Friday, April 25, 2014
প্রিয় গাবো, কল্পরাজ্যের অধিশ্বরকে বিদায়ী কুর্নিশ by প্রিয় গাবো,
প্রিয় গাবো, কল্পরাজ্যের অধিশ্বরকে বিদায়ী কুর্নিশ by প্রিয় গাবো,
নিয়তির অমোঘ নিয়মে অবশেষে লোকান্তরিত হলেন
আপনি। আমার এই চিঠি কোনো দিন আপনার কাছে পৌঁছুবে না। শুধু ভিন্ন ভাষায়
লেখা বলে নয়, যে-মানুষটি বেঁচে নেই, তার কাছে এরকমভাবে চিঠি লেখা কারও কারও
কাছে বালখিল্য বলে মনে হতে পারে। মনে হতে পারে মূঢ়তা কিংবা চমক দেওয়ার
খেলা। এর সবই আংশিক সত্যি, কিন্তু আপনাকে নিয়ে প্রথাসিদ্ধ রীতিতে
সমালোচনামূলক লেখা লিখতে ইচ্ছে হলো না। কেননা, আপনিই সেই লেখক যিনি ক্রমাগত
প্রথা বা প্রচলিত রীতিকে ভেঙে নিরন্তর নতুন নতুন উপন্যাস লিখে গেছেন। রচনা
করে গেছেন অসংখ্য গল্প। চিত্রনাট্য রচনাতেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন আপনি।
চলচ্চিত্রকে ভালোবাসতেন বলে আজীবন যুক্ত ছিলেন শিল্পের এই আধুনিকতম
মাধ্যমটির সঙ্গে। নাটকের প্রতিও অনুরাগ ছিল আপনার। সংবাদ প্রতিবেদনকে
সৃষ্টিশীল রচনা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। কিন্তু এই মাধ্যমটিও আপনার
প্রতিভার স্পর্শে সৃষ্টিশীলতার মহিমা পেয়ে গেছে। আসলে আপনার প্রতিভার
সূচনাবিন্দু আছে, শেষকথা বলে কিছু নেই। এতটাই অনিঃশেষ আর প্রসারিত ছিল
আপনার সৃজনীবোধ।
রাষ্ট্রনায়ক থেকে শুরু করে দেশে দেশে যেসব গল্পযশোপ্রার্থী ছড়িয়ে আছেন, তাদের সবার কাছেই আপনি ছিলেন সমাদৃত। কুবার কিংবদন্তী কমিউনিস্ট নেতা ফিডেল ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে আপনার বন্ধুতাতো সবসময় সংবাদমাধ্যমগুলোর মুখরোচক কাহিনি হয়ে উঠেছে। আপনার মৃত্যুর পর সংবাদপত্রে শোকবাণীর যে স্তূপ জমেছে তার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামারও একটা শোকবাণী আছে : পৃথিবী আজ বিশ্বের একজন স্বাপ্নিক দূরদর্শী লেখককে হারালো। বিল ক্লিনটন যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তখন অনেকবার আপনি হোয়াইট হাউজে তার আতিথ্য গ্রহণ করেছেন। আপনার দীর্ঘদিনের বন্ধু এই রাষ্ট্রনায়ক শোকবার্তা পাঠিয়ে বলেছেন, আমি সবসময় তাঁর অনন্য কল্পনাশক্তি, পরিচ্ছন্ন ভাবনা আর আবেগিক সততার দ্বারা আচ্ছন্ন ছিলাম। অধিকাংশ প্রাজ্ঞ সমালোচকের ধারণা, জনপ্রিয়তা শিল্পের শত্র“। কিন্তু আপনি সেই লেখক যিনি একদিকে যেমন ছিলেন জনপ্রিয়, তেমনি শিল্পের শুদ্ধতম বরপুত্র।
কিন্তু খুব সহজ ছিল কী আপনার এই উত্থান? গাবোর বর্ণময় জীবনেতিহাস সেকথা বলে না। এই সেদিনও আপনার জন্মবর্ষ নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার চৌদ্দ বছর পর জানা গেল আপনার সঠিক জন্ম তারিখ : ১৯২৮ সাল নয়, ১৯২৭ সালের ৬ মার্চে জন্মেছিলেন আপনি। নোবেল পুরস্কার পারিষদও ব্যাপারটা খেয়াল করেনি। প্রখ্যাত মার্কিন সাময়িকী নিউ ইয়র্কার-এ ২০০১ সালে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আপনিই জানিয়ে দিয়েছেন সঠিক তারিখটি। ভিভির পারা কন্তারলা শীর্ষক আত্মজীবনীতে আপনি লিখেছেন, দিনটি ছিল রবিবার, বর্ষণমুখর ছুটির দিন। বারো ভাইবোনের প্রথম ভাইটির সেদিন জন্ম হয়।
মনে পড়ছে ১৯৩০ সালের প্রথম দিককার আরও একটা দিনের কথা। উত্তর কলোম্বিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সমুদ্র উপকূল দিয়ে ছুটে চলেছে একটা ট্রেন। ওই ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরের সারি সারি কলাবাগানের দিকে তাকিয়ে আছে এক তরুণী। আগের রাতে স্টিমারে চেপে, মশার কামড় খেয়ে, সিয়েনাগা জলাভূমি পেরিয়ে তবেই উঠতে পেরেছিলেন এই ট্রেনে। গন্তব্য আরাকাতাকা। কয়েক বছর আগে এই আরাকাতাকাতেই তিনি তার সদ্য-ভূমিষ্ঠ প্রথম সন্তানকে বাবা ও মায়ের কাছে রেখে স্বামী গাবরিয়েল এলিহিও গার্সিয়ার সঙ্গে পাড়ি দিয়েছিলেন র্বারানকুইলায়। সন্তানটি ছিল ছেলে সন্তান, সবাই তাকে আদর করে ডাকতো গাবিতো বা গাবো। এখন আমরা জানি, এই গাবোই হচ্ছেন আপনি, বিশ্বখ্যাত কথাসাহিত্যিক গাবরিয়েল গার্সিয়া মার্কেস। সেদিন ওই তরুণী, অর্থাৎ আপনার মা লুইসা সান্তিয়াগা মার্কেস ইগুয়ারাঁ দে গার্সিয়া আপনার নানার মৃত্যু হলে আপনাকে নিজের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু জন্মের কিছুদিন পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মাকে সেদিন খুবই অচেনা মনে হয়েছিল আপনার। ঘরে ঢুকেই দেখলেন অনিন্দ্যসুন্দর এক রমণী দাঁড়িয়ে আছেন, মাথায় খড়ের হ্যাট, গায়ে ঢিলেঢালা পোশাক। তখন কতই-বা বয়স হবে আপনার, আট পেরিয়ে নয়ে পা দিয়েছেন মাত্র। এর আগে নানা কর্নেল নিকোলাস মার্কেস মেহিয়া আর নানী ত্রানকুইলিনা ইগুয়ারাঁ এবং নানীর বোনদের সঙ্গে চমৎকার দিন কাটছিল আপনার। নানা ছিলেন, আপনার ভাষ্য অনুসারে, চমৎকার গল্পকথক। নানীর কাছেও শুনেছেন আজগুবি সব গল্প। নানার চরিত্রটাও ছিল দারুণ চিত্তাকর্ষক। বিশশতকের প্রথম দিকে হাজার দিনের যে গৃহযুদ্ধ হয়েছিল সেই যুদ্ধে বীরের মতো যুদ্ধ করে ছোট্ট ওই শহরে কিংবদন্তী হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
