প্লাতিনির সঙ্গে মেসিও

 মেসি
কর ফাঁকি-সংক্রান্ত মামলায় ভুগছেন অনেক দিন ধরেই। এবার স্পেনের বাইরেও সেই হ্যাপা বোধ হয় পোহাতে হচ্ছে লিওনেল মেসিকে। ‘পানামা পেপারস’ কেলেঙ্কারিতে কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে মেসির বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, মেসি ও তাঁর বাবা বেলিজ ও উরুগুয়েতে নামসর্বস্ব কোম্পানি গড়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কর ফাঁকি দিয়েছেন, যে অর্থ আয় করেছেন স্পেনে বিভিন্ন স্পনসরের সঙ্গে চুক্তি করে। শুধু মেসি নন, নিষিদ্ধ সাবেক উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনি ও আরও কিছু ফুটবলারের বিরুদ্ধেও এসেছে এই অভিযোগ। তবে মেসি ব্যাপারটিকে সহজভাবে নিচ্ছেন না। প্রায় এক বছর লেগে থেকে মূল খবরটা ফাঁস করেছে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি জোট, ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে)। তবে স্পেনে খবরটি প্রকাশ করেছে যে পত্রিকা, সেই দৈনিক এল কনফিডেনশিয়াল-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মেসি। খবরের উৎস পানামার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার কিছু নথি। এই প্রতিষ্ঠানের কাজ হলো তাদের গ্রাহকদের অর্থ পাচার, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো ও কর ফাঁকির ব্যাপারে আইনি সহায়তা দেওয়া। কিন্তু মেসি সেখানে জড়ালেন কীভাবে? ফনসেকার দলিল দেখাচ্ছে হুয়ান পেদ্রো দামিয়ানি নামের একজনের একটি আইনি প্রতিষ্ঠান মেসিসহ ২০ জন ফুটবলারের জন্য কাজ করেছে। এই দামিয়ানি আবার ফিফার নৈতিকতা কমিটির সদস্য। তিনি কাজ করেছেন ফিফার নিষিদ্ধ সাবেক সহসভাপতি ইউজেনিও ফিগেরেদোর সঙ্গে। জুরিখে যে সাত ফিফা কর্তা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন ফিগেরেদোও। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে মেসির বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ইমেজ স্বত্বসংক্রান্ত ব্যাপারে মেসি ও তাঁর বাবা হোর্হে প্রায় ৪৭ লাখ ডলার কর পরিশোধ করেননি—এই অভিযোগে স্প্যানিশ আদালতে মামলাও হয়েছে। সেই আমলা এখনো চলছে। প্লাতিনির বিরুদ্ধে অভিযোগটা আবার একটু অন্য রকম। পানামা পেপার কেলেঙ্কারি ফাঁস করা সাংবাদিকদের সংগঠন আইসিআইজি জানিয়েছে, ২০০৭ সালে দেশের বাইরে গঠিত একটি কোম্পানি পরিচালনার জন্য সহায়তা চেয়ে মোসাক ফনসেকার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন প্লাতিনি। সেপ ব্ল্যাটারের সঙ্গে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের জন্য এরই মধ্যে ফিফা সব ধরনের ফুটবল কার্যক্রম থেকে ছয় বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে প্লাতিনিকে। ফ্রান্সের এই ফুটবল কিংবদন্তি অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।