ভয় আসবে। কিন্তু মনে রাখবে, জেতার আগে হার মানা যাবে না। তোমার বিশ্বাসই তোমার শক্তি। পঞ্চমত, সময়ের মূল্য বুঝো। তোমরা এখন জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়ে আছ। এক ঘণ্টা নষ্ট মানে এক ধাপ পিছিয়ে পড়া।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তোমার স্বাস্থ্য। পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলেই দেখবে আজ ঢাকা, কাল খুলনা, পরের দিন চট্টগ্রামে পরীক্ষা হচ্ছে। শরীর ও মনের জোর না থাকলে এত পরীক্ষা দিয়ে ভালো করা সত্যিই কঠিন। বর্তমানে ভাইরাল জ্বর ও ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেড়েছে। সব সময় মাস্ক ব্যবহার করবে, মশা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে, পুষ্টিকর খাবার খাবে, পর্যাপ্ত পানি পান করবে।
যেকোনো যুদ্ধ জেতার সবচেয়ে ভালো কৌশল হচ্ছে প্রতিপক্ষকে জানা। এ ক্ষেত্রে তোমার প্রতিপক্ষ কিন্তু তোমার বন্ধুরা নয়, প্রতিপক্ষ হচ্ছে সেই ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো। একটা ভালো প্রশ্ন ব্যাংক নিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে। তাহলে সবচেয়ে কম সময়ে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়েরই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে পারবে। পড়াশোনা তো সবাই করবে, কিন্তু তোমাকে একটু কৌশলী হতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় যখনই আমার খারাপ লাগত, একটা ডায়েরি হাতে নিতাম। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ামাত্রই কী করব, কোথায় ঘুরতে যাব—এগুলো লিখতাম। মনকে এভাবে সান্ত্বনা দিতাম—আর মাত্র কয়েকটা দিন। এরপরই ‘আগুনের দিন শেষ হবে একদিন, ঝরনার সাথে গান হবে একদিন।’
ধরো, তুমি মেডিকেলে পড়বে, এ জন্য কি শুধু মেডিকেলের ফরম তুললেই হবে? মোটেই না। তুমি বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম তুলবে, যেগুলোর সঙ্গে মেডিকেলের প্রশ্ন পদ্ধতির মিল আছে। এতে অনেকগুলো অপশন তৈরি হবে এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার দিন দেখবে নিজেকে অনেকটাই নির্ভার লাগছে। আমি নিজে ১৬টা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম তুলেছিলাম।
প্রস্তুতির ক্ষেত্রে তিনটি বিকল্প মাথায় রাখতে পারো:
১. মেডিকেল ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়;
২. ইঞ্জিনিয়ারিং ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়;
৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ইউনিট।
এতে তোমার চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে। এত কিছুর পরও যদি চান্স না-ই পাই, তাহলে কি হেরে যাব? আমার পরিচিত অসংখ্য মানুষ আছেন, যাঁরা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়ার পরও দেশে-বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় পড়াশোনা করেছেন, প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তোমাকে শুধু খুঁজে নিতে হবে, তোমার মেধা কোথায় লুকিয়ে আছে।
আমরা যারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি, তাদের জীবনপথ অনেকটা নির্ধারণ হয়ে গেছে। আমাদের এই জীবনে হয়তো চাইলেও অনেক বেশি কিছু করে ফেলার সুযোগ এখন আর নেই। কিন্তু তোমরা জানো না, তোমাদের সামনে কত সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। হয়তো একদিন তোমাদের সঙ্গে দেখা করার জন্যই আমার কয়েক দিন আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে রাখতে হবে। তোমাকে শুধু পরিশ্রম করে সেই জায়গাটায় একবার পৌঁছাতে হবে, সেই বিশ্বাসটা মনে ধরে রাখো মনে।
এ কঠিন সময়ে বাবা-মায়ের সমর্থন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি তোমার কাছে তোমার মা-বাবার সমর্থন থাকে, তাহলে তুমি এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষগুলোর একজন। অভিভাবক, যাঁরা আমার কথা শুনছেন, তাঁরা অবশ্যই সফলতা ও ব্যর্থতায় আপনার ছেলেমেয়ের পাশে থাকবেন। আপনার একটি ইতিবাচক কথাও আপনার ছেলেমেয়েকে বিশ্বসেরা বানাতে পারে।
ধরো, পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে গেলে। এরপর যে বন্ধুটি সুযোগ পায়নি, তার পাশে থাকার দায়িত্ব কিন্তু তোমার। সে হয়তো সংকোচে তোমার কাছে আসবে না, তোমাকেই এগিয়ে যেতে হবে সেই বন্ধুর কাছে। তোমার একটি কথাও তার মনে যেন আঘাত না দেয়, এটা তোমাকে খেয়াল রাখতে হবে। দেখবে কদিন পরই কে কত ভালো প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেল, এ নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে। তুমি সব সময় নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করবে, তবে অহংকার নিয়ে নয়। নিজের প্রতিষ্ঠানকে সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবে, সেটা তুমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে, যে বিষয়েই পড়ো না কেন।
তোমার আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রমের মাধ্যমেই তুমি জয় করে ফেলতে পারো যেকোনো বাধা। তোমাদের সবার জন্য অন্তরের অন্তস্তল থেকে দোয়া ও শুভকামনা।
![]() |
| ডা. অন্তর সাহা। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1347)
-
▼
July
(150)
-
▼
Jul 18
(13)
- ফজরের নামাজ আদায়ে বাধা ইসরাইলি বাহিনীর
- টানা সংঘাতের সপ্তম দিন : মার্কিন হামলার জবাবে ইরান...
- নেতানিয়াহু ‘যুদ্ধাপরাধী’, তার স্থান আন্তর্জাতিক অপ...
- পশ্চিম তীরে হাজারের বেশি নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্...
- ইরানকে কাবু করতে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র, কষ্ট বাড়াচ্ছ...
- অং সান সুচি কি মারা গেছেন?
- বুয়েট আমার কাছে এক না পাওয়া প্রিয়তমার মতো
- যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় প্রতিদিন একজন শিশু নিহত
- ইসরাইলিদের মালয়েশিয়ায় ঠাঁই নেই, পেলেই বহিষ্কার -আন...
- পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?
- শিশুর সুস্থতায় শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবারের গুরুত্ব ...
- যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বা...
- সিরিয়া, ওমান ও কুয়েতে মার্কিন স্থাপনায় হামলা; রাডা...
-
▼
Jul 18
(13)
-
▼
July
(150)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

No comments:
Post a Comment