আপনার মা ছিলেন এই আরাকাতাকার অভিজাত এই কর্নেল পরিবারের দীর্ঘাঙ্গি, প্রাণচঞ্চল, সুন্দরী মেয়ে। অথচ আক্ষরিক অর্থে আপনার বাবার কোনো চালচুলো নেই। আপনার দাদী, অর্থাৎ আর্হেমিরা গারসিয়া পাতেরনিনার সন্তান তিনি। কুমারী অবস্থায় মাত্র চৌদ্দবছর বয়সে সাতাশ বছরের স্কুলশিক্ষক গাবরিয়েল মার্তিনেস গাররিদোর সঙ্গে সম্পর্কের সূত্রে আপনার বাবার জন্ম। অর্থের অভাবে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে টেলিগ্রাফ অফিসে চাকরি নিয়ে এসেছিলেন আরাকাতাকায়। চমৎকার বেহালা বাজাতে পারতেন, গানের গলাটাও ছিল দারুণ, কবিতাও আবৃত্তি করতেন চমৎকার। অল্প দিনের মধ্যে দীর্ঘকায়, বুদ্ধিদীপ্ত, সুদর্শন এই যুবক রমণীমোহন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেও আপনার মা ওর প্রেমেই হাবুডুবু খেতে থাকেন। অনেক চেষ্টা করে সেই সম্পর্কে চিড় ধরাতে না পেরে আপনার নানা ও নানী বিয়েটা মেনে নেন, কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠানে তারা উপস্থিত হননি। জেরাল্ড মার্টিন আপনার যে জীবনীটি লিখেছেন, তাতে এই প্রেমের চমৎকার বিবরণ আছে।
এতকিছুর পরও এই নানার বাড়িতেই জন্মেছিলেন আপনি। কিন্তু আপনার জন্মের কিছুদিন পর বাবা-মা দুজনেই বাররানকুইলায় চলে গেলে নানার বাড়িই হয়ে ওঠে আপনার ছেলেবেলার জমজমাট সাম্রাজ্য। নানার কাছে শোনা যুদ্ধের গল্প আর নানীর কাছে শোনা ভূত-প্রেত দৈত্য-দানোর কল্পকাহিনি আপনার মনে যে মায়াজাল বিস্তার করেছিল, পরে সেসবই নানা ভঙ্গি আর শৈলীতে উপস্থিত হয়েছে আপনার সৃষ্টিশীল রচনায়। নিজেই এপ্রসঙ্গে আমাদের জানিয়েছেন, “নির্বিকার মুখে, নানী আমাকে সারাক্ষণ আশ্চর্য ও আজগুবি সব গল্প শোনাতেন, অথচ মাথার চুল খাড়া হতো না, মনে হতো যা বর্ণনা করছেন তা যেন তিনি এইমাত্র দেখতে পেয়েছেন। আমি বুঝতে পেরেছিলাম তাঁর ওই অবিচল নির্বিকার ভঙ্গি আর তার চিত্রকল্পগুলোর ঐশ্বর্যই তাঁর গল্পগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতো। আমি একশো বছরের নিঃসঙ্গতা লিখেছিলাম আমার নানীর (গল্প বলার) কৌশল ব্যবহার করেই।”
ছেলেবেলায় এইভাবে গল্প শুনে-শুনেই কী আপনার মধ্যে লেখক হয়ে উঠবার বাসনা জেগেছিল? কোনো লেখায় বা সাক্ষাৎকারে সরাসরি এ সম্পর্কে কিছু বলেননি আপনি। কিন্তু আপনি যে লেখক হওয়ার সংকল্প নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় ইতি টেনেছিলেন, আÍজীবনীতে এর স্পষ্ট উল্লেখ আছে : “আজ, পঁচাত্তর বছর পেরিয়ে আসার পর মনে হচ্ছে, জীবনে যত ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পেশা হিসেবে লেখক হয়ে ওঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটাই ছিল. বলা যায়, আমার সমগ্র জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক পরিবর্তন।” বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতে হিস্পানি স্বর্ণযুগের কবিতা নিয়ে আপনি মশগুল ছিলেন। আইন পড়া ছেড়ে দিয়ে গোগ্রাসে পড়তে শুরু করলেন সফোক্লিস, হেমিংওয়ে, জয়েস, উলফ, ফকনার, কাফকার লেখা। ফকনারের ইয়োকনাপাটাফার আদলেই পরে আপনার মাথায় এসেছিল মাকোন্দো নামের কল্পজনপদের কথা। সফোক্লিস পড়ে বুঝতে পেরেছিলেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রতাপ কীভাবে ব্যক্তিমানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে ফকনারের কাছ থেকে পেয়েছিলেন বাস্তবতার প্রথম পাঠ। এইসময়ে, ১৯৪৭ সালে, প্রকাশিত হলো আপনার প্রথম ছোটগল্প লা তেরেসের রেজিগনেশন (তৃতীয় ত্যাগ)। ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত আপনার প্রথম উপন্যাস লা ওয়ারাস্কাতেও (পাতার ঝড়) আছে মাকোন্দোর উপস্থিতি। পরে এই মাকোন্দোই হয়ে উঠেছে আপনার উপন্যাসের প্রভাবশালী চরিত্র।
এইসময়েই বোহেমিয়ান জীবনটা দারুণ উপভোগ করছিলেন আপনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্ব চুকিয়ে দিয়ে বিশ্বকোষ বিক্রির চাকরি কিংবা বলা যায় জীবনাভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য কোনো জায়গাতেই থিতু হননি, এখানে সেখানে ঘুরে বেরিয়েছেন। এরকম অস্থির মুক্ত অবস্থাতেই প্রেমিকা মের্সেদেস বারখা পারদোর সঙ্গে সেরে ফেলেন আনুষ্ঠানিক বাগদান। বোগোতায় ফিরে যোগ দিলেন এল এসপেক্তাদোর পত্রিকায়। সবকিছু ছাপিয়ে সাংবাদিকতাকেই আপনার মনে হয়েছিল লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত পেশা। তবে সাদামাঠা অর্থে আমাদের মনে রিপোর্টারদের যে ছবি ভেসে ওঠে সেরকম সাংবাদিক ছিলেন না আপনি। সংবাদের পেছনে লুকিয়ে থাকা যে ঘটনা সংবাদের জন্ম দেয়, ব্যক্তিক বিপন্নতা বা রাষ্ট্রীয় সংকট তৈরি হয়, সেই ধরনের সংবাদের প্রতি আগ্রহ ছিল আপনার। ফলে সংবাদ নয়, সংবাদভাষ্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন আপনি। আমার অ্যাডভেঞ্চারের অন্তর্নিহিত সত্য শিরোনামে প্রকাশিত এরকম একটা সংবাদ প্রকাশের জন্য এল এসপেক্তাদোর পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয় আর আপনাকে দেশ ছেড়ে পাড়ি জমাতে হয় ইউরোপে।
আপনার ইউরোপের দিনগুলো ছিল অর্থনৈতিক দৈন্য, পেশাগত অনিশ্চয়তা আর রোমাঞ্চকর ঘটনায় পূর্ণ। কিন্তু যতই অনিশ্চয়তা থাকুক, অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ে এতটুকু পিছপা হননি আপনি। কিন্তু বিস্ময়কর হচ্ছে, ইউরোপ কোনদিনই আপনাকে সেইভাবে টানেনি, তাহলে কেন এতটা ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ ঘুরে বেরিয়েছিলেন আপনি? আসলে কে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন জানিনা, আপনি যে পুঁজিবাদী-গণতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক-রাজতান্ত্রিক এবং সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোকে খুব কাছে থেকে দেখে আন্তঃমহাদেশীয় রাজনীতির অন্তর্নিহিত পরিস্থিতিকে প্রত্যক্ষভাবে বুঝতে চাইছিলেন, চল্লিশ বছর বাদে নিজেই সেকথা জানিয়েছেন আমাদের : “উনিশশো ছাপ্পান্নর গোড়ায় ইউরোপে আমার চাকরি চলে যায়। চেষ্টা করলে অন্য কোনো পত্রপত্রিকার একটা কাজ হয়তো খুঁজে নেওয়া যেত। কিন্তু নিজের ভেতরকার আবেগকে মর্যাদা দিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করার কাজে ব্যস্ত ছিলাম।”
আপনার লেখক সত্তাকে বুঝতে হলে এই রাজনীতিকে বাদ দিয়ে কখনও বোঝা যাবে না। সমগ্র লাতিন আমেরিকা জুড়ে যে স্বৈরশাসন বছরের পর বছর কোটি কোটি সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে, হত্যা করা হয়েছে লাখ লাখ মানুষকে, আপনি ছিলেন তার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড সোচ্চার। ইউরোপে থাকতেই আরেকটি কাজ আপনি করেছিলেন। চলচ্চিত্রের প্রতি আপনার প্যাশন সুবিদিত। এরই টানে রোমের বিখ্যাত সেন্ত্রো স্পেরিমেন্তালে দে সিনেমায় চলচ্চিত্র সম্বন্ধে
প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ নিলেন। ভিক্তেরিও ডি সিকা, সিজার জাভাত্তিনি, ফ্রেদেরিকো ফেলিনি, অর্থাৎ ইতালীয় নব্যবাস্তববাদী বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাহচর্যে এসে আপনি বুঝতে পেরেছিলেন চলচ্চিত্র হচ্ছে সেই মাধ্যম যা দুনিয়াকে বদলে দিতে পারে। চলচ্চিত্রের প্রতি এই অনুরাগের পাশাপাশি চলছিল ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিক প্রতিবেদন লেখালেখি আর প্রকাশের কাজ।
একবার লন্ডনে ছসপ্তাহ আটকে যাওয়ায় হোটেলে বসেই লিখে ফেললেন বেশ কয়েকটি অসাধারণ ছোটগল্প। দুম করে কলোম্বিয়ায় ফিরে মের্সেদেসকে বিয়ে করে ফেললেন। মের্সেদেসের বহুদিনের অপেক্ষার অবসান হলো। কিন্তু আবার তাকে মায়ের কাছে রেখে ছুটলেন ভেনিজুয়েলায়। সেখান থেকে কলোম্বিয়ায় ফিরে কিউবা সরকারের মুখপাত্র হিসেবে বোগোতায় স্থাপন করলেন প্রেনসা লাতিনা। পরে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর দ্বারা অনুরুদ্ধ হয়ে এরই একটা শাখা খোলার জন্য সপরিবারে ছুটলেন নিউ ইয়র্ক। কিছুদিন পর সেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে ইতিমধ্যে জন্ম নেয়া বড় ছেলে রোদরিগো আর স্ত্রীকে নিয়ে চলে গেলেন মেহিকোতে।
মেহিকোতে দারিদ্র্য ছিল আপনার নিত্যসঙ্গী। বেঁচে থাকবার জন্যে তাই শুরু করেছিলেন সিনেমার সাবটাইটেল আর চিত্রনাট্য লেখা। সময়টা ১৯৬২ সাল, এই সময়েই মেহিকোতে বসেই লিখলেন কর্নেলকে কেউ চিঠি লেখে না শীর্ষক অসাধারণ বড় গল্প বা নোভেলা। প্রকাশিত হলো প্রথম গল্পসংকলন বিগ মামাস ফ্যুন্যারেল। অনন্য বর্ণনারীতি আর লাতিন সমাজজীবনের দ্বারা সমৃদ্ধ এর গল্পগুলো বিশ্বের গল্পপাঠকদের দিল নতুনত্বের স্বাদ। ওই বছরই জন্ম নিল আপনার দ্বিতীয় পুত্র গোনসালো। চলচ্চিত্রের জন্য পর পর লিখলেন দুটি চিত্রনাট্য : তিয়েম্পো দে মোরিরে (সহচিত্রনাট্যকার কার্লোস ফুয়েন্তেস) এবং হোগো পেরিগোজো।
চলচ্চিত্র, গল্প, নোভেলা, নানা মাধ্যমে আপনার প্রতিভা বিকশিত হলেও প্রকাশিত বইগুলো তেমন বিক্রি হচ্ছিল না। দারিদ্র্য আর হতাশা তাই আপনার জীবনে এসে ভর করলো। বেঁচে থাকার জন্য কাজ নিতে হলো বিজ্ঞাপনী সংস্থায় আর জড়িয়ে পড়লেন পত্রিকা সম্পাদনার সঙ্গে। এর পর এলো সেই অভূতপূর্ব সময়। অবকাশ কাটাবার জন্যে গাড়ি চালিয়ে মেহিকো থেকে আকাপুলকোর দিকে চলেছেন আপনি। হঠাৎ আপনার মানসপটে ভেসে উঠলো কল্পিত সেই মাকান্দো জনপদের ছবি, বিগত কুড়ি বছর ধরে যা নিয়ে ভাবছিলেন আপনি। এ প্রসঙ্গে পরে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে লিখেছেন : “অকস্মাৎ জানিনা কীভাবে যেন উপন্যাসটার সম্পূর্ণ খসড়াটা চোখের সামনে ভেসে উঠলো। আমার চিন্তাস্রোতটা এতটাই স্বচ্ছ, স্পষ্ট আর সম্পৃক্ত লাগছিল যেন আমি একের পর এক এর প্রতিটি শব্দ কোনো এক টাইপিস্টকে গড় গড় করে বলে যেতে পারছি।” সংসার আর বাচ্চাদের সব দায়-দায়িত্ব মের্সেদেসের হাতে তুলে দিয়ে অজ্ঞাতবাসে চলে গেলেন আপনি। জগৎ সংসার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে একটানা আঠারো মাস ধরে লিখে ফেললেন আপনার স্বপ্নের উপন্যাস : শতবর্ষের নিঃসঙ্গতা। সামান্য উদরপূর্তি আর ছয় প্যাকেট সিগারেটই ছিল তখন আপনার সঙ্গী। এদিকে ধারদেনায় জেরবার মের্সেদেস। গাড়িতো বটেই, বিক্রি করতে হলো আসবাবপত্র, বাসনকোসন। প্রতিবেশীরা বুঝতে পারলো, গাবো কোনো গুরুত্বপূর্ণ লেখায় ব্যস্ত। কিছুদিন বাদে উপন্যাসটির প্রথম তিনটি অধ্যায়ের খসড়া পাঠিয়ে দিলেন বন্ধু কার্লোস ফুয়েন্তেসকে। ফুয়েন্তেসতো পড়েই রীতিমতো বিমুগ্ধ। সংবাদমাধ্যমে বলেই ফেললেন, এইমাত্র আমি আসন্ন চিরায়ত সাহিত্যের প্রথম আশি পৃষ্ঠা পড়ে শেষ করলাম।
অবশেষে আঠারো মাসের অজ্ঞাতবাস ছেড়ে বেরিয়ে এলেন আপনি। হাতে তেরোশো পৃষ্ঠার পাণ্ডুলিপি। কী কঠোর অধ্যবসায় আর পরিশ্রমই-না আপনাকে করতে হয়েছিল এই বইটি লিখবার জন্য! স্ত্রী এবং বন্ধুদের শোনাবার একপর্যায়ে শেষপৃষ্ঠায় পৌঁছে পেয়ে গেলেন উপন্যাসের নাম - সিয়েন আনিয়োস দে সোলেদাদ। প্রকাশকের কাছে পাঠাবার ডাকমাশুলও তখন আপনার নেই। বৌয়ের চুল শুকোবার যন্ত্র আর বৈদ্যুতিক স্টোভ বিক্রি করে জোগাড় করতে হলো সেই টাকা। ১৯৬৭ সালের জুন মাসে আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেসের সুদামেরিকানা প্রকাশনা সংস্থা থেকে বেরুলো সিয়েন আনিয়োস দে সোলেদাদ। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সারা লাতিন আমেরিকা জুড়ে হৈচৈ পড়ে গেল। প্রথম সপ্তাহে বিক্রি হলো আট হাজার কপি, এর পর প্রতিমাসে কয়েকটি মুদ্রণ। তিন বছরে বিক্রি হলো পাঁচ লাখ বই। ১৯৭০ সালে গ্রেগরি রাবাসার অনুবাদে বেরুলো এর ইংরেজি অনুবাদ : ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচ্যুড। গত পঁয়তাল্লিশ বছরে পৃথিবীর এমন কোনো ভাষা নেই যে ভাষায় উপন্যাসটি অনূদিত হয়নি। ইংরেজি অনুবাদসহ এ পর্যন্ত এই বইয়ের বিক্রির সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। এই উপন্যাসটির রাষ্ট্রীয় ও সাহিত্য পুরস্কার যেমন জুটেছে, তেমনি আপনাকে যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করেছে। মারিও ভার্গাস ইয়োসা আপনার জীবনের প্রথম তেতাল্লিশ বছরকে নিয়ে লিখে ফেললেন একটি বই। এরপর সাড়া পৃথিবী জুড়ে এই উপন্যাসটিকে সর্বকালের সেরা উপন্যাস বা মাস্টারপিস হিসেবে স্বীকৃতি পেতে তেমন দেরি হয়নি। অর্থ, খ্যাতি আর পুরস্কারের মধ্যে যখন আপনি ডুবে যাচ্ছেন, তখনই স্বৈরাচারের চেহারা চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করবার জন্য চলে গেলেন ফ্রাঙ্কোর স্পেনে। কী সাহস আপনার!
বিশ্বসাহিত্যের পাঠকমাত্রই আমরা জানি, লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্যের প্রধান অংশ জুড়ে আছে স্বৈরাচারের বিচিত্র প্রসঙ্গ। এই স্বৈরাচারের চমৎকার ছবি পাওয়া যায় আপনার কুলপতির হেমন্তকাল উপন্যাসে। একসময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপের স্বৈরাচারী শাসক কীভাবে একাকীত্বের মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যেতে পাওে, এতে আছে সেরকমি একটা গল্প। ব্যক্তিমানুষের এই সংকট, বিশেষ করে নারীর হাতে নারীর বা পুরুষের দ্বারা নারীলাঞ্ছনার দুঃসহ কাহিনি হচ্ছে আপনার বেচারি এরেন্দিরা আর তারহিৃদয়হীন দাদীমার অবিশ্বাস্য করুণ কাহিনি। দেশপ্রেম ও স্বপ্নভঙ্গের কাহিনি হিসেবে আপনার গোলকধাঁধায় সেনাপতি উপন্যাসটিও অসাধারণ।
ভাবতে অবাক লাগে, আপনি শুধু কলোম্বিয়া নয়, হয়ে উঠেছেন সমগ্র লাতিন আমেরিকার কণ্ঠস্বর। সমগ্র মহাদেশের মানুষ সেই ঔপনিবেশিক কাল থেকে যে অবিশ্বাস্য নিপীড়িন, নির্যাতন, হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণের দ্বারা মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে, সেই নির্মম বাস্তবতারই করুণ ছবি কথাসাহিত্যে তুলে ধরেছেন। নোবেল পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তেও এসব কথা ভুলে যাননি আপনি। সেই সঙ্গে আপনার গুরু ফকনারের মতোই উচ্চারণ করেছিলেন মানুষের অজেয় সম্ভাবনা ও মুক্তির কথা : “এই ভয়াল বাস্তবতার সামনে - সমস্ত মানুষী কালে যাকে মনে হয়েছিল নিছক কোনো কল্পলোক বলেই, আমরা যারা কথা বানাই, কাহন গড়ি, আমরা তবু কিন্তু বিশ্বাস করি সবকিছু, বিশ্বাস করবার দাবি ও অনুভূতি রাখি যে এখনও এক বিকল্প/বিরুদ্ধ কল্পরাজ্য গড়বার কাজে আত্মনিয়োগ করার সময় আছে - এখনও সময় চলে যায়নি।” একশো বছরের রাজনৈতিক নিঃসঙ্গতার দণ্ড পেয়ে যে মহাদেশের মানুষ ভেঙে পড়েছে, সেই মানুষকেই আবার উঠে দাঁড়াবার আহ্বান জানালেন আপনি।
কিন্তু প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়, এ কী শুধু একমহাদেশের কথা? নাকি আপনি নির্যাতিত বিশ্বমানবতার কথা ধনিত হলো আপনার কণ্ঠে? জানি, আজ আর এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর পাওয়া যাবে না, যা কিছু উত্তর তা উৎকীর্ণ হয়ে আছে আপনার লেখা রচনাবলিতে, বিশেষ করে কথাসাহিত্যে। সেই মর্মবাণীটি হলো - মানুষ অজেয়, মানবের কোনো অবসান নেই। এই হচ্ছে আপনার অসাধারণত্ব, এই হচ্ছে সর্বকালের সেরা কথাসাহিত্যিক গাবরিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, যার দেহ নশ্বর, কিন্তু ভাবনা মানবিক জয়গাথা হিসেবে অবিনশ্বর হয়ে থাকবে।
গাবো, আপনাকে কুর্নিশ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।
রাষ্ট্রনায়ক থেকে শুরু করে দেশে দেশে যেসব গল্পযশোপ্রার্থী ছড়িয়ে আছেন, তাদের সবার কাছেই আপনি ছিলেন সমাদৃত। কুবার কিংবদন্তী কমিউনিস্ট নেতা ফিডেল ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে আপনার বন্ধুতাতো সবসময় সংবাদমাধ্যমগুলোর মুখরোচক কাহিনি হয়ে উঠেছে। আপনার মৃত্যুর পর সংবাদপত্রে শোকবাণীর যে স্তূপ জমেছে তার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামারও একটা শোকবাণী আছে : পৃথিবী আজ বিশ্বের একজন স্বাপ্নিক দূরদর্শী লেখককে হারালো। বিল ক্লিনটন যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তখন অনেকবার আপনি হোয়াইট হাউজে তার আতিথ্য গ্রহণ করেছেন। আপনার দীর্ঘদিনের বন্ধু এই রাষ্ট্রনায়ক শোকবার্তা পাঠিয়ে বলেছেন, আমি সবসময় তাঁর অনন্য কল্পনাশক্তি, পরিচ্ছন্ন ভাবনা আর আবেগিক সততার দ্বারা আচ্ছন্ন ছিলাম। অধিকাংশ প্রাজ্ঞ সমালোচকের ধারণা, জনপ্রিয়তা শিল্পের শত্র“। কিন্তু আপনি সেই লেখক যিনি একদিকে যেমন ছিলেন জনপ্রিয়, তেমনি শিল্পের শুদ্ধতম বরপুত্র।
কিন্তু খুব সহজ ছিল কী আপনার এই উত্থান? গাবোর বর্ণময় জীবনেতিহাস সেকথা বলে না। এই সেদিনও আপনার জন্মবর্ষ নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার চৌদ্দ বছর পর জানা গেল আপনার সঠিক জন্ম তারিখ : ১৯২৮ সাল নয়, ১৯২৭ সালের ৬ মার্চে জন্মেছিলেন আপনি। নোবেল পুরস্কার পারিষদও ব্যাপারটা খেয়াল করেনি। প্রখ্যাত মার্কিন সাময়িকী নিউ ইয়র্কার-এ ২০০১ সালে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আপনিই জানিয়ে দিয়েছেন সঠিক তারিখটি। ভিভির পারা কন্তারলা শীর্ষক আত্মজীবনীতে আপনি লিখেছেন, দিনটি ছিল রবিবার, বর্ষণমুখর ছুটির দিন। বারো ভাইবোনের প্রথম ভাইটির সেদিন জন্ম হয়।
মনে পড়ছে ১৯৩০ সালের প্রথম দিককার আরও একটা দিনের কথা। উত্তর কলোম্বিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সমুদ্র উপকূল দিয়ে ছুটে চলেছে একটা ট্রেন। ওই ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরের সারি সারি কলাবাগানের দিকে তাকিয়ে আছে এক তরুণী। আগের রাতে স্টিমারে চেপে, মশার কামড় খেয়ে, সিয়েনাগা জলাভূমি পেরিয়ে তবেই উঠতে পেরেছিলেন এই ট্রেনে। গন্তব্য আরাকাতাকা। কয়েক বছর আগে এই আরাকাতাকাতেই তিনি তার সদ্য-ভূমিষ্ঠ প্রথম সন্তানকে বাবা ও মায়ের কাছে রেখে স্বামী গাবরিয়েল এলিহিও গার্সিয়ার সঙ্গে পাড়ি দিয়েছিলেন র্বারানকুইলায়। সন্তানটি ছিল ছেলে সন্তান, সবাই তাকে আদর করে ডাকতো গাবিতো বা গাবো। এখন আমরা জানি, এই গাবোই হচ্ছেন আপনি, বিশ্বখ্যাত কথাসাহিত্যিক গাবরিয়েল গার্সিয়া মার্কেস। সেদিন ওই তরুণী, অর্থাৎ আপনার মা লুইসা সান্তিয়াগা মার্কেস ইগুয়ারাঁ দে গার্সিয়া আপনার নানার মৃত্যু হলে আপনাকে নিজের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু জন্মের কিছুদিন পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মাকে সেদিন খুবই অচেনা মনে হয়েছিল আপনার। ঘরে ঢুকেই দেখলেন অনিন্দ্যসুন্দর এক রমণী দাঁড়িয়ে আছেন, মাথায় খড়ের হ্যাট, গায়ে ঢিলেঢালা পোশাক। তখন কতই-বা বয়স হবে আপনার, আট পেরিয়ে নয়ে পা দিয়েছেন মাত্র। এর আগে নানা কর্নেল নিকোলাস মার্কেস মেহিয়া আর নানী ত্রানকুইলিনা ইগুয়ারাঁ এবং নানীর বোনদের সঙ্গে চমৎকার দিন কাটছিল আপনার। নানা ছিলেন, আপনার ভাষ্য অনুসারে, চমৎকার গল্পকথক। নানীর কাছেও শুনেছেন আজগুবি সব গল্প। নানার চরিত্রটাও ছিল দারুণ চিত্তাকর্ষক। বিশশতকের প্রথম দিকে হাজার দিনের যে গৃহযুদ্ধ হয়েছিল সেই যুদ্ধে বীরের মতো যুদ্ধ করে ছোট্ট ওই শহরে কিংবদন্তী হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
আপনার মা ছিলেন এই আরাকাতাকার অভিজাত এই কর্নেল পরিবারের দীর্ঘাঙ্গি, প্রাণচঞ্চল, সুন্দরী মেয়ে। অথচ আক্ষরিক অর্থে আপনার বাবার কোনো চালচুলো নেই। আপনার দাদী, অর্থাৎ আর্হেমিরা গারসিয়া পাতেরনিনার সন্তান তিনি। কুমারী অবস্থায় মাত্র চৌদ্দবছর বয়সে সাতাশ বছরের স্কুলশিক্ষক গাবরিয়েল মার্তিনেস গাররিদোর সঙ্গে সম্পর্কের সূত্রে আপনার বাবার জন্ম। অর্থের অভাবে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে টেলিগ্রাফ অফিসে চাকরি নিয়ে এসেছিলেন আরাকাতাকায়। চমৎকার বেহালা বাজাতে পারতেন, গানের গলাটাও ছিল দারুণ, কবিতাও আবৃত্তি করতেন চমৎকার। অল্প দিনের মধ্যে দীর্ঘকায়, বুদ্ধিদীপ্ত, সুদর্শন এই যুবক রমণীমোহন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেও আপনার মা ওর প্রেমেই হাবুডুবু খেতে থাকেন। অনেক চেষ্টা করে সেই সম্পর্কে চিড় ধরাতে না পেরে আপনার নানা ও নানী বিয়েটা মেনে নেন, কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠানে তারা উপস্থিত হননি। জেরাল্ড মার্টিন আপনার যে জীবনীটি লিখেছেন, তাতে এই প্রেমের চমৎকার বিবরণ আছে।
এতকিছুর পরও এই নানার বাড়িতেই জন্মেছিলেন আপনি। কিন্তু আপনার জন্মের কিছুদিন পর বাবা-মা দুজনেই বাররানকুইলায় চলে গেলে নানার বাড়িই হয়ে ওঠে আপনার ছেলেবেলার জমজমাট সাম্রাজ্য। নানার কাছে শোনা যুদ্ধের গল্প আর নানীর কাছে শোনা ভূত-প্রেত দৈত্য-দানোর কল্পকাহিনি আপনার মনে যে মায়াজাল বিস্তার করেছিল, পরে সেসবই নানা ভঙ্গি আর শৈলীতে উপস্থিত হয়েছে আপনার সৃষ্টিশীল রচনায়। নিজেই এপ্রসঙ্গে আমাদের জানিয়েছেন, “নির্বিকার মুখে, নানী আমাকে সারাক্ষণ আশ্চর্য ও আজগুবি সব গল্প শোনাতেন, অথচ মাথার চুল খাড়া হতো না, মনে হতো যা বর্ণনা করছেন তা যেন তিনি এইমাত্র দেখতে পেয়েছেন। আমি বুঝতে পেরেছিলাম তাঁর ওই অবিচল নির্বিকার ভঙ্গি আর তার চিত্রকল্পগুলোর ঐশ্বর্যই তাঁর গল্পগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতো। আমি একশো বছরের নিঃসঙ্গতা লিখেছিলাম আমার নানীর (গল্প বলার) কৌশল ব্যবহার করেই।”
ছেলেবেলায় এইভাবে গল্প শুনে-শুনেই কী আপনার মধ্যে লেখক হয়ে উঠবার বাসনা জেগেছিল? কোনো লেখায় বা সাক্ষাৎকারে সরাসরি এ সম্পর্কে কিছু বলেননি আপনি। কিন্তু আপনি যে লেখক হওয়ার সংকল্প নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় ইতি টেনেছিলেন, আÍজীবনীতে এর স্পষ্ট উল্লেখ আছে : “আজ, পঁচাত্তর বছর পেরিয়ে আসার পর মনে হচ্ছে, জীবনে যত ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পেশা হিসেবে লেখক হয়ে ওঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটাই ছিল. বলা যায়, আমার সমগ্র জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক পরিবর্তন।” বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতে হিস্পানি স্বর্ণযুগের কবিতা নিয়ে আপনি মশগুল ছিলেন। আইন পড়া ছেড়ে দিয়ে গোগ্রাসে পড়তে শুরু করলেন সফোক্লিস, হেমিংওয়ে, জয়েস, উলফ, ফকনার, কাফকার লেখা। ফকনারের ইয়োকনাপাটাফার আদলেই পরে আপনার মাথায় এসেছিল মাকোন্দো নামের কল্পজনপদের কথা। সফোক্লিস পড়ে বুঝতে পেরেছিলেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রতাপ কীভাবে ব্যক্তিমানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে ফকনারের কাছ থেকে পেয়েছিলেন বাস্তবতার প্রথম পাঠ। এইসময়ে, ১৯৪৭ সালে, প্রকাশিত হলো আপনার প্রথম ছোটগল্প লা তেরেসের রেজিগনেশন (তৃতীয় ত্যাগ)। ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত আপনার প্রথম উপন্যাস লা ওয়ারাস্কাতেও (পাতার ঝড়) আছে মাকোন্দোর উপস্থিতি। পরে এই মাকোন্দোই হয়ে উঠেছে আপনার উপন্যাসের প্রভাবশালী চরিত্র।
এইসময়েই বোহেমিয়ান জীবনটা দারুণ উপভোগ করছিলেন আপনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্ব চুকিয়ে দিয়ে বিশ্বকোষ বিক্রির চাকরি কিংবা বলা যায় জীবনাভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য কোনো জায়গাতেই থিতু হননি, এখানে সেখানে ঘুরে বেরিয়েছেন। এরকম অস্থির মুক্ত অবস্থাতেই প্রেমিকা মের্সেদেস বারখা পারদোর সঙ্গে সেরে ফেলেন আনুষ্ঠানিক বাগদান। বোগোতায় ফিরে যোগ দিলেন এল এসপেক্তাদোর পত্রিকায়। সবকিছু ছাপিয়ে সাংবাদিকতাকেই আপনার মনে হয়েছিল লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত পেশা। তবে সাদামাঠা অর্থে আমাদের মনে রিপোর্টারদের যে ছবি ভেসে ওঠে সেরকম সাংবাদিক ছিলেন না আপনি। সংবাদের পেছনে লুকিয়ে থাকা যে ঘটনা সংবাদের জন্ম দেয়, ব্যক্তিক বিপন্নতা বা রাষ্ট্রীয় সংকট তৈরি হয়, সেই ধরনের সংবাদের প্রতি আগ্রহ ছিল আপনার। ফলে সংবাদ নয়, সংবাদভাষ্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন আপনি। আমার অ্যাডভেঞ্চারের অন্তর্নিহিত সত্য শিরোনামে প্রকাশিত এরকম একটা সংবাদ প্রকাশের জন্য এল এসপেক্তাদোর পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয় আর আপনাকে দেশ ছেড়ে পাড়ি জমাতে হয় ইউরোপে।
আপনার ইউরোপের দিনগুলো ছিল অর্থনৈতিক দৈন্য, পেশাগত অনিশ্চয়তা আর রোমাঞ্চকর ঘটনায় পূর্ণ। কিন্তু যতই অনিশ্চয়তা থাকুক, অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ে এতটুকু পিছপা হননি আপনি। কিন্তু বিস্ময়কর হচ্ছে, ইউরোপ কোনদিনই আপনাকে সেইভাবে টানেনি, তাহলে কেন এতটা ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ ঘুরে বেরিয়েছিলেন আপনি? আসলে কে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন জানিনা, আপনি যে পুঁজিবাদী-গণতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক-রাজতান্ত্রিক এবং সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোকে খুব কাছে থেকে দেখে আন্তঃমহাদেশীয় রাজনীতির অন্তর্নিহিত পরিস্থিতিকে প্রত্যক্ষভাবে বুঝতে চাইছিলেন, চল্লিশ বছর বাদে নিজেই সেকথা জানিয়েছেন আমাদের : “উনিশশো ছাপ্পান্নর গোড়ায় ইউরোপে আমার চাকরি চলে যায়। চেষ্টা করলে অন্য কোনো পত্রপত্রিকার একটা কাজ হয়তো খুঁজে নেওয়া যেত। কিন্তু নিজের ভেতরকার আবেগকে মর্যাদা দিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করার কাজে ব্যস্ত ছিলাম।”
আপনার লেখক সত্তাকে বুঝতে হলে এই রাজনীতিকে বাদ দিয়ে কখনও বোঝা যাবে না। সমগ্র লাতিন আমেরিকা জুড়ে যে স্বৈরশাসন বছরের পর বছর কোটি কোটি সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে, হত্যা করা হয়েছে লাখ লাখ মানুষকে, আপনি ছিলেন তার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড সোচ্চার। ইউরোপে থাকতেই আরেকটি কাজ আপনি করেছিলেন। চলচ্চিত্রের প্রতি আপনার প্যাশন সুবিদিত। এরই টানে রোমের বিখ্যাত সেন্ত্রো স্পেরিমেন্তালে দে সিনেমায় চলচ্চিত্র সম্বন্ধে
প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ নিলেন। ভিক্তেরিও ডি সিকা, সিজার জাভাত্তিনি, ফ্রেদেরিকো ফেলিনি, অর্থাৎ ইতালীয় নব্যবাস্তববাদী বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাহচর্যে এসে আপনি বুঝতে পেরেছিলেন চলচ্চিত্র হচ্ছে সেই মাধ্যম যা দুনিয়াকে বদলে দিতে পারে। চলচ্চিত্রের প্রতি এই অনুরাগের পাশাপাশি চলছিল ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিক প্রতিবেদন লেখালেখি আর প্রকাশের কাজ।
একবার লন্ডনে ছসপ্তাহ আটকে যাওয়ায় হোটেলে বসেই লিখে ফেললেন বেশ কয়েকটি অসাধারণ ছোটগল্প। দুম করে কলোম্বিয়ায় ফিরে মের্সেদেসকে বিয়ে করে ফেললেন। মের্সেদেসের বহুদিনের অপেক্ষার অবসান হলো। কিন্তু আবার তাকে মায়ের কাছে রেখে ছুটলেন ভেনিজুয়েলায়। সেখান থেকে কলোম্বিয়ায় ফিরে কিউবা সরকারের মুখপাত্র হিসেবে বোগোতায় স্থাপন করলেন প্রেনসা লাতিনা। পরে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর দ্বারা অনুরুদ্ধ হয়ে এরই একটা শাখা খোলার জন্য সপরিবারে ছুটলেন নিউ ইয়র্ক। কিছুদিন পর সেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে ইতিমধ্যে জন্ম নেয়া বড় ছেলে রোদরিগো আর স্ত্রীকে নিয়ে চলে গেলেন মেহিকোতে।
মেহিকোতে দারিদ্র্য ছিল আপনার নিত্যসঙ্গী। বেঁচে থাকবার জন্যে তাই শুরু করেছিলেন সিনেমার সাবটাইটেল আর চিত্রনাট্য লেখা। সময়টা ১৯৬২ সাল, এই সময়েই মেহিকোতে বসেই লিখলেন কর্নেলকে কেউ চিঠি লেখে না শীর্ষক অসাধারণ বড় গল্প বা নোভেলা। প্রকাশিত হলো প্রথম গল্পসংকলন বিগ মামাস ফ্যুন্যারেল। অনন্য বর্ণনারীতি আর লাতিন সমাজজীবনের দ্বারা সমৃদ্ধ এর গল্পগুলো বিশ্বের গল্পপাঠকদের দিল নতুনত্বের স্বাদ। ওই বছরই জন্ম নিল আপনার দ্বিতীয় পুত্র গোনসালো। চলচ্চিত্রের জন্য পর পর লিখলেন দুটি চিত্রনাট্য : তিয়েম্পো দে মোরিরে (সহচিত্রনাট্যকার কার্লোস ফুয়েন্তেস) এবং হোগো পেরিগোজো।
চলচ্চিত্র, গল্প, নোভেলা, নানা মাধ্যমে আপনার প্রতিভা বিকশিত হলেও প্রকাশিত বইগুলো তেমন বিক্রি হচ্ছিল না। দারিদ্র্য আর হতাশা তাই আপনার জীবনে এসে ভর করলো। বেঁচে থাকার জন্য কাজ নিতে হলো বিজ্ঞাপনী সংস্থায় আর জড়িয়ে পড়লেন পত্রিকা সম্পাদনার সঙ্গে। এর পর এলো সেই অভূতপূর্ব সময়। অবকাশ কাটাবার জন্যে গাড়ি চালিয়ে মেহিকো থেকে আকাপুলকোর দিকে চলেছেন আপনি। হঠাৎ আপনার মানসপটে ভেসে উঠলো কল্পিত সেই মাকান্দো জনপদের ছবি, বিগত কুড়ি বছর ধরে যা নিয়ে ভাবছিলেন আপনি। এ প্রসঙ্গে পরে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে লিখেছেন : “অকস্মাৎ জানিনা কীভাবে যেন উপন্যাসটার সম্পূর্ণ খসড়াটা চোখের সামনে ভেসে উঠলো। আমার চিন্তাস্রোতটা এতটাই স্বচ্ছ, স্পষ্ট আর সম্পৃক্ত লাগছিল যেন আমি একের পর এক এর প্রতিটি শব্দ কোনো এক টাইপিস্টকে গড় গড় করে বলে যেতে পারছি।” সংসার আর বাচ্চাদের সব দায়-দায়িত্ব মের্সেদেসের হাতে তুলে দিয়ে অজ্ঞাতবাসে চলে গেলেন আপনি। জগৎ সংসার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে একটানা আঠারো মাস ধরে লিখে ফেললেন আপনার স্বপ্নের উপন্যাস : শতবর্ষের নিঃসঙ্গতা। সামান্য উদরপূর্তি আর ছয় প্যাকেট সিগারেটই ছিল তখন আপনার সঙ্গী। এদিকে ধারদেনায় জেরবার মের্সেদেস। গাড়িতো বটেই, বিক্রি করতে হলো আসবাবপত্র, বাসনকোসন। প্রতিবেশীরা বুঝতে পারলো, গাবো কোনো গুরুত্বপূর্ণ লেখায় ব্যস্ত। কিছুদিন বাদে উপন্যাসটির প্রথম তিনটি অধ্যায়ের খসড়া পাঠিয়ে দিলেন বন্ধু কার্লোস ফুয়েন্তেসকে। ফুয়েন্তেসতো পড়েই রীতিমতো বিমুগ্ধ। সংবাদমাধ্যমে বলেই ফেললেন, এইমাত্র আমি আসন্ন চিরায়ত সাহিত্যের প্রথম আশি পৃষ্ঠা পড়ে শেষ করলাম।
অবশেষে আঠারো মাসের অজ্ঞাতবাস ছেড়ে বেরিয়ে এলেন আপনি। হাতে তেরোশো পৃষ্ঠার পাণ্ডুলিপি। কী কঠোর অধ্যবসায় আর পরিশ্রমই-না আপনাকে করতে হয়েছিল এই বইটি লিখবার জন্য! স্ত্রী এবং বন্ধুদের শোনাবার একপর্যায়ে শেষপৃষ্ঠায় পৌঁছে পেয়ে গেলেন উপন্যাসের নাম - সিয়েন আনিয়োস দে সোলেদাদ। প্রকাশকের কাছে পাঠাবার ডাকমাশুলও তখন আপনার নেই। বৌয়ের চুল শুকোবার যন্ত্র আর বৈদ্যুতিক স্টোভ বিক্রি করে জোগাড় করতে হলো সেই টাকা। ১৯৬৭ সালের জুন মাসে আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেসের সুদামেরিকানা প্রকাশনা সংস্থা থেকে বেরুলো সিয়েন আনিয়োস দে সোলেদাদ। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সারা লাতিন আমেরিকা জুড়ে হৈচৈ পড়ে গেল। প্রথম সপ্তাহে বিক্রি হলো আট হাজার কপি, এর পর প্রতিমাসে কয়েকটি মুদ্রণ। তিন বছরে বিক্রি হলো পাঁচ লাখ বই। ১৯৭০ সালে গ্রেগরি রাবাসার অনুবাদে বেরুলো এর ইংরেজি অনুবাদ : ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচ্যুড। গত পঁয়তাল্লিশ বছরে পৃথিবীর এমন কোনো ভাষা নেই যে ভাষায় উপন্যাসটি অনূদিত হয়নি। ইংরেজি অনুবাদসহ এ পর্যন্ত এই বইয়ের বিক্রির সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। এই উপন্যাসটির রাষ্ট্রীয় ও সাহিত্য পুরস্কার যেমন জুটেছে, তেমনি আপনাকে যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করেছে। মারিও ভার্গাস ইয়োসা আপনার জীবনের প্রথম তেতাল্লিশ বছরকে নিয়ে লিখে ফেললেন একটি বই। এরপর সাড়া পৃথিবী জুড়ে এই উপন্যাসটিকে সর্বকালের সেরা উপন্যাস বা মাস্টারপিস হিসেবে স্বীকৃতি পেতে তেমন দেরি হয়নি। অর্থ, খ্যাতি আর পুরস্কারের মধ্যে যখন আপনি ডুবে যাচ্ছেন, তখনই স্বৈরাচারের চেহারা চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করবার জন্য চলে গেলেন ফ্রাঙ্কোর স্পেনে। কী সাহস আপনার!
বিশ্বসাহিত্যের পাঠকমাত্রই আমরা জানি, লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্যের প্রধান অংশ জুড়ে আছে স্বৈরাচারের বিচিত্র প্রসঙ্গ। এই স্বৈরাচারের চমৎকার ছবি পাওয়া যায় আপনার কুলপতির হেমন্তকাল উপন্যাসে। একসময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপের স্বৈরাচারী শাসক কীভাবে একাকীত্বের মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যেতে পাওে, এতে আছে সেরকমি একটা গল্প। ব্যক্তিমানুষের এই সংকট, বিশেষ করে নারীর হাতে নারীর বা পুরুষের দ্বারা নারীলাঞ্ছনার দুঃসহ কাহিনি হচ্ছে আপনার বেচারি এরেন্দিরা আর তারহিৃদয়হীন দাদীমার অবিশ্বাস্য করুণ কাহিনি। দেশপ্রেম ও স্বপ্নভঙ্গের কাহিনি হিসেবে আপনার গোলকধাঁধায় সেনাপতি উপন্যাসটিও অসাধারণ।
ভাবতে অবাক লাগে, আপনি শুধু কলোম্বিয়া নয়, হয়ে উঠেছেন সমগ্র লাতিন আমেরিকার কণ্ঠস্বর। সমগ্র মহাদেশের মানুষ সেই ঔপনিবেশিক কাল থেকে যে অবিশ্বাস্য নিপীড়িন, নির্যাতন, হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণের দ্বারা মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে, সেই নির্মম বাস্তবতারই করুণ ছবি কথাসাহিত্যে তুলে ধরেছেন। নোবেল পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তেও এসব কথা ভুলে যাননি আপনি। সেই সঙ্গে আপনার গুরু ফকনারের মতোই উচ্চারণ করেছিলেন মানুষের অজেয় সম্ভাবনা ও মুক্তির কথা : “এই ভয়াল বাস্তবতার সামনে - সমস্ত মানুষী কালে যাকে মনে হয়েছিল নিছক কোনো কল্পলোক বলেই, আমরা যারা কথা বানাই, কাহন গড়ি, আমরা তবু কিন্তু বিশ্বাস করি সবকিছু, বিশ্বাস করবার দাবি ও অনুভূতি রাখি যে এখনও এক বিকল্প/বিরুদ্ধ কল্পরাজ্য গড়বার কাজে আত্মনিয়োগ করার সময় আছে - এখনও সময় চলে যায়নি।” একশো বছরের রাজনৈতিক নিঃসঙ্গতার দণ্ড পেয়ে যে মহাদেশের মানুষ ভেঙে পড়েছে, সেই মানুষকেই আবার উঠে দাঁড়াবার আহ্বান জানালেন আপনি।
কিন্তু প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়, এ কী শুধু একমহাদেশের কথা? নাকি আপনি নির্যাতিত বিশ্বমানবতার কথা ধনিত হলো আপনার কণ্ঠে? জানি, আজ আর এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর পাওয়া যাবে না, যা কিছু উত্তর তা উৎকীর্ণ হয়ে আছে আপনার লেখা রচনাবলিতে, বিশেষ করে কথাসাহিত্যে। সেই মর্মবাণীটি হলো - মানুষ অজেয়, মানবের কোনো অবসান নেই। এই হচ্ছে আপনার অসাধারণত্ব, এই হচ্ছে সর্বকালের সেরা কথাসাহিত্যিক গাবরিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, যার দেহ নশ্বর, কিন্তু ভাবনা মানবিক জয়গাথা হিসেবে অবিনশ্বর হয়ে থাকবে।
গাবো, আপনাকে কুর্নিশ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1376)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
April
(397)
-
▼
Apr 25
(12)
- কিছুই দিই না, শুধু নিই by আনিসুল হক
- শ্রমিকের অধিকার ও নিশ্চুপ শ্রম আইন by আদনান সৈয়দ
- ‘অতিমাত্রায় পলিটিক্যাল’ সিনড্রোম by আবদুল মান্নান
- রানা প্লাজা ধসের এক বছর পূর্তিতে বিজিএমইএর স্মরণসভ...
- বিচ্ছিন্ন গাজার অবরুদ্ধ জীবন
- রানা প্লাজাধসের এক বছর- ‘পা তো দ্যাশে পাঠাইয়া দিছি...
- মার্কেসের জনপ্রিয় চারটি বইয়ের কথা by রুহুল মাহফুজ জয়
- প্রিয় গাবো, কল্পরাজ্যের অধিশ্বরকে বিদায়ী কুর্নিশ b...
- মহানক্ষত্রের মহাপ্রয়াণ by আলী আহমদ
- শ্রমিকের অধিকার ও নিশ্চুপ শ্রম আইন
- কিছুই দিই না, শুধু নিই
- বৃষ্টিপ্রার্থনায় ইসতিসকার নামাজ
-
▼
Apr 25
(12)
-
▼
April
(397)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
জ্যোতির্বিজ্ঞান
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
জোহরান মামদানি
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
ইহুদি
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment